মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র শায়খ ও মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম
১,উনার নিকট উনার পূর্ববর্তী শায়েখ হতে প্রাপ্ত বিশেষ নিয়ামত মুবারক থাকে
২,তিনি মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের তালিম দেন।
উনার আমল, আখলাক, চরিত্র, আচার, ব্যবহার, বিনয়, নম্রতা, আদব, শরাফত, ভদ্রতা, জ্ঞান, গরীমা, তাক্বওয়া, পরহেযগারী এবং দায়িত্ব পালনে একনিষ্ঠতা, কর্মকুশলতায় এই বিষয় ফুঁটে উঠে।

হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র শায়খ ও মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট উনাদের পূর্ববর্তী শায়েখ হতে প্রাপ্ত বিশেষ নিয়ামত মুবারক থাকে। যা সিলসিলা অনুযায়ী পরবর্তীতে যোগ্য ও বিশ্বস্ত মুরীদদের নিকট আমানত স্বরূপ দেয়া হয়। যা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী প্রদান করা হয়। কাজেই যিনি এ নিয়ামতের অধিকারী হন তিনি হিদায়েতের তাজদীদী কার্যক্রম সুচারুরূপে ও সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম হন। সুবহানাল্লাহ!
মাহবুবে ইলাহী হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার আমল, আখলাক, চরিত্র, আচার, ব্যবহার, বিনয়, নম্রতা, আদব, শরাফত, ভদ্রতা, জ্ঞান, গরীমা, তাক্বওয়া, পরহেযগারী এবং দায়িত্ব পালনে একনিষ্ঠতা, কর্মকুশলতা সর্বোপরি শায়েখ উনার প্রতি যথেষ্ট ফানা-বাক্বা ও মুহব্বত দেখে হযরত আঁখি সিরাজুদ্দীন উছমান আওদাহী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকেই উনার সমস্ত নিয়ামত মুবারক হস্তান্তর করেন। সুবহানাল্লাহ!
মাহবুবে ইলাহী হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দোয়া করেন।
তিনি শায়েখের দোয়া নিয়ে বাংলার মূলকে তাশরীফ আনেন। তিনি মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের তালিম দেয়া শুরু করেন।।

হযরত নাছীরুদ্দীন চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র শায়খ ও মহাসম্মানীত,মহাপবিত্র মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার জবান নিঃসৃত কথা মুবারক, আমল মুবারক, ব্যবহার, চলন মুবারক ইত্যাদি কোন বিষয়ে বিন্দু থেকে বিন্দুতম সংশয় বা সন্দেহকে অন্তরে স্থান দিবে না। যা মুরীদের কামিয়াবী হাছিলের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।
একদিন সামা শরীফের মজলিস হচ্ছিল, সে সময় নাছীরুদ্দীন মাহমূদ চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বাড়ীতে ছিলেন। উনার এক পীর ভাই হযরত নাছীরুদ্দীন মাহমূদ চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে নিতে আসলেন। অতঃপর বললেন, আপনি সামা মাহফিলে যাবেন না? হযরত নাছীরুদ্দীন মাহমূদ চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বেশী কিছু বলেননি, শুধু এতটুকুই বলেছিলেন, “সবসময় না গেলেও তো চলে। ” উনার সেই পীর ভাই আর কিছু বললেন না, সেখান থেকে এসে উনার সম্মানিত শায়েখ হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট বিষয়টি পেশ করলেন।

হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন শুনে শুধু এতটুকুই বললেন-
حق ھمی است کہ او گفتہ
“সে যা বলেছে ঠিকই বলেছে। সবসময় মজলিসে না আসলেও তো চলে”।
সাথে সাথে উনার নিকট ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ আসা বন্ধ হয়ে গেলো। উনার সিলসিলাও বন্ধ হয়ে গেলো। নাঊযুবিল্লাহ!
যার কারণে তিনি যতটুকু ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ, নিয়ামত উনার শায়েখের থেকে হাছিল করেছিলেন, উনার ইন্তেকালের পরে সব দাফন করে দেয়া হলো। তিনি এত বড় বুযূর্গ ব্যক্তি হওয়া সত্বেও উনার ইন্তেকালের সাথে সাথেই উনার সিলসিলাও বন্ধ হয়ে গেল।
-----হযরত নাছীরুদ্দীন চেরাগে দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহিতিনি যখন রূহানীভাবে আমার সম্মুখে আত্মপ্রকাশ করলেন, তখন আমি সাহস সঞ্চয় করে উনার খিদমতে আরজ করলাম, হযরত! আপনার পরবর্তী যারা ছিলেন, উনাদের মধ্যে অনেকেই তো উচ্চ মর্যাদাশীল বুযূর্গ ব্যক্তি ছিলেন। উনাদের কাউকে আপনি খিলাফতের খিরকা প্রদান না করার কারণ আমি বুঝতে পারছি না। আমার এ আবেদন শুনে তিনি বললেন হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ, আমার পরবর্তী যারা ছিলো, তারা অনেকে যোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলো। কিন্তু তাদের মধ্যে কিঞ্চিৎ পরিমাণ পক্ষপাতমূলক মনোভাব বিদ্যমান থাকায় আমি তাদের মধ্যে খিরকার মর্যাদা রক্ষার যোগ্যতার অভাব মনে করেছি। কাজেই তাদের কাউকে আমার পূর্ববর্তী মুর্শিদ বা শায়েখ উনার নিকট হতে প্রাপ্ত নিয়ামত প্রদান করিনি।

হযরত মনছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি
১,হযরত মনছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মনে বিবাহ করার ইচ্ছা অত্যন্ত প্রবল হয়েছিল, এ জন্য তিনি উনার শায়েখের আদেশ মুবারক বুঝতে না পেরে উনাকে না জানিয়েই বিবাহ সম্পন্ন করেন।
২,হযরত মনছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গভীর মনোযোগের সাথে কিছু লিখছিলেন। এমন সময় উনার সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা হযরত আমর ইবনে উছমান মাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তা দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি লিখতেছ? হযরত মনছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, পবিত্র কুরআন শরীফের অনুরূপ কিছু লিখছি। নাঊযুবিল্লাহ!
৩,একদিন হযরত মনছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার শায়েখের একখানা হস্তলিখিত ইলমে তাছাওউফের কিতাব উনাকে না জানিয়ে নিয়ে গেলেন।
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার আদেশ-নিষেধের খিলাফ আমল করা এবং শায়েখের অসন্তুষ্টির কারণে তিনি নিজ শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার দরবার শরীফে বেশী দিন থাকতে পারেননি। পরবর্তীতে হযরত আমর ইবনে উছমান মাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মনছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উনার দরবার শরীফ থেকে বিদায় করে দিলেন।

ইলমে তাছাউফ:ক্বলবে বিরাজমান অপবিত্র খাছলতগুলো ,জিকির জারী করার মাধ্যমে দুর হবে,তখনই নতুন অস্তিত্ব পবিত্র খাছলত প্রকাশ হবে। শব্দের অর্থ: ধ্বংস, বিনাস, লয় فناء (ফানা)
بقاء (বাক্বা) অর্থ হচ্ছে- অবশিষ্ট থাকা, টিকে থাকা, বাকি থাকা, স্থায়ী হওয়া।
১,গাইরুল্লাহর সর্বপ্রকার আকর্ষণ হতে ক্বলব (অন্তর) কে মুক্ত রাখতে হবে।
২,দুনিয়ার কোন জিনিষের আশা বা আকর্ষণ অন্তরে থাকতে পারবে না।
৩,নফসের বদ খাছলত বা বদ স্বভাবগুলো থেকে নফসকে মুক্ত রাখতে হবে।
৪,নফসের বদ খাছলত বা বদ স্বভাবগুলো পূর্ণরূপে বিনাশ সাধন করতে হবে।
بقاء (বাক্বা) অর্থ হচ্ছে- অবশিষ্ট থাকা, টিকে থাকা, বাকি থাকা, স্থায়ী হওয়া।
ছূফীয়ানে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন-

ہستی کو مٹادو اگر کچھ مرتبہ چاہو.دانہ بخاک ملکر گل گلزار ہوتا ہیں.

অর্থ: যদি কোন মর্যাদা-মর্তবা হাছিল করতে চাও তাহলে তোমার অস্তিত্বকে বিলীন করে দাও। কারণ, শস্য দানা মাটির সাথে মিশে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করার কারণে ফুলে ফলে সুশোভিত হয়।”

শরীয়ত ও মা’রিফাত উভয় ইলিমের অধিকারী, হক্কানী-রব্বানী আলিম, মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে খালিছ ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত অর্থাৎ হাক্বীক্বী মু’মিন, হাক্বীক্বী মুসলমান।মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির-ফিকির, মোরাকাবা-মোশাহাদা, ধ্যান-খেয়াল, মুহব্বত-মা’রিফাত এ টুইটম্বুর।
وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا
অর্থ: ঐ ব্যক্তির অনুসরণ করবেন না, যার অন্তর (গুমরাহীতে দৃঢ় থাকার কারণে) আমার যিকির থেকে গাফিল, সে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার কাজগুলো শরীয়তের খেলাফ।
১,উনাদের ক্বলব আল্লাহ পাক উনার জিকিরে মশগুল
২,উনারা পবিত্র ক্বলব এর অধিকারী হওয়ার কারণে উনাদের কাজগুলি শরীয়ত সম্মত,উনারা শরীয়তের খিলাফ কাজ করেন না
৩,শরীয়তের খিলাফ কাজ থেকে বেঁচে থাকা সহজ করতে চাইলে ক্বলবে জিকির জারী করতে হবে
৪,ক্বলবে জিকির জারী থাকার কারনে নফসের অনুসরণ করেন না
৫,নফসের অনুসরণ থেকে বাঁচার জন্য ক্বলবে জিকির জারী করতে হবে
৬,গাফিলতি থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে ক্বলবে জিকির জারী করা

✴️হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا أَبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيْرَتَهُمْ : أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوْبِهِمُ الْإِيْمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوْحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ : أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (٢٢) سورة المجادلة

আপনি ঐ সমস্ত লোকদেরকে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছেন, উনাদেরকে এমন পাবেন না যে, উনারা মুহাব্বত করবেন এমন লোকদেরকে যারা মহান আল্লাহ পাক উনার (এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) বিরোধীতা করে। যদিও বিরোধীতাকারীরা উনাদের বাপ-দাদা, আল-আওলাদ, ভাই-ভাতিজা, আত্মীয়-স্বজন এবং জ্ঞাতী-গোষ্ঠী হয়ে থাকে। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের অন্তরে ঈমানকে মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছেন এবং উনাদেরকে গাইবী মদদ করেছেন। আর উনাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিম্নদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট, উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট। উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার মক্কবুল প্রতিনিধি। সাবধান! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার মক্কবুল প্রতিনিধিগণই কামিয়াবী লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! [সূরা মুজাদালাহ শরীফ: ২২]

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ঈমান মুবারক এমন দৃঢ় যে, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধীতাকারীকে মুহাব্বত করেন না, যতই সে নিকটাত্মীয় হোক না কেন! যার ফলে উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট। আর উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট এবং উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার মক্কবুল প্রতিনিধি। সুবহানাল্লাহ।

সুতরাং উনাদের সম্পর্কে কিছু বলার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে কিছু লোক রয়েছে যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ব্যাপারে চু-চেরা করে থাকে। যেমন-শিয়া সম্প্রদায় হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে শুধুমাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে হক্ক মনে করে। আর বাকী তিন জন খলীফা আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ'যম আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে হক্ক মনে করে না। নাউযুবিল্লাহ!

✴️এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًاء ذُلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (١٠٠) سورة التوبة

যারা উত্তমভাবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং তারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। আর, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন এমন জান্নাত যার নিম্নদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হয়, অনন্তকাল তারা সেখানে থাকবে, এটাই বিরাট সফলতা। [সুরা তওবা শরীফ- ১০০]

✴️৭. হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই সত্যের মাপকাঠি

মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্কারা শরীফের ১৩৭ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,

فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا (۱۳۷) سورة البقرة

যদি তারা আপনাদের মতো (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতো) ঈমান আনতে পারে; অবশ্যই তারা হিদায়েত লাভ করবে।

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَنْ كَانَ مُسْتَنَّا فَلْيَسْتَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ فَإِنَّ الْحَيَّ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ أُولَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا أَفْضَلَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبَرَّهَا قُلُوبًا وَأَعْمَقَهَا عِلْمًا وَأَقَلَّهَا تَكَلُّفًا اِخْتَارَهُمُ اللهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وَلِإِقَامَةِ دِيْنِهِ فَاعْرِفُوْا لَهُمْ فَضْلَهُمْ وَاتَّبِعُوْا عَلَى آثَارِهِمْ وَتَمَسَّكُوْا بِمَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ أَخْلَاقِهِمْ وَسِيَرِهِمْ فَإِنَّهُمْ كَانُوا عَلَى الْهُدَى الْمُسْتَقِيمِ. (رواه رزين)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, কেউ যদি কাউকে অনুসরণ করতে চায়, সে যেন যারা অতীত হয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) উনাদেরকে অনুসরণ করে। কারণ যারা জীবিত রয়েছে তারা ফেতনা থেকে মুক্ত নয়। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব মুবারক। উনারা অন্তরের দিক থেকে পবিত্র, ইলমের দিক থেকে গভীর ইলমের অধিকারী, সমস্ত প্রকার বানোয়াটি থেকে মুক্ত অর্থাৎ মুখলিছ। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে মনোনীত করেছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের জন্য এবং (মহান আল্লাহ পাক) উনার দ্বীন কায়েম করার জন্য। তোমরা উনাদেরকে চিনে রাখো, উনাদের বুযুর্গী-সম্মান মুবারক জেনে রাখো, উনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং উনাদের আখলাক তথা চরিত্র মুবারক, ছিরত মুবারক যতটুকু সম্ভব আঁকড়ে ধরো। কেননা উনারা ছিরাতুল মুস্তাক্বীমের উপর প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ হিদায়েতপ্রাপ্ত।

[রযীন শরীফ]

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, হিদায়েত লাভ করার জন্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত ঈমান আনতে হবে। আর এজন্য উনাদের সম্পর্কে জেনে উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে।

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।