ইলমে তাছাউফ:ক্বলবে বিরাজমান অপবিত্র খাছলতগুলো ,জিকির জারী করার মাধ্যমে দুর হবে,তখনই নতুন অস্তিত্ব পবিত্র খাছলত প্রকাশ হবে। শব্দের অর্থ: ধ্বংস, বিনাস, লয় فناء (ফানা)
بقاء (বাক্বা) অর্থ হচ্ছে- অবশিষ্ট থাকা, টিকে থাকা, বাকি থাকা, স্থায়ী হওয়া।
১,গাইরুল্লাহর সর্বপ্রকার আকর্ষণ হতে ক্বলব (অন্তর) কে মুক্ত রাখতে হবে।
২,দুনিয়ার কোন জিনিষের আশা বা আকর্ষণ অন্তরে থাকতে পারবে না।
৩,নফসের বদ খাছলত বা বদ স্বভাবগুলো থেকে নফসকে মুক্ত রাখতে হবে।
৪,নফসের বদ খাছলত বা বদ স্বভাবগুলো পূর্ণরূপে বিনাশ সাধন করতে হবে।
بقاء (বাক্বা) অর্থ হচ্ছে- অবশিষ্ট থাকা, টিকে থাকা, বাকি থাকা, স্থায়ী হওয়া।
ছূফীয়ানে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন-

ہستی کو مٹادو اگر کچھ مرتبہ چاہو.دانہ بخاک ملکر گل گلزار ہوتا ہیں.

অর্থ: যদি কোন মর্যাদা-মর্তবা হাছিল করতে চাও তাহলে তোমার অস্তিত্বকে বিলীন করে দাও। কারণ, শস্য দানা মাটির সাথে মিশে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করার কারণে ফুলে ফলে সুশোভিত হয়।”

শরীয়ত ও মা’রিফাত উভয় ইলিমের অধিকারী, হক্কানী-রব্বানী আলিম, মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে খালিছ ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত অর্থাৎ হাক্বীক্বী মু’মিন, হাক্বীক্বী মুসলমান।মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির-ফিকির, মোরাকাবা-মোশাহাদা, ধ্যান-খেয়াল, মুহব্বত-মা’রিফাত এ টুইটম্বুর।
وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا
অর্থ: ঐ ব্যক্তির অনুসরণ করবেন না, যার অন্তর (গুমরাহীতে দৃঢ় থাকার কারণে) আমার যিকির থেকে গাফিল, সে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, তার কাজগুলো শরীয়তের খেলাফ।
১,উনাদের ক্বলব আল্লাহ পাক উনার জিকিরে মশগুল
২,উনারা পবিত্র ক্বলব এর অধিকারী হওয়ার কারণে উনাদের কাজগুলি শরীয়ত সম্মত,উনারা শরীয়তের খিলাফ কাজ করেন না
৩,শরীয়তের খিলাফ কাজ থেকে বেঁচে থাকা সহজ করতে চাইলে ক্বলবে জিকির জারী করতে হবে
৪,ক্বলবে জিকির জারী থাকার কারনে নফসের অনুসরণ করেন না
৫,নফসের অনুসরণ থেকে বাঁচার জন্য ক্বলবে জিকির জারী করতে হবে
৬,গাফিলতি থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে ক্বলবে জিকির জারী করা

✴️হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَوْ كَانُوا أَبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيْرَتَهُمْ : أُولَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوْبِهِمُ الْإِيْمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوْحٍ مِنْهُ وَيُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ أُولَئِكَ حِزْبُ اللَّهِ : أَلَا إِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (٢٢) سورة المجادلة

আপনি ঐ সমস্ত লোকদেরকে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছেন, উনাদেরকে এমন পাবেন না যে, উনারা মুহাব্বত করবেন এমন লোকদেরকে যারা মহান আল্লাহ পাক উনার (এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) বিরোধীতা করে। যদিও বিরোধীতাকারীরা উনাদের বাপ-দাদা, আল-আওলাদ, ভাই-ভাতিজা, আত্মীয়-স্বজন এবং জ্ঞাতী-গোষ্ঠী হয়ে থাকে। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের অন্তরে ঈমানকে মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছেন এবং উনাদেরকে গাইবী মদদ করেছেন। আর উনাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিম্নদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট, উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট। উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার মক্কবুল প্রতিনিধি। সাবধান! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার মক্কবুল প্রতিনিধিগণই কামিয়াবী লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! [সূরা মুজাদালাহ শরীফ: ২২]

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ঈমান মুবারক এমন দৃঢ় যে, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধীতাকারীকে মুহাব্বত করেন না, যতই সে নিকটাত্মীয় হোক না কেন! যার ফলে উনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট। আর উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট এবং উনারাই মহান আল্লাহ পাক উনার মক্কবুল প্রতিনিধি। সুবহানাল্লাহ।

সুতরাং উনাদের সম্পর্কে কিছু বলার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে কিছু লোক রয়েছে যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ব্যাপারে চু-চেরা করে থাকে। যেমন-শিয়া সম্প্রদায় হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে শুধুমাত্র সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে হক্ক মনে করে। আর বাকী তিন জন খলীফা আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ'যম আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে হক্ক মনে করে না। নাউযুবিল্লাহ!

✴️এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًاء ذُلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ (١٠٠) سورة التوبة

যারা উত্তমভাবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন এবং তারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। আর, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন এমন জান্নাত যার নিম্নদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হয়, অনন্তকাল তারা সেখানে থাকবে, এটাই বিরাট সফলতা। [সুরা তওবা শরীফ- ১০০]

✴️৭. হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই সত্যের মাপকাঠি

মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্কারা শরীফের ১৩৭ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,

فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا (۱۳۷) سورة البقرة

যদি তারা আপনাদের মতো (হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মতো) ঈমান আনতে পারে; অবশ্যই তারা হিদায়েত লাভ করবে।

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ مَنْ كَانَ مُسْتَنَّا فَلْيَسْتَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ فَإِنَّ الْحَيَّ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ أُولَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا أَفْضَلَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبَرَّهَا قُلُوبًا وَأَعْمَقَهَا عِلْمًا وَأَقَلَّهَا تَكَلُّفًا اِخْتَارَهُمُ اللهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وَلِإِقَامَةِ دِيْنِهِ فَاعْرِفُوْا لَهُمْ فَضْلَهُمْ وَاتَّبِعُوْا عَلَى آثَارِهِمْ وَتَمَسَّكُوْا بِمَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ أَخْلَاقِهِمْ وَسِيَرِهِمْ فَإِنَّهُمْ كَانُوا عَلَى الْهُدَى الْمُسْتَقِيمِ. (رواه رزين)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, কেউ যদি কাউকে অনুসরণ করতে চায়, সে যেন যারা অতীত হয়েছেন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম) উনাদেরকে অনুসরণ করে। কারণ যারা জীবিত রয়েছে তারা ফেতনা থেকে মুক্ত নয়। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাই সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব মুবারক। উনারা অন্তরের দিক থেকে পবিত্র, ইলমের দিক থেকে গভীর ইলমের অধিকারী, সমস্ত প্রকার বানোয়াটি থেকে মুক্ত অর্থাৎ মুখলিছ। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে মনোনীত করেছেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের জন্য এবং (মহান আল্লাহ পাক) উনার দ্বীন কায়েম করার জন্য। তোমরা উনাদেরকে চিনে রাখো, উনাদের বুযুর্গী-সম্মান মুবারক জেনে রাখো, উনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং উনাদের আখলাক তথা চরিত্র মুবারক, ছিরত মুবারক যতটুকু সম্ভব আঁকড়ে ধরো। কেননা উনারা ছিরাতুল মুস্তাক্বীমের উপর প্রতিষ্ঠিত অর্থাৎ হিদায়েতপ্রাপ্ত।

[রযীন শরীফ]

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, হিদায়েত লাভ করার জন্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মত ঈমান আনতে হবে। আর এজন্য উনাদের সম্পর্কে জেনে উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করতে হবে।

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

✴️অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে-

لَوْ أَنَّ رَجُلًا صَعِدَ بَيْنَ الرَّكْنِ وَالْمَقَامِ فَصَلَّى وَصَامَ ثُمَّ مَاتَ وَهُوَ مُبْغِضَ لِأَهْلِ بَيْتِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ النَّارَ.

যদি কোনো ব্যক্তি সম্মানিত রুকনে ইয়ামিন ও পবিত্র মাক্কামে ইবরাহীমে আরোহণ করে অতঃপর সে নামায পড়ে এবং রোযা রাখে কিন্তু সে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে বিদ্বেষ পোষণ করে, চু-চেরা কীল-ক্বাল করে তবে সে নিশ্চিত জাহান্নামে প্রবেশ করবে। নাঊযুবিল্লাহ!

[তাফসীরে রুহুল বয়ান]

উপরোক্ত বর্ণনাগুলো থেকে বুঝা যায় যে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার পরিণাম কতো ভয়াবহ!

অতএব, সমস্ত সৃষ্টি জগতের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ঈমান আনা, উনাদেরকে মুহাব্বত করা, তা'যীম-তাকরীম করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারকের আনজাম দেয়া। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে ছহীহ সমঝ দান করুন এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের আদর্শ মুতাবিক জীবন গড়ে হাক্বীক্বী মুসলমান হওয়ার তাওফীক দান করুন। (আমীন)

✴️আর যারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুমহান মর্যাদা-সম্মান মুবারক রক্ষা করবে না, উনাদেরকে মুহাব্বত করবে না বরং উনাদের প্রতি অসম্মান বা বেয়াদবীমূলক আচরণ করবে, উনাদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করবে; তাদের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তারা মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত থেকে বঞ্চিত হবে, ঈমানহারা হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং পরকালে তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। নাউযুবিল্লাহ।

পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَعِيدِهِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ : صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَبْعَضَنَا أَهْلَ الْبَيْتِ فَهُوَ مُنَافِقُ.

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যারা আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিরোধিতা করে, উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তারা মুনাফিক।

[দুররুল মানছুর ১৩/১৫১, ফাযায়িলু ছাহাবা লিআহমদ ইবনে হাম্বল ২/৬৬১, আর রিয়াদুন নাম্বরা ১/৩৬২, যখায়েরুল উকবা ১/১৮)

✴️পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَجَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ شَهِيدًا . أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ مَغْفُوْرًا لَهُ. أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ تَائِبًا أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ مُؤْمِنًا مُسْتَكْمِلَ الْإِيْمَانِ، أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
بَشَرَهُ مَلَكُ الْمَوْتِ بِالْجَنَّةِ ثُمَّ مُنْكَرُ وَنَكِيرُ، أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزُفُ إِلَى الْجَنَّةِ كَمَا تَزُفُ الْعَرُوسُ إِلَى بَيْتِ زَوْجِهَا أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَحَ اللهُ لَهُ فِي قَبْرِهِ بَابَيْنِ إِلَى الْجَنَّةِ، أَلَا وَمَنْ مَاتَ على حب آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ اللَّهُ قَبْرَهُ مَزَارَ مَلائِكَةِ الرَّحْمَةِ. أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى حُبِّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ عَلَى السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى بُغْضِ أَلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَكْتُوبًا بَيْنَ عَيْنَيْهِ أَيسَ مِنْ رَحْمَةِ اللهِ أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى بُغْضِ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ كَافِرًا أَلَا وَمَنْ مَاتَ عَلَى بُعْضٍ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
وسَلَّم لَمْ يَشُمَّ رَائِحَةِ الْجَنَّةِ.








হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি শহীদ হিসাবে ইন্তেকাল করবেন। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ইন্তেকাল করবেন। সাবধান! যিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি তওবাকারী হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি পরিপূর্ণ ঈমানদার হিসেবে ইন্তেকাল করবেন। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন,উনাকে মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম, হযরত মুনকার ও নকীর আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত বেহেশতের সুসংবাদ মুবারক দিবেন। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, উনাকে এমনভাবে সুসজ্জিত করে জান্নাতে নেয়া হবে, যেমনভাবে নববধূকে সাজিয়ে তার স্বামীর ঘরে নেয়া হয়। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, উনার কবরে সম্মানিত জান্নাতের দিকে দু'টি দরজা খুলে দেয়া হবে। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার কবরকে সম্মানিত রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিয়ারতের স্থান বানাবেন। সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, তিনি আহলু সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্কাঈদের উপর ইন্তেকাল করবেন। সুবহানাল্লাহ! সাবধান! আর যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মারা যাবে, ক্বিয়ামতের দিন তার দুই চোখের মাঝখানে লিখা থাকবে যে, সে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র রহমত থেকে বঞ্চিত। নাউযুবিল্লাহ! সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মারা যাবে, সে কাফির অবস্থায় মারা যাবে। নাউযুবিল্লাহ! সাবধান! যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে মারা যাবে, সে সম্মানিত জান্নাত উনার ঘ্রাণ পর্যন্ত পাবে না। নাঊযুবিল্লাহ! [তাফসীরে কুরতুবী ১৬/২৩, তাফসীরে কবীর ২৭/৫৯৫, তাফসীরে হাক্কী ১৩/৭৯, তাফসীরে রুহুল বয়ান ৮/২৩৯, তাখরীজু আহাদীছুল কাশশাফ ৩/২৩৮, নুজহাতুল মাজালিস ১/৩৬৫]

অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন,

তিনি শহীদী মৃত্যু পাবেন।

তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ইন্তেকাল করবেন।

তিনি তওবাকারী হিসেবে ইন্তেকাল করবেন।

তিনি পরিপূর্ণ ঈমানদার হিসেবে ইন্তেকাল করবেন।

উনাকে মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম, হযরত মুনকার ও নকীর আলাইহিমাস সালাম উনারা সম্মানিত বেহেশতের সুসংবাদ মুবারক দিবেন।

উনাকে নববধূর ন্যায় সুসজ্জিত করে জান্নাতে নেয়া হবে

উনার কবরে সম্মানিত জান্নাত উনার দিক থেকে দু'টি দরজা খুলে দেয়া হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কবরকে সম্মানিত রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের যিয়ারতের স্থান বানাবেন।

তিনি সম্মানিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বাইদের উপরই ইন্তেকাল করবেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহাব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করলে উপরোক্ত নিয়ামতসমূহ লাভ করা যায়; কেউ যদি জীবিত অবস্থায় হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহাব্বত না করে, উনাদের খিদমত মুবারকের আনজাম না দেয়, তাহলে সে কি ইন্তেকালের সময় উনাদের মুহাব্বত অন্তরে রাখতে পারবে? কখনোই নয়। হ্যাঁ, যদি জীবিত অবস্থায় হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহাব্বত করে, উনাদের খিদমত মুবারকের আনজাম দেয়, তাহলে তার জন্য উভয়কালেই কামিয়াবী থাকবে। সে ইন্তেকালের সময়ও উনাদের মুহাব্বত অন্তরে রাখতে পারবে। ইনশাআল্লাহ।

✴️অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُبُّ آلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا خَيْرٌ مِّنْ عِبَادَةِ سَنَةٍ وَمَنْ مَاتَ عَلَيْهِ دَخلَ الْجَنَّةَ. (مفتاح النجاة)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদিন সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহাব্বত করা সারা বছর ইবাদত-বন্দেগী করার চেয়েও উত্তম। আর যে উনাদের পবিত্র মুহাব্বত মুবারক উনার উপর ইন্তেকাল করলো, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ! [মিফতাহুন নাজাহ]