পবিত্র আশূরা শরীফ উনার আমল।
আশূরা শরীফ উনার দিনে বেশকিছু আমলের কথা হাদীছ শরীফ উনাতে বর্ণিত হয়েছে-
তন্মধ্যে একটি হচ্ছে, আশূরা শরীফ উনার দিন গোসল করা।
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনে গোসল করা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ এর মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
من اغتسل فيه عفى ولـم يـمرض الا مرض الـموت وامن من الكسل والتعليل
-নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আশূরা শরীফ উনার দিন (আশূরার নিয়তে) গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক উনি তাকে ১ বৎসরের জন্য রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন। মৃত্যু ব্যতীত তার কঠিন কোনো রোগ হবেনা এবং সে অলসতা ও দুঃখ কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!
অতএব, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস এবং মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরা শরীফ এর দিনের ফাযায়িল-ফযীলত ও আমল উনাদের সম্পর্কে জেনে সে মুতাবিক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর দায়িত্ব-কর্তব্য। মহান আল্লাহ পাক আমাদের কবুল করুন।
---আশূরা শরীফ উপলক্ষে রাজারবাগ শরীফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ মাহফিল। ঠিকানা-
পবিত্র সুন্নতি জামে মসজিদ, ৫/১ আউর্টার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা-১২১৭। মালিবাগ মোড় সংলগ্ন, পবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ গেইট। যোগাযোগ- ০১৭১১-২৭২৭৮২,০১৭১১-২৭২
---অনলাইনে লাইভ শুনতে- http://al-hikmah.net/
---আশূরা শরীফ উপলক্ষে সুন্নতি আমল করতে প্রয়োজনীয় সুন্নতি দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করুন—https://www.facebook.com/ispc12/
মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
আগামী ২৭শে আউওয়াল ১৩৯৪ শামসী, ২৬শে জুন ২০২৬ খৃঃ, ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ পালিত হবে “পবিত্র আশূরা শরীফ”। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস এবং উনার মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরা শরীফ সকলের জন্যই রহমত, বরকত, সাকীনা ও মাগফিরাত হাছিলের বরকতময় মাস ও দিন। সুবহানাল্লাহ! তাই বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ ও ছহীহ নেক আমলের মাধ্যমে সম্মানিত মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনাকে এবং উনার মধ্যস্থিত পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে তা’যীম-তাকরীম করা বান্দা-বান্দী ও উম্মত সকলের জন্যই ফরয।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আরবী বছরের প্রথম মাস মুহররমুল হারাম শরীফ। আরবী বারোটি মাস উনাদের মধ্যে চারটি হারাম বা সম্মানিত মাস উনাদের মধ্যে মুহররমুল হারাম শরীফ মাস অন্যতম। যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আসমান-যমীন সৃষ্টিকাল হতেই এ বরকতময় দিবস মুবারক বিশেষভাবে সম্মানিত হয়ে আসছেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যেকোনো নেক আমলের বিনিময়ে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করা। অথচ পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে কেন্দ্র করে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই বেশকিছু কুফরী আক্বীদার বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন- কেউ কেউ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমালোচনা করে বলে থাকে, উনারা গুনাহখতা করেছেন, পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনে উনাদেরকে ক্ষমা করা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অথচ সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ছহীহ ও বিশুদ্ধ আক্বীদা হচ্ছে- সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন মা’ছূম অর্থাৎ উনারা সর্বপ্রকার গুনাহখতা, ভুল-ত্রুটি থেকে পবিত্র। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! এর খিলাফ বা বিপরীত আক্বীদা পোষণকারীরা ঈমানদারের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আবার কেউ কেউ কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট ছাহাবী, কাতিবে ওহী, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুসহ অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ কাতিবে ওহী, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিসহ যে কোন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সমালোচনা করাও কাট্টা কুফরী। যারা উনাদের সমালোচনা করে, তারাও শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী। কাজেই এরূপ কুফরী আক্বীদা থেকে বেঁচে থাকা সংশ্লিষ্ট সকলের জন্যই ফরয।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আশূরা শরীফ উনার আরেকটি বিশেষ দিক হচ্ছেন- হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত। কারণ আশূরা শরীফেই সিবতু রসূল আল খমিস, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিসহ আরো অনেকে পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তাই উক্ত মহান দিবসে উনাদের প্রতি মুহব্বত প্রকাশ করা সকলের জন্যই ফরয। অনেকে আবার উনাদের প্রতি মুহব্বত প্রকাশের নামে সম্মানিত শরীয়ত উনার সীমা লঙ্ঘন করে তাজিয়া বানানো, বেপর্দা হয়ে মিছিল করা, গান-বাজনা করা, শোক পালন ইত্যাদি করে থাকে। যা সম্মানিত শরীয়ত কখনোই সমর্থন করে না।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আশূরা শরীফ উনার বরকতময় দিনে বেশকিছু নেক আমলের কথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে। যেমন- ১) পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দুটি রোযা রাখা। অর্থাৎ ৯, ১০ অথবা ১০, ১১ তারিখ। তবে শুধু ১০ তারিখ রোযা রাখা মাকরূহ। ২) সম্ভব হলে উক্ত বরকতময় দিনে যারা রোযা রাখবে তাদের এক বা একাধিকজনকে ইফতার করানো। ৩) সাধ্যমতো পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো। ৪) গোসল করা। ৫) চোখে মেশক মিশ্রিত সুরমা দেয়া। ৬) গরিবদেরকে পানাহার করানো। ৭) ইয়াতীমের মাথায় হাত বুলানো। এসব প্রত্যেকটি নেক আমলেই অশেষ ফযীলত লাভ হয়। কারণ প্রত্যেকটি আমলই সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের জন্যই দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করে, উল্লিখিত সুন্নত মুবারকসমূহ পালন করে পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে তা’যীম-তাকরীম করার লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
-০-
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَوَاحِلِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ النَّبِيِّ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه
অর্থ: আমরা যখন মদীনা শরীফ উনার মধ্যে আগমন মুবারক করতাম, তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেদের সওয়ারী থেকে নেমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (পবিত্র হাত মুবারকে) এবং নূরুদ দারাজাত মুবারকে (পবিত্র ক্বদম মুবারকে) বুছা দিতাম। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুছ ছাহাবাহ্, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শরহুস সুন্নাহ্, শু‘আবুল ঈমান, ইত্যাদি)
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৯৬)
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَ حضرت أَبُو بَكْرٍ عليه السلام حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তখন আমি বললাম, তাহলে চলুন আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাই; বলে আমি ও হযরত সিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম।
فَقُلْتُ: نَافَقَ حضرت حَنْظَلَةُ رضى الله تعالى عنه يَا رَسُولَ اللَّهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি বললাম ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিতো মুনাফিক্ব হয়ে গেছেন। নাউযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন এটা কি করে সম্ভব?
وَمَا ذَاكَ؟
কি বললেন, আপনি এটা?
قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَكُونُ عِنْدَكَ
আমি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যখন আমরা আপনার কাছে থাকি
تُذَكِّرُنَا بِالنَّارِ وَالْجَنَّةِ كَأَنَّا رَأْيَ عَيْنٍ
আপনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে আমরা সরাসরি স্বচক্ষে সব দেখতে পাই। বেহেশত-দোযখ, আসমান-যমীন, আরশ-কুরসী, লৌহ-কলম, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাদেরকে সব আমরা স্বচক্ষে দেখি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
فَإِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِكَ
অতঃপর আমরা যখন আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক থেকে বের হয়ে যাই
عَافَسْنَا الْأَزْوَاجَ وَالْأَوْلَادَ وَالضَّيْعَاتِ
আমাদের জন্য বাধাস্বরূপ হয় আমাদের আহাল-ইয়াল, সন্তান-সন্ততি, পরিবারবর্গ, নাতি-নাতনি, আত্মীয়-স্বজন, ক্ষেত-খামার ও ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি। যাতে আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
نَسِينَا كَثِيرًا
তখন অনেক বিষয় ভুলে যাই অর্থাৎ বের হয়ে আমরা ব্যবসাতে মশগুল হই, চাকরীতে মশগুল হই, ঘর-সংসার, ছেলে-মেয়ে ইত্যাদি দেখাশুনা করি, খোঁজ খবর নেই। আমাদের সেভাবে আর স্মরণে আসে না। সেজন্য বলেছি যে, হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মুনাফিক্ব হয়ে গেছেন। নাউযুবিল্লাহ!
فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهٖ
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! যেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল আমর (প্রাণ) মুবারক উনার ক্বসম! কি ক্বসম?
لَوْ تَدُومُونَ عَلٰى مَا تَكُونُونَ عِنْدِي وَفِي الذِّكْرِ
আপনাদের অবস্থা যদি সবসময় এ রকমই হতো আমার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারকে থাকার কারণে যে অবস্থা বা হাল হয়। এবং যিকির করার সময় যে অবস্থা বা হাল হয় অর্থাৎ এ হাল যদি সবসময় হতো
لَصَافَحَتْكُمُ الْمَلَائِكَةُ عَلٰى فُرُشِكُمْ وَفِي طُرُقِكُمْ
তাহলে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ২৪ ঘন্টা শয়নে-স্বপনে, রাস্তা-ঘাটে, বিছানায়, সব জায়গায় আপনাদের সাথে পবিত্র মুছাফাহ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক, আমার সম্মানিত যিকিরে মশগুল থাকাকালীন যে অবস্থা হয়, আমার আলোচনা মুবারক করলে যে অবস্থা হয় এ অবস্থায় মানুষ যদি থাকতো তাহলে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনাদের সাথে শয়নে-স্বপনে, রাস্তায়, পথে-ঘাটে, ২৪ ঘন্টা আপনাদের সাথে পবিত্র মুছাফাহ মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
পর্দা পালন করা সম্পর্কে বহু আয়াত শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে। যেমন আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْ ۚ ذٰلِكَ أَزْكٰى لَهُمْ ۗ اِنَّ اللهَ خَبِيْرٌ بِمَا يَصْنَعُوْنَ. وَقُلْ لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوْجَهُنَّ وَلَا يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ.
অর্থ: (আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মু’মিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতার কারণ। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তারা যা করে তার খবর রাখেন। আর আপনি মু’মিনা নারীদেরকে বলুন, তারাও যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে ও তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং- ৩০, ৩১)
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
মদ ও জুয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَیْسِرِ قُلْ فِیْهِمَاۤ اِثْمٌ كَبِیْـرٌ وَّمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَاِثْمُهُمَاۤ اَكْبَـرُ مِنْ نَّـفْعِهِمَا كَذٰلِكَ یُـبَـیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّكُمْ تَـتَـفَكَّرُوْنَ
“(ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্জেস করে। আপনি বলে দিন, ‘দু’টোর মধ্যেই আছে মহাপাপ বা মহাক্ষতি এবং মানুষের জন্য (সামান্য) উপকার; আর এ দু’টোর পাপ বা ক্ষতি উপকারের চাইতে অনেক বড় ও বেশী। এভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ২১৯)
কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা:
সাইয়্যিদুনা ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ঈমানদীপ্ত আহ্বান মুবারক
(মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণাগার থেকে প্রকাশিত “কারবালার হৃদয় বিদারক ইতিহাস” নামক কিতাব থেকে সংকলিত)
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন দেখলেন যে, পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তখন তিনি ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির সৈন্য বাহিনীর নিকট গেলেন এবং তাদের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য মুবারক রাখলেন। তিনি তাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মাধ্যমে বুঝালেন, যুলুম-অত্যাচার থেকে বিরত থাকো, রক্ত দ্বারা তোমাদের হাতকে রঞ্জিত কর না। জেনে শুনে কোন মু’মিন উনাকে কতল বা শহীদ করা মানে জাহান্নামকে নিজের ঠিকানায় পরিণত করা। আমি হলাম যিনি তোমাদের মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মুবারক নাতী। উনারই পবিত্র কালিমা শরীফ তোমরা পড়ো। আর বর্তমানে আমি ছাড়া তোমাদের যিনি মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্য কোন নাতী নেই।
আর আমার সম্পর্কে তোমরা ভালোভাবে জানো, আমি হলাম ওই ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাঁর সম্পর্কে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন- “সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা বেহেশতের যুবক উনাদের সাইয়্যিদ।” সুবহানাল্লাহ!
আমি হলাম সেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যখন আমি নিজ সম্মানিতা আম্মাজান উনার কোল মুবারক-এ ক্রন্দন করতাম, তখন মহান আল্লাহ তায়ালা উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলতেন, “ওগো মা যাহরা আলাইহাস সালাম! সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি কাঁদলে আমার খুবই কষ্ট হয়।” দেখ, যখন আপন মা উনার কোল মুবারক-এ আমার কান্নাটা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য কষ্টদায়ক ছিল, এখন তোমরা যদি আমাকে ভিন দেশে কষ্ট দাও এবং আমার রক্ত মুবারক দ্বারা তোমাদের হাতকে রঞ্জিত কর, আমার সম্মানিত আওলাদ ও পরিবার-পরিজন উনাদেরকে শোকাভিভূত করো, তাহলে চিন্তা করে দেখ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কী কষ্ট পাবেন!
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে কষ্ট দিবে, তার পরিণাম সম্পর্কে তোমরা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পড়েছো-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه لَعَنَهُمُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْنًا
অর্থ : নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।” (সূরা আহযাব: আয়াত শরীফ ৫৭)
যখন তিনি নিজের এ বক্তব্য মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মাধ্যমে বুঝালেন যে, যুলূম-অত্যাচার থেকে বিরত থাকো এবং আমার রক্ত মুবারক দ্বারা তোমাদের হাত রঞ্জিত করো না। আমি তোমাদের কোন ক্ষতি করিনি, তোমাদের সন্তানাদি হত্যা করিনি, তোমাদের প্রতি কোন অত্যাচার করিনি। আমি তো কূফাবাসীর আহবানে এসেছি। তারা যখন বিশ্বাসঘাতকতা করলো তখন আমাকে চলে যেতে দাও। কিন্তু তাদের মনে অসৎ মনোভাব প্রাধান্য বিস্তার করেছিল, তাদের কপালে জাহান্নাম অবধারিত ছিল। তাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহবান মুবারক তাদের মনে কোন রেখাপাত করলো না। বরং তারা হৈ-চৈ শুরু করে দিলো এবং বলতে লাগলো, আমরা আপনার বয়ান মুবারক শুনতে আসিনি। হয় ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাইয়াত গ্রহণ করুন অথবা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোন। তিনি বললেন, আমি আমার পক্ষে যা বলার ছিল তা বললাম; যেন কাল ক্বিয়ামতের মাঠে তোমাদের এ কথাটুকু বলার সুযোগ না থাকে, হে মহান আল্লাহ পাক! আমাদের জানা ছিল না, আমাদেরকে কেউ বুঝায়নি, তখন আর তোমরা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার শাহী দরবার-এ এ ধরনের কোন ওজর-আপত্তি পেশ করতে পারবে না।
মনে রেখো, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِيْنَ حَتّٰى نَبْعَثَ رَسُوْلًا.
অর্থ: কোনো রসূল আলাইহিস সালাম অর্থাৎ হিদায়াতকারী না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকে শাস্তি দান করবো না।” (সূরা বনী ইসরাইল : আয়াত শরীফ ১৫)
অতএব, যা বলার প্রয়োজন ছিলো তা বলা হলো। এখন তোমাদের যা ইচ্ছা তা করো।
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন
اِنَّ الَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَه لَعَنَهُمُ اللهُ فِي الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْنًا
অর্থ : নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন।” (সূরা আহযাব: আয়াত শরীফ ৫৭)
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৯৭)
وَلٰكِنْ يَا حَضْرَتْ حَنْظَلَةُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ سَاعَةً وَّسَاعَةً ثَلَاثَ مَرَّاتٍ.
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, হে হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! যে, হ্যাঁ ঠিকই আছে। কখনও আমার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করলে এ রকম অবস্থা হবে আর কখনও দূরে গেলে এরকম হবে। আর এটিই হচ্ছে স্বাভাবিক। এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক একটা অবস্থা। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
তিনি এ মহাসম্মানিত কথা মুবারক তিনবার বললেন। এখন বলার বিষয় হচ্ছে, এটা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পবিত্র হাল মুবারক। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত হাল মুবারক কি তাহলে? উনারা ক্ষেত-খামার করেননি, উনারা কারো কাছে অবস্থান করেননি। তাহলে উনাদের অবস্থাটা কি? উনাদের মহাসম্মানিত হাল মুবারকটা কি? সেটাইতো বলা হচ্ছে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
لِيْ مَعَ اللهِ وَقْتٌ لَا يَسْعٰنِي فِيْهِ مَلَكٌ مُّقَرَّبٌ، وَلَا نَبِيٌّ مُّرْسَلٌ،
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে এমন মহাসম্মানিত অবস্থান মুবারক, এমন মহাসম্মানিত নিছবত মুবারক যেখানে কারো প্রবেশ করার কোন সুযোগ নেই। উনারা হোক হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম অথবা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এখানে কারো প্রবেশ করার কোন সুযোগ নেই। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনিতো দায়েমীভাবে একই অবস্থায় রয়েছেন। ঠিক একইভাবে মহাসম্মানিত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারক বলা হয়েছে-
لِى وَلَنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقْتٌ لَّا يَسْعٰنِى فِيْهِ مَلَكٌ مُّقَرَّبٌ وَّلَا نَبِىٌّ مُّرْسَلٌ
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার এবং আমাদের এমন একটি সময় রয়েছে অর্থাৎ দায়েমীভাবে এমন নিছবত মুবারক রয়েছেন যেখানে কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্থান সঙ্কুলান হয় না। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
অর্থাৎ মহাসম্মানিত হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের যে শান মুবারক, এমন সম্মানিত নৈকট্য মুবারক, এমন সম্মানিত নিছবত মুবারক, সম্মানিত কুরবত মুবারক দায়িমী ২৪ ঘন্টা। এর মধ্যে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম বা অন্য যেই হোক না কেন, কারো কোন প্রবেশ করার সুযোগ নেই। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে উনাদের সম্মানিত শান-মান কতটুকু, ফযীলত মুবারক মানুষ কি ব্যাখ্যা করবে? উনাদের সম্পর্কে মানুষ কি জানে ব্যাখ্যা? মানুষ জানে না। কখনই মানুষ জানে না। উনাদের সম্মানিত নিছবত মুবারক, সম্মানিত কুরবত মুবারক, সম্মানিত মহব্বত মুবারক কত গভীর এটা কল্পনাতীত একটা বিষয়। সেটাই বলা হচ্ছে, যেটা বলেছিলাম একটা মাক্বাম জাহির হয়েছে।
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ
এর অর্থ মুবারক হচ্ছে, যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষের প্রাণ রগ থেকেও বেশি নিকটবর্তী। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এর হাক্বীক্বত মুবারক কি? ইহসানের যে দরজা বলা হয়। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছে জিবরীলে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَخْبِرْنِى عَنِ الْإِحْسَانِ.
হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আর্জি পেশ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে ইহসানের দরজা সম্পর্কে সংবাদ দান করুন।