1 d

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপাদমস্তক মহাসম্মানিত নূর মুবারক; উনার ছায়া ছিলো না

বিখ্যাত ও প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছ আল্লামা হাকীম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “নাওয়াদিরুল উছূল” কিতাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, হযরত হাকীম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “নাওয়াদিরুল উছূল” কিতাবে হযরত যাকওয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, “নিশ্চয়ই সূর্য ও চাঁদের আলোতেও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া দেখা যেতো না।”

ইমামুল মুহাদ্দিছীন, সুলতানুল আরিফীন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার “খাছায়িছুল কুবরা” নামক কিতাবে উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করে এ মতের সমর্থন করেন।

বাহরুল উলূম, শায়খুল মাশায়িখ, হযরত ইবনে সাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “শিফাউছ ছুদূর” কিতাবে লিখেছেন, “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম উনার ছায়া যমীনে পড়তো না। কেননা তিনি ছিলেন নূর মুবারক। অতঃপর যখন তিনি সূর্য অথবা চাঁদের আলোতে হাঁটতেন তখন উনার ছায়া দৃষ্টিগোচর হতো না।”

বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার, হাফিযুল হাদীছ, হযরত ইমাম যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “শরহে মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়া” কিতাবে বর্ণনা করেছেন- “চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া দৃষ্টিগোচর হতো না। কেননা তিনি নূর মুবারক ছিলেন।”

জালালু মিল্লাত ওয়াদ্ দীন, আল্লামা হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল মু’জামুল লাবীব ফী খাছায়িছিল হাবীব” ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামক কিতাব উনার দ্বিতীয় বাবের চতুর্থ অধ্যায়ে লিখেছেন- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া যমীনে পড়তো না। চাঁদ ও সূর্যের আলোতেও উনার ছায়া দেখা যেতো না।”

হযরত ইবনে সাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু নূর মুবারক; সেহেতু উনার ছায়া ছিলো না।

হযরত ইমাম রযীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সমস্ত কিছুকে ছাড়িয়ে যেতো।”

ইমামুল জালীল, মুহাদ্দিছুশ্ শাহীর, ফকীহুল আছার, আল্লামা ইমাম কাযী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “শিফা” কিতাবে লিখেছেন- “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জিসিম মুবারক উনার ছায়া সূর্য ও চাঁদের আলোতেও পড়তো না। কেননা তিনি সম্পূর্ণ নূর মুবারক উনার অধিকারী।”

বিখ্যাত বুযূর্গ, ওলীয়ে কামিল, হযরত ইমাম ইবনে হাজার মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “আফদ্বালুল কুরা” কিতাবে উল্লেখ করেন, “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূর মুবারক উনার অধিকারী। নিশ্চয়ই তিনি যখন চাঁদ ও সূর্যের আলোতে হাঁটতেন তখন উনার ছায়া প্রকাশ পেতো না।”

বিখ্যাত মুহাদ্দিছ আল্লামা শিহাবুদ্দীন খাফ্ফাজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “নাসীমুর রিয়াদ্ব” নামক কিতাবে লিখেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুবুওওয়াতের প্রমাণের মধ্যে এটাও একটি প্রমাণ যে, উনার মহাসম্মানিত নূরুল মুজাসসাম মুবারক উনার ছায়া ছিলো না। যখন তিনি সূর্য ও চন্দ্রের আলোতে হাঁটতেন তখনও উনার ছায়া পড়তো না। কেননা তিনি (আপাদমস্তক) নূর মুবারক।”

‘কিতাবুল ওয়াফা’ উনার লিখক হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিলো না। উনার নূরের উজ্জ্বলতা সূর্য ও বাতির আলোর উপর প্রাধান্য লাভ করতো।”

ক্বাইয়্যূমে আউওয়াল, আফদ্বালুল আওলিয়া, শায়েখ আহমদ ফারূকী সিরহিন্দী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাব “মাকতুবাত শরীফ” উনার ৩য় খ- ১৫৫ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কী করে ছায়া পড়তে পারে? ছায়া তো তিনিই সৃষ্টি করেছেন। তবে কী উনার কোন মেছাল রয়েছে? তবে কী তিনি কামালে লাতাফাত উনার অধিকারী নন? দেখুন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘কামালে লাতাফাত’ উনার অধিকারী হওয়ার কারণে উনার মহাসম্মানিত নূরুল মুজাসসাম মুবারক উনার ছায়া পড়তো না।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং অনুসরণীয় ইমাম, মুজতাহিদ, আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নির্ভরযোগ্য উল্লিখিত কওল শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত হলো যে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূরুল মুজাসসাম মুবারক অর্থাৎ জিসিম মুবারক উনার ছায়া ছিলো না। (মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৩০তম সংখ্যা থেকে সংকলিত)

1 d

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পশু-পাখিদের মহব্বত ও সম্মান প্রদর্শনের কিছু নমুনা (১)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকের আঞ্জাম দেয়ার জন্য সমস্ত কায়িনাত, হাজারাত, শাজারাত, জিন-ইনসান, বনের পশু-পাখি সকলেই ব্যাকুল ছিলো। হযরত কারামত আলী জৈনপুরী রহমতুল্লাহি তিনি উনার ‘আল বারাহীনুল ক্বতইয়্যিাহ’ কিতাবে ‘মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়াহ’ কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পর গাইব হতে নেদা হলো এই মুক্তা দানা সদৃশ্য একক মর্যাদা মুবারক উনার অধিকারী মহান বালক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিপালন কে করবে? তখন পাখিরা বললো-

نَحْنُ نَكْفُلُهُ وَنَغْنَمُ خِدْمَتَهُ الْعَظِيمَةَ غَنَمًا

‘আমরা উনার দায়িত্বভার গ্রহণ করবো এবং উনার মহান খেদমত মুবারক করার সুযোগকে পরম সৌভাগ্য ও বিরাট অর্জন হিসেবে মনে করবো।’

আর পশুরা বললো-

نَحْنُ اَوْلَى بِذَالِكَ نَنَالُ شَرفَهُ وَتَعْظِيْمَهُ نَيْلًا

‘আমরাই উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দেয়ার অধিক হক্বদার। কাজেই আমরাই এই মহান বুজূর্গী ও সম্মান প্রাপ্ত হবো।’

তখন পুনরায় গাইবী নেদা হলো, হে সমস্ত সৃষ্টিকুল তোমরা জেনে রাখো! মহান আল্লাহ পাক তিনি পূর্বেই লিখে রেখেছেন, উনার মহাসম্মানিত নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দুধমাতা হবেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুর রদ্বায়াহ আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত হালীমাহ সা’দিয়াহ আলাইহাস সালাম) তিনি। অর্থাৎ তিনিই উনার খিদমত মুবারকে আঞ্জাম দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

পরবর্তী সময়েও গাছ-পালা, পশু-পাখী, পাথর ইত্যাদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিভিন্নভাবে সম্মান প্রদর্শন করেছে, উনাকে তা’যীম-তাকরীম করেছে, মহাসম্মানিত রেসালাত মুবারক উনার সাক্ষ্য প্রদান করেছে। এখঅনে কতিপয় ওয়াক্বেয়াহ বর্ণনা করা হলো।



(১)

নেকড়ে কর্তৃক সম্মানিত রেসালাত মুবারক উনার সাক্ষ্য প্রদান:



পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: بَيْنَمَا رَاعٍ يَرْعَى بِالْحَرَّةِ، إِذْ نَهَزَ الذِّئْبُ شَاةً، فَحَالَ الرَّاعِي بَيْنَ الذِّئْبِ وَالشَّاةِ، فَأَقْعَى الذِّئْبُ عَلَى ذَنَبِهِ فَقَالَ لِلرَّاعِي: أَلَا تَتَّقِي اللهَ عَزَّ وَجَلَّ، تَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ رِزْقٍ سَاقَهُ اللهُ إِلَيَّ؟ فَقَالَ الرَّاعِي: الْعَجَبُ مِنَ الذِّئْبِ يُقْعِي عَلَى ذَنَبِهِ وَيُكَلِّمُنِي بِكَلَامِ الْإِنْسِ فَقَالَ الذِّئْبُ لِلرَّاعِي: أَلَا أُحَدِّثُكَ بِأَعْجَبَ مِنِّي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ يُحَدِّثُ النَّاسَ بِأَنْبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ، فَسَاقَ الرَّاعِي شَاءَهُ إِلَى الْمَدِينَةِ، فَزَوَّاهَا إِلَى زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَاهَا ثُمَّ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثَهُ بِمَا قَالَ الذِّئْبُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى النَّاسِ فَقَالَ لِلرَّاعِي: أَخْبِرِ النَّاسَ بِمَا رَأَيْتَ، فَقَامَ الرَّاعِي يُحَدِّثُ النَّاسَ بِمَا قَالَ الذِّئْبُ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدَقَ الرَّاعِي

অর্থ: হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার একজন রাখাল হাররাহ অঞ্চলে পশু চরাচ্ছিল। এমন সময় একটি নেকড়ে একটি ভেড়াকে ধরার জন্য তাড়া করলো। তখন রাখাল নেকড়ে ও ভেড়ার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াল। নেকড়েটি তার লেজের উপর ভর দিয়ে বসে পড়ল এবং রাখালকে বলল, সাবধান! তুমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। তুমি আমার ও সেই রিযিক্বের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছ, অথচ তা মহান আল্লাহ পাক তিনি‌ আমার জন্য পাঠিয়েছেন!

রাখাল বলল, এতো আশ্চর্যের বিষয়! একটি নেকড়ে তার লেজের উপর বসে আমার সঙ্গে মানুষের ভাষায় কথা বলছে! তখন নেকড়েটি রাখালকে বলল, আমি কি তোমাকে আমার চেয়েও অধিক আশ্চর্যজনক একটি বিষয়ের সংবাদ দেব না? মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুই হাররাহর মধ্যবর্তী স্থানে (পবিত্র মদীনা শরীফে) মানুষকে পূর্ববর্তী ঘটনাবলীর সংবাদ দিচ্ছেন।

অতঃপর রাখাল তার ভেড়াগুলোকে নিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফে আসলো এবং সেগুলোকে শহরের এক কোণে জড়ো করে রাখল। তারপর সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে উপস্থিত হয়ে নেকড়ের কথাগুলো বর্ণনা করল।

তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট তাশরীফ মুবারক নিলেন। অতঃপর রাখালকে বললেন, তুমি যা দেখেছ তা সবার সম্মুখে বর্ণনা করো। তখন রাখাল দাঁড়িয়ে সবার নিকট নেকড়ের কথাগুলো বর্ণনা করল।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

صَدَقَ الرَّاعِي

‘রাখাল সত্য বলেছে।’

(ছহীহ ইবনে হিব্বান ১৪/৪১৯, শরহু মুশকিলিল আছার ১৫/৪৮০, দালায়িলুন নুবুওওয়াহ ৬/৪১ ইত্যাদি)

9 hrs

মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকত (১ম পর্ব)

মুক্বদ্দিমাহ্: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক কী? মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক। যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টির অন্য কারো মতো সম্বোধন মুবারক করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় মুবারকসমূহ উনাদের জন্য বিশেষ পরিভাষা মুবারক জারী করেছেন। যা দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ আদব, সম্মান, তা’যীম-তাকরীম মুবারক প্রকাশ পায়। সুবহানাল্লাহ!

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনাকে নূরুল ফাত্হ মুবারক নামে নামকরণ করার বিশেষ কারণ হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন আপাদমস্তক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক। তাই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার সবকিছুই নূর। আর ফাত্হ শব্দ মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে বিজয়, সাফল্য ইত্যাদি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার বিশেষ একখানা বৈশিষ্ট মুবারক রয়েছেন যে, হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক থাকার কারণে তিনি সমস্ত জিহাদেই বিজয় লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ! এ কারণেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনাকে নূরুল ফাত্হ মুবারক বলে সম্বোধন করা হয়। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য বক্ষমান প্রবন্ধে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার বরকত মুবারক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার ক্ষেত্রে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক লেখা হয়েছে।



মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বেমেছাল মর্যাদা মুবারক:



সম্মস্ত উম্মতের ইজমা’ হয়েছে যে, যেই ধুলি-বালি মুবারক অর্থাৎ যা কিছু এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে এসেছে তার মর্যাদা কা’বা শরীফ, কুরসী, লৌহ-কলম এমনকি পবিত্র আরশে আযীম মুবারক থেকেও বেশি হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে সরাসরি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুবারক উনাদের মর্যাদা মুবারক কত বেমেছাল সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা।

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুই খানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি লাভ করেছিলেন। তিনি বরকত হাছিলের জন্য ঐ দুই খানা নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার হুজরা শরীফে নিয়ে এলেন এবং যথাযথ তা’যীম ও সম্মানের সাথে যতœসহকারে হুজরা শরীফের ভিতরে কোন এক জায়গায় রেখে দিলেন। কিছুক্ষণ পর উনার হুজরা শরীফের অভ্যন্তরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পেলেন। হুজরা শরীফের ভিতরে গিয়ে দেখলেন, তখনও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে হাযির হয়ে সমস্ত ঘটনা পেশ করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাকরীর মুবারক (মুচকি হাসি মুবারক) দিয়ে বললেন-

ﺍِﻥَّ ﺍﻟْﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔَ ﻳَﺠْﺘَﻤِﻌُﻮْﻥَ ﻋَﻠٰﻰ ﺷَﻌْﺮِﻯْ ﻭَ ﻳَﻘْﺮَﺅُوْﻥَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺍٰﻥَ

অর্থাৎ ‘হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আমার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার নিকট সমবেত হয়ে মহাসম্মানিত কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেছিলেন।’ সুবহানাল্লাহ! (জামেউল মু’জিযাত ৬২ পৃষ্ঠা, ইসলামের বাস্তব কাহিনী ১ম খন্ড, যিকরে জামীল)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র হজ্জের সময় উনার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক হলক্ব করতেন, তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রতিযোগিতা করতেন সেগুলো নেয়ার জন্য। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْحَلَّاقُ يَحْلِقُه وَأَطَافَ بِهِ أَصْحَابُه فَمَا يُرِيْدُوْنَ أَنْ تَقَعَ شَعْرَةٌ إِلَّا فِىْ يَدِ رَجُلٍ

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এমন অবস্থায় দেখলাম যে, ক্ষৌরকার উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক হলক্ব করছেন। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনার চতুর্পাশ্বে তাওয়াফ করছেন, যেন উনার মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (নিচে না পড়ে) উনাদের কারো না কারো হাত মুবারকে পড়ে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ ৩/১৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭/৬৮, মুসনাদে আবী আওয়ানাহ্ ২/৩১২ ইত্যাদি)

9 hrs

নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)

সম্মানিত দ্বীনী দাওয়াত দেয়ার ফযীলত মুবারক :

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম এবং হক্ব পথের দাওয়াত দেয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। উম্মতের জন্য এটা গুরত্বপূর্ণ একটি ইবাদত মুবারক।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ ‎﴿٣٣﴾

অর্থ: “আর উনার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যিনি মানুষকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে ডাকেন, নেক আমল করেন এবং বলেন নিশ্চয়ই আমি মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত।” (পবিত্র সূরা হা-মীম সাজদাহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ; ৩৩)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ

অর্থ: “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য তোমাদেরকে বের করা হয়েছে। তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও এবং অসৎ কাজে নিষেধ করো।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ: ১১০)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَت سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَاللَّهِ لَأَنْ يَهْدِيَ اللَّهُ بِكَ رَجُلًا وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ

অর্থ: হযরত সাহল ইবনে সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, তোমার দ্বারা যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি একজন মানুষকেও হিদায়াত মুবারক দেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উট (যা, আরবদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ) পাওয়ার চেয়েও উত্তম।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَت أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে ডাকে, তার জন্য রয়েছে ওই পরিমাণ ছওয়াব, যতজন তার অনুসরণ করবে। অথচ অনুসরণকারীদের ছওয়াব থেকে একটুও কম করা হবে না।” (মুসলিম শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ৬৯৮০, আবূ দাউদ শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ৪৬১১ মুসনাদে আহমদ শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ৯১৪৯, শরহে সুন্নাহ শরীফ )

9 hrs

পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (১)

যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ خَيْرٌ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ

অর্থ: যদি তারা পবিত্র ঈমান আনয়ন করতো এবং তাক্বওয়া হাসিল করতো, তাহলে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে উনার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করাতেন। যদি তারা এ সম্পর্কে জানত। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يا بَني آدَمَ قَد أَنزَلنا عَلَيكُم لِباسًا يُواري سَوآتِكُم وَريشًا. وَلِباسُ التَّقوى ذلِكَ خَيرٌ

অর্থ: হে বনী-আদম আমি তোমাদের জন্যে (পবিত্র সুন্নতী) পোশাক অবর্তীণ করেছি, যার দ্বারা তোমরা তোমাদের সতরকে আবৃত করবে এবং সৌন্দর্যম-িত হবে। আর সম্মানিত তাক্বওয়া বা পরহেযগারী উনার পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)

অত্র মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত سَوْءَاتِكُمْ শব্দ মুবারক উনার পরে হরফে আত্বফ ওয়াও উল্লেখ রয়েছে ও رِيشًا শব্দ মুবারক উনার পরে এবংلِبَاسُ التَّقْوَىَ শব্দ মুবারক উনার পূর্বে وَ (ওয়াও) হরফে আ’ত্বফ উল্লেখ রয়েছে।

আ’ত্বফ তখন করা হয়, যখন ভিন্ন ভিন্ন বিষয় হয়। অর্থাৎ عَطْفُ الشَّيْئِ تَغَايُر الشّيْئِকোন কিছুর উপর আ’ত্বফ তখন করা হয়, যখন বিষয়গুলি ভিন্ন ভিন্ন হয়। অর্থাৎ একই জাতীয় বস্তু বা বিষয়ের ক্ষেত্রে আ’ত্বফ হয় না। সুতরাং উপরোল্লেখিত পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ২৬ নং আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি তিন প্রকার পোশাক মুবারক উনার কথা উল্লেখ করেছেন, তা হলো:

১। يُواري سَوآتِكُم বাক্য মুবারক উনার দ্বারা সতরকে আবৃত করার পোশাক মুবারক অর্থাৎ ফরয পরিমাণ পোশাক।

২। ريشًا : শব্দ মুবারক দ্বারা مَا يَتَجَمَّلُ بِه مِنَ الثَّيَابِ বা সৌন্দর্যম-িত পোশাক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নতী পোশাক মুবারক।

৩। :لِباسُ التَّقوى বাক্য মুবারক উনার দ্বারা তাক্বওয়া বা খোদাভীতি উনার পোশাক মুবারক। যা মূলত: জাহিরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক নয়। বরং তাযকিয়ায়ে ক্বলব বা অন্তরের পবিত্রতার খোদাভীতিমূলক চাদর বা পোশাক মুবারক।

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَت الْحسن رَحْمَةُ اللّهِ عَلَيْهِ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا من عبد عمل خيرا أَو شرا إِلَّا كسى رِدَاء عمله حَتَّى يعرفوه وتصديق ذَلِك فِي كتاب الله ولباس التَّقْوَى ذَلِك خير

অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক বান্দাই সে নেক কাজ করুক বা বদ কাজ করুক তাকে তার আমল অনুযায়ী একটি চাদর পরিধান করানো হয়। এমনকি সে লোকজনের কাছে ঐ নামেই পরিচিত হয়। তার প্রমাণ হলো যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন সম্মানিত তাক্বওয়া বা পরহেযগারী উনার পোশাকই সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। (আদ দুররুল মানছূর ফী তাফসীরিল মা’ছূর ৩/৪৩৫)

উল্লেখিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকেও প্রমাণিত খোদা ভীতি অর্জনের মাধ্যমে যে মর্যাদা অর্জন করে ঐ মর্যাদাকেই লিবাসুত তাক্বওয়া বা খোদা ভীতির চাদর বলা হয়েছে। যা তাক্বওয়া অর্জনের স্তর অনুযায়ী, তাক্বওয়া অর্জনকারীকে পরিধান করিয়ে দেয়া হয়।

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَت الْحسن رَحْمَةُ اللّهِ عَلَيْهِ قَالَ رَأَيْت حَضْرَت عُثْمَان عَلَيْه السَّلَام على الْمِنْبَر قَالَ يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا الله فِي هَذِه السرائر فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ مَا عمل أحد عملا قطّ سرا إِلَّا ألبسهُ الله رِدَاءَهُ عَلَانيَة إِن خيرا فَخير وَإِن شرا فشر ثمَّ تَلا هَذِه الْآيَة {وريشا} وَلم يقل وريشاً {ولباس التَّقْوَى ذَلِك خير}

অর্থ: হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত যূন নুরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে উনার মিম্বর শরীফে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। তিনি বলেন, হে মানব সকল! গোপন আমলগুলির ব্যাপারে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করুন। কেননা, নিশ্চয়ই আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, সেই মহান সত্ত্বা মুবারক উনার কসম, যার কুদরতী হাত মুবারকে আমার নূরুল আমর (প্রাণ) মুবারক। যখনই কোন বান্দা সে গোপনে কোন আমল করে, তখন যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে গোপনীয় একটি চাদর পরিধান করিয়ে দেন। যদি উক্ত আমলটি নেক আমল হয়, তাহলে তো সর্বোত্তম আমল হবে। আর যদি বদ আমল হয়, তখন উক্ত আমলটি নিকৃষ্ট আমল হবে। অতঃপর তিনি অত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেন-

يا بَني آدَمَ قَد أَنزَلنا عَلَيكُم لِباسًا يُواري سَوآتِكُم وَريشًا وَلِباسُ التَّقوى ذلِكَ خَيرٌ ذلِكَ مِن آياتِ اللَّهِ لَعَلَّهُم يَذَّكَّرونَ

কিন্তু তিনি পবিত্র আয়াত শরীফে উল্লেখিত وَريشًا শব্দ মুবারক উল্লেখ করেন নাই। (কানযুল উম্মাল ৩/৬৭৪, জামউল জাওয়ামি’ ১৭/৩২, আদ দুররুল মানছূর ফী তাফসীরিল মা’ছূর ৩/৪৩৫) (চলবে)

9 hrs

পবিত্র সুন্নতী লিবাস ও পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া দু’টি আলাদা পোশাক

একটি হলো- জাহেরী সুন্নাহ লিবাস মুবারক; অন্যটি হলো- অন্তরের তাক্বওয়া হাছিলের লিবাস মুবারক (২)

উল্লেখিত মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ থেকেও প্রমাণিত খোদা ভীতি অর্জনের মাধ্যমে যে মর্যাদা অর্জন করে ঐ মর্যাদা অনুসারে তাকে একটি গোপনীয় চাদর পরিধান করিয়ে দেয়া হয়। আর সম্মানিত তাক্বওয়া উনার ঐ চাদর মুবারককেই লিবাসুত তাক্বওয়া বা খোদা ভীতির পোশাক বলা হয়েছে। যা তাক্বওয়া অর্জনের স্তর অনুযায়ী, তাক্বওয়া অর্জনকারীকে পরিধান করিয়ে দেয়া হয়। এটাই হলো সর্বোত্তম পোশাক। কেননা, বাহ্যিক পোশাক পরিধান করলেই অন্তরের তাক্বওয়া হাছিল হয়ে যায় না। যার কারণে তাক্বওয়াবিহীন বাহ্যিক পোশাক সর্বোত্তম পোশাক নয়, বরং তাক্বওয়াসহ বাহ্যিক পোশাকই হলো সর্বোত্তম পোশাক।

আর وَريشًا শব্দ মুবারক উল্লেখ করেন নাই। কারণ, وَريشًا শব্দ মুবারক উনার অর্থ হলো সৌন্দর্যম-িত পোশাক অর্থাৎ বাহ্যিক সুন্নাহ লিবাস বা পোশাক। এক কথায় বাহ্যিক পোশাক যেহেতু তাক্বওয়ার পোশাক নয়, বরং সুন্নাহ পোশাক মুবারক। তাই, উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফে وَريشًا শব্দ মুবারক উল্লেখ করেন নাই।



লিবাসুত তাক্বওয়া হলো অন্তরের পোশাক:



والتقوى هو لباس القلب فلباس القلب من التقوى هو الصدق فى طلب المولى يوارى سوآة طبع الدنيا وما فيها-

অর্থ: লিবাসুত তাক্বওয়া এটা হলো লিবাসুল ক্বলব বা অন্তরের পোশাক আর লিবাসুল ক্বলব বলা হয়, মহান আল্লাহ পাক উনাকে সত্যিকারেই হাসিল করার কোশেশ করা, যার মাধ্যমে দুনিয়া এবং তার মধ্যে অবস্থিত সকল প্রকার বদ স্বভাব দূর হয়ে যায়। অর্থাৎ হাক্বীক্বী ইছলাহ লাভ হয়। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ৩/১৪৮)

لباس التقوى الذي هو لباس القلب والروح بالإيمان والإخلاص والإنابة والتحلي بكل خلق جميل والتخلي عن كل خلق رذيل

অর্থ: লিবাসুত তাক্বওয়া হলো ক্বলবের পোশাক। আর রুহের পোশাক হলো পবিত্র ঈমান, পবিত্র ইখলাছ ও যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু হওয়া। সকল সুন্দর চরিত্র মুবারক তথা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার দ্বারা স্বীয় আমল- আখলাক্বকে সজ্জিত করা। এবং সকল প্রকার বদস্বভাবগুলো থেকে নিজেকে পবিত্র করাই হলো পবিত্র লিবাসুত তাক্বওয়া। (তাইসীরুল লতীফিল মান্নান ফী খুলাছাতে তাফসীরুল কুরআন ১/১৭৮)

মোট কথা হলো: অন্তরের হাক্বীক্বী পরিশুদ্ধতা এবং আমলে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা উনার মাধ্যমে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেজামন্দী-সন্তুষ্টি হাসিল করাই হলো লিবাসুত তাক্বওয়া বা সম্মানিত খোদা ভীতি উনার প্রকৃত সর্বোত্তম পোশাক মুবারক। আর وَريشًا বা বাহ্যিক সৌন্দর্যম-িত লিবাস হলো পবিত্র সুন্নাহ লিবাস মুবারক। (সমাপ্ত)

9 hrs

নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَت عَبْدِ اللَّهِ بن عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ بَلِّغُوا عَنِّي وَلَوْ آيَةً

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি পবিত্র আয়াত শরীফ হলেও পৌঁছে দাও।” (বুখারী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ৩৪৬১, সুনানুত তিরমিযী শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ২৬৬৯, মু’জামুল কবীর লিত্ব ত্ববারনী শরীফ; ১৫২৫, মুসনাদে আহমদ শরীফ: পবিত্র হাদীছ শরীফ নং; ৬৪৮৬, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিল বায়হাক্বী শরীফ)



দাওয়াতের কাজ নিকট আত্মীয়দের থেকে শুরু করা ঃ



মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا.

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেরা ও তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নাম থেকে হিফাযত করো।” (পবিত্র সূরা তাহরীম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ৬)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পরিবারবর্গকে জাহান্নাম থেকে হিফাযত করো। এখান থেকে প্রমাণিত হলো যে, নিজের আহলিয়া ও ছেলে-মেয়েদেরকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে ইলিম শিক্ষা দেয়া ফরয। অন্যথায় পরিণাম জাহান্নাম। (তারগীব)

উল্লেখ্য, যদি পরিবারের সকল লোক হক্ব পথের অনুসারী না হয় তাহলে একার পক্ষে হক্ব মত, পথের উপর ইস্তিক্বামত থাকা অনেক কঠিন।

হযরত ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেছেন, এই পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রত্যেক ব্যক্তির উপর তার আহলিয়া, সন্তানদেরকে হালাল-হারামসহ সম্মানিত শরীয়ত উনার যাবতীয় হুকুম-আহকাম শিক্ষা দেয়া এবং সে অনুযায়ী তাদেরকে আমল করানোর চেষ্টা করা ফরয। অপর এক পবিত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে- কিয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি আযাব তাদের হবে, যাদের পরিবার-পরিজন সম্মানিত দ্বীন সম্পর্কে জাহিল ও গাফেল ছিল। (রুহুল মাআনী)

অন্য পবিত্র আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَانْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ

অর্থ: “আপনি আপনার নিকট আত্মীয়দেরকে ভীতি প্রদর্শন করুন। (পবিত্র সূরা শু’আরা শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ: ২১৪)

9 hrs

ইতিহাস:

মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী

সময়টা তখন ১৪৯১ সাল। গ্রানাডার মুসলিম শাসনের সূর্য অস্তমিত প্রায়। দুর্বল এবং অযোগ্য মুসলিম শাসক থাকার সুযোগে তৃতীয়বারের মতো গ্রানাডা অবরোধ করেছে ক্যাস্টোলার শাসক পঞ্চম ফার্ডিন্যান্ড। এবার শেষবারের মতো অস্তিত্বরক্ষার লড়াইয়ে নামলেন গ্রানাডার মুসলিমরা। গ্রানাডার মুসিলম যুবকরা সিদ্ধান্ত নিলেন শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তারা খ্রিষ্টানবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন।

এই যুবকদের নেতৃত্বে ছিলেন মুসা বিন আবী গাসসান নামক এক যুবক। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা দিলেন, খ্রিষ্টান শাসক জেনে রাখুক! আরবদের জন্মই হয়েছে বর্ষা নিক্ষেপ ও ঘোড়ায় আরোহনের জন্য। শত্রুদের বিলাসবহুল প্রাসাদে অবস্থান করার চাইতে তাদেরকে প্রতিরোধ করে গ্রানাডার কোনো ভাঙা দেয়ালের নিচে নিজের কবর নির্ধারণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।

শুরু হলো যুবকদের প্রতিরোধ। এদিকে আল হামরা প্রাসাদে বসে ইতিপূর্বে করা নিজের ভুলের মাশুল দিচ্ছিলো দূর্বল শাসক সুলতান আবু আব্দুল্লাহ। টানা সাত মাস যুবকদের সাথে খ্রিষ্টান বাহিনীর লড়াই চলতে থাকে। ফার্ডিন্যান্ডের বাহিনী গ্রানাডার বাইরে থাকা গ্রামগুলোর উপর হামলা করে সব কয়টি গ্রাম দখর করে নেয়। শুধু ফাখখার নামক একটি গ্রাম তারা দখল করতে পারছিলো না। এই গ্রামের দখলকে কেন্দ্র করে মুসলিমবাহিনীর সাথে তাদের বেশ কয়েকটি লড়াই হয়। খ্রিষ্টানদের অনেক সেনা নিহত হয়। তবুও তারা গ্রামটির দখল নিতে পারছিলো না। মুসলমানরা কৌশলে খ্রিষ্টান শিবিরে গেরিলা হামলা চালাতে শুরু করলেন।

অবরোধ ও প্রতিরোধও দীর্ঘ হয়ে ওঠে। মুসলমানদের সেনা সংখ্যাও কমে থাকে। শীতের শুরুতে তীব্র তুষারপাত শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় বাশারাহগামী সড়ক। ফলে বাহির থেকে গ্রানাডায় রসদ আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। বেড়ে যায় দ্রব্যমূল্য। সুলতান আবু আব্দুল্লাহ তখন সব ছেড়ে নিজের পরিবারের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল করতে শুরু করেন। অবরোধের শুরুতেই সুলতান ও তার চাটুকার আমীররা নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রানাডা থেকে পালাচ্ছিলো। গ্রানাডার পরিস্থিতি অনেক খারাপ হতে থাকে। তখন শহরের কিছু ব্যক্তি একত্রিত হয়ে সুলতানের কাছে গিয়ে তাকে আত্মসমর্পনের ঘৃণ্য আহ্বান জানায়। আবু আব্দুল্লাহ কাপুরুষতার সহিত এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফার্ডিন্যান্ডের কাছে দূত পাঠায়। উভয়পক্ষের মধ্যে ৬৭টি চুক্তি হয়। চুক্তিগুলোর মধ্যে ছিলো- খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশ করবে না, মুসলমানদের আদালত ও বিচারকার্য শরীয়াহ অনুসারেই হবে, কোনো মুসলমানকে ধর্মান্তরিত করা যাবেনা, মুসলমানদের সম্পত্তির মালিকানা থাকবে মুসলমানদের হাতেই, খ্রিষ্টানরা মুসলমান হলে তাকে বাধা দেয়া যাবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি।

এই চুক্তির সংবাদ পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মুসা বিন আবী গাসসান। তিনি তৎক্ষনাত সুলতানের প্রাসাদে উপস্থিত হয়ে সুলতান ও আমীরদের লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা কি নারী শিশুদের জন্য কান্না রেখে যাচ্ছেন? আমরা পুরুষ, আমাদের রয়েছে অন্তর, যা অশ্রু প্রবাহের জন্য নয়। বরং দুশমনদের রক্ত প্রবাহিত করার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। হায়! গ্রানাডার সম্ভ্রান্তরা আজ প্রতিরোধযুদ্ধে যেতে ভয় পাচ্ছে। এই বলে তিনি থামলেন। পুরো দরবারে পিনপতন নীরবতা। তিনি আবার বললেন, আপনারা নিজেদের ধোঁকা দিবেন না। খ্রিষ্টানরা কখনই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে না। এই নগরীতে নেমে আসবে ধ্বংস, লুণ্ঠিত হবে আমাদের বসতবাড়ি, সম্ভ্রম হারাবে আমাদের মা-বোনরা। আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে বন্দীশালা, চাবুক ও জিঞ্জির। আজ যারা সৌভাগ্যের শাহাদাতকে ভয় করছে তারা শীঘ্রই এই নির্যাতনের মুখোমুখি হবে। আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি কখনোই এসব প্রত্যক্ষ করবো না। কারণ আমি তোমাদের দলে নই।

এই বলে মুসা বিন আবী গাসসান দরবার ত্যাগ করলেন। তিনি বাড়িতে যান এবং অস্ত্রসজ্জ্বিত হয়ে বেরিয়ে আসেন এবং একাই খ্রিষ্টানদের ১৫ জনের একটি দলের উপর আক্রমন করেন। এরপর অনেককেই জাহান্নামে পাঠিয়ে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। উনার পুরো শরীর টুকরো টুকরো হয়ে যায়। আর গ্রানাডারও পতন ঘটে। খ্রিষ্টানরা সকল চুক্তিই ভঙ্গ করে। ইতিহাস যার রক্তসাক্ষী।

9 hrs

আল হামদুলিল্লাহ!
মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণাকেন্দ্র থেকে আরো একটি নতুন কিতাব প্রকাশিত হয়েছে।

নাম: ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে
চু-চেরা ও কিলও কাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদন্ড প্রদান করেছেন।’

এই মহামূল্যবান কিতাবটি আজই সংগ্রহ করুন।
নিজে পড়ুন অন্যকে পড়তে ‍উৎসাহিত করুন।

📍 যোগাযোগ:
মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ (বিক্রয় কেন্দ্র)
৫, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা–১২১৭
হাতিফ: +880248313284
অনলাইনে অর্ডার করতে যোগাযোগ করুন- 01782-255244

image

🌹সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল ‘আলামীন, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (১৮)


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
عَنْ ام المؤمنين سيدتنا حضرت الثامنة عليها السلام (سيدتنا حضرت جويرية بِنْتِ الْحَارِثِ عليها السلام) أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَهِيَ صَائِمَةٌ فَقَالَ أَصُمْتِ أَمْسِ قَالَتْ لَا قَالَ تُرِيدِينَ أَنْ تَصُومِي غَدًا قَالَتْ لَا قَالَ فَأَفْطِرِي
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন যে, একবার ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ শরীফ (জুমু‘য়ার দিন) নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার নিকট সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেন। সেদিন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি রোযা রেখেছিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, আপনি কি গতকাল রোযা মুবারক রেখেছিলেন? তিনি বললেন যে, না। তারপর ইরশাদ মুবারক করেন, আপনার কি আগামীকাল রোযা রাখার ইচ্ছা মুবারক আছে? তিনি বললেন যে, না। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তাহলে আপনি রোযা মুবারক ভেঙ্গে ফেলুন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)