সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২৪)
, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বরকতময় জিবনী মুবারক
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২৪)
কুরাইশ কাফির মুশরিকরা মধ্যস্ততাকারী প্রেরণ:



আলোচনায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকেও সে সব কথাই বললেন, যা তিনি হযরত বুদাইল বিন ওয়ারাকা খুযায়ী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এবং পরবর্তীতে কুরাইশ কাফির-মুশরিকদের পক্ষ থেকে প্রেরিত মিকরায বিন হাফেস্কে বলেছিলেন। প্রত্যুত্তরে উরওয়া বললো, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি আপনি নিজ জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেন, তবে কি আপনার পূর্বের কোন আরব সম্পর্কে শুনেছেন যে, সে নিজ জাতিকে সমূলে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে? আর যদি দ্বিতীয় অবস্থা ঘটে যায় তবে মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যারা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আপনাকে ছেড়ে পলায়ন করবেন। নাউযুবিল্লাহ!

এ কথা শুনে আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত শক্তভাবে বললেন, “লাতের ঝুলন্ত চর্ম চুষতে থাক, আমরা উনাকে ছেড়ে পলায়ন করবো? উরওয়া বললো, “এ ব্যক্তি কে? উপস্থিত যারা ছিলেন উনারা বললেন, তিনি হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম।

উরওয়া বিন মাসউদ সাক্বাফী সে হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে সম্বোধন করে বললো, ‘দেখেন, সেই সত্তার কসম! যাঁর কুদরতী হাত মুবারকে আমার জীবন রয়েছে। যদি এমন ব্যাপার না হতো যে, আপনি আমার একটি উপকার করেছিলেন এবং আমি তার প্রতিদান দিতে পারিনি, তবে অবশ্যই এর জবাব আমি দিয়ে দিতাম।’

এরপর উরওয়া পুনরায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে কথোপকথন শুরু করলো এবং আলাপ-আলোচনা চলা অবস্থায় বার বার সে বেয়াদবীমূলক করতে চাচ্ছিলো তখন হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পার্শ্বে দাঁড়িয়েছিলেন। হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাত মুবারকে ছিলো একটি তরবারী মুবারক।

আলোচনার সময় উরওয়া যখন বেয়াদবীমূলক আচরণ করার জন্য হাত বাড়ানোর মত দুঃসাহস করতো তখন হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তরবারীর হাতল দ্বারা এই বেয়াদবের হাতে আঘাত করতেন এবং বলতেন, “হে বেয়াদব! হাত দূরে রাখো।” অবশেষে উরওয়া নিজ মস্তক উত্তোলন করে বললো, ‘এ ব্যক্তি কে?’ উপস্থিত লোকজন বললেন, তিনি হচ্ছেন হযরত মুগীরা বিন শো’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। সে বললো, “অঙ্গীকার ভঙ্গকারী! আমি কি আপনার অঙ্গীকার ভঙ্গের ব্যাপারে দৌঁড় ঝাঁপ করছি না?”

প্রকৃত ঘটনাটি হচ্ছে, জাহেলী যুগে হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি কিছু সংখ্যক লোকের সঙ্গে ছিলেন। কোন এক অবস্থায় তিনি সঙ্গী সাথীদের হত্যা করেন এবং তাদের ধন সম্পদ নিয়ে আসেন। অতঃপর তিনি পরবর্তীতে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন। উরওয়া দৌঁড়-ঝাঁপ করার কারণ ছিলো, হযরত মুগীরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন তার ভ্রাতুষ্পুত্র।’ এরপর উরওয়া নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে গভীর মুহব্বত ও সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করতে থাকলো। অতঃপর স্বগোত্রীয় লোকজনদের নিকট ফিরে এসে সে বললো, ‘হে গোত্রীয় ভ্রাতৃবর্গ! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি কায়সার ও কিসরা এবং নাজ্জাসীদের শাসকের দরবারে গিয়েছি, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি কোন শাসককে দেখিনি যে, তার অনুসারী বা সঙ্গী সাথীগণ সেই শাসককে এতটুকু সম্মান প্রদর্শন করছে, যতটুকু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যত বেশী সম্মান ও মুহব্বত করেন।

মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন নূরুল বারাকাত মুবারক (থুথু মুবারক) রেখেছেন তখন যে কেউ উহা হাতে নিয়ে আপন মুখমন্ডলে কিংবা শরীরে মেখে নেন। যখনই তিনি কোন কাজের নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন, তখনই তা বাস্তবায়নের জন্য সকলের মধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। যখন তিনি ওযূ মুবারক করেন তখন মনে হচ্ছে যেন উনার ব্যবহৃত পানি মুবারকের জন্য লোকেরা যুদ্ধ শুরু করে দিবেন। যখন তিনি কোন কথা মুবারক বলেন তখন সকলের কণ্ঠস্বর নীচু হয়ে যায়। উনার সম্মানের খাতিরে ছাহাবী উনারা কখনই উনার প্রতি পূর্ণভাবে দৃষ্টিপাত করেন না।

নিশ্চয়ই যতটুকু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে এমন গুণাবলী মুবারকের সমাবেশ ঘটেছে যার ফলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এতটা মুহব্বত মুবারক এবং তা’যীম তাকরীম মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি তোমাদের জন্য একটি উত্তম প্রস্তাব দিয়েছেন। তোমাদের উচিত তা গ্রহণ করে নেয়া।’

-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের মাঝে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তোমাদের জন্য কষ্টকর বিষয়গুলো উনার নিকট অসহনীয়। তিনি তোমাদের ভালাই চান। বিশেষ করে মু’মিনদের প্রতি তিনি ¯েœহশীল এবং দয়াময়।”
রঊফুর রহীম, হারীছুন আলাল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর সমস্ত আরজী পূরণ করেন।
তাই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে খাছভাবে রুজু হওয়া ও খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।
, ০৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
রঊফুর রহীম, হারীছুন আলাল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর সমস্ত আরজী পূরণ করেন।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের মাঝে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তোমাদের জন্য কষ্টকর বিষয়গুলো উনার নিকট অসহনীয়। তিনি তোমাদের ভালাই চান। বিশেষ করে মু’মিনদের প্রতি তিনি ¯েœহশীল এবং দয়াময়।” অর্থাৎ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হায়াতুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হাযির, যিনি নাযির, যিনি রঊফুর রহীম তিনি কায়িনাতবাসীর জন্য সীমাহীন দয়াময়।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তিরমিযী শরীফে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবূ জুরাই জাবির ইবনু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার সম্মানিত মদীনা শরীফে এলাম। দেখলাম লোকেরা একজন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনার মতামত ও মুবারক নির্দেশনার উপর নির্ভরশীল। তিনি যা বলছেন, মানুষ সে অনুযায়ী কাজ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি উনার খিদমত মুবারকে হাযির হয়ে দু‘বার বললাম, ‘আলাইকাস সালাম’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আলাইকাস সালাম’ বলো না। কারণ ‘আলাইকাস সালাম’ হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ। বরং বলো, ‘আসসালামু আলাইকা। এরপর আমি বললাম, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার সেই মহাসম্মানিত রসূল, যাঁকে কোন বিপদ-আপদে ডাকলে তিনি তা দূর করে দেন। তুমি যদি দুর্ভিক্ষে পতিত হয়ে উনাকে ডাকো, তাহলে তিনি যমীনে তোমার জন্য সবুজ ফসল ফলিয়ে দেবেন। তৃণ ও প্রাণহীন কোন মরু প্রান্তরে অথবা ময়দানে যখন তুমি থাকো এবং সেখানে তোমার বাহন হারিয়ে গেলে তুমি যদি উনাকে ডাকো, তিনি তা তোমাকে ফিরিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এখানে কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্ট। প্রথমত, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজী করলে, তিনি সব আরজী পূরণ করে দেন। দ্বিতীয়ত, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজী করলে, তিনি দূর্ভিক্ষ দূর করে দেন। তৃতীয়ত: নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজী করলে, তিনি হারানো বস্তু ফিরে পাবার ব্যবস্থা করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা যখন কোন কিছু ভুলে যাও, তখন আমার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করো। ইনশায়াল্লাহ মহান আল্লাহ পাক তিনি তা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার উম্মতদের প্রতি অতিশয় দয়ালু। উম্মতের কোন কষ্ট তিনি কখনোই বরদাস্ত করেননা। এখন উম্মত যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দয়া, দান, ইহসান লাভ করতে চায়, তাহলে উম্মতকে বেশি বেশি আরজী করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরূদ শরীফ সমস্ত খাইর-বরকতের চাবিকাঠি।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো, রঊফুর রহীম, হারীসুন আলাল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর সমস্ত আরজী পূরণ করেন। উনাকে স্মরণ করা ও উনার পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে সর্বপ্রকার ভালাই লাভ হয় এবং সমস্ত বালা-মুছীবত বিদূরিত হয়। সুবহানাল্লাহ! তাই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে খাছভাবে রুজু হওয়া ও উনার খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত হাবীব মাহবুব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ভিত্তি হচ্ছেন আমার মুহব্বত মুবারক এবং আমার মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আজ সুমহান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৭ই রবীউছ ছানী শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা আখাছ্ছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! অতএব, সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার পাশাপাশি উনার মুবারক শানে সর্বো”” হুসনে যন পোষণ করা, উনাকে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ করা ও উনার যথাযথ খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া।
বিশেষ করে মহিলাদের জন্য আবশ্যক হলো- উনার প্রতি সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করত উনার ছোহবত মুবারক নিয়মিত ইখতিয়ার করে উনার ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক লাভের মাধ্যমে চূড়ান্ত কামিয়াবী হাছিল করা।
, ০৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
আজ সুমহান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৭ই রবীউছ ছানী শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা আখাছ্ছুল খাছ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানিত আ’দাদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! অতএব, সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার পাশাপাশি উনার মুবারক শানে সর্বো”” হুসনে যন পোষণ করা, উনাকে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ করা ও উনার যথাযথ খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক ও মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক উনাদের মাধ্যমে অনেক মাস, তারিখ ও বারকে মহাসম্মানিত করেন। মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ৭ই শরীফ হচ্ছেন তেমনি একটি সুমহান দিন। কেননা, এ মহাসম্মানিত আ’দাদ শরীফ-এ আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ‘ফযল’ ও ‘রহমত’ মুবারক অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে লাভ করার কারণে খুশি প্রকাশ করো।” সুবহানাল্লাহ! এ মহাপবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা ছাবিত হয় যে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বান্দা-বান্দী ও উম্মত তথা কুল-কায়িনাতের জন্য যেরূপ রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত লাভের কারণ; তদ্রƒপ উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা পুরুষ হোন অথবা মহিলা হোন উনারাও কুল-কায়িনাতের জন্য রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, নাজাত লাভের কারণ। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা যমীনবাসীদের জন্য খাছ ‘ফযল ও রহমত’ স্বরূপ। সুবহানাল্লাহ! তাই উনাদের মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ বা আগমন দিনটিও যমীনবাসীদের জন্য সুমহান ঈদ বা খুশির দিন। যা সকলের জন্যই রহমত, বরকত, নিয়ামত, সাকীনা ও নাজাত লাভের কারণ। সুবহানাল্লাহ! অতএব, সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মুবারক আ’দাদ শরীফ দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার পাশাপাশি উনার মুবারক শানে সর্বো”” হুসনে যন পোষণ করা, উনাকে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ করা ও উনার যথাযথ খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য আবশ্যক হলো- উনার প্রতি সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করত উনার ছোহবত মুবারক নিয়মিত ইখতিয়ার করে উনার ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক লাভের মাধ্যমে কামিয়াবী হাছিল করা।

নরম কথা ক্রোধান্ধ মানুষকেও নরম করে দেয়, শক্ত কথা শান্ত মানুষের মনেও ক্রোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।

বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে রাগ দমন করা, আখলাক সুন্দর করা সম্ভব।

রাগ জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরা। এজন্য রাগান্বিত ব্যক্তির চেহারা লাল হয়ে যায়। রাগ গরম কয়লার মতো। যাকে ছুড়ে মারতে চান, তার আগে নিজের হাতই পুড়ে যায়।

পরের বার রাগ এলে একটু থামুন। মনে করুন, এই মুহূর্তে শয়তান চাইছে আপনি বিস্ফোরিত হন, আর মহান আল্লাহ পাক চাইছেন আপনি শান্ত থাকুন। কাকে খুশি করবেন, সিদ্ধান্ত আপনার।

রাগ একটি শক্তিশালী আবেগ। রাগ যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এটি ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন, আবেগ যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে।

রাগ নিয়ন্ত্রণের ৬টি সুন্নতী পদ্ধতি

১. অবস্থান পরিবর্তন করা
দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন, বসে থাকলে শুয়ে পড়ুন। প্রয়োজনে ওই স্থান ত্যাগ করুন।

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
إِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ قَائِمٌ فَلْيَجْلِسْ، فَإِنْ ذَهَبَ عَنْهُ الْغَضَبُ، وَإِلَّا فَلْيَضْطَجِعْ
অর্থ: যখন তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়, তখন সে যেন বসে পড়ে। যদি এতে রাগ চলে যায় তবে ভালো, অন্যথায় সে যেন শুয়ে পড়ে।
সুনানে আবু দাউদ শরীফ ৪৭৮২

২. অজু মুবারক করা
রাগ আগুন থেকে সৃষ্টি, আর আগুন নিভে পানিতে।

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
إِنَّ الْغَضَبَ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَإِنَّ الشَّيْطَانَ خُلِقَ مِنَ النَّارِ، وَإِنَّمَا تُطْفَأُ النَّارُ بِالْمَاءِ، فَإِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَوَضَّأْ
অর্থ: নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে, আর শয়তান আগুন থেকে সৃষ্টি। আর আগুন নিভে পানিতে। তাই যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়, সে যেন অজু করে।
সুনানে আবু দাউদ শরীফ ৪৭৮৪
তাই অজু করুন, পানি পান করুন।

৩. চুপ থাকা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِذَا غَضِبْتَ فَاسْكُتْ
অর্থ: যখন রাগান্বিত হও, তখন চুপ থাকো।
মুসনাদে আহমদ শরীফ ২১৯১
রাগ সমাধান নয়, ছবরই সমাধান। রাগের সময় কম কথা বলুন।

৪. মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আশ্রয় চাওয়া
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ
অর্থ: যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। সূরা ফুসসিলাত শরীফ ৩৬

তাই বেশি বেশি পড়ুন,
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
অর্থ: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আশ্রয় চাইছি।

৫. দরূদ শরীফ পাঠ করা
রাগ প্রশমিত করার জন্য দরূদ শরীফ পাঠ করা বড়ই উপকারী। দরূদ শরীফ পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ ক্রোধ প্রশমিত হবে।

আরবের হক্বানী ওলীআল্লাহগণের মধ্যে এখনো এই সুন্দর নিয়মটি চলে আসছে যে, কোনো কারণে রাগান্বিত হলে উনাদেরকে দরূদের কথা মনে করিয়ে দিলেই উনারা দরূদ শরীফ পড়তে পড়তে ঠান্ডা হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ।

৬. পুরস্কারের কথা চিন্তা করা
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ، دَعَاهُ اللَّهُ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অর্থ: যে ব্যক্তি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাগ সংবরণ করে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তাকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে বিশেষ সম্মান দান করবেন।
সুনানে আবু দাউদ শরীফ ৪৭৭৭, সুনানে তিরমিযী শরীফ ২০২১

যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, মহান আল্লাহ পাক তার অন্তরকে নূরানী বানিয়ে দেন। আর শয়তান মুমিনের অন্তরের নূরকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।

চারটি জিনিস জীবনে কখনও ত্যাগ করবেন না

১. শোকর আদায় করা বন্ধ করবেন না, না হলে বরকতের বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হবেন

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

لَئِن شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ

অর্থ: যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বেশি বাড়িয়ে দিবো। সূরা ইবরাহীম শরীফ ৭

২. মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ বা যিকির মুবারক ত্যাগ করবেন না, না হলে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে স্মরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ

অর্থ: তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করবো। সূরা আল বাকারা শরীফ ১৫২

৩. দোয়া করা ত্যাগ করবেন না, না হলে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কবুলের সুযোগ হারাবেন

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

অর্থ: তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। সূরা গাফির শরীফ ৬০

৪. ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা ত্যাগ করবেন না, না হলে মুক্তি ও রক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَمَا كَانَ اللَّهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক এমন নন যে, তারা ইস্তিগফারে রত থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দিবেন। সূরা আল আনফাল শরীফ ৩৩
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন

পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের ফযীলত সম্পর্কে দলীল সহ আলোচনা

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা হলো পবিত্র কুরআন শরীফ। এটি তিলাওয়াত করা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত।

১. কুরআন শরীফ তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথোপকথন

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

مَنْ أَرَادَ أَنْ يَتَكَلَّمَ مَعَ اللَّهِ فَلْيَقْرَأِ الْقُرْآنَ

অর্থ: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলতে চায়, সে যেন পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে।

২. প্রতিটি হরফে দশটি করে নেকী

এটি কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ফযীলত।

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ

অর্থ: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকী রয়েছে, আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমান। আমি বলছি না যে الم একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ। সুনানে তিরমিযী শরীফ ২৯১০

সুবহানাল্লাহ, الم পড়লেই ৩০টি নেকী।

৩. কুরআন শরীফ তিলাওয়াতকারী কিয়ামতের দিন সুপারিশ লাভ করবে

هযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ

অর্থ: তোমরা পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করো, কেননা কুরআন শরীফ কিয়ামতের দিন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে। ছহীহ মুসলিম শরীফ ৮০৪

৪. দুনিয়াতে সম্মান ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا، وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক এই কিতাবের দ্বারা অনেক সম্প্রদায়কে সম্মানিত ও উন্নত করেন এবং অনেক সম্প্রদায়কে অবনত করেন। ছহীহ মুসলিম শরীফ ৮১৭

যারা কুরআন শরীফ অনুযায়ী আমল করে, মহান আল্লাহ পাক তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।

৫. তিলাওয়াতকারীর জন্য জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا

অর্থ: কুরআন শরীফের হাফিয বা নিয়মিত তিলাওয়াতকারীকে বলা হবে, তুমি তিলাওয়াত করতে থাকো এবং উপরে উঠতে থাকো। দুনিয়াতে যেভাবে তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করতে, সেভাবে তিলাওয়াত করো। কেননা তোমার মর্যাদা হবে শেষ আয়াতের স্থানে, যা তুমি তিলাওয়াত করবে। সুনানে আবু দাউদ শরীফ ১৪৬৪, সুনানে তিরমিযী শরীফ ২৯১৪

অর্থাৎ জান্নাতে তার মর্যাদা তত উঁচু হবে, সে যত বেশি আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেছে।

৬. ঘরে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করলে বরকত ও শয়তান দূর হয়

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ

অর্থ: তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থান বানিও না। নিশ্চয়ই শয়তান ওই ঘর থেকে পলায়ন করে, যে ঘরে সূরা বাকারা শরীফ তিলাওয়াত করা হয়। ছহীহ মুসলিম শরীফ ৭৮০

৭. মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ও সকীনা নাযিল হয়

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ

অর্থ: যখন কোনো সম্প্রদায় মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরসমূহের কোনো ঘরে একত্রিত হয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে এবং পরস্পরকে শিক্ষা দেয়, তখন তাদের উপর সকীনা বা প্রশান্তি নাযিল হয়, তাদেরকে রহমত আচ্ছন্ন করে ফেলে, ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাদের আলোচনা করেন। ছহীহ মুসলিম শরীফ ২৬৯৯

উপসংহার

তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন কমপক্ষে কিছু সময় পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং একজন হক্বানী রব্বানী ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত মুবারকে থেকে কুরআন শরীফের হাক্বীকত শিক্ষা করা।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে নিয়মিত কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয় কাজ সম্পর্কে আদব ও সম্মানের সাথে সংক্ষেপে দলীল সহ আলোচনা করা হলো -

আমাদের প্রথম ও প্রধান পরিচয় আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত। তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজ উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক অনুযায়ী হতে হবে।

১. বিশুদ্ধ ঈমান আনা ও আক্বীদা ঠিক করা
সব কাজের ভিত্তি হলো ঈমান। শিরক ও কুফর মুক্ত বিশুদ্ধ ঈমান আনতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ
অর্থ: জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। সূরা মুহাম্মদ শরীফ ১৯

এবং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ মুহব্বত ও আদব রাখা ফরয।

২. পাঁচ ওয়াক্ত নামায হিফাযত করা
ঈমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয হলো নামায।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا
অর্থ: নিশ্চয়ই নামায মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরয করা হয়েছে। সূরা নিসা শরীফ ১০৩

নামায মানুষকে অশ্লীলতা থেকে রক্ষা করে।

৩. পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নত মুবারককে আঁকড়ে ধরা
আমাদের জীবন পরিচালনার সংবিধান হলো পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নত মুবারক।

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ
অর্থ: আমি তোমাদের মধ্যে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না, তা হলো মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও উনার নবীর সুন্নত মুবারক। মুয়াত্তা ইমাম মালিক

৪. হালাল রিযিক গ্রহণ করা ও হারাম থেকে বেঁচে থাকা
ইবাদত কবুলের পূর্বশর্ত হলো হালাল রিযিক।

হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
طَلَبُ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ
অর্থ: ফরযের পর হালাল রিযিক তালাশ করাও ফরয। বাইহাক্বী শরীফ

সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, ধোঁকা, গীবত, হিংসা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

৫. আখলাক সুন্দর করা ও হক্ব আদায় করা
একজন মুসলমানের ব্যবহার হবে সবচেয়ে সুন্দর।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ
অর্থ: আমি উত্তম চরিত্রকে পরিপূর্ণ করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি।

তাই পিতা-মাতার খেদমত, প্রতিবেশীর হক্ব, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, ছোটদের স্নেহ ও বড়দের সম্মান করা আমাদের করণীয়।

৬. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করা
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ
অর্থ: তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, তোমাদেরকে মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে, তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। সূরা আলে ইমরান শরীফ ১১০

* মুসলমানদের শত্রু কারা? এটাও চিনতে হবে।

৭. একজন হক্বানী রব্বানী ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত মুবারকে থাকা
নিজে নিজে দ্বীন শেখা সম্ভব নয়। এজন্য কামিল মুর্শিদের কাছে বাইয়াত হয়ে দ্বীন শিখতে হয়।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ
অর্থ: হে ঈমানদারগণ, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং ছাদিকীন বা সত্যবাদী ওলীআল্লাহগণের সঙ্গী হও। সূরা তাওবা শরীফ ১১৯

সংক্ষেপে আমাদের করণীয় হলো, ঈমান হিফাযত করা, ফরয ওয়াজিব পালন করা, সুন্নত মুবারক অনুযায়ী জীবন সাজানো, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং সর্বদা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বতে থাকা।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে পূর্ণ মুসলমান হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

পবিত্র দ্বীন ইসলামে পর্দা করার গুরুত্ব অপরিসীম। পর্দা কোনো সাধারণ সামাজিক প্রথা নয়, বরং এটি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সরাসরি ফরয হুকুম।

পর্দা মুমিন নর ও নারীর জন্য ইজ্জত, পবিত্রতা এবং তাক্বওয়ার প্রতীক।

১. পর্দা করা ফরযে আইন

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে নারীদের জন্য পর্দার হুকুম দিয়েছেন,

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

অর্থ: তোমরা তোমাদের গৃহে অবস্থান করো এবং জাহিলী যুগের মতো সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বাইরে বের হয়ো না। সূরা আহযাব শরীফ ৩৩

অন্য আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ

অর্থ: হে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি আপনার আযওয়াজে মুতাহহারাত, আপনার কন্যা এবং মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। সূরা আহযাব শরীফ ৫৯

এই আয়াত শরীফ দ্বারা বোঝা যায়, পর্দা ফরয।

২. দৃষ্টির পর্দা পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য ফরয

পর্দা শুধু নারীর জন্য নয়, পুরুষের জন্যও ফরয। প্রথমে পুরুষদেরকে চোখের পর্দার আদেশ করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ

অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনি মুমিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে। সূরা নূর শরীফ ৩০

এর পরের আয়াত শরীফে নারীদেরকে বলা হয়েছে,

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا

অর্থ: আর আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে, তাদের লজ্জাস্থানকে হিফাযত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত। সূরা নূর শরীফ ৩১

৩. পর্দা অন্তরের পবিত্রতার জন্য

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِن وَرَاءِ حِجَابٍ، ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ

অর্থ: তোমরা যখন উনাদের কাছে কিছু চাইবে, তখন পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটাই তোমাদের ও উনাদের অন্তরের জন্য অধিক পবিত্র। সূরা আহযাব শরীফ ৫৩

৪. বেপর্দা হওয়া কঠিন গুনাহ এবং জাহান্নামে যাওয়ার কারণ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ، وَنِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ

অর্থ: জাহান্নামবাসীদের দুটি দলকে আমি এখনো দেখিনি, একদল যাদের কাছে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা মানুষকে প্রহার করবে, আর একদল নারী যারা পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকবে। ছহীহ মুসলিম শরীফ ২১২৮

অর্থাৎ পাতলা বা আঁটসাঁট পোশাক পরা যা দ্বারা পর্দা হয় না, তা হারাম।

৫. পর্দা সম্মান ও নিরাপত্তার রক্ষাকবচ

পর্দা নারীকে উত্ত্যক্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। সূরা আহযাব শরীফের ৫৯ নম্বর আয়াত শরীফের শেষে বলা হয়েছে,

ذَٰلِكَ أَدْنَىٰ أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ

অর্থ: এটা তাদের পরিচয়ের জন্য অধিক উপযোগী, ফলে তাদেরকে কষ্ট দেয়া হবে না।

অর্থাৎ পর্দানশীন নারীকে দেখে বোঝা যায় সে সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিতা, তাই কেউ তাকে বিরক্ত করার সাহস পায় না।

সারকথা

পর্দা ইসলামের একটি মৌলিক ফরয বিধান। এটি নারীকে বন্দী করে না, বরং তাকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করে। যেমন শামুক ঝিনুকের ভিতরে মুক্তা সুরক্ষিত থাকে, তেমনি পর্দা নারীর ইজ্জতকে সুরক্ষিত রাখে।

তাই প্রত্যেক মুসলমান নর নারীর উচিত পূর্ণ পর্দা মেনে চলা এবং একজন হক্বানী ওলীআল্লাহ উনার ছোহবতে থেকে পর্দার হাক্বীকত শিক্ষা করা।

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

এই পবিত্র আয়াত শরীফটি সূরা আহযাব শরীফের ২১ নম্বর আয়াত শরীফ।

পূর্ণ আয়াত শরীফ হলো,

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا

অর্থ: নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ, ওই ব্যক্তির জন্য যে মহান আল্লাহ পাক ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং মহান আল্লাহ পাককে অধিক স্মরণ করে। সূরা আহযাব শরীফ ২১

এই আয়াত শরীফের মর্ম হলো,

আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে, ইবাদত-বন্দেগী, লেনদেন, আখলাক-চরিত্র, পরিবার, সমাজ সব কিছুতেই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জীবন মুবারকই হলো সর্বোত্তম নমুনা।

উনাকে অনুসরণ করাই হলো মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের একমাত্র পথ।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا
অর্থ: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। সূরা হাশর শরীফ ৭

Rupa Aktar Rupa Aktar changed his profile picture
2 hrs

image