ওহাবী গুরু ইবনে তাইমিয়া ও আব্দুল ওহাব নজদীর ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষে ফতোয়া
=================================================
বর্তমানে যারা পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারাই স্বীকার করবে তাদের একমাত্র পছন্দনীয় ইমাম হচ্ছে ইবনে তাইমিয়া ও আব্দুল ওহাব নজদী। এরা ইমামে আযম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে শুরু করে সকল ইমাম মুস্তাহিদ আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগন উনাদের বিরোধীতা করলেও ইবনে তাইমিয়া ও আব্দুল ওহাব নজদীর কোন বিরোধীতা করে না। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে তাদের কোন ফতোয়া যদি নিজেদের মন মত না হয় তবে সেটা সযত্নে গোপন করে রাখে। কিন্তু সত্য কি গোপন রাখা যায়?
ওহাবীদের গুরু ইবনে তাইমিয়া (১২৬৩খৃঃ –১৩২৮খৃঃ) তার “ইক্তিদায়ে সিরাতে মুস্তাকীম” কিতাবে লিখেছে,
“যদি মিলাদ মাহফিল নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের জন্য করা হয়ে থাকে তবে মহান আল্লাহ পাক এ মুহাব্বত ও সম্মান প্রদর্শনের কারণে সওয়াব বা প্রতিদান দেবেন।” (দলীলঃ ইক্তিদায়ে সিরাতে মুস্তাকীম পৃঃ ৩১৩)।
একই কিতাবের অন্যত্র সে লিখেছে, “বরং ঐ দিনে (রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মদিনে) পরিপূর্ণরূপে অনুষ্ঠান করা এবং এ দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা, উত্তম নিয়ত এবং হুজুরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি মুহাব্বত প্রদর্শন বড় প্রতিদানের কারন হবে।” (দলীলঃ ইক্তিদায়ে সিরাতে মুস্তাকীম পৃঃ ৩১৫)।
ওহাবীদের নেতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব নজদী (১৭০৩খৃঃ-১৭৯২খৃঃ) তার কিতাব “মুখতাসার সিরাতে রাসুল” এ লিখেছে, “কট্টর কাফির আবু লাহাব রাসুলে কারিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র জন্মের সুসংবাদ শুনে মনের খুশীতে নিজ দাসী সুয়ায়বা রদ্বিয়াল্লাহু আনহা কে মুক্তি দেয়ার কারনে সে প্রতি সোমবার (নবীজীর বেলাদত শরীফের দিন) দোযখে থেকেও শান্তিদায়ক পানীয় পেয়ে থাকে।
উল্লেখ্য , আব্দুল ওহাব নজদী আবু লাহাবের শাস্তি হ্রাসের বিষয় উল্লেখ করে ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের গুরুত্বের কথা স্বীকার করে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, সে শামসুদ্দীন নাসের দামিস্কির কিতাব ‘মওরদুস সাদী ফি মওলদিল হাদী’ থেকে এ ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে এবং সেখানে দামিস্কি রহমতুল্লাহি আলাইহি এর রচিত শেরটি ও হুবহু উদ্ধৃত করেছে।
বিরোধিতাকারীদের কাছে জানতে চাই , আপনারা কুরআন শরীফের দলীল মানেন না…তাফসিরের দলীল মানেন না … হাদীস শরীফ এর দলীল মানেন না…ইমাম মুস্তাহিদের ঐক্যমত্যের দলীল মানেন না…. মানবেন না এটাই স্বাভাবিক। কারন অস্বীকার কারী দুনিয়াতে সব সময়ই ছিলো, কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।তাই বলে কি এখন নিজেদের মুরুব্বীদের ফতোয়াও মানবেন না ? তাহলে মানবেন কাকে ?
#12shareef
#saiyidulaayaadshareef
#সাইয়্যিদুলআইয়াদশরীফ
✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (২৯)
(৮)
কাট্টা কাফির মাল‘ঊন আবূ আয্যার মৃত্যুদণ্ড
এই ঘটনাটিও সংঘটিত হয় ৩য় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত শাওওয়াল শরীফ মাসে সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক উনার সময়। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اَمَّنَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْاَسْرٰى يَوْمَ بَدْرٍ اَبَا عَزَّةَ عَمْرَو بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَيْرٍ الْجُمَحِىَّ وَكَانَ شَاعِرًا فَقَالَ يَا (سَيِّدَنَا مَوْلَانَا) مُحَمّدُ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) لِىْ خَمْسُ بَنَاتٍ لَيْسَ لَهُنَّ شَيْءٌ وَاَنَا اُعْطِيْكَ مَوْثِقًا لَا اُقَاتِلُكَ وَلَا اُكَثِّرُ عَلَيْك اَبَدًا فَتَصَدَّقْ بِىْ عَلَيْهِنَّ يَا (سَيِّدَنَا مَوْلَانَا) مُحَمّدُ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) فَاَعْتَقَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ اُحُدٍ جَاءَهٗ (حَضْرَتْ) صَفْوَانُ بْنُ اُمَيَّةَ (رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ) فَقَالَ لَهٗ اُخْرُجْ مَعَنَا وَضَمِنَ لَهٗ اِنْ قُتِلَ اَنْ يَّجْعَلَ بَنَاتِهٖ مَعَ بَنَاتِهٖ وَاِنْ عَاشَ اَعْطَاهُ مَالًا كَثِيْرًا فَخَرَجَ مَعَهُمْ وَجَعَلَ يَدْعُو الْعَرَبَ وَيَحْشُرُهَا فَاُسِرَ وَلَمْ يُؤْسَرْ مِنْ قُرَيْشٍ غَيْرُهٗ فَقَالَ يَا (سَيِّدَنَا مَوْلَانَا) مُحَمّدُ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) اِنَّمَا اُخْرِجْتُ كُرْهًا وَلِىْ بَنَاتٌ فَامْنُنْ عَلَىَّ قَالَ لَا وَاللهِ لَا تَمْسَحُ عَارِضَيْكَ بِمَكَّةَ تَقُوْلُ سَخِرْتُ بِ(سَيِّدِنَا مَوْلَانَا) مُحَمَّدٍ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) مَرَّتَيْنِ يَا حَضْرَتْ عَاصِمَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اِضْرِبْ عُنُقَهٗ فَقَدَّمَهٗ حَضْرَتْ عَاصِمٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ
“হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বন্দীদের মধ্য থেকে আবূ আয্যাহ্ আমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইর জুমাহীকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। সে ছিলো একজন কবি। সে বললো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পাঁচটি কন্যা সন্তান রয়েছে, তাদের কোনো সহায়—সম্পদ নেই। আমি আপনাকে ওয়াদা দিচ্ছি— আমি আপনার বিরুদ্ধে আর কখনো যুদ্ধ করবো না এবং আপনার বিরুদ্ধে কাউকে কোনো দিন সমর্থনও করবো না। কাজেই, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার প্রতি দয়া—ইহসান মুবারক করুন, যেন আমি তাদের জন্য বেঁচে থাকতে পারি।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে মুক্ত করে দেন। কিন্তু উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন হযরত ছাফওয়ান ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু (তখনও পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি) তিনি তার কাছে এসে বললেন, ‘আমাদের সাথে বের হও।’ সে তাকে এই নিশ্চয়তা দিলো যে, যদি সে নিহত হয়, তাহলে তার কন্যাদেরকে নিজের কন্যাদের সাথে রাখবে; আর যদি বেঁচে থাকে, তাহলে তাকে অনেক সম্পদ দিবে। তখন সে তাদের সাথে বের হয় এবং আরবদেরকে আহ্বান করতে থাকে ও তাদেরকে একত্রিত করে। পরে সে বন্দী হয়। কুরাইশদের মধ্যে সে ব্যতীত আর কেউ বন্দী হয়নি। তখন সে বললো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমাকে আনা হয়েছে। আমার অনেক কন্যা সন্তান রয়েছে, তাই আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, কখনো না; মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! মহাসম্মানিত মক্কা শরীফে গিয়ে তুই তোর গাল মুছতে মুছতে এই কথা বলতে পারবি না যে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি দুইবার উপহাস করেছি।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,)
يَا حَضْرَتْ عَاصِمَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اِضْرِبْ عُنُقَهٗ فَقَدَّمَهٗ حَضْرَتْ عَاصِمٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ
‘হে হযরত আছিম ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! তার গর্দান উড়িয়ে দিন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিন।’ সাথে সাথে হযরত আছিম ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে সামনে এনে তার গর্দান উড়িয়ে দেন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।” সুবহানাল্লাহ! (নাছবুর রাইয়াহ্ ৩/৪০৬, আল মাগাযী লিল ওয়াক্বিদী ৩০৮—৩০৯)
✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (২৮)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
يَا كَذَّابُ اَيْنَ تَفِرُّ فَحَمَلَ عَلَيْهِ فَطَعَنَهُ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ جَيْبِ الدِّرْعِ فَجُرِحَ جَرْحًا خَفِيْفًا فَوَقَعَ يَخُوْرُ خُوَارَ الثَّوْرِ فَاحْتَمَلُوْهُ وَقَالُوْا لَيْسَ بِكَ جِرَاحَةٌ فَمَا يُجْزِعُكَ قَالَ اَلَيْسَ قَالَ لَاَقْتُلَنَّكَ لَوْ كَانَتْ تَجْتَمِعُ رَبِيْعَةُ وَمُضَرُ لِقَتْلِهِمْ فَلَمْ يَلْبَثْ اِلَّا يَوْمًا اَوْ بَعْضَ يَوْمٍ حَتّٰى مَاتَ مِنْ ذٰلِكَ الْجُرْحِ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘হে মিথ্যাবাদী! তুই এখন কোথায় পালাবি? তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে আক্রমণ করে তার লৌহ বর্মের ফাঁকে আঘাত করলেন। সে খুবই সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হলো। কিন্তু (ব্যথায় জর্জরিত হয়ে) সে ষাঁড় গরুর মত চিৎকার দিতে লাগলো। তার সঙ্গীরা তাকে তুলে নিয়ে গেলো। আর তারা বললো, ‘তোর শরীরে তো তেমন কোনো আঘাত নেই, তাহলে কিসে তোকে এত অস্থির করে তুললো?’ সে বললো, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি ইরশাদ মুবারক করেননি যে, ‘অবশ্যই আমিই তোকে মৃত্যুদণ্ড দিবো?’ যদি রাবীআহ্ ও মুদ্বার উভয় গোত্র তাদের যোদ্ধাদের নিয়ে একত্রিত হতো, তাহলে ঐ সামান্য আঘাতের পরিণতিতে একদিন কিংবা তারও কম সময়ের ব্যবধানে তাদের প্রত্যেকেই মারা যেতো।’ (তারীখে ত্ববারী, আল বিদায়াহ্ ওয়ান নিহায়াহ্)
✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (২৭)
(৭)
উবাই ইবনে খালফের মৃত্যুদণ্ড
এই ঘটনাটি সংঘটিত হয় ৩য় হিজরী শরীফ উনার শাওওয়াল শরীফ মাসে সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক উনার সময়। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اُسِرَ اُبـَىُّ بْنُ خَلْفٍ يَوْمَ بَدْرٍ فَلَمَّا اِفْتَدٰى مِنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَّ عِنْدِىْ فَرَسًا اَعْلِفُهَا كُلَّ يَوْمٍ مِنْ ذُرَّةٍ لَعَلِّىْ اَقْتُلُكَ عَلَيْهَا فَقَالَ لَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَلْ اَنَا اَقْتُلُكَ عَلَيْهَا اِنْ شَاءَ اللهُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمَ اُحُدٍ اَقْبَلَ اُبَـىُّ ابْنُ خَلْفٍ تَرْكُضُ فَرَسُهٗ تِلْكَ حَتّٰى دَنَا مِنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاعْتَرَضَ رِجَالٌ مِّنَ الْمُسْلِمِيْنَ لَهٗ لِيَقْتُلُوْهُ فَقَالَ لَهُمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِسْتَاْخِرُوْا اِسْتَاْخِرُوْا فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَرْبَةٍ فِىْ يَدِهٖ فَرَمٰى بِهَا اُبَىَّ بْنَ خَلْفٍ فَكَسَرَتْ ضِلْعًا مِّنْ اَضْلَاعِهٖ فَرَجَعَ اِلٰى اَصْحَابِهٖ ثَقِيْلًا فَاحْتَمَلُوْهُ حَتّٰى وَلَّوْا بِهٖ وَطَفِقُوْا يَقُوْلُوْنَ لَهٗ لَا بَأْسَ فَقَالَ اُبَىٌّ اَلَمْ يَقُلْ لِىْ بَلْ اَنَا اَقْتُلُكَ اِنْ شَاءَ اللهُ فَانْطَلَقَ بِهٖ اَصْحَابُهٗ فَمَاتَ بِبَعْضِ الطَّرِيْقِ فَدَفَنُوْهُ
“হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন উবাই ইবনে খাল্ফ বন্দী হয়েছিলো। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট মুক্তিপণ দিয়ে সে মুক্ত হয়। মুক্ত হওয়ার সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে সে বলে— ‘নিশ্চয়ই আমার কাছে একটি ঘোড়া আছে। আমি প্রতিদিন তাকে শস্য খাওয়াই। আমি আশা করি— সেই ঘোড়ায় চড়ে আপনাকে আমি শহীদ করবো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেন— ‘বরং আমিই তোকে সেই ঘোড়ার উপর (আরোহী অবস্থায়) হত্যা করবো, তোর শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবো ইনশাআল্লাহ।’ এরপর যখন উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন উপস্থিত হলো, উবাই ইবনে খাল্ফ তার সেই ঘোড়াকে দ্রুতগতিতে তাড়াতে তাড়াতে এগিয়ে এলো; এমনকি সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটবর্তী হয়ে গেলো। তখন কয়েকজন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা তাকে ক্বতল করতে উদ্যত হন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন— ‘আপনারা সরে যান, সরে যান।’ অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুল কুওওয়াত মুবারক (দাঁড়ানো শান মুবারক) প্রকাশ করে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক—এ (হাত মুবারক—এ) থাকা একটি বর্শা দ্বারা উবাই ইবনে খাল্ফের দিকে নিক্ষেপ করলেন। ফলে, তার পাঁজরের একটি হাড় ভেঙ্গে যায়। এরপর সে কঠিন আহত অবস্থায় তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে যায়। তখন তারা তাকে বাহনে করে নিয়ে যায়; এমনকি তার সঙ্গে ফিরে যায়। আর তারা তাকে বলতে লাগলো— ‘কোনো অসুবিধা নেই।’ কিন্তু উবাই ইবনে খাল্ফ বললো— নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি আমাকে বলেননি— ‘বরং আমিই তোকে মৃত্যুদণ্ড দিবো ইনশাআল্লাহ’? তারপর তার সঙ্গীরা তাকে নিয়ে চলতে লাগলো। কিছু দূর যাওয়ার পর পথের মধ্যেই সে মারা গেলো। পরে তারা তাকে (সেখানেই) দাফন করলো।” (ইবনে রজব হাম্বলী ৪/১৫৮)
✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (২৬)
হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আবূ নায়িলাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা উনাদের সাথে আরো ৩ জন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বাকী হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে আগেই বলে রেখেছিলেন যে,
اِذَا مَا جَاءَ فَاِنِّىْ قَائِلٌ بِشَعْرِهٖ فَاَشُمُّهٗ فَاِذَا رَاَيْتُمُوْنِىْ اِسْتَمْكَنْتُ مِنْ رَّاْسِهٖ فَدُوْنَكُمْ فَاضْرِبُوْهُ وَقَالَ مَرَّةً ثُمَّ اُشِمُّكُمْ
‘যখন সে আসবে, তখন অবশ্যই আমি কথা বলতে বলতে (কোনো বাহানায়) তার চুল ধরে শুঁকতে থাকবো। যখন আপনারা আমাকে দেখবেন যে, খুব শক্তভাবে আমি তার মাথা আঁকড়িয়ে ধরেছি, তখন আপনারা নিকটে এসে (তরবারি দিয়ে) তাকে আঘাত করবেন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবেন। হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি একবার বলেছিলেন যে, আমি আপনাদেরকেও শুঁকাবো।’
কা’ব বিন আশরাফ (চাদর) পরিধান করে নিচে নেমে আসলে তার থেকে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছিলো। তখন হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘আজকের মতো এত উত্তম সুগন্ধি আমি আর কখনো দেখিনি।’ কা’ব বিন আশরাফ বললো, ‘আমার নিকট আরবের সম্ভ্রান্ত ও মর্যাদাসম্পন্ন, সুগন্ধি ব্যবহারকারী মহিলারা রয়েছে।’ হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন,
اَتَاْذَنُ لِىْ اَنْ اَشُمَّ رَاْسَكَ قَالَ نَعَمْ فَشَمَّهٗ ثُمَّ اَشَمَّ اَصْحَابَهٗ ثُمَّ قَالَ اَتَاْذَنُ لِىْ قَالَ نَعَمْ فَلَمَّا اِسْتَمْكَنَ مِنْهُ قَالَ دُوْنَكُمْ فَقَتَلُوْهُ ثُمَّ اَتَوُا النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَخْبَرُوْهُ
‘আমাকে তোমার মাথা শুঁকতে অনুমতি দিবে কি?’ কা’ব বিন আশরাফ বললো, ‘হঁ্যা; অবশ্যই।’ এরপর হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার মাথা শুঁকলেন তারপর উনার সঙ্গী উনাদেরকে শুঁকালেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন, ‘আমাকে (আরেকবার শুঁকার জন্য) অনুমতি দিবে কি?’ সে বললো, ‘হঁ্যা; অবশ্যই।’ এরপর তিনি তাকে শক্ত করে ধরে (ইশারায়) বললেন, ‘আপনারা নিকটবর্তী হন।’ সাথে সাথে উনারা (তার নিকটে এসে) তাকে হত্যা করলেন, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিলেন। তারপর উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে সংবাদ পেশ করলেন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, শরহুস সুন্নাহ শরীফ, মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ, শিফা শরীফ, শরহুশ শিফা, আস সাইফুল মাসলূল; এছাড়া বিভিন্ন সীরাত, তারীখ ও তাফসীরগ্রন্থে ঘটনাটি উল্লেখ রয়েছে)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারকে এভাবে অত্যন্ত সুকৌশলে হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মাল‘ঊন কুখ্যাত ইহুদী কা’ব বিন আশরাফকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন। সুবহানাল্লাহ!
✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (২৫)
কা’ব বিন আশরাফ বললো, ‘হঁ্যা; (ঋণ তো পেয়ে যাবেন, তবে) আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখুন।’ হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘তুমি কোন্ জিনিস (বন্ধক) চাও?’ সে বললো, ‘আপনাদের আহলিয়া উনাদেরকে আমার নিকট বন্ধক রাখুন।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আবূ নায়িলাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ) উনারা বললেন, ‘তুমি আরবের সুদর্শন লোক, আমরা আমাদের আহলিয়া উনাদেরকে তোমার কাছে কি করে বন্ধক রাখবো?’ তখন সে বললো, ‘তাহলে আপনাদের সন্তান উনাদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখুন।’ উনারা বললেন, আমরা আমাদের সন্তান উনাদেরকে তোমার কাছে কি করে বন্ধক রাখি? যদি আমরা তা করি, তাহলে আমাদের সন্তান উনাদেরকে লোকজন এই বলে সমালোচনা করবে যে, ‘মাত্র এক ওয়াসাক্ব বা দুই ওয়াসাক্ব খাদ্যের বিনিময়ে আপনাদেরকে বন্ধক রাখা হয়েছিলো।’ এটাতো আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। তবে, আমরা তোমার কাছে অস্ত্র—শস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। কা’ব বিন আশরাফ এই প্রস্তাবে রাজি হলো। অবশেষে হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি কা’ব বিন আশরাফকে পুনরায় তার নিকট যাওয়ার ওয়াদা দিয়ে চলে আসলেন।
এরপর হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি হযরত আবূ নায়িলাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে সাথে নিয়ে এক রাতে কা’ব বিন আশরাফের নিকট গেলেন। উনাদেরকে সে দুর্গের ভিতরে আসতে বললো। তার বাড়িটা ছিলো দুই তলা। সে উপর তলা থেকে নিচে নেমে আসতে লাগলো। তখন তার স্ত্রী তাকে বললো, ‘এই সময় তুমি কোথায় যাচ্ছো?’ সে বললো, ‘কোনো অসুবিধা নেই। হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং আমার ভাই হযরত আবূ নায়িলাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা তো আমার দুধ ভাই। আমি উনাদের নিকট যাচ্ছি।’ কা’ব বিন আশরাফের স্ত্রী বললো,
اَسْمَعُ صَوْتًا كَاَنَّهٗ يَقْطُرُ مِنْهُ الدَّمُ قَالَ اِنَّمَا هُوَ اَخِىْ حَضْرَتْ مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَرَضِيْعِىْ حَضْرَتْ اَبُوْ نَائِلَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اِنَّ الْكَرِيْمَ لَوْ دُعِىَ اِلٰى طَعْنَةٍ بِلَيْلٍ لَاَجَابَ
‘আমি এমন একটি আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি যেন তার থেকে রক্তের ফেঁাটা ঝড়ছে।’ কা’ব বিন আশরাফ বললো, ‘নিশ্চয়ই তিনি হচ্ছেন আমার ভাই হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এবং আমার দুধ ভাই হযরত আবূ নায়িলাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা এসেছেন। (উনারা অপরিচিত কোনো লোক নন। আমি উনাদের নিকট যাচ্ছি। আর) নিশ্চয়ই ভদ্র মানুষকে রাতের বেলা বর্শা বিদ্ধ করার জন্য ডাকলেও সে অবশ্যই ডাকে সাড়া দেয়।’