সুন্নত কোনটা সেটার ভিত্তিতে কিছু কথা বলতে চাই ---

মেয়েরা শুরুতে দ্বীন শিক্ষা করবে পরিবার থেকে মা , বাবা ও বড় বোন বা ভাইয়ের থেকে ! ১৮ বা ২০ নয় বরং বয়ঃসন্ধির শুরুতেই দ্রুত বিয়ে করবে এবং স্বামীর থেকে দ্বীন শিক্ষা পরিপূর্ণ করবে , তাদের জন্য সম্পূর্ণ শরীয়ত জানা বা আমল করা জরুরি না , আহকামুন নিসার প্রয়োজনীয় ইলমটুকুই কেবল তাদের উপর ফরজ , একজন পুরুষ ও একজন মহিলার জ্ঞান সামর্থ্য শক্তি কোনোটাই সমান নয় !

মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা আর উস্তাজা এর কোনো প্রয়োজন নেই ইসলামের স্বর্ণযুগেও এসব এর দরকার হয়নি আর এই জাহেলি যুগে তো আরও সতর্ক হওয়া দরকার নারীদের বিষয়ে .... আল্লাহর রাসূল বলেন - উম্মতের পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে বড় কোনো ফিতনা নেই ....

প্রতিটি ঘরে মেয়েদের তালিম থাকবে মা খালা চাচি নানি ফুফু প্রতিবেশী সকল নারীরা মিলে সপ্তাহে একদিন একত্রে তালিম আর দৈনিক নিজস্ব ঘরে তালিম চলবে কুরআন তেলওয়াত তরজমা তাফসীর হাদিস ও ইতিহাস এর মূতাআলা চলবে.... মেয়েদেরকে ঘর থেকে বের করা দাজ্জালের সহযোগীদের কাজ , মেয়েদেরকে পুরুষের সাথে তাল মিলিয়ে চলার সবক দেওয়া শয়তানের কাজ !

আমরা যদি আল্লাহর রজ্জুকে একত্রে আঁকড়ে ধরি আর রাসুলুল্লাহর সুন্নতকে একত্রে ধারণ করতাম তবে আজ দ্বীনি অঙ্গনে এত বিভক্তি মারামারি আর ফিরকা তৈরি হইতো না.....

একজন প্রশ্ন করল তাহলে মেয়েদের চিকিৎসা আর সিজার করানোর জন্য মহিলা ডাক্তার কই পাওয়া যাবে ?

সিজার করানো দাজ্জালের হস্তক্ষেপ
দাজ্জালের সিস্টেম আর তাঁর শিক্ষা নেওয়ার দরকারটা কি ? আল্লাহ তাআলা প্রত্যেকটা জিনিসের একটা সিস্টেম তৈরি করে দিয়েছে আল্লাহর সুন্নতের মধ্যে কোন পরিবর্তন হয় না । আল্লাহর সৃষ্টি ও সুন্নত এর মধ্যে হস্তক্ষেপ করা ও নতুনত্ব আনা দাজ্জাল এবং শয়তানের কাজ ।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে জীবিত মায়ের শরীরে প্রথম সফল আধুনিক সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় ১৮২৬ সালের ২৫ জুলাই । মানে মাত্র ২০২৬ থেকে ১৮২৬ অর্থাৎ ২০০ বছর আগে ....

যেই জিনিস এসেছে ২০০ বছর আগে মাত্র এর আগে দুনিয়াতে মানুষের জন্ম হয়নি ? সাহাবাদের স্ত্রীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা শুনেছেন কখনও ? আদম আলাইহিস সালাম থেকে এই অবধি লক্ষ কোটি মানুষ সৃষ্টি লগ্ন থেকে জন্ম নিচ্ছে প্রকৃতির নিয়মে , সেইখানে এসে নতুন বিদ্যা জুড়ে দিয়ে মহিলাদের আধুনিক শিক্ষার নামে ঘর থেকে বের করা এক ষড়যন্ত্র ! বাচ্চা জন্ম দেওয়ার জন্য খুব বেশি কিছু লাগে নাহ মূর্খ গ্রামের মহিলারাও পারে যাদেরকে দাইমা বলে , আমার এবং আমার ছোট ভাইয়ের জন্ম ঘরে দাইমা দের হাতে হইছে .... হাসপাতালে হয়নি আলহামদুলিল্লাহ !

এভাবেই পৃথিবী চলে আসতেছে .... মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণীর জন্ম দিতে সিজার লাগে নাহ .... এসব দাজ্জালি ব্রেন ওয়াশ থেকে নিজেকে মাহফুজ রাখতে হবে ! ইন শা আল্লাহ

আমাদের জীবন আদর্শ সাহাবা দের জীবন আদর্শের অনুকরণের মধ্যেই একমাত্র শান্তি বরকত রহমত ও সুস্থতা নিহিত !

আল্লাহ সবাইকে কথা গুলো বোঝার তওফিক দিক আমিন

মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত (৫৮)
মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত ও তা'যীম প্রদর্শনপূর্বক আনন্দ প্রকাশ করা, খরচ করা, খানা খাওয়ানো এবং কাসিদা (قِرَاءَةُ الْقَصَائِدِ) পাঠ করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং তা সরাসরি কুরআন শরীফের অকাট্য নির্দেশ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) ফালইয়াফরাহু শরীফ (فَلْيَفْرَحُوا شَرِيفٌ) এবং প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রদিআল্লাহু তা'আলা আনহুম উনাদের প্রত্যক্ষ সুন্নাহভিত্তিক একটি মহান আমল।
আর শায়খ আবূ মূসা আল-জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং শায়খ ইবনে আন-নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণিত স্বপ্ন দুটি কোনো নতুন শরঈ বিধান তৈরি করছে না; বরং কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক এই বিদ্যমান ফারায়েয ও সুন্নাত আমলগুলোকেই জিন্দা রাখা ও অধিক নিষ্ঠার সাথে পালনের জন্য অকাট্য বরকতময় সুসংবাদ (বশরাত) ও তৌফীক প্রদান করছে।
নিচে উক্ত বিষয়ে বিস্তারিত সনদী, আয়াতিক ও শব্দভিত্তিক বিশ্লেষণ, আকর গ্রন্থাবলি ও শরঈ প্রমাণের ধারাবাহিক গবেষণামূলক উপস্থাপনা করা হলো:
১. মূল স্বপ্নের আরবী ইবারাত, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ (نَصُّ الرُّؤْيَا الْمَنَامِيَّةِ)
প্রথম বর্ণনার আরবী ইবারাত (ইবনে আন-নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে সরাসরি বর্ণিত):
> عَنْ ابْنِ النُّعْمَانِ رَحِمَهُ الرَّحْمَنُ: أَنَّهُ قَالَ: رَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ حَضْرَةَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَبَّلْتُ يَدَيْهِ الشَّرِيفَتَيْنِ وَقُلْتُ لَهُ: إِلَى أَيْنِ ذَاهِبٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَا قُرَّةَ الْعَيْنَيْنِ؟ فَقَالَ: إِلَى فُلَانٍ أَزُورُهُ. فَقُلْتُ لَهُ: أَعْلَانَا حَبِيبِي وَمِثْلُكَ مَنْ يَزُورُ فُلَانًا! فَقَالَ لِي فِي الْبَيَانِ: تَأَدَّبْ يَا ابْنَ النُّعْمَانِ، إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ صَنَعَ لَنَا مَوْلِدًا. فَقُلْتُ: يَا شَفِيعَ الْعُصَاةِ فِي عَرَصَاتِ الْقِيَامَةِ، رُوحِي لَكَ الْفِدَاءُ، الْمَوْلِدُ الَّذِي يُصْنَعُ لَكَ تَفْرَحُ بِهِ وَتُسَرُّ بِسَبَبِهِ؟ قَالَ: يَا ابْنَ النُّعْمَانِ: مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهِ.
>
বাংলা উচ্চারণ: "আন ইবনিন নু'মানি রহিমাহুর রহমানু: আন্নাহূ ক্বলা: রআইতু ফিল মানামি হাদরাতান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফাক্বব্বালতু ইয়াদাইহিশ শারিফাতাইনি ওয়া কুলতু লাহূ: ইলা আইনা যাহিবুন ইয়া রাসূলাল্লাহি ইয়া কুর্রাতাল আইনাইনি? ফাক্বলা: ইলা ফুলানিন আযূরুহূ. ফাকুলতু লাহূ: আ'লানা হাবীবী ওয়া মিছলুকা মাইঁ ইয়াযূরু ফুলানান! ফাক্বলা লী ফিল বায়ান: তাআদ্দাব ইব নান নু'মানি, ইন্না হাযার রাজুলা সনা'আ লানা মাওলিদান. ফাকুলতু: ইয়া শাফী'আল উছতি ফী আরাছাতিল ক্বিয়ামাতি, রূহী লাকাল ফিদাউ, আল-মাওলিদুল্লাযী ইউছনা'উ লাকা তাফরাহু বিহী ওয়া তুর্সরু বিসাবাহী? ক্বলা: ইয়া ইবনান নু'মানি: মান ফারিহা বিনা ফারীহনা বিহী।"
অর্থ: রহমানুর রহীম খালিক্ব মালিক্ব রব মহান আল্লাহ পাক উনার রহমতপ্রাপ্ত হযরত ইবনে আন-নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আমি স্বপ্নে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভ করলাম। অতঃপর আমি উনার দুটি মোবারক হাত চুম্বন করলাম এবং আরজু করলাম: 'ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হে আমার দুই নয়নের মণি! আপনি কোথায় মহাসম্মানীত তাশরীফ মুবারক নিচ্ছেন?' ইরশাদ মুবারক করলেন: 'আমি অমুক ব্যক্তির কাছে যাচ্ছি, উনাকে দেখতে।' তখন আমি আরজ করলাম: 'আমার মহাসম্মানীত মহাপবিত্র প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার মতো মহান সত্তা কি অমুক ব্যক্তির সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন?' খুব দৃঢ়ভাবে জওয়াব মুবারক দিলেন, 'আদবের সাথে কথা বল হে ইবনে নুমান! নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আমাদের সম্মানে মিলাদ শরীফ এর আয়োজন করেছে।' আমি পুনরায় আরজ করলাম: 'হে কিয়ামতের ময়দানে পাপীদের সুপারিশকারী (شَفِيعَ الْعُصَاةِ)! আমার প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গ হোক; আপনার উদ্দেশ্যে যে মিলাদ শরীফ আয়োজন করা হয়, আপনি কি তাতে আনন্দিত হন এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন?' ইরশাদ মুবারক করলেন: 'হে ইবনে আন-নু’মান! যে ব্যক্তি আমাদের নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে, আমরাও তার প্রতি আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করি।'"
দ্বিতীয় বর্ণনার আরবী ইবারাত (শায়খ ইমাম হযরত জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে সূত্রে সংকলিত):
> وَسَمِعْتُ شَيْخَنَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدٍ النُّعْمَانِ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّيْخَ أَبَا مُوسَى الزَّرْهُونِيَّ يَقُولُ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّوْمِ فَذَكَرْتُ لَهُ مَا يَقُولُهُ الْفُقَهَاءُ فِي عَمَلِ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ فَرَّحَ بِنَا فَرَّحْنَا بِهِ.
>
বাংলা উচ্চারণ: "ওয়া সামি‘তু শায়খানা- আবা- ‘আবদিল্লা-হি ব্‌না আবী মুহাম্মাদিনিন নু‘মা-নি ইয়াক্বূ-লু: সামি‘তুশ শাইখা আবা- মূসা- আজ-জারহূ-নিয়্যা ইয়াক্বূ-লু: রআইতুন্ নাবিয়্যা সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফিন্ নাওমি ফাযাকারতু লাহূ মা- ইয়াক্বূ-লুহুল ফুক্বাহা-উ ফী ‘আমালিল ওয়ালা-ইমি ফিল মাওলিদি ফাক্বালা সল্লাল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামা: মান ফার্রাহা বিনা- ফার্রহ্না- বিহী।"
অর্থ: এবং আমি আমাদের শায়খ হযরত আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবী মুহাম্মদ আন-নুমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শায়খ হযরত আবু মুসা আজ-জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "আমি স্বপ্নে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি। অতঃপর আমি উনার সমীপে মিলাদ (মাহফিল) উপলক্ষে ভোজের আয়োজন/খানা খাওয়ানো (عَمَلُ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ) সম্পর্কে ফকীহগণ যা বলেন, তা উল্লেখ করলাম। তখন মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করলেন: ‘যে ব্যক্তি আমাদের (আগমনে) আনন্দ ছড়িয়ে দেয়/প্রকাশ করে, আমরাও তার প্রতি আনন্দ প্রকাশ করি।’"
২. স্বপ্নের শব্দে শব্দে প্রামাণিক বিশ্লেষণ, বাংলা উচ্চারণ ও শাব্দিক অর্থ
ক) ১ম স্বপ্নের শাব্দিক সূচি:
| আরবী শব্দ/বাক্যাংশ | বাংলা উচ্চারণ | শাব্দিক ও ব্যাখ্যামূলক অর্থ |
|---|---|---|
| رَأَيْتُ | রাআইতু | আমি দর্শন করেছি/দেখেছি |
| فِي الْمَنَامِ | ফিল মানামি | স্বপ্নের মধ্যে |
| حَضْرَةَ النَّبِيِّ | হাদরাতান নাবিয়্যি | মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে |
| فَقَبَّلْتُ | ফাকাব্বালতু | অতঃপর আমি চুম্বন করলাম |
| يَدَيْهِ الشَّرِيفَتَيْنِ | ইয়াদাইহিশ শারিফাতাইনি | উনার দুটি পবিত্র হাত মুবারক |
| وَقُلْتُ لَهُ | ওয়া কুলতু লাহু | এবং আমি উনার নিকট আরজ করলাম |
| إِلَى أَيْنِ ذَاهِبٌ | ইলা আইনা যাহিবুন | কোথায় তাশরীফ নিচ্ছেন? |
| يَا رَسُولَ اللَّهِ | ইয়া রাসূলাল্লাহ | হে আল্লাহর মহাসম্মানীত রসূল! |
| يَا قُرَّةَ الْعَيْنَيْنِ | ইয়া কুর্রাতাল 'আইনাইনি | হে দু'নয়নের মণি! |
| فَقَالَ | ফাকালা | অতঃপর তিনি ইরশাদ করলেন |
| إِلَى فُلَانٍ أَزُورُهُ | ইলা ফুলানিন আযূরুহু | অমুক ব্যক্তির কাছে উনাকে সাক্ষাৎ করতে |
| فَقُلْتُ لَهُ | ফাকুলতু লাহু | অতঃপর আমি পুনরায় আরজ করলাম |
| أَعْلَانَا حَبِيبِي | আ'লানা হাবীবী | আমার সুউচ্চ প্রিয় হাবীব |
| وَمِثْلُكَ مَنْ يَزُورُ فُلَانًا | ওয়া মিছলুকা মাইঁ ইয়াযূরু ফুলানান | আপনার মতো মহান সত্তা মুবারক কি অমুকের সাথে দেখা করবেন? |
| فَقَالَ لِي فِي الْبَيَانِ | ফাকালা লী ফিল বায়ান | অতঃপর তিনিআমাকে অত্যন্ত স্পষ্ট/দৃঢ়ভাবে সতর্ক করলেন |
| تَأَدَّبْ يَا ابْنَ النُّعْمَانِ | তাআদ্দাব ইব নান নু'মান | আদবের সাথে কথা বলো, হে ইবনে নু’মান! |
| إِنَّ هَذَا الرَّجُلَ | ইন্না হাযার রাজুলা | নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি |
| صَنَعَ لَنَا مَوْلِدًا | সনা'আ লানা মাওলিদান | আমাদের সম্মানে মিলাদ শরীফ আয়োজন করেছে |
| فَقُلْتُ | ফাকুলতু | অতঃপর আমি আরজ করলাম |
| يَا شَفِيعَ الْعُصَاةِ | ইয়া শাফী'আল 'উছাত | হে গুনাহগারদের শাফায়াতকারী! |
| فِي عَرَصَاتِ الْقِيَامَةِ | ফী 'আরাছাতিল কিয়ামাতি | কিয়ামতের ময়দানে |
| رُوحِي لَكَ الْفِدَاءُ | রূহী লাকাল ফিদাউ | আমার প্রাণ আপনার জন্য উৎসর্গ হোক |
| الْمَوْلِدُ الَّذِي يُصْنَعُ لَكَ | আল-মাওলিদুল্লাযী ইউছনা'উ লাকা | যে মিলাদ শরীফ আপনার উদ্দেশ্যে করা হয় |
| تَفْرَحُ بِهِ | তাফরাহু বিহি | আপনি কি তাতে আনন্দিত হন? |
| وَتُسَرُّ بِسَبَبِهِ | ওয়া তুর্সরু বিসাবাবিহি | এবং তার কারণে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন? |
| قَالَ | ক্বলা | তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন |
| يَا ابْنَ النُّعْمَانِ | ইয়া ইবনান নু'মান | হে ইবনে আন-নু’মান! |
| مَنْ فَرِحَ بِنَا | মান ফারিহা বিনা | যে ব্যক্তি আমাদের নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে |
| فَرِحْنَا بِهِ | ফারিহনা বিহি | আমরাও তার প্রতি আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করি |
খ) ২য় স্বপ্নের শাব্দিক সূচি (ওয়ালীমাহ ও ভোজ সংক্রান্ত):
| আরবী শব্দ/বাক্যাংশ | বাংলা উচ্চারণ | শাব্দিক ও ব্যাখ্যামূলক অর্থ |
|---|---|---|
| رَأَيْتُ | রাআইতু | আমি দর্শন করেছি / দেখেছি |
| النَّبِيَّ ﷺ | আন-নাবিয়্যা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম | মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে |
| فِي النَّوْمِ | ফিন-নাওমি | স্বপ্নের মধ্যে |
| فَذَكَرْتُ لَهُ | ফাযাকারতু লাহু | অতঃপর আমি উনার সমীপে পেশ করলাম / উল্লেখ করলাম |
| مَا يَقُولُهُ الْفُقَهَاءُ | মা ইয়াকূলুহুল ফুকাহা-উ | ফকীহগণ (ইসলামী আইনবিদগণ) যা বলেন |
| فِي عَمَلِ الْوَلَائِمِ | ফী ‘আমালিল ওয়ালাইমি | ওয়ালীমাহ বা ভোজের আয়োজন / খানা খাওয়ানোর বিষয়ে |
| فِي الْمَوْلِدِ | ফিল মাওলিদি | মাওলিদ শরীফ / আগমন উপলক্ষে |
| فَقَالَ ﷺ | ফাক্বালা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম | অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন |
| مَنْ فَرَّحَ بِنَا | মান ফার্রাহা বিনা | যে ব্যক্তি আমাদের (আগমনে) আনন্দ ছড়িয়ে দেয় / আনন্দিত করে |
| فَرَّحْنَا بِهِ | ফার্রাহনা বিহি | আমরাও তার প্রতি আনন্দ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করি |
৩. স্বপ্নের ব্যাকরণগত, রূপগত ও আলংকারিক (بلاغة) সৌন্দর্য বিশ্লেষণ
১. সর্বোচ্চ ভক্তি ও সুসংবাদের সূচনা:
فَقَبَّلْتُ يَدَيْهِ الشَّرِيفَتَيْنِ (ফাকাব্বালতু ইয়াদাইহিশ শারিফাতাইনি): এখানে হস্তদ্বয় শব্দের সাথে الشَّرِيفَتَيْنِ (সম্মানিত) সিফাত যুক্ত করে এবং ক্রিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ তা'যীম ও আদব প্রকাশ পেয়েছে।
২. আদব শিক্ষা ও সতর্কতা (الأمر للتأديب):
تَأَدَّبْ (তাআদ্দাব): এটি باب تفعل থেকে الأمر (আদেশসূচক ক্রিয়া)। এটি দ্বারা প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইবনে নু'মান রহমতুল্লাহি আলাইহিকে মিলাদ শরীফ আয়োজনকারীর মর্যাদা যে কতটা সুউচ্চ, তা স্পষ্ট শিক্ষা দিয়েছেন।
৩. تَكْثِير (আধিক্য) ও תَعْدِيَة (আনন্দ ছড়ানো):
১ম বর্ণনায় এসেছিল فَرِحَ (বাব মুজাররাদ — অন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ অনুভব করা)। কিন্তু ২য় বর্ণনায় এসেছে فَرَّحَ (বাব তাফঈল — تَفْعِيل)। ব্যাকরণ ও তাফসীর শাস্ত্র অনুযায়ী, বাব তাফঈল ব্যবহার করা হয় তাকছীর (تَكْثِير - আধিক্য) এবং তা'দিয়া (تَعْدِيَة - আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া)-এর জন্য।
সৌন্দর্য: এটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে—যে ব্যক্তি মাওলিদ শরীফে কেবল নিজে আনন্দিত হয় না, বরং খানা খাওয়ানো (ওয়ালীমাহ), আলোকসজ্জা, দান-সদকা ও কাসিদা (قِرَاءَةُ الْقَصَائِدِ) পাঠের মাধ্যমে সমাজে খুশির পরিবেশ তৈরি করে, প্রিয় নবীজি ﷺ উনার প্রতি বিশেষ সন্তুষ্টি ও আনন্দ প্রকাশ করেন।
৪. জাযা ও শরতের সামঞ্জস্য (تَشَاكُلٌ لَفْظِيٌّ):
«مَنْ فَرَّحَ بِنَا فَرَّحْنَا بِهِ» — এখানে শর্ত (فَرَّحَ) এবং জাযা (فَرَّحْنَا) একই धातুর ক্রিয়া দিয়ে গঠিত। অলঙ্কারশাস্ত্রে এটাকে বলা হয় আল-মুশাকালাহ (المشاكلة)। বান্দা বা উম্মতের পক্ষ থেকে সামান্য চেষ্টা ও প্রকাশের জবাবে আল্লাহর রসূল ﷺ উনার পক্ষ থেকে অসীম অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির জওয়াবকে চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
৫. جمع العظمة (সম্মানসূচক বহুবচন):
«فَرَّحْنَا» (আমরা আনন্দিত হই) শব্দে বহুবচন (نَا) ব্যবহার করা হয়েছে তা'যীম বা সম্মান প্রকাশের জন্য। অর্থাৎ দরবারে রসূলিয়্যাতের অনুমোদন ও খুশির বার্তা কতটা মহান ও গুরুত্ববহ, তা এই ক্রিয়াপদের গঠন থেকে স্পষ্ট হয়।
৪. বিশেষ গবেষণা নোট: জোড়া স্বপ্নের দ্বারা আমলের দৃঢ়তা ও প্রামাণিকতা (تَوَاتُرُ الرُّؤْيَا وَتَأْيِيدُهَا)
বিশেষ সিদ্ধান্ত:
একই মূল বিষয়বস্তু এবং অভিন্ন বরকতময় বাণী (مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهِ / مَنْ فَرَّحَ بِنَا فَرَّحْنَا بِهِ) মরক্কোর দুইজন স্বনামধন্য ও সততার জন্য প্রসিদ্ধ বুজুর্গ—শায়খ আবূ মূসা আজ-জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং তাঁর সুযোগ্য ছাত্র শায়খ ইবনে আন-নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি—ভিন্ন ভিন্ন সময়ে স্বপ্নে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সরাসরি লাভ করেছেন।
উসূলে হাদীস ও তাসাউফের মূলনীতি অনুযায়ী, যখন দুইজন ভিন্ন ও সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বুজুর্গ পৃথক সময়ে একই সত্য স্বপ্ন (رُؤْيَا صَالِحَةٌ) দেখেন এবং প্রিয় নবীজি থেকে একই বাণী লাভ করেন, তখন তা সাধারণ স্বপ্নের স্তর অতিক্রম করে 'তাওয়াতুর' বা সুদৃঢ় সমর্থনের (تَأْيِيدٌ قَوِيٌّ) মর্যাদা লাভ করে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) ফালইয়াফরাহু শরীফ (فَلْيَفْرَحُوا شَرِيفٌ) উপলক্ষে ওয়ালীমাহ (عَمَلُ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ) ও কাসিদা (قِرَاءَةُ الْقَصَائِدِ) পাঠ-এর আমলটির শরঈ ভিত্তি ও বরকত অত্যন্ত মজবুত।
৫. স্বপ্ন বর্ণনাকারী ও সংকলক ইমামগণের কালানুক্রমিক প্রামাণ্য রূপ (Chronological Order)
১. কাজী হযরত ইমাম আবু আল-আব্বাস আল-আযফী রহমতুল্লাহি আলাইহি
জন্ম: ৫৫৭ হিজরী (১১৬২ ঈসায়ী) | মৃত্যু: ৬৩৩ হিজরী (১২৩৬ ঈসায়ী), মরক্কো।
পরিচিতি: একাধারে বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস, ফকীহ এবং মরক্কোর সবতাহ (Ceuta) অঞ্চলের কাজী। তিনি সীরাত গ্রন্থ ‘আদ-দুররুল মুনাজ্জাম’ রচনা শুরু করেছিলেন।
২. হযরত শায়খ আবূ মূসা আজ-জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি [উস্তাদ ও ১ম স্বপ্নদ্রষ্টা]
মৃত্যু: আনুমানিক ৬৫০–৬৬০ হিজরী (১২৫২–১২৬২ ঈসায়ী), জারহুন, মরক্কো।
পরিচিতি: তিনি ছিলেন মরক্কোর জারহুন পর্বতমালার অত্যন্ত খোদাভীরু ফকীহ, জাহিদ ও প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক।
৩. ইমাম আবু কাসেম মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-আযফী রহমতুল্লাহি আলাইহি [‘আদ-দুররুল মুনাজ্জাম’ সমাপ্তকারী]
মৃত্যু: ۶۷۷ হিজরী (১২৭৭ ঈসায়ী), মরক্কো।
পরিচিতি: কাজী আবু আল-আব্বাস আল-আযফী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিজ্ঞ ফকীহ পুত্র। তিনি তাঁর পিতার অসম্পূর্ণ গ্রন্থ সংকলন সম্পন্ন করেন এবং শায়খ ইবনে আন-নু'মান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাধ্যমে প্রাপ্ত বর্ণিত স্বপ্ন এতে লিপিবদ্ধ করেন।
৪. হযরত শায়খ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবী মুহাম্মদ আন-নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি [ছাত্র, সরাসরি সংকলক ও ২য় স্বপ্নদ্রষ্টা]
জন্ম: আনুমানিক ৬০৫–৬১০ হিজরী | মৃত্যু: ৬৮৩ হিজরী (১২৮৪ ঈসায়ী), ফেজ ও মাররাকেশ, মরক্কো।
পরিচিতি: শায়খ জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সরাসরি ছাত্র, মরক্কোর প্রখ্যাত মালিকী ফকীহ ও মুহাদ্দিস। তিনি স্বয়ং ২য় স্বপ্নটির দ্রষ্টা এবং শায়খ জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ১ম স্বপ্নটি তাঁর কিতাব ‘মিছবাহুজ জোলাম’-এ সংকলন করেন। রিজাল শাস্ত্রে তিনি পরম 'সিকাহ' (নির্ভরযোগ্য)।
৫. হযরত ইমাম শিহাবুর দ্বীন আল-কাসতাল্লানি রহমতুল্লাহি আলাইহি
জন্ম: ৮৫১ হিজরী | মৃত্যু: ৯২৩ হিজরী (১৫১৭ ঈসায়ী), কায়রো, মিসর।
পরিচিতি: বুখারী শরীফের প্রখ্যাত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ইরশাদুস সারী’-এর রচয়িতা ও সীরাতগ্রন্থ ‘আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিইয়াহ’-এর লেখক।
৬. হযরত ইমাম শামসুদ্দীন আস-সালিহী আশ-শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মৃত্যু: ৯৪২ হিজরী (১৫৩৬ ঈসায়ী), কায়রো, মিসর।
পরিচিতি: প্রখ্যাত সীরাত গবেষক ও ইমাম আস-সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রধান ছাত্র। সীরাত বিশ্বকোষ ‘সুবুলুল হুدا ওয়ার রাশাদ’-এর রচয়িতা।
۷. আল্লামা ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামী আল-মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি
জন্ম: ৯০৯ হিজরী | মৃত্যু: ৯৭৪ হিজরী (১৫৬৬ ঈসায়ী), মক্কা মুকাররমা।
পরিচিতি: শাফেয়ী মাযহাবের শীর্ষ ফকীহ ও ‘আল-নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম’-এর রচয়িতা।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: আল-ইমাম ইবনু জফর আস-সিকিল্লী [মৃত্যু: ৫৬৫ হিজরী] তাঁর সংকলিত «الدر المنتظم» গ্রন্থে সাধারণ ভোজ ও ওয়ালীমাহর (عَمَلُ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ) বরকত আলোচনা করেছেন, তবে শায়খ জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইবনুন নু'মান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এই নির্দিষ্ট স্বপ্নের সনদটি ইবনুন নু'মান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর গ্রন্থ থেকেই পরবর্তী সীরাতবিদগণ সংকলন করেছেন।)
৬. বর্ণিত আকর কিতাবসমূহ (উচ্চারণসহ)
১. مصباح الظلام في المستغيثين بخير الأنام (মিছবাহুজ জোলাম ফী আল-মুস্তাগীছীনা বি-খায়রিল আনাম) — ইমাম ইবনুন নু'মান আল-মাররাকুশী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
২. الدر المنظم في مولد النبي المعظم (আদ-দুররুল মুনাজ্জাম ফী মাওলিদিন নাবিয়্যিল মুআজ্জাম) — কাজী আল-আযফী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও তাঁর পুত্র ইমাম আবু কাসেম আল-আযফী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৩. المواهب اللدنية بالمنح المحمدية (আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিইয়াহ বিল মানহিল আহমাদিয়্যাহ) — ইমাম শিহাবুর দ্বীন আল-কাসতাল্লানি রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৪. سبل الهدى والرشاد في سيرة خير العباد (সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ফী সীরাতি খাইরিল ইবাদ) [১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৩] — ইমাম শামসুদ্দীন আস-সালিহী আশ-শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৫. النعمة الكبرى على العالم في مولد ابن آدم (আল-নি'মাতুল কুবরা 'আলাল 'আলাম ফী মাওলিদি ইবনি আদাম) — আল্লামা ইবনে হাজার আল-হাইতামী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৬. حسن المقصد في عمل المولد (হুসনুল মাকসিদ ফী আমালিল মাওলিদ) — ইমাম জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
۷. المدخل (আল-মাদখাল) — ইমাম ইবনুল হাজ্জ আল-আবদারী আল-মালেকী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
৭. সমান্তরাল কুরআন ও হাদীসের দলিলসমূহ (উচ্চারণসহ)
১. অকাট্য সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) ফালইয়াফরাহু শরীফ (فَلْيَفْرَحُوا شَرِيفٌ) আয়েত শরীফ (আনন্দ প্রকাশের সরাসরি আদেশ):
> «قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ» (সূরা ইউনুস: ৫৮)
> উচ্চারণ: কুল বিফাদলিল্লাহি ওয়া বিরহমাতিহি ফাবিযালিকা ফালইয়াফরাহু হুওয়া খাইরুম মিম্মা ইয়াজমা'উন।
> (অর্থ: আপনি বলুন, আল্লাহর ফজল এবং তাঁর রহমত হিসেবে প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে তারা যেন অবশ্যই আনন্দ প্রকাশ করে—এটি সরাসরি আদেশ মুবারক।)
> ব্যাখ্যা ও রূপগত সৌন্দর্য: আয়াতে فَلْيَفْرَحُوا (তারা যেন অবশ্যই আনন্দ প্রকাশ করে) বাক্যাংশটি 'লাম-ই-আমায়র' সহ আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া)। উসূলে ফিকহ অনুযায়ী প্রদেয় আদেশসমূহ সরাসরি পালনীয় আবশ্যিক আমলকে নির্দেশ করে। ২য় স্বপ্নের فَرَّحَ শব্দটি মূলত এই আদেশেরই প্রায়োগিক রূপ (عَمَلِيُّ)। অর্থাৎ, আল্লাহর শ্রেষ্ঠ রহমত প্রিয় নবীজি ﷺ উনাকে পাওয়ার খুশিতে ভোজ বা ওয়ালীমাহর ব্যবস্থা করা আয়াতের অকাট্য নির্দেশকে বাস্তবায়ন করারই একটি প্রাক্টিক্যাল মাধ্যম।
>
২. খাদ্য দান ও ওয়ালীমাহ সংক্রান্ত আয়েত শরীফ:
> «وَيُطْعِمُونَ الطَّعَامَ عَلَىٰ حُبِّهِ مِسْكِينًا وَيَتِيمًا وَأَسِيرًا» (সূরা আল-ইনসান: ৮)
> উচ্চারণ: ওয়া ইউত‘ইমূনাত্-তা‘আমা ‘আলা হুব্বিহি মিসকীনাও ওয়া ইয়াতীমান ওয়া আসীরান।
> (অর্থ: তারা আল্লাহর ভালোবাসায় খাদ্য দান করে মিসকীন, এতীম ও বন্দীকে।)
> ব্যাখ্যা: মাওলিদ শরীফে খানা খাওয়ানোর (عَمَلُ الْوَلَائِمِ) আমলটি এই আয়াতের সরাসরি বাস্তব রূপায়ন। আল্লাহর হাবীব ﷺ উনার মুহব্বতে মিসকীন ও সাধারণ মুমিনদের খানা খাওয়ানো এমন এক আমল, যার প্রতি সচ্চা স্বপ্নের মাধ্যমে প্রিয় নবীজি ﷺ স্বয়ং সমর্থন দিয়েছেন।
>
৩. সহীহ হাদীস শরীফ (স্বপ্নের প্রামাণিকতা):
> «مَنْ رَآنِي فِي المَنَامِ فَقَدْ رَآَنِي، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لاَ يَتَمَثَّلُ بِي»
> উচ্চারণ: মান রআ-নী ফিল মানা-মি ফাক্বদ রআ-নী, ফা ইন্ন্যাশ-শায়ত্বো-না লা- ইয়াতামাচ্ছালু বী।
> (অর্থ: যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে প্রকৃতপক্ষেই আমাকে দেখল। কারণ শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না। — সহীহ বুখারী শরীফ)
>
হযরত উবাদাহ ইবনুস সামিত রদিআল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত:
> رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ
> উচ্চারণ: রু’ইয়াল-মু’মিনি জুযউম মিন সিত্তাতিন ওয়া আরবা‘ঈনা জুযআন মিনান-নুবুওয়াতি।
> (অর্থ: মু’মিনের সত্য স্বপ্ন নবুওয়তের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ।)
>
৪. সহীহ হাদীস শরীফ (আগমনের দিন স্মরণ, খানা খাওয়ানো ও কাসিদা (قِرَاءَةُ الْقَصَائِدِ) পাঠ):
> ذَاكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ
> উচ্চারণ: যা-কা ইয়াওমুন উলিদতু ফীহি। (অর্থ: এই দিনে আমি দুনিয়ায় তাশরীফ এনেছি। প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিজ আগমনের দিনকে স্মরণ করা ও শুকরিয়া আদায় করা স্বয়ং উনারই সুন্নাত। — সহীহ মুসলিম শরীফ)
> «تُطْعِمُ الطَّعَامَ»
> উচ্চারণ: তুтейমুৎ ত'আম। (অর্থ: মানুষকে খানা খাওয়ানো সুন্নাত ও ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল।)
>
অন্যান্য হাদিস ও আছার:
> إِنَّ مِنْ أَحَبِّ الأَعْمَالِ إِلَى اللهِ إِدْخَالَ السُّرُورِ عَلَى قَلْبِ الْمُؤْمِنِ
> উচ্চারণ: ইন্না মিন আহাব্বিল আ‘মালি ইলাল্লাহি ইদখালাস-সুরূরি ‘আলা কালবিল-মু’মিন।
> (অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট প্রিয় আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মুমিনের অন্তরে আনন্দ প্রবেশ করানো।)
>
مجموع لطيف أنسي-তে উক্ত রু’ইয়ার সমর্থন এনে লেখক বলেন:
وَمِمَّا يُؤَيِّدُ هَذِهِ الرَّؤْيَا وَيَعْضُدُ فَحْوَاهَا (অর্থ: এই রু’ইয়াকে সমর্থন করে এবং এর মর্মকে শক্তিশালী করে এমন বিষয়ের মধ্যে রয়েছে...) অতঃপর হযরত জাবির রদিআল্লাহু তা'আলা আনহু-এর হাদিস উল্লেখ করেন: «من أتانا أتيناه، ومن أكرمنا أكرمناه...» (যে আমাদের কাছে আসে, আমরা তার কাছে আসি; যে আমাদের সম্মান করে, আমরা তাকে সম্মান করি...)।
৮. উসূলে ফিকহ অনুযায়ী স্বপ্নের শরঈ অবস্থান
رُؤْيَا صَالِحَةٌ (সচ্চা স্বপ্ন): এটি প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিশেষ সুসংবাদ বা বশরাত।
আমল জিন্দা করার তাগিদ: স্বপ্নটি নতুন কোনো বিধান জারি করছে না, বরং কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য আদেশের ভিত্তিতে পূর্বে বর্ণিত ফরজ ও সুন্নাতভিত্তিক আমলগুলোকে তাজা ও জিন্দা রাখার বরকতময় তাগিদ ও অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।
ঐতিহাসিক আমলের প্রমাণ: الدر المنتظم গ্রন্থে মাওলিদের আনন্দে ওয়ালীমাহর (عَمَلُ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ) ঐতিহাসিক উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে:
وَقَدْ عَمِلَ الْمُحِبُّونَ لِلنَّبِيِّ ... فَرَحًا بِمَوْلِدِهِ الْوَلَائِمَ
(অর্থাৎ নবীজির আশিকগণ উনার আগমনের আনন্দে ওয়ালীমাহ (عَمَلُ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ) ও ভোজের আয়োজন করেছেন।)
৯. চূড়ান্ত ফতোয়া ও গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত
আমরা উপরোক্ত আলোচনা, হাদীস-আছারের সনদ, উসূলে ফিকহ ও শরীয়তের মানদণ্ড থেকে এই অকাট্য সিদ্ধান্ত ও ফতোয়া প্রদান করছি যে—
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ), সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) ফালইয়াফরাহু শরীফ (فَلْيَفْرَحُوا شَرِيفٌ) অর্থাৎ মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসسام, হাজির ও নাজির, হায়াতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার নিয়ামতে আনন্দ প্রকাশ করা, খরচ করা, কাসিদা (قِرَاءَةُ الْقَصَائِدِ) পাঠ ও না'ত পাঠ এবং ওয়ালীমাহ বা খানা খাওয়ানো (عَمَلُ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ) সরাসরি কুরআন শরীফের অকাট্য নির্দেশ এবং প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রদিআল্লাহু তা'আলা আনহুম উনাদের সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাতভিত্তিক একটি মহিমান্বিত আমল।
আর শায়খ হযরত আবূ মূসা আল-জারহুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও শায়খ হযরত ইবনে আন-নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাধ্যমে দুই পৃথক সময়ে প্রাপ্ত বরকতময় স্বপ্নের সুসংবাদ উম্মতের মাঝে কুরআন ও সুন্নাহর এই মৌলিক আমলগুলোকে অকৃত্রিম মুহব্বতের সাথে জিন্দা রাখা ও পালনের ক্ষেত্রে সুদৃঢ়, বরকতময় ও অকাট্য প্রমাণ।
📌 সরাসরি সম্প্রচার ও সার্বিক সহযোগিতা সংক্রান্ত তথ্যাবলী
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে ও সম্মানে খুশি প্রকাশ করে অনন্তকালব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) ফালইয়াফরাহু শরীফ (فَلْيَفْرَحُوا شَرِيفٌ) মাহফিলের বরকতময় তাবারুকে হাদিয়া করুন:
১২০০ / ১২০০০ / ১২০০০০+
সরাসরি সম্প্রচার শুনতে ভিজিট করুন: Sm40.com
বিকাশ এজেন্ট (মাহফিল-অফিসিয়াল): 01739466730

কোটিপতির ছেঁড়া মোজা এবং দুটি গোপন চিঠি: জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য!

শহরের সবচেয়ে প্রতাপশালী ও কোটিপতি ব্যবসায়ী তার মৃত্যুশয্যায় শায়িত। তার সম্পদের কোনো অভাব নেই - দেশে-বিদেশে বাড়ি, বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্স, দামি গাড়ি; সবই আছে। কিন্তু আজ তার শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।

মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি তার একমাত্র ছেলেকে কাছে ডাকলেন। ছেলের হাতে দুটি মুখ বন্ধ করা খাম (চিঠি) দিয়ে তিনি বললেন,

"বাবা, আমার সময় শেষ। এই দুটি চিঠি রাখো। আমার প্রথম চিঠিটি খুলবে আমার মৃত্যুর ঠিক পরপরই, গোসল করানোর আগে। আর দ্বিতীয় চিঠিটি খুলবে আমাকে কবরে মাটি দেওয়ার পর।"

ছেলে কাঁদতে কাঁদতে চিঠি দুটি পকেটে রাখল। কিছুক্ষণ পরই ব্যবসায়ী মারা গেলেন।

বাবার নির্দেশ অনুযায়ী ছেলে প্রথম চিঠিটি খুলল। চিঠিতে লেখা ছিল:

"আমার আদরের সন্তান, আমার জীবনের শেষ ইচ্ছা হলো, আমার আলমারিতে রাখা আমার সবচেয়ে প্রিয় এবং পুরোনো সেই 'ছেঁড়া মোজা' জোড়া যেন আমাকে পরিয়ে কবরে দেওয়া হয়।
তুমি যেভাবেই হোক আমার এই শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করবে।"

ছেলে দ্রুত বাবার আলমারি থেকে সেই পুরোনো ছেঁড়া মোজা জোড়া বের করে আনল। যখন বাবাকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হচ্ছিল, তখন ছেলে মসজিদের ইমাম সাহেবকে বলল,

"হুজুর, আমার বাবাকে এই মোজা জোড়া পরিয়ে দিন। এটি আমার বাবার শেষ ইচ্ছা।"

ইমাম সাহেব চমকে উঠে বললেন, "অসম্ভব! ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে তিনটি সাদা কাফনের কাপড় ছাড়া আর কোনো কিছুই পরানো যায় না। এই মোজা পরিয়ে কবরে দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।"

ছেলে নাছোড়বান্দা! সে কেঁদে কেঁদে বলল, "হুজুর, আমি আপনাকে লাখ টাকা দেব, আপনি দয়া করে শুধু এই মোজা জোড়া পরিয়ে দিন। আমার বাবার শেষ ইচ্ছা আমি যেকোনো মূল্যে পূরণ করতে চাই।"

ইমাম সাহেব অত্যন্ত কড়া গলায় বললেন,

"তুমি আমাকে লাখ টাকা কেন, তোমার বাবার পুরো সম্পত্তি লিখে দিলেও আমি এটা করতে পারব না। মৃত্যুর পর আল্লাহর আইনের সামনে কোনো মানুষের শেষ ইচ্ছা বা টাকার কোনো মূল্য নেই! তোমার বাবাকে সম্পূর্ণ খালি হাতেই কবরে যেতে হবে।"

অবশেষে অনেক তর্ক-বিতর্কের পরও ছেলে পারল না। তার বাবার সেই ছেঁড়া মোজা জোড়া বাইরেই পড়ে রইল এবং তাকে শুধু সাদা কাফন পরিয়েই কবরে মাটি দেওয়া হলো।

বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে না পারার চরম কষ্ট আর হতাশা নিয়ে ছেলে বাড়ি ফিরল। ড্রয়িংরুমে বসে কাঁদতে কাঁদতে তার হঠাৎ মনে পড়ল বাবার দ্বিতীয় চিঠিটির কথা।

সে পকেট থেকে দ্বিতীয় চিঠিটি বের করে খুলল। চিঠিতে যা লেখা ছিল, তা পড়ে ছেলের চোখের পানি শুকিয়ে গেল এবং পুরো শরীর যেন বরফ হয়ে গেল!

চিঠিতে লেখা ছিল:

"আমার আদরের সন্তান! তুমি নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছ যে, কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও, শহরের সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষ হয়েও, আমি আমার সাথে একটা সামান্য 'ছেঁড়া মোজা'ও কবরে নিয়ে যেতে পারলাম না!

আমার শত কোটি টাকা, আমার ক্ষমতা - কোনো কিছুই আজ আল্লাহর আইনের সামনে আমাকে এক জোড়া পুরোনো মোজা পরারও অধিকার দিতে পারল না!

আমাকে সম্পূর্ণ খালি হাতে, রিক্ত অবস্থায় অন্ধকার কবরে ঢুকতে হলো।

বাবা, এই বিশাল সম্পত্তি, ব্যাংক ব্যালেন্স, আর ক্ষমতার অহংকার একদিন এভাবেই পড়ে থাকবে। তাই আমার এই পরিণতি দেখে শিক্ষা নিও।

দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী সম্পদের লোভে পড়ে কখনো মানুষের হক মেরো না, অহংকার কোরো না এবং নিজের আখেরাত নষ্ট কোরো না। কারণ মৃত্যুর দিন এই দুনিয়ার এক সুতো পরিমাণ জিনিসও তুমি সাথে নিতে পারবে না!"

আমরা সারাজীবন "আমার বাড়ি, আমার গাড়ি, আমার টাকা" বলে পাগল হয়ে থাকি।

একটু জমির জন্য ভাইয়ের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করি, একটু টাকার জন্য মানুষের হক মেরে খাই, মিথ্যার আশ্রয় নিই। আমরা ভুলে যাই যে, শেষ যাত্রায় আমাদের পকেটে কোনো টাকা তো দূরের কথা, কাফনের কাপড়ে কোনো পকেটই থাকে না!

যেখানে জীবনের শেষ বেলায় এক জোড়া ছেঁড়া মোজাও সাথে নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই, সেখানে এই দুনিয়ার অহংকার আর লোভ আমাদের কী কাজে আসবে?

সাথে যাবে শুধু আমাদের নেক আমল আর মানুষের সাথে করা ভালো আচরণ।

Salman Farsi
-- ফারসি থেকে অনূদিত
লেখা সংগ্রহ

image

কাফিরদের খেলাধুলায় গিয়ে পাগল হয়ে রয়েছে, নাউজুবিল্লাহ! কাফিরদের গোলাম হয়ে রয়েছে, নাউজুবিল্লাহ। যারা খেলাধুলায় মশগুল সব কাফিরদের গোলাম। ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।

এটা আসলে অনেক জিকির করতে হবে। এখন অন্যান্য যত কিছুই করুক। জিকির না করে আর ছোহবত ইখতিয়ার না করে যদি আলাদা ভাবে সে একা একা অনেক সাধনা করে। অনেক সময়ের ব্যাপার পারবে না সহজে।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।

তারপর একসময় জারী হবে, হয়তো আগে হইতে পারে অথবা কারোটা পরে হইতে পারে। জারী হবে এক সময়। তারপর লতীফার ছবকগুলি কর।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।

এখন পূর্ণ ফানা হওয়া বা পূর্ণ বাকা হওয়া। রওজা শরীফের সামনে দাঁড়িয়ে উনি উনার শায়েখের আদেশের বাহিরে উনি সালামটা দিলেন না। তাহলে উনি উনার কতটুকু অনুগত।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।

মানুষ জিকির করে, অনেক জিকির করে কিন্তুু তরক্কী হয়না। আসলে কোনো একটা সমস্যার মধ্যে রয়ে গেছে। সে শুকনা লাকরী হইতে পারে নাই, ভেজা লাকরী

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।

এইযে, ফানা-বাকা বিষয়টা যত ফানা হবে তত বাকা হবে। ফানা না হলে তো বাকা হবে না। মানুষ তাসাউফ বুঝবে কেমনে।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।

বিষয়গুলি অনেক কঠিন বিষয়। এখন নিছবত কুরবত হাসীল করা, মুহব্বতটা হাসীল করা। অনের সূক্ষ্ম বিষয়।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।