‘মুহম্মদ’ মুবারক ইছম উনার সংক্ষেপণ করা ‘চরম বেয়াদবী’ এবং ‘বিশ্বনেতা’, ‘মহামানব’, ‘মহাপুরুষ’, ইত্যাদি শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা বিষয়সংশ্লিষ্ট সাহিত্যিক ও দালিলীক পর্যালোচনা
বিভিন্ন নাম সংক্ষেপণ করার ফলে অর্থের পরিবর্তন ও বিকৃতি ঘটে;
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইছম মুবারক
‘মুহম্মদ’ মুবারক ইছম উনার সংক্ষেপণ করা ‘চরম বেয়াদবী’ এবং ‘বিশ্বনেতা’, ‘মহামানব’, ‘মহাপুরুষ’, ইত্যাদি শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা
বিষয়সংশ্লিষ্ট সাহিত্যিক ও দালিলীক পর্যালোচনা
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার নাম মুবারক শুনে জীবনে একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ফরজ। আম ফতওয়া হলো একই মজলিসে একাধিকবার নাম মুবারক উচ্চারিত হলে একবার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব, আর প্রতিবারই দুরূদ শরীফ পাঠ করা মুস্তাহাব। আর খাছ ফতওয়া হলো একই মজলিসে যতবার নাম মুবারক উচ্চারিত হবে তত বার দুরূদ শরীফ পাঠ করা ওয়াজিব।
তদ্রুপ শরীয়তের হুকুম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখার সময় সম্পূর্ণ দুরূদ শরীফ লিখা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে যদি কেউ সংক্ষেপে (সাঃ) বা (দঃ) বা صلعم বা ঝ.গ বা উ.গ ইত্যাদি লিখে, তবে আম ফতওয়া হলো তা হবে মাকরূহ্ তাহরীমী। আর খাছ ফতওয়া হলো তা হবে হারাম ও কুফরী। (তাফসীরে রূহুল বয়ান, রূহুল মায়ানী, মাযহারী, জালালাইন, বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, মাআরিফুল কুরআন)
নাম এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার কারণে সমস্ত উম্মাহকে শিক্ষা দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আদম সাফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সর্বপ্রথম সমস্ত নামসমূহ শিক্ষা দিয়েছিলেন। অস্তিত্বে যা কিছু আছে সবকিছুর একটা না একটা নাম আছে। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত, সে হিসেবে তার নাম হতে হবে শুদ্ধ, সুন্দও, অর্থবোধক ও শ্রুতিমধুর।
যা মনে চাইল তাই রেখে দিলাম, নামের আগে পরে ইচ্ছে স্বাধীন বিশেষণের স্তুপ লাগিয়ে দিলাম, অথচ সেগুলো ভুল না শুদ্ধ সেটা খেয়াল করলাম না, এটা অনুচিত এটা থেকে সচেতন হওয়া দরকার।
প্রথমেই নামের শুরুতে ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক নিয়ে কথা বলি। ভারতীয় মুশরিকরা উপমহাদেশীয় মুসলিম সম্মানিত ব্যক্তিদের নামের শুরুতে তাদের সমাজে প্রচলিত ‘শ্রী’ ও ‘শ্রীমতি’র ব্যবহার শুরু করলে মুজাদ্দিদুয যামান সাইয্যিদুনা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্বী ফুরফুরাবী রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার তাজদীদ মুবারকের নির্দেশে মুসলমানরা নিজেদের স্বাতন্ত্র রক্ষার জন্য নামের শুরুতে ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক ব্যবহার শুরু করেন।
কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপারটি হচ্ছে উপমহাদেশের অন্য কোনো ভাষায় ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক টি এব্রিবিয়েশনের কবলে না পড়লেও বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে এব্রিবিয়েশনের তথা সংক্ষেপণ এর পালায় পড়ে কোথাও মোঃ/ কোথাও মুঃ/ কোথাও; মুহাঃ/ মোহা:/ মুহা:/ মুহা. প্রভৃতি আকার নিয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ!
একটু চিন্তা করুন তো, কতটুকু উচিৎ এটা? কতটুকু শুদ্ধ? কতটুকু সুন্দর? একে তো সংক্ষেপণ, তদুপরি ভুল।
আমরা জানি বিসর্গ(ঃ) বাংলা বর্ণমালার একটি বর্ণ বিশেষ। এটা কিভাবে সংক্ষেপণের চিহ্ন হতে পারে? বাংলা ভাষার কোন ব্যাকরণের বইয়ে এটিকে সংক্ষেপণের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে কি আদৌ? এটা ব্যবহৃত হয়ে আসাটা ব্যকরণগত ভ্লু।
আমরা কি এ ভুল বহন করেই যাবো? অনেক নামী দামী লোকেরা ব্যবহার করে এসেছেন, তো সমস্যা কোথায়? কথাটা আরেকটি বোকামি। সময় সাশ্রয়ের কথা বলাটাও কৃপণতা বৈ কিছুই নয়।
উদাহরণস্বরুপ আরেকটা বিষয় হলো নামের শুরুতে গউ (এমডি)’র ব্যবহার। এটাই বা কেমন ব্যবহার! ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক সমৃদ্ধ নামতো নিতে হয় প্রাণভরে, মনখুলে। কিন্তু এই বখীলতা কেনো? পুরো ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক লেখতে সমস্যা কোথায়?
বিধর্মী ও বিজাতীদের যারা এই এব্রিবিয়েশন জানে না তারা বুঝবেটা কী? তারা যদি একটা অফিসের কয়েকজনের নামের শুরুতে এই ‘এমডি’ দেখে একটা অফিসের বহুসংখ্যক এমডি (গধহধমরহম উরৎবপঃড়ৎ) মনে করে
কেউ যদি মেডিসিন ডক্টর (গবফরপরহধব উড়পঃড়ৎ) ধরে নেয় তাতেও দোষ দেওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ এটি একটি এহতেমালি বিষয়। সবাইতো আর আপনার এমডি’র মিনিং বুঝবে না। এখানেও সেই একই প্রশ্ন গঁযধসসধফ বা গড়যধসসধফ লেখলে অসুবিধাটা কী?
ধরে নিচ্ছি আপনার জায়গা বা যমীনের বিশাল সঙ্কট। ‘মুহম্মদ’ মুবারক নামটা লেখার মতো জায়গা আপনার নেই! যাই হোক, আপনি যখন এব্রিবিয়েশন বা সংক্ষেপণ করবেনই তাহলে যতটুকু সম্ভব শুদ্ধভাবে করছেন না কেনো? কেনো এই অশুদ্ধর চর্চা? তবে পূর্ববর্তী সকল তাফসীরগ্রন্থ এবং হাদীছ শরীফ উনার কিতাবগুলোতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকের শেষে পূর্ণ দুরূদ শরীফসহ লিখা আছে। আর বর্তমানে প্রকাশিত প্রায় সকল ধরণের কিতাবাদি, বই-পুস্তক, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদিতে দেখা যায়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক শেষে সংক্ষেপে দুরূদ শরীফ অর্থাৎ (সাঃ) বা (দঃ) লিখে থাকে। এ সংক্ষেপে লিখার প্রধান কারণ হিসাবে যা প্রকাশ পায়, তা হলো- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক বার বার লিখতে গেলে বেশি কাগজ লাগা, সময় বেশি লাগা ইত্যাদি। নাঊযুবিল্লাহ!
আমাদের দাবি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুৃল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক ও সম্মানিত নাম হিসেবেই যদি লেখেন তবে পুরো ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবরকই লিখবেন। আর সংক্ষেপণের প্রতীক হিসেবে (ঃ) বিসর্গ অক্ষরটা বাদ দিন। এটা সংক্ষেপ’র চিহ্ন না। বাংলাভাষায় সংক্ষেপের চিহ্ন কী সেটা জেনে নিন। প্রয়োজনে বাংলা একাডেমীর দ্বারস্থ হোন। ব্যকরণের শিক্ষা গ্রহণ করুন।
ব্যকরণ এর পরিভাষা। একান্তই যদি সংক্ষেপণ করবেন তাহলে ডট (.) ব্যবহার করুন। মোহাঃ/ মুঃ/ মোঃ না লেখে মুহা. বা মো. লিখুন। তবে তা ব্যবহার করাটাও চরম বেয়াদবী। কিছুটা না হয় বিশুদ্ধতার কাছে আসুন। অশুদ্ধ চর্চার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসুন।
আরেকটি বিষয়, মুহম্মদ অমুক আহমদ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুৃল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দু’টি নাম মুবারককে একসাথে নিয়ে আসা (টু ইন ওয়ান উইথ রিপিটেশন)।
নামে ‘আহমদ’ শব্দ মুবারক থাকলে তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুৃল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক থাকলো। আবার ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক লাগানোর দরকার কি! আবার নামের শুরুতে ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক থাকলে তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুৃল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক থাকলো। আবার ‘আহমদ’ শব্দ মুবারক লাগানোর দরকার কি! অনেকেতো তিনটা নামও ব্যবহার করেন! এই অতিরঞ্জনের কোনো মানে আছে? হ্যা তবে ফযীলতের কারণ হিসেবে লেখা শরীয়তসম্মত বিষয়।
আর মহিলাদের নামের শুরুতে ‘মুসাম্মাত’ লেখা আরেক সপ্তাশ্চর্যের ব্যাপার। ‘মুসাম্মাত’ টা এলো কোত্থেকে সেটার ইতিহাস অনেকেরই অজানা? মুসাম্মাত আরবি শব্দ। ইসমে মাফউলের সিগাহ। যার অর্থ, নামকৃত, নাম রাখা হয়েছে ইত্যাদি। নামের প্রারম্ভে এটা নিয়ে আসার কী যৌক্তিকতা? তাছাড়া আখতার, খাতুন আর বেগম নাগুলো সংযুক্তির কাহিনীটাও অনেকেরই অজানা।
বলা বাহুল্য: সা. > আ. > রা. > রাহ. এ সংক্ষেপন তথা এব্রিবিয়েশনগুলোর ব্যাপারেও একই কথা। কেন করা হচ্ছে এসব? কেন এতো বখীলতা। পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহের কিতাবাদীতে হাজার হাজার বার ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক আসে এবং প্রতিবারই পরিপূর্ণভাবে صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ লেখা হয়ে থাকে।
মুহাদ্দীছিনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা কেন সংক্ষেপন তথা এব্রিবিয়েশের পথে হাঁটেন না? একেতো এব্রিবিয়েশন, তদুপরি ব্র্যাকেট’র ইসতেমাল। বিশেষ করে (সা.) উনার ক্ষেত্রে এটা মোটেও ঠিক না। ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুৃল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক শুনার সাথে ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলা ওয়াজিব।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে;
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْبَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ.
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুৃল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: ‘ঐ ব্যক্তির অকল্যাণ হোক, যার নিকট আমার নাম মুবারক উচ্চারণ করা হলো, অথচ আমার উপর দুরুদ শরীফ পাঠ করল না’ (তিরমিযী শরীফ )
উল্লেখ্য, যাঁর প্রতি ফেরেশতাগণ আলাইহিমুস সালামসহ স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি দুরূদ শরীফ পাঠ করেন এবং মানুষকে দুরূদ শরীফ পাঠ করার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন এবং অসংখ্য হাদীছ শরীফে দুরূদ শরীফ পাঠের ফযীলত সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
বলা বাহুল্য যে; দুরূদ শরীফ পাঠ করতে যারা গাফলতী করে, তাদের সম্পর্কে হাদীছ শরীফে অনেক দুঃসংবাদ রয়েছে এবং তাদের শেষ ফায়সালা হলো জাহান্নাম। এখন চিন্তা ফিকির করা দরকার যারা দুরূদ শরীফ লিখার সময় সামান্য কাগজ ও সময় বাচানোর জন্য সংক্ষেপে (সাঃ) বা (দঃ) দিয়ে লিখে, তাদের কি অবস্থা হতে পারে?
সুতরাং উক্ত শব্দ মুবারক ব্রাকেট ব্যবহার করে বখীলতা করবো কেনো? আমাদের কর্তব্য উনার পবিত্র নাম মুবারকসহ কারও নাম বিকৃত না করা, শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করে, সঠিকভাবে পুরো নাম উচ্চারণ করা ও লিখা হলোই আদবও সম্মান।
যেসব কারনে নাম বিকৃত ও সংক্ষেপ করা উচিত নয়:
১. নাম বিকৃত করলে অনেক সময়ই নামের আসল অর্থ সঠিক থাকে না, এবং নামের অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরুপ কারও নাম যদি হয় ‘আশরাফুল’ এবং তাকে যদি ‘অ্যাশ’ বলে ডাকা হয় তাহলে তার নামের অর্থ ঠিক থাকে না। ‘আশরাফুল’ নামের অর্থ ‘শ্রেষ্ঠ বা উত্তম’। কিন্তু ‘অ্যাশ’ বলে ডাকলে আর সেই অর্থ থাকে না। ইংরেজীতে ধরলে ‘অ্যাশ’ এর অর্থ দাঁড়ায় ‘ছাই’। অর্থাৎ একটা ভাল অর্থের নামকে বিকৃত করে খারাপ বানিয়ে ফেলা হলো।
২. নাম বিকৃত করা বা সংক্ষেপ করা আমাদের সংস্কৃতি বা আদব নয়। আমাদের সংস্কৃতি ও আদব অনেক উচু স্তরের। আমরা মানুষের নাম সঠিক ভাবে উচ্চারণ করে মানুষের প্রতি যথেষ্ঠ যতœশীলতা, সৌজন্যতা, সম্মান, শ্রদ্ধা ও আদব প্রদর্শন করি। সঠিক ভাবে উচ্চারণ করার ফলে ঐ মানুষটির নামের সঠিক ও সুন্দর অর্থও প্রকাশ পায়। এটা আমাদের উচু মানসিকতারই বহিপ্রকাশ।
৩. কখনও কখনও বন্ধু-বান্ধবরা মজা করতে যেয়ে একে অপরকে উপনাম অথবা বিকৃত নামে ডেকে থাকে। মজা করতে যেয়েও এই ধরনের উপনাম অথবা বিকৃত নামে কাউকে ডাকা উচিত নয়। কারন মজা করার জন্য হলেও কোনো মানুষের অবচেতন মন এটাকে ভাল জিনিস হিসেবে গ্রহণ করে না। এই বিকৃত মজা নিতে যেয়ে কাউকে উপনাম অথবা বিকৃত নামে ডাকলে আসলে তা আপনার নিজের ব্যক্তিত্বের আকর্ষনটাই নষ্ট করবে। তাই সঠিক ভাবে নাম লিখা এবং উচ্চারণ করায় সর্বোত্তম উপায় ও মাধ্যম।
সুতরাং কারো নাম বিকৃত ভাবে উচ্চারন করবেন না, কাউকে তার নাম ছাড়া অন্য নামে ডাকবেন না। কেউ আপনাকে বিকৃত নামে ডাকলে বা লিখলে, তাকে বিনয়ের সাথে বলুন,
“আমি কি আপনাকে একটা জিনিস অনুরোধ করতে পারি? সে যখন বলবে, ‘কি?’ তখন আপনি একটু বিরতি দিয়ে বলুন, আমি খুশি হবো আপনি যদি আমার নামটা সঠিক ভাবে উচ্চারন করেন”
এরপরও যদি সে সেটা পালন না করে তাহলে বুঝতে হবে সে আপনার বিষয়ে যথেষ্ঠ যতœশীল না। এবং যে আপনার বিষয়ে যতœশীল না এরকম বেয়াদবের সাথে সম্পর্ক না রাখাই ভাল।
বলা বাহুল্য যে, ইহুদী খ্রিষ্টান ও কাফিররা প্রায়শই নাম বিকৃত করে। কারও নাম ‘নিকোলাস’ হলে তারা তাকে ‘নিক’ বলে ডাকা শুরু করে। দুর্ভাগ্য বশত ইদানীংকালে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকা, হারামটিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের বিকৃত খারাপ ইহুদী খ্রিষ্টান ও কাফিরদের অপসংস্কৃতির চর্চা করা হচ্ছে। আশরাফুলকে ‘অ্যাশ’ সহ অনেক ধরনের বিকৃত নাম তুলে ধরা হচ্ছে।
আমাদের সমস্যা হচ্ছে, ইহুদী খ্রিষ্টান ও কাফিররা যাই করুক না কেন আমরা সেটাকে উচু স্তরের বলে ধরে নেই এবং মনে করি সেটা আমাদের চেয়ে ভাল বা উন্নত। নাউযুবিল্লাহ!
অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُواْ وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَّوَدَّةً لِّلَّذِينَ آمَنُواْ الَّذِينَ قَالُوَاْ إِنَّا نَصَارَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لاَ يَسْتَكْبِرُونَ
অর্থ: “আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন এবং আপনি সবার চাইতে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্বে অধিক নিকটবর্তী তাদেরকে পাবেন, যারা নিজেদেরকে খ্রীষ্টান বলে। এর কারণ এই যে, খ্রীষ্টানদের মধ্যে জানাশোনা লোক রয়েছে, দরবেশ রয়েছে এবং তারা অহঙ্কার করে না।” (পবিত্র সূরা আল মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২)
আমরা বিশ্বাস করতে পারি না যে, আমাদের সংস্কৃতি তাদের চেয়ে অনেক বেশি উচু স্তরের। ইহুদী খ্রিষ্টান ও কাফিররা কারও নাম সঠিক ভাবে বলতে না পারলে সেটা তাদের সংস্কৃতির দুরবস্থা। সেটা তাদের সংস্কৃতির নিচুতারই বহিপ্রকাশ। সেটাকে স্টাইল মনে করার তো কারন নেই। সেটাকে গ্রহণ করার তো কোন মানে হয় না। বরং আমাদের ভাল সংস্কৃতি যা আমাদেরকে মানুষের নাম সঠিক ভাবে উচ্চারণ করতে শেখায় ।
আসলে আমাদের গর্বিত অনুভব করা উচিত এত ভাল একটি জিনিস আমাদের সংস্কৃতিতে বিদ্যমান যা ইহুদী খ্রিষ্টান ও কাফিরদেও সংস্কৃতিতে নাই। আর এই জন্যই আমাদের সংস্কৃতি হচ্ছে উচু স্তরের ভাল সংস্কৃতি। আর ইহুদী খ্রিষ্টান ও কাফিররাদের সংস্কৃতি হচ্ছে নিচু স্তরর খারাপ সংস্কৃতি।
যখন আপনি কারও নাম সঠিক ভাবে উচ্চারণ করেন বা লেখেন তখন তার অবচেতন মনে এক ধরনের ধারনা সৃষ্টি হয় যে, আপনি তার বিষয়ে যথেষ্ঠ যতœশীল। এতে তিনি আপনার প্রতি খুশি হন এবং প্রভাবিত হন।
মূলকথা হলো আমাদের প্রিয় নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় এমন একটি নাম মুবারক, যার শান মান সম্মান ও ফযীলত এমন যে তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন। সুবহানাল্লাহ!
বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করলে যে বিষয়গুলো প্রতিয়মান হয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘আহাদ’ তথা একক। তিনি ¯্রষ্টা হিসেবে যেমন একক;
ঠিক তেমনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম বরকতময় নাম মুবারক ‘মুহম্মদ’ শব্দ মুবারক আর ‘আহমদ’ শব্দ মুবারক উনাদের মধ্যে মীম শব্দ মুবারক উহ্য রাখলে তিনিও ‘আহাদ’ তথা তিনিও সৃষ্টি হিসেবে একক। সুবহানাল্লাহ!
এককথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন। এছাড়া সমস্ত সম্মান ইজ্জত ও সমস্ত কিছুরই মালিক এবং তিনিই সবকিছু। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং উক্ত নাম মুবারক বলা কিংবা লেখার ক্ষেত্রে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো; ফরয-ওয়াজিব হলো স্বসম্মানের সাথে উচ্চারণ করা এবং লেখা, তদুপরি সংক্ষেপণ না করে পরিপূর্ণভাবে লেখা। কিংবা উনার নাম মুবারক উচ্চারণের ক্ষেত্রে পবিত্র ও বরকতময় লক্ববসমূহ উচ্চারন করা। সুতরাং সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা থেকে আমরা এ শিক্ষাই নেব, যখনই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক লিখতে যাব তখনই পূর্ণ দুরূদ শরীফসহ লিখবো।
‘বিশ্বনেতা’, ‘মহামানব’, ‘মহাপুরুষ’, ইত্যাদি শব্দ দ্বারা সম্বোধন করা প্রসঙ্গে
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:
لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا.
অর্থ: “তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাক, সেভাবে তোমাদের যিনি রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করো না।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ –পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষ যেন উনার পেয়ারা হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেভাবে না ডাকে যেভাবে মানুষ একে অপরকে ডেকে থাকে। স্বয়ং আল্লাহ পাকই উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমগ্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার কোথাও উনার পবিত্র নাম মুবারক ধরে ডাকেননি। এটা মূলত আল্লাহ পাক, উনার পক্ষ থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আফযালিয়াতের বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ!
অথচ বর্তমানে দেখা যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের যেসব লেখক আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার জীবন চরিত মুবারক রচনা করেছে, সংকলন করেছে তাদের অনেকেই আরবী ভাষা ও সাহিত্যে অনভিজ্ঞ। যার ফলে তারা বাংলা সাহিত্যে আখিরী রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রকৃত আফযালিয়াত তুলে ধরার পরিবর্তে উনাকে মানবীয় বৈশিষ্ট্যের সাথে তুলনা করেছে নাঊযুবিল্লাহ!
যার ফলে দেখা গেছে বাংলা সাহিত্যে রহমতুল্লিল আলামীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মনগড়াভাবে নিছক একজন ‘বিশ্বনেতা’, ‘মহামানব’, ‘মহাপুরুষ’ নামকরন করা হয়েছে। অথচ আমরা গভীরভাবে ফিকির করলে বুঝতে পারব যে, এটা মূলত হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার আফযালিয়াত তথা শানের সম্পূর্ণ খিলাফ।
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন আখাসছুল খাছ রসূলুল্লাহ ও হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম ইরশাদ মুবারক করেন:
وما محمد الا رسول
অর্থ: “ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রসূল ব্যতীত অন্য কিছুই নন।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৪)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন:
انا حبيب الله، انا سيد المرسلين، انا خاتم النبين
অর্থ: “আমি ‘হাবীবুল্লাহ’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক, উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, অর্থাৎ রসূলগণের সাইয়্যিদ, খাতামুন্ নাবিইয়ীন অর্থাৎ সর্বশেষ নবী।” (মিশকাত শরীফ)
অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لست كاحدكم
অর্থ: “আমি তোমাদের কারো মত নই।”
বস্তুত: আমাদের স্মরণ রাখা আবশ্যক যে, ‘বিশ্বনেতা’ বলতে সাধারণত বিশ্বের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় নেতা বা সমকালীন কোন বড় নেতাকে বুঝানো হয়। অপরদিকে ‘মাহমানব’, ‘মহাপুরুষ’ শব্দদ্বয় মুসলমান, অমুসলমান সবার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যেতে পারে ও ব্যবহার হয়ে থাকে।
মূলতঃ এক বা একাধিক বিষয়ে কোন ব্যক্তি বিশেষ যোগ্যতা অর্জন করলে তাকেই ‘মহামানব’, ‘মহাপুরুষ’ বলে অভিহিত করা হয়। সে মুসলমানও হতে পারে আবার ইহুদী, নাছারা, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজুসী, মুশরিক, নাস্তিকও হতে পারে।
মহান আল্লাহ পাক, উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন- রহমতুল্লিল আলামীন। তিনি মানুষের মাঝে আগমন করলেও তিনি আমাদের মত মানুষ নন। উনার প্রতি ওহী নাযিল হয়। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল খলায়িক্বে ওয়াল বাশার, তিনি হামিলু লিওয়ায়িল হামদ, তিনি হাবীবুল্লাহ, তিনি নূরে মুজাস্সাম। অথচ যারা বিশ্বনেতা, মাহামানব, মহাপুরুষ খেতাবে ভূষিত তারা কেউই আলোচ্য কোন একটি গুণের লেশমাত্রেরও অধিকারী নয়।
কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কাফির-মুশরিক, নাস্তিকদের মত মানহানীকর লক্ববে ডাকা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ!
অনেকেই আমরা জেনে না জেনে ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় আমাদের প্রিয় নবী নূরে মুৃজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘বিশ্বনবী’ বলে উনার শান মুবারক যাহির করতে চাই। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু তা কতটুকু শরীয়তসম্মত বা যুক্তিসঙ্গত?
বিভিন অভিধানে উল্লেখ আছে : ‘বিশ্ব’ শব্দটি পৃথিবী শব্দের সমার্থক। আর পৃথিবী শব্দটি সংস্কৃত শব্দ। যা সমস্ত আলমসমূহের মধ্যে মাত্র একটি আলমকে বুঝায়। আর নবী শব্দ মুবারক নূরে মুৃজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার হয়।
তাহলে ‘বিশ্বনবী’ শব্দের অর্থ হলো পৃথিবীর নবী। যা সমস্ত আলমসমূহের মধ্যে মাত্র একটি আলম তথা পৃথিবীকে উদ্দেশ্য করা হয়ে থাকে। যা চরম বেয়াদবীমূলক ও উনার পবিত্রতম শান মুবারকের খিলাফ।
অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
وما ارسلنك الا رحمة للعالمين
আমি আমার হাবীব নূরে মুৃজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত আলমসমূহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।
উক্ত আয়াত শরীফে উল্লেখিত ‘আলামীন’ শব্দ মুবারক হলো ‘আলাম’ শব্দের বহুবচন। আলাম অর্থ হলো বিশ্ব, পৃথিবী। আর বহুবচন ‘আলামীন’ শব্দের অর্থ হলো সমস্ত বিশ্ব বা সমস্ত কুল কায়িনাত।
আর পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: “আমি আমার হাবীব নূরে মুৃজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছি। ”
নূরে মুৃজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নর মুবারক থেকেই পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে। তাহলে উনাকে কিভাবে ‘বিশ্বনবী’ বলা হয়?
আমরা একথার উপর একমত হতে পারি যে, নূরে মুৃজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধু বিশ্বনবীই নন বরং তিনি হলেন সমস্ত কুল কায়িনাত তথা সমস্ত জগৎসমূহের নবী ও রসূল নূরে মুৃজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূরপাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং ‘বিশ্বনবী’ শব্দটি উনার শান মুবারকে ব্যবহার মূলত কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ এবং অজ্ঞতা, বেয়াদবী ও কুফরীর শামিল।
মহান খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের সবাইকে উক্ত বিষয়গুলো ফিকির করে বলা, আহবান করা ও লিখার তাওফীক্ব নছীব করুন। আমীন!
গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ
- حديث: ((يأتي زمان على أمتي يحبون خمسًا، وينسَون خمسًا: يحبون الدنيا، وينسون الآخرة، يحبون المال، وينسون الحساب، يحبون المخلوق، وينسون الخالق، يحبون القصور، وينسون القبور، يحبون المعصية، وينسون التوبة، فإنْ كان الأمر كذلك، ابتلاهم الله بالغلاء، والوباء، وموت الفجأة، وجَور الحكَّام)).
“আমার উম্মতের উপর এমন এক সময় আসবে--
, যখন তারা পাঁচটি জিনিসকে ভালোবাসবে এবং পাঁচটি জিনিসকে ভুলে যাবে:--যথা
১. দুনিয়াকে ভালোবাসবে, আখিরাতকে ভুলে যাবে।
২.সম্পদকে ভালোবাসবে, হিসাব-নিকাশের দিনকে ভুলে যাবে।
৩. সৃষ্টিকে ভালোবাসবে, স্রষ্টাকে ভুলে যাবে।
৪. অট্টালিকা ও প্রাসাদকে ভালোবাসবে, কবরকে ভুলে যাবে।
৫. পাপাচারকে ভালোবাসবে, তওবাকে ভুলে যাবে।
যখন এমন অবস্থা হবে, তখন আল্লাহ তাদেরকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, মহামারি, আকস্মিক মৃত্যু (স্ট্রোক)এবং শাসকদের জুলুমের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলবেন।”
উপরের কথাগুলোর মর্মার্থ পবিত্র কুরআন শরীফ ও সহীহ হাদিস শরীফ এরও বিভিন্ন স্থানে এসেছে।
১. বুদ্ধিমান ব্যক্তি কে?
হাদীস (সুনান তিরমিযী, 2459):
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ:
«الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ، وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْعَاجِزُ مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا، وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ الْأَمَانِيَّ»
অর্থ: “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে...”
২. সম্পদের মোহে আখিরাত ভুলে যাওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ (সূরা আত-তাকাসুর ১০২:১-২):
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ ١ حَتَّىٰ زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ٢
অর্থ: “প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল করে রেখেছে, যতক্ষণ না তোমরা কবরস্থানে উপনীত হলে।”
হাদীস শরীফ (সুনান তিরমিযী, 2417):
«لَا تَزُولُ قَدَمَا عَبْدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ أَرْبَعٍ ... وَعَنْ مَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَ أَنْفَقَهُ»
অর্থ: “কিয়ামতের দিন বান্দার দুই পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে ... তার সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে।”
৩. সৃষ্টির চেয়ে স্রষ্টাকে বেশি ভালোবাসা
পবিত্র কুরআন শরীফ (সূরা আল-বাকারা ২:১৬৫):
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ ۖ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِلَّهِ
অর্থ: “আর মুমিনগণ আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।”
৪. ঘরবাড়ি ও দুনিয়ার মোহ, মৃত্যুকে ভুলে যাওয়া
পবিত্র হাদীস শরীফ (সুনান তিরমিযী, 2307):
«أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَادِمِ اللَّذَّاتِ»
অর্থ: “তোমরা বেশি বেশি সেই জিনিসকে স্মরণ করো, যা সকল স্বাদ-আনন্দকে ধ্বংস করে দেয়।” অর্থাৎ মৃত্যু।
৫. পাপে লিপ্ত হওয়া, তওবা ভুলে যাওয়া
কুরআন (সূরা আন-নূর ২৪:৩১):
وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।”
পবিত্র হাদীস শরীফ (সুনান তিরমিযী, 2499):
«كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ»
অর্থ: “প্রত্যেক আদমসন্তানই পাপী, আর পাপীদের মধ্যে উত্তম তারা, যারা তওবাকারী।”
৬. আকস্মিক মৃত্যু সম্পর্কে
হাদীস (সুনান আবু দাউদ, 311
«مَوْتُ الْفُجَاءَةِ رَاحَةٌ لِلْمُؤْمِنِ»
অর্থ: “আকস্মিক মৃত্যু মুমিনের জন্য স্বস্তি (রাহাত) স্বরূপ।”
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আত্মসমালোচনা, তওবা, মৃত্যুচিন্তা এবং আখিরাতের প্রস্তুতির তাওফীক দান করুন। আমীন।
একটা বিষয় খেয়াল করলাম। আমাদের প্রিয় নবীজি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে বে-ঈমান, কাফের, জাহান্নামী বানানোর জন্য যেই লোকগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা কোশেশ করে। নাঊযুবিল্লাহ! তাদের অবস্থা দেখে মনে হয় এই বিষয়টা প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে, তারা ঈমানদারই থাকতে পারবে না। যদিও বিষয়টা উল্টো।
ঠিক ঐ লোকগুলোই আবার ইয়াজিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে ঈমানদার বানানোর জন্য জান-মাল দিয়ে কোশেশ করে। তাদের কথা হচ্ছে এই মালউনটাকে কোনোভাবেই কাফের বলা যাবেনা। যদিও হাকীকতান সে ইবলিসের চেয়েও বড় কাফের, বড় মালউন। তার কাফের হওয়ার ব্যাপারে যারা সন্দেহ করবে তারাও কাফের হবে।
বলার বিষয় হলো এমনটা হওয়ার কারণ কি? কারণ হলো এরা যদিও নামধারী মুসলমান। কিন্তু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই, নেসবত নেই। যার কারণে এরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদাহ পোষণ করতে পারে নাই বা এখনো পারছে না। অপরদিকে মালউন ইয়াজিদের সাথে এদের নাড়ীর সম্পর্ক আছে। যার কারণে এরা তাকে কাফের বলতে সংকোচ বোধ করে। অথচ তার কাফের হওয়ার বিষয়টা স্পষ্ট।
এই কারণেই মুসলিমরা দুইভাগে বিভক্ত। হুসাইনী মুসলমান, ইয়াজীদি মুসলমান। এখন আপনি কোন দলে মিলাই নেন।
মা’রিফাতু আহলি বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ওয়া ফাদ্বায়িলুহুম (২৩)
উপসংহার:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَلَوْ اَنَّـمَا فِى الْاَرْضِ مِنْ شَجَرَةٍ اَقْلَامٌ وَّالْبَحْرُ يَـمُدُّهٗ مِنْۢ بَعْدِهٖ سَبْعَةُ اَبْـحُرٍ مَّا نَفِدَتْ كَلِمَاتُ اللهِ اِنَّ اللهَ عَزِيْزٌ حَكِيْمٌ.
অর্থ: “পৃথিবীতে যত গাছ আছে, সমস্ত গাছ যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথে আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, (এবং সমস্ত মাখলূকাত মিলে মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক লিখতে থাকে) তারপরও মহান আল্লাহ পাক উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না| সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পরাক্রমশালী এবং প্রজ্ঞাময়|” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৭)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা| সুবহানাল্লাহ! পৃথিবীতে যত গাছ আছে, সব গাছ যদি কলম হয় এবং যত সমুদ্র রয়েছে, সেগুলোর সাথে আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়| আর সমস্ত মাখলূকাত মিলে অনন্তকাল যাবৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক লিখতে থাকে, তাহলে সমস্ত কলম ও কালি নিঃশেষ হয়ে যাবে, আবার আনা হবে আবার শেষ হবে, সমস্ত মাখলূকাত ক্লান্ত হয়ে যাবে, (এভাবে চলতেই থাকবে) তারপরও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক বিন্দু থেকে বিন্দুতমও বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব হবে না| সুবহানাল্লাহ! তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল, তা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে| সুবহানাল্লাহ! এক কথায় উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক হচ্ছেন উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক রয়েছেন, সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন উনারা| সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, আখাচ্ছুল খাছভাবে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উপলব্ধি করে উনাদের সম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার, সম্মানিত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করার এবং সম্মানিত ছানা-ছিফত মুবারক করার মাধ্যম দিয়ে অনন্তকালব্যাপী হাক্বীক্বীভাবে মহাসম্মানিত ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার তাওফীক্ব দান করুন| আমীন! আমীন! আমীন!
মা’রিফাতু আহলি বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ওয়া ফাদ্বায়িলুহুম (২২)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ করা ব্যতীত নামায কবূল হয় না
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ مَسْعُوْدِ ۣ الْاَنْصَارِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلّٰى صَلٰوةً لَّـمْ يُصَلِّ فِيْهَا عَلَىَّ وَلَا عَلـٰى اَهْلِ بَيْـتِـىْ لَـمْ تُقْبَلْ مِنْهُ.
অর্থ: “হযরত আবূ মাস‘ঊদ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত| তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি নামায পড়বে, কিন্তু নামাযে আমার এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ করবে না, তার নামায কবূল হবে না|” (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৯, সুনানুদ দারাকুত্বনী ২/১৭১, শরহু সুনানি আবী দাঊদ লিল ‘আইনী ৪/২৬৬, আল বাদরুল মুনীর ৪/১৫, নাছবুর রাইয়াহ ১/৪২৭, আদ দিরায়াহ ১/১৫৮, আল ‘ইলাল ৬/১৯৭, আন নাজমুল ওয়াহ&হাজ ২/১৬৪ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ مَسعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ لَوْ صَلَّيْتَ صَلٰوةً لَّـمْ يُصَلَّ فِيْهَا عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا عَلـٰى اَهْلِ بَيْتِهٖ لَرَاَيْتَ اَنَّهَا لَا تَتِمُّ مَوْقُوْفًا.
অর্থ: “হযরত আবূ মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত| তুমি যদি কোন নামায আদায় কর, কিন্তু ওই নামাযে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি দুরূদ শরীফ পাঠ না করো| তাহলে তুমি অবশ্যই দেখবে যে, সেই নামায পূর্ণ হয়নি; বরং ঝুলন্ত রয়ে গেছে|” (দারাকুত্বনী ৬/১৯৮)
আরো বর্ণিত হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِـىِّ بْنِ الْـحُسَيْنِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ اَنَّهٗ قَالَ لَوْ صَلَّيْتُ صَلٰوةً لَّـمْ اُصَلِّ فِـيْهَا عَلَى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا عَلـٰى اَهْلِ بَيْتِهٖ لَرَاَيْتُ اَنَّهَا لَا تَتِمُّ.
অর্থ: “হযরত আবূ জা’ফর মুহম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন আলাইহিমুস সালাম উনার থেকে বর্ণিত| তিনি বলেন, আমি যদি কোন নামায আদায় করি, কিন্তু ওই নামাযে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ না করি| অবশ্যই আমি দেখি যে, নিশ্চয়ই উক্ত নামায পূর্ণ হয়নি|” সুবহানাল্লাহ! (শিফা শরীফ ২/৬৪, শরহুশ শিফা ২/১১২, তাফসীরে কুরতুবী শরীফ ১৪/২৩৬, দারাকুত্বনী ইত্যাদি)
কাজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সম্মানিত ছলাত অর্থাৎ দুরূদ শরীফ পাঠ না করলে, নামায কবুল হয় না| আর এই কারণেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি কিভাবে সম্মানিত ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ করতে হবে, সেই বিষয়টি তা’লীম বা শিক্ষা মুবারক দিয়েছেন| যেমন, এই সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ اَبِـىْ لَيْلٰى رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ لَقِيَـنِـىْ حَضْرَتْ كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ فَقَالَ اَلَا اُهْدِىْ لَكَ هَدِيَّةً سَـمِعْتُهَا مِنَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ بَلٰى فَاَهْدِهَا لِـىْ فَقَالَ سَاَلْنَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ الصَّلٰوةُ عَلَيْكُمْ اَهْلَ الْبَيْتِ فَاِنَّ اللهَ قَدْ عَلَّمَنَا كَيْفَ نُسَلِّـمُ عَلَيْكُم قَالَ قُوْلُوْا اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلـٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلـٰى اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلـٰى اِبْرَاهِيْمَ وَعَلـٰى اٰلِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّـجِيْدٌ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلـٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلـٰى اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلـٰى اِبْرَاهِيْمَ وَعَلـٰى اٰلِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّـجِيْدٌ.
অর্থ: “হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবূ লাইলা (তাবেয়ী) রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত কা’ব ইবনে উজরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে একদা আমার সাক্ষাৎ হলো| তিনি বললেন, (হে আব্দুর রহমান!) আমি কি আপনাকে একটি কথা হাদিয়া দিবো না, যা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে শুনেছি? আমি বললাম, হাঁ, আমাকে তা হাদিয়া করুন| তখন তিনি বললেন, একবার আমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সুওয়াল করেছিলাম| আমরা বলেছিলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অর্থাৎ আপনাদের প্রতি কিভাবে সালাম পাঠ করবো তা মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন| দয়া করে বলুন, আপনার প্রতি এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আমরা কিভাবে সম্মানিত ‘ছলাত’ (দুরূদ শরীফ) পাঠ করবো?
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা এইভাবে বলবেন,
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلـٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلـٰى اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلـٰى اِبْرَاهِيْمَ وَعَلـٰى اٰلِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّـجِيْدٌ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلـٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلـٰى اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلـٰى اِبْرَاهِيْمَ وَعَلـٰى اٰلِ اِبْرَاهِيْمَ اِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّـجِيْدٌ.
“হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পেশ করুন, যেভাবে আপনি ছলাত পেশ করেছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি| নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত এবং সম্মানিত| সুবহানাল্লাহ! হে মহান আল্লাহ পাক! আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সম্মানিত বরকত নাযিল করুন, যেভাবে আপনি বরকত নাযিল করেছেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি| নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত এবং সম্মানিত|” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ ইত্যাদি)
এই সম্মানিত দুরূদ শরীফ প্রতি ওয়াক্তে প্রত্যেক নামাযেই পাঠ করা হয়| সুবহানাল্লাহ! যারা নামাযে উপরোক্ত সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ করে না, তাদের নামায কবুল হয় না|
এ জন্যই হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,
يَا اَهْلَ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ حُبُّكُمْ ................. فَرْضٌ مِّنَ اللهِ فِـى الْقُرْاٰنِ اَنْزَلَهٗ
يَكْفِيْكُمْ مِّنْ عَظِيْمِ الْفَخْرِ اَنَّكُمْ ............... مَّنْ لَّـمْ يُصَلِّ عَلَيْكُمْ لَا صَلَاةَ لَهٗ.
অর্থ: “হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! আপনাদের সম্মানিত মুহব্বত মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে ফরয করা হয়েছে, যা মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করে সাব্যস্ত করে দিয়েছেন| সুবহানাল্লাহ!
আপনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক বুঝার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, যে ব্যক্তি আপনাদের উপর সম্মানিত দুরূদ শরীফ পাঠ করে না, তার নামায কবূল হয় না|” (দেওয়ানে শাফেয়ী ১০৬ পৃ., মুখতাছরুত তোহফাহ ১/৭, ছব্বুল আযাব ১/৩১৯, আল ক্বওলুল বাদী’ ফী ছলাতি ‘আলা হাবীবিশ শাফী’ ১/৯১ ইত্যাদি)