আলহামদুলিল্লাহি ওয়া রসুলিহি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম

খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছেন।” সুবহানাল্লাহ
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূরে মুজাসসাম’ হিসেবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে নিজেদের ঈমান হিফাযত করা।
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ মংনভা ১৫নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছেন।” সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র “নূর” মুবারক দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝিয়েছেন। যা অসংখ্য বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, (একবার) আমি আরজ করলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, দয়া করে আমাকে এ বিষয়ে সংবাদ মুবারক দান করুন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছুর পূর্বে সর্বপ্রথম আপনার যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী এবং রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক উনার সাথে সৃষ্টি করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী উনার মহাসম্মানিত কুদরত মুবারক উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছিলেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছু দিয়ে সৃষ্টি মুবারক করে উনাকে উনার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং উনার কুদরত মুবারকে রেখেছেন। আর ঐ সময় লওহো-কলম, বেহেশ্ত-দোযখ, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, আসমান-যমীন, সূর্য-চন্দ্র, জিন-ইনসান কোনো কিছুই ছিলো না।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি মুবারক করেন এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ উনার আপদমস্তক নূর মুবারক অর্থাৎ সমস্ত কিছুই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, কিছু লোক বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির তৈরী। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! মূলত, এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণকারীরা বাতিল ও জাহান্নামী ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত। কারণ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটির তৈরী বলা বা উনার ‘নূরে মুজাসসাম’ শান মুবারক অস্বীকার করার অর্থ হলো পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ অস্বীকার করা। যা সুস্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূরে মুজাসসাম’ হিসেবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে নিজেদের ঈমান হিফাযত করা।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি তোমাদের কারো মতো নই।’ সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার থেকে কুদরতীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!
যা উনার বেমেছাল ত্বহারাত বা পবিত্রতা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ ও বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনাদের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১

রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান মুবারক হাদিয়া করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এবং আপনার যিকির (মর্যাদা-মর্তবা) মুবারক উনাকে সমুন্নত করেছি।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং পূর্ববর্তী হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা কেউই সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে যমীনে আগমন করেননি অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে মহাপবিত্র যমীনে তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেননি। যেহেতু সম্মানিত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও বিশেষভাবে মনোনীত। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উনার শান-মান হেতু স্বীয় কুদরত মুবারক দ্বারা আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনে পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, জেনে রাখুন! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ বা মুবারক আগমনের পদ্ধতি সম্পর্কে ৪টি ক্বওল শরীফ রয়েছে।

১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বাম পাঁজর মুবারক উনার নিচ দিয়ে কুদরতীভাবে যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!

২. স্বাভাবিক স্থান ও নাভি মুবারক উনার মধ্যবর্তী স্থান হতে।

৩. স্বীয় মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনার মুখ মুবারক হতে।

৪. স্বাভাবিকভাবে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র তাশরীফ মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত হলো, “হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত সমস্ত মানুষই স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন। আর সমস্ত হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বাভাবিক স্থান ও নাভি মুবারক উনার মধ্যবর্তী স্থান হতে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন। আর আমাদের হযরত নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বাম পাঁজর মুবারক উনার নিচ থেকে কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক এনেছেন অর্থাৎ কুদরতীভাবে পবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত আছে যে, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বাভাবিক পথে যমীনে আগমণ মুবারক করেছেন, একথা সম্পূর্ণরূপেই অশুদ্ধ।” “মালিকী মাযহাব উনার ইমাম উনারা এজন্যই ওই ব্যক্তিকে ক্বতল করার ফতওয়া দিয়েছেন, যে ব্যক্তি বলবে; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বাভাবিকভাবে তাশরীফ মুবারক এনেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বাভাবিকভাবে যমীনে আগমণ করেননি অর্থাৎ মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেননি। সুবহানাল্লাহ! বরং তিনি উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বাম পাঁজর মুবারক উনার নিচ থেকে কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক এনেছেন অর্থাৎ কুদরতীভাবে যমীনে আগমন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা উনার বেমেছাল ত্বহারাত বা পবিত্রতা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ ও বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনাদের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

#সম্মানিত ইসলাম উনার দ্বিতীয় হিজরী শতকেও পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ﷺ পালন হয়েছেন সুবহানাল্লাহ।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরে সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন হযরত তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরবর্তী তাবেয়ীন উনাদের যুগে এবং তৎপরবর্তী প্রত্যেক যুগেই অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি—যিনি শতাধিক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাক্ষাৎ মুবারক পেয়েছিলেন এবং যিনি দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত চতুর্থ খলীফা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ্ আলাইহিস সালাম উনার খলীফা ও ছাত্র ছিলেন—তিনি বলেন:

وَدِدْتُ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ جَبَلِ أَحُدٍ ذَهَبًا فَانْفَقْتُهُ عَلَى قِرَاءَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ উপলক্ষ্যে আমি তা ব্যয় করতাম।”
সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম—৮ম পৃষ্ঠা)

#মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্য
মাযহাবের ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

কিতাবে বর্ণিত আছে:
قَالَ حَضْرَتِ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ مَنْ جَمَعَ لِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِخْوَانًا وَهَيَّا طَعَامًا وَأَخْلَى مَكَانًا وَعَمَلَ إِحْسَانًا وَصَارَ سَبَبًا لِّقِرَانَتِهِ بَعَثَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصَّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَيَكُونُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ.

অর্থ: শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষ্যে লোকজন একত্রিত করলো এবং খাদ্য তৈরি করলো ও জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং উত্তমভাবে (তথা সুন্নাহভিত্তিক) আমল করলো, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাশরের দিন ছিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও ছালিহীনগণ উনাদের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতুন নায়ীমে।”সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)

#মহান আল্লাহ পাক উনার বিশিষ্ট ওলী হযরত ইমাম মারূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ফযীলত বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:

مَنْ هَيَّا طَعَامًا لِأَجْلِ قِرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَمَعَ إِخْوَانًا وَأَوْقَدَ سِرَاجًا وَلَبِسَ حَدِيدًا وَتَبَخَّرَ وَتَعَطَّرَ تَعْظِيمًا لِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَشَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفِرْقَةِ الأولى مِنَ النَّبِيِّنَ وَكَانَ فِي أَعْلَى عِلَّتِيْنَ.

অর্থ: “যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষ্যে খাদ্য প্রস্তুত করবেন এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মুসলমান ভাইদের একত্রিত করবেন, (আলো দানের উদ্দেশ্যে) প্রদীপ বা বাতি জ্বালাবেন, নতুন পোশাক পরিধান করবেন, (সুগন্ধির উদ্দেশ্যে) ধূপ জ্বালাবেন এবং আতর-গোলাপ মাখবেন, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাশর-নশর করবেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং তিনি সুউচ্চ ইল্লীনে অবস্থান করবেন।”সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)

#হযরত সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হযরত সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন:

مَنْ قَصَدَ مَوْضِعًا يُقْرَأُ فِيْهِ مَوْلِدُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ قَصَدَ رَوْضَةً مِنْ رِّيَاضِ الْجَنَّةِ لِأَنَّهُ مَا قَصَدَ ذَلِكَ الْمَوْضِعَ إِلَّا لِمُحَبَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ বা পবিত্র মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল, সে যেন তাঁর জন্য জান্নাতে রওযা বা বাগান নির্দিষ্ট করলো। কেননা সে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত থাকার জন্যেই করেছে।”সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)

#উপরোক্ত বর্ণনাগুলোতে তাবিয়ী, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পক্ষ থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফের মর্যাদা, মুহব্বত ও আদব-সম্মান বজায় রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন। @highlight

মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বদলে খোদায়ী গযব ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে হিন্দুত্ববাদি নেপাল। নিহত হয়েছে অসংখ্য।

image

মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বদলে খোদায়ী গযব ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে হিন্দুত্ববাদি নেপাল। নিহত হয়েছে অসংখ্য।

image

image

image

image

মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে
খরচ করার ফজিলত (২৬)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক আলোচনার মজলিশ করে ,মেহমানদারী,খাদ্য খাওয়ানোর নিয়ত করার সাথে সাথে মৃত্যুদন্ড থেকে মুক্তি লাভ।

وَحُكِيَ أَنَّهُ كَانَ فِي زَمَانِ الْخَلِيفَةِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ شَابٌّ حَسَنُ الصُّورَةِ فِي الشَّامِ، وَكَانَ يَلْهُو بِرُكُوبِ الْخَيْلِ، فَبَيْنَمَا هُوَ ذَاتَ يَوْمٍ عَلَى ظَهْرِ حِصَانِهِ إِذْ أَجْفَلَ الْحِصَانُ وَحَمَلَهُ فِي سِكَكِ الشَّامِ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ قُدْرَةٌ عَلَى مَنْعِهِ، فَوَقَعَ طَرِيقُهُ عَلَى بَابِ الْخَلِيفَةِ فَصَادَفَ وَلَدَهُ وَلَمْ يَقْدِرِ الْوَلَدُ عَلَى رَدِّ الْحِصَانِ فَصَدَمَهُ بِالْفَرَسِ وَقَتَلَهُ، فَوَصَلَ الْخَبَرُ إِلَى الْخَلِيفَةِ فَأَمَرَ بِإِحْضَارِهِ، فَلَمَّا أَنْ أَشْرَفَ إِلَيْهِ خَطَرَ عَلَى بَالِهِ أَنْ قَالَ: إِنْ خَلَّصَنِيَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ هَذِهِ الْوَاقِعَةِ أَعْمَلُ وَلِيمَةً عَظِيمَةً وَأَسْتَقْرِئُ فِيهَا مَوْلِدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا حَضَرَ قُدَّامَهُ وَنَظَرَ إِلَيْهِ ضَحِكَ بَعْدَمَا كَانَ يَخْنُقُهُ الْغَضَبُ، فَقَالَ: يَا هَذَا أَتُحْسِنُ السِّحْرَ؟ قَالَ: لَا وَاللَّهِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ. فَقَالَ: عَفَوْتُ عَنْكَ، وَلَكِنْ قُلْ لِي مَاذَا قُلْتَ؟ قَالَ: قُلْتُ: إِنْ خَلَّصَنِيَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْ هَذِهِ الْوَاقِعَةِ الْجَسِيمَةِ أَعْمَلُ لَهُ وَلِيمَةً لِأَجْلِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ الْخَلِيفَةُ: قَدْ عَفَوْتُ عَنْكَ، وَهَذِهِ أَلْفُ دِينَارٍ لِأَجْلِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَنْتَ فِي حِلٍّ مِنْ دَمِ وَلَدِي. فَخَرَجَ الشَّابُّ وَعَفَا عَنِ الْقِصَاصِ وَأَخَذَ أَلْفَ دِينَارٍ بِبَرَكَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
এরপর লেখক বলেন:
وَإِنَّمَا أَطَلْتُ الْكَلَامَ فِي ذَلِكَ لِأَجْلِ أَنْ يَعْتَنِيَ وَيَرْغَبَ جَمِيعُ الْإِخْوَانِ، فِي قِرَاءَةِ مَوْلِدِ سَيِّدِ وَلَدِ عَدْنَانَ، لِأَنَّ مَنْ لِأَجْلِهِ خُلِقَتِ الْأَرْوَاحُ وَالْأَجْسَامُ، بِحَقٍّ أَنْ يُهْدَى لَهُ الرُّوحُ وَالْمَالُ وَالطَّعَامُ. وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ لِقِرَاءَةِ مَوْلِدِ نَبِيِّهِ الْكَرِيمِ عَلَى الدَّوَامِ، وَإِنْفَاقِ الْمَالِ لِأَجْلِهِ فِي سَائِرِ الْأَوْقَاتِ وَالْأَيَّامِ، آمِينَ. 
বাংলা অর্থ
বর্ণিত আছে, খলীফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান-এর সময়ে শাম দেশে একজন সুদর্শন যুবক ছিল। সে ঘোড়ায় চড়তে খুব পছন্দ করত। একদিন সে ঘোড়ার পিঠে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ঘোড়াটি ভয় পেয়ে ছুটতে শুরু করল এবং তাকে নিয়ে শামের বিভিন্ন রাস্তায় ছুটে চলল। যুবকের সেটিকে থামানোর কোনো ক্ষমতা ছিল না।
একপর্যায়ে ঘোড়াটি খলীফার দরজার দিকে চলে গেল। সেখানে খলীফার ছেলের সঙ্গে ঘোড়াটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলো। খলীফার ছেলে ঘোড়াটিকে প্রতিহত করতে পারল না। ফলে ঘোড়াটি তাকে ধাক্কা দিলে সে নিহত হলো।
খবরটি খলীফা আবদুল মালিকের কাছে পৌঁছল। তিনি যুবককে তাঁর সামনে হাজির করার আদেশ দিলেন।
যখন যুবককে খলীফার সামনে হাজির করা হলো, তখন যুবকের মনে হলো:
“মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ অর্থাৎ মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আমি একটি বড় ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করে সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত মু’জিযা শরীফসমূহ, ঘটনা মুবারকসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করবো, বিশ্লেষণ করবো। অতঃপর যখন সেই যুবক খলীফার সামনে উপস্থিত হন, তখন খলীফা সেই যুবক উনাকে গলা টিপে হত্যা করার মত গোস্বা থাকা সত্ত্বেও উনাকে দেখে হেসে দিয়ে বললো- ‘হে যুবক! আপনি কি নিখুঁত জাদু করেন?’ জবাবে যুবক বললেন- ‘হে আমীরুল মু’মিনীন! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমি জাদু করি না।’ অতঃপর খলীফা বললো, ‘আমি আপনার অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম; কিন্তু আপনি কি বলেছেন, তা আমাকে বলুন।’ যুবক ছেলেটি বললেন, আমি বলেছিলাম- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি আমাকে এই কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করেন, তাহলে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে আমি একটি বড় ওলীমা বা খাবারের মজলিসের ব্যবস্থা করবো।’
তখন খলীফা বললেন:
“আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে এই এক হাজার দিনার।”
এবং তিনি বললেন:
“আমার ছেলের রক্তের ব্যাপারে তুমি সম্পূর্ণ মুক্ত।”
অতঃপর যুবক সেখান থেকে বের হয়ে গেল। তাকে কিসাস থেকে ক্ষমা করা হলো এবং সে মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বরকতে এক হাজার দিনার গ্রহণ করল। 
কিতাব: إعانة الطالبين على حل ألفاظ فتح المعين
লেখক: সাইয়্যিদ আবূ বকর ইবনু মুহাম্মদ শাত্তা আদ-দিমিয়াতী رحمه الله
খণ্ড: ৩
উপরে উল্লেখিত ‘إعانة الطالبين’ কিতাবের ঘটনাটির পরবর্তী অংশ এবং মূল লেখকের শেষ মন্তব্যের অনুবাদের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
وَإِنَّمَا أَطَلْتُ الْكَلَامَ فِي ذَلِكَ لِأَجْلِ أَنْ يَعْتَنِيَ وَيَرْغَبَ جَمِيعُ الْإِخْوَانِ، فِي قِرَاءَةِ مَوْلِدِ سَيِّدِ وَلَدِ عَدْنَانَ، لِأَنَّ مَنْ لِأَجْلِهِ خُلِقَتِ الْأَرْوَاحُ وَالْأَجْسَامُ، بِحَقٍّ أَنْ يُهْدَى لَهُ الرُّوحُ وَالْمَالُ وَالطَّعَامُ. وَفَّقَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ لِقِرَاءَةِ مَوْلِدِ نَبِيِّهِ الْكَرِيمِ عَلَى الدَّوَامِ، وَإِنْفَاقِ الْمَالِ لِأَجْلِهِ فِي سَائِرِ الْأَوْقَاتِ وَالْأَيَّامِ، آمِينَ.
বাংলা অর্থ:
“আর আমি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি কেবল এই উদ্দেশ্যে, যাতে সকল দ্বীনি ভাই আদনান-বংশের সর্দার যাতে সমস্ত মুসলমানরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে মনযোগী এবং আগ্রহী হন। মাওলিদ পাঠ করার ব্যাপারে যত্নশীল ও আগ্রহী হন। কারণ যাঁর খাতিরে সমস্ত রুহ ও দেহ সৃষ্টি করা হয়েছে, তাঁর দরবারে নিজের প্রাণ, ধন-সম্পদ ও খাদ্য হাদিয়া করা সর্বতোভাবে যুক্তিসঙ্গত। আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাদের সকলকে সর্বদা তাঁর সম্মানিত নবীর মাওলিদ পাঠ করার এবং তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সব সময় সম্পদ ব্যয় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।” কিতাব: ইআনাতুত তালিবীন (إعانة الطالبين)
লেখক: আল্লামা সাইয়্যিদ আবূ বকর উসমান শাত্তা আদ-দিমিয়াতী (রহ.)
বিষয়বস্তু: এটি শাফেঈ ফিকহের অন্যতম সুপরিচিত এবং গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ 'ফাতহুল মুঈন'-এর একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ।পৃষ্ঠা: ৪১৫ — প্রচলিত ডিজিটাল সংস্করণে।
মহাপবিত্র ৯০ দিনব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল —
আজ ৬৪ তম দিন হাদিয়া করুন: ১২০০ / ১২০০০ / ১২০০০০+ সরাসরি শুনুন: http://Sm40.com ০১৭৩৯৪৬৬৭৩০