ইখলাছ ও অতীতের আওলিয়া কিরাম :
হযরত মারুফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজের শরীরে চাবুক মেরে বলতেন, “হে আমার প্রবৃত্তি! ইখলাছের সাথে কাজ কর, তা’হলে পরিত্রান পাবে।”
হযরত আবু সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি সারা জীবনে ধর্ম পথের দিকে অন্ততঃ একটি কদমও ইখলাছের সাথে চলেছে যাতে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তোষ ভিন্ন অপর কোন উদ্দেশ্য তার ছিল না, সে ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান।
আওলিয়াকুল শিরোমনি হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা ইখলাছের উজ্জল নমুনা স্বরূপ। একদা একদল লোক হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার নিকট হাজির হন। তন্মধ্যে একজনকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আচ্ছা! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত কেন করেন?” তিনি বললেন। “দোযখের সপ্ত স্তর বড়ই কঠিন এবং সকলকে একদিন সেটার উপর দিয়ে পার হতে হবে। সেই দোযখের শাস্তির ভয়ে ইবাদত করি।” অপর একজন বললেন। “বেহেস্তেতে সৌন্দর্য্যময় অট্রালিকারাজি এবং নানাবিধ আরামের এবং নিয়ামতের জন্য খোদা প্রদত্ত ওয়াদা বিদ্যমান আছে, তজ্জন্যই আমি এই ইবাদত করছি।” ইহা শুনে হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি বললেন- “যে ব্যক্তি দোযখের ভয়ে ও বেহেস্তের লোভে স্বীয় প্রভূর ইবাদত করে, সে বড়ই হেয় ও হতভাগ্য।” তারা বললেন, “আচ্ছা! বলুনতো, আপনি কেন মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করছেন? আপনার কি কোন বাসনা নেই?” তিনি বললেন, “আমার পক্ষে বেহেস্ত এবং দোযখ উভয়ই সমান। তিনি ইবাদত করার জন্য আদেশ করেছেন, আমার জন্য কি ইহাই যথেষ্ট নয়? কোন শাস্তির ভয় বা লোভণীয় কিছু না থাকলে উনার ইবাদত করা মানুষ মাত্রেরই কর্তব্য নয় কি?”
হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার মুনাজাতে বলতেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক! যদি আমি দোযখের ভয়ে আপনার ইবাদত করি, তবে আপনি আমাকে দোযখে নিক্ষেপ করুন, আর যদি বেহেস্তের আশায় আপনার ইবাদত করি, তবে বেহেস্ত হতে আপনি আমাকে বঞ্ছিত করুন। আর যদি কেবল আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি ইবাদত করি তবে আপনার স্থায়ী সৌন্দর্য্য হতে আমাকে বঞ্ছিত করবেন না।”
হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইখলাছের আর একটি উজ্জল নমুনা। যখন হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অছিয়ত মুতাবিক উনার পবিত্র জুব্বা মুবারক হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলিইহিকে প্রদানপূর্বক ফেরার পথে খলীফাতুল মুসলেমীন, আমীরুল মু’মেনীন, হযরত ফারুকে আয’ম আলাইহিস সালাম তিনি কিছু নছিহত করতে অনুরোধ করায় তিনি বললেন, “হে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম! আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছেন?” হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হাঁ নিশ্চয়ই চিনেছি।”
হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “যদি উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকেও না জানেন (চিনেন) তবে উহা আপনার জন্য উত্তম।” হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “আরও কিছু নছিহত করুন।” হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আপনাকে জানেন?” তিনি বললেন, “হাঁ জানেন।” হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “তিনি ব্যতীত অন্য কেউ আপনাকে না চিনলেও কোন ক্ষতি নেই।” ইহাই ইখলাস।

image
HM Wasim Uddin Osman changed his profile picture
23 m

দ্বীনি মহফিলের সাদর দাওয়াত

আমার প্রিয় বন্ধু-বান্ধব ও সকল শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি রইল আন্তরিক দাওয়াত ও আমন্ত্রণ।

আমাদের প্রিয় মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বামৈ (মারুগাছ) মাহতাবুদ্দীন সুন্নিয়া আলিম মাদ্রাসার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯ তম তাজদীদি সুন্নী মহা সম্মেলন।

🎙️ সম্মানিত আলোচকবৃন্দ:

মুফতীউল আযম আবুল খায়ের মুহম্মদ আযিযুল্লাহ সাহেব (মাঃ জিঃ আঃ)
খতিব, মুহম্মদপুর তাজ জামে মসজিদ, ঢাকা।

আন্তর্জাতিক হাফিজ ক্বারী Sheikh Mahmudul Hasan Ashrafi ঢাকা।

এছাড়াও আরো উলামা মাশায়েখ তাশরিফ আনবেন।
অতএব উক্ত তাজদীদি সুন্নি মহা সম্মেলনে আপনারা দলে দলে যোগ দান করে আখেরাতের অশেষ নিয়ামত হাসিল করুন।
📅 তারিখ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, রোজ বৃহস্পতিবার
🕰️ সময়: বাদ যোহর হতে আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত।
📍 স্থান: মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ, বামৈ, লাখাই, হবিগঞ্জ।

দ্বীনি আলোচনা, নছীহত ও বরকতময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই মহতী সম্মেলনে আপনাদের সকলের সশ্রদ্ধ উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ একান্তভাবে কামনা করছি।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে দ্বীনের মজলিসে শরিক হওয়ার এবং নছীহত অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সকলের প্রতি রইল অগ্রিম দাওয়াত ও আন্তরিক আমন্ত্রণ।

দাওয়াতক্রমে
HM Wasim Uddin Osman
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদ্রাসা

#দ্বীনিমাহফিল
#তাজদীদিসুন্নীমহাসম্মেলন
#মুহম্মদিয়াজামিয়াশরীফ
#বামৈলাখাইহবিগঞ্জ
#অগ্রিমদাওয়াত

image

পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

من مس امرأة بشهوة حرمت عليه امها وبنتها

অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি শাহওয়াতের সাথে কোনো মহিলাকে স্পর্শ করে তাহলে সে মহিলার মা ও মেয়েকে বিবাহ করা তার জন্য হারাম।”

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার হুকুম হলো- যখন ছেলে-মেয়ে সমঝদার হবে তখন তাদের বিছানা বাবা-মায়ের বিছানা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিতে হবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

مروا اولادكم بالصلوة وهم ابناء سبع سنين واضربوهم عليها وهم ابناء عشر سنين وفرقوا بينهم فى المضاجع.

অর্থ: “তোমরা তোমাদের আওলাদ বা সন্তানদের সম্মানিত নামায উনাকে আদায়ের আদেশ দান করো, যখন তারা সাত বছর বয়সে পৌঁছে। সম্মানিত নামায উনাকে আদায়ের জন্য প্রয়োজনে প্রহার করো, যখন তারা দশ বছর বয়সে পৌঁছে। আর সে সময় তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।” অর্থাৎ সে সময় মায়ের বিছানায় ছেলে এবং বাবার বিছানায় মেয়ে যাতে না শোয়, না ঘুমায়।” (আবু দাঊদ শরীফ, মুস্তাদরাকে হাকিম, তিরমিযী শরীফ)

কেননা অনেক সময় বেখেয়ালে এমন কাজ ঘটে যেতে পারে, যার কারণে স্বামীর জন্য নিজের স্ত্রী চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে। যার সংশোধন জীবনে কখনই সম্ভব হবে না। একমাত্র বিচ্ছেদই তার সমাধান যা কেউ কখনো করে না বা করতে চায় না।

একইভাবে পুত্রবধুর শোয়ার জায়গা, শ্বশুরের শোয়ার জায়গা থেকে পৃথক থাকা অত্যাবশ্যক। উপরন্তু পুত্রবধুর জন্য শ্বশুরের কোনো দৈহিক খিদমত করা কখনো উচিত নয়।

তবে কাপড় ধোয়া, খানা-পিনার ব্যবস্থা করে দেয়া ইত্যাদি ধরনের দূরত্বসম্পন্ন কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু শারীরিক কোনো খিদমত করা বা নেয়া কিছুতেই শুদ্ধ নয়। অন্যথায় এ ফিতনা-ফাসাদের যামানায় এমনও ঘটনা ঘটে যেতে পারে- যার কারণ স্বামীর জন্য তার স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। যা হালাল করার কোনো পন্থা-পদ্ধতিই হাতে থাকবে না। তখন বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে। কাজেই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দেয়া কর্তব্য। একইভাবে সৎমা বালিগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলের দৈহিক কোনো খিদমত করবে না এবং নিজেও তার থেকে অনুরূপ দৈহিক খিদমত গ্রহণ করবে না। অবশ্য আর্থিক বা অন্যান্য খিদমত করতে পারবে। কিন্তু দৈহিক খিদমত করা বা নেয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকবে। কেননা দৈহিক খিদমতের কারণে অনাকাঙ্খিত এমন ঘটনা সংঘটিত হতে পারে, যার ফলে সৎমা তার নিজ স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।

সৎ মেয়ের ক্ষেত্রেও সৎবাপের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। অন্যথায় স্বীয় স্ত্রী চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাওয়ার কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

স্মতর্ব্য যে, এ সকল সতর্কতামূলক হুঁশিয়ারী এ জন্যই করা হয়েছে যে, সেসব ক্ষেত্রে তারা সামান্যতম অসতর্কতার দরুন এমন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে; তাতে পরকালীন ক্ষতি তো আছেই দুনিয়াবী এমন অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে- যা সংশোধনের কোনো পথই নেই। যেমন-

১) স্বামী তার প্রয়োজনে নিজের স্ত্রীকে উঠাতে চায়, কিন্তু ভুলে শাহওয়াতের সাথে নিজের মেয়ের শরীরে হাত পড়ে গেল (হাত পড়ার সাথে সাথে হারাম সাব্যস্ত হওয়ার শর্ত পাওয়া গেলো) তাহলে ঐ স্ত্রী উক্ত স্বামীর জন্য সারা জীবনের তরে হারাম হয়ে যাবে।

একইভাবে স্ত্রী তার স্বামীকে জাগানোর ইচ্ছা করলো। কিন্তু অজান্তে অন্ধকারের মধ্যে তার হাত শাহওয়াতের সাথে তার উপযুক্ত সৎছেলের শরীরে লেগে গেলো এবং হারাম হওয়ার শর্তসমূহ পাওয়া গেলো, তাহলে ওই স্ত্রী তার আপন স্বামীর উপর চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।

২) কেউ নিজের স্ত্রীকে একান্ত কাছে পাওয়ার জন্য ইচ্ছা করে, কিন্তু ভুলে তার হাত প্রাপ্ত বয়স্কা সৎমেয়ের শরীরে পড়লো এবং সে শাহওয়াতের সাথে নিজের স্ত্রী মনে করে খোচা দিলো। তাতে তার স্ত্রী উক্ত পুরুষের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। (আলমগীরী- ২৭৪ পৃ

৩) উল্লেখিত সূরতে বা অবস্থায় কাম বা শাহওয়াতের সাথে স্পর্শ করার সাথে সাথে স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যাবে। চাই ইচ্ছাকৃত করুক কিংবা অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ করুক অথবা ভুলে স্পর্শ করুক না কেন। (ফতওয়ায়ে আলমগীরী, ১:২৭৪)

৪) শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বা বদচরিত্রের কারণে শ্বশুর যদি তার পুত্রবধূর শরীরে শাহওয়াতের সাথে হাত লাগায় তাহলে তাতে ঐ পুত্রবধূ তার নিজ স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যাবে। তখন স্বামীর জন্য ঐ স্ত্রীকে পৃথক করে দিতে হবে। কোনো মতে তাকে নিয়ে সংসার করা বৈধ হবে না।

৫) বালিগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে যদি নিজের সৎমায়ের শরীরে শাহওয়াতের সাথে হাত দেয়, ইচ্ছাকৃত হোক কিংবা ভুলে তখন ঐ সৎমা তার নিজের স্বামীর উপর সারাজীবনের জন্য হারাম হয়ে যাবে। তাকে তালাক দেয়া জরুরী হয়ে পড়বে।

৬) কোনো লোক যদি তার সৎমেয়ের শরীরে বেখেয়ালে কিংবা দুষ্টামী করে শাহওয়াতের সাথে হাত দেয়, তাহলে ঐ পুরুষের জন্য তার নিজ স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে।

৭) যদি মেয়ের জামাই ভুলে অথবা জেনে-বুঝে তার শ্বাশুড়ীর শরীর শাহওয়াত বা কামভাবের সাথে স্পর্শ করে, তাহলে তাতে ঐ মেয়ের জামাইয়ের উপর তার নিজ স্ত্রী চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে।

৮) কোনো মহিলার সাথে কোনো পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এখন ঐ মহিলার কন্যার সাথে উক্ত পুরুষের বিবাহ চিরতরের জন্য হারাম হবে। কোনোক্রমে বিবাহ করলেও বিবাহ হবে না। তাদের মেলামেশা সম্পূর্ণরূপে ব্যাভিচারে পরিণত হবে।

উল্লেখিত ছুরতসমূহে স্পর্শ করার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার শর্তসমূহ:

১) সেই মেয়ে ৯ বছর বয়স্কা বা তার চেয়ে বেশি হওয়া। আর ছেলে ১২ বছর বয়স্ক বা তার চেয়ে বেশি হওয়া শর্ত। কাজেই দু’জনের মধ্যে কোনো একজনের বয়স যদি কম হয় তাহলে স্পর্শের দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হবে না।

২) হাত ও শরীরের মাঝখানে কোনো মোটা কাপড়ের আবরণ না থাকা শর্ত। তবে যদি এমন পাতলা কাপড় থাকে- যার দ্বারা শরীরের উষ্ণতা অনুভূত হয়, তাহলেও হারাম সাব্যস্ত হবে। পক্ষান্তরে এমন মোটা কাপড় বা কম্বলের উপর দিয়ে স্পর্শ করে যে, কাপড়ের কারণে শরীরের উষ্ণতা অনুভূত হয় না, তাহলে তাতে বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে না। যদিও তাতে শাহওয়াত বা কামভাব থাকে।

৩) যদি মেয়ে বা মহিলার শুধু চুলের উপর হাত লাগায় এবং মাথার উপরিভাগের চুল স্পর্শ করে তাহলে বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে। আর যদি মাথার থেকে নিচে ঝলে পড়া চুলে হাত লাগায়। তাহলে হারাম সাব্যস্ত হবে না। (দুররুল মুখতার)

তবে উক্ত ছুরতসমূহে শর্ত পাওয়া না গেলে, বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে না সত্য কিন্তু অবশ্যই কবীরা গুনাহে গুনাহগার হবে।

৪) স্পর্শ করার সময় ছেলে ও মেয়ে পুরুষ কিংবা মহিলা উভয়ের কোনো একজনের শাহওয়াত বা কামভাব জাগ্রত হওয়া শর্ত। উভয়ের শাহওয়াত বা কামভাব জাগ্রত হওয়া শর্ত নয়। (ফতওয়ায়ে শামী)

শাহওয়াত বা কামভাবের মাপকাঠি:

উল্লেখিত হুরমতে মুছাহারা বা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার জন্য পুরুষের শাহওয়াত বা কামভাবের মাপকাঠি হচ্ছে তার লজ্জাস্থান বেড়ে উঠা। আর যদি স্পর্শ করার পূর্ব থেকেই তা উত্থিত অবস্থায় থাকে, তাহলে তার জন্য মাপকাঠি হলো তাতে আরো বৃদ্ধি পাওয়া। আর মহিলা, বৃদ্ধপুরুষ ও কমজোর পুরুষের জন্য শাহওয়াতের মাপকাঠি হলো- অন্তকরণে স্বাদ বা মজা অনুভব করা। যদি স্পর্শ করার পূর্ব থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তা আরো বৃদ্ধি পাওয়া। (আলমগীরী, ১:২৭৫)

কোনো পুরুষ বা উপরোল্লিখিত মহিলা তথা পুত্রবধূ, শ্বাশুড়ী, সৎমা এবং আপন মেয়ে এদের মধ্যে হতে কারো মুখে, গালে অথবা মাথার উপরিভাগে যদি বুছা দেয় এবং বলে যে, আমি এ কাজ শাহওয়াতের সাথে করিনি, তাহলে তার এ কথা সত্য বলে মেনে নেয়া যাবে না। বরং হারাম সাব্যস্ত হয়ে যাবে।

উক্ত অবস্থায় হারাম সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এমন শর্ত নেই যে, হাত লাগা অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ থাকতে হবে। বরং ভুলেও যদি স্ত্রী মনে করে তার প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ের উপর শাহওয়াতের সাথে হাত পড়ে যায় এবং খেয়াল হওয়ার পর তৎক্ষণাত হাত সরিয়ে নেয় তাহলেও তার স্ত্রী তার উপর চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে। আর সেই স্পর্শ শরীরের যে কোনো অঙ্গে হোক না কেন।

৫) শাহওয়াতের উল্লেখিত মাপকাঠি স্পর্শ করার সময়ই থাকতে হবে। কাজেই, যদি স্পর্শ করার সময় শাহওয়াত উল্লেখিত মাত্রায় না হয়, বরং হাত সরিয়ে নেয়ার পর শাহওয়াতের ঐ মাত্রা পাওয়া যায় তাহলে তা দ্বারা বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে না।

৬) স্ত্রীর এ জাতীয় ঘটনায় স্বামীর নিকট স্ত্রীর শাহওয়াতের দাবি সত্য বলে মনে হওয়া। কাজেই, যদি স্বামীর নিকট সেই দাবি মিথ্যা বলে মনে হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে হারাম সাব্যস্ত হবে না। কেননা, স্বামীর সাথে দুশমনী বা মনোমালিন্য হওয়ার কারণে স্ত্রী এরূপ মিথ্যা দাবি করতে পারে, যেন তার উপর তার স্ত্রী হারাম সাব্যস্ত হয়।

উল্লেখ্য যে, যে সমস্ত অবস্থায় হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হয়, তার সমস্ত অবস্থাতেই বিবাহ শেষ হয়ে যায় না। বরং বিবাহ ফাসিদ হয়। আর এজন্য তাকে তালাক দেয়া জরুরী। যাতে ঐ মহিলা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

যাতে মারাত্মক ভুল না হয় তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা:

হুরমতে মুছাহারা হয়ে গেলে একমাত্র তালাক বা বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। কাজেই পূর্ব থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

আবার বিষয়টি যেহেতু অত্যন্ত স্পর্শকাতর বা অতিনাজুক, এমনকি একান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনেক সময় এমন পরিস্থিতি হয়ে স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হারাম সাব্যস্ত হয়ে যেতে পারে, এজন্য তার প্রতি সকলের খুবই সতর্ক দৃষ্টি রাখা অপরিহার্য।

এই জাতীয় মারাত্মক ভুল থেকে বাঁচার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিসমূহ অবলম্বন করা উচিত:

 যে স্থানে নিজের স্ত্রী ঘুমায়, ঐ স্থানে পুত্র-স্ত্রী, আপন মা, নিজের উপযুক্ত মেয়ে, নিজের সৎমা, প্রাপ্ত বয়স্কা সৎমেয়ে এবং নিজের শ্বাশুড়ী এই মহিলাদের মধ্যে কেউ যেন না শোয় বা না ঘুমায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি প্রত্যেকের পৃথক রুম বা কামরা না থাকে তাহলে কমপক্ষে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পৃথক পৃথক সুন্নতী চৌকি বা বিছানা ইত্যাদি হওয়া জরুরী। এমতাবস্থায়ও যতক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীকে ভালোভাবে না চিনবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার শরীরে হাত দিবে না। কেননা কোনো সময় ঘটনাক্রমে নিজের স্ত্রীর চৌকিতে অন্য মহিলাও শুয়ে থাকতে পারে।

 উপরোল্লিখিত ছয় মহিলার হাত থেকে যদি কিছু নিতেই হয়, তাহলে খেয়াল রাখতে হবে যেন তার হাতে হাত না লাগে। নফসের কোনো বিশ্বাস নেই। যদি তার হাতে হাত লেগে যায় আর সে সময় মনের মধ্যে শাহওয়াতের সৃষ্টি হয়, তাহলে নিজ স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। সর্বোপরি একজন অপরজনের মনের অবস্থা জানতে পারে না। অথচ উক্ত কর্ম দ্বারা বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে শাহওয়াত বা কামভাবের কথা জানা সত্বেও লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে তা মুখে প্রকাশ করতে অনেকে সঙ্কোচবোধ করে। তখন শেষ পরিণতি এই হয় যে, পুরো জীবন হারাম তথা ব্যভিচারের গুনাহের সাথে অতিবাহিত হয়। যার মধ্যে অপমৃত্যুর কিংবা বিনা তওবায় মৃত্যুর, এমনকি ঈমানহারা হয়ে মারা যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া পরকালীন কঠিন ও ভয়াবহ আযাব তো রয়েছেই।

 অধিক সতর্কতার জন্য জরুরী হচ্ছে উক্ত মহিলারা একজনের কাপড় অন্যজন কখনো পরিধান করবে না। তারা কখনো একই রঙের জামা-কাপড় পরবে না। অনুরূপ সাজ-গোজ করবে না।

 পুত্রবধূ যদি শ্বশুরের হাত-পা দাবাতে চায়, তেল লাগাতে চায় তাহলে শ্বশুর তাকে নিষেধ করে দিবে যদিও শ্বশুর বৃদ্ধ হয়। পুত্রবধূ দৈহিক কোনো খিদমত না করার কারণে শ্বশুরের অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। আর পুত্রবধূও শ্বশুরের এরূপ অসন্তুষ্টির কখনো পরওয়া করবে না। এমনকি আপন স্বামীও যদি এ কারণে অসন্তুষ্ট হয়, তাতেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করবে না। বরং স্বামীকে বুঝাবে। তা না হলে এই ফিতনার যুগে উক্ত কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতকে বরবাদ করে ফেলতে পারে। অথচ সে এ ব্যাপারে নিজে টেরও পাবে না।

স্পর্শ করার দ্বারা যেমন ‘হুরমতে মুছাহারা’ সাব্যস্ত হয়, তেমনি দৃষ্টি দেয়া বা দেখার দ্বারাও হুরমত সাব্যস্ত হয়

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِن قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ الظَّهِيرَةِ وَمِن بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاء ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَّكُمْ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের গোলাম-বাঁদীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে আসতে অনুমতি গ্রহণ করে। ফযরের নামাযের পূর্বে, দুপুর বেলা যখন তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ খুলে রাখো এবং ঈশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের শরীর সাধারণত খোলা থাকে।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

উল্লেখ্য যে, এই তিন সময় যদি অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরকে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করার আদেশ দেয়া হয়, তাহলে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করার বিষয়টি আরো জরুরী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রসূলুল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার নিজের মায়ের কাছে যেতে কি অনুমতি চাইবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

লোকটি আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার মায়ের সাথে একই ঘরে বসবাস করি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যখন উনার কাছে যাবেন, অনুমতি নিয়ে যাবেন। তখন লোকটি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো উনার খাদিম। (উনার খিদমতের জন্য বারবার উনার কাছে আসা-যাওয়া করতে হয়)

তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “তবুও আপনি অনুমতি নিয়ে উনার কাছে যাবেন। আপনি কি আপনার মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করেন? লোকটি বললেন, না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তাহলে অনুমতি নিয়ে উনার কাছে যাবেন।” (মিশকাত শরীফ)

কেননা একান্ত অনিচ্ছাসত্বেও এমন অনাকাঙ্খিত দৃষ্টিপাতের দ্বারা এমন অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে যার কারণে আপন মা কিংবা সৎমা উনার আপন স¦ামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য যে, পুত্রবধূ, আপন মা, নিজের উপযুক্ত মেয়ে, সৎমা, প্রাপ্ত বয়স্কা সৎমেয়ে, নিজের শ্বাশুড়ী এই ছয় প্রকার মহিলাগণের উপর যেমন স্পর্শের দ্বারা হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হতে পারে তেমনিভাবে শাহওয়াতের সাথে লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরভাগে দৃষ্টি দেয়ার কারণেও হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হয়ে থাকে। তবে ইহা ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে দৃষ্টিপাতের দ্বারা হুরমত সাবিত হবে না। কিন্তু খারাপ দৃষ্টির কারণে কবীরা গুনাহ হবে। একইভাবে নদীর তীরে পানির উপর দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বা অন্য কোনোভাবে যদি পানির উপর তার প্রতিবিম্ব পড়ে তবে সেই প্রতিবিম্ব দেখলে এবং আয়নার উপরে পড়া প্রতিবিম্বের দিকে তাকার কারণেও হুরমত ছাবিত হবে না।

কাজেই, উপরোল্লিখিত মহিলাগণের শোয়ার স্থানে বা শোয়ার সময় তাদের নিকটে না যাওয়াই ভালো। যদি একান্ত প্রয়োজনে যেতে হয়, তাহলে তাদের অনুমতি নিয়ে যাওয়া উচিত।

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

الحياء شعبة من الايمان

অর্থ: ‘লজ্জা সম্মানিত ঈমান উনার অঙ্গ।” (মুসলিম শরীফ)

লজ্জাহীনতা থেকে পর্দাহীনতা। পর্দাহীনতা থেকে যাবতীয় ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম। মারাত্মক ভুল এবং তার প্রায়শচিত্ত। পর্দার গুরুত্ব, তাৎপর্য, পর্দার সীমারেখা ইত্যাদি না জানার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুল ধারণা, সংশয়, সন্দেহ দানা বাঁধে। জীবন হয় দুর্বিষহ।

যারা মাহরাম, যাদের সাথে দেখা করা জায়িয তারা কতটুকু দেখতে পারেন? সম্মানিত শরীয়ত কতটুকু সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন সে সম্পর্কে জানাও ফরয। যারা মাহরাম তারা শুধু হাত, পা, মুখম-ল দেখতে পারেন। তার চেয়ে বেশি নয়। যারা এই সীমারেখা অতিক্রম করেন তাদের জীবনে মারাত্মক ভুলের সূত্রপাত ঘটে থাকে। অনেকে নিজ মা, মেয়ে, বোনদের পাতলা ও আটসাঁট কাপড় পরাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নাঊযুবিল্লাহ! এটাকেই তারা আধুনিকতা ও সামাজিকতা মনে করে। এদের সাথে খেয়াল-খুশি মতো অশ্লীল, অশালীন কথাবার্তা বলতে দ্বিধাবোধ করে না। নাঊযুবিল্লাহ! লজ্জার সীমা অতিক্রম করে। ফলশ্রুতিতে ‘হুরমতে মুছাহারা’ এর মতো মারাত্মক অবস্থার সম্মুখীন হয়। তাতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরাবদ হয়ে যায়।

কাজেই, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্দার সীমারেখা সংরক্ষণ করা দরকার। লজ্জাশীলতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। বর্ণিত আছে যে, তুমি লজ্জা ছেড়ে দাও তাহলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। যেমন ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিক, হিন্দু, বৌদ্ধরা তাদের মন যা চায় তাই করে। এরা জাহান্নামের কীট। এদের রীতি-নীতি পরিহার করা আবশ্যক।

মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় আমাদের সবাইকে উদ্ভূত সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি থেকে পানাহ দান করুন। আমীন।

HM Wasim Uddin Osman changed his profile picture
23 m

image

পারিবারিক জীবনে একটি মারাত্মক ভুল যার সংশোধন নেই
মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

من مس امرأة بشهوة حرمت عليه امها وبنتها

অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি শাহওয়াতের সাথে কোনো মহিলাকে স্পর্শ করে তাহলে সে মহিলার মা ও মেয়েকে বিবাহ করা তার জন্য হারাম।”

সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার হুকুম হলো- যখন ছেলে-মেয়ে সমঝদার হবে তখন তাদের বিছানা বাবা-মায়ের বিছানা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দিতে হবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

مروا اولادكم بالصلوة وهم ابناء سبع سنين واضربوهم عليها وهم ابناء عشر سنين وفرقوا بينهم فى المضاجع.

অর্থ: “তোমরা তোমাদের আওলাদ বা সন্তানদের সম্মানিত নামায উনাকে আদায়ের আদেশ দান করো, যখন তারা সাত বছর বয়সে পৌঁছে। সম্মানিত নামায উনাকে আদায়ের জন্য প্রয়োজনে প্রহার করো, যখন তারা দশ বছর বয়সে পৌঁছে। আর সে সময় তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।” অর্থাৎ সে সময় মায়ের বিছানায় ছেলে এবং বাবার বিছানায় মেয়ে যাতে না শোয়, না ঘুমায়।” (আবু দাঊদ শরীফ, মুস্তাদরাকে হাকিম, তিরমিযী শরীফ)

কেননা অনেক সময় বেখেয়ালে এমন কাজ ঘটে যেতে পারে, যার কারণে স্বামীর জন্য নিজের স্ত্রী চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে। যার সংশোধন জীবনে কখনই সম্ভব হবে না। একমাত্র বিচ্ছেদই তার সমাধান যা কেউ কখনো করে না বা করতে চায় না।

একইভাবে পুত্রবধুর শোয়ার জায়গা, শ্বশুরের শোয়ার জায়গা থেকে পৃথক থাকা অত্যাবশ্যক। উপরন্তু পুত্রবধুর জন্য শ্বশুরের কোনো দৈহিক খিদমত করা কখনো উচিত নয়।

তবে কাপড় ধোয়া, খানা-পিনার ব্যবস্থা করে দেয়া ইত্যাদি ধরনের দূরত্বসম্পন্ন কাজ করা যেতে পারে। কিন্তু শারীরিক কোনো খিদমত করা বা নেয়া কিছুতেই শুদ্ধ নয়। অন্যথায় এ ফিতনা-ফাসাদের যামানায় এমনও ঘটনা ঘটে যেতে পারে- যার কারণ স্বামীর জন্য তার স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। যা হালাল করার কোনো পন্থা-পদ্ধতিই হাতে থাকবে না। তখন বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে। কাজেই বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দেয়া কর্তব্য। একইভাবে সৎমা বালিগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলের দৈহিক কোনো খিদমত করবে না এবং নিজেও তার থেকে অনুরূপ দৈহিক খিদমত গ্রহণ করবে না। অবশ্য আর্থিক বা অন্যান্য খিদমত করতে পারবে। কিন্তু দৈহিক খিদমত করা বা নেয়া থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকবে। কেননা দৈহিক খিদমতের কারণে অনাকাঙ্খিত এমন ঘটনা সংঘটিত হতে পারে, যার ফলে সৎমা তার নিজ স্বামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।

সৎ মেয়ের ক্ষেত্রেও সৎবাপের সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরী। অন্যথায় স্বীয় স্ত্রী চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাওয়ার কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

স্মতর্ব্য যে, এ সকল সতর্কতামূলক হুঁশিয়ারী এ জন্যই করা হয়েছে যে, সেসব ক্ষেত্রে তারা সামান্যতম অসতর্কতার দরুন এমন মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে; তাতে পরকালীন ক্ষতি তো আছেই দুনিয়াবী এমন অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে- যা সংশোধনের কোনো পথই নেই। যেমন-

১) স্বামী তার প্রয়োজনে নিজের স্ত্রীকে উঠাতে চায়, কিন্তু ভুলে শাহওয়াতের সাথে নিজের মেয়ের শরীরে হাত পড়ে গেল (হাত পড়ার সাথে সাথে হারাম সাব্যস্ত হওয়ার শর্ত পাওয়া গেলো) তাহলে ঐ স্ত্রী উক্ত স্বামীর জন্য সারা জীবনের তরে হারাম হয়ে যাবে।

একইভাবে স্ত্রী তার স্বামীকে জাগানোর ইচ্ছা করলো। কিন্তু অজান্তে অন্ধকারের মধ্যে তার হাত শাহওয়াতের সাথে তার উপযুক্ত সৎছেলের শরীরে লেগে গেলো এবং হারাম হওয়ার শর্তসমূহ পাওয়া গেলো, তাহলে ওই স্ত্রী তার আপন স্বামীর উপর চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।

২) কেউ নিজের স্ত্রীকে একান্ত কাছে পাওয়ার জন্য ইচ্ছা করে, কিন্তু ভুলে তার হাত প্রাপ্ত বয়স্কা সৎমেয়ের শরীরে পড়লো এবং সে শাহওয়াতের সাথে নিজের স্ত্রী মনে করে খোচা দিলো। তাতে তার স্ত্রী উক্ত পুরুষের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। (আলমগীরী- ২৭৪ পৃ

৩) উল্লেখিত সূরতে বা অবস্থায় কাম বা শাহওয়াতের সাথে স্পর্শ করার সাথে সাথে স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যাবে। চাই ইচ্ছাকৃত করুক কিংবা অনিচ্ছাকৃত স্পর্শ করুক অথবা ভুলে স্পর্শ করুক না কেন। (ফতওয়ায়ে আলমগীরী, ১:২৭৪)

৪) শয়তানের ধোঁকায় পড়ে বা বদচরিত্রের কারণে শ্বশুর যদি তার পুত্রবধূর শরীরে শাহওয়াতের সাথে হাত লাগায় তাহলে তাতে ঐ পুত্রবধূ তার নিজ স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যাবে। তখন স্বামীর জন্য ঐ স্ত্রীকে পৃথক করে দিতে হবে। কোনো মতে তাকে নিয়ে সংসার করা বৈধ হবে না।

৫) বালিগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে যদি নিজের সৎমায়ের শরীরে শাহওয়াতের সাথে হাত দেয়, ইচ্ছাকৃত হোক কিংবা ভুলে তখন ঐ সৎমা তার নিজের স্বামীর উপর সারাজীবনের জন্য হারাম হয়ে যাবে। তাকে তালাক দেয়া জরুরী হয়ে পড়বে।

৬) কোনো লোক যদি তার সৎমেয়ের শরীরে বেখেয়ালে কিংবা দুষ্টামী করে শাহওয়াতের সাথে হাত দেয়, তাহলে ঐ পুরুষের জন্য তার নিজ স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে।

৭) যদি মেয়ের জামাই ভুলে অথবা জেনে-বুঝে তার শ্বাশুড়ীর শরীর শাহওয়াত বা কামভাবের সাথে স্পর্শ করে, তাহলে তাতে ঐ মেয়ের জামাইয়ের উপর তার নিজ স্ত্রী চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে।

৮) কোনো মহিলার সাথে কোনো পুরুষের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এখন ঐ মহিলার কন্যার সাথে উক্ত পুরুষের বিবাহ চিরতরের জন্য হারাম হবে। কোনোক্রমে বিবাহ করলেও বিবাহ হবে না। তাদের মেলামেশা সম্পূর্ণরূপে ব্যাভিচারে পরিণত হবে।

উল্লেখিত ছুরতসমূহে স্পর্শ করার দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার শর্তসমূহ:

১) সেই মেয়ে ৯ বছর বয়স্কা বা তার চেয়ে বেশি হওয়া। আর ছেলে ১২ বছর বয়স্ক বা তার চেয়ে বেশি হওয়া শর্ত। কাজেই দু’জনের মধ্যে কোনো একজনের বয়স যদি কম হয় তাহলে স্পর্শের দ্বারা হারাম সাব্যস্ত হবে না।

২) হাত ও শরীরের মাঝখানে কোনো মোটা কাপড়ের আবরণ না থাকা শর্ত। তবে যদি এমন পাতলা কাপড় থাকে- যার দ্বারা শরীরের উষ্ণতা অনুভূত হয়, তাহলেও হারাম সাব্যস্ত হবে। পক্ষান্তরে এমন মোটা কাপড় বা কম্বলের উপর দিয়ে স্পর্শ করে যে, কাপড়ের কারণে শরীরের উষ্ণতা অনুভূত হয় না, তাহলে তাতে বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে না। যদিও তাতে শাহওয়াত বা কামভাব থাকে।

৩) যদি মেয়ে বা মহিলার শুধু চুলের উপর হাত লাগায় এবং মাথার উপরিভাগের চুল স্পর্শ করে তাহলে বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে। আর যদি মাথার থেকে নিচে ঝলে পড়া চুলে হাত লাগায়। তাহলে হারাম সাব্যস্ত হবে না। (দুররুল মুখতার)

তবে উক্ত ছুরতসমূহে শর্ত পাওয়া না গেলে, বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে না সত্য কিন্তু অবশ্যই কবীরা গুনাহে গুনাহগার হবে।

৪) স্পর্শ করার সময় ছেলে ও মেয়ে পুরুষ কিংবা মহিলা উভয়ের কোনো একজনের শাহওয়াত বা কামভাব জাগ্রত হওয়া শর্ত। উভয়ের শাহওয়াত বা কামভাব জাগ্রত হওয়া শর্ত নয়। (ফতওয়ায়ে শামী)

শাহওয়াত বা কামভাবের মাপকাঠি:

উল্লেখিত হুরমতে মুছাহারা বা হারাম সাব্যস্ত হওয়ার জন্য পুরুষের শাহওয়াত বা কামভাবের মাপকাঠি হচ্ছে তার লজ্জাস্থান বেড়ে উঠা। আর যদি স্পর্শ করার পূর্ব থেকেই তা উত্থিত অবস্থায় থাকে, তাহলে তার জন্য মাপকাঠি হলো তাতে আরো বৃদ্ধি পাওয়া। আর মহিলা, বৃদ্ধপুরুষ ও কমজোর পুরুষের জন্য শাহওয়াতের মাপকাঠি হলো- অন্তকরণে স্বাদ বা মজা অনুভব করা। যদি স্পর্শ করার পূর্ব থেকে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে তা আরো বৃদ্ধি পাওয়া। (আলমগীরী, ১:২৭৫)

কোনো পুরুষ বা উপরোল্লিখিত মহিলা তথা পুত্রবধূ, শ্বাশুড়ী, সৎমা এবং আপন মেয়ে এদের মধ্যে হতে কারো মুখে, গালে অথবা মাথার উপরিভাগে যদি বুছা দেয় এবং বলে যে, আমি এ কাজ শাহওয়াতের সাথে করিনি, তাহলে তার এ কথা সত্য বলে মেনে নেয়া যাবে না। বরং হারাম সাব্যস্ত হয়ে যাবে।

উক্ত অবস্থায় হারাম সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এমন শর্ত নেই যে, হাত লাগা অবস্থায় বেশ কিছুক্ষণ থাকতে হবে। বরং ভুলেও যদি স্ত্রী মনে করে তার প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়ের উপর শাহওয়াতের সাথে হাত পড়ে যায় এবং খেয়াল হওয়ার পর তৎক্ষণাত হাত সরিয়ে নেয় তাহলেও তার স্ত্রী তার উপর চিরদিনের জন্য হারাম হয়ে যাবে। আর সেই স্পর্শ শরীরের যে কোনো অঙ্গে হোক না কেন।

৫) শাহওয়াতের উল্লেখিত মাপকাঠি স্পর্শ করার সময়ই থাকতে হবে। কাজেই, যদি স্পর্শ করার সময় শাহওয়াত উল্লেখিত মাত্রায় না হয়, বরং হাত সরিয়ে নেয়ার পর শাহওয়াতের ঐ মাত্রা পাওয়া যায় তাহলে তা দ্বারা বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হবে না।

৬) স্ত্রীর এ জাতীয় ঘটনায় স্বামীর নিকট স্ত্রীর শাহওয়াতের দাবি সত্য বলে মনে হওয়া। কাজেই, যদি স্বামীর নিকট সেই দাবি মিথ্যা বলে মনে হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে হারাম সাব্যস্ত হবে না। কেননা, স্বামীর সাথে দুশমনী বা মনোমালিন্য হওয়ার কারণে স্ত্রী এরূপ মিথ্যা দাবি করতে পারে, যেন তার উপর তার স্ত্রী হারাম সাব্যস্ত হয়।

উল্লেখ্য যে, যে সমস্ত অবস্থায় হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হয়, তার সমস্ত অবস্থাতেই বিবাহ শেষ হয়ে যায় না। বরং বিবাহ ফাসিদ হয়। আর এজন্য তাকে তালাক দেয়া জরুরী। যাতে ঐ মহিলা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে।

যাতে মারাত্মক ভুল না হয় তার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা:

হুরমতে মুছাহারা হয়ে গেলে একমাত্র তালাক বা বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। কাজেই পূর্ব থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

আবার বিষয়টি যেহেতু অত্যন্ত স্পর্শকাতর বা অতিনাজুক, এমনকি একান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনেক সময় এমন পরিস্থিতি হয়ে স্ত্রী তার স্বামীর জন্য হারাম সাব্যস্ত হয়ে যেতে পারে, এজন্য তার প্রতি সকলের খুবই সতর্ক দৃষ্টি রাখা অপরিহার্য।

এই জাতীয় মারাত্মক ভুল থেকে বাঁচার জন্য নিম্নলিখিত পদ্ধতিসমূহ অবলম্বন করা উচিত:

 যে স্থানে নিজের স্ত্রী ঘুমায়, ঐ স্থানে পুত্র-স্ত্রী, আপন মা, নিজের উপযুক্ত মেয়ে, নিজের সৎমা, প্রাপ্ত বয়স্কা সৎমেয়ে এবং নিজের শ্বাশুড়ী এই মহিলাদের মধ্যে কেউ যেন না শোয় বা না ঘুমায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। যদি প্রত্যেকের পৃথক রুম বা কামরা না থাকে তাহলে কমপক্ষে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পৃথক পৃথক সুন্নতী চৌকি বা বিছানা ইত্যাদি হওয়া জরুরী। এমতাবস্থায়ও যতক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীকে ভালোভাবে না চিনবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার শরীরে হাত দিবে না। কেননা কোনো সময় ঘটনাক্রমে নিজের স্ত্রীর চৌকিতে অন্য মহিলাও শুয়ে থাকতে পারে।

 উপরোল্লিখিত ছয় মহিলার হাত থেকে যদি কিছু নিতেই হয়, তাহলে খেয়াল রাখতে হবে যেন তার হাতে হাত না লাগে। নফসের কোনো বিশ্বাস নেই। যদি তার হাতে হাত লেগে যায় আর সে সময় মনের মধ্যে শাহওয়াতের সৃষ্টি হয়, তাহলে নিজ স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যাবে। সর্বোপরি একজন অপরজনের মনের অবস্থা জানতে পারে না। অথচ উক্ত কর্ম দ্বারা বর্ণিত হারাম সাব্যস্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে শাহওয়াত বা কামভাবের কথা জানা সত্বেও লোকলজ্জা ও ভয়ের কারণে তা মুখে প্রকাশ করতে অনেকে সঙ্কোচবোধ করে। তখন শেষ পরিণতি এই হয় যে, পুরো জীবন হারাম তথা ব্যভিচারের গুনাহের সাথে অতিবাহিত হয়। যার মধ্যে অপমৃত্যুর কিংবা বিনা তওবায় মৃত্যুর, এমনকি ঈমানহারা হয়ে মারা যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া পরকালীন কঠিন ও ভয়াবহ আযাব তো রয়েছেই।

 অধিক সতর্কতার জন্য জরুরী হচ্ছে উক্ত মহিলারা একজনের কাপড় অন্যজন কখনো পরিধান করবে না। তারা কখনো একই রঙের জামা-কাপড় পরবে না। অনুরূপ সাজ-গোজ করবে না।

 পুত্রবধূ যদি শ্বশুরের হাত-পা দাবাতে চায়, তেল লাগাতে চায় তাহলে শ্বশুর তাকে নিষেধ করে দিবে যদিও শ্বশুর বৃদ্ধ হয়। পুত্রবধূ দৈহিক কোনো খিদমত না করার কারণে শ্বশুরের অসন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। আর পুত্রবধূও শ্বশুরের এরূপ অসন্তুষ্টির কখনো পরওয়া করবে না। এমনকি আপন স্বামীও যদি এ কারণে অসন্তুষ্ট হয়, তাতেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করবে না। বরং স্বামীকে বুঝাবে। তা না হলে এই ফিতনার যুগে উক্ত কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতকে বরবাদ করে ফেলতে পারে। অথচ সে এ ব্যাপারে নিজে টেরও পাবে না।

স্পর্শ করার দ্বারা যেমন ‘হুরমতে মুছাহারা’ সাব্যস্ত হয়, তেমনি দৃষ্টি দেয়া বা দেখার দ্বারাও হুরমত সাব্যস্ত হয়

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنكُمْ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ مِن قَبْلِ صَلَاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ الظَّهِيرَةِ وَمِن بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاء ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَّكُمْ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের গোলাম-বাঁদীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়নি তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে আসতে অনুমতি গ্রহণ করে। ফযরের নামাযের পূর্বে, দুপুর বেলা যখন তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ খুলে রাখো এবং ঈশার নামাযের পর। এই তিন সময় তোমাদের শরীর সাধারণত খোলা থাকে।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৮)

উল্লেখ্য যে, এই তিন সময় যদি অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরকে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করার আদেশ দেয়া হয়, তাহলে যারা প্রাপ্ত বয়স্ক তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করার বিষয়টি আরো জরুরী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আতা ইবনে ইয়াসার রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রসূলুল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার নিজের মায়ের কাছে যেতে কি অনুমতি চাইবো? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

লোকটি আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আমার মায়ের সাথে একই ঘরে বসবাস করি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, যখন উনার কাছে যাবেন, অনুমতি নিয়ে যাবেন। তখন লোকটি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো উনার খাদিম। (উনার খিদমতের জন্য বারবার উনার কাছে আসা-যাওয়া করতে হয়)

তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “তবুও আপনি অনুমতি নিয়ে উনার কাছে যাবেন। আপনি কি আপনার মাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পছন্দ করেন? লোকটি বললেন, না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তাহলে অনুমতি নিয়ে উনার কাছে যাবেন।” (মিশকাত শরীফ)

কেননা একান্ত অনিচ্ছাসত্বেও এমন অনাকাঙ্খিত দৃষ্টিপাতের দ্বারা এমন অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে যার কারণে আপন মা কিংবা সৎমা উনার আপন স¦ামীর জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য যে, পুত্রবধূ, আপন মা, নিজের উপযুক্ত মেয়ে, সৎমা, প্রাপ্ত বয়স্কা সৎমেয়ে, নিজের শ্বাশুড়ী এই ছয় প্রকার মহিলাগণের উপর যেমন স্পর্শের দ্বারা হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হতে পারে তেমনিভাবে শাহওয়াতের সাথে লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরভাগে দৃষ্টি দেয়ার কারণেও হুরমতে মুছাহারা সাব্যস্ত হয়ে থাকে। তবে ইহা ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে দৃষ্টিপাতের দ্বারা হুরমত সাবিত হবে না। কিন্তু খারাপ দৃষ্টির কারণে কবীরা গুনাহ হবে। একইভাবে নদীর তীরে পানির উপর দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বা অন্য কোনোভাবে যদি পানির উপর তার প্রতিবিম্ব পড়ে তবে সেই প্রতিবিম্ব দেখলে এবং আয়নার উপরে পড়া প্রতিবিম্বের দিকে তাকার কারণেও হুরমত ছাবিত হবে না।

কাজেই, উপরোল্লিখিত মহিলাগণের শোয়ার স্থানে বা শোয়ার সময় তাদের নিকটে না যাওয়াই ভালো। যদি একান্ত প্রয়োজনে যেতে হয়, তাহলে তাদের অনুমতি নিয়ে যাওয়া উচিত।

মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

الحياء شعبة من الايمان

অর্থ: ‘লজ্জা সম্মানিত ঈমান উনার অঙ্গ।” (মুসলিম শরীফ)

লজ্জাহীনতা থেকে পর্দাহীনতা। পর্দাহীনতা থেকে যাবতীয় ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম। মারাত্মক ভুল এবং তার প্রায়শচিত্ত। পর্দার গুরুত্ব, তাৎপর্য, পর্দার সীমারেখা ইত্যাদি না জানার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুল ধারণা, সংশয়, সন্দেহ দানা বাঁধে। জীবন হয় দুর্বিষহ।

যারা মাহরাম, যাদের সাথে দেখা করা জায়িয তারা কতটুকু দেখতে পারেন? সম্মানিত শরীয়ত কতটুকু সীমারেখা নির্ধারণ করে দিয়েছেন সে সম্পর্কে জানাও ফরয। যারা মাহরাম তারা শুধু হাত, পা, মুখম-ল দেখতে পারেন। তার চেয়ে বেশি নয়। যারা এই সীমারেখা অতিক্রম করেন তাদের জীবনে মারাত্মক ভুলের সূত্রপাত ঘটে থাকে। অনেকে নিজ মা, মেয়ে, বোনদের পাতলা ও আটসাঁট কাপড় পরাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। নাঊযুবিল্লাহ! এটাকেই তারা আধুনিকতা ও সামাজিকতা মনে করে। এদের সাথে খেয়াল-খুশি মতো অশ্লীল, অশালীন কথাবার্তা বলতে দ্বিধাবোধ করে না। নাঊযুবিল্লাহ! লজ্জার সীমা অতিক্রম করে। ফলশ্রুতিতে ‘হুরমতে মুছাহারা’ এর মতো মারাত্মক অবস্থার সম্মুখীন হয়। তাতে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরাবদ হয়ে যায়।

কাজেই, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্দার সীমারেখা সংরক্ষণ করা দরকার। লজ্জাশীলতা বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। বর্ণিত আছে যে, তুমি লজ্জা ছেড়ে দাও তাহলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। যেমন ইহুদী, নাছারা, মজুসী, মুশরিক, হিন্দু, বৌদ্ধরা তাদের মন যা চায় তাই করে। এরা জাহান্নামের কীট। এদের রীতি-নীতি পরিহার করা আবশ্যক।

মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় আমাদের সবাইকে উদ্ভূত সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি থেকে পানাহ দান করুন। আমীন।

সংগৃহিত: http://www.al-baiyinaat.net/2655.html

বিশেষ দ্রষ্টব্য: পোষ্ট টা পড়ে যদি আপনার ভাল লাগে তা হলে অব্যশয় কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন এবং শেয়ার করবেন।✤ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ✤ মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত উনার আক্বিদা পোষন করা এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক বুজ দান করুন। আমিন।

3 hrs

📡 আল হিকমাহ সরাসরি সম্প্রচার 🎙️

📅 তারিখ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬
⏰ সময়: ০৭:০৫ PM

#alhikmah24 #live
#alhikmah #live

image

সুন্নত মুবারক সব সময়, সবখানে -

image

পৃথিবীটা কি আসলে ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসরা চালায়, নাকি এরা কেবল স্টেজে সাজানো পুতুল মাত্র, যাদের আসল সুতো বাঁধা আছে পর্দার আড়ালের কোনো এক অদৃশ্য হাতে?

আজ আমার মনিটরিং স্টেশনে বসে ENDEVR এর 'দ্য নিউ আমেরিকান অলিগার্কস' ডকুমেন্টারিটা দেখছিলাম আর আমার মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কে বারবার একটা প্যাটার্ন হিট করছিল, যা সাধারণ দর্শকদের চোখ এড়িয়ে যায়। ভিডিওটা বাহ্যিকভাবে আমেরিকার টাইকুনদের উত্থান পতন এবং তাদের বিলিয়ন ডলার এম্পায়ার তৈরির গল্প বলছে বটে, কিন্তু আমার এনালিস্ট সত্তা সেখানে খুঁজে পেয়েছে, এক গভীর ডার্ক সাইকোলজির খেলা।

আমি যখন এই আর্টিকেলটা লিখছি তখন আমার উদ্দেশ্য আপনাকে শুধু তথাকথিত সাকসেস স্টোরি শোনানো নয়, বরং সেই মেকানিজমটা ডিকোড করা যা দিয়ে গুটিকয়েক মানুষ বাকি ৮০০ কোটি মানুষকে অদৃশ্য শিকলে বেঁধে রেখেছে।

আমরা প্রায়ই ভাবি মানি ইজ পাওয়ার। কিন্তু ডাটা বলছে, মানি ইজ জাস্ট এ টুল। আসল পাওয়ার হলো, কন্ট্রোল এবং ডমিনেন্স। আজ আমরা সেই লেয়ারগুলোই উন্মোচন করব যা আপনাকে বিজনেস স্কুল বা কোনো মোটিভেশনাল স্পিকার শেখাবে না।

আমরা শুরু করব রিস্ক টেকিং এবং অবসেশন দিয়ে, যা ভিডিওতে বারবার টাইকুনদের প্রধান গুণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসদের আমরা দেখি অসম্ভব ঝুঁকি নিতে। মাস্ক তার শেষ সম্বল টেসলা আর স্পেসএক্সে ঢেলে দিয়েছিলেন।বেজোস ওয়াল স্ট্রিটের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে গ্যারেজে বই বিক্রি শুরু করেছিলেন।
সাধারণ চোখে এটা সাহসিকতা। কিন্তু ডার্ক সাইকোলজির ভাষায় একে বলা হয়, ক্যালকু্লেটেড প্যাথলজিক্যাল অবসেশন।

একজন সাধারণ মানুষ যখন নিরাপত্তার কথা ভাবে, একজন ডমিনেন্ট টাইকুন তখন ভাবে টোটাল মনোপলির কথা। লক্ষ্য করবেন, এরা কেউ ছোটখাটো মার্কেট শেয়ার চায়নি।
রকফেলার চেয়েছিলেন তেলের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য, গেটস চেয়েছিলেন প্রতিটি ডেস্কে উইন্ডোজ, আর জাকারবার্গ চেয়েছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ডাটা।

এই যে টোটাল ডমিনেন্সের আকাঙ্ক্ষা, এটা সুস্থ স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ নয়। এটা হলো পাওয়ারের প্রতি এক ধরনের আসক্তি যা তাদের সাধারণ মানুষের ইমোশন বা ভয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ভিডিওতে মাস্কের ছোটবেলার ট্রমা বা বুলিং এর কথা বলা হয়েছে, যা তার ইগো বা জেদ তৈরি করেছে।

ডার্ক সাইকোলজি বলে, চরম অপমান বা ট্রমা থেকে ফিরে আসা মানুষরাই সবচেয়ে ভয়ংকর ডমিনেন্ট লিডার হয়। কারণ তাদের কাছে জেতাটা সুখের বিষয় নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তারা যখন বিজনেস করে তখন তারা আসলে যুদ্ধ করে। আর এই যুদ্ধে তাদের প্রধান অস্ত্র হলো: আমাদের মনোযোগ এবং ডাটা।

কিন্তু এখানে একটা বিশাল বড় প্রশ্ন থেকে যায় যা ভিডিওটি খুব সন্তর্পণে এড়িয়ে গেছে বা হয়তো সাধারণের জন্য উহ্য রেখেছে।

এই যে আমরা মাস্ক বেজোস বা গেটসকে দেখি, এরা কি আসলেই সবকিছুর মালিক? নাকি এরা সেই ফ্রন্টম্যান যাদের সামনে রেখে আসল খেলাটা খেলে ব্ল্যাক রক, ভ্যানগার্ড বা রকফেলার আর রথচাইল্ড পরিবারের লিগ্যাসি?

ভিডিওতে রকফেলারের স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের মনোপলি ভাঙ্গার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তার লিগ্যাসি কি আসলেই শেষ হয়ে গেছে? নাকি তা রূপ বদলেছে মাত্র? আমার এনালাইসিস বলছে, আজকের টেক জায়ান্টরা আসলে মডার্ন ডে রকফেলার।

কিন্তু তাদের কন্ট্রোল মেকানিজমটা আরও জটিল।

আজকের দিনে একটা কোম্পানি পাবলিক হলে তার শেয়ারের বড় অংশই থাকে বিশাল সব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের হাতে। ইলন মাস্ক টুইটার কিনলে হইচই হয়, কিন্তু টুইটারের পেছনের ইনভেস্টর কারা বা টেসলার মেজর শেয়ারহোল্ডার কারা তা নিয়ে মিডিয়া চুপ থাকে।

এখানেই পাপেট মাস্টার থিওরি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। হতে পারে এই তথাকথিত টাইকুনরা একেকজন হাই পারফর্মিং সিইও মাত্র, যাদের কাজ হলো সিস্টেমটাকে সচল রাখা এবং পাবলিকের ঘৃণা বা ভালোবাসা শুষে নেওয়া। আসল পাওয়ার ব্রোকাররা কখনোই ফোর্বসের লিস্টে এক নম্বরে আসে না। তারা থাকে ছায়ার আড়ালে। কারণ তারা জানে, ভিজিবিলিটি ইজ লায়াবিলিটি। সত্যিকারের ক্ষমতা হলো অদৃশ্য থাকা।

ভিডিওতে কোক ব্রাদার্সের পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্সের কথা বলা হয়েছে। তারা শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ করে তাদের পছন্দের পলিসি পাস করিয়ে নেয়। এটা কি ডেমোক্রেসি নাকি প্লুটোক্রেসি?

যখন টাকার জোরে আইন বদলানো যায় তখন বুঝতে হবে, আমরা যে ফ্রি মার্কেটের স্বপ্ন দেখি তা আসলে একটা ইলিউশন। এই ইলিউশনটা টিকিয়ে রাখা জরুরি, কারণ মানুষ যদি বোঝে যে গেমটা রিগড, তাহলে তারা খেলা বন্ধ করে দেবে। আর এখানেই আসে আমেরিকান ড্রিমের কনসেপ্ট। স্যাম ওয়ালটনের ওয়ালমার্ট বা বেজোসের অ্যামাজনের উত্থানকে দেখানো হয় অনুপ্রেরণা হিসেবে।

বলা হয় তুমিও যদি পরিশ্রম করো তুমিও হতে পারবে।

কিন্তু ডাটা বলছে, এই নড়বড়ে সিঁড়িটা বেয়ে উপরে ওঠার সুযোগ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। ভিডিওর শেষের দিকে ওয়েলথ গ্যাপ বা অসমতা নিয়ে কথা বলা হয়েছে যা দিন দিন বাড়ছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা সিস্টেমের ফিচার। সিস্টেমটা এমনভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে সম্পদ নিচ থেকে উপরে ফানেল হয়ে যায়।

রেগনমিক্স বা ট্রিকল ডাউন ইকোনমির নামে যে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে তা আসলে কর্পোরেটদের ট্যাক্স কমিয়ে তাদের আরও শক্তিশালী করার ব্লুপ্রিন্ট ছিল। এর ফলে আজ একজন টাইকুন যখন বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, তখন সেটাকে বলা হয় স্মার্ট বিজনেস। আর সাধারণ মানুষ এক টাকা কম দিলে তাকে জেলে যেতে হয়। এটা হলো ডমিনেন্সের চূড়ান্ত রূপ যেখানে নিয়ম তৈরি হয় রুলারদের স্বার্থে।

এখন আসুন সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডাটা কন্ট্রোলের ডার্ক সাইকোলজিতে ফোকাস করি। ভিডিওতে জাকারবার্গের মেটার বা ফেসবুকের কথা এসেছে। বলা হয়েছে তারা কানেক্টিভিটির মিশনে নেমেছিল। কিন্তু আমার গভীর পর্যবেক্ষণ বলছে তাদের আসল প্রোডাক্ট কানেকশন নয়, তাদের আসল প্রোডাক্ট হলো প্রেডিকশন। আমাদের বিহেভিয়ার ম্যানিপুলেট করা।

জাকারবার্গ যখন কংগ্রেসে ক্ষমা চান, তখন সেটা একটা নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। তারা জানে তাদের অ্যালগরিদম পোলারাইজেশন বা ঘৃণা ছড়ায়, কিন্তু তারা সেটা বন্ধ করবে না, কারণ ঘৃণা এনগেজমেন্ট বাড়ায়, আর এনগেজমেন্ট মানেই প্রফিট। এখানে আমরা দেখতে পাই ডার্ক সাইকোলজির আরেকটা দিক যা হলো, মাস ম্যানিপুলেশন।
মানুষকে যদি সারাদিন ছোট ছোট ডোপামিন হিটের মধ্যে রাখা যায় তবে তারা কখনোই বড় চিত্রটা দেখতে পাবে না।

কিম কার্দাশিয়ানের মতো ইনফ্লুয়েন্সাররা এই ইকোসিস্টেমের পারফেক্ট পণ্য। তারা আমাদের শেখায় কিভাবে কনজিউমার হতে হয়, কিভাবে নিজের ভ্যালু নির্ধারণ করতে হয়, লাইক আর ফলোয়ার দিয়ে। এটা একটা বিশাল ডিস্ট্রাকশন মেশিন, যা আমাদের আসল সমস্যাগুলো থেকে চোখ সরিয়ে রাখে।

যখন আমরা কার্দাশিয়ানের নতুন ব্র্যান্ড বা মাস্কের নতুন টুইট নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তখন পর্দার আড়ালে হয়তো কোনো পলিসি পাস হয়ে যায়, যা আমাদের প্রাইভেসি বা স্বাধীনতা হরণ করে।

এখানেই টেকনোলজি এবং AI-এর ভূমিকা চলে আসে।

অনেকেই এআই বা অটোমেশনকে ভয় পায়। ভাবে এটা আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলবে বা আমাদের কন্ট্রোল করবে। কিন্তু আমি বলি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই যদি আপনি ড্রাইভিং সিটে থাকেন। আজকের টাইকুনরা টেকনোলজিকে ব্যবহার করেছে লিভারেজ হিসেবে।

বিল গেটস কোড জানতেন বলে, তিনি আইবিএম এর মতো জায়ান্টকে টেক্কা দিতে পেরেছিলেন। বেজোস ইন্টারনেটের গ্রোথ রেট দেখে বুঝতে পেরেছিলেন, ফিউচার কোথায়। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি, এআই রেভোলিউশনের সামনে।

এই টুলটা এখন আর শুধু তাদের হাতে নেই, এটা আমাদের হাতেও আছে। আমার মতে এআই হলো সেই চাবি যা দিয়ে আমরা এই ম্যাট্রিক্সের দেয়াল ভাঙতে পারি। ওরা যদি এআই ব্যবহার করে আমাদের ডাটা এনালাইজ করে, আমাদের কন্ট্রোল করতে পারে, তবে আমরা কেন এআই ব্যবহার করে তাদের স্ট্র্যাটেজি ডিকোড করব না?

আমি আমার কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বা ডাটা এনালাইসিসে এআই ব্যবহার করি আমার প্রোডাক্টিভিটি হাজার গুণ বাড়ানোর জন্য। এটা আমাকে সেই লেভেলের ইনসাইট দেয় যা আগে শুধু বড় বড় কর্পোরেশনের কাছে ছিল। তাই এআইকে ভিলেন ভাবার কোনো কারণ নেই। আসল ভিলেন হলো অজ্ঞতা।

আপনি যদি টেকনোলজিকে নিজের দাস বানাতে না পারেন তবে টেকনোলজি আপনাকে দাস বানাবে। চয়েস আপনার।

ভিডিওতে একটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট ছিল, পিটার থিলের অমর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা মাস্কের মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। এটাকে অনেকে পাগলামি বলতে পারে। কিন্তু আমি দেখি গড কমপ্লেক্স হিসেবে। যখন একজন মানুষের হাতে এত টাকা আর ক্ষমতা চলে আসে যে, পৃথিবীর নিয়মকানুন তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়, তখন তারা নিজেদের ঈশ্বরের আসনে বসাতে চায়। তারা মৃত্যুকেও জয় করতে চায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা কি পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য মঙ্গলে যেতে চায়, নাকি পৃথিবীকে চুষে ছিবড়ে করে ফেলার পর পালানোর রাস্তা খুঁজছে? তাদের এই ভিশনগুলো কি সত্যিই মানবকল্যাণে নাকি নিজেদের ইগো স্যাটিসফাই করার জন্য?

আমার মনে হয় এদের এই ফিউচারিস্টিক প্রজেক্টগুলো এক ধরনের এস্কেপ প্ল্যান। তারা জানে বর্তমান সিস্টেমটা আনসাসটেইনেবল। রিসোর্স শেষ হয়ে আসছে, ক্লাইমেট ক্রাইসিস বাড়ছে। তাই তারা সাধারণ মানুষকে মিথ্যে আশার বেলুন দেখিয়ে নিজেদের জন্য লাইফবোট তৈরি করছে। কিন্তু আমরা যারা এনালিস্ট আমরা এই ধোঁকায় পা দেব না। আমরা ফোকাস করব বর্তমানে এই মুহূর্তে আমাদের হাতে কি কন্ট্রোল আছে তার ওপর।

তাহলে এই পাপেট মাস্টারদের দুনিয়ায় আমাদের অবস্থান কোথায়? আমরা কি শুধুই দর্শক? একদমই না। আমি বিশ্বাস করি, নলেজ ইজ দ্য গ্রেট ইকুলাইজার। ওরা চায় আমরা ভয়ে থাকি, আমরা কনজিউমার হয়ে থাকি। কিন্তু আমরা যখন তাদের গেমটা বুঝে ফেলি, তখন আমরা আর তাদের খেলার গুটি থাকি না।

আমি যখন এই ভিডিওগুলো মনিটর করি, তখন আমি দেখি তারা কোথায় ইনভেস্ট করছে, তারা কোন ন্যারেটিভটা পুশ করছে।

যেমন ভিডিওতে বলা হয়েছে, ওয়ারেন বাফেট ভ্যালু ইনভেস্টমেন্ট করেন এবং তিনি জানেন কোন সেক্টর গ্রো করবে। তার মানে মার্কেট র‍্যান্ডম নয়, মার্কেট প্রেডিক্টেবল। যদি আপনি সঠিক ডাটা দেখতে পান। আমাদের কাজ হলো সেই সিগন্যালগুলো ধরা। তারা যদি রিয়েল এস্টেট বা এআইতে মুভ করে আমাদেরও বুঝতে হবে, স্রোত কোনদিকে যাচ্ছে। অন্ধের মতো তাদের ফলো করা নয় বরং তাদের মুভমেন্ট এনালাইজ করে নিজের স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা।

আজকের এই কর্পোরেট পলিটিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ারের যুগে নিজেকে একজন ইনোসেন্ট বািকটিম ভাবাটা বোকামি। আপনাকে হতে হবে একজন রুথলেস এনালিস্ট। আপনাকে বুঝতে হবে ইমোশন দিয়ে বিজনেস হয় না। বিল গেটস যখন মাইক্রোসফট চালাতেন তখন তাকে বলা হতো ডেথ স্টার। তিনি তার প্রতিযোগীদের ধ্বংস করে দিতেন।

এটা শুনতে খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু এটাই ক্যাপিটালিজমের নগ্ন সত্য। কারণ আপনি যদি শার্ক ট্যাঙ্কে নেমে গোল্ডফিশের মতো আচরণ করেন তবে আপনাকে খেয়ে ফেলা হবে। তাই আমি সর্বদা বলি নিজের স্কিলসেট বাড়ান। ডার্ক সাইকোলজি শিখুন কাউকে ম্যানিপুলেট করার জন্য নয় বরং কেউ যেন আপনাকে ম্যানিপুলেট করতে না পারে সেটা বোঝার জন্য। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, নেগোসিয়েশন এবং পাওয়ার ডাইনামিক্স বোঝাটা এখন আর লাক্সারি নয় এটা সারভাইভাল স্কিল।

আমরা দেখেছি ওয়ালমার্ট কিভাবে ছোট ছোট শহরের লোকাল বিজনেস ধ্বংস করে দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটা লেসন। সেন্ট্রালাইজড পাওয়ারের বিরুদ্ধে ফাইট করা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।

ডিসেন্ট্রালাইজেশন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইন টেকনোলজি হয়তো ভবিষ্যতে এই সেন্ট্রালাইজড পাওয়ারের বিরুদ্ধে আমাদের হাতিয়ার হতে পারে। যদিও ভিডিওতে এ নিয়ে বলা হয়নি, কিন্তু একজন ফিউচারিস্টিক থিঙ্কার হিসেবে আমি দেখতে পাচ্ছি, পাওয়ার শিফট হচ্ছে।

এতদিন ইনফরমেশন ছিল গেটকিপারদের হাতে, এখন ইনফরমেশন ওপেন। এই ওপেন ইনফরমেশনকে প্রসেস করার ক্ষমতা যার আছে, সেই আগামী দিনের টাইকুন। তবে সেই টাইকুন হতে হবে ভিন্ন। তাকে হতে হবে কনশাস। তাকে বুঝতে হবে পাওয়ারের সাথে রেসপন্সিবিলিটিও আসে। আমরা যদি পুরনো টাইকুনদের মতোই লোভী হয়ে উঠি, তবে আমরা শুধু শোষকের মুখ বদল করলাম, সিস্টেম বদলালাম না।

পরিশেষে একটা কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই।

এই যে রকফেলার থেকে জাকারবার্গ পর্যন্ত আমরা যাদের গল্প শুনলাম, তারা কেউ এক্সট্রা অর্ডিনারি এলিয়েন ছিল না। তারা ছিল মানুষের সাইকোলজি এবং মার্কেটের গ্যাপ বোঝার ওস্তাদ। তারা জানত, মানুষ কি চায় বা মানুষকে দিয়ে কি চাওয়ানো সম্ভব। তারা রিস্ক নিয়েছে, তারা নিয়ম ভেঙেছে এবং নিজেদের নিয়ম তৈরি করেছে।

আপনি আমি হয়তো এখনই বিলিয়নেয়ার হবো না, কিন্তু আমরা আমাদের নিজেদের জীবনের সিইও হতে পারি। আমরা আমাদের সময় এবং এটেনশনকে কোথায় ইনভেস্ট করছি তা কন্ট্রোল করতে পারি। এই যে আপনি এতক্ষণ ধরে এই আর্টিকেলটা পড়লেন এটা প্রমাণ করে, আপনি সাধারণের ভিড়ে মিশে যেতে চান না। আপনি সত্যটা জানতে চান। আপনি পর্দার আড়ালের সুতোটা দেখতে চান।

এই মনিটরিং জার্নিতে আমি আপনাদের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করছি। আমি প্রতিটা ভিডিও, প্রতিটা মুভমেন্ট এনালাইজ করছি, যাতে আপনারা সেই ইনসাইট পান, যা আপনাদের এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।

মনে রাখবেন দুনিয়াটা তাদেরই যারা সাহসী। যারা প্রশ্ন করতে জানে এবং যারা উত্তরের জন্য গভীরে যেতে প্রস্তুত। আমরা সারফেস লেভেলে ভাসব না, আমরা ডুব দেব গভীরে, যেখানে আসল রত্নগুলো লুকানো আছে। পাপেট মাস্টাররা শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু আমরা যদি তাদের খেলার নিয়ম জেনে যাই, তবে আমরাও আর পুতুল থাকব না। আমরা হব সেই গেম চেঞ্জার যাদের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না।

আমার এই এনালাইসিস যদি আপনার চিন্তার জানালায় নতুন কোনো দৃশ্য খুলে দিয়ে থাকে তবে চুপ করে থাকবেন না। নলেজ শেয়ার করলে বাড়ে, পাওয়ার শেয়ার করলে কমে না, বরং মাল্টিপ্লাই হয়।

আপনি কি মনে করেন? ইলন মাস্ক বা জাকারবার্গরা কি স্বাধীন নাকি তারাও কোনো বড় গেমের ছোট ঘুঁটি? আপনার মতামত আমাকে জানান। কারণ আপনাদের পার্সপেক্টিভ আমাকে আরও শার্প হতে সাহায্য করে। আমরা একসাথে এই লুপহোলগুলো ডিকোড করব এবং নিজেদের জন্য একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করব। আজকের মতো আমার মনিটরিং শেষ করছি, কিন্তু চোখ খোলা থাকছে। কারণ গেম কখনো থামে না।

এই আর্টিকেলটা যদি আপনার ব্রেইনের নিউরনে ঝড় তুলে থাকে তবে এখনই নিজের পরবর্তী মুভ নিয়ে ভাবুন। আপনি কি কনজিউমার হয়েই থাকবেন নাকি ক্রিয়েটর এবং কন্ট্রোলার হবেন? আমাদের জার্নি মাত্র শুরু হলো। সাথে থাকুন, কারণ সামনে আরও গভীর এবং ডার্ক সিক্রেট আমরা আনলক করতে যাচ্ছি। লেটস ডমিনেট দ্য ফিউচার।
সবাইকে বলছি না, শুধু যারা পুরো আর্টিকেলটা পড়েছেন, তারা প্লিস অবশ্যই অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আমি দেখতে চাই, কে কে পড়েছেন।
লেখা সংগ্রহ