আদব-শরাফত — এই দুইটা শব্দ একসাথে আসলে মানে দাঁড়ায় ভদ্রতা, শিষ্টাচার আর উন্নত চরিত্র।
ইসলামে আদবের গুরুত্ব অনেক উপরে। রাসূল ﷺ বলেছেন: "আমাকে উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই পাঠানো হয়েছে"।
আদব মানে কী?
আদব = সীমা জানা, হক আদায় করা। কার সাথে কেমন ব্যবহার করতে হবে, সেটা বুঝে চলা।
খুলুছিয়াত, হুজুরী, ভয় + আশা নিয়ে ইবাদত। গুনাহের পর লজ্জিত হওয়া
রাসূল ﷺ এর সাথে দরুদ পড়া, সুন্নত মানা, তাঁর নাম শুনলে সম্মান দেখানো
কুরআনের সাথে ওযু করে ধরা, মনোযোগ দিয়ে শোনা, আমল করা
পিতা-মাতার সাথে উফ শব্দও না করা, নরম গলায় কথা বলা, খেদমত করা
উস্তাদের সাথে সামনে উঁচু গলায় কথা না বলা, ভুল ধরার আগে ১০ বার ভাবা
মানুষের সাথে সালাম দেওয়া, হাসিমুখ, গীবত না করা, ওয়াদা রাখা
শরাফত মানে কী?
শরাফত = ভদ্রতা, আভিজাত্য, বড় মনের পরিচয়।
ছোটলোকি, খোঁচা মারা, ঝগড়া, গালি — এগুলো শরাফতের খেলাফ। ইমাম শাফিঈ রহ. বলতেন: "যে ব্যক্তি নিজের সম্মান রক্ষা করতে চায়, সে যেন বেহুদা তর্ক ছেড়ে দেয়"।
আদব-শরাফত আর খুলুছিয়াতের সম্পর্ক খুলুছিয়াত না থাকলে আদবটা হয়ে যায় লোক দেখানো — "মানুষ কী বলবে" এই ভয়ে ভদ্র সাজা।
খুলুছিয়াত থাকলে আদবটা হয় আল্লাহর জন্য — কারণ মুমিন জানে, আল্লাহ বে-আদবকে পছন্দ করেন না।
হাসান বসরী রহ. বলতেন: "দ্বীনের অর্ধেক হলো আদব"।
ছোট্ট একটা ঘটনা
একবার এক বুযুর্গের মজলিসে এক যুবক পা ছড়িয়ে বসলো। সবাই রাগ হলো, কিন্তু বুযুর্গ কিছু বললেন না। মজলিস শেষে যুবককে আলাদা ডেকে বললেন: "বেটা, তোমার পায়ে কি ব্যথা? কষ্ট হলে বলো, বালিশ এনে দিই"। যুবক লজ্জায় কেঁদে দিল। এটাই শরাফত — ভুল ধরাও আদবের সাথে।
আজকের যুগে আদবের সংকট সবচেয়ে বেশি। মোবাইল-সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা কথায় কথায় মানুষকে ছোট করি, উস্তাদ-মুরুব্বির সামনে তর্ক করি। অথচ আল্লাহর ফযল পাওয়ার রাস্তা হলো আদব।
ইমাম আবু হানিফা রহ. বলতেন: "আমি আদব শিখেছি ২০ বছর, আর ইলম শিখেছি ১০ বছর