হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাবে প্রাকৃতিক ফল
প্রচর গরমে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পানীয় অংশসমৃদ্ধ ফল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এসব ফল শুধু পানির ঘাটতি মেটায় না, বরং প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও জারণরোধী উপাদান সরবরাহ করে শরীরের সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিশেষ করে তরমুজ, জাম, বাঙ্গি ও তালশাঁস শরীরের পানির অভাব পূরণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গরমে প্রশান্তি দিতে বাঙ্গির তুলনা হয় না, যাতে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। এই ফলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড এবং প্রচুর আঁশ। এসব উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
রক্তস্বল্পতা কমাতে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে জাম বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই ফলে প্রায় ৮২ শতাংশ পানি রয়েছে। লৌহ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি এটি হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
এছাড়া গরমে তরমুজের জুড়ি নেই, কারণ এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে। এর আঁশ হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তরমুজে থাকা ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন ও জারণরোধী উপাদান হৃৎপি-ের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
#biology #swad #জীববিজ্ঞান
কুতুব মিনার চত্বরের লৌহস্তম্ভে ১৬০০ বছরেও মরিচা ধরেনি, কী কারণে এমন অক্ষত?
লোহার তৈরি কোনো বস্তু খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর থাকলে তাতে মরিচা ধরবে- এটাই স্বাভাবিক। বৃষ্টি, বাতাসের আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে লোহা। কিন্তু ভারতের রাজধানী দিল্লির কুতুব মিনার চত্বরে মিনারের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি লৌহস্তম্ভ যেন প্রকৃতির এই চিরচেনা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।
ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রায় ৭ দশমিক ২ মিটার উঁচু এই লৌহস্তম্ভ প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে খোলা পরিবেশে থাকার পরও এতে কোনো মরিচা ধরেনি। আজও এটি দেখতে অনেকটাই নতুন ও মজবুত।
সাধারণত বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার প্রভাবে লোহায় মরিচা ধরে। ধীরে ধীরে লোহার গায়ে লালচে-বাদামি রঙের একটি স্তর জমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষয় বাড়ে এবং ধাতব কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও আর্দ্র পরিবেশে থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে।
কিন্তু দিল্লির এই লৌহস্তম্ভ কীভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মরিচামুক্ত রইলো?
সিএনএনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ভারতের আইআইটি কানপুরের একদল গবেষক এই রহস্যের সমাধান করেন।
তাদের গবেষণায় দেখা যায়, স্তম্ভটি তৈরি করা হয়েছিলো বিশেষ ধরনের পেটানো লোহা দিয়ে। আধুনিক লোহার তুলনায় এতে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি ছিলো। অন্যদিকে সালফার ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান ছিলো খুবই কম।
গবেষকেরা আরও বলেন, প্রাচীন ভারতীয় কারিগরেরা স্তম্ভটি তৈরিতে ‘ফোর্জ ওয়েল্ডিং’ নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে লোহাকে বারবার আগুনে গরম করে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এর ফলে লোহার মধ্যে ফসফরাসের মাত্রা উচ্চ অবস্থায় বজায় থাকে।
এ ছাড়া স্তম্ভটির গায়ে ‘মিসাওয়াইট’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ যৌগের স্তর তৈরি হয়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। লোহা, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত এই যৌগ ধাতুর ওপর একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে।
উচ্চ মাত্রার ফসফরাস এবং চুনের অনুপস্থিতিতে এই স্তর তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি স্তম্ভটিকে বৃষ্টি, রোদ ও আবহাওয়ার নানা প্রতিকূল প্রভাব থেকে রক্ষা করেছে।
গবেষকদের মতে, লৌহস্তম্ভটির মরিচা প্রতিরোধের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ফসফরাস। ধাতুর অন্যান্য গঠনগত বৈশিষ্ট্য বা উপাদানের তুলনায় এটিই স্তম্ভটিকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
কুতুব মিনারে লৌহস্তম্ভ এলো কীভাবে?
বর্তমানে লৌহস্তম্ভটি কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের অংশ হলেও এটি মূলত সেখানে নির্মিত হয়েছিলো কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে দিল্লি সালতানাতের শাসক শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের আমলে স্তম্ভটি কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ এবং বৃহত্তর কুতুব কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধারণা করা হয়, বিজয় ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিলো।
প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকা এই লৌহস্তম্ভ প্রাচীন ভারতীয় ধাতুবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। আর এ কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের বিস্মিত করে আসছে।
#chemistry #swad #রসায়ন
কুতুব মিনার চত্বরের লৌহস্তম্ভে ১৬০০ বছরেও মরিচা ধরেনি, কী কারণে এমন অক্ষত?
লোহার তৈরি কোনো বস্তু খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর থাকলে তাতে মরিচা ধরবে- এটাই স্বাভাবিক। বৃষ্টি, বাতাসের আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে লোহা। কিন্তু ভারতের রাজধানী দিল্লির কুতুব মিনার চত্বরে মিনারের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি লৌহস্তম্ভ যেন প্রকৃতির এই চিরচেনা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।
ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রায় ৭ দশমিক ২ মিটার উঁচু এই লৌহস্তম্ভ প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে খোলা পরিবেশে থাকার পরও এতে কোনো মরিচা ধরেনি। আজও এটি দেখতে অনেকটাই নতুন ও মজবুত।
সাধারণত বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার প্রভাবে লোহায় মরিচা ধরে। ধীরে ধীরে লোহার গায়ে লালচে-বাদামি রঙের একটি স্তর জমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষয় বাড়ে এবং ধাতব কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও আর্দ্র পরিবেশে থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে।
কিন্তু দিল্লির এই লৌহস্তম্ভ কীভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মরিচামুক্ত রইলো?
সিএনএনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ভারতের আইআইটি কানপুরের একদল গবেষক এই রহস্যের সমাধান করেন।
তাদের গবেষণায় দেখা যায়, স্তম্ভটি তৈরি করা হয়েছিলো বিশেষ ধরনের পেটানো লোহা দিয়ে। আধুনিক লোহার তুলনায় এতে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি ছিলো। অন্যদিকে সালফার ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান ছিলো খুবই কম।
গবেষকেরা আরও বলেন, প্রাচীন ভারতীয় কারিগরেরা স্তম্ভটি তৈরিতে ‘ফোর্জ ওয়েল্ডিং’ নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে লোহাকে বারবার আগুনে গরম করে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এর ফলে লোহার মধ্যে ফসফরাসের মাত্রা উচ্চ অবস্থায় বজায় থাকে।
এ ছাড়া স্তম্ভটির গায়ে ‘মিসাওয়াইট’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ যৌগের স্তর তৈরি হয়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। লোহা, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত এই যৌগ ধাতুর ওপর একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে।
উচ্চ মাত্রার ফসফরাস এবং চুনের অনুপস্থিতিতে এই স্তর তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি স্তম্ভটিকে বৃষ্টি, রোদ ও আবহাওয়ার নানা প্রতিকূল প্রভাব থেকে রক্ষা করেছে।
গবেষকদের মতে, লৌহস্তম্ভটির মরিচা প্রতিরোধের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ফসফরাস। ধাতুর অন্যান্য গঠনগত বৈশিষ্ট্য বা উপাদানের তুলনায় এটিই স্তম্ভটিকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
কুতুব মিনারে লৌহস্তম্ভ এলো কীভাবে?
বর্তমানে লৌহস্তম্ভটি কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের অংশ হলেও এটি মূলত সেখানে নির্মিত হয়েছিলো কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে দিল্লি সালতানাতের শাসক শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের আমলে স্তম্ভটি কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ এবং বৃহত্তর কুতুব কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধারণা করা হয়, বিজয় ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিলো।
প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকা এই লৌহস্তম্ভ প্রাচীন ভারতীয় ধাতুবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। আর এ কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের বিস্মিত করে আসছে।
#chemistry #swad #রসায়ন
ক্যানসারের নতুন ইনজেকশন রোগীদের টিউমার পুরোপুরি নির্মূল করছে, দাবি বিজ্ঞানীদের
ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে পুরোপুরিভাবে টিউমার দূর করতে ত্রিমুখী কার্যক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ধরনের ইনজেকশন আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ ইনজেকশনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ থেকে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাকে নজিরবিহীন বলেছেন চিকিৎসকরা।
১১টি দেশে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) অংশ হিসেবে এই ইনজেকশন এমন রোগীদের দেওয়া হয়, যাদের ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিলো বা আবার ফিরে এসেছিলো। অন্য কোনো চিকিৎসায় যাদের রোগ উপশম হচ্ছিলো না।
অ্যামিভান্টাম্যাব নামের এই ইনজেকশন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগীর টিউমারের আকার ছোট করতে সক্ষম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। এমনকি ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা দেখতে পান, ওষুধটি তাদের টিউমার সম্পূর্ণভাবে গলিয়ে দিয়েছে বা নির্মূল করে দিয়েছে।
গবেষণায় পাওয়া ফলাফল গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করার কথা। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলন।
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত মোট ১০২ জন রোগীকে পরীক্ষামূলকভাবে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিলো। ক্যানসারের যেসব ধরনে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের অবস্থান ষষ্ঠ।
ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার আকারে ছোট হয়েছে বা সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের টিউমার উল্লেখজনকভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে।
গবেষকেরা বলেছে, ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানি অ্যামিভান্টাম্যাব নামের ইনজেকশনটি তৈরি করেছে। এখন প্রায় ৬০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে এ ইনজেকশনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মলদ্বারের ক্যানসার, মস্তিষ্কের ক্যানসার এবং পাকস্থলীর ক্যানসার আক্রান্তদের ওপরও এ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
এই ইনজেকশন ক্যানসারের বিরুদ্ধে তিনভাবে কাজ করে। এটি প্রথমে ইজিএফআর (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর) নামের একটি প্রোটিনকে আটকে দেয়। এ ইজিএফআর টিউমারকে বড় হতে সাহায্য করে। এ ইনজেকশনটি এমইটি নামের একটি পথকেও আটকে দেয়। ক্যানসার কোষগুলো অনেক সময় চিকিৎসা থেকে বাঁচতে এ পথ ব্যবহার করে। তৃতীয়ত, এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়তে সহযোগিতা করে।
অ্যামিভান্টাম্যাব ইনজেকশনটি শিরায় না দিয়ে ত্বকের নিচে ছোট ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। ফলে চিকিৎসা দ্রুত হয় এবং রোগীদের জন্য সুবিধাজনক হয়।
প্রতি তিন সপ্তাহ পর একবার এ ইনজেকশন দিতে হয়। এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিলো হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার। প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে ১ জনেরও কম রোগীকে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
#biology #swad #জীববিজ্ঞান
স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)
প্রখ্যাত উসমানীয় ইতিহাসবিদ মুস্তাফা আলী’র মতে, ‘সুলতান সুলাইমান শুধুমাত্র একজন বিখ্যাত শাসকই ছিলেন না, সমভাবে উনার ছিলেন একজন প্রখ্যাত নির্মাতা, যিনি মুসলিম বিশ্বের কিছু চিত্তাকর্ষক, শ্বাসরুদ্ধকর ও অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে নিজের দীপ্ত চিহ্ন রাখতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিলেন’। তাই সুলতান ‘সুলাইমানিয়াহ মসজিদ কমপ্লেক্স’কে বিশ্বের সবচেয়ে নয়নমনোহর, অভিজাত ও মার্জিত ভবনগুলির মধ্যে একটি বানাতে চেয়েছিলেন। উনার এই মহান কর্মের শুরু থেকে শেষ অবধি কাজের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে গভীর যতœশীল ছিলেন। সুলতানের মত মিমার সিনান পাশাও এই উসমানীয় সালতানাতকে গৌরবান্বিত করা এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিজয় চিহ্ন তুলে ধরার জন্য এই স্থাপনাকে সবদিক দিয়ে নিখুঁত করার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। যাইহোক, ১৫৫৭ খৃ: নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। স্বয়ং সুলতান মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেন এবং এর ফলে ইস্তাম্বুলের আকাশমন্ডলী চিরতরের জন্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। মসজিদটির বিরাট গম্বুজ এবং দীর্ঘ মিনারগুলো ইস্তাম্বুল শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখা যায়। এটি শেষ হবার পরে মিমার সিনান এতই খুশি হয়েছিলেন যে, তার এই স্থাপনাটিকে জীবনের শ্রেষ্ঠতম কর্ম হিসেবে বিবেচনা করেন। এটি উসমানী সালতানাতের শক্তি, ক্ষমতা এবং গরিমার প্রতিনিধিত্ত্ব করে।
সুলাইমানিয়া মসজিদের অবকাঠামো:
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৬৯ ও প্রস্থ ৬৩ মিটার। মূল গম্বুজের কাছে অবস্থিত লম্বা মিনারগুলো ৭৬ মিটার উঁচু, আর ছোট মিনারগুলো ৫৬ মিটার উঁচু। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অনায়াসে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এতে। মসজিদের উন্মুক্ত আঙিনার চার কোণে সুউচ্চ ও সুরম্য চারটি মিনার মসজিদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহু গুণে। ঐতিহাসিকভাবে মসজিদে মাত্র একটি মিনার থাকতো, যেখান থেকে মুয়াজ্জিনেরা আজান দিতেন। সুলায়মানিয়া মসজিদে প্রথমবারের মত চারটি মিনার ব্যবহার করা হয়। আর ১০টি ব্যালকনি নির্মাণ করা হয়।
মসজিদের মেহরাবের অভ্যন্তর পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ঐতিহ্যের স্মারক ও বিভিন্ন কারুকার্যের উপাদানে পরিপুষ্ট। চোখ ধাঁধানো বৈচিত্র ও বহুবিধ রংতুলিতে আঁকা লতাগুল্ম এবং সবুজ শ্যামলিমার হরেক রকম দৃশ্য আর পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার আয়াত শরীফ উনার অঙ্কিত ফলকগুলো চোখে পড়লে বিস্ময় জাগানিয়া অন্য রকম এক আবহ কাজ করে দর্শকদের ভাবনাজুড়ে। চিত্তাকর্ষক মেহরাবটির পাশেই রয়েছে সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি সুসংহত মিম্বর। বিভিন্ন রঙের কাচের জানালাগুলো দিয়ে যখন সূর্যের আলোকরশ্মি খেলা করে, তখন মনে হয়, মসজিদটি যেন সহগ্র রঙে সাজানো হয়েছে।
মসজিদের আঙিনার চারপাশ ঘিরে রয়েছে সবুজাবৃত সজীব একটি উদ্যান। সে এক অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য! অতি জাঁকজমকপূর্ণ নকশা ও অসম্ভব সুন্দর চিত্রাঙ্কন ছাড়া সুলাইমানিয়া মসজিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশালত্ব ও সুপরিব্যাপ্তি। মসৃণ ও ঝকঝকে টালি বসানো মেঝে দেখতে অসাধারণ। মসজিদের অন্যতম সৌন্দর্য হলো এর দেয়ালগুলো। সাতটি রং দিয়ে বার্নিশ করে বর্ণালি দৃশ্য আঁকা হয়েছে এতে। দৃশ্যগুলো সোনালি ও কালো সুতায় বেগুনি-লাল, গাঢ় নীল এবং অন্যান্য রঙের মিশেলে চিত্রায়িত। টিউলিপ ফুল, ভায়োলেট ফুল, লবঙ্গগাছ, ডেইজি ফুল, আঙুরপাতা ও আপেলগাছের ছবি ফুটে আছে ভেতরের প্রতিটি দেয়ালে।
শ্যামল নিসর্গের আবহ ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সুলাইমানিয়া মসজিদ সমধিক পরিচিত। তাই তুরস্কের ভ্রমণকারী মুসলিম পর্যটকদের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বিখ্যাত সুলাইমানিয়া মসজিদ।
মাস্টার স্টেজ:
মিমার সিনান ছিলেন একজন সত্যকারের ‘পারফেকশনিস্ট’। সুলাইমানিয়া মসজিদের মত অবিস্মরণীয় একটি কাজ সমাধার পরেও উনার মনের ক্ষুধা মেটেনি। তাই আরও সুন্দর, পরিপূর্ণ, মহিমাময় ও মহত্তম স্থাপত্য নির্মাণের প্রবল ইচ্ছা উনার মনে রয়েই যায়।
ক্যানসারের নতুন ইনজেকশন রোগীদের টিউমার পুরোপুরি নির্মূল করছে, দাবি বিজ্ঞানীদের
ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে পুরোপুরিভাবে টিউমার দূর করতে ত্রিমুখী কার্যক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ধরনের ইনজেকশন আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ ইনজেকশনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ থেকে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাকে নজিরবিহীন বলেছেন চিকিৎসকরা।
১১টি দেশে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) অংশ হিসেবে এই ইনজেকশন এমন রোগীদের দেওয়া হয়, যাদের ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিলো বা আবার ফিরে এসেছিলো। অন্য কোনো চিকিৎসায় যাদের রোগ উপশম হচ্ছিলো না।
অ্যামিভান্টাম্যাব নামের এই ইনজেকশন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগীর টিউমারের আকার ছোট করতে সক্ষম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। এমনকি ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা দেখতে পান, ওষুধটি তাদের টিউমার সম্পূর্ণভাবে গলিয়ে দিয়েছে বা নির্মূল করে দিয়েছে।
গবেষণায় পাওয়া ফলাফল গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করার কথা। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলন।
মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত মোট ১০২ জন রোগীকে পরীক্ষামূলকভাবে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিলো। ক্যানসারের যেসব ধরনে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের অবস্থান ষষ্ঠ।
ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার আকারে ছোট হয়েছে বা সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের টিউমার উল্লেখজনকভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে।
গবেষকেরা বলেছে, ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানি অ্যামিভান্টাম্যাব নামের ইনজেকশনটি তৈরি করেছে। এখন প্রায় ৬০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে এ ইনজেকশনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মলদ্বারের ক্যানসার, মস্তিষ্কের ক্যানসার এবং পাকস্থলীর ক্যানসার আক্রান্তদের ওপরও এ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
এই ইনজেকশন ক্যানসারের বিরুদ্ধে তিনভাবে কাজ করে। এটি প্রথমে ইজিএফআর (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর) নামের একটি প্রোটিনকে আটকে দেয়। এ ইজিএফআর টিউমারকে বড় হতে সাহায্য করে। এ ইনজেকশনটি এমইটি নামের একটি পথকেও আটকে দেয়। ক্যানসার কোষগুলো অনেক সময় চিকিৎসা থেকে বাঁচতে এ পথ ব্যবহার করে। তৃতীয়ত, এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়তে সহযোগিতা করে।
অ্যামিভান্টাম্যাব ইনজেকশনটি শিরায় না দিয়ে ত্বকের নিচে ছোট ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। ফলে চিকিৎসা দ্রুত হয় এবং রোগীদের জন্য সুবিধাজনক হয়।
প্রতি তিন সপ্তাহ পর একবার এ ইনজেকশন দিতে হয়। এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিলো হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার। প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে ১ জনেরও কম রোগীকে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
#biology #swad #জীববিজ্ঞান
স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৩য় পর্ব)
মিমার সিনান পাশার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন:
সুলতান মুহম্মদ আল ফাতিহ ঐতিহাসিক কনস্ট্যান্টিনোপল বিজয়ের পর এর নামকরণ করা হয় ‘ইসলামবুল’ (পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার শহর)। যদিও এখন ইস্তাম্বুল নামেই শহরটি পরিচিত। তারপরে উসমানীয়রা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শ্বাসরুদ্ধকর কিছু স্থাপত্য নির্মাণ করে এই প্রাচীন শহরটির আকাশমন্ডলীকে নতুনভাবে সজ্জিত করার পরিকল্পনা করে। আর এর পুরোভাগে ছিলেন মিমার সিনান।
মিমার সিনান পাশার বর্ণিল স্থাপত্য জীবনকে মোটা দাগে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা, শিক্ষানবিশ কাল, যোগ্যতার স্তর এবং মাস্টারস্টেজ।
শিক্ষানবিশ কাল:
প্রায় অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে, তিনজন ভিন্ন উসমানীয় শাসক যথা, সুলতান সেলিম, প্রথম সুলেইমান, দ্বিতীয় সেলিমের আমলে পূর্ণ সময়ের জন্য কাজ করেন মিমার সিনান এবং এই সময়ের মধ্যে উসমানীয় সাম্রাজ্য জুড়ে বহু পবিত্র মসজিদ, প্রাসাদ, পবিত্র মাজার শরীফ, কবরস্থান, গ্রন্থাগার, বিদ্যালয় ও সেতু নির্মাণ করেন। মিমার সিনান পাশার হাতেখড়ি হয় ছোটখাটো স্থাপনা, ব্রিজ ইত্যাদি নির্মাণ করে। এই স্তরের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ হলো ‘হাজিয়া সোফিয়া’র (আয়া সোফিয়া নামে আমরা যে স্থাপনাকে জানি) পুনঃসংস্কার। ইস্তাম্বুলের প্রাচীনতম ভবনগুলির একটি হিসাবে ‘হাজিয়া সোফিয়া’ (আয়া সোফিয়া) পুনরুদ্ধার করেছিলো উসমানীয় সুলতানগণ। আর এই বিশাল কাজটি আর কেউ নন, মিমার সিনানই করেছিলেন। উনার পুরো ভবনকে নতুন করে সাজান এবং উসমানীয় বিজয়ের প্রতীক হিসাবে পুরাতন ভবনের সাথে নতুন করে বেশ কিছু মিনার যোগ করেন।
১৫৪৭ খৃ: সিরিয়ার আলেপ্পোতে খসরুয়েভিয (কযঁংৎঁরিুধয) মসজিদ নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে সেই শহরের একটি ল্যান্ডমার্কে পরিণত হয়েছে। উনার বাগদাদে ইমামে আ’যম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নামে মসজিদ এবং কনিয়ায় জালালউদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি মসজিদ সংস্কার করেন। এ সমস্ত প্রকল্পগুলি মিমার সিনানকে স্থাপত্য ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী ভিত্তিভূমি প্রদান করে।
শেহজাদে মসজিদ কমপ্লেক্সে:
ইস্তাম্বুলের ‘শেহজাদে মসজিদ কমপ্লেক্সে’ই মিমার সিনান পাশার প্রথম বড় কাজ ছিলো। এই মসজিদটি সুলতান সুলাইমানের আদেশে তার পুত্র মুহম্মদ, যিনি ২২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, তার স্মরণে নির্মিত হয়। মসজিদের সাথে একটি মাদরাসা, লজিং হাউজ, এবং আর্থিক ভাবে অস্বচ্ছল যারা তাদের জন্য রান্নাঘরও নির্মাণ করেন। জানা যায়, এই স্থাপনাটি মিমার সিনান পাশাকে মোটেও সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এটিকে উনার এক আনাড়ী কাজ বলে গণ্য করতেন। যদিও এটি অত্যান্ত আকর্ষণীয় ছিলো। কিন্তু মিমার সিনান নিজেকে এমনভাবে তৈরী করেছিলেন যে, অল্পতে কখনোই সন্তুষ্ট থাকতে পারেননি। উনার সর্বদা নিজেকে তো বটেই এমনকি সুলতানের প্রত্যশাকেও ছাড়িয়ে যেতে চাইতেন। তিনি ছিলেন একজন অনন্যসাধারণ উদ্যমী নির্মাতা, উনার প্রতিটি কাজে জড়িয়ে থাকতো অনেক আবেগ, ও পরিকল্পনা। যা তাকে পরবর্তীতে আরো অসাধারণ কিছু কাজ করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। হাজিয়া সোফিয়া ছিলো মিমার সিনান পাশার কাজের অন্যতম উৎস এবং প্রেরণা।
মিমার সিনান পাশার যোগ্যতার স্তর:
এ সময় মিমার সিনান পাশা কাজে আরও সুদক্ষ হয়ে ওঠেন। এই স্তরে তার অন্যতম সেরা কাজ ছিল ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক ‘সুলাইমানিয়া মসজিদ কমপ্লেক্স’ নির্মাণ। অপরূপ সুন্দর ও বিশ্ববিখ্যাত এই মসজিদটি নির্মাণের জন্য সুলতান সুলাইমান নিজেই স্থান বাছাই করেন। ইস্তাম্বুলের বায়জিদ অঞ্চলের অনিন্দ্যসুন্দর ‘বসফরাস’ প্রণালির কোলঘেঁষা একটি ছোট্ট টিলার ওপর গড়ে উঠেছে মসজিদটির অবকাঠামো। ইতিহাসগ্রন্থে রয়েছে, নির্মাণকাজ আরম্ভ করার আগে মিমার সিনান পাশার সুলতানের কাছে মসজিদের যাবতীয় নকশা-রেখাচিত্র, ভাবনা ও পরিকল্পনার চিত্ররূপ পেশ করেন। চিত্রে শিল্পী মিমার সিনান পাশার দক্ষতা, মুনশিয়ানা ও চিন্তা-পরিকল্পনার সৌকর্য দেখে সুলতান খুবই আপ্লুত হন এবং তার পরিকল্পনার সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ধনভা-ার থেকে নির্মাণকাজের সব খরচ অবাধে পূরণ করার আদেশ দেন। সুলতান সুলাইমান চেয়েছিলেন এই মসজিদ ইস্তাম্বুলের আকাশমন্ডলিকে সমৃদ্ধ করুক। ১৫৫০ খৃ: মিমার সিনান পাশা সুলতানের উপস্থিতিতে এই ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সুলতান এই প্রকল্প নির্মাণকালে গভীর আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। মিমার সিনানও এই সুযোগ হাতছাড়া করতে একদম নারাজ ছিলেন। উনার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য নির্মাণ করতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিলেন।
স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (২য় পর্ব)
কর্মজীবন:
শারীরিকভাবে শক্তিশালী, প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য অতি অল্প সময়েই তিনি উসমানীয় বাহিনীতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হন। সূক্ষ যন্ত্রচালনা, যুদ্ধ ও সৈন্য পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতা, এবং অস্ত্র-শস্ত্রের নিপুণ কারিগর হিসেবে উনার সেনাবাহিনীতে নিজেকে অপরিহার্য করে তুললেন। সুলতান সেলিম প্রথম এর সাম্রাজ্য কালেই উনার প্রায় ১৫০টির অধিক নৌ যুদ্ধযান তৈরী করেছিলেন যার সাহায্যে উসমানীয়রা তার বহিঃশত্রুর বিপক্ষে নিজেদের শ্রেষ্ঠতর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৫২০ খৃ: সুলতান সেলিম প্রথম এর উত্তরসুরী হিসেবে সুলতান সুলাইমান ক্ষমতাসীন হয়েই হাঙ্গেরী, বেলগ্রেড, রোডস আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। সকল জায়গাতেই মিমার সিনান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধের সময়ে উনার এমন এক আর্টিলারি পদ্ধতি গড়ে তোলেন যার ফলে শত্রুরা একেবারে হতবুদ্ধি হয়ে পরাজিত হয়। সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে তার অসাধারণ বীরত্ব, কুশলতা ও সাহসিকতার মুগ্ধ হয়ে সুলতান তাকে কামান পরিচালনা বিভাগের চিফ অব স্টাফ হিসেবে পদোন্নতি দেন। যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া, ব্রীজ নির্মাণ, ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট মেরামত, যুদ্ধ সরঞ্জামাদি মেরামত ইত্যাদি কাজে তিনি অতি দক্ষ ছিলেন।
এই সামরিক সফরের সময় উনার সমগ্র সাম্রাজ্য জুড়ে ভ্রমণ করেন, যথা, বাগদাদ, দামেশক, পারস্য ও মিশর। এসব ভ্রমণ থেকে তিনি অনেক অগাধ শিক্ষালাভ করেন।
মিমার সিনার নিজে বলেছেন-
"I swa the monuments, the great ancient remains. From every ruin I learned, from every building I absorbed something."
“আমি স্মৃতিস্তম্ভ গুলোতে সমৃদ্ধ অতীতকে খুঁজে ফিরি। প্রত্যেকটি ধ্বংসাবশেষ থেকে আমি শিখি, প্রত্যেকটি নির্মাণ থেকে আমি কিছু না কিছু গ্রহণ করি।”
প্রধান রাজ স্থপতি এবং নির্মাতা:
স্থাপত্যকলায় অসাধারণ পারঙ্গমতা এবং বহুবিধ গুণ ও যোগ্যতার বলে ১৫৩৮ খৃ: ৪৯ বছর বয়সে সুলতান সুলাইমানের রাজকীয় সভায় প্রধান স্থপতি এবং নির্মাতা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন তিনি। একটানা পঞ্চাশ বছর তিনি এই পদে বহাল ছিলেন। যদিও তার নিয়োগের সময়ে রাজসভায় ডজনখানেক নামকরা স্থাপত্যবিদ এবং নির্মাতা কাজ করছিলেন। তবু সুলতান তার নিয়োগের ব্যাপারে ছিলেন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সুলতান চেয়েছিলেন মিমার সিনানের মাধ্যমেই রাজ্যের প্রধান প্রধান স্থাপনা নির্মিত হোক। এটি শুধু যে মিমার সিনান পাশার জীবনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করলো তাই না বরং ইসলামী স্থাপত্য ও শিল্পকলার ইতিহাসে সবচেয়ে ফলপ্রসূ এক যুগের সূচনা হলো। সুলতান সুলাইমানের আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতায় তার মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে চোখ ঝলসানো এবং অনুকরণীয় স্থাপত্য নির্মাণ করেন।
মিমার সিনান পাশার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ:
মিমার সিনান পাশার অন্যান্য স্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা হলো- পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফ পুনঃসংস্কার। ১৫৭০ খৃ: সুলতান সেলিম দ্বিতীয় হারামাইন শরীফ উনার মসজিদের পুনঃসংস্কারের জন্য মিমার সিনানকে দায়িত্ব দেন। উনার মসজিদের অভ্যন্তরীণ সমতলভাগকে সুশোভিত গম্বুজ দিয়ে সজ্জিত করেন এবং ইসলামী ক্যালিগ্রাফিযুক্ত নতুন সাপোর্ট কলাম স্থাপন করেন। এগুলো বর্তমান মসজিদ এর সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য হিসাবে স্বীকৃত যা এখনো টিকে আছে।