সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (১৩)
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের পর:
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশের পর সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার দিকে দৌড়ে গিয়ে দেখেন কিভাবে পথভ্রষ্ট পাপীদের তরবারি ও বর্ষা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনাকে ছিন্নভিন্ন করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! শত্রুদের ঘেরাও থাকা সত্ত্বেও তিনি মর্যাদা ও সম্মানের সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার সামনে দাঁড়ান এবং বলেন— ‘আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমাদের এই কুরবানী মুবারক ক্ববূল করুন।’ সুবহানাল্লাহ!
এরপর ইয়াযীদ বাহিনীর মাল‘ঊন সৈন্যরা তাদের মাল‘ঊন সেনাপতির আদেশে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার কাফেলার তাঁবুগুলোর ভিতরে থাকা মালামাল লুট করে এবং মশাল নিয়ে কাফেলার তাঁবুগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! তাঁবুগুলোতে আগুন জ্বালানোর পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে যাঁরা মহিলা এবং শিশু ছিলেন উনারা এই কঠিন পরিস্থিতিতে পর্যায়ক্রমে এক তাঁবু থেকে বেরিয়ে আরেক তাঁবুতে, আরেক তাঁবু থেকে বেরিয়ে আরেক তাঁবুতে, আরেক তাঁবু থেকে বেরিয়ে আরেক তাঁবুতে তাশরীফ মুবারক নেন। আর মহাসম্মানিত শিশু উনারা সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে জড়িয়ে ধরে থাকেন, আবার অনেকে দৌড়িয়ে এদিক সেদিক যেতে থাকেন।
তাছাড়া ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির মাল‘ঊন সৈন্যরা বর্শার নিম্নভাগ দ্বারা মহাসম্মানিত মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে আঘাত করে এবং উনাদের অলংকার মুবারকগুলো ছিনিয়ে নেয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! মাল‘ঊনগুলি ঐ সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি কঠিন যুলুম—নির্যাতন করে এবং উনাদের সাথে চরম বেয়াদবীমূলক আচরণ করে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ কঠিন সময়গুলোর কথা উল্লেখ করে ইরশাদ মুবারক করতেন— ‘আমি যখনই আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফুফু সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বোন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের দিকে তাকাই, তখন আমার চোখ মুবারক দিয়ে কান্না মুবারক প্রবাহিত হয় এবং সেই কঠিন পরিস্থিতির কথা স্মরণ হয়।’
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (১২)
বেমেছাল আত্মত্যাগ মুবারক:
সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সাথে উনার দুইজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আউন আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুইজন কারবালার প্রান্তরে উপস্থিত ছিলেন। সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উনার এই দুইজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার জন্য কুরবান করে দেন। উনারা দুইজন জিহাদ করতে করতে ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহির বাহিনীর কাফিরদেরকে জাহান্নামে পাঠাতে পাঠাতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! যখন উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার সামনে নিয়ে আসা হয়, তখন তিনি শুকরিয়া আদায় করেন এবং বলেন, “আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি আমার এই কুরবানী মুবারক ক্ববূল করেছেন, এজন্য আপনার শুকরিয়া। কিয়ামতের দিন আমি যেন আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনাকে বলতে পারি— আমি আপনার লখতে জিগার সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার জন্য আমার দুইজন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে কুরবানী মুবারক করেছি।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (১১)
কারবালার প্রান্তরে:
সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি যখন কারবালার প্রান্তরে উপস্থিত হন, তখন উনার সাথে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বোন সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনিও ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (১০)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম—আলাইহিন্নাস সালাম:
সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম—আলাইহাস সালাম উনারা ছিলেন ৫ জন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আবনা আলাইহিমুস সালাম ৪ জন এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাত আলাইহাস সালাম ১ জন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আবনা আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন— (১) সাইয়্যিদুনা হযরত আউন আলাইহিস সালাম তিনি, (২) সাইয়্যিদুনা হযরত আলী আলাইহিস সালাম তিনি, (৩) সাইয়্যিদুনা হযরত মুহম্মদ আলাইহিস সালাম তিনি এবং (৪) সাইয়্যিদুনা হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম তিনি। আর ১ জন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাত আলাইহাস সালাম হচ্ছেন— সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (৯)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ:
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর আলাইহিস সালাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (৮)
একখানা মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক:
একবার সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি একখানা মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখেন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে হাযির হয়ে বলেন— আমি একখানা মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল আয্হার মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক) উনার উপর বসালেন এবং বূছা মুবারক দিয়ে মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার বর্ণনা দিতে বললেন। তিনি বর্ণনা করলেন— “গতরাতে আমি দেখলাম— একটি প্রলয়ঙ্করী ঝড় যেন সবকিছুকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে ফেললো। তাই, আমি একটি বড় বৃক্ষের নিকট গিয়ে দৃঢ়ভাবে এর পাতার সঙ্গে ঝুলে থাকলাম, যেন ঝড় আমাকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে না পারে। কিন্তু ঝড় বৃক্ষটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিল এবং ডালও ভেঙ্গে গেলো। তাই, আমি আরেকটি ডালে ঝুলতে থাকলাম; কিন্তু ঝড় তাও ভেঙ্গে ফেললো। এরপর আমি আরেকটি ডালে ঝুলতে থাকলাম, আর সেটিও ভেঙ্গে গেলো। এরপর আমি এই বৃক্ষের দুটি শাখার একটিতে ঝুলতে গেলাম; অথচ ঝড়ো হওয়া সেটিও ভেঙ্গে দিলো। এরপর আমি জেগে গেলাম।”
মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার কথা শুনামাত্রই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অজ¯্রধারায় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রকাশ করতে থাকলেন (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কান্না মুবারক করতে থাকলেন।) তারপর সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক উনার ব্যাখ্যা মুবারক দিলেন যে, “বৃক্ষ হচ্ছেন— আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। প্রথম ডাল হচ্ছেন— আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহি সালাম তিনি। আর দ্বিতীয় ডাল হচ্ছেন— আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান, ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহি সালাম তিনি। অন্য দুটি শাখা হচ্ছেন— আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুই ভাই সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি এবং সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা। এই পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হবে, যখন উনারা তা ত্যাগ করবেন এবং উনাদের কষ্টের কারণে আপনি শোকের পোশাকে আবৃত হবেন।”
সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম (৭)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন, যখন সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি শিশু অবস্থায় ক্রন্দন করতেন, তখন সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোল মুবারক—এ দেয়া হলেই তিনি শান্ত হয়ে যেতেন। সুবহানাল্লাহ! সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার নিকট থাকাতেই তিনি সবচেয়ে বেশি প্রশান্তি মুবারক লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ! আর একারণেই যখন পরিণত বয়স মুবারক—এ সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার মহাসম্মানিত প্রস্তাব মুবারক আসতে থাকেন, তখন তিনি এই শর্তে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ—এ রাজি হন যে, প্রতিদিন উনাকে সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে দেখা করতে যেতে দিতে হবে এবং সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি যেখানেই সফর মুবারক করবেন উনাকেও সেই সফর মুবারক—এ উনার সাথে যেতে দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত জা’ফর ইবনে আবূ ত্বালিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জা’ফর আলাইহিস সালাম তিনি এই শর্তে রাজি হলে উনাদের মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রতিদিন তিনি সকাল—বিকাল উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সাথে দেখা করতে আসতেন। সুবহানাল্লাহ!