মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা বাক্বারা শরীফের ৪৩, ৮৩, ১১০ নং আয়াত শরীফসহ পবিত্র কুরআন শরীফ-এর আরো কয়েক স্থানে ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা নামায কায়েম করো।
প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন।
প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে হাক্বীক্বীভাবে তথা ইখলাছের সাথে নামায আদায় করা এবং উক্ত নামায দ্বারা সমস্ত গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকা।
, ২০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মূল্যহীন।
ছাহবিাতু সাইয়্যদিলি আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যদিাতু নসিায়লি আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহবিায়ে নয়োমত, রহমাতুল্ললি আলামীন, আহলু বাইতি রসূলল্লিাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়মি মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মনিীন আলাইহন্নিাস সালাম, সাইয়্যদিাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তনিি বলনে, মহান আল্লাহ পাক তনিি সূরা বাক্বারা শরীফরে ৪৩, ৮৩, ১১০ নং আয়াত শরীফসহ পবত্রি কুরআন শরীফ-এর আরো কয়কে স্থানে ইরশাদ মুবারক করনে, তোমরা নামায কায়মে করো। নামায সম্মানতি শরীয়ত উনার অন্যতম এক ফরয আমল, যা মানুষকে ফাহশো, হারাম, নাজায়যি ও নাফরমানীমূলক কাজ থকেে বরিত রাখ।ে এ বষিয়ে মহান আল্লাহ পাক তনিি ইরশাদ মুবারক করনে, নশ্চিয়ই নামায মানুষকে ফাহশো এবং নষিদ্ধি কাজ থকেে বরিত রাখ।ে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার যকিরিই সবচযে়ে বড়। তোমরা যা করো মহান আল্লাহ পাক তনিি জাননে। সুবহানাল্লাহ! এই আয়াত শরীফ দ্বারা এই বষিয়টইি প্রতীয়মান হয়, যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে তার নামায তাকে সমস্ত গুনাহর কাজ থকেে বরিত রাখব।ে এখন দখো যায়, মানুষ নামায পড়ে আবার গুনাহর কাজও করে থাক।ে কারণ নামায সঠকিভাবে আদায় হয় না, তাই নামায দ্বারা ফায়দা লাভ করতে পারে না র্অথাৎ যসেব গুনাহর কাজ থকেে বঁেচে থাকার কথা ছলি, সসেব গুনাহর কাজ থকেে বঁেচে থাকতে পারছে না। সুতরাং নামায কভিাবে আদায় করলে তা সঠকিভাবে আদায় হবে তা জানা জরুরী।

সাইয়্যদিাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তনিি বলনে, মহান আল্লাহ পাক তনিি ইরশাদ মুবারক করনে, আমার স্মরণইে নামায ক্বায়মে করো। র্অথাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে নামায আদায় করতে হব,ে নামাযে দাঁড়যি়ে দুনযি়াবী বষিয় বা গাইরুল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকলে নামায সঠকিভাবে আদায় হবে না। যহেতেু নামাযে দাঁড়যি়ে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে থাকা হয় না তাই নামায সঠকিভাবে আদায় হয় না। নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় গাইরুল্লাহর ফকিরি অন্তরে কনে আসে এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তনিি ইরশাদ মুবারক করনে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার যকিরি থকেে গাফলি থাকে তার জন্য আমি একটি শয়তান নর্ধিারণ করে দইে। অতঃপর সে (শয়তান) তার সঙ্গী হয়ে যায়। নশ্চিয়ই তারা (সঙ্গী শয়তানরা) তাদরেকে (গাফলি ব্যক্তদিরেক)ে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে অবশ্যই বাধা দবিে বা তাদরেকে মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থকেে ফরিযি়ে রাখব।ে আর (মহান আল্লাহ পাক উনার পথ থকেে সরে গযি়)ে তারা মনে করে তারা হদিায়তেপ্রাপ্ত। নাঊযুবল্লিাহ!

সাইয়্যদিাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তনিি বলনে, মহান আল্লাহ পাক তনিি আরো ইরশাদ মুবারক করনে, শয়তান যার সঙ্গী হয়, সে হয় নকিৃষ্ট সঙ্গী। যারা মহান আল্লাহ পাক উনার যকিরি থকেে গাফলি থাকে শয়তান তাদরে সঙ্গী হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার আদশে-নষিধে মুবারক পালন করা থকেে গাফলি করে রাখ।ে এমতাবস্থায় তারা মনে করে যে তারা সঠকি পথইে আছে এবং সঠকি কাজই করে যাচ্ছ।ে এই নকিৃষ্ট সঙ্গী শয়তানরে ওয়াসওয়াসার কারণইে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে নামায আদায় করা বান্দাদরে পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলশ্রুততিে তাদরে নামায হয় প্রাণহীন। আর প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক তনিি কবুল করনে না। যমেনভিাবে মানুষরে দহেে প্রাণ না থাকলে সে মানুষটরি কোনো ক্বদর বা মূল্য থাকনো, তমেনই প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নকিট মূল্যহীন হওয়ার কারণে তা কবুল হয় না এবং এর দ্বারা গুনাহর কাজ থকেে বঁেচে থাকা সম্ভব হয় না। তাই জানা আবশ্যক য,ে কার নামাযে প্রাণ রয়ছে।ে

সাইয়্যদিাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তনিি বলনে, মূলকথা হলো- প্রাণহীন নামায মহান আল্লাহ পাক উনার নকিট মূল্যহীন। প্রত্যকে মুসলমানরে দায়ত্বি-র্কতব্য হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণে হাক্বীক্বীভাবে তথা ইখলাছরে সাথে নামায আদায় করা এবং উক্ত নামায দ্বারা সমস্ত গুনাহর কাজ থকেে বঁেচে থাকা।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘(আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল মুবারক ও রহমত মুবারক অর্থাৎ আমাকে পাওয়ার কারণে তোমাদের উচিত ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা।’ সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাসে যমীনে মুবারক তাশরীফ আনেন- সেই মহাসম্মানিত মাস উনার মুবারক নামকরণ করা হয়েছে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম, পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা আসতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি।
অতএব, সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- সেই মহাসম্মানিত মাস উনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বত করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- সেই মহাসম্মানিত মাস উনাকে সর্বোচ্চ তা’যীম-তাকরীম ও জাঁকজমকের সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরণ করার জন্য এখন থেকেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যা সকলের জন্যই ইহকাল ও পরকাল উভয়কালে নাজাত লাভের কারণ হবে। সুবহানাল্লাহ!
, ২০ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১

রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাত্রিতে আরশে আযীম শরীফে তাশরীফ মুবারক নিচ্ছিলেন, তখন তিনি উনার মহাপবিত্র নূরুল ফখর মুবারক (না’লাইন শরীফ) খুলবেন কিনা ফিকির করছিলেন, সেই মুহূর্তে খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র ওহী মুবারক করে বললেন, আয় আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি না’লাইন শরীফ খুলবেন না; আপনার পবিত্র নূরুল ফখর (না’লাইন শরীফ) এবং উনার সাথে লেগে থাকা পবিত্র নূরুশ শরাফাত (ধুলা-বালি) মুবারকগুলো আপনার পবিত্রতম পরশ মুবারক পাওয়ার কারণে এতো পবিত্রতম মর্যাদাবান হয়েছেন যে, তা যদি পবিত্র আরশে আযীম মুবারক উনাকে স্পর্শ করে, তাহলে পবিত্র আরশে আযীম আরো লক্ষ-কোটিগুণ বেশী সম্মানিত হবেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, উক্ত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রতিভাত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নূরুল ফখর (না’লাইন শরীফ) উনার স্পর্শে যদি মহান আল্লাহ পাক উনার আরশে আযীম আরো ধন্য ও মর্যাদাবান হওয়ার কারণ হয়; তাহলে তিনি যেই মহাসম্মানিত মাসে যমীনে তাশরীফ মুবারক আনলেন, সেই মহাসম্মানিত মাস উনার ফযীলত কত লক্ষ-কোটিগুণ বেশি? সেই মাস কত বেমেছাল মর্যাদাবান ও সম্মানিত হবেন- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সেই মহাসম্মানিত মাস উনাকে ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- যে মাসে মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে মুবারক তাশরীফ আনেন- সেই মহাসম্মানিত মাস উনার মুবারক নামকরণ করা হয়েছে ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ।’ সুবহানাল্লাহ!

যা আসতে আর মাত্র ১০ দিন বাকি। অতএব, সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- সেই মহাসম্মানিত মাস উনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বত করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আগত মহাসম্মানিত মাস উনাকে সর্বোচ্চ তা’যীম-তাকরীম ও জাঁকজমকের সাথে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরণ করার জন্য এখন থেকেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি, বাজেট ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যা সকলের জন্যই ইহকাল ও পরকাল উভয়কালে নাজাত লাভের কারণ হবে। সুবহানাল্লাহ!

12 w

আপনি কি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেতে চান?

নিশ্চয়তা পাওয়ার সেই আমলটি কি?
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক - উনার তরফ থেকে কুরবানী করা যা ফরয কোরবানি হিসেবে অবহিত।

এই কুরবানী করলে কি হবে? আপনি কি কি পাবেন? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি একবার দরূদ শরীফ পাঠ করলে ১০টি রহমত পাওয়া যায়। তাহলে উনার তরফ থেকে কোরবানি করলে, কি পাওয়া যাবে?
- নিজের ওয়াজীব কুরবানী তো কবুল হবেই, সাথে সাথে আরও অনেক সফলতার নিশ্চয়তা রয়েছে, যেমন:

১) অতীতের গুনাহখাতা ক্ষমা করা হবে। প্রতিটি পশমের জন্য ১০টি গুনাহখাতা মাফ হয়। পশুর অগনিত পশমের জন্য গুনাহখাতা মাফ হয়ে মাছুম হয়ে যাবেন।

২) বর্তমানে প্রতিটি পশমের জন্য ১০টি নেকী পাওয়া যাবে, ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি হবে, আবার মুত্তাকী হিসেবে কুদরতী রিযিকের ফায়সালা হবে। (সূরা মায়িদা শরীফ : আয়াত শরীফ ২৭, সূরা আত-তালাক শরীফ ২-৩)।

৩) ভবিষ্যতে- যিনি কুরবানীর পশুর পেট চিরবেন হাশরের ময়দানে তার কোন কষ্ট লাগবে না। উনাকে হাউজে কাউসার শরীফ উনার পানি পান করানো হবে। তিনি জান্নতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আর পিপাসার্ত হবেন না। তারপর, মীযানে সত্তরগুণ বৃদ্ধি করে কুরবানীর পশুর হাড়, সিং, খুড়, পশম, চামড়া, ইত্যাদি ৭০ গুন বৃদ্ধি করে নেকির পাল্লায় চাপিয়ে দেয়া হবে। ফলে ডানদিকের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। উনার জান্নাত ফয়সালা হবে। সুবহানাল্লাহ! আর কোরবানির পশুটি পুলিসিরাত পার হওয়ার বাহন হবে (আরিযাতুল আহওয়াযী লী শরহে তিরমিযী)।

জান্নাতে- পশুর দেহের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে ১ টি করে জান্নাতি বালাখানা, পশুর মাথার প্রতিটি পশমের বিনিময়ে ১ জন হুর মুবারক দেয়া হবে, পশুর প্রতিটি হারের টুকরার বিনিময়ে ১ টি করে জান্নাতি বোরাক, পশুর প্রতিটি গোস্তের টুকরার বিনিময়ে ১টি করে জান্নাতি পাখি পাওয়া যাবে।

সেই জন্য আপনি নিজে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষে ফরজ কুরবানী করুন এবং এবং অন্যদেরকেও এই বিষয়টি পৌঁছে দিন। কারণ- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটা বলেছেন- “আমার তরফ থেকে একটি আয়াত শরীফ হলেও তা ছড়িয়ে দিন”।

তাহলে একদিকে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিন্ত হবে এবং অন্যদের প্রতি আপনার দায়িত্ব পালন থেকেও মুক্তি পাবেন। “যেদিন অর্থাৎ কেয়ামতের দিন একজন মানুষ তার ভাই, তার মা, তার পিতা, তার সঙ্গী এবং তার সন্তানদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে! (পবিত্র সূরা আবাসা শরীফ, ৩৪-৩৬)” কারণ কেয়ামতের ময়দানে তারা আপনাকে আটকাবে। এই উছিলায় অর্থাৎ এই ফরজ কুরবানী যদি তারা করতে পারে তাহলে তারা মুক্ত হবে এবং আপনিও মুক্ত হয়ে যাবেন। আপনাকে আর আটকাবে না।

আর যদি না করা হয় তাহলে- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে। তার পুলসিরাতের বাহন পাবেনা, জান্নাতি বালাখানা পাবে না, কোন নিয়ামতই সে পাবে না। সে উম্মত থেকে খারিজ হয়ে যাবে। কারণ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবেনা সে যেনো আমাদের ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)।

আপনার টাকা-পয়সা থাকলে এই ফরয কুরবানী করুন। এটা আপনার জীবনের শেষ সুযোগ হতে পারে। পরে আপনি এই সুযোগ নাও পেতে পারেন। এই এক সুযোগে অনেক প্রাপ্তি- অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত তেমনি অন্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও মুক্তি।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে ফরজ কুরবানী করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

image

১৯ ২ ৪৮

হযরত আলী ইবনে আবি তালিব উনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময় বহু গুরুত্বপূর্ণ নসীহত ও ওসিয়ত করেছেন। নিচে প্রসিদ্ধ কিছু ওসিয়ত ও উপদেশ তালিকাভুক্ত করা হলো—
“তুমি আল্লাহকে ভয় করো, মানুষের ভয় করো না।”
— তাকওয়া ও সত্যের উপর অটল থাকার শিক্ষা।
“রাগ করো না।”
— ক্রোধ নিয়ন্ত্রণকে ঈমান ও উত্তম চরিত্রের অংশ হিসেবে শিক্ষা দিয়েছেন।
“গরীব-মিসকীনদের ভালোবাসো এবং তাদের নিকটবর্তী থাকো।”
“আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করো না, যদিও তারা তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে।”
“সত্য কথা বলো, যদিও তা তিক্ত হয়।”
“অত্যাচারীর সামনে হক কথা বলা উত্তম জিহাদ।”
“নামাযকে গুরুত্ব দাও; কেননা নামায দ্বীনের স্তম্ভ।”
“কুরআন তিলাওয়াত করো এবং তার উপর আমল করো।”
“দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ো না; আখিরাতকে প্রাধান্য দাও।”
“মানুষের জন্য তাই পছন্দ করো, যা নিজের জন্য পছন্দ করো।”
“অহংকার থেকে বেঁচে থাকো; অহংকার আল্লাহর অপছন্দনীয়।”
“ক্ষমা করতে শিখো; ক্ষমা মর্যাদা বৃদ্ধি করে।”
“যিকির বেশি করো; আল্লাহর যিকির অন্তরকে জীবিত রাখে।”
“মন্দ সঙ্গী থেকে দূরে থাকো; সৎ সঙ্গী গ্রহণ করো।”
“অন্যায় দেখলে হাত, মুখ বা অন্তর দ্বারা প্রতিরোধ করো।”
“ঋণ থেকে বাঁচার চেষ্টা করো; ঋণ মানুষকে চিন্তাগ্রস্ত করে।”
“হালাল রিজিক অনুসন্ধান করো।”
“ইলম অর্জন করো; আলেমের মর্যাদা ইবাদতকারীর চেয়েও উচ্চ।”
“স্ত্রী ও পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ করো।”
“মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করো; এতে দুনিয়ার মোহ কমে যায়।”
এগুলোর অনেকগুলো বিভিন্ন হাদীসগ্রন্থে এসেছে—যেমন জামি আত-তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ, সহীহ মুসলিম, আদাবুল মুফরাদ ইত্যাদিতে বর্ণিত বিভিন্ন নসীহত থেকে সংকলিত।

✴️অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ زَيْدِ ابْنِ طَلْحَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِكُلِّ دِيْنِ خُلُقًا وَخُلُقُ الْإِسْلَامِ الْحَيَاءُ. (رواه مالك مرسلا وراه ابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان عَنْ أَنَسٍ وَ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا)

হযরত যায়েদ ইবনে জ্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক দ্বীনেরই একটি বিশেষ স্বভাব রয়েছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বভাব হলো লজ্জা।

[মুয়াত্তা, ইবনে মাজাহ ও বাইহাক্বী শরীফ]

যারা দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করবে তাদের স্বভাব, লজ্জা দ্বারা সৌন্দর্যমন্ডিত হবে। কোন কাজ করার পূর্বে লক্ষ্য করবে এর ফলাফল কি দাঁড়াবে। যদি কাজটির কারণে লজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে এরূপ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

✴️পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا. (رواه ابو داود والدارمي)

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মু'মিনের ঈমান পূর্ণতা লাভ করবে উত্তম চরিত্রের দ্বারা।

[আবু দাউদ ও দারিমী শরীফ]

অর্থাৎ যার চরিত্র উত্তম সে পরিপূর্ণ ঈমানদার। সুবহানাল্লাহ! চরিত্র উত্তম করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করতে হবে