সুন্নত মুবারক হাক্বীক্বত: ওহীয়ে মাতলূ ও ওহীয়ে গায়রে মাতলূ
এরা মনে করে... আরে সুন্নত অর্থটা কি? এরা মনে করে সুন্নত একটা হালকা জিনিস নাউযুবিল্লাহ। আরে সুন্নতের এমনে আমভাবে অর্থ হচ্ছে তরীক্বা, তরতীব। এটা তো শরীয়ত সম্মত। শরীয়তের অর্থ হচ্ছে সুন্নত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যা করেছেন, বলেছেন বা আদেশ নিষেধ সেটা হলো সুন্নত মুবারক। এর অর্থ সুন্নতটা তো হালকা না।
এখন ফরজটা আল্লাহ পাক বলছেন, সুন্নতটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ... ঠিক আছে তাহলে ফরজ তো আল্লাহ পাক কোথায় বলছেন আল্লাহ পাক? দলিল কই? হ্যাঁ? আল্লাহ পাক বলছেন কখন বলে গেছেন আল্লাহ পাক? ও তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলতেছেন আল্লাহ পাক বলছেন এটা আমরা বিশ্বাস করছি। তো আল্লাহ পাক বললেন কোথায়? সব তো বললেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বললেন। তাইলে একই তো কথা।
এজন্য ওহীয়ে মাতলূ গায়রে মাতলূ একই জিনিস। একটা মাতলূ একটা গায়রে মাতলূ। সবটা তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলছেন। আল্লাহ পাক বললেন কোথায়? উনি বলছেন যে আল্লাহ পাক এটা বলেছেন। আমরা উনাকে বিশ্বাস করলাম। আল্লাহ পাককে তো আমি দেখি নাই, শুনি নাই। উনি তো আমাকে বলেন নাই।
তাহলে প্রথমত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাস করতে হবে, উনাকে মানতে হবে। উনার কথাকে আগে গুরুত্ব, তাহলে আমি পরে কুরআন শরীফে গুরুত্ব দিতে পারব। আল্লাহ পাকের গুরুত্ব দিতে পারব। নইলে সে দিতে পারবে না। কাফেররা তো গুরুত্ব দিতে পারে নাই। কাফেররা আল্লাহ পাককে বলছেন যে আমার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম উনাকে বিশ্বাস করো, ওই বিশ্বাস তো করে নাই। ধ্বংস হয়ে গেছে। উনাকে বিশ্বাস করা আগে ফরজ ছিল প্রথমে। বিষয়টা তো সূক্ষ্ম বিষয়। এটা ফিকির করতে হবে।
বলছেন যে এজন্য 'ইন্নাহা লা মিছলুল কুরআনি আও আকছারু' আমি যা আদেশ করি, ওয়াজ করি, নিষেধ করি এটা হচ্ছে কুরআন শরীফ উনার অনুরূপ বরং তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাম। ওইটা গুরুত্ব না দিলে সে কোনদিন ঈমানদার হইতে পারবে না। কখনোই না। সৃষ্টির কারো পক্ষে সম্ভব না। সবাই প্রথম আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে যাইতে হবে। উনার মাধ্যম দিয়ে যাইতে হবে, এছাড়া কোনো মাধ্যম নাই।
১৬. আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলা ও সুন্নত ব্যতীত ফরজ অপূর্ণ [২৫:০৫ - ২৮:৪২]
এখন যেমন ঐ আহলে বাইত ইমাম... ইমাম জাফর সাদিক বা ইমাম বাক্বির উনারা বলছেন—'নাহনু আহলুল বাইতি নাহনু আল ওসীলাতু ইলাল্লাহ। নাহনু আল ওসীলাতু ইলাল্লাহ, লা ওসীলাতা ইলাল্লাহি ইল্লা মিন সিওয়ানা।' আমরা হচ্ছি আল্লাহ পাক উনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার জন্য আমরা উসীলা। আমরা ছাড়া কোনো উসীলা নাই। আমাদের আমরাই আমাদের তর্জুকী হচ্ছে উসীলা। এখন উনারা যদি উসীলা হন তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কি? হ্যাঁ? তাহলে উনাকে ছাড়া যাবে কেমনে? সবকিছু তো উনাকে হয়েই যাইতে হবে। উনার মাধ্যম দিয়ে যাইতে হবে, এছাড়া কোনো রাস্তা নাই।
কাজেই সুন্নাত শরীফ আগে সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে আগে প্রথম ফরজ, তারপর বাকি ফরজ। সে যদি এটা পালন করতে না পারে তাহলে পালন করতে পারবে না। যেকোনো আমল করতে হইলে সুন্নত মুবারক ছাড়া ফরজ কোনোদিন পূর্ণ হবে না। একটা লোক নামায পড়তে হইলে প্রথমে তাকে সুন্নতটাই পালন করতে হয়। নামাযে দাঁড়াইতে হবে যেটা নামাযের ক্বিয়ামটা ফরজ হইলো পরে, আগে তো তার সুন্নতটা আগে দাঁড়ানোর তরতীব করতে হইবো। এখন যদি বাঁকা হয়ে দাঁড়ায় থাকে তাহলে হইলো এটা? দাঁড়ানো ফরজ তো বাঁকা হয়ে দাঁড়ায়ে রইলো। হ্যাঁ, হবে? ওটা সুন্নত মোতাবেক দাঁড়াইতে হবে। ক্বেরাত পড়া ফরজ, তো ক্বেরাত যদি বাঁকা-ত্যাড়া পড়ে? সুন্নত অনুযায়ী ক্বেরাত পড়া ফরজ।
সবটা তো সুন্নত মুবারক অনুযায়ী যাইতে হবে। এর বাইরে যাইতে পারবে না। ওযু, গোসল, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত যা আছে সবটাই সুন্নত মুবারক অনুযায়ী করতে হবে। ওই ফরজটা কোনোদিন পূর্ণ হবে না, ফরজটা কোনো আদায়ও হবে না সুন্নত মুবারক ছাড়া। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ছাড়া কোনো কিছুই পূর্ণ হবে না এবং আদায়ও হবে না। সে ঈমানদারই হইতে পারবে না।
কাজেই এখানে সুন্নত মুবারক বলতে এটা ওই যেটা মানুষ মনে করে সেটা মানুষ ভুল বুঝে এটা। কিন্তু আগে সুন্নত মুবারক গুরুত্ব দিতে হবে। তারপরে সে ফরজকে গুরুত্ব দিতে পারবে, অন্যথায় কোনোদিন সে পারবে না। তো অনেক কঠিন বিষয়। এখন মানুষ বলতে পারে আমরা সব পারি না। ঠিক আছে, আমরা পারার মতো আমরা আমাদের পক্ষে পারা সম্ভবও না। উপযুক্তই না। আমাদের তো যোগ্যতাই তো নাই। এখন যদি যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব আল্লাহ যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যদি রহমত মুবারক করেন, দয়া মুবারক করেন, এহসান মুবারক করেন তখন আমাদের পক্ষে সম্ভব। এছাড়া কোনোদিন তো সম্ভব না।
একটা আম লোক, মূর্খ লোক, একটা সাধারণ লোক সে সুন্নত পালন করার তার কি যোগ্যতা আছে কোনোদিন? যোগ্যতা তো নাই। তো কি করে পালন করবে? উনারা তৌফিক দেন সেই জন্য আমরা পারি। নইলে আমাদের পক্ষে কোনোদিন সম্ভব ছিল না। এটা কখনোই সম্ভব না। এই সুন্নত পালন করার যোগ্যতাও তো কারো নাই। তার যোগ্যতা আসবে কোত্থেকে? তার যোগ্যতা আছে? সে উপযুক্ত এটার? তো পালন করে কেমনে? উনারা তৌফিক দেন সেইজন্য। এছাড়া কখনোই সম্ভব না। তৌফিক চাইতে হবে, ইস্তেগফার করতে হবে, তওবা করতে হবে। যতটুকু পারলাম করলাম, এরপর তৌফিক যে আল্লাহ পাক এবং উনার আপনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মনার্থে তৌফিক দান করেন। এছাড়া আমাদের পক্ষে তো সম্ভব না কোনোদিন। চাইলেই করা যায় না। এটা সোজা বিষয় না, অনেক কঠিন বিষয়। মানুষ তো সব হালকা মনে করে নাউযুবিল্লাহ। এজন্য আল্লাহ বলছেন যে তোমরা এটা হালকা মনে করো? কখনোই না। 'ওয়া তাহসাবূনাহু হাইয়্যেনান ওহুয়া ইন্দাল্লাহি আযীম' আল্লাহর কাছে তো এটা কঠিন, অনেক মহান এটা, গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা হালকা মনে করো না, ধ্বংস হয়ে যাবা। এইজন্য মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়। এজন্য সারা পৃথিবীতে লাঞ্ছিত হচ্ছে নাউযুবিল্লাহ। আর যারা ঈমানদার রয়েছে তারা কামিয়াব হচ্ছে।