হাদীস শরীফ: "আমার আদেশ ও নিষেধ কুরআনের অনুরূপ বরং তার চেয়েও বেশি"


​তখন মানুষ বাজারে কত কিছু করে। হালাল হারাম একাকার করে। অনেকে ফরজ ওয়াজিবও তরক করে। সুন্নত মুবারক তরক করেই, তার গুরুত্বই... সুন্নত মনে করে যে কি নাউযুবিল্লাহ! এরা যে বুঝেই না এটা। এরা যে সুন্নত মুবারকের গুরুত্ব এটা বুঝে নাই। কারণ হাদীস শরীফে তো অনেক হাদীস শরীফ আছে।

একটা হাদীস শরীফে বলা হচ্ছে না—'আলা ইন্নী উতীতুল কুরআনা ওয়া মিছলাহূ মা'আহু' নিশ্চয় আমাকে কালামুল্লাহ শরীফ দেওয়া হয়েছে তার অনুরূপ দেওয়া হয়েছে। আবার বলা হচ্ছে—'আলা ইন্নী ওয়াল্লাহি ক্বাদ আমারতু ওয়া ওয়া'আজতু ওয়া নাহাইতু আন আশয়া-আ ইন্নাহা লা মিছলুল কুরআনি আও আকছারু।' সাবধান হয়ে যাও, আল্লাহর কসম নিশ্চয় আমি যা বলি, আদেশ করি, যা ওয়াজ করি এবং নিষেধ করি এটা হচ্ছে কুরআন শরীফ উনার অনুরূপ বরং তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাম।

কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে না মানলে কোনোকিছু মানা যাবে না। আল্লাহ পাক উনাকে মানা যাবে না। উনাকে মানাটাই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ। এটা প্রথম ফরযে আইন। যে সার্বিকভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আগে মানতে হবে, এটা ফরযে আইন। তারপর আল্লাহ পাককে মানবে।

আবু জাহেল, আবু লাহাব, ইহুদী, নাসারারা আল্লাহ পাক উনাকে মানে, কই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানে নাই এজন্য কাফের হয়ে গেছে। তো আল্লাহ পাককে তো মানেই, তো কাফের হইলো কেন? উনাকে মানা তো ফরজ। উনাকে না মানলে সে তো কাফের হবে। কাজেই আগে উনারটা গুরুত্ব দিতে হবে।

আর আল্লাহ পাক আমাদের কাছে পৌঁছান নাই কোনো জিনিস। আমাদের কাছে পৌঁছাইছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। উনি বলছেন এটা কুরআন শরীফ আমরা বিশ্বাস করছি, ওহী মুবারক বিশ্বাস করছি। এটা ইত্যাদি ইত্যাদি আমরা বিশ্বাস করছি। আল্লাহ পাক তো এসে বলেন নাই। তাহলে আগে তো উনাকে বিশ্বাস করতে হবে। তখন যেয়ে আমি আল্লাহ পাককে বিশ্বাস করব, নাহলে আল্লাহ পাক পাব কোত্থেকে? আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাস করতে হবে, তখন আল্লাহ পাক উনাকে বিশ্বাস করা যায়, এছাড়া কোনদিন বিশ্বাস করা যাবে না। এই যে মানুষ তো এই জিনিসটাই বুঝে না।

image

সুন্নত মুবারক হাক্বীক্বত: ওহীয়ে মাতলূ ও ওহীয়ে গায়রে মাতলূ

​এরা মনে করে... আরে সুন্নত অর্থটা কি? এরা মনে করে সুন্নত একটা হালকা জিনিস নাউযুবিল্লাহ। আরে সুন্নতের এমনে আমভাবে অর্থ হচ্ছে তরীক্বা, তরতীব। এটা তো শরীয়ত সম্মত। শরীয়তের অর্থ হচ্ছে সুন্নত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যা করেছেন, বলেছেন বা আদেশ নিষেধ সেটা হলো সুন্নত মুবারক। এর অর্থ সুন্নতটা তো হালকা না।

এখন ফরজটা আল্লাহ পাক বলছেন, সুন্নতটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ... ঠিক আছে তাহলে ফরজ তো আল্লাহ পাক কোথায় বলছেন আল্লাহ পাক? দলিল কই? হ্যাঁ? আল্লাহ পাক বলছেন কখন বলে গেছেন আল্লাহ পাক? ও তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলতেছেন আল্লাহ পাক বলছেন এটা আমরা বিশ্বাস করছি। তো আল্লাহ পাক বললেন কোথায়? সব তো বললেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বললেন। তাইলে একই তো কথা।

এজন্য ওহীয়ে মাতলূ গায়রে মাতলূ একই জিনিস। একটা মাতলূ একটা গায়রে মাতলূ। সবটা তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বলছেন। আল্লাহ পাক বললেন কোথায়? উনি বলছেন যে আল্লাহ পাক এটা বলেছেন। আমরা উনাকে বিশ্বাস করলাম। আল্লাহ পাককে তো আমি দেখি নাই, শুনি নাই। উনি তো আমাকে বলেন নাই।

তাহলে প্রথমত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশ্বাস করতে হবে, উনাকে মানতে হবে। উনার কথাকে আগে গুরুত্ব, তাহলে আমি পরে কুরআন শরীফে গুরুত্ব দিতে পারব। আল্লাহ পাকের গুরুত্ব দিতে পারব। নইলে সে দিতে পারবে না। কাফেররা তো গুরুত্ব দিতে পারে নাই। কাফেররা আল্লাহ পাককে বলছেন যে আমার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম উনাকে বিশ্বাস করো, ওই বিশ্বাস তো করে নাই। ধ্বংস হয়ে গেছে। উনাকে বিশ্বাস করা আগে ফরজ ছিল প্রথমে। বিষয়টা তো সূক্ষ্ম বিষয়। এটা ফিকির করতে হবে।

বলছেন যে এজন্য 'ইন্নাহা লা মিছলুল কুরআনি আও আকছারু' আমি যা আদেশ করি, ওয়াজ করি, নিষেধ করি এটা হচ্ছে কুরআন শরীফ উনার অনুরূপ বরং তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাম। ওইটা গুরুত্ব না দিলে সে কোনদিন ঈমানদার হইতে পারবে না। কখনোই না। সৃষ্টির কারো পক্ষে সম্ভব না। সবাই প্রথম আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে যাইতে হবে। উনার মাধ্যম দিয়ে যাইতে হবে, এছাড়া কোনো মাধ্যম নাই।



১৬. আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের উসীলা ও সুন্নত ব্যতীত ফরজ অপূর্ণ [২৫:০৫ - ২৮:৪২]



​এখন যেমন ঐ আহলে বাইত ইমাম... ইমাম জাফর সাদিক বা ইমাম বাক্বির উনারা বলছেন—'নাহনু আহলুল বাইতি নাহনু আল ওসীলাতু ইলাল্লাহ। নাহনু আল ওসীলাতু ইলাল্লাহ, লা ওসীলাতা ইলাল্লাহি ইল্লা মিন সিওয়ানা।' আমরা হচ্ছি আল্লাহ পাক উনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার জন্য আমরা উসীলা। আমরা ছাড়া কোনো উসীলা নাই। আমাদের আমরাই আমাদের তর্জুকী হচ্ছে উসীলা। এখন উনারা যদি উসীলা হন তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কি? হ্যাঁ? তাহলে উনাকে ছাড়া যাবে কেমনে? সবকিছু তো উনাকে হয়েই যাইতে হবে। উনার মাধ্যম দিয়ে যাইতে হবে, এছাড়া কোনো রাস্তা নাই।

কাজেই সুন্নাত শরীফ আগে সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে আগে প্রথম ফরজ, তারপর বাকি ফরজ। সে যদি এটা পালন করতে না পারে তাহলে পালন করতে পারবে না। যেকোনো আমল করতে হইলে সুন্নত মুবারক ছাড়া ফরজ কোনোদিন পূর্ণ হবে না। একটা লোক নামায পড়তে হইলে প্রথমে তাকে সুন্নতটাই পালন করতে হয়। নামাযে দাঁড়াইতে হবে যেটা নামাযের ক্বিয়ামটা ফরজ হইলো পরে, আগে তো তার সুন্নতটা আগে দাঁড়ানোর তরতীব করতে হইবো। এখন যদি বাঁকা হয়ে দাঁড়ায় থাকে তাহলে হইলো এটা? দাঁড়ানো ফরজ তো বাঁকা হয়ে দাঁড়ায়ে রইলো। হ্যাঁ, হবে? ওটা সুন্নত মোতাবেক দাঁড়াইতে হবে। ক্বেরাত পড়া ফরজ, তো ক্বেরাত যদি বাঁকা-ত্যাড়া পড়ে? সুন্নত অনুযায়ী ক্বেরাত পড়া ফরজ।

সবটা তো সুন্নত মুবারক অনুযায়ী যাইতে হবে। এর বাইরে যাইতে পারবে না। ওযু, গোসল, নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত যা আছে সবটাই সুন্নত মুবারক অনুযায়ী করতে হবে। ওই ফরজটা কোনোদিন পূর্ণ হবে না, ফরজটা কোনো আদায়ও হবে না সুন্নত মুবারক ছাড়া। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ছাড়া কোনো কিছুই পূর্ণ হবে না এবং আদায়ও হবে না। সে ঈমানদারই হইতে পারবে না।

কাজেই এখানে সুন্নত মুবারক বলতে এটা ওই যেটা মানুষ মনে করে সেটা মানুষ ভুল বুঝে এটা। কিন্তু আগে সুন্নত মুবারক গুরুত্ব দিতে হবে। তারপরে সে ফরজকে গুরুত্ব দিতে পারবে, অন্যথায় কোনোদিন সে পারবে না। তো অনেক কঠিন বিষয়। এখন মানুষ বলতে পারে আমরা সব পারি না। ঠিক আছে, আমরা পারার মতো আমরা আমাদের পক্ষে পারা সম্ভবও না। উপযুক্তই না। আমাদের তো যোগ্যতাই তো নাই। এখন যদি যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব আল্লাহ যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যদি রহমত মুবারক করেন, দয়া মুবারক করেন, এহসান মুবারক করেন তখন আমাদের পক্ষে সম্ভব। এছাড়া কোনোদিন তো সম্ভব না।

একটা আম লোক, মূর্খ লোক, একটা সাধারণ লোক সে সুন্নত পালন করার তার কি যোগ্যতা আছে কোনোদিন? যোগ্যতা তো নাই। তো কি করে পালন করবে? উনারা তৌফিক দেন সেই জন্য আমরা পারি। নইলে আমাদের পক্ষে কোনোদিন সম্ভব ছিল না। এটা কখনোই সম্ভব না। এই সুন্নত পালন করার যোগ্যতাও তো কারো নাই। তার যোগ্যতা আসবে কোত্থেকে? তার যোগ্যতা আছে? সে উপযুক্ত এটার? তো পালন করে কেমনে? উনারা তৌফিক দেন সেইজন্য। এছাড়া কখনোই সম্ভব না। তৌফিক চাইতে হবে, ইস্তেগফার করতে হবে, তওবা করতে হবে। যতটুকু পারলাম করলাম, এরপর তৌফিক যে আল্লাহ পাক এবং উনার আপনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মনার্থে তৌফিক দান করেন। এছাড়া আমাদের পক্ষে তো সম্ভব না কোনোদিন। চাইলেই করা যায় না। এটা সোজা বিষয় না, অনেক কঠিন বিষয়। মানুষ তো সব হালকা মনে করে নাউযুবিল্লাহ। এজন্য আল্লাহ বলছেন যে তোমরা এটা হালকা মনে করো? কখনোই না। 'ওয়া তাহসাবূনাহু হাইয়্যেনান ওহুয়া ইন্দাল্লাহি আযীম' আল্লাহর কাছে তো এটা কঠিন, অনেক মহান এটা, গুরুত্বপূর্ণ। তোমরা হালকা মনে করো না, ধ্বংস হয়ে যাবা। এইজন্য মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়। এজন্য সারা পৃথিবীতে লাঞ্ছিত হচ্ছে নাউযুবিল্লাহ। আর যারা ঈমানদার রয়েছে তারা কামিয়াব হচ্ছে।

image

ঘটনা ৩: হযরত কালীমুল্লাহ মূসা আলাইহিস সালাম ও আল্লাহ পাক উনার কথোপকথন (বিনয় ও অহংকার)



​এই যে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি একবার আল্লাহ পাককে জিজ্ঞেস করলেন যে আল্লাহ পাক আপনি বান্দার কোন আমল পছন্দ করেন? আল্লাহ পাক বললেন আমি বান্দার বিনয়টা পছন্দ করি। আমার কাছে সে বিনয় প্রকাশ করুক। সে পারে না সে ইস্তেগফার তওবা করুক, মাফ চাক আমি মাফ করে দিব। আমি তো সবকিছুর মালিক। আমি আদেশ করছি তোরে এই আমল করতে হবে, তুই কর। যখন সে পারলো না সে মাফ চাইলে তো মাফ করে দিবেন, অসুবিধার কি আছে? কিন্তু এটা বলতে পারবে না এর প্রয়োজন নাই, এতো লাগে না নাউযুবিল্লাহ। এটা বললেই সে কাফের হবে। সব দরকার আছে। আমি পারিনা আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হবে, স্বীকার করতে হবে। তখন আল্লাহ পাক হয়তো ক্ষমা করবেন।

কিন্তু সে যদি নিজে ফখর দেখায় তাহলে তাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে। হাদীস শরীফে আছে না—'আল কিবরিয়াউ রিদায়ী ওয়াল আযামাতু ইযারীর ফামান নাযা'আ ফী শাইয়্যিম মিনহুমা আদখুলহু ফিন নার ওয়ালা উবালী।' বড়ত্ব হচ্ছে আমার চাদর, মহত্ত্ব হচ্ছে আমার ইযার লুঙ্গি। 'ফামান নাযা'আ ফী শাইয়্যিম মিনহুমা আদখুলহু ফিন নার ওয়ালা উবালী' এই দুইটা নিয়ে যে টানাটানি করবে তাকে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করাবো, আমি কাউকে পরোয়াও করি না। কাজেই যারা বড়ত্ব বাহাদুরী দেখাইবো আর মহত্ত্ব জাহির করবে, ফখর করবে এদেরকে আমি জাহান্নামে ঢুকামু।

কাজেই বিনয় প্রকাশ করো। গোলাম গোলামের মতো থাক। গোলাম যদি মুনিব সাজতে চায় তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তুই গোলাম, তুই গোলাম থাকবি। তোকে আদেশ করা হয়েছে তুই এগুলি পালন করবি। যদি না পারিস তুই তওবা কর, ওজরখাহী কর, রোনাযারী কর, আমি ক্ষমা করব। আর যদি তুই বাহাদুরী করিস তোকে জাহান্নামে দিব।

image

ঘটনা ৫: অভাবগ্রস্ত লোক ও বুযূর্গ ওলীউল্লাহ — কোটি টাকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অগণিত নিয়ামত

​ঐ কিতাবে লেখা একটা ঘটনা, এক লোক গেল এক বুযূর্গ ওলীউল্লাহর কাছে। গিয়ে বলল হুযূর আমি অনেক অমুক তমুক অভাবে আছি, এইটা সেইটা। তো উনি বললেন কেন? তুমি তো খুব ভালোই তো আছো। সে বল্ল আমার টাকা নাই পয়সা নাই এটা সেটা। উনি বললেন ঠিক আছে তুমি এক কাজ করো। তোমার একটা চক্ষু আমাকে দিয়ে দাও, তোমাকে আমি এক লক্ষ টাকা দিয়ে দেই। কয় হুযূর চক্ষু দিয়ে দিলে তো আমি চোখে দেখব কেমনে?

ঠিক আছে তাহলে এক কাজ করো, তোমার একটা কান দিয়ে দাও ৫০ হাজার টাকা দেই। কান কাটা থাকলে মানুষ বলবে কি? তাইলে নাকটা দাও ৫০ হাজার টাকায়। লোকটি বল্ল আবার নাক তাইলে কেমনে হবে? একটা হাত দিয়ে দাও। হাত দিয়ে কাজ করব কেমনে? একটা পা দিয়ে দাও ৫০ হাজার টাকা দিমু। সে কোনোটাই দিতে রাজি হইলো না।

তখন তাইলে উনি বললেন এই মোট হিসাব করো কত টাকা হইলো তোমার? তোমার শরীরে কত লাখ টাকার মাল আছে আজকে ফিকির করো। তুই ফকির হইলি কোত্থেকে? হ্যাঁ? তারপর তোর জানটা তো আছে, তুই তো মারা যাস নাই। তো তোর কত লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ তোর শরীরে আছে, তুই গরিব হইলি কেমনে? আল্লাহ পাক তো তোকে লুলা বানাইতে পারতেন, ল্যাংড়া বানাইতে পারতেন, কানা বানাইতে পারতেন, বোবা বধির বানাইতে পারতেন, তা তো বানান নাই। তো তোর সম্পদ নাই কেমনে?

তাইলে শোকরগুজারি কোনটা? হ্যাঁ? কোনটা শোকরগুজারি? এইজন্য আল্লাহ বলছেন—'ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।' কোন নেয়ামত অস্বীকার করবে? 'ওয়া ইন তা'উদ্দূ নি'মাতাল্লাহি লা তুহসূহা।' তুমি নেয়ামত গণনা করে শেষ করতে পারবে না। কোনটা তুমি অস্বীকার করবে? কোনটা নেয়ামত না বলো? একজন প্রমাণ করুক। সবটাই নেয়ামত। মানুষ নেয়ামতের মধ্যে ডুবন্ত আছে এজন্য সে বুঝে না।

একটা মানুষ বাতাসের মধ্যে ডুবন্ত আছে, বাতাস থেকে বের করে নিয়ে আসুক সে মারা যাইব। একটা মাছ পানিতে থাকে ডুবন্ত আছে, সে পানি থেকে তুলে দেখ সে মাছটা মারা যাইব। তো নেয়ামত কোনটা না? কোনটা নেয়ামত না? সবই তো নেয়ামত। অসংখ্য অগণিত নেয়ামতের মধ্যে মানুষ আছে। এই যে 'ওয়া ইন তা'উদ্দূ নি'মাতাল্লাহি লা তুহসূহা' নেয়ামত গণনা করে শেষ করতে পারবা না। এটা গণনা করা সম্ভব না, কোনোদিন সম্ভব না। অনেক নেয়ামত।

কাজেই অনেক কিছু দিছেন আল্লাহ পাক, ইস্তেগফার তওবা করতে হবে আর সুন্নত পালন... কোনো কথা চলবে না। কুরআন শরীফ সুন্নাহ শরীফ কোনো কথা চলবে না। যে কথা বলবে সে কাফের হবে। এখানে তাকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। না পারলে সে তওবা করুক ইস্তেগফার করুক। পারলে শোকরগুজারি করুক। আর না পারলে সে আরও ইস্তেগফার তওবা করে আর্জি করুক দোয়া করুক। কিন্তু কথা বলার কোনো সুযোগ নাই। কারো কোনো বান্দার কথা বলার কোনো... বললে সে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বেয়াদব। বেয়াদব মাহরূম, বেয়াদব আল্লাহ পাকের রহমত থেকে বঞ্চিত। কথা বলার কোনো সুযোগ নাই। এখন বলুক আমরা পারিনা, হ্যাঁ ঠিক আছে স্বীকার করুক। তাহলেই আল্লাহ পাক খুশি হবেন, তুই পারস না ঠিক আছে, তুই কমজোর তুই তওবা কর, কোশেশ কর। ব্যাস হয়ে গেলো। প্রয়োজন নাই এটা সে কখনোই বলতে পারবে না।

image

আজকের (৯ অক্টোবর ২০২৬) দেশ ও বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলোর সারসংক্ষেপ:
​বাংলাদেশ ও জাতীয় সংবাদ
​চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) আগামী ১৫ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠান 'ডিপি ওয়ার্ল্ড' (DP World)।
​দুর্গাপূজার তোড়জোড় ও নিরাপত্তা: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সারা দেশে সাজসজ্জার কাজ জোরকদমে চলছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দেশজুড়ে বিজিবি ও পুলিশের নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
​আইনশৃঙ্খলা অভিযান: কিশোর গ্যাং ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার রয়েছে; গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু সংখ্যক আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
​বাজার ব্যবস্থা ও বাণিজ্য: আসন্ন সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সিন্ডিকেট রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
​আন্তর্জাতিক সংবাদ
​নোবেল পুরস্কার ২০২৬: চলতি নোবেল পুরস্কার মৌসুমে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ ও ঘোষণা কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আলোচনা চলছে।
​দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আবহাওয়া ও ধোঁয়াশা: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তৈরি হওয়া তীব্র 'এল নিনো' (El Niño) এবং ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের প্রভাবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে বায়ুদূষণ ও ধোঁয়াশা (Haze) মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। সিঙ্গাপুরে বায়ুর মান (AQI) বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
​জ্বালানি তেলের বাজার: বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ও মার্কিন অপরিশোধিত তেলের (WTI) দাম ব্যারেলপ্রতি

সুন্নত মুবারক সব সময়, সবখানে -

এখন কাফিররা যে ভাবে মুহব্বত বের করে নিয়ে গেছে আবার সেইভাবে মুহব্বত প্রবেশ করাইতে হবে।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম

আমল নাই, আখলাক নাই, কোনো গুরুত্বই বোঝে না, তাহলে কেমনে হবে। উচিত ছিলো বোঝা, তার পর সে হিসেবে আমল করুক।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম

তারা বলে খিলাফত জারী করবে। তারা কেমনে খিলাফত জারী করবে। আমল নাই, আখলাক নাই কিছুই নাই কুফরী শিরীকি।

মহান আল্লাহ পাক বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে, আমলে ছলেহ করবে। তাদেরকে খিলাফত দিবে।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম

এরা আসলে জাতিগত কাফির। এদের উদ্দেশ্য হলোঃ একদিকে আউলিয়া কিরাম উনাদের বিরোধিতা করা অন্য দিকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করা, নাউজুবিল্লাহ।

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম