Sk Sojon changed his profile picture
45 m

image

✴️✴️✴️হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম-উনার নছিহতপূর্ণ বাণীসমূহ★

১. "মৃত্যু সবার জন্য অপরিহার্য, কিন্তু অপমানজনক জীবন মুমিনের জন্য শোভননীয় নয়।"

তিনি বলতেন, "আমি অপমানিত জীবন নয়, সম্মানের মৃত্যু চাই।”

এটি উনার চূড়ান্ত অবস্থান ও আত্মত্যাগের মূল শিক্ষা।

২. "যে তোমার গোপনীয়তা রক্ষা করে না, সে কখনোই তোমার বন্ধু হতে পারে না।”

বন্ধুত্বের আসল মানে বোঝাতে গিয়ে এই কথাটি বলেন।

৩. "মানুষ তখনই সম্মানিত, যখন সে অন্যের সম্মান রক্ষা করে।"


৪. "লোভী কখনো মুক্ত হতে পারে না।”

লোভ মানুষকে দাসত্বে ঠেলে দেয়, এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন তিনি।

৫. “সবচেয়ে বড় বোকা সেই, যে দুনিয়ার জন্য তার আখিরাত নষ্ট করে।"

তিনি সব সময় দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আখিরাতকে গুরুত্ব দিতেন।

৬. "কোনো দিন এমন কাজ করো না, যা তোমাকে গোপনে করতে হয় এবং লোক জানতে পারলে তুমি লজ্জিত হবে।”

নৈতিকতা ও চরিত্রের শিক্ষা এটিই।

৭. "যে অন্যায় সহ্য করে, সে নিজেই অত্যাচারের সঙ্গী।”

এটি ছিল উনার সত্যের প্রতি অটল থাকার ঘোষণা।

৮. "তুমি যদি সত্য পথে থাকো, তবে ভয় পেও না, লোকসংখ্যা কম হলেও।”

কেবল সংখ্যায় বড় হলে চলবে না, সত্যে বড় হতে হবে।

৯. "যে ধৈর্য ধারণ করে, সেই জয়ী হয়।”

ধৈর্য ঈমানের অর্ধেক - ইহা উনার জীবন দিয়ে প্রমাণিত।

✴️✴️✴️হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনার কাছে এমন কাফন চোর তাওবা করেছিল, যে বাইশ শত কবর খুঁড়ে কাফন চুরি করেছিল। হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাকে জিজ্ঞাসা করেন,
তুমি কবরের ভিতর মৃতকে কেমন কেমন অবস্হায় পেয়েছো?
সে কাফন চোর তিনটি কবরের অবস্থা বর্ণনা করল।

ঘটনা-১

আগুনের জিঞ্জির
কাফর চোর বলছে, একবার আমি একটি কবর খনন করে দেখলাম, মৃত ব্যক্তির ভয়ংকর কালো চেহারা। তার হাত পায়ে আগুনের শিকল পড়ানো এবং তার মুখ দিয়ে রক্ত এবং পুঁজ বের হচ্ছে, আর তা এতই দুর্গন্ধ যে, বেহুঁশ হবার অবস্থা। এ ভীতিজনক অবস্থা দেখে আমি পালানোর জন্য পা বাড়ালাম। এমন সময় লাশ কথা বলতে শুরু করল আমার সাথে,সে বলল তুমি পালাতে চাও?
শোন, আমাকে কোন গুনাহের জন্য এ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? আমি মুর্দার কথা শুনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সমস্ত সাহস একত্রিত করে কবরের কাছে গেলাম।
যখন কবরের কাছে উঁকি দিলাম, দেখলাম আযাবের ফেরেশতা লাশের ঘাড়ে আগুনের শিকল পড়িয়ে বসিয়ে রেখেছে। আমি লাশকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কে? সে জবাব দিল আমি ওমুকের ছেলে ওমুক।
কিন্তু আফসোস! আমি মদ পান করতাম এবং জেনা করতাম। আর এ অবস্থায় আমার মৃত্যু হয়।সে জন্য এখন এই আযাব ভোগ করছি।


ঘটনা-২
সে কাফন চোর তার দ্বিতীয় ঘটনা বলল, একবার আমি যখন কাফন চুরি করার জন্য একটি কবর খনন করলাম, দেখলাম ভয়ংকর কুৎসিত এক লাশ। সে কথা বলতে শুরু করল। লাশ দাঁড়িয়ে গেল। তার চারিদিকে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। ফেরেশতাগন তার গলায় আগুনের শিকল পড়িয়ে রেখেছে। সে লাশ আমাকে দেখেই বলল, ভাই আমি খুব পিপাসার্ত, আমাকে একটু পানি পান করাও।
একজন ফেরেশতা উনি ধমক দিয়ে বললেন, খবরদার এ বেনামাজিকে পানি দিও না।
তারপর আমি সাহস করে লাশকে জিজ্ঞাসা করলাম,তুমি কে? লাশ উত্তর দিল আমি মুসলমান ছিলাম, কিন্তু আফসোস, মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক নাফারমানি করেছি।  আমার মত নাফরমান আরো বহু লোক এ আযাবের সম্মুখীন।


ঘটনা-৩
কাফন চোর তৃতীয় ঘটনা বর্ণনা করল। একদিন আমি একটি কবর খনন করার পর সে কবরের ভিতরে অনেক প্রসস্ত জায়গা দেখলাম। এর ভিতর এমন সুন্দর একটি বাগান দেখলাম, যা আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি।
যার মধ্যে ঝর্ণা প্রবাহিত ছিল। আর তাতে এক অপূর্ব সুন্দর যুবককে দেখলাম। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কোন আমলের বিনিময়ে এ পুরস্কার পেয়েছ? সে বলল, আমি এক মাহফিলে শুনেছিলাম, যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে, মহান আল্লাহ পাক তার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিবেন।
এরপর থেকে আমি সর্ব প্রকার গুনাহ ছেড়ে দিলাম। এসব নিয়ামত নেক কাজেরই উত্তম প্রতিদান।


সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খেলাফতকালে এক ব্যক্তি মারা গেল। যখন তার জানাযা দেওয়ার জন্য সবাই তৈরি হল, তখন দেখল কাফনের ভিতর কি যেন নড়াচড়া করছে। তার কাফন খোলা হলে দেখা গেল, এক ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে তাকে ছোবল মারছে।নাউযূবিল্লাহ।
লোকজন সাপটি মারতে উদ্যত হল। তখন সাপ কালেমা পড়ে বলল, হে লোক সকল! তোমরা আমাকে কেন মারতে চাও। আমি এখানে আমার নিজের ইচ্ছায় আসিনি। আমাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঠিয়েছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাকে আমি দংশন করতেই থাকবো।
মানুষজন জানতে চাইল,ওরে সাপ! তার অপরাধ কি ছিল? যার জন্য তাকে এ আযাব দেয়া হচ্ছে?
তখন সাপ মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে বলল, হে লোক সকল!
তার তিনটি অপরাধ ছিল।
১. সে আজান শুনে মসজিদে যেত না।
২. সে যাকাত দিত না।
৩. সে উলামায়ে কেরামগণ উনাদের নছিহত শুনতো না।


আরেকজন কাফন চোরের ঘটনা:

হযরত আবু ইসহাক রহমাতুল্লাহ আলাইহি তিনি বলেন, একজন লোক অধিকাংশ সময় আমাদের মজলিসে বসতো এবং চেহারার অর্ধেক চাদর বা রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখতো।
একদিন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি আমাদের সাথে সব সময় বস। আর চেহারার অর্ধেক ঢেকে রাখ, এর কারণ কি?
সে লোকটি আমার কাছে এসে ওয়াদা নিল, যেন আমি কাউকে তার কথা না বলি। আমি ওয়াদা করলাম, তার কাহিনী কাউকে বলব না। সে লোকটি বলল তার কাহিনী। আমি কাফন চুরি করতাম। একদিন এক মহিলা মারা গেল- আমি সে রাতেই সদ্য কবর দেয়া কবরটাকেই খনন করলাম। এরপর আমি লাশের কাফন ধরে টানতে লাগলাম। কিন্তু কাফন খুলতে পারছিলাম না। আমি দুই হাঁটু গেড়ে ভালোভাবে বসে কাফন ধরে শক্ত করে টানতে থাকলাম। তখন কাফন পড়া সে মহিলা হাত দিয়ে আমাকে এমন জোরে থাপ্পর মারল যে, আমার গালে তার পাঁচটি আঙ্গুলের দাগ সুস্পষ্টভাবে বসে গেল, আমি গালে হাত দিয়ে সে দাগ অনুভব করলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি ভীত হয়ে গেলাম। এরপর আমি তার কাফন ঠিকঠাক করে দিলাম। আর কবর পূর্বের মতো করে মাটি দিয়ে ভরে দিলাম। এরপর থেকে আমি ওয়াদা করলাম, আর কোন দিন আমি কাফন চুরি করব না।

হযরত আবু ইসহাক রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন, এরপর আমি ইমাম আওযায়ী রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনার কাছে এ ঘটনাটি লিখে পাঠালাম।
তিনি জবাব দিলেন, তাকে জিজ্ঞাসা করো, কমবখত যেইসব লাশের কাফন চুরি করতো, তাদের চেহারা কেবলামুখী ছিল কিনা?সে ব্যক্তি বলল, আমি অধিকাংশ লাশকে পেয়েছি, যাদের চেহারা কেবলা মুখি ছিল না।
হযরত আবু ইসহাক রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, আমি তার কথা আওজায়ী রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনাকে জানালাম।
তিনি জবাব দিলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মনে রেখো!যাদের চেহারা কেবলামুখী ছিল না, তারা ঈমান নিয়ে মারা যায়নি,তারা বেদ্বীন অবস্থায় মারা গিয়েছে। নাউযূবিল্লাহ

মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম ওসিলায় খাছভাবে কবুল করুন,খালিছ ঈমানদার হিসেবে  মনোনীত করুন,ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার তাওফীক দান করুন।
   আমীন ছুম্মা আমীন ইয়া
    রব্বাল আলামীন।

শোকার্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার দো'য়া
মৃতের শোকার্ত পরিবারকে দাফনের আগে ও পরে সান্তনা দেওয়া সুন্নত। মুসলিম শরীফে রয়েছে, মৃতের পরিবারের শোকাতুর ব্যক্তিকে বলবে:

إِنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ، وَلَهُ مَا أَعْطَى، وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمَّى... فَلَتَصْبِرْ وَلَتَحْتَسِبْ

ইন্না লিল্লা-হি মা আখযা, ওয়া লাহু মা আ'তা, ওয়া কুল্লু শাই'ইন 'ইনদাহু বিআজালিম মুসাম্মা, ফালতাসবির ওয়াল তাহতাসিব।

"নিশ্চয় মহান আল্লাহ পাক যা নিয়ে গেছেন তা আল্লাহ পাক উনারই, আর যা কিছু দান করেছেন তাও উনারই।আল্লাহ পাক উনার কাছে সব কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কাজেই সবর করা এবং সওয়াবের আশা করা উচিত।”

(বুখারী শরীফ, ২/৮০, নং ৭৩৭৭; মুসলিম শরীফ, ২/৬৩৬, নং ৯২৩)

✴️সর্বোত্তম ১১ শ্রেণীর মানুষ কারা কারা হাদীছ শরীফ থেকে জেনে নেই,

১। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়।’ বুখারী শরীফ: ৫০২৭।

২।  মহান আল্লাহ পাক উনার রসুল ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-

‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।’ -বুখারি শরীফ: ৬০৩৫।
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর।’ -বুখারী শরীফ: ৩৫৫৯।

৩। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় উত্তম।’ -বুখারী শরীফ: ২৩০৫।

৪। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যার কাছ থেকে সবাই কল্যাণের আশা করে, অনিষ্টের বা ক্ষতির আশঙ্কা করে না।’ -তিরমিযী শরীফ:২২৬৩ / ২৪৩২।

৫। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ওই ব্যক্তি,যে তার পরিবারের কাছে উত্তম।’ -সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১৭৭।

৬।  মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
'তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম।' -মুসনদে আহমাদ শরীফ: ৭২১২।

৭।  মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
'সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।'
সহীহুল জামে’ শরীফ, ৩২৮৯,দারে ক্বুত্বনী।

৮। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
‎'শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন ও জবান সত্যবাদী। সাহাবায়ে কেরাম রদ্বীয়াল্লাহু আনহুম উনারা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহ পাক উনার রসূল! সত্যবাদী জবানতো বুঝা গেল, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী কে?
তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে অন্তর মুত্তাকী,স্বচ্ছ-নির্মল,যাতে কোনো পাপ নেই,জুলুম নেই,নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ। -ইবনে মাজাহ শরীফ: ৪২১৬।

৯।  মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
‘মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আর মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সর্বোত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম।’ -তিরমিজি শরীফ :১৯৪৪।

১০।মহান আল্লাহ পাক রসূল ﷺ ইরশাদ মুবারক করেছেন-
'মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে নিজ ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে শত্রুকে সন্ত্রস্ত করে এবং শত্রুরাও তাকে সন্ত্রস্ত করে।'
-সিলসিলা সহীহাহ ৩৩৩৩।

১১। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ﷺ বলেনঃ
'ঐ মু’মিন (সর্বশ্রেষ্ঠ) যে আল্লাহ পাক উনার পথে তার জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে। -মুসলিম শরীফ:৪৯৯৪ - ৪৯৯৫।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সর্বোত্তম বান্দা, সর্বোত্তম উম্মত ও সর্বোত্তম মুরীদা হওয়ার তাওফীক দান করুন।

✴️হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ হায়াতী জিন্দেগী পর্যন্ত দ্বিতীয়বার কখনোও শেষ ওয়াক্তে সলাত আদায় করেননি। (তিরমিযী শরীফ: ১৭৪)। এ হাদীছ শরীফ থেকে আউয়াল ওয়াক্তে সলাত আদায়ের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

অন্য হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বলেন, 'হে কাররামাল্লাহু ওয়াযহাহু আলাইহিস সালাম!
৩টি জিনিসের ক্ষেত্রে কখনো বিলম্ব করবেন না,
১.যখন নামাজের সময় হবে তখন নামাজ আদায় করা থেকে দেরি করবেন না।
২.যখন মৃত ব্যক্তির জানাজা উপস্থিত হবে তখন কাফন-দাফন সম্পন্ন করে জানাজায় উপস্থিত থেকে দেরি করবেন না।
৩. যখন কোন অবিবাহিতা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র পাওয়া যাবে তখন তাকে পাত্রস্থ করা থেকে বিলম্ব করবেন না।' -(তিরমিযী শরীফ ১/২০৬)

✴️হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেষ হায়াতী জিন্দেগী পর্যন্ত দ্বিতীয়বার কখনোও শেষ ওয়াক্তে সলাত আদায় করেননি। (তিরমিযী শরীফ: ১৭৪)। এ হাদীছ শরীফ থেকে আউয়াল ওয়াক্তে সলাত আদায়ের গুরুত্ব প্রমাণিত হয়।

অন্য হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনাকে লক্ষ্য করে বলেন, 'হে কাররামাল্লাহু ওয়াযহাহু আলাইহিস সালাম!
৩টি জিনিসের ক্ষেত্রে কখনো বিলম্ব করবেন না,
১.যখন নামাজের সময় হবে তখন নামাজ আদায় করা থেকে দেরি করবেন না।
২.যখন মৃত ব্যক্তির জানাজা উপস্থিত হবে তখন কাফন-দাফন সম্পন্ন করে জানাজায় উপস্থিত থেকে দেরি করবেন না।
৩. যখন কোন অবিবাহিতা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র পাওয়া যাবে তখন তাকে পাত্রস্থ করা থেকে বিলম্ব করবেন না।' -(তিরমিযী শরীফ ১/২০৬)

✴️শিক্ষামূলক ওয়াকেয়াহ্

হযরত আমর বিন দিনার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন- এক লোক মদিনা শরীফে বসবাস করতো এবং সেখানে কোন মহল্লায় তার এক বোন থাকতো। (ঘটনা চক্রে) তার বোন মারা গেলো, তার দাফন করে যখন ঘরে আসল তখন স্মরণ হলো যে, টাকার থলিটা কবরে পড়ে গিয়েছে। তখন অন্য এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে কবরস্থানে যেয়ে কবর খুড়েঁ টাকার থলিটা পেল। তখন সে তার সাথীকে বলল আরও একটু খনন করো, বোনের অবস্থাটা ও দেখে যাই। আরও একটু খনন করার পর তারা কবরে প্রজ্জলিত অগ্নিকুন্ড দেখতে পেলো। তৎক্ষনাৎ তারা কবর মাটি দ্বারা পুনরায় বন্ধ করে ফেললো। অতঃপর বাড়ীতে পৌছিঁয়ে মার কাছে বোনের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তার মা এই সম্বদ্ধে কিছু বলতে সম্মত হলো না, কিন্তু ছেলের পিড়াপিড়িতে (বাধ্য হয়ে) বললো যে, তোমার বোন নামাজ বিলম্ব করে পড়তো এবং অজুও যথাযথভাবে করতো না। আর রাত্রে যখন সবাই শুয়ে পড়তো তখন দরজার পার্শ্বে কান পেতে অন্যের কথা শুনতো, দিনের বেলায় মানুষের কাছে তা বলে দিতো।
(তাম্বেহুল গাফেলীন ১ম খন্ড ১৪ পৃ

✴️যে ইলম তোমাকে গুনাহ থেকে বাচাঁতে পারে না,সে ইলম তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে ও বাচাঁতে পারবে না। ( ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহি)