image

image

image

হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাবে প্রাকৃতিক ফল

প্রচর গরমে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পানীয় অংশসমৃদ্ধ ফল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এসব ফল শুধু পানির ঘাটতি মেটায় না, বরং প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও জারণরোধী উপাদান সরবরাহ করে শরীরের সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিশেষ করে তরমুজ, জাম, বাঙ্গি ও তালশাঁস শরীরের পানির অভাব পূরণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

গরমে প্রশান্তি দিতে বাঙ্গির তুলনা হয় না, যাতে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে। এই ফলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফলিক অ্যাসিড এবং প্রচুর আঁশ। এসব উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

রক্তস্বল্পতা কমাতে ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে জাম বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই ফলে প্রায় ৮২ শতাংশ পানি রয়েছে। লৌহ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি ও পটাশিয়ামে সমৃদ্ধ জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর বলে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি এটি হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

এছাড়া গরমে তরমুজের জুড়ি নেই, কারণ এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকে। এর আঁশ হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তরমুজে থাকা ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন ও জারণরোধী উপাদান হৃৎপি-ের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

#biology #swad #জীববিজ্ঞান

image

image

কুতুব মিনার চত্বরের লৌহস্তম্ভে ১৬০০ বছরেও মরিচা ধরেনি, কী কারণে এমন অক্ষত?

লোহার তৈরি কোনো বস্তু খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর থাকলে তাতে মরিচা ধরবে- এটাই স্বাভাবিক। বৃষ্টি, বাতাসের আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে লোহা। কিন্তু ভারতের রাজধানী দিল্লির কুতুব মিনার চত্বরে মিনারের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি লৌহস্তম্ভ যেন প্রকৃতির এই চিরচেনা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রায় ৭ দশমিক ২ মিটার উঁচু এই লৌহস্তম্ভ প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে খোলা পরিবেশে থাকার পরও এতে কোনো মরিচা ধরেনি। আজও এটি দেখতে অনেকটাই নতুন ও মজবুত।

সাধারণত বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার প্রভাবে লোহায় মরিচা ধরে। ধীরে ধীরে লোহার গায়ে লালচে-বাদামি রঙের একটি স্তর জমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষয় বাড়ে এবং ধাতব কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও আর্দ্র পরিবেশে থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে।

কিন্তু দিল্লির এই লৌহস্তম্ভ কীভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মরিচামুক্ত রইলো?

সিএনএনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ভারতের আইআইটি কানপুরের একদল গবেষক এই রহস্যের সমাধান করেন।

তাদের গবেষণায় দেখা যায়, স্তম্ভটি তৈরি করা হয়েছিলো বিশেষ ধরনের পেটানো লোহা দিয়ে। আধুনিক লোহার তুলনায় এতে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি ছিলো। অন্যদিকে সালফার ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান ছিলো খুবই কম।

গবেষকেরা আরও বলেন, প্রাচীন ভারতীয় কারিগরেরা স্তম্ভটি তৈরিতে ‘ফোর্জ ওয়েল্ডিং’ নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে লোহাকে বারবার আগুনে গরম করে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এর ফলে লোহার মধ্যে ফসফরাসের মাত্রা উচ্চ অবস্থায় বজায় থাকে।

এ ছাড়া স্তম্ভটির গায়ে ‘মিসাওয়াইট’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ যৌগের স্তর তৈরি হয়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। লোহা, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত এই যৌগ ধাতুর ওপর একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে।

উচ্চ মাত্রার ফসফরাস এবং চুনের অনুপস্থিতিতে এই স্তর তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি স্তম্ভটিকে বৃষ্টি, রোদ ও আবহাওয়ার নানা প্রতিকূল প্রভাব থেকে রক্ষা করেছে।

গবেষকদের মতে, লৌহস্তম্ভটির মরিচা প্রতিরোধের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ফসফরাস। ধাতুর অন্যান্য গঠনগত বৈশিষ্ট্য বা উপাদানের তুলনায় এটিই স্তম্ভটিকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

কুতুব মিনারে লৌহস্তম্ভ এলো কীভাবে?

বর্তমানে লৌহস্তম্ভটি কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের অংশ হলেও এটি মূলত সেখানে নির্মিত হয়েছিলো কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে দিল্লি সালতানাতের শাসক শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের আমলে স্তম্ভটি কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ এবং বৃহত্তর কুতুব কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধারণা করা হয়, বিজয় ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিলো।

প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকা এই লৌহস্তম্ভ প্রাচীন ভারতীয় ধাতুবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। আর এ কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের বিস্মিত করে আসছে।

#chemistry #swad #রসায়ন

image

কুতুব মিনার চত্বরের লৌহস্তম্ভে ১৬০০ বছরেও মরিচা ধরেনি, কী কারণে এমন অক্ষত?

লোহার তৈরি কোনো বস্তু খোলা আকাশের নিচে বছরের পর বছর থাকলে তাতে মরিচা ধরবে- এটাই স্বাভাবিক। বৃষ্টি, বাতাসের আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে লোহা। কিন্তু ভারতের রাজধানী দিল্লির কুতুব মিনার চত্বরে মিনারের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা একটি লৌহস্তম্ভ যেন প্রকৃতির এই চিরচেনা নিয়মকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এসেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত কুতুব মিনার কমপ্লেক্সে অবস্থিত প্রায় ৭ দশমিক ২ মিটার উঁচু এই লৌহস্তম্ভ প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এত দীর্ঘ সময় ধরে খোলা পরিবেশে থাকার পরও এতে কোনো মরিচা ধরেনি। আজও এটি দেখতে অনেকটাই নতুন ও মজবুত।

সাধারণত বাতাসের অক্সিজেন ও আর্দ্রতার প্রভাবে লোহায় মরিচা ধরে। ধীরে ধীরে লোহার গায়ে লালচে-বাদামি রঙের একটি স্তর জমতে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষয় বাড়ে এবং ধাতব কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বৃষ্টি ও আর্দ্র পরিবেশে থাকলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ঘটে।

কিন্তু দিল্লির এই লৌহস্তম্ভ কীভাবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মরিচামুক্ত রইলো?

সিএনএনের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে ভারতের আইআইটি কানপুরের একদল গবেষক এই রহস্যের সমাধান করেন।

তাদের গবেষণায় দেখা যায়, স্তম্ভটি তৈরি করা হয়েছিলো বিশেষ ধরনের পেটানো লোহা দিয়ে। আধুনিক লোহার তুলনায় এতে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক বেশি ছিলো। অন্যদিকে সালফার ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপাদান ছিলো খুবই কম।

গবেষকেরা আরও বলেন, প্রাচীন ভারতীয় কারিগরেরা স্তম্ভটি তৈরিতে ‘ফোর্জ ওয়েল্ডিং’ নামে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে লোহাকে বারবার আগুনে গরম করে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এর ফলে লোহার মধ্যে ফসফরাসের মাত্রা উচ্চ অবস্থায় বজায় থাকে।

এ ছাড়া স্তম্ভটির গায়ে ‘মিসাওয়াইট’ নামে পরিচিত একটি বিশেষ যৌগের স্তর তৈরি হয়েছে বলে গবেষণায় দেখা যায়। লোহা, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত এই যৌগ ধাতুর ওপর একটি সুরক্ষাবলয় তৈরি করে।

উচ্চ মাত্রার ফসফরাস এবং চুনের অনুপস্থিতিতে এই স্তর তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এটি স্তম্ভটিকে বৃষ্টি, রোদ ও আবহাওয়ার নানা প্রতিকূল প্রভাব থেকে রক্ষা করেছে।

গবেষকদের মতে, লৌহস্তম্ভটির মরিচা প্রতিরোধের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ফসফরাস। ধাতুর অন্যান্য গঠনগত বৈশিষ্ট্য বা উপাদানের তুলনায় এটিই স্তম্ভটিকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছে।

কুতুব মিনারে লৌহস্তম্ভ এলো কীভাবে?

বর্তমানে লৌহস্তম্ভটি কুতুব মিনার কমপ্লেক্সের অংশ হলেও এটি মূলত সেখানে নির্মিত হয়েছিলো কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, ত্রয়োদশ শতকের শুরুর দিকে দিল্লি সালতানাতের শাসক শামসুদ্দিন ইলতুতমিশের আমলে স্তম্ভটি কুওয়াত-উল-ইসলাম মসজিদ এবং বৃহত্তর কুতুব কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধারণা করা হয়, বিজয় ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিলো।

প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকা এই লৌহস্তম্ভ প্রাচীন ভারতীয় ধাতুবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। আর এ কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি বিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের বিস্মিত করে আসছে।

#chemistry #swad #রসায়ন

image

ক্যানসারের নতুন ইনজেকশন রোগীদের টিউমার পুরোপুরি নির্মূল করছে, দাবি বিজ্ঞানীদের

ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে পুরোপুরিভাবে টিউমার দূর করতে ত্রিমুখী কার্যক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ধরনের ইনজেকশন আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ ইনজেকশনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ থেকে যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাকে নজিরবিহীন বলেছেন চিকিৎসকরা।

১১টি দেশে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের (পরীক্ষামূলক প্রয়োগ) অংশ হিসেবে এই ইনজেকশন এমন রোগীদের দেওয়া হয়, যাদের ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিলো বা আবার ফিরে এসেছিলো। অন্য কোনো চিকিৎসায় যাদের রোগ উপশম হচ্ছিলো না।

অ্যামিভান্টাম্যাব নামের এই ইনজেকশন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগীর টিউমারের আকার ছোট করতে সক্ষম হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। এমনকি ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা দেখতে পান, ওষুধটি তাদের টিউমার সম্পূর্ণভাবে গলিয়ে দিয়েছে বা নির্মূল করে দিয়েছে।

গবেষণায় পাওয়া ফলাফল গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির (এএসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করার কথা। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলন।

মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত মোট ১০২ জন রোগীকে পরীক্ষামূলকভাবে এই ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিলো। ক্যানসারের যেসব ধরনে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তার মধ্যে মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের অবস্থান ষষ্ঠ।

ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার আকারে ছোট হয়েছে বা সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২৮ জনের টিউমার উল্লেখজনকভাবে ছোট হয়েছে এবং ১৫ জন রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার পুরোপুরি নির্মূল হয়ে গেছে।

গবেষকেরা বলেছে, ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানি অ্যামিভান্টাম্যাব নামের ইনজেকশনটি তৈরি করেছে। এখন প্রায় ৬০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে এ ইনজেকশনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মলদ্বারের ক্যানসার, মস্তিষ্কের ক্যানসার এবং পাকস্থলীর ক্যানসার আক্রান্তদের ওপরও এ পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

এই ইনজেকশন ক্যানসারের বিরুদ্ধে তিনভাবে কাজ করে। এটি প্রথমে ইজিএফআর (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর) নামের একটি প্রোটিনকে আটকে দেয়। এ ইজিএফআর টিউমারকে বড় হতে সাহায্য করে। এ ইনজেকশনটি এমইটি নামের একটি পথকেও আটকে দেয়। ক্যানসার কোষগুলো অনেক সময় চিকিৎসা থেকে বাঁচতে এ পথ ব্যবহার করে। তৃতীয়ত, এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে টিউমারের বিরুদ্ধে লড়তে সহযোগিতা করে।

অ্যামিভান্টাম্যাব ইনজেকশনটি শিরায় না দিয়ে ত্বকের নিচে ছোট ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। ফলে চিকিৎসা দ্রুত হয় এবং রোগীদের জন্য সুবিধাজনক হয়।

প্রতি তিন সপ্তাহ পর একবার এ ইনজেকশন দিতে হয়। এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিলো হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার। প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে ১ জনেরও কম রোগীকে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।

#biology #swad #জীববিজ্ঞান

image

স্থাপত্য-নিদর্শন
মুসলিম জাহানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক স্থপতি “মিমার সিনান” (৪র্থ পর্ব)


প্রখ্যাত উসমানীয় ইতিহাসবিদ মুস্তাফা আলী’র মতে, ‘সুলতান সুলাইমান শুধুমাত্র একজন বিখ্যাত শাসকই ছিলেন না, সমভাবে উনার ছিলেন একজন প্রখ্যাত নির্মাতা, যিনি মুসলিম বিশ্বের কিছু চিত্তাকর্ষক, শ্বাসরুদ্ধকর ও অনিন্দ্যসুন্দর স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে নিজের দীপ্ত চিহ্ন রাখতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিলেন’। তাই সুলতান ‘সুলাইমানিয়াহ মসজিদ কমপ্লেক্স’কে বিশ্বের সবচেয়ে নয়নমনোহর, অভিজাত ও মার্জিত ভবনগুলির মধ্যে একটি বানাতে চেয়েছিলেন। উনার এই মহান কর্মের শুরু থেকে শেষ অবধি কাজের পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে গভীর যতœশীল ছিলেন। সুলতানের মত মিমার সিনান পাশাও এই উসমানীয় সালতানাতকে গৌরবান্বিত করা এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিজয় চিহ্ন তুলে ধরার জন্য এই স্থাপনাকে সবদিক দিয়ে নিখুঁত করার ব্যাপারে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। যাইহোক, ১৫৫৭ খৃ: নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। স্বয়ং সুলতান মসজিদটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেন এবং এর ফলে ইস্তাম্বুলের আকাশমন্ডলী চিরতরের জন্য পরিবর্তিত হয়ে যায়। মসজিদটির বিরাট গম্বুজ এবং দীর্ঘ মিনারগুলো ইস্তাম্বুল শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখা যায়। এটি শেষ হবার পরে মিমার সিনান এতই খুশি হয়েছিলেন যে, তার এই স্থাপনাটিকে জীবনের শ্রেষ্ঠতম কর্ম হিসেবে বিবেচনা করেন। এটি উসমানী সালতানাতের শক্তি, ক্ষমতা এবং গরিমার প্রতিনিধিত্ত্ব করে।



সুলাইমানিয়া মসজিদের অবকাঠামো:



মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৬৯ ও প্রস্থ ৬৩ মিটার। মূল গম্বুজের কাছে অবস্থিত লম্বা মিনারগুলো ৭৬ মিটার উঁচু, আর ছোট মিনারগুলো ৫৬ মিটার উঁচু। প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অনায়াসে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারে এতে। মসজিদের উন্মুক্ত আঙিনার চার কোণে সুউচ্চ ও সুরম্য চারটি মিনার মসজিদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহু গুণে। ঐতিহাসিকভাবে মসজিদে মাত্র একটি মিনার থাকতো, যেখান থেকে মুয়াজ্জিনেরা আজান দিতেন। সুলায়মানিয়া মসজিদে প্রথমবারের মত চারটি মিনার ব্যবহার করা হয়। আর ১০টি ব্যালকনি নির্মাণ করা হয়।

মসজিদের মেহরাবের অভ্যন্তর পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ঐতিহ্যের স্মারক ও বিভিন্ন কারুকার্যের উপাদানে পরিপুষ্ট। চোখ ধাঁধানো বৈচিত্র ও বহুবিধ রংতুলিতে আঁকা লতাগুল্ম এবং সবুজ শ্যামলিমার হরেক রকম দৃশ্য আর পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার আয়াত শরীফ উনার অঙ্কিত ফলকগুলো চোখে পড়লে বিস্ময় জাগানিয়া অন্য রকম এক আবহ কাজ করে দর্শকদের ভাবনাজুড়ে। চিত্তাকর্ষক মেহরাবটির পাশেই রয়েছে সাদা মার্বেল পাথরে তৈরি সুসংহত মিম্বর। বিভিন্ন রঙের কাচের জানালাগুলো দিয়ে যখন সূর্যের আলোকরশ্মি খেলা করে, তখন মনে হয়, মসজিদটি যেন সহগ্র রঙে সাজানো হয়েছে।

মসজিদের আঙিনার চারপাশ ঘিরে রয়েছে সবুজাবৃত সজীব একটি উদ্যান। সে এক অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য! অতি জাঁকজমকপূর্ণ নকশা ও অসম্ভব সুন্দর চিত্রাঙ্কন ছাড়া সুলাইমানিয়া মসজিদের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশালত্ব ও সুপরিব্যাপ্তি। মসৃণ ও ঝকঝকে টালি বসানো মেঝে দেখতে অসাধারণ। মসজিদের অন্যতম সৌন্দর্য হলো এর দেয়ালগুলো। সাতটি রং দিয়ে বার্নিশ করে বর্ণালি দৃশ্য আঁকা হয়েছে এতে। দৃশ্যগুলো সোনালি ও কালো সুতায় বেগুনি-লাল, গাঢ় নীল এবং অন্যান্য রঙের মিশেলে চিত্রায়িত। টিউলিপ ফুল, ভায়োলেট ফুল, লবঙ্গগাছ, ডেইজি ফুল, আঙুরপাতা ও আপেলগাছের ছবি ফুটে আছে ভেতরের প্রতিটি দেয়ালে।

শ্যামল নিসর্গের আবহ ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে সুলাইমানিয়া মসজিদ সমধিক পরিচিত। তাই তুরস্কের ভ্রমণকারী মুসলিম পর্যটকদের আগ্রহের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বিখ্যাত সুলাইমানিয়া মসজিদ।



মাস্টার স্টেজ:



মিমার সিনান ছিলেন একজন সত্যকারের ‘পারফেকশনিস্ট’। সুলাইমানিয়া মসজিদের মত অবিস্মরণীয় একটি কাজ সমাধার পরেও উনার মনের ক্ষুধা মেটেনি। তাই আরও সুন্দর, পরিপূর্ণ, মহিমাময় ও মহত্তম স্থাপত্য নির্মাণের প্রবল ইচ্ছা উনার মনে রয়েই যায়।