এলমে-মারেফত

#ফানাবাফানাফিল্লাহকি?
নিচে আলোচনা করা হলো-
ফানা আরবী শব্দ যার অর্থ বিনষ্ট হওয়া,বিলীন হওয়া ইত্যাদি। প্রচলিত অর্থ ফানা বলতে --নিজের আমিত্ব কে বিসর্জন দেয়া বা কোন কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়াকে বুঝায়।
প্রতিটা মানুষের ভিতরেই আল্লাহর একটুকরা নূর সুপ্ত রয়েছে।যিনি সাধনা করে নফস বা জীবাত্মা কে সম্পূর্ণরুপে পরমাত্নার নিয়ন্ত্রনে এনে উক্ত নূরকে জাগ্রত করতে পেরেছেন,তিনিই আল্লাহর নিকট থেকে নির্দেশ পেয়ে থাকেন।ঐ অবস্থায় বান্দা আল্লাহতে বিলীন বা একাকার হতে সক্ষম। এর প্রমান হচ্ছে--হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ ফরমান,
"আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার এত নিকটবর্তী হয়ে যায় যে,আমি তাকে ভালোবাসতে বাসতে তার কান হয়ে যাই,যে কান দ্বারা সে শোনে,চক্ষু হয়ে যাই,যে চক্ষু দ্বারা সে দেখে,হাত হয়ে যাই, যা দ্বারা সে ধরে,পা হয়ে যাই, যা দ্বারা সে হাটে। অবশ্য যখন কোন বিষয়ে প্রার্থনা করে,তখন মাত্র উহা দান করে থাকি এবং কোন বিষয়ে ক্ষমা চায়, তখন মাত্র উহা মাফ করে থাকি।"
(--বোখারী--)
প্রতিটা মানুষের আত্না একদিন আল্লাহর নূরের সাথে মিলিত অবস্থায় ছিল। আবার তার সাথে মিলিত হওয়ার জন্যই স্বাভাবিকভাবে মানুষের আত্নার আকাঙ্ক্ষা। যেমন--সাগরের পানি জলীয়বাস্প হয়ে উড়ে বরফ আকারে পাহাড়ে জমা হয়। পরে গলে ঝরনাধারা রুপে নদীতে প্রবাহিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সাগরের সাথে মিলিত হয়। যে পানি যাত্রাপথে কোন ডোবা, পুকুর বা জলাশয়ে বন্ধ হয়ে আটকা পড়ে যায়,তারপক্ষে সাগরে মিলিত হওয়া কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন কোন প্লাবনে উক্ত ডোবা,পুকুরসহ লোকালয় প্লাবিত হয়ে যায়, তখনই কেবল আটকা পড়া পানির পক্ষে নদীবাহিত হয়ে সাগরের সাথে মিলিত হওয়া সম্ভব হয়। অনুরুপভাবে আল্লাহ্ থেকে আগত মানুষের আত্না যতক্ষন পর্যন্ত পুনরায় আল্লাহতে বিলীন হতে না পারে,ততক্ষন পর্যন্ত তার সাধনা সমাপ্ত হবে না।
আল্লাহ্তে বিলীন হলে মানুষ যে কি মহাশক্তিধর হয়, তা পবিত্র কোরানের বর্ণনা থেকেই বুঝা যায়। এরশাদ হয়েছে--
"হে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!আপনি বালি নিক্ষেপ করেন নি ঐ বালি স্বয়ং আল্লাহ্ই নিক্ষেপ করেছেন।"
বদরের যুদ্ধে কাফেরদের প্রতি রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বালি নিক্ষেপ করেছিলেন। অথচ আল্লাহ্ বলেন মোহাম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নন তিনিই (আল্লাহ্) এই বালি নিক্ষেপ করেছিলেন। অর্থাৎ ঐ সময় রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সাথে ফানা বা বিলীন ছিলেন।এ সম্পর্কএ আমাদের জ্ঞান সীমিত বলে আমরা এর রহস্য বুঝতে পারি না।
পবিত্র কোরানে এরশাদ হয়েছে---
"মানুষ কেমন করে আল্লাহর অবাধ্য হয়,যখন তোমরা মৃত ছিলে,তখন তিনিই তোমাদের জীবিত করেছেন,আবার তোমাদের মৃত্য দেওয়া হবে, পুন:রায় তোমাদের জীবিত করা হবে। অত:পর তোমরা তার দিকেই ফিরে আসবে।"
(সূরা বাকারা,আয়াত ২৮)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ থেকে বুঝা যায়,আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্ট মানুষ সাধনা করে মানুষ যতক্ষন পর্যন্ত তার সাথে পুনরায় মিলিত হতে না পারবে, ততক্ষন সে চিরমুক্তি লাভ করবে না। আল্লাহ প্রাপ্ত সাধকের অভিজ্ঞাতালব্ধ বিশ্লেষনে ফানা সূফীদের সাধনার একটি অতি উচু স্তরের নাম। যে স্তরে সাধক গভীর সাধনার মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব কে আল্লাহতে বিলিন করে দিয়ে একাকার হয়ে আল্লাহর গুনে গুনী হতে সক্ষম,উহাকে ফানাফিল্লাহ বলে।
সাধনার পথে সাধকগনকে ফানার ৩টি স্তর অতিক্রম করিতে হয়। যথা:
ফানা ফিশ শায়েখ
ফানা ফির রাসূল
এবং ফানাফিল্লাহ।
প্রত্যেকটি ফানাকে আবার ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।যেমন:
সাধারন ফানা
আদর্শ ফানা
মোকাম্মেল ফানা।
সে অনুযায়ী ফানা ফিশ শায়েখ এর ৩ টি স্তর হলো--
সাধারন ফানা ফিশ শায়েখ
আদর্শ ফানা ফিশ শায়েখ
মোকাম্মেল ফানা ফিশ শায়েখ।
সাধারন ফানা ফিশ শেখ অর্জন হলে আপন পীর সাহেব উনার কথা স্মরন হওয়া মাত্রই সাধকের কান্না আসবে। এ অবস্থার আরো উন্নতি হলে আদর্শ ফানা ফিশ শায়েখ অর্জিত হয়। তখন সাধক যে দিকে তাকাবে সে দিকেই আপন পীর সাহেব উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক সামনে দেখতে পায়। এ অবস্থার আরো উন্নতি হলে সাধক মোকাম্মেল ফানা ফিশ শায়েখ এর স্তরে পৌছে যায়। এ অবস্থায় সাধক নিজের চেহারা এবং আপন পীর সাহেব উনার মুবারক চেহারা একই চেহারা দেখিতে পায়।
এ স্তরে পৌছালে পীর সাহেব উক্ত মুরীদকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মুবারক নুরুল মাগফিরাত বা হাত মুবারকে তুলে দেন। তখন তার ফানা ফির রাসূল হাসিল হয়। ফানা ফির রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার ৩ টি স্তর যথা:---
সাধারন ফানা ফির রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
আদর্শ ফানা ফির রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
এবং মোকাম্মেল ফানা ফির রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ।
সাধক যখন সাধনা করে ফানা ফির রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্জন করে, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নাম মুবারক শুনা মাত্রই তার কান্না আসতে থাকে। এ থেকে আর এক ধাপ অতিক্রম করে সাধকের আদর্শ ফানা ফির রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাছিল হয়,তখন সে যে দিকে তাকায় সে দিকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র চেহারা মুবারক দেখিতে পায়। এ অবস্থায় সাধক সাধনা করতে করতে আরো এক স্তরে চলে যায়,যাকে মোকাম্মেল ফানা ফির রাসুল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে। এ অবস্থায় সাধক নিজের চেহারা এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার চেহারা মুবারক একই দেখিতে পায়। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ আশেককে আল্লাহর কুদরতি হাত মুবারক এ তুলে দেন। তাকে ফানাফিল্লাহ বলা হয়।

ফানাফিল্লাহ স্তরে সাধক মারেফতের এমন উচ্চ স্তরে পৌছে যায় যে তাকে আল্লাহ হতে পৃথক করা সম্ভবপর হয় না। ফানা ফিল্লাহর ৩ টি স্তর রয়েছে।
সাধারন ফানা ফিল্লাহ
আদর্শ ফানা ফিল্লাহ
মোকাম্মেল ফানা ফিল্লাহ।
সাধারন ফানা ফিল্লাহর স্তরে সাধক পৌছালে আল্লাহর নাম শুনা মাত্রই কান্না করিতে থাকে। সাধনার মাধ্যমে যখন সাধক আর একধাপ এগিয়ে যায়,তখন তার আদর্শ ফানা ফিল্লাহ হাসিল হয়। এ অবস্থায় সাধক যে দিকে তাকায় সে দিকে ই আল্লাহর কুদরতি চেহারা মুবারক দেখতে পায়। পবিত্র কোরানে পাকে এ প্রসংগেই আল্লাহ এরশাদ মুাবরক করেন--
"ফাআইনামা তুয়াল্লু ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লাহ।"
অর্থাৎ তুমি যে দিকেই তাকাও সেদিকে আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ প্রেমিক সাধক যখন সাধনা করতে করতে আরো একটি স্তর অতিক্রম করে তখন তাকে মোকাম্মেল ফানা ফিল্লাহ বলে। এ অবস্থায় সাধক নিজের চেহারা কে আল্লাহর চেহারার সাথে একাকার দেখতে পায়।
সাধক হযরত মনছুর হাল্লাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি এ স্তরে পৌছেই আল্লাহর প্রেমে বিভোর হয়ে বলেছিলেন--
"আনাল হক"। এর রহস্য বুঝতে না পেরে শরীয়তের বিচারে তাকে হত্যা করা হয়।

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

image

আলহামদুলিল্লাহি ওয়া রসুলিহি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম

খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছেন।” সুবহানাল্লাহ
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূরে মুজাসসাম’ হিসেবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে নিজেদের ঈমান হিফাযত করা।
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ মংনভা ১৫নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক এবং সুস্পষ্ট কিতাব এসেছেন।” সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র “নূর” মুবারক দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝিয়েছেন। যা অসংখ্য বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন। হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, (একবার) আমি আরজ করলাম- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, দয়া করে আমাকে এ বিষয়ে সংবাদ মুবারক দান করুন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছুর পূর্বে সর্বপ্রথম আপনার যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী এবং রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক উনার সাথে সৃষ্টি করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী উনার মহাসম্মানিত কুদরত মুবারক উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছিলেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছু দিয়ে সৃষ্টি মুবারক করে উনাকে উনার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং উনার কুদরত মুবারকে রেখেছেন। আর ঐ সময় লওহো-কলম, বেহেশ্ত-দোযখ, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা, আসমান-যমীন, সূর্য-চন্দ্র, জিন-ইনসান কোনো কিছুই ছিলো না।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি মুবারক করেন এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেন।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ উনার আপদমস্তক নূর মুবারক অর্থাৎ সমস্ত কিছুই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, কিছু লোক বলে থাকে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির তৈরী। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! মূলত, এরূপ আক্বীদাহ্ পোষণকারীরা বাতিল ও জাহান্নামী ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত। কারণ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটির তৈরী বলা বা উনার ‘নূরে মুজাসসাম’ শান মুবারক অস্বীকার করার অর্থ হলো পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ অস্বীকার করা। যা সুস্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভূক্ত।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘য়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ মুবারক হলো- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘নূরে মুজাসসাম’ অর্থাৎ তিনি আপদমস্তক নূর মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘নূরে মুজাসসাম’ হিসেবে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করে নিজেদের ঈমান হিফাযত করা।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি তোমাদের কারো মতো নই।’ সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার থেকে কুদরতীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!
যা উনার বেমেছাল ত্বহারাত বা পবিত্রতা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ ও বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনাদের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১

রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান মুবারক হাদিয়া করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এবং আপনার যিকির (মর্যাদা-মর্তবা) মুবারক উনাকে সমুন্নত করেছি।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং পূর্ববর্তী হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা কেউই সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিকভাবে যমীনে আগমন করেননি অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে মহাপবিত্র যমীনে তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেননি। যেহেতু সম্মানিত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও বিশেষভাবে মনোনীত। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে উনার শান-মান হেতু স্বীয় কুদরত মুবারক দ্বারা আলাদাভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনে পাঠিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, জেনে রাখুন! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ বা মুবারক আগমনের পদ্ধতি সম্পর্কে ৪টি ক্বওল শরীফ রয়েছে।

১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বাম পাঁজর মুবারক উনার নিচ দিয়ে কুদরতীভাবে যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!

২. স্বাভাবিক স্থান ও নাভি মুবারক উনার মধ্যবর্তী স্থান হতে।

৩. স্বীয় মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম উনার মুখ মুবারক হতে।

৪. স্বাভাবিকভাবে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র তাশরীফ মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের সকল ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত হলো, “হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত সমস্ত মানুষই স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন। আর সমস্ত হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বাভাবিক স্থান ও নাভি মুবারক উনার মধ্যবর্তী স্থান হতে কুদরতীভাবে আগমন করেছেন। আর আমাদের হযরত নবী ও রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র বাম পাঁজর মুবারক উনার নিচ থেকে কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক এনেছেন অর্থাৎ কুদরতীভাবে পবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এ সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত আছে যে, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা স্বাভাবিক পথে যমীনে আগমণ মুবারক করেছেন, একথা সম্পূর্ণরূপেই অশুদ্ধ।” “মালিকী মাযহাব উনার ইমাম উনারা এজন্যই ওই ব্যক্তিকে ক্বতল করার ফতওয়া দিয়েছেন, যে ব্যক্তি বলবে; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বাভাবিকভাবে তাশরীফ মুবারক এনেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বাভাবিকভাবে যমীনে আগমণ করেননি অর্থাৎ মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেননি। সুবহানাল্লাহ! বরং তিনি উনার মহাসম্মানিতা হযরত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বাম পাঁজর মুবারক উনার নিচ থেকে কুদরতীভাবে তাশরীফ মুবারক এনেছেন অর্থাৎ কুদরতীভাবে যমীনে আগমন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যা উনার বেমেছাল ত্বহারাত বা পবিত্রতা মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ ও বেমেছাল মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উনাদের মধ্যে একটি বিশেষ মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

#সম্মানিত ইসলাম উনার দ্বিতীয় হিজরী শতকেও পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ﷺ পালন হয়েছেন সুবহানাল্লাহ।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরে সর্বোত্তম ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন হযরত তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পরবর্তী তাবেয়ীন উনাদের যুগে এবং তৎপরবর্তী প্রত্যেক যুগেই অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি—যিনি শতাধিক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাক্ষাৎ মুবারক পেয়েছিলেন এবং যিনি দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত চতুর্থ খলীফা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ্ আলাইহিস সালাম উনার খলীফা ও ছাত্র ছিলেন—তিনি বলেন:

وَدِدْتُ لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ جَبَلِ أَحُدٍ ذَهَبًا فَانْفَقْتُهُ عَلَى قِرَاءَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো, তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ উপলক্ষ্যে আমি তা ব্যয় করতাম।”
সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম—৮ম পৃষ্ঠা)

#মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্য
মাযহাবের ইমাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেছেন।

কিতাবে বর্ণিত আছে:
قَالَ حَضْرَتِ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رَحِمَهُ اللهُ مَنْ جَمَعَ لِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِخْوَانًا وَهَيَّا طَعَامًا وَأَخْلَى مَكَانًا وَعَمَلَ إِحْسَانًا وَصَارَ سَبَبًا لِّقِرَانَتِهِ بَعَثَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الصَّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَيَكُونُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ.

অর্থ: শাফিয়ী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষ্যে লোকজন একত্রিত করলো এবং খাদ্য তৈরি করলো ও জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং উত্তমভাবে (তথা সুন্নাহভিত্তিক) আমল করলো, তাহলে উক্ত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাশরের দিন ছিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও ছালিহীনগণ উনাদের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতুন নায়ীমে।”সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)

#মহান আল্লাহ পাক উনার বিশিষ্ট ওলী হযরত ইমাম মারূফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের ফযীলত বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন:

مَنْ هَيَّا طَعَامًا لِأَجْلِ قِرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَمَعَ إِخْوَانًا وَأَوْقَدَ سِرَاجًا وَلَبِسَ حَدِيدًا وَتَبَخَّرَ وَتَعَطَّرَ تَعْظِيمًا لِمَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَشَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفِرْقَةِ الأولى مِنَ النَّبِيِّنَ وَكَانَ فِي أَعْلَى عِلَّتِيْنَ.

অর্থ: “যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উপলক্ষ্যে খাদ্য প্রস্তুত করবেন এবং আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার সম্মানার্থে মুসলমান ভাইদের একত্রিত করবেন, (আলো দানের উদ্দেশ্যে) প্রদীপ বা বাতি জ্বালাবেন, নতুন পোশাক পরিধান করবেন, (সুগন্ধির উদ্দেশ্যে) ধূপ জ্বালাবেন এবং আতর-গোলাপ মাখবেন, ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাশর-নশর করবেন হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম দলের সাথে এবং তিনি সুউচ্চ ইল্লীনে অবস্থান করবেন।”সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)

#হযরত সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি
মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ ওলী হযরত সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন:

مَنْ قَصَدَ مَوْضِعًا يُقْرَأُ فِيْهِ مَوْلِدُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَدْ قَصَدَ رَوْضَةً مِنْ رِّيَاضِ الْجَنَّةِ لِأَنَّهُ مَا قَصَدَ ذَلِكَ الْمَوْضِعَ إِلَّا لِمُحَبَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ বা পবিত্র মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করল, সে যেন তাঁর জন্য জান্নাতে রওযা বা বাগান নির্দিষ্ট করলো। কেননা সে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত থাকার জন্যেই করেছে।”সুবহানাল্লাহ!

(আন নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম ফী মাওলিদি সাইয়্যিদি উইলদি আদম)

#উপরোক্ত বর্ণনাগুলোতে তাবিয়ী, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পক্ষ থেকে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও এর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মীলাদ শরীফের মর্যাদা, মুহব্বত ও আদব-সম্মান বজায় রাখার তাওফীক দান করুন। আমীন। @highlight

মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বদলে খোদায়ী গযব ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে হিন্দুত্ববাদি নেপাল। নিহত হয়েছে অসংখ্য।

image

মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বদলে খোদায়ী গযব ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভণ্ড হয়ে গেছে হিন্দুত্ববাদি নেপাল। নিহত হয়েছে অসংখ্য।

image

image

image