দেশে দ্বীন ইসলাম তথা খিলাফত জারীর মূল উসুল হল রহমাতুল্লিল আলামীন নূরে মুজাসসাম হবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত ও অনুসরণ তথা উসওয়াতুন হাসানা, যা ভরপুর তরিকায় পাওয়া যাচ্ছে উনারই শানে অনন্তকাল ব্যাপী মাহফিল উনার বিশেষ শান ৯০ দিন ব্যাপী মাহফিলে। মিষ্টি না খাওয়া পর্যন্ত যেমন মিষ্টি সম্পর্কে কিছুই বুঝা যায় না। তেমনি এই মুবারক মাহফিলে না এসে না দেখে মাহফিল উনার গুরুপ্ত তাৎপর্য বুঝা যায় না।
বিস্তারিত জানুনঃ
#90daysmahfil
Sm40.com
Sunnat.info

image

Eid Mubarak

image

1 y

দৃষ্টি আকর্ষণ 🔻
সকল সম্মানিত পীর ভাইদের বিশেষ অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে : 'ফালইয়াফরাহু শহর প্রদক্ষিণ জুলুস' এ যারা ঘোড়ার গাড়ী নিতে আগ্রহী তারা অতিসত্বর দফতর শরীফে চাহিদা পেশ করুন।

image

আপনারা কি জানেন - বাংলাদেশে সোনার খনি আছে?

হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। বাংলাদেশে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা। সেই সোনা আবার যেই সেই সোনা নয়, ব্ল্যাকগোল্ড বা কালোসোনা - যার মূল্য হলুদ সোনার চেয়ে অনেক বেশি।


বঙ্গোপসাগরের তলদেশে রয়েছে সেই ব্ল্যাকগোল্ড বা কালো সোনার বিপুল ভাণ্ডার - ব্ল্যাকগোল্ডের মোট অর্থমূল্য এবং বঙ্গোপসাগরের তলদেশের মোট সম্পদ- জার্মানির অর্থনীতির চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ।

পাকিস্তান আমলে এক বিজ্ঞানী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলেন। তিনি হঠাৎ খেয়াল করলেন - তীরে ঢেউ আছড়ে পড়ে নেমে যাবার পর হলুদ বালুর উপরে কালো এক ধরনের বালু গড়াগড়ি খাচ্ছে।সেই বালু হাতে নিয়ে তাঁর চোখ কপালে। এ তো দেখি বিশ্বের সবচেয়ে দামী ধাতুর একটি - টাইটেনিয়াম! তিনি সমুদ্রের তীর থেকে বেশ কিছু বালু বস্তায় ভরে নিয়ে আসলেন। তারপর ল্যাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হলেন - এই বালুতে আছে - টাইটেনিয়াম, ইউরেনিয়াম, ম্যাগনেটাইট, জিরকন, কোবাল্ট, মোনাজাইট, ইলোমিনাইট ইত্যাদি মোট ১৭ টা গুরুত্বপূর্ণ ধাতু ও অন্যান্য উপাদান। এগুলোর কোনো কোনোটা আধুনিক প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলাবাহুল্য - এগুলোর সঠিক গুরুত্ব পাকিস্তান আমলে বোঝা সম্ভব হয়নি। যত দিন যাচ্ছে - এই উপাদানগুলো বিজ্ঞানময় বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

প্রথমে প্রশ্ন জাগলো - সমুদ্রপাড়ের এই বালুতে ইউরেনিয়াম, টাইটেনিয়াম, জিরকন আসলো কোত্থেকে? স্বাভাবিকভাবেই চোখ গেলো গভীর সমুদ্রের দিকে। তারপর বিজ্ঞানিদের একটা টিম গভীর সমুদ্রে গবেষণা করে বের করলেন - বঙ্গোপসাগরের তলদেশে মোট ১৩ টা স্পটে একেবারে স্তুপ হয়ে আছে বিপুল পরিমাণ কালোসোনা।
এই ১৩ টা স্পটের মধ্যে ৪ টা স্পষ্ট ভোলার নিকটবর্তী, ৯ টা কক্সবাজারের নিকটবর্তী - সমুদ্রের যেখানে মহিসোপান শুরু, সেখানে।

বাংলাদেশ পর্বে শুরুতে এই কালোসোনার দিকে কেউ গুরুত্বের সাথে নজর দেননি । কিন্তু একুশ শতকে এই উপাদানগুলোর চাহিদা জ্যামিতিকহ্যারে বাড়ছে। বিশেষত প্রযুক্তিতে এগুলোর ব্যবহার অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
যেমন -ইউরেনিয়াম কি জিনিস তা অনেকেই বোঝেন। এটা যার কাছে আছে সে-ই বিশ্বের দাদা। বাংলাদেশের মজুত বিপুল হওয়াতে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন এবং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর চোখ ও লালা একসাথে পড়তে শুরু করলো।
এসব ক্ষেত্রে এমেরিকা বরাবরই সবার চেয়ে এগিয়ে থাকে। তারা এই সম্পদের মূল্য বুঝতে পেরেছিলো আমাদের বহু আগে - সেই পাকিস্তান আমলে। তখনই তারা নানাভাবে এগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিল। কিন্তু এই বিপুল সম্পদ পাওয়ার জন্য যেকোনো দেশকে ২টা উপায়ের একটা নিতে হবে -
১. সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ দখল
২. রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে গাণিতিকভাবে লুটপাট।

পাকিস্তান পর্বে প্রথমটা সম্ভব ছিলো না। কারণ তখন দুই পরাশক্তি - সোভিয়েত রাশিয়া এবং এমেরিকার মধ্যে কোল্ডওয়ার চালু ছিলো। একজন খেতে চাইলে অন্যজন ছাড় দেবে না। অধিকন্তু এ অঞ্চলে তখন সোভিয়েতের ভালো অবস্থান ছিলো। সোভিয়েত ভাঙার পর ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়ায় যেসব ঘটনা ন্যাংটোভাবে ঘটানো সম্ভব হয়েছে - সোভিয়েত থাকতে তা এতোটা বেপরোয়াভাবে সম্ভব ছিলো না।

★★
এমেরিকা পাকিস্তান সরকারকে হাত করে রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে এই সম্পদে ভাগ বসাতে বঙ্গোপসাগর নিয়ে প্ল্যান করছিলো। রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে কাজ হাসিল করার উদ্যোগ নিতে নিতে বাংলাদেশ স্বাধীনতা চেয়ে বসলো। এমেরিকা অস্থির হয়ে পড়লো।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে এমেরিকা বাংলাদেশকে সাপোর্ট না করে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করার একটা বড় কারণ ছিলো এই ব্ল্যাকগোল্ড তথা বঙ্গোপসাগর। কারণ - পাকিস্তান টিকে থাকলে এই সম্পদ হস্তগত করা সহজ ছিলো। তারা ‘সৎভাই এর সম্পত্তি’ হিসেবে সহজেই দিয়ে দিতো - এটা এমেরিকা বুঝেছিল। ফলে তারা চাচ্ছিলো পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা না হোক।

কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন চাচ্ছিলো বাংলাদেশ স্বাধীন হোক; ভারতও চাচ্ছিলো - তাদের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক স্বার্থে। কিন্তু চীন চায়নি। কেন? সহজ কারণ - ভারতের যেখানে স্বার্থ, সেখানে চীনের বিরোধিতা বা মিনিমাম নিরবতা থাকবে।

১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীন হলো।
এমেরিকা দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে বঙ্গোপসাগরে ঘাঁটি করার প্রস্তাব দিলো। বঙ্গবন্ধু সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন।
এমেরিকা কিন্তু হাল ছাড়লো না। ১৯৭৩ সাল পুরোটা এমেরিকা নিজেরাই নানান কারণে নাজেহাল হয়ে ছিলো - সাদ্দাম হোসেন, তেল নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি কারণে। ১৯৭৪ এ তারা কল্পনাতীতভাবে সৌদি আরবের সকল সম্পদ হাতে পেয়ে গেলে ১৯৭৫ এ আবার বড়বড় ঘটনা ঘটাতে শুরু করলো। খোদ সৌদি বাদশা ফয়সালকে হ
ত্যার মাধ্যমে এই মিশন শুরু। ৭৫ এ তারা বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে সক্ষম হলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে । মেজর জিয়া পেট্রো-ডলার সহ মার্কিন আধিপত্যে অসীম সহযোগিতা করতে লাগলেন। জিয়ার সহযোগিতায় পেট্রো-ডলারের রাজনীতিতে বাংলাদেশকে আটকে ফেলতে থাকলো। তারা জানতো পেট্রো-ডলারের রাজনীতি ভবিষ্যতে সেই ব্ল্যাকগোল্ড তথা বঙ্গোপসাগরের মতো ‘সোনার হরিণ’ হাতে পেতে সহযোগিতা করবে।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস - যেই এমেরিকা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলো - শেখ হাসিনা কিন্তু সেই এমেরিকার হাত ধরেই প্রথমবার ক্ষমতায় বসেছিলেন। এমেরিকার সাথে আওয়ামিলীগের সেই লিংক তৈরি করে দিয়েছিলেন রেজা কিবরিয়ার বাবা - শাহ এএসএম কিবরিয়া। এমনকি বঙ্গোপসাগরে এমেরিকাকে অবস্থান দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন হাসিনা। কিন্তু, তিনি ক্ষমতায় বসার পর যেই না এমেরিকা সেইন্টমার্টিন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর করতে চাইলো - অমনি তিনি তাঁরই দলের নেতা চট্টগ্রামের মহিউদ্দিন চৌধুরীকে দিয়ে কৃত্রিম আন্দোলন তৈরি করে অচল করে দিলেন চট্টগ্রাম শহর, চট্টগ্রাম বন্দর । এমেরিকা বুঝে ফেলেছিলো - হাসিনা দেবে না । পরের বছর সরকার পরিবর্তন হলো। ক্ষমতায় বসলেন খালেদা জিয়া। তিনি বোকা মানুষ - এটাই বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়েছিল এ ক্ষেত্রে। তাঁকে এমেরিকা বুঝালেও তিনি মাথা নাড়েন, চীন বুঝালেও তিনি মাথা নাড়েন। শেষমেশ ২০০৫ এ তাঁর চীন সফরকে ঘিরে সারাদেশে একযোগে ৫০০ সিরিজবোমা হামলার ঘটনা ঘটলো। তিনি ভয় পেয়ে তড়িঘড়ি চীন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসলেন। তবুও এমেরিকা বিএনপি এবং জামাতের উপরই শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখতে চাচ্ছিল । কারণ - এই দুইটা দলই এমেরিকার অর্থায়ন এবং শেল্টারে জন্ম নেয়া এবং বেড়ে ওঠা দল। এরা নানা সময়ে এমেরিকার নানাবিধ কাজে লেগেছিলো।
তথাপি - এমেরিকা আরেকটা গেম খেলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান নিতে চাইলো। সেটা সেনা শেল্টারের ফখরুদ্দিন আহমদের মাধ্যমে। মনে আছে? ফখরুদ্দিনের সময়ে ঘুর্ণিঝড় সিডরে আক্রান্ত এলাকায় ‘'ত্রাণ’ দেবার জন্য ৫ হাজার সশস্ত্র সৈন্য নিয়ে মার্কিন রণতরী এসেছিলো পটুয়াখালী? সেসব রণতরীতে বাংলাদেশের সাংবাদিক বা কোনও পর্যবেক্ষককে উঠতে দেয়া হয়নি, ফলে ভিতরে কি ছিলো এখনো সেসব অজানা থেকে গেছে। কেউ কেউ বলছিলো - একটা ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধ প্রস্তুতি’ ছিলো সেসব জাহাজে। তখন চীন, রাশিয়া, ভারত এবং বাংলাদেশের চিন্তাশীল মানুষদের প্রতিবাদের মুখে মার্কিন রণতরী ফিরে গিয়েছিলো।

★★★
এমেরিকা সবসময় তার মোস্ট টার্গেটেড এলাকায় অল্টারনেটিং প্ল্যান প্রস্তুত রাখে।
তাই - তারা এ অঞ্চলে অনেকগুলো ব্যাকাপ তৈরি করেছিলো।
১. এমেরিকা সবসময় প্রতিক্রিয়াশীল ও মৌলবাদী গোষ্টিকে পেট্রোনাইজ করতে পছন্দ করে। তাই বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী দল গঠন এবং লালনপালন করে রেখেছিল। প্রয়োজন হলে তাদেকে দিয়ে জ
ঙ্গী কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে জঙ্গী দমনের নাম করে সরাসরি চলে আসা যাবে।
২. ড. ইউনুস - তাঁকে নোবেল দেয়া এবং বারবার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা সেই প্রক্রিয়ার অংশ। এমন স্টেপ তাদেরকে অনেক দেশেই নিতে দেখা গেছে। নোবেল, ম্যাগসেসে সহ এমন আরো কিছু পুরষ্কার আছে - যা তারা তাদের মনোনীত এবং প্রিয়ভাজনদের দিয়ে থাকে। প্রথম উদ্দেশ্য - যাদেরকে নিয়ে একটা অঞ্চলে বড় লক্ষ্য হাসিল করতে চাচ্ছে - তাদেরকে এসব পুরষ্কারের মাধ্যমে ‘'মহান ও গ্রহণযোগ্য’’ করে তোলা। হাইলাইটেট করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য - প্রশাসন, রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন ইত্যাদিতে তাদের অধিপত্য তৈরি করা।
৩. এমেরিকান এনজিও এবং কনসাল্টিং ফার্ম সারা পৃথিবীতে তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে থাকে–---
প্রচুর ডাটা সংগ্রহ এবং প্রেরণ করে।
সুশীল এবং নানান পেশাজীবীদের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংগঠন করে সেগুলোর মধ্যে তাদের স্বার্থের অনুকূলে বীজ বপন করে।
প্রশাসনের সাথে লবিং করে।
মিডিয়ায় মার্কিন স্বার্থের পক্ষে মেধাগত আধিপত্য স্থাপন করে।
কিছু তথাকথিত ‘ভালো’ কাজের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে প্রভাববিস্তার করতে থাকে।
সিপিডি, বেলা, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সুশাসনের জন্য নাগরিক ( সুজন) ইত্যাদি এমেরিকার এনজিও প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মাধ্যমে দীর্ঘযুগ ধরে নিরবে ভিত মজবুত করে যাচ্ছিলো।
৪. অনেকবার সামরিক এবং সুশীল নাগরিক সমন্বয়ে অভ্যুত্থান করার প্ল্যান নিয়েছিল। অর্থাৎ সুশীল সমাজেও কাজ করছিলো।
৫. সাংবাদিক, মিডিয়া হচ্ছে আধুনিক যুগের ব্রেইন গেইমের হাতিয়ার। তাই এগুলো কিনে রেখেছিলো।
পাশাপাশি শিক্ষক, উকিলসহ প্রায় সব সেক্টরেই লোক সেট করে আসছিলো।
৬. আর সবার অগোচরে কাজ করে যাচ্ছিলো এমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা - ‘'সিআইএ’।

এই কর্মকাণ্ডগুলো যে কেবল এমেরিকা করছিল তা নয়। অর্থাৎ - এনজিও বাহিনী থেকে শুরু করে গোয়েন্দা বাহিনী - কেবল এমেরিকা নিয়োগ করেছে তা নয়। এই কর্মকাণ্ডগুলো চীন রাশিয়াও করে যাচ্ছিলো নিজেদের মতো করে। আমাদের সম্পদ এবং ভূরাজনৈতিক অবস্থানে খুঁটি গাঁড়তে তৎপর ছিলো এবং আছে - (ক) রাশিয়া- চীন বলয় (খ) অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, কানাডা, ইংল্যান্ড বলয় । দুই পক্ষই ভিন্ন-ভিন্ন প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে আমাদের বিপুল বিপুল রত্নভান্ডার লক্ষ্য করে।

★★★★
এবার আমাদের সমুদ্র সম্পদের প্রসঙ্গে আসি।
=>. গভীর সমুদ্রে ১৩ টা স্পটে স্তুপ হয়ে আছে যে পরিমাণ ইউরেনিয়াম, টাইটেনিয়াম, জিরকন, কোবাল্ট ইত্যাদি - তার পরিমাণ বিপুল। এগুলোকে ব্যাকগোল্ড বলে। কারণ এগুলোর আর্থিক মূল্য সোনার চেয়ে প্রায়দেড়গুণ। কোনো কোনোটা আড়াই গুণ বেশি দামী। ১৩টা স্তুপ মানে ছোটখাটো স্তুপ নয়, যেন ১৩ টা পাহাড়।

=>. সমুদ্রের অগভীরে আছে বিপুল পরিমাণ ক্লে বা কাদা। এই কাদা কিন্তু আপনার বাড়ির পুকুরের কাদা নয়। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বিভিন্ন শীলা বিধৌত এই ক্লে সমুদ্রের পানির স্রোতের গতিপথের কারণে বঙ্গোপসাগরে এসে জমেছে।এই ক্লে দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিমেন্ট উৎপাদন হয় - যা সাধারণ সিমেন্টের চেয়ে শক্তিশালী এবং দামী। আর এর মোট পরিমাণ হচ্ছে - হিমালয়ের সমান। মূল্য? ওহ মাই গড!

=>. গভীর এবং অগভীর সমুদ্রে ২২ টা পয়েন্টে প্রায় ৪০-৭০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আছে- যা উত্তোলন করার জন্য ইতিমধ্যে এমেরিকা এবং চীন দুই দেশই সরকারের কাছে একাধিকবার প্রস্তাব করেছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে - গ্যাস উত্তোলন কেবল গ্যাস উত্তোলন নয়, আরো আরো বিপুল বিস্ময়।
যদিও এই গ্যাস জরিপ ও উত্তোলন বেশ ব্যায় সাপেক্ষ এবং রিস্কি।

=>. বঙ্গোপসাগরে রয়েছে ৭৫ টার মতো ছোটবড় দ্বীপ। মূলত এগুলোতেই অবস্থান নিতে চায় এমেরিকা এবং চীন। সেন্টমার্টিন তার মধ্যে একটা।

=>. বঙ্গোপসাগরের পানির কোয়ালিটি বিশ্বের যেকোনো সমুদ্রের পানির চেয়ে উত্তম। কারণটা সম্ভবত আমাদের হিমালয় বিধৌত মিঠাপানির মিশ্রণ। ফলে, সারা পৃথিবীর বেশিরভাগ মাছ যেন বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে। মাথা ঘুরানো তথ্য হচ্ছে - বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সীমানার মধ্য থেকে যে পরিমাণ মৎস সম্পদ আহরণ সম্ভব - আমরা তার সর্বোচ্চ ৮% ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছি( তথ্য - মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট). এই ৮% দিয়ে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের মোট মাছের চাহিদার ১১-১২% পুরণ হয় বঙ্গোপসাগর থেকে। তাহলে, ১০০% বাদ দিলাম - আমরা যদি মোট মৎস সম্পদের ৫০%ও আহরণ করতে সক্ষম হই - তাহলে সারাপৃথিবীর বেশিরভাগ মাছের চাহিদা আমরা মেটাতে পারবো। তা থেকে বছরে আয় করা সম্ভব বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার/ইয়েন। কেবল মৎস বিক্রি করে জিডিপি ৩-৪% বৃদ্ধি করা সম্ভব।

সব মিলে কেবল বঙ্গোপসাগরের এসব সম্পদ থেকে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

এই সকল সম্পদ আহরণ করার প্রযুক্তি আমাদের নাই। আমরা সেটা অর্জন করতে সক্ষম বা সচেষ্ট হতে পারি। কিন্তু - এমেরিকা বলয় ( এমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, ইংল্যান্ড) বা চীন বলয় ( চীন, রাশিয়া, ইরান ( সম্ভাব্য ভারত)) কে দিতে পারি না।

আমাদের যেই প্রজন্ম নিজেদের অজ্ঞতাবশত দেশের সম্পদকে বিদেশি শক্তি এবং তাদের প্রতিনিধি পুতুলের হাতে তুলে দেবে - তাদেরকে আগামীর কোনো প্রজন্মই ক্ষমা করবে না।

( প্রথম পোস্ট ১ সেপ্টেম্বর,২৪)

*গত ৩১ মে বরগুনায় নদীতে জেলেদের জালে যে 'অদ্ভুত জনযান' ধরা পড়েছিল - সেটা মূলত এই ব্ল্যাকগোল্ডের জরিপ কাজ করছিল।

তার ১ মাস আগে থেকে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল মার্কিন রণতরী। সেই রণতরী থেকে ছোটছোট কয়েক ডজন জলযান নামিয়ে সমুদ্রের গভীরে গোপনে জরিপ চালানো হয়।
সেই জরিপ কাজে অংশ নেয়া একটা জলযান কোনো কারণে বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং বরগুনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

এ বিষয়গুলো তারেকের প্রশাসন পূঙ্খানুপুঙ্খ জানে। কিন্তু না জানার ভান করে আছে।

ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

image

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৭৭নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
“আপনি বলুন, দুনিয়াবী সম্পদ সামান্য। আর মুত্তাকীগণ উনাদের জন্য পরকালই উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।" পরকালরে তুলনায় দুনযি়াবী সম্পদ অতি সামান্য।
তাই, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- দুনিয়ার পিছনে না ঘুরে পরকালের দিকে মনোনিবেশ করা। এ জন্য তাক্বওয়া বা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের ইত্তেবা বা অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারক মুতাবিক জীবন পরিচালনা করতে হবে।
, ১৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
“আপনি বলুন, দুনিয়াবী সম্পদ সামান্য। আর মুত্তাকীগণ উনাদের জন্য পরকালই উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।" পরকালরে তুলনায় দুনযি়াবী সম্পদ অতি সামান্য।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৭৭নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনি বলুন, দুনিয়াবী সম্পদ সামান্য। আর মুত্তাকীগণ উনাদের জন্য পরকালই উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।”

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়াবী সম্পদকে সামান্য বলেছেন। আর এই সামান্য সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার উদাহরণ হলো, তোমাদের কেউ যদি মহাসাগরে তার একখানা আঙ্গুল ডুবিয়ে দেয়, সে যেন লক্ষ্য করে যে ঐ আঙ্গুলের মাথায় কি পরিমাণ পানি উঠে আসে।”

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে তিনি আঙ্গুলের মাথায় উঠে আসা পানিকে দুনিয়ার সাথে আর সাগরকে পরকালের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তাই মানুষ যদি পুরো দুনিয়ার সম্পদের মালিকও হয় সে ততটুকুই হাছিল করতে পারবে, যতটুকু আঙ্গুলের মাথায় পানি উঠে আসে। এই দুনিয়ায় যা দেয়া হয়েছে তা পরকালের তুলনায় খুবই সামান্য।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, বর্ণিত আছে, সর্বনিম্ন জান্নাতী যারা হবেন উনাদের প্রতিদান হবে এই দুনিয়ার মতো দশ দুনিয়া। মানুষ দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরও দুনিয়ার সম্পূর্ণ সম্পদ লাভ করতে পারে না। তারপরও মানুষ এই দুনিয়ার পিছনেই মহামূল্যবান সময় ব্যয় করে যাচ্ছে। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি উপরোক্ত আয়াত শরীফের পরবর্তী অংশে ইরশাদ মুবারক করেন, যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করেন, উনাদের জন্য পরকালই উত্তম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তাক্বওয়া মানে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের ইত্তেবা বা অনুসরণ করা হবে। কারণ তাক্বওয়া অবলম্বন করতে হলে চিন্তা-ফিকির করতে হয় কোন কাজটা করা যাবে আর কোন কাজটা করা যাবে না। কিন্তু আমরা যখন আচার-আচরণ, স্বভাব-চরিত্র, চলাফেরা, উঠাবসা, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক পরিচ্ছদ সর্বক্ষেত্রেই সুন্নত মুবারকের অনুসরণ করবো তখন আর এই চিন্তা-ফিকির করতে হবে না। আপসেআপ তাক্বওয়া অর্জন হয়ে যাবে। শুধু কষ্ট করে সুন্নতী ত্বরীকা জানতে হবে এবং আমল করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের বিপরীত হলো বিদয়াত। তাই একটি বিষয় সবসময় স্মরণ রাখতে হবে, যে সুন্নত মুবারক পরিত্যাগ করলো সে বিদয়াত জারি করলো আর যে সুন্নত মুবারক জারি করলো সে বিদয়াত দূর করলো আর প্রত্যেক বিদয়াত-ই গোমরাহী।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত গুদ্বাইফ ইবনুল হারিছি ছুমালী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে সম্প্রদায় একটি বিদয়াতের উদ্ভব ঘটিয়েছে বা শুরু করেছে, তার অনুরূপ একটি সুন্নত বিলুপ্ত হয়েছে। অতঃপর একটি সুন্নত আঁকড়িয়ে ধরা একটি বিদয়াত উদ্ভব করা হতে বা শুরু করা হতে উত্তম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কেউ এমন একটি বিষয় উদ্ভাবন করলো বা শুরু করলো যা আমাদের (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) এই দ্বীনে নেই, তা পরিত্যাজ্য।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হযরত ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার পরে তোমরা যারা বেঁচে থাকবে, শীঘ্রই তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে, অতএব তোমাদের জন্য আবশ্যক হবে আমার সুন্নত মুবারক এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খলীফাগণ উনাদের সুন্নত মুবারক দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা। তোমরা নতুন উৎপত্তি বা নতুন কাজ থেকে বেঁচে থাকো, নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুন উৎপত্তি বা নতুন কাজই বিদয়াত আর প্রত্যেক বিদয়াতই গোমরাহী।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যুগে আমার একটি সুন্নত মুবারক আঁকড়িয়ে ধরবে তার জন্য থাকবে একশত শহীদের সওয়াব। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- পরকালের তুলনায় দুনিয়াবী সম্পদ অতি সামান্য। তাই, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- দুনিয়ার পিছনে না ঘুরে পরকালের দিকে মনোনিবেশ করা। এ জন্য তাক্বওয়া বা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের ইত্তেবা বা অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারক মুতাবিক জীবন পরিচালনা করতে হবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছেন তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।’ সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। সার্বিকভাবে সর্বক্ষেত্রে উনাকে অনুসরণ করা সকলের জন্যই ফরয। সুবহানাল্লাহ!
তাই কোনো মুসলমানের জন্য কস্মিনকালেও কোনো কাফির, মুশরিক, বিধর্মী, বেদ্বীন-বদদ্বীনকে কোনো অবস্থাতেই বিন্দু থেকে বিন্দুতমও অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয নেই। বরং তা সম্পূর্ণরূপেই হারাম, নাজায়িয ও কুফরী হবে এবং তা জাহান্নামী হওয়ার কারণও হবে। নাউযুবিল্লাহ!
, ১৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৪ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। সার্বিকভাবে সর্বক্ষেত্রে উনাকে অনুসরণ করা সকলের জন্যই ফরয। সুবহানাল্লাহ!
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজকাল মুসলমানদেরকে দেখা যায়- তারা অনেক ক্ষেত্রেই বেদ্বীন-বদদ্বীন, কাফির-মুশরিক, বিধর্মী ও ফাসিক-ফুজ্জারদেরকে অনুসরণ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি আপনাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” সুবহানাল্লাহ! এখন ফিকিরের বিষয় হলো- ইহুদীদের নবী ও রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার জন্যও যদি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করা ফরয হয়, তবে আমাদের জন্য উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করার গুরুত্ব কতটুকু রয়েছে- তা আমাদেরকে জানতে ও বুঝতে হবে।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি এ প্রসঙ্গে মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার বরাত দিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা ক্ষমা করবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এক কথায় মহাসম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই পুঙ্খানুপুঙ্খ (ইতায়াত) অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করার অর্থই হলো মহান আল্লাহ পাক উনার অনুসরণ করা। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করলো, সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনারই অনুসরণ করলো।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন- মহাসম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিদায় হজ্জ উনার সময় আরাফাতের ময়দানে লক্ষাধিক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপস্থিতিতে বলেন, “আমি তোমাদের মধ্যে দুটি নিয়ামত মুবারক রেখে গেলাম, যতদিন তোমরা এ দুটি নিয়ামত মুবারক আঁকড়িয়ে থাকবে, ততদিন তোমরা গুমরাহ্ হবে না। একটি হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক, আর দ্বিতীয়টি হলো- আমার সুন্নত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- কোনো মুসলমানের জন্য কস্মিনকালেও কোনো কাফির, মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, মজুসী, হিন্দু-বৌদ্ধ, বেদ্বীন-বদদ্বীন, মুরতাদ তথা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নায়ক-নায়িকা, বাদক-বাদিকা, গায়ক-গায়িকা, খেলোয়ার সে যে কেউ হোক না কেন এবং দুনিয়াবী দৃষ্টিতে ছূরতান যত যোগ্যতাসম্পন্নই মনে করা হোক না কেন; তাকে কোনো অবস্থাতেই বিন্দু থেকে বিন্দুতমও অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয হবে না; বরং তা সম্পূর্ণরূপেই হারাম, নাজায়িয ও কুফরী হবে এবং তা জাহান্নামী হওয়ার কারণও হবে। নাউযুবিল্লাহ! অতএব, সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই একমাত্র কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। সার্বিকভাবে সর্বক্ষেত্রে উনাকে অনুসরণ করা সকলের জন্যই ফরযে আইন।

https://portablepowerstations.info/

Portable Power Station Reviews, Comparisons & Buying Guides
portablepowerstations.info

Portable Power Station Reviews, Comparisons & Buying Guides

Compare portable power stations by capacity, output, and price. Real-world reviews and buying guidance for camping, home backup, and emergencies.

সাইয়্যিদ আব্বাস ইবনে আলাভী আল-মালিকী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, তিনি যখন ছোট ছিলেন, তখন মক্কার লোকেরা বছরে দু’বার বড় বড় কাফেলা নিয়ে মদিনা মুনাওয়ারার উদ্দেশে সফর করতেন। তাঁদের বিদায় জানাতে যেন গোটা মক্কা নগরীই বেরিয়ে আসত। প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি গভীর আকুলতা ও ভালোবাসায় সকলের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠত। কারণ দূরত্ব ও সফরের প্রয়োজনীয় সামর্থ্যের অভাবে অনেকের পক্ষেই মদিনায় যাওয়া সম্ভব হতো না।

তাঁরা গাধা ও ঘোড়ায় চড়ে এবং পায়ে হেঁটে সফর করতেন। সফরের প্রতিটি মুহূর্ত মুখর থাকত প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রশংসায় রচিত নাশিদ, মাওলিদ ও আনন্দময় মাহফিলে। মক্কার লোকেরা পুরো সফরজুড়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং ‘ইয়া নবী সালাম!’ ধ্বনিতে পথ মুখরিত করে রাখতেন। মরুভূমিতে তাঁবু খাটিয়ে রাতযাপন করতেন। অনেকের জন্য এই সফর সম্পন্ন করতে দশ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত।

তাঁরা যখন মদিনা মুনাওয়ারা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পৌঁছতেন, তখন সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং নিজেদের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। মদিনাবাসী শহরের উপকণ্ঠে এসে তাঁদের স্বাগত জানাতেন। তাঁরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করতেন এবং আগত মেহমানদের খাবার ও পানীয় পরিবেশন করতেন। সেই সঙ্গে তাঁরা গাইতেন—‘তালা‘আল বাদরু ‘আলাইনা’ (طلع البدر علينا)। দিনটি যেন এক আনন্দোৎসবের দিনে পরিণত হতো।

এরপর সবাই মুখে দরুদ ও সালাম পাঠ করতে করতে মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করতেন এবং ‘বাবুস সালাম’-এর দিকে এগিয়ে যেতেন। এই দরজায় পৌঁছার পর গোটা শহর যেন দাঁড়িয়ে যেত। তাঁরা তাঁদের সর্বোত্তম কবিতাগুলো আবৃত্তি করতেন এবং বলতেন—‘ইনি আমাদের সরদার মুহাম্মদ ﷺ, কিয়ামতের দিনের মুক্তির ওসিলা!’

এরপর তাঁরা অশ্রুসিক্ত চোখ ও বিগলিত হৃদয়ে প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর দরবারে সালাম পেশ করতেন।

এসব ঘটনা আজ থেকে আশি বছরেরও কম সময় আগের। আহা! কী অপূর্ব ও ভালোবাসায় ভরা দিনই না ছিল সেসব!

-সায়্যিদুনা মুহাম্মদ বিন আলাভী আল মালেকি রাহিমাহুল্লাহ, মক্কা শরিফের বিশিষ্ট সুফি এবং গত শতাব্দীর মক্কা শরিফের অন্যতম বিখ্যাত ফকিহ এবং আহলে বাইতে রাসূল।
লেখা সংগ্রহ

Muhammad Ali shared a post  
3 hrs

11 hrs

মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

اُدْخُلُوْا فِى السِّلْمِ كَافَّةً

অর্থ : তোমরা পরিপূর্ণভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ২০৮)

আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সর্বোতভাবেই নিন্মোক্ত চারটি উছূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেগুলোর বাইরে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোন বিষয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। আর তাহলো- যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়,

اُصُوْلُ الشَّرْعِ ثَلَاثَةٌ اَلْقُرْاٰنَ الشَّرِيْفُ وَالْـحَدِيْثُ الشَّرِيْفُ وَالْاِجْـمَاعُ وَرَابِعُهَا الْقِيَاسُ

অর্থ : সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দলীল মোট চারটি (১) পবিত্র কুরআন শরীফ (২) পবিত্র হাদীছ শরীফ (৩) পবিত্র ইজমা শরীফ ও (৪) পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ। সুবহানাল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার, উছূলুশ শাশী)

আমাদের সমাজের কিছু নামধারী তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে পরিচয় দানকারী ব্যক্তিবর্গ নিজেদেরকে সুন্নী অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসারী দাবী করা সত্ত্বেও দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কয়েকটি পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের ও কয়েকটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ভুল, মনগড়া, বিভ্রান্তিমূলক অপব্যাখ্যা করে সরলপ্রাণ মুসলমান উনাদের মধ্যে ফিৎনার সৃষ্টি করছে এবং মসজিদে পুরুষের সাথে সাথে মহিলাদের জামায়াত কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার আম ফতওয়া মুতাবিক সম্পূর্ণরূপে মাকরূহ্ তাহরীমী আর খাছ ফতওয়া মুতাবিক হারাম ও কুফরী।

প্রকাশ থাকে যে, মহিলাদের জন্য স্বীয় ঘর বা বাড়ীর বাইরে বের হওয়াটা আমভাবেই নিষেধ। তাদেরকে ঘর-বাড়ীতে অবস্থান করার জন্য আদেশ মুবারক করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَقَرْنَ فِىْ بُيُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْـجَاهِلِيَّةِ الْاُوْلٰى

অর্থ : মহিলারা তোমরা তোমাদের ঘরে বা বাড়ির মধ্যে অবস্থান করো এবং তোমরা জাহিলী যুগের মহিলাদের মতো বেপর্দাভাবে বাইরে বের হয়ো না। (পবিত্র সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মুসলমান মহিলাদেরকে সাধারণতঃ ঘর-বাড়ী থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

জানা আবশ্যক, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুতে মহিলাদের জন্য নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়াটা মুবাহ ছিল। যেমন এ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুাবরক করেন-

لَا تَـمْنَعُوْا اِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلْيَخْرُجْنَ اِذَا خَرَجْنَ تَفِلَاتٍ اَيْ غَيْرِ مُتَطَيِّبَاتٍ

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দীদেরকে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে তোমরা নিষেধ করো না, তবে তারা সুগন্ধি ব্যবহার করা ব্যতীত সাধারণভাবে যদি যায়, যেতে পারবে। (মুহীতুল বুরহানী, শুবহাতুল ওয়ারদূদ ইত্যাদি)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার পর ফিতনার আশঙ্কায় মহিলাদেরকে নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِيْنَ

অর্থ : আর আমি অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের সম্পর্কেও জানি এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরবর্তীদের সম্পর্কেও জানি। (পবিত্র সূরা হিজর : আয়াত শরীফ ২৪)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফখানা (মুসলমান) মহিলাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। নাযিল হওয়ার কারণ স্বরূপ বলা হয়, যখন মুনাফিকরা নামাযের জামায়াতে আসা মহিলাদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করতে শুরু করে দিল তখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে না আসার জন্য উনাদেরকে উৎসাহ প্রদান করতঃ ইরশাদ মুবারক করেছেন।