অবিশ্বাস্য ‘লাল নদী’!

বিশ্বের সব দেশেই ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের নদী আছে। তবে কখনো কি নদীর পানির রং লাল দেখেছেন? অবিশ্বাস্য ঘটনা হলেও সত্যিই, এমন এক নদীর দেখা পাবেন পেরুতে গেলে।

সেখানকার ভিলকানোটা পর্বতশ্রেণীর আদিম পাথুরে উপত্যকার মধ্য দিয়ে চলা এক নদীর পানির রং টকটকে লাল। এটি একটি অনন্য প্রাকৃতিক ঘটনা। আর এ দৃশ্য দেখতেই সেখানে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

কুসকো শহর থেকে আনুমানিক ১০০ কিলোমিটার দূরে, সুপরিচিত পালকোয়ো রেইনবো পর্বতমালার কাছে এই লাল নদীর অবস্থান। স্থানীয়দের কাছে স্থানটি ‘পালকুয়েলা পুকামায়ু’ নামে পরিচিত।

অবাক করা বিষয় হলো, শুধু ৫ কিলোমিটারের জন্য লাল রং ধারণ করে এই নদীর পানি। এরপর পানি স্বাভাবিক রঙের হয়েই অন্যান্য নদীতে মিশে যায়।

লাল নদীর সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায় বর্ষাকালে। ডিসেম্বর-এপ্রিল মাস পর্যন্ত উৎসুক মানুষ সেখানে যান। আর বছরের বেশিরভাগ সময়, পাল্কেল্লা পুকামায়ু একটি কর্দমাক্ত বাদামিরঙা।

বর্ষাকালে প্রচুর পরিমাণে আয়রন অক্সাইড সমৃদ্ধ মাটি পাহাড় থেকে নীচে বাহিত হয় ও পানির রং উজ্জ্বল লালচে করে তোলে।

কুসকোর লাল নদীর অনেক ছবি ও ভিডিও বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে অনেকেই এটি ফটোশপ ভেবে ভুল করেন।

image

নহরে জুবাইদা: ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল

মসজিদে নামিরা থেকে আরাফাতের ময়দান ঘুরে মুজদালিফা হয়ে মিনা যাওয়ার পথে চোখে পড়বে একটি পুরাতন স্থাপনা। স্থাপনাগুলো পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে দৃষ্টিসীমার বাইরে। যা নহরে জুবাইদা নামে পরিচিত। নহরের সমার্থক সরু, স্রোতস্বিনী, পানিধারা, খাল, নালা।

আব্বাসীয় শাসক হারুনুর রশিদের স্ত্রী জুবাইদা বিনতে জাফর পবিত্র মক্কা শরীফে হজ্জযাত্রীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মিষ্টি পানির খাল খনন করেছিলেন। যা হজ্জের সময় পানির অভাব দূর করে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিলো। খালটি তায়েফের কাছের ঝরনা থেকে পানি এনে পবিত্র মক্কা শরীফ পর্যন্ত পৌঁছে দিতো। জুবাইদা নিজে এই বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা করে ব্যয়ভারও বহন করেন।

নহরে জুবাইদা ইসলামী প্রকৌশল ও স্থাপত্যের বিস্ময়কর নিদর্শন হিসেবে বিদ্যমান। জুবাইদা খানম অত্যন্ত বিদুষী, দ্বীনপরায়ণ ও পরোপকারী একজন নারী ছিলেন। জুবাইদা জাফর ইবনুল মানসুরের মেয়ে। জাফর ইবনুল মানসুর হারুনুর রশিদের চাচা। জুবাইদার আসল নাম ছিলো আমাতুল আজিজ। তার দাদা আল-মানসুর তাকে আদর করে ‘জুবাইদা’ (ছোট মাখনের টুকরা) ডাকতেন। কালক্রমে তিনি ‘জুবাইদা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন।

নহরে জুবাইদা নির্মিত হয়েছিলো ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ইরাকের নু’মান উপত্যকা থেকে শুরু হয়ে তায়েফের পাশ দিয়ে আরাফাহ হয়ে পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে পানি সরবরাহ করতো। প্রায় এক হাজার বছর ধরে সচল থাকলেও বর্তমানে কিছু অংশ অবশিষ্ট আছে; তবে ব্যবহৃত হয় না।

নহরে জুবাইদা কঠিন ভূখ-ে সুড়ঙ্গ ও পানিপ্রণালি তৈরি করে, বিশাল প্রকৌশলের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছিলো। এর নির্মাণে বেশ বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিলো। কঠিন শিলা কেটে খাল তৈরি করা এর অন্যতম। এটি একটি জটিল প্রকৌশল, যেখানে ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ, খালের অংশ এবং পানাধার নির্মাণ করা হয়েছিলো, যা পানিকে বাষ্পীভবন থেকে রক্ষা করতো।

সে সময় পবিত্র মক্কা শরীফে জমজম ছাড়া পানির উৎস ছিলো না। হজ্জে প্রচুর মানুষের ভিড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিতো। উচ্চ মূল্যে পানি ক্রয় করতে হতো। খলীফা হারুনুর রশিদের আমলে পানির অভাব বেশ তীব্র ছিলো। তখন এক বালতি পানি বিক্রি হয় ২০ দিরহামে। ১৯৩ হিজরীতে তার ইন্তেকালের পর তার স্ত্রী জুবাইদা হজ্জ পালন করতে পবিত্র মক্কা শরীফে যান। পানির সমস্যা দেখে তিনি একটি খাল কাটার সিদ্ধান্ত নেন।

নহরে জুবাইদা খননে আনুমানিক ১৭ লাখ দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) খরচ হয়। জুবাইদা খানমের খাল খননের ফলে হাজিদের জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এই ব্যবস্থা পবিত্র মক্কা শরীফ ও আশেপাশের এলাকার কৃষকদের জন্যও বেশ উপকৃত করেছিলো। তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে খালের পানি ব্যবহার করতো। তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফের পথে হজ্জযাত্রীদের জন্য কূপ, পানাধার এবং কৃত্রিম পুল তৈরি করেন।

‘দারব জুবাইদা’ (জুবাইদার পথ) নামে পরিচিত পথটির উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন। খালটি শুধু পানিই সরবরাহ করতো না বরং বাগদাদ থেকে পবিত্র মক্কা শরীফ পর্যন্ত বিস্তৃত ‘দারব জুবাইদা’কে (হজ্জযাত্রার পথ) সুগম করে তোলে। হজ্জযাত্রীদের সুবিধার জন্য পথে বিশ্রামস্থল, কূপ, পুকুর ও বাতিঘর স্থাপন করা হয়। নহরে জুবাইদা কেবল হাজিদের পানির সংকট দূর করেনি বরং শত শত বছর ধরে মুসলিম উম্মাহর সেবা ও নারীর দূরদর্শিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

আজকের যুগেও অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম নারীরা অবহেলিত। সেই সময় রানী জুবাইদা কি চিন্তা করেছিলেন! এর ফলপ্রসূ বাস্তবায়নও বাকি রাখেননি। নারী জাগরণের ইতিহাসে তাকে উদাহরণ হিসেবে বলাই যায়। তিনি অনেক নারীর অনুপ্রেরণা। মুসলিম সভ্যতার ইতিহাসে জুবাইদার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

নহরে জুবাইদা শুধু একটি পানিধারা ছিলো না, এটি রানী জুবাইদার প্রজ্ঞা, উদারতা এবং হজ্জ পালনকারী মহান আল্লাহ পাক উনার মেহমানদের প্রতি মুহব্বতের বহিপ্রকাশ ছিলো। বর্তমানে এটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত। একটি কালজয়ী স্থাপনা, যা ছিলো প্রকৌশল ও মানবতার অপূর্ব মেলবন্ধন।

নহরে জুবাইদার ভগ্নাবশেষ এখনো আরাফাতের ময়দান, মুজদালিফা ও মিনার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নহরটি এখন আর পুরোপুরি সক্রিয় পানিধারা না হলেও অনেক পর্যটক ও হাজি সাহেবরা সময় পেলেই নহরে জুবাইদা দেখতে মিনা ও আরাফাতের ময়দানে ছুটে যান।



-মুহম্মদ মুফহিম।

স্থাপত্য-নিদর্শন
ভারতের সাদা রত্ন ঐতিহাসিক মতি মসজিদ


আগ্রা লাল কেল্লার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঐতিহাসিক মতি মসজিদ। বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার শাসনামলের শুরুর ভাগে এটি নির্মাণ করেন। ১৬৬৩ খ্রিস্টাব্দে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। তিনি উনার শাসনকালের প্রথম ২৩ বছর দিল্লিতে অবস্থান করেন।

এ সময় মতি মসজিদ ছিলো উনার ব্যক্তিগত মসজিদ। ১৬৮১ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহ দমনের জন্য তিনি দিল্লি ত্যাগ করেন। এরপর আর কখনোই উনার দিল্লি ফেরা হয়নি। মসজিদটি নির্মাণ করতে ৫ বছর সময় এবং এক লাখ ৬০ হাজার রুপি ব্যয় হয়েছিলো।

এটাই ছিলো আগ্রা কেল্লার অভ্যন্তরে নির্মিত প্রথম মসজিদ। ঐতিহাসিকরা লেখেন, বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সভাসদের লোকদের নিয়ে এখানে যোহরের নামায আদায় করতেন।

মতি মসজিদ মূলত আগ্রা লাল কেল্লার অংশ। বাদশাহ শাহজাহান যমুনা নদীর পশ্চিম তীরে লাল কেল্লা তৈরি করেন।

কেল্লার পূর্ব দিকে যেখান থেকে নদীর প্রবাহ দেখা যায়, সেখানে শাসকদের বিশ্রামাগার ছিলো। উত্তর দিকে ব্যবসায়িক কেন্দ্র, দক্ষিণ দিকে মহিলাদের থাকার স্থান ছিলো। দুর্গের পশ্চিম পাশে ছিলো দেওয়ানে আম এবং পশ্চিম দিকের প্রবেশপথে ছিলো বাজার। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় লাল কেল্লার অন্যান্য অংশের মতো মতি মসজিদও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশ্য পরে ব্রিটিশ সরকার এর পুনঃর্নিমাণ করে।

ঐতিহাসিকরা লেখেন, দিল্লি জামে মসজিদ কিছুটা দূরে হওয়ায় বাদশাহ শাহজাহান উনার বাসভবনের কাছে মতি মসজিদ নির্মাণ করেন, যেন তিনি সহজেই মসজিদে উপস্থিত হতে পারেন এবং সব সময় জামাতে নামায আদায় করতে পারেন।

মতি মসজিদ একটি আয়তাকার দেয়াল দ্বারা ঘেরা, যার দৈর্ঘ্য ২২ মিটার এবং প্রস্থ ১৫ মিটার। মসজিদের পূর্ব-পশ্চিমের দেয়ালের উচ্চতা ৬.১ মিটার, যাতে রয়েছে তিনটি বাল্ব, সাদা মার্বেল আচ্ছাদিত গম্বুজ এবং একাধিক ছোট মিনার। দেয়ালে আছে পদ্মের কারুকাজ। তবে দূর্গ সদৃশ উঁচু দেয়ালের কারণে মূল মসজিদের অনেকটাই আড়াল হয়ে গেছে। পূর্ব দেয়ালে একটি খিলানযুক্ত দরজা দিয়ে একটি ছোট সিঁড়ি বেয়ে মসজিদে প্রবেশ করা যায়। মসজিদের সামনের প্রাঙ্গণে মধ্যভাগে অযূখানা ও পানির হাউস রয়েছে। মূল মসজিদ, মসজিদের প্রাঙ্গণ ও অযূখানা সবই সাদা মার্বেল পাথর দ্বারা আচ্ছাদিত।

মূল নামায ঘরটি দুই ভাগে বিভক্ত। নামায ঘরটিও সাদা মার্বেল পাথর দ্বারা আচ্ছাদিত। মসজিদের ওপর তিন শিরাবিশিষ্ট গম্বুজ ছিলো, যা সাদা মার্বেল পাথর পরিহিত ছিলো। এর ওপর পিতলের কারুকাজ ছিলো। ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের সময় গম্বুজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেঙে পড়ে। এ সময় একদল ব্রিটিশ সেনা গম্বুজের তামার কারুকাজ নিলামে বিক্রি করে দেয়। উনিশ শতকের শেষ ভাগে ব্রিটিশ সরকার একটি অস্থায়ী গম্বুজ তৈরি করে। মসজিদের দেয়াল, মিহরাব, গম্বুজ, মিনারে বাহারি নকশা ও পাথরের কারুকাজ দেখা যায়। পূর্ব দেয়ালের দরজায় পিতলের কারুকাজ রয়েছে। মূল মসজিদের মেঝেতে কালো মার্বেল পাথর দ্বারা জায়নামাযের মতো নকশা করা হয়েছে, যা মুসল্লিদের নামাযের জায়গা চিহ্নিত করে।

মতি মসজিদ বাদশাহ আলমগীর রহমতুল্লাহি আলাইহি নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি, যা একই সঙ্গে ধর্মীয় গাম্ভীর্যতাপূর্ণ স্থান ও ইসলামী ঐতিহ্যের ধারক। মার্বেলের ওপর সূক্ষ্ম কারুকাজ, জ্যামিতিক নকশা, ভারতীয় পদ্ম ও লতার কারুকাজ উনার সময়ে শিল্পের বিকাশ সম্পর্কে ধারণা দেয়।

-তানউইর রহমান।

স্থাপত্য-নিদর্শন
সম্মানিত ইসলামী সভ্যতার অনবদ্য নিদর্শন নাফত বা পেট্রোলিয়াম

শক্তির অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস পেট্রোলিয়াম, যাকে বলা হয় তরল সোনা। এটি পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছে। গোটা পৃথিবীর উন্নতির পেছনে এই তরল সোনার অবদান অপরিসীম। পৃথিবীর যত কল-কারখানা, ইঞ্জিন, বিমান, জাহাজ ও মোটরগাড়ি সব কিছুই এই তরল সোনার ওপর নির্ভরশীল।

সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসের সঙ্গে খনিতে পেট্রোলিয়ামও থাকে। প্রোপেন ও বিউটেন স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় (২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) গ্যাসীয় হলেও উচ্চ চাপে তরল অবস্থায় থাকে বলে এরাও পেট্রোলিয়ামের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া গ্যাসোলিন, কেরোসিন, ডিজেল এগুলো সবই পেট্রোলিয়াম।

বর্তমান বিশ্বের মতো প্রাচীনকালেও এই জিনিসটি সমধিক স্বীকৃতি লাভ করেছিলো। আরবি ভাষায় অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামকে বলা হয় ‘নাফত’। এই শব্দটি মুসলিম বিজ্ঞানীদের লেখায় হরহামেশাই দেখা যেতো। তারা ‘নাফত’ থেকে দুই ভাগে ভাগ করতো। অপরিশোধিত তেলকে বলতো, ‘কালো নাফত’ আর পাতিত তরলকে বলতো ‘সাদা নাফত’। যদিও কিছু অপরিশোধিত তেল প্রাকৃতিকভাবে সাদা বর্ণেরও পাওয়া যেতো।

আল রাজির ‘কিতাবু সিররিল আসরার’ এ এই বিষয়টির বিবরণ পাওয়া যায়। উনার বর্ণনা মতে, কালো নাফত প্রথমে সাদা কাদা বা সালমোনিয়াকের সঙ্গে মিশিয়ে ঘন সাবানের মতো ফেনাযুক্ত করে ফেলতে হয় এবং তারপর পাতিত করতে হয়। এ রকম হালকা পাতিত দ্রব্য বা সাদা নাফতকে তিনি কিছু কঠিন বস্তু যেমন কিছু মূল্যবান রতœ এবং খনিজ পদার্থকে নরম করতে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া তিনি উনার রাসায়নিক ও মেডিক্যাল গবেষণাকাজে তেলের প্রদীপ (নাফফাতা) ব্যবহার করতেন বস্তুকে সমভাবে তাপ প্রয়োগের জন্য। এই প্রদীপে উদ্ভিজ্জ তেল বা পেট্রোলিয়াম জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

মুসলিমদের প্রাথমিক যুগেই বাকুর (আজারবাইজান) তেলক্ষেত্রটি বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গড়ে তোলা হয় এবং জানা যায়, ২৭২ হিজরী মোতাবেক ৮৮৫ সালে আব্বাসীয় শাসক আল-মুতামিদ দারাবন্দের বাসিন্দাদের নাফত ব্যবহারের জন্য রাজস্ব প্রদানের আদেশ করেন। বাকু তেলক্ষেত্রের উল্লেখ বহু জায়গাতেই পাওয়া গেছে। লেখক আল মাসউদি ৩০২ হিজরী মোতাবেক ৯১৫ সালে এটি পরিদর্শন করে লিখেছিলেন, ‘বাকা (বাকু) নাম তেলক্ষেত্র (খনি) থেকে রপ্তানির উদ্দেশ্যে তেলপাত্রগুলো ভরা হতো, যেগুলো ছিলো সাদা নাফত।

সপ্তম হিজরী শতকে (ত্রয়োদশ শতাব্দী) বাকুতে কূপ খনন করা হয় নাফত উত্তোলনের উদ্দেশ্যে এবং এই সময়ে পর্যটকরা লিখেছিলো, এই কূপ থেকে একবারে ১০০টি জাহাজ ভরে ফেলার মতো তেল উত্তোলন করা হয়।

এ ছাড়া ইরাকের টাইগ্রিস নদীর পার ধরে মসুল পর্যন্ত টানা রাস্তার দুই পাশে তেল শোধনাগার স্থাপন করা হয়েছিলো। আরব পর্যটকদের লেখা থেকে জানা যায়, এখান থেকে প্রচুর তেল উত্তোলন করে রপ্তানিও করা হতো। এ ছাড়া মিশরের সিনাই এবং পারস্যের খুজিস্তানে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করা হতো বলে আরব গ্রন্থসমূহ থেকে জানা যায়।

শুধু তাই নয়, আজও বিভিন্ন খনিজ পদার্থের ওপর নির্ভর করে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সব মুসলিম রাষ্ট্র। ২০ লাখের মতো নাগরিক নিয়ে এ মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী দেশ কাতার। কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২০ হাজার কোটি ডলার আর মাথাপিছু আয় ৯৩ হাজার ৪০০ ডলার। মধ্যপ্রাচ্যের উপদ্বীপ খ্যাত কাতারের অর্থনীতি জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে পেট্রোলিয়াম রপ্তানি থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের মতো কুয়েতেরও রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস জ্বালানি তেল। মাত্র ২৮ লাখ জনসংখ্যার এ দেশের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ৪৩ হাজার ৭০০ ডলার।

-মুহম্মদ নাইম।

রহস্যদ্বীপ কেশম: পারস্য উপসাগরের বুকে সবুজ পান্না

ইরানের হরমুজগান প্রদেশের উপকূল থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে কেশম দ্বীপের অবস্থান। এটি এমন একটি দ্বীপ যা শুধু ভূগোলের অংশ নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি আর সৌন্দর্যের এক বর্ণিল সংমিশ্রণ।

১,৪৯১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি আকারে বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরের চেয়েও বড়। ইরানিরা একে ভালোবেসে ডাকে ‘পারস্য উপসাগরের সবুজ পান্না’ বা ‘উজ্জ্বল মুক্তো’।

দ্বীপটি ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে-যেখানে পাহাড়ি অংশ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, ম্যানগ্রোভ বন, লবণ গুহা ও উপত্যকার ভঙ্গুর প্রাকৃতিক রূপ একসাথে দেখা যায়।

নক্ষত্র উপত্যকা: দ্বীপের অন্যতম বিস্ময়কর নিদর্শন ‘নক্ষত্র উপত্যকা’। আকাশ থেকে পতিত নক্ষত্রের মতো খচিত এই উপত্যকার গঠনে সময়, বায়ু ও পানি মিলেমিশে তৈরি করেছে অনন্য এক ভৌগোলিক শিল্পকর্ম।

চাহকুহ গিরিখাত: পাথরে খোদাই করা বিশাল প্রাচীরের মাঝ দিয়ে আলোর কিরণ নেমে আসে। এখানকার প্রতিটি গহ্বর, প্রতিটি ছায়া রহস্যে মোড়া। সকালে রোদ ঢোকার সময় এই গিরিখাতের সৌন্দর্য দেখে মনে হয়, সময় থেমে গেছে। চাহকুহ আসলে লবণ-চুনাপাথরের পাহাড়ে শতাব্দীব্যাপী পানির ক্ষয়ে তৈরি গিরিখাত। উল্লম্ব দেয়াল ও সরু গিরিপথের এই বিস্ময় ভূতত্ত্ববিদদের জন্যও গবেষণার ক্ষেত্র।

লবণগুহা: বিশে^র দীর্ঘতম লবণগুহাগুলোর একটি এই নামাকদান বা লবণগুহার দৈর্ঘ্য প্রায় ছয় কিলোমিটার। গুহার ভেতরে রয়েছে ৫০ কোটি বছরের প্রাচীন লবণস্ফটিক ও ভূগর্ভস্থ লবণ নদী। বিশে^র দীর্ঘতম এই লবণগুহার দেয়ালজুড়ে রয়েছে নানা রঙের লবণস্তর, ঝুলে আছে স্ফটিকের মতো ঝলমলে লবণস্তম্ভ। এখানকার বাতাসে শ^াস নিলে বলা হয়, শ^াসকষ্টজনিত রোগের উপশম ঘটে। লবণের স্বচ্ছতা আর নীরবতার মিশেলে এটি যেন প্রকৃতির নির্মিত প্রশান্তির গৃহ।

ন্যাজ দ্বীপপুঞ্জ: দুটি ছোট পাথুরে দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দ্বীপপুঞ্জে ভাটার সময় যখন সমুদ্র সরে যায়, তখন খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন সাগরের বুকের সেই দ্বীপে-যেন হেঁটে যাচ্ছেন অনন্তের দিকে।

কেশম শুধু প্রকৃতির বিস্ময় নয়, ইতিহাসেরও এক প্রাচীন অধ্যায়। একসময় এটি ছিল আফ্রিকা সৌদি আরব ও ইউরোপের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক সংযোগস্থল। এজন্যই এখানে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে- ফার্সি ভাষার সঙ্গে বন্দরের উপভাষা, নানা সংস্কৃতির ছোঁয়া ও ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসে এই দ্বীপ এক বহুসাংস্কৃতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

দ্বীপের মানুষের ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কাঠের পালতোলা জাহাজ নির্মাণ, বান্দারি সূচিশিল্প ও চাটাই বয়ন।

বান্দর আব্বাস থেকে মাত্র বিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো নৌপথ।

image

ইরানের গোলাপি হ্রদের রাজ্য: প্রকৃতির অপার বিস্ময়

‘গোলাপি হ্রদ’ কথাটি শুনে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কীভাবে সম্ভব এমনটি? এর পেছনের রহস্যের নাম ‘ডুনালিয়েলা স্যালিনা’। এটি এক ধরনের পানীয় শৈবাল, যা অতিরিক্ত লবণাক্ততা ও প্রচুর সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বেড়ে ওঠে।

এই শৈবালটি নিঃসৃত এক ধরনের পদার্থ পানি ও লবণের স্ফটিককে গোলাপি বা লাল বর্ণে রাঙিয়ে তোলে। উল্লেখ্য, এই শৈবাল পরিবেশ বা বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর নয়।

ইরানের উত্তরে, উত্তর-পূর্বে, দক্ষিণ-পশ্চিমে ও মধ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বেশ কয়েকটি গোলাপি হ্রদ- যেগুলোর কিছু সারা বছর এবং কিছু মৌসুম ভেদে গোলাপি রং ধারণ করে।

মাহারলু হ্রদ, শিরাজ :

শিরাজ শহর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মাহারলু হ্রদ গ্রীষ্ম এলে যেন রং বদলের উৎসব শুরু করে। শীত ও বসন্তে সাধারণ রঙের এই লেক বর্ষার পর পানি শুকতে শুরু করলে তলদেশের খনিজ আর শৈবালের লালচে আভা উপরে উঠে আসে। সূর্যের আলোতে সেই গোলাপি রং আরও গভীর হয়।

লিপার লেক, চাবাহার :

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে চাবাহারের বিস্ময়কর লিপার লেক যেন রঙের এক রহস্যময় গবেষণাগার। মৌসুম পরিবর্তন ও মাছের প্রজননচক্রের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের রঙও বদলায়-কখনো কমলা, কখনো ম্লান গোলাপি, আবার কখনো উজ্জ্বল লাল। আগস্ট-সেপ্টেম্বরের শেষভাগে যখন রং সবচেয়ে তীব্র হয়, তখন লিপার লেক যেন পুরো অঞ্চলের প্রাণবন্ত হৃদস্পন্দন হয়ে ওঠে।

গোলফেশন নাফতলিজে, গোলেস্তান :

সবুজ বন, তুর্কমেন সাহরার প্রান্তর আর মাঝখানে গোলাপি রঙের উজ্জ্বল আভা-গোলফেশন নাফতলিজে যেন প্রকৃতির এক চিত্রকর্ম। হ্রদের ভেতরে থাকা বিশেষ খনিজ উপাদান পানির স্তর কমলেই প্রকাশ পায় এবং পুরো লেক গোলাপি রঙে রাঙিয়ে তোলে। স্থানীয়দের বিশ^াস, এই খনিজের রয়েছে চিকিৎসাগত গুণ-যা হ্রদটিকে ‘হিলিং স্প্রিং’ নামেও পরিচিত করেছে।

লবণ হ্রদ, কোম :

বহু পুরোনো এই লবণ হ্রদটি ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো গোলাপি রং ধারণ করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এর কারণ ছিল হ্রদের পরিবেশগত ভারসাম্যে পরিবর্তন এবং এক ধরনের এককোষী জীবের দ্রুত বৃদ্ধি।

image

দূর থেকে ইলেকট্রনিক আঘাতে শত্রুর প্রতিরক্ষা ভেঙে দেবে তুরস্কের 'জ্যামার' যুদ্ধবিমান

সামরিক প্রযুক্তিতে বিশ^কে তাক লাগিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল তুরস্ক। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর গোপনীয়তায় নির্মাণাধীন থাকা দেশটির অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান 'হাভা সোজ’ (এয়ারবোর্ন স্ট্যান্ডঅফ জ্যামার) এখন চূড়ান্ত সফলতার দ্বারপ্রান্তে।

সম্প্রতি এই রহস্যময় বিমানটির সবচেয়ে স্পষ্ট ও নতুন কিছু দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিমানটি পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবহৃত বিখ্যাত স্ট্যান্ডঅফ ইলেকট্রনিক অ্যাটাক প্ল্যাটফর্ম-যেমন আমেরিকার তৈরি ‘ইএ-৩৭বি কম্পাস কল’-এর সমকক্ষ।

ক্যানাডিয়ান কোম্পানি বোম্বারডিয়ার-এর তৈরি বিখ্যাত 'গ্লোবাল ৬০০০’ বিজনেস জেটের এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ বিমানটি তৈরি করা হচ্ছে। ক্যানাডা থেকে আনা এই এয়ারফ্রেমগুলোর ভেতর তুরস্কের নিজস্ব খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘আসেলসান’ তাদের অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক মিশন পে-লোড ও জ্যামিং সিস্টেম যুক্ত করছে। বিমানটি মূলত তুরস্কের ল্যান্ড-বেসড বা স্থলভিত্তিক রাডার সিস্টেম ‘কোরাল’-এর আকাশ সংস্করণ।

তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি বা প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা জানিয়েছে, এই স্ট্যান্ডঅফ জ্যামিং প্ল্যাটফর্মগুলো আধুনিক যুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। শত্রুভাবাপন্ন দেশের আকাশসীমায় বা এয়ার ডিফেন্স জোনে প্রবেশ না করেই, অনেক নিরাপদ দূরত্বে থেকে তাদের এয়ার ডিফেন্স রাডার এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সাইকেল পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে।

এটি শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যামিং বা স্পুফিং (প্রতারণামূলক সংকেত)-এর মাধ্যমে অন্ধ করে দিয়ে নিজেদের সাধারণ ফাইটার জেট বা বোমারু বিমানের জন্য নিরাপদ আক্রমণের পথ বা ‘করিডোর’ তৈরি করে। বিমানটিতে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এইসা’ (অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে) অ্যান্টেনা। এর মাধ্যমে নিখুঁত ইলেকট্রনিক আক্রমণ চালানো এবং প্রয়োজনে শত্রুর ডেটা সিস্টেমে দূর থেকে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব।

যুদ্ধের সময় ছাড়াও শান্তিকালীন সময়ে এটি শত্রুপক্ষের রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি নির্গমন ট্র্যাক করে ইলেকট্রনিক অর্ডার অফ ব্যাটল বা ইওবি তৈরিতে সাহায্য করবে, যা ন্যাটো জোটের জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান।

২০০০ সালের শেষের দিকে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হলেও নানাবিধ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে এটি বেশ পিছিয়ে পড়ে। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন চিত্র এবং সফল টেস্ট রানগুলো পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তুরস্কের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হাভা সোজ’ বিমানটি খুব দ্রুতই পূর্ণ অপারেশনাল স্ট্যাটাস বা যুদ্ধক্ষমতা পেতে যাচ্ছে।

image

দূর থেকে ইলেকট্রনিক আঘাতে শত্রুর প্রতিরক্ষা ভেঙে দেবে তুরস্কের 'জ্যামার' যুদ্ধবিমান

সামরিক প্রযুক্তিতে বিশ^কে তাক লাগিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল তুরস্ক। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর গোপনীয়তায় নির্মাণাধীন থাকা দেশটির অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান 'হাভা সোজ’ (এয়ারবোর্ন স্ট্যান্ডঅফ জ্যামার) এখন চূড়ান্ত সফলতার দ্বারপ্রান্তে।

সম্প্রতি এই রহস্যময় বিমানটির সবচেয়ে স্পষ্ট ও নতুন কিছু দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিমানটি পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবহৃত বিখ্যাত স্ট্যান্ডঅফ ইলেকট্রনিক অ্যাটাক প্ল্যাটফর্ম-যেমন আমেরিকার তৈরি ‘ইএ-৩৭বি কম্পাস কল’-এর সমকক্ষ।

ক্যানাডিয়ান কোম্পানি বোম্বারডিয়ার-এর তৈরি বিখ্যাত 'গ্লোবাল ৬০০০’ বিজনেস জেটের এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ বিমানটি তৈরি করা হচ্ছে। ক্যানাডা থেকে আনা এই এয়ারফ্রেমগুলোর ভেতর তুরস্কের নিজস্ব খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘আসেলসান’ তাদের অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক মিশন পে-লোড ও জ্যামিং সিস্টেম যুক্ত করছে। বিমানটি মূলত তুরস্কের ল্যান্ড-বেসড বা স্থলভিত্তিক রাডার সিস্টেম ‘কোরাল’-এর আকাশ সংস্করণ।

তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি বা প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা জানিয়েছে, এই স্ট্যান্ডঅফ জ্যামিং প্ল্যাটফর্মগুলো আধুনিক যুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। শত্রুভাবাপন্ন দেশের আকাশসীমায় বা এয়ার ডিফেন্স জোনে প্রবেশ না করেই, অনেক নিরাপদ দূরত্বে থেকে তাদের এয়ার ডিফেন্স রাডার এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সাইকেল পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে।

এটি শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যামিং বা স্পুফিং (প্রতারণামূলক সংকেত)-এর মাধ্যমে অন্ধ করে দিয়ে নিজেদের সাধারণ ফাইটার জেট বা বোমারু বিমানের জন্য নিরাপদ আক্রমণের পথ বা ‘করিডোর’ তৈরি করে। বিমানটিতে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এইসা’ (অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে) অ্যান্টেনা। এর মাধ্যমে নিখুঁত ইলেকট্রনিক আক্রমণ চালানো এবং প্রয়োজনে শত্রুর ডেটা সিস্টেমে দূর থেকে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব।

যুদ্ধের সময় ছাড়াও শান্তিকালীন সময়ে এটি শত্রুপক্ষের রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি নির্গমন ট্র্যাক করে ইলেকট্রনিক অর্ডার অফ ব্যাটল বা ইওবি তৈরিতে সাহায্য করবে, যা ন্যাটো জোটের জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান।

২০০০ সালের শেষের দিকে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হলেও নানাবিধ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে এটি বেশ পিছিয়ে পড়ে। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন চিত্র এবং সফল টেস্ট রানগুলো পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তুরস্কের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হাভা সোজ’ বিমানটি খুব দ্রুতই পূর্ণ অপারেশনাল স্ট্যাটাস বা যুদ্ধক্ষমতা পেতে যাচ্ছে।

image

দূর থেকে ইলেকট্রনিক আঘাতে শত্রুর প্রতিরক্ষা ভেঙে দেবে তুরস্কের 'জ্যামার' যুদ্ধবিমান

সামরিক প্রযুক্তিতে বিশ^কে তাক লাগিয়ে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল তুরস্ক। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর গোপনীয়তায় নির্মাণাধীন থাকা দেশটির অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান 'হাভা সোজ’ (এয়ারবোর্ন স্ট্যান্ডঅফ জ্যামার) এখন চূড়ান্ত সফলতার দ্বারপ্রান্তে।

সম্প্রতি এই রহস্যময় বিমানটির সবচেয়ে স্পষ্ট ও নতুন কিছু দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিমানটি পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যবহৃত বিখ্যাত স্ট্যান্ডঅফ ইলেকট্রনিক অ্যাটাক প্ল্যাটফর্ম-যেমন আমেরিকার তৈরি ‘ইএ-৩৭বি কম্পাস কল’-এর সমকক্ষ।

ক্যানাডিয়ান কোম্পানি বোম্বারডিয়ার-এর তৈরি বিখ্যাত 'গ্লোবাল ৬০০০’ বিজনেস জেটের এয়ারফ্রেমের ওপর ভিত্তি করে এই বিশেষ বিমানটি তৈরি করা হচ্ছে। ক্যানাডা থেকে আনা এই এয়ারফ্রেমগুলোর ভেতর তুরস্কের নিজস্ব খ্যাতনামা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘আসেলসান’ তাদের অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক মিশন পে-লোড ও জ্যামিং সিস্টেম যুক্ত করছে। বিমানটি মূলত তুরস্কের ল্যান্ড-বেসড বা স্থলভিত্তিক রাডার সিস্টেম ‘কোরাল’-এর আকাশ সংস্করণ।

তুরস্কের ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এজেন্সি বা প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থা জানিয়েছে, এই স্ট্যান্ডঅফ জ্যামিং প্ল্যাটফর্মগুলো আধুনিক যুদ্ধের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। শত্রুভাবাপন্ন দেশের আকাশসীমায় বা এয়ার ডিফেন্স জোনে প্রবেশ না করেই, অনেক নিরাপদ দূরত্বে থেকে তাদের এয়ার ডিফেন্স রাডার এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সাইকেল পুরোপুরি অচল করে দিতে পারে।

এটি শত্রুর রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা জ্যামিং বা স্পুফিং (প্রতারণামূলক সংকেত)-এর মাধ্যমে অন্ধ করে দিয়ে নিজেদের সাধারণ ফাইটার জেট বা বোমারু বিমানের জন্য নিরাপদ আক্রমণের পথ বা ‘করিডোর’ তৈরি করে। বিমানটিতে রয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘এইসা’ (অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে) অ্যান্টেনা। এর মাধ্যমে নিখুঁত ইলেকট্রনিক আক্রমণ চালানো এবং প্রয়োজনে শত্রুর ডেটা সিস্টেমে দূর থেকে সাইবার হামলা চালানো সম্ভব।

যুদ্ধের সময় ছাড়াও শান্তিকালীন সময়ে এটি শত্রুপক্ষের রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি নির্গমন ট্র্যাক করে ইলেকট্রনিক অর্ডার অফ ব্যাটল বা ইওবি তৈরিতে সাহায্য করবে, যা ন্যাটো জোটের জন্যও অত্যন্ত মূল্যবান।

২০০০ সালের শেষের দিকে এই প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হলেও নানাবিধ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তির জটিলতার কারণে এটি বেশ পিছিয়ে পড়ে। তবে ২০২৬ সালের এই নতুন চিত্র এবং সফল টেস্ট রানগুলো পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তুরস্কের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হাভা সোজ’ বিমানটি খুব দ্রুতই পূর্ণ অপারেশনাল স্ট্যাটাস বা যুদ্ধক্ষমতা পেতে যাচ্ছে।

imageimage

নতুন বাণিজ্যপথ গড়ে তুলতে চলছে সম্প্রসারণ

ঐতিহাসিক হিজাজ রেলপথ আধুনিকায়ন করে সেটি ওমান পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে তুরস্ক।

তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামোমন্ত্রী আব্দুল কাদের উরালওলু বলেন, তুরস্ক ঐতিহাসিক এই রেললাইনকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, যা পর্যটন এবং আধুনিক পরিবহন উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের প্রথম ধাপে তুরস্ককে আলেপ্পোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এজন্য বিদ্যমান আলেপ্পো-দামেস্ক-জর্ডান রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রেলপথটি ওমান পর্যন্ত সম্প্রসারণ করে সমুদ্রপথে পৌঁছানো, যা হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীলতার একটি কৌশলগত বিকল্প তৈরি করবে।

উরালওলু জানান, ইরাকের বসরা উপসাগর থেকে তুরস্ক সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ডেভেলপমেন্ট রোড প্রকল্পের নকশা পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে।

মহাসড়ক, রেলপথ, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে গঠিত এই বিশাল করিডোরটি আন্তর্জাতিক অর্থায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইরাক এবং তুরস্ক অংশীদার হিসেবে থাকবে।

এছাড়া মধ্য করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জাঙ্গেজুর করিডোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তুরস্ক অংশের ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কার্স-ইগদির-আরালিক-দিলুচু রেলপথের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, আজারবাইজান অংশের কাজও শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর্মেনিয়ার ভূখ- দিয়ে করিডোরটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও তুরস্ক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তুর্কিভাষী বিশ^ এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে আরও সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় এই পদক্ষেপ এগিয়ে নিচ্ছে তুরস্ক।

উল্লেখ্য, হিজাজ রেলপথ ১৯০০ থেকে ১৯০৮ সালের মধ্যে নির্মিত হয়। এই রেল পথ দামেস্ক থেকে পবিত্র মদিনা শরীফ পর্যন্ত প্রায় ১,৩২২ কিলোমিটার বিস্তৃত ছিল। পরে অতিরিক্ত লাইন যুক্ত হয়ে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটারে পৌঁছায়। হেজাজ রেলপথটি ছিল উসমানীয় সা¤্রাজ্যের একটি ঐতিহাসিক রেলপথ। রেলপথটি মূলত প্রথম বিশ^যুদ্ধের সময় (১৯১৬-১৯১৮) ব্যাপকভাবে ধ্বংস করে খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা।

image