এক নজরে পবিত্র আশূরা শরীফ উনার আমল

১. রোযা রাখা
🔹 পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দুই দিন রোযা রাখা সুন্নত।
🔹 উত্তম হলো: ৯ম ও ১০ম মুহাররমুল হারাম রোযা রাখা।
🔹 যদি ৯ তারিখ রোযা না রাখতে পারেন, তাহলে ১০ম ও ১১তম তারিখ রোযা রাখা উচিত।
🔹 কেবল ১০ তারিখ রোযা রাখা মাকরূহ।
🔸 ফযীলত: বিগত বছরের গুনাহখতা মাফ করে দেওয়া হবে।

২. রোযাদারদেরকে ইফতার করানো: যার যার সামর্থ অনুযায়ী রোযাদারকে ইফতার করানো উচিত সেটা এক ঢোক পানি দিয়েও হোক না কেন।
🔸 ফযীলত: সমস্ত উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে ইফতার করানোর ছাওয়াব লাভ। সুবহানাল্লাহ!

৩. পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো ও পরানো: সামর্থ্য অনুযায়ী আপন পরিবারকে ভালো খাবার খাওয়ানো এবং উত্তম (সুন্নতী) পোষাক পরিধান করানো।
🔸 ফযীলত: পুরো বছরের জন্য সচ্ছলতা লাভ।

৪. ইয়াতিমদের প্রতি সহানুভূতি:
🔹 ইয়াতিমের মাথায় স্নেহভরে হাত বুলানো।
🔹 ক্ষুধার্তকে খাদ্য ও পানি খাওয়ানো।
🔸 ফযীলত: জান্নাতী দস্তরখানায় খানা, সালসাবীল ঝর্ণা থেকে পানি লাভ । সুবহানাল্লাহ!

৫. চোখে ইসমিদ সুরমা দেওয়া:
🔸 ফযীলত: এক বছর চোখে কোনো রোগ হবে না।

৬. সুন্নতী তরতীবে গোসল করা:
🔸 ফযীলত:
▪ এক বছর মৃত্যুব্যতীত সমস্ত রোগ থেকে শেফা লাভ,
▪ অলসতা, দুঃখ-কষ্ট ও গাফলতি থেকে মুক্তি।

দলীল: মুসলিম শরীফ- ১১৬২, ১১৬৩, আবূ দাউদ ২৪২৯, নাসায়ী ১৬১৩, ইবনে মাজাহ ১৭৩৮, তিরমিযী ৭৫২, তাবারানী, শু’আবুল ঈমান, মা ছাবাতা বিসসুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল, বুস্তানুল ওয়ায়েযীন-২৩৮ পৃ: ইত্যাদি।

📌 বি”দ্র”
🗓️ এবছর (১৪৪৮ হিজরী) পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযা রাখতে হবে:
বৃহস্পতিবার (৯ মুহাররম) ও জুমুআবার (১০ মুহাররম) ইনশাআল্লাহ!

image

বাংলাদেশে মূর্তি তৈরি হবে কি হবেনা সেই সিদ্ধান্ত দিবে মুসলমানরা তোরা হিন্ডুরা না ।
এতএব বেশি বারাবাড়ি করবিনা! করলে একদম ভা
রত পাঠিয়ে দেওয়া হবে ।

Korban Ali changed his profile picture
42 m

image

আল ইখতিয়ারু লি-তা’লীলিল মুখতার-৪র্থ খ-, ১৫৫ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ রয়েছে-

مَوَاضِعُ الزِّينَةِ مَا ذَكَرْنَا فَالرَّأْسُ مَوْضِعُ الْإِكْلِيلِ وَالشَّعْرُ مَوْضِعُ الْعِقَاصِ وَالْأُذُنُ مَوْضِعُ الْقُرْط وَالْعُنُقُ مَوْضِعُ الْقَلَائِدِ وَالصَّدْرُ مَوْضِعُ الْوِشَاحِ وَالْعَضُدَانِ مَوْضِعُ الدُّمْلُجِ وَالذِّرَاعُ مَوْضِعُ السِّوَارِ وَالسَّاقُ مَوْضِعُ الْخُلْخَالِ-

অর্থ: মহিলাদের সৌন্দর্যের স্থানসমূহ যা আমরা উল্লেখ করেছি তাহলো: মহিলাদের মাথা হলো সৌন্দর্যের স্থান। কেননা, এতে মুকুট পরিধান করা হয়। চুল হলো ফিতা বাধার স্থান, কান হলো দুল লাগানোর স্থান, গলা হলো হাড় লাগানোর স্থান, বক্ষ হলো স্কার্ফ বা গলাবন্ধনীর স্থান, বাহু হলো বাজু বন্ধের স্থান, হাতের কব্জি হলো চুড়ি লাগানোর স্থান, হাতের তালু হলো আংটি ও খিযাব লাগানোর স্থান, পায়ের নলা হলো গহনা বাঁধার স্থান।

আল বিনায়াতু শরহুল হিদায়া-১২ খ-, ১৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

أَمَّا الرَّأْسُ فَلِأَنَّهُ مَوْضِعُ التَّاجِ وَالْإِكْلِيلِ ، وَالشَّعْرُ مَوْضِعُ الْعِقَاصِ ، وَالْعُنُقُ مَوْضِعُ الْقِلَادَةِ وَالصَّدْرُ كَذَلِكَ ، وَالْأُذُنُ مَوْضِعُ الْقُرْطِ ، وَالْعَضُدُ مَوْضِعُ الدُّمْلُجِ ، وَالسَّاعِدُ مَوْضِعُ السِّوَارِ ، وَالْكَفُّ مَوْضِعُ الْخَاتَمِ ، وَالْخِضَابِ وَالسَّاقُ مَوْضِعُ الْخَلْخَالِ، وَالْقَدَمُ مَوْضِعُ الْخِضَابِ-

অর্থ: মহিলাদের মাথা হলো সৌন্দর্যের স্থান: কেননা এতে মুকুট পরিধান করা হয়। চুল হলো ফিতা বাধার স্থান, গলা হলো হার লাগানোর স্থান, বক্ষ তদ্রুপ, কান হলো দুল লাগানোর স্থান, বাহু হলো বাজু বন্ধের স্থান, হাতের কব্জি হলো চুড়ি লাগানোর স্থান, হাতের তালু হলো আংটি ও খিযাব লাগানোর স্থান, পায়ের নলা হলো গহনা বাঁধার স্থান, পায়ের পাতা হলো খিযাব লাগানোর স্থান।

গলার হার, গলার অলংকার, মাথার মুকুট, মাথার বেণী, কানের দুল, নাকের দুল, হাতের চুড়ি, দুমলুজ বা বাজু বন্ধ, হাতের আংটি, হাতের খিযাব, পায়ের আংটি, পায়ের খিযাব, খুলখুল বা পায়ের অলংকার ইত্যাদি সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

আল বিনায়াতু শরহুল হিদায়া-১২ খ-, ১২৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে-

وَمَوْضِعُ الزِّيْنَةِ الرَّأْسُ لِأَنَّهٗ مَوْضِعُ الْإِكْلِيْلِ وَالشَّعْرُ لِأَنَّهٗ مَوْضِعُ الْفِصَاصِ الدَّرِيْهَمَات- وَالْأُذُنُ لِأَنَّهَا مَوْضِعُ الْقُرْطِ وَالْعُنُقُ لِأَنَّهٗ مَوْضِعُ الْقِلَادَةِ وَالصَّدْرُ لِأَنَّهٗ مَوْضِعُ الوِشَاح والعضدُ لأنه موضع الدُّمْلُجِ والذِّرَاع لأنه موضع السوار والساق لأنه موضع الخلخال-

অর্থ: মহিলাদের সৌন্দর্যের স্থানসমূহ: মাথা হলো সৌন্দর্যের স্থান। কেননা, এতে মুকুট পরিধান করা হয়। চুল হলো বেণী বাঁধার স্থান, কান হলো দুল লাগানোর স্থান, গলা হলো হার লাগানোর স্থান, বক্ষ হলো স্কার্ফ বা গলাবন্ধনীর স্থান, বাহু হলো বাজু বন্ধের স্থান, হাতের কব্জি হলো চুড়ি লাগানোর স্থান, পায়ের নলা হলো গহনা বাঁধার স্থান।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

اِنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَة النَّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَةِ وَمُخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার খনি মুবারক থেকে পবিত্র রেখেছেন তথা বেনিয়াজ করেছেন। (তাফসীরে দুররে মানছুর ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-
نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْـمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম| সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস উনাদেরকে (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ অর্থাৎ বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন|” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর লিস সুয়ূত্বী ৬/৬০৬, তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
قُلْ لَّا اَسْاَلُكُمْ عَلَيْهِ اَجْرًا اِلَّا الْمَوَدَّةَ فِى الْقُرْبـٰى.
অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলে দিন, তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না, চাওয়াটাও ¯^াভাবিক নয়| তবে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া|” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা শূরা শরীফ : সম্মানিত আয়াত শরীফ-২৩)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে এই সম্মানিত কুরবত মুবারক এবং উনার সম্মানিত মূল নিয়ামত মুবারক বংশানুক্রমে (অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে) যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং ব্যক্তিত্বা মুবারক উনারা ধারণ করেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যেই সকল সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক এবং ব্যক্তিত্বা মুবারক উনারা ধারণ করবেন, উনারাই হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম| সুবহানাল্লাহ!

“যে ব্যক্তি আশূরার দিন (আশূরার নিয়তে) গোসল করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে এক বছরের জন্য মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন এবং সে অলসতা ও দুঃখ কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ!