সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (২)
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ফুটবল-ক্রিকেটসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ اِلَّا ثَلَاثٍ: مُلَاعَبَةُ الرَّجُلِ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ
“সর্বপ্রকার খেলা নিষিদ্ধ তিনটি বিষয় ব্যতীত- যা খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। (১) নিজ আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা। (২) তীর ধনুক চালনা করা। (৩) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা।
“আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ” ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবেও হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।
কাজেই, খেলাধুলার ফিতনা থেকে ঈমান-আমল হিফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-ওয়াজিব।
(ধারাবাহিক)
খেলাধুলা সম্পর্কে শরীয়তের ফায়ছালা :
(১) যে খেলা বিধর্মীদের সাথে তাশাব্বুহ্ বা সাদৃশ্য রাখে অথবা দ্বীন ইসলাম থেকে সরিয়ে দেয় বা কুফরীতে নিমজ্জিত করে তা সম্পূর্ণ কুফরী।
পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا
অর্থ : হযরত আমর বিন শুয়াইব উনার পিতা থেকে এবং তিনি উনার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ঐ ব্যক্তি আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য রাখে। (মিশকাত শরীফ)
(২) যে খেলা ইসলামী আক্বীদা থেকে সরিয়ে নেয়না কিন্তু হারাম ও গুণাহ’র কাজে লিপ্ত করে দেয়, তা কুফরী নয়, তবে কবীরা গুণাহ’র কারণ। অর্থাৎ হারাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
অর্থ : তোমরা পরস্পর পরস্পরকে নেক কাজ ও পরহিযগারীর মধ্যে সাহায্য করো, পাপ ও শত্রুতার মধ্যে সাহায্য করো না। (সূরা মায়িদা শরীফ-২)
(৩) আর যে সমস্ত খেলা কুফরী ও হারাম কোনটিই নয় কিন্তু প্রকাশ্যে তা পাপ বলেও মনে হয়না, মানুষ সাধারণভাবে সে সমস্ত খেলাকে জায়িয মনে করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তাও পাপেরই অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মাকরূহ। এতে যেমন ইবাদত-বন্দিগীর ব্যাঘাত ঘটে এবং স্বাস্থ্য, সময় ও টাকা-পয়সার অপচয় হয়, তদ্রুপ পরস্পরের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষও পয়দা হয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ
অর্থ : নিশ্চয়ই (সর্বপ্রকার) অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। (সূরা বণী ইসরাঈল শরীফ-২৭)
আর পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَلِيِّ بن حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مِنْ حُسْنِ إِسْلامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لا يَعْنِيهِ
অর্থ: হযরত আলী ইবনে হুসাইন আলাইহিস সালাম বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কোন ব্যক্তির জন্য দ্বীনের সৌন্দর্য হলো অহেতুক বা অপ্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম থেকে বিরত থাকা। (তিরমিযী, মিশকাত)
উল্লেখ্য যে, শরীয়তের ফতওয়া হচ্ছে- যে কাজ হারাম ও কুফরী, তাকে হালাল মনে করা কুফরী। অর্থাৎ যে হালাল মনে করবে, সে কাফির বা মুরতাদ হয়ে যাবে। আর যে কাজ হারাম ও কুফরী নয় কিন্তু পাপের কারণ, আর সে পাপকে হালকা বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মনে করা অর্থাৎ এ ধরনের পাপ করলে কিছু হয়না ইত্যাদি মনে করাটাও কুফরী।
উল্লেখ্য, পবিত্র হাদীছ শরীফ বা শরীয়তে যে সমস্ত বিষয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে, সে সমস্ত বিষয়গুলি প্রকৃতপক্ষে খেলা বলতে যা বুঝায় তার অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ সেগুলো খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। পবিত্র হাদীছ শরীফে তীর ধনুক চালনা করা, অশ্বকে প্রশিক্ষণ দেয়া, আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা, সাঁতার কাটা, সূতা কাটা, দৌড় অনুশীলন করা ইত্যাদি বিষয়গুলো খেলা নয়। কারণ, উল্লিখিত বিষয়ের মধ্যে যেমন দ্বীনী ফায়দা রয়েছে, তেমনি দুনিয়াবী ফায়দাও নিহিত রয়েছে। যেমন- তীর চালনা করা, অশ্বকে প্রশিক্ষণ দেয়া, সাঁতার কাঁটা, দৌড় অনুশীলন ইত্যাদি জিহাদের প্রস্তুতি গ্রহণের অন্তর্ভুক্ত এবং স্বাস্থ্যকে সুঠাম ও বলিষ্ঠ রাখার কারণ।
(গবেষণা কেন্দ্র- মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ কর্তৃক প্রকাশিত ফতওয়া হতে সংকলিত)
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৬ষ্ঠ পর্ব)
জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।
“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:
বাংলাদেশ জনসংখ্যা অনুযায়ী মুসলমানদের বৃহত্তম দেশ। এই দেশের উপর দ্বীনী বিষয়ে এবং সার্বিকভাবে সাম্রাজ্যবাদী ইহুদী-নাছারাদের শকুনের দৃষ্টি রয়েছে। এখন ইহুদীসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপন করে তারা এই দেশের উপর বিভিন্নভাবে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করছে। এখনই এর উৎখাত করা ও এই শয়তানি কার্যক্রম বন্ধ করা প্রয়োজন। এই সমস্ত কুফরী কার্যক্রম বন্ধ করে দেশের মানুষের দ্বীনী অনুভূতি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা অতীব জরুরী।
আরো উল্লেখ্য, কাফিররা মুসলমানদের ক্ষতি করার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ত্রুটি করে না। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে তোমরা কখনো কাফিরদেরকে বন্ধু হিসেবে বা পরামর্শদাতা হিসেবে বা উপদেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করো না, অর্থাৎ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوْا بِطَانَةً مِّنْ دُوْنِكُمْ لَا يَأْلُوْنَكُمْ خَبَالًا وَدُّوا مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاءُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُوْرُهُمْ أَكْبَرُ ۚ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الْاٰيَاتِ ۖ إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُوْنَ
“হে ঈমানদাররা! মুসলমান ছাড়া তোমরা কোন বিধর্মী, কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, বিধর্মী, বেদ্বীন-বদদ্বীন, বাতিল ফিরকার কাউকে তোমাদের উপদেষ্টা হিসেবে/পরামর্শদাতা হিসেবে/বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা তোমাদেরকে সার্বিকভাবে ক্ষতি করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি করে না। (নাউযুবিল্লাহ!) এবং তারা চায় তোমরা কষ্টে থাকো, (তাতেই তাদের আনন্দ)। তারা মুখে যা প্রকাশ করে তার চেয়ে তাদের অন্তরে মুসলমানদের প্রতি আরো কঠিন ও মারাত্মক বিদ্বেষ রয়ে গেছে। (মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন,) আমি তোমাদেরকে স্পষ্ট করে বলে দিলাম, যদি তোমাদের আক্বল (সমঝ, বুঝ, বুদ্ধি, জ্ঞান) থাকে তাহলে বুঝবে।” (পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: ১১৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রুরূপে প্রথমত ইহুদীরা, দ্বিতীয়ত মুশরিকরা এরপর সমস্ত কাফিরদের কথা উল্লেখ করেছেন।
لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ آمَنُوْا الْيَهُوْدَ وَالَّذِيْنَ أَشْرَكُوْا
“(ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন ইহুদীদেরকে এবং যারা মুশরিক তাদেরকে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: ৮২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন-
وَدَّ كَثِيْرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّوْنَكُم مِّن بَعْدِ إِيْمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ أَنْفُسهِم مِّنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ
“আহলে কিতাবের (ইহুদী-খ্রিস্টানদের) অনেকেই অর্থাৎ সমস্ত কাফিররাই চায় যে, তোমাদেরকে ঈমান আনার পর আবার কাফির বানিয়ে দিতে; নিজেদের অন্তরের হিংসার কারণে এবং তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পরেও।” (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: ১০৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো আদেশ মুবারক করেছেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُوْدَ وَالنَّصٰرٰى أَوْلِيَآءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ ۚ وَمَنْ يَتَوَلَّهُم مِّنْكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الظّٰلِمِيْنَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইহুদী ও নাছারাদেরকে বন্ধু (অভিভাবক/সহচর/উপদেষ্টা) হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদেরকে বন্ধু বানাবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম সম্প্রদায়কে (ইহুদী-খ্রিস্টান, হিন্দু-বৌদ্ধ, কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদেরকে) হিদায়েত দান করেন না। অর্থাৎ, তাদের কুফরীর কারণে তারা হিদায়েত লাভের যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: ৫১)
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلشَّيْطَانُ جَاثِمٌ عَلٰى قَـلْبِ ابْنِ اٰدَمَ فَإِذَا ذَكَرَ اللهَ خَنَسَ وَإِذا غَفَلَ وَسْوَسَ
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, শয়তান মানুষের ক্বলবের মধ্যে বসে, যিকির করলে সে পালিয়ে যায় আর যিকির থেকে গাফিল হলে সে ওয়াসওয়াসা দেয়। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنْسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِنْ بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ
অর্থ: আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার দেয়া চতুস্পদ জন্তু যবেহ করার সময় মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নাম মুবারক উচ্চারণ করে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)
উট, গরু এবং মহিষ কুরবানীর ক্ষেত্রে শরীকানা বা একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত (২)
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حضرت عَبْدِ اللَّهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْجَزُورُ عَنْ سَبْعَةٍ فِي الأَضَاحِيِّ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র ঈদুল আদ্বহায় একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি উটও সাতজনের পক্ষ থেকে (কুরবানী করবে)। সুবহানাল্লাহ! (মু’জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৮/৪১১)
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حضرت جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَدَنَةُ عَنْ سَبْعَةٍ
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন। একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি উটও সাতজনের পক্ষ থেকে (পবিত্র কুরবানী করবে)। সুবহানাল্লাহ! (আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৫/২৩৪)
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ امام الاول سيدنا حضرت كرم الله وجهه عليه السلام قَالَ الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ
অর্থ: ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে (পবিত্র কুরবানী করা যায়)। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حضرت رِبْعِيٍّ رحمة الله عليه قَالَ كَانَ أَصْحَابُ سيدنا مولنا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ يَقُولُونَ الْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ
অর্থ: হযরত রিবয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বলতেন, একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে (পবিত্র কুরবানী করা যায়)। সুবহানাল্লাহ! (শরহে মা‘য়ানিইল আছার ৪/১৭৮)
উপরোক্ত হাদীছ শরীফসমূহ উনাদের থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো উট, গরু এবং মহিষ একাধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা জায়িযতো অবশ্যই বরং এটাই হচ্ছে সুন্নতী তরতীব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই যারা বলে পবিত্র কুরবানীর পশুতে একজনের বেশি শরীক হয়ে কুরবানী করা জায়িয নেই। তারা মূলত চরম মূর্খ, গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণেই এটা বলে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে এদের গোমরাহী থেকে হিফাযত করুন। আমীন!
🌙 পবিত্র কুরবানী ঈদ উদযাপন হোক সুন্নত মুবারক স্মরণে❗
কুরবানীর ঈদ শুধু আনন্দের দিন না—
এটি সুন্নত মুবারক, তাকওয়া ও আনুগত্যের দিন।
চলুন জেনে নিই, এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সুন্নত মুবারক ও করণীয় সম্পর্কে....
🕌 ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ:
✅ খুব সকালে ঘুম থেকে উঠা
✅ ঈদের নামাজের আগে গোসল করা
✅ মিসওয়াক করা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা
✅ সুন্দর ও পরিষ্কার সুন্নতী পোশাক পরিধান করা
✅ ঈদুল আযহার দিন নামাজের আগে কিছু না খাওয়া
• কুরবানীর গোশত দ্বারা প্রথম খাবার গ্রহণ করা সুন্নত।
✅ তাকবীরে তাশরীক পড়া
📖 ৯ যিলহজ্জ শরীফ ফজর থেকে ১৩ যিলহজ্জ শরীফ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাজের পর
> اَللّٰهُ أَكْبَرُ اَللّٰهُ أَكْبَرُ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
✅ ঈদের নামাজে হেঁটে যাওয়া (সামর্থ্য থাকলে)
✅ এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া এবং অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা
✅ তাকবীর পাঠ করতে করতে ঈদগাহে যাওয়া
✅ বেশি বেশি দান-সদকা করা
✅ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া
━━━━━━━━━━━━━━━
🌿 গুরুত্বপূর্ণ করণীয়
✅ কুরবানীর নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা
🌟 শুধুমাত্র মহান আল্লাহ্ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য
✅ পশুর প্রতি দয়া ও কোমল আচরণ করা
❌ পশুর সামনে ছুরি ধার না করা
❌ এক পশুর সামনে আরেক পশু জবাই না করা
✅ কুরবানীর স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা
✅ গরীব ও আত্মীয়দের মাঝে গোশত বণ্টন করা
✅ যিলহজ্জ শরীফের চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত চুল-নখ না কাটা
📖 সহীহ মুসলিম শরীফ
🕋 কুরবানীর মূল শিক্ষা
🌿 কুরবানী মানে শুধু পশু জবাই না—
এটা মহান আল্লাহ্ পাক উনার জন্য নিজের প্রিয় জিনিস ত্যাগ করার শিক্ষা।
📖 আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন—
“আল্লাহ পাক উনার নিকট পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত,
বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”
📖 পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ: ৩৭
━━━━━━━━━━━━━━━
❗আল্লাহ্ পাক তিনি আমাদের সবাইকে
সুন্নত মুবারক অনুযায়ী কুরবানী ঈদ পালন করার তাওফিক দান করুন।
✨ ঈদ মুবারক ✨