সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ'যম, গাউছুল আযম,কুতুবুল আলম,ছহিবে সুলত্বানুন নাছির মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নুরুল মাগফিরাহ মুবারকে পুরুস্কার নামক নিয়ামত লাভ করাতে নুরানীবাদ জেলার সকল পীর ভাইদের পক্ষ থেকে শুকরিয়া আদায় করা দরকার।
কারণঃ পুরুস্কার নামক নিয়ামত লাভ করা মানে নুরানীবাদ জেলার পীর ভাইদের সকল খিদমত ও গোলামী কবুলিয়াতের কারন।
আর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে মহান আল্লাহ পাক নিয়ামত বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন: সুবহানাল্লাহ।অর্থাৎ আমরা আরো বেশি করে গোলামীর আনজাম দিতে পারবো।যা দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবীর কারণ।

image

সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ'যম, গাউছুল আযম,কুতুবুল আলম,ছহিবে সুলত্বানুন নাছির মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নুরুল মাগফিরাহ মুবারকে পুরুস্কার নামক নিয়ামত লাভ করাতে নুরানীবাদ জেলার সকল পীর ভাইদের পক্ষ থেকে শুকরিয়া আদায় করা দরকার।
কারণঃ পুরুস্কার নামক নিয়ামত লাভ করা মানে নুরানীবাদ জেলার পীর ভাইদের সকল খিদমত ও গোলামী কবুলিয়াতের কারন।
আর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে মহান আল্লাহ পাক নিয়ামত বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন: সুবহানাল্লাহ।অর্থাৎ আমরা আরো বেশি করে গোলামীর আনজাম দিতে পারবো।যা দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবীর কারণ।

image

সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ'যম, গাউছুল আযম,কুতুবুল আলম,ছহিবে সুলত্বানুন নাছির মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র নুরুল মাগফিরাহ মুবারকে পুরুস্কার নামক নিয়ামত লাভ করাতে নুরানীবাদ জেলার সকল পীর ভাইদের পক্ষ থেকে শুকরিয়া আদায় করা দরকার।
কারণঃ পুরুস্কার নামক নিয়ামত লাভ করা মানে নুরানীবাদ জেলার পীর ভাইদের সকল খিদমত ও গোলামী কবুলিয়াতের কারন।
আর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে মহান আল্লাহ পাক নিয়ামত বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন: সুবহানাল্লাহ।অর্থাৎ আমরা আরো বেশি করে গোলামীর আনজাম দিতে পারবো।যা দুনিয়া ও আখেরাতের কামিয়াবীর কারণ।

imageimage
Suhag Ahmad Suhag ahmad changed his profile picture
2 hrs

image

image

8 hrs

তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার একটা বনের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় একটা বড় কালো তিতির পাখি ধরে ফেলেন। তিনি যখন ভাবছেন যে, পাখিটাকে কীভাবে খাবেন; আগুনে ঝলসে; নাকি তরকারি রান্না করে!

এমন সময় পাখিটি বলে উঠলো, হে জালালুদ্দীন রুমী (রহমতুল্লাহি আলাইহি)! আপনি আপনার এই জীবনে এতো গোশত খেয়েছেন; অথচ আপনার এই আমিষের আকুতি শেষ হয় না। আপনি যদি আমাকে মুক্ত করে দেন; তাহলে আমি আপনাকে তিনটি পরামর্শ দেবো; যা আপনার জীবনকে সন্তোষ আর শান্তিতে ভরে দেবে।

মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কিছুটা বিচলিত হয়ে বললেন যে, আমার হাতে বসেই প্রথম পরামর্শটা দাও; যদি পছন্দ না হয়; সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে হত্যা করবো।

পাখিটি রাজি হয়ে বললো, আপনি সবসময় আপনার বন্ধুদের উদ্ভট সব আলোচনায় বিচলিত হয়ে পড়েন। এর চেয়ে তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দিন। তাতে আপনার জীবন সুন্দর হবে।

তিনি কিছুটা চিন্তা করে নিয়ে ভাবতে থাকেন; পাখিটার কথায় বোধ আছে। সুতরাং দ্বিতীয় পরামর্শ দিতে বললেন।

পাখিটা বললো, আপনি আমাকে ছেড়ে দিলে ঐ গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় পরামর্শটা দেবো।

মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাখিটিকে ছেড়ে দেন; আর পাখিটি গিয়ে কাছেই একটি গাছের ডালে বসে।

পাখিটা এবার তার দ্বিতীয় পরামর্শের কথা বলে মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে- অতীতকে কখনো পালটানো যায় না। সুতরাং বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করুন। আর ভবিষ্যতের জন্য বাঁচুন। যা হোক আপনি বড় ভুল করেছেন। আমার পেটের মধ্যে তিন কেজি হীরা আছে। আপনি এটা পেলে আপনার তিন পুরুষ বসে খেতে পারতো।

প্রচুর ঘাবড়ে গিয়ে হযরত জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তিতিরের পেছনে রেগে ছুটতে থাকেন; তাকে আবার ধরার জন্য। পাখি তখন জোরে জোরে বললো, আপনি দেখছি আমার পরামর্শ একেবারেই শুনলেন না। আমার নিজেরই ওজন যেখানে দুই কেজির বেশি নয়; আমার পেটে কি করে তিন কেজি হীরা থাকবে! আপনি দেখছি এখনো উদ্ভট আর বোধহীন কথায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন! দ্বিতীয়ত আমি ইতিমধ্যেই আপনাকে ছেড়ে গিয়েছি; আপনার জীবনে এখন আমি অতীতের বিষয়।

পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন তৃতীয় পরামর্শের জন্য পাখিটিকে অনুরোধ করেন।

তিতির পাখিটি উনাকে উদ্দেশ্য করে বলে, শুনুন; সবাইকে উপদেশ দিতে যাবেন না। শুধু তাদের উপদেশ দিন; যারা সেটা শুনবে-মনে রাখবে, কাজে পরিণত করবে। মনে রাখবেন কিছু কাপড় এতো জীর্ণ হয়ে যায়; যা আর কখনো সেলাই করা যায় না।



উপদেশ:

১. আমরা অতীতে কিছু হারালে সেটার জন্য বর্তমানে হা-হুতাশ করি এবং ভবিষ্যত নষ্ট করি। এটা ঠিক নয়।

২. কারো উদ্ভট কথায় হঠাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে কিছুটা অপেক্ষা করে সেটা নিয়ে ফিকির করে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী।

৩. যাকে-তাকে উপদেশ দেয়া উচিত নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আপনি তাদেরকেই ভীতি প্রদর্শন করুন যারা নছীহত গ্রহণ করে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে। (পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ- ১১)

8 hrs

শিক্ষামূলক ঘটনা
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম

“হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে, যে তার ইলিমের দ্বারা উপকৃত হয়নি।” (দারেমী শরীফ)

অতএব, যারা ইলিম অনুযায়ী আমল করবে না অর্থাৎ যারা জানে ছবি তোলা হারাম, তারপরও ছবি তোলে। যারা জানে গণতন্ত্র-হরতাল ইত্যাদি হারাম বা বিজাতীয় পন্থা, তারপরও তারা দ্বীন ইসলামের নামে গণতন্ত্র চর্চা করে। মূলতঃ উপরোক্ত হাদীছ শরীফের মিছদাক তারাই অর্থাৎ তারাই উলামায়ে “সূ” বা দুনিয়াদার আলিম, আর তারাই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।

একটি ওয়াকেয়ার দ্বারা আরো সুস্পষ্টভাবে দ্বীনদার আলিম ও দুনিয়াদার আলিমের পরিচয় ফুটে উঠবে। কিতাবে উল্লেখ আছে যে, বাদশাহ শাহজাহান একবার তার দরবারী আলিমদের নিকট ফতওয়া তলব করে বললেন- আমি অসুস্থ, অসুস্থতার কারণে আমার জন্যে রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়েয হবে কি? দরবারী আলিমরা বাদশার মনতুষ্টির জন্যেই হোক বা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্যেই হোক তারা ফতওয়া দিল, বাদশাহ নামদার! যেহেতু আপনি অসুস্থ আর আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজ্য অচল হয়ে পড়বে, কাজেই রাজ্য ও প্রজাদের বৃহত্তর স্বার্থে আপনার জন্যে এ অবস্থায় রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়েয হবে। বাদশাহ তার দরবারী আলিমদের মৌখিক ফতওয়ায় আশ্বস্ত না হতে পেরে লিখিত ফতওয়ার নির্দেশ দিলেন। দরবারী আলিমরা বাদশাহকে এ ব্যাপারে লিখিত ফতওয়া দিল। বাদশাহ তাতেও নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না, তাই তিনি বললেন, এ ফতওয়াতে অন্যান্য আরো আলিমের দস্তখত লাগবে। দরবারী আলিমরা তখন তাদের সমজাতীয় তিনশত আলিমের দস্তখত সংগ্রহ করে ফতওয়াটি বাদশাহর নিকট পেশ করলো। বাদশাহ ফতওয়াটি আদ্যপান্ত ভালরূপে পাঠ করে দেখলেন এবং বললেন যে, সেখানে তার শাহী মসজিদের যিনি খতীব, নূরুল আনোয়ার ও তাফসীরে আহমদীর ন্যায় বিশ্বখ্যাত কিতাবের মুছান্নিফ, তৎকালীন যামানার শ্রেষ্ঠতম আলিম, হযরতুল আল্লামা মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দস্তখত ব্যতীত এ ফতওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না। তখন দরবারী আলিমরা উক্ত ফতওয়াটি হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে নিয়ে যায় দস্তখত নেয়ার জন্য। হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি আজ এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবোনা, বরং বাদশাহ আমার মসজিদে জুমুআর নামায পড়তে আসেন, তাই আমি বাদশাহ ও মুছল্লীগণের সম্মুখে এ ব্যাপারে ফতওয়া দিবো। অতঃপর জুমুআর দিন বাদশাহ উনার উযীর-নাযীরসহ পবিত্র জুমুআর নামায পড়ার জন্যে মসজিদে গেলেন। অনেক মুছল্লীও উপস্থিত হলেন এবং দরবারী আলিমরাও উপস্থিত।

সকলেই অপেক্ষা করছে হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া শোনার জন্যে। ইতিমধ্যে হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মিম্বরে উঠে বসলেন এবং বললেন, মুছল্লী ভাইয়েরা! আমার নিকট তিনশত আলিমের দস্তখত সম্বলিত একটি ফতওয়া এসেছে। যাতে বলা হয়েছে যে, বৃহত্তর স্বার্থে, বাদশাহর অসুস্থতার কারণে, বাদশাহর জন্যে রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়িয। এ ব্যাপারে আমার ফতওয়া হলো-

مفتى اور مستافتى هردو كافراند.

অর্থ: “যারা এ ফতওয়া দিয়েছে এবং যে চেয়েছে উভয়েই কাফির হয়ে গেছে।”

কারণ, সম্মনিত শরীয়ত উনার মধ্যে হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম বলা কুফরী।

উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা যেরূপ ওলামায়ে “সূ” তথা দুনিয়াদার আলিমদের মুখোশ সুস্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে, তদ্রƒপ উলামায়ে হক্ব তথা দ্বীনদার আলিমগণের পরিচয় বা লক্ষণও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সুতরাং যারা দ্বীন ইসলাম উনার জন্য যে কারো রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করার হিম্মত রাখেন উনারাই হক্কানী আলেম, আর উনারাই হলেন উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। আর যারা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্যে মনগড়া ফতওয়া দেয়, নফসের অনুকরণ করে, সম্মানিত শরীয়ত উনার খেলাফ কাজ করে, এক কথায় নাহক্ব বা হারামের উপর দৃঢ়, তারাই ওলামায়ে “সূ” বা দুনিয়াদার আলিম, আর তারাই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক। এদের প্রসঙ্গেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ فِى آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنَ الأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلاَ آبَاؤُكُمْ فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لاَ يُضِلُّونَكُمْ وَلاَ يَفْتِنُونَكُمْ

অর্থ:“হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখেরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি, সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবে না।” (মুসলিম শরীফ)

মোটকথা হলো- পৃথিবীতে হক্ব-নাহক্ব উভয় দলই ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে, হক্ব-নাহক্ব যাচাই-বাছাই করা, হক্কানী আলিমগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। আর নাহক্ব বা ওলামায়ে সূদেরকে চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হক্ব-নাহক্ব বোঝার, যাচাই-বাছাই করার এবং হক্কানী আলিমগণের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার তাওফিক দান করুন। আর নাহক্ব, গোমরাহ আলিমদের ধোকা থেকে আমাদের মূল্যবান ঈমানকে হিফাযত করুন। আমীন।

8 hrs

পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ

(৩য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার যেমন অসংখ্য ফযীলত মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। ঠিক বাস্তবেও পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার বিস্ময়কর অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিম্নে সেখান থেকে কতিপয় ঘটনা বর্ণনা করা হলো-



(২) অনুরুপ আরো একটি ঘটনা:



উক্ত যুবক বললেন, হে হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে উনার প্রকৃত পরিচয়ে চিনতে পারেন নি। তখন হযরত সুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাহলে আপনি কীভাবে উনাকে চিনেছেন? যুবক বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছি আমার ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল ভেঙ্গে যাওয়ার মাধ্যমে। আমি যখন কোনো কিছু করার দৃঢ় সংকল্প করলাম, তখন আমার সংকল্প দুর্বল হয়ে গেলো; আর যখন মনস্থির করলাম, তখন মন পরিবর্তন হয়ে গেলো। তখন আমি বুঝলাম আমার এমন একজন রব তায়ালা আছেন, যিনি আমাকে পরিচালনা করেন, আমি নিজে নিজের নিয়ন্ত্রণকারী নই।

হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তখন উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার (প্রতিনিয়ত) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের কারণ কী? তিনি বললেন, একবার আমি আমার মাকে নিয়ে পবিত্র হজ্জে আসলাম। আমার মা আমাকে বললেন, ‘তুমি কি আমাকে পবিত্র কা‘বা ঘরে প্রবেশ করাবে না? তখন আমি উনাকে ভিতরে নিয়ে গেলাম। কিন্তু তিনি সেখানে পড়ে গেলেন; উনার পেট ফুলে গেলো, মুখ কালো হয়ে গেলো। যুবক বলেন, আমি খুব চিন্তিত অবস্থায় আমার মায়ের পাশে বসলাম।

তারপর আকাশের দিকে হাত তুলে বললাম, ‘ইয়া রব্বী! আপনার ঘরে প্রবেশকারীর সাথে এ কেমন আচরণ? হঠাৎ তিহামার দিক থেকে একখন্ড মেঘ উত্থিত হলো, আর সেখানে সাদা পোশাক পরিহিত এক মহান ব্যক্তি আবির্ভূত হলেন। তিনি পবিত্র কা’বা শরীফে প্রবেশ করলেন, প্রথমে আমার মায়ের মুখের উপর উনার হাত মুবারক বুলালেন, মুখ সাদা হয়ে গেলো; তারপর পেটের উপর হাত মুবারক বুলালেন, পেটও আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেলো; অর্থাৎ আমার মা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর তিনি চলে যাচ্ছিলেন। আমি উনার পোশাক মুবারক হাত দিয়ে ধরলাম এবং বললাম, ‘আপনি কে, যিনি আমার এই বিপদ দূর করলেন? তিনি বললেন-

أنا نبيك محمد صلى الله عليه وسلم

‘আমি তোমার মহাসম্মানিত নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ তখন আমি বললাম-

يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فأوصني قال لا ترفع قدماً ولا تضع أخرى إلا وأنت تصلي على محمد وعلى آل محمد صلى الله عليه وسلم

‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে কিছু ওছীয়ত মুবারক করুন। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তুমি তোমার পা উঠাতে ও ফেলতে অর্থাৎ দায়েমীভাবে তোমার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৩৮-২৩৯ পৃষ্ঠা, হাদায়িকুল আউলিয়া ২৬ পৃষ্ঠা)



৩. কালো চেহারা ও কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করলেন:



عن حضرت عبد الواحد بن زيد رحمة الله عليه قال خرجت حاجاً فصحبني رجل فكان لا يقوم ولا يقعد ولا يذهب ولا يجيء إلا صلى على النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له في ذلك فقال أخبرك عن ذلك خرجت منذ سنيات إلى مكه ومعي أبي فلما أنصلافنا قلنا في بعض المنازل فبينما أنا نائم إذا أتاني آت فقال لي قم فقد أمات الله أباك وسود وجهه قال فقمت مذعوراً فكشفت الثوب عن وجه أبي فإذا هو ميت أسود الوجه فدخلني من ذلك رعب فبينما أنا على ذلك الغم إذ غلبتني عيناي فنمت فإذا انا على رأس ابي باربعة سودان معهم أعمدة من حديد عند رأسه وعند رجليه وعن يمينه وعن شماله إذا قبل رجل يمشي حسن الوجه بين ثوبين أخضرين فقال لهم تنحوا فرفع الثوب عن وجهه فمسح وجهه بيديه ثم أتاني فقال لي قم فقد بيض الله وجه أبيك فقلت من أنت بأبي وأمي قال أنا سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فكشفت الثوب عن وجه أبي فإذا هو أبيض الوجه فأصلحت من شأنه ودفنته

অর্থ: হযরত আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়িদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার পবিত্র হজ্জে বের হলাম। এক ব্যক্তি আমার সঙ্গী হলেন। যিনি উঠতে, বসতে, আসা যাওয়ায় সর্বাবস্থায় শুধু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতেন। আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি আপনাকে এই ঘটনা বলবো। কয়েক বছর আগে আমি পবিত্র হজ্জের উদ্দেশ্যে সম্মানিত মক্কা শরীফ রওনা হয়েছিলাম। আমার বাবাও আমার সঙ্গে ছিলেন। পথিমধ্যে আমরা এক স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। যখন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, একজন আগন্তুক এসে বললেন, উঠো, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার বাবাকে মৃত্যু দান করেছেন। তার মুখ কালো হয়ে গেছে। আমি ভীত হয়ে ঘুম থেকে উঠলাম এবং আমার বাবার মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে দেখলাম। তিনি মৃত এবং উনার মুখ কালো হয়ে গেছে। এই চিন্তায় আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। দুশ্চিন্তা আর বিষন্নতার মাঝেই একসময় আমার দুচোখ ঘুমে ভারী হয়ে এলো এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।

আল বিদা 💔
৯০ দিনব্যাপী আযীমুশ শান মাহফিল
আল বিদা 💔

Shariful Islam shared a post  
4 hrs

5 hrs

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতা বাতিলের আহ্বান স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর

➡️ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কার এবং স্থায়ী সদস্যদের 'ভেটো' ক্ষমতা বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।

➡️ বৈশ্বিক সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সনদের পরিপন্থী যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পেনের জোরালো অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এর উদাহরণ হিসেবে তিনি রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর সম্মিলিত নিষেধাজ্ঞা বনাম ইসরায়েলের ওপর স্পেনের একক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সামনে আনেন।

➡️ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য পশ্চিমা দেশগুলোর 'দ্বিমুখী নীতির' নীতির দিকে সরাসরি আঙ্গুল তুলেছে।

এর মাধ্যমে মূলত এটাই বোঝানো হয়েছে যে, ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার ওপর ইউরোপ কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনেকাংশেই নীরব ভূমিকা পালন করছে।
➡️ গাজা ইস্যুতে স্পেনের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন সানচেজ। তিনি বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় যে "গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছেন", স্পেন দ্ব্যর্থহীনভাবে তার নিন্দা জানায়।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি