স্বাস্থ্য সন্দেশ:
খালি পেটে ওজন কমায় ৫ খাবার
স্থূলতা মানুষকে অনেক রোগের ঝুঁকিতে ফেলছে। তবে স্থূলতা কোনও রোগ নয়, সব রোগের মূল কারণ। এমন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকার জন্য ওজন কমানোর বিকল্প নেই। জেনে নিন সেই খাবারগুলো সম্পর্কে, যেগুলো ওজন কমাতে সাহায্য করে-
ডিম:
পুষ্টিবিদরা সকালে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সকালে খালি পেটে এটি হতে পারে উপযুক্ত খাবার। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে খালি পেটে ডিম খেলে মোট ক্যালোরি গ্রহণ অনেকটাই কমে যায়। ডিম ফ্যাট কমাতেও সাহায্য করে।
ভেজানো বাদাম:
বাদামে আছে ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন ই, ফাইবার, ওমেগা -৩ এবং ওমেগা -৬ ফ্যাটি অ্যাসিড। বাদাম সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলে মিলবে অসংখ্য উপকার। প্রতিদিন সকালে ভেজানো বাদাম খেলে তা শরীরে সঠিক পুষ্টি জোগায়।
পেঁপে:
অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য পেঁপে খুবই উপকারী। তাই সকালের খাবারে পেঁপে রাখুন। পেঁপে শরীরের ভেতরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করার পাশাপাশি রক্তের খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। ফলে হৃদরোগ প্রতিরোধ সহজ হয়।
তরমুজ:
সকালের নাশতার জন্য তরমুজ হতে পারে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। এই ফলে প্রায় পচানব্বই শতাংশ পানি থাকে। যা শরীরে পানিশূন্যতা প্রতিরোধে কাজ করে। তরমুজ খেলে শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়। খালি পেটে তরমুজ খেলে তা ক্যালোরির পরিমাণ কমাতে সাহায্য করবে। তরমুজ ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ। এতে আছে উচ্চ স্তরের লাইকোপিন। এটি আমাদের হৃৎপি- ও চোখের জন্য বেশ উপকারী।
লেবু পানি:
লেবু পানি ওজন কমানোর জন্য সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী সমাধান। প্রতিদিন লেবু পানি পান করলে মেটাবলিজম বাড়ে। যার কারণে ওজন দ্রুত কমে যায়। লেবু পানিতে ক্যালোরি কম এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সর্দি-কাশি দূরে থাকে।
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন চার শ্রেণীর লোকদের সুপারিশ করবো-
এক. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সম্মান মুবারক করবেন।
দুই. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে আর্থিকভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারকের আনজাম দিবেন।
তিন. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে শারীরিকভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারকের আনজাম দিবেন।
চার. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অন্তরে মহব্বত মুবারক করবেন এবং জবানে উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
(জামিউল আহাদীছ ৪/২২৯, জামউল জাওয়ামি’, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৭/১১, দায়লামী শরীফ)
পবিত্র ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার
দেশে আগামী ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালিত হবে। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্যাপনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।
গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ইমতিয়াজ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বিবৃতি দেবেন। এদিন সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ শরীফ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।
ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠসহ ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলার আয়োজন করা হবে।
বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য সকল ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
বিশ^বিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জীবনী মুবারক ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ^ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও কুইজ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের জন্য হামদ-নাত, আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি।
ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে দেশের সব সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করবে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হবে।
এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।