বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (২)

পূর্ব প্রকাশিতের পর

বিবাহ সংঘটিত হওয়ার শব্দাবলী:

যে কোনো ভাষায় বিবাহ করা বা দেওয়া বুঝায় এমন সব শব্দে বিবাহ সংঘটিত হবে। যেমন বলা,

(زَوَّجْتُ أَوْ نَكَحْتُ) আমি বিবাহ করলাম বা বিবাহ দিলাম।

অথবা বলা, (قَبِلْتُ هٰذَا النِّكَاحَ) আমি এ বিবাহ কবুল করলাম।

অথবা (تَزَوَّجْتُهَا) আমি তাকে বিবাহ করলাম, বা (تَزَوَّجْتُ) আমি বিবাহ করলাম।

অথবা (رَضِيْتُ) এ বিবাহে আমি রাজি আছি।

আরবী ভাষার শব্দ ব্যবহার করা মুস্তাহাব। তবে যাদের আরবী ভাষা জানা নেই তারা তাদের ভাষায় প্রস্তাবনা ও কবুল করলেই বিবাহ সংঘটিত হবে।

বিবাহের রুকনসমূহ:

বিবাহের রুকন দু’টি। তা হলো:

১) প্রস্তাব (اَلْإِيْـجَابُ): অলী অর্থাৎ অভিভাবক অথবা যিনি তার স্থলাভিষিক্ত হবেন তার পক্ষ থেকে বিবাহ করার বা বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া।

২) কবুল (اَلْقُبُوْلُ): আহাল বা তার স্থলাভিষিক্ত থেকে বিবাহ কবুল করার শব্দ। যেমন বলা, (قَبِلْتُ) আমি বিবাহ কবুল করলাম বা (رَضِيْتُ هٰذَا النِّكَاحَ) এ বিবাহে আমি রাজি আছি বা শুধু কবুল করেছি বলা।

ইজাব অর্থাৎ প্রস্তাব কবুলের আগে হতে হবে, তবে কোনো আলামত থাকলে আগে কবুল বললেও হবে।

বিবাহের শর্তাবলী:

বিবাহের শর্ত চারটি। তা হচ্ছে:

১) আহাল-আহলিয়া নির্ধারিত হওয়া।

২) আহাল-আহলিয়া উভয়ের সম্মতি থাকা। অতএব, আহাল-আহলিয়া কাউকে জোর করে বিবাহ দেওয়া জায়েয নেই। বাকেরা (কুমারী) ও সাইয়্যিবাহ (অকুমারী) উভয়ের অনুমতি নিবে।

মাসয়ালা: বাকেরার (কুমারীর) চুপ থাকা সম্মতির লক্ষণ। আর সাইয়্যিবাহ্র (অকুমারীর) মৌখিক সম্মতি নিতে হবে। পাগল ও নির্বোধের ক্ষেত্রে এটি শর্ত নয়।

৩) অভিভাবক: অভিভাবক পুরুষ, স্বাধীন, বালিগ (প্রাপ্তবয়স্ক), আকেল (জ্ঞানবান), বিচক্ষণ ও ন্যায়পরায়ণ হওয়া শর্ত। বিবাহের ক্ষেত্রে মেয়ের বাবা তার অভিভাবক হওয়ার দিক থেকে সর্বাধিক যোগ্য, অতঃপর বাবার অসিয়তকৃত ব্যক্তি, অতঃপর তার দাদা, এভাবে উর্ধতন দাদারা, অতঃপর তার ছেলে ও নিম্নতম ছেলেরা, তার সহোদর ভাই, অতঃপর তার বৈমাত্রেয় ভাই, অতঃপর এসব ভাইয়ের ছেলেরা, অতঃপর, আপন চাচা, অতঃপর বৈমাত্রেয় চাচা, অতঃপর তাদের সন্তানেরা, অতঃপর বংশীয় নিকটাত্মীয়রা, অতঃপর খলীফাহ অভিভাবক হবেন।

৪) সাক্ষ্য: ন্যায়পরায়ণ, পুরুষ ও সম্মানিত শরীয়ত উনার বিধান প্রযোজ্য (প্রাপ্তবয়স্ক) এমন দু’জন সাক্ষ্যের সাক্ষী ছাড়া বিবাহ শুদ্ধ হবে না।

উল্লেখ্য আহাল-আহলিয়া উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য সম্মানিত শরীয়ত উনার নিষেধাজ্ঞামুক্ত থাকা অর্থাৎ যাদের সাথে বিবাহ হারাম তাদের অন্তর্ভুক্ত না হওয়া। (অসমাপ্ত)

বিবাহ-শাদীর গুরুত্ব-ফযীলত ও খাছ সুন্নতী তরীক্বাহ (১)


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্যতম একখানা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হচ্ছে বিবাহ করা।

বিবাহের শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা:

বিবাহের শাব্দিক সংজ্ঞা: নিকাহ অর্থাৎ বিবাহের শাব্দিক অর্থ দু’টি জিনিস একত্রিত করা। কখনও কখনও নিকাহ বন্ধন বা চুক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়, (نكح فلانة) যখন কেউ বিবাহ করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করে ও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

শরীয়তের পরিভাষায় বিবাহ হলো,

عَقْدٌ يُعْتَبَرُ فِيهِ لَفْظُ إِنْكَاحٍ أَوْ تَزْوِيجٍ فِي الْجُمْلَةِ، وَالْمَعْقُودُ عَلَيْهِ مَنْفَعَةُ الِاسْتِمْتَاعِ أَوِ الِازْدِوَاجِ أَوِ الْمُشَارَكَةِ.

“নিকাহ হলো এমন একটি চুক্তি যাতে ‘বিবাহ দেওয়া বা বিবাহ করা’ ইত্যাদির মাধ্যমে উপভোগ বা একত্রে থাকা বা পরস্পর অংশীদার হওয়া বুঝায়”।

বিবাহের হুকুম:

যারা আহলিয়ার হক্ব আদায় করতে সক্ষম, যাদের শারীরিক চাহিদা রয়েছে তবে ব্যভিচারে পতিত হওয়ার আশঙ্কা নেই তাদের জন্য বিবাহ করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। আর যাদের গুণাহের কাজে, ব্যভিচারে পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাদের জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব। তবে যারা আহলিয়ার হক্ব আদায় করতে অক্ষম তাদের জন্য বিবাহ করা হারাম।

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে যে কোনো বয়সের ছেলে-মেয়ের মধ্যেই বিবাহ বন্ধন বৈধ বা জায়িয। অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়তসম্মত। কেননা সম্মানিত শরীয়ত অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের মধ্যে কোথাও বিবাহের বয়স নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি।

এ প্রসঙ্গে “পবিত্র সূরা নিসা শরীফ” উনার ৩ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامٰى فَانْكِحُوْا مَا طَابَ لَكُمْ مِّنَ النِّسَاءِ مَثْنٰى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ.

অর্থ: “আর যদি তোমরা ভয় কর যে, ইয়াতীম মেয়েদের হক্ব যথাযথভাবে পূরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্য থেকে যাদের ভালো লাগে তাদেরকে বিবাহ করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারজন পর্যন্ত।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং: ৩)

খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আহালকে তার আহলিয়ার সকল বিষয়ের দেখাশুনার দায়িত্ব দিয়েছেন। যেমন, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ.

অর্থ: আর মহিলাদের উপরে পুরুষদের মর্যাদা রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ -২২৮)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَهُنَّ مِثۡلُ ٱلَّذِی عَلَیۡهِنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَیۡهِنَّ دَرَجَةࣱۗ الرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَى النِّسَاءِ.

অর্থ: “আহালের যেমন আহলিয়ার নিকট সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার রয়েছে তদ্রƒপ আহালের নিকট আহলিয়ার সদ্ব্যবহার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে পুরুষদেরকে মহিলাদের উপর কর্তৃত্ব বা দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)

অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরেই আহাল বা স্বামীর স্থান দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মু’মিন-মুসলমান আহাল বা স্বামীর সম্মানিত শরীয়তসম্মত খিদমত, তাবিদারী ও সন্তুষ্টির উপর পরকালের খ¦ইর বরকত প্রাাপ্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! (অসমাপ্ত)

ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللّٰهُ تَـعَالٰى عَنْهُ يَـقُوْلُ مَا قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْإِزَارِ فَـهُوَ فِي الْقَمِيْصِ

অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, লুঙ্গি যেমন নিছফে সাক্ব পর্যন্ত পরিধান করতে হবে, তদ্রুপ জামাও নিছফে সাক্ব পর্যন্ত পরিধান করতে হবে। (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুল আওসাত, শুয়াবুল ঈমান ৮/২২০)

মূলত, ক্বমীছ বা জামা ও ইযার বা লুঙ্গি সমান সমান হতে পারে আবার ক্বমীছ হতে ইযার নিচেও থাকতে পারে। তবে পুরুষের ইযার, ক্বমীছ ও সেলোয়ার কখনোই টাখনু বা গিরা স্পর্শ করতে পারবে না। বরং সর্বদা টাখনু বা গিরার উপরেই থাকতে হবে।

বিবাহের ক্ষেত্রে কুফু বা সমকক্ষতা রক্ষা করা পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُـنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ لِمَالِـهَا وَلِـحَسَبِهَا وَلِـجَمَالِـهَا وَلِدِيْنِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّيْنِ تَـرَبَتْ يَدَاكَ

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বিশেষ চারটি বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য করে মেয়েদের বিবাহ হয়ে থাকে। ‘(১) ধন-সম্পদ (২) বংশ মর্যাদা (৩) ছূরত বা সৌন্দর্য (৪) দ্বীনদারী বা পরহেযগারীতা। তবে তোমরা দ্বীনদারী বা পরহেযগারীতাকে প্রাধান্য দিবে। অন্যথায় তোমাদের হাত ধুলায় ধুসরিত হবে। অর্থাৎ তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহহি ওয়া সাল্লাম উনার সেই তা’লীম মুবারক গ্রহণ করেছেন। উনারা দ্বীনদারী বা পরহেযগারীতাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে উনারাই কামিয়াব ।

মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াত দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি শাদী মুবারক করার ফিকির করলেন। উনার জন্য একজন মেয়ে দেখা হলো। তিনি বিবাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে একজন বললেন, হুযূর! বেয়াদবী ক্ষমা চাই। আপনার জন্য যে মেয়ের আলাপ হচ্ছে উনার একজন বড় বোন আছেন। যিনি এত বেশি খুব ছূরত নয়। তবে তিনি আরো বেশি পরযেহগার ও আলিমা। ইলিম, আক্বল ও সমঝ এই মেয়ের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি সর্বোচ্চ তাক্বওয়ার অধিকারিণী। যার জন্য উনার বিবাহ হয়নি। তবে উনার একটি চোখ দৃষ্টিশক্তি শূন্য। মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াত দ্বীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাতে কোন অসুবিধা নেই। তোমরা ঐ মেয়ের জন্য প্রস্তাব পাঠাও।

মেয়ে পক্ষ বিষয়টি শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করলেন। শুকরিয়া আদায় করলেন। আর উনার সাথেই উনার শাদী মুবারক সুসম্পন্ন হলো। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, বংশের আলাদা তা’ছীর বা প্রভাব আছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

خَيْـرُ نِسَاءٍ رَكِبْنَ الْإِبِلَ صَالِحُ نِسَاءِ قُـرَيْشٍ أَحْنَاهُ عَلٰى وَلَدِ فِيْ صِغَرِهٖ وَأَرْعَاهُ عَلٰى زَوْجٍ فِيْ ذَاتِ يَدِهٖ.

অর্থ: উটে চড়ে এমন মেয়ে অর্থাৎ আরবের মেয়েদেরর মধ্যে সর্বোত্তম মেয়ে হলেন সম্মানিত কুরাইশ বংশীয় মেয়েগণ। উনারা সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত ¯েœহশীল, বিশেষতঃ ছোটকালে। আর আহালের (স্বামীর) মালের রক্ষণাবেক্ষনকারীনি যা উনাদের হাতে অর্থাৎ উনাদের জিম্মদারীতে থাকে। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

বর্তমান সমাজে দেখা যায়, ছেলে এক আক্বীদাহর, মেয়ে আরেক আক্বীদাহর। অনেক পরিবার মেয়ের বাহ্যিক ছূরত দেখে ছেলেকে বিবাহ করায়, আবার অনেকে ছেলের বাহ্যিক ধন-সম্পদ, টাকা-ফয়সা দেখে মেয়েকে বিবাহ দেয়। তাদের উভয়ের ঈমান, আমল-আখলাক, আক্বীদাহ, তাক্বওয়া-পরেহেযগারীতার কোন খোঁজ খবর নেওয়া হয় না। ফলে, বিবাহের পর সংসারে ফিৎনা, অশান্তি দেখা দেয় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এই ফিৎনা তালাক পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে উভয়ের সমস্ত দিকগুলো ভালোভাবে দেখে-শুনে বিবাহ করা ও দেওয়াই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

বিবাহের প্রস্তাব দেয়া এবং সম্মতি জ্ঞাপন করার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম, সুন্দর আদর্শ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ২১)

মানুষের প্রতিটি ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই হচ্ছে উত্তম অনুসরণীয়। কাজেই বিবাহ-শাদীসহ সর্বক্ষেত্রে উনাকেই অনুসরণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ছেলে পক্ষ কিংবা মেয়ে পক্ষ উভয়পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসতে পারে। আবার সম্মতির বিষয়টিও উভয় পক্ষ থেকে হতে পারে। বিবাহের প্রস্তাব দানের ক্ষেত্রে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-সংশয়, সন্দেহ থাকা সমীচীন নয়। তবে যে কোন পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব আসুক না কেন তা বিবেচনায় নেয়া উচিত। তার মূল্যায়ন করা দরকার। আর যদি একান্ত সামঞ্জস্যশীল না হয় বা কুফু (সমকক্ষতা) না মিলে তাহলে হিকমতে জাওয়াব দেয়া আবশ্যক। সেক্ষেত্রে উচ্য বাচ্চ করা, প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করা, অসৌজন্যমূলক আচরণ করা জায়িয নেই। কেননা তাতে সামাজিক জীবনে নানাবিধ ফিতনা-ফাসাদ, দ্বন্দ্ব-কলহের সূত্রপাত ঘটতে পারে। সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রাবিআহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম মুবারক সুসম্পন্ন করার ব্যাপারেও প্রস্তাব এসেছিল। আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবার আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারা দু’জনই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিকমতপূর্ণ জাওয়াব মুবারক দিয়েছিলেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُرَيْدَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ أَبِيْهِ قَالَ خَطَبَ حَضْرَتْ أَبُوْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ فَاطِمَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّـهَا صَغِيرَةٌ فَخَطَبَهَا حَضْرَتْ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَزَوَّجَهَا مِنْهُ

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্মানিত পিতা থেকে বর্ণনা করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সাথে মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আনুষ্ঠানিক মহাসম্মানিত বয়স মুবারক তো কম। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি প্রস্তাব দিলেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সাথে মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ! (নাসাঈ শরীফ)

উল্লেখ্য যে, দাম্পত্য জীবন সাময়িক বা ক্ষণস্থায়ী জীবন নয়। এটা চিরস্থায়ী ব্যাপার। কাজেই, হঠাৎ করে বিবাহ বন্ধন হওয়া স্বভাবিক নয়। যারা তড়িঘরি করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় সাধারণত তাদের অনেকের সংসার জীবনে ফেৎনা সৃষ্টি হয়। যা তাদের পারিবারিক জীবন পরিচালনায় কষ্টের কারণ হয়। বৈবাহিক জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। এজন্য শরয়ী উনার হুকুম হচ্ছে, কারো সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করার পূর্বে উভয় পক্ষের অভিভাবকগণ পরস্পর প্রস্তাব দিয়ে, আলাপ-আলোচনা করবে। যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়েও তারা তাদের বিবাহের প্রস্তাব দিতে পারবে। মতামত পেশ করতে পারবে। এ ব্যাপারে সম্মানিত শরীয়তে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।



হযরত জুলাইবিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিবাহের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত জুলাইবিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জন্য একজন আনছারী কন্যার বিবাহের প্রস্তাব কন্যার পিতার নিকট পেশ করলেন। কন্যার পিতা উনার আহলিয়া অর্থাৎ কন্যার মায়ের মতামত জেনে এর জাওয়াব দিবেন বলে ওয়াদা করলেন। সেই হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার আহলিয়ার নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উনার আহলিয়া স্পষ্টভাবে অমত জানিয়ে দিলেন।

সেই কন্যা আড়াল থেকে পিতা-মাতার কথোপকথন শুনতে পান। উনার পিতা যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অমতের বিষয়টি জানাতে রওয়ানা হলেন, তখন মেয়েটি পিতা-মাতাকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এ প্রস্তাব মুবারকটি প্রত্যাক্ষান করতে চান? তিনি যদি বরকে আমাদের জন্য পছন্দ করে থাকেন তাহলে আপনারা এ বিয়ে সুসম্পন্ন করুন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম বিবাহের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে, ধীরে সুস্থে সমস্ত বিষয় সম্পর্কে উভয় পক্ষ খোলামেলা আলোচনা করে নেওয়া। বর ও কনের মতামত নেওয়া। তার থেকেও বড় বিষয় হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক ও উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদে মত ও পথ মুবারক উনাদের মত ও পথ মুবারক উনাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া। তবেই সংসারে সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, নেয়ামত-রহমত, বরকত মুবারক লাভ করা যাবে।

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সুন্নতী তরীক্বায় বিবাহের মোহর


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوْهُ هَنِيْئًا مَّرِيْئًا ‎﴿٤﴾‏

অর্থ: এবং তোমরা নারীদেরকে দাও তাদের মোহর খুশিমনে। এরপর তারা যদি স্বেচ্ছায় স্বাগ্রহে ছেড়ে দেয় কিছু অংশ তোমাদের জন্য তাহলে তা স্বাচ্ছন্দে ভোগ কর। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ নং: ৪)

উল্লেখ্য, মোহর আহলিয়ার ন্যায্য অধিকার। তার অধিকার সে যেন সঠিকভাবে পায় এবং আহলিয়ার যেন অবমূল্যায়ন না হয়, এ ব্যাপারে আহলিয়ার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মোহরের সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম হলো, ১০ দিরহামের কম না হওয়া (১০ দিরহামের পরিমাণ বর্তমান হিসাবে পৌনে তিন ভরি খাঁটি রূপা) এবং মোহরের সর্বোচ্চ পরিমাণ সম্মানিত শরীয়ত নির্ধারণ করেননি। (মিরকাতুল মাফাতীহ : ৬/৩৫৮)

মোহরে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনার হুকুম ও বাজারদর:

মোহরে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম-ই খাছ সুন্নতী মোহর মুবারক। এই মোহর ধার্য করা বরকতময় ও উত্তম।

উল্লেখ্য, একজন ব্যতীত সকল হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং সকল হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত মোহর মুবারক ৫০০ দিরহাম অর্থাৎ ১৩১.২৫ ভরি খাঁটি রূপা অথবা তার সমপরিমাণ বাজারমূল্য। (মুস্তাদরাকে হাকিম, পবিত্র হাদীছ শরীফ: ২৭৪২)

মোহর পরিশোধ করার হুকুম:

বর্তমান সমাজে সাধ্যের বাইরে অনেক বড় অংকের মোহর ধার্য এবং তা আদায়ে অনীহার মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। মেয়ে পক্ষ বিবাহের সম্পর্ক রক্ষার জন্য মোহরের অঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা করে এবং ছেলে পক্ষ চিন্তা করে এটি আদায় করতে হবে না। মূলত, এমন কাজ সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে সঠিক নয়।

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা মহিলাদের মোহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি কোরো না। কেননা তা যদি দুনিয়ায় সম্মানের হতো, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই ইজ্জত-সম্মানের বেশি হক্বদার ছিলেন। অথচ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফে এবং উনার মহাসম্মানিতা হযরত বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফে সাড়ে ১২ উকিয়া (৫০০ দিরহাম) এর বেশি নির্ধারণ করেননি।’ (তিরমিযী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ : ১১১৪)

অতএব সামর্থ্য অনুযায়ী মোহর ধার্য করা আবশ্যক এবং ধার্য করা মোহর পরিশোধ করতেই হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে পুরুষ বিবাহের মধ্যে মোহর আদায়ের নিয়তবিহীন মোহর ধার্য করল, চাই তা বেশি হোক বা কম, সে হাশরের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে ব্যভিচারী হিসেবে উপস্থিত হবে।’ নাউযুবিল্লাহ! (আল মু’জামুল আওসাত, পবিত্র হাদীছ শরীফ: ১৮৫১)

প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখা ফরয

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ أَمَرَ بِإِحْفَاءِ الشَّوَارِبِ وَإِعْفَاءِ اللِّحْيَةِ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করে বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন গোঁফ ছোট করার ও দাড়ি লম্বা করার। (দারহী কী শরয়ী হাইছিয়ত)

এক সময় সমস্ত মুসলমান এমনকি বিধর্মীরাও দাড়ি রাখতো। কিন্তু বেনিয়া, লুটেরা, দস্যু, ম্লেচ্ছ, যবন, ইংরেজরা এই দেশে এসে, তাদের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মুসলমানদের দাড়ি চাঁছিয়ে লম্বা কোর্তা, পাগড়ি পরা হতে বিরত রেখেছে। আজ ইংরেজরা এ দেশে না থাকলেও তাদের সেই ষড়যন্ত্রের ফসল আজও রয়ে গেছে। কিন্তু মুসলমানদের মনে রাখতে হবে, সে যেহেতু মুসলমান, তাই তার জন্য কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ মানা ফরয। এই জন্য এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা দাড়ি রাখা তার জন্য ফরয। দাড়ি চাঁছা কাট্টা হারাম।

মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যেই নিকাহ বা বিবাহ করতে হবে

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَاللهُ وَرَسُوْلُهٗۤ أَحَقُّ أَنْ يُّرْضُوْهُ إِنْ كَانُوْا مُؤْمِنِيْنَ

অর্থ: তারা যদি মু’মিন হয়ে থাকে তাহলে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার সম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা। কেননা উনারাই সন্তুষ্টি-রেযামন্দি পাওয়ার সর্বাধিক হক্বদার। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৬)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

رِضْوَانٌ مِّنَ اللهِ أَكْبَرُ

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকই হচ্ছেন সবচেয়ে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি রেযামন্দি মুবারক হচ্ছে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত মুবারক। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭২)

কাজেই বিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক উনাকে প্রাধান্য দেয়া আবশ্যক। সেক্ষেত্রে নিজের মতকে, নিজের নফসানিয়াতকে প্রধান্য দেয়া উচিত নয়।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ دِيْنِهٖ فَلْيَتَّقِ اللهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِيْ

অর্থ: হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মানুষ যখন বিবাহ করে তখন সে তার সম্মানিত দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করে। বাকী অর্ধেকের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা অর্থাৎ তাক্বওয়া অবলম্বন করা উচিত।” (শুয়াবুল ইমান, মিশকাত শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

إِذَا تَزَوَّجَ الْعَبْدُ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ نِصْفَ الْاِيـْمَانِ؛ فَلْيَتَّقِ اللهَ فِي النِّصْفِ الْبَاقِيْ

অর্থ: যখন মানুষ বিবাহ করে তখন সে তার সম্মানিত ঈমানের অর্ধেক পূর্ণ করে। অপর অংশের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা উচিত। (শুয়াবুল ঈমান, মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَزَوَّجَ ثِقَةً بِاللهِ وَاِحْتِسَابًا كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ اَنْ يُّعَيِّنَه وَاَنْ يُّبَارِكَ لَه

অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার উপর পরিপূর্ণ ভরসা করে এবং উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে বিবাহ করে মহান আল্লাহ পাক অবশ্যই তাকে গাইবী মদদ করবেন এবং তাকে বরকত মুবারক দান করবেন। সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ, ফিকহুস সুন্নাহ ওয়াল আছার-২/৩৪)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য বিবাহ করলো বা বিবাহ দিল সে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে বন্ধুত্ব করলো।

ফকীহুল উম্মত সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তোমরা যদি সম্পদশালী হতে চাও তাহলে বিবাহ করো। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنْ يَّكُوْنُوْا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللهُ مِنْ فَضْلِهٖ وَاللهُ وَاسِعٌ عَلِيْمٌ.

অর্থ: যারা নেককার-পরহেযগার তারা যদি দরিদ্র হয় তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সম্পদশালী করবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রাচুর্যতাদানকারী ও সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২), (তাফসীরে ইবনে কাছীর)



বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওযার অনেক ফাযায়িল-ফযীলত রয়েছে। তন্মধ্যে বিশেষ একটি দিক হচ্ছে বিবাহিত ব্যক্তি গায়েবী মদদ (সাহায্য) প্রাপ্ত হন।

যে ব্যক্তি স্বীয় চরিত্রকে পুত-পবিত্র রাখার নিমিত্তে বিবাহ করবেন তাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই গইবী মদদ করবেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ الله تَعَالٰـى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ‏ثَلاَثَةٌ حَقٌّ عَلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَوْنُـهُمُ الْمُكَاتَبُ الَّذِيْ يُرِيْدُ الْأَدَاءَ وَالنَّاكِحُ الَّذِيْ يُرِيْدُ الْعَفَافَ وَالْمُجَاهِدُ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ‏

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তিন ব্যক্তিকে গইবী মদদ (সাহায্য) করাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় হক্ব বা আবশ্যক মনে করেন। মুকাতাব গোলাম: যে গোলাম তার মুক্তিপণ আদায় করতে চায়। পরহেযগার বিবাহকারী: যে আপন চরিত্রকে পুত-পবিত্র রাখতে চায়। মুজাহিদ ব্যক্তি: যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করেন। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ)

মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক। কাজেই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, প্রতিদিন অন্তত একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে পাঠ করা।
ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মুবাশশিরাও ওয়া নাযীরা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হায়াতুন নবী, শাহিদুন্ নবী, মুত্বালা’ আলাল গইব, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে লোক সকল! আমি কে? সবাই বললেন, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা আমাকে মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করুন। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা বললেন, সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইসমাঈল ইবনে রাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের থেকে বর্ণিত। উনারা বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা আমাকে মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করুন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (নিজেই) ইরশাদ মুবারক করেন, আমি হচ্ছি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুছাই ইবনে কিলাব ইবনে র্মুরাহ ইবনে কা’ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহ্র ইবনে মালিক ইবনে নদ্বর ইবনে কিনানাহ্ ইবনে খুযাইমাহ্ ইবনে মুদ্রিকাহ্ ইবনে ইলইয়াস ইবনে মুদ্বর ইবনে নিযার ইবনে মা‘আদ্দ ইবনে ‘আদনান আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এই পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “আপনারা আমাকে মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবমাহ মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করুন।” অর্থাৎ আপনারা আমার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবমাহ মুবারক পাঠ করুন। এখানে আদেশ মুবারক করা হয়েছে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফে যা আদেশ মুবারক করা হয়, তা উম্মতের জন্য ফরয-ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক সম্পর্কে ইলম অর্জন করা বা জানা এবং তা নিয়মিত পাঠ করা উম্মতের জন্য ফরযে আইন। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক পাঠের মাধ্যমে অন্তরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত, মা’রিফাত, তায়াল্লুক্ব, নিসবত, ক্বুরবত, যিয়ারত নসীব হবে। ফলে দুনিয়ার মুহব্বত দূর হবে, বিপদ-আপদ ও বালা-মুছিবত দূর হবে, বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ রোগ দূর হবে, রিযিকে বরকত হবে, মৃত্যৃর সময় ঈমান নসীব হবে। এমনকি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক পাঠকারীর উপর থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই খাদ্যাভাব, মহামারি, অগ্নিকা-, ডুবে মরা, বালা-মুছিবত, হিংসা-বিদ্বেষ, কু-দৃষ্টি, চুরি ইত্যাদি উঠিয়ে নেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার দিক হতে পবিত্র নসবনামাহ মুবারক হলো- ১. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২. উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনাহ আলাইহাস সালাম ৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব আলাইহিস সালাম ৪. সাইয়্যিদুনা হযরত আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম ৫. সাইয়্যিদুনা হযরত যুহরা আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার দিক হতে পবিত্র নসবনামাহ মুবারক হলো- ১. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২. আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম ৩. সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম ৪. সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম ৫.সাইয়্যিদুনা হযরত আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম ৬.সাইয়্যিদুনা হযরত কুসাই আলাইহিস সালাম ৭. সাইয়্যিদুনা হযরত কিলাব আলাইহিস সালাম। ৮. সাইয়্যিদুনা হযরত র্মুরাহ আলাইহিস সালাম ৯. সাইয়্যিদুনা হযরত কা’ব আলাইহিস সালাম ১০. সাইয়্যিদুনা হযরত লুআই আলাইহিস সালাম ১১. সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ালিব আলাইহিস সালাম ১২. সাইয়্যিদুনা হযরত ফিহ্র আলাইহিস সালাম ১৩. সাইয়্যিদুনা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম ১৪. সাইয়্যিদুনা হযরত নদ্বর আলাইহিস সালাম ১৫. সাইয়্যিদুনা হযরত কিনানাহ্ আলাইহিস সালাম ১৬. সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম ১৭. সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্রিকাহ আলাইহিস সালাম ১৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইলইয়াস আলাইহিস সালাম ১৯. সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বর আলাইহিস সালাম ২০. সাইয়্যিদুনা হযরত নিযার আলাইহিস সালাম ২১. সাইয়্যিদুনা হযরত মা‘আদ্দ আলাইহিস সালাম ২২. সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আদ্নান আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক। কাজেই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, প্রতিদিন অন্তত একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে পাঠ করা।

১ সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে -প্রধানমন্ত্রী -মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনও নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর ও ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালাচ্ছে। গতকাল ইয়াওমুল খামীস (বৃহস্পতিবার) বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫০ বছরে দেশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ মা-বোন ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করেন। এই শিল্পকারখানাগুলো দেশের সম্পদ, মানুষের সম্পদ। কোনো শ্রমিক নিজের কর্মস্থল ও জীবিকার ক্ষতি করতে পারেন না। তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সংবাদমাধ্যমে দেখা গেছে, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে ভাঙচুর করছেন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক। কাজেই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, প্রতিদিন অন্তত একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে পাঠ করা।