মনে রেখো একটা বিষ ফোড়ার টাকার মালিকও তুমি না। তোমার কর্মের ফল তোমাকেই ভোগ করতে হবে। সময় থাকতে,সময়কে গুরুত্ব দাও, নয়তো বাঁচতে পারবা না। নছীহতে: সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদ আলাইহিস সালাম!

❤️❤️❤️আলহামদু লি মামদূহ আক্বা ক্বিবলা ক্বাবা সুলতানুন নাছির আলাইহিস সালাম ওয়া আহলে মামদূহ আলাইহিমুস সালাম।
🌹🌹🌹মুহম্মদ শাহজালাল ভাই (কুড়িগ্রাম,নাগেশ্বরী ), -" আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।২০০০০ টাকার সুন্নতী পণ্য সামগ্রীর চাহিদা দিয়েছেন। তালিমী মজলিস শেষ করে নিয়ে যাবেন।
💐💐💐* আপনারা অতিসত্বর চাহিদা দিন, সংগ্রহ করুন এবং সবাইকে জানিয়ে দিন।

image

❤️❤️❤️আলহামদু লি মামদূহ আক্বা ক্বিবলা ক্বাবা সুলতানুন নাছির আলাইহিস সালাম ওয়া আহলে মামদূহ আলাইহিমুস সালাম।
🌹🌹🌹মুহম্মদ শাহজালাল ভাই (কুড়িগ্রাম,নাগেশ্বরী ), -" আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।২০০০০ টাকার সুন্নতী পণ্য সামগ্রীর চাহিদা দিয়েছেন। তালিমী মজলিস শেষ করে নিয়ে যাবেন।
💐💐💐* আপনারা অতিসত্বর চাহিদা দিন, সংগ্রহ করুন এবং সবাইকে জানিয়ে দিন।

image

❤️❤️❤️আলহামদু লি মামদূহ আক্বা ক্বিবলা ক্বাবা সুলতানুন নাছির আলাইহিস সালাম ওয়া আহলে মামদূহ আলাইহিমুস সালাম।
🌹🌹🌹মুহম্মদ শাহজালাল ভাই (কুড়িগ্রাম,নাগেশ্বরী ), -" আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।২০০০০ টাকার সুন্নতী পণ্য সামগ্রীর চাহিদা দিয়েছেন। তালিমী মজলিস শেষ করে নিয়ে যাবেন।
💐💐💐* আপনারা অতিসত্বর চাহিদা দিন, সংগ্রহ করুন এবং সবাইকে জানিয়ে দিন।

imageimage
Ahamad Zulhas shared a post  
1 h

2 hrs

সম্মানিত নছীহত মুবারকঃ

- নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম

২৪ই জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী

2 hrs

হৃদয়ে ইশকে মামদূহ
হৃদয়ে ইশকে মামদূহ এমন যেন হয়
যার কাছে সব কিছুর হয় পরাজয়
যবানে একটি মাত্র যিকির যেন হয়
মামদূহ মামদূহ যিকিরে জীবন আলোময়।

ইয়া মাহবুব, মামদূহ আপনি মহান
করমে করুন গো আমায় আমান
আপনি আমার জিন্দেগীর শ্রেষ্ঠ ছামান
আপনি ছাড়া সবই যাবে ধুসর ধুলায়।

ইয়া মাশুক মামদূহ আপনার ইহসান
এই গোলামের তরে আপনি শ্রেষ্ঠ দান
আপনার খিদমতে আমায় করুন কুরবান
আপনার মদদ ছাড়া আমি অসহায়।

ওই আকাশের চাঁদের মেছাল আপনাতে পাই
আপনার কিরণে আঁধারেও পথ দেখতে পাই
তিমির আঁধার আপনি করেন রৌশন
হৃদয়ী আধার দূর করুন দয়া মায়ায়।

রবির আলোতে আঁধার টুটে দিন হয়
অন্ধকার দূর হয়ে দিন হয় নূরময়
আপনি ওই রবীর চেয়েও জ্যোতির্ময়
গুনাহের আঁধার দুর করুন দিনগো অভয়।

কত গোলাম আপনার নূরে হন নূরময়
গুনাহ ছেড়ে পান আপনার নূরী আশ্রয়
দয়া, দান আর ইহসান করুন আমায়
আপনার করম ছাড়া আমি যাবো কোথায়?

ক্বাছীদায় বলি আমার মনের কথা
মনে আমার অজস্র দুঃখ ব্যথা
সামনে বলতে এ গোলাম সাহস হারায়
আপনি অন্তর্যামী সহায় সব ব্যথায় ।

যোগ্যতা নেই আমার ইসলাহ হওয়ার
সহীহ সমঝও নেই আপনায় বুঝার
ভিক্ষারীর আরজী রাখুন হে মা’দানিল জুদ
আবাদুল আবাদ রাখুন আপনার ছোঁয়ায় ।

-----ফরাজী ভাই।

2 hrs

মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ও হাবীব-মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে পতাকা মুবারক দিয়েছেন-০৭



তৃতীয় হিজরীতে সম্মানিত উহুদ জিহাদ সংঘটিত হন। এ পবিত্র জিহাদ উনার জন্য মুসলমানগণ বাহ্যিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। সম্মানিত জিহাদ উনার পতাকাও ছিলো একাধিক। হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা ছিলো হযরত মুস‘আব ইবনে উমায়ির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র হাত মুবারকে। আউস গোত্রীয় হযরত আনসার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা ছিলো হযরত উসায়েদ ইবনে হুযায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র হাত মুবারকে। আর খাযরাজ গোত্রীয় হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা ছিলো হযরত হাব্বাব ইবনে মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র হাত মুবারকে।

যুদ্ধ চলতে চলতে যখন কঠিন মুহূর্তে গিয়ে পৌঁছায় তখন এক পর্যায়ে একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আনুষ্ঠানিক দীদার মুবারক-এ গমন করেছেন (পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করেছেন)। তখন মুসলমানদের মধ্যে একদল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আনুষ্ঠানিক মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ গমন করার পর (মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করার পর) আমাদের বেঁচে থেকে কী লাভ? একথা বলে উনারা পবিত্র শাহাদাত মুবারক লাভের আশায় বীর বিক্রমে কাফির সৈন্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। আরেক দল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছিলেন যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চতুর্দিক সুরক্ষিত দুর্গরূপে পরিবেষ্টিত হয়ে উনার মহাসম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম দেয়ার কাজে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত ছিলেন। উনারা ছিলেন মাত্র ১৪ জন।

অটল-অনড় বীর মুজাহিদ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মধ্যে যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণের সংবাদ শুনেছিলেন, হযরত মুস‘আব ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন উনাদের একজন।

তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ উনার সংবাদ শুনে হতবিহ্বল হয়ে চিৎকার করে বললেন- মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল এবং মহাসম্মানিত হাবীব-মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দীদার মুবারক-এ গমন করেছেন, সুতরাং আমার আর বেঁচে থেকে কী হবে! মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার হাত মুবারকে পতাকা দিয়েছেন, এই পতাকা কোনো ক্রমেই লাঞ্ছিত ও ভূলুণ্ঠিত হতে দেবো না। একথা বলে তিনি এক হাত মুবারকে খোলা তরবারী এবং অন্যহাত মুবারকে পবিত্র জিহাদ উনার পতাকা ধারণ করে মালঊন কাফিরদের উপর অকুতোভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাদেরকে কচুকাটা করতে করতে সম্মুখভাগে অগ্রসর হতে লাগলেন।

এমন সময় ইবনে কুমাইয়্যা নামক মুশরিকদের এক অশ্বারোহী অগ্রসর হয়ে উনাকে তরবারি দ্বারা আক্রমণ করলো এতে উনার ডান হাত শহীদ হয়ে যান।

হযরত মুস‘আব ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তৎক্ষণাৎ উনার বাম হাত মুবারকে পবিত্র পতাকা ধারণ করলেন। মালঊন ইবনে কুমাইয়্যা সে উনার বাম হাত মুবারকেও তরবারী দ্বারা আঘাত করলো, এতে উনার বাম হাত মুবারকও শহীদ হয়ে যান। তখন তিনি কর্তিত বাহুদ্বয়কে বৃত্ত করে পতাকা বুকের সাথে চেপে ধরলেন। তিনি এই সংকল্প মুবারক করেন যে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু থাকতে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পতাকা মুবারক উনার অবমাননা কিছুতেই হতে দেবেন না।

তিনি সম্মানিত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। এমন সময় নিকৃষ্ট মালঊন নিষ্ঠুর ইবনে কুমাইয়্যা ক্রোধে অধীর হয়ে উনার উপর এমন জোরে বর্শার আঘাত হানলো যে, উনার লৌহবর্ম মুবারক ভেঙ্গে খান খান হয়ে উনার বুকের মাঝে ঢুকে গেলো। তিনি সম্মানিত শহীদী শান মুবারক গ্রহণ করলেন। সুবহানাল্লাহ! পতাকা ভূ-লুণ্ঠিত হতে যাবে এমন সময় উনার সম্মানিত ভাই হযরত আবুররূম ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র পতাকা ধারণ করেন এবং জিহাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পতাকা ধারণ করে থাকেন। জিহাদ শেষে সেই পতাকা মুবারক হাতে নিয়েই তিনি মাসম্মানিত মহপবিত্র মদীনা শরীফ-এ প্রত্যাবর্তন করেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আামীন!

2 hrs

জীবনের সঞ্চিত সমস্ত সম্পদের তুলনায় হিজরত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র সান্নিধ্য মুবারক, ছোহবত মুবারক-এ চলে যাওয়া আমার কাছে বহু গুণে উত্তম -০৫



নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাপবিত্র হিজরত মুবারক করার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একে একে গোপনে পবিত্র হিজরত মুবারক করতে লাগলেন। হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দীর্ঘ দিন মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ অবস্থানকারী কাফিরদের পক্ষ থেকে আমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছেনে।

তিনি একদিন সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তিনিও পবিত্র হিজরত মুবারক করে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ চলে যাবেন। তিনি পবিত্র হিজরত মুবারক উনার প্রস্তুতি নিয়ে মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে রওয়ানা হলেন। কুরাইশরা সংবাদ পেয়ে উনাকে বাধা দিলো।

তিনি তুনীর (তীর রাখার ব্যাগ) সামনে রেখে বললেন- হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা ভালো করেই জানো যে, তীর নিক্ষেপে আমি তোমাদের সকলের চেয়ে অধিক পারদর্শী। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আমার কাছে একটি তীর অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত তোমরা আমার কাছে ভিড়তে পারবে না। তারপর যতক্ষণ আমার হাতে তরবারি থাকবে আমি তরবারি দিয়ে আত্মরক্ষা করবো। কুরাইশরা বললো- সম্পদ নিয়ে আপনাকে মক্কা শরীফ ত্যাগ করতে দিবো না। হয়তো স্বীয় সম্পদ রেখে যাত্রা করুন। অন্যথায় মক্কা শরীফেই অবস্থান করুন।

হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পার্থিব জীবনে সঞ্চিত সমস্ত সম্পদে পদাঘাত করে বলে দিলেন, সঞ্চিত সমস্ত সম্পদের তুলনায় হিজরত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র সান্নিধ্য মুবারক, মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ চলে যাওয়া আমার কাছে বহু গুণে উত্তম। অতএব তোমরা আমার সম্পদ নিয়ে নাও। আর এর বিনিময় আমার রাস্তা ছেড়ে দাও।

হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র হিজরত মুবারক করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র দরবার শরীফ-এ উপস্থিত হয়ে সবকিছু ব্যক্ত করলেন। মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- হে হযরত সুহাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি এ ব্যবসায় অত্যন্ত লাভবান হয়েছেন। কেননা, আপনি ধ্বংসযোগ্য সম্পদ বর্জন করে চিরন্তন সম্পদ অর্জন করেছেন। এরপর সম্মানিত ও পবিত্র ওহী মুবারক অবতীর্ণ হলেন-

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْرِي نَفْسَهُ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ.

অর্থ: মানুষের মধ্য থেকে এমন কিছু লোক রয়েছেন, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে নিজেদেরকে বা স্বীয় জীবনকে বিক্রি করে দেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। (পবিত্র সূরা বাক্বারা, আয়াত শরীফ- ২০৭)

খুবই চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয়, হযরত সুহাইব রুমী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মুহব্বত মুবারক-এ উনার মহাপবিত্র দীদার মুবারক, সান্নিধ্য মুবারক ও ছোহবত মুবারক লাভের লক্ষ্যে উনার সারা জীবনের সঞ্চিত সমস্ত সম্পদকে কুরবান করতে, পরিত্যাগ করতে বিন্দুতম চিন্তা করলেন না। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ওই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব ছিলেন যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتّٰى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ. وَفِيْ رِوَايَةٍ أُخْرٰى مِنْ مَالِهٖ وَنَفْسِهٖ.

অর্থ : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ ততোক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদারই হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার পিতা-মাতা, সন্তানাদি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অপর বর্ণনায় রয়েছে তার মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জীবনের চেয়েও আমাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত না করবে। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)

অর্থাৎ প্রত্যেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের পিতা-মাতা, আল আওলাদ, আত্মীয়স্বজন, সমস্ত মানুষ এবং উনাদের স্বীয় সমস্ত মাল-সম্পদ এমনকি উনাদের নিজেদের জানের চেয়েও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

2 hrs

গাসীলুল মালায়িকাহ হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বেমেছাল আত্মত্যাগ মুবারক-০২



সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা মর্মান্তিক পবিত্র জিহাদ হচ্ছেন পবিত্র উহুদ জিহাদ। এ পবিত্র জিহাদে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিবত্র নূরুল ইস্তাওয়া শান মুবারক (মহাসম্মানিত আহত শান মুবারক) গ্রহণ করেন। ৭০ জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সম্মানিত শাহাদাত মুবারক লাভ করেন।

এ পবিত্র জিহাদ সংগঠিত হন হিজরী তৃতীয় সনে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশ কাফিরদের প্রতিহত করার জন্য মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মুবারক নেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার গভর্নর নিযুক্ত করলেন।

এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুসলিম সেনাবাহিনী উনাদেরকে নিয়ে যাত্রা করলেন।

হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নতুন বিবাহ করেছেন।

তিনি উনার সদ্ব সম্মানিতা হযরত আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সাথে লাইলাতুয যাফাফ-এ অবস্থান মুবারক করছেন, এমন সময় একজন ঘোষক ঘোষণা করলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত জিহাদ উনার উদ্দেশ্যে পবিত্র উহুদ প্রান্তরের দিকে রওয়ানা হয়েছেন।

হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একথা শুনামাত্রই থমকে গেলেন। ভাবলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জিহাদের ময়দানে রওয়ানা হয়েছেন আর আমি ঘরে অবস্থান করছি! তাই সাথে সাথে তিনি সম্মানিত আহলিয়া উনার মুহব্বতকে কুরবান করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মুহব্বত মুবারকে উনার পবিত্র জিহাদ উনার ডাকে সারা দিয়ে কোষমুক্ত তলোয়ার নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিহাদে চলে গেছেন কথাটি শুনে পবিত্র গোসলের কথা ভুলে গেলেন। সেই অবস্থায় কোষমুক্ত তরবারি হাতে নিয়ে পবিত্র উহুদ প্রান্তরে উপস্থিত হলেন। যাওয়ার আগে নিজ সম্মানিতা হযরত আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে শুধু এতটুকু বলে যান, “বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে দুনিয়ায়, আর পবিত্র শাহাদাত মুবারক বরণ করলে দেখা হবে জান্নাতে।”

যুদ্ধ শুরু হলো।

হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ত্বরিৎ গতিতে যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অমিত বীর-বিক্রমে যুদ্ধ করতে করতে তিনি শত্রু বাহিনীর সারিগুলি তছনছ করে কাফিরদেরকে কত্বল করতে করতে মধ্যভাগে পৌঁছে যান।

এক পর্যায়ে তিনি কুরাইশদের সেনাপতি ও সর্দার হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনি তখনও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন নি) উনার সাথে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে লিপ্ত হন। উনাকে ঘায়েল করে তরবারির আঘাত করবেন, ঠিক সেই সময় নিকট থেকে শাদ্দাদ ইবন আসওয়াদ আল-লায়সী তা দেখে ফেলে এবং দ্রুত পিছন দিক থেকে হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তরবারির আঘাতে উনাকে ধরাশায়ী করে ফেলে এবং তিনি সম্মানিত শাহাদাত মুবারক বরণ করেন।

যুদ্ধশেষে হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র জিসিম মুবারক, পবিত্র দেহ মুবারক অদৃশ্য ছিল। অনেক সন্ধানের পর এক স্থানে এমন অবস্থায় পাওয়া গেল যে, উনার পবিত্র দেহ মুবারক যমীন হ’তে উপরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং তা হতে টপটপ করে পানি পড়ছে। এ দৃশ্য দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন, ‘ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাকে গোসল দিয়েছেন’।

পরে উনার সম্মানিতা আহলিয়া রদ্বিয়াল্লøাহু উনার উনার কাছে প্রকৃত ব্যাপারটি জানা যায় যে, তিনি ফরজ গোসল ছাড়াই জিহাদের ময়দানে ছুটে এসেছিলেন। ফলে তখন থেকে হানযালা ‘গাসীলুল মালায়েকাহ’ (غَسِيلُ الْمَلاَئِكَةِ) বা হযরত ‘ফেরেশতা আলাইহিমুস সলাম কর্তৃক গোসলকৃত’ বলে অভিহিত হন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার, সদা-সর্বদা উনার ধ্যানে-খেয়ালে মশগুল থাকার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

2 hrs

আজকে কি ওজিফাগুলি/সবকগুলি আদায় করা হয়েছে?
মহাসম্মানীত মহাপবিত্র শায়খ ও মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ফরমাণ শরীফ
১,প্রতিদিন ১ঘন্টা জিকির করা
২,প্রতিদিন ১বার মিলাদ শরীফ পাঠ করা
৩,প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া
৪,প্রতিদিন কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা
৫,প্রতিদিন ১বার নসব নামা পাঠ করা
৬,প্রতিদিন ১বার শাজরা শরীফ পাঠ করা ৭,প্রতিদিন ৩০মিনিট পারিবারিক তালিম করা
৮,এশা ও ফজর বাদ ১০০বার দরুদ শরীফ
৯,ইলম চর্চা করা