সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২০)
, ২৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বরকতময় জিবনী মুবারক
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২০)
সম্মানিত গাযওয়াতুল হুদাইবিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ মুবারক:



সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মাঝে যে সমস্ত জিহাদ বা যুদ্ধ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে তন্মধ্যে গাযওয়াতুল হুদায়বিয়া বা হুদায়বিয়ার জিহাদ অন্যতম। সুবহানাল্লাহ! একেصُلْحُ الْهُدَيْبِيَةِ বা হুদায়বিয়ার সন্ধিও বলা হয়।

৬ষ্ঠ হিজরীর ১লা যিলক্বদ শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাথে নিয়ে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রওয়ানা দেন। উনার সাথে ছিলেন চৌদ্দশত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। উনাদের উদ্দেশ্য পবিত্র মক্কা শরীফ-এ পবিত্র উমরাহ পালন করা।

এই সময় কোষবদ্ধ তরবারী ব্যতীত উনাদের সাথে অন্য কোন অস্ত্র ছিলো না। কিন্তু পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অদূরে হুদায়বিয়াহ নামক স্থানে পৌঁছলে উনারা কুরাইশ কাফির মুশরিকদের বাধার সম্মুখীন হন। অবশেষে কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সাথে দশ বছরের জন্য সন্ধি বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে চুক্তির শর্তানুযায়ী উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফে ফিরে আসেন এবং পরের বছর পবিত্র উমরাহ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত জিহাদ উনার নামকরণ: ‘হুদায়বিয়াহ’ (الْحُدَيْبِيَة) একটি কূপের নাম। যা পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে উত্তর-পশ্চিমে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি বর্তমানে ‘শুমাইসী’ (الشُمَيْسِى) নামে পরিচিত। এখানে হুদায়বিয়ার বাগিচাসমূহ এবং ‘রিদ্বওয়ান মসজিদ’ (مسجد الرِضْوَان) অবস্থিত। এই স্থানে অবস্থান করে কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সাথে কিছু সময়ের জন্য জিহাদ সংঘঠিত হয় এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিধায় সম্মানিত ‘হুদায়বিয়াহ’ (الْحُدَيْبِيَة) কূপের নাম অনুসারে এই জিহাদের নামকরণ করা হয় গাযওয়াতুল হুদায়বিয়া বা হুদায়বিয়ার জিহাদ।

সম্মানিত জিহাদের প্রেক্ষাপট: পবিত্র আরব উপদ্বীপের অবস্থা যখন মুসলমানদের অনুকূলে এসে গেলো তখন সম্মানিত দ্বীন ইসলামের দাওয়াতের কার্যকারিতা ও বৃহত্তর বিজয়ের বিভিন্ন নিদর্শন ধীরে ধীরে প্রকাশ লাভ করতে থাকে। কাফির মুশরিকরা ছয় বছর যাবৎ পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফে মুসলমানদের প্রবেশ বন্ধ করে রেখেছিলো।

মহাসম্মানিত মদীনা শরীফে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখলেন যে, তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে পবিত্র মাসজিদুল হারাম শরীফে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন এবং পবিত্র কা‘বা শরীফ উনার চাবি মুবারক গ্রহণ করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছেন এবং পবিত্র উমরাহ পালন করছেন। অতঃপর কিছু সংখ্যক ব্যক্তি মাথা মুন্ডন করেছেন এবং কিছু সংখ্যক মুসলমান চুল কর্তন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَقَدۡ صَدَقَ اللّٰهُ رَسُوۡلَهُ الرُّءۡیَا بِالۡحَقِّ ۚ لَتَدۡخُلُنَّ الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ اٰمِنِیۡنَ ۙ مُحَلِّقِیۡنَ رُءُوۡسَکُمۡ وَ مُقَصِّرِیۡنَ ۙ لَا تَخَافُوۡنَ ؕ فَعَلِمَ مَا لَمۡ تَعۡلَمُوۡا فَجَعَلَ مِنۡ دُوۡنِ ذٰلِکَ فَتۡحًا قَرِیۡبًا.

অর্থ: ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সত্য স্বপ্ন মুবারক দেখিয়েছেন অর্থাৎ সম্মানিত ওহী মুবারক করেছেন। আর খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি চানতো আপনারা অবশ্যই পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফে নিরাপদে মস্তক মুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায় প্রবেশ করবেন এমনভাবে যে, আপনারা কাউকে ভয় করবেন না। অতঃপর তিনি যা জানেন, যা আপনারা জানেন না। অতঃপর তিনি আপনাদেরকে একটি নিকটবর্তী বিজয় দান করবেন’। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ২৭)

-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) তাজা খবর
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَللهَ اللهَ فِى أَصْحَابِى اللهَ اللهَ فِى أَصْحَابِى لاَ تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا بَعْدِى فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّى أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِى أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِى وَمَنْ آذَانِى فَقَدْ آذَى اللهَ وَمَنْ آذَى اللهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ

অর্থ: আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। আমার বিছাল শরীফ উনার পরে উনাদেরকে তোমরা তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল করোনা। যে ব্যক্তি উনাদেরকে মহব্বত করলো, সে আমাকে মহব্বত করার কারণেই মহব্বত করলো, আর যে ব্যক্তি উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো, সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণেই তা করলো। যে ব্যক্তি উনাদেরকে কষ্ট দিল, সে মুলতঃ আমাকেই কষ্ট দিল, আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট দিল, আর যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে কষ্ট দিল, মহান আল্লাহ পাক তিনি শীঘ্রই তাকে পাকড়াও করবেন।” (তিরমিযী শরীফ)

“হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অন্য কারো মতো নন, উনারা বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক উনার অধিকারিণী।”
মুসলিম উম্মাহ সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ করা। কেননা উনারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মাক্বাম মুবারকে অনন্যা। যে বা যারা বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করে উনাদের যত বেশি তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করবে এবং উনাদের অনুসরণ -অনুকরণ করার কোশেশ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকেও ততখানি মর্যাদা দান করবেন অর্থাৎ সেও মর্যাদাবান হয়ে যাবে।
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
মুসলিম উম্মাহ সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ করা। কেননা উনারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মাক্বাম মুবারকে অনন্যা। যে বা যারা বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করে উনাদের যত বেশি তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করবে এবং উনাদের অনুসরণ -অনুকরণ করার কোশেশ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকেও ততখানি মর্যাদা দান করবেন অর্থাৎ সেও মর্যাদাবান হয়ে যাবে।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা মারইয়াম শরীফ উনার ৩৬নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তিনি এমন একজন সম্মানিতা মহিলা উনার সমকক্ষ কোন পুরুষও নেই।” এই আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে বলেছেন, উনার যুগে কোন পুরুষও উনার সমকক্ষ ছিল না। আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩২নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা নিসা আলাইহিন্নাস সালাম অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম আপনারা অন্য কোন মহিলাদের মত নন।”

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে, হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনিসহ কোন মহিলাই উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সমকক্ষ নন। মূলত: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন কারো মত নন, তদ্রুপ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও কারো মত নন। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা নূর শরীফ উনার ২৬নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র পুরুষ উনাদের জন্য পবিত্র মহিলা এবং পবিত্র মহিলা উনাদের জন্য পবিত্র পুরুষ।” অর্থাৎ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন মুত্বহ্হার, মুত্বহহির তদ্রুপ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ করে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার সূরা আহযাব শরীফ উনার ৩৩নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করার মত পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।”

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক বর্ণনা করা এবং ধারণ করা উম্মাহর আক্বল সমঝের উর্দ্ধে। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা উনাদের সমস্ত হায়াতি জিন্দেগী মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম মুবারক দিয়েছেন, উনাকে যে ইতমিনান বা রাহাত মুবারক দিয়েছেন, তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফযীলত-সম্মান মুবারক কতখানি সেটা বলার অপেক্ষাই রাখে না। এমনকি জ্বিন-ইনসান কায়িনাতবাসীর এই বিষয়টি আক্বল সমঝেরও ঊর্ধ্বে।

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- “হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অন্য কারো মতো নন, উনারা বেমেছাল শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক উনার অধিকারিণী।” মুসলিম উম্মাহ সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ করা। কেননা উনারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মাক্বাম মুবারকে অনন্যা। যে বা যারা বিশুদ্ধ আক্বীদা পোষণ করে উনাদের যত বেশি তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করবে এবং উনাদের অনুসরণ -অনুকরণ করার কোশেশ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকেও ততখানি মর্যাদা দান করবেন অর্থাৎ সেও মর্যাদাবান হয়ে যাবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনগুলো তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিন।’ সুবহানাল্লাহ!
আজ সুমহান বরকতময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৪শে ছফর শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! যা কুল-কায়িনাতের সকলের জন্যই সুমহান ঈদ বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ!
তাই সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- এ মহাসম্মানিত দিবস যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে উদযাপন করা। আর সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- এ মহাসম্মানিত দিবস যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে উদযাপনে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং উনাদের মহাপবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করা।
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
আজ সুমহান বরকতময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৪শে ছফর শরীফ। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছানিয়াহ্ ‘আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! যা কুল-কায়িনাতের সকলের জন্যই সুমহান ঈদ বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ!
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র ইজমা শরীফ হয়েছে¬ যে, “যা কিছু আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে এসেছেন উনাদের মর্যাদা পবিত্র কা’বা শরীফ এমনকি পবিত্র আরশে আযীম ও পবিত্র কুরসী মুবারক উনাদের চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি।” সুবহানাল্লাহ! তায়াল্লুক-নিসবত থাকার কারণে কোনো কিছু যদি এত মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী হয়ে থাকে; তাহলে যে তারিখে, যে দিবসে, যে মাসে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে উনাদের মর্যাদা-মর্তবা মুবারক কত বেশি হবে সেটা খুব সহজেই অনুধাবনীয়।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা ছিলেন মোট ১৩ জন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক-এ মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক নেয়ার মুবারক ধারাবাহিকক্রম অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ্ আশার আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আছ ছানিয়াহ্ আশার অর্থাৎ ১২তম’। এ জন্য উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ্ আশার আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ! তবে উনার মূল মহাম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসম বা নাম মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারিয়াহ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত পিতার নাম ছিল হযরত শামউন আলাইহিস সালাম। যিনি ছিলেন মিশরের সম্ভ্রান্ত ক্বিবতি বংশীয় এবং ইঞ্জিল শরীফ উনার অনুসারী। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ (হযরত ইবরাহীম) আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা মাতা। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক প্রকাশের প্রায় ২ বছর পূর্বে পবিত্র ১৩ই রবীউল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ বনূ কিবতী বংশে মিশরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ৭ম হিজরী সনের মহাপবিত্র ২৪শে ছফর শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ্ আশার আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ সম্পন্ন হয়। সুবহানাল্লাহ! হিজরী ৮ম সনের পবিত্র ২রা যিলহজ্জ শরীফ পবিত্র মদীনা শরীফের উপকন্ঠে আলিয়া নামক স্থানে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে ইবনু রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আযীমুশ শান মহাসম্মানিত নিসবতে আযীমাহ শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ২০ বছর ১১ মাস ১১ দিন। সুবহানাল্লাহ! তিনি মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন প্রায় ৪ বছর ১৮ দিন। সুবহানাল্লাহ! তিনি মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন ১৬ হিজরী সনের পবিত্র ১৬ই মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল খমীস (বৃহস্পতিবার) পবিত্র মদীনা শরীফে। সুবহানাল্লাহ! তিনি দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন প্রায় ২৯ বছর ১০ মাস ৩ দিন। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাপবিত্র রওযা শরীফ সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ উনার মাঝে অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ! আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার পবিত্র জানাযা নামায পড়ান। সুবহানাল্লাহ!

image

image

image

image

image

image