কিভাবে জাজিরাতুল আরব সৌদি আরব হলো, এবং সৌদির পতন আসন্য:

ইয়েমেনিরাই সবচেয়ে বিশুদ্ধ আরব। আর ইয়েমেনের জনসংখ্যার ৮০% বসবাস করে হুথি আনসারুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকায়।
সৌদিরা মূলত নজদ থেকে আবির্ভূত নজদী। পরবর্তীতে তারা ওহাবি আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশদের সহায়তায় মক্কা-মদীনা-হেজাজ দখল করে সৌদি আরব নাম নেয়। এদের জন্য আল্লাহর রাসূল(সা এর লানত রয়েছে।
অপরদিকে ইয়েমেনের জন্য রাসূলুল্লাহ(সা এর দোয়া রয়েছে।
প্রথম সৌদি রাষ্ট্র গঠন- ১৭২৭–১৮১৮:
১৭২৭ সালে ইমাম মুহাম্মদ বিন সৌদ দিরিয়াহকে কেন্দ্র করে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। দিরিয়াহ ছিল বর্তমান রিয়াদের কাছাকাছি নাজদ অঞ্চলে। সৌদি সরকারি ইতিহাসেও ১৭২৭ সালকে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বছর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সময় মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাব (ওয়াহাব নজদি (নজদ এলাকার এজন্য নজদি বলা হয়) এর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে মুহাম্মদ বিন সৌদের রাজনৈতিক জোট গড়ে ওঠে। এর ফলে ধর্মীয় সংস্কার ও রাজনৈতিক সম্প্রসারণ—দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে এগোয়।

প্রথম সৌদি রাষ্ট্র ধীরে ধীরে নাজদের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং আরব উপদ্বীপের অন্যান্য এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে।

আর একটা বিষয় এই আলে সৌদ বা সৌদ বংশই রাসুল ( সঃ) এর রেখে যাওয়া নাম জাজিরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপ নাম পরিবর্তন করে নাম রেখেছে সৌদি আরব, অর্থাৎ সৌদ দের আরব।
সৌদি আরবে যারা বসবাস করে তারা জানে উপরে ইসলাম নাম দিয়া তলে তলে ওখানে কি চলে।
যারা ওয়াহব নজদির কর্তৃক প্রবর্তিত ধর্ম বা ওয়াহাবি মতবাদ সম্পর্কে জানেন না তারা গুগল করে জেনে নিবেন। একদিকে যেমন ওয়াহাব নজদি বর্তমান সৌদি আরবে ইসলামকেই বৃক্রিত করেছে অন্যদিকে নবীর দেওয়া নাম জাজিরাতুল আরব পরিবর্তন করেছে এই সৌদ বংশ রেখেছে সৌদি আরব বা সৌদ দের আরব।

স্পষ্ট ভাবে বলছি, যারা আজ সৌদির জন্য মায়া কান্না করছেন তারা ইসলামের খোলস নিয়ে বেচে আছেন। সৌদির জন্য চরম অবস্থা অপেক্ষা করছে আর তাদের দল বল। সৌদ রাজ বংশের পতন সম্মুখে। বিভিন্ন দল উপদল বর্তমান সৌদি শাষন করবে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে থাকবে। কাবা আবার প্রকৃত ইসলামি ভাবধারা সম্পূর্ণ মানুষের কাছে রক্ষানা বেক্ষনে ফিরে আসছে।

মক্কায় রক্তের স্রোত বইয়ে যাবে অন্যদিকে মদিনা পরিত্যাক্ত হবে। বিশ্বের রাজধানী হবে ফিলিস্তিন।

নবীর কথা অনুযায়ী আজ বিশ্বে, ইসলাম মনে হয় প্রায় ৭৩ ভাগে বিভক্ত । পিঠ বাচানো রাজনীতি বেশিদিন চলবে না। বিশ্ব যুদ্ধ আসন্য একদিকে প্রকৃত ইসলাম অন্যদিকে সমস্ত বাতিল। প্রকৃত ইসলাম এতোকাল নিভু নিভু জ্বলে ছিল অদুর ভবিষ্যতে তেজ দেখার প্রস্তুতি নিন।

আজ এ পর্যন্ত.....
দুনিয়ার সকল মুমিন ও মুমিনাত বান্দা বান্দীদের আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন

https://www.medzsupplier.com/p....roduct/fenbendazole-

Fenbendazole 444 Mg | Uses, Benefits, Dosage and Side Effects
www.medzsupplier.com

Fenbendazole 444 Mg | Uses, Benefits, Dosage and Side Effects

Fenbendazole 444 Mg is primarily used to treat various parasitic infections in animals, including roundworms, hookworms, whipworms, and tapeworms.

মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত (৪৭)
মাওলিদুন্নবী ﷺ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ উপলক্ষে এক দিরহাম খরচকারীর জন্য বিশেষ জান্নাত প্রস্তুত এবং উনার পিতা-মাতার জন্যও বিশেষ জান্নাত প্রস্তুত। (সুবহানাল্লাহ)
কিতাবের নাম: ترغيب المشتاقين لبيان منظومة زين العابدين লেখক: শাইখ মুহাম্মদ নাওয়ী আল-বান্তানী আশ-শাফেয়ী
১. মজলিস
وَخَرَجَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي حَاجَةٍ لَهُ، فَمَرَّ بِقَوْمٍ يَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ وَعَمِلُوا مَوْلِدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَبِيعِ الْأَوَّلِ، فَجَلَسَ عِنْدَهُمْ وَسَمِعَ ذَلِكَ، ثُمَّ نَامَ فِي لَيْلَتِهِ.
“ওয়া খারাজা যাতা ইয়াওমিন ফী হাজাতিন লাহু, ফামাররা বিকাওমিন ইয়াকরাউনা আল-কুরআনা ওয়া ‘আমিলূ মাওলিদিন-নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফী রবী‘ইল আউয়াল, ফাজালাসা ‘ইন্দাহুম ওয়া সামি‘আ যালিক। ছুম্মা নামা ফী লাইলাতিহি।”

“রবিউল আউয়াল শরীফ মাস,একদিন পথে মজলিশ হচ্ছিল , কুরআন শরীফ তিলাওয়াত এবং নুরে মুজাস্সাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুহব্বতে খুশি আনন্দ প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মোবারক উপলক্ষে মেহমানদারী ,উনার বুলন্দ শান মুবারক আলোচনা ,দরুদ শরীফ ছালাম শরীফ,কাসিদা শরীফ, আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক পরা,সুগন্ধি মাখা (মাওলিদুন্নবী ﷺ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ) আমল আয়োজন করেছিল। সে তাদের কাছে বসে সেই মজলিস শুনল। এরপর সেই রাতে সে ঘুমিয়ে পড়ল।”
২. প্রথম স্বপ্ন: কিয়ামত সংঘটিত
فَرَأَى فِي مَنَامِهِ كَأَنَّ الْقِيَامَةَ قَدْ قَامَتْ، وَكَأَنَّ مُنَادِيًا يُنَادِي: أَيْنَ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ؟ يَذْكُرُ جَمَاعَةً، فَسَاقَهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ وَذَلِكَ الشَّابُّ مَعَهُمْ.
“ফারা’আ ফী মানামিহি কা’আন্নাল কিয়ামাতা কাদ কামাত, ওয়া কা’আন্না মুনাদিয়ান ইউনাদী: আইনা ফুলানুবনু ফুলান? ইয়াযকুরু জামা‘আতান, ফাসাকাহুম ইলাল জান্নাতি ওয়া যালিকাশ শাব্বু মা‘আহুম।”
“সে স্বপ্নে দেখল, কিয়ামত সংঘটিত হয়েছে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করছে: অমুক ইবন অমুক কোথায়?’
সে একদল লোককে নাম ধরে ডাকছিল। এরপর তাদেরকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হলো এবং সেই যুবকও তাদের সঙ্গে ছিল।”
৩.
وَقَالَ الْمُنَادِي: إِنَّ اللهَ جَعَلَ لِكُلٍّ مِنْكُمْ قَصْرًا فِي الْجَنَّةِ، فَدَخَلَ ذَلِكَ الشَّابُّ قَصْرًا لَمْ يَرَ أَحْسَنَ مِنْهُ، وَالْحُورُ الْعِينُ فِيهِ كَثِيرَةٌ، وَعَلَى أَبْوَابِهِ خُدَّامٌ.
“ওয়া কালাল মুনাদী: ইন্নাল্লাহা জা‘আলা লিকুল্লিন মিনকুম কাসরান ফিল জান্নাহ। ফাদাখালা যালিকাশ শাব্বু কাসরান লাম ইয়ারা আহসানা মিনহু, ওয়াল-হূরুল ‘ঈনু ফীহি কাছীরাতুন, ওয়া ‘আলা আবওয়াবিহি খুদ্দামুন।”
“ঘোষণাকারী বলল:
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রত্যেকের জন্য জান্নাতে একটি করে প্রাসাদ নির্ধারণ করেছেন।’
একটি প্রাসাদে প্রবেশ করল, যার চেয়ে সুন্দর কোনো প্রাসাদ সে দেখেনি। সেখানে অনেক হুর মোবারক ছিল এবং তার দরজাগুলোতে খাদেমগণ ছিল।”
৪.
وَبَاقِي الْقُصُورِ أَلْطَفُ مِنَ الْقَصْرِ الَّذِ دَخَ فِيهِ، فَأَرَادَ الدُّخُولَ فِيهِ، فَلَمَّا هَمَّ بِالدُّخُولِ قَالَ لَهُ الْخُدَّامُ: لَيْسَ هَذَا لَكَ، وَإِنَّمَا هُوَ لِلَّذِي عَمِلَ مَوْلِدَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
“ওয়া বাকিল কুসূরি আলতাফু মিনাল কাসরিল্লাযী দাখালা ফীহি। ফা-আরাদাদ-দুখূলা ফীহি। ফালাম্মা হাম্মা বিদ্দুখূলি কালা লাহুল খুদ্দাম: লাইসা হাযা লাকা, ওয়া ইন্নামা হুয়া লিল্লাযী ‘আমিলা মাওলিদা রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।”
অবশিষ্ট প্রাসাদগুলো সে যে প্রাসাদে প্রবেশ করেছিল তার চেয়েও মনোরম ছিল। সে একটিতে প্রবেশ করতে উদ্যত হলো, খাদেমরা বলল:
‘এটি তোমার জন্য নয়;এটি সেই ব্যক্তির জন্য, যে নুরে মুজাস্সাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুহব্বতে খুশি আনন্দ প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মোবারক উপলক্ষে মেহমানদারী করা,উনার বুলন্দ শান মুবারক আলোচনা করা,দরুদ শরীফ ছালাম শরীফ, আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক পরা,সুগন্ধি মাখা (মাওলিদুন্নবী ﷺ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ) আমল করেছে।’”
৫.
فَلَمَّا أَصْبَحَ ذَلِكَ الشَّابُّ صَرَفَ ذَلِكَ الدِّينَارَ عَلَى مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَحًا بِرُؤْيَاهُ، وَجَمَعَ الْفُقَرَاءَ يَذْكُرُونَ اللهَ وَيَقْرَؤُونَ الْقُرْآنَ وَمَوْلِدَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
“ফালাম্মা আসবাহা যালিকাশ শাব্বু সরফা যালিকাদ্দীনারা ‘আলা মাওলিদিন-নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফারাহান বিরু’ইয়াহি, ওয়া জামা‘আল ফুকারায়া ইয়াযকুরূনাল্লাহা ওয়া ইয়াকরাউনাল কুরআনা ওয়া মাওলিদাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।”

“সেই যুবক সকালে ঘুম থেকে উঠে তার দেখা স্বপ্নে আনন্দিত হয়ে সেই দীনারটিনুরে মুজাস্সাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুহব্বতে খুশি আনন্দ প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মোবারক উপলক্ষে আলেম ফক্বিহ ইমাম মুজতাহিদ উনাদের মেহমানদারী করাল,উনার বুলন্দ শান মুবারক আলোচনা করল,দরুদ শরীফ ছালাম শরীফ,কাসিদা শরীফ, আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক পরা,সুগন্ধি মাখা (মাওলিদুন্নবী ﷺ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ) আমল
কাজে ব্যয় করল।

৬. সে লোকদের কাছে স্বপ্নের কথা বলল
وَقَصَّ عَلَى الْجَمَاعَةِ رُؤْيَاهُ فَفَرِحُوا بِذَلِكَ، وَنَذَرَ أَنْ لَا يَقْطَعَ مَوْلِدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا دَامَ حَيًّا.
“ওয়া কাস্সা ‘আলাল জামা‘আতি রু’ইয়াহু ফাফারিহূ বিযালিক, ওয়া নাযারা আল্লা ইয়াকতা‘আ মাওলিদিন-নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মা-দামা হাইয়্যান।”
“সে সমবেত লোকদের কাছে তার স্বপ্নের কথা বর্ণনা করল। তারা এতে আনন্দিত হলো।
এবং সে মানত করল যে, যতদিন জীবিত থাকবে,নুরে মুজাস্সাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুহব্বতে খুশি আনন্দ প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মোবারক উপলক্ষে মেহমানদারী করা,উনার বুলন্দ শান মুবারক আলোচনা করা,দরুদ শরীফ ছালাম শরীফ,কাসিদা শরীফ, আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক পরা,সুগন্ধি মাখা (মাওলিদুন্নবী ﷺ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ) আমল বন্ধ করবে না।”
৭. দ্বিতীয় স্বপ্ন: মাকে জান্নাতি অবস্থায় দেখা
ثُمَّ نَامَ فَرَأَى أُمَّهُ فِي الْمَنَامِ فِي هَيْئَةٍ حَسَنَةٍ، وَفِي حُلَلٍ مِنْ حُلَلِ الْجَنَّةِ، وَلَهَا رَائِحَةُ الْجَنَّةِ، وَقَبَّلَ يَدَهَا، وَقَبَّلَتْ فِي رَأْسِهِ.
“ছুম্মা নামা, ফারা’আ উম্মাহু ফিল-মানামি ফী হাইআতিন হাসানাতিন, ওয়া ফী হুলালিন মিন হুলালিল জান্নাতি, ওয়া লাহা রা-ইহাতুল জান্নাতি। ওয়া কাব্বালা ইয়াদাহা, ওয়া কাব্বালাত ফী রা’সিহি।”
“এরপর সে ঘুমাল। স্বপ্নে সে তার মাকে সুন্দর অবস্থায় দেখতে পেল। তিনি জান্নাতের পোশাকসমূহের পোশাক পরিহিতা ছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে জান্নাতের সুগন্ধি আসছিল।
সে তাঁর হাত চুম্বন করল এবং তাঁর মা তার মাথায় চুম্বন করলেন।”
৮. মায়ের বক্তব্য
وَقَالَتْ لَهُ: جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا يَا وَلَدِي، لَقَدْ أَتَانِي مَلَكٌ وَأَعْطَانِي هَذِهِ الْحُلَلَ.
“ওয়া কালাত লাহু: জাযাকাল্লাহু খাইরান ইয়া ওয়ালাদী। লাকাদ আতানী মালাকুন ওয়া আ‘তানী হাজিহিল হুলাল।”
“তাঁর মা তাকে বললেন:
‘হে আমার সন্তান! আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। নিশ্চয়ই আমার কাছে একজন ফেরেশতা এসেছিলেন এবং আমাকে এই পোশাকগুলো দিয়েছেন।’”
৯. যুবকের প্রশ্ন
فَقَالَ لَهَا: مِنْ أَيْنَ لَكِ هَذِهِ الْكَرَامَةُ؟

“ফাকালা লাহা: মিন আইনা লাকি হাজিহিল কারামাহ?”
“সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করল:
‘আপনি এই সম্মান কোথা থেকে পেলেন?’”
১০. মায়ের উত্তর
فَقَالَتْ: لِأَنَّكَ قَدْ صَنَعْتَ بِالدِّينَارِ الَّذِي وَرِثْتَهُ مِنِّي مَوْلِدَ سَيِّدِ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ.

“ফাকালাত: লি-আন্নাকা কাদ সানা‘তা বিদ্দীনারিল্লাযী ওয়ারিছতাহু মিননী মাওলিদা সাইয়্যিদিল আওয়ালীন ওয়াল-আখিরীন।”
“তিনি বললেন:
কারণ তুমি সেই দীনার দ্বারা—যা তুমি আমার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলে—নুরে মুজাস্সাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুহব্বতে খুশি আনন্দ প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মোবারক উপলক্ষে মেহমানদারী করা,উনার বুলন্দ শান মুবারক আলোচনা করা,দরুদ শরীফ ছালাম শরীফ,কাসিদা শরীফ, আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক পরা,সুগন্ধি মাখা (মাওলিদুন্নবী ﷺ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ) আমল আয়োজন করেছ।’”
وَهَذَا جَزَاءُ مَنْ عَظَّمَ نَبِيَّهُ وَعَمِلَ مَوْلِدَهُ.
“ওয়া হাযা জাযাউ মান ‘আজ্জামা নবিয়্যাহু ওয়া ‘আমিলা মাওলিদাহু।”
নুরে মুজাস্সাম হাবিবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে মুহব্বতে খুশি আনন্দ প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মোবারক উপলক্ষে মেহমানদারী করা,উনার বুলন্দ শান মুবারক আলোচনা করা,দরুদ শরীফ ছালাম শরীফ,কাসিদা শরীফ, আলোকসজ্জা, নতুন পোশাক পরা,সুগন্ধি মাখা (মাওলিদুন্নবী ﷺ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ) আমল এর প্রতিদান এরুপই।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে ও সম্মানে খুশি প্রকাশ করে ৯০ দিনব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিলের বরকতময় তাবারুকে
হাদিয়া করুন: ১২০০ / ১২০০০ / ১২০০০০+সরাসরি শুনুন: http://Sm40.com
আজ ৮৩তম দিন,বিকাশ এজেন্ট (মাহফিল-অফিসিয়াল): 01739466730

صَلَّى ٱللَّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে: “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন; এমনকি নিজের জীবন থেকে আমাকে বেশি মুহব্বত করতে না পারবে।”

এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রেক্ষিতে জ্বলন্ত জিজ্ঞাসা ব্যক্তি মুসলমান থেকে রাষ্ট্রের প্রতি- মুসলমানরা কী আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে পেরেছে?’

অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি আপনার আলোচনাকে বুলন্দ করেছি।”

কতটুকু বুলন্দ? এতটুকু যে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উনার সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছেন। কোনো ব্যক্তি শুধু ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়লে ক্বিয়ামত পর্যন্ত মুসলমান হতে পারবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ না পড়বেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, এদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’- এই কালিমা শরীফে বিশ্বাসী।

এদেশে দশ লাখের ঊর্ধ্বে মসজিদে ৫ ওয়াক্ত আযানে দৈনিক দশবার করে অর্থাৎ কোটিবারেরও বেশি উচ্চারিত হয়- ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ অর্থাৎ ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’

উল্লেখ্য, এদেশের রাষ্ট্রদ্বীন হিসেবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম স্বীকৃত। কিন্তু কথা হচ্ছে রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র দ্বীন ইসলাম মানে? রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র দ্বীন ইসলাম স্বীকার করে? রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা করে? রাষ্ট্রযন্ত্র কী পবিত্র ইসলামী মূল্যবোধের উজ্জীবন ঘটায়? রাষ্ট্রযন্ত্র কী ইসলামবিরোধী আচার বন্ধে পদক্ষেপ নেয়?

বলাবাহুল্য, ৯৮ ভাগ মুসলমানের দেশ হিসেবে রাষ্ট্রদ্বীন পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশ হিসেবে রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষে উপরিল্লিখিত জিজ্ঞাসার জবাব ‘হ্যাঁ, বোধক হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো- রাষ্ট্রযন্ত্র তা করতে চরমভাবে ব্যর্থ। বরং উল্টো দিকে তার বল্গাহীন অগ্রযাত্রা। নাঊযুবিল্লাহ!

এজন্য ব্যক্তি মুসলমানও কম দায়ী নয়। ব্যক্তি মুসলমান প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাযের আযানে ও ইক্বামতে ২০ বার করে শুনে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে রসূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এবং বিতরসহ ৫ ওয়াক্ত নামাযের মধ্যে তাশাহুদে কমপক্ষে ১৭ বার সাক্ষ্য দেয়, ‘......ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” অর্থাৎ ব্যক্তি মুসলমান দৈনিক ৩৭ বার সাক্ষ্য দেয়, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ সুবহানাল্লাহ!

বলাবাহুল্য, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘রসূল’ হিসেবে দৈনিক ৩৭ বার সাক্ষ্য দেবার পরও দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান ফরয-ওয়াজিব পালন থেকে দূরে থাকে কীভাবে? সুন্নত পালন থেকে গাফিল থাকে কীভাবে? হারাম-হালাল একাকার করে কী করে? বেপর্দা-বেহায়া-বেশরায় মশগুল হয় কী করে? তাহলে কীভাবে ২০ বার ‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কানে শোনা ও স্বীকৃতি দেয়া হয়? এবং বিতরসহ ৫ ওয়াক্ত নামাযে ১৭ বার তাশাহুদে নিজ মুখে উচ্চারণ করা ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলার অর্থ কিসে পরিণত হয়?

প্রসঙ্গত, জান্নাতের সুসংবাদ এবং জাহান্নামের ভয় এখানে উল্লেখ্য। বলাবাহুল্য, দেশের মুসলমান এখনো জান্নাত আশা করে, জাহান্নামকে ভয় পায়। আর জান্নাত-জাহান্নামের আমল সম্পর্কেও তারা অজ্ঞাত নয়। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে জান্নাত-জাহান্নামের মূলত মালিক- আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা মূল্যায়ন, শান-মান, অনুধাবন, আদেশ, নিষেধ পালন থেকে তারা কীভাবে পিছিয়ে থাকতে পারে?

কাজেই মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।

image

হাদিসে কুদসী শরীফ এ মহান রব তায়ালা বলেছেন : “লাওলাকা লামা খালাকতু আফলাক”। অর্থাৎ আমি যদি আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক যাহির মুবারক না করাতাম তবে আমি কিছুই সৃষ্টি করতাম না।
কাজেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনিই হলেন সৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু।
আল্লাহপাক হাদিস কুদসী শরীফ এ আরো ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, “আমি আমার হাবীব মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক হিসাবে নূরুল ইজহার মুবারক করেছি।"
যেমন, কোরানে পাকে বলা হয়েছে : “ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লাহ” অর্থাৎ তুমি যেদিকেই তাকাও সেদিকে মহান রব তায়ালা উনার চেহারা মানে উনাকে দেখতে পাবে অর্থাৎ সবদিকেই আল্লাহ তায়ালা বিরাজমান। কাজেই এ রহস্যাবলীকে হক্কানী রব্বানী ওলিআল্লাহ বা পীর-মুর্শিদ উনাদের কাছে চিনে নিতে হবে।
হাদিস কুদসী শরীফ এ বর্ণিত আছে - আল্লাহপাক বলেনঃ
"হে আমার প্রিয় হাবিব মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনাকে নূরুল ইজহার মুবারক না করলে আমি আকাশ-জমিন কিছুই সৃষ্টি করতাম না। আকাশ মন্ডলকে সুউচ্চে স্থাপন করতাম না এবং ভূমন্ডলকে নিয়ে বিছানা স্বরূপ করতাম না।"
আরো বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
"আমি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টির ১৪ হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহ পাকের দরবারে এক খানা নূর মুবারক হিসাবে ছিলাম।"

আল্লাহপাক এ বিশ্বকে পাঁচটি স্তরে প্রকাশ করেছেন নূরে মোহাম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার মাধ্যমে তথা নূরে মোহাম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে:-
১। আল্লাহর আধিপত্যের জগত বা আলমে হাহুত
২। নূরে মোহাম্মদীর জগত বা আলমে লাহুত
৩। পরিকল্পনার জগত বা আলমে জাবারুত
৪। নির্দেশের জগত বা আলমে আমর বা আলমে মালাকুত
৫। সৃষ্টি বা আলমে খালক বা আলমে নাছুত
আল্লাহপাকের এ সৃষ্টির কোন রকম পরিবর্তন নেই। তাই কুরআন পাকে বলা হয়েছে ? "লা তাবদিলা লি খালকিল্লাহ" (لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ) পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সূরা আর-রূম-এর ৩০ নম্বর আয়াত শরীফ উনার একটি অংশ। অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। মাওলাপাক উনার এ পাঁচটি আলমের ভিতর একটি হলো ‘পরিকল্পনার জগত।

হাদিস শরীফে আরো বর্ণিত আছে যে, যখন নূর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলমে আরওয়ায় ছিলেন তখন আল্লাহপাক সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নূরে মুজাসসাম মুবারক বা যিসিম মুবারক এ রুহ মুবারক দিলেন। তখন ঐ রূহ মুবারক পেশানীতে যেয়ে ঘুরতে লাগল ; ফলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পেশানী হতে পাঁচ ফোটা নূর ঝরেছিলেন। তা হতে “কানাহ্জার" একটি শব্দ গঠিত হয়েছিলেন।
এ পাঁচফোটা নূরী অক্ষর হতে প্রকাশ হলো পঞ্চ স্তম্ভ যথা :
প্রথম হরফ কাফ - এর হতে সৃষ্টি হয় কলেমা
দ্বিতীয় হরফ নুন' - এর হতে সৃষ্টি হয় ছালাত
তৃতীয় হরফ ‘হা - এর হতে সৃষ্টি হয় হজ্জ্ব
চতুর্থ হরফ ‘জা"- এর হতে সৃষ্টি হয় যাকাত
পঞ্চম হরফ ‘রা"- এর হতে সৃষ্টি হয় সিয়াম।
নূর নামা" কিতাবে বর্ণিত আছে আল্লাহপাক সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনাকে নুরুল ইজহার মুবারক (সাধারন ভাষায় সৃষ্টি) করার পর একদিন বললেন - “হে আমার হাবীব মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি চারটি জিনিস সৃষ্টি করেছি আর তা হলো : ১। মাটি ২। পানি ৩। আগুন ও ৪। বাতাস
এর মধ্যে হতে একটাকে আপনার অধিকার করতে হবে, বাকি তিনটার শুধু প্রভাবই থাকবে। এর একটা দিয়ে আমি মানবজাতি সৃষ্টি করবো এবং বাকি তিনটিও তাতে সংমিশ্রণ থাকবে। আপনার যে কোন একটা পছন্দ করতে হবে।
আল্লাহ পাক উনার এ কথা শুনে আল্লাহর হাবীব মাহবুব সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরবা আনাছের মধ্যে প্রথমে পানির নিকট গেলেন। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন পানি ধ্বংশের নেশায় ভরপুর। সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পানিকে দেখে বললেন - আচ্ছছালামু আলাইকুম। পানি জবাব দিল - ওয়া আলাইকুম ছালাম বলে। পানি জানতে চাইলো আপনি কে? সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন - আমি আল্লাহপাকের সৃষ্টি। তুমিও তাঁর সৃষ্টি। শোন হে পানি ! আল্লাহপাক এক জগৎ সৃষ্টি করবেন এবং তোমাকেও সেখানে পাঠাবেন। তুমি সেখানে গিয়ে কি কাজ করবে আমার নিকট বলো। পানি উত্তর করলো তখন আমার যা ইচ্ছা হয় তা-ই করবো। পানির কথা শুনে নূরনবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে পানি তোমার এ ইচ্ছা ত্যাগ করো। আমাদের ইচ্ছা বলতে কিছু রাখা ভাল নয়। আল্লাহর ইচ্ছাই ইচ্ছা। আল্লাহকে খুশী করাই আমাদের কাজ, তুমি এখন তোমার দোষ ত্রুটি গুলো জানো। পানি বললো, আপনি বলুন আমার কি দোষ ক্রটি আছে। নূরনবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন তোমার মাঝে ধ্বংশের গৌরব আছে, তুমি তা ত্যাগ করে পবিত্র হও। কারণ, তোমার দ্বারা আল্লাহপাক দুনিয়ার সব কিছু পবিত্র করবেন। তোমাকে ছাড়া দুনিয়াতে কোন জীব বা অন্যান্য কিছুই বাঁচবেনা। তোমাকে পাক করবে বাতাস। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন্যাবিয়্যিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার কথা শুনে পানি খুশী হলো এবং কলেমা শাহাদাৎ পড়ে মুসলমান বা আত্মসমর্পণকারী হয়ে গেল।

এবার আল্লাহপাকের হুকুমে নূর মুবারক গেলেন বাতাসের নিকট। এখানেও ছালাম বিনিময়ের পর নূর মুবারক জানতে চাইলেন বাতাসের কি গুণ আছে। বাতাস বললো আমি সব উড়িয়ে ধ্বংশ করে দিতে পারি। আর আমাকে দুনিয়ায় নিলে আমার যা ইচ্ছা তা-ই করবো। মহসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক তখন বললেন, হে বাতাস, তুমি তোমার গৌরব নিজ ইচ্ছায় পরিত্যাগ করো, একমাত্র আল্লাহই আমাদের প্রভু, উনার মুবারক ইচ্ছাই আমাদের ইচ্ছা হওয়া উচিত অন্যথায় আমরা ধ্বংশ হয়ে যাবো। এখন তুমি তোমার গৌরব ছাড় তাহলে পৃথিবীতে যেয়ে খুব গুণী হতে পারবে। জন্ম হতে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি জীব তোমার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। তুমি কাহারো নজরে পড়বে না। এভাবে বুঝানোর পর বাতাস কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেল।
তারপর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক গেলেন “আগুনের কাছে সেখানেও ছালাম বিনিময়ের পর নূরনবী আগুনের কি গুণ ক্ষমতা আছে তা জানতে চাইলেন। আগুন তখন খুব গর্ব করে বললো যে, তার এমন ক্ষমতা যে সে ইচ্ছা করলে সব পুড়ে ছাই করে ধ্বংশ করে দিতে পারে। আরো দেখলো আগুনের মধ্যে প্রচণ্ড অহংকার বিরাজ করছে,মহসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক এসমস্ত কিছু লক্ষ্য করে আগুনকে খুব ভাল করে উপদেশ দিলেন তার মিথ্যা অহংকার ত্যাগ করার জন্য। আল্লাহর ছানাছিফত মুবারক শোনালেন আগুনকে এবং তার কি কি দোষ আছে তাও জানালেন। আগুন দিয়ে আল্লাহপাক কি কি করবেন তাও বললেন। আগুন নূরের সমস্ত কথা শুনে কলেমা তাইয়্যেবা' পড়ে মুসলমান হয়ে গেল।

শেষে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক গেলেন “মাটির" নিকট। নূরনবী মাটির নম্রতা, নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার অসীম ক্ষমতা, ধৈৰ্য্যশীলতা, শান্ত স্বভাব ইত্যাদি মহৎ গুণাবলী দেখে খুব খুশী হলেন, “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক”মাটিকে ছালাম দিলেন। মাটি উত্তরে বললো, ‘ওয়া-আলাইকুম ছালাম-মারহাবা" স্বাগতম। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক তার গুণ জানতে চাইলে মাটি বললো আমার কোন গুণ নেই। আল্লাহর গুণেই গুণান্বিত। আল্লাহপাক যখন যে অবস্থায়ই রাখেন সে অবস্থায়ই খুশী।
এ কথা শুনে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক খুশী হলেন এবং মাটিকে কলেমা শরীফ পড়িয়ে মুসলমান করা হলো।

মহান আল্লাহপাক উক্ত আরবা আনাছের দ্বারা আদম অজুদ তৈরী করে তাতে ফিল আরদে খলিফা রূপে বসালেন আদমকে এবং তা সমস্ত সৃষ্টি কার্য সমাধা করে চলেছেন অনাদি কাল হতে।

"পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয়, মরণ একদিন মুছে দিবে সকল রঙীন পরিচয়" - এই বাক্যটির হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা অত্যন্ত গভীর।

এটি কোনো কবিতা নয়, এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় হাক্বীক্বত।

### ১. পৃথিবী আসল ঠিকানা নয় - তাহলে আসল ঠিকানা কোথায়?

আমরা ভুল করে মনে করি এই দুনিয়াটাই আমাদের বাড়ি। কিন্তু কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ মুবারক করেন -

وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
অর্থ: "দুনিয়ার জীবন ধোঁকার সামগ্রী ছাড়া কিছুই নয়।" (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)

হাক্বীক্বতে আমাদের আসল ঠিকানা ছিল রূহের জগতে, তারপর মায়ের গর্ভ, তারপর এই দুনিয়া - এটি একটি মুসাফিরখানা। মুসাফির যেমন হোটেলে চিরদিন থাকে না, তেমনি আমরা এখানে চিরদিন থাকবো না।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন -
كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سَبِيلٍ
"দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন অপরিচিত বা পথিক।" (বুখারী শরীফ)

পথিক কখনো রাস্তাকেই বাড়ি বানায় না। আমাদের আসল বাড়ি হলো - হয় জান্নাত, না হয় জাহান্নাম। এই দুনিয়া হলো সেই বাড়ি কামাই করার ক্ষেত।

### ২. মরণ একদিন মুছে দিবে সকল রঙীন পরিচয় - এর হাক্বীক্বত কি?

আজ আমাদের কত পরিচয় - আমি ডাক্তার, আমি ইঞ্জিনিয়ার, আমি অমুকের ছেলে, আমি কোটিপতি, আমার ফেসবুকে কত ফলোয়ার!

কিন্তু যখন মালাকুল মউত আলাইহিস সালাম আসবেন, তখন এক সেকেন্ডে সব পরিচয় মুছে যাবে।

সাদা কাফনে মোড়ানোর পর কেউ জিজ্ঞেস করবে না - "লোকটা কত বড় চাকরি করতো?" সবাই বলবে - "লাশ কোথায়? জানাযা কখন?"

কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ পাক বলেন -
يَوْمَ لَا يَنْفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ
"সেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না।" (সূরা শুয়ারা: ৮৮)

আপনার দামী গাড়ি, দামী বাড়ি, আপনার পদবী - সব এই দুনিয়াতেই পড়ে থাকবে। কবরে আপনার সাথে যাবে শুধু তিনটি জিনিস -

১. আপনার ঈমান
২. আপনার আমল
৩. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি আপনার মুহব্বত

হাক্বীক্বী শিক্ষা:

এই কথাটি আমাদেরকে দুইটি বিষয় শিক্ষা দেয় -

ক) দুনিয়ার মুহব্বত অন্তর থেকে বের করে দিতে হবে, দুনিয়াকে হাতে রাখুন, অন্তরে নয়। নৌকা পানিতে থাকে, কিন্তু পানি নৌকায় ঢুকলেই নৌকা ডুবে যায়।

খ) আসল পরিচয় তৈরী করতে হবে: রঙীন পরিচয় মুছে যাবে, কিন্তু আসল পরিচয় - "আমি মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত" - এই পরিচয় কখনো মুছবে না। এই পরিচয় নিয়েই কবরে যাওয়ার কোশেশ করতে হবে।

তাই জ্ঞানী ব্যক্তি সেই, যে মুছে যাওয়ার আগেই রঙীন পরিচয়ের পিছনে না ছুটে, চিরস্থায়ী পরিচয় তৈরী করে।

আপনি কি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেতে চান?

নিশ্চয়তা পাওয়ার সেই আমলটি কি?
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক - উনার তরফ থেকে কুরবানী করা যা ফরয কোরবানি হিসেবে অবহিত।

এই কুরবানী করলে কি হবে? আপনি কি কি পাবেন? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি একবার দরূদ শরীফ পাঠ করলে ১০টি রহমত পাওয়া যায়। তাহলে উনার তরফ থেকে কোরবানি করলে, কি পাওয়া যাবে?
- নিজের ওয়াজীব কুরবানী তো কবুল হবেই, সাথে সাথে আরও অনেক সফলতার নিশ্চয়তা রয়েছে, যেমন:

১) অতীতের গুনাহখাতা ক্ষমা করা হবে। প্রতিটি পশমের জন্য ১০টি গুনাহখাতা মাফ হয়। পশুর অগনিত পশমের জন্য গুনাহখাতা মাফ হয়ে মাছুম হয়ে যাবেন।

২) বর্তমানে প্রতিটি পশমের জন্য ১০টি নেকী পাওয়া যাবে, ১০টি মর্যাদা বৃদ্ধি হবে, আবার মুত্তাকী হিসেবে কুদরতী রিযিকের ফায়সালা হবে। (সূরা মায়িদা শরীফ : আয়াত শরীফ ২৭, সূরা আত-তালাক শরীফ ২-৩)।

৩) ভবিষ্যতে- যিনি কুরবানীর পশুর পেট চিরবেন হাশরের ময়দানে তার কোন কষ্ট লাগবে না। উনাকে হাউজে কাউসার শরীফ উনার পানি পান করানো হবে। তিনি জান্নতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আর পিপাসার্ত হবেন না। তারপর, মীযানে সত্তরগুণ বৃদ্ধি করে কুরবানীর পশুর হাড়, সিং, খুড়, পশম, চামড়া, ইত্যাদি ৭০ গুন বৃদ্ধি করে নেকির পাল্লায় চাপিয়ে দেয়া হবে। ফলে ডানদিকের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে। উনার জান্নাত ফয়সালা হবে। সুবহানাল্লাহ! আর কোরবানির পশুটি পুলিসিরাত পার হওয়ার বাহন হবে (আরিযাতুল আহওয়াযী লী শরহে তিরমিযী)।

জান্নাতে- পশুর দেহের প্রতিটি পশমের বিনিময়ে ১ টি করে জান্নাতি বালাখানা, পশুর মাথার প্রতিটি পশমের বিনিময়ে ১ জন হুর মুবারক দেয়া হবে, পশুর প্রতিটি হারের টুকরার বিনিময়ে ১ টি করে জান্নাতি বোরাক, পশুর প্রতিটি গোস্তের টুকরার বিনিময়ে ১টি করে জান্নাতি পাখি পাওয়া যাবে।

সেই জন্য আপনি নিজে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষে ফরজ কুরবানী করুন এবং এবং অন্যদেরকেও এই বিষয়টি পৌঁছে দিন। কারণ- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটা বলেছেন- “আমার তরফ থেকে একটি আয়াত শরীফ হলেও তা ছড়িয়ে দিন”।

তাহলে একদিকে আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিন্ত হবে এবং অন্যদের প্রতি আপনার দায়িত্ব পালন থেকেও মুক্তি পাবেন। “যেদিন অর্থাৎ কেয়ামতের দিন একজন মানুষ তার ভাই, তার মা, তার পিতা, তার সঙ্গী এবং তার সন্তানদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে! (পবিত্র সূরা আবাসা শরীফ, ৩৪-৩৬)” কারণ কেয়ামতের ময়দানে তারা আপনাকে আটকাবে। এই উছিলায় অর্থাৎ এই ফরজ কুরবানী যদি তারা করতে পারে তাহলে তারা মুক্ত হবে এবং আপনিও মুক্ত হয়ে যাবেন। আপনাকে আর আটকাবে না।

আর যদি না করা হয় তাহলে- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবে। তার পুলসিরাতের বাহন পাবেনা, জান্নাতি বালাখানা পাবে না, কোন নিয়ামতই সে পাবে না। সে উম্মত থেকে খারিজ হয়ে যাবে। কারণ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করবেনা সে যেনো আমাদের ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ)।

আপনার টাকা-পয়সা থাকলে এই ফরয কুরবানী করুন। এটা আপনার জীবনের শেষ সুযোগ হতে পারে। পরে আপনি এই সুযোগ নাও পেতে পারেন। এই এক সুযোগে অনেক প্রাপ্তি- অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত তেমনি অন্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও মুক্তি।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে ফরজ কুরবানী করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

image

#একটি মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ কী?”—কেউ বলবে টাকা, কেউ বলবে বাড়ি, কেউ বলবে ব্যবসা, কেউ বলবে জ্ঞান, আবার কেউ বলবে সম্মান ও ক্ষমতা। কিন্তু একজন মানুষ আছেন, যাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল এসবের কোনোটিই নয়। তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল—আল্লাহর দেওয়া হিকমত এবং সেই হিকমতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক।

তিনি ছিলেন লোকমান (রহ.)।

লোকমান (রহ.)-এর জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত ঐতিহাসিক তথ্য খুব বেশি নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত নেই। কিন্তু কুরআন তাঁর এমন কিছু কথা ও শিক্ষা আমাদের সামনে তুলে ধরেছে, যা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য পথনির্দেশ হয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আমি অবশ্যই লোকমানকে হিকমত দান করেছিলাম—‘আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।’ আর যে শুকরিয়া আদায় করে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই শুকরিয়া আদায় করে।” (সূরা লুকমান: ১২)

এই আয়াতটি শুধু লোকমান (রহ.)-এর প্রশংসা নয়; বরং মানুষের জীবনের একটি বিশাল সত্য প্রকাশ করে—আল্লাহ যখন কাউকে কোনো নেয়ামত দেন, তখন সেই নেয়ামতের আসল পরীক্ষা হলো সে কীভাবে তা ব্যবহার করে।

ধরুন, একজন মানুষকে আল্লাহ অর্থ দিলেন। সেই অর্থ তাকে অহংকারীও করতে পারে, আবার দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমও হতে পারে।

কাউকে আল্লাহ জ্ঞান দিলেন। সেই জ্ঞান তাকে অন্যকে তুচ্ছ করার কারণও হতে পারে, আবার মানুষকে সত্যের পথে ডাকার মাধ্যমও হতে পারে।

কাউকে আল্লাহ ক্ষমতা দিলেন। সে ক্ষমতা দিয়ে মানুষের ওপর জুলুমও করতে পারে, আবার মানুষের অধিকার রক্ষা করতেও পারে।

কাউকে আল্লাহ সুন্দর কণ্ঠ দিলেন। সে কণ্ঠ দিয়ে মিথ্যা ও অশ্লীলতা ছড়াতে পারে, আবার ভালো কথা বলেও মানুষের হৃদয় পরিবর্তন করতে পারে।

অর্থাৎ নেয়ামত নিজে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়। বরং নেয়ামত পেয়ে মানুষ কী করে—সেটিই তার পরীক্ষার বিষয়।

লোকমান (রহ.)-কে আল্লাহ হিকমত দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি এই হিকমতকে নিজের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব মনে করেননি। তাঁর প্রথম শিক্ষা ছিল—শুকরিয়া আদায় করা।

এখানেই একজন জ্ঞানী ও অহংকারী মানুষের মধ্যে পার্থক্য।

অহংকারী মানুষ কিছু অর্জন করলে বলে, “আমি করেছি।”
জ্ঞানী মুমিন বলে, “আল্লাহ আমাকে করার সুযোগ দিয়েছেন।”
অহংকারী মানুষ বলে, “আমি এত কিছু জানি।”

শুকরগুজার মানুষ ভাবে, “আল্লাহ আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন; এখন আমাকে দেখতে হবে এই জ্ঞান দিয়ে আমি কী করছি।”

এই শিক্ষা আজকের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

একজন ছাত্র ভালো ফল করল। সে হয়তো বলল, “আমি সবার চেয়ে মেধাবী।”

কিন্তু সে যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করে, তাহলে বুঝবে—তার বুদ্ধি কে দিয়েছে? তার সুস্থ শরীর কে দিয়েছে? তার চোখ, কান ও স্মৃতিশক্তি কে দিয়েছে? তাকে পড়ার সুযোগ কে দিয়েছে?

মানুষ চেষ্টা করে, পরিশ্রম করে—এগুলো সত্য। কিন্তু সেই চেষ্টা করার সামর্থ্যও আল্লাহর নেয়ামত।

একজন ব্যবসায়ী অনেক টাকা উপার্জন করল। সে যদি মনে করে, “আমার বুদ্ধি ও কৌশল ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়,” তাহলে তার অন্তরে অহংকার জন্ম নিতে পারে। কিন্তু সে যদি ভাবে, “আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু রিজিকের দরজা আল্লাহ খুলেছেন,” তাহলে তার হৃদয়ে শুকরিয়া জন্ম নেবে।

লোকমান (রহ.)-এর হিকমত আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিই শেখায়।

একদিন একজন মানুষ নিজের সাফল্য নিয়ে খুব গর্ব করছিল। সে তার পরিচিতদের বলছিল, “আমি নিজের যোগ্যতায় আজ এই অবস্থানে এসেছি। আমার মতো পরিশ্রম আর কেউ করেনি।”

তার পাশে বসা একজন বৃদ্ধ চুপচাপ তার কথা শুনছিলেন।

লোকটি বলল, “আমি কাউকে সাহায্য ছাড়া এতদূর এসেছি।”
বৃদ্ধ তখন বললেন, “তুমি কি একা একা জন্মেছিলে?”
লোকটি অবাক হয়ে বলল, “না।”
“তোমার বাবা-মা কি তোমাকে বড় করেননি?”
“করেছেন।”
“তোমার শরীরের শক্তি তুমি নিজে বানিয়েছ?”

লোকটি চুপ করে গেল।

বৃদ্ধ বললেন, “তোমার চোখের দৃষ্টি? তোমার বুদ্ধি? তোমার শ্বাস? তোমার হৃদস্পন্দন? তোমার জীবনের প্রতিটি সকাল?”

লোকটি কোনো উত্তর দিতে পারল না।

বৃদ্ধ বললেন, “মানুষের চেষ্টা অস্বীকার করো না; কিন্তু চেষ্টা করার সামর্থ্য যিনি দিয়েছেন, তাঁকে ভুলে যেও না।”

এই কথাটিই লোকমান (রহ.)-এর হিকমতের অন্যতম গভীর শিক্ষা—শুকরিয়া মানে নিজের পরিশ্রম অস্বীকার করা নয়; বরং নিজের সামর্থ্যের আসল মালিককে স্বীকার করা।

তারপর আসে আরও বড় প্রশ্ন—শুকরিয়া কীভাবে করতে হয়?

শুধু মুখে “আলহামদুলিল্লাহ” বললেই কি শুকরিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যায়?

মুখের শুকরিয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নেয়ামতের প্রকৃত শুকরিয়া হলো—নেয়ামতকে এমন কাজে ব্যবহার করা, যা আল্লাহ পছন্দ করেন।

আল্লাহ কাউকে অর্থ দিয়েছেন—সে যদি সেই অর্থ দিয়ে হারাম কাজে ব্যয় করে, তাহলে শুধু মুখে শুকরিয়া বললেই হবে না।

আল্লাহ কাউকে জ্ঞান দিয়েছেন—সে যদি সেই জ্ঞান দিয়ে মানুষকে অপমান করে, তাহলে তার জ্ঞান তার জন্য বিপদের কারণ হতে পারে।
আল্লাহ কাউকে ক্ষমতা দিয়েছেন—সে যদি দুর্বলদের অধিকার নষ্ট করে, তাহলে সেই ক্ষমতা তার জন্য পরীক্ষা।

আল্লাহ কাউকে সময় দিয়েছেন—সে যদি পুরো সময় অর্থহীন কাজে নষ্ট করে, তাহলে সেই নেয়ামতের হিসাব তাকে দিতে হবে।

এ কারণেই লোকমান (রহ.)-এর হিকমত শুধু কিছু সুন্দর কথা নয়। এগুলো জীবনের ব্যবহারিক শিক্ষা।

তিনি নিজের সন্তানকে এমন শিক্ষা দিয়েছিলেন, যাতে সে বুঝতে পারে—আল্লাহর নেয়ামত পাওয়া মানে দায়িত্বও পাওয়া।

তারপর লোকমান (রহ.)-এর উপদেশের ধারায় আমরা দেখতে পাই, তিনি আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করার শিক্ষা দিয়েছেন, নামাজ কায়েম করতে বলেছেন, সৎকাজের নির্দেশ দিতে বলেছেন, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করতে বলেছেন, বিপদে ধৈর্য ধরতে বলেছেন, অহংকার থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন এবং মানুষের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে বলেছেন।

এগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন শিক্ষা নয়।

এর শুরু আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দিয়ে।
তারপর আসে ইবাদত।
তারপর চরিত্র।
তারপর সমাজের প্রতি দায়িত্ব।
তারপর ধৈর্য ও আত্মসংযম।

অর্থাৎ লোকমান (রহ.)-এর হিকমত মানুষকে শুধু ভালো কথা শেখায় না; বরং একজন মানুষের পুরো জীবনকে সুন্দর করার পথ দেখায়।

একজন মানুষ যদি আল্লাহকে স্মরণ করে কিন্তু মানুষের সঙ্গে অহংকার করে, তার চরিত্রে সমস্যা রয়েছে।

কেউ যদি অনেক জ্ঞান অর্জন করে কিন্তু নামাজের ব্যাপারে উদাসীন হয়, তার জ্ঞানের বাস্তব প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন আছে।

কেউ যদি দান করে কিন্তু মানুষকে অপমান করে, তার দানের মধ্যে আত্মশুদ্ধির ঘাটতি থাকতে পারে।

কেউ যদি অন্যকে উপদেশ দেয় কিন্তু নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তাহলে তাকে নিজের কাছেও ফিরে তাকাতে হবে।

লোকমান (রহ.)-এর শিক্ষা তাই শুধু “কী বলব”—এটা নয়; বরং “আমি কেমন মানুষ হব?”

একবার কল্পনা করুন, একজন মানুষ তার জীবনের শেষদিকে দাঁড়িয়ে নিজের সম্পদ, বাড়ি, ব্যবসা, পরিচিতি সবকিছুর দিকে তাকাচ্ছে। তার ব্যাংকে টাকা আছে, ঘরে মূল্যবান জিনিস আছে, মানুষ তাকে সম্মান করে। কিন্তু তার অন্তরে যদি আল্লাহর শুকরিয়া না থাকে, তাহলে এসব নেয়ামত তাকে প্রকৃত শান্তি দিতে পারবে না।

অন্যদিকে একজন সাধারণ মানুষ হয়তো খুব বেশি সম্পদের মালিক নয়। কিন্তু প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বলে, “আলহামদুলিল্লাহ।” সে নিজের পরিবারকে ভালোবাসে, হালাল রিজিকের চেষ্টা করে, নামাজ পড়ে, অন্যের হক নষ্ট করে না, সামান্য পেলেও শুকরিয়া আদায় করে।

এই মানুষটি হয়তো দুনিয়ার চোখে বড় নয়, কিন্তু তার হৃদয় নেয়ামতের প্রকৃত মূল্য বুঝতে পেরেছে।

লোকমান (রহ.)-এর হিকমত আমাদের শেখায়—শুকরিয়া শুধু বেশি পাওয়ার জন্য নয়; বরং যা পেয়েছি তার মূল্য বোঝার জন্য।

আজ একজন মানুষ তার মোবাইল নিয়ে অভিযোগ করে, অথচ সে জানে না পৃথিবীর কত মানুষ যোগাযোগের সামান্য সুযোগের জন্য কষ্ট করে।

কেউ খাবারের স্বাদ নিয়ে অভিযোগ করে, অথচ পৃথিবীতে কত মানুষ একবেলা খাবারের অপেক্ষায় থাকে।

কেউ নিজের ছোট ঘর নিয়ে অসন্তুষ্ট, অথচ কত মানুষ মাথা গোঁজার জায়গা খুঁজছে।

কেউ নিজের সাধারণ পোশাক নিয়ে লজ্জিত, অথচ কত মানুষ পোশাকের মৌলিক প্রয়োজনটুকুও পূরণ করতে পারে না।

সমস্যা হলো—আমরা অনেক সময় নেয়ামতকে নেয়ামত হিসেবে দেখি না; যতক্ষণ না সেটি হারিয়ে যায়।

চোখের দৃষ্টি হারানোর আগে চোখের মূল্য বুঝি না।
স্বাস্থ্যের সমস্যা হওয়ার আগে সুস্থতার মূল্য বুঝি না।
সময় চলে যাওয়ার আগে সময়ের মূল্য বুঝি না।

প্রিয় মানুষ দূরে চলে যাওয়ার আগে তার উপস্থিতির মূল্য বুঝি না।

এ কারণেই লোকমান (রহ.)-এর প্রথম শিক্ষাগুলোর একটি এত গুরুত্বপূর্ণ—“আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো।”

শুকরিয়া মানুষকে অভাবের মাঝেও শান্ত থাকতে শেখায়।
শুকরিয়া মানুষকে অহংকার থেকে রক্ষা করে।
শুকরিয়া মানুষকে অন্যের নেয়ামত দেখে হিংসা করা থেকে দূরে রাখে।
শুকরিয়া মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—আমার যা আছে, তা আমার নিজের তৈরি নয়।

আর সবচেয়ে বড় কথা, শুকরিয়া মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রাখে।

### লোকমান (রহ.)-এর হিকমত থেকে ১০টি গভীর শিক্ষা

১. নেয়ামত পাওয়া মানেই পরীক্ষা শুরু হওয়া।
আল্লাহ অর্থ দিলে পরীক্ষা করেন—কীভাবে ব্যয় করো। জ্ঞান দিলে পরীক্ষা করেন—কীভাবে ব্যবহার করো। ক্ষমতা দিলে পরীক্ষা করেন—দুর্বলদের সঙ্গে কেমন আচরণ করো।

২. নিজের যোগ্যতাকে অস্বীকার নয়, কিন্তু কৃতিত্বের অহংকার থেকেও বাঁচতে হবে।
পরিশ্রম করা আমাদের দায়িত্ব; ফলাফল আল্লাহর হাতে।

৩. শুকরিয়া শুধু মুখের কথা নয়।
আল্লাহ যে নেয়ামত দিয়েছেন, তা আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যবহার করাই শুকরিয়ার বাস্তব প্রকাশ।

৪. জ্ঞান অহংকারের কারণ নয়।
আল্লাহ লোকমান (রহ.)-কে হিকমত দিয়েছিলেন এবং শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই জ্ঞান যত বাড়বে, বিনয়ও তত বাড়া উচিত।

৫. নেয়ামত কম মনে হলে অন্যের দিকে নয়, নিজের জীবনের দিকে তাকাও।
মানুষের যা নেই তার হিসাব করলে অশান্তি বাড়ে; যা আছে তার হিসাব করলে শুকরিয়া বাড়ে।

৬. আল্লাহর নেয়ামত চিনতে শেখা হৃদয়ের বড় ইবাদত।
প্রতিদিনের সাধারণ বিষয়—শ্বাস, দৃষ্টি, শ্রবণ, পরিবার, নিরাপত্তা, সময়—এসবও নেয়ামত।

৭. শুকরিয়া মানুষকে হিংসা থেকে রক্ষা করে।
যে ব্যক্তি জানে তার রিজিক আল্লাহর হাতে, সে অন্যের নেয়ামত দেখে নিজের জীবনকে তুচ্ছ মনে করে না।

৮. অহংকারের বিপরীত হলো নিজের আসল অবস্থান বোঝা।
আমাদের যা আছে, সবই আল্লাহর দান। তাই মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর কোনো কারণ নেই।

৯. হিকমত মানে শুধু অনেক কিছু জানা নয়।
সঠিক জ্ঞানকে সঠিক সময়ে, সঠিক কাজে ব্যবহার করার নামও হিকমত।

১০. জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো নেয়ামতকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করা।
সম্পদ, জ্ঞান, সময়, শক্তি, প্রতিভা—সবকিছুরই একদিন হিসাব দিতে হবে।

শেষ পর্যন্ত লোকমান হাকিম (রহ.)-এর জীবনের এই শিক্ষা আমাদের একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়—

“আল্লাহ আমাকে কী দিয়েছেন?”

আমরা হয়তো উত্তর দেব—অর্থ, পরিবার, জ্ঞান, সময়, স্বাস্থ্য, প্রতিভা, সুযোগ।

কিন্তু এরপর আরও একটি প্রশ্ন করতে হবে—

“আল্লাহ যা দিয়েছেন, আমি তা কী কাজে ব্যবহার করছি?”

আমার টাকা কি শুধু আমার বিলাসিতার জন্য, নাকি কোনো অসহায় মানুষের মুখেও হাসি আনছে?
আমার জ্ঞান কি শুধু নিজের অহংকার বাড়াচ্ছে, নাকি কাউকে উপকার করছে?
আমার সময় কি শুধু বিনোদনে চলে যাচ্ছে, নাকি আল্লাহর জন্যও সময় রাখছি?
আমার শক্তি কি দুর্বলকে দমন করছে, নাকি দুর্বলের পাশে দাঁড়াচ্ছে?
আমার জিহ্বা কি মানুষকে আহত করছে, নাকি ভালো কথা বলছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বলে দেবে—আমরা নেয়ামতের মালিকানা দাবি করছি, নাকি নেয়ামতের আমানতদার হওয়ার চেষ্টা করছি।

লোকমান (রহ.)-এর হিকমতের সবচেয়ে সুন্দর শিক্ষা তাই হতে পারে—নেয়ামত পেয়ে নিজেকে বড় মনে করো না; বরং নেয়ামতদাতাকে চিনে আরও বিনয়ী হয়ে যাও।

কারণ মানুষ যখন নিজের কৃতিত্ব দেখতে দেখতে আল্লাহর দান ভুলে যায়, তখন নেয়ামত তার জন্য অহংকারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর যখন মানুষ নিজের সামর্থ্যের পেছনে আল্লাহর অনুগ্রহ দেখতে পায়, তখন সেই নেয়ামতই তার জন্য শুকরিয়া, বিনয় এবং আল্লাহর নৈকট্যের পথ হয়ে ওঠে।

আল্লাহ আমাদের এমন হৃদয় দান করুন, যে হৃদয় নেয়ামত পেলে অহংকার না করে শুকরিয়া আদায় করে, বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে এবং জ্ঞান পেলে নিজেকে বড় না ভেবে আল্লাহর সামনে আরও বিনয়ী হয়ে যায়। আমিন।
#purestoryhub