৩,

তার শানে মিলাদ এবং বেসাল শরীফ গ্রহণ করেছেন। এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন, প্রতিদিনেই উনার প্রতি আল্লাহ পাকের তরফ থেকে সালাম, রহমত, বরকত সাকিম ইত্যাদি।
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এটা কিন্তু মিলাদুন্নবী (সা.) এর তারিখে যেমন হয়েছে, বেসাল শরীফেও হয়েছে। এটার কোন পার্থক্য নাই। আবার ঠিক একইভাবে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শানে কোরআন শরীফে আল্লাহ বলেছেন:
> وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
(আসসালামু আলাইইয়া ইয়াওমা উলিতু ওয়া ইয়াওমা আমুতু ওয়া ইয়াওমা হাইয়ান)
এটা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম বলতেছেন:
> وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا
(আসসালামু আলাইইয়া ইয়াওমা উলিতু ওয়া ইয়াওমা আমুতু ওয়া ইয়াওমা হাইয়ান)
উনার প্রতি সালাম, রহমত ও সাকিনা।
> يَوْمَ وُلِدْتُ
(ইয়াওমা উলিতু)
যেদিন আমি মিলাদ শরীফ গ্রহণ করেছি,
> وَيَوْمَ أَمُوتُ
(ইয়াওমা আমুতু)
যেদিন আমি দিদার মরবো আমি যাব এবং যেদিন আমি পুনরুত্থিত হব, প্রতিদিন ই আমার প্রতি সালাম, শান্তি, রহমত, বরকত—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অর্থাৎ নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম বা যারা হযরত আহলে বায়াত শরীফ আলাইহিমুস সালাম অথবা সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহু বা আওলিয়ায়ে কেরাম উনাদের মিলাদ শরীফ ও বেসাল শরীফ দুই দিনই রহমত বর্ষিত হয়ে থাকে—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
সেজন্য এটা পালন করাতে কোনো ত্রুটি নাই। এটা বরং রহমত, বরকত, সাকিনা হাসিলের একটা কারণ—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আর সেগুলো হচ্ছে আইয়ামুল্লাহ শরীফ অন্তর্ভুক্ত। আইয়ামুল্লাহ অর্থ হচ্ছে আল্লাহ পাকের দিন। আল্লাহ পাক তো সারা বছরই আল্লাহ পাকের দিন। অর্থাৎ বিশেষ দিন, যে বিশেষভাবে রহমত বর্ষিত সেই দিন—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
এটা একটা। এরপর বলা হচ্ছে যে, পালন না করলে একটা তো বলেছি শুকুর যদি না করলে সে জাহান্নামে যাবে ঠিকই আছে। আবার আরেকটা বিষয় রয়ে গেছে। সেটা হলো হযরত রূহুল্লাহ হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে বলা হয়, উনার উম্মতরা একবার বললো যে হে আমাদের রাসূল আলাইহিস সালাম আপনি দয়া করে আমাদের জন্য একটা মোজেজা শরীফ দেখান, একটা মোজেজা শরীফ। উনি তো হাজার হাজার মোজেজা দেখাইছেন। তারপরেও উনি বললেন যে দেখো এটা তো চরম বেয়াদবি। কোন উম্মতের পক্ষ থেকে নবী-রাসূল আলাইহিস সালামের কাছে মোজেজা দেখতে চাওয়াটা বেয়াদবি। কিন্তু সে উম্মত নাফরমান বান্দা, কিন্তু চরম বেয়াদব আসরের মধ্যে যে আমাদের দেখাইতেই হবে। ঠিক আছে, তোমরা কি দেখতে চাও?
তখন তারা বললো তাহলে আপনি আকাশ থেকে একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল করান। আল্লাহ পাককে বলে আকাশ থেকে একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল করান তাইলে আমাদের ইকিনটা বৃদ্ধি হবে।
এখন—
> أَنْزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ وَارْزُقْنَا وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
(আনজিল আলাইনা মায়েদাতাম মিনাস সামা তাকুনু লানা ইদাল লি আওলিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা ওয়ারযুকনা ওয়া আন্তা খইরুর রযিকিন)
আল্লাহ পাক কোরআন শরীফে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ পাক স্মরণ করেন:
> وَقَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ
(ওয়া কালা ঈসা ইবনু মারিয়াম)
উনি বলছেন কি?
> اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنْزِلْ عَلَيْنَا
(আল্লাহুম্মা রব্বানা আনজিল আলাইনা)
হে আল্লাহ পাক! আমাদের রব তারা আমাদের জন্য নাযিল করুন—
> مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ
(মায়েদাতাম মিনাস সামা)
খাদ্যসহ একটা খানচা আসমান থেকে নাযিল করেন। তাইলে কি হবে?
> تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ
(তাকুনু লানা ইদাল লি আওলিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা)
তাহলে সেই দিনটা আমাদের জন্য ঈদের দিন হবে আল্লাহ পাক। আমার এবং পরবর্তী যারা আসবে, পূর্ববর্তী পরবর্তী সকলের জন্য সেটা ঈদের দিন হবে। আপনি দয়া করে একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল করুন।
> لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ
(লি আওলিনা ওয়া আখিরিনা ওয়া আয়াতাম মিনকা)
আপনার তরফ থেকে একটা নিদর্শন মোবারক হবে।
> وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ
(ওয়া আন্তা খইরুর রযিকিন)
আপনি উত্তম রিযিকদাতা।
উনি দোয়া করলেন, তা একজন জলিলুল কদর রাসূলের দোয়া করলে তো অবশ্যই সেটা হবে, নাযিল হবে, কবুল হবে। তখন যিনি খালিক যিনি মালিক, তিনি বলেন সেটা উল্লেখ করছেন।
> قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ
(কালাল্লাহু ইন্নি মুনযিলু আলাইকুম)
এখানে যিনি খালিক যিনি মালিক বললেন, ঠিক আছে। আপনার উম্মতরা তো দেখতে চেয়েছে, আপনি দোয়া করেছেন, ঠিক আছে।
> قَالَ اللَّهُ إِنِّي مُنَزِّلُهَا عَلَيْكُمْ
(কালাল্লাহু ইন্নি মুনযিলু আলাইকুম)
অবশ্যই আমি নাযিল করব তবে—
> فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ
(ফামান ইয়াকফুর বা’দু মিনকুম ফাইন্নী উআযিবু আযাবান লা উআযিবু আহদাম মিনাল আলামিন)
আল্লাহ পাক বললেন, হে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম আমি নাযিল করব, তবে এটা আপনাদের এই যে বলে দেন উম্মতদের সেটা কি?
আল্লাহ পাক বলে দিচ্ছেন যে আমি নাযিল করতেছি। তো নাযিল হওয়ার পরে যদি উম্মতরা চুপি রাখে, হেওকাল করে, এই দিন কি ঈদ পালন না করে, তাহলে কি হবে?
সেটা বলে দিচ্ছেন—
> فَمَنْ يَكْفُرْ بَعْدُ مِنْكُمْ فَإِنِّي أُعَذِّبُهُ عَذَابًا لَا أُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ
(ফামান ইয়াকফুর বা’দু মিনকুম ফাইন্নী উআযিবুহু আযাবান লা উআযিবু আহদাম মিনাল আলামিন)
যদি তারা চুপি রাখে, হেওকাল করে, এই দিনটা, ঈদের দিন হিসেবে পালন না করে, তাহলে এমন শাস্তি আমি তাদেরকে দিব, সৃষ্টির কাউকে এমন শাস্তি দেইনি, নাউজুবিল্লাহ!
আল্লাহ পাক নিজেই কোন সে উল্লেখ করলেন। আল্লাহ পাক নিজেই উল্লেখ করলেন যে, এমন শাস্তি আমি তাদেরকে দিব যারা ঈদের দিন হিসেবে পালন করবে না।
এখানে ফিকিরের বিষয়। একটা খাদ্যসহ খানচা নাযিল হবে, সেটাই ঈদের দিন পালন করতে হবে, না করলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।
তো এখন এটা তো আল্লাহ পাক ঠিকই না কিন্তু পরবর্তী দেখা গেছে হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহুদের জীবনে অথবা আওলিয়ায়ে কেরাম, অনেকের কাছে খাদ্যসহ খানচা নাযিল হইছে—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এখন খাদ্যসহ খানচা নাযিল হলো, সেজন্য ঈদের দিন করতে হবে না করলে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। তাহলে যে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি তা সমানলেন। উনার যে আইয়ামুল উসু আখেরি চার সম্মান, সেটা পালন না করলে কী হবে?
এদের তো ফিকির করতে হবে, সে কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে। এটা ফিকিরের বিষয়। এক নাম্বার গেল।
এরপরে বলা হচ্ছে, হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিষয়। হাদিস শরীফ হয়ে গেছে। আন হযরত ইবনে আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু।
> أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا فَنَحْنُ نَصُومُهُ
(আন্না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদিমা মাদিনাতা ফাজাল ইয়াহুদা সিয়ামা ইয়াওমা আশুরা ফাকালা লাহুম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা হাজাল ইয়ুমা লাযি তাসুমুনাহু কালু হাজা ইয়াওমুন আজিম আনযাল্লাহু ফিহি মুসা আলাইহিস সালাম কওমাহু ওয়া গাররা ফিরাউনা কওমাহু ফাসামাজাল মুসা আলাইহিস সালাম শুকরান ফানহানুসুমুহু)
হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মদিনা শরীফ তাশরিফ নিলেন। তখন সেখানে যেয়ে দেখতে পেলেন, ইহুদিরা আশুরা শরীফে রোজা রাখে। এখন এটা কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জানেন সবটাই। এখন উম্মতকে নসিহত করার জন্য তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন—
> فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ
(ফাকালা লাহুম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা হাজাল ইয়ুমা লাযি তাসুমুনাহু)
এই দিন তোমরা কেন রোজা রাখো, ইহুদি কওম?
তোমরা এই দিন কেন রোজা রাখো?
> فَقَالُوا هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ
(ফাকালা হাজা ইয়াওমুন আজিম)
ইহুদিরা বলতেছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ, ইয়া হাবিবাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা একটা মহান দিন। মহান দিন। কেন?
এটা মহান দিন হিসেবে কী করি?
> أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ وَغَرَّ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ
(আনযাল্লাহু ফিহি মুসা আলাইহিস সালাম কওমাহু ওয়া গাররা ফিরাউনা কওমাহু)
যে আল্লাহ পাক হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে উনাকে, উনার কওমসহ, মুকতাদি মানুষ ৬ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ কওমসহ সবাইকে এই দিনে লোহিত সাগর পার করে নিয়েছেন। এবং একই দিনে ফেরাউনকে তার বাদশাহ ১২ লক্ষ থেকে ২৪ লক্ষ ফেরাউনের যারা দলবল, তাদেরকে ওই লোহিত সাগরে ডুবিয়ে হত্যা করেছেন—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এইজন্য—
> فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا
(ফাসামাজাল মুসা আলাইহিস সালাম শুকরান)
এইজন্য হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি শুকরানাস্বরূপ কারণ নিয়ামত লাভ করলে তো শুকুর গুজার করতে হয়। তিনি শুকুরানা স্বরূপ এই দিন রোজা রেখেছেন।
> فَنَحْنُ نَصُومُهُ
(ফানহানুসুমুহু)
সেই জন্য আমরাও উনার অনুসরণ উম্মত হিসেবে আমরাও আশুরার দিন রোজা রাখি, এটা তারা বলল।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটার গুরুত্বটা বোঝানোর জন্য তিনি বললেন, হে হযরত ইহুদি কওম—
> نَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ
(নাহনু আহাক্কু আউলা বিহ্যা হযরত মুসা মিনকুম)
যে তোমাদের থেকে তো আমার হক বেশি। কারণ উনি আমার সর্দি উম্মত।
> فَصَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ
(ফাসামো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আমার বিসিয়ামি)
তখন নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে রোজা রাখলেন, হযরত সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুমকে রোজা রাখতে বললেন।
ইহুদিরা একটা রোজা রাখে বলেন তোমরা উম্মতরা যেন দুইটা রোজা রাখে, তার মিল না রাখে। কিন্তু এই দিনটা তিনি পালন করতে হবে এটা নিয়ে তালিম দিলেন—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
তো হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি হাজার হাজার বছর আগে নূহী পাড় হইছেন। উনার উনি রোজা রেখেছেন, উনার উম্মতরা রেখেছে, ঠিকই আছে।
তাই যদি তে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি রোজা রাখবেন কেন? কি কারণে?
উনি কেন রাখবেন?
আর রাখতে কেন বলবেন?
এটা হচ্ছে তালিম দিচ্ছেন যে একজন নবী-রাসূল উনাদের কোনো বিশেষ অকিয়া, কোনো আইয়ামুল্লাহ শরীফটা উম্মতকে পালন করতে হয়। তালিমটা দিলেন।
তাহলে উনারটা যদি পালন করতে হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতর তো পালন করতে হবে।
আবার আশুরা শরীফে তো অনেক ফজিলত আমরা বলেছি। অনেক ফজিলত। আশুরার দিনে যদি কেউ ভালো খাদ্য খায়, এক বছর বেশি সচ্ছলতা লাভ করে, সুস্থতা লাভ করে, সুরমা দিলে এবং গোসল করা—অনেক ফজিলত।
এটা যদি অনেক কারণ, তারপরেও হযরত কালিমুল ইসলামটা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এটা যদি এরকম যদি হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খতামুন নাবিয়্যীন হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মান তাহলে উনার সংশ্লিষ্ট দিবসগুলি, আখেরি চার সুম্বা শরীফ, ১২ই রবিউল আউয়াল ইত্যাদি ইত্যাদি, তাহলে কত ফজিলত হবে—
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
(সুবহানাল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এটা গেল একটা। এরপর আরেকটা বলা হচ্ছে, হযরত আবুল বাশার সফিআল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিষয়।
অন হযরত আবি ওমার ইবনে আবদিল মুনযির রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু কালা কালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্না ইয়াওমাল জুমুআতি সাইয়্যিদুল আইয়াম ওয়াজুমু ইদাল্লাহ ওয়াহু আওয়া ইম্মিল আদল ফিতরি ফি খামসু খিলাল খালাকাল্লাহু ফি হযরত আদম আলাইহিস সালাম আহমাদ আলাইহিস সালাম আহবাতাল্লাহু ফি হযরত আদম আলাইহিস সালাম মিনাল আরদ্ব ফিহে তাওয়াফাল্লাহু হযরত আদম আলাইহিস সালাম ফি সাআতুন ফিতাকুমু সাআআপনার দেওয়া অংশটির আরবি ইবারত নিচে দেওয়া হলো:
عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ، وَأَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى، وَفِيهِ خَمْسُ خِلَالٍ: خَلَقَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ، وَأَهْبَطَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ إِلَى الْأَرْضِ، وَفِيهِ تَوَفَّى اللَّهُ آدَمَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا عَبْدٌ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ".
এখানে হযরত আবু রবি ইবনে আবদিল মুনযির একজন বিশিষ্ট সাহাবী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু তিনি বর্ণনা করতেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সব করলেন—
> إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ
(ইন্না ইয়াওমাল জুমুআতি সাইয়্যিদুল আইয়াম)
নিশ্চয়ই জুমার দিন হচ্ছে দ্বিনের সাইয়্যেদ।
> إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الْأَيَّامِ
(ইন্না ইয়াওমাল জুমুআতি সাইয়্যিদুল আইয়াম)
জুমার দিন হচ্ছে দ্বিনের সাইয়্যেদ।
> وَأَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ
(ওয়া আজমু ইদাল্লাহ ওয়াহু আজমু ইদাল্লাহ মিনাল আদল ফিতরি)
এবং যিনি খালিক, যিনি মালিক রব, উনার একটা মহান দিন।
> وَأَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ
(ওয়াহু আজমু ইদাল্লাহ মিনাল আদল ফিতরি)
এই জুমার দিনটা, যিনি খালিক

২,
আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বানির রাজীম।
এটি একটি গোমরাহিমূলক বক্তব্য। এখানে বলা হচ্ছে, যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমত, তিনি ইরশাদ করেছেন আমার হাবীব, মাহবুব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি সমস্ত সৃষ্টিকে আইয়্যামুল্লাহ শরীফ সম্পর্কে ইলমে মোবারক দান করুন—'ওয়াজাক্কিরহুম বিআইয়্যামিল্লাহ'।
কেন দান করতে হবে? তার তো অনেক অসংখ্য অগণিত কারণ। তার একটা হচ্ছে—
> إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ
(নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শনাবলী)
রহমত, বরকত, সাকিনাহ, মাগফিরাত ইত্যাদি সবকিছুই রয়েছে।
> لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ
> (প্রত্যেক ধৈর্যশীল এবং শুকরগুজার বান্দা-বান্দীদের জন্য)
অর্থাৎ, যে সমস্ত বান্দা-বান্দীরা ধৈর্য ধারণ করে এ আইয়্যামুল হাশর পালন করবে এবং পালন করার পরে সে যে পালন করতে পারল, সেজন্য সে যদি শুকরগুজারি করে, তাহলে তার জন্য এখানে সমস্ত রহমত, বরকত, সাকিনাহ, মাগফিরাত সব রয়েছে।
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
> (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী)
>
এখানে আইয়্যামুল হাশর পালন করতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। করে দৃঢ়তার সাথে পালন কর। পালন করতে পারলে শুকরগুজারি করতে হবে। কারণ হচ্ছে—
> إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
> (নিশ্চয়ই খালিক, মালিক, রহমান আল্লাহ তিনি যারা ধৈর্যশীল, তাদের সাথে রয়েছেন)
>
আবার শুকরগুজারি সম্পর্কে বলা হচ্ছে, একখানা অংশ হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
> مَنْ لَمْ يَشْكُرِ النَّاسَ لَمْ يَشْكُرِ اللَّهَ
> (যে মানুষের শুকরগুজারি করতে পারে না, সে খালিক, মালিক, রহমান আল্লাহ উনার শুকরগুজারি করতে পারে না)
>
নাউযুবিল্লাহ! এখন কোনো মানুষ কারও উপকার করলে তার শুকরগুজারি করাটা, এটাও কিন্তু আদেশ মোবারক রয়েছে।
এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সম্মানার্থে আমরা এই সমস্ত নেয়ামত লাভ করেছি।
> سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
> (সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী)
>
তাহলে এই আইয়্যামুল হাশর পালন করতে হবে, ধৈর্য্যের অন্তরে পালন করার পরে শুকরগুজারি করতে হবে। আর শুকরগুজারি না করলে কঠিন বিপদ।
কারণ কালামুল্লাহ শরীফে যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমান তিনি বলেন—
> وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ
> (স্মরণ কর, যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিচ্ছেন)
>
এখানে যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমান তিনি নিজে ইরশাদ মোবারক করেন যে, তোমাদের যিনি রব তা’আলা, যিনি খালিক, যিনি মালিক, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ঘোষণা দিচ্ছেন— যপদি তোমরা নেয়ামত লাভ কর, শুকরগুজারি কর—
> لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
> (যদি তোমরা শুকরগুজারি কর, তবে অবশ্যই আমি নেয়ামত বৃদ্ধি করে দিব। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী! আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নাশোকরি কর, তবে নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন, অর্থাৎ তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দিব)
>
নাউযুবিল্লাহ! কত শাস্তি দিবেন? এটাও কিন্তু কোরআন শরীফে ইরশাদ মোবারক করা হয়েছে।
যিনি খালিক, যিনি মালিক, রহমান তিনি বলেন—
> إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِنَا سَوْفَ نُصْلِيهِمْ نَارًا
> (নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করবে, অচিরেই আমি তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব)
>
নাউযুবিল্লাহ! কেমন?
> كُلَّمَا نَضِجَتْ جُلُودُهُمْ بَدَّلْنَاهُمْ جُلُودًا غَيْرَهَا لِيَذُوقُوا الْعَذَابَ
> (তাদের চামড়া যখনই জ্বলে যাবে, আমি তা বদলে দেব অন্য চামড়া দ্বারা, যেন তারা আজাব আস্বাদন করতে পারে)
>
তাদের তো জাহান্নামে প্রবেশ করাব, করানোর পরে আগুন দিয়ে তাদেরকে পোড়াব। এই পোড়ানোর জন্য, যখন পোড়ানো হবে, তাদের চামড়া যখন জ্বলে যাবে, আমি চামড়া পাল্টে আবার নতুন চামড়া দেব। আবার সেটাকে পোড়াব, যেন আজাবটা, এই শাস্তিটা—পুরোপুরি তাদের জন্য জারি হয়।
> إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَزِيزًا حَكِيمًا
> (নিশ্চয়ই খালিক, যিনি মালিক, রহমান আল্লাহ পাক তিনি পরাক্রমশীল এবং বিজ্ঞ মহাজ্ঞানী ইত্যাদি)
>
এখন কতটুকু শাস্তি দেবেন? এটার ব্যাখ্যায় বলা হয়, ওই যে বলা হচ্ছে—'কুল্লামা নাদিজাত জুলুদুহুম', চামড়া পুড়ে যাবে। বলা হচ্ছে, প্রতি ঘণ্টায় সত্তর হাজার বার চামড়াটাকে বন্দনা, পোড়ানো হবে।
নাউযুবিল্লাহ! এখন এটা হচ্ছে ভাষাগত সত্তর হাজার বার। এর চেয়ে কত লক্ষ-কোটি বার যে হবে, সেটার কোনো হিসাব নেই। নাউযুবিল্লাহ! যারা এই নিদর্শনসমূহ পালন করবে না, অস্বীকার করবে।
এখন এই আইয়্যামুল্লাহ শরীফ নিদর্শন মোবারক। পালন করার উম্মতের জন্য আম্বিয়ায়ে সুন্নত, খাস এটা ফরজ। কারণ এই আইয়্যামুল্লাহ শরীফ পালন করলে সে রহমত, বরকত, সাকিনাহ, মাগফিরাত, দয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস লাভ করবে। আর যদি সে এটাকে অস্বীকার করে, তবে সে শাস্তির সম্মুখীন হবে।
নাউযুবিল্লাহ! আর শাস্তি থেকে তো বেঁচে থাকাটা ফরজ। সেই হিসেবে এটা ফরজ। এটা ফিকিরের বিষয়।
এখন আইয়্যামুল্লাহ শরীফ—আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ। এর মূল বিষয় তো অকেয়া একটা, সেটাই আমি আগে বলব, এর পরে এর খুসুসী ওয়াক্তটা বলব।
আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ—এর খুসুসী হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়ীন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বিদায় হজ মোবারক করেন দশ হিজরীতে। হজ ফরজ হয়েছে নবম হিজরীতে। যখন নবম হিজরীতে হজ ফরজ হলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আফযালুন্নাস বাদাল আম্বিয়া হযরত সিদ্দিকে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে আমীরুল হজ করে পাঠালেন হজটা সম্পন্ন করার জন্য, সবকিছু তর্তীব বলে দিলেন।
উনি যাওয়ার পরে কিছু নতুন হুকুম জারি হলো, ওহী মোবারক নাযিল হলো, সেটা আবার পরবর্তীতে হযরত ইমামুল আউয়াল আলাইহিস সালাম উনাকে সেই সমস্ত হুকুম-আহকাম মোবারকসহ উনাকে আবার পাঠালেন সেখানে। সেই বৎসর আমীরুল হজ হযরত আফযালুন্নাস বাদাল আম্বিয়া সিদ্দিকে আকবর উনি হজটা সম্পন্ন করেছেন সবাইকে নিয়ে।
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবীয়ীন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মোবারক করলেন, হজ তো উম্মতদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। সেজন্য তিনি দশ হিজরী শরীফে হজ মোবারক সম্পন্ন করবেন।
সুবহানাল্লাহ! তিনি যখন বলেন—'সল্লু কামা রায়তুমুউসসাল্লী' (তোমরা যেভাবে নামাজ পড়েছ, তোমরা সেভাবে নামাজ পড়ো দেখে দেখে)। ঠিক আমি যেভাবে হজ মোবারক করব, আপনারা সেভাবে হজ মোবারক করবেন। সেজন্য তিনি হিজরী শরীফে হজ মোবারক করার জন্য রওনা হলেন, সেটা হচ্ছে—যিলক্বদ শরীফ মাসের, যিলক্বদ শরীফ মাসের পঁচিশ তারিখে। পঁচিশ তারিখে তিনি মদীনা শরীফ থেকে মক্কা শরীফ তাশরিফ নেওয়ার জন্য বের হলেন। দশ দিন সময় ব্যয় হলো মক্কা শরীফে পৌঁছলেন, এখানে পাঁচ তারিখ।
সেখান থেকে পনেরো তারিখ, দশ দিন হজ সম্পন্ন করলেন। হজের কাজগুলি মূলত সাত তারিখ থেকে শুরু হয়, তেরো তারিখ পর্যন্ত মূল। তো সম্পন্ন করে, তিনি আবার পনেরো তারিখে রওনা দিলেন মক্কা শরীফ থেকে মদীনা শরীফ।
এখানে এসে পৌঁছলেন আবার পঁচিশ তারিখে, মোট এক মাস সময়। এখানে কতগুলো বিষয় রয়ে গেছে, সেটা হলো—এই আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ এটা বারোই শরীফের সম্পর্ক আছে।
অর্থাৎ, এখানে এই ওলামায়ে সূহ খারিজে এদের সমস্ত কিতাবে অনেক কুফরী এবং ভুল বক্তব্য আছে। এরা কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার যে বিষয়টা—এই বারোই শরীফ, উনার যে তিনি যে দিদার মোবারক তাশরিফ নিলেন, এটা নিয়ে তারা চুউ-চারা কি লোকাল? কেউ দুই তারিখ, আট তারিখ, নয় তারিখ, তেরো তারিখ—অনেক কিছু বলে। আসলে গণ্য মূর্খ।
মূর্খ এইজন্য—এরা কিন্তু চাঁদের বিষয়টা জানে না। অধিকাংশ কথিত আলেম যারা, আবার অনেকে যারা কিতাবাদি রচনা করছে, এরা কিন্তু চাঁদের বিষয়টা জানেই না।
এখানে সমস্যাটা হচ্ছে—যে ইওমে আরাফা, অর্থাৎ আরাফাত হলো নবম তারিখ, ছিল জুমার দিন। এটা খুব ফিকিরের বিষয়, মনোযোগ দিয়ে শুনবেন।
ইওমে আরা হচ্ছে জুমার দিন। তো জুমার দিন যদি ইওমে আরাফা হয়, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনামী যে বারোই শরীফ দ্বীনের তাসরিফ নিয়ে, এটা কোনদিন মিলবে না, কেয়ামত পর্যন্ত মিলবে না। এইজন্য তারা মিলাইতে পারে নাই।
তারা দুই তারিখ, আট তারিখ, নয় তারিখ, চার বলছে। শেষে বলেছে বারো তারিখ হলো মশুর। আসলে মশুর না, বারো তারিখ হলো সহীহ। এরা তা জানে না, সেটা হলো—চারটা যে উঠেছিল, মক্কা শরীফে চাঁদ দেখা গিয়েছিল, মদীনা শরীফে চাঁদ দেখা যায় নাই। যার কারণে একদিন তারা আগে গেছে, সেজন্য মক্কা শরীফের নয় তারিখে হলো জুমার দিন হয়ে গেছে। আর মদীনা শরীফে কিন্তু সেটা না।
মদীনা শরীফে যিলক্বদ শরীফ, যিলহজ্জ শরীফ, মহররম হারাম শরীফ এবং সফর শরীফ—এই চার মাস একাধারে ত্রিশ দিন হয়েছে। একাধারে ত্রিশ দিন।
সেজন্য আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ ইওমে আরবিয়া বুধবার। বুধবার যদি ত্রিশ তারিখ হয়, তাহলে এক তারিখ খমিছ, জুন তো এক তারিখ, আট তারিখ খমিছ। নয় তারিখ জুমা, দশ তারিখ সাত, এগারো, বারো, ইসনাইন, বারো। এটা বারো তারিখ হয়।
এটা সেটা মিলাইতে পারে নাই যে, তাদের ইওমে আরাফা নয় তারিখ, তারা হিসাব করে নয় তারিখ ধরে। নয় তারিখ ধরলে কোনদিন কেয়ামত পর্যন্ত মিলবে না। যতই হিসাবই করুক, এইজন্য তারা মিলাইতে পারে না, তার তো জানে না। তো চারটা যে দেখা যায়নি, মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফ একদিন পার্থক্য হয়ে গেছে।
যার কারণে এই বিষয়টা এরা মিলাইতে পারে নাই। এইজন্য মদীনা শরীফে একাধারে চারটা মাস ত্রিশ দিন হয়েছে—যিলক্বদ শরীফ, যিলহজ্জ শরীফ, মহররম হারাম শরীফ এবং সফর শরীফ মাস।
এটা একটা বিষয়। আর হচ্ছে—যে আখিরী চার সোমওয়ার শরীফ। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি যখন হজ মোবারক সম্পন্ন করে মদীনা শরীফ তাশরিফ আনলেন, এখানে আবার আরেকটা বিষয় আছে। এটা শিয়ারা পালন করে 'গাদীরে খুম', গাদীরে খুম।
গাদীরে খুম হচ্ছে—মক্কা শরীফ, মদীনা শরীফের মাঝামাঝি, বিশেষ করে মক্কা শরীফের কাছাকাছি একটা স্থান, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুদবা মোবারক দিয়েছিলেন। হযরত আহলে বাইত শরীফ উনাদের ফজিলত বর্ণনা করেছিলেন।
'উয়াজাকুকুমুল্লাহ ফি আহলে বাইতী, উয়াজাকুমিকুম ফি আহলে বাইতী, উয়াজাকুমিকুম ফি আহলে বাইতী।' নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বা হাদিস শরীফে শেষে বললেন, 'আমি আপনাদেরকে সাবধান করে দিচ্ছি, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ সম্পর্কে আপনারা আল্লাহপাককে ভয় করবেন।'
একবার, দুইবার, তিনবার—এখানে নসিহত করেছেন।

ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
৩১। শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবার খেলাফ কোন কাজ-কর্ম, কথা-বার্তা, আচার-আচরণ কিংবা অন্য কোন বিরুপ মন্তব্য করবে না।



কেননা তা ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিলের ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। কোন কোন ক্ষেত্রে ঈমান ও আমল বিনষ্টের কারণও বটে। যেমনিভাবে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বেলায় ঈমান ধ্বংসের কারণ তথা কুফরী এবং মুনাফিকীর অন্তর্ভুক্ত।

সীরতে ইবনে হিশামসহ অন্যান্য সীরাত গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে যে, ৯ম হিজরীতে তাবুকের জিহাদ সংঘটিত হয়। এ জিহাদে যাওয়ার পথে এক স্থানে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উটনী হারিয়ে যায়। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উটনীটি খুঁজতে বের হলেন। এ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হযরত উমারাহ ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উপস্থিত ছিলেন।

যিনি আকাবার বাইয়াত ও বদর জিহাদে অংশগ্রহণকারীগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন বনু আমরের বিশিষ্ট ও প্রবীণ ব্যক্তি। আর উনার দলের ভিতরেই যায়িদ ইবনে লুছাইত নামক বনু কাইনুকা গোত্রের জনৈক মুনাফিক ছিলো। যে ছিলো ছাহাবীর ছদ্মাবরণে মুনাফিক সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই এর সমমনা। অথচ সাইয়্যিদুনা হযরত উমারাহ ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তা জানতেন না।

হযরত উমারাহ ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে উপস্থিত ছিলেন। মুনাফিক যায়িদ ইবনে লুছাইত সেখানে ছিলো না। সে ছিলো সাইয়্যিদুনা হযরত উমারাহ ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্প্রদায়ের নিকট। মুনাফিক যায়িদ ইবনে লুছাইত বললো, “আচ্ছা, মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো দাবী করেন যে, তিনি মহাসম্মানিত নবী ও রসূল। তিনি তোমাদেরকে আকাশের খবর জানান। কিন্তু তিনি এতটুকু জানেন না যে, উনার উটনীটি কোথায়?” নাঊযুবিল্লাহ!

ঠিক সেই মুহূর্তে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উমারাহ ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপস্থিতিতেই বললেন, “একজন লোক বলতেছে যে, আমি নিজেকে সম্মানিত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে দাবি করে থাকি এবং তোমাদেরকে আকাশের খবরাদি জানিয়ে থাকি, কিন্তু আমি কেন আমার উটনীটি এখন কোথায় তা জানি না?”

মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে যা জানিয়েছেন আমি তাই জানি। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে উটনীর সন্ধান দিয়েছেন। এই উপত্যকার ভিতরেই তা অমুক জায়গায় রয়েছে। একটি গাছের সাথে তার লাগাম আটকে গেছে। আপনারা গিয়ে উটনীটিকে নিয়ে আসেন।” হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা গিয়ে উটটিকে নিয়ে আসলেন।

অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত উমারাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি উনার সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গেলেন। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এইমাত্র আমাদের কাছে এক বিস্ময়কর খবর জানালেন। আমাদের বাহিনীর মধ্যে কে নাকি এরূপ কথা বলেছে যা মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে জানিয়ে দিয়েছেন।”

তখন সাইয়্যিদুনা হযরত উমারাহ ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্প্রদায়ের একজন- যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যাননি। তিনি বললেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! যায়িদই এ কথা বলেছে।”

তখন সাইয়্যিদুনা হযরত উমারাহ ইবনে হাযম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু যায়িদের কাছে এগিয়ে গিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করে বললেন,“ হে মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা, আমার কাছে এসো। আমার কাফেলায় একটি সাপ লুকিয়ে আছে আমি তা জানতেও পারিনি। হে মহান আল্লাহ পাক উনার দুশমন, তুমি আমাদের কাফেলা থেকে বের হয়ে যাও। আমাদের সাথে থাকতে পারবে না।” (সীরাতে ইবনে হিশাম, আস-সীরাতুন নববিয়্যাহ, ২/৫২৩; তারীখে তাবারী, তারীখুর রুসুল ওয়াল মুলূক, ২/১৮৩-১৮৪; বাইহাকী শরীফ, দালায়িলুন নুবুওয়াহ, ৫/২৩১-২৩২)

উল্লেখ্য যে, মুনাফিক সরদার উবাই ইবনে সূলুল এবং যায়িদ ইবনে লুছাইতের মতো একদল লোক সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারকে বা সান্নিধ্যে ছিলো, যারা ছূরতান অনেক ভালো কাজ করেছে, বিভিন্ন যুদ্ধ-জিহাদে শরীক ছিলো তবুও হিদায়েতের আলো পায়নি। কারণ তাদের অন্তর ছিলো কুফরী ও নেফাকীতে ভরপুর। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ

অর্থ: “কখনও এরূপ নহে, বরং তাদের অন্তরসমূহে তাদের (গর্হিত) কার্যকলাপের দরুণ মরিচা ধরেছে।” (সূরা আল মুতাফ্ফিফীন/১৪)

তাদের সেই গর্হিত কার্যকলাপে লালিত কুফরী, শিরকী ও মুনাফিকীর কারণে চিরতরের জন্য তাদের অন্তরে মোহর পড়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক মোহর মেরে দিয়েছেন তাদের অন্তরসমূহের উপর ও তাদের কর্ণসমূহের উপর এবং তাদের চোখের উপর পর্দা রয়েছে। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” (পবিত্র সূরা বাকারা/৭) (অসমাপ্ত)



-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।

একদম বাস্তব সত্যি কথা

image

ইলমে তাছাওউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
, ২৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) ইলমে তাছাউফ
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার ব্যবহৃত কোন বস্ত্র কিংবা অন্য কোন দ্রব্য পেলে তা তাবারুক বা বরকতময় মনে করে তার যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করবে এবং ওজুসহকারে ব্যবহার করে তার হক আদায় করবে।



একবার মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খুশি হয়ে এক ব্যক্তিকে একটি জিনিস দান করেছিলেন। বস্তুটি তেমন মূল্যবান ছিলো না। তবুও অন্য এক ব্যক্তি উনার নিকট হতে তা অধিক মূল্যে ক্রয় করতে চাইলো। সেই ব্যক্তি বললো, “ভাই! আপনার ঐ জিনিসটি আমাকে দিন। আমি আপনাকে তার দ্বিগুণ মূল্য দিবো।” প্রথম ব্যক্তি বললো, “দ্বিগুণ কেন শতগুণ মূল্য দিলেও আমি তা কাউকে দিতে রাজী নই। আমার নিকট হতে ক্রয় করে আপনি যেমন বরকত লাভের আশা করেন, আমিও তেমনি তা দ্বারা বরকত হাছিল করতে চাই। সুতরাং দ্বিগুণ কেন শতগুণ, হাজার গুণ বেশী মূল্য দিলেও আমি তা হাত ছাড়া করবো না।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম বায়হাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রেওয়ায়েত হতে হযরত ইমাম রবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটি চিঠি দিয়ে আমাকে হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পাঠালেন। চিঠি নিয়ে আমি যখন উনার খিদমতে উপস্থিত হলাম তখন তিনি সবেমাত্র ফজরের নামায শেষ করলেন। যথারীতি সালাম-কালামের পর চিঠিটি আমি উনার হাতে সমর্পণ করলাম। হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তা হাতে নিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তাতে কি আছে, আপনি পড়ে দেখেছেন কি?” আমি বললাম, “না, আমি পড়িনি।”

হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তখন চিঠিটি খুলে পড়তে শুরু করলেন। পড়তে পড়তে উনার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। তা দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কি ব্যাপার, তাতে কি লেখা আছে?” হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন- আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে বলেছেন যে, “ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে আমার সালাম জানিয়ে বলবেন, অনতিবিলম্বে উনাকে খলকে কুরআনের মহাপরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে। এতে যদি তিনি সফলকাম হন তবে পুরস্কারস্বরূপ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ইলিম এর ছিলছিলাকে কিয়ামত পর্যন্ত জারী রাখবেন।

এ মহা সু-সংবাদ শুনে খুশির আবেগে হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজ শরীর মুবারক হতে উনার জামা মুবারক খুলে হযরত ইমাম রবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দিলেন এবং বললেন, “এটি ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে দিবেন আর বলবেন, আমি প্রস্তুত আছি। তিনি যেন আমার জন্য দোয়া করেন।”

জামা নিয়ে হযরত রবী রহমতুল্লাহি আলাইহি মিশর চলে আসলেন। যথা সময়ে তা তিনি হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার হাতে সমর্পণ করলেন। হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইমাম রবী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে লক্ষ্য করে বললেন, “জামাটি ভিজিয়ে তার একটু পানি আমাকে দিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি চান তো তাতেই আমার বরকত হবে।” সুবহানাল্লাহ!

৩০। মুর্শিদ কিবলা উনার সামনে উঁচু স্বরে কথা বলবে না। বরং আদব ও শিষ্টতার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিনয় ও নম্রতার সাথে কথা বলবে।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কণ্ঠস্বরের উপর তোমাদের কণ্ঠস্বরকে উঁচু করো না। এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উচুঁ স্বরে কথা বলো, উনার সাথে সেরূপ উচুঁ স্বরে কথা বলো না। এতে তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট হয়ে যাবে, যা তোমরা উপলব্ধি করতে পারবে না।” (সূরা হুজুরাত শরীফ/২)

উদ্ধৃত আয়াত শরীফ অবতীর্ণ হওয়ার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অবস্থার পরিবর্তন হলো। আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি আরজ করলেন, “ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ, ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! এখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আপনার সাথে অতি স্বল্প আওয়াজে কথা বলবো।” (বায়হাকী শরীফ)

খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এই আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার পর হতে এমন আস্তে আস্তে কথা বলতেন যে, প্রায়শই পুনঃরায় জিজ্ঞেস করতে হতো। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ শরীফ)

আর ছহিবে রসূলিল্লাহ, হযরত সাবিত ইবনে কায়েস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কণ্ঠস্বর স্বভাবতই উচুঁ ছিলো। অত্র আয়াত শরীফ শুনে তিনি ভয়ে সংযত হলেন এবং কণ্ঠস্বর নীচু করলেন। (তাফসীরে দুররে মানছূর)

আর এ সমস্ত ব্যক্তিবর্গের প্রতি খোশ খবরী প্রদান পূর্বক মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-

إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ أُولَئِكَ الَّذِينَ امْتَحَنَ اللَّهُ قُلُوبَهُمْ لِلتَّقْوَى لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ

অর্থ: “যারা মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নীচু করে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের অন্তরকে তাকওয়া বা পরহেজগারীর জন্য মনোনীত করেন। আর তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” (সূরা হুজুরাত/৩) (অসমাপ্ত)

-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪০)
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪০)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে খুশি হয়ে একখানা অনেক বড় মাক্বাম মুবারক হাদিয়া, যা পৃথিবীর ইতিহাসে আর কাউকে দেওয়া হয়নি:

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল খমীস (বৃহস্পতিবার) চতুর্থ তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খানকাহ্ শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি মুবারক নিচ্ছিলেন, তখন উনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আপনার কাছে আমি ৬/৭ দিরহাম রেখেছিলাম দান করে দেওয়ার জন্য- আপনি সেটা কি দান করে দিয়েছেন? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ততার কারণে দান করতে পারিনি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি দান করে দিন। তিনি দান করে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আমি চাই না যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাক্ষাৎ করি, আর আমার কাছে দুনিয়ার কিছু সম্পদ থাকুক। এটা আমার পছন্দ না। কাজেই আপনি দান করে দিন। তিনি দান করে দিলেন।

এখন উম্মতের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে- দুনিয়ার কোনো বস্তু ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি যেন তাকে হাক্বীক্বী নিসবত-কুরবত ও যিয়ারতে বাধা সৃষ্টি না করে। এখন কে কি করেছে আর কে কি করবে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের দেখার বিষয় হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

কাজেই সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। আর এই লক্ষ্যেই কিন্তু আমরা বলেছি যে, আমরা একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে আমাদের সব কিছু দিয়ে দিয়েছি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমরা সকলেই সব দিয়ে দিয়েছি। আমি যেমন দিয়েছি, তোমাদের আম্মা হুযূর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও দিয়েছেন, সকলেই দিয়েছেন। আমরা ঠিক ওইভাবে সাক্ষাৎ করতে চাই, যেভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন।

সেইজন্য প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ-এ খরচ করার জন্য বলা হয়েছে। আর এখন যে যত করবে, সে ততো পাবে।

যেমন- আরেকটা বিষয়, মাক্বামের কোনো অভাব নেই। তোমাদেরকে বলা হয়, তোমাদের বুঝার জন্য। তোমরা তোমাদের আক্বল-বুদ্ধি, সমঝ অনুযায়ী বুঝে থাকো। যেমন- আরেকটা বড় মাক্বাম। মানুষ তো মাক্বাম সম্পর্কে জানে না। আর কিতাবাদীতে সব মাক্বামের বর্ণনাও নেই। একটা বিশেষ মাক্বাম আছে। এটা গত ২৮শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার) আমাকে জানানো হলো, উনাদের তরফ থেকে একখানা সম্মানিত মাক্বাম মুবারক উনারা আমাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন। এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে তলব করার কারণে, উনাদেরকে হাছিলের কোশেশে মশগুল থাকার কারণে, আসল হচ্ছে উনারা খুশি হওয়ার কারণে, উনারা বললেন, একটা অনেক বড় মাক্বাম মুবারক আপনাকে হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে। এই মাক্বাম মুবারক পৃথিবীর ইতিহাসে আর কাউকে দেওয়া হয়নি। সেটা হচ্ছে- ‘আমি যদি সুপারিশ করি, তাহলে যে কোনো লোককে, পুরুষ হোক মহিলা হোক তাকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ সমগ্র পৃথিবীতে কেউ আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে আমার অনুমোদন প্রয়োজন অর্থাৎ আমার অনুমোদন ব্যতিত কেউ আহলু বাইত শরীফ উনাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।’ (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) কেন? উনারা সন্তুষ্ট হলেই তো উনারা দিবেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২রা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু’আহ্ শরীফ চতুর্থ তলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খানকাহ্ শরীফ-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আমরা তো গত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের পর ঘোষণা দিয়েছি। আসলে এটাতো অনন্তকালের জন্য জারী করেছি। তার মধ্যে বিশেষ মাহফিল ছিলো ৬৩ দিন। সেটা আমরা করেছি ৯০ দিন। যেটা আমি আগেও ঘোষণা দিয়েছি, গতকালও বলেছি। আমার, তোমাদের আম্মা হুযূর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ আমরা সকলেই আমাদের সমস্ত সময়, সমস্ত মাল, জান সবই আমরা হাদিয়া দিয়ে দিয়েছি। এতে যিনি খ্বালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি, যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি সেটা বলেছি, এই বৎসর ৮ই জুমাদাল ঊলা শরীফ (১৪৪৩ হিজরী শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ) আমি উনাদের প্রত্যেককেই অত্যন্ত সন্তুষ্টচিত্ত মুবারক, অত্যন্ত খুশি মুবারক অবস্থায় দেখতে পেয়েছি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

যিনি খ্বালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে আমি বলেছিলাম, আপনারা আমাদেরকে কিছু নিয়ামত দান করুন। তখন উনাদের তরফ থেকে বলা হয়েছিলো- নিয়ামত তো দেওয়া হচ্ছে, দেওয়া হবে। তবে সবচেয়ে বড় নিয়ামত মুবারক আমাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দীদার মুবারক সেটা তো দেওয়া হচ্ছে। আমি আর কিছু বললাম না, চুপ থাকলাম। এখানে আরো কিছু ঘটেছে, যেটা আমি ভাষা দিয়ে প্রকাশ করতে পারবো না, সেজন্য বলতে পারবো না।

তার পরবর্তী সময় যেটা ঘটলো, যেটা গতকাল আমি বলেছি, ২৮শে জুমাদাল ঊখরা শরীফ (১৪৪৩ হিজরী শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ অর্থাৎ মঙ্গলবার) উনারা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে আরো একটা বিশেষ মাক্বাম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। মাক্বামের তো কোনো শেষ নেই, নিয়ামতেরও কোনো শেষ নেই। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

মহান আল্লাহ পাক উনি দেওয়ার জন্য কোনো শর্ত খুঁজেন না। উনি দিলেই উপযুক্ত হয়ে যায়। কাউকে উপযুক্ত হিসাবে উনি দেন না, আবার উনি দিলেই উপযুুক্ত হয়ে যায়। উনারা যে মাক্বাম মুবারক আমাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন, সেটা অনেক বড় একটা মাক্বাম মুবারক। আমার ইখতিয়ার দিয়েছেন, আমি ইচ্ছা করলে যে কোনো লোককে সুপারিশ করলে, সে যেই হোক তাকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) অর্থাৎ একজন লোক হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হলে তার যতো ফযীলত, সবটাই সে লাভ করবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

গতকাল এই ঘটনা মুবারক বলেছি। বলার পর উনারা আরো সন্তুষ্ট হয়েছেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার মধ্যে মাল-জান, সময় সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আবূ আহমাদ ছিদ্দীক্বাহ্।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২০)
, ২৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৮ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৭ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বরকতময় জিবনী মুবারক
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক (২৩২০)
সম্মানিত গাযওয়াতুল হুদাইবিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ মুবারক:



সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মাঝে যে সমস্ত জিহাদ বা যুদ্ধ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসে প্রসিদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে তন্মধ্যে গাযওয়াতুল হুদায়বিয়া বা হুদায়বিয়ার জিহাদ অন্যতম। সুবহানাল্লাহ! একেصُلْحُ الْهُدَيْبِيَةِ বা হুদায়বিয়ার সন্ধিও বলা হয়।

৬ষ্ঠ হিজরীর ১লা যিলক্বদ শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সাথে নিয়ে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি রওয়ানা দেন। উনার সাথে ছিলেন চৌদ্দশত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম। উনাদের উদ্দেশ্য পবিত্র মক্কা শরীফ-এ পবিত্র উমরাহ পালন করা।

এই সময় কোষবদ্ধ তরবারী ব্যতীত উনাদের সাথে অন্য কোন অস্ত্র ছিলো না। কিন্তু পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অদূরে হুদায়বিয়াহ নামক স্থানে পৌঁছলে উনারা কুরাইশ কাফির মুশরিকদের বাধার সম্মুখীন হন। অবশেষে কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সাথে দশ বছরের জন্য সন্ধি বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফলে চুক্তির শর্তানুযায়ী উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফে ফিরে আসেন এবং পরের বছর পবিত্র উমরাহ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত জিহাদ উনার নামকরণ: ‘হুদায়বিয়াহ’ (الْحُدَيْبِيَة) একটি কূপের নাম। যা পবিত্র মক্কা শরীফ থেকে উত্তর-পশ্চিমে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি বর্তমানে ‘শুমাইসী’ (الشُمَيْسِى) নামে পরিচিত। এখানে হুদায়বিয়ার বাগিচাসমূহ এবং ‘রিদ্বওয়ান মসজিদ’ (مسجد الرِضْوَان) অবস্থিত। এই স্থানে অবস্থান করে কুরাইশ কাফির মুশরিকদের সাথে কিছু সময়ের জন্য জিহাদ সংঘঠিত হয় এবং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বিধায় সম্মানিত ‘হুদায়বিয়াহ’ (الْحُدَيْبِيَة) কূপের নাম অনুসারে এই জিহাদের নামকরণ করা হয় গাযওয়াতুল হুদায়বিয়া বা হুদায়বিয়ার জিহাদ।

সম্মানিত জিহাদের প্রেক্ষাপট: পবিত্র আরব উপদ্বীপের অবস্থা যখন মুসলমানদের অনুকূলে এসে গেলো তখন সম্মানিত দ্বীন ইসলামের দাওয়াতের কার্যকারিতা ও বৃহত্তর বিজয়ের বিভিন্ন নিদর্শন ধীরে ধীরে প্রকাশ লাভ করতে থাকে। কাফির মুশরিকরা ছয় বছর যাবৎ পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফে মুসলমানদের প্রবেশ বন্ধ করে রেখেছিলো।

মহাসম্মানিত মদীনা শরীফে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখলেন যে, তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে পবিত্র মাসজিদুল হারাম শরীফে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন এবং পবিত্র কা‘বা শরীফ উনার চাবি মুবারক গ্রহণ করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর পবিত্র কা’বা শরীফ তাওয়াফ করছেন এবং পবিত্র উমরাহ পালন করছেন। অতঃপর কিছু সংখ্যক ব্যক্তি মাথা মুন্ডন করেছেন এবং কিছু সংখ্যক মুসলমান চুল কর্তন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لَقَدۡ صَدَقَ اللّٰهُ رَسُوۡلَهُ الرُّءۡیَا بِالۡحَقِّ ۚ لَتَدۡخُلُنَّ الۡمَسۡجِدَ الۡحَرَامَ اِنۡ شَآءَ اللّٰهُ اٰمِنِیۡنَ ۙ مُحَلِّقِیۡنَ رُءُوۡسَکُمۡ وَ مُقَصِّرِیۡنَ ۙ لَا تَخَافُوۡنَ ؕ فَعَلِمَ مَا لَمۡ تَعۡلَمُوۡا فَجَعَلَ مِنۡ دُوۡنِ ذٰلِکَ فَتۡحًا قَرِیۡبًا.

অর্থ: ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সত্য স্বপ্ন মুবারক দেখিয়েছেন অর্থাৎ সম্মানিত ওহী মুবারক করেছেন। আর খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি চানতো আপনারা অবশ্যই পবিত্র মসজিদুল হারাম শরীফে নিরাপদে মস্তক মুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায় প্রবেশ করবেন এমনভাবে যে, আপনারা কাউকে ভয় করবেন না। অতঃপর তিনি যা জানেন, যা আপনারা জানেন না। অতঃপর তিনি আপনাদেরকে একটি নিকটবর্তী বিজয় দান করবেন’। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ: ২৭)

-আল্লামা সাইয়্যিদ শাবীব আহমদ।

ভারতে ইসলামবিদ্বেষ:
পশ্চিমবঙ্গে দুই দিনে ১,৫০০ মসজিদ থেকে আজানের মাইক অপসারণ
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) তাজা খবর

আল ইহসান ডেস্ক:

হিন্দুত্ববাদী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গত দুই দিনে প্রায় ১,৫০০টি মসজিদ থেকে আজানের মাইক অপসারণ করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনার সময় পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের উপর চাপ প্রয়োগ করে। তাদের পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বা মাইক খুলে ফেলতে এবং নির্ধারিত কথিত ‘শব্দবিধি’ কঠোরভাবে মেনে চলতে বল প্রয়োগ করে।

পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত 'শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০০০' অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দিনের বেলায় মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের জন্য পুলিশের পূর্বানুমতি নেয়া বাধ্যতামূলক।

মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিরা জানান, স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ এসে তাদের মৌখিকভাবে লাউডস্পিকার সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত আদেশপত্র দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন একাধিক কমিটির প্রতিনিধি।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকই সবচেয়ে বড়।” সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হাক্বীক্বীভাবে পালন করা হলো সন্তুষ্টিপূর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ শুধু একটি বরকতময় আমলই নয় বরং এটা হলো নাজাতের সনদপত্র অর্থাৎ চূড়ান্ত কামিয়াবীর দলীল। সুবহানাল্লাহ! যা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা এবং উনার সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম দেয়া।
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হাক্বীক্বীভাবে পালন করা হলো সন্তুষ্টিপূর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম আমল মুবারক। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ শুধু একটি বরকতময় আমলই নয় বরং এটা হলো নাজাতের সনদপত্র অর্থাৎ চূড়ান্ত কামিয়াবীর দলীল। সুবহানাল্লাহ! যা পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করতে চায় না এমন জ্বীন ইনসান খুজে পাওয়া দুষ্কর। কেউ অন্তর থেকে বলুক বা বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলুক সকলেই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক চান। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারকই সবচেয়ে বড়।” তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন- “যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে, তবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো তারা যেনো মহান আল্লাহ পাক উনাকে ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট মুবারক করে। কেননা উনারাই সন্তুষ্টি মুবারক পাওয়ার সমধিক হক্বদার।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অনেকেরই অজানা রয়েছে যে, কোন আমলটি করলে উনারা অনেক সন্তুষ্ট হবেন? কোন আমল করলে উনারা খুশি হবেন? সন্তুষ্টিপূর্ণ আমল কোনটি? এককথায় বলা যায় যে, আমল করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা খুশি হবেন এবং সন্তুষ্টি হবেন সেটা হলো খুশি মুবারক প্রকাশ করা। যা পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- আয় আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহ ও রহমত অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারণে খুশি মুবারক প্রকাশ করো। এই খুশি প্রকাশ করা হচ্ছে সব কিছুর চাইতে উত্তম তথা সর্বোত্তম ইবাদত। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, উক্ত সন্তুষ্টিপূর্ণ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ শুধু একটি বরকতময় আমলই নয় বরং এটা হলো নাজাতের সনদপত্র অর্থাৎ চূড়ান্ত কামিয়াবীর দলীল। দুনিয়াবী জীবনে অনেক কিছুরই সনদ তথা প্রমাণ লাগে। কিন্তু আখিরাতের জিন্দেগীতে কি সনদ বা নাজাতের দলীল লাগবে না? অবশ্যই প্রয়োজন হবে।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, দুনিয়াতে কত রকম সনদই তো আছে। ডাক্তারী সনদ, ইঞ্জিনিয়ারীং সনদ, চারিত্রিক সনদ, স্কলারশিপ তথা খুদ-কুড়া শিপের সনদ- এমনকি মৃত্যু সনদও। এই রকম হাজারো সনদের জন্য মানুষ যারপর নাই ব্যাতিব্যস্ত। একটা ৬০ বছরের যিন্দেগীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কেটে যায় এরুপ একটা দুনিয়াবী সনদের পিছনে দৌড়াতে। এই সনদকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দূর্নীতি, হত্যা, লুন্ঠণসহ অনেক পাপাচার সংঘটিত হয়। এতকিছুর পরও কখনো এই সনদ অকেজোও হয়ে যায় অর্থাৎ তাতে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা সম্ভব হয় না। কিন্তু একজন মুসলমান হিসেবে এটাই কি আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত ছিল যে, আমরা দুনিয়ার এসব সনদের পেছনে দৌড়াবো? কখনোই না। আমাদের যেহেতু ইন্তেকাল করতে হবেই সেক্ষেত্রে নাযাতের সার্টিফিকেটই বেশী জরুরী।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, কায়িনাতবাসীকে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ নামে এমন একটি পবিত্র আমল ও ইবাদত মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে, যা পালন করলে নাজাতের সনদ প্রস্তুত হয়ে থাকবে। এই মহাসম্মানিত পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, পবিত্র ঈদে মীলাদে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে মাত্র এক দিরহাম খরচ করার প্রতিদান হচ্ছে নিশ্চিতরূপে জান্নাত লাভ করা। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, কাজেই পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ শুধু একটি বরকতময় আমলই নয় বরং এটা হলো নাজাতের সনদ তথা চুড়ান্ত কামিয়াবীর দলীল। যা সকলের জন্যই ইহকাল ও পরকালে নিশ্চিত নাজাত লাভের কারণ হবে। সুবহানাল্লাহ! তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- যথাযথ তা’যীম-তাকরীমের সাথে অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা এবং উনার মাঝে সার্বিক খিদমতের আঞ্জাম দেয়া।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত শরীফ পাঠ করেন। ’ সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি বান্দা-বান্দীদেরকেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!
তাই বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতা করা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার বিরোধিতা করা। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ ঈমান নষ্ট হয়ে কাট্টা কাফির হয়ে জাহান্নামী হওয়ার কারণ। নাউযুবিল্লাহ!
, ২৬ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১১ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১০ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি বান্দা-বান্দীদেরকেও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত, ছানা-ছিফত, প্রশংসা মুবারক তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে সর্বপ্রথম ঈদ পালন বা খুশি উদযাপন করেছেন মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি নিজে। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “(আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আলমে আরওয়াহতে সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছিলেন যে, আপনাদেরকে আমি কিতাব ও হিকমত দান করবো। অতঃপর আপনাদেরকে সত্য প্রতিপাদনের জন্য আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করবো। আপনারা উনাকে হযরত নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে মেনে নিবেন এবং সর্ববিষয়ে উনার খিদমত মুবারক করবেন (ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবেন)। আপনারা কি এই ওয়াদার কথা মেনে নিলেন? উত্তরে উনারা সকলে বললেন, হ্যাঁ- আমরা এই ওয়াদা স্বীকার করে নিলাম (অর্থাৎ আমরা যমীনে গিয়ে ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবো)। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন: আপনারা সাক্ষী থাকুন, আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী হয়ে গেলাম। তবে জেনে রাখুন, যারা এই ওয়াদাকৃত বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে (যারা মহাপবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ পালন করবে না বা এর বিরোধিতা করবে) তারা চরম পর্যায়ের ফাসিক (ও কাফির) হয়ে যাবে।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অনুরূপ আরো বহু পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বা প্রশংসা মুবারক করেছেন। যা মূলত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সর্বপ্রথম সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন। পাশাপাশি বান্দা-বান্দীদেরকেও পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “হে মানবজাতি! অবশ্যই তোমাদের মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন মহান নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের ব্যাধিসমূহ দূরকারী এবং ঈমানদার উনাদের জন্য মহান হিদায়েতকারী ও মহান রহমতস্বরূপ (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি)। আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার দয়া, ইহসান ও রহমত মুবারক (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে পেয়ে উনার জন্য ঈদ উদযাপন তথা খুশি প্রকাশ করো। তোমরা যত কিছুই করো না কেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করাই হচ্ছে সমগ্র কায়িনাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সর্বোত্তম ইবাদত।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাতের জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাকে ফরয করে দিয়েছেন। তাই বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার বিরোধিতা করা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার বিরোধিতা করা। নাউযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত অর্থাৎ ঈমান নষ্ট হয়ে কাট্টা কাফির হয়ে জাহান্নামী হওয়ার কারণ।