সম্মানিত নছীহত মুবারকঃ

নছীহতে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম

২৮ই রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী

নতুন সংঘাতের জোরালো প্রস্তুতি চালাচ্ছে কুফফার গং
ইরানে হামলা করতে আমেরিকা ইসরায়েল ১৪০০ যুদ্ধ বিমান ও ৫০ হাজার সৈন্য প্রস্তুত করেছে। এবং সাথে তাদের মিত্র আরবরাও যুদ্ধ বিমান ও সৈন্য একত্রিত করেছে। এরা একসাথে আকাশে এবং স্থলে হামলা চালাবে।
এদিকে ইরানও প্রস্তত। ইরান প্রচুর পরিমাণ যুদ্ধ বিমান ধ্বংস কারী বিভিন্ন রকম গাইড মিসাইল, হিট সিকিং মিসাইল নিয়ে প্রস্তুত আছে । সাথে চীন ও রাশিয়ার তৈরি বিভিন্ন রকম যুদ্ধ বিমান ধ্বংস করা অস্ত্রও। এমনকি সাধারণ জনগনের মধ্যেও যুদ্ধ বিমান ধ্বংসের জন্য হালকা অথচ কার্যকরি অসংখ্য অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করেছে। এই যুদ্ধ ইরানের জন্য যেমন ভয়ংকর হতে পারে তেমনি হতে আমেরিকা ইসরায়েলের দম্ভ চুর্ণ। এবং ইতিহাস লেখা হবে ইহুদি খ্রিস্টানদের পতন আর মুসলিমদের বিজয়ের সূচনা।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ ইরান বলেছে এই যুদ্ধে তারা এমন এক অস্ত্র ব্যাবহার করবে যা এর আগে কেউ দেখে নি।

জি, স্টার বাদ দিয়ে পরিষ্কার করে দিলাম —

ঈমান, হিদায়াত ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নেয়ামত বিষয়ে ২০টি প্রশ্নোত্তর

১. প্রশ্ন: জ্বিন-ইনসানের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত কোনটি?
উত্তর: জ্বিন-ইনসানের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো ঈমান ও হিদায়াতের নেয়ামত।

২. প্রশ্ন: কুরআন শরীফে কোন আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ঈমানই পূর্ণ নেয়ামত?
উত্তর: সূরা মায়িদার ৩ নং আয়াত শরীফ — اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِىْ এখানে نِعْمَتِي দ্বারা ঈমান ও ইসলামকে বুঝানো হয়েছে।

৩. প্রশ্ন: দুনিয়ার নেয়ামত আর ঈমানের নেয়ামতের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: দুনিয়ার সব নেয়ামত মৃত্যুর সাথে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ঈমানের নেয়ামত মৃত্যুর পরেও থাকে এবং জান্নাত পর্যন্ত নিয়ে যায়।

৪. প্রশ্ন: হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ঈমানের নেয়ামত সম্পর্কে কী বলেছেন?
উত্তর: তিনি বলেছেন, সব নেয়ামতের হিসাব দিতে হবে, কিন্তু ঈমানের নেয়ামতের শুকরিয়া কখনো আদায় করে শেষ করা যাবে না।

৫. প্রশ্ন: হিদায়াতের মূল কে?
উত্তর: হিদায়াতের মূল হলেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

৬. প্রশ্ন: কোন আয়াত শরীফ প্রমাণ করে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুমিনদের জন্য সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ?
উত্তর: সূরা আলে ইমরানের ১৬৪ নং আয়াত — لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ اِذْ بَعَثَ فِيْهِمْ رَسُوْلًا — নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের উপর বড় অনুগ্রহ করেছেন যখন তাদের মধ্যে একজন রসূল প্রেরণ করেছেন।

৭. প্রশ্ন: এই আয়াতে مَنَّ শব্দ ব্যবহারের হিকমত কী?
উত্তর: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আল্লাহ পাক বৃষ্টি-রিযিকের জন্য مَنَّ বলেন না, কিন্তু রসূল প্রেরণের জন্য مَنَّ বলেছেন, কারণ এই এক নেয়ামতের মধ্যেই সব নেয়ামত চলে এসেছে।

৮. প্রশ্ন: আমরা আল্লাহ, কুরআন, নামায-রোযা চিনলাম কার মাধ্যমে?
উত্তর: আমরা সবকিছুই চিনেছি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে। উনাকে বাদ দিয়ে ঈমানের কল্পনাও করা যায় না।

৯. প্রশ্ন: নেয়ামতের স্তর কয়টি ও কী কী?
উত্তর: নেয়ামতের স্তর ৪টি — ১. অস্তিত্বের নেয়ামত, ২. মুসলমান হওয়ার নেয়ামত, ৩. আখিরী নবীর উম্মত হওয়ার নেয়ামত, ৪. হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই নেয়ামত।

১০. প্রশ্ন: ১ম স্তর نعمة الإيجاد বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: আমরা ছিলাম না, আল্লাহ পাক كُنْ বলে আমাদেরকে না থাকা থেকে অস্তিত্বে এনেছেন। এটাই প্রথম দয়া।

১১. প্রশ্ন: ২য় স্তর মুসলমান হওয়ার নেয়ামত কেন এত বড়?
উত্তর: দুনিয়ায় ৬০০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৩০০ কাফির-মুশরিক। আল্লাহ চাইলে আমাদেরকে তাদের মধ্যে পাঠাতে পারতেন, কিন্তু দয়া করে মুসলমান হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।

১২. প্রশ্ন: ৩য় স্তর আখিরী উম্মত হওয়ার নেয়ামতের ফযীলত কী?
উত্তর: এই উম্মতের ফযীলত দেখে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম দোয়া করেছিলেন — اللهم اجعلني من أمة محمد — হে আল্লাহ আমাকে মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত বানিয়ে দিন।

১৩. প্রশ্ন: হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এখনো কেন দোয়া করছেন?
উত্তর: তিনি শেষ যামানায় এই উম্মতের একজন হয়ে দুনিয়ায় আসবেন, এটাই উনার মর্যাদা। তিনি এই উম্মত হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন এবং কবুল হয়েছে।

১৪. প্রশ্ন: ৪র্থ স্তর نعمة الوجود المحمدي বলতে কী বুঝায়?
উত্তর: সমস্ত নেয়ামতের মূল হলো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই। গাছের গোড়া না থাকলে ডাল-পাতা থাকে না, তেমনি তিনি না হলে ঈমান-ইসলাম কিছুই থাকতো না।

১৫. প্রশ্ন: কোন হাদীসে কুদসী দ্বারা এই মূল নেয়ামত প্রমাণিত?
উত্তর: لَوْلَاكَ لَمَا خَلَقْتُ الْأَفْلَاكَ — যদি আপনি না হতেন, আমি আসমান-যমীন কিছুই সৃষ্টি করতাম না।

১৬. প্রশ্ন: সূরা দ্বুহার وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ আয়াতের অর্থ কী?
উত্তর: অর্থ — আপনার রবের নেয়ামতের আলোচনা করুন।

১৭. প্রশ্ন: এই আয়াতে النِّعْمَة দ্বারা মুফাসসিরগণ কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন النبوة (নবুওয়ত), ইমাম মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন القرآن। আর হাকীকতে দুটোই হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি।

১৮. প্রশ্ন: এই আয়াতের উপর আমল কীভাবে হবে?
উত্তর: এই আয়াতের সবচেয়ে বড় আমল হলো — হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত, মীলাদ শরীফ, সীরত মুবারক, মু’জিযা শরীফ বর্ণনা করা এবং বেশি বেশি দরূদ-সালাম পেশ করা।

১৯. প্রশ্ন: এই নেয়ামতের ক্বদর আমরা কিভাবে করবো?
উত্তর: ৩ ভাবে — ১. মুখে: দরূদ-মীলাদ ও প্রশংসা করা, ২. অন্তরে: সবকিছুর চেয়ে বেশি মুহব্বত করা, ৩. আমলে: উনার সুন্নত মুবারককে আঁকড়ে ধরা।

২০. প্রশ্ন: যে ব্যক্তি এই নেয়ামতকে চিনলো না তার পরিণতি কী?
উত্তর: যে এই নেয়ামতকে চিনলো না সে অকৃতজ্ঞ। আর অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি থেকে নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঈমানের নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়ার অর্থই হলো বেঈমান হয়ে মৃত্যুবরণ করা, নাউযুবিল্লাহ। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামতের ক্বদর করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বদলে ও বেমেছাল রোবের উসীলায় খোদায়ী গযব ভয়াবহ বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে আমেরিকার দালাল তাইওয়ান। নিহত হয়েছে অসংখ্য।

image

image

বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে সবচেয়ে বড় বিল আড়িয়াল বিল। আড়িয়াল বিলের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ২৬ কিলোমিটার এবং সর্বাধিক প্রস্থ ১২ কিলোমিটার।
আড়িয়াল বিল বাংলাদেশের অন্যতম মাছের ভান্ডার। আড়িয়াল বিলে রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড়, বোয়াল, চিতল, কালবাউশ এবং বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় হয়। এই বিলের মাছ শিকার করে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। আড়িয়াল বিলের প্রাকৃতিক মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কোটি কোটি টাকার মাছ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হয়। ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে থাকা বিলের মাটি অত্যন্ত উর্বর। শুষ্ক মৌসুমে এখানে ব্যাপকভাবে বোরো ধানের চাষ হয় যা স্থানীয় ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বড় অবদান রাখছে। আড়িয়াল বিলের প্রাকৃতির সৌন্দর্য দেখতে বর্ষা এবং শীতে উভয় মৌসুমে প্রচুর পর্যটক এখানে আসে। পর্যটকদের আগমনের কারণে বিভিন্ন পেশার মানুষের এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাপক অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়। আড়িয়াল বিল বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

image

যদি আমরা হই!!!
সূরা আরাফ শরীফের ৯৬ নং আয়াত শরীফের ব্যাখ্যা পেশ করা হলো -

আয়াত শরীফ

﴿ وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ﴾

অর্থ আর যদি জনপদবাসী ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, তবে অবশ্যই আমি তাদের উপর আসমান ও যমীনের বরকতসমূহের দরজা খুলে দিতাম। [সূরা আরাফ: ৯৬]

১. শানে নুযূল ও প্রেক্ষাপট

এই আয়াতের আগে আল্লাহ পাক হযরত নূহ, হূদ, ছলেহ, লূত, শুয়াইব আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্বওমের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তারা ঈমান না আনার কারণে কিভাবে ধ্বংস হয়েছে। এরপর আল্লাহ পাক এই আয়াত নাযিল করে জানিয়ে দিলেন, ধ্বংসই নিয়ম নয়, বরং যদি তারা ঈমান ও তাকওয়ার পথে আসতো, তবে ফলাফল সম্পূর্ণ উল্টো হতো।

এই আয়াত হলো রহমতের নীতি — কিভাবে কোন জাতি দুনিয়াতেই জান্নাতি বরকত পেতে পারে।

২. শব্দে শব্দে হাকীকত

وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا - যদি জনপদবাসী ঈমান আনতো।

এখানে آمَنُوا বলতে শুধু মুখে কালিমা পড়া নয়। মুফাসসিরীনে কিরাম বলেন, এখানে ঈমান বলতে ৩টি জিনিস -

- আল্লাহর উপর ঈমান
- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঈমান
- এবং উনার আনা দ্বীনের উপর ঈমান

وَاتَّقَوْا - এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো।

তাকওয়া মানে শুধু নামায-রোযা নয়। তাকওয়া হলো —

তাকওয়ার মূল হলো গুনাহ থেকে বাঁচা।
হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত উবাই ইবনে কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন, তাকওয়া কী?
তিনি বললেন, আপনি কি কখনো কাঁটাযুক্ত পথ দিয়ে হেঁটেছেন?
হযরত উমর বললেন, হ্যাঁ।
তিনি বললেন, কিভাবে হেঁটেছেন?
বললেন, কাপড় গুটিয়ে, খুব সাবধানে হেঁটেছি যেন কাঁটা না লাগে।
তিনি বললেন, এটাই তাকওয়া। দুনিয়াটা কাঁটাযুক্ত পথ, গুনাহ হলো কাঁটা, খুব সাবধানে বেঁচে বেঁচে চলার নাম তাকওয়া।

তাকওয়ার ২টি দিক —
১. আল্লাহর আদেশ পালন করা — নামায, রোযা, হালাল রিযিক, পর্দা, সুন্নতের অনুসরণ।
২. নিষেধ থেকে বাঁচা — শিরক, কুফর, সুদ, ঘুষ, মিথ্যা, গীবত, হারাম থেকে বাঁচা।

لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم - আমি অবশ্যই তাদের উপর খুলে দিতাম।

এখানে আল্লাহ পাক لَ তাকীদের জন্য এনেছেন। অর্থাৎ অবশ্যই, নিশ্চিতভাবে খুলে দিতাম। এটা আল্লাহর ওয়াদা।

بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ - আসমান ও যমীনের বরকতসমূহ।

এখানে আল্লাহ পাক بَرَكَةً একবচন বলেননি, বলেছেন بَرَكَاتٍ বহুবচন। অর্থাৎ একটি দুটি নয়, অগণিত বরকত।

৩. আসমান-যমীনের বরকত কী কী?

ইমাম বাগাভী, ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহিম বলেন -

আসমানের বরকত হলো
- সময়মতো বৃষ্টি বর্ষণ
- অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি থেকে হিফাযত
- রোদের পরিমিত তাপ, চাঁদের আলো, বাতাসের ভারসাম্য
- বালা-মুসিবত, আসমানী গযব থেকে হিফাযত

যমীনের বরকত হলো
- ফসলের প্রাচুর্য, ফলে স্বাদ বৃদ্ধি
- যমীন থেকে খনিজ, রিযিক বেশি বের হওয়া
- ব্যবসায় লাভ, চাকরিতে বরকত, অল্পতে বেশি হওয়া
- নিরাপত্তা, শান্তি, মারামারি-হানাহানি বন্ধ হওয়া
- নেক সন্তান, সুস্থতা, মনে শান্তি

বর্তমান যামানার সাথে মিলিয়ে দেখুন আজ আমাদের অভাব কীসের? বৃষ্টি হয় অসময়ে, ফসল নষ্ট হয়, ব্যবসায় বরকত নেই, ঘরে শান্তি নেই, রোগ-বালাই বেশি, টাকা আছে কিন্তু সুখ নেই। এর কারণ একটাই — আমরা آمَنُوا وَاتَّقَوْا এই শর্ত পূরণ করিনি।

৪. এই আয়াত থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা

এই আয়াত আমাদেরকে একটি সূত্র দিয়ে দিলো —

যদি রিযিক, শান্তি, নিরাপত্তা চাও, তবে আমেরিকা, ইউরোপের কাছে যেও না, বরং ঈমান ও তাকওয়ার দিকে ফিরে আসো।

আল্লাহ পাক অন্য আয়াতে বলেন —
وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
যে তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ করে দেন এবং এমন জায়গা থেকে রিযিক দেন যা সে কল্পনাও করেনি। [সূরা তালাক: ২-৩]

তাকওয়া থাকলে —
- দোকানে ১০ টাকা লাভেও বরকত হবে, আর তাকওয়া না থাকলে ১০ লাখেও বরকত হবে না।
- ঘরে ১ বেলা খাবারেও শান্তি থাকবে, আর তাকওয়া না থাকলে ১০ পদেও অশান্তি থাকবে।

৫. বরকতের চাবি কে?

এই আয়াতের বরকতের দরজা খোলার চাবি হলো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। কারণ ঈমান ও তাকওয়া উনাকে বাদ দিয়ে হয় না।

এজন্য দেখা যায়, যে দেশে, যে ঘরে, যে দোকানে সুন্নতের আমল বেশি, দরূদ শরীফ বেশি, সেখানে আজও বরকত বেশি।

যে ব্যক্তি এই আয়াতের উপর আমল করবে — খাঁটি ঈমান আনবে, হালাল খাবে, গুনাহ থেকে বাঁচবে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুতাবেক চলবে — আল্লাহ পাক তার জন্য আসমান-যমীনের বরকতের দরজা খুলে দিবেন।

আল্লাহ পাক আমাদেরকে آمَنُوا وَاتَّقَوْا এর হাকীকত বুঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

image

image

image