পূজা দাসী বলতে আমরা যা বুঝি বাস্তবে তা নয়। দাসী ইসলামের বিধান নয়। এটা ইসলামের আগে থেকেই ছিল। আরবে, রোমে, পারস্যে, ভারতে মানুষকে বাজারে গরু ছাগলের মতো বিক্রি করা হতো। ইসলাম এসে দাস দাসী বানানো শুরু করেনি। ইসলাম এসে যেটা ছিল সেটাকে শেষ করার জন্য আইন দিয়েছে।
১. ইসলামে দাসী কে হতে পারে
স্বাধীন মেয়ে কখনো দাসী হতে পারে না।
যুদ্ধবন্দিনী ছাড়া রাসুল সা. বলেছেন আল্লাহ বলেন কিয়ামতে আমি তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদী হবো, তার একজন যে স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে। বুখারী ২২২৭।
তাহলে দাসী আসত কোথা থেকে। শুধু বৈধ রাষ্ট্রীয় যুদ্ধে যুদ্ধবন্দী হলে। তখন জেল ছিল না। বন্দীদের হয় মেরে ফেলতে হতো না হয় সমাজে রাখতে হতো। ইসলাম মেরে ফেলতে নিষেধ করল। আল্লাহ বলেন যুদ্ধবন্দীদের হয় অনুগ্রহ করে ছেড়ে দাও না হয় মুক্তিপণ নাও। সুরা মুহাম্মদ ৪।
২. অন্যরা কি করত ইসলাম কি করল
অন্য সভ্যতায় যুদ্ধবন্দিনী মেয়েদের ধ'র্ষ"ণ করে মেরে ফেলা হতো। আজও অনেক দেশে যুদ্ধবন্দিনীদের বছরের পর বছর জেলে রাখা হয়, তাদের খাবার নাই, বিয়ে নাই, সন্তান নাই, যৌন চাহিদা পূরণের কোনো বৈধ পথ নাই। তারা দাসের চেয়েও খারাপ জীবন পায়।
ইসলাম কি করল। ইসলাম বলল তাকে তোমার ঘরে রাখো, পরিবারের মতো রাখো।
আল্লাহ বলেন তোমরা যা খাও তাদের তা খাওয়াও। সুরা বাকারা ১৭৭।
রাসুল সা. বলেছেন তারা তোমাদের ভাই। তোমরা যা খাবে তাদের তা খাওয়াবে, যা পরবে তাদের তা পরাবে। মুসলিম ১৬৬১।
রাসুল সা. বলেছেন যে দাসকে চড় মারবে তার কাফফারা তাকে মুক্ত করা। মুসলিম ১৬৫৭।
৩. সহবাসের বিধান, এটা ধ"র্ষ"ণ না সম্মান
ইসলামে দাসীর সাথে সহবাস জোর করে করা যায় না। তাকে প্রথমে নিজের ঘরে আনতে হবে, তার ইদ্দত শেষ করতে হবে, তার সম্মতি ছাড়া বিক্রি করা যাবে না।
আল্লাহ বলেন তোমাদের ডান হাতের অধিকারভুক্ত দাসী ছাড়া সব নারী তোমাদের জন্য হারাম। সুরা নিসা ২৪। এই আয়াত যুদ্ধবন্দিনীর জন্য।
কিন্তু শর্ত কি।
ক. সে তোমার স্ত্রীর মতো মর্যাদা পাবে। তাকে খারাপ নামে ডাকা যাবে না।
খ. সন্তান হলে সে বিক্রি হবে না। তাকে বলে উম্মে ওয়ালাদ। রাসুল সা. এর সময় থেকে নিয়ম সন্তানের মা স্বাধীন। মুয়াত্তা মালিক।
গ. সন্তান দাস হবে না। সে পুরো স্বাধীন, বাবার নাম পাবে, সম্পত্তির वारিস হবে। আবু দাউদ ৩৯৬৫।
ঘ. তাকে মুক্ত করে বিয়ে করলে দ্বিগুণ সওয়াব। রাসুল সা. বলেছেন যে ব্যক্তি তার দাসীকে ভালো শিক্ষা দেয়, মুক্ত করে, তারপর বিয়ে করে তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার। বুখারী ৯৭।
দেখো পার্থক্য। অন্যরা মেয়েকে ব্যবহার করে ফেলে দেয়। ইসলাম তাকে মা বানায়। মারিয়া কিবতিয়া রা. দাসী ছিলেন, রাসুল সা. এর ছেলে ইব্রাহিমের মা হলেন, সাহাবারা তাকে উম্মুল মুমিনিনের মতো সম্মান দিতেন।
৪. ইসলাম দাসপ্রথা শেষ করল কিভাবে
ইসলাম একদিনে নিষেধ করেনি কারণ তখন পুরো অর্থনীতি দাসের উপর ছিল। হঠাৎ নিষেধ করলে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় মারা যেত। ইসলাম ধীরে ধীরে দরজা বন্ধ করল।
ক. নতুন দাস বানানোর সব পথ বন্ধ। শুধু যুদ্ধবন্দী তাও রাষ্ট্র চাইলে।
খ. মুক্তির সব পথ খোলা। আল্লাহ বলেন দাস মুক্তি হলো ধর্মের ঘাঁটি। সুরা বালাদ ১৩।
গ. কাফফারা। কেউ রোজা ভাঙলে, কসম ভাঙলে, ভুলে মানুষ মারলে প্রথম শাস্তি দাস মুক্ত করো। সুরা নিসা ৯২, সুরা মুজাদালা ৩।
ঘ. যাকাতের টাকা দিয়ে দাস মুক্ত করা ফরজ। সুরা তওবা ৬০।
ফলে ১৪০০ বছরে ইসলামের কারণে কোটি কোটি দাস মুক্ত হয়েছে। আজ দুনিয়ায় দাস নেই কারণ ইসলাম যে মানবিক আইন দিয়েছিল সেটাই আন্তর্জাতিক আইন হয়েছে।
৫. তাহলে আজকের উত্তর কি
আজ কোনো দাসী নেই, তাই সহবাসের প্রশ্নই নেই। কেউ যদি এখন মেয়ে ধরে বলে দাসী, সে ইসলাম অনুযায়ী অপরাধী, তার শাস্তি হবে।
তাহলে ইসলাম কেমন ধর্ম। ইসলাম সেই ধর্ম যা যুদ্ধের মেয়েকে ধর্ষণ না করে বিয়ের মর্যাদা দিল, সন্তানকে দাস না বানিয়ে রাজপুত্র বানাল, মাকে বিক্রি না করে স্বাধীন করল।
অন্যরা যেখানে মেয়েদের জেলে পচায়, ইসলাম সেখানে তাদের ঘরের রানী বানায়।
এই বিধান নিয়ে প্রশ্ন করার আগে নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করো, ইসলাম না থাকলে সেই যুদ্ধবন্দিনী মেয়েগুলোর কি হতো। উত্তর পাবে, তারা মারা যেত। ইসলাম তাদের বাঁচিয়েছে। এটাই ইসলামের সৌন্দর্য।
হিন্দু ধর্মে দাস প্রথা, রেফারেন্স নাম্বার সহ
১. যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি ২.২৯০
• অবরুদ্ধা দাসী: মালিক যাকে ঘরে আটকে রাখত, অন্য পুরুষের কাছে যেতে দিত না • ভুজিষ্যা দাসী: যাকে একজন পুরুষ রক্ষিতা হিসেবে রাখত
হিন্দু ধর্মের আরো দাস-দাসী নিয়ে বিস্তারিত কমেন্ট বক্সে থাকবে
কলমে: নওমুসলিম Nowfal ভাই
লেখা সংগ্রহ
