মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বদলে খোদায়ী গযব বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ভারতের হিমালয় প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল, ধ্বংস হয়ে গেছে মন্দির। নিহত হয়েছে অসংখ্য।

image

ইতিহাস:
হিন্দুত্ববাদী ভারতের ষড়যন্ত্রে যেভাবে স্বাধীনতা হারায় মুসলিম অধ্যুষিত হায়দ্রাবাদ
১৯৪৭ সাল। ব্রিটিশ দখলকৃত উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম পরিচয়ের ভিত্তিতে আলাদা রাষ্ট্র পাকিস্তান ছাড়াও হায়দ্রাবাদ, জুনাগড় ও কাশ্মীর নামে আলাদা স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র ছিল। বিশেষ করে হায়দ্রাবাদের ছিল-
নির্বাচিত সরকার
ছিল নিজস্ব আইন আদালত, বিচার ব্যবস্থা
ছিল নিজস্ব মুদ্রা, সেনাবাহিনী
এমনকি নিজস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ও ছিল।

সমৃদ্ধ এই স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র দখলে মরিয়া হয়ে হিন্দুত্ববাদী ভারত। তার অংশ হিসেবে হায়দ্রাবাদের ভেতরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়ে দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়। রামানন্দ তীর্থ নামক জনৈক মুসলিমবিদ্বেষী কংগ্রেস নেতা ধর্মকে অবলম্বন করে দেশে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলেন।

এই সন্ত্রাসীদের দমনে হায়দ্রাবাদ সরকার অভিযান শুরু করলে তিনি ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে বসে এ্যাকশন কমিটি তৈরি করলেন। সেই এ্যাকশন কমিটির লোকজন দলে দলে হায়দারাবাদে ঢুকে পড়ে মুসলমানদের হত্যা, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ এবং সীমান্তরক্ষীদের সাথে খন্ড যুদ্ধে লিপ্ত হলো।

পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছিলো যে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের পুলিশ দিয়ে ঠেকানো সম্ভব ছিল না, কারণ তাদের হাতে ছিল ভারী যুদ্ধাস্ত্র যা ভারত থেকে সরবরাহ করা হচ্ছিল।

তারা একের পর এক গ্রাম দখল করে সেখান থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ করতে লাগলো, খাজনা আদায় করতে লাগলো। এরকম এক নাজুক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার সেনাবাহিনী তলব করলেন।

কিন্তু সেনাবাহিনীর কাছেও পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে মুসলিম সংগঠনগুলো আক্রান্ত মুসলিম জনগণকে সংগঠিত করে, আত্মরক্ষামূলক অস্ত্র ট্রেনিং দিয়ে তাদের প্রতিরোধ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুললেন।

সেসময় হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত কাসিম রিজভী কলেজ ছাত্রদের নিয়ে গড়ে তুললেন এক প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, যাদের নাম রাখা হলো ‘রেজাকার’ অর্থ্যাৎ স্বেচ্ছাসেবক। এরপর দলে মুসলিমরা তাদের ভূমি রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীতে যোগ দিল। আল্লাহর সাহায্যে সীমান্ত এলাকায় তারা প্রতিরোধ বুহ্য রচনা করে হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম হলো।

কিন্তু ভারতীয় দখলদাররা তাদের ষড়যন্ত্র থামায় নি। তারা স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নামে খুন, লুট আর কল্পিত অত্যাচারের গল্প তৈরি করে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে শুরু করে তারা প্রচার করতে লাগলো, ভারত হায়দ্রাবাদ আক্রমণ করলে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিন্দুদের কচু কাটা করবে।

হিন্দুত্ববাদীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে সাধারণ হিন্দুরা দলে দলে ভারতে পালিয়ে যেতে লাগল। সেই সুযোগে দখলদার ভারত মিডিয়াতে প্রচার করতে লাগলো যে, হায়দ্রাবাদে হিন্দুদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। এভাবেই অপপ্রচারের মাধ্যমে হায়দারাবাদের মুসলিমদের ভাবমূর্তি নষ্ট করে তারা ভারতে সেনা অভিযানের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে লাগল।

১৯৪৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতীয় দখলদার বাহিনী হায়দ্রাবাদ অভিযান শুরু করে। ‘অপারেশন পোলো’ নামে পরিচালিত এই অপারেশনে ভারতীয় দখলদার বাহিনীর পাশাপাশি অংশ নেয় আর্য সমাজ ও অন্যান্য উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।

টানা চারদিন মরনপণ লড়াইয়ের পর টিকতে না পারে ১৯৪৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হায়দ্রাবাদ মুসলিম বাহিনীর প্রধান সেনাপতি আল ইদরুস রাজধানী হায়দ্রাবাদের বাইরে গিয়ে ভারতীয় দখলদার বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল জেএন চৌধুরীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর হায়দ্রাবাদের প্রায় দুই লাখ মুসলিমদের ওপর নেমে আসে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা।

প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই গণহত্যায় শহীদ হন ৪০ হাজারেরও অধিক মুসলিম। গণহত্যার পাশাপাশি মুসলিমদের বাড়িঘর লুটপাট, নারীদের ধর্ষণ ও সম্পদের দখল করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেয় মুসলিমবিদ্বেষী হিন্দু কংগ্রেস নেতারা। এছাড়া তখন শিশুদের শহীদ করা হয়, বিমান দিয়ে বোমা বর্ষণ করে শহর বন্দর গ্রাম গুঁড়িয়ে দেয়া হয় এবং মসজিদ, মাদ্রাসা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়।

গণহত্যার পরে হায়দ্রাবাদকে অন্ধ্র, কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্র এই তিন রাজ্যে বিভক্ত করা হয়। এভাবে একটি স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নষ্ট করে হিন্দুত্ববাদী ভারত। আজ তারা বাংলাদেশকেও আরেকটি হায়দ্রাবাদে পরিণত করতে চায়। তাই আমাদের উচিত ভারতীয় আগ্রাসন এবং হিন্দুত্ববাদীদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানা এবং এর মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।

image

হযরত ওহাব ইবনে কাবুল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বেমেছাল আত্মত্যাগ মুবারক



হযরত ওহাব ইবনে কাবুল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন। উনার বাড়ি ছিলো মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে। উনার পেশা ছিলো গ্রামে বকরি চরানো। একদিন তিনি আপন ভাতিজাসহ বকরিগুলো এক রশিতে বেঁধে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ পৌঁছে জানতে পারেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উহুদের ময়দানে কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদে রয়েছেন। শুনামাত্রই তিনি থমকে গেলেন, মনে মনে বলতে লাগলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাফিরদের সাথে জিহাদ করবেন, আর আমি বাড়িতে বসে বকরি চরাবো!

হযরত ওহাব ইবনে কাবুল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বকরির পাল সেখানে রেখেই উহুদের ময়দানের দিকে রওয়ানা হলেন। জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য তরবারি ধারণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে উপস্থিত হলেন।

এমন সময় কাফিরদের একটি দল আক্রমণোদ্ধত অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে এগিয়ে এলে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- যে ব্যক্তি এদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিবে সে জান্নাতে আমার সাথী হবে।

হযরত ওহাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বীর বিক্রমে তরবারি চালিয়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করেন।

দ্বিতীয়বার কাফির বাহিনী আক্রমণ করলে তখনো তিনি তরবারি চালিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামীর আনজাম দেন। তৃতীয়বার কাফিররা যখন আক্রমণ করে সামনে অগ্রসর হয়, এবারও তিনি বীরত্বের সাথে তাদেরকে প্রতিহত করলেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আন্তরিক মহব্বত ও বীরত্ব দেখে সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করেন এবং উনাকে সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ দিলেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ শুনে এবং উনার সুমহান সন্তুষ্টি মুবারক দেখে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং পুনরায় কাফিরদের উপর ঝাপিয়ে পড়েন। কাফিরদেরকে আক্রমণ করতে করতে এক পর্যায়ে তিনি সম্মানিত শাহাদাত মুবারক বরণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি এ জিহাদে উনার মতো বীরত্ব ও সাহসিকতা আর কারো মাঝে দেখিনি। উনার পবিত্র শাহাদাতের পর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি উনার শিয়রে দাঁড়িয়ে বললেন- মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আমিও আপনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি। সুবহানাল্লাহ! এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক)-এ উনাকে দাফন করেন। সুবহানাল্লাহ!

ফিকিরের বিষয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিহাদে রয়েছেন, একথা জানতে পেরে তিনি বকরির পাল রেখে জিহাদের ময়দানে চলে আসলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহব্বতে কাফিরদের সাথে লড়াই করে তাদেরকে প্রতিহত করে তিনি সম্মানিত শাহাদাত বরণ করেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের পিতা-মাতা, আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জানের চেয়েও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

আমি এবং আমার সম্পদ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্যই



উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র হুজরা শরীফ প্রথমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হুজরা শরীফ থেকে একটু দূরে ছিলো।

একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- হে হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম! আমার মনে চায়, যদি আপনার মহাপবিত্র হুজরা শরীফ আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার কাছে থাকতো।

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হবরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন- হযরত হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র ঘর মুবারক আপনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার কাছে অবস্থিত, উনাকে বলে দিন, তিনি যেন আমার মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ উনার সাথে উনার হুজরা শরীফ বিনিময় করে নেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- উনার সাথে আগেও বিনিময় হয়েছে। এখন আবার বিনিময় করতে বলতে চাচ্ছি না।

হযরত হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এ সংবাদ পেয়ে তৎক্ষণাৎ উপস্থিত হয়ে বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি জানতে পেরেছি আপনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবিয়াহ যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র হুজরা শরীফ আপনার মহাপবিত্র হুজরা শরীফ উনার কাছে হোক আপনি ইরাদা মুবারক করছেন। এগুলো আমার ঘর। এগুলো থেকে নিকটবর্তী আর কোনো ঘর নেই। ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি এবং আমার সম্পদ মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্যই। ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনি যে সম্পদ আমার থেকে গ্রহণ করবেন তা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয় ঐ সম্পদ থেকে যা আমার কাছে থেকে যাবে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার জন্য বরকতের দুআ করে পবিত্র ঘর মুবারক বিনিময় করে নিলেন। (তবাকাত শরীফ)

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের পিতা-মাতা, আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জানের চেয়েও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন। ি

সুমহান দীদার মুবারক পেতে তাড়াতাড়ি বিছাল শরীফের আরজি!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল বিছাল শরীফ শান মুবারক প্রকাশ হলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অস্থির হয়ে গেলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাময়িক একেবারে নিশ্চুপ ছিলেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি খোলা তরবারি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে বললেন- যে ব্যক্তি বলবে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল বিছাল শরীফ শান মুবারক প্রকাশ করেছেন (আনুষ্ঠানিকভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেছেন) আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিবো।

এমনিভাবে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল বিছাল শরীফ উনার পর এমন অস্থিরতার জীবন অতিবাহিত করলেন যে, উনার সম্মানিত কন্যা হযরত আবদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, আমার পিতা যখনই ঘুমানোর জন্য যেতেন, বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণে বিভোর হয়ে থাকতেন।

বিভিন্ন ঘটনা স্মরণ করে মাঝে মাঝেই দীর্ঘ শ্বাস ছাড়তেন। আর পবিত্র বিছাল শরীফপ্রাপ্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নাম স্মরণ করে বলতেন, অমুক সফল তিনি আমার আগেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাৎ মুবারক পেয়েছেন। আয় মহান আল্লাহ পাক! আমাকে তাড়াতাড়ি পবিত্র বিছাল শরীফ দিয়ে দিন, যাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সাক্ষাৎ মুবারক করতে পারি। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের পিতা-মাতা, আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জানের চেয়েও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

আপনার আদেশ মুবারকে আমরা সমুদ্রে ঝাঁপ দিতেও প্রস্তুত



কুরাইশরা নয়শত সজ্জিত পদাতিক ও একশত অশ্বারোহী সৈন্যের বিপুল বাহিনী নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে পবিত্র বদর অভিমুখে রওয়ানা করেছে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই সংবাদ পেয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে ডেকে পরামর্শে বসলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালামসহ হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ নির্ভীক চিত্তে শত্রুদের সম্মুখীন হয়ে বীরত্বের সাথে প্রতিরোধের পরামর্শ দিলেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন: আপনাদের মতামত কি পরিষ্কার করে বলুন।

হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ পুরনায় একই উত্তর দিলেন।

আকাবায়ে ছানিয়া অর্থাৎ শেষ আকাবার বাই‘আতের সময় হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, শত্রুরা যদি মদীনা শরীফ-এ এসে আক্রমণ করে, তবে আমরা অস্ত্র ধারণ করবো। সুদূর বদর প্রান্তরে গিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উনারা প্রস্তুত আছেন কি-না একথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানার জন্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বারবার উনাদেরকে জিজ্ঞাসা মুবারক করেছিলেন।

তৃতীয়বার যখন জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন তখন হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বারবার জিজ্ঞাসা মুবারক করার হাক্বীক্বত মুবারক অনুধাবন করতে পারলেন।

উনাদের পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম হযরত সা’দ বিন মু‘আয রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দাঁড়িয়ে বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

আমাদেরকে উদ্দেশ্য করেই সম্ভবত আপনি বার বার জিজ্ঞাসা মুবারক করছেন? আপনি যা মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক করবেন আমরা তা-ই করতে প্রস্তুত আছি। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনি যদি আমাদেরকে সমুদ্রেও ঝাঁপ দিতে বলেন, তবে আমরা সমুদ্রেই ঝাঁপ দিবো। সুবহানাল্লাহ!

হযরত মিকদাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দাঁড়িয়ে বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাদের অন্তরে এতটুকু মুহব্বত মুবারক আছে যে, আমরা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উম্মতের ন্যায় বলবো না যে, আপনি আর আপনার প্রভু গিয়ে যুদ্ধ করুন। নাউযুবিল্লাহ! বরং আমরা আপনার গোলাম, আমরা দক্ষিণে, বামে, অগ্রে ও পশ্চাতে দাঁড়িয়ে যতক্ষণ দেহে প্রাণ আছে ততক্ষণ জিহাদ করতে থাকবো। সুবহানাল্লাহ!

হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ঈমানদীপ্ত জাওয়াব মুবারক শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ করলেন। এমনকি উনার মহাপবিত্র নূরুর রহমত মুবারক (মহাপবিত্র মুখম-ল মুবারক)-এ সন্তুষ্টি মুবারক উনার ভাব প্রকাশিত হয়ে উঠলো। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের পিতা-মাতা, আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জানের চেয়েও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক উনার ক্ষেত্রে উনারা অন্য আর কোনো কিছুকেই পরওয়া করতেন না। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

নিজের দেহকে ঢাল বানিয়ে বেমেছাল আত্মত্যাগ



হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত উহূদ যুদ্ধে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে উনার সঙ্গে সঙ্গে ছিলেন। যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তেও তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক-এ অটল ও অবিচল থাকেন। সেদিন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মসম্মানিত হাত মুবারক)-এ সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক বরণের জন্য বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন।

যুদ্ধের পূর্বক্ষণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার এক মহাসম্মানিত মহাপবিত্র তরবারী মুবারক মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাপবিত্র হাত মুবারক)-এ নিয়ে বললেন, "এটি কে নিবে?" উপস্থিত সকলেই হাত বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু এ মহাসম্মানিত তরবারী মুবারক উনার সুমহান হক্ব উনার ব্যাপারে আর কেউই কিছু না বলে চুপ থাকলেন; কিন্তু হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি পারবো এর হক্ব আদায় করতে।

কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করলেন, “এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র তরবারী মুবারক উনার হক্ব কি?” তিনি জবাবে ইরশাদ মুবারক করেন, “এ নিয়ে কোনো মুসলমানকে হত্যা না করা এবং এটি নিয়ে কাফিরদের ভয়ে পালিয়ে না যাওয়া”।

যুদ্ধের সময় মাথায় একটি কাপড়/পাগড়ী বেঁধে রাখা ছিল উনার অভ্যাস। সেটা বাঁধলে বুঝা যেত, তিনি এখন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাত মুবারক) থেকে তিনি তরবারিটি নিয়ে মাথায় কাপড়/পাগড়ী বাঁধলেন। তারপর একটা অভিজাত চলনে সৈনিকদের সারিতে গিয়ে দাঁড়ালেন। উনার চলার ধরণটা ছিল এক বিশেষ ধরনের যা তখন রীতিমত একটা দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছিল।

'আল-মাশহারা' নামে উনার একটি বর্ম ছিল। যুদ্ধের সময় তিনি সেটা পরিধান করতেন। এ কারণে উনাকে 'যুল মাশহারা' (মাশহারার অধিকারী) বলা হতো। উনাকে "যুস্সাইফাইন (দুই তরবারির অধিকারী)"-ও বলা হতো। কারণ, উহুদ যুদ্ধে তিনি দু'টি তরবারি দিয়ে লড়েছিলেন। একটি নিজের অপরটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার।

সম্মানিত উহুদ জিহাদ উনার কঠিন সময়ে যে মুষ্টিমেয় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ঘিরে নিজের দেহকে ঢাল বানিয়ে অটল হয়ে দাঁড়ান, উনাদের মধ্যে হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি অন্যতম। এদিন তিনি নিজের পিঠ পেতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। তাই শত্রুর নিক্ষিপ্ত তীর-বর্শার আঘাতে আঘাতে উনার পিঠ ঝাঁঝরা হয়ে যায়।

এ যুদ্ধের এক পর্যায় পৌত্তলিক আবদুল্লাহ ইবন হুমাইদ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসে। হযরত আবূ দুজানা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তাকে তরবারি দ্বারা প্রচ- আঘাত হেনে বলে ওঠেন, “আমি ইবন খারাশা”। সেই আঘাতে নরাধম ইবনে হুমাইদ ধরাশায়ী হয়। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি সাল্লাম তিনি উনার জন্য এই বলে দু’আ মুবারক করেন, "আয় মহান আল্লাহ পাক! আপনি ইবনে খারাশার (হযরত আবূ দুজানা) রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার প্রতি সন্তুষ্ট হন আমি উনার প্রতি সন্তুষ্ট।

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাদের পিতা-মাতা, আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ এমনকি নিজের জানের চেয়েও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা উনাদের জান-মাল সমস্ত কিছু কুরবান করে দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক উনার ক্ষেত্রে উনারা অন্য আর কোনো কিছুকেই পরওয়া করতেন না। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুশমন আবু জাহেলকে হত্যা করতে না পারলে বাড়িতে জায়গা দেয়া হবে না!



হযরত আফরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি হচ্ছে একজন আনছার মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। উনার সাত ছেলে। বড় ছেলের বয়স বড়জোর ১৫-১৬ হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য ভাল, উঁচা-লম্বা, দাড়ি-মোচ তখনো উঠে নাই। বদর জিহাদের সময় তিনি উনার বড় ছেলে আর দ্বিতীয় ছেলের সাথে চুক্তি করলেন যে, এরকম আমরা শুনেছি যে, আবূ জাহিল সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে। এ জিহাদে সে আসলে তাকে হত্যা করতে হবে। উনার দুই ছেলের সাথে উনি চুক্তি করলেন। উনার বাকি ছেলেরা আরো ছোট। তিনি উনার দুই ছেলের সাথে চুক্তি করলেন যে, আপনারা জিহাদে যাবেন এবং আবূ জাহিলকে হত্যা করবেন। আপনারা যদি শহিদও হয়ে যান, এতে আমার কোনো দাবি নাই। কিন্তু আবূ জাহিলকে যদি হত্যা করতে না পারেন তাহলে আপনাদের আমার বাড়িতে জায়গা নাই, এখানে আসতে পারবেন না। তাকে হত্যা করতে গিয়ে যদি আপনারা শহিদ হয়ে যান, শহিদ হয়ে যাবেন। কিন্তু আবূ জাহিলকে হত্যা করতে হবে শর্ত।

উনারা জিহাদে গেলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যেকের জিহাদে দাঁড়ানোর জায়গা ঠিক করে দিলেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খুব বড় পালোয়ান, উনার দুই পাশে দুইজনকে দাঁড় করিয়েছেন। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নিজেই পরবর্তীতে বর্ণনা করেছেন যে, আমি দাঁড়িয়ে রইলাম, দেখলাম আমার দুই পাশে দুইজন ছেলে, দাড়ি নাই, মোচও নাই। এই দুই ছেলে কী জিহাদ করবে! আমি মনে মনে চিন্তা করলাম, তাহলে আমার নিরাপত্তাটা কেমন হবে? আমাকে যদি আক্রমণ করে তাহলে আমি কতটুকু প্রতিহত করতে পারবো? উনি চিন্তা করতেছেন।

যুদ্ধ তখনো শুরু হয়নি। তখন ডান পাশ থেকে একজন ছেলে যিনি আসলেন, উনি এসে কানে কানে বললেন, চাচা- আবূ জাহিল কোনটা? তো উনি বললেন, আপনি আবূ জাহিল দিয়ে কী করবেন? বাচ্চা মানুষ, হ্যাঁ? আবূ জাহিল তো বড় পালোয়ান। উনি বলতেছেন- আমি আমার সম্মানিত মা উনার সাথে চুক্তি করেছি। কী চুক্তি করেছেন? যে, আবূ জাহিলকে যেভাবেই হোক হত্যা করতেই হবে। আবূ জাহিলকে হত্যা না করতে পারলে আমার বাড়িতে জায়গা নাই, আর আমি যদি শহিদও হয়ে যাই তাতেও কোনো অসুবিধা নাই, কিন্তু আবূ জাহিলকে হত্যা করতেই হবে। যখন তিনি এ কথা বললেন, তখন আমি ভালো করে দেখলাম উনার চেহারা-ছূরত। চিন্তা করলাম- সর্বনাশ, অনেক সাহস। উপযুক্ত ছেলে। আমি বললাম, ঠিক আছে আপনি থাকেন, আমি দেখিয়ে দিবো। বলে উনাকে বসিয়ে দিলেন। আবার ঠিক বাম দিক থেকে আবার আরেক ছেলে আসলেন। এসে বললেন, চাচা- আবূ জাহিল কোনটা? তো উনি আবার উনাকে বললেন, হ্যাঁ? আপনি আবূ জাহিল দিয়ে কী করবেন? আবূ জাহিল তো অনেক বড় পালোয়ান। উনি একই কথা বললেন যে, আমি আমার সম্মানিত মা উনার সাথে চুক্তি করেছি। কী চুক্তি করেছেন? চুক্তি হলো যে, আবূ জাহিলকে হত্যা করতেই হবে, তাতে আমি যদি শহীদ হয়ে যাইও তাতে কোনো আপত্তি নাই। কিন্তু তাকে হত্যা না করতে পারলে বাড়িতে আমার যাওয়া যাবে না। তাকে হত্যা করতেই হবে আমাকে।

এটা যখন উনি বললেন, তা উনি শুনে খুব আশ্চর্য হলেন। আবার ভাল করে দেখলেন। উনি বললেন, তখন আমার মনে খুব সাহস হলো যে, হ্যাঁ, আমার দুই পাশে দুইজন উপযুক্ত লোক আছে। এত সাহসী লোক তো পাওয়া যায় না। ঠিক কিছুক্ষণ পরেই যখন যুদ্ধ শুরু হলো আবূ জাহিলকে দেখা গেলো, তখন উনি ইশারা দিলেন যে, ঐযে আবূ জাহিল। উনার বক্তব্য হচ্ছে, বলার সাথে সাথে মনে হয় একটা বাজ পাখি চড়–ইকে যেভাবে থাবা দিয়ে ধরে। দুইজন এত দ্রুত গেলেন যে, কল্পনাও করা যায় না। গিয়ে ঠিকই আবূ জাহিলকে ধরাশায়ী করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের একজনকে আক্রমণ করেছিলো আবূ জাহিলের ছেলে হযরত আকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনি তখনও ঈমান আনেননি)। উনার একটা হাত কেটে ঝুলে গেছে। অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, এটা কেটে ফেলে দিন। তিনি বললেন, না আমি এটা ফেলবো না। আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে যাবো, উনি যা বলেন।

তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে গেলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘটনা জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, উনি সব বিস্তারিত বললেন। উনি বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, কাছে আসেন। উনি ধরে জোড়া লাগিয়ে দিলেন। তখন উনি বলতেছেন, এতে আমার হাতটি আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ!

ওই জিহাদে উনাদের দুই ভাইয়ের একজন শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু আবূ জাহিলকে উনারা ঠিকই হত্যা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

খুব চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কেমন ছিলেন, উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক কেমন ছিলো, উনাদের ছহীহ সমঝ কি রকম ছিলো! একজন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি যুদ্ধে যেতে পারছেন না। কিন্তু তিনি উনার দুই কিশোর ছেলেকে জিহাদে পাঠিয়ে দিলেন। চুক্তি করলেন, আবূ জাহিলকে হত্যা করতেই হবে। যদি উনারা দুইজন শহীদ হয়ে যান, হয়ে যাক কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু আবূ জাহিলকে হত্যা করতে হবে। কেনো? সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে বেয়াদবী করেছে। তাহলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বতটা কেমন ছিলো! উনারা তাহলে কতটুকু বুঝতে পেরেছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান-মান মুবারক কতটুকু! যে, উনার জন্য সমস্ত কিছু কুরবান করতে হবে, সবসময় দিতে হবে, মাল দিতে হবে, জান দিতে হবে, সবকিছু দিয়ে দিতে হবে। এবং উনারা তা-ই করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

হযরত যায়েদ ইবনে দাছিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বেমেছাল আত্মত্যাগ মুবারক



সম্মানিত বদর যুদ্ধে যেসব কাফির মারা যায়, তাদের আত্মীয়-স্বজনের অন্তরে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিলো। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার অধিবাসী সোফালা, তার দুইপুত্র এই যুদ্ধে হযরত আসেম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হাতে নিহত হয়। সুতরাং সোফালা মান্নত করলো, সে হযরত আসেম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাথা মুবারকের খুলি দ্বারা শরাব পান করবে। নাউযুবিল্লাহ! অতএব সে ঘোষণা দিলো, যে ব্যক্তি হযরত আসেম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাথা মুবারক এনে দিতে পারবে তাকে একশত উট পুরস্কার দেয়া হবে।

এই ঘোষণায় আকৃষ্ট হয়ে সুফিয়ান বিন খালিদ নামক জনৈক কাফির প্রস্তুত হতে লাগলো। আজল এবং কারা নামক গোত্রের কিছু সংখ্যক লোককে সে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফে পাঠালো। তারা নিজেদেরকে মুসলমান বলে পরিচয় দিলো। তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট তা’লীম ও তাবলীগ অর্থাৎ সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দাওয়াতের জন্য কিছু সংখ্যক লোককে তাদের এলাকাতে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করলো। বিশেষ করে হযরত আসেম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকেও তাদের সাথে পাঠাবার দরখাস্ত করলো। তিনি ছিলেন একজন সুবক্তা/ সুন্দর আলোচক।

তাদের দরখাস্ত অনুযায়ী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আসেম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে দশ জন বা ছয় জন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে পাঠালেন। উনাদের মাঝে হযরত যায়েদ ইবনে দাছিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও ছিলেন। পথিমধ্যে ঐ ছদ্মবেশী কাফিররা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তারা উনাদের উপর আক্রমণ করার জন্য হুযায়ল গোত্রকে আহ্বান করলো।

হুযায়লীরা নিজেদের সরদার খালিদ সুফিয়ানের হত্যার প্রতিশোধের জন্য মুসলমানদের উপর রুষ্ট ছিলো। তারা ভাবলো উনাদেরকে বন্দী করে কুরাইশদের হাতে বিক্রি করলে একদিকে আমাদের সরদার খালিদ সুফিয়ানের হত্যার প্রতিশোধও গ্রহণ করা হবে। অপর দিকে প্রচুর অর্থও উপার্জন করা যাবে। সুতরাং হুযায়ল বংশের দুইশত লোক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উনাদের উপর আক্রমণ করলো।

হযরত আসেম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি শহীদ হলেন। হযরত যায়েদ ইবনে দাছিনা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত খুবাইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে তারিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা বন্দী হলেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে তারিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সুযোগ বুঝে হাতের বন্ধন খুলে তরবারি নিয়ে শত্রুদেরকে আক্রমণ করেন। তাদেরকে কতল করতে করতে এক পর্যায়ে তিনিও শহীদ হয়ে যান। কাফির নরপিশাচরা অবশিষ্ট দুই জন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনাদেরকে কুরাইশদের হাতে বিক্রয় করে দেয়।

উমাইয়ার পুত্র সাফওয়ান স্বীয় পিতার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে ক্রয় করে। হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে শহীদ করার জন্য উমাইয়ার পুত্র সাফওয়ান স্বীয় ক্রীতদাস নাস্তাদ এর সাথে তানঈম নামক স্থানে প্রেরণ করলো। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ-এ অবস্থান করা কাফির পিশাচ নর-নারী এবং বালক বালিকারা উনার শাহাদতবরণ করার দৃশ্য অবলোকন করে আনন্দ উপভোগ করার জন্য এসে সমবেত হলো। শহীদকারী যখন তরবারি হাতে নিয়ে উনাকে শহীদ করার জন্য প্রস্তুত হলো। তখন সমবেত লোকদের মধ্য হতে হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তখনও তিনি সম্মানিত ঈমান গ্রহণ করেন নি) তিনি বলে উঠলেন,

হে হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু! আপনি কী এটা পছন্দ করবেন যে, আপনাকে ছেড়ে দেয়া হবে; আপনি আপনজনদের কাছে, পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে যাবেন। আর আপনার পরিবর্তে এখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা হবে?’

হযরত যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু উনার ঈমানি ঈমানী কুওওয়াত উজ্জিবীত হয়ে উঠল। ঈমানি জযবায় জ্বলে উঠে গুরুগম্ভীরভাবে দ্বীপ্ত কণ্ঠে জবাব দিলেন,

‘মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমার প্রাণের বিনিময়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা তো দূরের কথা, আমি তো এটুকুও মেনে নেব না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হুযরা শরীফ-এ অথবা নিজ অবস্থানে থেকেই সামান্য কাঁটাবিদ্ধ হয়ে বিন্দুমাত্র তাকলীফ মুবারক (কষ্ট) গ্রহণ করবেন; আর আমি আমার আপনজনদের কাছে আরামে বসে থাকব। ’

তখন হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন-

وَاللهِ مَا رَأَيْتُ مِنْ قَوْمٍ قَطُّ اَشَدَّ حُبًّا لِّصَاحِبِهِمْ مِنْ اَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহিব্বীন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনার প্রতি যেরূপ মুহব্বত ও ভক্তি পোষণ করে থাকেন, দুনিয়ার কোনো জাতির মধ্যেই তার তুলনা নেই। সুবহানাল্লাহ!

তারপর সাফওয়ানের ক্রীতদাস নাস্তাদ তরবারি দ্বারা উনাকে আঘাত করলো এবং তিনি হাসিমুখে পবিত্র কালিমা তায়্যিবাহ শরীফ পাঠ করতে করতে সম্মানিত শাহাদাত মুবারক বরণ করলেন। সুবহানাল্লাহ!

খুব চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক কেমন ছিলো, উনাদের ছহীহ সমঝ মুবারক কেমন ছিলো! উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এত বেশী মুহব্বত মুবারক করেছেন যে, উনারা হাসিমুখে উনাদের জীবন কুরবান করে দিয়েছেন, সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করেছেন কিন্তু তবুও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লম উনার সামন্য থেকে সামান্যতম তাকলীফ মুবারক হয় এমন কিছু উনারা কিছুতেই মেনে নেননি। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকে জীবন কুরবানকারী কেউ আছে কী?’



পবিত্র উহুদ জিহাদে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূল পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণের গুজব ছড়ানোর কিছু সময় পর কাফির শত্রুরা যখন স্বচক্ষে দেখতে পেলো যে তিনি মহাসম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করেননি বরং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল ইস্তাওয়া শান মুবারক (মহাসম্মানিত সুস্থতা শান মুবারক)-এ দাঁড়িয়ে অবস্থান মুবারক করছেন। তখন কাফিরদের বিরাট একটি দল উনাকে শহীদ করার জন্য দৃঢ় সংকল্প নিয়ে উনার দিকে অগ্রসর হলো। নাউযুবিল্লাহ! শত শত তীর বর্শা নিক্ষিপ্ত হতে লাগলো। অজস্র তরবারির আঘাত পড়তে লাগলো।

অন্যান্য কাফির শত্রুরা সংবাদ পেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে ছুটে আসতে লাগলো এবং ক্রমান্বয়ে কাফিরদের সংখ্যা ও আক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে লাগলো।

এক এক বার শত্রুরা কালো মেঘের ন্যায় চতুর্দিক আচ্ছন্ন করে উনার দিকে অগ্রসর হয়ে উনার সাথে বেয়াদবী করার চেষ্টা করতে লাগলো। কিন্ত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার যুলফিকারের চতুর্মুখি প্রসারিত তীব্র ও ঘন বিদ্যুৎতের প্রচ- আঘাতে সব ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হতে লাগলো। কিন্তু মালঊন কাফেররা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বচক্ষে দেখে ঘোষণা দিলো, এটাই সুযোগ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করার। নাউযুবিল্লাহ! মালঊন কাফিররা আরো ঘোষণা করতে লাগলো যে, আজকে যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করা না যায়, তাহলে আর কখনো এমন সুযোগ আসবে না। নাউযুবিল্লাহ! তাই কাফেররা দ্বিগুণ উৎসাহে বারবার আক্রমণ করতে লাগলো।

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বীর বিক্রমে এই আক্রমণ প্রতিরোধ করতে লাগলেন এবং পাল্টা আক্রমণ করতে লাগলেন। এবার চতুর্দিক থেকে ক্রমাগত উনার উপর তরবারি ও তীর বর্শার বৃষ্টি বর্ষিত হতে লাগলো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘোষণা মুবারক দিলেন এ সময় জীবন কুরবান করতে পারে এমন কেউ আছে কী?

হযরত যিয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন- আমি আছি, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ বলে তিনি তরবারি নিয়ে মালঊন কাফেরদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। উনার সাথে আরো পাঁচজন হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও বললেন- আমরাও আছি, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী মুবারক উনার আনজাম দেয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে বীর বিক্রমে কাফেরদেরকে আক্রমণ করলেন। উনাদের প্রত্যেকেই জীবনের শেষ পর্যন্ত তরবারি চালাতে থাকেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য নিজেদের জান কুরবান করে পবিত্র শাহাদাত মুবারক লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আশিকে রসূল হযরত যিয়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দেহ মুবারক জমিনে শায়িত অবস্থায় দেখতে পেয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনাকে তুলে এনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকদ্বয় (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কদম যুগল মুবারক) উনাদের নিকট পৌঁছালেন। তখনো তিনি পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক লাভ করেননি। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারকদ্বয় (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কদম যুগল মুবারক) উনাদের উপর উনার মুখ মুবারক রেখে পবিত্র শাহাদাত মুবারক লাভ করলেন। সুবহানাল্লাহ!

খুব চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা কত বেমেছালভাবে সীমাহীন মুহব্বত মুবারক করেছেন। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ডাক মুবারকে, উনার মুহব্বত মুবারকে, উনার সন্তুষ্টি মুবারকের লক্ষ্যে নিজেদের জীবনকে কুরবান করে দিতে এক মূহুর্তের জন্যও কুণ্ঠাবোধ করেননি, এক মূহুর্তের জন্যও উনারা চিন্তা করেননি। সুবহানাল্লাহ! উনারা চিন্তুা করেন নি যে, আমি যদি পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক বরণ করি তাহলে আমার পিতা-মাতার কি হবে, আমার আহলিয়া-সন্তানদের কি হবে। সুবহানাল্লাহ! এমনই ছিলো উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিকট নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক ছিলেন সমস্ত কিছুর উর্ধ্বে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকে উনারা উনাদের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তানসহ সকলকিছুকেই এমনকি নিজের জীবনকেও কুরবান করার জন্য সদা প্রস্তুত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সুমহান মুহব্বত মুবারক উনার নিকট অন্য সমস্ত কিছুই ছিলো অতি তুচ্ছ থেকে তুচ্ছ। সুবহানাল্লাহ! এজন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন,

فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهٰ فَقَدْ اهْتَدَوْا.

অর্থাৎ- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তোমরা (পরবর্তী উম্মতরা) সম্মানিত ঈমান মুবারক গ্রহণ করতে পারো তাহলে তোমরা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৭)

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!