বিরহের মালা গাথি একাকী নিরালা
রাসূলী মুহাব্বতে হতে চাই উজালা

মনোমুগ্ধকর নতুন নাত শরীফ ২০২৬
পাঠক: মুহম্মদ হারুনুর রশীদ
লিখক: মুহম্মদ আবুল হুসাইন
ভিডিও: নাহিদুল ইসলাম আকরাম

২৭শে ছফর শরীফ।
সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম।
-------------------------------------
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ উনারা হচ্ছেন ৮ জন।
৪ জন আবনা অর্থাৎ ছেলে। ৪ জন বানাত অর্থাৎ মেয়ে।
৪ জন আবনা উনারা প্রত্যেকেই অল্প সময় দুনিয়ার যমিনে অবস্থান মুবারক করেন

উনাদের মধ্যে
নুরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম
তিনি মাত্র ২২ মাস। নূরুছ ছানি আলাইহিস সালাম তিনি ৭ দিন।
নুরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি ৮ দিন।
আর নুরুর রবি আলাইহিস সালাম তিনি ১৬ মাস দুনিয়ার যমিনে অবস্থান মুবারক করেন।

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
৪ জন বানাত উনারা প্রত্যেকেই
সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার যুগ পেয়েছেন, সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হিজরত মুবারক করেছেন, এবং উনাদের নিসবতে আযীম শরীফ ও সুসম্পন্ন হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ।

উনাদের মধ্যে
আন নুরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদ ছিলেন ৩ জন।
আন নুরুছ ছানিয়া আলাইহাস সালাম উনার আওলাদ ছিলেন ১ জন।
আন নুরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম
উনার কোন আওলাদ ছিলেন না ।
আর নুরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার আওলাদ ছিলেন ৬ জন।
এই হচ্ছেন হাফাদতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাতী এবং নাতনী আলাইহিমুস সালাম আলাইহিন্নাস সালাম। উনারা হচ্ছেন ১০ জন।
৪ জন সিবতাতু অর্থাৎ নাতনী ৬ জন সিবতু অর্থাৎ নাতী।

আর আজকের আলোচনার যিনি মধ্যমনি তিনি হচ্ছেন সিবতু এবং সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনারা ১০ জন।
উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন সর্বপ্রথম।
তিনি সর্বপ্রথম দুনিয়ার যমিনে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।
উনারা ভাই বোন হচ্ছেন ৩ জন। ২ জন ভাই একজন বোন।
তিনি ৩ জন ভাই বোন উনাদের মধ্যেও প্রথম।

উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত
উমামাহ আলাইহাস সালাম।
তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ,
সম্মানিত মিরাজ শরীফ সংঘটিত হওয়ার পরের দিন। রজবুল হারাম শরীফ উনার ২৮ তারিখ। ইয়াওমুল ছুলাছা শরীফ।
তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক
৫১তম বছর।

উনার যিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
পিতা তিনি হচ্ছেন,
হযরত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম। উনার সম্মানিত নাম মুবারক হচ্ছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ আলাইহিস সালাম।

আর উনার মহাসম্মানিতা মাতা হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল, আলাল আলামিন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নুরুল ঊলা আলাইহাস সালাম।
উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা
নাম মুবারক হচ্ছেন,
সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম।
বংশগত দিক থেকে তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ বংশ মুবারক উনার অধিকারী। কুরাইশ বংশ হাশেমী শাখা। সুবহানাল্লাহ।

সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম
উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন।
আন নূরুর রবিয়াহ অর্থাৎ বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি
বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ওছিয়ত মুবারক করেন।
আমার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর আপনি সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে নিসবাতুল আযীম শরীফ করবেন।

এরপর আন নুরুর রবিয়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ১১ হিজরী শরীফে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর, ইমামুল আউওয়াল
সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম
তিনি উনার খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য উনাকে নিসবাতুল আযীম শরীফ করেন। সুবহানাল্লাহ।

ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি ৪০ হিজরী শরীফে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
এরপর সাইয়য়িদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদ, সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ আলাইহিস সালাম উনার নাতী সাইয়্যিদুনা হযরত মুগীরাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে উনার নিসবাতুল আযীম শরীফ
অনুষ্ঠিত হন। সেখানে উনার একজন আওলাদ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
সুবহানাল্লাহ।

এরপর ৪৫ হিজরী শরীফ উনার ২৭ শে ছফর শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
তিনি দুনিয়ার যমিনে অবস্থান মুবারক করেন ৪৬ বছর ৬ মাস ২৯ দিন।
---------------------------------------------

উনার খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট ফযিলত মুবারক বেমেছাল
উনি হচ্ছেন সাইয়্যিদা, উনি হচ্ছেন রায়হান, মুত্বহার মুত্বহির
এক কথায় আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক হচ্ছেন তিনি।
এবং প্রাথমিক ভাবে তিনি হচ্ছেন
একজন ছাহাবীয়া।
এরপর হচ্ছেন আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,
আবার বলা হচ্ছে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ উছিলা মুবারক, অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
যেই সমস্ত মাধ্যম দিয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছু কবুল করে থাকেন।

উনার খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট ফযিলত মুবারক বেমেছাল,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে অনেক মুহব্বত মুবারক করতেন।
আর তিনি যখনই সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে দেখতেন , দেখার সাথে সাথে,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অন্তর মুবারক আনন্দে ভরে যেতেন।
সুবহানাল্লাহ।

উনার বয়স মুবারক যখন অল্প তখন দেখা যেত তিনি সবসময়
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ঝুলে থাকতেন। অর্থাৎ কখনো দেখা যেত উনার কাধ মুবারকে আবার কখনো দেখা যেত উনার পিঠ মুবারকে তিনি থাকতেন।
এবং নামাযের সময় তিনি যখন
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কাধ মুবারকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিঠ মুবারকে উঠতেন।
তখন তিনি যেন কষ্ট না পান সেই জন্য
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নামাযকে দিঘ্র করতেন।
এই ভাবে তিনিও উনাকে খুশি করতেন। সুবহানাল্লাহ।

তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার নিসবত মুবারক কেমন ছিলেন। এটা চিন্তা ফিকের বিষয়।
অনেক মুহব্বত মুবারক করতেন উনাকে।
তিনি
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার নানীজান উম্মুল মুমিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের
মুহব্বত মুবারক লাভ করেছেন উনি এবং উনার ভাই। এরপর তৃতীয় হিজরী শরীফ থেকে ৬ জন সিবতু সিবতাতু উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

সম্মানিত হাদীছ শরীফে বর্নিত রয়েছে ,
উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি সেটা বর্ননা করেছেন। একবার
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে আকীক জাতীয় বিশেষ মনি দ্বারা তৈরী একখানা হার মুবারক আসলেন । এরপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,
নিশ্চয় আমি এই হার মাবারক খানা আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে যিনি আমার কাছে বেশি প্রিয় তাকে হাদিয়া মুবারক করবো।
সকলেই মনে করলেন তিনি সম্ভবত
উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দিকা আলাইহাস সালাম উনাকে দিবেন। কিন্তুু দেখা গেল
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার নুরুন নাযাহাহ্ অর্থাৎ গলা মুবারকে পরিয়ে দিলেন।
সুবহানাল্লাহ।
তাহলে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে কতো প্রিয় ছিলেন ?
কতো মুহব্বতের ছিলেন তিনি ? সুবহানাল্লাহ।

সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার আম্মাজান
তিনি ৮ম হিজরীতে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।
এরপর
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে কষ্ট মুবারক সেটাও তিনি হালকা করে দিতেন। অর্থাৎ সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মাঝে এমন কিছু ছিল যে,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিনি বড় মেয়ে তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর যেই কষ্ট মুবারক উনার।
সেটা উনাকে দেখার সাথে সাথে হালকা হয়ে যেত। সুবহানাল্লাহ।
অনেক মুহব্বত মুবারক করতেন তিনি উনাকে। সমস্ত সৃষ্টি যেখানে

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারক পাওয়ার জন্য বেকারার, পেরাশান,
সেখানে তিনি সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে বেমেছাল মুহব্বত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ।

তাহলে উনার ফযিলত মুবারক কতো ?
তিনি হচ্ছেন
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারক হাছিলের সর্বশ্রেষ্ঠ উছিলা মুবারক।
উনাকে মুহব্বত মুবারক করার মাধ্যম দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রেযামন্দী সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করা যায়। সুবহানাল্লাহ।

ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনারা সেটা করেছেন। সিবতু এবং সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার মাধ্যমে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করার কোশেশ করেছেন।
কারন উনারা হচ্ছেন নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করার সর্বশ্রেষ্ঠ উছিলা মুবারক।
সুবহানাল্লাহ।

উনার যে, শান মান ফযিলত মুবারক সেটা কল্পনাতীত বিষয়, বেমেছাল বিষয়।
আর অন্য দিকে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত সংপ্রিক্ত হওয়ার কারনে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যত সম্মান ইজ্জত ফযিলত খুছুছিয়ত পবিত্রতা শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক সব কিছুর অধিকারী হচ্ছেন তিনি।
তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব মাহবুব
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা নন৷
এছাড়া সমস্ত ফযিলতের মালিক হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ।

মূলত উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংযুক্ত সংপ্রিক্ত করে , মুতহার মুতহির করে সমস্ত কিছুর মালিক করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ ।

সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হচ্ছে,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
যারা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষন করবে,
মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে হাশরের মাঠে ইহুদিদের দলভুক্ত করে উঠাবেন।

বিষয়টি আরো স্পষ্ট করার জন্য একজন ছাহাবী রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন,
ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি তারা নামায পড়ে, রোযা করে, এবং দাবী করে যে তারা মুসলমান এরপরেও কি তাদের একই ফায়সালা।
তখন তিনি বললেন যদি তারা নামায পড়ে, রোযা করে, হজ্জ করে, যাকাত দেয়, এবং দাবী করে যে তারা মুসলমান ।
এরপরেও মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট করে দিয়ে তাদেরকে হাশরের মাঠে ইহুদীদের দলভুক্ত করে উঠাবেন।

তাহলে সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার ফযিলত মুবারক কতো ?
এ জন্য বলা হয় উনার মুহব্বত মুবারক হচ্ছে ঈমান। আর বিদ্বেষ পোষন করা হচ্ছে কুফরী।

কাজেই সমস্ত কিছুর চাইতে উনাকে বেশি মুহব্বত মুবারক করতে হবে ।
এটা মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত সৃষ্টির জন্য ফরয করে দিয়েছেন।
আর আজকের দিবসটি হচ্ছে উনার নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করা দিবস।
আজকে হচ্ছে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। আজকে যারা এই দিবসটিকে মুহব্বত মুবারক করবে, তাযিম করবে, খুশি মুবারক প্রকাশ করবে, তারা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করবে, এতে কোন সন্দেহ নাই।

খলিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান পুরুষ মহিলা জ্বীন ইনশান আমাদের সবাইকে
সিবতাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা
আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বী মুহব্বত মুবারক করার মাধ্যম দিয়ে,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিসবত কুরবত রেযামন্দি সন্তুুষ্টি মুবারক হাছিল করার তাওফিক দান করুন।
আমিন।

image

✴️এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْصِنِي فَقَالَ خُذِ الْأَمْرَ بِالتَّدْبِيرِ فَإِنْ رَأَيْتَ فِي عَاقِبَتِهِ خَيْرًا فَأَمْضِهِ وَإِنْ خِفْتَ غَيًّا فَأَمْسِكُ. ( رواه في شرح السنة)

হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললেন, (হে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন, আপনি চিন্তা-ভাবনা করে কাজ সম্পাদন করুন। যদি দেখেন তার পরিনাম ভালো, তবে তা সম্পাদন করবেন। আর যদি ভালো না হওয়ার আশঙ্কা করেন, তবে তা হতে বিরত থাকবেন।

[শরহুস সুন্নাহ শরীফ]

অর্থাৎ যেকোনো কাজ সম্পাদন করা বা কাজের সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে প্রথমে চিন্তা করতে হবে যে, সেই কাজ করার দ্বারা কোনো লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না। যে কাজের পরিণাম ভালো তাতে কোনো লজ্জা নেই আর যে কাজের পরিণাম ভালো নয় তাতে কার্য সম্পাদনকারীর জন্য রয়েছে লজ্জা ও অপমান।

কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে লজ্জাশীল হওয়ার তাওফীক্ব দান করেন। (আমীন)

✴️অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ زَيْدِ ابْنِ طَلْحَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِكُلِّ دِيْنِ خُلُقًا وَخُلُقُ الْإِسْلَامِ الْحَيَاءُ. (رواه مالك مرسلا وراه ابن ماجه والبيهقي في شعب الايمان عَنْ أَنَسٍ وَ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُمَا)

হযরত যায়েদ ইবনে জ্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক দ্বীনেরই একটি বিশেষ স্বভাব রয়েছে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্বভাব হলো লজ্জা।

[মুয়াত্তা, ইবনে মাজাহ ও বাইহাক্বী শরীফ]

যারা দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করবে তাদের স্বভাব, লজ্জা দ্বারা সৌন্দর্যমন্ডিত হবে। কোন কাজ করার পূর্বে লক্ষ্য করবে এর ফলাফল কি দাঁড়াবে। যদি কাজটির কারণে লজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাহলে এরূপ কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

✴️পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْحَيَاءَ وَالْإِيْمَانَ قَرْنَاءُ جَمِيعًا فَإِذَا رُفِعَ أَحَدُهُمَا رُفِعَ الْآخَرُ وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ فَإِذَا سُلِبَ أَحَدُهُمَا تَبِعَهُ الآخر . (رواه البيهقي في شعب الإيمان)

হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই লজ্জা এবং ঈমান উভয়ই অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। যখন উভয়ের একটি চলে যায় তখন অপরটিও চলে যায়। আর হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বর্ণনায় এসেছে, যখন উভয়ের একটিকে ছিনিয়ে নেয়া হয় তখন অপরটিও তার অনুসরণ করে।

[বাইহাক্বী ফী শুয়াবিল ঈমান]

✴️অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيْمَانِ وَالْإِيْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَالْبَذَاءُ مِنَ الْجَفَاءِ وَالْجَفَاءُ فِي النَّارِ . (رواه احمد والترمذى)

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ। আর ঈমানের স্থান জান্নাতে। আর নির্লজ্জতা হলো দুশ্চরিত্রের অঙ্গ। আর দুশ্চরিত্রের স্থান জাহান্নামে। [আহমাদ শরীফ ও তিরমিযী শরীফ]

যাদের লজ্জা আছে তারাই উত্তম চরিত্রের অধিকারী।

লজ্জার মন্দ দিক হলো, লজ্জা করে নেক কাজ করা থেকে বিরত থাকা। যেমন- বোরকা পরিধান করতে লজ্জাবোধ করা, সুন্নতি পোশাক পরিধান করতে লজ্জাবোধ করা, দাড়ি রাখতে লজ্জাবোধ করা, অন্যের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহ করতে লজ্জাবোধ করা, ইলম শিখতে লজ্জাবোধ করা, তা'লীম-তালক্বীন দান করতে লজ্জাবোধ করা; এগুলো লজ্জার মন্দ দিক।

আর লজ্জার ভালো দিক হলো, নেক কাজ করা। কারো যদি লজ্জা থাকে তাহলে সে নেক কাজ করবে। কেননা নেক কাজ না করাই লজ্জার কারণ। যদি নেক কাজ করা না হয় তাহলে সে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে কিভাবে মুখ দেখাবে? তাই লজ্জায় ও ভয়ে গুনাহর কাজ করা থেকে বিরত থাকবে, বেশি বেশি নেক কাজ করবে। লজ্জাশীলতা এভাবেই মানুষকে নেক কাজের দিকে ধাবিত করবে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন উনার ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য। আর ইলম অর্জন না করলে ইবাদত-বন্দেগী করা যাবে না।
তাই ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে লজ্জা করা যাবে না। কেউ যদি এরূপ করে তাহলে ইলম অর্জন না করাই তার জন্য লজ্জার কারণ হবে। এক্ষেত্রে প্রকৃত লজ্জাশীলতার লক্ষণ হবে, ইলম অর্জন করে সে অনুযায়ী আমলের কোশেশ করা।

✴️পবিত্র হাদীছ শরীফে আরও বর্ণিত রয়েছে,

عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَيَاءُ لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ. (متفق عليه) وفي رواية لمسلم الحَياءُ خَيْرٌ كُلُّه.

হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, লজ্জাশীলতা কল্যাণ ব্যতীত কোনো কিছুই আনয়ন করে না।

[বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, লজ্জাশীলতার পুরোটাই বা সর্বাংশই উত্তম। অর্থাৎ লজ্জাশীলতার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত কিছুই উত্তম।

✴️৩৬. লজ্জাশীলতা ঈমানের অঙ্গ

২১শে শা'বান, ১৪৪১ হিজরী (ইয়াওমুছ ছুলাছা)

লজ্জাশীলতা উত্তম চরিত্রের অন্তর্ভূক্ত এবং পবিত্র ঈমানের অংশ।

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِّنَ الْإِيْمَانِ. (متفق عليه)

লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। [বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ]

✴️পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَكُوْنُوْا اِمَّعَةً تَقُوْلُوْنَ إِنْ أَحْسَنَ النَّاسُ أَحْسَنًا وَإِنْ ظَلَمُوا ظَلَمْنَا وَلَكِنْ وَطِنُوْا أَنْفُسَكُمْ إِنْ أَحْسَنَ النَّاسُ أَنْ تُحْسِنُوا وَإِنْ أَسَاءُوا فَلَا تَظْلِمُوا. (رواه الترمذي)

হযরত হুযায়ফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা অপরের অনুসরণকারী হয়ো না যে, তোমরা বলবে, লোকে ভালো ব্যবহার করলে আমরাও ভালো ব্যবহার করবো। আর যদি তারা অত্যাচার করে তবে আমরাও অত্যাচার করবো। বরং তোমাদের অন্তরে এ কথা স্থির করে নাও যে, যদি মানুষ ভালো ব্যবহার করে তোমরাও ভালো ব্যবহার করবে। আর যদি তারা মন্দ ব্যবহার করে, তবে তোমরা অবিচার করবে না।

[তিরমিযী শরীফ]

মূলত ভাল ব্যবহারের বদলে ভাল ব্যবহার করা সহজ। আর কারো খারাপ ব্যবহারের বদলে তার সাথে ভাল ব্যবহার করা কঠিন হলেও তাতে বান্দার জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। এই পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যায় যে, প্রকৃত ভালো ব্যবহার হচ্ছে, কেউ মন্দ ব্যবহার করলেও এর বিপরীতে তার সাথে ভালো ব্যবহার করা।

জানা আবশ্যক, চরিত্রকে উত্তমভাবে গড়ে তুলতে হলে ক্বলবী যিকিরের মাধ্যমে বদ স্বভাবগুলো অন্তর থেকে বের করে দিতে হবে। যখন দশ লতিফার যিকির করা হবে, তখন অন্তর থেকে ধীরে ধীরে বদ স্বভাবগুলো দূর হয়ে নেক স্বভাব পয়দা হবে অর্থাৎ স্বভাব-চরিত্র উত্তম হবে। যিকিরের আরো অনেক সবক আছে কিন্তু এটা হচ্ছে প্রাথমিক সবক। তাই দশ লতিফার যিকির জারী করা প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফীক্ব দান করেন। (আমীন)

✴️পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ عَلَى نَاسٍ جُلُوسٍ فَقَالَ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِكُمْ مِنْ شَرِّكُم ؟ قَالَ فَسَكَتُوْا فَقَالَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَقَالَ رَجُلٌ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ! أَخْبِرْنَا بِخَيْرِنَا مِنْ شَرِّنَا فَقَالَ خَيْرُكُمْ مَنْ يُرْجَى خَيْرُهُ وَيُؤْمَنُ شَرُّهُ وَشَرُّكُمْ مَنْ لَا يُرْجَى خَيْرُه وَلَا يُؤْمَنُ شَره. (رواه الترمذي والبيهقي

في شعب الإيمان)

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিছু উপবিষ্ট লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, মন্দ লোক হতে কারা ভালো, সে বিষয়ে আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা'য়ালা আনহুম উনারা চুপ করে ছিলেন। এভাবে তিনি তিনবার বললেন। তখন একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! হ্যাঁ, অবশ্যই আপনি আমাদেরকে সংবাদ দিন মন্দ লোকদের থেকে কারা ভালো সে বিষয়ে। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের মধ্য থেকে ভালো ঐ ব্যক্তি, যার থেকে কল্যাণের আশা করা যায় এবং তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ থাকা যায়। আর তোমাদের মধ্যে মন্দ বা নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার থেকে কল্যাণের (ভালো ব্যবহার, ভালো কাজের) আশা করা যায় না এবং যার অনিষ্টতা (মন্দ ব্যবহার) থেকে নিরাপদে থাকা যায় না। নাউযুবিল্লাহ!

[তিরমিযী শরীফ ও বাইহাক্বী শরীফ]

তাই যে ব্যক্তি মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে এবং মন্দ আচরণ করে না, সে ব্যক্তিই উত্তম। আর যার থেকে ভালো ব্যবহারের আশা করা যায় না, যার মন্দ ব্যবহার থেকে মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে না, সে ব্যক্তিই মন্দ। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ভালো-মন্দ উভয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। তাই আমাদেরকে একে অপরের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে, সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।