হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র ইজমা শরীফ হয়েছে যে, “যা কিছু আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে এসেছেন উনাদের মর্যাদা পবিত্র কা’বা শরীফ এমনকি পবিত্র আরশে আযীম ও পবিত্র কুরসী মুবারক উনাদের চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি।”
পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারকে আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ বলা হয়। যা মুসলিম উম্মাহর রহমত, বরকত হাছিলের এক সুমহান দিন। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ পালন করার জন্য এখন থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারকে আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ বলা হয়। যা মুসলিম উম্মাহর রহমত, বরকত হাছিলের এক সুমহান দিন। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ পালন করার জন্য এখন থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার শেষ ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) দিনটিই কুল-কায়িনাতে ‘পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বা শরীফ’ হিসেবে মশহুর। যে মুবারক দিনে মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুল ইহসান মুবারক বা মারীদ্বী শান মুবারক থেকে মহাপবিত্র ছিহহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যার কারণে মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সকলেই বেমেছাল ঈদ বা খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিহহাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন তা দেখতে পেয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনারা অত্যন্ত আনন্দিত হন। শুধু তাই নয়, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং এ উপলক্ষে উনাদের সাধ্যমতো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাদিয়া মুবারক পেশ করেন। এছাড়া গরিব-মিসকিনদেরকেও দান সদকা করেন। সেক্ষেত্রে আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাত হাজার দিনার, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পাঁচ হাজার দিনার, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি দশ হাজার দিনার, আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তিন হাজার দিনার এবং মুবাশশারুল জান্নাহ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একশত উট ও একশত ঘোড়া হাদিয়া করেন।

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র ইজমা শরীফ হয়েছে যে, “যা কিছু আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে এসেছেন উনাদের মর্যাদা পবিত্র কা’বা শরীফ এমনকি পবিত্র আরশে আযীম ও পবিত্র কুরসী মুবারক উনাদের চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি।” সুবহানাল্লাহ! তায়াল্লুক-নিসবত থাকার কারণে কোনো কিছু যদি এত মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী হয়ে থাকে; তাহলে যে তারিখে, যে দিবসে, যে মাসে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ ঘটনা সংঘটিত হয়েছেন উনার মর্যাদা-মর্তবা মুবারক কত বেশি হবে সেটা খুব সহজেই অনুধাবনীয়। অর্থাৎ পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ উনার ফযীলত কতটুকু তা ফিকির করতে হবে।

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফাত-মুহব্বতে গরক্ব ব্যক্তি তথা মুসলমানরা সে মুবারক দিনটিকে মা’রিফাত-মুহব্বত লাভের উসীলা সাব্যস্ত করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের অনুসরণে যুগ যুগ ধরে ‘মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ হিসেবে পালন করে আসছেন। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে যারা উত্তমভাবে অনুসরণ করে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের প্রতিও সন্তুষ্ট।” সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমাদের জন্য আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এবং হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পবিত্র সুন্নত মুবারক অবশ্য পালনীয়।” সুবহানাল্লাহ!

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- পবিত্র ছফর শরীফ মাস উনার আরবিয়ায়িল আখির বা শেষ বুধবারকে আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ বলা হয়। যা মুসলিম উম্মাহর রহমত, বরকত হাছিলের এক সুমহান দিন। সুবহানাল্লাহ! তাই সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘মহাপবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ’ পালন করার জন্য এখন থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘কোনো ব্যক্তি আমার প্রতি মুহব্বতের সাথে পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করলে তা আমি সরাসরি শুনি এবং আমি পাঠকারীদেরকে চিনি।’ সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি উম্মতের মহাপবিত্র ছলাত শরীফ ও মহাপবিত্র সালাম শরীফ পাঠ শুনেন এবং পাঠকারীদেরকে দেখেন এবং চিনেন। সুবহানাল্লাহ!
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
মহাসম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি উম্মতের মহাপবিত্র ছলাত শরীফ ও মহাপবিত্র সালাম শরীফ পাঠ শুনেন এবং পাঠকারীদেরকে দেখেন এবং চিনেন। সুবহানাল্লাহ!
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার প্রতি দশটি রহমত নাযিল করবেন।’ সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন এবং তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করা হবে ও তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।” সুবহানাল্লাহ! মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের ফযীলত সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ওই ব্যক্তিই ক্বিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটে থাকবে, যে আমার প্রতি অধিক মাত্রায় মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে।” সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ‘জিয়াউল ইফহাম’ কিতাব উনার উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোনো ব্যক্তি আমার প্রতি মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করলে তা আমার নিকট পৌঁছে। তখন আমরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম জিজ্ঞেস করলাম, এটা আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পরেও? উত্তরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন- হ্যাঁ, এ নিয়ম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পরেও বলবৎ থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! ‘আনিসুল জালীস’ কিতাবে উল্লেখ করা আছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ! আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার পর প্রতি ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার ও ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার বেশি করে মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবেন, আপনাদের মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ আমি সরাসরি শুনি।” সুবহানাল্লাহ! ‘দালায়িলুল খাইরাত’ কিতাবে উল্লেখ করা আছে, “একদা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো- বাহ্যিকভাবে আপনার থেকে দূরে অবস্থানকারী ও পরবর্তীকালে পৃথিবীতে আগমনকারী উনাদের মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ আপনার মুবারক দৃষ্টিতে কি রকম হবে? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- আন্তরিকতা ও অকৃত্রিম মুহব্বত সহকারে মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠকারীদের মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ আমি নিজেই শুনি এবং তাদেরকে চিনিও। সুবহানাল্লাহ! আর যাদের অন্তরে আমার প্রতি অকৃত্রিম মুহব্বত নেই, তাদের পবিত্র দুরূদ শরীফও আমার কাছে পেশ করা হয়।”

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অকাট্যভাবেই প্রমাণিত হলো যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে মহাপবিত্র ছলাত শরীফ বা মহাপবিত্র দুরূদ শরীফ ও মহাপবিত্র সালাম শরীফ পাঠ শুনেন। যা উনার মহাসম্মানিত হাজির ও নাযির হওয়ার এবং বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত উনাদেরই বহিঃপ্রকাশ। তাই আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান মুবারক, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করতঃ উনার প্রতি যথাযথ তা’যীম-তাকরীম ও সম্মান প্রদর্শন এবং পরিপূর্ণ ছানা-ছিফত মুবারক ও বেশি বেশি মহাপবিত্র ছলাত শরীফ ও মহাপবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করার মাধ্যমে মহান মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।

মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ১২ই রবিউল আউওয়াল শরীফ (১৪৪৮ হিজরী) বাকি আর মাত্র ১৬ দিন।

image

image

image

image

image

মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত(১১)

نحضرت صلی اللہ تعالی علیہ وآلہ وسلم دیدہ اند کہ ازین معرکہ مولود بسیار راضی) (اند"ওয়াকায়ে আন-হযরত সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম দীদে আন্দ কে আযীন মা’রাকা-ই মাওলুদ বেসিয়ার রাযী আন্দ।"মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে আয়োজিত মাহফিল (মা’রাকা-ই-
মাওলিদ)-এর ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট।)
মূল ফারসি ইবারত:
"حضرت میر محمد نعمان رحمۃ اللہ علیہ و بعضی یاران اینجائی کہ در وقائع آنحضرت صلی اللہ تعالی علیہ وآلہ وسلم دیدہ اند کہ ازین معرکہ مولود بسیار راضی اند"
বাংলা উচ্চারণ: "হযরত মীর মুহাম্মদ নোমান রহমতুল্লাহি আলাইহি ওয়া বা’যে ইয়ারানে ঈনজাই কে দার ওয়াকায়ে আন-হযরত সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম দীদে আন্দ কে আযীন মা’রাকা-ই মাওলুদ বেসিয়ার রাযী আন্দ।"
অর্থ: হযরত মীর মুহাম্মদ নোমান রহমতুল্লাহ আলাইহি এবং এখানকার কয়েকজন ওলি আল্লাহ জাগ্রত অবস্থায় দেখেছেন যে, মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে আয়োজিত মাহফিল (মা’রাকা-ই-মাওলিদ)-এর ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

‘মা’রাকা-ই-মাওলিদ’-এর স্বরূপ:এই সমাবেশটি এতটাই উদ্দীপনামূলক ছিল যে, একে রূপকভাবে ‘মা’রাকা-ই-মাওলিদ’ বা ‘জন্মের যুদ্ধক্ষেত্র’ (Battlefield of the Birth) বলা হতো। মুঘল আমলে বুরহানপুরে হযরত মীর মুহাম্মদ নোমান রহমতুল্লাহ আলাইহি ও্তািউনার পরিচিত আউলিয়ায়ে কিরাম উনার ব্যাপক উদ্দীপনা ও জনসমাবেশের মাধ্যমে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে মাহফিল করতেন, তাকে রূপকভাবে ‘মা’রাকা-ই-মাওলিদ’ বলা হতো। মাহফিলে উপস্থিত আলেম, ওলামা এবং গরিব-দুঃখীদের মাঝে খাবার বা তাবাররুক বিতরণ করা হত।দরুদ শরীফ পাঠ,হামদ নাত, ক্বাছিদা শরীফ পাঠ হত।হাদিয়া আদান-প্রদান হত।ধনী-গরিব সবাই এক কাতারে বসে তাবাররুক গ্রহণ করত।উম্মতের হৃদয়ে নবীপ্রেমের চেরাগ প্রজ্বলিত হত।
নবীপ্রেমের চূড়ান্ত প্রমাণ।স্বীকৃতি স্বরুপ মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্তুষ্টিমুলক দিদার মুবারক।
তিনি খুশি হয়েছেন আয়োজকদের ‘ইখলাস’ বা খাঁটি নিয়ত দেখে। সেখানে উপস্থিত মানুষগুলোর অন্তরে হাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি যে নিখাদ টান, চোখের পানি, মুহব্বত সহ দরুদ শরীফ পাঠ এবং গরিব-দুঃখীর মুখে খাবার তুলে দেওয়ার উদারতা ছিল!

একটি সাধারণ আনুষ্ঠানিক সভা মনে করতেন না। এটিকে তারা ‘মা’রাকা’ বা যুদ্ধক্ষেত্র বলেছেন। কেন? নফসের বিরুদ্ধে লড়াই: দুনিয়াতে মানুষের মন বা নফস সবসময় অলসতা, অহংকার ও দুনিয়াদারির দিকে টানে। কিন্তু যখন একজন মানুষ জাগতিক সব ব্যস্ততা ফেলে নিজ খরচে, নিজ হাতে বা আয়োজনে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে উনার শানে দরুদ পড়তে বসেন, কালামুল্লাহ শরীফ শোনেন,রাসুলের আলোচনা এবং মানুষকে খাওয়ান—তখন তাকে নিজের অলসতা ও নফসের বিরুদ্ধে একটা ছোটখাটো যুদ্ধ করতে হয়।

এই ত্যাগ ও সাধনার মাধ্যমেই বান্দার দিল বা মন থেকে দুনিয়ার মোহ দূর হয়ে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মান ও মুহব্বত এর আলো জ্বলে ওঠে। এজন্যই সেই আয়োজনকে রূপক অর্থে ‘মা’রাকা-ই-মাওলিদ’ বা মিলাদের ময়দান বলেছিলেন।একটি মামুলি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনের একটি মুজাদা বা সংগ্রামের সমতুল্য।

২. মূল ঐতিহাসিক উৎস, লেখক এবং প্রামাণিক ফারসি ইবারত
এই মাহফিলের আধ্যাত্মিক গ্রহণযোগ্যতা ও ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে মুজাদ্দিদিয়া তরিকার প্রধান আকর গ্রন্থসমূহের বিবরণ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও প্রামাণিক:

প্রধান কিতাবের নাম: মাকতুবাত-ই-ইমাম-ই-রব্বানী (Maktubat-i-Imam-i-Rabbani)
লেখকের নাম: হযরত মুজাদ্দিদ আলফে সানী শেখ আহমদ সিরহিন্দি (রহ.)
অন্যান্য প্রামাণিক আকর গ্রন্থ: মাকতুবাত-ই-মাসুমিয়া (রচয়িতা: হযরত মুহাম্মদ মাসুম রহ.) এবং সা’দাত-ই-আবাদিয়া
চিঠির অবস্থান: ৩য় খণ্ডের ৭২ নম্বর মাকতুব (অনেক সংস্করণে ৫ম খণ্ডের ২৭৩ নম্বর মাকতুব, পৃষ্ঠা ৭২৯–৭৩৪)
মুহতারাম মহাপবিত্র ৯০ দিনব্যাপী আজীমুশ্বান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাহফিল - আজ ৪৩তম দিন।তাবারুকে হাদিয়া করুন: ১২০০ /১২০০০/ ১২০০০০+
সরাসরি শুনুন:http://Sm40.com
01739466730 বিকাশ এজেন্ট

SM40 - Discover Trending Content
Sm40.com

SM40 - Discover Trending Content

The Simplest Media

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১২)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কারণে যালিম হওয়া সত্ত্বেও একজন শাসককে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করলেন এবং তার শত্রুকে গায়িবী তীর দ্বারা নিশ্চিহ্ন করে দিলেন এবং ঘোষণা মুবারক দিলেন, ‘তুমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করেছো, তাই আমি তোমাকে রক্ষা করেছি। যদি তুমি আরো বেশি সম্মান করো, তাহলে আমি তোমার সম্মান আরো বাড়িয়ে দিবো।’ সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন-

وَحُكِىَ عَنْ بَعْضِ الْـخُلَفَاءِ اَنَّهٗ كَانَ يَـجُوْرُ فِـىْ حُكْمِهٖ وَكَانَ ظَالِمًا لٰكِنْ لَّه عَادَةٌ يُـحِبُّ قِرَاءَةَ مَوْلِدِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَعْمَلُ الْوَلِيْمَةَ لِقِرَاءَتِهٖ وَكَانَ لَه اِبْنُ عَمٍّ يَرُوْمُ الْـخِلَافَةَ وَيَـتَوَقَّعُ لَهُ الدَّوَاهِىْ حَتّٰـى اَرَادَ اَنْ يَّقْتُلَه وَيَنْزَعَ الْـمُلْكَ مِنْهُ فَلَمَّا كَانَ فِـىْ بَعْضِ الْاَيَّامِ وَهُوَ فِـىْ خَلْوَةٍ مُنْفَرِدٌ عَنِ النَّاسِ مِنْ غَـيْـرِ سِلَاحٍ وَلَا خَادِمٍ عِنْدَه اِذْ دَخَلَ عَلَيْهِ اِبْنُ عَمِّهٖ وَهَجَمَ عَلَيْهِ وَالْـخَنْجَرُ بِيَدِهٖ وَقَالَ لَه مَنْ يُّـخَلِّصُكَ مِنِّـىْ يَا خَبِيْثُ بَيْنَ النَّاسِ فَجَرٰى عَلٰى لِسَانِ الْـخَلِيْفَةِ يُـخَلِّصُنِـىْ مِنْكَ مَوْلِدُ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا اِسْتَتَمَّ كَلَامَه حَتّٰى خَرَجَ مِنَ الْـحَائِطِ نَبْلَةٌ اَصَابَتْ فُؤَادَه فَخَرَّ مَيِّـتًا وَسَـمِعَ هَاتِفًا يَّـقُوْلُ عَظَّمْتَ مَوْلِدَ حَبِـيْبِـىْ سَيِّدِنَا مَوْلـٰنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَجَّيْنَاكَ فِـاِنْ زِدْتَّ زِدْنَاكَ فَتَابَ الْـخَلِيْفَةُ عَنِ الْـجَوْرِ وَالظُّـلْمِ وَصَارَ يُنْفِقُ ثُلُثَ مَالِهٖ فِـىْ كُلِّ سَنَةٍ عَلٰى مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “একজন খলীফার ব্যাপারে বর্ণিত রয়েছে যে, সে তার শাসনামলে যুলুম-অত্যাচার করতো এবং সে ছিলো একজন যালিম। তবে তার একটি আদত বা অভ্যাস ছিলো- সে মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে মুহব্বত করতো এবং মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে ওলীমা বা মেহমানদারীর আয়োজন করতো। সুবহানাল্লাহ! তার একজন চাচাতো ভাই ছিলো, সে খিলাফত কামনা করতো এবং খলীফার জন্য বিভিন্ন দুর্ঘটনা প্রত্যাশা করতো। এমনকি খলীফাকে হত্যা করে তার থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিতে চাইতো। অতঃপর একদিন যখন খলীফা নিরস্ত্র অবস্থায় এবং কোনো খাদিম-খুদ্দাম ব্যতীত লোকজন থেকে পৃথক হয়ে একাকী জনমানবহীন স্থানে যায়, তখন হঠাৎ খলীফার চাচাতো ভাই তার নিকট আসে এবং সে খঞ্জর হাতে খলীফার উপর আক্রমণ করে বলে, ‘হে মানুষরূপী খবীছ! তোমাকে আমার থেকে কে রক্ষা করবে?’ তখন খলীফার জবান দিয়ে (নিজের অজান্তেই) বের হয়ে গেলো, ‘মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফই আমাকে তোমার থেকে রক্ষা করবেন।’ সুবহানাল্লাহ! খলীফার কথা পূর্ণ না হতেই অদৃশ্য থেকে একটি তীর এসে তার হৃদপি-ে আঘাত করে, ফলে সাথে সাথেই সে মরে (যমীনে) পড়ে যায়। তখন খলীফা (মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে) গায়িবী নেদা মুবারক শুনতে পায়, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলছেন- ‘তুমি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদত শরীফ উনাকে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করেছো, তাই আমি তোমাকে রক্ষা করেছি। যদি তুমি আরো বেশি সম্মান করো, তাহলে আমি তোমার সম্মান আরো বাড়িয়ে দিবো।’ সুবহানাল্লাহ! অতঃপর খলীফা অন্যায়-অত্যাচার, যুলুম-নির্যাতন থেকে তওবা করেন এবং প্রতি বছর মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে উনার ধন-সম্পদের এক তৃতীয়াংশ খরচ করতে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (কিতাবু ফাদ্বায়িলি মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৫ নং পৃষ্ঠা, রিসালাতু মাওলিদিন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪ নং পৃষ্ঠা)

এখন বলার বিষয় হচ্ছে যে, একজন যালিম শাসক যদি বৎসরে একবার মাত্র মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কারণে এই বিশেষ নেয়ামত মুবারক লাভ করে, তাহলে কেউ যদি অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন, তাহলে তিনি কত বেমেছাল নেয়ামত মুবারক লাভ করবেন? মূলত এটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ হচ্ছেন সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আমল মুবারক। কাজেই, কেউ যদি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেন, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ঐ ব্যক্তি উনাকে দায়িমীভাবে গাইবী মদদ মুবারক করবেন। সৃষ্টির জানা-অজানা সমস্ত প্রকার বিপদ-আপদ, বালা-মুছীবত থেকে কুদরতীভাবে হিফাযত করবেন এবং উনাকে বিশেষ নিসবত মুবারক দানে ধন্য করবেন। সুবহানাল্লাহ! পৃথিবীর কোনো অপশক্তি কাস্মিনকালেও উনার কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (১১)

৩) সবচেয়ে বড় নাফরমান সর্বোচ্চ জান্নাতী

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন-

اِنَّ رَجُلًا عَصَى اللهَ مِائَتَـىْ سَنَةٍ يَّتَمَرَّدُ وَيَجْتَرِئُ عَلَيْهِ فِيْهَا كُلَّهَا فَلَمَّا مَاتَ اَخَذَ بَنُوْ اِسْرَائِيْلَ بِرِجْلِهٖ وَاَلْقَوْهُ عَلـٰى مَزْبَلَةٍ فَاَوْحَى اللهُ اِلـٰى حَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَيْهِ الصَّلـٰوةُ وَالسَّلَامُ اَنْ غَسَّلَهٗ وَكَفَّنَهٗ وَصَلّٰى عَلَيْهِ فِـىْ جَمْعِ بَنِـىْ اِسْرَائِيْلَ فَفَعَلَ مَا اَمَرَهُ اللهُ تَعَالـٰى بِهٖ فَتَعَجَّبَ بَنُوْ اِسْرَائِيْلَ مِنْ ذٰلِكَ فَاَخْبَرُوْهُ اَنَّهٗ لَـمْ يَكُنْ فِـىْ بَنِـىْ اِسْرَائِيْلَ اَعْتٰى مِنْهُ وَلَا اَكْثَرَ مَعَاصِىْ مِنْهُ فَقَالَ قَدْ عَلِمْتُ وَلٰكِنَّ اللهَ اَمَرَنِـىْ بِذٰلِكَ فَقَالُوْا سَلْ رَبَّكَ فَسَاَلَ حَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ رَبَّهٗ عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ يَا رَبِّ قَدْ عَلِمْتَ مَا قَالُوْا فَاَوْحَى اللهُ اِلَيْهِ اَنْ صَدَقُوْا مَا قَالُوْا اِنَّهٗ عَصَانِـىْ مِائَتَـىْ سَنَةٍ اِلَّا اَنَّ يَوْمًا مِّنَ الْاَيَّامِ فَتَحَ التَّوْرَاةَ فَنَظَرَ اِلَـى اسْمِ سَيِّدِنَا مَوْلـٰـنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا فَقَبَّلَهٗ وَوَضَعَهٗ بَيْنَ عَيْنَيْهِ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى وَصَلّٰى عَلَيْهِ فَشَكَرْتُ لَهٗ ذٰلِكَ فَغَفَرْتُ لَهٗ ذُنُوْبَ مِائَتَىْ سَنَةٍ وَّزَوَّجْتُهٗ سَبْعِيْنَ حَوْرَاءَ

অর্থ: “নিশ্চয়ই (বনী ইসরাঈলের) এক ব্যক্তি (যে দুই শত বছর হায়াত পেয়েছিলো এবং) দুই শত বছর মহান আল্লাহ পাক উনার নাফরমানী করেছিলো। সে তার সম্পূর্ণ হায়াতে মহান আল্লাহ পাক উনার চরম অবাধ্য ও নাফরমানীতে মশগূল ছিলো, বেপরোয়া ছিলো। (যার কারণে কেউ তাকে পছন্দ করতো না এবং সকলে চরম ঘৃণা করতো।) ফলে সে যখন ইন্তেকাল করল, তখন বনী ইসরাঈলরা তার পায়ে ধরে তাকে টেনে হেঁচড়ে গোবর পূর্ণ স্থানে, গোবরের স্তূপে নিক্ষেপ করল। তারপর যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি জলীলুল ক্বদর নবী এবং রসূল হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করেন যে, তিনি যেন বনী ইসরাঈলের সমস্ত লোকজন নিয়ে ঐ ব্যক্তির গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করেন এবং তার জানাযার নামায পড়েন। মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নির্দেশ মুবারক করলেন, হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি তাই করলেন। এই কারণে বনী ইসরাঈলরা আশ্চর্য হলো। তারা বললো, সে এমন এক ব্যক্তি- যার মতো অত্যধিক সীমালঙ্গনকারী, চরম অবাধ্য, অত্যন্ত কঠিন হৃদয়ের অধিকারী, চরম বেপরোয়া, কর্কশভাষী, বড় যালিম, চরম বেআদব, সেরকাশী (অবাধ্য) এবং অত্যধিক পাপীষ্ঠ, গুনাহগার আর কেউ ছিলো না। হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি তা জানি। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে এরূপ করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তখন তারা সবাই বললো, আপনি (দয়া করে) আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনাকে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করুন (যে, এর হাক্বীক্বত কী?)। তারপর হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনাকে সুওয়াল করলেন। তিনি বললেন, আয় বারে এলাহী! বনী ইসরাঈলরা যা বলেছে আপনি অবশ্যই তা জানেন। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত ওহী মুবারক করলেন যে, বনী ইসরাঈলরা যা বলেছে তা সত্যই বলেছে। নিশ্চয়ই সে দুই শত বছর আমার নাফরমানী করেছে। তবে সে একদিন সম্মানিত ও পবিত্র তাওরাত শরীফ খুলে দেখতে পেলো যে, সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিখিত রয়েছেন। তখন সে খুশি মুবারক প্রকাশ করে অত্যন্ত মুহব্বতে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম মুবারক ‘সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার মধ্যে (একবার মাত্র) বুছা দিয়েছিলো এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করে অত্যন্ত মুহব্বতে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম মুবারক তার দুই চোখে লাগিয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছেন, এবং সে উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করেছিলো অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছিলো। সুবহানাল্লাহ! এই কারণে আমি তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেছি। সুবহানাল্লাহ! তার দুই শত বছরের (জীবনের) সমস্ত গুনাহ-খতাগুলো ক্ষমা করে দিয়েছি এবং তার সাথে সত্তর জন হূরের বিবাহ দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ তার উপর জাহান্নাম হারাম করে সম্মানিত জান্নাত মুবারক ওয়াজিব করে দিয়েছি এবং আপনার মতো একজন জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল আলাইহিস সালাম উনার জন্য তার গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তার জানাযার নামায পড়া ফরয করে দিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা ১/২৯, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৪১২, সীরাতে হালবিয়্যাহ্ ১/১৩৬, তাফসীরে দুররে মানছূর ৩/৫৭৯, শরহুল বুখারী ২/১১৯ ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক মাত্র একবার বুছা দিলে, চোখে স্পর্শ মুবারক করলে অথবা উনার প্রতি একবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করলে অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে সামান্য সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে যদি দুইশত বছরের সমস্ত গুনাহ্-খতা মাফ করে দেয়া হয়, ঐ ব্যক্তি উনার উপর জাহান্নাম হারাম করে দিয়ে সম্মানিত জান্নাত মুবারক ওয়াজিব করে দেয়া হয়, ৭০ জন হূরের সাথে বিবাহ দেওয়া হয় এবং ঐ ব্যক্তি উনার গোসল, কাফন ও দাফনের ব্যবস্থা করা এবং তার জানাযার নামায পড়া জলীলুল ক্বদর নবী এবং রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর ফরয করে দেয়া হয়, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার ফযীলত মুবারক কত বেমেছাল এটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! আর এই উম্মত যদি খালিছ নিয়তে দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে, তাহলে কত বেমেছাল নিয়ামত মুবারক লাভ করবে, সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মুসলমান উনাদেরকে এই সীমাহীন নিয়ামত ও ফযীলত মুবারক থেকে মাহরূম করার জন্য বাতিল ৭২ ফিরক্বার লোকেরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে থাকে, নানা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! সারা দুনিয়ার সমস্ত সম্মানিত মুসলমান উনাদের জন্য ফরয হচ্ছে বাতিল ৭২ ফিরক্বার লোকদের সর্বপ্রকার বিভ্রান্তি ও চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া এবং যথাযথ তা’যীম-তাকরীম এবং সীমাহীন আদব-শরাফত ও মুহব্বতের সাথে, সাখাওয়াতির সাথে, অত্যন্ত জাঁকযমকের সাথে দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা। সুবহানাল্লাহ!

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে, উনারই জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে ইতিহাসে নযীরবিহীন অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক জারী করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! এরপরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাস মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মাস উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ) উনার সম্মানার্থে ১৪৪৪ হিজরী শরীফ থেকে বিশেষভাবে ৯০ দিনব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার ইন্তেযাম মুবারক করছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! তাই, সকলের জন্য ফরয হচ্ছে মাল-জান সমস্ত কিছু দিয়ে হাক্বীক্বীভাবে উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া। সুবহানাল্লাহ!