মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৭৭নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
“আপনি বলুন, দুনিয়াবী সম্পদ সামান্য। আর মুত্তাকীগণ উনাদের জন্য পরকালই উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।" পরকালরে তুলনায় দুনযি়াবী সম্পদ অতি সামান্য।
তাই, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- দুনিয়ার পিছনে না ঘুরে পরকালের দিকে মনোনিবেশ করা। এ জন্য তাক্বওয়া বা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের ইত্তেবা বা অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারক মুতাবিক জীবন পরিচালনা করতে হবে।
, ১৮ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৭ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
“আপনি বলুন, দুনিয়াবী সম্পদ সামান্য। আর মুত্তাকীগণ উনাদের জন্য পরকালই উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।" পরকালরে তুলনায় দুনযি়াবী সম্পদ অতি সামান্য।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:
ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৭৭নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনি বলুন, দুনিয়াবী সম্পদ সামান্য। আর মুত্তাকীগণ উনাদের জন্য পরকালই উত্তম এবং তোমাদের প্রতি সামান্য অবিচারও করা হবে না।”
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়াবী সম্পদকে সামান্য বলেছেন। আর এই সামান্য সম্পদের পরিমাণ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত মুসতাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার উদাহরণ হলো, তোমাদের কেউ যদি মহাসাগরে তার একখানা আঙ্গুল ডুবিয়ে দেয়, সে যেন লক্ষ্য করে যে ঐ আঙ্গুলের মাথায় কি পরিমাণ পানি উঠে আসে।”
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে তিনি আঙ্গুলের মাথায় উঠে আসা পানিকে দুনিয়ার সাথে আর সাগরকে পরকালের সাথে তুলনা করা হয়েছে। তাই মানুষ যদি পুরো দুনিয়ার সম্পদের মালিকও হয় সে ততটুকুই হাছিল করতে পারবে, যতটুকু আঙ্গুলের মাথায় পানি উঠে আসে। এই দুনিয়ায় যা দেয়া হয়েছে তা পরকালের তুলনায় খুবই সামান্য।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, বর্ণিত আছে, সর্বনিম্ন জান্নাতী যারা হবেন উনাদের প্রতিদান হবে এই দুনিয়ার মতো দশ দুনিয়া। মানুষ দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার পরও দুনিয়ার সম্পূর্ণ সম্পদ লাভ করতে পারে না। তারপরও মানুষ এই দুনিয়ার পিছনেই মহামূল্যবান সময় ব্যয় করে যাচ্ছে। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি উপরোক্ত আয়াত শরীফের পরবর্তী অংশে ইরশাদ মুবারক করেন, যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করেন, উনাদের জন্য পরকালই উত্তম।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তাক্বওয়া মানে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের ইত্তেবা বা অনুসরণ করা হবে। কারণ তাক্বওয়া অবলম্বন করতে হলে চিন্তা-ফিকির করতে হয় কোন কাজটা করা যাবে আর কোন কাজটা করা যাবে না। কিন্তু আমরা যখন আচার-আচরণ, স্বভাব-চরিত্র, চলাফেরা, উঠাবসা, খাওয়া-দাওয়া, পোশাক পরিচ্ছদ সর্বক্ষেত্রেই সুন্নত মুবারকের অনুসরণ করবো তখন আর এই চিন্তা-ফিকির করতে হবে না। আপসেআপ তাক্বওয়া অর্জন হয়ে যাবে। শুধু কষ্ট করে সুন্নতী ত্বরীকা জানতে হবে এবং আমল করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের বিপরীত হলো বিদয়াত। তাই একটি বিষয় সবসময় স্মরণ রাখতে হবে, যে সুন্নত মুবারক পরিত্যাগ করলো সে বিদয়াত জারি করলো আর যে সুন্নত মুবারক জারি করলো সে বিদয়াত দূর করলো আর প্রত্যেক বিদয়াত-ই গোমরাহী।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত গুদ্বাইফ ইবনুল হারিছি ছুমালী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে সম্প্রদায় একটি বিদয়াতের উদ্ভব ঘটিয়েছে বা শুরু করেছে, তার অনুরূপ একটি সুন্নত বিলুপ্ত হয়েছে। অতঃপর একটি সুন্নত আঁকড়িয়ে ধরা একটি বিদয়াত উদ্ভব করা হতে বা শুরু করা হতে উত্তম।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কেউ এমন একটি বিষয় উদ্ভাবন করলো বা শুরু করলো যা আমাদের (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার) এই দ্বীনে নেই, তা পরিত্যাজ্য।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হযরত ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়াহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার পরে তোমরা যারা বেঁচে থাকবে, শীঘ্রই তারা অনেক মতবিরোধ দেখবে, অতএব তোমাদের জন্য আবশ্যক হবে আমার সুন্নত মুবারক এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খলীফাগণ উনাদের সুন্নত মুবারক দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা। তোমরা নতুন উৎপত্তি বা নতুন কাজ থেকে বেঁচে থাকো, নিশ্চয়ই প্রত্যেক নতুন উৎপত্তি বা নতুন কাজই বিদয়াত আর প্রত্যেক বিদয়াতই গোমরাহী।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার উম্মতের ফিতনা-ফাসাদের যুগে আমার একটি সুন্নত মুবারক আঁকড়িয়ে ধরবে তার জন্য থাকবে একশত শহীদের সওয়াব। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- পরকালের তুলনায় দুনিয়াবী সম্পদ অতি সামান্য। তাই, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- দুনিয়ার পিছনে না ঘুরে পরকালের দিকে মনোনিবেশ করা। এ জন্য তাক্বওয়া বা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করা। আর এটা তখনই সম্ভব হবে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের ইত্তেবা বা অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ পবিত্র সুন্নত মুবারক মুতাবিক জীবন পরিচালনা করতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছেন তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।’ সুবহানাল্লাহ!
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। সার্বিকভাবে সর্বক্ষেত্রে উনাকে অনুসরণ করা সকলের জন্যই ফরয। সুবহানাল্লাহ!
তাই কোনো মুসলমানের জন্য কস্মিনকালেও কোনো কাফির, মুশরিক, বিধর্মী, বেদ্বীন-বদদ্বীনকে কোনো অবস্থাতেই বিন্দু থেকে বিন্দুতমও অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয নেই। বরং তা সম্পূর্ণরূপেই হারাম, নাজায়িয ও কুফরী হবে এবং তা জাহান্নামী হওয়ার কারণও হবে। নাউযুবিল্লাহ!
, ১৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৪ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য একমাত্র অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। সার্বিকভাবে সর্বক্ষেত্রে উনাকে অনুসরণ করা সকলের জন্যই ফরয। সুবহানাল্লাহ!
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আজকাল মুসলমানদেরকে দেখা যায়- তারা অনেক ক্ষেত্রেই বেদ্বীন-বদদ্বীন, কাফির-মুশরিক, বিধর্মী ও ফাসিক-ফুজ্জারদেরকে অনুসরণ করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! অথচ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদিন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা ইহুদীদের থেকে তাদের কিছু ধর্মীয় কথা শুনে থাকি, যাতে আমরা আশ্চর্যবোধ করি, এর কিছু আমরা লিখে রাখবো কি? মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, আপনারাও কি দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন? যে রকম ইহুদী-নাছারারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে? অবশ্যই আমি আপনাদের নিকট পরিপূর্ণ, উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীন নিয়ে এসেছি। হযরত মুসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যদি দুনিয়ায় থাকতেন, তাহলে উনাকেও আমার অনুসরণ করতে হতো।” সুবহানাল্লাহ! এখন ফিকিরের বিষয় হলো- ইহুদীদের নবী ও রসূল হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার জন্যও যদি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করা ফরয হয়, তবে আমাদের জন্য উনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করার গুরুত্ব কতটুকু রয়েছে- তা আমাদেরকে জানতে ও বুঝতে হবে।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি এ প্রসঙ্গে মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার বরাত দিয়ে বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো বা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত হাছিল করতে চাও, তবে তোমরা আমার অনুসরণ করো। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন এবং তোমাদের গুনাহখাতা ক্ষমা করবেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যধিক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এক কথায় মহাসম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই পুঙ্খানুপুঙ্খ (ইতায়াত) অনুসরণ ও অনুকরণ করতে হবে। কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করার অর্থই হলো মহান আল্লাহ পাক উনার অনুসরণ করা। তাই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করলো, সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনারই অনুসরণ করলো।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন- মহাসম্মানিত হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিদায় হজ্জ উনার সময় আরাফাতের ময়দানে লক্ষাধিক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের উপস্থিতিতে বলেন, “আমি তোমাদের মধ্যে দুটি নিয়ামত মুবারক রেখে গেলাম, যতদিন তোমরা এ দুটি নিয়ামত মুবারক আঁকড়িয়ে থাকবে, ততদিন তোমরা গুমরাহ্ হবে না। একটি হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব মুবারক, আর দ্বিতীয়টি হলো- আমার সুন্নত মুবারক।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- কোনো মুসলমানের জন্য কস্মিনকালেও কোনো কাফির, মুশরিক, ইহুদী-নাছারা, মজুসী, হিন্দু-বৌদ্ধ, বেদ্বীন-বদদ্বীন, মুরতাদ তথা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নায়ক-নায়িকা, বাদক-বাদিকা, গায়ক-গায়িকা, খেলোয়ার সে যে কেউ হোক না কেন এবং দুনিয়াবী দৃষ্টিতে ছূরতান যত যোগ্যতাসম্পন্নই মনে করা হোক না কেন; তাকে কোনো অবস্থাতেই বিন্দু থেকে বিন্দুতমও অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয হবে না; বরং তা সম্পূর্ণরূপেই হারাম, নাজায়িয ও কুফরী হবে এবং তা জাহান্নামী হওয়ার কারণও হবে। নাউযুবিল্লাহ! অতএব, সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই একমাত্র কুল-কায়িনাতের সকলের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। সার্বিকভাবে সর্বক্ষেত্রে উনাকে অনুসরণ করা সকলের জন্যই ফরযে আইন।
সাইয়্যিদ আব্বাস ইবনে আলাভী আল-মালিকী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, তিনি যখন ছোট ছিলেন, তখন মক্কার লোকেরা বছরে দু’বার বড় বড় কাফেলা নিয়ে মদিনা মুনাওয়ারার উদ্দেশে সফর করতেন। তাঁদের বিদায় জানাতে যেন গোটা মক্কা নগরীই বেরিয়ে আসত। প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি গভীর আকুলতা ও ভালোবাসায় সকলের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠত। কারণ দূরত্ব ও সফরের প্রয়োজনীয় সামর্থ্যের অভাবে অনেকের পক্ষেই মদিনায় যাওয়া সম্ভব হতো না।
তাঁরা গাধা ও ঘোড়ায় চড়ে এবং পায়ে হেঁটে সফর করতেন। সফরের প্রতিটি মুহূর্ত মুখর থাকত প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রশংসায় রচিত নাশিদ, মাওলিদ ও আনন্দময় মাহফিলে। মক্কার লোকেরা পুরো সফরজুড়ে সুন্দর সুন্দর কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং ‘ইয়া নবী সালাম!’ ধ্বনিতে পথ মুখরিত করে রাখতেন। মরুভূমিতে তাঁবু খাটিয়ে রাতযাপন করতেন। অনেকের জন্য এই সফর সম্পন্ন করতে দশ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেত।
তাঁরা যখন মদিনা মুনাওয়ারা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে পৌঁছতেন, তখন সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং নিজেদের সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করতেন। মদিনাবাসী শহরের উপকণ্ঠে এসে তাঁদের স্বাগত জানাতেন। তাঁরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করতেন এবং আগত মেহমানদের খাবার ও পানীয় পরিবেশন করতেন। সেই সঙ্গে তাঁরা গাইতেন—‘তালা‘আল বাদরু ‘আলাইনা’ (طلع البدر علينا)। দিনটি যেন এক আনন্দোৎসবের দিনে পরিণত হতো।
এরপর সবাই মুখে দরুদ ও সালাম পাঠ করতে করতে মদিনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করতেন এবং ‘বাবুস সালাম’-এর দিকে এগিয়ে যেতেন। এই দরজায় পৌঁছার পর গোটা শহর যেন দাঁড়িয়ে যেত। তাঁরা তাঁদের সর্বোত্তম কবিতাগুলো আবৃত্তি করতেন এবং বলতেন—‘ইনি আমাদের সরদার মুহাম্মদ ﷺ, কিয়ামতের দিনের মুক্তির ওসিলা!’
এরপর তাঁরা অশ্রুসিক্ত চোখ ও বিগলিত হৃদয়ে প্রিয় নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর দরবারে সালাম পেশ করতেন।
এসব ঘটনা আজ থেকে আশি বছরেরও কম সময় আগের। আহা! কী অপূর্ব ও ভালোবাসায় ভরা দিনই না ছিল সেসব!
-সায়্যিদুনা মুহাম্মদ বিন আলাভী আল মালেকি রাহিমাহুল্লাহ, মক্কা শরিফের বিশিষ্ট সুফি এবং গত শতাব্দীর মক্কা শরিফের অন্যতম বিখ্যাত ফকিহ এবং আহলে বাইতে রাসূল।
লেখা সংগ্রহ
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
اُدْخُلُوْا فِى السِّلْمِ كَافَّةً
অর্থ : তোমরা পরিপূর্ণভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ২০৮)
আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সর্বোতভাবেই নিন্মোক্ত চারটি উছূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেগুলোর বাইরে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোন বিষয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। আর তাহলো- যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়,
اُصُوْلُ الشَّرْعِ ثَلَاثَةٌ اَلْقُرْاٰنَ الشَّرِيْفُ وَالْـحَدِيْثُ الشَّرِيْفُ وَالْاِجْـمَاعُ وَرَابِعُهَا الْقِيَاسُ
অর্থ : সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দলীল মোট চারটি (১) পবিত্র কুরআন শরীফ (২) পবিত্র হাদীছ শরীফ (৩) পবিত্র ইজমা শরীফ ও (৪) পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ। সুবহানাল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার, উছূলুশ শাশী)
আমাদের সমাজের কিছু নামধারী তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে পরিচয় দানকারী ব্যক্তিবর্গ নিজেদেরকে সুন্নী অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসারী দাবী করা সত্ত্বেও দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কয়েকটি পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের ও কয়েকটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ভুল, মনগড়া, বিভ্রান্তিমূলক অপব্যাখ্যা করে সরলপ্রাণ মুসলমান উনাদের মধ্যে ফিৎনার সৃষ্টি করছে এবং মসজিদে পুরুষের সাথে সাথে মহিলাদের জামায়াত কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার আম ফতওয়া মুতাবিক সম্পূর্ণরূপে মাকরূহ্ তাহরীমী আর খাছ ফতওয়া মুতাবিক হারাম ও কুফরী।
প্রকাশ থাকে যে, মহিলাদের জন্য স্বীয় ঘর বা বাড়ীর বাইরে বের হওয়াটা আমভাবেই নিষেধ। তাদেরকে ঘর-বাড়ীতে অবস্থান করার জন্য আদেশ মুবারক করা হয়েছে।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَقَرْنَ فِىْ بُيُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْـجَاهِلِيَّةِ الْاُوْلٰى
অর্থ : মহিলারা তোমরা তোমাদের ঘরে বা বাড়ির মধ্যে অবস্থান করো এবং তোমরা জাহিলী যুগের মহিলাদের মতো বেপর্দাভাবে বাইরে বের হয়ো না। (পবিত্র সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মুসলমান মহিলাদেরকে সাধারণতঃ ঘর-বাড়ী থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।
জানা আবশ্যক, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুতে মহিলাদের জন্য নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়াটা মুবাহ ছিল। যেমন এ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুাবরক করেন-
لَا تَـمْنَعُوْا اِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلْيَخْرُجْنَ اِذَا خَرَجْنَ تَفِلَاتٍ اَيْ غَيْرِ مُتَطَيِّبَاتٍ
অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দীদেরকে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে তোমরা নিষেধ করো না, তবে তারা সুগন্ধি ব্যবহার করা ব্যতীত সাধারণভাবে যদি যায়, যেতে পারবে। (মুহীতুল বুরহানী, শুবহাতুল ওয়ারদূদ ইত্যাদি)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার পর ফিতনার আশঙ্কায় মহিলাদেরকে নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِيْنَ
অর্থ : আর আমি অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের সম্পর্কেও জানি এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরবর্তীদের সম্পর্কেও জানি। (পবিত্র সূরা হিজর : আয়াত শরীফ ২৪)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফখানা (মুসলমান) মহিলাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। নাযিল হওয়ার কারণ স্বরূপ বলা হয়, যখন মুনাফিকরা নামাযের জামায়াতে আসা মহিলাদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করতে শুরু করে দিল তখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে না আসার জন্য উনাদেরকে উৎসাহ প্রদান করতঃ ইরশাদ মুবারক করেছেন।
তাকে পছন্দ করতেই হবে সে যদি মুসলমান হয়ে থাকে।
================
নছীহতে-সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম।