পবিত্র সুন্নত মুবারক জারী করুন, বিদয়াত দূর করুন

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “ফিতনা-ফাসাদের যুগে যে একটি সুন্নত মুবারক উনাকে মাড়ির দাঁত দ্বারা শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধারণ করবে, সে একশত শহীদ উনাদের সওয়াব পাবে, কেমন শহীদ? বদর এবং উহুদের যুদ্ধে শরীক হওয়া শহীদ উনাদের ছওয়াব তথা মর্যাদা-মর্তবা পাবে। সুবহানাল্লাহ!

স্মরণীয় যে, “পবিত্র সুন্নত” ফরয উনার নেকীকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেয় এবং যেখানে পবিত্র সুন্নত মুবারক জারি হয় সেখানে বিদয়াত দূরীভূত হয়ে যায়, আর বিদয়াত মানেই আযাব-গযব লা’নত, অসন্তুষ্টি এবং পবিত্র সুন্নত মুবারক মানেই রহমত, বরকত, সাকীনা, লাভের কারণ। মূলত, এই পবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করা মানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করা উনাকে ইত্তিবা তথা অনুসরণ করা। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে নারী পুরুষ সকলকে সচেষ্ট হওয়া অত্যবাশ্যকীয়। এখন কেউ যদি বলে এত সুন্নত মুবারক উনার দরকার নাই, ফরয পালন করলেই হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনাকে অস্বীকার করার কারণে সে কাফির হয়ে যাবে। আর কাফিরদের জন্য জাহান্নামই হলো যথোপযুক্ত স্থান যা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্ধারণ মুবারক করে রেখেছেন। অতএব, জাহান্নাম হতে নিস্তার পেতে হলে পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার আমলকে পরিপূর্ণ ইত্তেবা করতে হলে, এই যামানার যিনি ইমাম, ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে এসে উনার পবিত্র হাত মুবারকে বাইয়াত হতে হবে। তাতেই বান্দা-বান্দীর পক্ষে সম্ভব হবে হাক্বীক্বী সুন্নত মুবারক পালন করে হাক্বীক্বী মুসলমান হওয়া, কাজেই মহান আল্লাহ পাক কায়িনাতের তামাম জিন-ইনসানকে উনার নূরী ক্বদম মুবারকে এসে ইস্তিক্বামত থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!

ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছহিবায়ে নেয়ামত, যিক্রুল্লাহ, মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল খুছুছিয়ত মুবারক



হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেমেছাল খিলাফত মুবারক লাভ



মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفًا خَبِيرًا

অর্থ: “আপনারা স্মরণ করুন, নছীহত মুবারক করুন, আপনাদের মহাসম্মানিত হুজরা শরীফে যা তিলাওয়াত মুবারক করা হয়েছে বা নাযিল মুবারক করা হয়েছে, পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেছেন। অর্থাৎ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ আপনারা স্মরণ করুন এবং উনাদের মাধ্যমে নছীহত মুবারক করুন। নিশ্চয়ই যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ম খবর রাখনেওয়ালা। অর্থাৎ তিনি সব জানেন এবং শুনেন।” সুবহানাল্লাহ!

এ পবিত্র আয়াত শরীফে যিনি খ¦লিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং উনাদের সাথে সাথে হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে উনাদের খিলাফত মুবারক বিশেষভাবে হাদিয়া মুবারক করেছেন। যা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বিশেষ খুছুছিয়ত মুবারক। উনার পূর্বে অন্য কাউকে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং উনাদের সাথে সাথে হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেননি। সুবহানাল্লাহ।

ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ১৪৪৩ হিজরীর পবিত্র ৬ই শা’বান শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সকালে ছাত্রীদের ক্লাস করিয়ে পবিত্র হুজরা শরীফে এসে বিশ্রাম মুবারক নিচ্ছিলেন।

তখন তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সাল্লাম এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উনাদের পক্ষ থেকে উনাকে উনারা খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেন। সুবহানাল্লাহ! খিলাফত মুবারক উনার নিদর্শন স্বরূপ অর্থাৎ উনারা যে উনাকে খিলাফত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন, তার নিদর্শন স্বরূপ একটি স্টীলের চাবি মুবারক কুদরতীভাবে উনার হাত মুবারকে এসে পৌছেছে। সুবহানাল্লাহ!

তিনি বলেন, তখন মনে হচ্ছিল লোকেরা জানতে চাচ্ছে যে, খিলাফত মুবারক যে লাভ করলেন। তার নিদর্শন মুবারক কি?

তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উনার হাত মুবারকে চাবিখানা দেখিয়ে বলেন, এই যে দেখ, আমার হাতে খিলাফত মুবারক উনার নিদর্শন আছে। এটা বলে তিনি উনার হাত মুবারকে মুষ্টিবদ্ধ করে ধরে রাখা খিলাফত মুবারক উনার নিদর্শন স্বরূপ সেই চাবিখানা দেখালেন।

এরপর তিনি বলেন, আমি উক্ত স্বপ্নেই দেখতেছি যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সাল্লাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ থেকে একখানা আসন মুবারক আমাকে হাদিয়া মুবারক করা হলো। এবং আসন মুবারক-এ বসিয়ে দেয়া হলো। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর, উনারা বললেন, আপনি এখন থেকে এ আসন মুবারকে বসে খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ!



সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের বেষ্টনীতে মহান আল্লাহ পাক উনার দায়েমী দীদার মুবারকে রয়েছেন



সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বুলন্দি শান মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে ইলহাম-ইলক্বা, স্বপ্ন ও কাশফের মাধ্যমে অনেক সালিক-সালিকাকে জানানো হয়েছে। যা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বিশেষ ই’যায শরীফ বা কারামত মুবারক উনাদের বহিঃপ্রকাশ।

অসংখ্য অগণিত ই’যায শরীফ উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বুলন্দি শান মুবারক সম্পর্কে আরো একখানা বিশেষ স্বপ্ন মুবারক নিম্নরুপ:

চট্টগ্রামের রোকসানা আপা নকশবন্দিয়া ত্বরীক্বার লতিফার সবক্ব আদায় করেন। একদিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার দিকে রুজু হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সবক্বের যিকির আদায় করেন এবং হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার চেহারা মুবারক স্মরণ করতে থাকেন। এমতাবস্থায় উক্ত পীরবোন ঘুমিয়ে পড়েন এবং স্বপ্নে দেখেন যে, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কথা মুবারক বলছেন। আর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা চারদিকে বেষ্টন করে আছেন। সুবহানাল্লাহ!

এই মুবারক স্বপ্ন দেখার পর উক্ত পীরবোন গভীরভাবে ফিকির করতে থাকেন। (ফিকির করেন দু’জনের নিছবতের কথা) ফিকির করতে করতে আরেকদিন একই স্বপ্ন আবার দেখেন। অর্থাৎ খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কথা মুবারক বলছেন দীর্ঘক্ষণ। আর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা চারপাশ ঘিরে রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

অর্থাৎ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম একদিকে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সাল্লাম উনাদের পক্ষ হতে বিশেষভাবে খিলাফত মুবারকপ্রাপ্ত। একইভাবে তিনি হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের তরফ থেকেও বিশেষভাবে খিলাফত মুবারকপ্রাপ্ত। সর্বোপরি তিনি দায়েমীভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারকে মশগুল রয়েছেন। যা সাধারণ মানুষের চিন্তা, কল্পনা এবং উপলব্ধির উর্ধ্বে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বুলন্দি শান মুবারক উপলব্ধি করে উনার মুবারক শানে সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করে হাক্বীক্বীভাবে উনাকে মুহব্বত করার এবং উনার সন্তুষ্টি-রেযামন্দি হাছিল করার তাওফীক্ব দান করেন। (আমীন)

কুফরী আক্বীদা পরিহার না করলে চির জাহান্নামী হতে হবে

‘কুফর’ শব্দের আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থ হচ্ছে অস্বীকার করা। পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার পরিভাষায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা অস্বীকার করাই হচ্ছে কুফর বা কুফরী। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হিদায়েতসহ পবিত্র দ্বীন ইসলাম অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে এসেছেন। যেমন- পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

هُوَ الَّذِيْ اَرْسَلَ رَسُوْلَهُ بِالْـهُدٰى وَدِيْنِ الْـحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّيْنِ كُلِّهِ ۚ وَكَفٰى بِاللهِ شَهِيْدًا

অর্থ: “তিনিই মহান আল্লাহ পাক যিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হিদায়েত এবং সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন সকল দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়ে। এক্ষেত্রে সাক্ষী হিসেবে মহান আল্লাহ পাক তিনিই যথেষ্ট।” (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৯)

পবিত্র এ আয়াত শরীফ নাযিল করে মহান আল্লাহ পাক তিনি অতীতে ওহী দ্বারা নাযিলকৃত দ্বীন এবং অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে উদ্ভাবিত বা প্রবর্র্ণিত মানবরচিত সকল ধর্ম, মতবাদ, তন্ত্র, নিয়ম-নীতি, আইন-কানুন বাতিল ঘোষণা করেন। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সর্বশেষ নবী এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনার পর ক্বিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবী কিংবা রসূল আগমন করবেন না।

কাজেই, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে পবিত্র দ্বীন ইসলাম তথা পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিধান নিয়ে এসেছেন তা মেনে সকলকে সে মুতাবিক চলতে হবে। যারা মেনে সে মুতাবিক চলবে তারা ঈমানদার। আর যারা অস্বীকার করবে তারা কাফির।

খালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْاِسْلَامِ دِيْنًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْاٰخِرَةِ مِنَ الْـخَاسِرِيْنَ.

অর্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র ইসলাম ব্যতীত অন্য দ্বীন-ধর্ম, মতবাদ বা তন্ত্রমন্ত্রের নিয়ম-নীতি চায় বা গ্রহণ করে, তার থেকে সেটা কবুল করা হবে না এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে অর্থাৎ জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৫)

তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

كَيْفَ يَهْدِي اللهُ قَوْمًا كَفَرُوْا بَعْدَ اِيـْمَانِـهِمْ وَشَهِدُوْا اَنَّ الرَّسُوْلَ حَقٌّ وَجَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ ۚ وَاللهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ◌

অর্থ: “খালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি কী করে ওই সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করবেন, যারা ঈমান আনার পর এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সত্য (নবী-রসূল) হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার পর এবং তাদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল (পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ) আসার পর কুফরী বা অস্বীকার করে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়েত দান করেন না।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৬)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, ঈমান আনার পর অর্থাৎ ঈমানদার বা মুসলমান দাবী করার পরও যারা খালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম বা আদেশ-নিষেধ মুবারক মানবে না, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক মানবে না, উনার আনুগত্য বা অনুসরণ মুবারক করবে না এবং পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্র্ণিত হুকুম-আহকাম বা বিধান তথা আদেশ-নিষেধসমূহ মেনে চলবে না, তারা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত। এরা হিদায়েত থেকে বঞ্চিত পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়। এদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করেন না। এরা জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।

মোটকথা, খালিক্ব, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার মত-পথ মুবারক উনার খিলাফ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র সুন্নাহ বা আদর্শ মুবারক উনার খিলাফ এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সুস্পষ্ট বিধানের খিলাফ আক্বীদা, আমল-আখলাক্ব, নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা, তন্ত্র-মন্ত্র মতবাদ সবই কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

যেমন- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্রের নিয়ম-নীতি, ভোট, নির্বাচন, হরতাল, লংমার্চ, ছবি, টিভি বেপর্দা-বেহায়াপনা, খেলাধুলা, গান-বাজনা, নারী নেতৃত্ব ইত্যাদি সবই কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, মুসলমানের জন্য সমস্ত কুফরী আক্বীদা ও আমল থেকে বেঁচে থাকা ফরয। অন্যথায় কেউ যদি কুফরী আক্বীদা আমল গ্রহণ করে ইন্তিকাল করে সে জাহান্নামের কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।

রাজারবাগ শরীফ উনার পরিচিতি (১১)



মাদরাসা প্রতিষ্ঠা



ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, পঞ্চদশ হিজরী শতকের সুমহান মুজাদ্দিদ, আওলাদে রসূল, ইমামুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেখে যাওয়া সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার প্রকৃত ওয়ারিছ। সেই ইলিম উনার প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে মানুষকে নবুওওয়াতের আলোয় গড়তে, সঠিক দ্বীনী ইলিম শিক্ষা দেয়ার প্রয়াসে মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন, “মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা।” পবিত্র দরবার শরীফ উনার মাঝে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয় ১৪০৮ হিজরী সনে। এখানে রয়েছে মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পৃথক বালক শাখা ও বালিকা শাখা এবং হিফজখানা।



মহিলাদের তা’লীমের ব্যবস্থা এবং বালিকা মাদরাসার অনন্য বৈশিষ্ট্য

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা হচ্ছে বর্তমান যামানার সর্বশ্রেষ্ঠ দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ইলমে ফিক্বাহ শিক্ষার পাশাপাশি ইলমে তাছাউফ শিক্ষা প্রদানের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয় এবং সুন্নত উনার অনুসরণ-অনুকরণ ও আমলের উপর দায়িম-কায়িম থাকার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়; যাতে অধ্যয়নরত সকল ছাত্র/ছাত্রী সহজেই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে- সম্মানিত দরবার শরীফ উনার মাঝে ইলিম ও হিদায়েতের নূর বিতরণ করছেন খাছভাবে আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। উনাদের প্রতিদিনকার ছোহবত শরীফেই ইলিম বিতরণ করা হয় এবং সেসব মজলিসে সব বয়সের মানুষ সেই ইলিম মুবারক শিখে নিজেদের আলোকিত করছেন। ইলিম হাছিলের এরকম পরিবেশ সব যুগে সকল হযরত মুজাদ্দিদ এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের পবিত্র খানকা শরীফ মাঝে উপস্থিত ছিল। কিন্তু সন্তানকে শিশু বয়স থেকে গড়ে তুলতে হলে, আল্লাহওয়ালা এবং আল্লাহওয়ালী হিসেবে বড় করতে চাইলে প্রয়োজন কিছুটা ব্যতিক্রম পরিবেশ যেখানে পাঠদান শুরু হবে অক্ষরজ্ঞান থেকে আর তাই প্রতিষ্ঠা করা হয় “মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা।”

একজন মহিলা আল্লাহওয়ালী হলে পুরো পরিবার আল্লাহ পাক উনার দিকে রুজু হয়ে যান- এই চরম সত্য কথার বাস্তবরূপ দেন উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। তিনি মহিলা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেমনি অগণিত অসংখ্য মহিলাকে আল্লাহওয়ালী বানিয়ে চলেছেন, তেমনি প্রতিদিন “ফাল ইয়াফরাহু” মাহফিলের মাধ্যমে এবং ইছনাইনিল আযীম শরীফ এবং জুমুয়াহ শরীফে বিশেষ তা’লীম প্রদানের মাধ্যমে হিদায়েতের নূর বিলিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বছরের দুটি মুবারক মাস পবিত্র সাইয়্যিদুশ শুহূর রবীউল আউওয়াল শরীফ এবং পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসেও থাকে মাসব্যাপী বিশেষ শিক্ষা কোর্সের ব্যবস্থা। সুবহানাল্লাহ!

মহিলাগণের তা’লীম দেয়ার সুন্নত জারি হয়েছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কাছ থেকে। পরবর্তীতে অনেক মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না উনারাও তা’লীম দেয়ার সুন্নত জারি রেখেছেন। ইতিহাস ঘাটলে অনেক আল্লাহওয়ালীগণ উনাদের নাম পাওয়া যায় যাঁরা তা’লীম দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে- উনাদের তা’লীমের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্যভাবে লিপিবদ্ধ না হওয়ার কারণে পরবর্তীতে মহিলাগণের মাঝে তা’লীম দেয়ার একটা বড় সঙ্কট দেখা দেয়। তাছাড়া শুধু কিতাব পড়ে মহিলাগণের জন্য আল্লাহওয়ালী হওয়া সম্ভব নয়। উনাদের জন্যও প্রয়োজন একজন মহিলা শায়েখ বা খাছ আল্লাহওয়ালী মুয়াল্লিমা উনার মুবারক ছোহবত এবং তা’লীম তালক্বীন।

এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন ১৫ শতকের সম্মানিত মুজাদ্দিদ, যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল উমাম, আওলাদে রসূল, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিতা ছহিবাতুল মুকাররমা অর্থাৎ উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি খাছ আওলাদে রসূল এবং ওলীআল্লাহ হওয়ার কারণে; তাছাড়া উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম এবং উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাদের সঙ্গে গভীর নিসবত থাকার কারণে উনার তা’লীম মুবারকের মধ্যে ইলিম ও হিদায়েতের নূর বিচ্ছুরণ হয় অগণিত ধারায়। সে কারণেই মহিলাগণ উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করার মাধ্যম দিয়ে তা’লীম গ্রহণ করে সহজেই আল্লাহওয়ালী হচ্ছেন। কিন্তু এই আল্লাহওয়ালী হওয়ার ধারা অব্যাহত রাখার জন্যই উনারা প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বালিকা মাদরাসা’।

খাছ পর্দার সাথে মহিলাগণের মাধ্যমে বালিকাদের শিক্ষা দেয়ার বিষয়টি একটি বালিকা মাদরাসায় থাকতেই হবে, যা কিনা বর্তমান প্রচলিত বালিকা মাদরাসাগুলোতে নেই। কিন্তু মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসায় এই পরিবেশতো আছেই, বরং পাঁচ (৫) বছরের একটি মেয়ে কোনো পুরুষের সামনে যায় না। তাছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্কা অবস্থা থেকেই মেয়েরা খাছ পর্দার অনুশীলন করে। এছাড়াও এই বালিকা মাদরাসার অনেক অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা আমরা মাদরাসার পরিচিতি পর্বে তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এই মাদরাসা সম্পূর্ণভাবে উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত। সুবহানাল্লাহ!

ইলমে আরূজী অর্থাৎ ছন্দ প্রকরণ সংশ্লিষ্ট আদব (১২)
শায়েখ মুরীদ উনাদের গভীর নিছবত



মায়ের আদেশে ৮ বছর বয়স মুবারকে হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন প্রথম মাহবুব-ই ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ আসেন। তিনি ভিতরে প্রবেশ না করে বাইরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে উনার আধ্যাত্মিকতার বিষয়টি উপলব্ধির জন্য কয়েকটি কবিতার লাইন রচনা করে পাঠ করেন।

তিনি বলেন (যার ভাবার্থ হলো)- “আপনি এমনি এক শাহেনশাহ, যেখানে একটি কবুতর বাজপাখিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। একজন অত্যন্ত সাধারণ মুসাফির আপনার দরজার ভেতরে প্রবেশ করবে কি করবে না?”

মাহবুব-ই ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ কথাগুলো শোনার সাথে সাথে একজন খাদিমকে দিয়ে উনার কথার উত্তর দেন। তিনি বলে পাঠান- (যার ভাবার্থ হলো)- “তুমি একজন বাস্তববাদী মানুষ ভেতরে আসো। তুমি অল্প সময়ের জন্য আমার প্রিয়ভাজন হতে পারো। যদি এ ব্যক্তি বুদ্ধিহীন হয় তবে সে যেভাবে এসেছে সেভাবেই ফেরত যেতে পারে।”

সুতরাং জীবনের শুরুতেই, বাইয়াতের শুরুতেই হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে শায়েখের যে নিছবত ছিল তাতেই উনার হাক্বীক্বী পরিচয় পাওয়া যায়।

মুজাদ্দিদুয যামান, মাহবুব-ই ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে উনার বিশিষ্ট মুরীদ মহান আল্লাহ পাক উনার বিশিষ্ট ওলী, জগদ্বিখ্যাত কবি হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে কী গভীর নিছবত ছিলো তা নিচের ঘটনা শুনলেই বোঝা যাবে।

একদিন এক ভিক্ষুক মাহবুব-ই ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ-এ এসে কিছু সাহায্যের জন্য আবেদন করলো। কিন্তু সে সময় দরবার শরীফ-এ সেই ভিক্ষুককে দেয়ার মতো কিছুই ছিল না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার মহান ওলী খালি হাতে ভিক্ষুককে ফিরিয়ে দিতেও পছন্দ করলেন না। উনার কাছে নিজের এক জোড়া স্যান্ডেল (পাদুকা বা নালাইন শরীফ) দেখতে পেয়ে তিনি তাই সেই ভিক্ষুককে দান করে দিলেন। ভিক্ষুক সেই মুবারক স্যান্ডেল শরীফ নিয়ে যাওয়ার পথে দূর থেকে তাকে দেখতে পেলেন হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট তখন বেশ অর্থকড়ি ছিলো এবং মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রীও ছিল। ভিক্ষুক উনার কাছে আসতেই তিনি বলে উঠলেন’ ‘ওহে ভিক্ষুক তোমার কাছে আমার শায়েখ উনার খুশবু পাই।’ ভিক্ষুক সব খুলে বললে হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থ বা মূল্যবান উপঢৌকনের বিনিময়ে স্যান্ডেল মুবারক ফেরত নিয়ে নেন। তিনি সেই স্যান্ডেল মুবারকসহ আবার উনার শায়েখ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ-এ গিয়ে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন, তখন মাহবুব-ই ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছিলেন, “হে আমীর খসরু! তুমি অতি সস্তায় এ স্যান্ডেল ফেরত নিয়েছো।”

এ ঘটনা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে বিশিষ্ট মুজাদ্দিদ মাহবুব-ই ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে উনার বিশিষ্ট মুরীদ হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কী নিবিড় আত্মিক যোগ ছিল! এই আত্মিক বিকাশসম্পন্ন ওলীআল্লাহগণ উনাদের সম্পর্কে কাফিররাই অপবাদ ছড়ায় যে, উনারা হারমোনিয়াম-তবলাসহ কাওয়ালী শুনতেন। নাঊযুবিল্লাহ!

ছূফী সম্প্রদায় কখনোই বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সামা করেননি

মহান আল্লাহ পাক উনার বিশিষ্ট ওলী হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পক্ষে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে কাওয়ালী করা এবং তবলা এবং সেতার যন্ত্র আবিষ্কার করা যে সম্ভব নয়, তা উনার তাক্বওয়া, পরহেযগারী এবং উনার শায়েখের সঙ্গে নিছবতের বিষয়টি বুঝলে সহজেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এখানে উনার আরো একটি মুবারক ঘটনা তুলে ধরা হলো।

বিশিষ্ট মুজাদ্দিদ, মাহবুব-এ ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ক্ষমতাবান লোকদের থেকে, বিশেষ করে দিল্লীর সুলতানদের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। এক সময় দিল্লীর সুলতান জালালুদ্দিন খিলজী হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ডেকে সেই সময়কার মহান আল্লাহ পাক উনার লক্ষ্যস্থল ওলী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি উনার সাথে দেখা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। সুলতান নিজেই দিনক্ষণ ঠিক করেন কিন্তু সেই দিন তারিখ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জানাতে নিষেধ করেন।

কিন্তু হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই সংবাদ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জানিয়ে দিলে তিনি ভিন্ন জায়গায় চলে যান। ফলে সুলতান গিয়ে আর দেখা পাননি। পরে জালালুদ্দিন খিলজি হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ওয়াদা ভঙ্গের কারণ জিজ্ঞাসা করলে হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুলতানকে উত্তর দেন ‘সুলতানের সাথে ওয়াদা ভঙ্গ করাতে শাস্তিস্বরূপ আমার জীবন সংহার হতে পারে। তবে আমার মুর্শিদ উনার সাথে একই রকম আচরণ করলে আমার ঈমানহানি হবে এবং পরকালে এর জবাবদিহি করতে হবে।’

এ ঘটনাটি হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্বওয়া, পরহেযগারী এবং উনার শায়েখ উনার সঙ্গে হৃদ্যতার বিষয়টি বোঝার জন্য যথেষ্ট। যে সকল বদআক্বীদার লোক মাহবুব-ই-ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে কাওয়ালী করেছেন, সামা করেছেন বলে অপপ্রচার চালায় এবং এই অজুহাতে নিজেরাও এ সমস্ত হারাম কাজে লিপ্ত রয়েছে তাদের জবাব দেয়ার জন্য নিচের ঘটনাটিই যথেষ্ট।

একবার হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবার শরীফ-এ সামা শরীফ উনার অনুষ্ঠান হচ্ছিল। সেই সামা শরীফ উনার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। সামা শরীফ শুনতে শুনতে হযরত আমীর খসরু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাঝে হাল সৃষ্টি হয়ে যায় এবং উনার অজান্তেই তিনি দাঁড়িয়ে শরীর দোলাতে থাকেন। উনার এ অবস্থা দেখে হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এভাবে দুলতে বারণ করলেন এবং শিখিয়ে দিলেন এ অবস্থায় হাত উঠিয়ে মুনাজাতের ভঙ্গিতে দোয়া করতে এবং পা দ্বারা মাটিতে মাঝে মাঝে আঘাত করতে। পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করার অর্থ হচ্ছে পৃথিবীর মায়া-মোহকে পরিত্যাগ করা।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, সামা শরীফ শুনে হাল উঠলে এবং তাতে শরীর দুলালে যাতে নাচের মতো মনে না হয় এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক দৃষ্টি রেখেছিলেন মাহবুব-ই ইলাহী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। ফলে তিনি কী করে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সামা করার অনুমতি দিতে পারেন? মূলত নফসের পূজারীরাই এ সমস্ত অপপ্রচার চালায়।

ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১)

১ম দলীল:

যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَآ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولـٰـٓئِكَ هُمُ الْكٰفِرُوْنَ

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি যা নাযিল বা ফয়সালা করেছেন সে মুতাবিক যারা আদেশ নির্দেশ করেনা অর্থাৎ বিপরীত করে তারা কাফির। (পবিত্র সূরা মায়িদা : আয়াত শরীফ ৪৪)



২য় দলীল :

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

وَمَنْ يَّعْصِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَلَهٗ عَذَابٌ مُهِيْنٌ

অর্থ : আর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের নাফরমানী করলো, অবাধ্য হলো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলো মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। ঐ ব্যক্তি সেখানে অনন্তকাল যাবৎ অবস্থান করবে। তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা নিসা : আয়াত শরীফ ১৪)



৩য় দলীল:

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

مَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّلَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُوْلُهٗ اَمْرًا اَنْ يَّكُوْنَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْ وَمَنْ يَّعْصِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا مُّبِيْنًا

অর্থ : কোনো মু’মিন পুরুষ-মহিলা কারো জন্য কস্মিনকালেও জায়েয হবে না যে, যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা কোনো বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফয়সালা মুবারক দেন, এই বিষয়ে কোনো মত পেশ করা। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের ফয়সালাকৃত বিষয়ে কোনো মত পেশ করবে, সে প্রকাশ্য গোমরাহীতে নিমজ্জিত হবে। অর্থাৎ সে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহ্যাব : আয়াত শরীফ ৩৬)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয হলো সর্ব অবস্থায় ও সর্ব বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত নির্দেশ মুবারক পালন করা।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কুকুর নিধন সম্পর্কে মহাপবিত্র ফতওয়া হলো-

তিন প্রকার কুকুর ব্যতীত অন্য সব কুকুর লালন-পালন করা নাজায়েয ও হারাম এবং সেগুলো নিধন বা হত্যা করা জায়েয়। শুধু তাই নয়; ক্ষেত্র বিশেষ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এবং ফরয।

আর এই তিন প্রকার কুকুর হলো- (১) বাড়ি ও গৃহপালিত পশু পাহারাদার কুকুর, (২) ক্ষেত-খামার পাহারাদার কুকুর এবং (৩) শিকারী কুকুর।

অতএব, প্রত্যেক উম্মতের জন্য এই ফতওয়া পালন করা ফরয।

এ বিষয়ে এখানে দলীল-আদিল্লাহসমূহ পেশ করা হবে। ইনশাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

إذَا رَأَيْتُمُ الَّذِيْنَ يَسُبُّوْنَ أصْحَابِىْ فَقُوْلُوْا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى شَرِّكُمْ.

অর্থ: যখন তোমরা কাউকে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে গালি দিতে দেখবে, তখন তোমরা বলো, এ নিকৃষ্ট কাজের জন্য তোমাদের প্রতি আল্লাহ পাক উনার লা’নত বর্ষিত হোক। (তিরমিযী শরীফ)

কা’বা শরীফ-এর উপর প্রত্যহ নাযিলকৃত ১২০টি রহমত তিন প্রকার লোক লাভ করেন-
১) তাওয়াফকারীগণ ৬০টি।

২) নামায আদায়কারীগণ ৪০টি।

৩) যিয়ারতকারীগণ ২০টি।

ইবলীস মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু


শয়তান মানুষের মধ্যে ফেৎনা তৈরি করে কিভাবে? তার একটা মেছাল কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক বুযূর্গ ব্যক্তি, ওলীআল্লাহ তিনি বর্ণনা করেন, তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন, ইবলীস এক জায়গায় দাঁড়ানো।

তিনি ইবলীসকে দেখে বললেন, ইবলীস! তুমি এখানে কি করো? নিশ্চয়ই তোমার আশে-পাশে ফেতনা লাগিয়েছ।

সে বললো- না হুযূর! সে কোন ফেতনা করেনি। সেই বুযূর্গ ব্যক্তি একটু সামনে গেলেন। গিয়ে দেখেন মারামারি হচ্ছে।

তিনি বললেন, হে ইবলীস! তুমি নিশ্চয়ই মারামারির মূল। সে বললো- হুযূর! সে মারামারি লাগায়নি। কি করেছ তুমি?

সে বললো, সে- শুধু ছোট্ট একটা কাজ করেছে, আর কিছুই করেনি। কাজটা হলো এই যে, দুই বাড়ীতে মারামারি হচ্ছে, দুই বাড়ীর সীমানার মধ্যে এক ফোঁটা মিষ্টির রস ফেলে দিয়েছিল। যার কারণে সেখানে পিঁপড়া আসলো, পোকা-মাকড় আসলো। তা দেখে ঈঁদুর আসলো, ঈঁদুর দেখে বিড়াল আসলো। বিড়াল দেখে প্রতিবেশীর কুকুরটা আসলো। কুকুর বিড়ালকে কামড় দিল, আর বিড়ালওয়ালা কুকুরের মাথায় বারি দিল। তখন কুকুরওয়ালা উত্তেজিত হয়ে বিড়ালওয়ালার মাথায় বারি দিয়ে তাকে হত্যা করে ফেললো।

মূলতঃ ইবলীস শুধু একফোঁটা রস ফেলেছিল। কিন্তু বিরাট একটা ফেতনা পয়দা হয়ে গেল। ঠিক ইবলীসের কাজগুলি এরকমই হয়ে থাকে।

মূলতঃ বড় কাজটা তো সে করেনি, সে শুধু শুরু করে দেয়। এরপরে আর তার কিছু করা লাগে না। ইবলীস মানুষের মধ্যে প্রবেশ করে ওয়াস্ওয়াসা দেয়।

পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ইবলীস নিজে বর্ণনা করেছে যে, মানুষকে সে যখন গোস্বার মধ্যে পায়, বলের মত তাকে সে চক্কর খাওয়াতে থাকে। সে তখন তার তাবেদার হয়ে সে কি করে, তার নিজেরও হুঁশ থাকে না।

কাজেই ইবলীস হলো মানুষের শত্রু।

মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তাকে প্রকাশ্য শত্রু হিসেবে গ্রহণ করো।

হযরত হাতেম আসেম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, এ বিষয়টি বুঝতে পেরে তখন থেকে আমি সমস্ত শত্রুতা, সমস্ত হিংসা-বিদ্বেষ ইত্যাদি যত বদ খাছলত রয়েছে, তা ছেড়ে দিয়ে একমাত্র মনে করলাম, শয়তানই আমাদের শত্রু, আর কারো সাথে আমাদের শত্রুতা নেই। সবার সাথে মুহব্বত, আমি তা জারি করে দিলাম।

১০টি প্রাণী বশিষে কারণে জান্নাতে প্রবশে করবে

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, নিম্নোক্ত ১০টি প্রাণী বিশেষ কারণে সম্মানিত জান্নাত মুবারকে প্রবেশ করবে-

১. সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত উটনী মুবারক।

২. হযরত ছালিহ আলাইহিস সালাম উনার উটনী।

৩. হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের দুম্বা।

৪. হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গাভী।

৫. বালআম ইবনে বাউরার গাধা।

৬. হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উনাকে যেই মাছ ধারণ করেছিলো, সেই মাছ। এই মাছ সবসময় মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করতো।

৭. হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার পিপীলিকা।

৮. হযরত ওযাইর আলাইহিস সালাম উনার গাধা।

৯. হযরত বিলকিস আলাইহাস সালাম উনার হুদহুদ পাখি। এবং

১০. আছহাবে কাহ্ফের কুকুর।