মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত(১০)
(مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِى-----شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ)
(فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْـرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ)
رَاَى النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـى الْمَنَامِ مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهٖ( নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।” (সুবহানাল্লাহ!)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন, ‘মান ফারিহা বিনা, ফারিহনা বিহি’ (مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهٖ)
যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।” সুবহানাল্লাহ!) মূল আধ্যাত্মিক বার্তা হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আগমনে আনন্দ প্রকাশকারীদের প্রতি তাঁর নিজস্ব সন্তুষ্টি ও পারষ্পরিক মহব্বতের প্রতিফলন। প্রামাণ্য গবেষণা ও তাহক্বীক্বী প্রতিবেদন( কুরআন, সুন্নাহ ও উসূলে হাদীসের আলোকে)
১. কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ উনার ৫৮ নম্বর আয়াত শরীফ উনারই অনুকূলে বর্ণিত একটি প্রামাণ্য 'মুবাশশিরাত' (সুসংবাদ)
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُونَ “হে হাবিব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি বলে দিন,মুসলমানগণ যেন আল্লার নেয়ামত ও রহমত পাওয়ার কারনে যেন খুশি প্রকাশ করে,এটি তারা যা সঞ্চয় করে তা অপেক্ষা উত্তম।
২.নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তিনি সমস্ত আলমের জন্য রহমত(وَمَآ أَرْسَلْنَـٰكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَـٰلَمِينَ ) উনার জন্য খুশি প্রকাশ করা সরাসরি কুরআনী নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত।
"মান ফারিহা বিনা..." বাণীটি মূলত এই কুরআনী অনুশাসনেরই রূহানী প্রতিফল।
(খ) স্বপ্নের বাণীটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এই নিজস্ব সুন্নাহ ও ভাবধারার সাথে পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
1,رُؤْيَا الْمُسْلِمِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ1 মুমিনের স্বপ্ন হলো নবুয়তের ছেচল্লিশ ভাগের একভাগ।
2, فَالرُّؤْيَا الصَّالِحَةُ بُشْرَى مِنَ اللَّهِ
উত্তম স্বপ্ন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ
(গ) 'মুবাশশিরাত' (সুসংবাদ) সংক্রান্ত উসূলী ব্যাখ্যা
যে স্বপ্ন শরীয়তের কোনো হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল করে না, বরং কুরআন-সুন্নাহ সমর্থিত কোনো নেক আমলের প্রতি উৎসাহিত করে শরীয়তের উছুলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ 'মুবাশশিরাত' হিসেবে পূর্ণ গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয়।
৩. (ক) 'সুবুল আল-হুদা ওয়া আল-রাশাদ' গ্রন্থে বর্ণিত শেখ আল-জারহুনীর(উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর জারহুন পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যযুগীয়) স্বপ্নের পূর্ণাঙ্গ পাঠ:قَالَ (الصَّالِحِيُّ): وَسَمِعْتُ شَيْخَنَا أَبَا عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُحَمَّدٍ النُّعْمَانِ يَقُولُ: سَمِعْتُ الشَّيْخَ أَبَا مُوسَى الزَّرْهُونِيَّ يَقُولُ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّوْمِ، فَذَكَرْتُ لَهُ مَا يَقُولُهُ الْفُقَهَاءُ فِي عَمَلِ الْوَلَائِمِ فِي الْمَوْلِدِ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَا حَضْرَتْ اِبْنَ نُعْمَانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِمَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهِ
বাংলা উচ্চারণ: ক্বালা (আস-সালিহী): ওয়া সামি‘তু শায়খানা আবা আব্দুল্লাহিব না আবি মুহাম্মাদিন-নু‘মানি ইয়াক্বুলু: সামি‘তুশ-শায়খা আবা মুসা আল-জারহুনিয়্যা ইয়াক্বুলু: রইতুন্-নাবিয়্যা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফিন-নাউমি, ফাযাকারতু লাহূ মা ইয়াক্বুলুহুল ফুক্বাহাউ ফী ‘আমালিল ওয়ালাইমি ফিল মাওলিদি, ফাক্বালা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা: মান ফারিহা বিনা ফারিহনা বিহি।
অর্থ: (ইমাম আল-সালিহি আল-শামী বলেন) আমি আমাদের শেখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুহাম্মদ আল-নু’মানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শেখ আবু মুসা আল-জারহুনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি স্বপ্নে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিয়ারত মুবারক লাভ করলাম এবং উনার নিকট কাছে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ভোজের আয়োজন (ওয়ালিমা) ও অর্থ ব্যয় সম্পর্কে সমসাময়িক ফকীদের আপত্তির কথা উল্লেখ করলাম। তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন:‘হে হযরত ইবনে নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি! যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।” সুবহানাল্লাহ! ।
(খ)অনুরুপ মিশরের প্রখ্যাত আলেম শেখ আব্দুল হালিম মাহমুদ রহমতুল্লাহ বর্ণনা করেন
আরবী ইবারত:
«وَمِمَّا نُقِلَ عَنِ الشَّيْخِ عَبْدِ الْحَلِيمِ أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَنَامِ بَعْدَ إِقَامَةِ الْمَوْلِدِ الشَّرِيفِ، فَقَالَ لَهُ: يَا شَيْخُ عَبْدِ الْحَلِيمِ، مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهِ»
বাংলা উচ্চারণ:ওয়া মিম্মা নুক্বিলা ‘আনিশ-শায়খি ‘আব্দিল হালীমি আন্নাহূ রাআন-নাবিয়্যা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামা ফিল-মানামি বা‘দা ইক্বামাতিল মাওলিদিশ-শারীফি, ফাক্বালা লাহূ: ইয়া শায়খু ‘আব্দাল হালীম, মান ফারিহা বিনা ফারিহনা বিহি।
অর্থ:"এবং শেখ আব্দুল হালিম রহমতুল্লাহ আলা্ইহি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো—
তাঁর স্বপ্নের প্রেক্ষাপট ছিল উনারই মুহব্বতকারী একজন নেককার আল্লাহওয়ালা লোক পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাত জেগে আনন্দ উদযাপন করার পর শেখ আব্দুল হালিম রহমতুল্লাহ আলাইহি স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে সাহাবায়ে কেরামসহ প্রত্যক্ষ করেন। সেই আধ্যাত্মিক মজলিশে রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে উদ্দেশ্য করে তাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেন: 'হে শেখ আব্দুল হালিম! যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।'"
অর্থ: "হে শেখ আব্দুল হালিম, যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।” সুবহানাল্লাহ!
আশ্চর্য হচ্ছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে দুই জন ওলি আল্লাহ পৃথীবীর দুই প্রান্ত থেকে এবং দুটি ভিন্ন সময়ে একই সুসংবাদ পোয়েছেন
১,আল্লামা সুফী শায়খ শেখ আবু মুসা আল-জারহুনী রহমতুল্লাহ আলাইহি
এই উক্তিটির মূল উৎস উত্তর আফ্রিকার মরক্কোর 'জারহুন' (Zarhun) অঞ্চলের প্রখ্যাত সাধক শেখ আবু মুসা আল-জারহুনির একটি স্বপ্ন।ঐতিহাসিক ঘটনা: মিলাদুন্নবী উপলক্ষে তৎকালীন সময়ে ভোজের আয়োজন ( عمل الولائم ) এবং এ বাবদ অর্থ ব্যয় করা নিয়ে সমসাময়িক কিছু ফকিহ ও মানুষের পক্ষ থেকে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছিল। শেখ আবু মুসা আল-জারহুনি স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জিয়ারত লাভ করেন এবং এই আপত্তির বিষয়টি পেশ করেন। প্রত্যুত্তরে রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে এই বাণীর মাধ্যমে আশ্বস্ত করেন:
২,আল্লামা সুফী শায়খ শেখ আব্দুল হালিমরহমতুল্লাহ আলাইহি ((সাবেক শায়খুল আজহার)
তিনি মুহব্বত ও তাজিম করে রাত জেগে মিলাদুন্নবী উদযাপনের পর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রূহানী কবুলিয়াত ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এই বাণীটি মূলত শেখ আবু মুসা আল-জারহুনির স্বপ্নের একটি শক্তিশালী সমর্থনমূলক বা সমান্তরাল বর্ণনা হিসেবে ইসলামী সাহিত্যে স্থান করে নিয়েছে
২. বাণীর ধরন সাধারণ ও তাত্ত্বিক সুসংবাদ: "যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।
নাম ধরে সরাসরি ব্যক্তিগত সম্বোধন:
১,
يَا حَضْرَتْ اِبْنَ نُعْمَانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهٖ
‘হে হযরত ইবনে নু’মান রহমতুল্লাহি আলাইহি "যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি। ২,يَا شَيْخُ عَبْدِ الْحَلِيمِ، مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهٖ
"হে শেখ আব্দুল হালিম, "যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।"
৩. ভৌগোলিক উৎস
মরক্কোর জারহুন পর্বত অঞ্চল (উত্তর আফ্রিকা)। এটি বাণীর সর্বপ্রাচীন ও মূল সনদ।মিসরীয় ও আন্তর্জাতিক সুফি ঐতিহ্য। এটি একটি সম্পূরক বর্ণনাসূত্র।
৪. সনদের ধারা:আল-জারহুনী>ইবনে আবি মুহাম্মদ আল-নু'মান.ইমাম আল-সালিহি আল-শামী
এই বাণীটি কেবল একটি স্বপ্ন নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত বর্ণনাসূত্র বা চেইন অব ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে। এর যাত্রা শুরু হয় মরক্কো (মাগরেব) থেকে এবং পরবর্তীতে তা মিসরীয় সীরাত সাহিত্যের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। বর্ণনাক্রমটি নিম্নরূপ:
মূল উৎস: শেখ আবু মুসা আল-জারহুনি।
রাবী: শেখ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মুহাম্মদ আল-নুমান। তিনি সরাসরি শেখ আল-জারহুনির নিকট থেকে এই স্বপ্নের বিবরণ শ্রবণ করেছেন।
সংকলক: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-সালিহি আল-শামি। তিনি শেখ আল-নুমানের সূত্রে এটি তাঁর বিশ্ববিখ্যাত সীরাত বিশ্বকোষ 'সুবুল আল-হুদা'-তে সংকলন করেন।ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে এই 'ইলমি হিজরত' বা জ্ঞানের প্রবাহ মরক্কোর পাহাড়ী অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে কায়রো পর্যন্ত পৌঁছায় এবং পরিশেষে ভারতীয় উপমহাদেশের মিলাদ সাহিত্যে আকর দলিল হিসেবে স্থান করে নেয়। আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার:
মিশর: মিশরের ওয়াকফ মন্ত্রণালয় (Ministry of Endowments) তাদের খুতবা সিরিজ ও 'জাদ আল-আইম্মাহ' গ্রন্থে রাসুল-প্রেমের তাগিদ হিসেবে এই স্বপ্নাদেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধৃত করে।
মরক্কো: মরক্কোর 'কালআত মগুনাহ'' (Qal'at M'gouna) অঞ্চলে বর্তমানেও আলী বিন মুহাম্মদ আল-রায়সুনি এবং ইয়াসমিনা আল-সাবিহির মতো গবেষকগণ এবং এই অঞ্চলের সীরাত গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে এই বাণীর ঐতিহাসিক ও রূহানী গুরুত্বের ওপর শিক্ষায়াতনিক পাঠ দান করা হয়।এই রুইয়াটি মরক্কোর দারকাবী (Darqawi) সুফি সিলসিলায় অত্যন্ত সম্মানের সাথে সংরক্ষিত।
৫. উনিশ শতকের শেষের দিকে ভারতীয় উপমহাদেশে মিলাদুন্নবী ও কিয়াম সংক্রান্ত বাহাসে এই দলিল পেশ করা হয়:
১. আনওয়ার-ই সাতিয়াহ ও দেওবন্দি-বেরেলভি বিতর্ক:
১৮৮৯ সালে মাওলানা আব্দুস সামি বেদায়ুনী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'আনওয়ার-ই সাতিয়াহ'-এ মিলাদে অর্থ ব্যয় ও আনন্দ প্রকাশের বৈধতা প্রমাণের জন্য ইমাম আস-সালিহি আল-শামীর 'সুবুল আল-হুদা ওয়া আল-রাশাদ' থেকে শেখ আল-জারহুনীর এই আরবী ইবারত পেশ করেন।প্রতিপক্ষ/দেওবন্দি অবস্থান: মাওলানা খলিল আহমদ সাহারানপুরী তাঁর 'বরাহীন-ই ক্বাতেআহ' গ্রন্থে উসূলভিত্তিক আপত্তি তোলেন যে, সাধারণ মানুষের স্বপ্ন শরীয়তের 'ফিকহী হুকুম' (ওয়াজিব/সুন্নাত) প্রমাণের প্রাথমিক উৎস হতে পারে না।বেরেলভি/মুহাব্বীনদের উত্তর: ইমাম আহমদ রেজা খান বেরেলভী (রহ.) 'ফাতাওয়া রেজভীয়া' ও 'আল-মালফুজ শরীফ'-এ ব্যাখ্যা করেন যে, এই রুইয়া নতুন কোনো 'ওয়াজিব' বিধান তৈরি করছে না; বরং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে উম্মতের রূহানী সম্পর্ক ও "ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা" প্রমাণের জন্য আধ্যাত্মিক সুসংবাদ (মুবাশশিরাত) হিসেবে এর ব্যবহার শতভাগ প্রামাণ্য ও গ্রহণযোগ্য।
৬. আরব ও ভারতীয়,আফ্রিকার কিতাব এ এই বর্ণনা আছে(উত্তর আফ্রিকা থেকে এশিয়ার বর্ণনার সংযোগ)
১. সুবুল আল-হুدا ওয়া আল-রাশাদ (سُبُلُ الْهُدَى وَالرَّشَادِ) — ইমাম মুহাম্মদ আল-সালিহি আল-শামী (মৃ. ৯৪২ হিজরী) — মিসর / সিরিয়া — ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৬২ (মতান্তরে ৩৬৩), ১৩শ অধ্যায় — আল-জারহুনীর স্বপ্নের মূল আকর সীরাত গ্রন্থ।
২. মাজমু' লাতিফ আনসি (مجموع لطيف أنسي) — শেখ আসিম আল-দারকাবী (রহ.) — মরক্কো — ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৬ — মরক্কোর দারকাওয়ী সুফি ধারায় মিলাদের দলিল।
৩. আল-হাবী লিল-ফাতাওয়া — ইমাম জালালুদ্দীন আল-সুয়ূতী (রহ.) — মিসর — ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২২ —বাবুল ওয়ালীমা’ (باب الوليمة) অধ্যায়ে অবস্থিত রিসালা «حسن المقصد في عمل المولد» (হুসনুল মাকসিদ
৪. আল-মাওরিদ আল-হানি — হাফিজ জাইন আল-দীন আল-ইরাকি (মৃ. ৮০৬ হিজরী) — আরব বিশ্ব — মিলাদ অধ্যায় — প্রাচীন সীরাতগ্রন্থে এই রুইয়ার (স্বপ্নাদেশ) উল্লেখ।
৪. আল-মাওরিদুর রাভী ফী মাওলিদিন নবী (المورد الراوي في مولد النبي) — মোল্লা আলী ক্বারী (রহ.) — মিলাদুন্নবীর ফজিলত ও আনন্দ প্রকাশ অধ্যায় — মিলাদ সংক্রান্ত আলোচনা অংশ।
৫. আল-কাওকাব আল-আনোয়ার (الكوكب الأنور على عقد الجوهر)— আজহারী ওলামাবৃন্দ — মিসর — মিলাদের বরকত অনুচ্ছেদ — শেখ আব্দুল হালিমের সমান্তরাল বর্ণনার উদ্ধৃতি।
৬. আনওয়ার-ই সাতিয়াহ — মাওলানা আব্দুস সামি বেদায়ুনী (১৮৮৯ খ্রি.) — ভারত — 'বায়ান-এ মাওলিদ শরীফ' অধ্যায় — আপত্তির জবাবে আরবের সুবুল আল-হুদার ইবারত পেশ।
৭. আল-মালফুজ শরীফ — ইমাম আহমদ রেজা খান বেরেলভী (রহ.) — ভারত — ২য় খণ্ড, মিলাদ ও কিয়াম অধ্যায় — পারস্পরিক রূহানী আনন্দের ব্যাখ্যা।
৮. ফাতাওয়া রেজভীয়া — ইমাম আহমদ রেজা খান বেরেলভী (রহ.) — ভারত — সংশ্লিষ্ট মিলাদ ফতোয়া — সুবুল আল-হুদার সূত্রে ফিকহী সমর্থন।
৯. আল-মাওলিদ আল-নাবাবি: আল-হুকম ওয়া আল-মাশরুউইয়্যাহ (المولد النبوي: الحكم والمشروعية) — ড. মুহাম্মদ তাহির-উল-কাদরি — পাকিস্তান / আরবঅধ্যায়
আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া ইমাম কাসতালানী সংশ্লিষ্ট মিলাদ অধ্যায়
১০,ইতমাম আল-নি'মাহ আল-কুবরা (إتمام النعمة الكبرى) ইমাম ইবনে হাজার আল-হাইতামী (রহ.) মিলাদ উদ্যাপন সংক্রান্ত আলোচনা
তাহকীকী সিদ্ধান্ত
১. ঐতিহাসিক বিস্তার:রে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুসংবাদ: مَنْ فَرِحَ بِنَا فَرِحْنَا بِهٖ(যে ব্যক্তি আমাদের জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করে, আমরা তার জন্য খুশি মুবারক প্রকাশ করি।” সুবহানাল্লাহ!) বাণীটি উত্তর আফ্রিকার মরক্কো থেকে শুরু করে মিসরের আল-আজহার হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের দেওবন্দ ও বেরেলী অঞ্চলের পর্যন্ত প্রামাণ্য হিসেবে বিস্তৃত হয়েছে।
২. দ্বিমুখী তাত্ত্বিক ভূমিকা: এটি শেখ আবু মুসা আল-জারহুনীর বর্ণনায় ছিল ফকীহদের আপত্তির বিপরীতে রূহানী অনুমোদন, আর শেখ আব্দুল হালিমের বর্ণনায় ছিল একনিষ্ঠ আমলের রূহানী কবুলিয়াত।
৩. চূড়ান্ত নির্যাস: উপরোক্ত আলোচনা থেকে একবারেই স্পষ্ঠ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বত,তাজিম,খুশি প্রকাশ করে মাহফিলের আয়োজন ,মেহমানদারী করা,খাদ্য খাওয়ানো ইত্যাদি নেক কাজ করলে খুশি প্রকাশকারীদের জন্য এক অপূর্ব প্রামাণ্য ও নির্ভরযোগ্য ‘সুসংবাদ’ (المبشرات), যা কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর মৌলিক নীতির সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।
মুহতারাম মহাপবিত্র ৯০ দিনব্যাপী আজীমুশ্বান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাহফিল - আজ 41তম দিন।তাবারুকে হাদিয়া করুন: ১২০০ /১২০০০/ ১২০০০০+
সরাসরি শুনুন:http://Sm40.com
01739466730 বিকাশ এজেন্ট
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, আল হাদ্বির ওয়ান নাযির, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (১৯)
হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবলোকন:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ اَبْـى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَاَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ جِبْرِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَمْ عُمْرُكَ مِنَ السِّنِيْنَ قَالَ حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَسْتُ اَعْلَمُ غَيْرَ اَنَّ فِى الْحِجَابِ الرَّابِعِ نَـجْمًا يَطْلُعُ فِىْ كُلِّ سَبْعِيْنَ اَلْفَ سَنَةٍ مَرَّةً فَرَاَيْتُهٗ اِثْنَيْنِ وَسَبْعِيْنَ اَلْفَ مَرَّةٍ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِزَّةِ رَبِّ يَا حَضْرَتْ جِبْرِيْلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَا ذَالِكَ الْكَوْكَبُ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (তো সবকিছু জানেন। তবে সৃষ্টিকে তা’লীম মুবারক দেয়ার জন্য) হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন- আপনার বয়স মুবারক কত? জবাবে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার বয়স মুবারক কত তা আমি জানি না; তবে (আমি দেখেছি মহান আল্লাহ পাক উনার হিজাবে আযমত মুবারক উনার) চতুর্থ হিজাব মুবারক-এ একখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারকা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক ৭০ হাজার বছর পর পর দেখা যেতেন। আমাকে সৃষ্টির পর সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারকা মুবারক উনাকে আমি ৭২ হাজার বার উদিত হতে দেখেছি। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! মহান আল্লাহ পাক উনার ইয্যত মুবারক উনার ক্বসম! আমিই সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারকা মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে রূহুল বয়ান ৩/৫৪৩, আস সীরাতুল হালাবিয়্যাহ্ ১/৪৭)
উল্লেখ্য যে, উপরে যে ৭০ হাজার বছর ও ৭২ হাজার বছরের কথা বলা হয়েছে, এটা আখিরাতের বৎসরের হিসাব অনুযায়ী। আর আখিরাতের ১ দিন দুনিয়ার ১ হাজার বছরের সমান। সুবহানাল্লাহ!
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
পর্দা পালন করা সম্পর্কে বহু আয়াত শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে। যেমন আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْ ۚ ذٰلِكَ أَزْكٰى لَهُمْ ۗ اِنَّ اللهَ خَبِيْرٌ بِمَا يَصْنَعُوْنَ. وَقُلْ لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوْجَهُنَّ وَلَا يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ.
অর্থ: (আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মু’মিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতার কারণ। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তারা যা করে তার খবর রাখেন। আর আপনি মু’মিনা নারীদেরকে বলুন, তারাও যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে ও তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং- ৩০, ৩১)
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
খ্বালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতায়াত (অনুসরণ-অনুকরণ) করা, আর কাফির-মুশরিক, ইহুদী, নাছারা, মজুসী, অর্থাৎ তাবৎ বিধর্মীদের খিলাফ করা ফরয।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বক্ষেত্রে, সবসময় কাফির-মুশরিকদের খিলাফ বা বিপরীত আমল মুবারক করেছেন এবং উম্মতকে সেভাবে আমল করতে মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لَيْسَ مِنَّا مَنْ تَشَبَّهَ بِغَيْرِنَا.
অর্থ: যারা আমাদেরকে বাদ দিয়ে অন্য কারো সাথে সাদৃশ্য রাখে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (তিরমিযী শরীফ)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلاَ بِالنَّصَارَى.
অর্থ: তোমরা ইহুদী-নাছারা অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের সাথে মিল রাখবে না। অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা,বেদ্বীন-বদদ্বীনদের সাথে মিল রাখা যাবে না।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ إِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ الله تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ.
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে তাশাব্বুহ বা সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। (আবূ দাউদ শরীফ)
উদাহরণ স্বরূপ কয়েকটি বর্ণনা দেয়া হলোঃ
সালাম আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কাফির-মুশরিকদের খিলাফ করার নির্দেশ মুবারক: সালাম আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের খিলাফ করার নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন -
لاَ تَشَبَّهُوا بِالْيَهُودِ وَلا بِالنَّصَارَى فَإِنَّ تَسْلِيمَ الْيَهُودِ الإِشَارَةُ بِالأَصَابِعِ وَتَسْلِيمَ النَّصَارَى الإِشَارَةُ بِالأَكُفِّ.
অর্থ: তোমরা ইহুদী ও নাছারাদের সাথে কোন ব্যাপারে সাদৃশ্য রাখবে না। ইহুদীদের সালাম হলো অঙ্গুলীর ইশারায় আর খ্রিস্টানদের সালাম হলো হাতের তালুর ইশারায়। কাজেই তোমরা সেভাবে সালাম দিও না। (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
রোযার ক্ষেত্রে কাফির-মুশরিকদের খিলাফ করার নির্দেশ মুবারক: রোযার ক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহুদী-নাছারাদের সাথে সাদৃশ্যতা না রাখার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ থেকে মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন, তখন উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে আরজী পেশ করা হলো- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহুদীরাও পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে একটি রোযা রেখে থাকে। এ কথা শুনে তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
لَئِنْ بَقِيتُ إِلَى قَابِلٍ لأَصُومَنَّ التَّاسِعَ.
অর্থ: যদি আমি আগামী বছর আনুষ্ঠানিকভাবে দুনিয়াতে মহাসম্মানিত অবস্থান মুবারক করি তাহলে ৯ তারিখেও পবিত্র রোযা মুবারক রাখবো। অর্থাৎ আমরা তাদের খিলাফ করণার্থে দু’দিন পবিত্র রোযা মুবারক রাখবো। (মিশকাত শরীফ)
পবিত্র সাহরী ও পবিত্র ইফতারীতে কাফির-মুশরিকদের খিলাফ করার নির্দেশ মুবারক: সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতিটি বিষয়ে কাফির- মুশরিক, ইহুদী-নাছারাদের খিলাফ আমল করার নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে। সেটা যতো ছোট বা ক্ষুদ্র বিষয়ই হোক না কেনো। কারণ কাফির- মুশরিক, ইহুদী-নাছারা এরা সবাই লা’নতগ্রস্ত বা অভিশপ্ত। কাজেই, তাদের সাথে যারা সাদৃশ্যতা রাখবে তারাও তাদের সেই লা’নতের শামিল হবে।
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ الله تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ يَزَالُ الدِّينُ ظَاهِرًا مَا عَجَّلَ النَّاسُ الْفِطْرَ لأَنَّ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى يُؤَخِّرُونَ.
অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মানুষ যতোদিন তাড়াতাড়ি পবিত্র ইফতার করবে ততোদিন সম্মানিত দ্বীন বিজয়ী থাকবে। কেননা ইহুদী, নাছারারা অনেক বিলম্বে ইফতার করে থাকে। (আবূ দাউদ শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ)
এই কামিয়াবী বা বিজয়ের মূলেই রয়েছে বিধর্মীদের খিলাফ আমল। তিনি স্পষ্ট করেই বললেন, যতোদিন মুসলমানরা ইহুদী, নাছারা অর্থাৎ সকল বিধর্মীদের কার্যকলাপের বিপরীত আমল করতে থাকবে ততোদিন তারা বিজয় বেশে পৃথিবীতে অবস্থান করবে। আর যখনই তাদের সাদৃশ্যতা গ্রহণ করবে তখন তাদেরকে পরাজয়ের গ্লানী ভোগ করতে হবে। এমনকি একসময় তাদেরকে ইহুদী, নাছারাদের গোলামে পরিণত হতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ!
কাজেই, ছোট-বড়, সকল কাজ-কর্মে, আচার-ব্যবহারে, কথা-বার্তায় ইহুদী, নাছারা অর্থাৎ সমস্ত বিধর্মীদের খিলাফ আমল করতে হবে। কোনোক্রমে তাদের সাথে কোনো ব্যাপারে সাদৃশ্যতা রাখা যাবে না।
যতো আশ্চর্যজনক কথা-বার্তাই হোক না কেনো, তা গ্রহণ করা যাবে না।
কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারাদের মতাদর্শের কোনো নিয়ম-কানুন গ্রহণ করা জায়িয নেই। তারা যতো আশ্চর্যজনক, নছীহতপূর্ণ কথাই বলুক না কেনো তা গ্রহণ করা যাবে না। কারণ, তাতেও রয়েছে খ¦লিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নাফরমানী, অবাধ্যতা।
একদিন আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে আরজী করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইহুদীদের নিকট অনেক কথাবার্তা শুনা যায়; যা খুবই নছীহতপূর্ণ মনে হয়। আমরা কি সেখান থেকে সংরক্ষণের জন্য কিছু লিখে রাখতে পারবো? একথা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-
أَمُتَهَوِّكُونَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى.
অর্থ: “তোমরাও কি ইহুদী, নাছারাদের মতো বিভ্রান্ত হতে চাও?
لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَلَوْ كَانَ حَضْرَتْ مُوسَى عليه السلام حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلا اتِّبَاعِي .
অর্থ: “জেনে রেখ! আমি তোমাদের নিকট সম্পূর্ণ পরিষ্কার ও উজ্জ্বল সম্মানিত দ্বীন নিয়ে এসেছি। (ইহুদীদের নবী) সাইয়্যিদুনা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যদি যমীনে থাকতেন তাহলে উনাকেও আমার পবিত্র ইত্তিবা (অনুসরণ-অনুকরণ) করা ফরয-ওয়াজিব সাব্যস্ত হতো। (আহমদ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ)
কাফির-মুশরিক, ইহুদী-নাছারা অর্থাৎ বিধর্মীরা যেরূপ পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করে সেরূপ পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান করা জায়িয নেই:
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই মহাসম্মানিত ইতায়াত (অনুসরণ-অনুকরণ) মুবারক করতে হবে। কাফির-মুশরিক,ইহুদী-নাছারা অর্থাৎ বিধর্মীদের সাথে তাশাব্বুহ বা সাদৃশ্যতা রেখে এমন কোনো কিছু গ্রহণ করা কিংবা পরিধান করা জায়িয নেই।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ الله تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَأَى النَّبِىُّ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ فَقَالَ إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلاَ تَلْبَسْهَا
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে কুসুম রঙের দু’টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখতে পেলেন। তখন তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, এগুলো কাফিরদের পোশাকের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই, আপনি এগুলো পরবেন না। (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য যে, পোশাকের রঙ বা কাটিং অতি সাধারণ বিষয়। অথচ এ বিষয়েও পার্থক্য বজায় রাখার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।
কাজেই, যে পোশাক, যে কাটিং, যে কাজ-কর্ম কাফির-মুশরিকদের মধ্যে প্রচলিত তা পরিহার করা এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা সকলের জন্য ফরয।
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি ক্বিয়ামতের দিন চার শ্রেণীর লোকদের সুপারিশ করবো-
এক. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সম্মান মুবারক করবেন।
দুই. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে আর্থিকভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারকের আনজাম দিবেন।
তিন. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে শারীরিকভাবে সম্মানিত খিদমত মুবারকের আনজাম দিবেন।
চার. যাঁরা আমার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে, হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে অন্তরে মহব্বত মুবারক করবেন এবং জবানে উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ!
(জামিউল আহাদীছ ৪/২২৯, জামউল জাওয়ামি’, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৭/১১, দায়লামী শরীফ)
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৭)
কৃত্রিম চুল ব্যবহার ও উল্কি করা, ভ্রু উপড়িয়ে ফেলা, রেত দ্বারা ঘষে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি হারাম :
عن حَضْرَتْ حُميد ابنِ عبدِ الرحمن رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أنه سَمعَ حَضْرَتْ معاويةَ بنَ أبي سفيانَ رضي اللهُ تَعَالٰى عَنهُما عام حجَّ وهو على المِنبرِ وتناول قُصَّةً مِنْ شَعرٍ كانت في يَدِ حَرَسِنيّ يقولُ يا أهْلَ المدينةِ اْين عُلمَاؤُكم؟ سمعتُ رسولَ الله صلَّى الله عليه وسلم ينهى عن مِثل هذه ويقول إنما هَلَكَتْ بَنو إسرائيلَ حين اتَّخَذَ هذه نِساؤُهُمْ.
অর্থ: হযরত হুমাইদ ইবনে আব্দুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, হযরত মুয়াবিয়া ইবনে আবূ সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি উনার খিলাফতকালীন সময়ে হজ্জের বৎসর মিম্বর শরীফে আরোহণ করে উনার পাহারায় নিযুক্ত একজন দেহরক্ষীর হাত থেকে একগুচ্ছ কৃত্রিম চুল হাতে নিয়ে সবাইকে সম্বোধন করে বললেন, হে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসীগণ! আপনাদের আলেমগণ কোথায়? আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি যে, বনী ইসরাঈলের নারীগণ এই কৃত্রিম চুল ব্যবহারের কারণে ধ্বংস হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ نافعٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عن حَضْرَتْ عبدِ الله بنِ عُمَرَ رضي اللهُ عَنهُ قال لعَنَ رسولُ الله صلَّى الله عليه وسلم الواصِلَةَ والمُستوصِلةَ والوَاشِمةَ والمُستَوشِمَةَ.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ সকল নারীদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন, যারা কৃত্রিম চুল তৈরী করে, যারা তা ব্যবহার করে, যারা দেহে উল্কি লাগিয়ে দেয় এবং যারা উল্কি লাগায়। নাঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, মুখতাছারু ইমামিল বুখারী-৪/৫৪)
عن حَضْرَتْ عبدِ الله بنِ عُمَرَ رضي اللهُ تَعَالٰى عَنهُ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُسْتَوْشِمَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ لِخَلْقِ اللَّهِ.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, অভিশাপ ঐ নারীদের প্রতি যারা সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে দেহে উল্কি লাগিয়ে দেয় এবং যারা উল্কি লাগায়, ভ্রু উপড়িয়ে কপাল বড় করে, রেত দিয়ে দাঁত ঘষে সরু করে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে। নাঊযুবিল্লাহ! (ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসনাদে শাশী)
ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
وَهُوَ حَرَام إِلَّا إِذَا نَبَتَ لِلْمَرْأَةِ لِحْيَة أَوْ شَوَارِب.
অর্থ: ভ্রু উপড়িয়ে কপাল বড় করা হারাম তবে, কোন মহিলার যদি দাড়ি গজায় বা মোছ গজায় তা উপড়িয়ে ফেলতে হবে। (আওনুল মা’বূদ-৯/২০৭)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَت زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ رضي اللهُ تَعَالٰى عَنهُ أَنَّ سَيِّدَتنَا حَضْرَت اُمّ الْمؤْمِنِيْنَ الحادية عشر عَلَيْهَا السَّلَام لَمَّا جَاءَهَا نَعْيُ أَبِي سُفْيَانَ دَعَتْ بِصُفْرَةٍ بَعْدَ الثَّالِثِ فَمَسَحَتْ بِهَا عَارِضَيْهَا وَذِرَاعَيْهَا وَقَالَتْ: إِنِّي كُنْتُ غَنِيَّةً عَنْ هَذَا لَوْلَا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول لَا يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ إِلَّا عَلَى زَوْجٍ فَإِنَّهَا تُحِدُّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا.
অর্থ: হযরত যাইনাব বিনতে আবূ সালামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, যখন সিরিয়া হতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল হাদিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আব্বাজান হযরত আবূ সুফিয়ান ইবনে হারব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সংবাদ জানলেন, তার তিনদিন পর তিনি হলুদ রংয়ের সুগন্ধি আনয়ন করলেন। অতঃপর তিনি তা উনার চেহারা মুবারক উনার উভয় পাশের্^ এবং উভয় বাহুতে মেখে নিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমি এরূপ করা থেকে বেনিয়াজ অর্থাৎ আমি কখনো সুগন্ধি লাগাতাম না। শুধুমাত্র এই কারণে মেখেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে মহিলা মহান আল্লাহ পাক ও পরকালের প্রতি পবিত্র ঈমান আনয়ন করেছেন তার পক্ষে তার সম্মানিত আহাল ব্যতিত অন্য কারো জন্য তিন দিনের বেশি শোক পালন করা জায়িয নাই। অবশ্য মহিলা তার আহালের জন্য ৪ মাস ১০ দিন শোক পালন করবে। (সুনানে সায়ী’দ ইবনে মনসূর-২/১০৮, মুখতাছারু ছহীহি ইমামিল বুখারী-৩/৪১৮, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, তিরমিযী শরীফ)