ফলমূল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে ফল গ্রহণ (আহার মুবারক) করেছেন এবং তিনি অত্যন্ত পছন্দ মুবারক করতেন। এমনকি তিনি হযরত ছাহবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকেও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। অর্থাৎ ফল খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক।

স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনিও ফল খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

كُلُوْا مِنْ ثَمَرِهٖ اِذَا اَثْمَرَ وَاٰتُوْا حَقَّهٗ يَوْمَ حَصَادِهٖ وَلَا تُسْرِفُوْا اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِيْنَ ‎﴿١٤١﴾

অর্থ: “যখন বৃক্ষ ফলবান হয় তখন তোমরা ফল ভক্ষণ করো। এবং ফল-ফসল কাটার সময় তার হক্ব (উশর) আদায় করো। এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনআম শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪১)

আর ফলমূল নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّاسُ اِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوْا بِهٖ اِلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا أَخَذَهُ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْ ثِمَارِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مَدِيْنَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَمُدِّنَا.

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা (উনাদের বাগানে) সর্বপ্রথম পাকা ফল দেখলে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট (হাদিয়া মুবারক স্বরূপ) নিয়ে আসতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফলটি নিজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরত মুবারকে (মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাত মুবারকে) নিয়ে ইরশাদ মুবারক করতেন, আয় বারে ইলাহী! আমাদের ফলমূলে আমাদেরকে বরকত দিন, আমাদের শহরে আমাদেরকে বরকত দান করুন এবং আমাদের ছা’ ও মুদে অর্থাৎ পরিমাপের পাত্রে আমাদেরকে বরকত দান করুন। (তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মুসলিম শরীফ)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـيْ ذَرٍّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ كُلُوا التِّينَ فَلَوْ قُلْتُ إِنَّ فاكِهَةً نَزَلَتْ مِنَ الجَنّةِ بِلَا عَجَمٍ لَقُلْتُ هِيَ التِّيْنُ وَإِنَّهٗ يَذْهَبُ بِالْبَوَاسِيْرِ وَيَنْفَعُ مِنَ النِّقْرِسِ.

অর্থ: “হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে তীন ফল (ডুমুর ফল) নিয়ে আসেন। তখন তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের খাওয়ার জন্য দিলেন এবং নিজেও গ্রহণ (আহার মুবারক) করলেন এবং ইরশাদ মুবারক করলেন, যদি জান্নাত থেকে কোন ফল যমীনে এসে থাকে তবে সেটা তীন (ডুমুর) ফল। কারণ জান্নাতের ফল হবে বীজমুক্ত।” (জামিউছ ছগীর লিস সুয়ূতী; মুসনাদে ফিরদাঊস লি দায়লামী)



-আহমদ হুসাইন

image

পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব- ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা তওবা শরীফ উনার ৩৬ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اِثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِىْ كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذٰلِكَ الدِّيْنُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوْا فِيْهِنَّ أَنْفُسَكُمْ ﴿٣٦﴾

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কিতাব উনার মধ্যে আসমান-যমীন সৃষ্টির শুরু থেকে গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি হচ্ছে হারাম বা সম্মানিত মাস। এটাই সঠিক দ্বীন। তোমরা এই মাসগুলোতে নিজের প্রতি জুলুম করো না।

এই হারাম মাস সমূহ উনাদের যথাযথ সম্মান-ইজ্জত বজায় রাখতে হবে এবং এই মাসগুলোতে নফসের প্রতি জুলুম করা যাবেনা অর্থাৎ হারাম-নাজায়িজ কাজ করা যাবেনা।

হারাম মাস সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ثَلَاثٌ مُتَوَالِيَاتٌ ذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحِجَّةِ وَالْمُحَرَّمُ وَرَجَبُ مُضَرَ الَّذِيْ بَيْنَ جُمَادٰى وَشَعْبَانَ (رواه البخاري)

অর্থ: হারাম মাসসমূহ উনাদের মধ্যে তিনটি হলো ধারাবাহিক। তা হল- পবিত্র যিলক্বদ শরীফ, পবিত্র যিলহজ্জ্ব শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। আর চতুর্থটি হল মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব শরীফ মাস; যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ এবং পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মধ্যবর্তী মাস। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবু দাউদ শরীফ)

এই চারটি সম্মানিত মাস উনাদের মধ্যে অন্যতম মাস হলো পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَكْرِمُوا الْمُحَرَّمَ مَنْ اَكْرَمَ الْـمُحَرَّمَ اَكْرَمَهُ اللهُ بِالْجَنَّةِ وَنَجَّاهُ مِنَ النَّارِ

অর্থ: তোমরা পবিত্র মুহররম শরীফ মাস উনাকে সম্মান করো। যে ব্যক্তি মুহররম শরীফ মাস উনাকে সম্মান করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত নছীব করে এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দিয়ে সম্মানিত করবেন। সুবহানাল্লাহ! (ইবনে মাজাহ শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

اَكْرِمُوْا عَاشُوْرَاءَ مِنَ الْمُحَّرَمَ مَنْ اَكْرَمَ عَاشُوْرَاءَ مِنَ الْمُحَّرَمَ اَكْرَمَهُ اللهُ تَعَالٰى بِالْـجَنَّةِ وَنَـجَّاهُ مِنَ النَّارِ

অর্থ: তোমরা পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসের পবিত্র পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করো। যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসের পবিত্র পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে সম্মানিত জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দিয়ে সম্মানিত করবেন। সুবহানাল্লাহ! (অসমাপ্ত)

-আহমদ হুসাইন


ট্যাগসমূহঃ

পবিত্র আশূরা শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক (৩)


পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে দু’দিন রোযা রাখা খাছ সুন্নত মুবারক ও বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের উছীলা:

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُوْمُوا التَّاسِعَ وَالْعَاشِرَ وَخَالِفُوْا فِيْهِ الْيَهُوْدَ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ৯ ও ১০ই মুহররম শরীফ রোযা রেখে ইহুদীদের খিলাফ অর্থাৎ বিপরীত আমল করো।” (তিরমিযী শরীফ , কিতাবু ছিয়ামী আন রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম , বাবু মা’জা আশুরা আইয়ু ইয়াওমুল হুয়া : পবিত্র হাদীছ শরীফ নং:- ৭৫৫)



১) পবিত্র আশূরা শরীফ উপলক্ষে রোযাদারদেরকে ইফতার করানো খাছ সুন্নত মুবারক ও বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের উছীলা:

রোযাদারদেরকে ইফতার করানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

مَنْ فَطَّرَ فِيْهِ صَائِمًا فَكَاَنَّـمَا أَفْطَرَ عِنْدَهٗ جَمِيْعَ أُمَّةِ (سَيِّدِنَا حَبِيْبِنَا شَفِيْعِنَا مَوْلَانَا) مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করাবে, সে যেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত উম্মতকে ইফতার করালো।” সুবহানাল্লাহ! (আল বাইয়্যিনাত শরীফ)

৩) পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো খাছ সুন্নত মুবারক ও বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভের উছীলা :

অনেকে প্রশ্ন করে থাকে বছরের মধ্যে কি কোন নির্দিষ্ট দিন আছে, যেদিন ভালো খাওয়া-পরার ব্যাপারে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে উৎসাহ দেয়া হয়েছে?

জবাব হচ্ছে- হ্যাঁ, রয়েছে। সে দিনটিই হচ্ছে পবিত্র ১০-ই মুহররমুল হারাম শরীফ। এ দিনটিতে প্রত্যেক পরিবারের প্রধান ব্যক্তিকে তার পরিবারের সদস্যদেরকে ভালো খাদ্য খাওয়ানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়ানো সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ وَّسَّعَ عَلٰى عِيَالِهٖ فِى النَّفَقَةِ يَوْمَ عَاشُوْرَاءَ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهٖ

অর্থ : “যে ব্যক্তি পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিন তার পরিবারবর্গকে ভালো খাওয়াবে-পরাবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সারা বৎসর ওই ব্যক্তিকে সচ্ছলতা দান করবেন।” (তবারানী শরীফ, শুয়াবুল ঈমান, মা ছাবাতা বিস্সুন্নাহ, মুমিন কে মাহে ওয়া সাল ইত্যাদি) (অসমাপ্ত)

-আহমদ হুসাইন

সম্মানিত হযরত ইমাম পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অবরোধ ও ফোরাত নদীর পানি পান করতে বাধা প্রদান


সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাহিনীকে সরাসরি জানিয়ে দিলেন যে, “তোমাদের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থাই তোমরা নাও না কেন আমি কিছুতেই ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো না এবং করতে পারিনা” তখন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনীর মনোভাব এত জঘন্য রূপ ধারণ করলো যে, তারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উনার প্রিয়জন উনাদের জন্য ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দিলো। নাঊযুবিল্লাহ! সেদিন ছিল ৭ই মুহররমুল হারাম ৬১ হিজরী।

ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাহিনী প্রায় চার হাজার সৈন্য ফোরাত নদীর তীরে নিয়োজিত করলো। এদের মধ্যে দুই হাজার ছিল ‘স্থল বাহিনী’ আর দুই হাজার ছিল ‘অশ্বারোহী’। তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, উনাদেরকে যেন এক ফোঁটা পানিও নিতে দেয়া না হয়। সে নির্দেশ অনুযায়ী উনাদের জন্য তারা পানি বন্ধ করে দিলো। নাঊযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরাশিজন সঙ্গী-সাথী উনাদের মধ্যে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন এবং পর্দানশীন সম্মানিত মহিলা উনারাও ছিলেন। তিনি শুনে আরো আশ্চর্য হয়ে গেলেন যে, উনাদের মোকাবিলা করার জন্য বাইশ হাজার সৈন্য এসেছে। কী আশ্চর্য! বিরাশিজনের মোকাবিলায় বাইশ হাজার সৈন্য! আবার এই বিরাশিজনের মধ্যে শিশু ও মহিলা উনারা রয়েছেন। অথচ উনাদের মোকাবিলায় যে বাইশ হাজার সৈন্য তারা সবাই যুবক এবং তারা সকল প্রকারের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এসেছে। এরপরও তারা পানি বন্ধ করে দিলো। কারণ তাদের ধারণা হলো যে, উনারা যদি পানি পান করে জিহাদ করেন, তাহলে তারা ২২ হাজার হয়েও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা যুলূমের উপর যুলুম ছিল।

আফসুস! ওই সব যালিমদের জন্য, যারা এমন এক সুমহান ব্যক্তি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-প্রিয়জন উনাদের জন্যে পানি বন্ধ করে দিলো, যিনি হচ্ছেন সাকিয়ে কাওছার, শাফিয়ে মাহশার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত আদরের নাতী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

ওই কুখ্যাত ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাহিনীর প্রধান নির্দেশ দিয়েছিল যে, “মানুষ, জীব-জন্তু, গরু-ছাগল, পশু-পাখি, বিধর্মী সবাই এই ফোরাত নদীর পানি পান করবে, তোমরা বাধা দিও না। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পানি পান করতে দিয়ো না।” নাঊযুবিল্লাহ! যেই ফোরাত নদীর পানি সবারই পান করার অনুমতি ছিল, জীব-জন্তু, পশু-পাখি কারো জন্য বাধা ছিল না। কিন্তু সাকিয়ে কাওছার, শাফিয়ে মাহশার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অতিপ্রিয় সম্মানিত নাতী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেই ‘ফোরাত নদীর’ পানি পান করা থেকে বাধা দিলো। নাঊযুবিল্লাহ!

-০-

কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক

لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَوَاحِلِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ النَّبِيِّ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه

অর্থ: আমরা যখন মদীনা শরীফ উনার মধ্যে আগমন মুবারক করতাম, তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেদের সওয়ারী থেকে নেমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (পবিত্র হাত মুবারকে) এবং নূরুদ দারাজাত মুবারকে (পবিত্র ক্বদম মুবারকে) বুছা দিতাম। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুছ ছাহাবাহ্, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শরহুস সুন্নাহ্, শু‘আবুল ঈমান, ইত্যাদি)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৬)
ফযীলত ও মর্যাদা:

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রশংসায় ইরশাদ মুবারক করেছেন-

إذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوْبُهُمْ

(অর্থ: উনাদের কাছে যখন মহান আল্লাহ পাক উনার কথা বলা হয়, উনাদের অন্তর ভয়ে কেঁপে উঠে)। হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মধ্যে এ অবস্থার পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিল। একবার উনার সম্মুখে এই আয়াত শরীফখানা পাঠ করা হলো-

فَكَيْفَ إذَا حِئْنَا مِنْ كُلِّ أمَّةٍ شَهِيْدًا

(অর্থ: তখন কেমন হবে যখন আমরা প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে সাক্ষী উপস্থিত করবো)। হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এই আয়াত শরীফখানা শুনে এত কাঁদলেন যে, চোখের পানিতে উনার দাড়ি মুবারক ভিজে গেল এবং উনার আশেপাশের লোকেরাও তাতে প্রভাবিত হলো।

হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একবার যখন নিম্নোক্ত আয়াত শরীফখানা তিলাওয়াত করলেন-

ألَمْ يَأنِ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا أنْ تَخْشَعَ قُلُوْبُهُمْ لِذِكْرِاللهِ

তখন তিনি ক্রন্দন করে উঠলেন এবং অতঃপর অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। (ইছাবা)

যার অর্থ হচ্ছে- ঈমানদারদের জন্য কি এখনও সময় আসেনি যে, তাদের অন্তরসমূহ মহান আল্লাহ পাক উনার যিকিরের জন্য বিনিত হবে? (পবিত্র সূরা হাদীদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬)

হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন একজন বড় ধরণের আবেদ এবং রাত্রি-জাগরণকারী ব্যক্তি। রাত্রির বেশীর ভাগ সময় ইবাদতে অতিবাহিত করতেন। উনার খাদেম হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, তিনি সারা রাত নামায আদায় করতেন। ছুবহে ছাদিকের সময় আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, সকাল হয়েছে কি? আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে আর একটু ফর্সা হওয়া পর্যন্ত ইস্তিগ্ফারে কাটাতেন। আর “না” বললে আবার নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন।

এক হাদীছ শরীফে হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়াবী জিন্দেগীতে কেউ যদি স্বপ্ন দেখত, তা উনার নিকট বর্ণনা করত। আমিও আকাঙ্খা করতাম যেন আমি কোন একটি স্বপ্ন দেখি। তখন আমি ছিলাম অল্প বয়সের অবিবাহিত বালক, মসজিদেই শুয়ে থাকতাম। একবার আমি স্বপ্নে দেখলাম, দুইজন ফেরেশতা আমার নিকট আসলেন, অতঃপর আমাকে নিয়ে চললেন।... (অতঃপর পরিশেষ বলা হয়েছে) “অতঃপর আমি ইহা (আমার বোন) হযরত উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ আলাইহাস সালাম (হাফছাহ আলাইহাস সালাম) উনার নিকট বর্ণনা করি। তিনি ইহা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট বর্ণনা করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন-

نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّى مِنَ اللَّيْلِ

অর্থ: আবদুল্লাহ কত উত্তম লোক! তিনি যদি রাত্রে নামায (তাহাজ্জুদ) পড়তেন! হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে, এরপর থেকে তিনি প্রায় সারা রাত্রই জাগ্রত থাকতেন এবং অতি অল্পই নিদ্রা যেতেন। (ইছাবা)

পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতে তিনি এক অপার্থিব স্বাদ অনুভব করতেন। এক রাত্রিতেই সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন শরীফ খতম করতেন। প্রতি বছর হজ্জ আদায় করতেন। ছোট ছোট ইবাদতও তিনি ছাড়তেন না। প্রত্যেক নামাযের জন্য তিনি নতুনভাবে ওযু করতেন। মসজিদে যাওয়ার সময় ধীরে ধীরে পা ফেলতেন যাতে কদম সংখ্যা বেড়ে যায় এবং নেকীও বেশী অর্জিত হয়।

হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন যুহদ ও তাক্বওয়ার বাস্তব নমুনা। তিনি ছিলেন উনার যুগের অতুলনীয় যাহিদ ও মুত্তাক্বী।

বাল্যকাল থেকেই হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মধ্যে তাক্বওয়ার ভাবটি গালিব তথা প্রবল ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার এই তাক্বওয়ার স্বভাব দেখে বলেছিলেন اَلرَّجُلُ الصَّالِحُ (নেককার বান্দা)।

হযরত হামযাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট যদিও প্রচুর খাদ্য সামগ্রী মজুদ থাকত, তিনি কখনও পেট ভরে খাদ্য গ্রহণ করতেন না। একবার উনার অসুস্থ অবস্থায় ইবনে মুতী উনাকে দেখতে আসলেন। তিনি দেখলেন যে, উনার শরীর ক্ষীণ হয়ে গেছে। তখন ইবনে মুতী হযরত ছফিয়্যা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন; আপনি কি উনার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করেন না? যাতে উনার শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে, আপনি কি উনার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য প্রস্তুত করতে পারেন না? হযরত ছফিয়্যা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি উত্তর দিলেন, আমরা সেরূপ করে থাকি। কিন্তু তিনি উনার পরিবারের কারো অথবা উপস্থিত অন্য কোন লোকের কথায় কর্ণপাত করেন না। ইচ্ছা করলে এ বিষয়ে আপনি উনার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। অতঃপর ইবনে মুতী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, হে আবু আবদুর রহমান! আপনি যদি প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করতেন, আপনার শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় আসত।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমার বয়স এখন ৮০ বছর হয়েছে, এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আমি কখনও পেট ভরে আহার করিনি। অথবা তিনি বলেছিলেন, শুধু একবার ব্যতীত এ সময়ের মধ্যে কখনও পেট ভরে আহার করিনি। এখন আপনি কি চান, আমার জীবনের একেবারে শেষ মুহূর্তে আমি পেট ভরে আহার করি? (হায়াতুছ ছাহাবা) (অসমাপ্ত)

-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।

সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (৫)
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ফুটবল-ক্রিকেটসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ اِلَّا ثَلَاثٍ: مُلَاعَبَةُ الرَّجُلِ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ

“সর্বপ্রকার খেলা নিষিদ্ধ তিনটি বিষয় ব্যতীত- যা খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। (১) নিজ আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা। (২) তীর ধনুক চালনা করা। (৩) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা।

“আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ” ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবেও হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।

কাজেই, খেলাধুলার ফিতনা থেকে ঈমান-আমল হিফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-ওয়াজিব।



(ধারাবাহিক)



মাঠে গিয়ে বা টিভিতে অথবা অন্য কোন মাধ্যমে খেলা দেখা কতটুকু জায়িয?



খেলা যেহেতু শরীয়তসম্মত নয় সেহেতু তা মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক অথবা অন্য কোন মাধ্যমেই হোক সবখানে দেখাই হারাম। উপরন্তু টিভিতে খেলা দেখা বা যে কোন প্রোগ্রাম করা, দেখা এবং এজন্য টিভি ক্রয়-বিক্রয় করাও সম্পূর্ণরূপে হারাম। কারণ, টিভি শুধু গান-বাজনার জন্যই হারাম নয় বরং ছবি ও বেপর্দা তথা অশ্লীলতার কারণেও টিভি দেখা-রাখা, ক্রয়-বিক্রয় করা শক্ত হারাম।

শরীয়তে টিভি দেখা সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। কারণ প্রথমত: টিভিতে জানদার প্রাণীর ছবির মাধ্যমে অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রাম করা হয়। অথচ “বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ” ইত্যাদি সমস্ত ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবসমূহে “ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা শক্ত হারাম” বলে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللهِ الْمُصَوِّرُونَ

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, আমি শুনেছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে। (বুখারী শরীফ)

অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ مُعَاوِيَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ مِنْ أَشَدِّ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابًا الْمُصَوِّرُونَ

অর্থ : হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে। (মুসলিম শরীফ)

আরো বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ الَّذِينَ يَصْنَعُونَهَا يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ.

অর্থ : হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয় প্রাণীর ছবি তৈরীকারীদের ক্বিয়ামাতের দিন শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যে ছবিগুলো তৈরী করেছ তার মধ্যে প্রাণ দাও (কিন্তু তারা প্রাণ দিতে সক্ষম হবেনা)। (নাসায়ী শরীফ)

আরো বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَوَّرَ صُورَةً عَذَّبَهُ اللهُ حَتَّى يَنْفُخَ فِيهَا يَعْنِى الرُّوحَ وَلَيْسَ بِنَافِخٍ فِيهَا

অর্থ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কোন প্রাণীর ছবি তৈরী করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ঐ ছবির মধ্যে প্রাণ না দেয়া পর্যন্ত শাস্তি দিবেন। কিন্তু সে তার মধ্যে প্রাণ দিতে সক্ষম হবে না। (তিরমিযী শরীফ)

অতএব, টিভি দেখা, রাখা, ক্রয় করা, বিক্রয় করা, চাই খেলা হোক বা অন্যান্য প্রোগ্রাম হোক সবই দেখা হারাম। কোন মতেই জায়িয নেই। বরং তা শক্ত হারাম ও কবীরা গুণাহর অন্তর্ভুক্ত।
মুফতীউল আযম মুহম্মদ আবুল খায়ের আযীযুল্লাহ ছহেব

image

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৭)
ফযীলত ও মর্যাদা:

উমর বিন হামযাহ বিন আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেন, আমি আমার পিতার (হামযাহ) সঙ্গে বসা ছিলাম। এ সময় একজন লোক পাশ দিয়ে কোথাও যাচ্ছিল। লোকটি বললো; আমাকে বলুন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে আপনি কি বলেছিলেন, যখন আমি আপনাকে “জরফ” নামক স্থানে উনার সঙ্গে কথা বলতে দেখেছিলাম? বর্ণনাকারী (উমর) বলেন, আমি বলেছিলাম; হে আবু আবদুর রহমান! আপনার শরীর শক্তিহীন হয়ে পড়েছে, বয়স অনেক বেড়েছে। আপনার সঙ্গীরা আপনার মান মর্যাদা জানে না। আপনি যদি আপনার পরিবারকে নির্দেশ দিতেন, উনারা যেন আপনার জন্য এমন কিছু ব্যবস্থা করেন, যাতে উনাদের নিকট আপনি যখন গমন করেন, উনারা যেন আপনার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করতে পারেন। তিনি বললেন, তুমি কি বলছ? মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি বিগত ১৪ বছর থেকে পেট ভরে আহার করিনি, এমন কি একটিবারও পেট ভরে আহার করিনি। তাহলে আমার কি প্রয়োজন আছে? আর আমার তো সামান্য সময় মাত্র বাকী আছে। (হায়াতুছ ছাহাবা)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার আযাদকৃত গোলাম উবায়দুল্লাহ ইবনে আদী ইরাক থেকে এসে উনাকে সালাম করে বললেন, আমি আপনাকে একটি বস্তু হাদিয়া দিতে চাই।

হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, তা কি জিনিষ? উবায়দুল্লাহ বললেন, জাওয়ারিস। তিনি বললেন, জাওয়ারিস কি জিনিষ? উবায়দুল্লাহ বললেন, ইহা খাদ্যকে তাড়াতাড়ি হজম করে। অতঃপর তিনি বললেন, গত ৪০ বছর থেকে আমি আমার পেট ভরে আহার করিনি। সুতরাং আমি উহা দ্বারা কি করবো? (হায়াতুছ ছাহাবা)

হযরত ইবনে সিরীন রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; এক ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললো, আপনি জাওয়ারিস ব্যবহার করুন। তিনি বললেন, জাওয়ারিস কি জিনিষ? লোকটি বললো, যখন কোন খাদ্য বদ-হজম হয়, তখন ইহা হজমে সহায়ক হয়। অতঃপর হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমি চার মাস থেকে পেট ভরে আহার করিনি। কাজেই বদ-হজম আমার কিভাবে হবে? উপরন্তু আমি এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ যারা একবার পেট ভরে খাবার খায়, আর একবার ক্ষুধার্ত থাকে। (ইবনে সা‘দ)

হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়া থেকে পর্দা মুবারক করার পর থেকে আমি ইটের উপর ইট স্থাপন করিনি অর্থাৎ ইমারত তৈরী করিনি এবং কোন খেজুর গাছও রোপন করিনি। (হায়াতুছ ছাহাবা)

মুহম্মদ বিন ফয়েয বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মিসকীনের সাথে ভিন্ন আহার করতেন না, যে পর্যন্ত না তা দ্বারা উনার শারীরিক ক্ষতি সাধিত না হতো। অতঃপর উক্তরূপ আহার করার কারণে যখন উনার মারিদ্বী শান মুবারক দেখা যেত, তখন উনার আহলিয়া (স্ত্রী) উনার জন্য খেজুর দিয়ে এক প্রকার খাদ্য প্রস্তুত করতেন। তিনি যখন ইহা খেতেন, সুস্থ হতেন।

আবু বকর বিন হিফ্ছ্ বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কোন খাদ্য গ্রহণ করতেন না, যে পর্যন্ত উনার দস্তরখানে একজন ইয়াতিম উপস্থিত না থাকত। (হিলইয়া)

হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন খুবই দানশীল। সবসময় পছন্দনীয় জিনিষ মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় দান করতেন। তিনি ছিলেন এই আয়াত শরীফের মিছদাক-

لَنْ تَنَالُوْا الْبِرَّ حَتّٰى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ

(তোমরা কল্যাণ লাভ করবে না যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু ব্যয় করো)। প্রতিবেলা দুই একজন গরীব-মিসকীন সঙ্গে না নিয়ে তিনি আহার করতেন না। প্রায়ই তিনি উনার ছেলেদের তাকীদ করতেন যখন উনারা খাবারের জন্য ধনীদের দাওয়াত করতেন এবং উনাদের সাথে ফকীর-মিসকীনকে ডাকতেন না। তিনি বলতেন, ‘তোমরা ভরাপেট লোকদের ডেকে আনো এবং ক্ষুধার্তদের ছেড়ে আসো।’ (ইহা কেমন কথা?)

যে গোলাম-বাঁদীটি উনার কাছে ভাল বলে মনে হতো, তাকে আযাদ করে দিতেন। এক বৈঠকে তিনি হাজার হাজার দিরহাম বিলিয়ে দিতেন। তিনি এত বেশী গোলাম-বাঁদী আযাদ করতেন যে, উনার আযাদকৃত গোলাম-বাঁদীর সংখ্যা এক হাজারের উর্ধ্বে। একবার তিনি খুব সুন্দর একটি উট খরিদ করে তার উপর সওয়ার হয়ে হজ্জে রওয়ানা হলেন। উটটির চলন উনার খুব ভাল লাগল। হঠাৎ তিনি নেমে পড়লেন এবং তার পিঠ থেকে জিনিষপত্র নামিয়ে ফেলে তাকে কুরবানীর পশুর সাথে মিলিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিলেন। (অসমাপ্ত)

ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম


মদ ও জুয়া সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-

یَسْـَٔلُوْنَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَیْسِرِ قُلْ فِیْهِمَاۤ اِثْمٌ كَبِیْـرٌ وَّمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَاِثْمُهُمَاۤ اَكْبَـرُ مِنْ نَّـفْعِهِمَا كَذٰلِكَ یُـبَـیِّنُ اللّٰهُ لَكُمُ الْاٰیٰتِ لَعَلَّكُمْ تَـتَـفَكَّرُوْنَ

“(ইয়া রাসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্জেস করে। আপনি বলে দিন, ‘দু’টোর মধ্যেই আছে মহাপাপ বা মহাক্ষতি এবং মানুষের জন্য (সামান্য) উপকার; আর এ দু’টোর পাপ বা ক্ষতি উপকারের চাইতে অনেক বড় ও বেশী। এভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ তোমাদের জন্য সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তোমরা চিন্তা করো।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ২১৯)

দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৯ম পর্ব)


জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।



“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:



ইহুদীসংঘের (জাতিসংঘের) মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়, যার পূর্ণ নাম Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights (OHCHR), এর প্রধান দপ্তরসহ অনেক দেশ ও অঞ্চলে আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে। নিচে তাদের প্রধান ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো-

প্রধান কার্যালয় (Headquarters):

জেনেভা, সুইজারল্যান্ড - Palais des Nations

→ এটি OHCHR -এর প্রধান কার্যালয় বা অফিস।

ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR)-এর বিশ্বজুড়ে মোট ৮৪টি ক্ষেত্রভিত্তিক উপস্থিতি (Field Presences) রয়েছে। এই উপস্থিতিগুলো বিভিন্ন ধরণের, যেমন-

আঞ্চলিক ও দেশীয় কার্যালয় (কান্ট্রি অফিস) (Regional and Country Offices): এটি স্থায়ী কার্যালয়ের একটি রূপ।

অন্যান্য উপস্থিতি (Other Presences): এর মধ্যে রয়েছে লিয়াজোঁ কার্যালয় বা কেন্দ্র।

আঞ্চলিক কার্যালয় (Regional Offices):

আফ্রিকা:

প্রেটোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা- আঞ্চলিক কার্যালয় (দক্ষিণ আফ্রিকা ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার জন্য)

আাদ্দিস আবাবা, আবিসিনিয়া (ইথিওপিয়া)- আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক

ডাকার, সেনেগাল- পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক কার্যালয়

কিনশাসা, কঙ্গো (Democratic Republic of the Congo (DRC)- মধ্য আফ্রিকার জন্য

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল:

ব্যাংকক, থাইল্যান্ড- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়

ফিজি (সুভা)- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য আঞ্চলিক কার্যালয়

নেপাল, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান- দেশে বিশেষ কার্যালয় রয়েছে (field presence)

ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া:

বিশকেক, কিরগিজস্তান

তিবলিসি, জর্জিয়া

কোসোভো, সার্বিয়া- ইহুদীসংঘ মিশনের মাধ্যমে কাজ করে

আমেরিকা:

পানামা সিটি, পানামা-মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আঞ্চলিক কার্যালয়

সান্তিয়াগো, চিলি

বোগোটা, কলম্বিয়া-দেশভিত্তিক কার্যালয়

বিশেষ দেশভিত্তিক কার্যালয় ও পর্যবেক্ষণমূলক বিশেষ কাজ (বিশেষ মিশন) (Country Offices / Field Presences):

OHCHR বেশকিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন এবং পরামর্শমূলক কাজের জন্য কার্যালয় বা প্রতিনিধি নিয়োগ করে। এর মধ্যে রয়েছে:

১. ইরাক, ২. ইউক্রেন, ৩. কলম্বিয়া, ৪. সুদান, ৫. দক্ষিণ সুদান এবং ৬. ফিলিস্তিন (পশ্চিম তীর ও গাজা শহরে)

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এই ৮৪টি উপস্থিতি নিম্নলিখিতভাবে বিভক্ত ছিলো (২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী):

(১) আফ্রিকায়: ২৭টি; (২) এশিয়ায়: ১৫টি; (৩) মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায়: ১০টি; (৪) আমেরিকাতে: ২১টি; (৫) ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায়: ১১টি

* এছাড়া, এর সদর দপ্তর জেনেভা, সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত এবং নিউইয়র্ক সিটিতে একটি অফিস রয়েছে।

বিশ্বের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় (OHCHR)সমূহের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান:

১. আফগানিস্তান (কাবুল)

২. বেনিন (কোটোনু)

৩. কেমেরুন (ইয়াউন্দে)

৪. চাদ (এন’জামেনা)

৫. কঙ্গো (কিনশাসা)

৬. ইকুয়েটোরিয়াল গিনিয়া (মালাবো)

৭. আবিসিনিয়া/ইথিওপিয়া (আদ্দিস আবাবা)

৮. গাম্বিয়া (বানজুল)

৯. গাঁবাদু (বুজুমবুরা)

১০. গিয়ানা (জর্জটাউন)

১১. ইরাক (বাগদাদ)

১২. জর্ডান (আম্মান)

১৩. কেনিয়া (নাইরোবি)

১৪. লিবিয়ার (ত্রিপোলী)

১৫. মেক্সিকো (মেক্সিকোসিটি)

১৬. মিয়ানমার (ইয়াঙ্গুন)

১৭. নাইজার (নায়ামি)

১৮. ফিলিস্তিন (রামাল্লাহ)

১৯. সৌদি আরব (রিয়াদ) (প্রতিনিধিত্ব কার্যালয়)

২০. বাংলাদেশ (গুলশান, ঢাকা) (সংকলিত)