আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
বর্তমান বিশ্বে মুসলমানরা এক চরম দুরবস্থায় দিনাতিপাত করছে। কাফির-মুশরিকরা তো রয়েছেই, সাথে সাথে কাফির-মুশরিকদের সন্তুষ্টি অর্জনে মুসলিম দেশগুলোর শাসকরাও নিজ দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচারের স্টীমরোলার চালাচ্ছে। কথিত ‘অসাম্প্রদায়িক’ সাজার জন্য মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার খর্ব করে, উগ্র হিন্দু-উপজাতি সন্ত্রাসীদের প্রাধান্য বিস্তারে যাবতীয় সহায়তা করছে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা।
বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর শাসকরা কথিত ‘অসাম্প্রদায়িক’ ইমেজ ধরে রাখতে গিয়ে কাফিরদের গোলাম হয়। সংখ্যালঘু বিধর্মীদের অন্যায় আবদার মেটাতে গিয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে এসব নামধারী মুসলিম শাসকরা উপেক্ষা করে। এরা বুঝতে পারে না যে, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষায় কাফিরদের প্রতি কঠোর হয়েও সহানুভূতিশীল ইমেজ রক্ষা করা সম্ভব। এই নজির স্থাপন করেছিলেন দ্বিতীয় খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে লক্বব মুবারক দেয়া হয়েছে ‘আশিদ্দাউ আলাল কুফফার’ অর্থাৎ যিনি কাফিরদের প্রতি কঠোর। তিনি কাফিরদের প্রতি কঠোর থেকে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তারপরও ইতিহাসের বিচারে উনাকে কেউ নিষ্ঠুর বলে দাবি করতে পারবে না। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারক চলাকালে তিনি আরবের কোথাও কোনো ইহুদী কিংবা খ্রিস্টানদের থাকতে দেননি। একে একে সবাইকে নির্বাসিত করেছেন।
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইহুদীদেরকে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আরব জাহানে ইহুদীদের প্রধান ঘাঁটি খাইবার অধিকার করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইহুদীদের শর্ত প্রদান করেছিলেন, যেকোনো মুহূর্তে আদেশ প্রদান করা মাত্র ইহুদীদেরকে খাইবার ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যেতে হবে। ইহুদীরা এই শর্তেই খাইবারে বসবাস করে আসছিলো।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারক চলাকালে এই ইহুদীদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ অত্যন্ত প্রকট হয়ে উঠে। একদিন ইহুদীরা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে এক ইমারতের ছাদ হতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়, যার কারণে তিনি গুরুতর আহত হন এবং উনার একখানা হাত মুবারক ভেঙে যায়। ইহুদীদের এরূপ অসংখ্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক মজলিস আহবান করে ইহুদীদের এসব সন্ত্রাসমূলক অপকর্মের কথা বর্ণনা করেন এবং ইহুদীদের খাইবার ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘কিতাবুশ শুরুত’ উনার মধ্যে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
নাজরানের খ্রিস্টানরা ইয়েমেন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করতো। এরা প্রথমে শান্ত থাকলেও কিছুদিনের মধ্যেই গোপনে বিদ্রোহ করার জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র-শস্ত্র যোগাড় করে ফেলে। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্ভাব্য বিদ্রোহ দমনের জন্য নাজরানের খ্রিস্টানদেরকে ইয়েমেন ছেড়ে ইরাকে চলে যাওয়ার নির্দেশ মুবারক প্রদান করেন।
এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কাফিরদের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যার দ্বারা মুসলমানগণ উনাদের দ্বীনী ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ গ্রহণে বিধর্মীদের প্রতি ইনসাফ ও মানবিক দিকটি মোটেও উপেক্ষা করা হয়নি। বিদ্রোহের অপরাধে বহিষ্কার করা সত্ত্বেও বিধর্মীদের সম্পত্তির সমুদয় মূল্য পরিশোধ করা হয়েছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ফেদাকের ইহুদীদের বহিষ্কার করার সময় তাদের সমস্ত সম্পত্তির হিসাব-নিকাশ করার জন্য একজন বিশেষজ্ঞ প্রেরণ করেন এবং উক্ত বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন অনুযায়ী সমস্ত সম্পত্তির আর্থিক মূল্য বায়তুল মাল হতে নির্বাসিত ইহুদীদেরকে প্রদান করা হয়।
নাজরানের খ্রিস্টানদের বহিষ্কার করার সময়েও তাদের সাথে অত্যন্ত মানবিক আচরণ করা হয়। তাদের পূর্ণ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি লিখে দেয়া হয় এবং তার মধ্যে উল্লেখ থাকে যে, এই খ্রিস্টানরা ইরাক ও সিরিয়ার যে স্থানে যাবে, সে জায়গার শাসক তাদের কৃষিকার্য ও বসতির জন্য ভূমির ব্যবস্থা করে দিবেন এবং দীর্ঘ দুই বছর তাদের কাছ থেকে কোনো জিযিয়া কর আদায় করা হবে না। খ্রিস্টানরা যেকোনো মুসলমানের নিকট সাহায্য চাইলে মুসলমানগণ তাদেরকে সাহায্য করবে। খ্রিস্টানদের নিকট প্রদত্ত এই ফরমানে বিশিষ্ট ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের দস্তখত মুবারক রয়েছে। (তথ্যসূত্র: আল ফারুক, শিবলী নোমানী, এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ২০৮-২০৯ পৃষ্ঠা)
দুনিয়ার কোনো যুগে, কোনো কালে বিদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি এধরনের সহানুভূতিশীল আচরণ করা হয়েছে, এর নজির কেউ দেখাতে পারবে না। কিন্তু তারপরও সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন ‘আশিদ্দাউ আলাল কুফফার’ তথা কাফিরদের প্রতি কঠোর।
বর্তমানে কাফিরদের প্রতি মুহব্বত পোষণকারী মুসলমানদের উচিত- সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার জীবনী মুবারক ফিকির করা। মুসলমানদের বোঝা উচিত- কাফিরদের কথায় কথায় মাথা নাড়লেই ‘অসাম্প্রদায়িক’ হওয়া যায় না, উদার হওয়া যায় না।
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজামকারী বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাতে প্রবেশ করবেন
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَكَانَ سَبَبًا لِّقِرَائَتِهٖ لَايَـخْرُجُ مِنَ الدُّنْيَا اِلَّا بِالْاِيْـمَانِ وَيَدْخُلُ الْـجَنَّةَ بِغَيْـرِ حِسَابٍ
অর্থ: যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করবেন, মর্যাদা দিবেন এবং এই উদ্দেশ্যে মহাসম্মানিত মীলাদ শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল উনার ইন্তিজাম মুবারক করবেন, তিনি অবশ্যই সম্মানিত ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবেন এবং বিনা হিসাবে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ৬ নং পৃষ্ঠা, নাফহাতুল আম্বরিয়া ৮ নং পৃষ্ঠা, মাদারিজুস সউদ, তালহীনুছ ছাননাজ ইত্যাদি)
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلشَّيْطَانُ جَاثِمٌ عَلٰى قَـلْبِ ابْنِ اٰدَمَ فَإِذَا ذَكَرَ اللهَ خَنَسَ وَإِذا غَفَلَ وَسْوَسَ
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, শয়তান মানুষের ক্বলবের মধ্যে বসে, যিকির করলে সে পালিয়ে যায় আর যিকির থেকে গাফিল হলে সে ওয়াসওয়াসা দেয়। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (২)
একজন মায়ের যদি দ্বীনের সঠিক বুঝ না থাকে তবে সেই মা তার সন্তানকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারবে না। তাই বাবার দায়িত্ব হচ্ছে তার আহলিয়াকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয় এমন স্থানে নিয়ে গিয়ে সঠিক দ্বীনি বিষয়ে শিক্ষা লাভের ব্যবস্থা করে দিয়ে হাক্বীক্বী আল্লাহওয়ালী বানানো।
পক্ষান্তরে শুধুমাত্র মায়ের যদি দ্বীনি জ্ঞান থাকে আর পিতার দ্বীনি জ্ঞান না থাকে এক্ষেত্রে মা যদি সন্তানকে কোন দ্বীনি বিষয়ে আদেশ করেন বা দ্বীনি কথা বলেন এমতাবস্থায় পিতা সেই কথাকে গুরুত্ব না দিলে সন্তানও মায়ের কথা গুরুত্ব দিবে না। সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই সন্তান তখন তার বাবার দিকে রুজু হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় মা দ্বীনদার হওয়া সত্ত্বেও ঐ সন্তানকে মায়ের পক্ষে দ্বীনদার বানানো কঠিন হয়ে যাবে অর্থাৎ সম্ভব হবে না।
আরো উল্লেখ্য যে, সন্তানকে যদি মা শরীয়ত পালনের ব্যাপারে শাসন করেন এবং বাবা যখন বাসায় ফিরে আসেন, সন্তান বাবার কাছে মায়ের উক্ত বিষয়ে অভিযোগ করে তখন দেখা যায় বাবাও সন্তানের পক্ষে কথা বলে। তাই সন্তানের কাছে বাবাকেই তখন ভাল মনে হয়। এভাবে বাবার কাছ থেকে প্রশ্রয় পেয়ে সন্তান এক সময় বেপরোয়া হয়ে যায়। সুতরাং বাবার দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টি দ্বীন ইসলাম উনার আলোকে তাহক্বীক করে ফায়সালা করা।
কেননা প্রবাদ আছে “সময়ের এক ফোঁড়; অসময়ের দশ ফোঁড়”। সময় থাকতেই অর্থাৎ ছোট বেলা থেকেই সম্মানিত শরীয়ত মুতাবেক যখন যেখানে যা দরকার তথা শাসন করার ব্যাপারে শাসন করা আবার আদর বা কোন আবদার রাখার বিষয়েও বাবা-মা উভয়কেই বিষয়টি ভালো ভাবে বুঝে নিয়ে ফায়সালা করা, তবেই সেই পরিবারে থাকবে জান্নাতের নিয়ামত তথা শান্তি। আর সন্তানও হবে হাক্বীক্বী দ্বীনদার ও আল্লাহওয়ালা।
অপরদিকে সন্তানকে দ্বীনদার হিসাবে গড়ে তুলতে হলে বাবা-মা উভয়কে কেমন হওয়া উচিত তা জগৎ বিখ্যাত লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হযরত বড়পীর সাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত আব্বা-আম্মাজান উনাদের জীবনী মুবারকের দিকে লক্ষ্য করলেই বুঝা যায়। মূলত উনারা দ্বীনদার-পরহেযগার, মুত্তাকি ছিলেন বলেই উনাদের হুজরা শরীফে লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হযরত বড়পীর ছাহেব রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন। এ ঘটনা থেকে বাবা-মা উভয়কেই ইবরত-নছীহত গ্রহণ করতে হবে।
কাজেই পুরুষ এবং মহিলা উনারা কিভাবে, কার কাছ থেকে দ্বীনি ইলম অর্জন করবে? যেহেতু খাছ করে মহিলাদের জন্য পর্দা করা ফরয কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাই, হাক্বীক্বী পর্দার সাথে কোথাও দ্বীনি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করার ব্যবস্থা নেই। আবার শুধুমাত্র কিতাবাদি পড়েও হাক্বীক্বী জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়। যদি কিতাবাদি পড়েই দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হত, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যুগে যুগে হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে না পাঠিয়ে সরাসরি কিতাব নাযিল করে দিতেন। অথচ মহান আল্লাহ পাক তিনি কিতাব নাযিল করার পাশাপাশি যুগে যুগে হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেও পাঠিয়েছেন।
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে প্রেরণ করার পিছনে কি কারণ রয়েছে, এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
لَقَدْمَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِيْنَ اِذْ بَعْثَ فِيْهِمْ رَسُوْلًا مِنْ اَنْفُسِهِمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ ايتِه وَ يُزَكِّيْهِمْ وَ يُعَلِّمُهُمُ الْكِتبَ وَ الْـحِكْمَةَ وَاِنْ كَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِىْ ضَللٍ مُّبِيْنٍ
অর্থ: অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনগন উনাদের প্রতি ইহসান মুবারক করেছেন। কারণ মু’মিনদের মাঝে মু’মিনদের জন্য এমন একজন মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রেরণ করেছেন, যিনি উনাদেরকে উনার (মহান আল্লাহ পাক) মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে শুনাবেন এবং অন্তর পরিশুদ্ধ করবেন ও কিতাব এবং হিকমত শিক্ষা দিবেন যদিও তারা ইতিপূর্বে সঠিক পথপ্রাপ্ত ছিলেন না। (সূরা আল ইমরান : আয়াত শরীফ ১৬৪)
যদিও এই আয়াত শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কিতাবসহ পাঠিয়েছেন মানুষকে হিদায়েত দেওয়ার জন্য, অন্তর পরিশুদ্ধ করার জন্য, গোমরাহী থেকে হিদায়েতের দিকে নিয়ে আসার জন্য। উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে সম্মানিত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের ধারা বন্ধ হয়ে গেছে।
যেহেতু হযরত নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের ধারা বন্ধ হয়ে গেছে, তাহলে মানুষ এই নিয়ামত গুলো অর্থাৎ দ্বীনি জ্ঞান কার থেকে অর্জন করবে। সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয় হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফে জানিয়ে দিয়েছেন,
اَلْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْاَنْبِيَاءِ
অর্থ: হযরত কাছির ইবনে ক্বায়েছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, “হক্বানী রব্বানী আলিম (যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করেন এবং গুনাহ্, হারাম-নাজায়িয কাজ থেকে বেঁচে থাকেন) উনারাই হচ্ছেন নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ওয়ারিছ। (তিরমীযি শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ)
(সংকলনে : মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা মাদরাসা।)
কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয়নি, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حضرت جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رضى الله تعالى عنه قَالَ قَالَ حضرت عُمَرُ عليه السلام لحضرت أَبِي بَكْرٍ عليه السلام يَا خَيْرَ النَّاسِ بَعْدَ رَسُولِ اللهِ فَقَالَ حضرت أَبُو بَكْرٍ عليه السلام أَمَا إِنَّكَ إِنْ قُلْتَ ذَاكَ فَلَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ عَلَى رَجُلٍ خَيْرٍ مِنْ حضرت عُمَرَ عليه السلام
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার) সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে খইরুন নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, জেনে রাখুন! যদি আপনি এরূপ বলেন, তাহলে অবশ্যই অবশ্যই আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, কোনো ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয় নি, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে উত্তম।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মুস্তাদরকে হাকিম)
মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার পরিচয় ও প্রকারভেদ (১)
পবিত্র সুন্নত উনার অর্থ ও পরিচয় মুবারক: পবিত্র ‘সুন্নত’ শব্দটি আরবী, একবচন। বহুবচনে السنن (আস-সুনান)। আভিধানিক অর্থ হল, الطريقة والسيرة অর্থাৎ পথ, পন্থা, পদ্ধতি, নিয়ম ইত্যাদি; (লিসানুল আরব ১৩/২২৪-২২৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উক্ত অর্থে সুন্নত শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يُرِيْدُ اللهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوْبَ عَلَيْكُمْ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইচ্ছা করেন তোমাদের নিকট বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের নিয়ম-কানুন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে। মহান আল্লাহ পাক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’ (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
سُنَّةَ اللهِ فِيْ الَّذِيْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللهِ تَبْدِيْلاً
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের হুকুম মুবারক বা নিয়ম মুবারক জারী রেখেছেন ঐ সকল লোকদের মধ্যেও যারা পূর্বে অতীত হয়ে গেছে। আপনি কখনো মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ম বা হুকুম মুবারক কোন পরিবর্তন পাবেন না’ (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ৬২)।
সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে ‘সুন্নাহ’ অর্থ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামগ্রিক জীবনাদর্শ মুবারক। (কাশফুল আসরার আলা উসূলিল বাযদাবী২/৬৫৯)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামগ্রিক সমস্ত পদ্ধতি মুবারকই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে কাজ ফরয হিসেবে করেছেন তা ফরয হিসেবে করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নফল হিসেবে করেছেন তা নফল হিসেবে করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা নিয়মিতভাবে করেছেন তা নিয়মিতভাবে করাই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যা মাঝে মাঝে করেছেন তা মাঝে মাঝে করা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কখনো করেননি, অর্থাৎ সর্বদা বর্জন করেছেন তা সর্বদা বর্জন করাই সুন্নত মুবারক।
সংক্ষেপে বলা যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পালনীয় কর্ম ও বর্জন হুবহু অনুকরণ করাই পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত একই অর্থে সুন্নত শব্দের ব্যবহার করেছেন। যেমন তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ سَنَّ فِيْ الإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا وَلاَ يَنْقُصُ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَىْءٌ وَمَنْ سَنَّ فِيْ الإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ عَلَيْهِ مِثْلُ وِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَىْءٌ-
অর্থ: ‘যে ব্যক্তি সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোন উত্তম নিয়ম চালু করবে সে তার প্রতিদান পাবে এবং তার দেখাদেখি পরবর্তীতে যারা তা করবে তাদের সমান প্রতিদানও সে পাবে। তবে তাদের প্রতিদান থেকে কোন কিছুই কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলামে কোন মন্দ নিয়ম চালু করবে সে তার কাজের পাপ পাবে ও তার দেখাদেখি পরবর্তীতে যারা তা করবে তাদের সমান পাপের অধিকারীও হবে। তবে তাদের পাপ থেকে কোন কিছুই কম করা হবে না’।
বেপর্দা সর্বপ্রকার অনিষ্ট ও ফিতনা-ফাসাদের মূল
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ.
আমার পরে মহিলা ফিতনা (পরীক্ষা) পুরুষদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
মূলত, বেপর্দার কারণেই মহিলারা আজ মান, সম্মান, ইজ্জত হারাচ্ছে ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা। নাউযুবিল্লাহ!
ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৯০)
তাহলে ফয়সালাটা কি হবে? মৃত্যুদন্ডতো একটা স্বাভাবিক বিষয়। মাত্র তার গরদানটা ফেলে দেয়া হলো। মাথাটা শেষ করে দেয়া হলো। যমীনে সে ইন্তেকাল করলো এটাতো স্বভাবিক বিষয়। আরো অনেক রয়ে গেছে। এতটুক শুধু না। তার মৃত্যুদন্ড দিলেই শেষ না, এটাতো শুরু হলো তার শাস্তি। এখন অনন্তকাল ধরে তার শাস্তি চলতেই থাকবে। এই শাস্তি থেকে সে কোনদিন রেহাই পাবে না। এমন কঠিন শাস্তি দেয়া হবে যেটা কল্পনাতীত। নাউযুবিল্লাহ! তাহলেতো বিষয়টা ফিকির করতে হবে। তাহলে উনাদের শান-মান মুবারক, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক কতটুকু, বুযূর্গী মুবারক তাহলে কতটুকু? এটা ফিকির করতে হবে। উনাদের খুছূছিয়াত মুবারক কতটুকু? উনাদের শান মুবারকে কোন চূ-চেরা, কীল-কাল করা যাবে না, কোন অপপ্রচার করা যাবে না। যদি কেউ করে তাহলে তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। কত কঠিন শাস্তি? এটা একটা কল্পনাতীত বিষয়। সেটাই কিন্তু ভাষাগত দিক দিয়ে বলা হয়েছে মহাসম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে-
لَّئِن لَّمْ يَنتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ
এখানে যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিচ্ছেন যে দেখ, শাস্তিরতো কোন শেষ নেই। তবে কতটুকু শাস্তি হবে? যদি তারা বিরত না থাকে, কারা? মুনাফিক্বগুলি। আর যাদের অন্তরে গালিয আছে এরা এবং যারা অপবাদ ছড়ায় তারা।
وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ
যারা অপবাদ ছড়ায় মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ শহরে এবং আসে-পাশে। যদি তারা বিরত না হয় মুনাফিক্বগুলি এবং যাদের অন্তরে গালিয আছে। যাদের অন্তরে গালিয আছে। আর যেগুলি অপবাদ ছড়ায় মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ উনার মধ্যে আসে-পাশে, অন্যান্য শহরে এদের।
لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لَا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلَّا قَلِيلًا
তাহলে আমি আপনাদেরকে বলব। আপনাকে আমি বলব এবং উম্মতদেরকে বলব, ক্ষমতা দিবো যাতে এই সমস্ত লোকগুলিকে যমীন থেকে মিটিয়ে দিতে পারেন। এরা আপনার প্রতিবেশী হিসেবে যেন থাকতে না পারে। এদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে।
কেন?
مَلْعُونِينَ
এরা হচ্ছে না’নতগ্রস্ত।
أَيْنَمَا ثُقِفُوا أُخِذُوا
তাদেরকে যেখানে পাবেন পাকড়াও করবেন
وَقُتِّلُوا تَقْتِيلاً
এবং কুচিকুচি করে টুকরা টুকরা টুকরা করে নিশ্চিহ্ন করে এদেরকে মৃত্যুদ- দিবেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ফায়সালা মুবারক করে দিলেন মহাসম্মানিত কুরআন শরীফ উনার মধ্যে। স্পষ্ট বলেছেন,
مَلْعُونِينَ
এগুলি কঠিন লা’নতগ্রস্ত। এর উপর আর লা’নত হতে পারে না। ইবলিসের চেয়েও বড় মালঊন এরা।
أَيْنَمَا ثُقِفُوا
যেখানে পাবেন
أُخِذُوا
পাকড়াও করুন। যেখানে পাবেন পাকড়াও করবেন।
وَقُتِّلُوا تَقْتِيلاً
শুধু ক্বতল না। এটার অর্থ হচ্ছে, কুচি কুচি করে একদম ছিন্নভিন্ন করে, রগ রেশা রেশা করে কেটে কেটে নিশ্চিন্ন করে মৃত্যুদন্ড দিয়ে দিন। সুহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
খলীফাতুল মুসলিমীন, খলীফায়ে ছানী, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট কতিপয় নছীহতমূলক ঘটনা
(১)
লোকটি সিরিয়ার অধিবাসী। যুদ্ধের ময়দানে তার গর্জন ছিলো সিংহের মতো। এমনকি এক হাজার অশ্বারোহীর চেয়েও তার চিৎকার ছিলো ভয়ঙ্কর। তার জ্বালাময়ী ভাষণে সৈন্যরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তো। সে খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে কাজ করতো, কিন্তু খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কয়েকদিন উনাকে দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, অমুকের ছেলে অমুক কোথায়?
বলা হলো, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে নেশা পানে ব্যস্ত আছে।
এ সংবাদ শুনে খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার পত্র লেখককে ডাকলেন। তিনি তাকে বললেন, লিখুন হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ থেকে অমুকের ছেলে অমুকের প্রতি। আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি আপনার নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, যিনি অপরাধ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, বিশাল ক্ষমতার অধিকারী। তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই, উনার নিকট সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল। এরপর তিনি উনার সঙ্গীদের বললেন, আপনারা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করুন, তিনি যেনো তার অন্তরকে পরিবর্তন করেন এবং উনার তওবা কবুল করেন।
যখন লোকটির কাছে খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার চিঠি পৌঁছলো তখন লোকটি চিঠিটি বার বার পাঠ করতে লাগলো আর বলতে লাগলো, তিনি অপরাধ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, বিশাল ক্ষমতার অধিকারী। এরপর সে কান্না শুরু করলো। এত বেশি কাঁদলো যে, তার দাড়ি ভিজে গেলো। এরপর আর কখনো উনাকে নেশা পান করতে দেখা যায়নি। এটি ছিলো খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার দোয়া মুবারক উনার বরকত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৪র্থ খ-, ৭০ পৃষ্ঠা)
(২)
একদিন খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি শেষ রাতে বের হয়ে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার গলিতে হাঁটছিলেন। তখন উনাকে হযরত তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু দেখতে পেলেন। হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জান্নাত উনার সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ জনের একজন। অর্থাৎ আশারায়ে মুবাশশারা। তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পিছনে পিছনে গেলেন। তিনি দেখলেন খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ছোট একটি ঘরে প্রবেশ করলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে ফিরে এলেন। সকাল হওয়ার পর হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সে বাড়িতে গেলেন। গিয়ে দেখলেন এক অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা বসে আছে। সে মহিলা হাঁটতে পারে না। তিনি ওই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, গত রাতে যিনি এসেছিলেন, তিনি কেন আপনার কাছে এসেছেন?
মহিলা বললো, তিনি অমুক দিন থেকে আমার সেবা করেন এবং আমার থেকে কষ্টকর বস্তু দূর করেন, আমার প্রয়োজনীয় জিনিস এনে দেন এবং আমার দেখাশোনা করেন। তখন হযরত তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন যে, পৃথিবীতে হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মতো আর কেউ নেই। সুবহানাল্লাহ! (হিলইয়াতুল আউলিয়া ১ম খ-, ৪৮ পৃষ্ঠা)
(৩)
হিমসবাসীদের জন্যে যে আমীরই নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা উনার বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছে। আর তাই খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হিমসবাসীদের জন্যে একজন যোগ্য আমীর খুঁজতে লাগলেন। অবশেষে পেয়েও গেলেন। তিনি তাদের আমীর হিসেবে হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নিযুক্ত করলেন।
হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হিমসে এক বছর শাসন করলেন। উনার শাসন আমলে উনার বিরুদ্ধে খলীফা উনার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। সুবহানাল্লাহ!
কিন্তু তিনি এই এক বছরে বায়তুল মালে একটি দিনারও প্রেরণ করেননি। আর এ কারণে খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি ভয় করলেন যে, উনার গভর্ণরকে না জানি দুনিয়ার লোভ পেয়ে বসলো।
তিনি কাতিব (পত্র লেখক) কে নির্দেশ মুবারক দেন, আপনি হযরত উমাইর বিন সা’দ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে চিঠি লিখে বলুন যে, তিনি যেনো আমার চিঠি পাওয়ার সাথে সাথে আমার নিকট এসে হাযির হন এবং সাথে করে মুসলমানদের থেকে আদায়কৃত সকল ফাই (এক প্রকারের কর) নিয়ে আসেন।
হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সম্মানিত খলীফা উনার চিঠি পাওয়ার পর পবিত্র মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। তিনি সাথে করে উনার সফরের সামান্য পাথেয় নিলেন। তিনি কাধে করে উনার পানপাত্র ও অযুর পাত্রটি নিলেন এবং হাতে বর্শাটি নিলেন। এরপর তিনি হিমস নগরী ত্যাগ করে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার দিকে রওয়ানা হন। দীর্ঘ সফরের কারণে উনার চেহারা মুবারক ফ্যাকাশে হয়ে গেছে এবং উনার চুল মুবারক অনেক লম্বা হয়ে গেছে। উনার শরীর মুবারকে সফরের ক্লান্তি চলে এসেছে।
হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি খলীফা উনার কাছে আসলেন। খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার অবস্থা দেখে অবাক হয়ে বললেন, হে হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনার এ অবস্থা কেন? তিনি বললেন, হে খলীফাতুল মুসলিমীন! আমার কিছুই হয়নি। আমি সুস্থ আছি। আমি আমার সাথে দুনিয়াকে পুরোপুরিভাবে নিয়ে এসেছি।
খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনার সাথে কি পরিমাণ দুনিয়া (অর্থকড়ি) আছে? তিনি ধারণা করেছেন হয়তো তিনি টাকা-পয়সা নিয়ে এসেছেন।
হযরত উমাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমার সাথে আমার থলিটি আছে, এর মধ্যে আমি আমার পাথেয় রেখেছি। আর আমার সাথে একটি পাত্র আছে যার মধ্যে খাদ্য রেখে খাই এবং গোসল ও কাপড় ধোয়ার সময় তা ব্যবহার করি। আর আমার কাছে আমার অযু করার পাত্রটি আছে। এ হচ্ছে আমার দুনিয়া। এর অতিরিক্ত কিছুই আমার প্রয়োজন নেই এবং অন্য কারোও প্রয়োজন নেই। সুবহানাল্লাহ! (ছুওয়ারুম মিন হায়াতিছ ছাহাবা)