সেখানে ফাতেমীয় উযীর ইবনুল-মা’মূন আল-বাতাইহীর (الوزير المأمون البطائحي) তৎকালীন সরকারি নথি ও ইতিহাসের বরাতে ৫১৭ হিজরী (১১২৩ খ্রিষ্টাব্দ) সালের রবিউল আউয়াল মাসের বিশেষ রাষ্ট্রীয় বাজেট ও আয়োজনের বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়।

১. মূল আরবি পাঠ (النص العربي)
«...وَفِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ جَرَى الرَّسْمُ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَوْلِدِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَمَوْلِدِ سَيِّدَتِنَا فَاطِمَةَ الزَّهْرَاءِ، وَمَوْلِدِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ، وَمَوْلِدِ الْإِمَامِ الْحَاضِرِ...

وَفِي سَنَةِ سَبْعَ عَشْرَةَ وَخَمْسِمِائَةٍ (٥١٧ هـ) فِي وِلاَيَةِ الْمَأْمُونِ: رُسِمَ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِتَفْرِقَةِ سِتَّةِ آلاَفِ دِرْهَمٍ مِنَ الْوَرِقِ، وَخُرُوجِ أَرْبَعِينَ صِينِيَّةً مِنَ الْحَلْوَى الْمُتَنَوِّعَةِ مِنْ دَارِ الْفِطْرَةِ، وَتَفْرِقَةِ السُّكَّرِ وَاللَّوْزِ وَالْعَسَلِ وَزَيْتِ الشَّيْرَجِ عَلَى مَشَاهِدِ أَهْلِ الْبَيْتِ (عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ)، وَتَوْزِيعِ الْخُبْزِ وَالْحَلْوَى عَلَى الْقُرَّاءِ وَالْمُنْشِدِينَ وَالْعَامَّةِ...»

২. পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদ ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা
ক. রাষ্ট্রীয় অনুদান ও বাজেট (৬,০০০ দিরহাম)
আরবি পাঠের অংশ: «بِتَفْرِقَةِ سِتَّةِ آلاَفِ دِرْهَمٍ مِنَ الْوَرِقِ»

ব্যাখ্যা: ৫১৭ হিজরীতে রবিউল আউয়াল মাসে রাষ্ট্রীয় কোষাগার (بيت المال) থেকে খলিফা আল-আমির বি-আহকামিল্লাহ্ (الآمر بأحكام الله)-এর নির্দেশে উযীর ইবনুল-মা’মূন ৬,০০০ রূপার দিরহাম (درهم ورق) বরাদ্দ ও বিতরণ করেন। এই অর্থ দরিদ্র, আলিম, পথচারী এবং অনুষ্ঠান পরিচালনাকারীদের মাঝে বণ্টন করা হতো।

খ. 'দারুল-ফিতরা' থেকে মিষ্টান্ন (৪০ থালা)
আরবি পাঠের অংশ: «وَخُرُوجِ أَرْبَعِينَ صِينِيَّةً مِنَ الْحَلْوَى... مِنْ دَارِ الْفِطْرَةِ»

ব্যাখ্যা: ‘দারুল-ফিতরা’ (دار الفطرة) ছিল ফাতেমীয় আমলের একটি বিশেষ রাজকীয় কারখানা/রসদঘর, যেখানে ঈদ ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় উৎসবে পরিবেশনের জন্য রাজকীয় মিষ্টান্ন ও খাবার প্রস্তুত করা হতো। মিলাদ উপলক্ষে সেখান থেকে ৪০টি বিশাল ব্রোঞ্জ বা তামার থালায় (صينية) ভরপুর বিভিন্ন পদের রাজকীয় মিষ্টি তৈরি করে দরবার ও আমজনতার মাঝে বিতরণ করা হতো।

গ. আহলুল বাইতের মাজারে খাদ্যসামগ্রী প্রদান
আরবি পাঠের অংশ: «وَتَفْرِقَةِ السُّكَّرِ وَاللَّوْزِ وَالْعَسَلِ وَزَيْتِ الشَّيْرَجِ عَلَى مَشَاهِدِ أَهْلِ الْبَيْتِ»

ব্যাখ্যা: কায়রো ও তার আশেপাশের আহলুল বাইতের (নবী পরিবারের সদস্য ও তাঁদের বংশধরদের) মাজার ও জিয়ারতগাহগুলোতে রাজকীয় তহবিল থেকে প্রচুর পরিমাণে চিনি (السكر), বাদাম (اللوز), খাঁটি মধু (العسل) এবং ভালো মানের তিলের তেল (زيت الشيرج) পাঠানো হতো। তিলের তেল মূলত মাজার ও আলোকসজ্জার বাতি জ্বালানো এবং খাদ্য প্রস্তুতির কাজে ব্যবহৃত হতো।

ঘ. রুটি, মিষ্টি ও কারীদের আপ্যায়ন
আরবি পাঠের অংশ: «وَتَوْزِيعِ الْخُبْزِ وَالْحَلْوَى عَلَى الْقُرَّاءِ وَالْمُنْشِدِينَ وَالْعَامَّةِ»

ব্যাখ্যা: রাজকীয় প্রাসাদে ও মসজিদে কুরআন তিলাওয়াতকারী (القراء), দরূদ ও কাসীদা পাঠকারী (المنشدون) এবং উপস্থিত সাধারণ জনগণের (العامة) মাঝে রুটি ও নানা ধরনের মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হতো।

৩. এই বিবরণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
১. প্রাতিষ্ঠানিক ডকুমেন্টস: আল-মাকরীযী সরাসরি ফাতেমীয় উযীর ইবনুল-মা’মূনের সরকারি ইতিহাস (تاريخ ابن المأمون) থেকে এটি সংকলন করেছেন। ফলে এটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ফাতেমীয় প্রশাসনিক খরচের একটি প্রামাণ্য দলিল।
২. ছয়টি সরকারি মিলাদ: ফাতেমীয়রা বছরে প্রধানত ৬টি সরকারি মাওলিদ বা মিলাদ পালন করতো—

মহানবী (সা.)-এর মাওলিদ

হযরত আলী (রা.)-এর মাওলিদ

হযরত ফাতিমা (রা.)-এর মাওলিদ

হযরত হাসান (রা.)-এর মাওলিদ

হযরত হুসাইন (রা.)-এর মাওলিদ

তৎকালীন জীবিত ফাতেমীয় খলিফার (الإمام الحاضر) মাওলিদ।

এই বিবরণী থেকে প্রমাণিত হয় যে, ৩৬২ হিজরীতে প্রবর্তিত ফাতেমীয় মিলাদ উদযাপন ষষ্ঠ হিজরী শতকের প্রথমভাগেও (৫১৭ হিজরী) রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অত্যন্ত আড়ম্বরের সাথে বজায় ছিল।

৫১৭ হিজরীর বর্ণনার আরবি পাঠ ও অর্থ
অনলাইনে উদ্ধৃত ইংরেজি অনুবাদে আল-মাকরীযীর আল-খিতাত গ্রন্থে ইবনুল-মা’মূনের ৫১৭ হিজরীর বিবরণের সারাংশ পাওয়া যায়।

বিবরণটির মূল বিষয়গুলো হলো:
- রবীউল আউয়াল মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাওলিদ উপলক্ষে অনুষ্ঠান।
- খলিফার পক্ষ থেকে ৬,০০০ দিরহাম দান।
- দারুল-ফিতরা থেকে ৪০ থালা মিষ্টান্ন।
- আহলুল বাইতের সমাধিস্থলগুলোর জন্য চিনি, বাদাম, মধু ও তিলের তেল বিতরণ।
- মিষ্টি ও রুটি বিতরণের আয়োজন।

image

মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের নির্দেশ মুবারক মুতাবিক পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই পর্দা করা ফরয। বেপর্দার কারণেই মহিলারা আজ ইজ্জত-সম্মান সম্ভ্রম হারাচ্ছে ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা। শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত হুকুম শরয়ী পর্দা পালনের মাধ্যমেই এর থেকে বেঁচে থাকা যেমন সম্ভব তেমন সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ বন্ধ করাও সম্ভব।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং আপনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে এবং মু’মিনদের আহলিয়াগণকে বলে দিন- উনারা যেন উনাদের চাদরের একটা অংশ চেহারা ও বুকের উপর টেনে দেন অর্থাৎ পর্দা করেন। এটা হচ্ছে উনাদের সম্ভ্রান্ত হওয়ার পরিচয় এবং উনাদের বিরক্ত না করার মাধ্যম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি দয়ালু ও ক্ষমাশীল।” মূলত: বেপর্দার কারণেই মহিলারা বর্তমানে ইজ্জত-সম্মান হারাচ্ছে ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন ফিতনা-ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা। নাউযুবিল্লাহ!

পর্দার গুরুত্ব ও বেপর্দার কুফল সম্পর্কে নছীহত মুবারক করতে গিয়ে তিনি এসব ক্বওল শরীফ উল্লেখ করেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শান্তি। সম্মানিত ইসলামই পেরেছেন এবং পারেন যমীনে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত ইসলাম উনার বাইরে কোথাও শান্তি পাওয়া যায়নি এবং যাবেও না। কাজেই শরয়ী পর্দাই শান্তি স্থাপন করতে পারবে। সম্মানিত শরয়ী পর্দার অভাবেই আজ সবদিকেই শুধু অশান্তি আর অস্থিরতা। বিশেষ করে মহিলাঘটিত ফিতনায় জর্জরিত সমাজ। মহিলারা আজ সর্বত্র লাঞ্ছিত, অপমানিত ও অবহেলিত হচ্ছে এবং সম্ভ্রমহানী হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! এর সবগুলোর পিছনে কারণ একটাই; তা হলো- সম্মানিত শরয়ী পর্দার হুকুম মেনে না চলা। কারণ সম্মানিত ইসলামী হুকুম-আহকাম অর্থাৎ সম্মানিত শরয়ী পর্দা মহিলাদের সম্মান, ব্যক্তিত্ব ও পবিত্রতার প্রতীক। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার “পবিত্র সূরা নিসা শরীফ, পবিত্র সূরা নূর শরীফ ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ” উনাদের মধ্যে পর্দা করার ব্যাপারে কঠোর আদেশ-নির্দেশ মুবারক করা হয়েছে এবং পর্দাকে মহিলাদের পবিত্রতা ও সম্মানের কারণ বলা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বেপর্দাকে কবীরা গুনাহ, লা’নত ও ফিতনা-ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা ও অশান্তির মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহিলারা পর্দায় থাকবে। তারা যখন বেপর্দা হয় তখন শয়তান উঁকি-ঝুঁকি দিতে থাকে কি করে তাদের মাধ্যমে ফিতনা পয়দা করা যায়।” নাউযুবিল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা দুনিয়া ও বেগানা মহিলা থেকে সতর্ক ও সাবধান থাকো। কেননা বনী ইসরাইলে সর্বপ্রথম যে ফিতনা (খুন) হয়েছে তা মহিলার কারণেই।” নাউযুবিল্লাহ! কাজেই বর্তমানেও সমাজে যে অশান্তি অরাজকতা, ফিতনা-ফাসাদ, মারামারি, খুন-খারাবী, অশ্লীলতা ইত্যাদির মূলেও রয়েছে বেপর্দা নারী। নাউযুবিল্লাহ! সুতরাং শুধুমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত হুকুম-আহকাম শরয়ী পর্দা পালনের মাধ্যমেই এর থেকে বেঁচে থাকা যেমন সম্ভব তেমন এ সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ বন্ধ করাও সম্ভব। সুবহানাল্লাহ! অন্যথায় মানবরচিত কোনো আইনের মাধ্যমে এ সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।

-০-

image

image

image

image

image

image