আমার ছোট ছেলের বয়স যখন আনুমানিক সাত মাস তখন তার ডায়রিয়া হয়েছিল। যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানানো হল এবং দোয়া মুবারক চাওয়া হলো যে পাঁচ-ছয় দিন হয়ে যাওয়ার পরও কোনো ওষুধে কাজ হচ্ছে না, বাচ্চা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি বললেন যে, মোটা দারুচিনি দিয়ে তালবিনা রান্না করে খাওয়াতে। উনার মুবারক পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকবার এভাবে খাওয়ানোর পর আস্তে আস্তে ইস্তেঞ্জা কমে আসতে থাকে এবং তার দুই-এক দিন পর থেকে বাচ্চা স্বাভাবিক ইস্তেঞ্জা করতে থাকে। সুবহানাল্লাহ! সাইয়ি‍্যদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাদের শুধু বাতেনী চিকিৎসকই নন। এক কথায় বলতে গেলে তিনি আমাদের মহা ত্রাণকর্তা।

আহমাদ রাবেয়া ইয়াসমিন কাদেরী

image

মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত (৩৩)
মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে উনার বুলন্দি শান মুবারক আলোচনা করার বাস্তব ফলাফল
মাওলিদে বারজানজি শরীফের মাহাত্ম্য
ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত‘মাওলিদে বারজানজি’
عَقْدُ الْجَوْهَرِ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْأَزْهَرِ
সম্পর্কে আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার جواهر البحار في فضائل النبي المختار কিতাবে উল্লেখ রয়েছে—
عَقْدُ الْجَوْهَرِ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْأَزْهَرِ، لِمُفْتِي الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ وَأَدِيبِهَا السَّيِّدِ جَعْفَرِ بْنِ حَسَنِ الْبَرْزَنْجِيِّ... لَيْسَ لَهُ نَظِيرٌ، وَيَكْفِيكَ أَنَّهُ لَا يُتْلَى بِالْحَرَمَيْنِ الشَّرِيفَيْنِ سِوَاهُ، وَكَانَ لَا يَخْتَصُّ سَرْدُهُ عِنْدَهُمْ بِرَبِيعِ الْأَوَّلِ بَلْ فِي سَائِرِ أَوْقَاتِ الْعَامِ.
অর্থ: উজ্জ্বল নবীজির জন্মবৃত্তান্তে মুক্তার মালা বা মাওলিদে বারজানজি—যার কোনো তুলনা বা বিকল্প নেই। পবিত্র হারামাইন শরীফাইন-এ এটি ব্যতীত অন্য কোনো মিলাদগ্রন্থ সচরাচর পাঠ করা হতো না এবং এর পাঠ শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং বছরের অন্যান্য সময়েও পাঠ করা হতো।
মহাসংকটে মিলাদ শরীফের আমল ও অন্তরের সংকল্প
আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার কিতাবে উল্লেখ করেছেন—
وَقَدْ صَرَّحَ الْأَعْلَامُ بِأَنَّ عَمَلَ الْمَوْلِدِ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ، وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ لِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ.
অর্থ: আইম্মায়ে কেরাম ও ওলামায়ে কেরাম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, মিলাদ শরীফের আমল সেই বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের এক দ্রুত সুসংবাদ।

এমনকি কোনো ব্যক্তি মহাসংকটে পতিত হলে এবং তার অন্তরে মিলাদ শরীফের আমলের বিষয়টি জাগ্রত হলে তার মুক্তির ব্যাপারে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে—

وَحَكَى بَعْضُهُمْ: أَنَّهُ وَقَعَ فِي خَطْبٍ عَظِيمٍ فَرَزَقَهُ اللهُ النَّجَاةَ مِنْ أَهْوَالِهِ بِمُجَرَّدِ أَنْ خَطَرَ عَمَلُ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ بِبَالِهِ.
অর্থ: তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার এক মহাসংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে এর ভয়াবহতা থেকে মুক্তি দান করেন, যখন কেবল মিলাদে নববীর আমলের বিষয়টি তাঁর অন্তরে জাগ্রত হয়েছিল।
সমুদ্রযাত্রায় নিরাপত্তা ও জাহাজ ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা
মিলাদ শরীফের বরকত ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় সম্পর্কের মাধ্যমে জাহাজ, কাফেলা, ঘর ও মালামাল নিরাপদ থাকার বিষয়ে কিতাবে উল্লেখ রয়েছে—

أَمَانٌ مِنَ النَّظْرَةِ وَالسِّحْرِ... وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي جَيْشٍ فَهُمِزَ، وَلَا فِي قَافِلَةٍ فَنُهِبَتْ، وَلَا فِي سَفِينَةٍ فَغَرِقَتْ، وَلَا فِي بَيْتٍ فَأُحْرِقَ، وَلَا فِي مَتَاعٍ فَسُرِقَ، وَذَلِكَ بِبَرَكَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: এটি বদনজর ও যাদু থেকে সুরক্ষাস্বরূপ। কোনো সৈন্যদলে এটি থাকলে তারা পরাজিত হতো না; কোনো কাফেলায় থাকলে তা লুণ্ঠিত হতো না; কোনো জাহাজে থাকলে তা ডুবত না; কোনো ঘরে থাকলে তা আগুনে পুড়ত না এবং কোনো মালামালের সাথে থাকলে তা চুরি হতো না। আর এসবই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতের কারণে।
লোহিত সাগরের সমুদ্রযাত্রার ঘটনা
বর্ণিত আছে, ইয়েমেন ও এডেন বন্দর থেকে মক্কার জেদ্দা বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রারত একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ লোহিত সাগরের মাঝপথে প্রচণ্ড সামুদ্রিক ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে। বাতাসের তীব্রতায় জাহাজের মাস্তুল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং জাহাজের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।

এ অবস্থায় জাহাজে থাকা এক সুফি আলেম সবাইকে একত্রিত করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে মিলাদ শরীফ, দরুদ শরীফ, সালাম মুবারক এবং উনার বুলন্দি শান মোবারক আলোচনা করার প্রতি আহ্বান জানান।
এরপর জাহাজের যাত্রী ও নাবিকেরা অত্যন্ত মুহব্বতের সঙ্গে মিলাদ শরীফ ও দরুদ শরীফ পাঠ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নুরুত তাশরীফ মুবারকের গৌরবময় মুজিযাসমূহ আলোচনা করতে থাকেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, মিলাদ শরীফের মজলিস শেষ হওয়ার পর সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত হয়ে যায়, ঝড় থেমে যায় এবং জাহাজটি কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে জেদ্দা বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

বর্ণিত বক্তব্য অনুযায়ী, আরব উপদ্বীপ, হাদরামাউত, হেজাজ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রগামী নাবিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে দরুদ শরীফ ও বুলন্দি শান মোবারকের কিতাব সঙ্গে রাখার প্রচলন ছিল।
ঝড়-তুফানের সময় তাঁরা জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে ভক্তি ও সমস্বরে তা পাঠ করতেন এবং জাহাজে মিলাদ শরীফ ও দরুদ শরীফের মজলিস কায়েম করতেন।

এভাবে মাওলিদ শরীফ, দরুদ শরীফ এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় শান মোবারক আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা ও বরকত লাভের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত ‘মাওলিদে বারজানজি’ কিতাবে উপরোক্ত ফজিলত বর্ণিত আছে ।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতে ও সম্মানে খুশি প্রকাশ করে ৯০ দিনব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিলের বরকতময় তাবারুকে হাদিয়া করুন।
হাদিয়া করুন: ১২০০ / ১২০০০ / ১২০০০০+
সরাসরি শুনুন: http://Sm40.com
আজ ৭১তম দিন
বিকাশ এজেন্ট (মাহফিল-অফিসিয়াল): 01739466730

15 hrs

আলোচনায় বা লেখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত
বা নাম মুবারক বারবার বলা ও লেখা সম্পূর্ণ আদবের খিলাফ

---------------------------------------------------------------
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত-৩০৩ তম সংখ্যায় প্রকাশিত বিশেষ প্রবন্ধ)

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির মুবারক, শান-মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছেন। যা কল্পনাতীত। যার মধ্যে বিশেষ একটি বিষয় হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে সরাসরি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নাম মুবারক ধরে সরাসরি সম্বোধন মুবারক করেন নি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে মাত্র ৫ স্থানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সরাসরি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উল্লেখ করেছেন। আর সেটাও শুধুমাত্র উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রিসালাত মুবারক উনার বর্ণনা মুবারক এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচয় মুবারক দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ! তার মধ্যে ৪ স্থানে ‘সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উল্লেখ করেছেন। যেমন :
(১) সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ উনার ১৪৪ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে
(২) সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ উনার ৪০ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে
(৩) সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাতহ্ শরীফ উনার ২৯ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এবং
(৪) সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ঈমান শরীফ উনার ২ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে।
(৫) আর ১ স্থানে অর্থাৎ সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ছফ শরীফ উনার ৬ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আহমদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উল্লেখ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই সর্বমোট ৫ বার সরাসরি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উল্লেখ করেছেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রিসালাত মুবারক উনার বর্ণনা মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচয় মুবারক দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ!

এছাড়া যত স্থানেই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করেছেন, প্রত্যেক স্থানেই অত্যন্ত মুহব্বতে, তা’যীম-তাকরীম এবং সম্মানের সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারাই সম্বোধন মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন:

(১) মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ উনার ৪১ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বতে, তা’যীম-তাকরীম এবং সম্মানের সাথে সম্বোধন মুবারক করেন-
ياَاَيُّهَا الرَّسُوْلُ لَا يَـحْزُنْكَ الَّذِيْنَ يُسَارِعُوْنَ فِـى الْكُفْرِ
অর্থ: “আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি তাদের জন্য দুঃখ করবেন না, যারা দ্রুত গতিতে কুফরিতে নিমজ্জিত হয়।”
(২) মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ উনার ৬৭ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বতে, তা’যীম-তাকরীম এবং সম্মানের সাথে সম্বোধন মুবারক করেন-
ياَاَيُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَا اُنْزِلَ اِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ
অর্থ: “আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, আপনি তা মানুষের নিকট পৌছে দিন।”
(৩) মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ উনার ৪৫ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বতে, তা’যীম-তাকরীম এবং সম্মানের সাথে সম্বোধন মুবারক করেন-
ياَيُّهَا النَّبِىُّ اِنَّا اَرْسَلْنكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْـرًا
অর্থ: “আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী এবং রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে হাযির-নাযির, সাক্ষ্যদাতা হিসেবে, সুসংবাদদাতা হিসেবে এবং সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি।” সুবহানাল্লাহ!
(৪-৭) এছাড়াও মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুয্যাম্মিল শরীফ উনার শুরুতে- ياَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ, সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুদ্দাছ্ছির শরীফ উনার শুরুতে- يَاَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ, সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ উনার শুরুতে- يس এবং সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ত্ব-হা শরীফ উনার শুরুতে- طه এবং আরো অনেক স্থানেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বতে, তা’যীম-তাকরীম এবং সম্মানের সাথে সম্বোধন মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এভাবেই সুন্দর সুন্দর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম এবং সম্মানের সাথে সম্বোধন মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কিন্তু বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে- নামধারী আলিম, বক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই তাদের আলোচনায়, লিখনীতে, কথা-বার্তায় সব স্থানেই বারবার সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক বলে থাকে ও লিখে থাকে। এমনকি সেখানে তারা কোনো আদবও রক্ষা করে না। নাঊযুবিল্লাহ! তারা একে অপরকে যেভাবে সম্বোধন করে সেভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ! যেটা চরম আদবের খিলাফ এবং ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে সামান্য থেকে সামান্যতম বেয়াদবী করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। নাঊযুবিল্লাহ!

আর স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই নিষেধ করেছেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানুষ যেভাবে একে অপরকে সম্বোধন করে সেভাবে সম্বোধন করতে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا تَـجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَيْنَكُمْ كَدُعَآءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا
অর্থ: তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো, সেভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করো না। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দা-বান্দী, উম্মত, কায়িনাতবাসী সবাইকে নিষেধ করে দিয়েছেন যে, তারা একে অপরকে যেভাবে সম্বোধন করে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেন সেভাবে সম্বোধন মুবারক না করে। অর্থাৎ উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত ও আদবের সাথে সম্মান মুবারক বজায় রেখে সম্বোধন মুবারক করতে হবে। উল্লেখিত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় তাফসীর গ্রন্থসমূহে বিষয়টা আরো স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে।

হযরত কাতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বলেন-

اَمَرَ اللهُ اَنْ يُّـهَابَ نَبِيَّه صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنْ يُّـبَجَّلَ وَاَنْ يُّـعَظَّمَ وَاَنْ يُّـفَخَّمَ وَيُشَرَّفَ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তা’যীম মুবারক করার জন্য, সম্মান মুবারক করার জন্য, মর্যাদা মুবারক দেয়ার জন্য এবং উনার মহত্ম ও আভিজাত্য মুবারক প্রকাশ করার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ১১/১২৮)
হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
اَمَرَهُمْ اَنْ يَّـقُوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ لِيْنٍ وَتَـوَاضُعٍ وَلَا يَـقُوْلُوْا يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ تَجَهُّمٍ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদেরকে আদেশ মুবারক করেছেন, অত্যন্ত নমনীয়তা ও বিনয়ের সাথে ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন মুবারক করার জন্য। আর বিষন্নতা বা বিরক্তীর সাথে উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত মুবারক ধরে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন।” (তাফসীরে মুজাহিদ ২৭১ পৃষ্ঠা, তাফসীরে দুররে মানছূর ১১/১২৮)
‘তাফসীরে মাক্বাতিল’ উনার মধ্যে বর্ণির্ত রয়েছে-
يَـقُوْلُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ لَا تَدْعُوا النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاِسْـمِهٖ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَا اِبْنَ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا كَلَّمْتُمُوْهُ كَمَا يَدْعُوْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا بِاِسْـمِهٖ يَا فُلَانُ وَيَا اِبْنَ فُلَانٍ وَلٰكِنْ عَظَّمُوْهُ وَشَرَّفُـوْهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقُـوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نَبِىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার সম্মানিত নাম মুবারক ধরে- ইয়া মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে অথবা ইয়া ইবনু আব্দিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন করো না। যেমনিভাবে তোমরা পরস্পর কথা বলার সময় একে অপরকে হে অমুক বা হে অমুকের পুত্র অমুক বলে সম্বোধন করে থাকো। বরং তোমরা উনাকে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম মুবারক ও সম্মান মুবারক উনার সাথে সম্বোধন মুবারক করো। তোমরা বলো ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া নাবিইয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!” (তাফসীরে মাক্বাতিল ইবনে সুলাইমান ২/৪২৮)

‘তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
يَـقُوْلُ لَا تَسُمُّوْهُ اِذَا دَعَوْتُـمُوْهُ يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا تَـقُوْلُوْا يَا اِبْنَ عَبْدِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلكِنْ شَرَّفُـوْهُ فَـقُوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا نَبِىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করবে তখন উনার সম্মানিত নাম মুবারক ধরে এভাবে ইয়া মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে সম্বোধন করবে না। এমনকি এভাবেও বলবে না- ইয়া ইবনা আব্দিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বরং তোমরা অত্যন্ত শরাফত ও সম্মানের সাথে বলবে, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া নাবিইয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!” (তাফসীরে ইবনে আবী হাতিম ৮/২৬৫৫)

‘তাফসীরে ত্ববারানী’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে-
اَىْ اُدْعُوْهُ بِالْـخُضُوْعِ وَالتَّـعْظِيْمِ وَقُـوْلُوْا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَا نَبِىَّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ لِيْـنٍ وَتَـوَاضُعٍ وخَفْضِ صَوْتٍ وَلَا تَـقُوْلُوْا يَا مُحَمَّدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يَا اَبَا القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا يَدْعُوْ بَعْضُهُمْ بَعْضًا بِاِسْـمِهٖ
অর্থ: “অর্থাৎ তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত বিনয় ও তা’যীমের সাথে সম্বোধন মুবারক করো। তোমরা অত্যন্ত নমনীয়তা ও বিনয়ের সাথে কন্ঠস্বর নিচু করে বলবে, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া নাবিইয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর উনার সম্মানিত নাম মুবারক ধরে এভাবে ইয়া মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! অথবা ইয়া আবাল ক্বাসিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলে সম্বোধন করবে না। যেমনিভাবে তোমরা একে অপরকে নাম ধরে সম্বোধন করে থাকো।” (তাফসীরুল কুরআনীল আযীম লিত ত্ববারানী)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
نَـهَاهُمُ اللهُ اَنْ يُّـنَادُوْهُ كَمَا يُـنَادِىْ بَعْضُهُمْ بَـعْضًا وَاَمَرَهُمْ اَنْ يُّشَرِّفُـوْهُ وَاَنْ يُّـعَظِّمُوْهُ وَيَدْعُوْهُ اِذَا دَعَوْهُ بـِاِسْمِ النُّـبُـوَّةِ
অর্থ: “তারা পরস্পর একে অপরকে যেভাবে সম্বোধন করে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেভাবে সম্বোধন করতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি মু’মিনদেরকে আদেশ মুবারক করেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত শরাফত ও তা’যীম মুবারক এবং সম্মান মুবারক উনার সাথে সম্বোধন মুবারক করার জন্য। এবং তারা যখন উনাকে সম্বোধন করবে তখন উনার সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার নামে অর্থাৎ ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইয়া নাবিইয়াল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলে সম্বোধন করতে আদেশ মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তা’যীমু ক্বদরিছ ছলাত ২/৬৬৪)

মূল কথা হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার সময় উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করা যাবে না। বরং উনার মহাসম্মানিত লক্বব মুবারক দ্বারা সম্বোধন করতে হবে।

এক্ষেত্রে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের আমল মুবারক দেখলে বিষয়টা আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জমীনে অবস্থান মুবারককালীন সময়তো রয়েছেই। যখন তিনি দুনিয়া থেকে পর্দা মুবারক করেছেন, সাক্ষাত মুবারকে চলে গেছেন তখনও উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেন নি। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে- হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, সেখানে কিন্তু কখনোই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেন নি। উনারা এভাবে বর্ণনা করেছেন-
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ
سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـقُوْلُ

উনারা কিন্তু বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কখনোই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করেননি। লেখার ক্ষেত্রেও না, বলার ক্ষেত্রেও না।
তাহলে পরবর্তী উম্মত কিভাবে কথা বলার সময়, লেখার সময় বারবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক নিতে পারে? আর এটা কিভাবে আদব হতে পারে? এটা কখনোই আদব হবে না। বরং চরম পর্যায়ের বেয়াদবী হবে, ঈমান নষ্ট হওয়ার কারণ হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

সাধারণভাবে একজন সন্তান তার পিতা-মাতার নাম ধরে ডাকে না, একজন ছাত্র তার শিক্ষকের নাম ধরে সম্বোধন করে না। কেউ যদি ডাকে বা নাম ধরে সম্বোধন করে তাহলে তাকে বেয়াদব বলা হয়। অথচ পিতা-মাতা, শিক্ষক তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নগন্য উম্মত। তাদের ক্ষেত্রে যদি এভাবে আদব বজায় রাখতে হয় তাহলে যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, যাকে সৃষ্টি না করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিছুই সৃষ্টি করতেন না। উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক ধরে সম্বোধন করলে সেটা কত বড় বেয়াদবী হবে? কতটা আদবের খিলাফ হবে? সেটা বান্দা-বান্দী, উম্মতকে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। মূলত তারা সবচেয়ে বড় বেয়াদব হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
وَمَنْ كَانَ لَهٗ اِبْنٌ فَسَمَّاهُ مُحَمَّدًا فَـلْيُكْرِمْهُ وَلَا يَضْرِبْهُ اَمَّا يَسْتَحْى اَحَدُكُمْ اَنْ يَّـقُوْلَ يَا مُحَمَّدُ ثُمَّ يَضْرِبُهٗ (نَجَا)
অর্থ: কোনো ব্যক্তির একজন ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। সে তার নাম রাখলো মুহম্মদ। তাহলে তার দায়িত্ব হচ্ছে ঐ সন্তানকে সম্মান করা, প্রহার না করা। জেনে রাখুন! কোনো ব্যক্তি যদি ঐ সন্তানকে ইয়া মুহম্মদ বলে সম্বোধন করতে এবং তাকে প্রহার করতে লজ্জা বোধ করে তাহলে সে অবশ্যই নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!

চিন্তা ও ফিকিরের বিষয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারকে একজন সন্তানের নাম রাখার কারণে তাকে যদি সম্মান করতে হয়, কোনো প্রহার করা না যায়। এবং তাকে ঐ নামে ডাকতে লজ্জাবোধ করলে, প্রহার না করলে যদি নাজাত লাভ করা যায় তাহলে সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কতটুকু সম্মান করতে হবে, কত তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতে হবে। উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক উনাকে সম্মান করার কারণে বান্দা-বান্দী, উম্মত কত বেমেছাল ফযীলত মুবারক লাভ করবে এবং নাজাত লাভ করবে। সেটা বলার অপেক্ষাই রাখে না।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন!

-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।

9 hrs

আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.)-এর 'জাওয়াহিরুল বিহার' কিতাবের সূত্র ধরে এবং ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.)-এর ফতোয়ার আলোকে সমুদ্রপথে মিলাদ শরীফের বরকতের যে বাস্তব সত্য ওয়াক্বিয়া ও ঐতিহ্যগত ঘটনা পাওয়া যায়, তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
লোহিত সাগরের বিখ্যাত ঐতিহাসিক ওয়াক্বিয়া ও নাবিকদের অভিজ্ঞতা
ইয়েমেনের হাদরামাউত, হেজাজ এবং ভারত মহাসাগরের মুসলিম নাবিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রাচীনকাল থেকেই সমুদ্রে বিপদের সময় মিলাদ ও দুরুদ শরিফ পাঠের এক চমৎকার ঐতিহ্যবাহী আমল প্রচলিত ছিল।
ঝড়ের কবলে বাণিজ্যিক জাহাজ: একবার ইয়েমেন ও এডেন বন্দর থেকে মক্কার জেদ্দা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ লোহিত সাগরের মাঝপথে প্রচণ্ড সামুদ্রিক ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে। বাতাসের তীব্রতায় জাহাজের মাস্তুল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং জাহাজের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।
বাঁচার আশা ত্যাগ ও মিলাদের উসিলা: আরোহী ও নাবিকেরা যখন বাঁচার সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, তখন জাহাজে থাকা এক সুফি আলেম সবাইকে একত্রিত করে বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের কাছে তাঁর হাবীব (সা.)-এর জন্মের খুশির আলোচনা ও দুরুদের চেয়ে বড় কোনো উসিলা নেই।
মিলাদ ও দুরুদ পাঠের অলৌকিক প্রভাব: তাঁর কথামতো জাহাজের সমস্ত যাত্রী ও ক্রু ক্রন্দনরত অবস্থায় অত্যন্ত ভক্তিভরে নবীজি (সা.)-এর আগমন বা মিলাদের গৌরবময় আলোচনা এবং সালাতু সালাম (দুরুদ) পাঠ করতে শুরু করেন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, মিলাদ শরীফের মজলিস শেষ হতে না হতেই অলৌকিকভাবে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত হয়ে যায়, ঝড় সম্পূর্ণ থেমে যায় এবং জাহাজটি কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে জেদ্দা বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর ফতোয়া ও বাস্তব সত্যের যোগসূত্র
এই ধরনের অসংখ্য পরীক্ষিত ও বাস্তব ঘটনার আলোকেই পরবর্তী সময়ে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'আল-ওয়াসায়িল ফি শারহিশ শামায়িল'-এ ফতোয়া প্রদান করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন:
"যে কোনো মুসলমান যদি সফরে বা তার ঘরে নবীজি (সা.)-এর মিলাদ শরীফ পাঠের আয়োজন করে, তবে মহান আল্লাহ তাকে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি 'الغرق' অর্থাৎ পানিতে ডুবে যাওয়া বা জলডুবি এবং চোরের উপদ্রব থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা করেন।"
'মাওলিদে বারজানজি' ও 'জাওয়াহিরুল বিহার'-এর নামকরণ
নাবিকদের পরম বন্ধু 'বারজানজি': এই সামুদ্রিক অলৌকিক নিরাপত্তার বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে আরব ও সুদূর ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ার নাবিকেরা সমুদ্রযাত্রার সময় সবসময় ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত মিলাদগ্রন্থ 'মাওলিদে বারজানজি' (যার মূল নাম 'عقد الجوهر في مولد النبي الأزهر' বা 'উজ্জ্বল নবীজির জন্ম বৃত্তান্তে মুক্তার মালা' সাথে রাখতেন এবং ঝড়-তুফানের সময় জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে এটি সমস্বরে পাঠ করতেন।
কিতাবের নামকরণের রহস্য: আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) মিলাদ, দুরুদ ও সালাতের এই সমুদ্রসম অলৌকিক বরকত ও কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি সংকলন করে তাঁর বিখ্যাত কিতাবের নাম রেখেছেন "جواهر البحار" (জাওয়াহিরুল বিহার) [১], যার শাব্দিক অর্থ হলো "সমুদ্রের রত্নসমূহ"। এর মাধ্যমে তিনি মূলত নবীজির শানে মিলাদ ও দুরুদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে অর্জিত অলৌকিক রহমত ও রত্নরাজির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

7 hrs

মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফজিলত (৩২)

সমুদ্রগামী জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া,সামুদ্রিক জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা ,হিংস্র সিংহ পথ চিনিয়ে দেয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা! সুবহানাল্লাহ

১,সমুদ্রপথে মাওলিদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম তথা মিলাদ শরীফ মজলিসের বাস্তব ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার যে বিবরণটুকু হুবহু উল্লেখ আছে, তা নিচে দেওয়া হলো:
প্রাচীনকাল থেকেই আরব উপদ্বীপ, হাদরামাউত, হেজাজ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রগামী নাবিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে এই আমলটি বাস্তব অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে গভীরভাবে প্রচলিত ছিল ।
তাঁরা সমুদ্রযাত্রার সময় বরকত ও সুরক্ষার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে দরুদ শরীফ,বুলন্দি শান মোবারক এর কিতাব রাখত।
ঝড়ের কবলে বাণিজ্যিক জাহাজ: একবার ইয়েমেন ও এডেন বন্দর থেকে মক্কার জেদ্দা বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ লোহিত সাগরের মাঝপথে প্রচণ্ড সামুদ্রিক ঝড় ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে। বাতাসের তীব্রতায় জাহাজের মাস্তুল ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং জাহাজের ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করে।
বাঁচার আশা ত্যাগ ।আরোহী ও নাবিকেরা যখন বাঁচার সমস্ত আশা ছেড়ে দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, তখন জাহাজে থাকা এক সুফি আলেম সবাইকে একত্রিত করে বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমাদের কাছে মহাসম্মানীত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে উনার নুরুত তাশরীফ মুবারক এর সময়ের খুশির আলোচনা ও দুরুদ শলীফ এর চেয়ে বড় কোনো উসিলা নেই। উনার কথামতো জাহাজের সমস্ত যাত্রী ও নাবিক ক্রন্দনরত অবস্থায় অত্যন্ত মুহব্বতের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে দরুদ শরীফ, সালাম মুবারক,বুলন্দি শান মোবারক ,নুরুত তাশরীফ মুবারক এর গৌরবময় মুজিযাসমুহ আলোচনা শুরু করেন। ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, মিলাদ শরীফের মজলিস শেষ হতে না হতেই অলৌকিকভাবে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত হয়ে যায়, ঝড় সম্পূর্ণ থেমে যায় এবং জাহাজটি কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে জেদ্দা বন্দরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এই ধরনের অসংখ্য পরীক্ষিত ও বাস্তব ঘটনার আলোকেই পরবর্তী সময়ে ই সামুদ্রিক অলৌকিক নিরাপত্তার বাস্তব অভিজ্ঞতার কারণে আরব ও সুদূর ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ার নাবিকেরা সমুদ্রযাত্রার সময় সবসময় ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত মিলাদগ্রন্থ 'মাওলিদে বারজানজি' (যার মূল নাম 'عقد الجوهر في مولد النبي الأزهر' বা 'উজ্জ্বল নবীজির জন্ম বৃত্তান্তে মুক্তার মালা) সাথে রাখতেন এবং ঝড়-তুফানের সময় জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে এটি সমস্বরে পাঠ করতেন।বসে মিলাদ শরীফ ও দুরুদ শরীফ মজলিস করতেন
কিতাবের নামকরণের রহস্য: আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) মিলাদ, দুরুদ ও সালাতের এই সমুদ্রসম অলৌকিক বরকত ও কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি সংকলন করে তাঁর বিখ্যাত কিতাবের নাম রেখেছেন "جواهر البحار" (জাওয়াহিরুল বিহার) যার শাব্দিক অর্থ হলো "সমুদ্রের রত্নসমূহ"। এর মাধ্যমে তিনি মূলত নবীজির শানে মিলাদ ও দুরুদের মাধ্যমে সমুদ্রপথে অর্জিত অলৌকিক রহমত ও রত্নরাজির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) তাঁর কিতাবে দেখিয়েছেন যে, এই মিলাদ শরীফ পাঠের বাস্তব ফল বা অভিজ্ঞতা হিসেবে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ শান্ত হয়ে যেত এবং জাহাজটি নিশ্চিত পানিতে ডুবি (الغرق) ও সামুদ্রিক জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেত ।

3 hrs

ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত 'মাওলিদে বারজানজি' এবং আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার 'جواهر البحار' (جواهر البحار في فضائل النبي المختار - জাওয়াহিরুল বিহার) কিতাব থেকে সমুদ্রের ঢেউ শান্ত হওয়া, ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা এবং জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর বাস্তব ও পরীক্ষিত বিষয়ের মূল আরবী ইবারত (আরবি পাঠ্য) নিচে হুবহু দেওয়া হলো:
১. 'মাওলিদে বারজানজি' (عقد الجوهر في مولد النبي الأزهر) এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার 'جواهر البحار' কিতাবের ইবারত [৩, ৪]:
"عَقْدُ الْجَوْهَرِ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْأَزْهَرِ، لِمُفْتِي الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ وَأَدِيبِهَا السَّيِّدِ جَعْفَرِ بْنِ حَسَنِ الْبَرْزَنْجِيِّ... لَيْسَ لَهُ نَظِيرٌ، وَيَكْفِيكَ أَنَّهُ لَا يُتْلَى بِالْحَرَمَيْنِ الشَّرِيفَيْنِ سِوَاهُ، وَكَانَ لَا يَخْتَصُّ سَرْدُهُ عِنْدَهُمْ بِرَبِيعِ الْأَوَّلِ بَلْ فِي سَائِرِ أَوْقَاتِ الْعَامِ."
(অর্থ: উজ্জ্বল নবীজির জন্ম বৃত্তান্তে মুক্তার মালা বা মাওলিদে বারজানজি—যার কোনো তুলনা বা বিকল্প নেই। আপনার জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, পবিত্র হারামাইন শরীফাইন-এ এটি ব্যতীত অন্য কোনো মিলাদগ্রন্থ সচরাচর পাঠ করা হতো না এবং এটি পাঠ করা শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বছরের যেকোনো সময়েই পাঠ করা হতো [৩]।)
২. মিলাদ শরীফ ও দরুদ শরীফ পাঠ এবং অন্তরে এর সংকল্প করার উসিলায় সমুদ্রের ঝড়-তুফান ও মহাসংকট থেকে অলৌকিক রক্ষা পাওয়ার আরবী ইবারত [৪]:
মিলাদ শরীফ পাঠের বরকত যে বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং যেকোনো বিপদে সুরক্ষাস্বরূপ, তা কিতাবে এভাবে বর্ণিত হয়েছে:
"وَقَدْ صَرَّحَ الْأَعْلَامُ بِأَنَّ عَمَلَ الْمَوْلِدِ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ، وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ لِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ."
(অর্থ: এবং আইম্মায়ে কেরাম ও ওলামায়ে কিরাম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, মিলাদ শরীফের আমল হচ্ছে সেই বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের এক দ্রুত সুসংবাদ [৪]।)
যদি কেউ মহাসংকটে পতিত হয়ে কেবল মনে মনেও মিলাদ শরীফ করার নিয়ত বা সংকল্প করে, তার অলৌকিক মুক্তির ব্যাপারে বর্ণিত ইবারত:
"وَحَكَى بَعْضُهُمْ: أَنَّهُ وَقَعَ فِي خَطْبٍ عَظِيمٍ فَرَزَقَهُ اللهُ النَّجَاةَ مِنْ أَهْوَالِهِ بِمُجَرَّدِ أَنْ خَطَرَ عَمَلُ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ بِبَالِهِ."
(অর্থ: এবং তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার এক মহাসংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন; অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে এর সমস্ত ভয়াবহতা থেকে অলৌকিক মুক্তি দান করেন, যখনই কেবল প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মিলাদ শরীফ করার বিষয়টি উনার অন্তরে জাগ্রত হয়েছিল [৪]।)
৩. জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া (الغرق) ও সামুদ্রিক জলদস্যুদের (اللصوص) আক্রমণ থেকে পরম নিরাপত্তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উসিলার আরবী ইবারত [৪]:
সমুদ্রগামী জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া এবং জলদস্যুদের লুণ্ঠন থেকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় উসিলায় অলৌকিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের পরীক্ষিত ইবারত:
"أَمَانٌ مِنَ النَّظْرَةِ وَالسِّحْرِ... وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي جَيْشٍ فَهُمِزَ، وَلَا فِي قَافِلَةٍ فَنُهِبَتْ، وَلَا فِي سَفِينَةٍ فَغَرِقَتْ، وَلَا فِي بَيْتٍ فَأُحْرِقَ، وَلَا فِي مَتَاعٍ فَسُرِقَ، وَذَلِكَ بِبَرَكَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ."
(অর্থ: এটি বদনজর ও যাদু থেকে সুরক্ষাস্বরূপ... এবং কোনো সৈন্যদলে এটি থাকলে তারা পরাজিত হতো না, কোনো কাফেলায় থাকলে তা লুণ্ঠিত হতো না (জলদস্যু বা ডাকাতের আক্রমণ হতো না), কোনো জাহাজে থাকলে তা পানিতে ডুবত না (الغرق বা ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেত), কোনো ঘরে থাকলে তা আগুনে পুড়ত না এবং কোনো মালামালের সাথে থাকলে তা চুরি হতো না; আর এসবই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরম বরকতের কারণে [৪]।)

ইমাম জাফর আল-বারজানজি রচিত 'মাওলিদে বারজানজি' এবং আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার 'جواهر البحار' (جواهر البحار في فضائل النبي المختار - জাওয়াহিরুল বিহার) কিতাব থেকে সমুদ্রের ঢেউ শান্ত হওয়া, ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা এবং জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে বাঁচানোর বাস্তব ও পরীক্ষিত বিষয়ের মূল আরবী ইবারত (আরবি পাঠ্য) নিচে হুবহু দেওয়া হলো:
১. 'মাওলিদে বারজানজি' (عقد الجوهر في مولد النبي الأزهر) এর মাহাত্ম্য সম্পর্কে আল্লামা ইউসুফ আন-নাবাহানী (রহ.) উনার 'جواهر البحار' কিতাবের ইবারত [৩, ৪]:
"عَقْدُ الْجَوْهَرِ فِي مَوْلِدِ النَّبِيِّ الْأَزْهَرِ، لِمُفْتِي الْمَدِينَةِ الْمُنَوَّرَةِ وَأَدِيبِهَا السَّيِّدِ جَعْفَرِ بْنِ حَسَنِ الْبَرْزَنْجِيِّ... لَيْسَ لَهُ نَظِيرٌ، وَيَكْفِيكَ أَنَّهُ لَا يُتْلَى بِالْحَرَمَيْنِ الشَّرِيفَيْنِ سِوَاهُ، وَكَانَ لَا يَخْتَصُّ سَرْدُهُ عِنْدَهُمْ بِرَبِيعِ الْأَوَّلِ بَلْ فِي سَائِرِ أَوْقَاتِ الْعَامِ."
(অর্থ: উজ্জ্বল নবীজির জন্ম বৃত্তান্তে মুক্তার মালা বা মাওলিদে বারজানজি—যার কোনো তুলনা বা বিকল্প নেই। আপনার জানার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, পবিত্র হারামাইন শরীফাইন-এ এটি ব্যতীত অন্য কোনো মিলাদগ্রন্থ সচরাচর পাঠ করা হতো না এবং এটি পাঠ করা শুধু রবিউল আউয়াল মাসেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বছরের যেকোনো সময়েই পাঠ করা হতো [৩]।)
২. মিলাদ শরীফ ও দরুদ শরীফ পাঠ এবং অন্তরে এর সংকল্প করার উসিলায় সমুদ্রের ঝড়-তুফান ও মহাসংকট থেকে অলৌকিক রক্ষা পাওয়ার আরবী ইবারত [৪]:
মিলাদ শরীফ পাঠের বরকত যে বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং যেকোনো বিপদে সুরক্ষাস্বরূপ, তা কিতাবে এভাবে বর্ণিত হয়েছে:
"وَقَدْ صَرَّحَ الْأَعْلَامُ بِأَنَّ عَمَلَ الْمَوْلِدِ أَمَانٌ فِي ذَلِكَ الْعَامِ، وَبُشْرَى عَاجِلَةٌ لِنَيْلِ الْبُغْيَةِ وَالْمَرَامِ."
(অর্থ: এবং আইম্মায়ে কেরাম ও ওলামায়ে কিরাম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, মিলাদ শরীফের আমল হচ্ছে সেই বছরের জন্য পরম নিরাপত্তা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দেশ্য পূরণের এক দ্রুত সুসংবাদ [৪]।)
যদি কেউ মহাসংকটে পতিত হয়ে কেবল মনে মনেও মিলাদ শরীফ করার নিয়ত বা সংকল্প করে, তার অলৌকিক মুক্তির ব্যাপারে বর্ণিত ইবারত:
"وَحَكَى بَعْضُهُمْ: أَنَّهُ وَقَعَ فِي خَطْبٍ عَظِيمٍ فَرَزَقَهُ اللهُ النَّجَاةَ مِنْ أَهْوَالِهِ بِمُجَرَّدِ أَنْ خَطَرَ عَمَلُ الْمَوْلِدِ النَّبَوِيِّ بِبَالِهِ."
(অর্থ: এবং তাদের কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একবার এক মহাসংকটের মুখোমুখি হয়েছিলেন; অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে এর সমস্ত ভয়াবহতা থেকে অলৌকিক মুক্তি দান করেন, যখনই কেবল প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মিলাদ শরীফ করার বিষয়টি উনার অন্তরে জাগ্রত হয়েছিল [৪]।)
৩. জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া (الغرق) ও সামুদ্রিক জলদস্যুদের (اللصوص) আক্রমণ থেকে পরম নিরাপত্তার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উসিলার আরবী ইবারত [৪]:
সমুদ্রগামী জাহাজ পানিতে ডুবে যাওয়া এবং জলদস্যুদের লুণ্ঠন থেকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় উসিলায় অলৌকিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের পরীক্ষিত ইবারত:
"أَمَانٌ مِنَ النَّظْرَةِ وَالسِّحْرِ... وَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي جَيْشٍ فَهُمِزَ، وَلَا فِي قَافِلَةٍ فَنُهِبَتْ، وَلَا فِي سَفِينَةٍ فَغَرِقَتْ، وَلَا فِي بَيْتٍ فَأُحْرِقَ، وَلَا فِي مَتَاعٍ فَسُرِقَ، وَذَلِكَ بِبَرَكَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ."
(অর্থ: এটি বদনজর ও যাদু থেকে সুরক্ষাস্বরূপ... এবং কোনো সৈন্যদলে এটি থাকলে তারা পরাজিত হতো না, কোনো কাফেলায় থাকলে তা লুণ্ঠিত হতো না (জলদস্যু বা ডাকাতের আক্রমণ হতো না), কোনো জাহাজে থাকলে তা পানিতে ডুবত না (الغرق বা ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পেত), কোনো ঘরে থাকলে তা আগুনে পুড়ত না এবং কোনো মালামালের সাথে থাকলে তা চুরি হতো না; আর এসবই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরম বরকতের কারণে [৪]।)

image

image

image