এক নযরে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘আহ্ আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক

১৩ জন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেয়ার ধারাবাহিকক্রম মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘আহ্ আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আস সাবি‘আহ্ অর্থাৎ সপ্তম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘আহ্ আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিত। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! আর উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কাট্টা কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘আহ্ আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম উনার এক নযরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
নিম্নে এক নযরে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক: সইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল হাকাম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ্, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, যাতুল হিজরাতাইন এছাড়াও আরো অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ!
যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আস সাবি‘আহ্ আত্বওয়ালু ইয়াদান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা আলাইহিস সালাম: সাইয়্যিদুনা হযরত জাহ্শ ইবনে রিআব আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমাইমাহ্ বিনতে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বংশ মুবারক: বনূ আসাদ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালাত মুবারক প্রকাশের ২০ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহপবিত্র ১৯শে রবীউছ ছানী শরীফ ইয়াওমুল জুমু‘য়াহ্ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাবশাহ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈমান মুবারক প্রকাশ: সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সূচনালগ্নে। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হিজরত মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবশা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ: ৫ম হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ৮ই যিলক্বদ শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার)। সুবহানাল্লাহ!
আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক: ৩৭ বছর ৬ মাস ১৯ দিন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া: ৫ বছর ৪ মাস ৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: ২০ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৩শে জুমাদাল উখরা শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার)। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: ৫২ বছর ২ মাস ৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদরত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ¦লক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম
(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ২৪


পবিত্র কুদরত মুবারক উনার কাইফিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে কল্পনাতীত বেমেছাল খোদায়ী ইলিম মুবারক বিতরণ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক (সৃষ্টি মুবারক) করার পর থেকেই উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পেশ করা শুরু করেছেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র কুদরত মুবারক-এ ছিলেন। আর কেউ ছিলো না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পেশ করা শুরু করেছেন। এর অনেক পরে মহান আল্লাহ পাক তিনি মাখলূক্বাত সৃষ্টি করেছেন। তাহলে এতদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি কোথায় ছিলেন? হ্যাঁ? এতদিন কোথায় ছিলেন তাহলে?
অধম নালায়েক ফক্বীরের আরযী: ‘পবিত্র কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন।’
জওয়াব মুবারক: হ্যাঁ; পবিত্র কুদরত মুবারকই দুই ভাগ। এটাই আমি বলতে চাচ্ছি। পবিত্র কুদরত মুবারক উনার মধ্যেই আছেন। পবিত্র কুদরত মুবারক কী? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ন্ত্রণ, যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ আছেন। ঠিক আছে। তাহলে উনার নিয়ন্ত্রণ, যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ আছেন। কোথায় আছেন? কিভাবে আছেন? মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে আছেন? হ্যাঁ? বলো দেখি- মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে আছেন? হ্যাঁ? এটা জানো?
আক্বাইদের কিতাবে লেখা হয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ইলিম মুবারক ও সম্মানিত কুদরত মুবারক দ্বারা সর্বত্র হাযির-নাযির এবং আসমা ও ছিফত দ্বারা সর্বত্র যাহির। হাযির-নাযির বুঝো না? মহান আল্লাহ পাক তিনি সব জায়গায় আছেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার ক্ষমতা সকলের উপরে প্রযোজ্য। কেউ ক্ষমতার বাইরে নেই। এটা হলো হাযির-নাযির। আর আসমা ও ছিফতের দ্বারা মহান আল্লাহ পাক তিনি যাহির হয়েছেন।
পবিত্র কুদরত মুবারক দুই ভাগ। একটা হলো- মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার মাহবূব, মুরাদ ও সমগ্র কায়িনাতের মালিক হিসেবে সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া মুবারক করে, সমস্ত কিছু দিয়ে পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক করায়ে (সৃষ্টি মুবারক করে) উনাকে উনার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং উনার পবিত্র কুদরত মুবারক অর্থাৎ উনার নিয়ন্ত্রণ, যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ উনাকে রেখেছেন। অর্থাৎ ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন।
সংক্ষেপে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ন্ত্রণ, যিয়ারত, ছোহবত, দীদার মুবারক-এ আছেন। অর্থাৎ ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল যাবৎ থাকবেন।
ঠিক আছে। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি আছেন কোথায়? মহান আল্লাহ পাক তিনি আছেন কোথায়?
একজনের উক্তি:
كُنْتُ نُورًا بَيْنَ يَدَىْ رَبِّىْ
‘আমি আমার রব মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে পবিত্র নূর মুবারক হিসেবে ছিলাম।’
জওয়াব মুবারক: ঠিক আছে। মহান আল্লাহ পাক উনার সামনে। বুঝেছিরে বাবা।
আমার কথাটা তোমরা বুঝতে পারতেছো না। আর ভাষা দিয়ে বুঝানোও যাচ্ছে না। এটা হলো- মহান আল্লাহ পাক উনার পাশেই আছেন উনি; সাথেই আছেন। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে আছেন? আমার কথা মুবারক কি বুঝতেছো? এটা ভাষা দিয়ে বুঝানো কঠিন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আছেন না? সমস্ত কিছু হওয়ার আগের থেকে আছেন। কোনো সৃষ্টি নেই; মহান আল্লাহ পাক তিনি আছেন। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে আছেন? আমার বলার বিষয় হলো সেটা। মানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান মুবারক কতটুকু এটা বুঝানোর জন্য আমার কথা মুবারক বলা।
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ
“আর (আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আমি আপনার মহাসম্মানিত যিকির মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলাম নাশ্রহ্ শরীফ: ৪)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬ (৬)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ
আরো উল্লেখ্য যে, বিভিন্ন স্বীকৃত গণনা পদ্ধতি অনুসারেই বিভিন্ন যুগে ও বিভিন্ন ইসলামী অঞ্চলে মুছহাফ শরীফ ছাপা হয়েছে এবং বর্তমানেও ছাপা হচ্ছে। অতএব, কোনো নির্দিষ্ট পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা অনুযায়ী মুছহাফ শরীফ ছাপানোর অর্থ অন্য কোনো গণনা পদ্ধতিকে বাতিল করা বা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা নয়; বরং তা সংশ্লিষ্ট স্বীকৃত গণনা পদ্ধতির—ই অনুসরণমাত্র।
তাই, আমরা ৬৬৬৬ পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা অনুসারে মুছহাফ শরীফ মুদ্রণের উদ্যোগ মুবারক গ্রহণ করেছি। এর দ্বারা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে কোনো প্রকার পরিবর্তন বা পরিবর্ধন উদ্দেশ্য নয়; বরং প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা গণনা পদ্ধতির অনুসরণমাত্র। অতিশীঘ্রই ৬৬৬৬ পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা অনুযায়ী মুছহাফ শরীফ মুদ্রণ মুবারক সম্পন্ন হবেন। ইনশাআল্লাহ! আর মানুষ যেন এ বিষয়ে ছহীহ্ ইলিম অর্জন করে বাতিল ফিরক্বার লোকদের ওয়াসওয়াসা থেকে নিজেদের ঈমান ও আক্বীদাহ্ হিফাযত করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা আলোচ্য কিতাব মুবারকখানা প্রকাশ করেছি।
অতএব, প্রত্যেকের উচিত আলোচ্য কিতাব মুবারকখানা সংগ্রহ করা, পাঠ করা এবং ব্যাপক প্রচার—প্রসার করা।
খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন!)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬ (৫)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ
মূলত, স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটা ইরশাদ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সেটা বর্ণনা মুবারক করেছেন। অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি সেই সংখ্যাটিই বর্ণনা মুবারক করেছেন, যেই সংখ্যাটি মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্ধারণ করেছেন এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, প্রকৃতপক্ষে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬খানা। সুবহানাল্লাহ!
আর কিতাবাদিতে যে ২৯টিরও অধিক মত উল্লেখ রয়েছে। যেমন— সংক্ষেপে কয়েকটা হচ্ছে— (১) মাদানী প্রথম— ৬২১৭টি, (২) মাদানী শেষ (হযরত শাইবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা)— ৬২১৪টি, (৩) মাদানী শেষ (হযরত আবূ জা’ফর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা)— ৬২১০টি, (৪) মাক্কী— ৬২২০টি, (৫) কূফী— ৬২৩৬টি, (৬) বছরী— ৬২০৫টি, (৭) বছরী উনাদের অপর বর্ণনা— ৬২০৪টি, (৮) বছরী উনাদের আরেক বর্ণনা— ৬২১৯টি, (৯) শামী— ৬২২৬টি, (১০) হিমছবাসী উনাদের মতে— ৬২৩২টি ইত্যাদি। (ফুনূনুল আফনান লিইবনে জাওযী) এসব সংখ্যা মূলত আহলুল আদ্দ (اَهْلُ الْعَدِّ) বা পবিত্র আয়াত শরীফ গণনাবিদ ইমাম ও ক্বারীগণ উনাদের অনুসৃত গণনা পদ্ধতির ভিত্তিতে বর্ণিত ও গণনাকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যাসমূহ। এগুলোর মাধ্যমে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মোট পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা কত সে সম্পর্কে মোটামোটি একটি ধারণা লাভ করা যায় যে, পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬২০০—এর অধিক। তবে, এসব গণনার মাধ্যমে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা কত সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না; বরং এ বিষয়ে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হয়। আর মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬খানা। সুবহানাল্লাহ! যা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। এটাই চূড়ান্ত ফয়ছালা মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬ (৪)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ
এখন বলার বিষয় হচ্ছে— সেই নির্দিষ্ট সংখ্যা কত?
এই বিষয়টিও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি উম্মতদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। হাফিযুল হাদীছ আল্লামা হযরত রূহুল আমীন বশীরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বীয় কিতাব ‘কেরাত শিক্ষা’ উনার মধ্যে বলেন, “মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মতে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬খানা।” সুবহানাল্লাহ! {কেরাত শিক্ষা (প্রথম ভাগ)— ৯৭ নং পৃষ্ঠা, ১৩৩৪ সালে প্রকাশিত}
আর সরাসরি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি নিজে আমাকে এক বিশেষ সাক্ষাৎ মুবারকে বলেছেন যে, ‘মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬খানা। উনার এই বর্ণনাটি বিশুদ্ধ বর্ণনা।’ সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬ (৩)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْاٰنِ اِقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِى الدُّنْيَا فَاِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ اٰخِرِ اٰيَةٍ تَقْرَؤُهَا
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পরকালে ‘ছাহিবুল কুরআন’ (অর্থাৎ যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ নিয়মিত তিলাওয়াত ও মুখস্থ করবেন এবং সেই অনুযায়ী ঈমান ও আমল পরিশুদ্ধ করবেন) উনাকে বলা হবে— ‘তিলাওয়াত করতে থাকুন এবং উপরে আরোহণ করতে থাকুন। দুনিয়াতে যেভাবে তারতীলের সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন, সেভাবেই তিলাওয়াত করতে থাকুন। কেননা, নিশ্চয়ই (সম্মানিত জান্নাত মুবারক—এ) আপনার অবস্থান সেই সর্বশেষ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার নিকটে হবে, যা আপনি তিলাওয়াত করবেন’।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, তাফসীরে কুরতুবী ১/৮, তাফসীরে মাযহারী ১/১৭৬১, তাফসীরে বাগবী ১/৪২, তাফসীরে ইবনে রজব হাম্বলী ১/৫৯ ইত্যাদি)
অতএব, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা নির্দিষ্ট। আর সেটা স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটা উম্মতকে অবহিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর উম্মত এই বিষয়টি খাছভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে জানতে পেরেছে। যেমন— মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ اللهُ دَرَجَ الْجَنَّةِ عَلٰى عَدَدِ اٰىِ الْقُرْاٰنِ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মর্যাদার স্তরসমূহ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের সংখ্যার অনুপাতে নির্ধারণ করেছেন’।” সুবহানাল্লাহ! (লামাহাতুল আনওয়ার ওয়া নাফাহাতুল আযহার ওয়া রাইয়্যুয যমআন লি মা’রিফাতি মা ওয়ারাদা মিনাল আছারি ফী ছাওয়াবি ক্বারিইল কুরআন ১/১০৯, তারীখে দিমাশক্ব ৫৯/৩৫৫, মুখতাছরু তারীখে দিমাশক্ব ২৫/১৩০, আল মুহাদ্বরাতু ওয়াল মুহাওয়ারাত ১/৩২৫ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬ (২)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ

এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ مِعْقَسِ بْنِ عِمْرَانَ بْنِ حِطَّانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ دَخَلْتُ مَعَ اَبِىْ عَلٰى حَضْرَتْ اُمِّ الدَّرْدَاءِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهَا فَسَاَلَهَا اَبِىْ فَقَالَ مَا فَضْلُ مَنْ قَرَاَ الْقُرْاٰنَ عَلٰى مَنْ لَّمْ يَقْرَاِ الْقُرْاٰنَ فَقَالَتْ سَمِعْتُ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) تَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَعَلَ اللهُ دَرَجَ الْجَنَّةِ عَلٰى عَدَدِ اٰىِ الْقُرْاٰنِ فَمَنْ قَرَاَ ثُلُثَ الْقُرْاٰنِ كَانَ عَلَى الثُّلُثِ مِنْ دَرَجِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَاَ نِصْفَ الْقُرْاٰنِ كَانَ عَلَى النِّصْفِ مِنْ دَرَجِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَاَ ثُلُثَىِ الْقُرْاٰنِ كَانَ عَلَى الثُّلُثَيْنِ مِنْ دَرَجِ الْجَنَّةِ وَمَنْ قَرَاَ الْقُرْاٰنَ كُلَّهٗ كَانَ فِىْ مَجْلِسٍ لَمْ يَكُنْ فَوْقَهٗ اَحَدٌ اِلَّا نَبِىٌّ اَوْ صِدِّيْقٌ اَوْ شَهِيْدٌ
“হযরত মি’ক্বাস ইবনে ইমরান ইবনে হিত্তান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্মানিত পিতা উনার সাথে হযরত উম্মু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার নিকট গেলাম। তখন আমার সম্মানিত পিতা তিনি হযরত উম্মু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার কাছে সুওয়াল করলেন, ‘যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করেন, উনার মর্যাদা সেই ব্যক্তির তুলনায় কতটুকু, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে না?’ তিনি বললেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে আমি বলতে শুনেছি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার স্তরসমূহ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের সংখ্যার অনুপাতে নির্ধারণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতএব, যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করবেন, তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মর্যাদার স্তরসমূহের এক তৃতীয়াংশে অধিষ্ঠিত হবেন। যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার অর্ধেক তিলাওয়াত করবেন, তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মর্যাদার স্তরসমূহের অর্ধেকে অধিষ্ঠিত হবেন। যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার দুই তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করবেন, তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মর্যাদার স্তরসমূহের দুই তৃতীয়াংশে অধিষ্ঠিত হবেন। আর যিনি সমগ্র মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করবেন, তিনি এমন এক সম্মানিত মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবেন, যার ঊর্ধ্বে হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং ছিদ্দীক্ব ও শহীদগণ উনারা ব্যতীত আর কেউ থাকবে না।’ অর্থাৎ উনাদের সাথে তিনি অবস্থান মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (লামাহাতুল আনওয়ার ওয়া নাফাহাতুল আযহার ওয়া রাইয়্যুয যমআন লি মা’রিফাতি মা ওয়ারাদা মিনাল আছারি ফী ছাওয়াবি ক্বারিইল কুরআন ১/১০৯, তারীখে দিমাশক্ব ৫৯/৩৫৫, মুখতাছরু তারীখে দিমাশক্ব ২৫/১৩০, আল মুহাদ্বরাতু ওয়াল মুহাওয়ারাত ১/৩২৫ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যা ৬৬৬৬ (১)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ
نَـحْمَدُهٗ وَنُصَلِّىْ وَنُسَلِّـمُ عَلـٰى رَسُوْلِهِ الْكَرِيْـمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلـٰى حَضْرَتْ وَالِدَىْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلـٰى حَضْرَتْ اُمَّهَاتِ الْـمُؤْمِنِـيْـنَ عَلَيْهِنَّ السَّلَامُ وَعَلـٰى حَضْرَتْ اَهْلِ بَـيْتِهِ الْكَرِيْـمِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ .اَمَّا بَعْدُ:
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَدَدُ دَرَجِ الْجَنَّةِ عَدَدُ اٰىِ الْقُرْاٰنِ فَمَنْ دَخَلَ الْجَنَّةَ مِنْ اَهْلِ الْقُرْاٰنِ فَلَيْسَ فَوْقَهٗ دَرَجَةٌ قَالَ حَضْرَتْ اَلْحَاكِمُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اِسْنَادُهٗ صَحِيْحٌ
“মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার স্তরসমূহের সংখ্যা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের সংখ্যার সমপরিমাণ। অতএব, আহলে কুরআন (অর্থাৎ যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মুখস্থ করবেন এবং সেই অনুযায়ী ঈমান ও আমল পরিশুদ্ধ করবেন) উনাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি সম্মানিত জান্নাত মুবারক—এ প্রবেশ করবেন, তিনি এমন এক উচ্চ স্তরে অবস্থান করবেন যে, উনার ঊর্ধ্বে আর কোনো স্তর থাকবে না।’ আল্লামা হযরত ইমাম হাকিম নীশাপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ‘সনদ ছহীহ্ (বিশুদ্ধ)’।” সুবহানাল্লাহ! (আল ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন ১/১৮২, শুআবুল ঈমান ৩/৩৮০, দলীলুল ফালিহীন ৬/৩১৭, আত তানইঊর ৭/২১৮, আল ফিরদাউস ৩/৫৮, জামিউল আহাদীছ ১৪/১৮২, জামউল জাওয়ামি’ ১/১৪৩৫৩, কানযুল উম্মাল ১/৫১২ ইত্যাদি)
কাজেই, সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার স্তরসমূহ যেমন নির্দিষ্ট, তেমনিভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার প্রকৃত পবিত্র আয়াত শরীফ সংখ্যাও নির্দিষ্ট। সুবহানাল্লাহ! মূলত, স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার স্তরসমূহ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের সংখ্যার অনুপাতে নির্ধারণ করেছেন।

প্রাকৃতিক বিশুদ্ধতায় -" আদ্দাহিন (পেট্রোলিয়াম জেলি) আজই সংগ্রহ করুন।
যোগাযোগ করুন -আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।

গুসলুল জিসম( বডি ওয়াশ) বড়ই পাতার নির্যাস থেকে তৈরিকৃত প্রাকৃতিক বিশুদ্ধতায় ভরপুর।পাওয়া যাচ্ছে -" আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র, রাজারবাগ শরীফ, ঢাকা।