মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৫১)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল ইকলীল ফী ইস্তিম্বাত্বিত্ তানযীল’ উনার মধ্যে বলেন,
نَزَلَتْ فِـىْ بَرَاءَةِ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ فِيْمَا قُذِفَتْ بِهٖ فَاسْتَدَلَّ بِهِ الْفُقَهَاءُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ عَلـٰى اَنَّ قَاذِفَهَا يُقْتَلُ لِتَكْذِيْبِهٖ لِنَصِّ الْقُرْاٰنِ قَالَ الْعُلَمَاءُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِمْ قَذْفُ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ كُفْرٌ لِّاَنَّ اللهَ سَبَّحَ نَفْسَهٗ عِنْدَ ذِكْرِهٖ فَقَالَ {سُبْحٰنَكَ هٰذَا بُـهْتَانٌ عَظِيْمٌ}كَمَا سَبَّحَ نَفْسَهٗ عِنْدَ ذِكْرِ مَا وَصَفَهٗ بِهِ الْمُشْرِكُوْنَ مِنَ الزَّوْجَةِ وَالْوَلَدِ.
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে যে বিষয়ে অপবাদ দেয়া হয়েছিলো, সে বিষয়ে উনার মহাসম্মানিত পবিত্রতা মুবারক সম্পর্কে এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে অপবাদ প্রদানকারীকে, দোষারোপকারীকে ক্বতল করার বিষয়ে, মৃত্যুদণ্ড দেয়ার বিষয়ে হযরত ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা সেই ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে মিথ্যারোপ করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে দোষারোপ করা, উনার দুর্নাম করা কুফরী। কারণ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার আহ্লিয়াহ এবং আল—আওলাদ সম্পর্কে মুশরিকরা যে অপবাদ দিয়েছিলো, সে বিষয়ে উনার বেনিয়াযী বর্ণনা করতে যেয়ে যেমন তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। (ঠিক তদ্রুপ) স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে যে অপবাদ দেয়া হয়েছিলো, সে বিষয়ে উনার পবিত্রতা ও বেনিয়াযীর) সেই বিষয়টা আলোচনা করতে যেয়েও তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
سُبْحٰنَكَ هٰذَا بُـهْتَانٌ عَظِيْمٌ
‘(মহান আল্লাহ পাক) আপনি পূত—পবিত্র, (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনিও পূত—পবিত্র।) এটা একটা কঠিন অপবাদ।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আল ইকলীল ফী ইস্তিম্বাত্বিত্ তানযীল ১৯০ নং পৃষ্ঠা)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৫০)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ الَّذِيْنَ جَآٓٓٓٓءُوْ بِالْاِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ لَا تَـحْسَبُوْهُ شَرًّا لَّكُمْ بَلْ هُوَ خَيْـرٌ لَّكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْاِثْـمِ وَالَّذِىْ تَوَلّٰـى كِبْرَهٗ مِنْهُمْ لَهٗ عَذَابٌ عَظِيْمٌ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছে, তারা আপনাদের মধ্য থেকেই একটি দল। আপনারা এটাকে নিজেদের জন্য খারাপ মনে করবেন না; বরং এটা আপনাদের জন্য উত্তম, ভালো, কল্যাণকর। (তারা প্রত্যেকেই তাদের অপরাধ অনুযায়ী গুনাহ কামাই করেছে।) তাদের প্রত্যেকের জন্য ততটুকু আছে যতটুকু সে গুনাহ করেছে। আর তাদের মধ্যে যে বড় দুষ্টটা রয়েছে, (উবাই বিন সুলুল, যে এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে,) তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৯)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
আল ইমামুল কাবীর, মাফ্খরাতুল মাগরিব হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল ‘আয়ায ইবনে মূসা আল ইয়াহ্চুবী আস সাব্তী আল মালিকী আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৪৭৬ হিজরী শরীফ এবং বিছাল শরীফ ৫৪৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আশ শিফা বিতা’রীফি হুকূকিল মুছত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার ২য় খণ্ডের ৩০৯ পৃষ্ঠায় বলেন—
وَحَكٰى حَضْرَتْ اَبُو الْـحَسَنِ الصِّقِلِّىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ الْقَاضِىَ حَضْرَتْ اَبَا بَكْرِ ابْنِ الطَّيِّبِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اِنَّ اللهَ تَعَالـٰى اِذَا ذَكَرَ فِـى الْقُرْاٰنِ مَا نَسَبَهٗ اِلَيْهِ الْمُشْرِكُوْنَ سَبَّحَ نَفْسَهٗ لِنَفْسِهٖ كَقَوْلِهٖ (وَقَالُوا اتَّـخَذَ الرَّحْـمٰنُ وَلَدًا سُبْحٰنَهٗ) فِـىْ اٰىٍ كَثِيْرَةٍ وَذَكَرَ تَعَالـٰى مَا نَسَبَهُ الْمُنَافِقُوْنَ اِلـٰى اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقَالَ (وَلَوْلَاۤ اِذْ سَـمِعْتُمُوْهُ قُلْتُمْ مَّا يَكُوْنُ لَنَاۤ اَنْ نَّتَكَلَّمَ بِـهٰذَا سُبْحٰنَكَ) سَبَّحَ نَفْسَهٗ فِـىْ تَبْـرِئَتِهَا مِنَ السُّوْءِ كَمَا سَبَّحَ نَفْسَهٗ فِـىْ تَبْرَتِهٖ مِنَ السُّوْءِ وَهٰذَا يَشْهَدُ لِقَوْلِ حَضْرَتْ مَالِكٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِـىْ قَتْلِ مَنْ سَبَّ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَمَعْنٰـى هٰذَا اَنَّ اللهَ لَمَّا عَظَّمَ سَبَّهَا كَمَا عَظَّمَ سَبَّهٗ وَكَانَ سَبُّهَا سَبًّا لِّنَبِيِّهٖ وَقَرَنَ سَبَّ نَبِيِّهٖ وَاٰذَاهُ بِاٰذَاهُ تَعَالـٰى وَكَانَ حُكْمُ مُؤْذِيْهِ تَعَالـٰى اَلْقَتْلَ كَانَ مُؤْذِىْ نَبِيِّهٖ كَذٰلِكَ.
অর্থ: “আল্লামা হযরত ইমাম আবুল হাসান ছিক্বিল্লী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন যে, কাযী হযরত আবূ বকর ইবনে ত্বইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মুশরিকরা যা সম্পৃক্ত করেছিলো, মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে সে বিষয়ে আলোচনা মুবারক করেছেন, তখন তিনি নিজেই উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যেমন— মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক— ‘তারা (কাফির, মুশরিকরা) বলে— মহান আল্লাহ পাক তিনি আল—আওলাদ (সন্তান—সন্ততি) গ্রহণ করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! (অথচ) মহান আল্লাহ পাক তিনি পূত—পবিত্র, তিনি মহান।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১৬) এরূপ অনেক সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে মুনাফিক্বরা যা সম্পৃক্ত করেছিলো, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তোমরা যখন এ কথা শুনলে, তখন কেনো বললে না যে, এ বিষয়ে কথা বলার আমাদের কোনো অধিকার নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো পবিত্র, মহান। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬) এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি যে সমস্ত প্রকার খারাপি থেকে মুক্ত, পূত—পবিত্র’ এ বিষয়টি ঘোষণা মুবারক দিতে গিয়ে, উনার পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করতে যেয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত প্রকার খারাপি, বুরায়ী থেকে উনার নিষ্কলুষতা, ছমাদিয়াত ও বেনিয়াযী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এটা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে বলেছেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে যে ব্যক্তি গাল—মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।’ উনার এই মতকে বিশুদ্ধ বলে প্রমাণ করে। সুবহানাল্লাহ! আর এটার অর্থ হচ্ছে— নিশ্চয়ই যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে (মুনাফিক্বরা) আপবাদ দিলো, উনার মানহানী করলো, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সমস্ত প্রকার খারাপি থেকে মুক্ত, পূত—পবিত্র বলে ঘোষণা মুবারক দিতে গিয়ে, উনার পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করতে যেয়ে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন, যেমন মহান আল্লাহ পাক উনার ব্যাপারে অপবাদ দেয়ার পর তিনি উনার নিষ্কলুষতা, ছমাদিয়াত ও বেনিয়াযী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি নিজের পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহআলাইহাস সালাম উনাকে গাল—মন্দ করার, উনার মানহানী করার অর্থই হচ্ছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল—মন্দ করা, উনার মানহানী করা। না’ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে গাল—মন্দ করার, উনার মানহানী করার বিষয়টি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল—মন্দ করার, উনার মানহানী করার শামিল করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়া মহান আল্লাহ পাক উনার কষ্টের কারণ। আর মহান আল্লাহ পাক উনাকে কষ্ট প্রদানকারীর হুকুম হচ্ছে, তার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট প্রদানকারীরও একই হুকুম। অর্থাৎ তারও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।” সুবহানাল্লাহ! (আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ১/৪১৭, আশ শিফা শরীফ ২/৩০৯, শারহুশ শিফা লিল খফাজী ৪/৫৬৮)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৮)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
হযরত ইমাম আল্লামা ক্বাযী ইবনে ‘আরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৫৪৩ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘আহকামুল কুরআন শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
اَنَّ اَهْلَ الْاِفْكِ رَمَوْا اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَلْمُطَهَّرَةَ بِالْفَاحِشَةِ فَبَرَّاَهَا اللهُ فَكُلُّ مَنْ سَبَّهَا بِـمَا بَرَّاَهَا اللهُ مِنْهُ فَهُوَ مُكَذِّبٌ لِّلّٰهِ وَمَنْ كَذَّبَ اللهَ فَهُوَ كَافِرٌ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই আহলে ইফকের ঘটনা রটনাকারীরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম যিনি মুত্বহ্হারাহ্ উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক—এ ফাহেশামূলক কথা—বার্তা ছড়িয়েছে। তারপর স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক তিনি যেই বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন, সেই বিষয়ে উনাকে যে ব্যক্তি গাল—মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, সেই ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি মিথ্যারোপ করলো। আর যেই ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি মিথ্যারোপ করলো, সেই ব্যক্তি কাফির। না‘ঊযুবিল্লাহ! (সুতরাং শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই তাকে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।)” সুবহানাল্লাহ! (আহ্কামুল কুরআন লিইবনে ‘আরাবী ৬/৩৭)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৭)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
৯ম হিজরী শরীফ উনার বিশিষ্ট ইমাম এবং মুজতাহিদ, আল্লামা হযরত সিরাজুদ্দীন আবূ হাফছ ‘উমর ইবনে আলী ইবনে আহমদ আল মিছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি হযরত ইবনে মুলক্বিন রহমতুল্লাহি আলাইহি হিসেবে মশহূর (বিছাল শরীফ ৮০৪ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আত্ তাওদ্বীহ্ লি শরহিল জামি‘ইছ ছহীহ্’ উনার মধ্যে বলেন,
وَاَنَّ مَنْ اٰذٰى نَبِيَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـىْ اَهْلِهٖ اَوْ عِرْضِهٖ اَنَّهٗ يُقْتَلُ لِقَوْلِ حَضْرَتْ اُسَيْدِ بْنِ حُضَيْـرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ (اِنْ كَانَ مِنَ الْاَوْسِ قَتَلْنَاهُ) لَـمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ شَيْئًا فَكَذٰلِكَ مَنْ سَبَّ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِـمَا بَرَّاَهَا اللهُ مِنْهُ اَنَّهٗ يُقْتَلُ لِتَكْذِيْبِهِ الْقُرْاٰنَ الْمُبَرَّئَ لَـهَا وَتَكْذِيْبِهِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে অথবা উনার মহাসম্মানিত বেমেছাল মর্যাদা মুবারক উনার ব্যাপারে উনাকে কষ্ট দিবে, অবশ্যই তাকে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। কেননা, হযরত উসাইদ ইবনে হুদ্বাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার ক্বওল শরীফ— ‘যদি সে আউস গোত্রের হয়, তাহলে আমরা তাকে ক্বতল করবো, মৃত্যুদণ্ড দিবো।’ কোনো কিছু সেটাকে রদ করে নি। কাজেই অনুরূপ যারা মহান আল্লাহ পাক তিনি যে বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে অপবাদমুক্ত করেছেন, যারা সেই বিষয়ে উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ বলবে, উনাকে গাল—মন্দ করবে, মানহানী করবে, অবশ্যই তাদেরকে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। কেননা, সে উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার ব্যাপারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে মিথ্যারোপ করেছে এবং স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে মিথ্যারোপ করেছে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আত্ তাওদ্বীহ্ লি শরহিল জামি‘ইছ ছহীহ্ ১৬/৫৮৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৬)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কাজেই যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক—এ অপবাদ দিলো, সে অবশ্যই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিরোধিতা করলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিরোধিতা করবে, তাকে শাস্তি স্বরূপ ক্বতল করা হবে, মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! হযরত ইমাম ইবনে হায্ম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এখানে হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা সঠিক। এরূপ করাটা পূর্ণ মুরতাদী এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার প্রতি মিথ্যা অপবাদের বিষয়টি খণ্ডন করে দিয়ে উনার পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করেছেন, সে বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি মিথ্যারোপ করা হয়। না‘ঊযুবিল্লাহ! অনুরূপভাবে সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ক্ষেত্রে একই ফতওয়া প্রযোজ্য। এখানে কোনো পার্থক্য নেই। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَالطَّيِّبٰتُ لِلطَّيِّبِيْـنَ وَالطَّيِّبُوْنَ لِلطَّيِّبٰتِ اُولٰٓئِكَ مُبَرَّءُوْنَ مِـمَّا يَقُوْلُوْنَ
‘সচ্চরিত্রা মহিলা উনারা সচ্চরিত্র পুরুষ উনাদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ উনারা সচ্চরিত্রা মহিলা উনাদের জন্য। উনাদের সম্পর্কে মানুষ যা বলে, উনারা তা থেকে মুক্ত, পূত—পবিত্র।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬) কাজেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা প্রত্যেকেই সমস্ত প্রকার অপবাদ থেকে মুক্ত।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুহাল্লা বিল আছার শরীফ ১২/৪০)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৫)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
হযরত ইমাম আল্লামা আবূ মুহম্মদ ‘আলী ইবনে আহমদ ইবনে সা‘ঈদ ইবনে হাযম আন্দালুসী কুরতুবী যাহিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৪৫৬ হিজরী শরীফ) যিনি ইবনে হায্ম হিসেবে পরিচিত। তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল মুহাল্লা বিল আছার শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন,
حَضْرَتْ هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ سَـمِعْتُ حَضْرَتْ مَالِكَ بْنَ اَنَسٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُوْلُ مَنْ سَبَّ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَ الْاَكْبَـرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَسَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقَ الْاَعْظَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ جُلِدَ وَمَنْ سَبَّ اُمَّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قُتِلَ قِيْلَ لَهٗ لِـمَ يُقْتَلُ فِـىْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَ لِاَنَّ اللهَ تَعَالـٰى يَقُوْلُ فِـىْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ {يَعِظُكُمُ اللهُ اَنْ تَعُوْدُوْا لِمِثْلِهٖۤ اَبَدًا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْـنَ} قَالَ حَضْرَتْ مَالِكٌ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَمَنْ رَمَاهَا فَقَدْ خَالَفَ الْقُرْاٰنَ وَمَنْ خَالَفَ الْقُرْاٰنَ قُتِلَ قَالَ حَضْرَتْ اَبُوْ مُحَمَّدٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَوْلُ حَضْرَتْ مَالِكٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ هَاهُنَا صَحِيْحٌ وَهِىَ رِدَّةٌ تَامَّةٌ وَتَكْذِيْبٌ لِّلّٰهِ تَعَالـٰى فِـىْ قَطْعِهٖ بِبَرَاءَتِـهَا وَكَذٰلِكَ الْقَوْلُ سَائِرُ حَضْرَتْ اُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْـنَ عَلَيْهِنَّ السَّلَامُ وَلَا فَرْقَ لِاَنَّ اللهَ تَعَالـٰى يَقُوْلُ {وَالطَّيِّبٰتُ لِلطَّيِّبِيْـنَ وَالطَّيِّبُوْنَ لِلطَّيِّبٰتِ اُولٰٓئِكَ مُبَرَّءُوْنَ مِـمَّا يَقُوْلُوْنَ} فَكُلُّهُنَّ مُبَرَّاٰتٌ مِّنْ قَوْلٍ اِفْكٍ.
অর্থ: “হযরত হিশাম ইবনে ‘আম্মার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি, যেই ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে গাল—মন্দ করবে, উনাদের মানহানী করবে, তাকে বেত্রাঘাত করা হবে। আর যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে গাল—মন্দ করবে, উনার মানহানী করবে, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলা হলো, কী কারণে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনাকে গাল—মন্দ করলে, উনার মানহানী করলে, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে? জবাবে হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কারণ স্বয়ং যিনি খ¦লিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক—এ ইরশাদ মুবারক করেছেন,
يَعِظُكُمُ اللهُ اَنْ تَعُوْدُوْا لِمِثْلِهٖۤ اَبَدًا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْـنَ
‘মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে নছীহত মুবারক করতেছেন, নির্দেশ মুবারক দিচ্ছেন, তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাকো, তাহলে পুনরায় কখনো এ ধরণের আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৪)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]

৩—৪. মহাসম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ

৮ম হিজরী শরীফ উনার বিশিষ্ট ইমাম এবং মুজতাহিদ, শায়খুল ইসলাম, ক্বাযিউল কুযাত, আল্লামা তাক্বিউদ্দীন আলী ইবনে আব্দুল কাফী আস্ সুবুকী রহমতুল্লাহি আলইহি (বিলাদত শরীফ ৬৮৩ হিজরী শরীফ : বিছাল শরীফ ৭৬৫ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনার মধ্যে বর্ণনা করেন,
قَالَ حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ مَالِكٌ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ مَنْ سَبَّ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قُتِلَ قِيْلَ لَهٗ لِـمَ قَالَ مَنْ رَمَاهَا فَقَدْ خَالَفَ الْقُرْاٰنَ وَقَالَ حَضْرَتْ اِبْنُ شَعْبَانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْهُ لِاَنَّ اللهَ تَعَالـٰى يَقُوْلُ (يَعِظُكُمُ اللهُ اَنْ تَعُوْدُوْا لِمِثْلِهٖۤ اَبَدًا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْـنَ.) فَمَنْ عَادَ لِمِثْلِهٖ فَقَدْ كَفَرَ.
অর্থ: “হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ বলবে, উনাকে গাল—মন্দ করবে, তাকে ক্বতল করা হবে, মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলা হলো, কি কারণে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহআলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক—এ অপবাদ দিলো, সে অবশ্যই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিরোধিতা করলো। না‘ঊযুবিল্লাহ! হযরত ইবনে শা’বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। (হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,) কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يَعِظُكُمُ اللهُ اَنْ تَعُوْدُوْا لِمِثْلِهٖۤ اَبَدًا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْـنَ.
‘মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে ওয়াজ করতেছেন, নির্দেশ মুবারক দিচ্ছেন, তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাকো, তাহলে পুনরায় কখনো এ ধরণের আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে না।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৭) কাজেই যে ব্যক্তি পুনরায় এ ধরণের আচরণের পুনরাবৃত্তি করবে, সে অবশ্যই কুফরী করবে। (সুতরাং শাস্তিস্বরূপ অবশ্যই তাকে ক্বতল করতে হবে, মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।)” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪৩)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
এ সম্পর্কে খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, রঊফুর রহীম, ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, ছাহিবু কুন ফাইয়াকূন, আল ক্বাসিম, আল মালিক, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুল কায়িনাত, মালিকু আহলি বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, আল মাখ্দূম, মাখ্দূমুল কায়িনাত, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
“সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি শহীদ করেছে, তাকে জাহান্নামে আগুনের বক্সে রাখা হবে। সমস্ত দুনিয়াবাসী তথা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন—ইনসানকে যত শাস্তি দেয়া হবে। ঐ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে এককভাবে সকলের সম্মিলিত শাস্তির অর্ধেক শাস্তি দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মানহানী যেই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি করবে, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন—ইনসানকে যত শাস্তি দেয়া হবে, ঐ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে এককভাবে সকলের সম্মিলিত শাস্তির সমান শাস্তি দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ! আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানী যেই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি করবে, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন—ইনসানকে যত শাস্তি দেয়া হবে, ঐ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে এককভাবে সকলের সম্মিলিত শাস্তির দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মানহানী যেই সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তি করবে, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত জিন—ইনসানকে যত শাস্তি দেয়া হবে, ঐ সর্বনিকৃষ্ট ব্যক্তিকে এককভাবে সকলের সম্মিলিত শাস্তির ৪ গুণ শাস্তি দেয়া হবে।” সুবহানা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে যারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানী করবে, তাদেরকে কত ভয়াবহ কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, তা সমস্ত জিন—ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (৪২)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
আলোচ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে اَهْلُ الدُّنْيَا ‘দুনিয়ার সমস্ত অধিবাসী’ দ্বারা সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারাই জাহান্নামে প্রবেশ করবে, জাহান্নামের সকল অধিবাসীরাই উদ্দেশ্য। আর এর মধ্যে বণী ইসরাঈলের ৭০ হাজার হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা শহীদ করেছে, তারাও অন্তভুর্ক্ত।
তাহলে এখান থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যারা শহীদ করেছে, তাদেরকে কত ভয়াবহ কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দেয়া হবে। যদি তাই হয়, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আম্মা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা মানহানী করবে, তাদেরকে কত ভয়াবহ কঠিন যন্ত্রণাদায়ক ও লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, তা সমস্ত জিন—ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!