এক কথায় আমরা ছিলাম জাহান্নামের পথে! কথাটা কতটুকু সত্যি? অবশ্যই একশতভাগ সত্যি এবং দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি হলো, যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবত লাভ করলাম। চোখে ভেসে উঠে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সোনালী যুগ এবং বিপরীত দিকে জাহিলী যুগের সেই ভয়াবহ দৃশ্যপট! জাহিলী যুগের সেই ভয়াবহতার কথা ভাবতে গেলেই শরীর শিউরে ওঠে! যেখানে কন্যা সন্তানদেরকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। মহিলাদের ছিলনা বিন্দুতম মর্যাদা-সম্মান, কুফরী-শিরকীতে চারিদিক ছিল নিমজ্জিত। সর্বক্ষেত্রেই ছিল ইবলিসের আনুগত্য। রহমতের যিনি মালিক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আগমনে জাহিলী যুগের সেই কুফরী-শিরকীর অন্ধকার দূর হয়ে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠলো চারদিক। জান্নাতী সমীরণে সকল জরাজীর্ণতা কেটে গেলো। রহমত লাভ করে মুসলমানগণ পরস্পরের প্রতি আন্তরিক হলেন, শত্রুতা ভুলে পরস্পর হয়ে গেলেন ভাই-ভাই। সুবহানাল্লাহ! মহিলারা ফিরে পেলেন উনাদের পরিপূর্ণ হক্ক ও মর্যাদা। মহান আল্লাহ পাক মহিলাদের জন্য পর্দাকে ফরজ করলেন এবং তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিলেন।
কিন্তু জাহিলী যুগের সেই ভয়াবহতা এই যামানাকে আবারও বেষ্টন করে ফেলেছে! যার পরিণামে মহিলারা স্বাধীনতার নাম দিয়ে পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে বেপর্দা হয়ে অর্থ উপার্জন করতে রাস্তায় নেমেছে। বলতে গেলে সেই জাহিলী যুগকেও হার মানিয়েছে। চারিদিকে শুধু অশান্তির ভয়াবহ দাবানল... যদিও শান্তির খোঁজেই সবাই অস্থির। শান্তির খোঁজ পাওয়া কি সত্যিই দুরূহ?
অবশেষে শান্তি লাভ করার পর মনে হয় তা এত নিকটে, এত চেনা এই পথ। আর এই পথটির সন্ধান দিলেন মহিলা জাতির যিনি পথ প্রদর্শিকা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি! সুবহানাল্লাহ! হুবহু রসূলী নকশায়ে তিনি রহমত মুবারক নিয়ে আগমন করলেন এই ধরনীতে। ফিরিয়ে দিলেন মহিলাদের ইজ্জত-সম্মান, দেখিয়ে দিলেন জান্নাতের পথ, চিনিয়ে দিলেন জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকার রাস্তা। হাবীবি নকশায় আমাদের অন্তরে ঢেলে দিলেন রহমত মুবারক। তৈরী হলো অন্তরে একে অপরের প্রতি মুহাব্বত, সহানুভূতি। যার ফলে আমরা পরস্পর হয়ে গেলাম বোন-বোন। সুবহানাল্লাহ! তিনি তো মহান আল্লাহ পাক উনার এক শক্তিশালী রজ্জু মুবারক। সাধ্য আছে কার সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বুযুর্গী-সম্মান, ফযীলত মুবারক বর্ণনা করার? উনার মেছাল তিনি নিজেই, উনার মাক্কাম মুবারকে তিনি একক, অনন্যা ও অতুলনীয়া।
- তামিমা আহমাদ