জীবনী মুবারক

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্দে নহম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু

বিলাদত শরীফ: (তারিখ উল্লেখ নেই) বিছাল শরীফ: ৯ম হিজরী (৬৩০ খৃ)

পরিচিতি:

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদে নহম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি প্রসিদ্ধ মুযায়না গোত্রে পবিত্র বিলাদত শরীফ প্রকাশ করেন। তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার চাচা। দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবদে নহম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম ছিল আবদুল উয্যা। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নাম পরিবর্তন করে আবদুল্লাহ রাখেন। উনার উপাধি “যুল-বিজাদাইন” (ডোরাকাটা দু’কাপড়ের অধিকারী)। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে এ উপাধি দান করেন। ছোট বেলায় তিনি ইয়াতীম হয়ে চাচার নিকট লালিত পালিত হন। (ইছাবা)



দ্বীন ইসলাম গ্রহণ ও যুল-বিজাদাইন উপাধি:

হযরত আবদুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণের সংবাদ চাচার নিকট পৌঁছলে তিনি উনার দেয়া সকল কিছু ছিনিয়ে নেয়ার হুমকি দেন। কিন্তু তিনি দ্বীন ইসলাম উনার উপর অবিচল ও অটল থাকেন। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে উনার চাচা যা কিছু উনাকে প্রদান করেছিলেন, সব কিছু ছিনিয়ে নেন। এমনকি পরনের কাপড়ও ছিনিয়ে নেন। এই করুণ ও অসহায় অবস্থায় তিনি উনার মাতার নিকট আসলে মাতা উনাকে একখানি কাপড় দেন, যা দু’ভাগ করে একাংশ পরিধান করে এবং অপরাংশ গায়ে জড়িয়ে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে উপস্থিত হন। ইহা দেখে উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি “যুল বিজাদাইন” (ডোরাকাটা দু’কাপড়ের অধিকারী) উপাধি প্রদান করেন। (ইছাবা)

ইবনে হিশাম উনার বর্ণনা মতে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি উনার আকর্ষণ দেখে উনার গোত্রের লোকেরা উনাকে ইসলাম গ্রহণ করতে নিষেধ করে এবং চাপ সৃষ্টির জন্য মাত্র একখানি কাপড় রেখে আর সব কিছুই ছিনিয়ে নেয়। উক্ত কাপড় দু’ভাগ করে পরিধান করতঃ তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে হাযির হন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে উক্ত উপাধি মুবারক দান করেন।

তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল হƒদয়ের মানুষ। বেশী বেশী কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও তছবীহ তাহলীল পাঠে নিমগ্ন থাকতেন। আর এসবই তিনি উচ্চস্বরে করতেন। (ইছাবা)



শাহাদাত বরণ:



নবম হিজরী সনে পবিত্র শা’বান শরীফ মাসে তাবুকের জিহাদে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। রাত্রিবেলায় উনাকে দাফন করা হয়। খলীফাতু রসূলিল্লাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ও আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারা উনাকে দাফন করেন।

উমর ইবনে শিব্বা উনার মতে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পাঁচজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কবরে অবতরণ করেন। হযরত আবদুল্লাহ যুল বিজাদাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সেই পাঁচজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে অন্যতম।



দাফনের পর দোয়া:



হযরত আবদুল্লাহ যুল বিজাদাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দাফন শেষ করতঃ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্বিবলামুখী হয়ে দু’ হাত মুবারক বা নূরুল মাগফিরাত মুবারক তুলে দোয়া করেন: আয় মহান আল্লাহ পাক! আমি উনার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলাম, আপনিও উনার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি যদি উনার স্থলাভিষিক্ত হতাম! অথচ আমি উনার পূর্বেই দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছি। অন্য বর্ণনায় আছে, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বলেছিলেন; আমার ইচ্ছা হয়, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি যদি কবরবাসী হতাম! অর্থাৎ উনার পরিবর্তে উনার কবরের অধিবাসী হতাম। (উসুদুল গাবা) (সমাপ্ত)

দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (৭ম পর্ব)

জাতিসংঘ ওরফে ইহুদী সংঘের কথিত মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয়: যা প্রকৃতপক্ষে একমাত্র পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিচালনার কেন্দ্র।


“মানবাধিকারের ছদ্মাবরণে বিশ্বব্যাপী ইহুদী কর্তৃক পবিত্র দ্বীন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কুফরীর শৃঙ্খলে বন্দি করার চক্রান্ত:


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন-

وَلَنْ تَـرْضٰى عَنكَ الْيَـهُوْدُ وَلَا النَّصَارٰى حَتّٰى تَـتَّبِعَ مِلَّتَـهُمْ

“ইহুদী ও নাছারারা কখনোই তোমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে না; যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাদের ধর্ম অনুসরণ না করবে।” নাউযুবিল্লাহ! (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: ১২০)

তাই মুসলমানদের উচিত ইহুদী-খ্রিস্টান, কাফির-মুশরিক সবার চক্রান্ত থেকে সতর্ক থাকা। পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, “(তোমরা দোয়া করো; আয় আল্লাহ পাক!) আমাদেরকে তাদের পথ দিবেন না যারা গযবপ্রাপ্ত ও বিভ্রান্ত। (খাছভাবে মাগদ্বুব অর্থ ইহুদী এবং দোয়াল্লীন অর্থ নাছারা। আর আমভাবে সমস্ত কাফির, মুশরিক, বেদ্বীন, বদদ্বীন, বাতিল ফিরকার অনুসারী সবাই এর অন্তর্ভুক্ত)।

আর পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বক্ষেত্রে ইহুদী-খ্রিস্টান, কাফির-মুশরিকদের খিলাফ করতে বলেছেন; তাদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। যেমন: আশুরার রোযা ইহুদীরা ১দিন রাখতো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ২দিন রাখতে বলেছেন। এই রকম প্রতিক্ষেত্রে তিনি ইহুদী-নাছারা অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের খিলাফ করার জন্য আদেশ মুবারক দিয়েছেন। তাই মুসলমানদের উচিত চিরশত্রু ইহুদী-নাছারাদের তৈরী বিশ্বব্যাপী জুলুম করার জন্য, মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিরোধিতা করার জন্য এবং বিশ্বব্যাপী ইহুদীদের দখলদারিত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য তাদের তৈরী করা ইহুদীসংঘ (জাতিসংঘ বা টঘ)- এর আনুগত্যতা বাদ দিয়ে নিজেদের জন্য আলাদা ঐক্য বা সংস্থা তৈরী করা, যা নিয়ন্ত্রিত হবে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ (সুন্নাহ শরীফ), পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র কিয়াস শরীফ অনুসারে এবং পরিপূর্ণ সুন্নত মুবারক উনার পাবন্দ, হাক্বীক্বী মু’মিন-মুত্তাক্বী আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিরা এই ঐক্য নিয়ন্ত্রণ করবেন।

মুসলমানদের জন্য উচিত হচ্ছে এবং ফরজ-ওয়াজিব হচ্ছে, জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশনকে কোনো দেশে কার্যক্রম করতে না দেয়া- কোনো মুসলমান দেশে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার কমিশনের (অমানবিকতা ও বর্বরতা কমিশনের) কার্যালয় স্থাপন করতে না দেয়া।

প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বের যেসব দেশ ইহুদীসংঘের (তথাকথিত জাতিসংঘের) সদস্য তারা নিজেদেরকে স্বাধীন বললেও আসলে কোনো দেশই পরিপূর্ণ স্বাধীন নয়। সব দেশই ইহুদীসংঘের মাধ্যমে ইহুদীদের দ্বারা পরোক্ষভাবে শাসিত। কিন্তু মুসলমানদের অধিকাংশই এই বিষয়টা অনুধাবন করতে পারেন না। কারণ তারা শাসন করে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু অধিকার ইত্যাদির আওয়াজ দিয়ে। মুসলমানদের উচিত ইহুদীদের এই ধোঁকা থেকে বের হয়ে আসা।

এই প্রবন্ধটির দলীল-আদিল্লাহসমূহ নিম্নে উল্লেখিত কিতাবসমূহ হতে গ্রহিত হয়েছে-

{(পবিত্র কুরআন শরীফ, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে কাশশাফ, তাফসীরে রাযী (মাফাতিহুল গাইব), তাফসীরে বাগভী (মাআলিমুত তানযীল), তাফসীরে দুররে মানছুর, তাফসীরে শাওকানী (ফাতহুল কাদীর), তাফসীরে সা’দী, তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে ইবনে আব্বাস, তাফসীরে আযিমুশশান, তাফসীরে মুজাহিদ, তাফসীরে ছাবিঈন, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, তাফসীরে আবূ হাইয়ান (আল বাহরুল মুহীত), তাফসীরে আবু সউদ, তাফসীরে নাসাফী, তাফসীরে আস সমরকান্দি (বাহরুল উলুম), তাফসীরে আলুসী (রুহুল মাআনী), তাফসীরে জামি উলুমুল কুরআন, তাফসীরে নূরুল ইরফান, তাফসীরে খাযিন, তাফসীরে ইবনে জারীর, তাফসীরে বায়যাবী, তাফসীরে নূরুল আনওয়ার, তাফসীরে ফি যিলালিল কুরআন, তাফসীরে মারাগী, তাফসীরে ইবনে আতিয়্যা, তাফসীরে আল-জামি ফি আহকামিল কুরআন, তাফসীরে আস সাবুনি, তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন, তাফসীরে জালালাইন শরীফ (সংক্ষিপ্ত), তাফসীরে সাফী, তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, তাফসীরে হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তাফসীরে মাজিদি, আনওয়ারুত তাফসীর, জামিউল ফাওয়ায়েদ, মুসলিম শরীফ, শরহে নববী, মিশকাত শরীফ, মিরকাত, লুম’আত, আশ’আতুল লুমআত, শরহুত ত্বিবী, মুসনাদে বাযযার, সুনানে তিরমিযী শরীফ)} (সংকলিত)

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে (রংপুর বিভাগ) সম্প্রতি একটি সুবিশাল রাম মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে, যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার। এর আগে ঠিক একই এলাকায় একটি বিশাল কৃষ্ণ মূর্তিও উন্মোচন করা হয়েছিল এবং সেখানে আয়োজিত গীতা উৎসবেও উক্ত ভারতীয় কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি দেখা গেছে।
বাংলাদেশে বসবাসকারী মু!শরেকরা তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে—এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, স্থানীয় একটি ধর্মীয় আয়োজনে বারবার বিদেশী দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা কেন প্রয়োজন হচ্ছে?

প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, পলাশবাড়ী হয়তো একটি হি!ন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চল। কিন্তু সরকারি পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দেখায়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পলাশবাড়ী উপজেলার মোট ২,৪৪,৭৯২ জন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ২,২৯,০৩০ জন (৯২.৪৮%) এবং হি!ন্দু ১৫,৬৪০ জন (মাত্র ৬.৪%)। বাকি অংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।

অর্থাৎ, এটি কোনোভাবেই স!না!তন ধর্মাবলম্বী সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা নয়, বরং বেশ কম জনসংখ্যার একটি অঞ্চল।

এই জনমিতির বিপরীতে এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান কিন্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষার মানচিত্রে উত্তরাঞ্চলের এই বিশেষ বেল্টটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত নাজুক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। এমন একটি স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থানে একের পর এক বিশালাকৃতির ধর্মীয় স্থাপনা ও মূর্তি নির্মাণের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থায়নের উৎস ঠিক কী, তা নিয়ে যৌক্তিক সংশয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে, এই সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমীকরণগুলো আমাদের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা কতটা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছেন—তা এখন বড় একটি চিন্তার বিষয়।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৪)

উনারা ছিলেন ২৪ ঘণ্টা উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা এবং উনার যিকির ও মুহব্বত মুবারক-এ গরক্ব:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ ام المؤمنين الثالثة سيدتنا حضرت الصديقة عليها السلام قَالَتْ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقال يا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي وَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَهْلِي وَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ وَلَدِي وَإِنِّي لَأَكُونُ فِي الْبَيْتِ فَأَذْكُرُكَ فَمَا أَصْبِرُ حَتَّى آتِيَكَ فَأَنْظُرَ إِلَيْكَ وَإِذَا ذَكَرْتُ مَوْتِي وَمَوْتَكَ عَرَفْتُ أَنَّكَ إِذَا دَخَلْتَ الْجَنَّةَ رُفِعْتَ مَعَ النَّبِيِّينَ وَإِنْ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ خَشِيتُ أَلَّا أَرَاكَ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى نَزَلَتْ عَلَيْهِ {وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَأُولَئِكَ مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا}

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আমার জীবনের চেয়ে, আমার পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজনের চেয়ে, আমার আল-আওলাদ, সন্তান-সন্ততির চেয়েও বেশি প্রিয়। আমি যতক্ষণ ঘরে থাকি, আপনাকেই স্মরণ মুবারক করি, আপনারই যিকির মুবারকে মশগুল থাকি এবং আপনার সামনে উপস্থিত হয়ে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত আমি অস্থির-বেকারার থাকি। (আপনাকে দেখে আমি ইতমিনান লাভ করি।) আর যখন আমি আমার ইন্তিকালের কথা এবং আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের কথা স্বরণ করি, তখন আমি বুঝতে পারি যে, নিশ্চয়ই আপনি যখন সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করবেন, তখন আপনি হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে অতি উচ্চ স্থানে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক করবেন। (অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকেও অনেক সুউচ্চে অবস্থান মুবারক করবেন।) আমি চিন্তিত হই যে, যদি আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করে আপনাকে দেখতে না পারি!’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব মুবারক দেননি। (অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন,) ‘যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের আনুগত্য মুবারক করেন উনারাই মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁদেরকে নেয়ামত মুবারক দান করেছেন, উনাদের সাথে থাকবেন। আর উনারা হলেন- হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং ছিদ্দীক্ব, শহীদ ও ছালেহ্। উনারা কতোইনা উত্তম সঙ্গী’।” সুবহানাল্লাহ! {সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯ (আদ্ দুররুল মানছূর ২/৫৮৮, তাফসীরে ইবনে কাছীর ২/৩৫৪, তাফসীরুল মানার ৫/২০১, ফাতহুল ক্বাদীর লিশ শাওকানী ২/১৭২, মাহাসিনত তা’বীল, রূহুল মা‘আনী ৩/৭৩, তাফসীরে মাযহারী ১/৮৩৬, তাফসীরুল মুনীর ৫/১৪৫, আত্ তাফসীরুল ওয়াসীত্ব ১/৩৪০, তাফসীরে বাগবী ১/৬৫৯, ফাতহুল বায়ান ফী মাক্বাছিদিল কুরআন /১৭৩, আসবাবুন নুযূল লিল ওয়াহিদী ১/১১১, আল উজাব ফী বায়ানিল আসবাব ২/৯১৪, লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবিন নুযূল লিস সুয়ূত্বী ১/৬৪, আসবাবু নুযূলিল কুরআন ১/১৬৬, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ৩/৩৮৫, শরহুয যারক্বানী ৮/৫০৯, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৪/২৩৯, কিতাবু ছিফাতুল জান্নাহ্ ১/৬, গ¦য়াতুল আমানী ২/১০৭, আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী ১/১৫২, আল মু’জামুছ ছগীর লিত ত্ববারনী ১/৫৩, মিরক্বাতুল মাফাতীহ্ ৮/৩১৩৬, মু’জামুয যাওয়াইদ লিল হাইছামী ৬/৩৬৭, জাম‘উল ফাওয়াইদ ৩/১১৫, ই‘আনাতুত্ ত্বলিবীন ৪/৩৮৫, আদ্ দ্বীনুল খ্বাালিছ ৭/২৫১, হাদিয়ুল আরওয়াহ্ ইলা বিলাদিল আফরাহ্ ১/৮২, রহমাতুল্লিল আলামীন ১/৫৮০ ইত্যাদি)

(অসমাপ্ত)

ইযহারু হাক্বীক্বতিল কুদ্রত আউওয়ালা র্মারাতিন ফী তারীখি খ্বালক্বিল্লাহ্ ‘আলা লিসানি সাইয়্যিদিনা সুলত্বানিন নাছীর মামদূহ্ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলাহ্ আলাইহিস সালাম

(সৃষ্টির ইতিহাসে এই প্রথম সাইয়্যিদুনা সুলত্বানুন নাছীর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নূরুস সালাম মুবারক-এ পবিত্র কুদরত মুবারক উনার হাক্বীক্বত মুবারক প্রকাশ)- ৫০

পবিত্র কুদরত মুবারক উনার কাইফিয়্যাত মুবারক সম্পর্কে কল্পনাতীত বেমেছাল খোদায়ী ইলিম মুবারক বিতরণ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَاللهُ يَـخْتَصُّ بِرَحْـمَتِهٖ مَنْ يَّشَآءُ

“মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত মুবারক দ্বারা খাছ করে নেন।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: ১০৫)

কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে চান, উনাকে খাছ করে এই বুঝগুলো দেন। সবাই বুঝে না এগুলি। বুঝবে না। এটা কোনো দিন বুঝা সম্ভব না।

তারপর যেমন- মুসলিম শরীফসহ আরো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে,

مَا مِنْكُمْ مِنْ اَحَدٍ اِلَّا وَقَدْ وُكِّلَ بِهٖ قَرِيْنُهٗ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِيْنُهٗ مِنَ الْمَلَائِكَةِ قَالُوْا وَاِيَّاكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَاِيَّاىَ وَلٰكِنَّ اللهَ اَعَانَنِىْ عَلَيْهِ فَاَسْلَمَ فَلَا يَاْمُرُنِىْ اِلَّا بِخَيْرٍ

“তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই একটি করে জিন শয়তান এবং একজন করে হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম নিযুক্ত রয়েছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম আরয করলেন, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার সাথেও কি?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ করলেন, ‘হ্যাঁ; আমার সাথেও আছে। তবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করেছেন। সে মুসলমান হয়ে গেছে। ফলে, সে আমাকে ভালো কাজ ছাড়া কোনো হুকুম দেয় না।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

‘মাকতূবাত শরীফ’-এ রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,

اَسْلَمَ شَيْطَانِىْ

“আমার শয়তানটি মুসলমান হয়ে গেছে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! (মাকতূবাত শরীফ ১ম খ- ২৩৪ নং মাকতূবাত)

তাহলে পবিত্র ওহী মুবারক গেলো কোথায়? তাহলে বুঝা যাচ্ছে এই জিনও কথিত ওহী করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অথবা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই জিনের হুকুম মুতাবেক আমল করেছেন ওহী মুবারক ব্যতীত। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে এটা একটি হাক্বীক্বী মওযূ হাদীছ। তাদের বক্তব্য হচ্ছে- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে একটা জিন শয়তান ছিলো। এটা কাফির ছিলো।’ এটা কাফির থাকাকালীন তাহলে কী হুকুম করতো? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! ‘পরে মুসলমান হয়ে গেছে।’ মুসলমান হওয়ার পর কী হুকুম করেছে? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

উনার সাথে একটা কাফির থাকে কিভাবে? হ্যাঁ? কিভাবে থাকে? এটা কেমন হলো? হ্যাঁ? বলে- ‘ছিক্বাহ্ রাবী বর্ণনা করেছে।’ বলো। এটা ব্যাখ্যা দাও। বুঝো কিছু এগুলি? তাহলে কি বুঝো? কিছুই বুঝো না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুশ শিফা মুবারক (ছোট ইস্তেঞ্জা মুবারক), পবিত্র নূরুল গায়িব মুবারক (বড় ইস্তিঞ্জা মুবারক) সবকিছু পবিত্র থেকে পবিত্রতম। আর ভিতরে একটা শয়তান বসে রয়েছে! হ্যাঁ? কেমন হলো এটা? ছিক্বাহ্ রাবী বর্ণনা করেছে। এখন বলো। কয়দিন পরে মুসলমান হয়েছে? তাহলে কয়দিন পরে মুসলমান হলো ঐটা? তাহলে কতদিন ছিলো ঐ কাফিরটা? উনার মধ্যে আবার কাফির থাকে কিভাবে? উনি তো নূর মুবারক। এখানে কাফির প্রবেশ করে কিভাবে? হ্যাঁ? তাহলে মানুষ কি বুঝলো? আমার বলার বিষয় হলো এটা। মানুষ কেউ কিছুই বুঝেনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান মুবারক কিছুই বুঝেনি। একদম বকলম। বললে শুনতে খারাপ শুনা যায়। বলে- ‘আপনি কী বলেন এগুলি?’ এটাই ঠিক আছে। একটা মানুষের সাথে শয়তান থাকতে পারে, একটা উম্মতের সাথে থাকতে পারে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে থাকে কিভাবে?

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র করার মত পবিত্র করে পবিত্র নূরুল ইযহার মুবারক (সৃষ্টি মুবারক) করেছেন। এখন পবিত্র বললে তো শব্দটা কম হয়। তাহলে উনার মাঝে নাপাকীর স্পর্শ থাকে কোথায়? যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামান্য পবিত্র নূরুত তাবাররুক মুবারক (স্পর্শ মুবারক) উনার কারণে একটা ধুলা-বালি হোক বা যেটাই হোক, সেটা পবিত্র আরশে আযীম থেকে সম্মানিত হয়ে যান, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভিতরে একটা শয়তান থাকে কিভাবে? এই জন্যই তো তারা লিখেছে যে, ‘পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার সময় ভিতর থেকে নাপাকীটা ফেলে দিয়েছে।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

وَمِنْهُ شُرْبُ حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ دَمَهٗ يَـوْمَ اُحُدٍ وَمَصُّهٗ اِيَّاهُ وَتَسْوِيْـغُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ ذٰلِكَ لَهٗ وَقَـوْلُهٗ لَهٗ لَنْ تُصِيْـبَهُ النَّارُ

অর্থাৎ উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল ইস্তিক্বামত মুবারক (জিহাদে আহত হওয়া শান মুবারক) প্রকাশ করার পর হযরত মালিক বিন সিনান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার জিহ্বা মুবারক দিয়ে চুষে চুষে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুন নাজাত মুবারক (রক্ত মুবারক) পান করেন, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত মালিক বিন সিনান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন-

لَنْ تُصِيْـبَهُ النَّارُ

‘উনাকে কখনো দোযখের আগুন স্পর্শ করবে না।’ সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরাকে হাকিম ৩/৬৩৮, মা’রিফতুছ ছাহাবা লি আবী না‘ঈম ১১/৪৬৮, দারু কুতনী ১/২২৮)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ অবস্থান মুবারক

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ كَانَ مَعِىَ فِـى الْـجَنَّةِ

অর্থ: “যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করবেন, তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে আমার সাথে অবস্থান মুবারক করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে সম্মান করার একটি বিশেষ মাধ্যম হচ্ছেন- খরচ করা। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং কেউ যদি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনাকে তা’যীম-তাকরীম মুবারক করেন, সম্মান করেন, উনার সম্মানার্থে খরচ করেন, তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে অবস্থান মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (৫)

উনারা ছিলেন ২৪ ঘণ্টা উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা এবং উনার যিকির ও মুহব্বত মুবারক-এ গরক্ব:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَن حضرت ابْن عَبَّاس رضى الله تعالى عنه أَن رجلا أَتَى النَّبِي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي أحبك حَتَّى أذكرك فلولا أَنِّي أجيء فَأنْظر إِلَيْك ظَنَنْت أَن نَفسِي تخرج وأذكر أَنِّي إِن دخلت الْجنَّة صرت دُونك فِي الْمنزلَة فَيشق عليَّ وَأحب أَن أكون مَعَك فِي الدرجَة فَلم يرد عَلَيْهِ شَيْئا فَأنْزل الله {وَمن يطع الله وَالرَّسُول} الْآيَة فَدَعَاهُ رَسُول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَلَاهَا عَلَيْهِ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এত বেশি মুহব্বত মুবারক করি যে, আমি সর্বদা আপনাকেই স্মরণ মুবারক করতে থাকি। যদি আমি (আপনার নিকট) এসে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভ না করি, তাহলে আমার কাছে মনে হয়ে যেন আমার জান বের হয়ে যাচ্ছে। আর আমি মনে করি যে, যদি আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করি, তাহলে নির্দিষ্ট একটি মনযিলে অবস্থান করবো, যেখানে আপনি থাকবেন না। এটা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমি পছন্দ করি যে, আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ একই স্থান মুবারক-এ যদি আমি থাকতে পারতাম!’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিছু না বলে চুপ থাকেন। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল করেন, ‘যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের আনুগত্য মুবারক করেন (উনারাই মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁদেরকে নেয়ামত মুবারক দান করেছেন, উনাদের সাথে থাকবেন। আর উনারা হলেন- হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং ছিদ্দীক্ব, শহীদ ও ছালেহ্। উনারা কতইনা উত্তম সঙ্গী)’। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৯) অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে ডেকে এনে উনার নিকট সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা তিলাওয়াত মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আদ দুররুল মানছূর ২/৫৮৮)

(অসমাপ্ত)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা আমাকে মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করুন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক। কাজেই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, প্রতিদিন অন্তত একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে পাঠ করা।

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মুবাশশিরাও ওয়া নাযীরা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হায়াতুন নবী, শাহিদুন্ নবী, মুত্বালা’ আলাল গইব, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে লোক সকল! আমি কে? সবাই বললেন, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনারা আমাকে মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করুন। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা বললেন, সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব আলাইহিস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইসমাঈল ইবনে রাফি’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের থেকে বর্ণিত। উনারা বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আপনারা আমাকে মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করুন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (নিজেই) ইরশাদ মুবারক করেন, আমি হচ্ছি মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্ত্বালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদে মানাফ ইবনে কুছাই ইবনে কিলাব ইবনে র্মুরাহ ইবনে কা’ব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহ্র ইবনে মালিক ইবনে নদ্বর ইবনে কিনানাহ্ ইবনে খুযাইমাহ্ ইবনে মুদ্রিকাহ্ ইবনে ইলইয়াস ইবনে মুদ্বর ইবনে নিযার ইবনে মা‘আদ্দ ইবনে ‘আদনান আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এই পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “আপনারা আমাকে মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবমাহ মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত করুন।” অর্থাৎ আপনারা আমার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবমাহ মুবারক পাঠ করুন। এখানে আদেশ মুবারক করা হয়েছে। আর পবিত্র হাদীছ শরীফে যা আদেশ মুবারক করা হয়, তা উম্মতের জন্য ফরয-ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত হয়।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক সম্পর্কে ইলম অর্জন করা বা জানা এবং তা নিয়মিত পাঠ করা উম্মতের জন্য ফরযে আইন। কেননা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক পাঠের মাধ্যমে অন্তরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত, মা’রিফাত, তায়াল্লুক্ব, নিসবত, ক্বুরবত, যিয়ারত নসীব হবে। ফলে দুনিয়ার মুহব্বত দূর হবে, বিপদ-আপদ ও বালা-মুছিবত দূর হবে, বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ রোগ দূর হবে, রিযিকে বরকত হবে, মৃত্যৃর সময় ঈমান নসীব হবে। এমনকি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক পাঠকারীর উপর থেকে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই খাদ্যাভাব, মহামারি, অগ্নিকা-, ডুবে মরা, বালা-মুছিবত, হিংসা-বিদ্বেষ, কু-দৃষ্টি, চুরি ইত্যাদি উঠিয়ে নেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার দিক হতে পবিত্র নসবনামাহ মুবারক হলো- ১. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২. উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনাহ আলাইহাস সালাম ৩. সাইয়্যিদুনা হযরত ওয়াহাব আলাইহিস সালাম ৪. সাইয়্যিদুনা হযরত আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম ৫. সাইয়্যিদুনা হযরত যুহরা আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার দিক হতে পবিত্র নসবনামাহ মুবারক হলো- ১. হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ২. আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম ৩. সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম ৪. সাইয়্যিদুনা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম ৫.সাইয়্যিদুনা হযরত আবদে মানাফ আলাইহিস সালাম ৬.সাইয়্যিদুনা হযরত কুসাই আলাইহিস সালাম ৭. সাইয়্যিদুনা হযরত কিলাব আলাইহিস সালাম। ৮. সাইয়্যিদুনা হযরত র্মুরাহ আলাইহিস সালাম ৯. সাইয়্যিদুনা হযরত কা’ব আলাইহিস সালাম ১০. সাইয়্যিদুনা হযরত লুআই আলাইহিস সালাম ১১. সাইয়্যিদুনা হযরত গ¦ালিব আলাইহিস সালাম ১২. সাইয়্যিদুনা হযরত ফিহ্র আলাইহিস সালাম ১৩. সাইয়্যিদুনা হযরত মালিক আলাইহিস সালাম ১৪. সাইয়্যিদুনা হযরত নদ্বর আলাইহিস সালাম ১৫. সাইয়্যিদুনা হযরত কিনানাহ্ আলাইহিস সালাম ১৬. সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম ১৭. সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্রিকাহ আলাইহিস সালাম ১৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইলইয়াস আলাইহিস সালাম ১৯. সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বর আলাইহিস সালাম ২০. সাইয়্যিদুনা হযরত নিযার আলাইহিস সালাম ২১. সাইয়্যিদুনা হযরত মা‘আদ্দ আলাইহিস সালাম ২২. সাইয়্যিদুনা হযরত ‘আদ্নান আলাইহিস সালাম।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নসবনামাহ মুবারক দৈনিক পাঠ করা সকলের জন্য আবশ্যক। কাজেই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, প্রতিদিন অন্তত একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় পবিত্র নসবনামাহ মুবারক অত্যন্ত মুহব্বত ও তা’যীম-তাকরীমের সাথে পাঠ করা।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল-মুহব্বত বা বন্ধুত্ব রাখবে সে ব্যক্তি সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।’ নাউযুবিল্লাহ!

মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- মুসলমানদের জন্য কোনো অবস্থাতেই বিধর্মীদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা, তাদের সাথে মিল-মুহব্বত রাখা, বন্ধুত্ব করা জায়িয নেই বরং কাট্টা হারাম ও কুফরী। তাই সকল মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে, প্রত্যেক অবস্থায় এবং দায়িমীভাবে সমস্ত বিধর্মীদের সর্বপ্রকার নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা থেকে আন্তরিকভাবে দূরে থাকা।

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা ইহুদী-নাছারা তথা বিধর্মীদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একজন আরেকজনের বন্ধু। মু’মিনদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিধর্মীদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে সে তাদের দলভুক্ত বলেই গণ্য হবে।’ এ পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মুসলমানদের জন্য কোনো অবস্থাতেই কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন তথা বিধর্মীদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা, মিল-মুহব্বত রাখা, বন্ধুত্ব করা জায়িয নেই বরং কাট্টা হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। যারা মহাসম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আদেশ মুবারক লঙ্ঘন করে কাফির-মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তাদের সাথে মিল-মুহব্বত রাখবে তাদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করবে। তারা খোদায়ী গযবে পরে হালাক হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত নবী হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস্ সালাম উনার উপর পবিত্র ওহী মুবারক নাযিল করলেন, ‘হে আমার নবী! আপনার উম্মতের মধ্যে ১ লক্ষ লোককে ধ্বংস করে দেয়া হবে, তাদের মধ্যে ৬০ হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত (গুমরাহ)। তখন হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস্ সালাম তিনি বললেন, ‘আয় মহান আল্লাহ পাক! ৬০ হাজার লোক সরাসরি গুণাহে লিপ্ত তাই তারা ধ্বংস হওয়ার উপযুক্ত। কিন্তু বাকী ৪০ হাজার লোককে ধ্বংস করা হবে তার কি কারণ?” তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, “যেহেতু তারা ঐ গুণাহে লিপ্ত লোকদের সাথে মিল-মুহব্বত রাখে ও উঠা-বসা করে এবং তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তাদেরকে গুণাহের কাজে বাধা দেয় না, তাই তাদেরকেসহ ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং ধ্বংস করে দেয়া হলো।” নাউযুবিল্লাহ! এখন প্রশ্ন হচ্ছে- গুনাহগার বা নাফরমানদের সাথে উঠা-বসা করলে ও মিল-মুহব্বত রাখলে যদি খোদায়ী গযবে পড়ে হালাক বা ধ্বংস হয়ে যেতে হয়, তবে যারা সরাসরি কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীনদের সাথে উঠা-বসা ও মিল-মুহব্বত রাখবে এবং অনুসরণ-অনুকরণ করবে তাহলে তাদের ফায়ছালা কি হবে? মূলত তাদের পরিণতি আরো কঠিন হবে। নাউযুবিল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- মুসলমানদের জন্য কোনো অবস্থাতেই কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদদ্বীন তথা বিধর্মীদেরকে অনুসরণ-অনুকরণ করা, তাদের সাথে মিল-মুহব্বত রাখা, বন্ধুত্ব করা জায়িয নেই বরং কাট্টা হারাম ও কুফরী। যা পরিণতিতে খোদায়ী গযবে পরে হালাক বা ধ্বংস হওয়ার কারণ। কাজেই সকল মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে, খোদায়ী গযব থেকে বাঁচতে হলে প্রত্যেক অবস্থায় এবং দায়িমীভাবে কাফির-মুশরিক তথা সমস্ত বিধর্মীদের থেকে আন্তরিকভাবে দূরে থাকা। কারণ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল-মুহব্বত বা বন্ধুত্ব রাখবে সে ব্যক্তি সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।’

সুমধুর কন্ঠে পবিত্র মীলাদ শরীফ || হাফিয মুহম্মদ জাহিদ রেযা।