উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কারামত মুবারক
পিরোজপুরের রিনা আপা ১৪৪০ হিজরী সনের সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ মাসে ১২ ই শরীফ পালন করার জন্য পবিত্র দরবার শরীফে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে আসেন। তখন উক্ত পীরবোন অনেক সমস্যার সম্মুখীন ছিলেন। যেমন, আহালের আয়-রোজগান সংর্কীণতা, ছেলেদের পড়াশুনাসহ অন্যান্য বিষয়ে সমস্যা আর সবচেয়ে বড় সমস্যা যা ছিল তা হল, একমাত্র মেয়ের সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কারণ হিসেবে উক্ত পীরবোন জানান যে, এই ছেলে প্রায় ৫ বছর ঘুরে উনার মেয়েকে রাজি করিয়ে বিয়ে করে কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই সে অন্য মেয়ের পাল্লায় পড়ে উনার মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করতে থাকে এবং তার প্রতি অবহেলা শুরু করে। এভাবে সংসায়ে অশান্তি ও ফিতনা-ফাসাদ হওয়ার কারণে সংসার ভেঙ্গে যাবে এমন কঠিন অবস্থায় উক্ত পীরবোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিকট বিষয় সমূহ জানিয়ে দোয়া মুবারক নেওয়ার জন্য উনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান। বলাবাহুল্য, বিশেষ সময়ে খাছ করে সাইয়্যিদুশ শুহর শরীফ তথা পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাসের ১২ তারিখ অর্থাৎ সম্মানিত ১২ ই শরীফ উনার আগের ও পরের কয়েকদিন ঢাকার বাইরের দূরদূরান্ত থেকে অনেক মানুষ আসার কারণে পবিত্র দরবার শরীফে উপচে পড়া ভিড় থাকে। যে কারণে তখন ফু মুবারক নেয়া ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে আলাদা ভাবে সাক্ষাৎ মুবারক করা সম্ভব হয় না। এখানে বলে রাখা ভালো কেউ যদি আলাদা করে কথা বলতে চান, তাহলে তিনি যদি ভিড়ের মধ্যে না এসে অন্য সময় আসেন তাহলেই সাক্ষাৎ মুবারক পাওয়া সহজ এবং সম্ভব হবে। তাই উক্ত পীরবোন তিনি সাক্ষাৎ মুবারক করতে না পেরে পবিত্র দরবার শরীফে অবস্থানরত এক পীরবোনকে জানান বিষয়টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে বলে দোয়া মুবারক চাওয়ার জন্য।সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিকট বিষয়টি খুলে বলার পর তিনি দোয়া মুবারক করেন। এ বছর অর্থাৎ ১৪৪১ হিজরী সনে তখন উক্ত পীর বোন পবিত্র দরবার শরীফে আসেন তখন তিনি জানান, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসিলাই এবং উনার সুমহান সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি খাস ভাবে রহমত মুবারক করেছেন যার কারণে উনার মেয়ের সাথে মেয়ের আহালের সমস্যা মিটে গিয়ে তাদের মধ্যে মহব্বত পয়দা হয়েছে এমনকি তাদের কোল জুড়ে ফুটফুটে একটা ছেলে সন্তান এসেছে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার দোয়া মুবারকের কারণে উক্ত পীর বোনের মেয়ের সংসারে শান্তি ফিরে এসেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে আমাদের মাঝে এক মহান মা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি সকলের জন্য মায়ের মত দোয়া করে থাকেন। মায়ের দোয়া সন্তানের জন্য একনিয়ামত স্বরূপ। মহান আল্লাহপাক তিনি উনাকে আমাদের মাঝে নিয়ামত দাতা হিসেবে প্রেরণ করে আমাদেরকে ধন্য করেছেন। এভাবেই তিনি মায়ের মত সকলের সমস্ত ফরিয়াদ শ্রবণ করেন এবং দোয়া মুবারক দ্বারা সকলের সকল দুঃখ, কষ্ট দূর করেন। সুবহানাল্লাহ!সুবহানা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لم يعلمني حقيقة غير ربي
অর্থ- আমার হাক্বীক্বত আমার রব ছাড়া কেউ জানেনা। সুবহানাল্লাহ্!!
(শরহুল ফাতহুল গইব ১ম খন্ড ৩৪০পৃষ্ঠা)
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَوَاحِلِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ النَّبِيِّ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه
অর্থ: আমরা যখন মদীনা শরীফ উনার মধ্যে আগমন মুবারক করতাম, তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেদের সওয়ারী থেকে নেমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (পবিত্র হাত মুবারকে) এবং নূরুদ দারাজাত মুবারকে (পবিত্র ক্বদম মুবারকে) বুছা দিতাম। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুছ ছাহাবাহ্, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শরহুস সুন্নাহ্, শু‘আবুল ঈমান, ইত্যাদি)
পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররমুল হারাম শরীফ উনার কতিপয় বৈশিষ্ট্য ঃ
১। পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসটি চারটি হারাম বা পবিত্র মাসের মধ্যে অন্যতম মাস।
২। এ মাসটি বিশেষভাবে সম্মানিত ।
৩। পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনটি পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাসের দশ তারিখ বলে এর নাম পবিত্র আশূরা শরীফ হয়েছে।
৪। অন্য রেওয়ায়েত মতে, উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে দশটি বুযূর্গ দিন উপহার দেয়া হয়েছে উনার মধ্যে পবিত্র আশূরা শরীফ দিনটি দশম স্থানীয় । এ কারণেই নাম পবিত্র আশূরা শরীফ রাখা হয়েছে।
৫। আবার কারও কারও মতে, এ দিনটিতে যেহেতু মহান আল্লাহ পাক তিনি স¦ীয় দশজন নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে দশটি ভিন্ন ভিন্ন রহমত বর্ষণ করেছেন, তাই নাম পবিত্র আশূরা শরীফ হয়েছে।
৬। বিশেষ বিশেষ সৃষ্টি এই দিনেই করা হয় এবং বিশেষ বিশেষ ঘটনা এই দিনেই সংঘটিত হয়।
৭. এই দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন এবং সৃষ্টির সমাপ্তি বা ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে এই দিনে।
৮. আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুরু করে প্রথম নবী ও রসূল হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত প্রায় সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোনো না কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা এই দিনে সংঘটিত হয়েছে।
৯. এই দিনেই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মর্যাদা, সম্মান ও খুছুছিয়ত ও হাবীবুল্লাহ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে পবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মানিত করা হয়।
১০. এই দিন সাইয়্যিদুনা হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দোয়া কবুল করা হয় এবং উনার ইছমত ঘোষণা করা হয়।
১১. এই দিনে মহান আল্লাহ পাক রব তা’য়ালা তিনি হযরত ইদরীস আলাইহ্সি সালাম উনাকে সম্মানিত উঁচ্চ স্থানে/আকাশে তুলে নেন ।
১২. এই দিনে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত নূহ আলাইহ্সি সালাম উনার নৌকা বা কিস্তি মুবারককে জুদী পাহাড় মুবারকে ভিড়িয়েছিলেন।
১৩. এই দিনে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বিলাদত শরীফ হয় এবং এই দিনে উনাকে খলীল উপাধি প্রদান করা হয় এবং উনাকে নমরূদের অগ্নিকা- থেকে বের করে আনা হয়। অর্থাৎ হিফাযত করা হয়।
১৪. এই দিন হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনার ইছমত ঘোষণা করে মর্যাদা বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়, দোয়া কবুল করা হয় এবং উনার আওলাদ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ব প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়।
১৫. এই দিনে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম তিনি মারিদ্বী শান মুবারক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিহহাতী শান প্রকাশ করেন।
১৬. এই দিনে হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক তিনি কথা বলেছিলেন এবং পবিত্র তাওরাত শরীফ নাযিল করেছিলেন। এই দিনেই হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও উনার সম্প্রদায় লোহিত সাগর পার হয়েছিলেন এবং ফিরাঊনকে সদলবলে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিলেন ।
১৭. এই দিনে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম তিনি মাছ সম্প্রদায়কে সুস্থতা দান করে পুনরায় যমীনে তাশরীফ মুবারক এনেছেন।
১৮. এই দিনে হযরত ঈসা রূহিল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দোয়ার প্রেক্ষিতে উনাকে আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়।
১৯. এই দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়া সৃষ্টি করেন এবং এই দিনেই সৃষ্টির সমাপ্তি বা ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
২০. এই দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম যমীনে বৃষ্টি নাযিল করেন।
২১. এই দিনেই হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি রহমতসহ সর্বপ্রথম যমীনে নাযিল হন।
২২. আর এই দিনেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম পৃথিবীতে রহমত বর্ষণ করেন।
সঙ্গতকারণেই এ দিনটি সবার জন্য এক মহান আনুষ্ঠানিকতার দিন, রহমত, বরকত, সাকীনা, ফযীলত ও মাগফিরাত হাছিল করার দিন।
সুবহানাল্লাহ্!!
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَوَاحِلِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ النَّبِيِّ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه
অর্থ: আমরা যখন মদীনা শরীফ উনার মধ্যে আগমন মুবারক করতাম, তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেদের সওয়ারী থেকে নেমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (পবিত্র হাত মুবারকে) এবং নূরুদ দারাজাত মুবারকে (পবিত্র ক্বদম মুবারকে) বুছা দিতাম। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুছ ছাহাবাহ্, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শরহুস সুন্নাহ্, শু‘আবুল ঈমান, ইত্যাদি)
সম্মানিত হযরত ইমাম পরিবার আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অবরোধ ও ফোরাত নদীর পানি পান করতে বাধা প্রদান
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাহিনীকে সরাসরি জানিয়ে দিলেন যে, “তোমাদের পক্ষ থেকে যে ব্যবস্থাই তোমরা নাও না কেন আমি কিছুতেই ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবো না এবং করতে পারিনা” তখন ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনীর মনোভাব এত জঘন্য রূপ ধারণ করলো যে, তারা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও উনার প্রিয়জন উনাদের জন্য ফোরাত নদীর পানি বন্ধ করে দিলো। নাঊযুবিল্লাহ! সেদিন ছিল ৭ই মুহররমুল হারাম ৬১ হিজরী।
ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাহিনী প্রায় চার হাজার সৈন্য ফোরাত নদীর তীরে নিয়োজিত করলো। এদের মধ্যে দুই হাজার ছিল ‘স্থল বাহিনী’ আর দুই হাজার ছিল ‘অশ্বারোহী’। তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, উনাদেরকে যেন এক ফোঁটা পানিও নিতে দেয়া না হয়। সে নির্দেশ অনুযায়ী উনাদের জন্য তারা পানি বন্ধ করে দিলো। নাঊযুবিল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরাশিজন সঙ্গী-সাথী উনাদের মধ্যে দুগ্ধপোষ্য শিশু ছিলেন এবং পর্দানশীন সম্মানিত মহিলা উনারাও ছিলেন। তিনি শুনে আরো আশ্চর্য হয়ে গেলেন যে, উনাদের মোকাবিলা করার জন্য বাইশ হাজার সৈন্য এসেছে। কী আশ্চর্য! বিরাশিজনের মোকাবিলায় বাইশ হাজার সৈন্য! আবার এই বিরাশিজনের মধ্যে শিশু ও মহিলা উনারা রয়েছেন। অথচ উনাদের মোকাবিলায় যে বাইশ হাজার সৈন্য তারা সবাই যুবক এবং তারা সকল প্রকারের অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে এসেছে। এরপরও তারা পানি বন্ধ করে দিলো। কারণ তাদের ধারণা হলো যে, উনারা যদি পানি পান করে জিহাদ করেন, তাহলে তারা ২২ হাজার হয়েও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাই পানি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটা যুলূমের উপর যুলুম ছিল।
আফসুস! ওই সব যালিমদের জন্য, যারা এমন এক সুমহান ব্যক্তি এবং উনার সম্মানিত পরিবার-প্রিয়জন উনাদের জন্যে পানি বন্ধ করে দিলো, যিনি হচ্ছেন সাকিয়ে কাওছার, শাফিয়ে মাহশার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অত্যন্ত আদরের নাতী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
ওই কুখ্যাত ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহির বাহিনীর প্রধান নির্দেশ দিয়েছিল যে, “মানুষ, জীব-জন্তু, গরু-ছাগল, পশু-পাখি, বিধর্মী সবাই এই ফোরাত নদীর পানি পান করবে, তোমরা বাধা দিও না। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পানি পান করতে দিয়ো না।” নাঊযুবিল্লাহ! যেই ফোরাত নদীর পানি সবারই পান করার অনুমতি ছিল, জীব-জন্তু, পশু-পাখি কারো জন্য বাধা ছিল না। কিন্তু সাকিয়ে কাওছার, শাফিয়ে মাহশার, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অতিপ্রিয় সম্মানিত নাতী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সেই ‘ফোরাত নদীর’ পানি পান করা থেকে বাধা দিলো। নাঊযুবিল্লাহ!
-০-
কদমবুছী করা খাছ সুন্নত মুবারক
لَمَّا قَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَجَعَلْنَا نَتَبَادَرُ مِنْ رَوَاحِلِنَا فَنُقَبِّلُ يَدَ النَّبِيِّ صَلَّـى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرِجْلَه
অর্থ: আমরা যখন মদীনা শরীফ উনার মধ্যে আগমন মুবারক করতাম, তখন তাড়াতাড়ি করে নিজেদের সওয়ারী থেকে নেমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে (পবিত্র হাত মুবারকে) এবং নূরুদ দারাজাত মুবারকে (পবিত্র ক্বদম মুবারকে) বুছা দিতাম। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাউদ শরীফ, মু’জামুছ ছাহাবাহ্, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী, শরহুস সুন্নাহ্, শু‘আবুল ঈমান, ইত্যাদি)
পুরো পৃথিবী খুঁজলেও আমাদের মতো এমন "হুজুগে ও আত্মঘাতী" উন্মাদনা আর কোনো দেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না! 🇧🇩🤦♂️
আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের নিজেদের দেশের মানুষও বিশ্বকাপের সময় এত টাকা খরচ করে মাইলের পর মাইল বড় পতাকা বানায় না, যা আমাদের দেশের মানুষ নিজের খেয়ে, ধার-দেনা করে বানায়। তাদের কাছে খেলাটা শুধুই বিনোদন, কিন্তু আমাদের এখানে এটা এক ধরণের অন্ধ প্রতিযোগিতা।
নিজের ঘরের চাল দিয়ে হয়তো পানি পড়ে, পকেটে ঋণের বোঝা নিয়ে মাথা ঘোরে—অথচ বাড়ির ছাদের ওপর ওড়ে ভিনদেশের লাখ টাকার পতাকা! যে দলগুলোর জন্য আমরা এখানে মারামারি করছি, টাকা ওড়াচ্ছি, তারা আমাদের এই পাগলামির খবরও রাখে না।
অন্য দেশের মানুষ বিনোদন আর বাস্তবতার পার্থক্য বোঝে, তারা নিজের দেশের আত্মমর্যাদা সবার উপরে রাখে। আর আমরা নিজের দেশের ফুটবলের করুণ দশা ভুলে, ভিনদেশের প্রেমে পকেটের টাকা দেদারসে অপচয় করছি।
বিনোদন ততটুকুই ভালো যা নিজের বা পরিবারের ক্ষতি করে না। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আর সস্তা আবেগে অন্ধ হওয়া বন্ধ হোক। আসুন, একটু সচেতন হই, বাস্তবতাকে চিনতে শিখি।
#বাস্তবতা #হুজুগেবাঙালি #অপচয় #বিবেকবানহোন #সামাজিকসচেতনতা