মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বদলে ও বেমেছাল রোবের উসীলায় খোদায়ী গযব ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ। নিহত হয়েছে অসংখ্য

image

মহাপবিত্র ও মহাসম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ আসতে আর মাত্র ১ দিন বাকি।

image

image

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কদম মুবারকে যখন প্রথমবার আসলাম তখন জানতাম না আমার মত এই আদনা অযোগ্যের নসীব যে উনারই বরকতময় হাতে। একটা মেয়ের শিক্ষাজীবন শেষে তাকে নেককার ও উপযুক্ত পাত্রের হাতে পাত্রস্থ করা বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন দায়িত্ব। অনেক জটিলতা থাকা সত্বেও আমার জন্য সেই দায়িত্বটাই নিয়েছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। আজ তা মনে করে চোখ ভরে আসে অশ্রুতে!

আমার পরিবার সেসময়ে সঠিক সমঝের অভাবে দরবার শরীফের সিলসিলাভুক্ত কারো সাথে আমার বিয়ে দিতে রাজি ছিল না। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কি চান উনার সন্তানকে বদ নসীবের দিকে ছেড়ে দিতে? তাই আমার আহালের পরিবার আমাকে পছন্দ করার পর আমার পরিবার থেকে শত বাধার মুখেও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি অবিচল ছিলেন। আজকের এই স্বার্থের দুনিয়ায় কে কাকে এক বিন্দু উপকার করে! কিন্তু তিনি যে সাধারণ কেউ নন সেটাই আমি বলতে চাই।

শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার উসীলায় অবশেষে আমার ফ্যামিলির সবাই বিয়েতে রাজি হলো। ২০০৫ সালের ২২শে মে, ১৩ই রবীউস সানী সাবতি (শনিবার) রাতে বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করা হলো। বিয়ের আগের রাতে সুন্নতি মেহেদী সন্ধ্যার অনুষ্ঠান! বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার প্রথম ধাপ হলো মেহেদী সন্ধ্যা। এ অনুষ্ঠানই সবচেয়ে বেশি জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে থাকে। যাই হোক, গায়ে হলুদ বলে কথা। সবাই তো একে অন্যকে হলুদ মাখিয়ে দিচ্ছিলো কিন্তু আমার মুখে হলুদের প্রথম ছোঁয়া ছিল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার হাত মুবারকের। গায়ে হলুদ লাগানো শেষে গোসলের পালা। তিনিই বললেন চুল সিল্কি হওয়ার জন্য ডিম ভেঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে মাথায় দিতে। আহা! কি আনন্দ! এমন যত্ন বহুদিন পাইনি। এরপর হলুদ সাজ, মেহেদী লাগানো আরো কত কি! সেবার মেহেদী অনুষ্ঠানে সর্বপ্রথম তাশরীফ নিলেন দুই শাহযাদী, অবুঝ আমি উচ্ছ্বসিত মনে কাঁচা ফুলের স্টিক উনাদেরকে হাদীয়া দিলাম। উনারাও তা সাদরে গ্রহণ করলেন। সেদিনের মত শেষ হল আমার চিরস্মরণীয় জাঁকজমকপূর্ণ হলুদ অনুষ্ঠান।

পরের দিন রাতে (ইয়াওমুল ইসনাইনিল আযীম শরীফ) বিয়ে। বিয়ের যে আয়োজন তা আমার পরিস্থিতি থেকে আশা করা অসম্ভব ছিল। সম্ভব হয়েছে শুধুই আমার প্রানপ্রিয় শায়েখ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের জন্যই। আয়োজনের শত ব্যস্ততার মাঝেও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি নিজ পবিত্র হাত মুবারকে আমাকে কনে সাজিয়েছিলেন। উনার দেয়া সাজে আমার চেহারার গঠনে অন্যরকম একটা স্নিগ্ধতা ফুটে উঠলো!

আমার বিয়েতেই প্রথম মহাপবিত্র সুন্নতী মসজিদ এবং দরবার শরীফ ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল। পুরুষ-মহিলার জন্য পর্দার মধ্যে আড়ম্বর অনুষ্ঠান করা এই যুগে খুব সহজ নয়, আর আমার বিয়ে হিসেবে এ ছিল এক 'চ্যালেঞ্জ'। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমার আত্মীয়-স্বজনরা তাদের গতানুগতিক ভাবনা নিয়ে পবিত্র দরবার শরীফে এসেছিলো। ভেবেছিল যে, 'হুযূরদের আবার কিইবা আয়োজন! সাদামাটা বিশেষত্বহীন কন্যাদান' কিন্তু বিয়েতে উপস্থিত হয়ে সবাই তো হতবাক!!! ছবি তোলা, ভিডিও করা, বেপর্দা হওয়া, গানবাজনা, নর্তন-কুর্দন ছাড়াও যে জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে তা তাদের ধারণার বাহিরে ছিলো। যারা জীবনে কখনো পর্দা করেনি তারা এখানে আসার পর যতটুকু সময় ছিলো ইচ্ছায় অনিচ্ছায় পর্দার মধ্যে অবস্থান করেছে! তাদের কাছে আরো একটি বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, একজন আল্লাহওয়ালী, পর্দানশীন মহিলা উনার পক্ষে এমন আয়োজন করাও কি সম্ভব! আত্মীয়দের মধ্যে এরকম অবমূল্যায়ন কারীদের সংখ্যা কম ছিল না। এরকমই একজন, বিয়ের অনুষ্ঠানে পরার উপযোগী পোশাক না পরে একেবারে প্রায় ঘরোয়া পোশাকে চলে এসেছিল। তারপর অনুষ্ঠানের জাঁকজমক সুন্নতী আয়োজন দেখে সে যারপরনাই লজ্জিত হয়ে পড়ে, যার কারণে সে বোরকাই খুলেনি, দ্রুত অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে গিয়েছিলো।

একটি কথা এখন প্রায়ই মনে হয়। সাজানোর সময় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমার কানে দুল পরিয়ে দেয়ার সময় দুলটি হাত মুবারকে নিয়ে হাসিমাখা চেহারা মুবারকে বলেছিলেন, "তুমি অনেক বড় কপাল নিয়ে এসেছো...." এখনো যেন কান পাতলেই শুনতে পাই সেই কথা মুবারক! সেই মহামূল্যবান কথা আমি তখন বুঝে উঠিনি কিন্তু আজ যখন উনার মুবারক উসীলায় সাংসারিক জীবনে অনেক অনেক ভালো আছি তখন সেই কথারই স্মরণ করি আর অন্তর দিয়ে অনুধাবন করি, তিনি আমাকে কি অমূল্য নিয়ামত মুবারকই না দিয়েছেন!

- সাইয়্যিদাহ ফাতিমা আহমাদ পলি

image

1 h

২১শে জুমাদাল ঊলা শরীফ
উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
----------------------------------------
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
উনাকে উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম বলে সম্মোধন মুবারক করতেন। অর্থাৎ তিনি উনাকে বলতেন।
উম্মী বা'দা উম্মী
আপনি আমার মায়ের পরে মা। সুবহানাল্লাহ।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন, সেই সুমহান ব্যক্তিত্বা মুবারক ।
যিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান উনার
বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর থেকে, সুদির্ঘ সময়ব্যাপী প্রায় একাধারে ৪২ বছর
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিয়েছেন।
সুবহানাল্লাহ।

উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত
ফাত্বিমাহ আলাইহাস সালাম।

তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ২০ বছর পূর্বে , ২৭ শে রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ।

তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত
জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম উনার আপন ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত আসাদ ইবনে হাশিম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা মেয়ে। অর্থাৎ খাজা আবু ত্বালিব আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি
অর্থাৎ উনারা উভয়ে ছিলেন আপন চাচাতো ভাই বোন।
তিনি পিতার দিক থেকে ২য় পূরুষ আর মাতার দিক থেকে ৮ম পূরুষে যেয়ে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মিলিত হয়েছেন।

এবং তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর মহিলাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন।

উনার আওলাদ হচ্ছেন ৭ জন। ৪ জন আবনা অর্থাৎ ছেলে। আর ৩ জন বানাত অর্থাৎ মেয়ে। তার মধ্যে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি একজন।
অর্থাৎ তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান। সুবহানাল্লাহ।

তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন,
৬ষ্ঠ হিজরী শরীফ উনার ২১ শে জুমাদাল ঊলা শরীফ।
ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ। অর্থাৎ সোমবার শরীফে।
উনার রওযা শরীফ জান্নাতুল বাকী শরীফে অবস্থিত। সুবহানাল্লাহ।
------------------------------------

এখন উনার খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট ফযিলত মুবারক বেমেছাল।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই উনাকে সম্মোধন করে ইরশাদ মুবারক করেন,
হে আমার মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহাস সালাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার প্রতি সম্মানিত রহমত মুবারক বর্ষন করুন। আমার মহাসম্মানিতা আম্মাজান উনার পরে আপনি ছিলেন আমার মহাসম্মানিতা মাতা।
আপনি নিজে শূন্য থেকে আমাকে পরিতৃপ্ত করতেন , আপনি নিজে ভালো কিছু না পরে আমাকে পরাতেন।
এবং নিজে ভালো কিছু না খেয়ে আমাকে খাওয়াতেন। সুবহানাল্লাহ।

এই ভাবে তিনি উনার খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট ফযিলত বর্ননা করতেন।
এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে অত্যন্ত মুহব্বত মুবারক করতেন।
অনেক সময় তিনি উনাকে দেখার জন্য তিনি নিজেই উনার হুজরা শরীফে তাসরীফ মুবারক নিতেন। অর্থাৎ উনার হুজরা শরীফে যেতেন।
এবং মাঝে মাঝে তিনি দুপুরে উনার হুজরা শরীফে ক্বায়লুলা মুবারক করতেন । অর্থাৎ উনার বিছানা মুবারকে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গড়াগড়ি দিতেন। সুবহানাল্লাহ।

এবং তিনি প্রায় সময় বিভিন্ন বিষয়ে উনাকে হাদিয়া মুবারক পাঠাতেন।
এতো মুহব্বত মুবারক করতেন তিনি উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে। সুবহানাল্লাহ ।
এবং উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনিও
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এতো পরিমান খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিয়েছেন। যা উনার সন্তানদেরও দেননি। সুবহানাল্লাহ।

অর্থাৎ উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মূলত
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার সন্তান উনাদের চাইতেও বেশি মুহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ।

একজন মমতাময়ী মা উনার সন্তানকে যেমন মুহব্বত মুবারক করেন,তিনি তার চাইতেই লক্ষকোটি গুন বেশি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত মুবারক করতেন।
সুবহানাল্লাহ ।

এ জন্য দেখা যেত তিনি যখন খাবার রান্না করতেন। এরপরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে একবার খাবার খাওয়ানোর পর,
উনার জন্য তিনি আরেক বারের খাবার রেখে দিতেন। এবং এই খাবার খাওয়ানোর জন্য তিনি বার বার তাগিত দিতেন।
এছাড়াও তিনি সার্বিক বিষয়ে অত্যন্ত মুহব্বতের সাথে দেখা শুনা করতেন। এভাবেই তিনি উনার খিদমতের আনজাম দিতেন। সুবহানাল্লাহ।

মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
মুমিনদের কাছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা তাদের জান থেকেও বেশি প্রিয়।
অর্থাৎ উনাদেরকে জান থেকেও বেশি মুহব্বত মুবারক করতে হবে।
অন্যথায় কখনো ঈমানদার হওয়া যাবেনা।
এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক হচ্ছেন উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং
খাজা আবু তালিব আলাইহিস সালাম তিনি।
সুবহানাল্লাহ।

অর্থাৎ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজের জান থেকেও বেশি মুহব্বত মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ।

এ জন্য দেখা যেত যখন খাবারের সময় হতো তখন উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি, খাজা আবু তালিব আলাইহিস সালাম তিনি, এবং উনাদের ৭ জন আওলাদ উনারা সবাই
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অপেক্ষা করতেন।
তিনি এসে যখন খাবার গ্রহন করতেন এরপরে উনারা সবাই খাবার গ্রহন করতেন।
সুবহানাল্লাহ ।

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন খাবার গ্রহন করতেন।
তখন দেখা যেত সেই খাবারে এতো পরিমান বরকত হত যে,
উনারা সবাই তৃপ্তি সহকারে খাবার খাওয়ার পরেও অতিরিক্ত থেকে যেত। সুবহানাল্লাহ।

আবার এক পেয়ালা দুধ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথমে পান করতেন। এরপরে সবাই সেই পেয়ালা থেকে তৃপ্তিসহকারে পান করতেন। যদিও দুধ এক পেয়ালাই ছিল, এবং একজনেরই হতো।
সুবহানাল্লাহ ।

এ জন্য খাজা আবূ তালিব আলাইহিস সালাম তিনি নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন,
ইন্নাকা লা মুবারাকুন।
নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত বরকতময়। সুবহানাল্লাহ।

উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল শান মান ফাযায়িল ফযিলত মুবারক।
যেটা ভাষা দিয়ে প্রকাশ করা সম্ভয় নয়।
তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৪২ বছরে যে খিদমত মুবারক উনার আনজাম দিয়েছেন।
তাকি বলা সম্ভব হবে ? সম্ভব হবে না।
তবে বুঝানোর জন্য উনার কিছু খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট ফযিলত মুবারক বর্ননা করা হচ্ছে।

যেমন,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তিনি এমন ভাবে রক্ষনাবেক্ষন করতেন,
যেমন একজন মানুষের বুক,
তার অন্তরকে রক্ষা করে। এবং মানুষের চোখের পাপড়ি যেমন চোখ দুটিকে রক্ষা করে। সুবহানাল্লাহ।

তাহলে উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট মুবারক কতোটুকু এটা চিন্তা এবং ফিকিরের বিষয়।

আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে কতোটুকু মুহব্বত মুবারক করতেন যে ,

উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি যখন ২১ শে জুমাদাল উলা শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করলেন।
তখন তিনি উনার নূরুত তাক্বওয়া মুবারক অর্থাৎ উনার একখানা লেবাস মুবারক অর্থাৎ পোশাক দিয়ে উনাকে কাফন মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ।

এরপর ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যখন উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে নিয়ে অর্থাৎ উনার জিসিম মুবারক নিয়ে রওযা শরীফের দিকে রওনা হলেন, তখন
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই খাটিয়া মুবারক বহন করেন।
তিনি একবার খাটিয়ার সামনে যান আবার খাটিয়ার পিছনে আসেন। এভাবেই তিনি উনাকে রওযা শরীফের নিকট নিয়ে আসেন।

উনার জানাযার নামাযে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৭০ টি তাকবীর দিয়েছিলেন।
এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার রওযা শরীফের মধ্যে নেমেছেন,
রওযা শরীফের মধ্যে শুয়েছেন ,এবং উনার নেক আমলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। আবার তিনি রওযা শরীফের মধ্যে গড়াগড়ি দিয়ে উপরে উঠে আসেন। সুবহানাল্লাহ ।

এরপর উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে
রওযা শরীফের মধ্যে রেখে সোজা হয়ে দাড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন ,

আপনি আমার মহাসম্মানিতা মাতা এবং প্রতিপালনকারিনী। মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আপনি ছিলেন আমার জন্য একজন অতি উত্তম প্রতিপালনকারিনী।
সুবহানাল্লাহ ।

পরবর্তীতে হযরত ছাহাবায়ে ক্বিরাম রদ্বীয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন,
ইয়া রসূলিল্লাহ ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আপনি এখানে এমন দুটি ব্যতিক্রম কাজ করেছেন আমরা কখনো আপনাকে এ ধরনের কাজ করতে দেখিনি।
অর্থাৎ উনারা বলতে চাচ্ছেন যে,

আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লিবাস মুবারক,
উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে দেয়া।
এবং উনার রওযা শরীফে গড়াগড়ি দেয়া।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
ইরশাদ মুবারক করেন ,
নুরুত তাক্বওয়া অর্থাৎ লিবাস মুবারক দিয়েছি এই জন্য যে,
মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছায় অবশ্যয় এই লিবাস মুবারক উনার কারনে
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে জাহান্নানামের আগুন স্পর্শ করবে না।
সুবহানাল্লাহ।
আর রওযা শরীফ উনার মধ্যে গড়াগড়ি দেয়ার কারন হলো, আমি চেয়েছি মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ প্রশস্ত করে দেন৷
সুবহানাল্লাহ ।

কাজেই উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম
উনার শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান বেমেছাল।
এক কথায় তিনি শুধু যিনি খ্বলিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক এবং
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা না। এছাড়া সমস্ত ফযিলতের মালিক হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ ।

কাজেই তিনি যেমন ভাবে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজের জান থেকেও বেশি মুহব্বত মুবারক করেছেন। বান্দা বান্দী উম্মত জ্বীন ইনশান তাদের সকলের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে উনাকেও নিজের জান থেকেও বেশি মুহব্বত মুবারক করা।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে
দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান পুরুষ মহিলা জ্বীন ইনশান আমাদের সবাইকে
উম্মী বা'দা উম্মী আছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় সাওয়ানেহ উমরী মুবারক, শান মান ফাযায়িল ফযিলত বুযূর্গী সম্মান খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট মুবারক জানার, উনাকে তা'যীম তাকরীম মুবারক করার, মুহব্বত মুবারক করার এবং উনার ছানা ছিফত মুবারক করার তাওফিক দান করেন।
আমীন।

image

1 h

বিবাহের পূর্বে বরকে ও কনেকে দেখার সম্মানিত শরয়ী অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
====================
বিবাহের পূর্বে কনে দেখা খাছ সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি যে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন সেই বিষয়টি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বিশেষভাবে মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারকে মহসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ উনার পূর্বেই দেখানো হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرِيْتُكِ فِي الْمَنَامِ مَرَّتَيْنِ إِذَا رَجُلٌ يَـحْمِلُكِ فِيْ سُرَقَةِ حَرِيْرٍ فَيَقُوْلُ هٰذِهٖ اِمْرَأَتُكَ‏.‏ فَأَكْشِفُهَا فَإِذَا هِيَ أَنْتِ فَأَقُوْلُ إِنْ يَّكُنْ هٰذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُـمْضِهٖ

অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে মহাসম্মানিত স্বপ্ন মুবারকে দু’বার আপনাকে দেখানো হয়েছে। এক ব্যক্তি (হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম) অতীব সুন্দর একখানা রেশমী কাপড় দ্বারা আপনাকে ভালোভাবে ঢেকে নিয়ে আমার কাছে হাজির হলেন। আমাকে বললেন, ইনি হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম। আমি আপনার মহাসম্মানিত চেহারা মুবারক থেকে মুবারক কাপড়টা একটু সরিয়ে দেখতে পেলাম সেটা আপনিই। তখন বললাম, নিশ্চয়ই ইহা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে। কাজেই, তিনিই তার বাস্তবায়ন করবেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)



বিবাহের পূর্বে কনেকে দেখার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারকঃ

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ خَطَبْتُ اِمْرَأَةً فَقَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: هَلْ نَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قُلْتُ لَا قَالَ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهٗ أَحْرٰى أَنْ يُّؤْدَمَ بَيْنَكُمَا

অর্থ: হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, আমি একদিন একজন নারীকে বিবাহের প্রস্তাব করলাম। তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে জানালাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনি কি উনাকে দেখেছেন? আমি বললাম, না। আমি এখনো উনাকে দেখিনি। তিনি আমাকে মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিলেন, সেই মেয়েকে দেখে নিন। উনাকে দেখার কারণে আপনাদের উভয়ের মধ্যে মুহব্বত পয়দা হবে, মুহব্বত বৃদ্ধি পাবে। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসায়ী শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ)

হযরত আবু হুরায়রাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, একদিন আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারকে বসা ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি উনার মহাসম্মনিত খিদমত মুবারকে হাযির হলেন। সে ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূল্লাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

فَأَخْبَرَهٗ أَنَّهٗ تَزَوَّجَ اِمْرَأَةً مِّنَ الْأَنْصَارِ. فَقَالَ لَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قَالَ لَا قَالَ: فَاذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّ فِـيْ أَعْيُنِ الْأَنْصَارِ شَيْئًا

অর্থ: আমি আনসারী একজন মেয়েকে বিবাহ করার প্রস্তাব দিয়েছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি কি উনাকে দেখেছেন? তিনি বললেন, না। আমি উনাকে দেখিনি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বিবাহের পূর্বে উনাকে দেখে নিন। কেননা, আনসারীগণের (কোন কোন লোকের) চোখ ত্রুটিযুক্ত (লাল চোখ বিশিষ্ট) হয়ে থাকে। (মুসলিম শরীফ)

উল্লেখ্য যে, মানুষ মাত্রই কিছু না কিছু ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে বিবাহের পূর্বে তা দেখে নিলে পরবর্তীতে ফিতনা-ফাসাদ মুক্ত থাকা সহজ ও সম্ভব হয়। আর আহাল-আহলিয়ার মাঝে মুহব্বতের কারণ হয়। মুহব্বত বৃদ্ধি পায়। মুহব্বত বৃদ্ধিতে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না। অন্যথায় পরবর্তীকালে তা মনোমালিন্য সৃষ্টির কারণ হয়। এমনকি তা বিচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

বর্তমান সমাজে বিবাহের ক্ষেত্রে সমাজে কিছু বদ রসম ও ভুল পন্থা-পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। যা সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ। আবার অনেক ক্ষেত্রে বেপর্দা, বেহায়াপনা ও ফিৎনা-ফাসাদের সৃষ্টি হয়। মেয়েকে দেখতে যায় ছেলের বাবা, ছেলের ভাই, ছেলের নানা-দাদা, চাচা, দুলাভাই ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গ। নাউযুবিল্লাহ! যা সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয ও হারাম।

প্রকৃতপক্ষে সম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং সম্মানিত শরীয়ত উনার হুকুম হচ্ছে, বিবাহের পূর্বে শুধুমাত্র ছেলেই দেখবে। আর মেয়ে দেখবে সেই ছেলেকে। তবে অন্য কোন মেয়ে কিংবা মহিলা প্রস্তাবিত মেয়েকে দেখতে পারবে। খোঁজ-খবর নিতে পারবে। তাতে কোন অসুবিধা নেই। আবার অন্য কোন পুরুষ প্রস্তাবিত ছেলেকে দেখতে পারবে। তাতেও কোন অসুবিধা নেই। তবে দেখার বিষয়টি হবে সর্বশেষ। আগে কথা-বার্তা হবে। অন্যান্য বিষয় দেখা-শোনা, খোঁজ-খবর নেয়ার বিষয়গুলি সুস্পষ্ট হবে। সেগুলো সঠিক বা পছন্দ হলে ছেলে বা মেয়ে দেখার বিষয়টি আসবে। কারণ, পর্দানশীন কোন মেয়েকে যদি কেউ দেখে, আর পছন্দ না করে তাহলে ঐ মেয়ের জন্য তা একটি বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, কষ্টের কারণ হতে পারে।

কাজেই, প্রথমত যে ছেলের জন্য মেয়েকে কিংবা মেয়ের জন্য ছেলেকে প্রস্তাব দেয়া হবে তার জীবন বৃত্তান্ত নেয়া যেতে পারে। সেখানে তার সম্পূর্ণ বৃত্তান্ত বা তথ্য এবং জানা ও শুনার প্রয়োজনীয় সবটাই সেখানে উল্লেখ থাকবে। সেই সূত্র ধরে বাড়ী-ঘর দেখা, আনুষাঙ্গিক খোঁজ-খবর নেয়া উচিত। সবশেষে ছেলে কিংবা মেয়েকে দেখা। যদি সকল তথ্য পুরোপরি মিলে যায়, পছন্দ হয় তাহলে বিবাহের জন্য দিন তারিখ ধার্য্য করা যেতে পারে।

যদি ছেলে মেয়েকে দেখতে যায়। তাহলে ছেলের সাথে তার মাহরাম কোন মেয়ে কিংবা মহিলা আছে কিনা সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি না থাকে তাহলে প্রস্তাবিত মেয়ের সাথে মেয়ের মাহরাম পুরুষ থাকতে হবে। প্রস্তাবিত মেয়ে প্রস্তাবিত ছেলের সাথে সাক্ষাত করার সময় হালকা সাজ-গোছ করতে পারে। কিন্তু নিজের চেহারা-ছূরত পরিবর্তন হওয়ার মত সাজ-গোছ করবে না। তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন ভনিতা বা প্রতারণারও আশ্রয় নিবেনা। কেননা, মিথ্যা, ছল-ছাতুরী ও প্রতারণার মধ্যে কোন বরকত নেই। আর বিবাহের মত অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বরকত শূণ্য হলে ফিতনা-ফাসাদ ও অশান্তি লেগেই থাকে। কখনো শান্তি বা ইতমিনান লাভ হয় না।

উল্লেখ্য যে, পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনেই কামিয়াবী, পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে কল্যাণ, বরকত। পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে সুখ-শান্তি। আর তার বিপরীতে রয়েছে, ফিতনা-ফাসাদ, অশান্তি, দুরাচার, অনাচার, ধ্বংস ও ক্ষতি। কাজেই সকলের জন্য আবশ্যক হলো, প্রতিটি আমল মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-আহমদ হুসাইন

image

1 h

ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা:

সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ

পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৯২)
==========================================

قَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ اللهَ اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلِيلًا

একজন বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত মর্যাদা দিয়েছেন, উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর একজন বললেন-

وَقَالَ آخَرُ: مُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ كَلَّمَهُ تَكْلِيمًا

মহান আল্লাহ পাক হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত ফযীলত দিয়েছেন, স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি উনার সাথে কথা বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর একজন বললেন যে দেখ, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত ফযীলত দিয়েছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে কালীমা এবং রূহ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

وَقَالَ آخَرُ: آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اصْطَفَاهُ اللهُ

আর একজন বললেন যে দেখ, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত মর্যাদা দিয়েছেন, কত ফযীলত দিয়েছেন, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি নিজ কুদরতী হাত মুবারকে, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُ كَلَامَكُمْ وَعَجَبَكُمْ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ সমস্ত আলোচনা আড়াল থেকে শুনে বের হয়ে আসলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সামনে এসে বললেন, হে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আমি আপনাদের কথা শুনেছি, আশ্চর্য হওয়ার বিষয়টা জেনেছি। আপনারা যে বলেছেন-

إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلِيلُ اللهِ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

وَمُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ نَجِيُّ اللهِ وَهُوَ كَذٰلِكَ

হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং উনার সাথে কথা বলেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

وَعِيسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ رُوحُهُ وَكَلِمَتُهُ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কালীমা এবং রূহ হিসেবে কবুল করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

وَآدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اصْطَفَاهُ اللهُ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কুদরতী হাত মুবারকে সৃষ্টি করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে দেখ, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, করতে হবে ঠিকই রয়েছে।

তবে তার চেয়ে বেশি আলোচনা করতে হবে, খুশি প্রকাশ করতে হবে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সম্পর্কে সেটাই তিনি বললেন।

أَلَا وَأَنَا حَبِيبُ اللهِ

তোমরা সকলে সাবধান হয়ে যাও! আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

وَلَا فَخْرَ

তিনি বলেন, সেজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ফখর নেই।

image

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
==========================
৩৪ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সীনা মুবারক نُوْرُ الْعِلْمِ مُبَارَكٌ নূরুল ইল্ম মুবারক

৩৫ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিঠ মুবারক نُوْرُ الْاَطْهَرِ مُبَارَكٌ নূরুল আত্বহার মুবারক

৩৬ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘাড় মুবারক نُوْرُ النُّبُوَّةِ مُبَارَكٌ নূরুন নুবুওওয়াহ্ মুবারক

image

পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৯২)
==========================================

قَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ اللهَ اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلِيلًا

একজন বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত মর্যাদা দিয়েছেন, উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর একজন বললেন-

وَقَالَ آخَرُ: مُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ كَلَّمَهُ تَكْلِيمًا

মহান আল্লাহ পাক হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত ফযীলত দিয়েছেন, স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি উনার সাথে কথা বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর একজন বললেন যে দেখ, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত ফযীলত দিয়েছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে কালীমা এবং রূহ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

وَقَالَ آخَرُ: آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اصْطَفَاهُ اللهُ

আর একজন বললেন যে দেখ, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত মর্যাদা দিয়েছেন, কত ফযীলত দিয়েছেন, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি নিজ কুদরতী হাত মুবারকে, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُ كَلَامَكُمْ وَعَجَبَكُمْ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ সমস্ত আলোচনা আড়াল থেকে শুনে বের হয়ে আসলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সামনে এসে বললেন, হে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আমি আপনাদের কথা শুনেছি, আশ্চর্য হওয়ার বিষয়টা জেনেছি। আপনারা যে বলেছেন-

إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلِيلُ اللهِ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

وَمُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ نَجِيُّ اللهِ وَهُوَ كَذٰلِكَ

হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং উনার সাথে কথা বলেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

وَعِيسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ رُوحُهُ وَكَلِمَتُهُ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কালীমা এবং রূহ হিসেবে কবুল করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

وَآدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اصْطَفَاهُ اللهُ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কুদরতী হাত মুবারকে সৃষ্টি করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে দেখ, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, করতে হবে ঠিকই রয়েছে।

তবে তার চেয়ে বেশি আলোচনা করতে হবে, খুশি প্রকাশ করতে হবে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সম্পর্কে সেটাই তিনি বললেন।

أَلَا وَأَنَا حَبِيبُ اللهِ

তোমরা সকলে সাবধান হয়ে যাও! আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

وَلَا فَخْرَ

তিনি বলেন, সেজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ফখর নেই।

image

ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা:

সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ

পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৯২)
==========================================

قَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّ اللهَ اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلِيلًا

একজন বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত মর্যাদা দিয়েছেন, উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর একজন বললেন-

وَقَالَ آخَرُ: مُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ كَلَّمَهُ تَكْلِيمًا

মহান আল্লাহ পাক হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত ফযীলত দিয়েছেন, স্বয়ং আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি উনার সাথে কথা বলেছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর একজন বললেন যে দেখ, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত ফযীলত দিয়েছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে কালীমা এবং রূহ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

وَقَالَ آخَرُ: آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اصْطَفَاهُ اللهُ

আর একজন বললেন যে দেখ, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কত মর্যাদা দিয়েছেন, কত ফযীলত দিয়েছেন, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি নিজ কুদরতী হাত মুবারকে, হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: قَدْ سَمِعْتُ كَلَامَكُمْ وَعَجَبَكُمْ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ সমস্ত আলোচনা আড়াল থেকে শুনে বের হয়ে আসলেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের সামনে এসে বললেন, হে আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আমি আপনাদের কথা শুনেছি, আশ্চর্য হওয়ার বিষয়টা জেনেছি। আপনারা যে বলেছেন-

إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ خَلِيلُ اللهِ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালাম উনাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

وَمُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ نَجِيُّ اللهِ وَهُوَ كَذٰلِكَ

হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং উনার সাথে কথা বলেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

وَعِيسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ رُوحُهُ وَكَلِمَتُهُ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম উনাকে কালীমা এবং রূহ হিসেবে কবুল করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

وَآدَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ اصْطَفَاهُ اللهُ وَهُوَ كَذٰلِكَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনাকে কুদরতী হাত মুবারকে সৃষ্টি করেছেন। এবং সত্যিই তিনি তদ্রুপ ছিলেন।

এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে দেখ, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, করতে হবে ঠিকই রয়েছে।

তবে তার চেয়ে বেশি আলোচনা করতে হবে, খুশি প্রকাশ করতে হবে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার সম্পর্কে সেটাই তিনি বললেন।

أَلَا وَأَنَا حَبِيبُ اللهِ

তোমরা সকলে সাবধান হয়ে যাও! আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

وَلَا فَخْرَ

তিনি বলেন, সেজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোন ফখর নেই।

image