রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুজ জামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের ইছলাহর জন্য এমন একজন ব্যক্তিত্বকে প্রেরণ করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করবেন।” অর্থাৎ বিদয়াত, বেশরা এবং পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার বিগর্হিত কাজগুলোর সংশোধন করবেন। সুবহানাল্লাহ! সেই রকম একজন খাছ ও বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ হলেন- দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, রঈছুল মুহাদ্দিছীন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সাবধান! নিশ্চয়ই যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, উনাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো চিন্তা-পেরেশানীও নেই।’ সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হলেন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। যা উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারকে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা দ্বারা সুস্পষ্ট হয়।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হিজরী ৮৪৯ সনের পবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ বাদ মাগরিব মিশরের কায়রো শহরে পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। উনার মূল নাম মুবারক আব্দুর রহমান। উনার কুনিয়াত আবুল ফদ্বল। উনার মশহূর লক্বব জালালুদ্দীন। এ লক্বব মুবারকেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বংশীয় ধারা-আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর কামাল উদ্দিন ইবনু নাসির উদ্দিন মুহম্মদ ইবনু আবু বকর সাবেকুদ্দিন ইবনু ফখর ইবনু উসমান ইবনু নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ ইবনু সাইফুদ্দিন খাদ্বর ইবনু নজমুদ্দিন আবুস সালাহ আইয়ুর ইবনু নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ ইবনু হুমামুদ্দিন আল-ইমাম আল-খায়রি আল-উসবৃতি শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। মিশরের রাজধানী কায়রোর জামে মসজিদ ইবনু তুলুনের পাশে বসবাস করার কারণে উনাকে “তুলুনী” বলা হয়। উনার পূর্ব পুরুষগণ “উসযুত” নামক নগরীতে বসবাস করতেন, তাই উনাকে “উদ্ভুতী” বলা হয়। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে সাইয়্যিদুনা ইমাম মুহম্মদ ইবনু ইদরিস শাফেয়ী উনার মাযহাবের অনুসারী হওয়ায় নামের শেষে জুড়ে আছে শাফেয়ী।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অল্প বয়সে পবিত্র কুরআন শরীফ হিফয সম্পন্ন করতঃ জাহিরী সর্বপ্রকার ইলমে কামালিয়াত হাছিল করেন। অতঃপর, হযরত মুহম্মদ বিন উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত হন। কয়েক বছর উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে শাজালী ত্বরীক্বা অনুযায়ী ইলমে তাছাউফেও তিনি কামিলে মুকাম্মিল হন।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দ্বীন ইসলামের ইতিহাসে অধিক কিতাব রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি দুই লক্ষের বেশি হাদীছ শরীফ মুখস্ত করেন। তিনি বাতিল ফিরক্বাদের সব মিথ্যা দাবি খ-ন করে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতকে সুসংহত করেন।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৯১১ হিজরীর পবিত্র ১৯শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়া ৬১ বছর ১০ মাস ১৮ দিন বয়স মুবারকে মিশরের কায়রোতে পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। মিশরের কায়রোতেই উনার পবিত্র মাজার শরীফ অবস্থিত।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মূলকথা হলো- আজ পবিত্র ১৯শে জুমাদাল ঊলা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, রঈছুল মুহাদ্দিছীন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ উপলক্ষে সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত-নসীহত মুবারক হাছিল করে তা আমলে বাস্তবায়ন করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মাহফিল উনার সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা।
মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ছুবহে ছাদিকের সময় বরকতময় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তাই, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম হলেন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ বা কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ‘বার’। আর ছুবহে ছাদিক হলেন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আওক্বাত শরীফ বা কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ‘সময়’।
আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে-
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নিসবতপ্রাপ্ত প্রতিটি সময়, বার, মাস ব্যাপকভাবে পালনে সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে এ সম্পর্কিত আলোচনা মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা ইনশিরাহ শরীফ উনার ৪নং পবিত্র আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি আপনার আলোচনা মুবারক বুলন্দ হতে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নিসবতপ্রাপ্ত প্রতিটি বিষয়ই কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক ফযীলতপ্রাপ্ত এবং বরকতময় ও সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বুলূগুল আমানী মিন আসরারিল ফাত্হির রব্বানী কিতাবের ২০তম খ- ১৮৯ পৃষ্ঠায় এবং আছ ছিহ্হাহ ওয়াল মাশাহীর কিতাবের ১ম খ- ২৬৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত জাবির ইবনে ‘আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাদের উভয়ের থেকে বর্ণিত। উনারা বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আমুল ফীল (হস্তীর বছর) মহাসম্মানিত ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম (সোমবার) মহাসম্মানিত বরকতময় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু মহাসম্মানিত ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফে মহাসম্মানিত বরকতময় নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেছেন, সেহেতু উনার পবিত্র তাশরীফ মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত মাস পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ সর্বশেষ্ঠ মাস। এ জন্য পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ উনাকে সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম শরীফ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম মহাসম্মানিত নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেছেন, সেহেতু এই মহাসম্মানিত বার ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ‘বার’। এ জন্য ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম উনাকে ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু মহাসম্মানিত ১২ই শরীফে মহাসম্মানিত বরকতময় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন, সেহেতু উনার পবিত্র তাশরীফ মুবারক প্রকাশের তারিখ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ সংখ্যা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ তারিখ। এ জন্য মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ উনাকে ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু ছুবহে ছাদিকের সময় বরকতময় নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশ করেছেন, সেহেতু উক্ত সময় ছুবহে ছাদিক কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ‘সময়’। এ জন্য ছুবহে ছাদিক উনাকে ‘সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আওকাত শরীফ’ হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাই পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- প্রতিদিন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আওক্বাত শরীফ বা ছুবহে ছাদিক এবং প্রতি সপ্তাহে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ বা ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে পালন করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নিসবতপ্রাপ্ত প্রতিটি সময়, বার, মাস ব্যাপকভাবে পালনে সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে এ সম্পর্কিত আলোচনা মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা।
-০-
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার আলোচনা মুবারক বুলন্দ হতে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ।
মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ছুবহে ছাদিকের সময় বরকতময় তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তাই, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম হলেন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ বা কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ‘বার’। আর ছুবহে ছাদিক হলেন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আওক্বাত শরীফ বা কায়িনাত মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ ‘সময়’।
তাই, পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- প্রতিদিন সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আওক্বাত শরীফ বা ছুবহে ছাদিক এবং প্রতি সপ্তাহে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ বা ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ ও তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে পালন করা।
মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
বিশেষ আইয়্যামুল্লাহ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা আসতে আর মাত্র ৬ দিন বাকি। এ মহান দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র মহাসম্মানিত আযীমুশ্শান নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মহান দিবস অত্যন্ত জওক-শওক এবং সাখাওয়াতির সাথে ব্যাপকভাবে উদযাপনে এখন থেকেই সার্বিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আর (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি তাদেরকে (সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীকে) আইয়্যামুল্লাহ শরীফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিনগুলো স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিনগুলো উনাদের মধ্যে অবশ্যই প্রত্যেক শোকরগুজার ও ধৈর্যশীল বান্দা-বান্দীদের জন্য নির্দশন মুবারক রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! আর সেই মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ তথা মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিবসসমূহ উনাদের মধ্যে এক অনন্য বেমেছাল মহাসম্মানিত বরকতপূর্ণ ফযীলতপূর্ণ বিশেষ দিবস হচ্ছেন মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এই মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আফদ্বালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আযীমুশ্শান নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সেই বৎসর ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ বার হিসেবে ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! সেই দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনারা এতো বেমেছাল খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, যা কায়িনাতের মাঝে নযীর বিহীন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং সমস্ত কায়িনাত সকলে তো অবশ্যই; এমনকি সেই দিন স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনিও সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এই মহাসম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফেই মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন সাইয়্যিদু কুরাইশ, সাইয়্যিদুন নাস, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইমামুছ ছাক্বালাইন, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত জাদ্দু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সেই বৎসর ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ বার হিসেবে ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, এই মহাসম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রথমা বানাত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আবুল আছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ সম্পন্ন হন। সুবহানাল্লাহ! সেই বৎসর ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ বার হিসেবে ইছনাইনিল আযীম শরীফ ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, এই মহাসম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়াতে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ, সাইয়্যিদু শাবাবী আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত সিবতু রসূল আল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাই সারা বিশ্বের সমস্ত মুসলমান, জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে এই অনন্য বেমেছাল মহাসম্মানিত বরকতপূর্ণ ফযীলতপূর্ণ বিশেষ দিবস ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ উনাকে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম, যওক্ব, শওক্ব ও মুহব্বতের সাথে পালন বা উদযাপন করার জন্য এখন থেকেই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা। সুবহানাল্লাহ! আর এই দেশসহ বিশ্বের সমস্ত সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে এই অনন্য বেমেছাল মহাসম্মানিত বরকতপূর্ণ ফযীলতপূর্ণ বিশেষ দিবস ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ উনার সম্মানার্থে বিশেষভাবে সরকারি উদ্যোগে অত্যন্ত তা’যীম-তাকরীম, যওক্ব, শওক্ব ও মুহব্বতের সাথে এই অনন্য বেমেছাল মহাসম্মানিত বরকতপূর্ণ ফযীলতপূর্ণ বিশেষ দিবস উনাকে পালন বা উদযাপন করার সার্বিক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা এবং উনাদের পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা। সুবহানাল্লাহ!
-০-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। সুবহানাল্লাহ!
বিশেষ আইয়্যামুল্লাহ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! যা আসতে আর মাত্র ৬ দিন বাকি। এ মহান দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র মহাসম্মানিত আযীমুশ্শান নিসবাতুল আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- এ মহান দিবস অত্যন্ত জওক-শওক এবং সাখাওয়াতির সাথে ব্যাপকভাবে উদযাপনে এখন থেকেই সার্বিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- এ মহান দিবস রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক ও বেনযির ইন্তিজামে ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে উদযাপনে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার নির্দেশ মুবারক হলো- কিছু লোককে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে হাক্বীক্বী ফক্বীহ ও হাদী হতে হবে। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি দেশের লোকদেরকে সম্মানিত দ্বীন বা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আদেশ-নির্দেশ মুতাবিক চলার অর্থাৎ পাপ কাজ পরিহার করা ও নেক কাজে মশগুল থাকার জন্য দৃঢ়তার সাথে শক্তভাবে নছীহত করতে হবে।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য ইলম তলব বা অর্জন করা ফরয।” সুবহানাল্লাহ! মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও বর্ণিত রয়েছে, ইলম হলো দু’প্রকার। এক. ক্বলবী ইলম অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ যা উপকারী ইলম। দুই. লিসানী ইলম অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ; যা জিন-ইনসানের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ হতে দলীলস্বরূপ। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মুসলমানদের প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায় থেকে কেন একটি দল বের হয় না এজন্য যে, তারা দ্বীনী ইলমে ফক্বীহ হবে এবং স্বীয় ক্বওমের নিকট প্রত্যাবর্তন করে তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নিষেধ মুবারক উনাদের ব্যাপারে সতর্ক করবে; যাতে তারা সতর্ক হতে পারে বা পরিত্রাণ পেতে পারে।” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যিনি হক্কানী-রব্বানী আলিম বা আল্লাহওয়ালা বা ফক্বীহ ও হাদী হবেন উনার দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, ক্বওম বা সমাজ বা দেশের লোকদেরকে সম্মানিত দ্বীন বা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক মুতাবিক চলার জন্য দৃঢ়তার সাথে শক্তভাবে নছীহত করা; নচেৎ সাধারণ লোকের সাথে ছূফী-দরবেশ আলিম-উলামাদেরকেও খোদায়ী গযবে পতিত হতে হবে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(বনি ইসরাইলের) দরবেশ ও আলিমরা কেন তাদেরকে (সমসাময়িক লোকদের) পাপের কথা বলা থেকে এবং হারাম খাওয়া থেকে নিষেধ করলো না? তারা এটা খুবই মন্দ কাজ করেছে।”
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাফসীরে আরো উল্লেখ আছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম উনার উপর মহাপবিত্র ওহী মুবারক নাযিল করলেন, “আমার সম্মানিত নবী! আপনার উম্মতের মধ্যে এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যদিও এদের মধ্যে ষাট হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত (গুমরাহ)।” তখন হযরত ইউশা বিন নুন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “আয় আল্লাহ পাক ষাট হাজার লোক সরাসরি গুনাহে লিপ্ত, তাই তাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে; কিন্তু বাকী চল্লিশ হাজার লোককে ধ্বংস করা হবে কেন?” তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, “যেহেতু এই চল্লিশ হাজার তারা ওই গুনাহে লিপ্ত লোকদের সাথে মিলা-মিশা ও উঠা-বসা করে এবং সম্পর্ক রাখে আর গুনাহের কাজে বাধা দেয় না, তাই তাদেরকেসহ ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং ধ্বংস করে দেয়া হলো।” নাউযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- সকল হক্কানী-রব্বানী আলিম-উলামা, ছূফী-দরবেশ বা হাদী উনাদের সকলের জন্য ঈমানী দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- দেশ ও সারা বিশ্বের সকল স্তরের সকল মুসলমানদেরকে সর্বপ্রকার হারাম, নাজায়িয ও শরীয়তবিরোধী কাজ থেকে বিরত বা ফিরায়ে রাখতে দৃঢ়তার সাথে শক্তভাবে নছীহত করা। নচেৎ আম ও খাছ অর্থাৎ সাধারণ লোক ও ছূফী-দরবেশ, আলিম উলামা সকলেই বনী ইসরাইলের দরবেশ বা আলিমদের ন্যায় পাপাচারে একাকার হয়ে খোদায়ী গযবে পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে। নাঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে উনার লা’নত বা অসন্তুষ্টি থেকে হিফাযত করুন। আমীন!
-০-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মুসলমানদের প্রত্যেক ক্বওম বা সম্প্রদায় থেকে কেন একটি দল বের হয় না এজন্য যে, তারা সম্মানিত দ্বীনী ইলমে ফক্বীহ হবে এবং স্বীয় ক্বওমের নিকট প্রত্যাবর্তন করে তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ নিষেধ মুবারক উনার ব্যাপারে সতর্ক করবে; যাতে তারা সতর্ক হতে পারে বা পরিত্রাণ পেতে পারে।’
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার নির্দেশ মুবারক হলো- কিছু লোককে ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাউফে পূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে হাক্বীক্বী ফক্বীহ ও হাদী হতে হবে। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি দেশের লোকদেরকে সম্মানিত দ্বীন বা সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আদেশ-নির্দেশ মুতাবিক চলার অর্থাৎ পাপ কাজ পরিহার করা ও নেক কাজে মশগুল থাকার জন্য দৃঢ়তার সাথে শক্তভাবে নছীহত করতে হবে।
মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
তাই প্রত্যেক জিন-ইনসান, পুুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে, ছোট-বড় সকলের জন্য ফরজে আইন হচ্ছে- মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে উনাকে মুহব্বত করা। পাশাপাশি উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, উনাদেরকে সম্মান বা তা’যীম-তাকরীম করা, উনাদের প্রশংসা বা ছানা-ছিফত করা এবং উনাদের খিদমত বা গোলামী মুবারকে যথাযথ আন্জাম দেয়ার কোশেশ করা।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বুযুর্গী-সম্মান, ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করা হয়েছে এবং অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে। পবিত্র আয়াত শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন সৃষ্টির মূল এবং উনারা হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান, হিদায়েত, রহমত, নিয়ামত, নাজাত, জান্নাত, রেজায়ে মাওলা, রেজায়ে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাওয়ার একমাত্র উছীলা বা মাধ্যম। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা মুহব্বত করো, কেননা তিনি তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে রিজিকের ব্যবস্থা করে থাকেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক পেতে হলে তোমরা আমাকে মুহব্বত করো। আর আমার মুহব্বত মুবারক পেতে হলে আমার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তোমরা মুহব্বত করো।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াত বা সুপারিশ মুবারক ব্যতীত কেউ কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি পাবে না, কঠিন হাশরের দিন পবিত্র হাউজে কাওছার উনার পানি মুবারক পাবে না, পুলছিরাত পার হতে পারবে না, জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের চার শ্রেণীর লোকদেরকে আমি বিশেষভাবে সুপারিশ করবো। (এক) আমার মহাসম্মানিত বংশধর তথা আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা সম্মান করবে। (দুই) আর্থিকভাবে যারা উনাদের খিদমত বা গোলামী মুবারকে আন্জাম দিবে। (তিন) শারীরিকভাবে যারা উনাদের গোলামী মুবারকে আন্জাম দিবে। (চার) অন্তর দিয়ে যারা উনাদেরকে মুহব্বত করবে এবং যবান দিয়ে যারা উনাদের ছানা-ছিফত বা প্রশংসা করবে। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রত্যেক বান্দা বা উম্মতের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, উনাদের কোন প্রকার বিদ্বেষ বা সমালোচনা না করা, উনাদেরকে সম্মান বা তা’যীম-তাকরীম করা, উনাদের প্রশংসা বা ছানা-ছিফত করা এবং উনাদের খিদমত বা গোলামী মুবারকে যথাযথ আন্জাম দেয়ার কোশেশ করা। তবেই তাদের পক্ষে দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব হবে।
-০-
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ভিত্তি হচ্ছেন আমার মুহব্বত মুবারক এবং আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
তাই প্রত্যেক জিন-ইনসান, পুুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে, ছোট-বড় সকলের জন্য ফরজে আইন হচ্ছে- মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে উনাকে মুহব্বত করা। পাশাপাশি উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, উনাদেরকে সম্মান বা তা’যীম-তাকরীম করা, উনাদের প্রশংসা বা ছানা-ছিফত করা এবং উনাদের খিদমত বা গোলামী মুবারকে যথাযথ আন্জাম দেয়ার কোশেশ করা।
বিপরীতে উনাদের প্রতি সর্বপ্রকার বিদ্বেষ বা সমালোচনা থেকে দূরে থাকা সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য।