বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩৭)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন,
اَخْرَجَ حَضْرَتْ اَلْبَيْهَقِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اِسْحَاقَ بْنِ مُوْسٰى رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ سَمِعْتُ حَضْرَتْ اِبْنَ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُول مَا وَصَفَ اللهُ بِهٖ نَفْسَهٗ فَتَفْسِيْرُهٗ قِرَاءَتُهٗ لَيْسَ لِاَحَدٍ اَنْ يُّفَسِّرَهٗ اِلَّا اللهُ تَعَالٰى وَرُسُلُهٖ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِمْ
অর্থ: “হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইসহাক্ব ইবনে মূসা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি শুনেছি হযরত সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,
مَا وَصَفَ اللهُ بِهٖ نَفْسَهٗ فَتَفْسِيْرُهٗ قِرَاءَتُهٗ لَيْسَ لِاَحَدٍ اَنْ يُّفَسِّرَهٗ اِلَّا اللهُ تَعَالٰى وَرُسُلُهٖ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِمْ ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজ সম্পর্কে যা কিছু বর্ণনা মুবারক করেছেন, তার ব্যাখ্যা হলো— কেবল তিলাওয়াত করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত এর ব্যাখ্যা দেওয়ার অধিকার কারো নেই’।” (তাফসীরে দুর্রে মানছূর শরীফ ৩/৪৭৩)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩৬)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন,
اَخْرَجَ حَضْرَتْ اَلْبَيْهَقِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اَحْمَدَ بْنِ اَبِى الْحَوَارِىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ سَمِعْتُ حَضْرَتْ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُوْلُ كُلَّمَا وَصَفَ اللهُ مِنْ نَفْسِهٖ فِىْ كِتَابِهٖ فَتَفْسِيْرُهٗ تِلَاوَتُهٗ وَالسُّكُوْتُ عَلَيْهِ
অর্থ: “হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত আহমাদ ইবনে আবী হাওয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি শুনেছি হযরত সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন,
كُلَّمَا وَصَفَ اللهُ مِنْ نَفْسِهٖ فِىْ كِتَابِهٖ فَتَفْسِيْرُهٗ تِلَاوَتُهٗ وَالسُّكُوْتُ عَلَيْهِ
‘মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজ সম্পর্কে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কিতাব মুবারক উনার মধ্যে যা কিছু বর্ণনা মুবারক করেছেন, তার ব্যাখ্যা হলো— তা তিলাওয়াত করা এবং এই বিষয়ে চুপ থাকা’।” (তাফসীরে দুর্রে মানছূর শরীফ ৩/৪৭৩)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩৫)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে দুর্রে মানছূর শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন,
اَخْرَجَ حَضْرَتْ اَللَّالَكَائِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ سُئِلَ حَضْرَتْ رَبِيْعَةُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ قَوْلِهٖ {اِسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ} كَيْفَ اِسْتَوٰى قَالَ اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفُ غَيْرُ مَعْقُوْلٍ وَمِنَ اللهِ الرِّسَالَةُ وَعَلَى الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا التَّصْدِيْقُ
অর্থ: “হযরত ইমাম লালাকাই রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইবনে উইয়াইনাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হযরত রবীআহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক— اِسْتَوٰى عَلَى الْعَرْش (ইস্তাওয়া ‘আলাল ‘আরশ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জবাবে বলেন,
اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفُ غَيْرُ مَعْقُوْلٍ وَمِنَ اللهِ الرِّسَالَةُ وَعَلَى الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْبَلَاغُ وَعَلَيْنَا التَّصْدِيْقُ
‘ইস্তিওয়া’ উনার শব্দগত অর্থ সকলের জনাা; কিন্তু কিভাবে হয়েছেন, তা সবার আক্বল বা বুঝের বাইরে। মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী মুবারক এসেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দয়া করে তা পেঁৗছিয়ে দিয়েছেন। আর আমাদের জন্য ফরয হচ্ছে তা বিশ্বাস করা।” (তাফসীরে দুর্রে মানছূর শরীফ ৩/৪৭৩)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩৪)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
আল্লামা হযরত ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনে মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে হাবীব বছরী বাগদাদী মাওয়ারদী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৪৫০ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে মাওয়ারদী শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন,
{ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ} فِيْهِ قَوْلَانِ اَحَدُهُمَا مَعْنَاهُ اِسْتَوٰى اَمْرُهٗ عَلَى الْعَرْشِ قَالَهٗ حَضْرَتْ اَلْحَسَنُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَالثَّانِىْ اِسْتَوْلٰى عَلَى الْعَرْشِ كَمَا قَالَ الشَّاعِرُ
قَدْ اِسْتَوٰى بِشْرٌ عَلَى الْعِرَاقِ ... مِنْ غَيْرِ سَيْفٍ وَّدَمٍ مِّهْرَاقٍ
অর্থ: “ ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ(ছুম্মাস্তাওয়া ‘আলাল ‘আরশ) এই বিষয়ে দুইটি মত রয়েছে। একটি মত হচ্ছে— এর অর্থ মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আদেশ মুবারক আরশে আযীম উনার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এটি বলেছেন হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।
দ্বিতীয় মত হচ্ছে— মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আদেশ মুবারক আরশে আযীম উনার উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। যেমন কবি বলেন—
قَدْ اِسْتَوٰى بِشْرٌ عَلَى الْعِرَاقِ ... مِنْ غَيْرِ سَيْفٍ وَّدَمٍ مِّهْرَاقٍ
‘বিশর ইরাকের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে, তরবারি ও রক্তপাত ছাড়াই’।” (তাফসীরে মাওয়ারদী ২/২২৯)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩৩)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
আল্লামা হযরত ইমাম আবুল লাইছ নছর ইবনে মুহম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহীম সমরক্বন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৩৭৩ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে বাহরুল উলূম’ উনার মধ্যে বলেন,
ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ قَالَ بَعْضُهُمْ هٰذَا مِنَ الْمُتَشَابِهٖ اَلَّذِىْ لَا يَعْلَمُ تَاْوِيْلَهٗ اِلَّا اللهُ وَذُكِرَ عَنْ حَضْرَتْ يَزِيْدَ بْنِ هَارُوْنَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّهٗ سُئِلَ عَنْ تَاْوِيْلِهٖ فَقَالَ تَاْوِيْلُهٗ اَلْاِيْمَانُ بِهٖ وَذُكِرَ اَنَّ رَجُلًا دَخَلَ عَلٰى حَضْرَتْ مَالِكِ بْنِ اَنَسٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فَسَاَلَهٗ عَنْ قَوْلِهٖ ﴿اَلرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى﴾ [طه: ٥] فَقَالَ اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفِيَّةُ غَيْرُ مَعْقُوْلَةٍ وَالْاِيْمَانُ بِهٖ وَاجِبٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَمَا اَرَاكَ اِلَّا ضَالًّا فَاَخْرِجُوْهُ
অর্থ: “ ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ(এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায়) কেউ কেউ বলেন, ‘এটি এমন মুতাশাবিহাত সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অন্তভুর্ক্ত, যার প্রকৃত অর্থ মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কেউ জানে না।’ আর হযরত ইয়াযীদ ইবনে হারূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যখন উনাকে এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বলেছিলেন— ‘সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যা হলো এতে ঈমান রাখা।’ আরো বলা হয়েছে যে, এক ব্যক্তি হযরত ইমাম মালিক ইবনে আনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট এসে মহান আল্লাহ পাক উনার এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক—
اَلرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى
(সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ত্বহা শরীফ উনার ৫ নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলো। তখন তিনি বলেছেন—
اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفِيَّةُ غَيْرُ مَعْقُوْلَةٍ وَالْاِيْمَانُ بِهٖ وَاجِبٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَمَا اَرَاكَ اِلَّا ضَالًّا
‘ইস্তাওয়া’ উনার শব্দগত অর্থ সকলের জানা। কাইফিয়াত বা ধরন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে ইস্তাওয়া হয়েছেন, এটা সবার আক্বল বা বুঝের বাইরে। এই বিষয়ে ঈমান রাখা ওয়াজিব। আর এ বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদা‘য়াত অর্থাৎ গোমরাহী। আমি তোমাকে গোমরাহ্ মনে করছি।’
তারপর সকলে মিলে ঐ ব্যক্তিকে (মজলিস থেকে) বের করে দেয়।” (তাফসীরে সামরক্বান্দী ১/৫২০)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩২)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
আল্লামা হযরত ইমাম আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মাহমূদ হাফিযুদ্দীন নাসাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৭১০ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাক্বাইকুত তা’ওইল বা তাফসীরে নাসাফী শরীফ’ উনার মধ্যে বলেন,
{ثُمَّ اسْتَوٰى} اِسْتَوْلٰى {عَلَى الْعَرْشِ} اَضَافَ الْاِسْتِيْلَاءَ اِلَى الْعَرْشِ وَاِنْ كَانَ سُبْحَانَهٗ وَتَعَالٰى مُسْتَوْلِيًا عَلٰى جَمِيْعِ الْمَخْلُوْقَاتِ لِاَنَّ الْعَرْشَ اَعْظَمُهَا وَاَعْلَاهَا وَتَفْسِيْرُ الْعَرْشِ بِالسَّرِيْرِ وَالْاِسْتِوَاءِ بِالْاِسْتِقْرَارِ كَمَا تَقُوْلُهُ الْمُشَبِّهَةُ بَاطِلٌ لِاَنَّهٗ تَعَالٰى كَانَ قَبْلَ الْعَرْشِ وَلَا مَكَانَ وَهُوَ الْاٰنَ كَمَا كَانَ لِاَنَّ التَّغَيُّرَ مِنْ صِفَاتِ الْاَكْوَانِ وَالْمَنْقُوْلُ عَنْ حَضْرَتْ اَلْاِمَامِ اَلصَّادِقِ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اَلْحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اَبِىْ حَنِيْفَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ مَالِكٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ الْاِسْتِوَاءَ مَعْلُوْمٌ وَالتَّكْيِيْفَ فِيْهِ مَجْهُوْلٌ وَالْاِيْمَانَ بِهٖ وَاجِبٌ وَالْجُحُوْدَ لَهٗ كُفْرٌ وَالسُّؤَالَ عَنْهُ بِدْعَةٌ
অর্থ: “(অতঃপর তিনি ইস্তাওয়া করলেন) আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করলেন (পবিত্র আরশ উনার উপর)। মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত মাখলূকাতের উপরই পূর্ণ আধিপত্যশীল, তবুও তিনি পবিত্র আরশ উনার সঙ্গে উনার ইস্তীলা বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করাকে বিশেষভাবে সম্পর্কিত করেছেন। কারণ, আরশ হচ্ছেন মাখলূক্বাসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ। আর ‘আরশ’ উনাকে কেবলমাত্র ‘সিংহাসন’ এবং ‘ইস্তিওয়া’ উনাকে ‘বসা’ বা ‘স্থায়ী হওয়া’ বলে ব্যাখ্যা করা, যেমনটা ‘মুশাব্বিহাহ’ ফিরক্বার লোকেরা বলে থাকে— এটি বাতিল। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশ সৃষ্টির আগেও ছিলেন, তখন কোনো স্থান ছিল না। আর এখনো তিনি তেমনই আছেন যেমন তিনি তখন ছিলেন। কেননা, পরিবর্তন ও রূপান্তর সৃষ্টি জগতের বৈশিষ্ট্য, মহান আল্লাহ পাক উনার নয়। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার, ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের থেকে যা বর্ণিত রয়েছেন তা হলো—
اَلْاِسْتِوَاءَ مَعْلُوْمٌ وَالتَّكْيِيْفَ فِيْهِ مَجْهُوْلٌ وَالْاِيْمَانَ بِهٖ وَاجِبٌ وَالْجُحُوْدَ لَهٗ كُفْرٌ وَالسُّؤَالَ عَنْهُ بِدْعَةٌ
অর্থাৎ ‘ইস্তিওয়া’ উনার অর্থ সকলের জানা; কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি কিভাবে হয়েছেন— তা অজানা। ‘ইস্তিওয়া’ উনার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। তা অস্বীকার করা কুফরী। আর এ বিষয়ে প্রশ্ন করা বিদআত।” (তাফসীরে নাসাফী ১/৫৭৩)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩১)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
‘তাফসীরে সাম‘আনী’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
{ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ} قَدْ بَيَّنَّا مَذْهَبَ اَهْلِ السُّنَّةِ فِى الْاِسْتِوَاءِ وَهُوَ اَنَّهٗ نُؤْمِنُ بِهٖ وَنَكِلُ عِلْمَهٗ اِلَى اللهِ تَعَالٰى مِنْ غَيْرِ تَاْوِيْلٍ وَلَا تَفْسِيْرٍ
অর্থ: “(ছুম্মাস্তাওয়া ‘আলাল আরশ) আমরা ‘ইস্তিওয়া’ বিষয়ে আহলু সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অভিমত বর্ণনা করেছি। আর তা হচ্ছে— মহান আল্লাহ পাক তিনি ইস্তাওয়া হয়েছেন এটা আমরা বিশ্বাস করি এবং আমরা এর কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ও তাফসীর ছাড়া এর ইলিমকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অর্পণ করেছি।” (তাফসীরে সাম‘আনী ২/৩৬৬)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (৩০)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
‘তাফসীরে ত্ববারী’ উনার মধ্যে আরো উল্লেখ রয়েছে,
ثُمَّ اِرْتَفَعَ عَلَى الْعَرْشِ الرَّحْمٰنُ وَعَلَا عَلَيْهِ
অর্থ: “অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশে আযীম উনার উপরে উঠেছেন এবং অবস্থান করেছেন।” (তাফসীরে ত্ববারী ১৭/৪৮০)
‘তাফসীরে বাগবী’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে,
{ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ} عَلَا عَلَيْهِ
অর্থ: “(ছুম্মাস্তাওয়া ‘আলাল আরশ) মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশে আযীম উনার উপর অবস্থান করেছেন।” (তাফসীরে বাগবী ৪/২৯৩)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (২৯)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
বিশ্বখ্যাত মুফাসসির আল্লামা আবুল হাসান মুক্বাতিল ইবনে সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘তাফসীরে মুক্বাতিল’ উনার মধ্যে বলেন,
{ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ} يَعْنِىْ اِسْتَقَرَّ عَلَى الْعَرْشِ
অর্থ: “ছুম্মাস্তাওয়া ‘আলাল আরশ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশে আযীম উনার উপর স্থির হয়েছেন।” (তাফসীরে মুক্বাতিল ২/১০৯)
‘তাফসীরে ত্ববারী’ উনার মধ্যে রয়েছে,
{ثُمَّ اسْتَوٰى عَلَى الْعَرْشِ} فَاِنَّهٗ يَعْنِىْ عَلَا عَلَيْهِ
অর্থ: “ছুম্মাস্তাওয়া ‘আলাল আরশ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশে আযীম উনার উপর অবস্থান করেছেন।” (তাফসীরে ত্ববারী ১৩/৪১১)

বায়ানু হাক্বীক্বতি ‘ইস্তাওয়া’ (২৮)
ইস্তাওয়া সম্পর্কে হযরত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অভিমত:
হযরত ইমাম শায়েখ সাইয়্যিদ আহমাদ কবীর রেফায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল বুরহানুল মুআইয়্যাদ’ উনার মধ্যে বলেন,
سَاَلَ رَجُلٌ حَضْرَتْ اَلْاِمَامَ مَالِكَ بْنَ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنْ قَوْلِهٖ تَعَالٰى اَلرَّحْمٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوٰى فَقَالَ اَلْاِسْتِوَاءُ غَيْرُ مَجْهُوْلٍ وَالْكَيْفُ غَيْرُ مَعْقُوْلٍ وَالْاِيْمَانُ بِهٖ وَاجِبٌ وَالسُّؤَالُ عَنْهُ بِدْعَةٌ وَمَا اَرَاكَ اِلَّا مُبْتَدِعًا وَاَمَرَ بِهٖ اَنْ يُّخْرِجَ وَقَالَ اِمَامُنَا حَضْرَتْ اَلشَّافِعِىُّ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ لَمَّا سُئِلَ عَنْ ذٰلِكَ اٰمَنْتُ بِلَا تَشْبِيْهٍ وَصَدَّقْتُ بَلَا تَمْثِيْلٍ وَاِتَّهَمْتُ نَفْسِىْ فِى الْاِدْرَاكِ وَاَمْسَكْتُ عَنِ الْخَوْضِ فِيْهِ كُلَّ الْاِمْسَاكِ وَقَالَ حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ اَبُوْ حَنِيْفَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ مَنْ قَالَ لَا اَعْرِفُ اللهَ اَفِى السَّمَاءِ هُوَ اَمْ فِى الْاَرْضِ فَقَدْ كَفَرَ لِاَنَّ هٰذَا الْقَوْلَ يُوْهَمُ اَنَّ لِلْحَقِّ مَكَانًا وَمَنْ تَوَهَّمَ اَنَّ لِلْحَقِّ مَكَانًا فَهُوَ مُشَبِّهٌ وَسُئِلَ حَضْرَتْ اَلْاِمَامُ اَحْمَدُ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ عَنِ الْاِسْتِوَاءِ فَقَالَ اِسْتَوٰى كَمَا اَخْبَرَ لَا كَمَا يَخْطُرُ لِلْبَشَرِ
অর্থ: “এক ব্যক্তি হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম মুবারক— (আর রহমানু ‘আলাল ‘আরশিস্তাওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। জবাবে হযরত ইমাম মালেক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইস্তিওয়াটা সকলের জানা। এর কাইফিয়াত বা ধরন সবার আক্বল বা বুঝের বাইরে। এই বিষয়ে ঈমান রাখা ওয়াজিব। আর এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদা‘য়াত অর্থাৎ গোমরাহী। আমি তোমাকে গোমরাহ্ মনে করি। তারপর তিনি সুওয়ালকারীকে বের করে দেয়ার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন। আর আমাদের সম্মানিত ইমাম হযরত শাফি‘য়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যখন ইস্তাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, তখন তিনি বলেছিলেন— ‘(ইস্তাওয়ার ব্যাপারে) আমি ঈমান এনেছি (তা) তাশবীহ ব্যতীত। বিশ্বাস করেছি (তা) সাদৃশ্যতা ব্যতীত। (এ বিষয়ে) জানার ব্যাপারে আমি নিজেকে অভিযুক্ত করেছি অর্থাৎ এই বিষয়ে আমার জানা নেই এবং এই ব্যাপারে সমস্ত প্রকার অনর্থক কথা—বার্তা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।’ আর হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি বলবে, আমি জানি না মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আসমানে আছেন, নাকি যমীনে? তাহলে নিঃসন্দেহে সে কুফরী করলো। কেননা, এর মাধ্যমে ধারণা করা হয় যে, মহান আল্লাহ পাক উনার একটি নির্দিষ্ট মাকান বা স্থান রয়েছে। আর যে ব্যক্তি এরূপ ধারণা করবে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার একটি নির্দিষ্ট মাকান বা স্থান রয়েছে, সে মুশাব্বিহা ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত।’ হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ‘ইস্তাওয়া’ সম্পর্কে সুওয়াল করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐভাবে ইস্তাওয়া হয়েছেন, যেমন তিনি সংবাদ দিয়েছেন। ঐ রকম না, যেরূপ মানুষের অন্তরে উদয় হয়’।” (আল বুরহানুল মুআইয়্যাদ ১/১৮—১৯)