নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ক্বিয়ামতের দিন ধনী দরিদ্র সবাই পছন্দ করবে যে, হায়! আমার জন্য কতই না উত্তম হতো যদি আমি পার্থিব জীবনে কেবলমাত্র জীবন যাপন পরিমাণ সম্পদ কামাই করতাম। অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ সম্পদ অর্জনে সন্তুষ্ট থাকতাম। তাহলে অতি উত্তম হতো। (মুকাশাফাতুল কুলুব-১৮২)

তিনি আরো বলেন-
অর্থ: হে মানব সমাজ! তোমরা ধন-সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে সময় কমিয়ে দাও। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিই ততটুকু লাভ করতে পারবে যা তার তাকদীরে (বরাদ্দ) রয়েছে। আর কেউই দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না: তার তাকদীর বা বরাদ্দকৃত রিযিক ভোগ না করবে।
(মুসতাদরাকে হাকিম)

অর্থাৎ বরাদ্দের বেশি অর্জন করতে পারবে না। আর বরাদ্দকৃত সম্পদ ভোগ না করা পর্যন্ত কেউ ইন্তিকাল করবে না। কাজেই, ধন-সম্পদ উপার্জনের ক্ষেত্রে অধিক সময় ব্যয় করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেটাই ইরশাদ মুবারক করেন,। দুনিয়াতে তারাই সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখে যাদের আক্বল নেই বা বেয়াকুফ। নাউযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-
পুরুষ-মহিলা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো, সৎকাজে আদেশ করা এবং অসৎকাজে নিষেধ করা। অর্থাৎ সর্বোত্তম সৎকাজ হলো পবিত্র সুন্নত মুবারক। তাই, প্রত্যেককেই পবিত্র সুন্নত মুবারক পালন করতে হবে এবং অপরকে পবিত্র সুন্নত মুবারক পালনে আদেশ ও উৎসাহিত করতে হবে। সাথে সাথে বিদয়াত-বেশরা ও পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ সব কাজ ছেড়ে দিতে হবে এবং বেশরা-বিদয়াত কাজে বাধা দিতে হবে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ-
তোমাদের কেউ যখন অসৎকাজ অর্থাৎ পবিত্র শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ দেখবে, তখন হাতে বাধা দিবে। হাতে বাধা দিতে না পারলে মুখে বাধা দিবে। আর মুখে বাধা দিতে না পারলে অন্তরে খারাপ জেনে দূরে সরে থাকবে। এরপরে ঈমানের আর কোন স্তর নেই।

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা জাল্লা শানুহূ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালাম শরীফ-
তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তোমরা সৎকাজে আদেশ করবে এবং অসৎকাজে নিষেধ করবে।

সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
কুফরীর কারণে সমস্ত নেক আমল বরবাদ হলেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার শান মুবারকে খুশি প্রকাশ করলে অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করলে উক্ত আমলের প্রতিদান কখনো নষ্ট হয়না। তাই, মুসলমান পুরুষ-মহিলা প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- সর্বাবস্থায় সর্বক্ষেত্রে সর্বাধিক মুহব্বত ও গুরুত্বের সাথে সার্বিকভাবে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
আবু লাহাবকে দেখলাম, জাহান্নামে পিপাসা পিপাসা বলে চিৎকার করছে, অতঃপর তার দু'আঙ্গুলের মাঝখান দিয়ে শীতল পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যার কারণে তার আযাবের কষ্ট লাঘব হয়ে যায়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, এ নিয়ামত সে কি কারণে লাভ করছে? সে বললো, (ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারকে খুশি প্রকাশ করে হযরত ছুয়াইবিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে আজাদ করার কারণে।

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা জাল্লা শানুহূ তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
যে ব্যক্তি ঈমানকে অস্বীকার করলো অর্থাৎ কুফরী করলো, সে তার আমলকে ধ্বংস করলো এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে হাক্বীক্বীভাবে রুজু হয়ে সার্বিকভাবে উনাদেরই যিকির-ফিকিরে প্রতিটি মুহূর্ত অতিবাহিত করা প্রত্যেক মু’মিন-মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক স্মরণ হতে গাফিল থাকা সময়গুলো ব্যতিত অন্য কোন কিছুর জন্য জান্নাতবাসীর আফসুস থাকবেনা।

মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা জাল্লা শানুহূ তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
কসম! আছর বা সময়ের।