আজ সুমহান বরকতময় সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ৩ তারিখ। সুবহানাল্লাহ!
যা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
এবং নবম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ ও নকশ্বন্দিয়া তরীকার ইমাম হযরত খাঁজা বাহাউদ্দীন নকশ্বন্দ বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! তাই এ উপলক্ষে সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনাদের সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ করা।

আজ সুমহান বরকতময় সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ৩ তারিখ। সুবহানাল্লাহ! যা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীমাহ শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! পাশাপাশি খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ!
আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনাদের পবিত্র জীবনী মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং উক্ত মুবারক দিবসে মাহফিল করা।



রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার, অত্যন্ত স্নেহময়ী বানাত (মেয়ে) এবং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা চার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের একজন অর্থাৎ তৃতীয়া বানাত সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত রিসালত মুবারক প্রকাশের প্রায় ৫ বছর পূর্বে ১১ই জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুস্ সাব্ত শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার প্রায় ৬ মাস পর সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ৩ তারিখ লাইলাতুল জুমুয়াহ তথা খমীস দিবাগত বাদ-মাগরিব মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক নির্দেশে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ সম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ২০ বছর। আর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ৪৯ বছর। তিনি ৯ম হিজরী সনের পবিত্র ৬ই রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ২৬ বছর ৩ মাস ২৫ দিন দুনিয়ার যমীনে অবস্থান মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং উনার পবিত্র জানাযা নামায পড়ান। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মূল নাম মুবারক হচ্ছেন- হযরত উছমান আলাইহিস সালাম। কুনিয়াত বা কুননিয়াত মুবারক আবূ আবদুল্লাহ, আবূ আমর, আবূ লায়লা। বিশেষ উপাধি মুবারক যুন্ নূরাইন ও গনী। তিনি ‘আমুল ফীল’ (হস্তী বাহিনীর আগমনের বছর)-এর ৬ বছর পর ৫৭৬ খৃঃ. সনে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আসইয়াদ, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস উনার ৩ তারিখ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তিনি উনার পবিত্র শাহাদাত উনার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন। একদিন শেষ রাত্রে তিনি আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি বলছেন: “হে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনি আমাদের নিকট এসে একত্রে ইফতার করুন।” অবশেষে ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার পবিত্র ১৮ই যিলহজ্জ শরীফ ৩৫ হিজরী সনে কয়েকজন বিদ্রোহী উনার গৃহে প্রবেশ করে। উক্ত বিদ্রোহী ঘাতক দল পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতরত অবস্থায় উনাকে শহীদ করে, সেদিন তিনি রোযা রেখেছিলেন। পবিত্র শাহাদাত গ্রহণের সময় উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৮২ বৎসর ৯ মাস ১৫ দিন। পবিত্র ‘জান্নাতুল বাক্বী’ কবরস্থানের ‘হাশশে কাওকাব’ নামক অংশে (জান্নাতুল বাক্বী উনার পূর্ব সীমানায় উঁচু স্থানে) উনার সম্মানিত রওজা শরীফ অবস্থিত। হযরত যুবাইর ইবনে মুতয়িম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র জানাযা নামায উনার ইমামতি করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের ইছলাহর জন্য এমন একজন ব্যক্তিত্বকে প্রেরণ করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করবেন।” অর্থাৎ বিদয়াত, বেশরা এবং পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার বিগর্হিত কাজগুলোর সংশোধন করবেন। সুবহানাল্লাহ! সেই রকম একজন খাছ ও বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ হলেন- খাজায়ে খাজেগাঁ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বুখারী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি ৭১৮ হিজরী সনের পবিত্র ১৪ই মুহররম শরীফ, ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ বুখারার নিকটবর্তী “কাছরে আরেফান” নামক স্থানে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে হযরত বাবা সাম্মাসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজের সন্তান হিসাবে কবুল করেছিলেন এবং হযরত সাইয়্যিদ আমীর কুলাল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে রুহানী তরবীয়ত (তা’লীম) দান করেন। তবে তিনি সবচেয়ে বেশী রুহানী ফয়েজ প্রাপ্ত হন হযরত খাজা আব্দুল খ¦ালিক্ব গাজদাওয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে। উনার বয়স মুবারক যখন চার বৎসর তখন থেকে উনার কারামত মুবারক প্রকাশ হতে থাকে। এই সময় তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, হযরত হাকীম আতা রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি তুর্কী মাশায়েখ উনাদের একজন ছিলেন, উনাকে দরবেশীর তালক্বীন দিচ্ছেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত খাজা বাহাউদ্দীন নকশবন্দ বোখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলতেন: যখন আমার শেষ সময় আসবে তখন কেমন করে মৃত্যু বরণ করতে হয়, তা সকলকে শিখিয়ে দিবো। সুতরাং যখন উনার শেষ সময় আসলো, তখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পূর্বে তিনি দু’ হাত উঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে দোয়া করলেন এবং দু’ হাত মুখের উপর ফিরিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার সমীপে নিজেকে সমর্পন করে দিলেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তৈমুর লঙ্গের শাসন আমলে হিজরী ৮০৮ সনের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাসের ৩ তারিখ লাইলাতুছ ছুলাছা বোখারা থেকে ১ মাইল দূরে অবস্থিত কাছরে আরেফানে তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ লাভ করেন।

বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬ষ্ঠ পর্ব)

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত

ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সাক্ষাত:



সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমার জন্য আপনি দোয়া করুন। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আমি প্রত্যেক নামাযে তাশাহ্হুদে এই দোয়াই করে থাকি, আয় বারে ইলাহী! মু’মিন নর-নারীকে ক্ষমা করুন! হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম! যদি কেউ ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারেন, তখন দোয়া উনাকে তালাশ করবে।

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমাকে আরো নছীহত করুন। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, নিশ্চয়ই চিনেছি। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যদি উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকে না চিনেন, তবে সেটাই উত্তম। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আপনাকে জানেন? তিনি বললেন, হাঁ, জানেন। হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যদি তিনি ব্যতীত অন্য কেউ আপনাকে না জানেন, তাতেও আপনার কোন ক্ষতি নেই।

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, একটু অপেক্ষা করুন, আমি আপনার জন্য কিছু নিয়ে আসি। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের হাত পকেটে প্রবেশ করিয়ে দু’টি পয়সা বের করে বললেন, ইহা আমি উট চরিয়ে উপার্জন করেছি। যদি আপনি এটা নিশ্চিত করে বলতে পারেন যে, এটা খরচ না করা পর্যন্ত আমি জীবিত থাকব, তাহলে আমি আরো গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, অনেক কষ্ট পেয়েছেন। এখন ফিরে যেতে পারেন। ক্বিয়ামত খুব নিকটে, সেখানেই আপনার সাথে আবার দেখা হবে। আমি এখন ক্বিয়ামতের পাথেয় সংগ্রহে ব্যস্ত - এই বলে হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে বিদায় দেন। (তাযকিরাতুল আওলিয়া)

বিভিন্ন বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি এক সময় ইয়ামেন থেকে কূফায় আসেন। এখানে তিনি নিজের অবস্থা গোপন রাখতে চেষ্টা করতেন। অপরিচিত ভীনদেশী লোক হওয়ায় এবং উনার দরিদ্রতা ও অসহায়তার কারণে লোকেরা উনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যভাবে আচরণ করত। পাগল মনে করে ছেলেরা উনাকে কষ্ট দিত। কিন্তু এসব তিনি নীরবে সহ্য করতেন। কোন অবস্থাতেই নিজেকে প্রকাশ করতেন না।

একবার এইরূপ ঠাট্টা-বিদ্রুপকারী একটি লোক সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুখে হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ এবং মর্যাদা মর্তবার কথা শুনে কূফায় এসে লোকদের নিকট বর্ণনা করার পর উনার ব্যাপারে তাদের ধারণা পরিস্কার হয়। অতঃপর যখন উনার খ্যাতি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তিনি সাধারণ লোক থেকে আত্ম-গোপন করেন। কতিপয় ব্যক্তি যাঁরা উনার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন এবং উনাকে মুহব্বত করতেন, উনাদের সাথে উনার সাক্ষাত হয়। উনাদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তির সাক্ষাতকার বর্ণনা করা হলো।



হযরত হারাম বিন হায়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত:



অতঃপর হযরত হারাম বিন হায়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত পেয়েছিলেন। (কোন কোন কিতাবে উনার নাম হযরত হারাম বিন জাবান রহমতুল্লাহি আলাইহি লিখা হয়েছে তা ঠিক নয়। আরবীতে হারাম বিন হায়্যান এইভাবে লিখা হয়:

هرم بن حيان হযরত হারাম বিন হায়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একজন প্রথম তব্কার তাবেঈ, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারকপ্রাপ্ত মুহাদ্দিছ এবং উচ্চ স্তরের ‘আবিদ, যিনি বছরার অধিবাসী ছিলেন। (তাবাকাত)

তিনি বলেন, যখন আমি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কথা শুনলাম, তখন উনাকে দেখার আকাঙ্খা আমার প্রবল হলো। আমি কূফায় এসে উনার অনুসন্ধান করতে লাগলাম। হঠাৎ একদিন উনাকে ফোরাত নদীতে ওযূ করতে ও কাপড় ধৌত করতে দেখলাম। পূর্বে উনার যেসব লক্ষণের কথা শুনেছিলাম, সে অনুসারে উনাকে চিনে সালাম দিলাম। তিনি সালামের জাওয়াব দিয়ে আমার দিকে চাইলেন। আমি উনার সাথে মোছাফাহা করতে চাইলে তিনি হাত বাড়িয়ে দিলেন না। আমি বললাম, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি! মহান আল্লাহ পাক আপনার প্রতি রহম করুন ও আপনাকে ক্ষমা করুন। (চলবে)

image

বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫ম পর্ব)


সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত

ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সাক্ষাত:



অতঃপর হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিরকা মুবারকটি দিন, তারপর দোয়া করবো। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র খিরকা মুবারকটি প্রদান করলে হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তা গ্রহণ করে বললেন, একটু অপেক্ষা করুন। এই বলে তিনি সিজদায় গিয়ে বললেন, আয় বারে ইলাহী! যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এটি আমাকে দান করেছেন, যে পর্যন্ত উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলকে আপনি মাফ না করেন, সে পর্যন্ত আমি এই পবিত্র খিরকা মুবারক পরবো না।

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা উনাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন আপনার কাজ বাকী রয়েছে। আওয়াজ হলো, আপনার দোয়ার ওছীলায় কিছু সংখ্যক লোককে মাফ করবো। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যে পর্যন্ত সকলকে মাফ করা না হবে, সে পর্যন্ত আপনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই পবিত্র খিরকা মুবারক আমি পরিধান করবো না। আওয়াজ হলো, কয়েক হাজার লোককে মাফ করা হলো।

হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি সিজদায় থেকে এইরূপ আলাপে রত ছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সম্মুখে উপস্থিত হন। হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনারা এখানে কেন এসেছেন? যে পর্যন্ত সমস্ত উম্মতকে মাফ করা না হবে, সে পর্যন্ত এই পবিত্র খিরকা মুবারক আমি পরবো না। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরনের কম্বলের দিকে নজর করলেন এবং তাতে ১৮ হাজার আলমের ধন-দৌলত দেখে এতই বিস্মিত ও অভিভূত হলেন যে, খিলাফতের প্রতি উনার ঘৃণার উদ্রেক হলো। তিনি বলে উঠলেন, এমন কেউ কি আছে, যে এক টুকরা রুটির বদলে খিলাফত ক্রয় করবে? হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যার বুদ্ধি নেই সে ব্যক্তি তা ক্রয় করবে। দূরে ফেলে দিন, যার ইচ্ছা হয় কুড়িয়ে নিক। বেচা-কেনার কি প্রয়োজন?

অতঃপর হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি খিরকা মুবারক পরিধান করে বললেন, আয় বারে ইলাহী! এই খিরকা মুবারক উনার তোফায়েলে রাবী‘য়া ও মুদ্বার গোত্রদ্বয়ের ছাগ পালসমূহের লোমরাশির অনুরূপ উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে ক্ষমা করে দিন। (প্রকাশ থাকে যে ঐতিহাসিকদের মতে সেই সময়ে এই উভয় গোত্রের কারো ছাগপালের সংখ্যা বিশ হাজারের কম ছিল না।)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সব কথা শুনে চুপ করে রইলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি কেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে সাক্ষাত করেননি? উত্তরে তিনি বললেন, আপনারা তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি হাঁ বললে, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, সম্ভবতঃ আপনারা উনার জুব্বা মুবারকও দেখেছেন।

এরপর তিনি বললেন, আপনারা কি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতকারী? উনারা উত্তরে হ্যাঁ বললে, হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, যদি আপনারা উনার প্রকৃত মুহব্বতকারী হতেন, তাহলে শত্রুরা যেদিন উনার মহাপবিত্র নূরুল্লাহ বা দাঁত মুবারক শহীদ করে, সেদিন কেন আপনারা নিজেদের দাঁত ভেঙ্গে ফেললেন না? অতঃপর তিনি নিজ দাঁতগুলো উনাদেরকে দেখালেন। উনার সব কয়টি দাঁতই ভাঙ্গা ছিলো। তিনি বললেন, আমি চর্মচক্ষে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে না দেখেই নিজের দাঁতগুলি ভেঙ্গে ফেলেছি। কেননা, আমি যখন একটি দাঁত ভাঙ্গলাম, মনে সন্দেহ হলো, হয়তবা উনার অন্য দাঁত মুবারক শহীদ হয়েছে। এভাবে একে একে সমস্ত দাঁতই ভেঙ্গে ফেললাম।

এ কথা শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের শরীর মুবারক কেঁপে উঠলো। উনারা বুঝতে পারলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুহব্বত বেমেছাল। তখন উনারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগলেন, ইনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেননি, অথচ উনার প্রতি কত গভীর মুহব্বত। (চলবে)

image

বিশিষ্ট তাবেয়ী, হযরত উওয়াইস বিন ‘আমির আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪র্থ পর্ব)


সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত

ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাথে সাক্ষাত:



সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি এ স্থানে অবস্থান করুন, আমি পবিত্র মক্কা শরীফে গিয়ে আপনার খরচের জন্য কিছু নিয়ে আসছি। আর আমার এই কাপড়খানা আপনার নিকট রেখে যাচ্ছি, আমার ও আপনার মধ্যে ওয়াদার সাক্ষ্য হিসাবে। তিনি বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আমার ও আপনার মধ্যে কোন ওয়াদার প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় না, আজকে দিনের পর আমাকে আবার পাবেন। খরচা দিয়ে আমার কি হবে? কাপড় দিয়েই বা আমার কি হবে? আপনি কি দেখছেন না, আমার একটি পশমি ইযার (লুঙ্গী) ও একটি পশমি চাদর রয়েছে। এগুলো ছিঁড়ে যাওয়া পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকবো, তা আপনি কি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন?

আপনি কি বলতে পারেন, আমার এই পুরাতন সেন্ডেল জোড়া অকেজো হওয়া পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকবো? আমি পশু চরিয়ে পারিশ্রমিক হিসাবে ৪ দিরহাম পেয়েছি, আপনি কি বলতে পারেন ইহা খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত আমি অবকাশ পাবো? হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনার এবং আমার সম্মুখে রয়েছে একটি বিস্তীর্ণ সংকটপূর্ণ উপত্যকা যা হালকা বোঝা না হলে কোন পথিক অতিক্রম করতে পারবে না।

তিনি আরো বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি এ পথ ধরুন, আর আমি এই পথ ধরি। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফের পথ ধরলেন। আর হযরত উওয়ায়েস ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার উটগুলি হাঁকিয়ে নিয়ে চললেন এবং উটের মালিককে উটগুলি সোপর্দ করে নিজে এ কাজ থেকে অব্যাহতি নিলেন। অতঃপর তিনি বিছাল শরীফ পর্যন্ত খালিক, মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকলেন। (হিলইয়াতুল আওলিয়া)

হযরত উওয়াইস আল-ক্বারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের সাক্ষাত ও আলোচনা সীরতের কিতাবসমূহে একাধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ হযরত শায়েখ ফরীদুদ্দীন আত্তার রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত তাযকিরাতুল আওলিয়া কিতাবে এই ঘটনার বর্ণনা এভাবে দেয়া হয়েছে-

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের অনেক পরে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত আমলে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা কূফায় গিয়ে খুতবার মধ্যে সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, হে কূফাবাসীগণ! আপনারা কি হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সন্ধান দিতে পারেন? উনারা উত্তরে বললেন, তিনি একজন পাগল, লোকালয়ে বাস করেন না, জঙ্গলে উট চরিয়ে থাকেন। দিনশেষে একবার শুকনা রুটি আহার করেন। লোকে যখন হাসে, তিনি তখন কাঁদেন। আর লোকে যখন কাঁদে তিনি তখন হাসেন।

এরপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা একটি নির্জন স্থানের দিকে রওয়ানা হয়ে উনাকে প্রথমে নামাযরত অবস্থায় দেখেন। তিনি লোক আগমনের শব্দে নামায সংক্ষেপ করে ছাহাবীগণ উনাদেরকে সালাম দেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার সালামের জাওয়াব দিয়ে উনার নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা)। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমরা সবাই মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা। আপনার প্রকৃত নাম কি? উত্তরে তিনি বললেন, উওয়ায়েস।

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনার ডান হাত খানা দেখান। হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ডান হাত দেখালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নছীহত মুবারক অনুযায়ী উনার ডান হাতে সাদা চিহ্ন দেখতে পেয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উনার হাতে চুম্বন করে বললেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং নিজ খিরকা মুবারক আপনাকে দান করেছেন এবং উনার উম্মতগণের জন্য দোয়া করতে বলে গিয়েছেন।

হযরত উওয়াইস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, দোয়ার জন্য তো আপনারাই সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং উপযুক্ত। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমরা তা করছি। কিন্তু আপনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক পালন করুন। হযরত উওয়ায়েস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনি বিশেষভাবে বিবেচনা করে দেখুন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যার কথা বলেছেন তিনি অন্য কেউ হবেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনার হাতের যে চিহ্নের কথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গেছেন, আমি সে চিহ্ন দেখছি।

image

সাহাবা ই কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য ২৪ ঘন্টা খুশি মুবারক প্রকাশ করতেন।

সকল কে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

image

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করা, খিদমত মুবারক করা, সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত

সুন্নত মুবারক তা’লীম
হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করতে হবে

হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদিন তিনজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আসলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আমল (ইবাদত) মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উনাদেরকে যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আমল (ইবাদত) মুবারক সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হলো, তখন উনারা নিজেদের আমলগুলো কম মনে করলেন এবং বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনিতো উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পুত-পবিত্র রেখেছেন।



অতঃপর উনাদের মধ্যে একজন বললেন, আমি সারা রাত্র নামায পড়ব একটুও ঘুমাব না। আরেকজন বললেন, আমি সারা বৎসর রোযা রাখবো একদিনও ভাঙ্গব না। আরেক জন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি বিবাহ-শাদী করবো না, আহলিয়াদের নিকট যাব না।



এমন সময় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন এবং বলেন, ‘হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনারাই কি এরূপ কথা বলেছেন যে, সারারাত্র নামায পড়বেন, সারা জীবন রোযা রাখবেন এবং বিবাহ করবেন না।’ তখন উনারা বললেন, হ্যাঁ আমরা এগুলো বলেছি।



তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, আমি আপনাদের চেয়ে সব চাইতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বেশী ভয় করি এবং আপনাদের চেয়ে আমি বেশী মুত্তাকী পরহেযগার। তথাপি আমি রাত্রে নামায পড়ি, আবার ঘুমাই, রোযা রাখি ও ভঙ্গ করি এবং আমি মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ (মহাসম্মানিত শাদী মুবারক) করেছি। এটাই আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক, সুতরাং যে আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হতে ফিরে যাবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মিশকাত শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي.

অর্থ: যারা আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক থেকে বিমুখ থাকবে তারা আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারী শরীফ)



উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার মধ্যে তাফরীত এবং ইফরাত অর্থাৎ বাড়ানো ও কমানোর অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। কাজেই, আমাদের সকল আমল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আদর্শ মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বায় করতে হবে, কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরযে আইন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

image

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে ঈমানদাররা! তোমরা ছদিক্বীন বা সত্যবাদী অর্থাৎ আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করো।