পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ

অর্থ: “ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই নারীগণ হচ্ছেন আওরত বা আবরণ স্বরূপ। কাজেই, যখন সে বাড়ির বাইরে বের হয় শয়তান (তার দ্বারা গুনাহের কাজ করানোর জন্য) উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে।” নাউযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা

(ধারাবাহিক)

বিদ্যুৎ চমকানোর সময়:


যে রাস্তা দিয়ে বিদ্যুৎ চমকায় তা সাধারণত ১ ইঞ্চি চওড়া এবং ১-৫ মাইল লম্বা হতে পারে। অতি উচ্চমানের বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে এই সরু রাস্তার কণাগুলি অত্যধিক গরম হয়ে প্লাজমায় পরিণত হয়। তাপমাত্রা প্রায় ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডিগ্রী সেলসিয়াস হতে পারে। যা সূর্যের উপরিপৃষ্ঠ থেকে ৫ গুণ বেশী গরম। এই উত্তপ্ত অংশ আশেপাশের বাতাসকে প্রচ- শক্তিতে ধাক্কা দেয়। ফলে শব্দের চেয়ে বেশী গতি সম্পন্ন শকওয়েভ (Shockwave) বিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়। যা প্রথম ১০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত প্রভাব ফেলে। আর এই বিস্ফোরণের শব্দই হচ্ছে বজ্রধ্বনি। এই বজ্রধ্বনি শব্দের গতিতে ৩৪০ মিটার/সেকেন্ড বেগে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এজন্য বিদ্যুৎ চমকানো এবং বজ্রধ্বনির মাঝে যদি ৩ সেকেন্ড সময় পার্থক্য হয় তাহলে ১ কি.মি. দূরত্বে বজ্রপাত হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবে ধারণা করা হয় যে, মেঘ থেকে যমীনে বিদ্যুৎ নেমে আসে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে যে বিদ্যুৎ চমকানো আমরা দেখতে পাই তা যমীন থেকে মেঘের দিকে বিদ্যুতের প্রত্যাবর্তন পথ। যে বিষয়টি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি يَرْجِعُ এই আরবী শব্দ মুবারক দিয়ে উল্লেখ করেছেন। যার অর্থ মুবারক হচ্ছে প্রত্যাবর্তন করা।

আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে- বিজ্ঞানীরা এতোদিনে যমীন থেকে মেঘের দিকে বিদ্যুৎ প্রত্যাবর্তন এর ঘটনাটিকে Return Stroke বা প্রত্যাবর্তন স্ট্রোক নামকরণ করে প্রচার করতেছে। অথচ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদ্যুৎ চমকানোর প্রবাহ, প্রত্যাবর্তন ও সময়কাল- এ বিষয়গুলি ১৪ শত বছর আগেই নিখুঁত ও সুষ্পষ্টভাবে বর্ণনা মুবারক করেছেন। যা উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে। যা তৎকালীন যামানায় একেবারে কল্পনাতীত অর্থাৎ বিষয়টি উনার ইলমে গাইব উনার বহিঃপ্রকাশ এবং একটি সুমহান মু’জিযা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!! সুবহানাল্লাহ!!!

বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (১ম পর্ব)

দ্বীন ইসলাম উনার প্রাথমিক সময়ে বিশেষ কার্যক্রম:



নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলম অর্জনকে অত্যাধিক গুরুত্ব মুবারক দিতেন। আদেশ এবং নির্দেশনা মুবারক প্রদান করতেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত জিন্দেগী মুবারকে সবাইকে ইলম অর্জনের জন্য তাগিদ মুবারক দিয়ে গেছেন। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক ছিলেন ইলম উনার খনি মুবারক।

পবিত্র মক্কা শরীফ উনার অত্যন্ত নিরিবিলি স্থানে অবস্থিত হযরত আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাড়ি মুবারকে প্রতিষ্ঠা করা দারুল আরকাম মুবারক। যা ইলম অর্জনের একটি আলোকবর্তিকা ছিলো। এখানে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা একত্রিত হয়ে সম্মানিত ইলম মুবারক গ্রহণ করতেন, চর্চা মুবারক করতেন। সুবহানাল্লাহ!

যারা প্রাথমিকভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করতেন উনারা দারুল আরকাম শরীফেই পবিত্র ইলম মুবারক অর্জন করতেন। নতুন কোন গোত্রের লোক দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলে, তাদের শিক্ষা দানের জন্য অভিজ্ঞ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রেরণ করা হতো। এভাবে গোত্রে গোত্রে বিভিন্ন ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা আয়তন গড়ে উঠতে থাকে। মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক উনার পর পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ ইলম উনার এক মহাকেন্দ্র হিসেবে রূপ লাভ করেন।

মসজিদে নববী শরীফ উনার প্রাঙ্গণে ‘সুফফা’ নামে একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ও গড়ে তোলা হয়। বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষ এখানে শিক্ষা গ্রহণের জন্য আসতেন। অনেক ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন আবাসিক ছাত্র-শিক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যয় বহন করা হতো পবিত্র বাইতুল মাল থেকে। কূফা, বসরা, সিরিয়া, মিশর, রোম, পারস্য প্রভৃতি স্থান থেকে আগত শিক্ষার্থীরা মদীনা শরীফে এসে ভীড় জমাতেন।

সভ্যতার মূলত সৃষ্টিই হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপরিসীম দয়া ইহসান মুবারকে। তিনি নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষা বিস্তারে এত গুরুত্ব দিতেন যে, পবিত্র বদরের জিহাদে শিক্ষিত যুদ্ধ বন্দীদের মুক্তিপণ নির্ধারণ করেছিলেন, কয়েকজন মুসলমানকে শিক্ষা দান করার মাধ্যমে।



হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের পদক্ষেপ:

শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষা বিস্তার ও প্রসারে উনাদের অবদান হচ্ছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অসামান্য পরামর্শ মুবারকে পবিত্র কুরআন শরীফ উনাকে গ্রন্থাকারে একত্রে সংকলনের মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও এই পবিত্র কাজে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি পঠনরীতিতে পবিত্র কুরআন শরীফ সংকলন মুবারক করেন।

হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের যুগে রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে শিক্ষা বিস্তারের জন্যও ব্যবস্থা করা হয়েছিলো। কোথাও সেনাবাহিনী প্রেরণের সময় সেনাপ্রধান নিয়োগ করা হতো- শিক্ষিত অভিজ্ঞ নিষ্ঠাবান ব্যক্তিকে। উনারা বিজিত অঞ্চলে শিক্ষা দানে ব্যাপৃত হতেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসাধারণকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য মক্তব ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা দানের জন্য উপযুক্ত উস্তাদ নিয়োগ করতেন এবং বাইতুল মাল থেকে উনাদের বেতন-ভাতা দিতেন।

বাস্তুহারা অনগ্রসর বেদুইনদের জন্য সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ অধ্যয়নে গাফিলতিতে শাস্তির ব্যবস্থা পর্যন্ত ছিলো। সুবহানাল্লাহ!



উমাইয়া শাসকদের পদক্ষেপ:

উমাইয়া আমলের শুরুতে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুবারক তত্ত্বাবধানে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিস্তারের কাজ গুরুত্ব সহকারে চলতে থাকে। উনাদের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাট অগ্রগতি সাধিত হয়।



পবিত্র হাদীছ শরীফ সংকলন:


উমাইয়া শাসক হযরত উমর ইবনে আবদুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সময়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হাদীছ শরীফ সংকলনের কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পাদন করা হয়। এ সময় পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষার ব্যাপক অগ্রগতি হয়। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বহু সংকলন এ সময় রচিত হয়।



শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন:


সালতানাতের বিভিন্ন অঞ্চলে পবিত্র হাদীছ শরীফ চর্চা ও শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে ওঠে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী এসব শিক্ষাকেন্দ্রে জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় শিক্ষা গ্রহণ করে। দামেস্ক, কূফা, বসরা, পবিত্র মক্কা শরীফ, পবিত্র মদীনা শরীফ প্রভৃতি অঞ্চলে শিক্ষা কেন্দ্রগুলো ছিলো খুবই বিশাল। সেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা লাভের জন্য বিশ্বের দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতো।

-মুহম্মদ শাহজালাল।

ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ

হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (১৬৪¬)

কি বর্ণনা করলেন?

لَئِن لَّمْ يَنتَهِ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ وَالْمُرْجِفُونَ فِي الْمَدِينَةِ

যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, যদি এর পরে মুনাফিক্বগুলি বিরত না হয়। আপনাদেরকে কষ্ট দেয় এবং যাদের অন্তরে গালিজ আছে এরা কষ্ট দেয়। এবং যারা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে এরা অপবাদ ছড়ায়, কষ্ট দেয় তাহলে কি হবে?

لَنُغْرِيَنَّكَ بِهِمْ ثُمَّ لا يُجَاوِرُونَكَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً

তাহলে অবশ্যই আমি উনাদেরকে সেই অনুমতি মুবারক দিবো, ক্ষমতা মুবারক দিবো। অর্থাৎ উম্মতকে বলা হবে এদেরকে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে যেন বের করে দেয়া হয়। শুধু বের করে দেয়া না, এরা হচ্ছে কি?

مَلْعُونِينَ أَيْنَمَا ثُقِفُوا

যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি হুকুমটা বর্ণনা করলেন। কি বর্ণনা করলেন? এরপরে যদি তারা বিরত না হয় তাহলে তাদের হুকুম হচ্ছে, এরা হচ্ছে লা’নতগ্রস্ত। তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে

أُخِذُوا

তাদেরকে পাকড়াও করবেন।

وَقُتِّلُوا

টুকরা টুকরা টুকরা করবেন।

تَقْتِيلاً

করার মতো। এদের শুধু মৃত্যুদন্ড দিলে হবে না, কচুকাটা করে টুকরা টুকরা করে এদেরকে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই যে বিষয়টা বর্ণনা করা হলো,

سُنَّةَ اللهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلُ وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللهِ تَبْدِيلاً

এটা যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার পূর্বেরই ফায়াসালা মুবারক। এটা কোন পরিবর্তনশীল নয়। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান মুবারকে যারা চূ-চেরা, কীল-কাল করবে তাদের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!





আর সেটাই মহাসম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে দেখা যাচ্ছে, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন-

أَنَّ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ الْمُؤْمِنِيْنَ الرَّابِعَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَتَلَتْ جَارِيَةً لَهَا سَحَرَتْهَا،

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আর রবিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এক দাসি ছিল, যেই দাসিটা উনাকে জাদু করেছিল। জাদু ক্রিয়া করতে পারেনি। কিন্তু তিনি তার শাস্তি দিলেন মৃত্যুদন্ড। তাকে ক্বতল করা হলো। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে দেখা যাচ্ছে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের কষ্ট দিলেই তার শাস্তি মৃত্যুদন্ড। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

সেটাই হযরত ইমামুল আউওয়াল মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লালি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন-

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ آذَى أَهْلَ بَيْتٍ

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন। (একাধিক বর্ণনা।) যে কষ্ট দেয়, মহাসম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে

فَقَدْ آذَانِى وَمَنْ آذَانِى فَقَدْ آذَى اللَّهَ وَمَنْ آذَى اللَّهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَّأْخُذَهُ

যে আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কষ্ট দিলো সে যেন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিলো। আর উনাকে যে কষ্ট দিলো সে যেন যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট দিলো। আর যে উনাকে কষ্ট দিলো অবশ্যই তাকে পাকড়াও করা হবে। তাকে জাহান্নামে দেয়া হবে। নাউযুবিল্লাহ! এটা পরবর্তীতে কিন্তু জারি ছিলো।

পর্দা পালন করা পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتِ اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ

অর্থ: “ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই নারীগণ হচ্ছেন আওরত বা আবরণ স্বরূপ। কাজেই, যখন সে বাড়ির বাইরে বের হয় শয়তান (তার দ্বারা গুনাহের কাজ করানোর জন্য) উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে।” নাউযুবিল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)

মুসলমানদের জন্য প্রাণীর ছবি মূর্তির অপবিত্রতা থেকে এবং বোবা শয়তান হওয়া থেকে বেঁচে থাকা একান্ত জরুরী

সরকার এদেশের ৯৮% মুসলমানদেরকে ছবি তুলতে বাধ্য করেছে। আবার যারা নামধারী আলেম তারা ছবির বিরুদ্ধে তো বলেই না বরং সর্বদা ছবি তোলে, টিভি দেখে, টিভিতে ছবির মাধ্যমে ওয়াজ করে, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে। নাউযুবিল্লাহ! যার জন্য সাধারণ মানুষ দুনিয়াদার আলেমদের কারণে ছবিকে জায়িয মনে করে সর্বদা ছবি তুলতেছে। নাউযুবিল্লাহ! অথচ পবিত্র কুলআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে ছবির বিরুদ্ধে শত শত দলিল রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো পবিত্র সূরা হজ্জ্ব শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা ছবি মূর্তির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো।”

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ প্রত্যেক ছবি তোলনেওয়ালা জাহান্নামী।”

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “ নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যে প্রাণীর ছবি তোলে, আঁকে। এরকম শত শত দলিল আদিল্লাহ থাকার পরও কি করে নামধারী আলিমরা ছবি তুলতে পারে? আসলে এরা হচ্ছে ধর্মব্যবসায়ী। এরা নিজেরা জাহান্নামী; এদের কারণে সাধারণ মুসলমানও জাহান্নামী হচ্ছে। আলিম উনাদর দায়িত্ব হলো নিজেরা সমস্ত হারাম, নাজায়িয কুফরী শেরকী থেকে বেঁচে থাকবেন এবং অন্য মুসলমানদের হারাম নাজায়েয আমল থেকে বেঁচে থাকার জন্য ওয়াজ-নছিহত করবেন, সতর্ক করবেন।এই নামধারী আলিমরা তাদের কোন দায়িত্বও পালন করেনা, গুনাহ থেকেও বেঁচে থাকে না। মুসলমানদের জন্য ফরয হচ্ছে, এই সমস্ত আলিম ও সরকারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে প্রতিবাদ করা। সবাই একসঙ্গে প্রতিবাদ করলে অবশ্যই সরকার শুনতে বাধ্য হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“ যে অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করেনা, সে বোবা শয়তান।” যে প্রতিবাদ করবে না, সে বোবা শয়তান হবে। আর শয়তান তো জাহান্নামীই হবে। নাউযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানার্থে সমস্ত মুসলমানদেরকে সমস্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ একসঙ্গে করার এবং কামিয়াবী হাছিল করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

-দৈনিক আল ইহসান শরীফ

মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
হায়াত, মাল-সম্পদ এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব যারা আদায় করবেনা, তাদেরকে কিয়ামতের দিন অসহায় বকরীর ন্যায় উপস্থিত করা হবে।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পরকালে নেককার ও বদকারদের অবস্থা কিরূপ হবে সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, হায়াত, মাল-সম্পদ এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব যারা আদায় করবেনা, তাদেরকে কিয়ামতের দিন অসহায় বকরীর ন্যায় উপস্থিত করা হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “কিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে অসহায় বকরীর ন্যায় আনা হবে। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মুখে দাঁড় করানো হবে। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে বলবেন, তোমাকে হায়াত দিয়েছি, মাল-সম্পদ দিয়েছি, তোমার প্রতি নিয়ামত দান করেছি অর্থাৎ দ্বীনে হক্ব দান করেছি। তুমি এই নিয়ামত মুবারক কি কাজে ব্যয় করেছো? তখন বান্দা বলবে, হে আমার রব! আমি সঞ্চয় করেছি ও উহা (ব্যবসা করে) বৃদ্ধি করেছি এবং যা ছিল তার চেয়ে বেশি রেখে এসেছি। অতঃপর আমাকে পুনরায় পাঠিয়ে দিন আমি সমুদয় সম্পদ নিয়ে আসবো। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে বলবেন, আমাকে দেখাও কি পাঠিয়েছো? অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আমি জমা করেছি ও উহা (ব্যবসা করে) বৃদ্ধি করেছি এবং যা ছিল তার চেয়ে বেশি রেখে এসেছি। আমাকে পুনরায় পাঠিয়ে দিন আমি সমুদয় সম্পদ নিয়ে আসবো। যেহেতু বান্দা কোনো নেকী পাঠায়নি তাই তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।” নাঊযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, ক্বিয়ামতের দিন আদম সন্তানকে অসহায় বকরীর বাচ্চার ন্যায় মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মুখে এনে তিনটি নিয়ামত সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। ১. হায়াত: সে তার হায়াতকে কীভাবে কাটিয়েছে নেক কাজে না বদ কাজে? ২. মাল-সম্পদ: সে তার মাল-সম্পদ কীভাবে উপার্জন করেছে এবং কোন পথে ব্যয় করেছে? মহান আল্লাহ পাক উনার পথে না গাইরুল্লাহর পথে? ৩. দ্বীন ইসলাম: সে কি দ্বীন ইসলাম অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করেছে না করেনি? এগুলোর হক্ব সে কীভাবে আদায় করেছে? যে হক্ব আদায় করেনি সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে পুনরায় পাঠিয়ে দিন এগুলোর হক্ব যথাযথভাবে আদায় করে ফিরে আসবো। তখন তার এ কথা গ্রহণযোগ্য হবে না যেহেতু সে কোনো নেক কাজ করেনি। তাই তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ল্য করে, আগামী দিনের (পরকালের) জন্য সে কি (নেকী) পাঠিয়েছে। অর্থাৎ, নিজের আমল সম্পর্কে প্রত্যেককে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- হায়াত, মাল-সম্পদ এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব যারা আদায় করবেনা, তাদেরকে কিয়ামতের দিন অসহায় বকরীর ন্যায় উপস্থিত করা হবে। তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে গুনাহর কাজ করা থেকে বিরত থাকা। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের যথাযথ হক্ব আদায় করা অর্থাৎ হায়াতকে নিয়ামত মনে করে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ অনুকরন করা, মাল-সম্পদকে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করা এবং দ্বীন ইসলাম মুতাবিক নিজেকে পরিচালিত করা। কাজেই, মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে উনার মুহাব্বত-মা’রিফত, তাওয়াল্লুক-নিসবত, কুরবত মুবারক হাছিল করে উনার সন্তুষ্টি মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করেন। (আমীন)

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যেন লক্ষ্য করে, আগামী দিনের (পরকালের) জন্য সে কি (নেকী) পাঠিয়েছে।”

হায়াত, মাল-সম্পদ এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার হক্ব যারা আদায় করবেনা, তাদেরকে কিয়ামতের দিন অসহায় বকরীর ন্যায় উপস্থিত করা হবে।

তাই প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে গুনাহর কাজ করা থেকে বিরত থাকা। মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের যথাযথ হক্ব আদায় করা অর্থাৎ হায়াতকে নিয়ামত মনে করে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ অনুকরন করা, মাল-সম্পদকে মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করা এবং দ্বীন ইসলাম মুতাবিক নিজেকে পরিচালিত করা।

মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
আজ মহাসম্মানিত ও বরকতময় ২৪শে যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! ১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, মুহম্মদিয়া তরীক্বার সম্মানিত ইমাম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত-নছীহত মুবারক হাছিল করে তা আমলে বাস্তবায়ন করা।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুজ জামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হিজরী ১৩ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, মুহম্মদিয়া তরীক্বার সম্মানিত ইমাম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১২৪৬ হিজরী সনের পবিত্র ২৪শে যিলক্বদ শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ শরীফ বালাকোটের জিহাদে পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত পিতা উনার নাম মুবারক সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইরফান রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং দাদা উনার নাম মুবারক সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূর রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার চতুর্থ পূর্ব পুরুষ সাইয়্যিদ মুহম্মদ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রধান খলীফা হযরত শায়খ আদম বিন নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আকাবিরে খলিফাদের মধ্যে গণ্য।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যে বয়সে বালকগণ খেলাধুলা, আমোদ-আহলাদে মত্ত থাকে তিনি সে বয়স থেকে নির্জনতা অবলম্বন এবং কাফির মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চিন্তা-ভাবনা করতেন। উনার শৈশবকাল সম্পর্কে “সাওয়ানেহ আহমদী” কিতাবে তিনি নিজেই বলেন, বাল্যকাল হতেই আমার মনে এই ধারণা বা ভাব উদয় হতো যে, একদিন আমি কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবো। তাই শৈশবেই দেখা যায় তিনি উনার সঙ্গী-সাথীদের দুই দলে বিভক্ত করে দু’টি পরস্পর সৈন্যবাহিনী দাঁড় করিয়ে দিতেন। একটি দলের আমির হয়ে তিনি উনার নাম দিতেন “মুজাহিদে ইসলাম” অন্য দলটির নাম দেওয়া হতো “কাফির বাহিনী।” এইভাবে দু’টি দলের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যেতো। যুদ্ধে যখন “মুজাহিদে ইসলাম” বাহিনী জয় লাভ করতো তখন তিনি ও উনার সঙ্গীগণ খুব জোরে শোরে তাকবীর ধ্বনি দিতেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “মাখজানে আহমদী ১৮ পৃষ্ঠায়, সাওয়ানেহ আহমদী, সীরাতে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ” করাচী ছাপা ৯০ পৃষ্ঠায় লিখা আছে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি রায় বেরেলী থেকে দিল্লী এলেন সিরাজুল হিন্দ, ইমামুল মুহাদ্দিসীন হযরত শাহ আব্দুল আজীজ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাক্ষাত ও ছোহবত লাভের জন্য। তিনি উনাকে চার তরীকায় বাইয়াত করালেন এবং হযরত শাহ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নেক ছোহবতের কারণে তিনি অতি অল্প সময়ের মধ্যে সুলুকের রাস্তা অতিক্রম করে মনজিলে মাকসুদে পৌঁছে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, “তাওয়ারিখে আজিবা” ১০/১১ পৃষ্ঠায়, “কারামতে আহমদী” ২৩ পৃষ্ঠা হতে জানা যায়, আফদ্বালুল আওলিয়া ১৩ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কামালতে নুবুওওয়াত তবকার ওলী ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনারা উনাকে স্বপ্নে সাক্ষাত দিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তিনটি খোরমা নিজের হাতে নিয়ে উনার মুখে দিচ্ছেন। জাগ্রত হওয়ার পর উক্ত স্বপ্ন তিনি নিজের মধ্যে স্থায়ী পেলেন। এরপর একদা আরো তিনি স্বপ্নে দেখেন- ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর র’বিয়া (যাহরা) আলাইহাস সালাম উনারা স্বপ্নে উনাকে গোসল করিয়ে নিজের সন্তানের মত মূল্যবান নতুন কাপড় পরিধান করালেন। এই স্বপ্নের ঘটনার পর হতে কামালতে নুবুওওয়াতের নিসবত উনার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হতে লাগলো। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, প্রত্যেক হিজরী শতাব্দীর শুরু অথবা শেষভাগে এরূপ লোক পয়দা হবে যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন। এই পবিত্র হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় ফকিহুল উম্মত আল্লামা রুহুল আমীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একখানা “বিজ্ঞাপন রদ” নামক কিতাবের ৫-৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন, একাদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, ইমামে রব্বানী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, দ্বাদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, হযরত শাহ্ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, আমিরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, বেরেলভী ও পেশওয়ারে খিলাফত প্রতিষ্ঠার পর হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইংরেজ, শিখ, সামন্ত, পাঠান ইত্যাদি দ্বীন ইসলাম বিরোধী গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে থাকেন। জিহাদের ধারাবাহিকতায় কাশ্মীরের পাহাড় ঘেরা বালাকোট প্রান্তরে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তিনি এবং উনার সাথীবৃন্দ পরবর্তী জিহাদের প্রস্তুতির জন্য বিশ্রামরত ছিলেন। এমন সময় মুনাফিক ও পাহাড়ী উপজাতিরা উনার শত্রুদেরকে খবর দেয়। মুনাফিক কাফির শত্রুদের সম্মিলিত বাহিনী জিহাদের নিয়ম ভঙ্গ করে অতর্কিত হামলা চালায়।

সেই সময় হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং উনার সাথী মুজাহিদবৃন্দ বিশ্রামরত থাকায় জিহাদের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। তারপরও উনারা প্রতিরোধ করেন। উনারা সাতশত জন মুজাহিদ দশ হাজার কাফিরের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যান। তাতে অনেকে গাজী হন আবার অনেকেই শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। শহীদগণের মধ্যে হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। সেই দিন ছিলো ১২৪৬ হিজরীর পবিত্র ২৪শে যিলক্বদ শরীফ, ইয়াওমুল জুমুয়া যা বালাকোট দিবস নামে মশহুর।

-০-

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের ইছলাহর জন্য এমন একজন ব্যক্তিত্বকে প্রেরণ করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করবেন।” সুবহানাল্লাহ!

আজ মহাসম্মানিত ও বরকতময় ২৪শে যিলক্বদ শরীফ। সুবহানাল্লাহ! ১৩ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাহিদে মিল্লাত, শহীদে বালাকোট, আমীরুল মু’মিনীন, মুহম্মদিয়া তরীক্বার সম্মানিত ইমাম, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত-নছীহত মুবারক হাছিল করে তা আমলে বাস্তবায়ন করা।

আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মাহফিল উনার সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা।