পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস শুরু হওয়ার পূর্বেই যে আমল করতে হবে
--------------------------------------------------------------------
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أُمِّ سَلَمَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ رَاٰي هِلَالَ ذِي الْحِجَّةِ وَ اَرَادَ اَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَاْخُذْ مِنْ شَعْرِهٖ وَلَا مِنْ اَظْفَارِهٖ
অর্থ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আস সাদিসা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখলো এবং পবিত্র কুরবানী করার ইচ্ছা করলো, সে যেন (পবিত্র কুরবানী করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে। (মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ চাঁদ উঠার আগেই শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি কেটে ফেলতে হবে।
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰي عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أُمِرْتُ بِيَـوْمِ الْأَضْحٰي عِيْدًا جَعَلَهُ اللهُ لِهٰذِهِ الْأُمَّةِ قَالَ لَهٗ رَجُلٌ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلَّا مَنِيْحَةً أُنْـثٰى أَفَأُضْحِيَّ بِهَا قَالَ لَا وَلٰكِنْ خُذْ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَتَـقُصَّ شَارِبَكَ وَتَحْلِقُ عَانَـتَكَ فَذٰلِكَ تَمَامُ أُضْحِيَّتِكَ عِنْدَ اللهِ
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি এই মর্মে আদিষ্ট হয়েছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার দিনকে ঈদ সাব্যস্ত করেছেন। এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কী বলেন, যদি আমি মানিহায়ে উনসা (দুধ খাওয়ার উটনী) ব্যতীত আর কোন পশু না পাই, তবে কি সেটাই কুরবানী করব? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না। বরং আপনি (কুরবানীর দিন) আপনার চুল, নখ কাটবেন, গোঁফ খাটো করবেন এবং পশম কাটবেন তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট একটি পূর্ণ কুরবানীর সওয়াব লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ)
উল্লেখ্য, মানিহায়ে উনসা হলো এমন গাভী উটনী যেগুলো ক্রয় করা ব্যতীত মালিকের কাছ থেকে শুধুমাত্র দুধ পান করার শর্তে নেয়া হয়। যে ব্যক্তি শুধুমাত্র দুধ পান করার শর্তে নিয়েছে, সে এ ধরণের পশু কুরবানী করতে পারবে না। কেননা এই পশু তার মালিকানায় থাকে না। আর কুরবানীর জন্য মালিকানা থাকা শর্ত।
উল্লেখিত দুখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যারা কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না উভয়ই যদি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার চাঁদ দেখা যাওয়ার আগে তাদের চুল, নখ ইত্যাদি কাটে এবং কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত এসব আর না কাটে, তাহলে তারা একটি পূর্ণ কুরবানীর ছাওয়াব লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ!
বিশেষভাবে উল্লেখ্য এবছর আগামী ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার দিবাগত সন্ধ্যায় পবিত্র যিলহজ্জ মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে। তাই সকলকে সোমবার মাগরিবের পূর্বেই নখ, চুল ইত্যাদি কেটে নিতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সকলকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
হুডা-পার (HÜDA-PAR) এর চেয়ারম্যান জেকেরিয়া ইয়াপিসিওগ্লু:
অবশ্যই, পশুদের প্রতি সহানুভূতি থাকা প্রয়োজন। পশুদের ক্ষুধার্ত রাখা উচিত নয়, তাদের চাহিদা পূরণ করা উচিত; তারাও জীবন্ত প্রাণী।
তবে, যদি সেই প্রাণীটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেখানে এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে পরিস্থিতি বদলে যায়।
যদি প্রাণীটি আক্রমণাত্মক হয়, যদি তার চিকিৎসা করা সম্ভব না হয়, তবে প্রয়োজনে তাকে “ইউথেনেশিয়া” বা “স্বেচ্ছামৃত্যু” (অর্থাৎ কষ্ট লাঘবের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যুবরণ করানো) করা উচিত।
অন্য কথায়, একটি শিশুর মৃত্যুর চেয়ে একশটি কুকুরের মৃত্যু শ্রেয়।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার প্রথম দশদিনের প্রতিদিনের রোযার একবছর রোযার সমপরিমান ফযীলত বা ছওয়াব রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার প্রথম দশ দিনের রোযার বেমেছাল ফযিলত মুবারক রয়েছে প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- পবিত্র যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন রোযা রাখা। যা দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা অত্যন্ত সহজ ও সম্ভব হবে।
, ২৬ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৫ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০১ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার প্রথম দশ দিনের রোযার বেমেছাল ফযিলত মুবারক রয়েছে প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- পবিত্র যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন রোযা রাখা। যা দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা অত্যন্ত সহজ ও সম্ভব হবে।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:
ছহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছহিবায়ে নিয়ামত, রহমতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার প্রথম দশদিনের প্রতিদিনের রোযার এক বছর রোযার সমপরিমাণ ফযীলত বা ছওয়াব রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! এত ফযীলত, মর্যাদা ও সম্মান মহান আল্লাহ পাক এই দশ দিনে দান করেছেন! সুবহানাল্লাহ! এই দশ দিন রোযা রাখা সুন্নত। আর সুন্নত উনার মধ্যেই রয়েছে অনেক ফযীলত, সম্মান, বুযূর্গী। যদিও সুন্নত তবুও এই রোযা রাখা প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আর রবি’য়াহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চারটি আমল কখনোও ছাড়তেন না। ১.আশুরা শরীফ উনার রোযা। ২. যিলহজ্জ মাসের দশদিনের রোযা। ৩. প্রতি মাসে তিনটি রোযা। ৪. ফজরের পূর্বে দু’রাকায়াত সুন্নত নামায।” অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের দশদিনের রোযা সবসময় রাখতেন, কখনোই ছাড়তেন না এবং উম্মতদেরকেও এই রোযাসমূহ রাখার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আরাফার দিনে যারা রোযা রাখবে তাদের ফযীলত মুবারক সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত ক্বতাদাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আরাফার দিনের রোযার দ্বারা মহান আল্লাহ পাক এক বৎসর আগের এবং এক বৎসর পরের গুনাহখতা গুলো ক্ষমা করে দিবেন।”
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার প্রথম দশদিনের যে রোযার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে ১০ তারিখ ইয়াওমুন নহর তথা কুরবানীর দিন রোযা রাখা বলতে কুরবানী করার পর কুরবানীর গোশত দিয়ে ইফতার করার কথা বলা হয়েছে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইয়াওমুন নহরে কুরবানী করে কুরবানীর গোশত দিয়ে ইফতার করতেন, এটা খাছ সুন্নত মুবারক। যে ব্যক্তি এই আমল করবে মহান আল্লাহ পাক তাকে পূর্ণ একটি রোযার ফযীলত দান করবেন। সুবহনাল্লাহ! যাদের পক্ষে কুরবানীর গোশত দিয়ে ইফতার করা সম্ভব তারা করবে। আর যদি কারো পক্ষে সম্ভব না হয় তবে কুরবানীর গোশত দিয়ে ইফতার করার চেষ্টা করবে মাকরূহ ওয়াক্ত পর্যন্ত। এরপর মাকরূহ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই ঘরে যা উপস্থিত থাকবে তা দিয়ে ইফতার করবে। তাহলে সে ব্যক্তিও উক্ত ফযীলত লাভ করবে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ উনার প্রথম দশদিনের রোযার বেমেছাল ফযীলত মুবারক রয়েছে। প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- পবিত্র যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন রোযা রাখা। যা দ্বারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করা অত্যন্ত সহজ ও সম্ভব হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মূর্তি বা ছবির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকো। ”
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- ছবিভিত্তিক ডিজিটাল কুরবানীর হাটের ব্যবস্থা অর্থাৎ ভিডিও বা ছবির মাধ্যমে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবীরা গুনাহ। এতে করে উপার্জিত অর্থ যেরূপ হারাম হবে তদ্রুপ কুরবানীদাতার পবিত্র কুরবানীও বাতিল হবে।
অতএব, প্রত্যেকের জন্য ফরয হচ্ছে ছবিভিত্তিক হারাম পদ্ধতি পরিহার করে সম্মানিত সুন্নত তরীক্বা অনুযায়ী পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করা।
, ২৭ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৬ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০২ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী- ছবিভিত্তিক ডিজিটাল কুরবানীর হাটের ব্যবস্থা অর্থাৎ ভিডিও বা ছবির মাধ্যমে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবীরা গুনাহ। এতে করে উপার্জিত অর্থ যেরূপ হারাম হবে তদ্রুপ কুরবানীদাতার পবিত্র কুরবানীও বাতিল হবে।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, অনলাইন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করা, শরীয়তসম্মত নয়। কেননা অনলাইনে বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পবিত্র কুরবানীর পশু বেচা-কেনা করার অর্থ হচ্ছে পবিত্র কুরবানীর পশুর ছবি দেখে বা দেখিয়ে অর্থাৎ ছবি তুলে বা তোলায়ে বেচা-কেনা করা। অথচ সম্মানিত শরীয়ত তথা দ্বীন ইসলামে প্রাণীর ছবি তোলা, তোলানো, দেখা ও দেখানো সবই হারাম ও কবীরা গুনাহ। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- মহান আল্লাহ পাক তিনি ঐ সকল মানুষকে ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি দিবেন যারা ছবি তোলে বা আঁকে। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে- মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালিম বা অত্যাচারী কে রয়েছে, যে আমার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর ছূরত তৈরী করে। নাউযুবিল্লাহ!
ছহীহ মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, ছবি তোলনেওয়ালা, আঁকনেওয়ালা প্রত্যেকেই জাহান্নামী। অনুরূপ আরো অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার মাধ্যমে ছবি তোলা, আঁকা, রাখা, দেখা, দেখানো ইত্যাদি হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং ছবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে বড় যালিম, কাফির ও জাহান্নামী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাছাড়া ছবি দেখে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয় করা হলে পবিত্র কুরবানীর পশু নিখুঁত ও উপযুক্ত হওয়ার জন্য যে সমস্ত গুণ থাকা জরুরী তা সনাক্ত করা কখনোই সম্ভব হবে না। ফলে উক্ত পশু পবিত্র কুরবানীর পশু হিসেবে অনুপযুক্ত হওয়ার কারণে তা দ্বারা পবিত্র কুরবানী করলে কুরবানী মোটেও শুদ্ধ হবে না।
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূল কথা হলো- সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে প্রাণীর ছবি তোলা ও তোলানো তা ক্যামেরায় হোক, মোবাইলে হোক অথবা যে কোনো ভাবেই হোক হারাম ও কবীরা গুনাহ অর্থাৎ জাহান্নামী হওয়ার কারণ। তাই ছবি ভিত্তিক অনলাইন বেঁচা-কেনা বা ডিজিটাল কুরবানীর হাটের ব্যাবস্থা করা অর্থাৎ ভিডিও বা ছবির মাধ্যমে পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবীরা গুনাহ। এতে করে উপার্জিত অর্থ যেরূপ হারাম হবে তদ্রƒপ কুরবানীদাতার পবিত্র কুরবানীও বাতিল হবে। অতএব, প্রত্যেকের জন্য ফরয হচ্ছে ছবি ভিত্তিক হারাম পদ্ধতী পরিহার করে সম্মানিত সুন্নত তরীক্বা অনুযায়ী পবিত্র কুরবানীর পশু ক্রয় বিক্রয় করা।
থালায় রাখা ধীরগতির মৃত্যু
-------------------------
.
বাজার থেকে চকচকে সুন্দর একটি আপেল কিনে এনেছেন।
আপনার সন্তানকে পরম আদরে খাওয়াচ্ছেন।
কিন্তু আপনি কি জানেন আপনি তাকে কী খাওয়াচ্ছেন?
.
একটু থামুন।
মাথায় প্রশ্ন আসছে না?
যে আপেলে পোকা ধরে না, মাছি বসে না, সেটা পচে না কেন?
হাজার হাজার বছর ধরে ফল মাটিতে পড়লে পচে যায়।
কিন্তু আজকের ফল কেন প্লাস্টিকের মতো মাসের পর মাস চকচক করে?
.
বিজ্ঞান বলে— এর ভেতরে জীবন নেই।
এর ভেতরে আছে কার্বাইড।
আছে ফর্মালিন।
যে রাসায়নিক দিয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হয়, সেটা দিয়ে আপনার খাবার সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
তারা আপনার খাবার থেকে জীবনটা শুষে নিয়েছে।
.
বিশ্বাস হচ্ছে না?
একটু ভাবুন।
সুপারশপের তাকে সাজানো সুন্দর প্যাকেটগুলো দেখুন।
যাতে বড় করে লেখা আছে 'অর্গানিক', 'হেলদি'।
কিন্তু পেছনের ছোট লেখাগুলো পড়েছেন কখনো?
সোডিয়াম বেনজোয়েট, কৃত্রিম রঙ, নাইট্রেট, প্রিজারভেটিভ।
.
এরপর কী হলো?
এই খাবার খেয়ে আমাদের শরীর ধীরে ধীরে অকেজো হতে শুরু করলো।
হাসপাতালগুলো রোগীতে ভরে গেলো।
যে খাবার আমাদের শক্তি দেওয়ার কথা ছিল, সেই খাবার আমাদের ক্যান্সার দিচ্ছে।
.
তারা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা নিজেদের দখলে নিয়েছে।
তারা চায় না আপনি নিজের খাবার নিজে উৎপাদন করুন।
তারা চায় আপনি পুরোপুরি তাদের সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভর করুন।
কাল যদি তারা সুপারশপ বন্ধ করে দেয়, আপনার পরিবার না খেয়ে মরবে।
.
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে আমাদের তয়্যিব খাবার খেতে বলেছেন।
তয়্যিব মানে শুধু হালাল নয়।
তয়্যিব মানে পবিত্র, পুষ্টিকর এবং প্রাকৃতিক।
ইতিহাস পড়ার জন্য নয়, মানার জন্য এই আয়াত নাজিল হয়েছিল।
কিন্তু আমরা কি মানছি?
.
আমরা রাসুল ﷺ এর দেখানো সরল জীবন থেকে অনেক দূরে সরে গেছি।
আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে একজন মুসলিম বাজার থেকে হালাল ভেবে বিষ কিনছে।
সে সালাত কায়েম করে ঠিকই, কিন্তু তার পেটে ঢুকছে বিষাক্ত খাবার।
রমজানে সারাদিন সিয়াম পালনের পর ইফতারে আমরা যে খাবার খাই, তার পুরোটাই কৃত্রিম।
আর আমরা ভাবছি, কেন আমাদের ইবাদতে আগের মতো প্রশান্তি নেই?
.
বিজ্ঞান বলছে, মানুষের পেট আর মস্তিষ্কের মধ্যে সরাসরি সংযোগ আছে।
বিষাক্ত খাবার পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয়।
মস্তিষ্কে সেরোটোনিন তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
ফলে আমাদের উদ্বেগ বাড়ে, বিষণ্ণতা বাড়ে, আর ইবাদতে মন বসে না।
.
আজকের পৃথিবীতে তাকান।
যে শক্তি বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করছে, তারা বীজের মালিকানা নিয়ে নিয়েছে।
তারা জিএমও বা জেনেটিক্যালি মডিফাইড বীজ বানিয়েছে।
যে বীজ থেকে দ্বিতীয়বার ফসল হয় না।
কৃষককে প্রতি বছর তাদের কাছেই হাত পাততে হয়।
কাকতালীয়?
.
আল্লাহ তাআলা আমাদের উর্বর মাটি দিয়েছেন।
বৃষ্টি দিয়েছেন।
কিন্তু আমরা চোখ বন্ধ রেখেছি।
আর সেই ভিনদেশি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বিষ মেশানো প্যাকেট কিনছি।
.
তারা আপনাকে প্যাকেটজাত গোলাম বানিয়েছে।
(সংগ্রহ)
মন্তব্য ও পরামর্শ:
--------------
বিষয়টি মুসলিম জীবন যাত্রায় অতীব জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। এই পূজিবাদী মেকী বেড়াজাল ছিন্ন করে মুসলিম উম্মাহর জন্য নিখুঁত জীবন যাত্রায় পাশে আছেন আন্তর্জাতিক সুন্নাত মুবারক প্রচার কেন্দ্র, সুবহানাল্লাহ! যা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব মাহবুব নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ নির্দেশিত এক পথ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!!