একবার 'সুবহানাল্লাহ' বলার অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা!

এক বুযুর্গ স্বপ্নে এক কবরবাসীকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, "হে কবরের বাসিন্দা! তোমাদের এখনকার অবস্থা কী?

মৃত ব্যক্তিটি অত্যন্ত করুণ স্বরে উত্তর দিল,

"হে দুনিয়ার মানুষ! তোমাদের জন্য আশ্চর্যের বিষয় হলো, তোমরা আমল করতে পারো কিন্তু তার মূল্য বোঝো না।আর আমরা আমলের মূল্য বুঝি কিন্তু তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছি।

আল্লাহর কসম! আমার আমলনামায় যদি এখন কেবল একবার 'সুবহানাল্লাহ' বলার সওয়াব যোগ করা হতো, তবে তা আমার কাছে গোটা দুনিয়া এবং এর ভেতরের যা কিছু আছে — সবকিছুর চেয়েও অনেক বেশি প্রিয় ও মূল্যবান হতো।"

সে আরও বলল, "তোমরা সুস্থ আছো, হাত-পা নাড়াতে পারছো, জবান দিয়ে আল্লাহর জিকির করতে পারছো।

এই সুযোগ হারাবার আগেই তা কাজে লাগাও। কারণ মৃত্যুর পর একটি সিজদাহ করার জন্যও তোমরা হাজার বছর কান্নাকাটি করবে, কিন্তু সেই সুযোগ আর দেওয়া হবে না।"

Salman Farsi
সূত্র: বুস্তানুল ওয়ায়িযীন,ইমাম ইবনুল জাওযী (রহ.)

সীরাতে ইবনে হিশাম' পড়ে কেঁদেছিলাম। আংটি পড়ে যাওয়ার অজুহাতে একজন সাহাবী রাসুল ﷺ এর কবরে দ্বিতীয়বার নেমেছিলেন। সর্বশেষ বিদায় নিয়েছিলেন তাঁর কাছ থেকে। এই ঘটনা পড়ে কেঁদেছিলাম।
.
একদিন মা আয়েশা (রাঃ) রাসূল ﷺ এর সাথে ছিলেন। রাসূল ﷺ কে বেশ উৎফুল্ল দেখে হযরত আয়েশা (রাঃ) বললেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।'
রাসূল ﷺ আয়েশা রা.-এর  জন্য দোয়া করলেন। "হে আল্লাহ! আয়েশাকে মাফ করে দাও। তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দাও, তার আগামীর গুনাহ মাফ করে দাও, তার গোপনে করা গুনাহ মাফ করে দাও, তার প্রকাশ্যে করা গুনাহও মাফ করে দাও।"
রাসূল ﷺ এর দোয়া শুনে হযরত আয়েশা (রাঃ) হাসলেন। রাসূল ﷺ আয়েশাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আমার এই দোয়া কি তোমাকে আনন্দিত করেছে?'
হযরত আয়েশা রা. বললেন, 'কি করে এমন দোয়া কাউকে সন্তুষ্ট করতে না পারে!'
আমাদের প্রিয় নবী হযরত আয়েশা রা.কে বললেন, 'আল্লাহর কসম! আমি আমার উম্মতের জন্য আমার প্রতিটি নামাজে এই একই দোয়া করি।'
যে দোয়া রাসূল ﷺ উনার প্রিয়তম স্ত্রীর জন্য করেছেন, সেই একই দোয়া প্রতি নামাজে তিনি তাঁর উম্মতের জন্য করেছেন, আপনার জন্য, আমার জন্য করেছেন। তিনি আমাদের রাসূল ﷺ।
.
একদিন চলার পথে রাসূল ﷺ কেঁদে উঠলেন। সাহাবারা কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, 'আমি আমার ভাইদের জন্য কাঁদছি।' সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি আপনার ভাই নই?'
রাসূল ﷺ বললেন, 'তোমরা তো আমার সাথী। আমার ভাই হল তারা, যারা আমার পরে আসবে আর আমাকে না দেখেই আমার উপর ঈমান আনবে।'
রাসূল ﷺ আমার জন্য আপনার জন্য কেঁদেছেন, আমাদেরকে মিস করেছেন, আমরা এই দুনিয়াতে আসার আগেই। আমরা কতোটুকু মিস করি প্রিয় নবীজীকে? কেঁদেছি ক'ফোটা চোখের জল ফেলে? যে নবী আমাদের জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজে দোয়া করতেন, সেই নবীর নামে আমরা দিনে ক'বার দরুদ পড়ি? ভালোবেসে তার সুন্নাহ নিজের জীবনে কতোটা পালন করি?
.
রাসূল ﷺ একটি গাছে হেলান দিয়ে খুতবাহ দিতেন, তখনও মিম্বার তৈরি হয়নি। মিম্বর তৈরি হলে পরের সপ্তাহে রাসূল ﷺ যখন মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুৎবা দিচ্ছিলেন, সাহাবারা বলেন, গাছের ভেতর থেকে শিশুর মত অঝোরে কান্না তারা শুনতে পেয়েছেন। একটি গাছও রাসূল ﷺ কে মিস করেছে, তার জন্য চোখের পানি ফেলেছে।
.
রাসূল ﷺ এর মৃত্যুর পর হযরত বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আর আযান দিতে পারেন নি। এরপর একদিন হযরত বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মদীনা ছেড়েই চলে গিয়েছিলেন। একদিন তিনি রাসূল ﷺ কে স্বপ্নে দেখলেন।
রাসূল ﷺ হযরত বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলছেন, "এতদিনেও কি তোমার সময় হয়নি আমার রওজায় আসার?"
ছয় বছর পর কোন একদিন হযরত বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে মদীনায় সবাই আযান দিতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু তিনি মনঃস্থির করেছেন, রাসূলের জন্য যে আযান দিতেন তা আর কোনদিন কারো জন্য দিবেন না। শেষে হযরত উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর অনুরোধে হযরত বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আযান দেওয়া শুরু করলেন। সেই আযান, সেই মধুময় সময়, রাসূলুল্লাহর স্মৃতি সব একসাথে ভেসে আসা শুরু করল। কিছুক্ষণের জন্য মানুষ মনে করল, রাসূল ﷺ আবার ফিরে এসেছেন, মদীনার ঘর থেকে সবাই বেরিয়ে আসা শুরু করল, হযরত বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু যখন আযানে আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহর জায়গায় এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন, পুরো মদীনা জুড়ে হু হু কান্নার শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যায়নি।
.শেষ কবে আমরা আমাদের প্রিয় নবীজীর জন্য কেঁদেছি?
কবে? কবে?? কবে???

লেখা : মুখতার আহমেদ

আবূ উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু) বলেছেন—

“কত মানুষ আছে, যারা নিজেদের পোশাককে শুভ্র ও পরিচ্ছন্ন রাখে, অথচ নিজেদের দ্বীনকে কলুষিত করে! কত মানুষ আছে, যারা মনে করে সে নিজেকে সম্মানিত করছে, অথচ বাস্তবে সে নিজেকেই অপমানিত ও হেয় করছে! তোমরা পূর্বের গুনাহসমূহকে পরবর্তী সৎকর্মের মাধ্যমে দ্রুত মুছে ফেলার চেষ্টা করো।”

(সিয়ারু আ'লামিন নুবালা-খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮)

হযরত রাবিয়া বসরী রহ. একদিন শুকনো রুটি খাচ্ছিলেন—কোনো তরকারি নেই, শক্ত রুটি—খেতেই কষ্ট হয়। কিন্তু তিনি বারবার বলছেন—আলহামদুলিল্লাহ... আলহামদুলিল্লাহ...।

একজন জিজ্ঞেস করল, ‘এত কষ্টের খাবার খেয়েও এত শোকর কেন?’

তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা যখন রিযিক বণ্টন করেছেন, তখন যদি আমার নামটাই না রাখতেন—তাহলে কী হতো? তিনি এত বড় মালিক—তবুও আমার নামটি রেখেছেন, আমাকে দিয়েছেন—এই জন্যই আমি শোকর করি।

সুবহানাল্লাহ! কী গভীর উপলব্ধি!

✴️✴️✴️হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার এক মুরীদকে নছীহত করে চিঠি লিখলেন। সেই চিঠি মুবারকে অনেক নছীহত মুবারক করে শেষে লিখেছেন, জেনে রাখো, যতক্ষণ পর্যন্ত দশটি বস্তু নিজের প্রতি ফরয করে না নিবে ততক্ষণ পর্যন্ত কারো পরহেজগারী পূর্ণতা লাভ করবে না।

(১) গীবত হতে স্বীয় জিহ্বাকে রক্ষা করা।

(২) অন্যের প্রতি অন্যায় অসৎ ধারণা করা হতে বিরত থাকা।

(৩) কারো প্রতি তিরস্কার না করা।

(৪) হারাম বস্তু হতে চোখকে হিফাযত করা।

(৫) সত্য কথা বলা।

(৬) নিজের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার অনুগ্রহসমূহের পরিচয় লাভ করা। যাতে আত্মগরিমা না আসতে পারে।

(৭) স্বীয় ধন-দৌলত সৎপথে ব্যয় করা এবং অসৎপথে ব্যয় না করা।

(৮) স্বীয় উচ্চতা ও অহংকার কামনা না করা।

(৯) নামাযের প্রতি লক্ষ্য রাখা।

(১০) আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার প্রতি ইস্তিকামত (অটল) থাকা। (আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১৭৭)

এই ১০টি বিষয় অর্জন করা সকলের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

✴️✴️✴️হযরত আলী আলাইহিস সালাম উনার কিছু নসিয়ত মোবারক....   ১.  “ বুদ্ধিমানেরা কোনো কিছু প্রথমে অন্তর দিয়ে অনুভব করে, তারপর সে সম্বন্ধে মন্তব্য করে। আর নির্বোধেরা প্রথমেই মন্তব্য করে বসে এবং পরে চিন্তা করে। ”

২. “বর্তমানের চলমান সময়কে ধ্বংস করে ভবিষ্যতের চিন্তা করে; আর বর্তমান অতীত হয়ে ভবিষ্যতে পৌঁছলে আবার অতীতের কথা স্মরণ করে আফসোস করে আর অশ্রু বিসর্জন দেয়।”

৩. “ঐ মানুষ বড়ই মুর্খ ও আশ্চর্যজনক যে, দুনিয়ার সম্পদ অর্জন করতে গিয়ে (আল্লাহর দেয়া) সুস্বাস্থ্য হারায়। তারপর আবার সুস্বাস্থ্যবান হতে অর্জিত সম্পদ নষ্ট করে।”

৪. “ তোমার যা ভাললাগে তাই জগৎকে দান কর, বিনিময়ে তুমিও অনেক ভালো জিনিস লাভ করবে ”

৫.  “সে এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করে যে, সে কখনো মৃতু্য বরণ করবে না। কিন্তু সে এমনভাবে মৃতু্য বরণ করে যে, সে কখনো জন্মই নেয় নি।”

৬.“ মনে রেখো তোমার শত্রুর শত্রু তোমার বন্ধু, আর তোমার শত্রুর বন্ধু তোমার শত্রু ”

৭. “ স্বাস্থ্যের চাইতে বড় সম্পদ এবং অল্পে তুষ্টির চাইতে বড় সুখ আর কিছু নেই ”

৮. “ মানুষের সাথে তাদের বুদ্ধি পরিমাণ কথা বলো ”

৯. “ অভ্যাসকে জয় করাই পরম বিজয় ”

১০. “ সব দুঃখের মূল এই দুনিয়ার প্রতি অত্যাধিক আকর্ষণ

 ”

✴️✴️✴️সমাজে বহু লোক রয়েছে যারা অপরের শেকায়েত বা দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করে বেড়ানোকে নিজেদের পেশায় পরিণত করে থাকে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত লোকেরা এই পেশায় লিপ্ত। এদের সম্মুখে রয়েছে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থ। পরকালের কিছুমাত্র চিন্তা থাকলেও তারা এ কাজ করতে পারতো না।

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-



অর্থ : তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ ঈমান গ্রহণ করলে, তাকে মন্দ নামে সম্বোধন করা গুনাহ্র অন্তর্ভুক্ত। যারা এহেন কাজ থেকে তওবা না করে, তারাই যালিম। (পবিত্র সূরা হুজুরাত : আয়াত শরীফ ১১)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোন লোক যদি কোন মুসলমানের শেকায়েত করার কারণে কোন লোকমা গ্রহণ করে তবে তাকেও মহান আল্লাহ পাক তিনি জাহান্নামের আগুন থেকে অনুরূপ লোকমা আহার করাবেন। আর কোন মুসলমানের শেকায়েত করার কারণে যদি কাউকে কাপড় পরিধান করানো হয়, তবে মহান আল্লাহ পাক তিনিও তাকে জাহান্নামের আগুন দ্বারা তৎপরিমাণ কাপড় পরিধান করাবেন। (আবূ দাউদ শরীফ)

হযরত আবূ বারযাহ আসলামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে লোক সকল! তোমরা যারা শুধুমাত্র মৌখিকভাবে মুসলমান হয়েছ, তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি। তোমরা মুসলমানের গীবত করবেনা এবং তাদের দোষ ও ছিদ্রান্বেষণে লেগে থাকবে না। কেননা যারা মুসলমানের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণে লেগে থাকে, তাদের দোষ-ত্রুটির পিছনেও মহান আল্লাহ পাক তিনি লেগে থাকেন অর্থাৎ তিনি তাদের দোষ-ত্রুটিগুলো মানুষের কাছে প্রকাশ করে দেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যাদের দোষ-ত্রুটির পিছনে লাগেন, তারা ঘরের চৌহদ্দীর মধ্যে অবস্থান করলেও তিনি তাকে অপমানিত করে ছাড়েন। (আবূ দাউদ শরীফ)

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রতিভাত হয় যে, যারা মুসলমানের গীবত করে বেড়ায় এবং তাদের দোষত্রুটি অন্বেষণে লেগে থাকে প্রকৃতপক্ষে তারা মুসলমানেরই অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এই ধরনের কাজ একমাত্র মুনাফিকদের দ্বারাই প্রকাশ পেতে পারে, যারা মুখে ঈমান এনে মুসলমান পরিচয় দেয় কিন্তু আন্তরিকভাবে ঈমান আনেনি।



পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

অর্থ : হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একজন মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের রক্ত, ধন-সম্পদ ও ইজ্জত-সম্মানে অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হারাম। (মুসলিম শরীফ)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিদায় হজ্জে আরাফার ময়দানে সমস্ত মুসলমানকে লক্ষ্য করে যে খুতবা দিয়েছিলেন সে খুতবায় তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন-


অর্থ : তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ এবং তোমাদের মান-ইজ্জতকে তোমাদের একে অপরের জন্যে অবৈধ হস্তক্ষেপ করাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে অর্থাৎ তোমরা কারো রক্তধারা প্রবাহিত করবে না, কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করবে না এবং কারো ইজ্জত-সম্মান নষ্ট করবে না। আজকের এ দিনটি, এ মাসটি এবং এ শহরটি যেরূপ সম্মানিত; মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জতও অনুরূপ সম্মানিত। (তিরমিযী শরীফ)

বর্র্ণিত রয়েছে, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একবার পবিত্র কা’বা ঘরের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, “আপনি কত বড় সম্মানিত এবং আপনার সম্মান কত শ্রেষ্ঠ ও উন্নত তবুও ইহা বাস্তব সত্য কথা যে, মু’মিন ব্যক্তির ইজ্জত ও সম্মান খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার নিকট আপনার ইজ্জত সম্মানের তুলনায় অনেক অনেক উন্নত ও মূল্যবান।

উল্লেখ্য, পবিত্র কা’বা শরীফ হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার শিআর বা নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নিদর্শন, যাকে সম্মান করা ফরয এবং অবমাননা করা কুফরী।

তাহলে মুসলমানদের ইজ্জত-হুরমত রক্ষা করার বিষয়টি কত গুরুত্ববহ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। মূলত পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মতো মুসলমানের ইজ্জত-সম্মান রক্ষা করাও ফরয। তাই মুসলমানের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করা, দোষারোপ করা, তাকে গালমন্দ করা, অন্যায়ভাবে ধমক দেয়া, অপবাদ দেয়া এ সবই হারাম ও কুফরী কাজের অন্তর্ভুক্ত। এসব মন্দ আচরণ বর্জন করে চলা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য।

✴️✴️✴️ফায়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভের প্রকারভেদ ও সংক্ষিপ্ত রূপরেখা
=========================≠========
‘ফাইদ্ব’ ও ‘তাওয়াজ্জুহ’ শব্দ মুবারকদ্বয় আরবী। ‘ফাইদ্ব’ শব্দটি আরবী ‘ফাইদ্বহ’ শব্দ মুবারক থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ- কল্যাণ, ভালো ফলাফল, সুফল, নিয়ামত, বরকত, মর্যাদা ইত্যাদি। আর ‘তাওয়াজ্জুহ’ শব্দটি বাবে তাফা‘উল থেকে ইসমে মাছদার বা ক্রিয়ামূল। যার আভিধানিক অর্থ- দৃষ্টি নিক্ষেপ, নেক নজর, নেক করম, সন্তুষ্টির দৃষ্টি, রুজু হওয়া ইত্যাদি। সুতরাং ‘ফাইদ্ব-তাওয়াজ্জুহ’ উনাদের সামগ্রিক অর্থ হলো নিয়ামত দানের জন্য নেক দৃষ্টি, বরকতময় নেক নজর। (সমূহ অভিধান গ্রন্থ)

সম্মানিত তরীক্বত উনার পরিভাষায়, ফয়েজ হচ্ছে এক প্রকার নূর বা আলো বিশেষ। যা সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার তরফ থেকে মুরীদের প্রতি নিক্ষেপ করা হয়। যা মুরীদের হিদায়েত, ইছলাহ অর্জন এবং হক্বের উপর ইস্তিক্বামত থাকার কারণ হয়।


সমস্ত ওলীআল্লাহ উনারা উনাদের মুরীদ, মু’তাকিদদেরকে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ দান করেন। আর সমস্ত সালিক বা মুরীদ উনাদের সম্মানিত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট থেকে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে পূর্ণতায় পৌঁছে থাকেন এবং খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দী-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করে থাকেন।

ফয়েজের প্রকারভেদ: ফয়েজ অনেক প্রকার। তবে তাছাউফের কিতাবসমূহে সাধারনভাবে ৪ প্রকার উল্লেখ করা হয়, যথা-

১. ফয়েজে ইনয়িকাসী। ২. ফয়েজে ইল্ক্বায়ী। ৩. ফয়েজে ইছলাহী। ৪. ফয়েজে ইত্তেহাদী।

প্রথম “ফয়েজে ইনয়িকাসী।” যেমন, কোন ব্যক্তি আতর শরীরে মেখে কোন মজলিসে উপস্থিত হলে তার সুঘ্রাণে মজলিসের সমস্ত লোক মোহিত হয়। এটা সাধারণ ও প্রাথমিক পর্যায়ের ফয়েজের উদাহরণ। কেননা, সেই ব্যক্তি মজলিস হতে প্রস্থান করলে উক্ত সৌরভ বা সুঘ্রাণ স্থায়ী থাকেনা। অনুরূপ কোন ওলীউল্লাহ কোনস্থানে উপস্থিত হলে উনার রূহানী ফয়েজ বা জ্যোতির প্রভাবে সাধারণ লোক বিমোহিত হতে থাকে। আর এর কারণেই উক্ত এলাকার মৃত ব্যক্তিরা পর্যন্ত ফায়দা হাছিল করে থাকে। সুবহানাল্লাহ!

দ্বিতীয় “ফয়েজে ইল্ক্বায়ী।” যেমন, কোন ব্যক্তি তার প্রদীপকে অন্য ব্যক্তির প্রদীপের আগুন দ্বারা প্রজ্জ্বলিত করে নেয়। এই প্রকার ফয়েজ প্রথম প্রকার ফয়েজ অপেক্ষা অধিক প্রভাবযুক্ত হয়ে থাকে। কেননা, কিছুকাল এর প্রভাব স্থায়ী থাকে কিন্তু প্রবল বাতাস প্রবাহিত হলে এটা নির্বাপিত হয়ে যায়। এতে নফ্স ও লতিফাসমূহ সম্পূর্ণরূপে পরিশুদ্ধ হয়না।


তৃতীয় “ফয়েজে ইছলাহী।” যেমন, কোন ড্রেন বা নালা দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। উক্ত ড্রেন বা নালাতে যদি কোন ময়লা, তৃণ, ঘাস বা দুব্বা ইত্যাদি পড়ে তৎক্ষনাৎ তা দূরীভূত হয়ে উক্ত ড্রেন বা নালা পরিষ্কার হয়ে যায়। তবে যদি কোন বড় আকারের পাথর বা বড় মাটির টুকরা উক্ত ড্রেন বা নালায় পড়ে তবে তা বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রকার ফয়েজের প্রভাব অনেককাল স্থায়ী হয়ে থাকে।

চতুর্থ “ফয়েজে ইত্তেহাদী।” কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা নিজ আত্মাকে (রূহকে) দৃঢ়তার সাথে মুরীদের আত্মার সাথে সংযোগ করেন। এতে কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার আত্মার প্রভাব মুরীদের আত্মায় প্রবেশ করে, এটা সর্বাপেক্ষা প্রবল ফয়েজ।

ফয়েজে ইত্তেহাদী ব্যতিত মূল নিয়ামত হাছিল করা কখনোই সম্ভব নয়।

আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ রুহুল আমীন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘মুর্শিদে মুকাম্মিল ব্যক্তিগণ তাওয়াজ্জুহ দানে নিজের আত্মাকে সজোরে মুরীদের আত্মার সাথে সংযোগ করত: স্বীয় আত্মিক নূর বা জ্যোতি তার আত্মার উপর নিক্ষেপ করেন।’ তিনি আরো বলেন, ফয়েজে ইত্তেহাদীর তাছীর বা প্রভাব অন্যান্য ফয়েজ অপেক্ষা সর্বাপেক্ষা অধিক প্রবল। যেহেতু তাতে ‘মুর্শিদে মুকাম্মিল’ উনার সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক ক্রিয়া বা ফয়েজ মুরীদের হৃদয়ে সঞ্চালিত হয়ে থাকে।’ (তাফসীরে আব্দুল হাই ছিদ্দিক্বী)

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَتَزَوَّدُوْا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوٰى

অর্থ: ‘তোমরা পাথেয় সঞ্চয় করো। নিশ্চয়ই তাক্বওয়া বা পরহেযগারীতা সর্বোত্তম পাথেয়।’ (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ-১৯৭)

হযরত শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ব্যতীত হাক্বীক্বী তাক্বওয়া হাছিল করা সম্ভব নয়। হক্ব মত ও হক্ব পথের উপর ইস্তিকামত (অটল) থাকাও সম্ভব নয়। কাজেই সেই ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভের জন্য সবসময় তৎপর থাকা আবশ্যক।

শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি গভীর মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম বিশুদ্ধ নিয়ত এবং সুধারণা, চেষ্টা, সাধনা যদি যথার্থ হয় তাহলে পৃথিবীর যে কোন স্থানে অবস্থান করলেও ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ লাভ করা যায়। কিন্তু ছোহবত মুবারকের বরকত ও ফায়দা ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা ব্যতীত লাভ করা সম্ভব নয়। সম্মানিত শায়েখ উনার দু’চোখের ভ্রু’দ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থান থেকে যে ফয়েজের স্রোতধারা বিচ্ছুরিত হয় তাও ছোহবত মুবারক ব্যতিত হাছিল করা যায় না।

শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা তিনিই ফয়েজ হাছিলের উৎস। উনার কথা মুবারক, আচার-আচরণ মুবারক এমনকি উনার নাম মুবারক থেকেও সেই নূর মুবারক প্রবাহিত হয়। সালিক বা মুরীদ আদব ও শ্রদ্ধার সাথে উনার ছানা-ছিফত করলে ও নছীহত মুবারক শুনলে এবং তাছাওউর (ছূরত মুবারকের ধ্যান) করলে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল হয়।

তাছাওউফের কিতাবে উল্লেখ আছে, দুচোখের ভ্রু’দ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থান থেকে বিশেষ এবং অধিক পরিমাণে ফয়েজ বিচ্ছুরিত হয়। কাজেই সালিক বা মুরীদের সেদিকেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা উচিত।

✴️✴️✴️হযরত খাজা সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুন্নত পালনের দৃষ্টান্ত
=====================================

সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ্, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বয়স মুবারক যখন ৯০ বছর, তখন তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিশেষ সাক্ষাত মুবারক লাভ করলেন। যদিও আল্লাহওয়ালাগণ সর্বদাই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাক্ষাত মুবারক লাভ করে থাকেন। যখন বিশেষ মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুরসালীন, নূরে মুজা মুঈনুদ্দীন (দ্বীনের সাহায্যকারী)। আপনি তো সত্যিই আমার দ্বীনের উনাকোরা, আপনি আমার বিশেষ সকল মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারকই পালন করলেন, সাহায্যকাট বিশেষ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এখনো বাকী রয়ে গেল কেন?” হযরত জানো সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরক্ষণে চিন্তা করে বুঝতে পারলেন যে, মহান আল্লাহ্ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে দ্বীনের খিদমতে ব্যস্ত থাকার কারণে তখনো বিশেষ সুন্নত মুবারক বিবাহ করেননি। আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে:-
অর্থ: "হযরত উম্মুল মু'মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিকাহ বা বিবাহ করা আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। তাই, যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (বিবাহ করা) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল অর্থাৎ অস্বীকার করলো সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।"(ইবনে মাজাহ শরীফ)
 

✴️সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,


অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, একদা একজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আসলেন এবং বললেন- ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে সৎ ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক হক্বদার কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন তারপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন, অতঃপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন, অতঃপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনার মাতা। তিনি বললেন, অতঃপর কে? তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন- আপনার পিতা। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

সাইয়্যিদাতুন নিসা, মুতহ্হারাহ্, মুতহ্হিরাহ্, হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তা থেকে আমরা যা বুঝতে পেরেছিÑ তা হলো তিনটি কারণে মায়ের হক্বকে প্রধান্য দেওয়া হয়েছে:

১. সন্তানকে রেহেমে ধারণ করেন

২. সন্তান আগমনের সময় যে কষ্ট ও বেদনা সহ্য করেন

৩. সন্তানকে দু’বছর দুধ পান করান।

এছাড়া মানুষ দুনিয়াতে মায়ের মাধ্যমেই আসে। মায়ের মাধ্যমেই দুনিয়া চিনতে পারে। এমনকি বাবাকেও চিনতে পারে। অন্যথায় বাবাকে চিনাও মুশকিল। আপরদিকে শিশুকালে যখন সন্তানের কোন বুঝ শক্তি থাকে না তখন সে মাকে দেখে দেখেই সবকিছু শিখে। এজন্য মাকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কারণ মা যদি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত না হন তাহলে সন্তানকেও দ্বীনি শিক্ষা দিতে পারবে না। আর সন্তান যদি শিশুকাল থেকে দ্বীনি শিক্ষা না পায় তাহলে সে বড় হওয়ার পর তাকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যেমন- মাটি দিয়ে কেউ যদি কোন বস্তু তৈরী করতে চায় তাহলে মাটি কাঁচা থাকা অবস্থায়ই সেটা দিয়ে তৈসংরী করতে হবে। অন্যথায় মাটি শুকিয়ে গেলে সেটা দিয়ে কোন বস্তু তৈরী করা যাবে না। ঠিক তদ্রুপ সন্তানকেও শিশুকাল থেকেই দ্বীন ইসলাম উনার বিষয়গুলি শিক্ষা দিতে হবে। অন্যথায় সন্তানকে আল্লাহওয়ালা বানানো কঠিন হয়ে যাবে। সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া পিতা-মাতা উভয়েরই দায়িত্ব।

একটি ঘটনা দ্বারা বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত কালে এক পিতা এসে মামলা দায়ের করল যে, তার (উক্ত পিতা) সন্তান তার কোন হক্ব আদায় করে না। সেই সন্তানকে ডাকা হলো এবং তার বাবার অভিযোগ ঠিক কিনা জানতে চাওয়া হলো। ছেলেটি বলল যে, ঠিক কথা বলেছে তার বাবা। কিন্তু ছেলেটি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুকে আযম আলাইহিস সালাম উনার নিকট জানতে চাইলো, একজন সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার কী হক্ব বা দায়িত্ব রয়েছে। তখন তিনি জবাবে বললেনÑ একজন সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার তিনটি হক্ব বা দায়িত্ব রয়েছে-

১. একজন দ্বীনদার পরহেযগার মেয়েকে বিয়ে করা

২. সন্তান জন্ম নেওয়ার পর তার একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা

৩. সন্তানকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করা।

জবাব শুনে ছেলেটি বলল, “হে হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমার বাবা এই তিনটি হক্বের মধ্যে একটি হক্বও আদায় করেনি। প্রথমত: আমার মা একজন বাদী, যিনি দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত নন। দ্বিতীয়ত: আমার নাম হচ্ছে জুল, যারঅর্থ গোবরের পোকা। তৃতীয়ত: আমাকে কোন দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া হয়নি তখন হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, এ মামলা খারিজ করে দেয়া হলো। কেননা সন্তানের কোন হক্ব আদায় করা হয়নি। সুতরাং এ ঘটনা দ্বারা বুঝা যায়, বাবা-মা উভয়কেই দ্বীনি ইলম অর্জন করে দ্বীনদার হওয়ার কোশেশ করতে হবে।