২৭ শে রবীউল আউওয়াল শরীফ
উম্মুল মুমিনীন আল খমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
--------------------------------------
উম্মুল মুমিনীন আল খমিসাহ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ,
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়ার দিক থেকে ৫ম।
এ জন্য উনাকে আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম বলা হয়৷
অর্থাৎ ১৩ জন উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে তিনি হচ্ছেন, ৫ম।

উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুনা
হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম। আর উনার কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন, উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম।

তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, সম্মানিত নুবুওয়াত এবং রিসালত মুবারক প্রকাশের ১৪ বছর পূর্বে ২০ শে শাওয়াল শরীফ, ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ। সম্মানিত মক্কা শরীফে, বনূ হিলাল গোত্রে । সুবহানাল্লাহ।

উনার সম্মানিত পিতা হচ্ছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত খুযাইমাহ্ আলাইহিস সালাম। আর উনার সম্মানিতা মাতা হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত হিন্দ বিনতে আউফ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ।

তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুতেই। উনারা ছিলেন ১২ জন বোন। উনাদের মধ্যে তিনি এবং উম্মুল মুমিনীন আছ ছানিয়াহ আশার আলাইহাস সালাম
অর্থাৎ যিনি ১২ তম উম্মুল মুমিনীন উনারা ছিলেন দুই বোন। সুবহানাল্লাহ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার আযিমুশ শান নিসবাতুল আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন।
সম্মানিত উহুদ জিহাদের পরে তৃতীয় হিজরী শরীফ উনার ২৬শে যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ।
সেই সময় উম্মুল মুমিনীন আল খ্বমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন, ৩০ বছর ২ মাস ৬ দিন।

এই নিসবাতুল আযিম শরীফ উপলক্ষে
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উট জবেহ করে উনার মেহমানদারী করেন।
এবং এই মেহমানদারীতে গরীব মিসকীন ফকির ফুকারা নিঃস্ব অসহায় দরিদ্র সর্বোহারা সকলেই উপস্থিত ছিল। সুবহানাল্লাহ।

তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেন, ৩ মাস ১ দিন।
সুবহানাল্লাহ।

এরপরে তিনি ৪র্থ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত মাস রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার ২৭ তারিখ ইয়াওমুস সাবত শরীফ সম্মানিত মদীনা শরীফে
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমিনে উপস্থিত থাকা অবস্থাতেই তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিক নির্দেশনা মুবারক অনুযায়ী উনাকে সম্মানিত গোসল মুবারক করানো হয় এবং কাফন মুবারক পরানো হয়। এবং স্বয়ং নিজেই
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ছলাতুল জানাযা উনার ইমামতী করেন।
এবং উনাকে তিনি নিজেই উনার রওযা শরীফ উনার মধ্যে রাখেন।

তিনি দুনিয়ার যমিনে অবস্থান মুবারক করেন, ৩০ বছর ৫ মাস ৭ দিন।
উনার রওযা শরীফ জান্নাতুল বাকী শরীফে অবস্থিত।

উনার খুছুছিয়ত বৈশিষ্ট ফযিলত মুবারক বেমেছাল।
তিনি অত্যধিক দানশীলা ছিলেন।
অত্যধিক দান খায়রত করতেন তিনি ।
এবং গরীব মিসকীন, ফকীর ফুকারা, নিঃস অসহায়,সর্বহারা দরিদ্রের প্রতি উনার ছিলো সিমাহীন স্নেহ মমতা, রহম করুনা, ও দয়া দান ইহসান, অনুগ্রহ, ও কোমলতা যার কারনে উনাকে জাহিলিয়াতের যুগেও
উম্মুল মাসাকীন আলাইহাস সালাম বলে সম্মোধন মুবারক করা হতো। সুবহানাল্লাহ।
------------------------------------------

আজ উম্মুল মুমিনীন আল খমিসাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়
বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।
আজকের দিনের সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি কায়িনাতের উপর খাছ রহমত, বরকত, সাকীনা, মাগফিরাত, দয়া, দান, ইহসান, মুবারক বর্ষন করেন।
কিন্তুু এগুলো সবাই ধারন করতে পারে না। যারা এই সম্মানিত দিবসকে তাযিম করবে, সম্মান করবে, মুহব্বত করবে,
শুধু মাত্র তারাই এই, রহমত বরকত সাকীনা মাগফিরাত দয়া দান ইহসান মুবারক লাভ করবে।

কাজেই বান্দা বান্দী উম্মত জ্বীন ইনশান সকলের জন্য ফরয হলো এই সম্মানিত দিবসকে সম্মান করা।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন দুনিয়ার সমস্ত মুসলমান পুরুষ মহিলা জ্বীন ইনশান আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করেন।
আমিন।

image

📍সুন্নতি খাবার খেজুর সুবাহানাল্লাহ 📍

image

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ইসমে যাত বা নাম মুবারক লেখার সময় পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার বেমেছাল ফযীলত মুবারক

মুক্বদ্দিমাহ্:

মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত প্রকার আমল থেকে পবিত্র। তবে তিনি একখানা আমল মুবারক করেন, সেটা আবার দায়িমীভাবে। এক মুহূর্তের জন্যও তিনি এই আমল মুবারক থেকে যুদা হননা। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্যও এই আমল মুবারক আবশ্যক অর্থাৎ ফরয করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّ اللهَ وَمَلٰئِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ ياَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করো এবং অত্যন্ত আদবের সাথে সম্মানিত সালাম মুবারক দাও।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। সেই বিষয়টা জানানো হয়েছে। আর সমস্ত উম্মতকে আদেশ করা হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করার জন্য এবং অত্যন্ত আদবের সাথে উনাকে সালাম মুবারক দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ!

তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক বা পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা সমস্ত উম্মতের জন্য ফরয। এই পবিত্র দুরূদ শরীফ জবানে পাঠ করা যেমন ফরয। একইভাবে লেখার সময়ও উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক উনার পরে পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখা ফরয।

আর এই পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য, অগণিত, বেমেছাল ফযীলত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

হযরত শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার ফযীলত বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন-

وَاَمَّا الصَّلَاةُ عَلَيْهِ عِنْدَ كِتَابِهٖ اِسْمِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا فِيْهِ مِنَ الثَّوَابِ وَذَمَّ مَنْ اَغْفَلَه فَاعْلَمْ اَنَّهٗ كَمَا تُصَلِّىْ عَلَيْهِ بِلِسَانِكَ فَكَذَالِكَ خَطُّ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ بِبَنَانِكَ مَهْمَا كَتَبْتَ اِسْمَهُ الشَّرِيَفَ فِىْ كِتَابٍ فَاِنَّ لَكَ بِهٖ اَعْظَمُ الثَّوَابِ

অর্থ: “আর কেউ যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লিখার সময় পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখবে, এতে তার জন্য ছাওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি গাফলতি করবে তার জন্য তিরস্কার রয়েছে। জেনে রাখুন! আপনি যেমন জবান দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করেন। একইভাবে উনার নাম মুবারক লিখার সময়ও উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখা আবশ্যক। আপনি কোনো কিতাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক যতোই লিখবেন, এতে আপনার জন্য সুমহান নেকী রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৭ নং পৃষ্ঠা)

নিম্নে সেই অসংখ্য, অগণিত ফযীলত মুবারক উনাদের থেকে কতিপয় ফযীলত মুবারক উল্লেখ করা হলো:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত ফযীলত মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ فِىْ كِتَابٍ لَمْ تَزَلِ الْمَلائِكَةُ تَسْتَغْفِرُ لَهٗ مَا دَامَ اسْمِىْ فِىْ ذَالِكَ الْكِتَابِ

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কিতাবে আমার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ কিতাবে আমার মহাসম্মানিত নাম মুবারক থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মাগফিরাত কামনা করতে থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মু’জামুল কাবীর ১৯/১৮১, মু’জামুল আওসাত্ব ২/২৩২, আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩৩০, আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃ: ইত্যাদি)

অপর বর্ণনায় রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ فِىْ كِتَابٍ لَمْ تَزَلِ الصَّلَاةُ جَارِيَةً لَهٗ مَادَامَ اِسْمِىْ فِىْ ذَالِكَ الْكِتَابِ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কিতাবে আমার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ কিতাবে আমার সম্মানিত নাম মুবারক থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ জারী থাকবে। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি দায়িমীভাবে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করার ফযীলত লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩৩১, আল ক্বওলুল বাদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতুশ শাফিয়িয়্যাহ ১/১৮০ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ يَجِيْءُ اَصْحَابُ الْحَدِيْثِ وَمَعَهُمُ الْمَحَابِرَ فَيَقُوْلُ اللهُ لَهُمْ اَنْتُمْ اَصْحَابُ الْحَدِيْثِ طَالَ مَا كُنْتُمْ تَكْتُبُوْنَ الصَّلَاةَ عَلٰى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْطَلِقُوْا اِلَى الْجَنَّةِ

অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে তখন মুহাদ্দিছগণ দোয়াতসহ সেখানে উপস্থিত হবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে বলবেন, আপনারা আছহাবে হাদীছ অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ সংরক্ষণ করেছেন, তাতে দীর্ঘ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখেছেন। কাজেই আপনারা দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ করুন।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারানী শরীফ, আল ক্বওলুল বাদী’ ২৪৮ নং পৃ:, শরহুল বুখারী লিস সাফীরী ১/৭৯ ইত্যাদি)

পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কিত বাস্তবে অনেক ওয়াক্বেয়াহ মুবারকও সংঘটিত হয়েছে। সেখান থেকে নিম্নে কয়েকখানা ওয়াক্বেয়াহ মুবারক উল্লেখ করা হলো:

পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নামাযে ইমামতী করার দায়িত্ব লাভ

কিতাবে একটি মশহূর ওয়াক্বেয়াহ বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ جَعْفَرَ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ حَضْرَتْ اَبَا زُرْعَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِى الْمَنَامِ وَهُوَ فِي السَّمَاءِ يُصَلِّىْ بِالْمَلَائِكَةِ فَقُلْتُ لَهٗ بِمَ نِلْتَ هٰذَا فَقَالَ كَتَبْتُ بِيَدِىْ اَلْفَ اَلْفَ حَدِيْثٍ اِذَا ذَكَرْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ مَرَّةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا

অর্থ: “হযরত জা’ফর ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হযরত আবূ যুরআ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফের পর) আমি উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আসমানে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেসহ নামায আদায় করছেন। অর্থাৎ নামাযে উনাদের ইমামতী করছেন। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কিভাবে এই ফযীলত হাছিল করলেন? তিনি বললেন, আমি আমার নিজ হাতে ১০ লক্ষ হাদীছ শরীফ লিখেছি। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করতাম, তখন অত্যন্ত মুহাব্বতের সাথে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিখতাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর ১ বার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর দশটি রহমত মুবারক বর্ষণ করবেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত নাম মুবারক উনার সাথে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লেখার কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে এই মাক্বাম মুবারক হাদিয়া করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৫০ নং পৃষ্ঠা)

বিছাল শরীফের পর সবুজ পোষাক পরিহিত অবস্থায় অত্যন্ত শান-শওকতে ঘুরে বেড়ানো

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَيْضًا قَالَ حَدَّثَنَا خَلْفٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ صَاحِبُ الْخَلِّقَانِ قَالَ كَانَ لِىْ صَدِيْقٌ يَطْلُبُ مَعِى الْحَدِيْثَ فَمَاتَ فَرَاَيْتُهٗ فِى الْمَنَامِ وَعَلَيْهِ ثِيَابٌ خُضْرٌ جُدُدٌ وَيُجَوِّلُ فِيْهَا فَقُلْتُ لَهٗ اَلَسْتَ كُنْتَ تَطْلُبُ مَعِى الْحَدِيْثَ فَمَا هٰذَا الَّذِىْ اَرٰى فَقَالَ كُنْتُ اَكْتُبُ مَعَكُمُ الْحَدِيْثَ فَلَا يَمُرُّ بِىْ حَدِيْثٌ فِيْهِ ذِكْرُ النَبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلَّا كَتَبْتُ فِىْ اَسْفَلِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَافَاَنِىْ بِهٰذَا الَّذِىْ تَرٰى عَلَىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট ‘খল্লিক্বান’ কিতাবের লিখক হযরত খল্ফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন। হযরত খল্ফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার একজন বন্ধু ছিলেন, যিনি আমার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ সংগ্রহ করতেন। তিনি ইন্তেকাল করার পর আমি স্বপ্নে উনাকে দেখতে পাই, তিনি নতুন সবুজ পোষাক পরিহিত অবস্থায় অত্যন্ত শান-শওকতে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি উনাকে বললাম, আপনি না আমার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ সংগ্রহ করতেন? আমি আপনার এটা কি অবস্থা দেখতে পাচ্ছি? (এতো মর্যাদা কিসের কারণে?)। তখন তিনি বললেন, আমি আপনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লিপিবদ্ধ করতাম। এমন কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ আমাকে অতিক্রম করতেন না, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক থাকতেন কিন্তু আমি মহাসম্মানিত নাম মুবারক উনার পরে পবিত্র দুরূদ শরীফ ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ না লিখতাম। এই পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখার কারণেই আমাকে এই প্রতিদান, মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আপনি যেটা দেখতে পাচ্ছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা)

পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে বিশেষ নিয়ামত লাভ

এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِى الْحَسَنِ الْمَيْمُوْنِىْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ الشَّيْخَ اَبَا عَلِى اَلْحَسَنَ بْنَ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِى الْمَنَامِ بَعْدَ مَوْتِهٖ وَكَاَنَّ عَلٰى اَصَابِعِ يَدَيْهِ شَيْئًا مَكْتُوْبًا بِلَوْنِ الذَّهَبِ اَوْ بِلَوْنِ الْزَعْفَرَانِ فَسَاَلْتُهٗ عَنْ ذَالِكَ وَقُلْتُ يَا اُسْتَاذُ اَرَى عَلٰى اَصَابِعِكَ شَيْئًا مَلِيْحًا مَكْتُوْبًا مَا هُوَ قَالَ يَا بُنَىَّ هٰذَا لِكِتَابَتِىْ لِحَدِيْثِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْ حَدِيْثِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “হযরত আবুল হাসান মাইমূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্মানিত শায়খ আবূ আলী হাসান ইবনে উয়াইনাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উনার বিছাল শরীফের পর স্বপ্নে দেখলাম। উনার দুই হাতের আঙ্গুলসমূহে সোনালী অথবা জাফরানী রঙ্গের কিছু একটা লেখা রয়েছে। তাই আমি উনার নিকট এই বিষয়ে জানতে চাইলাম। আমি বললাম, হে আমার সম্মানিত উস্তাদ! আমি আপনার আঙ্গুলসমূহে অত্যন্ত চমৎকার লাবন্যময় কিছু একটা লেখা দেখতে পাচ্ছি। এটা কি? তিনি বললেন, হে প্রিয় বৎস! এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হাদীছ শরীফ লেখার জন্য। অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ লেখার সময় পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে আমাকে এই সম্মান, মর্যাদা দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (জালাউল আফহাম ৪১১ নং পৃষ্ঠা, আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা)

অধিক পরিমাণে পবিত্র দুরূদ শরীফ

লেখার কারণে ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়া

এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ حَمْزَةَ السَّهْمِىْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ سَمِعْتُ اَبَا مُحَمَّدِ الْمُنِيْرِىْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُوْلُ رَاَيْتُهٗ يَعْنِىْ حَضْرَتْ اَحْمَدَ بْنَ مُوْسَى بْنَ عِيْسَى الْجُرْجَانِىَّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِى النَّوْمِ بَعْدَ وِفَاتِهٖ فَقُلْتُ مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ قَالَ غَفَرَ لِىْ بِكَثْرَةِ كُتُبِىِّ الْحَدِيْثِ وَالصَّلَاةُ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “হযরত হামযা আস সাহমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) আমি আবূ মুহম্মদ আল মনীরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি। আমি হযরত আহমদ ইবনে মূসা ইবনে ঈসা জুরজানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উনার বিছাল শরীফের পর স্বপ্নে দেখে বললাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, আমি অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক পরিমাণে পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববাক্বতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল কুবরা ১/১৮০)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ مُحَمَّدِ بْنِ اَبِىْ سُلَيْمَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَوْ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنِ اَبِىْ سُلَيْمَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَالْاَوَّلُ قَالَ رَاَيْتُ اَبِىْ فِى النَّوْمِ فَقُلْتُ يَا اَبِىْ مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ قَالَ غَفَرَ لِىْ قُلْتُ بِمَاذَا قَالَ بِكِتَابَتِى الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ كُلِّ حَدِيْثٍ

অর্থ: “হযরত মুহম্মদ ইবনে আবী সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি অথবা হযরত উমর ইবনে আবী সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্মানিত পিতা উনাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, হে আমার সম্মানিত পিতা মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি বললাম, কি কারণে ক্ষমা করা হয়েছে? তিনি বললেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লেখার সময় প্রত্যেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৫০ নং পৃষ্ঠা)

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَيْضًا قَالَ كَانَ لِىْ اَخٌ مُوَاخٌ فِىَّ فَمَاتَ فَرَاَيْتُهٗ فِى النَّوْمِ فَقُلْتُ مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ قَالَ غَفَرَ لِىْ قُلْتُ بِمَاذَا قَالَ كُنْتُ اَكْتُبُ الْحَدِيْثَ فَاِذَا جَاءَ ذِكْرُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبْتُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَبْتَغِىْ بِذَالِكَ الثَّوَابَ فَغَفَرَ لِىْ بِذَالِكَ

অর্থ: “হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, আমার একজন ভাই ছিলেন যিনি সর্বদা আমার সাথে ভ্রাতৃসুলভ আচরণ করতেন। তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন আমি উনাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, কি কারণে আপনাকে ক্ষমা করা হয়েছে? তিনি বললেন, আমি (জীবদ্দশায়) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লিখতাম। (লেখার সময়) যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক আসতেন। তখন আমি ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এই পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখতাম। এটা লেখার দ্বারা আমি ছাওয়াব কামনা করতাম। আর এ কারণেই আমাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা)

কাজেই বান্দা-বান্দী, উম্মতের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক শুনে অত্যন্ত মুহাব্বতের সাথে প্রতিবারই পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা। একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লেখার সময়ও অত্যন্ত আদব ও মুহব্বতের সাথে পূর্ণরূপে পবিত্র দুরূদ শরীফ ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পুরোটা সুস্পষ্টভাবে লিখা।

খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

image

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ৫০)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লাইলাতুর রগাইব শরীফ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত:

৯ম মাস- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুশ শুহূর শাহরুল আ’যম শরীফ:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুশ শুহূর শাহরুল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাস উনার শুরুতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি এসে বলেন,
اَبْشِرِىْ يَا سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اٰمِنَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَقَدْ حَمَلْتِ بِالنَّبِىِّ الْمُكَرَّمِ وَالرَّسُوْلِ الْمُعَظَّمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মহাসম্মানিত সুসংবাদ মুবারক গ্রহণ করুন। আপনি আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ ধারণ করেছেন, নাবিয়্যুল মুকাররাম ও রসূলুল মুয়াযযম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে। সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)

বেশ কয়েক বছর আগের ঘটনা। সম্ভবত তখন আমি ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ি। হঠাৎ কোনো একটি বিষয় নিয়ে রাগারাগি করে সম্মানিত সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার একটি কলম এবং একটি খাতা ছুঁড়ে ফেলেছিলাম। (নাউযুবিল্লাহ!)

পরবর্তীতে আম্মাজী উনার নিকট বিষয়টি রিপোর্ট আকারে পেশ করা হলে তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে নছীহত মুবারক করলেন, "ঘাড়ে শয়তান সওয়ার হয়েছে, যিকির-ফিকির করে না, তাই এরকম। যিকির করলে তো আর শয়তান থাকে না"। ইত্যাদি আরো অনেক নছীহত মুবারক করলেন।

ঘটনার কয়েকদিন পর একজন আপা আমার কোনো বিষয় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিকট জানান। জানানোর পর তিনি বললেন, "সেদিনের পর থেকে তো ও আমার সামনেই আসে না। কিন্তু কারো রিপোর্ট উঠলে আমি কেন শাসন করি জানো? আমি (আম্মাজী) যখন শাসন করি তখন আমি মনে মনে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করি, সে যেন এই কাজটি পরবর্তীতে আর না করে। আমি আল্লাহ পাক উনার নিকট আরো বলি, "আয় আল্লাহ পাক! তার এই ভুলের জন্য আমি তাকে দুনিয়াতেই শাস্তি দিয়ে দিয়েছি, পরকালের জন্য আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন"। (সুবহানাল্লাহ)

মূলত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি চান আমাদের যাহির-বাতিন পরিশুদ্ধ করতে। তিনি আমাদের ইহকাল-পরকাল উভয় জাহানের রূহানী মা, তিনি সবসময়ই আমাদের স্নেহ করেন। যদিও তিনি সাময়িকভাবে আমাদেরকে শাসন করেন কিন্তু এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমাদের নিজেদের ইছলাহ বা পরিশুদ্ধি।

আহমাদ তাসনীমে তামান্নুম ছামী

image

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ উনাকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ বিষয়ে আপত্তি ও তার খণ্ডনমূলক জবাব (৫)

প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি ঈদ

১. প্রতি দমে দুটি ঈদ ও দুটি ঈদে আকবর হওয়ার দলীল:

বিশ্বখ্যাত মুফাসসির আল্লামা হযরত ইসমাঈল হাক্কী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ১১২৭ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে রূহুল বয়ান’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন-
عاشقان در دمے دو عيد كنند
(বাংলা উচ্চারণ: আশেক্বানে দর দমে দো ঈদ কুনান্দ।)
অর্থ: “আশেক্বীন উনাদের প্রত্যেকটা শ্বাস-প্রশ্বাসেই দুটি ঈদ হয়।” সুবহানাল্লাহ! (রূহুল বয়ান ৬/৪৭১)
অন্যভাবে বলা হয়ে থাকে যে,
عارفان هر دمے دو عید کنند
(বাংলা উচ্চারণ: আরেফানে হর দমে দো ঈদ কুনান্দ।)
অর্থ: “সম্মানিত আরিফগণ অর্থাৎ আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের প্রত্যেকটা শ্বাস-প্রশ্বাসেই দুটি ঈদ হয়।” সুবহানাল্লাহ!
মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
صوفیان در دمے دو عید کنند
(বাংলা উচ্চারণ: ছূফিয়ানে দর দমে দো ঈদ কুনান্দ।)
অর্থ: “সম্মানিত ছূফীগণ উনাদের প্রত্যেকটা শ্বাস-প্রশ্বাসেই দুটি ঈদ হয়।” সুবহানাল্লাহ! (রূহুল বয়ান ২/৪৬৫, দেওয়ানে শামস)
মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এই বিষয়টা আরো স্পষ্টভাবে বলেন,
سالی دو عید کردن کار عوام باشد
ما صوفیان جان را هر دم دو عید باشد
(বাংলা উচ্চারণ: সালে দো ঈদ করদান কারে আওয়াম বাশদ, মা ছূফিয়ানে জান রা হরদম দো ঈদ বাশদ।)
অর্থ: “বছরে দুই ঈদ করা হচ্ছে সাধারণ লোকদের কাজ। আর আমরা সম্মানিত ছূফীগণ আমাদের সজ্ঞানে প্রত্যেকটা শ্বাস-প্রশ্বাসেই দুটি ঈদ হয়।” সুবহানাল্লাহ! (দেওয়ানে শামস)

image

image

4 hrs

১৯৯৫ সালের কথা। সামনে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা। সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না পরীক্ষা দিবো নাকি দিবো না। কারণ একদিকে নিজের ইচ্ছার সাথে সাথে আব্বার দিক থেকেও কিছুটা চাপ ছিলো অন্যদিকে আহালের দিক থেকে পরীক্ষা না দেয়ার তাগাদা ছিলো। ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে বিয়ে হয়েছিলো। বিয়ের পর থেকেই আহালের দিক থেকে পর্দার কারণে দুনিয়াবী পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়ার জন্যই তাগাদা আসছিলো। কিন্তু এক বছর হয়ে গেল সেই ফিকির আমার মধ্যে আসছিলো না যে, কি কারণে আমি পরীক্ষা দিবো না? কারণ আমি তো বোরকা পরছি, হাত-মোজা, পা-মোজা পরছি তবে তিনি (আহাল) কেন নিষেধ করছেন! উনার কথা, 'রিকশাওয়ালার সাথে কথা বললে পর্দা ঠিক থাকে না। দুনিয়াবী পড়াশুনার জন্য এভাবে কলেজে যাওয়া যাবে না'। কিন্তু আমি এটা মেনে নিতে পারলাম না। যাহোক, সিদ্ধান্ত নিলাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাবো এবং ফায়সালা নিবো। এই চিন্তা করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে গেলাম। বিষয়টি উনার কাছে পেশ করলাম। খুব অল্প কথায় তিনি আমাকে এমন নছীহত মুবারক করলেন যার অর্থ মুবারক ছিলো অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আমাকে নছীহত মুবারক করলেন, (আমি নিজের ভাষায় বলছি) "বান্দা যেদিকে যেতে চায় মহান আল্লাহপাক তিনি তাকে সেদিকেই ফেরান। তুমি যদি মনে করো তোমার পড়ালেখার প্রয়োজন আছে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তোমার জন্য সে ব্যবস্থাই করবেন"।

মূলত তিনি হচ্ছেন হুবহু পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মিছদাক্ব। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, "সে কথাই উত্তম যা অল্প কিন্তু বোঝায় বেশি।” তখন আমার ফিকিরে আসলো, দুনিয়াবী পড়ালেখা শেষ করলে আমি হয়তো একটা চাকুরী করার মতো যোগ্যতা অর্জন করবো। তখন যদি আল্লাহ পাক না করুন আমার আহালের কিছু হয়ে যায় তখন কি হবে! আমি চাই না আমার দুনিয়াবী উপার্জন। আমার আহাল দীর্ঘজীবী হোক। তিনি আমার ব্যবস্থা করবেন এটাই আমি চাই। সেদিন অল্প কথায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে যে নছীহত মুবারক করেছিলেন তা আমার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছেছিলো। যার ফলে আমি নফসানিয়ত ছাড়তে পেরেছিলাম এবং দুনিয়াবী শিক্ষা অর্জন করাটাকে চিরজীবনের জন্য বিদায় জানাতে পেরেছিলাম। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন সারা কায়িনাতের মহাসম্মানিতা মা। ক্বায়িম-মাক্কামে উম্মাহাতুল মু'মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি

একবার কোনো একটা কারণে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে গিয়েছিলাম। কথা শেষ হলে তিনি আমাকে বললেন, "তোমাকে এত মলিন দেখাচ্ছে কেন?" (আমার নিজের ভাষায় বলা)। আমি উত্তর দিলাম, 'আম্মাজী! গত রাতে ঘুম কম হয়েছে সেজন্য হতে পারে'। আমি ছোহবত মুবারক থেকে চলে আসলাম। এরপর আমি অনুভব করলাম, আমার বিষফোঁড়া উঠেছে এবং ব্যথা করছে। তখন আমি আমার নিজের সমস্যার কথা বুঝতে পারলাম। তিনি আসলেই মমতাময়ী মা, তাই সন্তানের বুঝার আগেই তিনি বুঝেছেন। সন্তানের সমস্যা কোথায় এবং সেটা কিভাবে সমাধান হবে সেটাও তিনি বুঝে থাকেন। যিকির ঠিকমতো না করায় ফিকিরও হয়না। আক্কল-সমঝ লোপ পায়। এই অবস্থার মধ্যে একবার আমিও পড়েছিলাম। নফসানিয়তের কারণে নিজের ত্রুটিগুলো বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু তিনি তো মহান আল্লাহ পাক উনার রঙ্গে রঞ্জিত। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন বান্দার অন্তরের খবর জানেন ঠিক তেমনি তিনিও আমাদের সমস্ত মুরীদদের অন্তরের খবর জানেন। তিনি বুঝতে পারলেন এভাবে যদি চলতে থাকে তবে ধ্বংস ছাড়া উপায় থাকবে না। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন উনার উম্মতকে জাহান্নামের কিনার থেকে সরিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে যান সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও তেমনি করেই উনার সমস্ত সালিক-সালিকাগণকে জাহান্নামের কিনার থেকে সরিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে যান। যেহেতু কর্তৃত্ব, বড়ত্ব ইত্যাদি বদ খাছলতের কারণে আমার রোগ বৃদ্ধি পেয়েছিলো তাই তিনি শিফা স্বরূপ যথোপযুক্ত প্রতিকারের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তাতেই আমি ফিকির করতে সক্ষম হয়েছিলাম যে, আমার নফস কত মোটা তাজা হয়ে গিয়েছিলো। মূলত তিনি জামালী অথবা জালালী শান মুবারক যেটাই প্রকাশ করেন না কেন তা অবশ্যই সালিক-সালিকাদের ভালোর জন্যই প্রকাশ করে থাকেন।

আহমাদ শামীমা তানভীন এ্যানি

imageimage