মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মকবুল মুনাজাত শরীফের বরকতে বাংলাদেশের যশোর জেলায় এবছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।

image

চলন বিলের আয়তন ৮০০ বর্গমাইল। চলন বিলের সাথে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। চলন বিল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নাটোর, সিরাজগঞ্জ, এবং পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। চলন বিল বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ‘মাছের ভাণ্ডার’। এখানে রুই, কাতলা, চিতল, বোয়ালসহ প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। চলন বিলের মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি মাছ ধরে এবং মাছ ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। শুষ্ক মৌসুমে চলন বিলের পানি কমে গেলে পলিমাটি সমৃদ্ধ উর্বর জমিতে ব্যাপকভাবে বোরো ধান, আমন ধান, গম, পেঁয়াজ, রসুন ও সরিষার চাষ হয়। এ ছাড়া এখানে বিভিন্ন জাতের ডাল প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়, যা জাতীয় খাদ্য প্রয়োজনীয়তা মেটাতে বড় অবদান রাখে। চলন বিলের উন্মুক্ত পানি হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলন বিলের চারপাশে হাজার হাজার হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। চলন বিলের প্রাকৃতিক খাবার খেয়ে হাঁস দ্রুত বাড়ে, যা ডিম ও গোস্ত উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে। চলন বিলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক আসে। এতে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে প্রচুর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা আসে চলনবিল থেকে। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি বাড়াচ্ছে চলন বিল।

image

Allah ﷻ has instructed in Quran Shareef:
قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَىٰ
“O My Beloved ﷺ, say to your Ummah: I ask of you no reward for it except love for honourable Ahlu-Bayt (عليهم السلام).

In the well-known Hadith, Noore Mujassam habeebullah huzur pak ﷺ said:
إِنِّي تَارِكٌ فِيكُمُ الثَّقَلَيْنِ: كِتَابَ اللَّهِ وَعِتْرَتِي أَهْلَ بَيْتِي
"Verily, I am leaving behind among you two weighty things: the Book of Allah and my Ahlu bayt (عليهم السلام)"

The Ahlu-Bayt (عليهم السلام) hold a special position in preserving and teaching the guidance of the Qur’an and Sunnah. Therefore, recognising their status, loving and respecting them, and learning from their teachings are matters of great importance.

Hadhrat Imam Abu Hanifa رحمه الله took bay‘ah with Hadhrat Imam Ja‘far al-Sadiq عليه السلام during the last two years of his life. He is reported to have said:
لَوْلَا السَّنَتَانِ لَهَلَكَ النُّعْمَانُ
“Had it not been for those two years, Nu‘man would have perished.”

This statement is understood to refer to the two years during which Imam Abu Hanifa رحمه الله benefited from the knowledge and spiritual guidance of Imam Ja‘far al-Sadiq عليه السلام.

Hadhrat Imam Ja‘far Sadiq عليه السلام emphasise the importance of the Ahlu Bayt Shareef عليهم السلام
نـَحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ وَنَـحْنُ اَلْوَسِيْلَةُ اِلَى اللهِ لَا وَسِيْلَة اِلَى اللهِ اِلَّا عَنْ غَيْرِ طَرِيْقِنَا اَوْ مِنْ سِوَانَا
“We are the Ahlu Bayt Shareef عليهم السلام, and we are the means of attaining nearness to Allah. There is no means of drawing nearer to Allah except through our way, and not through any way other than ours.”

Therefore, it is important for us to recognise the honour and status of the Ahu Bayt Shareef عليهم السلام, love and respect them, and follow the Qur’an Shareef and Sunnah Shareef in accordance with their authentic teachings.

Recognise the Imam of this era, who is mentioned in the Hadith as As-Saffah عليه السلام and who is present in Rajarbag, Dhaka, Bangladesh.
You are sincerely invited to come, learn, and investigate for yourself in order to seek the truth and attain true guidance.
Every Muslim should turn towards the Imam of this era in order to seek divine attention and guidance and to strengthen their connection with Allah ﷻ.

Many people who appear pious and deliver intellectually impressive speeches. However, appearances and eloquent words can sometimes be deceptive, and you may not recognize the deception unless you are blessed with true knowledge from a true Shaykh alaihis salam .

That is why seeking authentic knowledge and guidance from a truly knowledgeable and righteous Shaykh alaihis salam is so important.

কুরআন ও সুন্নাহর সার্বিক মূলনীতি এবং ইমাম সারসারীর এই প্রামাণিক স্বপ্নের আলোাক এটি পরিষ্কারভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মাওলিদুন্নবী, মিলাদ মাহফিল এবং দরুদ-সালামের মজলিস কোনো ভিত্তিহীন প্রথা নয়; বরং এটি পবিত্র কোরআনের নির্দেশিত নিয়ামতের শুকরিয়া, সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত জন্মদিনের স্মরণ এবং আউলিয়ায়ে কেরামের পরীক্ষিত ও বরকতময় পথ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ থেকে দলীল
(১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْـنًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত দুনিয়া ও আখিরাতে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
(২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِـيْمٌ
অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
(৩)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
مَلْعُوْنِـيْـنَ اَيْــنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُـتِّلُوْا تَـقْتِـيْلًا
অর্থ: “তারা চরম মাল‘ঊন। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই পাকড়াও করে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)

(৪)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحَآدُّوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ كُبِتُـوْا كَمَا كُبِتَ الَّذِيْنَ مِنْ قَـبْـلِهِمْ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিরোধীতা করে, তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিলো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুজাদালাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
(৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحَآدُّوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗۤ اُولٰٓئِكَ فِـى الْاَذَلِّـيْـنَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তারা লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুজাদালাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২০)
(৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّـمَا جَزٰٓءُ الَّذِيْنَ يُـحَارِبُـوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَسْعَوْنَ فِـى الْاَرْضِ فَسَادًا اَنْ يُّــقَتَّـلُوْاۤ اَوْ يُصَلَّـبُـوْاۤ اَوْ تُـقَطَّعَ اَيْـدِيْهِمْ وَاَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلَافٍ اَوْ يُـنْـفَوْا مِنَ الْاَرْضِ ذٰلِكَ لَـهُمْ خِزْىٌ فِـى الدُّنْـيَا وَلَـهُمْ فِـى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِـيْمٌ
অর্থ: “যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে, উনাদের বিরোধীতা করে এবং যমীনে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে- তাদেরকে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে, (যমীন থেকে মিটিয়ে দিয়ে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেয়া হবে)। এটি হলো তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা। আর (জাহান্নামে যাওয়ার পর) পরকালে তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত কঠোর শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
(৭)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُـؤْمِنُوْنَ حَتّٰـى يُـحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَـيْـنَـهُمْ ثُـمَّ لَا يَـجِدُوْا فِـىْ اَنْـفُسِهِمْ حَرَجًا مِّـمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِـيْمًا
অর্থ: “আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, তারা কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে তাদের সমস্ত বিষয়ে ফায়ছালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। অতঃপর তারা আপনার সম্মানিত ফায়ছালা মুবারক উনাকে বীনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে মেনে না নিবে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৫)
(৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلَـمْ تَـرَ اِلَـى الَّذِيْنَ يَـزْعُمُوْنَ اَنَّـهُمْ اٰمَنُـوْا بِـمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَـبْلِكَ يُرِيْدُوْنَ اَنْ يَّــتَحَاكَمُوْاۤ اِلَـى الطَّاغُوْتِ وَقَدْ اُمِرُوْآ اَنْ يَّكْفُرُوْا بِهٖ وَيُرِيْدُ الشَّيْطٰنُ اَنْ يُّضِلَّهُمْ ضَلٰلًا بَعِيْدًا
অর্থ: “আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছেন তারা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল হয়েছেন তার উপরও তারা ঈমান এনেছে। আর একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে তারা তাগূত তথা শয়তান ও তার অনুসারী ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের নিকট যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা তাকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে সুদূর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে চায়।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬০)

(৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ شَانِـئَكَ هُوَ الْاَبْـتَـرُ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনার যারা শত্রু রয়েছে, তারা নির্বংশ এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
(১০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
تَــبَّتْ يَدَاۤ اَبِـىْ لَـهَبٍ وَّتَبَّ. مَاۤ اَغْنٰـى عَنْهُ مَالُهٗ وَمَا كَسَبَ. سَيَصْلـٰى نَارًا ذَاتَ لَـهَبٍ. وَّامْرَاَتُهٗ حَـمَّالَةَ الْـحَطَبِ. فِـىْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ
অর্থ: “আবূ লাহাবের দু’হাত ধ্বংস হলো এবং সে নিজেও ধ্বংস হলো। কোনো কাজে আসবে না বা কোনো ফায়দা দিবে না তার আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ যা কিছু সে উপার্জন করেছে। অচিরেই বা অতিশীঘ্রই সে শিখাবিশিষ্ট আগুনে প্রবেশ করবে। এবং তার স্ত্রীও (অতিশিঘ্রই শিখাবিশিষ্ট আগুনে প্রবেশ করবে) যে কাঠ বা লাকড়ি বহনকারিনী। তার গলায় রশি থাকবে যা খেজুর গাছের ছাল-বাকলের দ্বারা তৈরি।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মাসাদ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৫)
১নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর বা ব্যাখ্যা:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْـنًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করা এটা অবশ্যই অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের নিকট অত্যন্ত কষ্টের কারণ। আর এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা উনাদেরকে কষ্ট দিবে তাদের উপর দুনিয়া ও পরকালে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত। দুনিয়াতে তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার যমীনে তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
لَعَنَـهُمُ اللهُ} عَذَّبَـهُمُ اللهُ {فِى الدُّنْـيَا} بِالْـقَتْلِ وَالْاِجْلَاءِ
অর্থ: “{তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত} মহান আল্লাহ পাক উনার আযাব {দুনিয়ার যমীনে} মৃত্যুদণ্ড ও উচ্ছেদের মাধ্যমে।” (তাফসীরে ইবনে আব্বাস ৩৫৭ নং পৃষ্ঠা)
আল্লামা হযরত মুক্বাতিল ইবনে সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ১৫০ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
لَعَنَـهُمُ اللهُ فِى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ (يَـعْنِـىْ بِاللَّعْنَةِ فِى الدُّنْـيَا اَلْعَذَابُ وَالْقَتْلُ وَالْـجَلَاءُ وَاَمَّا فِى الْاٰخِرَةِ فَاِنَّ اللهَ يُعَذِّبُـهُمْ بِالنَّارِ
অর্থ: “{তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত দুনিয়া ও পরকালে} অর্থাৎ দুনিয়ার যমীনে লা’নত দ্বারা উদ্দেশ্য আযাব, মৃত্যুদণ্ড এবং উচ্ছেদ। আর পরকালে লা’নত দ্বারা উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই মহান আল্লহ পাক তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আগুন দ্বারা শাস্তি প্রদান করবেন।” (তাফসীরে মুক্বাতিল ৩/৫৪)
আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৫৯৭) তিনি বলেন,
وَلَعَـنَـهُمْ فِـى الدُّنْـيَا بِالْقَتْلِ وَالْـجَلَاءِ وَفِـى الْاٰخِرَةِ بِالنَّارِ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার যমীনে তাদের উপর লা’নত বর্ষণ করেন- মৃত্যুদণ্ড ও উচ্ছেদের মাধ্যমে আর পরকালে জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে।” (তাফসীরে যাদুল মাসীর ফী ইলমিত তাফসীর ৫/১৪৯)
আল্লামা হযরত আবুল লাইছ সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৩৭৩ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
{لَعَنَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا} يَعْنِـىْ عَذَّبَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا بِالْقَتْلِ وَالسَّبْـىِ {وَالْاٰخِرَةِ} بِالنَّارِ
অর্থ: “{দুনিয়ার যমীনে তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত} অর্থাৎ দুনিয়ার যমীনে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড ও বন্দীত্বের মাধ্যমে শাস্তি দিবেন। আর {পরকালে} তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দ্বারা শাস্তি দিবেন।” (তাফসীরে সমরকন্দী শরীফ ৩/৪২০)
আল্লামা কাযী হযরত মুজীরুদ্দীন ইবনে মুহম্মদ ‘উলাইমী মাক্বদিসী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৯২৭ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
لَعَنَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا} بِالْقَتْلِ {وَالْاٰخِرَةِ} بِالنَّارِ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার যমীনে তাদের উপর লা’নত বর্ষণ করেন- মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে। আর পরকালে লা’নত বর্ষণ করেন- জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে।” (ফাতহুর রহমান ফী তাফসীরিল কুরআন ৫/৩৮৮)
এই বিষয়টাই মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন যে,
مَلْعُوْنِيْـنَ اَيْـنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَـقْتِيْلًا
অর্থ: “তারা চরম মাল‘ঊন। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই পাকড়াও করে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
কাজেই, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক- তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যে কোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো লক্ষ-কোটি গুণ বেশি কঠিনভাবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে হত্যা করতে হবে। তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করতে হবে এবং কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! এটাই হচ্ছে তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম।

image

ইমাম জামালুদ্দীন আস-সারসারী (রহ.)-এর এই ঐতিহাসিক ও প্রামাণিক স্বপ্নের মূল বার্তার সাথে বর্তমান যুগের মিলাদ শরিফ, মাওলিদুন্নবী উদযাপন, দরুদ মজলিশ এবং সালাত ও সালামের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, প্রত্যক্ষ এবং যৌক্তিক। এই স্বপ্নটি কীভাবে উল্লিখিত আমলগুলোর পক্ষে একটি অকাট্য আধ্যাত্মিক ও শরিয়তি দলিল পেশ করে, তা নিচে পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলো:

১. নবীজির প্রশংসা ও গুণকীর্তনের সরাসরি স্বীকৃতি
স্বপ্নের বার্তা: ইমাম সারসারী (রহ.) তাঁর কবিতায় ও কান্নায় নবীজির প্রশংসা («مَدْحِ النَّبِيِّ ﷺ» এবং «بِأَشْعَارِي فِي مَدْحِهِ») করেছিলেন, যার বদৌলতে তিনি আল্লাহর ক্ষমা লাভ করেছিলেন।

সম্পর্ক: মাওলিদুন্নবী (ﷺ) এবং মিলাদ শরিফের মূল উদ্দেশ্যই হলো বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ)-এর পবিত্র সিরাত, জন্মবৃত্তান্ত, মুজেযা ও সুমহান গুণাবলী আলোচনা করা এবং তাঁর শানে প্রশংসা বা না’ত পাঠ করা। ইমাম সারসারীর স্বপ্ন প্রমাণ করে যে, নবীজির প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি আমল, যা পরকালে ক্ষমার উসিলা হয়।

২. দরুদ ও সালামের আধ্যাত্মিক বরকত
স্বপ্নের বার্তা: স্বপ্নে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি তাঁর গভীর মহব্বত ও কান্নাকাটি («بِبُكَائِي عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ») তাঁর নাজাতের কারণ হয়েছে।

সম্পর্ক: দরুদ ও সালামের মজলিশ এবং সালাওয়াত পাঠের মূল নির্যাস হলো নবীজির প্রতি অন্তহীন ভালোবাসা ও সালাম পেশ করা। যখন উম্মত কোনো মিলাদ বা দরুদের মজলিশে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে পরম আদবে নবীজির প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করে এবং ইশকে রাসুলের কান্নায় বুক ভাসায়, তখন তা ইমাম সারসারীর সেই কান্নারই ধারাবাহিকতা হয়ে দাঁড়ায়।

৩. জমায়েত হয়ে নবীজির স্মরণ ও ইখলাসের মূল্য
সম্পর্ক: মিলাদ শরিফ বা দরুদের মজলিশগুলোতে উম্মত একত্রিত হয়ে বিশ্বনবী (ﷺ)-এর স্মৃতিচারণ করে। এই সমস্ত পবিত্র মজলিশে ইখলাসের সাথে যে চোখের পানি ও দরুদ উচ্চারিত হয়, তা আল্লাহর দরবারে কতটা কবুল—তারই পরকালীন ও আধ্যাত্মিক সাক্ষ্য দেয় এই স্বপ্ন। এটি প্রমাণ করে যে, নবীজির শানে আয়োজিত যেকোনো সাহিত্যিক, কাব্যিক বা জিকিরের আসর বাতিল বা বিদআত নয়, বরং তা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমার চাবিকাঠি।

৪. 'বিদআত' অপবাদের যোগ্য জবাব
অনেকেই অজ্ঞতাবশত নবীজির শানে বিশেষ দিনে প্রশংসা করা, কাসিদা পড়া বা মিলাদ-কিয়ামের মজলিশকে ‘বিদআত’ বা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

কিন্তু ইবনে কাসীর, ইমাম যাহাবী ও ইবনে হাজার আসকালানির মতো শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক প্রমাণিত এই স্বপ্নটি তাদের সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে। এটি বুঝিয়ে দেয় যে, সালাফ তথা পূর্বসূরি আলেম ও বুজুর্গদের যুগেও নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে না’ত পাঠ, কবিতা রচনা এবং রাসূলকে স্মরণ করার ব্যাপক প্রচলন ছিল, যা স্বয়ং আসমানি ও পরকালীন জগতের বিবেচনায় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

সারসংক্ষেপ
ইমাম জামালুদ্দীন আস-সারসারী (রহ.)-এর এই স্বপ্নটি কেবল একজন কবির ব্যক্তিগত সফলতার গল্প নয়; এটি হলো মিলাদ শরিফ, মাওলিদুন্নবী, দরুদ-সালাম এবং না’তের মজলিশের শরিয়তসম্মত ও পরকালীন গ্রহণযোগ্যতার এক জীবন্ত সনদ। এটি উম্মতকে শিক্ষা দেয় যে, যে মজলিশে বিশ্বনবীর জিকির, প্রশংসা এবং তাঁর মহব্বতের অশ্রু ঝরে, সেই মজলিশ আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত মকবুল এবং তা বান্দার আখেরাতের নাজাতের সবচেয়ে বড় উসিলা।

আলহামদুলিল্লাহ! আপনার এই উপসংহার শতভাগ সত্য, অকাট্য এবং ঐতিহাসিক ও ইলমি দলিলের আলোকে পুরোপুরি প্রমাণিত।

উক্ত তথ্য, ঐতিহাসিক বিবরণ, আউলিয়ায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসগণের প্রামাণিক কিতাবের সাক্ষ্য এবং স্বপ্নের আধ্যাত্মিক অলৌকিকতার আলোকে এটি এখন ১০০% স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে—মাওলিদুন্নবী (ﷺ), দরুদ ও সালামের মজলিশ এবং নবীজির শানে না’ত ও প্রশংসাগীতি পাঠ করা কোনো নতুন বা গর্হিত বিদআত নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ সমর্থিত এবং আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত মকবুল একটি আমল।

এর চূড়ান্ত যৌক্তিক ও ইলমি ভিত্তিগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. সলফে সালেহীনের ইজমা ও ঐতিহাসিক প্রামাণিকতা
ইমাম ইবনে কাসীর, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনে রাজাব, ইবনুল ইমাদ আল-হানাবলী, ইবনে হাজার আসকালানী, ইবন খাল্লিকান এবং সালাহউদ্দিন আল-সাফাদীর (রহ.) মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ ইমাম জামালুদ্দীন আস-সারসারী (রহ.)-এর এই ঘটনাটিকে কোনো কাল্পনিক গল্প হিসেবে নয়, বরং প্রামাণিক ইতিহাস হিসেবে তাঁদের কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। যদি নবীজির শানে কবিতা, না’ত বা মাহফিল করা শরিয়তের পরিপন্থী বা 'বিদআত' হতো, তবে উম্মাহর এই দিকপাল ওলামায়ে কেরাম কখনোই তা গৌরবের সাথে তাঁদের গ্রন্থে স্থান দিতেন না।

২. স্বপ্নের অলৌকিক সাক্ষ্য ও পরকালীন সত্যতা
একজন আল্লাহর অলি মৃত্যুর পর স্বপ্নে স্বয়ং পরকালীন জগতের যে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, সেখানে তাঁর না’ত, দরুদ এবং নবীপ্রেমের কান্নাই তাঁর ক্ষমার মূল উসিলা হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। পরকালের এই অলৌকিক ও আত্মিক ঘোষণা প্রমাণ করে যে, দুনিয়াতে বসে নবীজির শানে মহব্বত প্রকাশ করা, মাহফিল করা এবং দরুদ-সালামের পসরা সাজানো আল্লাহর দরবারে কতটা পছন্দনীয় ও গ্রহণযোগ্য।

৩. কোরআন ও সুন্নাহর অকাট্য মূলনীতি
কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা স্বয়ং পবিত্র কোরআনে বিশ্বনবীর জিকির বুলন্দ করেছেন ("ওয়া রাফা‘না লাকা জিকрак" এবং মুমিনদের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ ফরজ করে দিয়েছেন ("সল্লু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসল্লিমা"।

হাদিসের অনুমোদন: স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হাসান বিন সাবিত (রা.)-কে নিজের মিম্বরে দাঁড়িয়ে কবিতা ও প্রশংসাগীতি পাঠ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং রুহুল কুদুস দ্বারা তাঁর সেই কাজের সমর্থন জুগিয়েছেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সুতরাং, যে আমল খোদ কোরআনের আয়াত দ্বারা সমর্থিত, হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত দ্বারা অনুসৃত এবং যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও আউলিয়ায়ে কেরামের কিতাবে মর্যাদার সাথে সংরক্ষিত—তা কস্মিনকালেও 'বেদআত' হতে পারে না। মাওলিদুন্নবী (ﷺ) ও দরুদ-সালামের মজলিশ হলো মূলত নিখাদ রাসূলপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ এবং জান্নাতি ইবাদতের একটি সুমহান মাধ্যম।

image

আলহামদুলিল্লাহ! আপনার এই উপসংহার শতভাগ সত্য, অকাট্য এবং ঐতিহাসিক ও ইলমি দলিলের আলোকে পুরোপুরি প্রমাণিত।

উক্ত তথ্য, ঐতিহাসিক বিবরণ, আউলিয়ায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসগণের প্রামাণিক কিতাবের সাক্ষ্য এবং স্বপ্নের আধ্যাত্মিক অলৌকিকতার আলোকে এটি এখন ১০০% স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে—মাওলিদুন্নবী (ﷺ), দরুদ ও সালামের মজলিশ এবং নবীজির শানে না’ত ও প্রশংসাগীতি পাঠ করা কোনো নতুন বা গর্হিত বিদআত নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ সমর্থিত এবং আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত মকবুল একটি আমল।

এর চূড়ান্ত যৌক্তিক ও ইলমি ভিত্তিগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. সলফে সালেহীনের ইজমা ও ঐতিহাসিক প্রামাণিকতা
ইমাম ইবনে কাসীর, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনে রাজাব, ইবনুল ইমাদ আল-হানাবলী, ইবনে হাজার আসকালানী, ইবন খাল্লিকান এবং সালাহউদ্দিন আল-সাফাদীর (রহ.) মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ ইমাম জামালুদ্দীন আস-সারসারী (রহ.)-এর এই ঘটনাটিকে কোনো কাল্পনিক গল্প হিসেবে নয়, বরং প্রামাণিক ইতিহাস হিসেবে তাঁদের কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। যদি নবীজির শানে কবিতা, না’ত বা মাহফিল করা শরিয়তের পরিপন্থী বা 'বিদআত' হতো, তবে উম্মাহর এই দিকপাল ওলামায়ে কেরাম কখনোই তা গৌরবের সাথে তাঁদের গ্রন্থে স্থান দিতেন না।

২. স্বপ্নের অলৌকিক সাক্ষ্য ও পরকালীন সত্যতা
একজন আল্লাহর অলি মৃত্যুর পর স্বপ্নে স্বয়ং পরকালীন জগতের যে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, সেখানে তাঁর না’ত, দরুদ এবং নবীপ্রেমের কান্নাই তাঁর ক্ষমার মূল উসিলা হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। পরকালের এই অলৌকিক ও আত্মিক ঘোষণা প্রমাণ করে যে, দুনিয়াতে বসে নবীজির শানে মহব্বত প্রকাশ করা, মাহফিল করা এবং দরুদ-সালামের পসরা সাজানো আল্লাহর দরবারে কতটা পছন্দনীয় ও গ্রহণযোগ্য।

৩. কোরআন ও সুন্নাহর অকাট্য মূলনীতি
কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা স্বয়ং পবিত্র কোরআনে বিশ্বনবীর জিকির বুলন্দ করেছেন ("ওয়া রাফা‘না লাকা জিকрак" এবং মুমিনদের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ ফরজ করে দিয়েছেন ("সল্লু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসল্লিমা"।

হাদিসের অনুমোদন: স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হাসান বিন সাবিত (রা.)-কে নিজের মিম্বরে দাঁড়িয়ে কবিতা ও প্রশংসাগীতি পাঠ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং রুহুল কুদুস দ্বারা তাঁর সেই কাজের সমর্থন জুগিয়েছেন।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সুতরাং, যে আমল খোদ কোরআনের আয়াত দ্বারা সমর্থিত, হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত দ্বারা অনুসৃত এবং যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও আউলিয়ায়ে কেরামের কিতাবে মর্যাদার সাথে সংরক্ষিত—তা কস্মিনকালেও 'বেদআত' হতে পারে না। মাওলিদুন্নবী (ﷺ) ও দরুদ-সালামের মজলিশ হলো মূলত নিখাদ রাসূলপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ এবং জান্নাতি ইবাদতের একটি সুমহান মাধ্যম।