মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَذَكِّرْهُمْ بِاَيَّامِ اللهِ اِنَّ فِـىْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُوْرٍ

অর্থ: “আর আপনি তাদেরকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ বিশেষ দিন মুবারক সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিন, জানিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এই বিশেষ বিশেষ দিন মুবারকসমূহ উনাদের মধ্যে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও শুকুরগুজার বান্দা-বান্দী, উম্মত উনাদের জন্য সম্মানিত আয়াত শরীফ অর্থাৎ নিদর্শন মুবারক, উপদেশ মুবারক, মুহব্বত-মা’রিফাত, নিসবত-কুরবত মুবারক, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক নিহিত রয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ - ৫)

পবিত্র জুমুয়াহ শরীফও মহাসম্মানিত আইয়্যামুল্লাহ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ উনার গুরুত্ব-ফযীলত মুবারক অন্যান্য দিনের থেকে ফযীলতপূর্ণ। যার কারণে এই দিবসকে সাইয়্যিদুল আইয়্যাম বা সকল দিবসের শ্রেষ্ঠ দিবস বলা হয়। আর পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ দিবস মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্পৃক্ত, নিছবতযুক্ত হওয়ার কারণে উক্ত দিবস মুবারক উনাকে পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَتَطَهَّرَ بِمَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، ثُمَّ ادَّهَنَ أَوْ مَسَّ مِنْ طِيْبٍ، ثُمَّ رَاحَ فَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ، فَصَلّٰى مَا كُتِبَ لَهٗ، ثُمَّ إِذَا خَرَجَ الْإِمَامُ أَنْصَتَ، غُفِرَ لَهٗ مَا بَيْنَهٗ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرٰى‏‏.‏

অর্থ: হযরত সালমান ফারসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি পবিত্র জুমুয়ার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, অতঃপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, অতঃপর (সম্মানিত মসজিদে) যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ নামায আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমুয়ার এবং পরবর্তী জুমুয়ার মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারী শরীফ: ৯১০)

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র জুমুয়ার দিন যথাসম্ভব তোমরা সুগন্ধি ব্যবহার করো। (নাসায়ী শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ১৩৫৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ وَمَسّ مِنْ طِيبٍ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ، ثُمّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلَمْ يَتَخَطّ أَعْنَاقَ النّاسِ ثُمّ صَلّى مَا كَتَبَ اللهُ لَهُ ثُمّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ حَتّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ كَانَتْ كَفّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ جُمُعَتِهِ الّتِي قَبْلَهَا.

অর্থ: যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন গোসল করল, তার কাছে থাকা সুন্দরতম জামাটি পরিধান করল এবং সংগ্রহে থাকলে সুগন্ধি ব্যবহার করল, এরপর জুমুয়াতে উপস্থিত হল, কারো কাঁধ ডিঙ্গিয়ে গেল না, তারপর মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত তাওফীক্ব মুবারক অনুযায়ী পবিত্র সুন্নত-নফল নামায পড়ল, অতঃপর খতীব (খুতবার জন্য) বের হওয়া থেকে নামায শেষ করা পর্যন্ত নিশ্চুপ থাকল, তার এই নামায এ জুমুয়াহ থেকে সামনের জুমুয়াহ পর্যন্ত (গুনাহের) কাফ্ফারা হবে। (আবূ দাউদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ৩৪৩; মুসনাদে আহমাদ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১১৭৬৮; ইবনে হিব্বান শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ২৭৭৮; মুস্তাদরাক লিল হাকিম, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং: ১০৪৬৫)

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমূহ থেকে সুস্পষ্ট হয় যে, পবিত্র জুমুয়াহ শরীফে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নেয়া আবশ্যক এবং মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত।

নিম্নে পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিবস মুবারকের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো -

১) হাত-পায়ের নখ ও চুল, গোফ, ইত্যাদি কাটা।

২) গোসল করা।

৩) পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, উত্তম কাপড় অর্থাৎ পবিত্র সুন্নতী লিবাস পরিধান করা।

৪) সুগন্ধি/ আতর ব্যবহার করা।

৫) যতসম্ভব তাড়াতাড়ি মসজিদে উপস্থিত হওয়া।

৬) মুসল্লীদেরকে ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে না যাওয়া।

৭) অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে খুতবা শ্রবণ করা।

৮) বেশি বেশি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা।

৯) বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দোয়া-মুনাজাত করা। ইত্যাদি

© al-ihsan.net

image

তাবেঈদের যুগে প্রতি জুমার রাতে সমবেত হয়ে কেবল দরুদ জপের মজলিস জমানোর ঐতিহাসিক দলিল

উৎস কিতাব: ইমাম আবু বকর বিন আবি আসিম (র.) [মৃত্যু: ২৮৭ হিজরি] রচিত দরুদ শরীফের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক সংকলন আস-সালাতু আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم), হাদিস নং- ৮২।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى (تَابِعِيٌّ كَبِيرٌ) قَالَ: كَانُوا يَجْتَمِعُونَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَلَا يَكُونُ لَهُمْ شُغْلٌ إِلَّا الصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يُصْبِحُوا.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবদির রাহমানি ব্নি আবী লাইলা ক্বালা: কানূ ইয়াজতামিঊনা লাইলাতাল জুমুআতি ফালা ইয়াকূনু লাহুম শুগলুন ইল্লাছ ছালাতু আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা হাত্তা ইয়ুছবিহূ।
হুবহু অনুবাদ:
"প্রখ্যাত জ্যেষ্ঠ তাবেয়ী আব্দুর রহমান ইবনু আবী লায়লা (র.) থেকে বর্ণিত ঐতিহাসিক আমল, তিনি বলেন: তারা (সাহাবা ও তাবেঈগণ) জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে) সমবেত হতেন বা মজলিস করতেন; অতঃপর ভোর হওয়া পর্যন্ত নবীজী ﷺ-এর প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে দরুদ (সালাত) পাঠ করা ছাড়া তাদের আর অন্য কোনো কাজ বা ব্যস্ততা থাকত না।"

২. তাবেঈদের জিকির ও দরুদের মজলিসের জন্য ফেরেশতাদের নূরের খাতা ও কলম নিয়ে আসার ঐতিহাসিক ইবারত

উৎস কিতাব: হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (র.) রচিত বিখ্যাত কিতাব জলাউল আফহাম ফী ফাদলিস সালাতি আলা খাইরিল আনাম (جلاء الأفهام), পৃষ্ঠা- ৩৩৫। islamweb.net
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ مَعَهُمْ أَقْلَامٌ مِنْ ذَهَبٍ وَصُحُفٌ مِنْ نُورٍ، لَا يَكْتُبُونَ إِلَّا الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ يُجَالِسُهُمْ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবী হুরাইরাতা ক্বালা: ইন্না লিল্লাহি মালাইকাতান ফিল আরদি মাআহুম আক্বলামুম মিন যাহাবিঁও ওয়া ছুহুফুম মিন নূরিঁ, লা ইয়াকতুবূনা ইল্লাছ ছালাতা আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া মাঁও ইয়ু জ্বালিসুহুম।
হুবহু অনুবাদ:
"হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই জমিনে আল্লাহর এমন কিছু ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা রয়েছেন যাদের কাছে স্বর্ণের কলম এবং নূরের খাতা থাকে। তারা কেবল নবীজী ﷺ-এর প্রতি সমবেত দরুদ পাঠ এবং যারা তাদের সাথে দরুদের মজলিসে বসে, তাদের নাম ছাড়া আর কিছুই লেখেন না islamweb.net।"

৩. মদিনার মজলিসে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ১০০ বার দরুদ পাঠের ঐতিহাসিক ইবারত

উৎস কিতাব: হাফেজ আবু বকর আল-বাইহাকী (র.) [মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি] রচিত বিখ্যাত হাদিস ও ইতিহাস সংকলন শুআবুল ঈমান (شعب الإيمان), খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১১১।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كُنَّا نَقْعَدُ حِلَقًا فِي الْمَسْجِدِ، فَلَا نَقُومُ حَتَّى نُصَلِّيَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবী সাঈদিনিল খুদরিয়্যি ক্বালা: কুন্না নাক্বউদু হিলক্বান ফিল মাসজিদি, ফালা নাক্বূমু হাত্তা নুসল্লিয়া আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিআতা মাররাহ।
হুবহু অনুবাদ:
"সাহাবি হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত ঐতিহাসিক রূপরেখা, তিনি বলেন: আমরা মদিনার মসজিদে বৃত্তাকারে হালকাহ বা মজলিস করে বসতাম; অতঃপর আমরা নবীজী ﷺ-এর ওপর সুনির্দিষ্ট সংখ্যায় একশত বার দরুদ পাঠ শেষ না করে মজলিস থেকে উঠতাম না।"

৪. তাবেঈ জুরহাদ ও ওলামাদের জিকির-দরুদের মজলিসকে জান্নাতের বাগান ঘোষণার ঐতিহাসিক ইবারত

উৎস কিতাব: সূনান তিরমিযী (سنن الترمذي), কিতাবুদ দাওয়াত, হাদিস নং- ৩৫০১ (ইমাম তিরমিযী একে حسن غريب বা হাসান গরীব বলেছেন)।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا قَالُوا: وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: حِلَقُ الذِّكْرِ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আনাসি ব্নি মালিকিন আন্না রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ক্বালা: ইযা মারারতুম বিরিয়াদিল জান্নাতি ফারতাঊ ক্বালূ: ওয়া মা রিয়াদুল জান্নাহ? ক্বালা: হিলক্বুয যিকর।
হুবহু অনুবাদ:
"হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন: তোমরা যখন জান্নাতের বাগানগুলোর পাশ দিয়ে যাবে, তখন সেখান থেকে ফল আহার করবে (তথা শামিল হবে)। উপস্থিত সাহাবিরা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতের বাগানগুলো কী কী? নবীজী ﷺ বললেন: জিকির ও দরুদের বৃত্তাকার মজলিসসমূহ (حلق الذكر - হালকাহ)।"

তাবেঈদের যুগে প্রতি জুমার রাতে সমবেত হয়ে কেবল দরুদ জপের মজলিস জমানোর ঐতিহাসিক দলিল

উৎস কিতাব: ইমাম আবু বকর বিন আবি আসিম (র.) [মৃত্যু: ২৮৭ হিজরি] রচিত দরুদ শরীফের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক সংকলন আস-সালাতু আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم), হাদিস নং- ৮২।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى (تَابِعِيٌّ كَبِيرٌ) قَالَ: كَانُوا يَجْتَمِعُونَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَلَا يَكُونُ لَهُمْ شُغْلٌ إِلَّا الصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يُصْبِحُوا.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবদির রাহমানি ব্নি আবী লাইলা ক্বালা: কানূ ইয়াজতামিঊনা লাইলাতাল জুমুআতি ফালা ইয়াকূনু লাহুম শুগলুন ইল্লাছ ছালাতু আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা হাত্তা ইয়ুছবিহূ।
হুবহু অনুবাদ:
"প্রখ্যাত জ্যেষ্ঠ তাবেয়ী আব্দুর রহমান ইবনু আবী লায়লা (র.) থেকে বর্ণিত ঐতিহাসিক আমল, তিনি বলেন: তারা (সাহাবা ও তাবেঈগণ) জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে) সমবেত হতেন বা মজলিস করতেন; অতঃপর ভোর হওয়া পর্যন্ত নবীজী ﷺ-এর প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে দরুদ (সালাত) পাঠ করা ছাড়া তাদের আর অন্য কোনো কাজ বা ব্যস্ততা থাকত না।"

২. তাবেঈদের জিকির ও দরুদের মজলিসের জন্য ফেরেশতাদের নূরের খাতা ও কলম নিয়ে আসার ঐতিহাসিক ইবারত

উৎস কিতাব: হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (র.) রচিত বিখ্যাত কিতাব জলাউল আফহাম ফী ফাদলিস সালাতি আলা খাইরিল আনাম (جلاء الأفهام), পৃষ্ঠা- ৩৩৫। islamweb.net
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ مَعَهُمْ أَقْلَامٌ مِنْ ذَهَبٍ وَصُحُفٌ مِنْ نُورٍ، لَا يَكْتُبُونَ إِلَّا الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ يُجَالِسُهُمْ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবী হুরাইরাতা ক্বালা: ইন্না লিল্লাহি মালাইকাতান ফিল আরদি মাআহুম আক্বলামুম মিন যাহাবিঁও ওয়া ছুহুফুম মিন নূরিঁ, লা ইয়াকতুবূনা ইল্লাছ ছালাতা আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া মাঁও ইয়ু জ্বালিসুহুম।
হুবহু অনুবাদ:
"হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই জমিনে আল্লাহর এমন কিছু ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা রয়েছেন যাদের কাছে স্বর্ণের কলম এবং নূরের খাতা থাকে। তারা কেবল নবীজী ﷺ-এর প্রতি সমবেত দরুদ পাঠ এবং যারা তাদের সাথে দরুদের মজলিসে বসে, তাদের নাম ছাড়া আর কিছুই লেখেন না islamweb.net।"

৩. মদিনার মজলিসে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ১০০ বার দরুদ পাঠের ঐতিহাসিক ইবারত

উৎস কিতাব: হাফেজ আবু বকর আল-বাইহাকী (র.) [মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি] রচিত বিখ্যাত হাদিস ও ইতিহাস সংকলন শুআবুল ঈমান (شعب الإيمان), খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১১১।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كُنَّا نَقْعَدُ حِلَقًا فِي الْمَسْجِدِ، فَلَا نَقُومُ حَتَّى نُصَلِّيَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবী সাঈদিনিল খুদরিয়্যি ক্বালা: কুন্না নাক্বউদু হিলক্বান ফিল মাসজিদি, ফালা নাক্বূমু হাত্তা নুসল্লিয়া আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিআতা মাররাহ।
হুবহু অনুবাদ:
"সাহাবি হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত ঐতিহাসিক রূপরেখা, তিনি বলেন: আমরা মদিনার মসজিদে বৃত্তাকারে হালকাহ বা মজলিস করে বসতাম; অতঃপর আমরা নবীজী ﷺ-এর ওপর সুনির্দিষ্ট সংখ্যায় একশত বার দরুদ পাঠ শেষ না করে মজলিস থেকে উঠতাম না।"

৪. তাবেঈ জুরহাদ ও ওলামাদের জিকির-দরুদের মজলিসকে জান্নাতের বাগান ঘোষণার ঐতিহাসিক ইবারত

উৎস কিতাব: সূনান তিরমিযী (سنن الترمذي), কিতাবুদ দাওয়াত, হাদিস নং- ৩৫০১ (ইমাম তিরমিযী একে حسن غريب বা হাসান গরীব বলেছেন)।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا قَالُوا: وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: حِلَقُ الذِّكْرِ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আনাসি ব্নি মালিকিন আন্না রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ক্বালা: ইযা মারারতুম বিরিয়াদিল জান্নাতি ফারতাঊ ক্বালূ: ওয়া মা রিয়াদুল জান্নাহ? ক্বালা: হিলক্বুয যিকর।
হুবহু অনুবাদ:
"হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন: তোমরা যখন জান্নাতের বাগানগুলোর পাশ দিয়ে যাবে, তখন সেখান থেকে ফল আহার করবে (তথা শামিল হবে)। উপস্থিত সাহাবিরা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতের বাগানগুলো কী কী? নবীজী ﷺ বললেন: জিকির ও দরুদের বৃত্তাকার মজলিসসমূহ (حلق الذكر - হালকাহ)।"

1 y

"সবাই যখন অর্থ ক্ষমতা কাছে বিক্রি হয়েছে অথবা ভয়-ভীতির কাছে দমে গেছে তখন 'পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফ' দেশ ও মুসলমানদের স্বার্থে দৃঢ়তার সাথে দেশ বিক্রেতা গাদ্দার ও ধর্মব্যবসায়ীদের অপতৎপ্রতার বিরুদ্ধে মোকাবিলা করে যাচ্ছে "
sunnat.info|sm40.com

image

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসার প্রাক্তন ছাত্র এবং ছাত্র আনজুমানের আমিল আহমদুল্লাহ এর বাবা, শাহজাহানপুর আনজুমানের একনিষ্ঠ ও দৃঢ়চিত্ত আমিল এবং প্রবীন ছুফি মুহম্মদ আহসানুল্লাহ লাট ভাই আজ ২৭শে রবীউছ ছানী শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়া বাদ ফজর ব্রেন স্ট্রোক জনিত কারণে মুগদা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিঊন

উনাকে মহান মালিক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ পালনকারী এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতে ইন্তেকালকারী হিসেবে সর্বোচ্চ মাক্বামে সম্মানিত করুন। আমীন।

অল্প কয়দিন আগেই (৯০দিনব্যাপী মাহফিল চলাকালীন সময়ে) বাদ মাগরিব বাসা থেকে পপকর্ন বানিয়ে সবাইকে খাওয়ানোর জন্য। ১/২ বস্তা ভরে এনেছিলেন। আর দেয়ার সময় বারবার বলছিলেন "ফালইয়াফরাহুউউ"

এই মানুষটা প্রতি জুমুয়ার দিন মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার খিদমতের আনজাম দিতেন, সাক্ষাতের সময় সবাইকে শৃঙ্খলায় রাখতেন, বাইয়াত মুবারকের সময় মাইকের স্ট্যান্ড ধরে রাখতেন। আহ! কী সৌভাগ্য! ঠিক সেই জুমুয়ার দিন মাওলায়ে কারীম স্বীয় সান্নিধ্যে ডেকে নিলেন।

সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুরশিদ কিবলা আলাইহিস সালাম তিনি শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনী মাঠে মাহফিল করার সময় এই লাট ভাই অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে অনেক গোলামীর আনজাম দিতেন। যা ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে।

বাদ জুমুয়া দরবার শরীফে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুকুর নিধনে শরঈ ফতওয়া

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

مَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّلَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَى اللهُ وَرَسُوْلُهٗ اَمْرًا اَنْ يَّكُوْنَ لَـهُمُ الْـخِيَـرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْ وَمَنْ يَّـعْصِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَـقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا مُّبِـيْـنًا

অর্থ: “কোনো মু’মিন পুরুষ-মহিলা কারো জন্য কস্মিনকালেও জায়েয হবে না যে, যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা কোনো বিষয়ে মহাসম্মানিত ফায়ছালা মুবারক দেন, এই বিষয়ে কোনো মত পেশ করা। যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের ফায়ছালাকৃত বিষয়ে কোনো মত পেশ করবে, সে প্রকাশ্য গোমরাহীতে নিমজ্জিত হবে। অর্থাৎ সে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ: ৩৬)

তাই, প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয হলো- সর্ব অবস্থায় ও সর্ব বিষয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত নির্দেশ মুবারক পালন করা।

বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, কুকুর নিধন সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র ফতওয়া হলো- তিন প্রকার কুকুর ব্যতীত অন্য সব কুকুর লালন-পালন করা নাজায়েয ও হারাম এবং সেগুলো নিধন বা হত্যা করা জায়েয়। শুধু তাই নয়; ক্ষেত্র বিশেষ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক এবং ফরয।

আর এই তিন প্রকার কুকুর হলো- (১) বাড়ি ও গৃহপালিত পশু পাহারাদার কুকুর, (২) ক্ষেত-খামার পাহারাদার কুকুর এবং (৩) শিকারী কুকুর।

যেমন- এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ بِقَتْلِ الكِلَابِ

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন- কুকুরসমূহ হত্যা করার জন্য।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুওয়াত্ত্বা শরীফ ৫/১৪১২ ইত্যাদি)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ بِالْمَدِيْـنَةِ فَاُخْـبِـرَ بِـاِمْرَاَةٍ لَـهَا كَلْبٌ فِـىْ نَاحِيَةِ الْمَدِيْـنَةِ فَاَرْسَلَ اِلَيْهِ فَـقُتِلَ

অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার কুকুরসমূহ হত্যা করার জন্য মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট সংবাদ পেশ করা হলো যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার এক প্রান্তে এক মহিলার একটি কুকুর রয়েছে। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই কুকুরটি হত্যা করার জন্য লোক পাঠালেন। তারপর ঐ কুকুরটিকে হত্যা করা হয়।” (জামিউল উছূল ১০/২৩৮, জামিউ মা’মার ইবনে রাশিদ ১০/৪৩২)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْلَا اَنَّ الْكِلَابَ اُمَّةٌ مِنَ الْاُمَمِ لَاَمَرْتُ بِقَتْلِهَا كُلِّهَا فَاقْـتُـلُوْا مِنْـهَا كُلَّ اَسْوَدَ بَـهِيْمٍ

অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কুকুর যদি (মহান আল্লাহ পাক উনার) সৃষ্টির মধ্যে একটি সৃষ্টি না হতো, তাহলে অবশ্যই আমি সমস্ত কুকুর হত্যা করার জন্য মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিতাম। কাজেই, যেই কুকুরগুলো গাঢ় কালো সেগুলোকে অর্থাৎ আক্রমণকারী কুকুরগুলোকে আপনারা হত্যা করুন।” (আবূ দাঊদ শরীফ, দারিমী শরীফ)

উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথমে সমস্ত প্রকার কুকুর নিধন করার আদেশ মুবারক করেছিলেন। পরবর্তীতে ৩ প্রকার কুকুর ব্যতীত বাকী সমস্ত প্রকার কুকুরকে নিধন করার জন্য মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক জারী রেখেছেন। যেমন- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مُغَفَّلٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ ثُـمَّ قَالَ مَا لَـهُمْ وَلَـهَا فَـرَخَّصَ فِـىْ كَلْبِ الصَّيْدِ وَفِـىْ كَلْبِ الْغَـنَمِ

অর্থ: “হযরত ইবনে মুগাফফাল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিতেন কুকুরসমূহ হত্যা করার জন্য। অতঃপর ইরশাদ মুবারক করেন, মানুষের এবং কুকুরসমূহের কি হলো? তারপর তিনি শিকারী কুকুর এবং (উট, মেষ-দুম্বা,) ছাগল পাহারাদার কুকুরের ব্যাপারে রুখ্ছত মুবারক দিলেন।” (মুসনাদে আহমাদ ২৭/৩৪৭)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَمَرَ بِقَتْلِ الْكِلَابِ اِلَّا كَلْبَ صَيْدٍ اَوْ كَلْبَ غَنَمٍ اَوْ مَاشِيَةٍ

অর্থ: “হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন- শিকারী কুকুর অথবা (উট, মেষ-দুম্বা,) ছাগল পাহারাদার কুকুর (অর্থাৎ বাড়ি ও গৃহপালিত পশু পাহারাদার কুকুর) কিংবা শস্যাদি পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্যান্য সব কুকুর হত্যা করার জন্য।” (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমাদ ৮/৫৬)

সুতরাং, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথমে সমস্ত প্রকার কুকুর নিধন করার জন্য মহাসম্মানিত আদেশ মুবারক করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি (১) বাড়ি ও গৃহপালিত পশু পাহারাদার কুকুর, (২) ক্ষেত-খামার পাহারাদার কুকুর এবং (৩) শিকারী কুকুর, এই প্রকার কুকুর ব্যতীত বাকী সমস্ত প্রকার কুকুরকে নিধন করার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক জারী রেখেছেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

مَا يُـؤْذِيْكَ فَـلَكَ اِذَايَـتُهٗ قَـبْلَ اَنْ يُّـؤْذِيَكَ

অর্থ: “যে সমস্ত প্রাণী তোমার ক্ষতি বা যন্ত্রণার কারণ হবে, তার ক্ষতি তোমার উপর আসার আগে তুমি তার ক্ষতি করো।” (আল ফাওয়াকিহ্ ২/৩৫২)

এজন্য সম্মানিত শরীয়ত উনার একখানা উছূল হচ্ছেন-

اُقْـتُلُ الْمُؤْذِىَ قَـبْلَ اَنْ يُّـؤْذِىَ

অর্থ: “তুমি কষ্টদায়ক প্রাণীকে কষ্ট দেয়ার পূর্বেই হত্যা করো।”

কাজেই, যে সকল কুকুরের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কষ্ট পায় এবং মৃত্যুবরণ করে, সেগুলো নিধন করা বা হত্যা করা জায়েয তো অবশ্যই; এমনকি ফরয। কেননা স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে (১) বাড়ি ও গৃহপালিত পশু পাহারাদার কুকুর, (২) ক্ষেত-খামার পাহারাদার কুকুর এবং (৩) শিকারী কুকুর, এই প্রকার কুকুর ব্যতীত বাকী সমস্ত প্রকার কুকুরকে নিধন করার মহাসম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

আর যিনি খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُـؤْمِنُـوْنَ حَتّٰـى يُـحَكِّمُوْكَ فِـيْمَا شَجَرَ بَـيْـنَـهُمْ ثُـمَّ لَا يَـجِدُوْا فِـىْ اَنْـفُسِهِمْ حَرَجًا مِـمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِـيْمًا

অর্থ: “আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তারা কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে তাদের সমস্ত বিষয়ে ফায়ছালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। তাদের অন্তরে কোনোরূপ সংকীর্ণতা অনুভব করবে না। অতঃপর তারা আপনার মহাসম্মানিত ফায়ছালা মুবারক উনাকে বিনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মেনে না নিবে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: ৬৫)

অতএব, প্রত্যেক মুসলমান, পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান সকলের জন্য ফরয হলো- সর্বাবস্থায় ও সর্ববিষয়ে বিনা চূ-চেরা ও ক্বীল-ক্বালে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত পবিত্র নির্দেশ মুবারক পালন করা।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত পবিত্র নির্দেশ মুবারক উনার উপর সর্বাবস্থায় ও সবসময় ইস্তিক্বামত থাকার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

image

বিষয় - আমাদের ভাই, বোন, প্রতিবেশীর মৃত্যু থেকে ইবরত নসীহত

১. প্রশ্ন - মৃত্যু সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি কী ইরশাদ মুবারক করেন
উত্তর - মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ
অর্থ - প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। [পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ]

২. প্রশ্ন - বুদ্ধিমান কে
উত্তর - নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য আমল করে।

৩. প্রশ্ন - আমাদের আপনজনের মৃত্যু থেকে প্রথম ইবরত কী
উত্তর - দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। আজ যিনি হাসতেন, কথা বলতেন, কাল তিনি কবরে। বাড়ি, গাড়ি, টাকা সব দুনিয়াতেই থেকে যাবে। সাথে যাবে শুধু ঈমান ও নেক আমল।

৪. প্রশ্ন - মৃত্যু কি বয়স দেখে আসে
উত্তর - না। মৃত্যু যুবক, বৃদ্ধ, শিশু কাউকেই ছাড়ে না। তাই আমরা যে ভাবি বুড়ো বয়সে তাওবা করবো, এটা শয়তানের ধোঁকা।

৫. প্রশ্ন - জানাযা দেখে আমাদের কী চিন্তা করা উচিত
উত্তর - চিন্তা করা উচিত যে এই লাশটি আমারও হতে পারতো। আজ উনার জানাযা হচ্ছে, কাল আমার জানাযা হবে। তাই এখনই গুনাহ থেকে তাওবা করা ফরয।

৬. প্রশ্ন - মানুষের হকের সাথে মৃত্যুর সম্পর্ক কী
উত্তর - যিনি মারা গেলেন, উনার সাথে লেনদেন বা ঝগড়া থাকলে এখন আর মাফ চাওয়ার সুযোগ নেই। তাই জীবিত অবস্থায় ভাই, বোন, প্রতিবেশীর হক আদায় করা এবং মনোমালিন্য মিটিয়ে ফেলা জরুরি।

৭. প্রশ্ন - মৃত্যুর স্মরণে কলবের কী উপকার হয়
উত্তর - মৃত্যুর স্মরণে কলব নরম হয়, দুনিয়ার মুহব্বত কমে যায়, নামাযে মন বসে, দান-সদকা করার ইচ্ছা জাগে এবং আখিরাতমুখীতা পয়দা হয়।

৮. প্রশ্ন - কবর, হাশর, মিযান, পুলছিরাত কী সত্য
উত্তর - হ্যাঁ, এগুলো সবই সত্য এবং হক্ব। মৃত্যুর পর এই প্রতিটি ঘাঁটি আমাদের পার হতে হবে। তাই দুনিয়া থেকেই তার প্রস্তুতি নিতে হবে।

৯. প্রশ্ন - মৃত্যুর কথা মনে রেখে আমাদের কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত
উত্তর - হালাল রিযিকের ব্যবস্থা করা, ঋণ থাকলে দ্রুত পরিশোধ করা, শরীয়ত সম্মত ওসিয়ত করে যাওয়া, যাতে পরিবারকে ঋণের বোঝা নিয়ে বিপদে পড়তে না হয়।

১০. প্রশ্ন - জানাযা দেখা ও কবরস্থানে যাওয়ার হুকুম কী
উত্তর - জানাযায় শরীক হওয়া ও কবরস্থানে যাওয়া খাস সুন্নত মুবারক। কারণ এতে দুনিয়াবিমুখতা পয়দা হয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ হয়।

১১. প্রশ্ন - সাইয়্যিদুনা হযরত উসমান যিন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি কবর দেখলে কী করতেন
উত্তর - তিনি কবর মুবারক দেখলে এত বেশি কাঁদতেন যে উনার দাড়ি মুবারক ভিজে যেতো।

১২. প্রশ্ন - উনাকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কী বলতেন
উত্তর - তিনি বলতেন, কবর হলো আখিরাতের প্রথম ঘাঁটি। এই ঘাঁটিতে যে নাজাত পাবে, পরের সব ঘাঁটিতে সে নাজাত পাবে।

১৩. প্রশ্ন - প্রতিবেশীর মৃত্যুতে আমাদের ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত
উত্তর - অহংকার, হিংসা, গীবত বন্ধ করে তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা, তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং নিজের মৃত্যুর কথা ফিকির করা।

১৪. প্রশ্ন - আমরা সাধারণত মৃত্যু থেকে গাফেল থাকি কেন
উত্তর - দুনিয়ার ব্যস্ততা, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ির মুহব্বত এবং শয়তানের ধোঁকার কারণে আমরা মৃত্যুকে ভুলে থাকি। অথচ মৃত্যু আমাদের ছায়ার চেয়েও কাছে।

১৫. প্রশ্ন - মৃত্যুর আগে কোন আমলগুলো বেশি করা উচিত
উত্তর - পাঁচ ওয়াক্ত নামায, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, দান-সদকা, মানুষের হক আদায়, বেশি বেশি ইস্তেগফার ও দরূদ শরীফ পাঠ করা।

১৬. প্রশ্ন - এই আলোচনা থেকে আমাদের চূড়ান্ত দোয়া কী হওয়া উচিত
উত্তর - খ্বলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সবাইকে মৃত্যু থেকে ইবরত হাসিল করে ঈমান ও আমলের সাথে যিন্দেগী কাটানোর তৌফিক দান করেন এবং ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করেন। আমীন।

১. প্রশ্ন - লোকটি রাতে বাড়িতে এসে কী দেখলেন
উত্তর - তিনি এসে দেখলেন তার সন্তানরা সবাই ক্ষুধার কারণে কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছে।

২. প্রশ্ন - স্ত্রীকে তিনি প্রথম কী জিজ্ঞাসা করলেন
উত্তর - তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ওরা কি নামায পড়েছে। এতে বোঝা যায় তিনি রিযিকের আগে নামাযের ফিকির করতেন।

৩. প্রশ্ন - সন্তানরা কেন নামায পড়েনি
উত্তর - বাড়িতে কোনো খাবার ছিল না। সবাই ক্ষুধায় কাতর ছিল। তাই তারা নামায না পড়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল।

৪. প্রশ্ন - লোকটি তখন স্ত্রীকে কী আদেশ মুবারক করলেন
উত্তর - তিনি বললেন, ওদেরকে জাগিয়ে দাও। ওরা নামায পড়ুক। কারণ রিযিকের দায়িত্ব আমাদের না, রিযিকের দায়িত্ব মহান আল্লাহ পাক উনার।

৫. প্রশ্ন - এই ঘটনার দলীল হিসেবে পবিত্র কুরআন শরীফের কোন আয়াত শরীফ রয়েছে
উত্তর - মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَحْنُ نَرْزُقُكَ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَى
অর্থ - তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ দাও এবং তার উপর অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে কোনো রিযিক চাই না, আমিই তোমাদেরকে রিযিক দান করি। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্যই। [পবিত্র সূরা ত্বহা শরীফ, আয়াত শরীফ ১৩২]

৬. প্রশ্ন - স্ত্রী তখন কী করলেন
উত্তর - স্বামীর আনুগত্য করে তিনি সাথে সাথে সন্তানদের জাগিয়ে নামাযে দাঁড় করিয়ে দিলেন। তিনি রিযিক নিয়ে চিন্তা না করে আল্লাহ পাক উনার হুকুমকে প্রাধান্য দিলেন।

৭. প্রশ্ন - নামায শেষ হওয়ার পর কী অলৌকিক ঘটনা ঘটলো
উত্তর - নামায শেষ হতেই দরজার বাইরে থেকে সালামের আওয়াজ এলো। দরজা খুলে দেখা গেল এক লোক কাঁধে অনেক খাবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

৮. প্রশ্ন - খাবার নিয়ে আসা লোকটি কী বললো
উত্তর - লোকটি বললো, শহর থেকে এক নেতা তার বাসায় মেহমান হয়ে এসেছিল। কথা কাটাকাটির কারণে মেহমান না খেয়েই চলে যায়। পরে সে খাবারগুলো নিয়ে বের হয় এবং আল্লাহর ইচ্ছায় হাঁটতে হাঁটতে এই বাড়ির দরজায় এসে দাঁড়িয়ে যায়। সে নিজেও বুঝতে পারেনি কে তাকে এখানে এনেছে।

৯. প্রশ্ন - এই ঘটনা থেকে আমরা রিযিক সম্পর্কে কী শিক্ষা পাই
উত্তর - রিযিকের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ পাক। বান্দার কাজ হলো আল্লাহ পাক উনার হুকুম অর্থাৎ নামায আদায় করা। রিযিক আল্লাহ পাক তিনি নিজ দায়িত্বে বান্দার কাছে পৌঁছে দেবেন, এমন জায়গা থেকে যা বান্দা কল্পনাও করতে পারবে না।

১০. প্রশ্ন - এই ঘটনার মূল নসীহত কী
উত্তর - মূল নসীহত হলো, অভাব বা ক্ষুধার অজুহাতে নামায ত্যাগ করা যাবে না। নামায ঠিক রাখলে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই রিযিকের ফয়সালা করে দেবেন। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্যই।

أَنَا جَاهِلٌ غَبِيٌّ.
أُخْطِئُ أَكْثَرَ مِمَّا أُصِيْبُ.
نَفْسِيْ ١٠٠ مِنْ ١٠٠ (فَاسِدَةٌ كَامِلَةً).
لَا سَبِيْلَ لِلنَّجَاةِ.
وَلَكِنِّيْ أَعْتَرِفُ بِخَطَئِيْ.
لِأَنِّيْ مُذْنِبٌ كَبِيْرٌ جِدًّا.
اَلذَّنْبُ هُوَ مُهْلِكُ حَيَاتِيْ.
أَطْلُبُ الْمَغْفِرَةَ يَا مَالِكِيْ، فَاغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاجْذِبْنِيْ إِلَيْكَ قَرِيْبًا كَعَبْدِكَ، وَنَجِّنِيْ.