1 y

আলহাদুলি সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ওয়ালী আহলু বাইতিল কারীম আলাইহিমুস সালাম আযমাইন।
গজব সংক্রান্ত সংবাদ নিয়মিত জানতে দৈনিক আল ইহসান শরীফ পাঠ করুন।

image

জান্নাতে আগমনের খোলা চিঠি
ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার প্রকাশিত কিতাব সমাহারের কিছু অংশের প্রদর্শনি। সুবহানাল্লাহ।

image

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ১৯)


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত ঈমান মুবারক আনা এবং উনাদের উম্মতদের থেকে সম্মানিত ঈমান আনার স্বীকৃতি নেয়া:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَـا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ لَـمْ يَــبْـعَثِ اللهُ نَبِـيًّا حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَمَنْ بَـعْدَهٗ اِلَّا اَخَذَ عَلَيْهِ الْعَهْدَ فِـىْ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَئِنْ بُعِثَ وَهُوَ حَىٌّ لَـيُـؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَـيَـنْصُرَنَّهٗ وَيَاْمُرُهٗ فَـيَاْخُذُ الْعَهْدَ عَلـٰى قَـوْمِهٖ ثُـمَّ تَلَا وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْـثَاقَ النَّبِيّـٖنَ اَلْاٰيَةَ
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে উনার পরে (সাইয়্যিদুনা হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত) যত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেছেন, উনাদের প্রত্যেকের থেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ব্যাপারে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেছেন যে, যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নিবেন, তখন যদি উনাদের কেউ দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত অবস্থান মুবারক করেন, তাহলে (সেই হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনার জন্য ফরয হচ্ছে) উনাকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনতে হবে এবং উনাকে অবশ্যই অবশ্যই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত আদেশ মুবারক করেছেন, উনারা যেন উনাদের উম্মতদের থেকে অনুরূপ সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেন। তারপর প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের সম্প্রদায় অর্থাৎ উম্মতদের থেকে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি এই সম্পূর্ণ সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত মুবারক করেন-
وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْـثَاقَ النَّبِيّـٖنَ
‘আর যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করলেন.......’।” সুবহানাল্লাহ! {সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১ (ইমাতাউল আসমা’ ৩/১১৬, আশ শিফা ১/৪৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/৯০, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ১/৪৪, শরহুয যারক্বানী ১/৭৭, আশরাফুল ওসাইল ১/৩৫, আস সাইফুল মাসলূল ১/৪৪৫, আদ দুররুল মানছূর ৩/৬৪৭, ফাতহুল ক্বাদীর ১/৪৮৯, রূহুল মা‘আনী ২/২০১, আল হিদায়াহ্ ইলা বুলূগিন নিহায়াহ্ ২/১০৬৩, নিহায়াতুল আরব ১৬/৭৫, বাহ্জাতুল মাহাফিল ১/১৩, শরহুশ শিফা ১/১১৫ ইত্যাদি)}

এক নযরে সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ্, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিব্ত্বতুন (নাতনী) আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কাট্টা কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার এক নযরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
নিম্নে এক নযরে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামাহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক: সিব্ত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মালিকুল কায়িনাত, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ ইত্যাদি ইত্যাদি। সুবহানাল্লাহ!
যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক-এ মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মাজান আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম) তিনি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান আলাইহিস সালাম: আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূর আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ ইবনে রবী’ আলাইহিস সালাম) তিনি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানীজান আলাইহাস সালাম: আফদ্বলুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহ্লিল জান্নাহ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মামাজান আলাইহিমুস সালাম: ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা মাওলানা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খালাজান আলাইহিন্নাস সালাম: বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ্ আলাইহাস সালাম তিনি, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: অনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হওয়ার পরের দিন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার)। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে বা হিসেবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক ৫০তম বছর মুবারক পার হয়ে ৫১তম বছর মুবারক চলাকালীন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই-বোন আলাইহিমুস সালাম ও আলাইহিন্নাস সালাম: তিনি এবং উনার দুই ভাই আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ভাই-বোন আলাইহিমুস উনাদের মধ্যে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: প্রথম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: ৪৫ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৭শে ছফর শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইওয়ামুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার)। সুবহানাল্লাহ!
দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: ৪৬ বছর ৬ মাস ২৯ দিন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ১৮)


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ ওছিয়ত মুবারক:

দ্বিতীয় ওছিয়ত মুবারক:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ كَعْبِ ۣ الْاَحْبَارِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ اِنَّ اللهَ اَنْزَلَ عَلـٰى حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ عِصِيًّا بِعَدَدِ الْاَنْۢبِيَاءِ الْـمُرْسَلِيْنَ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ ثُـمَّ اَقْبَلَ عَلٰى اِبْنِهٖ حَضْرَتْ شِيْثٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ اَىْ بُنَـىَّ اَنْتَ خَلِيْفَتِـىْ مِنْ بَۢعْدِىْ فَخُذْهَا بِعِمَارَةِ التَّقْوٰى وَالْعُرْوَةِ الْوُثْقٰى وَكُلَّمَا ذَكَرْتَ اللهَ فَاذْكُرْ اِلـٰى جَنْۢبِهٖ اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاِنِّـىْ رَاَيْتُ اِسْـمَهٗ مَكْتُوْبًا عَلـٰى سَاقِ الْعَرْشِ وَاَنَا بَيْنَ الرُّوْحِ وَالطِّيْنِ كَمَا اَنِّـىْ طُفْتُ السَّمَاوَاتِ فَلَمْ اَرَ فِـى السَّمَاوَاتِ مَوْضِعًا اِلَّا رَاَيْتُ اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلَيْهِ وَاِنَّ رَبِّـىْ اَسْكَنَنِـىَ الْـجَنَّةَ فَلَمْ اَرَ فِـى الْـجَنَّةِ قَصْرًا وَّلَا غُرْفَةً اِلَّا اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا وَلَقَدْ رَاَيْتُ اِسْمَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكْتُوْبًا عَلـٰى نُـحُوْرِ الْـحُوْرِ الْعِيْنِ وَعَلـٰى وَرَقِ قَصَبِ اٰجَامِ الْـجَنَّةِ وَعَلـٰى وَرَقِ شَجَرَةٍ طُوْبـٰى وَعَلـٰى وَرَقِ سِدْرَةِ الْـمُنْتَهٰى وَعَلـٰى اَطْرَافِ الْـحِجَبِ وَبَيْنَ اَعْيُنِ الْـمَلَائِكَةِ فَاَكْثِرْ ذِكْرَهٗ فَاِنَّ الْـمَلَائِكَةَ تَذْكُرُهٗ فِـىْ كُلِّ سَاعَاتِـهَا
অর্থ: “হযরত কা’ব আহ্বার রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সমসংখ্যক (অর্থাৎ উনারা যতজন ততখানা) সম্মানিত ‘আছা মুবারক নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার নিকট অগ্রসর হয়ে বলেন, হে আমার প্রিয় আওলাদ আলাইহিস সালাম! আপনি আমার পর আমার সম্মানিত খলীফা অর্থাৎ সম্মানিত নায়িব হবেন। তাই, আপনি উক্ত সম্মানিত দায়িত্ব মুবারক সম্মানিত তাক্বওয়া মুবারক উনার ভিত্তি দ্বারা এবং সুদৃঢ় হাতল মুবারক দ্বারা শক্তভাবে আঁকড়িয়ে ধরুন। আর আপনি যখনই মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করবেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করবেন, তখনই মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করবেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করবেন। সুবহানাল্লাহ! কেননা, নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত আরশে আযীম মুবারক উনার স্তম্ভ মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিখিত দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! আর আমি যখন রূহ ও মাটির মাঝে ছিলাম (অর্থাৎ আমার সৃষ্টির অনেক পূর্বে) মহান আল্লাহ পাক তিনি তা লিপিবদ্ধ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর আমি আসমানসমূহ (সপ্ত আসমান) ঘুরে দেখেছি; কিন্তু আসমানসমূহে এমন কোনো জায়গা দেখিনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। অর্থাৎ সপ্ত আসমানের সমস্ত জায়গায় لَآ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিপিবদ্ধ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ বসবাস করিয়েছেন; কিন্তু আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার এমন কোনো সম্মানিত বালাখানা মুবারক এবং সম্মানিত কামরা বা কক্ষ মুবারক পাইনি, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ নেই। সুবহানাল্লাহ! আর আমি অবশ্যই সমস্ত সম্মানিত জান্নাতী হূর উনাদের সম্মানিত গলা মুবারক-এ, উনাদের বুক মুবারক উনার উপরিভাগে (এবং উনাদের চোখের ভিতরে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রতিটি গাছের ডালে ডালে, পাতায় পাতায়, সম্মানিত তূবা বৃক্ষের পাতায় পাতায়, সিদ্রাতুল মুন্তাহার পাতায় পাতায়, সম্মানিত হিজাব মুবারক উনার কিনারে কিনারে এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের চোখসমূহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক লিপিবদ্ধ দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, আপনি অধিক পরিমাণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করুন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করুন। কেননা, সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সবসময় দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক করেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (খছাইছুল কুবরা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্, শরহুয যারক্বানী, ইবনে আসাকির, শরহুল বুখারী, আল হাওই শরীফ ইত্যাদি)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ১৮)


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ ওছিয়ত মুবারক:

প্রথম ওছিয়ত মুবারক:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
اِنَّ حَضْرَتْ شِيْثًا عَلَيْهِ السَّلَامُ اَوْصٰى وَلَدَهٗ بِوَصِيَّةِ حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنْ لَّا يَضَعَ هٰذَا النُّوْرَ اِلَّا فِى الْمُطَهَّرَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَلَمْ تَزَلْ هٰذِهِ الْوَصِيَّةُ جَارِيَةً تَنْتَقِلُ مِنْ قَرْنٍ اِلٰى قَرْنٍ اِلٰى اَنْ وَصَلَ هٰذَا النُّوْرُ اِلٰى سَيِّدِنَا حَضْرَتْ ذَبِيْحِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ
অর্থ: “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আনূশ আলাইহিস সালাম) উনাকে আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক অনুসারে সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক করেন যে, ‘এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উনাকে যেন অবশ্যই একমাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট সমর্পণ মুবারক করা হয়। আর এই সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক পর্যায়ক্রমে যুগের পর যুগ, শতাব্দির পর শতাব্দি পর্যন্ত জারী থাকেন। এমনকি ‘এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পৌঁছা পর্যন্ত ঐ সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক জারী থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ১/৫৬)
অর্থাৎ এটা ছিলেন আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক। এই সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক তখন থেকে শুরু করে সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত জারী থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাস্সাম মুবারক উনার মধ্যে যা কিছু ছিলেন, সমস্ত কিছু ছিলেন পূত-পবিত্র থেকে পূত-পবিত্রতম ও মেশক-আম্বরসহ অন্যান্য সুগন্ধি থেকে লক্ষ কোটি গুণ বেশি সুগন্ধিময় এবং যারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুন নাজাত মুবারক অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক পান করতে পেরেছেন উনারা প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ জান্নাতী (১)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
قَالَ حَضْرَتْ اَنَسٌ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ مَا شَـمِمْتُ عَنْۘبَـرًا قَطُّ وَلَا مِسْكًا وَّلَا شَيْـئًا اَطْيَبَ مِنْ رِّيْحِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, যত প্রকারের সুগন্ধি আছে চাই তা মেশক হোক বা আম্বর হোক, আমি তার ঘ্রাণ গ্রহণ করেছি। কিন্তু কোনো সুগন্ধিই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক তথা শরীর মুবারক) উনার সৌরভ মুবারক উনার সমতুল্য হতে পারে না।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, শুয়াবুল ঈমান ৩/২৪, শিফা’ শরীফ ১/৬২ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ سَـمُرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ وَاَمَّا اَنَا فَمَسَحَ خَدَّىَّ قَالَ فَـوَجَدْتُّ لِيَدِهٖ بَـرْدًا اَوْ رِيـْحًا كَاَنَّـمَا اَخْرَجَهَا مِنْ جُؤْنَةِ عَطَّارٍ
অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে সামুরা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার উভয় গাল মুবারক-এ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) সঞ্চালন করেন। আমি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) থেকে এমন শীতলতা ও সুঘ্রাণ অনুভব করি, যেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এই মাত্র আতর বিক্রেতার কৌটা থেকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) বের করে এনেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আল মু’জামুল কবীর ২/৩২৫, শরহুস সুন্নাহ ১৩/২৩২, মুছান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ১১/৪৯৭, ফতহুল বারী ৬/৫৭৩, দীবাজ ৫/৩২৫, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
مَسَّهَا بِطِـيْبٍ اَوْ لَـمْ يَـمَسَّهَا يُصَافِحُ الْمُصَافِحَ فَـيَظَلُّ يَـوْمَهٗ يـَجِدُ رِيـْحَهَا وَيَضَعُ يَدَهٗ عَلـٰى رَاْسِ الصَّبِـىِّ فَـيُـعْرَفُ مِنْ بَـيْـنِ الصِّبْـيَانِ بِرِيـْحِهَا
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক-এ) খুশবু ব্যবহার করতেন বা না করতেন; কিন্তু যে ব্যক্তি একবার উনার সাথে মুছাফাহা করতো, সে সারা দিন নিজের হাত থেকে সুঘ্রাণ নিতে পারতো। সুবহানাল্লাহ! তার হাত থেকে মেশক আম্বরের চেয়ে অধিক সুঘ্রাণ বের হতো। সুবহানাল্লাহ! যদি তিনি কখনো কোনো শিশুর মাথায় স্নেহের হাত মুবারক বুলাতেন, তাহলে ঐ শিশুকে অন্যান্য শিশুদের মধ্যে ঐ সুগন্ধির কারণে চেনা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! (শিফা’ শরীফ)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ১৮)


‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ:

সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম তিনি যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নেন, তখন ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, স্বাভাবিকভাবে কিতাবে লেখা হয় যে, আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম-আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সংখ্যা ছিলেন ১২০ জোড়া। সেই হিসেবে ২৪০ জন হওয়ার কথা। কিন্তু উনাদের সংখ্যা ছিলেন ২৩৯ জন। কারণ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম উনার ঘরে একসাথে দুই জন সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনারা দুনিয়াতে আগমন করতেন। একজন সম্মানিত ছেলে আওলাদ আলাইহিস সালাম আরেকজন সম্মানিতা মেয়ে আওলাদ আলাইহাস সালাম। তখন সম্মানিত শরীয়ত উনার নিয়ম ছিলেন- আগের ধাপের সম্মানিত ছেলে আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সাথে পরের ধাপের সম্মানিতা মেয়ে আওলাদ আলাইহাস সালাম উনার এবং পরের ধাপের সম্মানিত ছেলে আওলাদ আলাইহাস সালাম উনার সাথে আগের ধাপের সম্মানিতা মেয়ে আওলাদ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত শাদী মুবারক হতো। প্রথম ধাপে আগমন করেছেন হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার একজন সম্মানিতা বোন হযরত লীযা বা লিউযা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা ২ জন। দ্বিতীয় ধাপে হযরত আক্বলীমা বা ইক্বলীমা আলাইহাস সালাম তিনি এবং ক্বাবীল এই ২ জন। তৃতীয় ধাপে সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার একজন সম্মানিতা বোন আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা ২ জন। আর চতুর্থ ধাপে শুধু একজন সম্মানিত ছেলে আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি আগমন করেছেন। পরবর্তী বাকী ১১৬ জোড়া উনারা স্বাভাবিক অর্থাৎ বাকী প্রতি ধাপে একজন সম্মানিত ছেলে আওলাদ আলাইহিস সালাম এবং একজন সম্মানিতা মেয়ে আওলাদ আলাইহাস সালাম এভাবে ২ জন করে আগমন করেছেন। সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার পরবর্তী ধাপে অর্থাৎ চতুর্থ ধাপে যেহেতু সম্মানিতা মেয়ে আওলাদ আলাইহাস সালাম ছিলেন না, তাই সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ হয়েছিলেন একজন মহাসম্মানিত জান্নাতী হূর আলাইহাস সালাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! ফলে সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম উনার থেকে ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তিনি উক্ত মহাসম্মানিত জান্নাতী হূর আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যম দিয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত আনূশ আলাইহিস সালাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ১৭)


‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক গ্রহণ:

আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ আখিরাতের হিসাব অনুযায়ী অর্ধদিন আর দুনিয়াবী হিসাব অনুযায়ী ৫০০ বছর অবস্থান মুবারক করেন। তারপর তিনি পৃথিবীতে আগমন করেন। কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
فَلَمَّا قَدَرَ اللهُ الْاِجْتِمَاعَ بَيْنَ حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ حَوَّاءَ عَلَيْهَا السَّلَامُ عَلٰى عَرَفَاتَ اَرْسَلَ اللهُ اِلَيْهِ نَهْرًا مِّنَ الْجَنَّةِ فَاغْتَسَلَتْ حَضْرَتْ حَوَّاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ فَانْتَقَلَتِ الْاَنْوَارُ اِلَيْهَا
অর্থ: “অতঃপর যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র আরাফার ময়দানে আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের মধ্যে একত্রিত করণের বিষয় নির্ধারণ করলেন, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার খিদমত মুবারক-এ সম্মানিত জান্নাত মুবারক থেকে একখানা নহর (ঝর্ণা) মুবারক উন্মুক্ত করে পাঠিয়ে দিলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম তিনি সেই নহর মুবারক উনার মধ্যে সম্মানিত গোসল মুবারক করেন। তারপর ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তিনি কুদরতীভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল বাশার আলাইহাস সালাম উনার নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুয্হাতুল মাজালিস)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফ্য বা পরিভাষা মুবারক

৪৬ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাবাস্সুম মুবারক থেকে একটু বেশি نُوْرُ الشَّهَادَةِ مُبَارَكٌ নূরুশ শাহাদাত মুবারক
৪৭ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বলব মুবারক نُوْرُ الْاَصْلِ مُبَارَكٌ নূরুল আছ্ল মুবারক
৪৮ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মারীদ্বী শান মুবারক نُوْرُ الْاِحْسَانِ مُبَارَكٌ নূরুল ইহ্সান মুবারক