নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম তিনি বললেন-
ﻣﻦ ﺫﻛﺮﻛﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺅﻳﺘﻪ ﻭﺯﺍﺩ ﻓﻰ ﻋﻠﻤﻜﻢ ﻣﻨﻄﻘﻪ ﻭﺫﻛﺮﻛﻢ ﺑﺎﻻﺧﺮﺓ
ﻋﻤﻠﻪ
অর্থ: যাঁকে দেখলে মহান আল্লাহ পাক উনার কথা স্মরণ
হয়,যাঁর কথা বা নছীহত শুনলে দ্বীনি ইলিম বৃদ্ধি হয় এবং যার
আমল দেখলে পরকালের আমল করার জন্য আগ্রহ পয়দা
হয়।
উত্তম কথা ও উত্তম জীবন পদ্ধতি
এই পৃথিবীতে সর্বোৎকৃষ্ট কথা মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব,
এবং সর্বোৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার জীবন পদ্ধতি।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেনঃ
১. সর্বোৎকৃষ্ট সত্য — মহান আল্লাহ পাক উনার কালাম মুবারক।
২. সর্বোত্তম কথা — আল্লাহ পাক উনার জিকির।
৩. সর্বোত্তম সম্পদ — তাকওয়া।
৪. সর্বোৎকৃষ্ট ঐশ্বর্য — অন্তরের ঐশ্বর্য।
৫. সর্বনিকৃষ্ট অন্ধ — সে, যার অন্তর অন্ধ।
৬. সর্বনিকৃষ্ট উপার্জন — সূদ।
৭. জবানের সর্ববৃহৎ গুনাহ — মিথ্যা।
৮. সবচেয়ে বেশি নিন্দনীয় — হাশরের দিনে লজ্জিত হওয়া।
মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকত ও ফযীলত (২)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র হজ্জের সময় উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক হলক্ব করতেন, তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা প্রতিযোগিতা করতেন সেগুলো নেয়ার জন্য। যেমন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْحَلَّاقُ يَحْلِقُه وَأَطَافَ بِهِ أَصْحَابُه فَمَا يُرِيْدُوْنَ أَنْ تَقَعَ شَعْرَةٌ إِلَّا فِىْ يَدِ رَجُلٍ
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এমন অবস্থায় দেখলাম যে, ক্ষৌরকার উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক হলক্ব করছেন। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা উনার চতুর্পাশ্বে তাওয়াফ করছেন, যেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (নিচে না পড়ে) উনাদের কারো না কারো হাত মুবারকে পড়ে। সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ ৩/১৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭/৬৮, মুসনাদে আবী আওয়ানাহ্ ২/৩১২ ইত্যাদি)
স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) হলক্ব করার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের কারো হাত মুবারকে সেই হলক্বকৃত মহাসম্মানিত ও মাহপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক দিয়ে আদেশ মুবারক করতেন সবার মাঝে বন্টন করে দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ!
যেমন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا رَمٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَمْرَةَ وَنَحَرَ نُسُكَه وَحَلَقَ نَاوَلَ الْحَالِقَ شِقَّهُ الأَيْمَنَ فَحَلَقَه ثُمَّ دَعَا حَضْرَتْ أَبَا طَلْحَةَ الأَنْصَارِىَّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ الشِّقَّ الأَيْسَرَ فَقَالَ ্রاحْلِقْগ্ধ فَحَلَقَه فَأَعْطَاهُ حَضْرَتْ أَبَا طَلْحَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَقَالَ اقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জামরায় কংকর নিংক্ষেপ করলেন। নিজের কুরবানীর পশু যবেহ করলেন। তারপর হলক্ব করার জন্য ক্ষৌরকারের দিকে নূরুল হুদা মুবারক উনার ডান দিক বাড়িয়ে দিলেন। ক্ষৌরকার উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক হলক্ব করলেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ ত্বলহা আল আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে ডেকে হলক্বকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক দিয়ে দিলেন। এরপর ক্ষৌরকারের দিকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক উনার বামদিক বাড়িয়ে দিয়ে হলক্ব করতে বললেন। তিনি তা হলক্ব করলেন। এই অংশ মুবারকও তিনি হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দিলেন এবং বললেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মাঝে বন্টন করে দিন। ” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ : হাদীছ শরীফ নং ৩২১৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫/১৩৪)
অপর বর্ণনায় রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ الْحَلَّاقَ فَحَلَقَ رَأْسَه وَدَفَعَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلٰى حَضْرَتْ أَبِىْ طَلْحَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ الشِّقَّ الأَيْمَنَ ثُمَّ حَلَقَ الشِّقَّ الاٰخَرَ فَأَمَرَهُ أَنْ يَّقْسِمَه بَيْنَ النَّاسِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্ষৌরকারকে আদেশ মুবারক করলেন, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক (মাথা মুবারক) হলক্ব করার জন্য। ক্ষুরকার উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক হলক্ব করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার ডান দিকের নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার অংশ মুবারক হযরত আবূ ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দিলেন। অতঃপর বাক্বী অংশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক হলক্ব করলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আবূ ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মাঝে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক বন্টন করে দেয়ার জন্য সম্মানিত আদেশ মুবারক করলেন। ” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাখরাজে আবী আওয়ানাহ্ ৪/২১০)
মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকত (১)
মুক্বদ্দিমাহ্: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক কি? মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক। যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টির অন্য কারো মতো সম্বোধন মুবারক করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় মুবারক সমূহ উনাদের জন্য বিশেষ পরিভাষা মুবারক জারী করেছেন। যা দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ আদব, সম্মান, তা’যীম-তাকরীম মুবারক প্রকাশ পায়। সুবহানাল্লাহ!
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনাকে ‘নূরুল ফাত্হ মুবারক’ নামে নামকরণ করার বিশেষ কারণ হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন আপদমস্তক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক। তাই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার সবকিছুই নূর। আর ফাত্হ শব্দ মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে বিজয়, সাফল্য ইত্যাদি।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার বিশেষ একখানা বৈশিষ্ট মুবারক রয়েছেন যে, হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়ল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক থাকার কারণে তিনি সমস্ত জিহাদেই বিজয় লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ! এ কারণেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনাকে ‘নূরুল ফাত্হ মুবারক’ বলে সম্বোধন করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য এই প্রবন্ধটিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার বরকত মুবারক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার ক্ষেত্রে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘নূরুল ফাত্হ’ মুবারক লেখা হয়েছে।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বেমেছাল মর্যাদা মুবারক:
সম্মস্ত উম্মতের ইজমা’ হয়েছে যে, যেই ধুলি-বালি মুবারক অর্থাৎ যা কিছু এক মুহুর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে এসেছে তার মর্যাদা কা’বা শরীফ, কুরসী, লৌহ-কলম এমনকি পবিত্র আরশে আযীম মুবারক থেকেও বেশি হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে সরাসরি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুবারক উনাদের মর্যাদা মুবারক কত বেমেছাল সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা।
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুই খানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দিক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি লাভ করেছিলেন। তিনি বরকত হাছিলের জন্য ঐ দুই খানা নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার হুজরা শরীফে নিয়ে এলেন এবং যথাযথ তা’যীম ও সম্মানের সাথে যতœসহকারে হুজরা শরীফের ভিতরে কোন এক জায়গায় রেখে দিলেন। কিছুক্ষণ পর উনার হুজরা শরীফের অভ্যন্তরে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পেলেন। হুজরা শরীফের ভিতরে গিয়ে দেখলেন, তখনও পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে হাযির হয়ে সমস্ত ঘটনা পেশ করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাবাস্সুম মুবারক (মুচকি হাসি মুবারক) দিয়ে বললেন,
ﺍِﻥَّ ﺍﻟْﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔَ ﻳَﺠْﺘَﻤِﻌُﻮْﻥَ ﻋَﻠٰﻰ ﺷَﻌْﺮِﻯْ ﻭَ ﻳَﻘْﺮَﺅُوْﻥَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺍٰﻥَ
অর্থাৎ ‘হযরত ফিরিশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার নিকট সমবেত হয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেছিলেন। ’ সুবহানাল্লাহ! (জামেউল মু’জিযাত ৬২ নং পৃঃ, ইসলামের বাস্তব কাহিনী ১ম খন্ড, যিকরে জামীল)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন (১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন,
لَيْسَ الذَّكَرُ كَالْاُنْثٰى
অর্থ: “তিনি এমন একজন সম্মানিতা মহিলা যে, উনার সমকক্ষ কোনো পুরুষও নেই অর্থাৎ কোন পুরুষও উনার সমকক্ষ নয়।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)
অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম) উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এতো বেমেছাল যে, তিনি তো পূর্ববর্তী সমস্ত মহিলা উনাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারিণী অবশ্যই; শুধু তাই নয়, বরং উনার সমকক্ষ কোনো পুরুষও নেই। সুবহানাল্লাহ!
উনার শান মুবারক-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
وَاِذْ قَالَتِ الْمَلٰٓئِكَةُ يٰـمَرْيَـمُ اِنَّ اللهَ اصْطَفٰىكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفٰىكِ عَلـٰى نِسَآءِ الْعٰلَمِيْنَ
অর্থ: “আর যখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বললেন, হে হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে মনোনীত করেছেন, আপনাকে পবিত্রা করেছেন শুধু এতটুকু নয় বরং সমস্ত আলমের সকল মহিলা উনাদের উপর আপনাকে মনোনীত করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪২)
অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনি পূর্ববর্তী পুরুষ-মহিলা উনাদের সকলের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يٰـنِسَآءَ النَّبِـىِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা কোনো পুরুষ-মহিলা অর্থাৎ সৃষ্টির কারো মতো নন। অর্থাৎ হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকেও শ্রেষ্ঠ।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
সুতরাং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনি পূর্ববর্তী পুরুষ-মহিলা উনাদের সকলের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রূহিল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনিসহ সৃষ্টির শুরু থেকে এই পর্যন্ত যত মহিলা তাশরীফ মুবারক এনেছেন এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত যতো মহিলা তাশরীফ মুবারক আনবেন উনাদের সকলের উপরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক তো অবশ্যই সাথে সাথে সমস্ত পুরুষ যারা রয়েছেন উনাদের থেকেও উনারা শ্রেষ্ঠ। সুবহানাল্লাহ! যা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই সমস্ত সৃষ্টিকে জানিয়ে দিয়েছেন। কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা কোনো পুরুষ-মহিলা তথা সৃষ্টির কারো মতো নন সে যেই হোক না কেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল তা ভাষায় প্রকাশ করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ!