যে ঘটনা দেখার পর হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাওবা করে পরবর্তীতে ওলি আল্লাহ হয়েছেন...
হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি বড় ওলী আল্লাহ ছিলেন। প্রথম যামানায় উনি মণিমুক্তার ব্যবসা করতেন। রোম থেকে মণিমুক্তা এনে উনি বসরাতে বিক্রি করতেন। উনি একবার গেলেন সেই রোমে। রোমের এক উজিরের সাথে, এক মন্ত্রীর সাথে উনার সম্পর্ক ছিল। সেই রোমের মন্ত্রী বললো, হে হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি এসেছেন ব্যবসার মাল নেয়ার জন্য, আজকে আমি আপনাকে একটা নতুন জায়গায় নিয়ে যাব। একটা নতুন জিনিস দেখাব। ঠিক আছে, নিয়ে চলেন, কোথায়? নিয়ে যাওয়া হলো, অনেক দূরে একটা মাঠের মধ্যে। সেই মাঠে একটা বড় তাঁবু টাঙানো। সে তাঁবুর ভিতরে কিছু একটা রাখা হয়েছে। উনি দূর থেকে লক্ষ্য করলেন, সেই রোমবাসীদের মধ্যে রোমের বাদশাহ সেখানে গিয়েছে, তার উজির-নাজির সকলেই গিয়েছে। দেখা গেল কি, কিছুক্ষণ পরে কিছু সৈন্য-সামন্ত তাদের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করলো, কি যেন তারা বলতে বলতে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।

দুই নম্বরে দেখা গেল- কিছু সংখ্যক আলিম, কিছু জ্ঞানীলোক তারাও সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করে কাঁদতে কাঁদতে, কিছু বলতে বলতে চলে গেল।

তৃতীয়তঃ কিছু বৃদ্ধলোক, তারাও সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করলো। কাঁদতে কাঁদতে কিছু বলে তারা চলে গেল।

চতুর্থতঃ দেখা গেল- কিছু খুবছূরত মহিলা। তাদের মাথায় স্বর্ণ মণি-মুক্তার ডালা রয়েছে। সেটা নিয়ে তারা সেই তাঁবুটাকে প্রদক্ষিণ করে কিছু বলে, কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।

ঘটনা শেষ। এরপরে যখন বাদশাহ স্বয়ং নিজেই সেটা প্রদক্ষিণ করে এবং সে নিজেও কাঁদতে কাঁদতে কিছু বলে, সেখান থেকে বের হয়ে আসল।

যখন ঘটনাটা ঘটে গেল, হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, সেই মন্ত্রীকে যে, হে ভাই মন্ত্রী! আমি তো তোমাদের ভাষা বুঝি না। তোমরা কি বললে, কি করলে? আমি তো কিছুই বুঝলাম না। এটা যখন বলা হলো, তখন সেই মন্ত্রী বললো- হে হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! মূলতঃ এখানে বাদশাহর একটা ছেলে শায়িত আছে, সে খুব উপযুক্ত ছিল। বাদশাহ মনে করেছিল, বাদশাহর পরে তাকে গদীনশীন করা হবে। কিন্তু হঠাৎ অসুখে সে মারা যায়। যখন সে মারা গেল, তখন তাকে এখানে দাফন করা হয়েছিল। এজন্য প্র্রত্যেক বৎসর তার মৃত্যুর দিন বাদশাহ আসে। আপনি যে দেখলেন- কিছুসংখ্যক সৈন্য-সামস্ত তারা কি বললো জানেন? সৈন্য-সামন্তরা তাদের ঢাল-তলোয়ার নিয়ে তারা তার কবরকে প্রদক্ষিণ করলো এবং তারা কাঁদতে কাঁদতে বললো, হে শাহজাদা! যদি ঢাল দিয়ে, তলোয়ার দিয়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, তাহলে আজকে তোমাকে আমরা অবশ্যই রক্ষা করতাম সেই মৃত্যু থেকে। কিন্তু তোমাকে এমন এক অস্তিত্ব অর্থাৎ খালিক-মালিক আল্লাহ রব্বুল আলামীন মৃত্যু দিয়েছেন, যাঁর কাছে আমাদের ঢাল-তলোয়ারের কোন মূল্যই নেই, কোন মূল্যই নেই। কাজেই তোমাকে রেখে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোন পথ নেই। এই কথা বলে তারা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। এরপরে জ্ঞানী ব্যক্তিরা আসল। এসে বললো- হে শাহজাদা! যদি জ্ঞান দিয়ে, আক্বল দিয়ে, সমঝ দিয়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমরা রক্ষা করতাম। কিন্তু যিনি তোমাকে নিয়ে গেছেন, উনার কাছে আমাদের জ্ঞান, আমাদের আক্বল সমঝ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য। এই কথা বলে কাঁদতে কাঁদতে তারাও চলে গেল।

এরপর আসলো বৃদ্ধলোকেরা। তারা এসে বললো- হে শাহজাদা! যদি কান্নাকাটি করে, রোনাজারি করে, আহাজারি করে, মায়া মুহব্বত দিয়ে, তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমরা রক্ষা করতাম। কিন্তু যিনি নিয়ে গেছেন, তাঁর কাছে আমাদের রোনাজারি, আহাজারি, কান্নাকাটির কোনই মূল্য নেই। একথা বলে তারাও কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।

এরপরে আসলো সেই মহিলারা। তারা বললো, হে শাহজাদা! যদি ছূরত দিয়ে, মাল দিয়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমরা রক্ষা করতাম। কিন্তু যিনি নিয়ে গেছেন, উনার কাছে এগুলো তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কোন মূল্যই নেই। একথা বলে তারাও কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।

শেষ পর্যন্ত বাদশাহ এসে বললো, হে শাহজাদা! যদি আমার সমস্ত রাজত্বের বিনিময়ে, সমস্ত ধন-সম্পদের বিনিময়ে তোমাকে রক্ষা করা সম্ভব হতো, আমি করতাম। কিন্তু আমার এই সমস্ত ধন-সম্পদ রাজত্ব, যিনি নিয়ে গেছেন, উনার কাছে কোন মূল্য নেই। কাজেই তোমাকে রেখে যাওয়া ছাড়া কোন পথ নেই। একথা বলে তারা সকলেই কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল।

হযরত ইমাম হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি এই ঘটনা যখন দেখলেন, দেখে উনি খুব চিন্তিত হয়ে গেলেন। উনি খালিছ তওবা করলেন, যে সত্যিই তো দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী, এখান থেকে কিছুই নিয়ে যাওয়া যাবে না। ধন-দৌলত, টাকা-পয়সা, বাড়ি-গাড়ি, সম্পদ কিছুই নেয়া যাবেনা। শুধু নেয়া যাবে নেক আমলগুলি, এছাড়া তো কিছুই নেয়া যাবে না।

আল্লাহ্ পাক বলেছেন,

فمن يعمل مثقال ذرة خيرايره ومن يعمل مثقال ذرة شرايره.

“যে একবিন্দু পরিমাণ নেকী করবে, সে তার বদলা পাবে। আর এক বিন্দু পরিমাণ পাপ যদি করে, সেটারও বদলা তাকে গ্রহণ করতে হবে।”

আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুক। আমিন!

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ মাধ্যম sm40.com
@highlight

image

Towing service/
Professionals of M&M RECOVERY SERVICE are always there to quickly resolve your requests for breakdown recovery service in Glasgow. Whether you need a car recovery service or a car towing service, our 24/7 availability is ever-ready to get you back on the road asap. Moreover, we provide cheap car towing service that saves your car without affecting your pockets. Furthermore, we are the go-to prompt vehicle recovery services in your locality, which you don't wanna miss! So, what are you waiting for? Hurry up and connect with us today!
Phone number- 07417 425174
https://maps.app.goo.gl/tgbqmYhfT2QQ55YU6
https://mandmrecovery.co.uk/
Location- 38 Avenue Street, glasgow G40 3SA
Social profiles
https://www.instagram.com/mandmrecovery/
https://www.facebook.com/profi....le.php?id=6158938855

image

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৪০)
(১৫)
হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার কতৃর্ক এক কাফিরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
ذَكَرَ حَضْرَتْ عَبْدُ الرَّزَّاقِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّهٗ سَبَّهٗ رَجُلٌ فَقَالَ مَنْ يَّكْفِيْنِىْ عَدُوِّىْ فَقَالَ حَضْرَتْ اَلزُّبَيْرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَا فَقَتَلَهٗ
“হযরত আব্দুর রায্যাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখ করেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এক ব্যক্তি গাল—মন্দ করে। যার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘কে রয়েছেন যিনি আমার শত্রুর ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হবেন অর্থাৎ তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবেন?’ তখন হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, ‘আমি।’ অতঃপর তিনি তাকে হত্যা করেন, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।” সুবহানাল্লাহ! (উমদাতুল ক্বারী ৩৪/৪১২)

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৯)

(১৪)
হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার কতৃর্ক এক কাফিরকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া:
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,
رُوِىَ اَنَّ رَجُلًا كَانَ سَبَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَنْ يَّكْفِيْنِىْ عَدُوِّىْ فَقَالَ حَضْرَتْ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيْدِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَا فَبَعَثَهُ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلَيْهِ فَقَتَلَهٗ
“বর্ণিত রয়েছে যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এক ব্যক্তি গাল—মন্দ করতো। যার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘কে রয়েছেন যিনি আমার শত্রুর ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হবেন অর্থাৎ তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবেন?’ হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, ‘আমি।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে ঐ ব্যক্তির নিকট পাঠালেন। অতঃপর হযরত খালিদ ইবনে ওয়ালীদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।” সুবহানাল্লাহ! (আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৩৫৭ নং পৃষ্ঠা, উমদাতুল ক্বারী ২৪/৮২, আশ শিফা ২/২২১)

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৮)

(১৩)
হুওয়াইরিছ ইবনে নুক্বাইদিরের মৃত্যুদণ্ড
‘হুওয়াইরিছ ইবনে নুক্বাইদির’ ছিলো এক কুখ্যাত অভিশপ্ত ব্যক্তি। তার সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
كَانَ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَخَسَ بِسَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ زَيْنَبَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا هَاجَرَتْ اِلَى الْمَدِيْنَةِ فَاُهْدِرَ دَمُهٗ فَبَيْنَمَا هُوَ فِىْ مَنْزِلِهٖ قَدْ اَغْلَقَ عَلَيْهِ بَابَهٗ سَاَلَ عَنْهُ حَضْرَتْ عَلِىُّ بْنُ اَبِىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقِيْلَ هُوَ بِالْبَادِيَةِ فَاُخْبِرَ الْحُوَيْرِثُ اَنَّهٗ يُطْلَبُ فَتَنَحّٰى حَضْرَتْ عَلِىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ عَنْ بَابِهٖ فَخَرَجَ الْحُوَيْرِثُ يُرِيْدُ اَنْ يَّهْرُبَ مِنْ بَيْتٍ اِلٰى اٰخَرَ فَتَلَقَّاهُ حَضْرَتْ عَلِىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হুওয়াইরিছ ইবনে নুক্বাইদির কষ্ট দিতো এবং খইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম (সাইয়্যিদাতুনা হযরত যায়নাব আলাইহাস সালাম) তিনি যখন মহাসম্মানিত মদীনা শরীফ হিজরত মুবারক করেন, তখন উনাকে আঘাত করেছিলো। ফলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার রক্ত বৈধ ঘোষণা করেন অর্থাৎ তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। সুবহানাল্লাহ! (মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ বিজয়ের সময়) এক সময় সে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে অবস্থান করছিলো। তখন ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তাকে খুঁজতে থাকেন। বলা হলো— ‘সে মরুভূমিতে আছে।’ তারপর হুওয়ারিছকে যখন সংবাদ দেয়া হলো যে, তাকে খেঁাজা হচ্ছে। তখন ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তার ঘরের দরজা থেকে এক পাশে সরে দাঁড়ালেন।
فَخَرَجَ الْحُوَيْرِثُ يُرِيْدُ اَنْ يَّهْرُبَ مِنْ بَيْتٍ اِلٰى اٰخَرَ فَتَلَقَّاهُ حَضْرَتْ عَلِىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ
‘এরপর হুওয়াইরিছ এক ঘর থেকে অন্য ঘরে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি তার গতিরোধ করেন এবং তার গর্দান উড়িয়ে দেন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।” সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৫/২২৪)

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৭)

(১১)
ইবনে খতালের দাসীর মৃত্যুদণ্ড
এই সম্পর্কে ‘শিফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে,
وَكَذٰلِكَ اَمْرُهٗ يَوْمَ الْفَتْحِ بِقَتْلِ ابْنِ خَطَلٍ وَجَارِيَتَيْهِ اللَّتَيْنِ كَانَتَا تُغَنِّيَانِ بِسَبِّهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন ইবনে খতাল ও তার দুই দাসীকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন, কারণ তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খেলাফ ব্যঙ্গ—বিদ্রƒপ করে কবিতা আবৃত্তি করতো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১)
যখন ইবনে খতালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, তখন তার সাথে তার এক দাসীকে পাওয়া যায়, তার সাথে তার উক্ত দাসীকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। (নাসীমুর রিয়াদ্ব, ইবনে সাইয়্যিদিন নাস)

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৬)
হযরত আবূ বারযাহ্ আসলামী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
نَزَلَتْ هٰذِهِ الْاٰيَةُ ﴿لَآ اُقْسِمُ بِهٰذَا الْبَلَدِ. وَاَنْتَ حِلٌّ بِۢهٰذَا الْبَلَدِ﴾ فِىَّ فَخَرَجْتُ فَوَجَدْتُّ عَبْدَ اللهِ بْنَ خَطَلٍ وَهُوَ مُتَعَلِّقٌ بِاَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَضَرَبْتُ عُنُقَهٗ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ
“‘আমি ক্বসম করছি এই নগরীর এবং আপনি এই নগরীতে অবাধ অনুমতিপ্রাপ্ত।’ এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা আমার ব্যাপারে নাযিল হয়েছেন। আমি বের হলাম, তখন দেখলাম— মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক উনার সাথে ইবনে খতাল ঝুলে রয়েছে। তখন আমি রুকনে ইয়ামান ও মাকামে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে তার গর্দান উড়িয়ে দেই, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেই।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল ক্বদীর লিশ শাওকানী ৭/৫০০)

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৫)

(১০)
চরম মাল‘ঊন ইবনে খতালের মৃত্যুদণ্ড
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ ব্যঙ্গ—বিদ্রƒপ করে কবিতা আবৃত্তি করার কারণে মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইবনে খতাল ও তার দুই দাসীকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন। মহাসম্মানিত কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক উনার সাথে ঝুলন্ত থাকা সত্ত্বেও ইবনে খতালকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেয়া হয়নি। যেমন— বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুয়াত্ত্বায়ে ইমাম মালেক, আবূ দাঊদ, তিরমিযীসহ আরো অন্যান্য কিাতবে এসেছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلٰى رَاْسِهِ الْمِغْفَرُ فَلَمَّا نَزَعَهٗ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ اِبْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِاَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُقْتُلُوْهُ
“হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক—এ (মাথা মুবারক—এ) শিরস্ত্রাণ মুবারক পরিহিত অবস্থায় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করেন। যখন তিনি তা খুলে ফেললেন, তখন একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন,
اِبْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِاَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُقْتُلُوْهُ
‘ইবনে খতাল মহাসম্মানিত কা’বা শরীফ উনার গিলাফ (পর্দা) মুবারক উনার সাথে ঝুলে রয়েছে।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তাকে হত্যা করুন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিন।”

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৪)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন—
فَدَلَّ اَنَّ قَتْلَهٗ اِيَّاهُ لِغَيْرِ الْاِشْرَاكِ بَلْ لِلْاَذٰى وَكَذٰلِكَ قَتَلَ اَبَا رَافِعٍ قَالَ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْنُ عَلَيْهِ
“মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, কা’ব বিন আশরাফকে শিরিক করার কারণে হত্যা করা হয়নি; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ইহুদী আবূ রফেকেও একই কারণে হত্যা করা হয়, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। হযরত বারা’ ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার সম্পর্কে বলেন,
وَكَانَ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْنُ عَلَيْهِ
“মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সে কষ্ট দিতো এবং উনার বিরুদ্ধে উনার শত্রুদেরকে সাহায্য করতো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১)

✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৩)

এরপর আমি এক এক দরজা খুলে নিচে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পেঁৗছলাম। জ্যোৎস্নার রাত্র ছিলো। (চাঁদের আলোতে তাড়াহুড়ার মধ্যে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পেরে) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিলো।) তাই, নিচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। সাথে সাথেই আমার পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙ্গে গেলো। (তাড়াতাড়ি করে) আমি আমার পাগড়ী দিয়ে পা বেঁধে নিলাম। তারপর একটু হেঁটে গিয়ে দরজার সামনে বসে রইলাম।
فَقُلْتُ لَا اَخْرُجُ اللَّيْلَةَ حَتّٰى اَعْلَمَ اَقَتَلْتُهٗ
‘মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি কি তাকে হত্যা করতে পেরেছি, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে পেরেছি? এটা নিশ্চিতভাবে না জানা পর্যন্ত আজ রাতে এখান থেকে বের হবো না।’
(ভোর রাতে) যখন মোরগ ডাকা শুরু করলো, তখন মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরের উপর উঠে ঘোষণা করলো, ‘হিজায অধিবাসীদের অন্যতম ব্যবসায়ী আবূ রফের মৃত্যু সংবাদ গ্রহণ করো।’
فَانْطَلَقْتُ اِلٰى اَصْحَابِىْ فَقُلْتُ النَّجَاءَ فَقَدْ قَتَلَ اللهُ اَبَا رَافِعٍ فَانْتَهَيْتُ اِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْتُهٗ فَقَالَ اُبْسُطْ رِجْلَكَ فَبَسَطْتُّ رِجْلِىْ فَمَسَحَهَا فَكَاَنَّهَا لَمْ اَشْتَكِهَا قَطُّ
‘তখন আমি আমার সঙ্গীগণ উনাদের নিকট গিয়ে বললাম, কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আবূ রফেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে আমি সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনি আপনার পা প্রসারিত করুন।’ আমি আমার পা প্রসারিত করলাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দয়া করে তাতে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) বুলিয়ে দিলেন। (এতে আমার পা এমন সুস্থ হয়ে গেলো) যেন তাতে কখনোই কোনো আঘাত লাগেনি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, ফাতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, শারহুয যারক্বানী ইত্যাদি)