মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে ও মুহব্বতে খুশি প্রকাশ করে খরচ করার ফযীলত - ১৮
জালিম শাসকের গুপ্ত হত্যা থেকে মুক্তি লাভ এবং শাফায়াত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতুল ফিরদাউস লাভ
আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে জাওযী হাম্বলী ছিদ্দীক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিলাদত শরীফ ৫১০ হিজরী, বিছাল শরীফ ৫৯৭ হিজরী) তিনি বলেন,
> وَجَعَلَ لِمَنْ فَرِحَ بِمَوْلِدِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِجَابًا مِّنَ النَّارِ وَسِتْرًا وَمَنْ اَنْفَقَ فِىْ مَوْلِدِهٖ دِرْهَمًا كَانَ الْمُصْطَفٰى صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهٗ شَافِعًا وَّمُشَفَّعًا وَاَخْلَفَ اللهُ عَلَيْهِ بِكُلِّ دِرْهَمٍ عَشْرًا فَيَا بُشْرٰى لَكُمْ اُمَّةَ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ نِلْتُمْ خَيْرًا كَثِيْرًا فِى الدُّنْيَا وَفِى الْاُخْرٰى فَيَا سَعْدُ مَنْ يَّعْمَلْ لِسَيِّدِنَا مَوْلَانَا اَحْمَدَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَوْلِدًا فَيُلَقَّى الْهَنَاءُ وَالْعِزُّ وَالْخَيْرُ وَالْفَخْرُ وَيُدْخِلْ جَنَّاتِ عَدْنٍ بِتِيْجَانِ دُرٍّ تَحْتَهَا خِلَعٌ خَضْرًا
অর্থ “আর প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি যিনি মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি এই খুশিকে উনার জন্য জাহান্নাম থেকে নিরাপদ থাকার জন্য হিজাব ও ঢাল বানিয়ে দিবেন। আর যে ব্যক্তি মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে এক দিরহাম খরচ করবেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ব্যক্তির জন্য শাফায়াতকারী হবেন এবং উনার শাফায়াত মুবারক অবশ্যই কবুল করা হবে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেকটি দিরহামের বিনিময়ে ঐ ব্যক্তিকে দশ দিরহাম দান করবেন।
হে সম্মানিত আখিরী উম্মতগণ! আপনারা সুসংবাদ গ্রহণ করুন, আপনারা দুনিয়া এবং আখিরাতে অসংখ্য খায়ের-বরকত হাসিল করেছেন। কাজেই হে সৌভাগ্যশীলগণ! যাঁরা উনার সম্মানার্থে মাওলিদ শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এর ইন্তিযাম করবেন, উনাদেরকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, সম্মান, মর্যাদা এবং গৌরব দান করা হবে। আর উনাদেরকে জান্নাতে আদন মুবারক উনার মধ্যে মুক্তার মুকুট সহ সবুজ পোশাক পরিহিত অবস্থায় প্রবেশ করানো হবে।” সুবহানাল্লাহ! - মাওলিদুল আরূস
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিজ ইরশাদ মুবারক:
> مَنْ عَظَّمَ مَوْلِدِىْ وَلَيْلَةَ اثْنَىْ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ رَبِيْعِ الْاَوَّلِ الشَّرِيْفِ بِاتِّخَاذِهٖ فِيْهِ طَعَامًا ... كُنْتُ لَهٗ شَفِيْعًا يَّوْمَ الْقِيَامَةِ
ব্যক্তি আমার বিলাদত শরীফ তথা ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফ রাতকে সম্মান করবে, এই দিনকে তা'যীম করবে, এই উপলক্ষে খাদ্য তৈরি করে মানুষকে খাওয়াবে, ওলীমার ইন্তিযাম করবে, আমার ছানা-ছিফত করবে, আমার বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ করবে, আমি তার জন্য কিয়ামতের দিন শাফায়াতকারী হবো। সুবহানাল্লাহ!
জালিম খলিফার ঘটনা
কিতাবে বর্ণিত আছে
اِنَّهٗ كَانَ يَجُوْرُ فِىْ حُكْمِهٖ وَكَانَ ظَالِم
একজন খলিফা ছিল, সে তার হুকুমতে খুব জুলুম করতো, মানুষ তাকে জালিম বলতো।
وَلٰكِنْ لَهٗ عَادَةٌ لِتَعْظِيْمِ مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَعْمَلُ الْوَلِيْمَةَ لِقِرَاءَتِهٖ
কিন্তু তার একটি আমল ছিল, আদত ছিল - সে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফকে মুহব্বত করতো। এই জন্য প্রতি বছর সে বড় করে ওলীমা করতো, মেহমানদারী করতো এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক আলোচনা করতো ও করাতো।
وَكَانَ لَهٗ ابْنُ عَمٍّ يَرُوْمُ الْخِلَافَةَ وَيَتَوَقَّعُ لَهُ الدَّوَاهِىَ حَتّٰى اَرَادَ يَقْتُلَهٗ وَيَنْزِعَ الْمُلْكَ مِنْهُ
তার এক চাচাতো ভাই ছিল, যে খিলাফতের লোভ করতো। সে সব সময় চাইতো খলিফার উপর কোন গজব আসুক, সে ধ্বংস হয়ে যাক, যাতে সে তাকে হত্যা করে খিলাফত ছিনিয়ে নিতে পারে।
একদি
وَهُوَ فِىْ خَلْوَةٍ مُّنْفَرِدٌ عَنِ النَّاسِ مِنْ غَيْرِ سِلَاحٍ وَّلَا خَادِمٍ عِنْدَهٗ - খলিফা নির্জনে এক জায়গায় গেল, যেখানে কোন মানুষ নেই, তার সাথে কোন অস্ত্র নেই, কোন খাদেমও নেই।
اِذْ دَخَلَ عَلَيْهِ ابْنُ عَمِّهٖ وَهَجَمَ عَلَيْهِ وَالْخَنْجَرُ بِيَدِهٖ

এমন সময় তার সেই চাচাতো ভাই হাতে খঞ্জর নিয়ে তার উপর হামলা করলো।
قَالَ لَهٗ: مَا يُخَلِّصُكَ مِنِّىْ يَا خَبِيْثُ بَيْنَ النَّاسِ؟
সে বললো, হে খবীস! তুমি মানুষের মাঝে জালিম হিসেবে পরিচিত। আজ আমার হাত থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে?
তখন খলিফা নিরুপায় হয়ে গেল
فَجَرٰى عَلٰى لِسَانِ الْخَلِيْفَ
তার জবান দিয়ে অজান্তেই বের হয়ে গেল -
يُخَلِّصُنِىْ مِنْكَ مَوْلِدُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আমাকে তোমার হাত থেকে মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রক্ষা করবেন! অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ আমাকে হেফাজত করবেন।
فَمَا اسْتَتَمَّ كَلَامَهٗ حَتّٰى خَرَجَ مِنَ الْحَائِطِ نَبْلَةٌ اَصَابَتْ فُؤَادَهٗ فَخَرَّ مَيِّتًا
কথাটা শেষ করতে না করতেই গায়েব থেকে একটি তীর এসে তার চাচাতো ভাইয়ের বুকে বিদ্ধ হলো, সে সেখানেই মরে পড়ে গেল। সুবহানাল্লাহ!
فَسَمِعَ هَاتِفًا يَّقُوْلُ: عَظَّمْتَ مَوْلِدَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَجَّيْنَاكَ، فَاِنْ زِدْتَ زِدْنَاكَ*
তখন খলিফা গায়েব থেকে আওয়াজ শুনতে পেল - তুমি মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তা'যীম করেছো, তাই আজ তোমাকে নাজাত দেয়া হলো। তুমি যদি আরও বেশি তা'যীম করো, আরও বড় করে পালন করো, তাহলে তোমাকে আরও বেশি কুদরতীভাবে হেফাজত করা হবে। এটা দুনিয়াতেও, আখিরাতেও।
فَتَابَ الْخَلِيْفَةُ عَنِ الْجَوْرِ وَالظُّلْمِ وَصَارَ يُنْفِقُ ثُلُثَ مَالِهٖ فِىْ سَائِرِ السَّنَةِ عَلٰى مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তখন খলিফা সমস্ত জুলুম থেকে তওবা করলো এবং নিয়ত করলো, এখন থেকে প্রতি বছর তার সম্পদের তিন ভাগের এক ভাগ সে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে খরচ করবে। সুবহানাল্লাহ!
একজন বুযুর্গ বলেন,
اِنَّمَا اَطَلْتُ الْكَلَامَ فِىْ ذٰلِكَ لِاَجْلِ اَنْ يَّعْتَنِىَ وَيَرْغَبَ جَمِيْعُ الْاِخْوَانِ فِىْ قِرَاءَةِ مَوْلِدِ سَيِّدِ وُلْدِ عَدْنَانَ ... لِاَنَّ مَنْ لِاَجْلِهٖ خُلِقَتِ الْاَرْوَاحُ وَالْاَجْسَامُ بِحَقٍّ اَنْ يُّهْدٰى لَهٗ الرُّوْحُ وَالْمَالُ وَالطَّعَامُ
আমি এত লম্বা আলোচনা এজন্যই করলাম যাতে সমস্ত মুসলমান ভাইয়েরা সাইয়্যিদে উলদে আদনান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাওলিদ শরীফ পাঠে আগ্রহী হয়। কেননা যাঁর জন্য সমস্ত রূহ এবং জিসিম সৃষ্টি করা হয়েছে, হক হচ্ছে উনার জন্য নিজের জান, মাল, খাদ্য সব কিছু উৎসর্গ করে দেয়া।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে তাওফীক দান করুন যেন আমরা দায়েমীভাবে মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাঠ করতে পারি এবং উনার মুহব্বতে আমাদের জান-মাল সর্বদা খরচ করতে পারি।
-মহাপবিত্র ৯০ দিনব্যাপী আযীমুশশান সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ'ইয়াদ শরীফ মাহফিল - আজ ৫৪তম দিন
হাদিয়া করুন: ১২০০ /১২০০০/ ১২০০০০+সরাসরি শুনুন: http://Sm40.com 01739466730 বিকাশ এজেন্ট

মীলাদুন্নবী পালনের বিরোধীতাকারী কারা !
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অধিষ্ঠান ও পবিত্রতা বর্ণনার মাধ্যমে আল্লাহ পাক বিদ্বেষ পোষণকারীদের মন্দ স্বভাব ও জঘন্য দোষ এভাবে বর্ণনা করেছেন: “আপনার প্রতিপালকের অনুগ্রহে আপনি উন্মাদ নন। আর আপনার জন্য অবশ্যই রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার এবং আপনি অবশ্যই মহানতম চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা ক্বলম : আয়াত শরীফ ২-৪)।
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওলীদ বিন মুগীরা পাগল বলে অপবাদ দিয়েছিল। এতে তার প্রতি অসন্তু'ষ্ট হয়ে আল্লাহ পাক এই আয়াত শরীফ-এ আপন হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এর মর্যাদা ও মর্তবা প্রকাশ করেছেন। অতঃপর ওলীদ বিন মুগীরার স্বভাব সম্পৃক্ত দোষ এবং আভ্যন্তরীণ কলঙ্ক ও গলদ বিশ্ববাসীর অবহিতির জন্য আল্লাহ পাক স্থায়ী দৃষ্টান্ত হিসেবে এভাবে পাক কুরআন-এ অন্তর্ভুক্ত করেছেন: “(হে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি তার কথায় কর্ণপাত করবেন না। সে (ওলীদ বিন মুগীরা)
১.মিথ্যে শপথকারী,
২.অপমানিত,

৩.নিন্দাকারী,
৪.পরের দোষ বর্ণনাকারী,
৫.চোগলখোর,
৬.সৎকাজে নিষেধকারী,
৭.সীমা লংঘনকারী,
৮.পাপিষ্ঠ,
৯.বদ চরিত্র এবং
১০. অধিকন' সে অবৈধ সন্তান।”
(সূরা ক্বলম : আয়াত শরীফ ১০-১৩)
উপরোক্ত আয়াত শরীফ নাযিলের পর ওলীদ তার মাকে জিজ্ঞেস করে, “মুহম্মদ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম)কে অপবাদ দেয়ার কারণে আমার দশটি দোষ বর্ণনা করা হয়েছে। এই দশটি দোষের মধ্যে আমি অবশ্যই নয়টিতে দোষী। কিন্তু' দশম দোষটি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই। অর্থাৎ আমি অবৈধ সন্তান কিনা, মা তুমি সে সম্পর্কে আমাকে সত্য সংবাদ দাও। নইলে তরবারির আঘাতে তোমার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলব।”
এর জবাবে তার মা প্রকম্পিত কণ্ঠে জানায়, “সত্যি তুমি অবৈধ সন্তান। তোমার পিতা ছিল অনেক ধন-সম্পদের মালিক, কিন্তু পুরুষত্বহীন। আমাদের সন্তানাদি না হলে ধন-সম্পদ হাত ছাড়া হয়ে যাবে, এই আশঙ্কায় আমি এক রাখালের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলাম। তুমি সেই অবৈধ অবস্থানের ফসল।”
আলোচ্য আয়াত শরীফ আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, যারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ঈদে মিলাদুন্নবির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে,অপবাদ দেয় এবং হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াসে এ লিপ্ত, তাদের মধ্যে বর্ণিত সমুদয় দশটি দোষ অথবা কিছু দোষ অবশ্যই বিদ্যমান থাকবে।

এক নযরে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক

১৩ জন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক নেয়ার ধারাবাহিকক্রম মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘আছ ছামিনাহ্ অর্থাৎ অষ্টম’। সুবহানাল্লাহ! তিনি সকলের মাঝে ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম’ হিসেবে পরিচিত। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! আর উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কাট্টা কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম উনার এক নযরে মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
নিম্নে এক নযরে উনার মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক তুলে ধরা হলো-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত জুওয়াইরিয়াহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক: উম্মুল মু’মিনীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আফযালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আত্ব ত্বাহিরাহ, আত্ব ত্বইয়্যিবাহ্, মালিকুল জান্নাহ, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মালিকুল কায়িনাত এছাড়াও আরো অসংখ্য-অগণিত। সুবহানাল্লাহ!
যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক-এ মহাসম্মানিত পরিচিতি মুবারক গ্রহণ করেছেন: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছামিনাহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম: সাইয়্যিদুনা হযরত হারিছ ইবনে আবূ দ্বিরার আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম: সাইয়্যিদাতুনা হযরত বারিরাহ্ আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বংশ মুবারক: বনূ মুছ্ত্বলিক্ব। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নুবুওওয়াত এবং রিসালত মুবারক প্রকাশের ২ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৩ই যিলক্বদ শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার)। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: সম্মানিত বনূ মুছ্ত্বলিক্ব গোত্রে। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: সম্মানিত বনূ মুছ্ত্বলিক্ব গোত্র এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ: ৫ম হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত যিলহজ্জ শরীফ মাসে। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ‘আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ: ৫ম হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৮শে যিলহজ্জ শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ্ শরীফ (জুমু‘আহ্ শরীফ রাত)। সুবহানাল্লাহ!
আযীমুশ শান মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বয়স মুবারক: ২০ বছর ১ মাস ১৫ দিন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া: ৫ বছর ২ মাস ১৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় উনার সম্মানিত বয়স মুবারক: ২৫ বছর ৪ মাস।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: ৫০ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৭ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ) ইয়াওমুছ ছুলাছা শরীফ (মঙ্গলবার)। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ। সুবহানাল্লাহ!
দুনিয়ার যমীনে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অবস্থান মুবারক: ৬৪ বছর ৪ মাস ৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাতুল বাক্বী’ শরীফ। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ৩৫)


মহাসম্মানিত বংশীয় পবিত্রতা মুবারক

মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শু‘আরা শরীফ’ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَتَقَلُّبَكَ فِـى السّٰجِدِيْنَ
অর্থ: “(আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনার স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টিও ছিল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা শু‘আরা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২১৯)
‘তাফসীরে কবীর’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন,
فَالْاٰيَةُ دَالَّةٌ عَلـٰى اَنَّ جَمِيْعَ اٰبَاءِ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوْا مُسْلِمِيـْنَ
অর্থ: “এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে প্রমাণিত হয় যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই মুসলমান ছিলেন, ঈমানদার ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর ১৩/৩২)
আরো বর্ণিত রয়েছেন,
اِنَّهٗ كَانَ يَنْقُلُ نُوْرُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَاجِدٍ اِلـٰى سَاجِدٍ
অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সিজদাকারীগণ উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর ১৩/৩২, মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ১/১০৪, শরহুয যারক্বানী ১/৩২৬, তারীখুল খমীস ১/২৩৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
اِنَّ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ شِيْثًا عَلَيْهِ السَّلَامُ اَوْصٰى وَلَدَهٗ بِوَصِيَّةِ حَضْرَتْ اٰدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنْ لَّا يَضَعَ هٰذَا النُّوْرَ اِلَّا فِى الْمُطَهَّرَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَلَمْ تَزَلْ هٰذِهِ الْوَصِيَّةُ جَارِيَةً تَنْتَقِلُ مِنْ قَرْنٍ اِلٰى قَرْنٍ اِلٰى اَنْ وَصَلَ هٰذَا النُّوْرُ اِلٰى سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ وَطَهَّرَ اللهُ هٰذَا النَّسَبَ الشَّرِيْفَ مِنْ سِفَاحِ الْجَاهِلِيَّةِ
অর্থ: “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুনা হযরত শীছ আলাইহিস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আনূশ আলাইহিস সালাম) উনাকে আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক অনুসারে সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক করেন যে, এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যেন অবশ্যই একমাত্র মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের নিকট সমর্পণ মুবারক করা হয়। আর এই সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক পর্যায়ক্রমে যুগের পর যুগ, শতাব্দির পর শতাব্দি পর্যন্ত জারী থাকেন। এমনকি এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট পৌঁছা পর্যন্ত ঐ সম্মানিত ওছিয়ত মুবারক জারী থাকেন। আর স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নসব মুবারক উনাকে জাহিলিয়্যাতের অশ্লীলতা থেকে পূতঃপবিত্র রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ১/৫৬)
মূলত, আবুল বাশার সাইয়্যিদুনা হযরত ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার থেকে শুরু করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়; উনারা প্রত্যেকেই হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফ্য বা পরিভাষা মুবারক

৭৯ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ঘুম মুবারক نُوْرُ الْـمُطْمَئِنَّةِ مُبَارَكٌ নূরুল মুত্বমাইন্নাহ্ মুবারক
৮০ জিহাদে আহত হওয়া শান মুবারক نُوْرُ الْاِسْتِقَامَةِ مُبَارَكٌ নূরুল ইস্তিক্বামত মুবারক (দৃঢ়চিত্ত)
৮১ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ نُوْرُ التَّشْرِيْفِ/ نُوْرُ الْوِلَادَةِ شَرِيْفٌ নূরুত তাশরীফ/ নূরুল বিলাদত শরীফ (আগমন)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামউনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাস্সাম মুবারক উনার মধ্যে যা কিছু ছিলেন, সমস্ত কিছু ছিলেন পূত-পবিত্র থেকে পূত-পবিত্রতম ও মেশক-আম্বরসহ অন্যান্য সুগন্ধি থেকে লক্ষ কোটি গুণ বেশি সুগন্ধিময় এবং যারা উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুন নাজাত মুবারক অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক পান করতে পেরেছেন উনারা প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ জান্নাতী (৩)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ لَـمْ يَكُنِ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَـمُرُّ فِـىْ طَرِيْقٍ فَـيَـتْـبَـعُهٗ اَحَدٌ اِلَّا عَرَفَ اَنَّهٗ سَلَكَهٗ مِنْ طِـيْبِهٖ
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই রাস্তায় গমন করতেন, সেই রাস্তা উনার সুগন্ধ মুবারক-এ সুরভিত হয়ে যেতেন, উনার পিছনে গমনকারী ব্যক্তি সহজে অনুভব করতে পরতো যে, এই রাস্তা দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গমন মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল কবীর ১/৩৯৯, ‘আলামুন নুবুওওয়াহ ১/১৬৩)
‘শিফা’ শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছেন-
وَذَكَرَ حَضْرَتْ اِسْحٰقُ بْنُ رَاهَوَيْهِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَـيْهِ اَنَّ تِلْكَ كَانَتْ رَائِحَتُهٗ بِلَا طِـيْبٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক) থেকে নির্গত সম্মানিত খুশবু মুবারক কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করার কারণে সুরভিত হতো না, বরং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারকই (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারকই) সুগন্ধময় ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!
‘শিফা’ শরীফ’ উনার মধ্যে আরো উল্লেখ রয়েছেন-
اَنَّهٗ كَانَ اِذَا اَرَادَ اَنْ يَّـتَـغَـوَّطَ انْشَقَّتِ الْاَرْضُ فَابْـتَـلَعَتْ غَائِطَهٗ وَبَـوْلَهٗ وَفَاحَتْ لِذٰلِكَ رَائِحَةٌ طَـيِّـبَةٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল গইব মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বড় ইস্তিঞ্জা মুবারক) অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোট ইস্তিঞ্জা মুবারক) যমীনে রাখার ইচ্ছা মুবারক করতেন তখন মাটিতে ফাটলের সৃষ্টি হয়ে যেতো, তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল গইব মুবারক অথবা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শিফা’ মুবারক করলে মাটি তা নিজের ভিতর লুকিয়ে নিতো এবং সেই স্থান থেকে শুধু সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়তেন। সুবহানাল্লাহ! (শিফা’ শরীফ)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় জীবনী মুবারক
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পর্ব- ৩৪)


মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ হযরত ইমাম আলাইহিমুস সালাম:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ১২ ইমাম আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন-
১. ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিস সালাম) তিনি,
২. সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম) তিনি,
৩. সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম) তিনি,
৪. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী আওসাত্ব যয়নুল আবিদীন আলাইহিস সালাম) তিনি,
৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ¦ামিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ বাক্বির আলাইহিস সালাম) তিনি,
৬. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম জা’ফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম) তিনি,
৭. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুস সাবি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মূসা কাযিম আলাইহিস সালাম) তিনি,
৮. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছামিন মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী রেযা আলাইহিস সালাম) তিনি,
৯. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুত তাসি’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ তাক্বী আলাইহিস সালাম) তিনি,
১০. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল ‘আশির মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আলী নাক্বী আলাইহিস সালাম) তিনি,
১১. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল হাদী ‘আশার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আসকারী আলাইহিস সালাম) তিনি এবং
১২. ইমামুছ ছানি আ’শার মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহম্মদ মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি।
বিশেষভাবে স্মরণীয় যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাও হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল কুদরত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওজূদ পাক মুবারক) উনার সাথে সম্পৃক্ত। সুবহানাল্লাহ! তিনি তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত অবশ্যই; শুধু তাই নয়, তিনি হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একক ও অদ্বিতীয় হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ! আর উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাক্বীক্বী ক্বায়িম মাক্বাম। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবেন। এ সম্পর্কে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমাকে আরো একখানা অনেক বড় মাক্বাম মুবারক হাদিয়া মুবারক করা হয়েছে, যেটা ইতিপূর্বে কাউকে হাদিয়া মুবারক করা হয়নি। আমি যাকে ইচ্ছা তাকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে পারবো।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
উল্লেখ্য যে, সাধারণত কিতাবাদিতে “আহলু বাইত শরীফ” বলতে “পাক পাঞ্জাতন” অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে, ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আর রবি’ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে এবং সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল খ¦মিস সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাকে অর্থাৎ এই পাঁচজন উনাদেরকে বুঝিয়ে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ!
এটা একটা কুফরী আক্বীদাহ্। কারণ, এর মাধ্যমে অন্যান্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে অস্বীকার করা হয়। যা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের খিলাফ এবং কাট্টা কুফরী ও চিরজাহান্নামী হওয়ার কারণ। না‘ঊযুবিল্লাহ!
যেকোনো ব্যক্তিকে “নবী-রসূল” বলা যেমন কুফরী; ঠিক তেমনিভাবে যেকোনো ব্যক্তিকে “আহলু বাইত শরীফ” বলাও কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ! কিছু গোমরাহ্, বিভ্রান্ত, বদ আমল ও বদ আক্বীদাধারী লোক রয়েছে, যারা নিজেদেরকে “আহলু বাইত শরীফ” দাবী করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! এদের দাবী করাটা যেমন কুফরী; তেমনিভাবে এদেরকে “আহলু বাইত শরীফ” হিসেবে মেনে নেয়া বা স্বীকৃতি দেওয়াটাও কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৮)

সেটাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ¦মিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,
اِنَّا مِنَ اللهِ بِـمَكَانٍ وَّمَنْزِلَةٍ رَّفِيْعَةٍ فَلَوْ لَا نَـحْنُ مَا خَلَقَ اللهُ تَعَالـٰى سَـمَاءً وَّلَا اَرْضًا وَّلَا جَنَّةً وَّلَا نَارًا وَّلَا شَـمْسًا وَّلَا قَمَرًا وَّلَا جِنِّيًّا وَّلَا اِنْسِيًّا.
অর্থ: “ নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আমাদের এমন সুউচ্চ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাকান ও মাক্বাম মুবারক রয়েছেন যে, আমরা যদি না হতাম, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি আসমান—যমীন, জান্নাত—জাহান্নাম, সূর্য—চন্দ্র এবং জিন—ইনসান কোনো কিছুই সৃষ্টি করতেন না।” সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খ¦মিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বলেন,
اِنَّ لَنَا عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً وَّمَكَانًا رَّفِيْعًا وَلَوْلَا نَـحْنُ لَـمْ يـَخْلُقِ اللهُ اَرْضًا وَلَا سَـمَاءً وَلَا جَنَّةً وَلَا نَارًا وَلَا شَـمْسًا وَلَا قَمَرًا وَّلَا جِنِّيًّا وَّلَا اِنْسِيًّا وَلَا بَرًّا وَلَا بـَحْرًا وَلَا سَهْلًا وَلَا جَبَلًا وَلَا رَطْبًا وَلَا يَابِسًا وَلَا حُلْوًا وَلَا مُرًّا وَلَا مَاءً وَلَا نَبَاتًا وَلَا شَجَرًا وَاخْتَرَعْنَا اللهُ مِنْ نُّوْرِهٖ وَلَا يُقَاسُ بِنَا اَحَدٌ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আমাদের এমন সুউচ্চ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাক্বাম মুবারক রয়েছেন যে, আমরা যদি সৃষ্টি না হতাম, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যমীন—আসমান, জান্নাত—জাহান্নাম, সূর্য—চন্দ্র, জিন—ইনসান, স্থল—সমুদ্র, সমভূমি—পাহাড়, ভিজা—শুকনা, মিষ্ট—তিক্ত, পানি, গাছপালা—তরুলতা কোনো কিছুই সৃষ্টি করতেন না। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক থেকে তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ নূর মুবরাক থেকে সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আমাদের সাথে কারো তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ!
এজন্যই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّبُوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَيْتِ الرَّحْمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ.
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কার্রামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ তথা বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফ্য বা পরিভাষা মুবারক

৭৬ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোসল মুবারক نُوْرُ الشَّوْكَةِ مُبَارَكٌ নূরুশ শাওকাত মুবারক
৭৭ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বুছা মুবারক দেয়া نُوْرُ التَّسْكِيْنِ مُبَارَكٌ নূরুত তাসকীন মুবারক
৭৮ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শোয়া মুবারক نُوْرُ الْاِطْمِنَانِ مُبَارَكٌ নূরুল ইত্বমিনান মুবারক

সাইয়্যিদু শাবাবি আহলিল জান্নাহ, সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ইবনু ইমামিল আউওয়াল আছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক (৭)

এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মু’মিন বলতে একমাত্র যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত জিন—ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলেই উদ্দেশ্য। সুবহানাল্লাহ! উনারা সকলেই মু’মিন। উনারা প্রত্যেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! কোনো হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক দেয়া হয়নি, কোনো হযরত রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত রিসালাত মুবারক দেয়া হয়নি; যতক্ষণ পর্যন্ত না উনারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনার পরেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালাত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে স্বয়ং যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন—
وَاِذْ اَخَذَ اللهُ مِيْثَاقَ النَّبِـيّٖنَ لَمَاۤ اٰتَيْتُكُمْ مِّنْ كِتٰبٍ وَّحِكْمَةٍ ثُـمَّ جَآءَكُمْ رَسُوْلٌ مُّصَدِّقٌ لِّـمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهٖ وَلَتَنْصُرُنَّهٗ قَالَ ءَاَقْرَرْتُـمْ وَاَخَذْتُـمْ عَلـٰى ذٰلِكُمْ اِصْرِىْ قَالُوْاۤ اَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوْا وَاَنَا مَعَكُمْ مِّنَ الشّٰهِدِيْنَ. فَمَنْ تَوَلّٰى بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓـئِكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ.
অর্থ: “আর (আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি স্মরণ করুন ঐ সময়ের কথা) যখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের থেকে অঙ্গীকার মুবারক গ্রহণ করলেন যে, আপনাদেরকে সম্মানিত কিতাব মুবারক ও হিকমত মুবারক দেয়া হবে। অতঃপর আপনাদের নিকট একজন মহাসম্মানিত রসূল তথা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন এবং তিনি আপনাদেরকে ও আপনাদের কাছে যা কিছু রয়েছে সমস্ত কিছুর তাছদীক্ব বা সত্যায়ন করবেন। আপনারা অবশ্যই অবশ্যই উনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনবেন এবং উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দিবেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, আপনারা কি তা স্বীকার করে নিলেন এবং এ মর্মে আমার সম্মানিত ওয়াদা মুবারক গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, আমরা স্বীকার করে নিলাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি বললেন, তাহলে আপনারা সকলে সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর যে এই সম্মানিত ওয়াদা মুবারক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে অর্থাৎ ওয়াদা মুবারক উনার খিলাফ করবে, তারাই হচ্ছে ফাসিক্ব তথা চরম নাফরমান, কাট্টা কাফির।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৮১—৮২)