সারা বাংলাদেশে ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারের সার্ভার ডাউন।

ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।

বেলঘর নিবাসী (মাধবপুর-হবিগঞ্জ)হাফিজ মুহম্মদ মহিউদ্দিন ছহিবের আব্বা আজ রাত ১০:৪৫ মিনিটের সময় উনার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন ।

পবিত্র মুহররমুল হারাম মাসকে একমাত্র বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ীরাই নববর্ষ হিসেবে উদযাপন করতে বলে


হিজরী বর্ষের প্রথম মাস পবিত্র মুহররমুল হারামকে কথিত ‘হিজরী নববর্ষ’ হিসেবে উদযাপন করার জন্য কতিপয় নব্য বিদয়াতী ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘সূ’ যেন কোমর বেঁধে নেমেছে। তাদের কথা হলো, বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও কেনো এদেশে হিজরী নববর্ষকে বরণ করতে উলামায়ে কিরাম ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন না।

তারা পত্রিকায় “স্বাগতম হিজরী নববর্ষ” শিরোনামে লিখা পত্রস্থ করে বলে যে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আলিম উলামা, পীর-মাশায়িখ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বুদ্ধিজীবিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে হিজরী নববর্ষ পালনের আয়োজন করতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ ইসলামী শরীয়তে কোনো ধরনেরই নববর্ষ পালন করা, সেটাকে সমর্থন করা, নববর্ষের জন্য সাহায্য সহযোগিতা করা সম্পূর্ণরূপে হারাম। তাই কোনোকালেই মুসলমানদের মধ্যে হিজরী নববর্ষ পালনের কোনো রেওয়াজ চালু হয়নি। হিজরী বর্ষের প্রথম মাস পবিত্র মুহররম মাসের যে গুরুত্ব-তাৎপর্য তা মূলত পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকেই। কারণ খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যে চারটি মাসকে হারাম বা পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন তার মধ্যে পবিত্র মুহররমুল হারাম অন্যতম।

উল্লেখ্য, এই পবিত্র মুহররম মাসের ১০ তারিখ এমন একটি ঐতিহ্যম-িত বরকতময় দিন যার সাথে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা জড়িত। যার কারণে ১০ তারিখ অর্থাৎ পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ উদযাপনের রীতি আদি যুগ থেকেই হয়ে আসছে। অপরদিকে বিভিন্ন জাতির মধ্যে নববর্ষ উদযাপনের যে বেশরা রীতি চালু আছে তার উদ্ভব ঘটেছে মজুসী-মুশরিকদের দ্বারা। সেটাকেই এখন মুসলমানগণ নিজেদের মাঝে হিজরী নববর্ষ উৎসব নামে চালু করার আধুনিক বিদয়াতে লিপ্ত হয়েছে। আর এর যার প্রবর্তক হচ্ছে, ধর্মব্যবসায়ী উলামায়ে ‘সূ’ গং। মুসলমানদেরকে এই নব্য ফিতনা বর্জন করে পবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম শরীফ পালন করার জন্য জোর প্রস্তুতি গ্রহণের ঈমানী আহবান জানাচ্ছি।



- মেহরোমা।

ইতিহাস
দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন (২)



রাশিয়ায় বন্দী মুসলিম (খ):



মুসলমানদের নিমর্মভাবে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি রুশ নেতৃবৃন্দ। দ্বীন ইসলাম যাতে প্রচারিত এবং প্রসারিত না হতে পারে তার জন্য কয়েকটি ঘৃণ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করলো রাশিয়া। মসজিদ ও মাদরাসার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রায় ৮ হাজার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয়া হয়। পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের আইন এবং মুসলিম রীতিনীতি স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হল। হাজার হাজার মসজিদ ধ্বংস করা হয়। সারা দেশের ২৬ হাজার মসজিদের মধ্যে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত টিকে ছিলো মাত্র তেরশ মসজিদ। মসজিদগুলোর বেশিরভাগই এই কাফেরগুলি ব্যবহার করতো ক্লাব এবং পার্টির অফিস হিসেবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রাশিয়া জার্মানী দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই অবস্থায় মুসলমানদের সমর্থন লাভের জন্য সরকার মুসলমানদের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো আপাততঃ ধ্বংস করা স্থগিত রাখে। ২য় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে কয়েক লাখ মুসলিম সেনা জার্মানীর বিরুদ্ধে মরণপন লড়াই করে। মুসলমানদের সমর্থনকে ব্যবহার করে অবশেষে রাশিয়া জার্মানীর বিরুদ্ধে জয়ী হয়।

কিন্তু রাশিয়ার সরকার আবারও ১৯৫৩ সালে পুনরায় মুসলমানদের উপর শুরু করে আবারও পৈশাচিক নির্যাতন। নিকিতা ক্রুশ্চেভ মুসলমানদের হত্যাকার্য পুরোদমে চালালো। এ সময় মুসলিম বুদ্ধিজীবী এবং নেতৃবৃন্দকে আরেক দফা হত্যা করা হলো ঠান্ডা মাথায়। দ্বীন ইসলাম উনাকে আরেক ধাপ দাবিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলো। অবশিষ্ট তেরশ মসজিদকে কমিয়ে বারশতে নামিয়ে আনা হলো। রাশিয়ার মুসলমানরা এক বিরাট ধ্বংসের কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শুরু হলো, এক নব জাগরণ। বিপুল তৈল সম্পদ এবং এর অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় ফুলে ফেঁপে সমৃদ্ধ হল উপসাগরীয় এবং আরব অঞ্চলের মুসলিম জনপদ। মুসলমানদের হাতে অর্থের ভান্ডার এসে গেল। ধূর্ত রাশিয়ার যালিম কম্যুনিষ্ট সরকার তার নীতিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবলো। মুসলিম দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক গড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলো রাশিয়া। তাই আপাততঃ তার ইসলামবিদ্বেষী বীভৎস মূর্তিকে ঢেকে রাখার এক অপকৌশল আঁটলো সে।

ক্রুশ্চেভের পর রুশ সমাজতান্ত্রিক পার্টির হাল ধরল ব্রেজনেভ। সে মুসলমানদের বন্ধু সাজবার চেষ্টা চালালো। সে ক্ষমতায় এসেই মুসলিম নিদর্শনগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা স্থগিত রাখল। শুধু তাই নয়। মুসলমানদের জন্য একটা নিরাপদ অবস্থান গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বের মুসলমান দেশের সরকার ও বিশ্ব মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টাও আঁটল। মুসলিম দেশগুলোর অর্থের ভান্ডার কুক্ষিগত করার জন্য সে কিছু কিছু মুসলিম নিদর্শন মেরামত করালো এবং কম্যুনিষ্ট নিয়ন্ত্রিত একটা পাতানো সীমিত পরিসরে ইসলামী কার্যক্রম চালু করার ব্যবস্থা করলো ব্রেজনেভ।

সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার নাস্তিক সরকার তার দীর্ঘ শাসনামলে মুসলমানদের প্রকৃত পরিচয়টুকু মুছে ফেলার জন্যও কম চেষ্টা করেনি। এজন্য মুসলমানদের কৃত্রিম জাতিতে ভাগ করারও প্রচেষ্টা চালানো হয়। বিভিন্ন মুসলিম গোত্রকে নতুন জাতি আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক বিভক্তি থেকে শুরু করে। এসব তথাকথিত জাতির মধ্যে নতুন জাতির বর্ণমালা এবং সাহিত্যেরও প্রচলন করা হয়।

মুসলমানদের উজবেক, তাজিক, তুর্কমেন, কাজাক, কিরমিজ এবং অন্যান্য জাতীয় হিসেবে পরিচিত করা হয়। ফলে বিপ্লবের আগে এরা নিজেদের মুসলমান বলে মনে করলেও এখন তারা নিজেদের কেউ উজবেক, কেউ তাজিক অথবা কেউ তুর্কমেন মনে করে থাকে। ফলে নিজেদের মুসলিম ঐতিহ্য হতে রাশিয়ার মুসলমানরা সত্তর বছর পর বহুদূর সরে পড়েছে।

রাশিয়ার মুসলমানরা যাতে তাদের জাতীয় চরিত্র হারিয়ে কম্যুনিষ্ট চরিত্রের সাথে মিশে যেতে পারে তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে রাশিয়ায়। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাস্তিকরা মুসলমানদের সাথে টার্গেট ভিত্তিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিত উপায়ে কম্যুনিষ্টরা মুসলমানদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। এভাবে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা করেও রাশিয়ার মুসলমানদের অস্তিত্ব বিলোপ করার অপচেষ্টা চালায় তারা।

তবে মধ্য এশিয়া, মধ্য ভোলগা এবং ককেশাসের মুসলমানরা নিজেদের মুসলিম চেতনাটুকু ভুলে যায়নি। তারা নিজেদের জীবনে একজন খাঁটি মুসলিমের বৈশিষ্ট্যগুলো ধরে রাখতে না পারলেও দ্বীন ইসলামের বেশ কিছু রীতিনীতি চালু আছে এদের মধ্যে।

রাশিয়ার নাস্তিক সরকার বাইরের দুনিয়াকে বিভ্রান্ত করার জন্য কিছু কর্মকান্ড পরিচালনা করেছিলো। সরকার ইসলামী কার্যক্রমগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চারটি ডাইরেকটরেট চালু রেখেছে। বিদেশী পর্যটকদের দেখানোর জন্য এইসব ডাইরেকটরেট সরকারী কিছু নামাযীর ব্যবস্থা করে রাখে। ইসলামের প্রচার ও প্রসারের কাল্পনিক বর্ণনা দিয়ে সরকারী কিছু মৌলুভী রাশিয়ায় ইসলাম প্রচারের কাজ করছে বলে মুখে মুখে বলে বেড়াত। অথচ এরই অন্তরালে ইসলামী মূল্যবোধকে সম্পূর্ণ বিনাশের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। (চলবে)

-মুহম্মদ মুশফিকুর রহমান।

ইতিহাস
দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন (১)


আজকে মুসলমানরা কুরআন শরীফ এবং সুন্নাহ শরীফ উনার মূল ধারক বাহক তথা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের লক্ষ্যস্থল হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের গোলামী থেকে গাফিল হওয়ার কারণে সারা বিশ্বব্যাপী কল্পনাতীত জুলুম নির্যাতনের শিকার।

এখানে আমরা সারা বিশ্বব্যাপী দেশে দেশে যে মুসলিম নির্যাতন হচ্ছে তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।



রাশিয়ার বন্দী মুসলিম:



মধ্য এশিয়ার বিশাল এলাকা জুড়ে মুসলমানদের বসতি গড়ে উঠেছিল দ্বীন ইসলামের সেই প্রাথমিক যুগ থেকেই। খলীফায়ে ছালিছ, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারককালে মুসলমানরা মধ্য এশিয়ায় এসে পৌঁছেন।

বসরার শাসনকর্তা ইবনে আমীর আমু দরিয়ার উত্তাল তরঙ্গ মালা অতিক্রম করে বলখ, তুখারিস্থান প্রভৃতি অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে।

খলীফায়ে সাদিস, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফত আমলে ইরান ও খোরাসানের শাসনকর্তা জিয়াদের পুত্র বোখারা বিজয় করেন।

খলীফায়ে ছালিছ, খলীফাতুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার একজন আওলাদ পাক আলাইহিস সালাম তিনি সমরখন্দ ও তিরমিজ দখল করেন ৬৭৪ খ্রি. সালে। ফলে সোভিয়েত ইউনিয়নের ১৮টি প্রজাতন্ত্রের মধ্যে কাজাখিস্তান, কিরমিজিয়া, তাজাকিস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং আজারবাইজান- ‘এই ছয়টি প্রজাতন্ত্রে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠিতে পরিণত হয়।

উমাইয়া যুগে মধ্য এশিয়া বিজিত হলেও তথাকার দখল ততটা দৃঢ় ছিল না। আব্বাসীয় যুগে (৭৫০-১২৫৮) এই অঞ্চলে অনেকগুলো স্থানীয় শাসক বংশের অভ্যুদয় ঘটে।

এদের মধ্যে ছিলো খোরাসানের তাহেরী বংশ (৮২০-৮৭২), সিজিস্থানের সাফফারী বংশ (৮৬৭-৯০৮), মধ্যে এশিয়া ও পারস্যের সামানী বংশ (৮৭৪-৯৯৯)। এদের রাজধানী ছিল বোখারা। তা ছাড়াও গজনী বংশ (৯৬২-১১৮৬), বুরাইদ বংশ (৯৪৫-১০৫৫) এবং সেলজুক তুর্কীদের বংশ (১০৫৫-১১৯৪) এতদঅঞ্চলের শাসনকার্য চালায়। এসব বংশের শাসন পরিচালনার সময়েই মধ্য এশিয়ায় দ্বীন ইসলাম প্রচার এবং প্রসারের ব্যাপ্তি ঘটে।

ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ শতকে মধ্য এশিয়ায় শুরু হয় মোঙ্গল বর্বরতা। মোঙ্গল শাসনের পর মধ্য এশিয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে এখানকার মুসলিম শক্তি এবং প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে যায়। যার ফলে পরবর্তীকালে রুশ আগ্রাসন ত্বরান্বিত হয়।

ষোড়শ শতকের দিকে রাশিয়ার দৃষ্টি পড়ে মধ্য এশিয়ার দিকে। ইউরোপে ফরাসী, জার্মানী এবং ইংরেজদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে রাশিয়া মধ্য এশিয়ায় তার প্রভাব বিস্তারে মনোনিবেশ করে। ১৮৮৪ সালের মধ্যেই এখানকার বেশ কয়েকটি অঞ্চল দখল করে নেয় রাশিয়া। রাশিয়ায় কমিউনিষ্ট বিপ্লবের পর প্রথমে ফারিজম এবং উজবেকে সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র স্থাপন করা হয়। পরে এর নাম দেয়া হয় উজবেকিস্তান সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। পরবর্তী পর্যায়ে ১৯২৫ সালে তুর্কমেনিস্তান, ১৯২৯ সালে কিরমিজিয়া, ১৯৩৬ সালে তাজাকিস্তান প্রজাতন্ত্রগুলো স্থাপন করা হয়।

১৯১৭ সালের বলসেভিক বিপ্লব সাধিত হবার পূর্ব পর্যন্ত মুসলিম অধ্যুষিত প্রজাতন্ত্রগুলোতে দ্বীন ইসলাম উনার প্রচার ও প্রসার অব্যাহত ছিল। যদিও রাশিয়ার জার সরকার মুসলমানদের উপর প্রচ- দমননীতি চালাতে ভুলেনি। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের সময় লেনিন মুসলমানদের তার সমর্থনে রাখার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালায়। এজন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মুসলিম নির্যাতনের জন্য সমালোচনা করতেও দ্বিধা করেনি লেনিন। মুসলিমরা এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বলসেভিক বিপ্লব সংঘটিত হলো। লেনিন হলো রাষ্ট্রের প্রধান- একনায়ক সরকার। এতক্ষণে লেনিনের কথিত মুসলিম প্রীতি এবং সমাজতন্ত্রের ধোঁকাবাজি চরিত্র ফুটে উঠলো। মুসলমানদের জবাই করার পরিকল্পনা নেয়া হলো রাষ্ট্রের পক্ষ হতে। ১৯২০ সাল হতে ১৯৩০ সালের মধ্যে রুশ নেতৃবৃন্দ মার্কসবাদও লেনিনবাদ প্রতিষ্ঠাব্রতে অবতীর্ণ হবার জন্য দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের উৎখাতের কাজ শুরু করল। ১৯২০ সালের সূচনাতেই এই হত্যাযজ্ঞের কাজটি আরম্ভ হয়। মুসলিম এলাকাগুলোর প্রতিভাধর মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরী করে তাদের হত্যা করা হয়। লাখ লাখ মুসলমানকে জবাই করা হলো সমাজতন্ত্রের স্বার্থে।

বিপ্লবের পূর্বে একদল বিভ্রান্ত মুসলমান যারা লেনিনকে মুসলিম এলাকাগুলোর স্বাধীনতা ফিরে পাবার শর্তে সমর্থন করেছিল তারাও রেহাই পেলো না হত্যাযজ্ঞের হাত হতে। নাউযুবিল্লাহ! (চলবে)

চীনের উইঘুর নারীদের আর্তনাদ:
জাতিগত নির্মূলের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকের জাগ্রত হওয়ার ডাক


ইতিহাসের পাতায় নিষ্ঠুরতার অধ্যায়গুলো অনেক সময় কল্পকাহিনীর চেয়েও ভয়াবহ হয়। বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলমানদের ওপর চীন সরকারের যে পৈশাচিক নির্যাতন চলছে, তা বিশ^মানবতার জন্য এক চরম লজ্জার বিষয়। ‘মুসলিম টাইমস’ কর্তৃক প্রকাশিত একটি উইঘুর মুসলিম নারীর ফতোয়া চাওয়ার আকুতি যে চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেছে, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে স্তব্ধ করে দিতে বাধ্য।

সেই নারীর আকুতি, "মহামান্য! আমাদের আপনার কাছ থেকে একটি ফতোয়া প্রয়োজন। কারণটা হলো, আমাদের বিয়ে করতে বাধ্য করা হচ্ছে, নাস্তিক অমুসলিম ‘হান’ পুরুষদের সাথে রাত কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছে।"

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি চীনের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উইঘুরদের জাতিগত ও দ্বীনি পরিচয় মুছে ফেলার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। চীনের কমিউনিষ্ট সরকার উইঘুর নারীদের ‘হান’ পুরুষদের সাথে জোরপূর্বক বিবাহ এবং শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করে একদিকে উইঘুর জনসংখ্যা হ্রাস করছে, অন্যদিকে তাদের দ্বীনি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধ্বংস করছে। এটি মূলত একটি জাতির সত্তাকে মুছে ফেলার এক আধুনিক ও অদৃশ্য কৌশল।

সেই নারীর আরও প্রশ্ন, "আমরা কি আত্মহত্যা করতে পারি?" এই ভয়াবহ প্রশ্নটি প্রমাণ করে যে উইঘুর নারীদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, তা কতটা অসহ্য। যখন একজন ব্যক্তি তার ঈমান ও ইজ্জত রক্ষা করতে না পেরে আত্মহত্যার কথা ভাবেন, তখন সেই সমাজের পতন অনিবার্য। কিন্তু আত্মহত্যা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। এই নারীদের এই চরম অসহায়ত্বের মুহূর্তে বিশ^ মুসলিম উম্মাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হলো তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর চলা এই পৈশাচিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।

চীনের এই জাতিগত নির্মূল অভিযানের বিরুদ্ধে বিশে^র নীরবতা আরও ভয়াবহ। পশ্চিমা দেশগুলো অনেক সময় এই ইস্যুতে মুখ খুললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয় না। অন্যদিকে মুসলিম দেশগুলোরও একটি বড় অংশ চীনের সাথে অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে এই ইস্যুতে নীরব থাকে। এই নীরবতা চীনের এই পৈশাচিক কাজকে উৎসাহিত করছে।বিশ^বিবেকের এখনই জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলমানদের ওপর চলা এই জাতিগত নির্মূল অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তে দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। একই সাথে চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মাধ্যমে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। বিশ^ মুসলিম উম্মাহকেও এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং উইঘুরদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

ইনসাফ কায়েম হোক, উইঘুরদের সার্বভৌমত্বের মর্যাদা ফিরে আসুক।

গান-বাজনা অকাট্য দলীল দ্বারা সুস্পষ্টভাবে হারাম


“গান-বাজনা” ও “বাদ্য-যন্ত্র” হারাম হওয়া সম্পর্কে অসংখ্য হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِسْتِمَاعُ الْمَلَاهِى مَعْصِيَةٌ وَالْجُلُوْسُ عَلَيْهَا فِسْقٌ وَالتَّلَذُّذُ بِهَا مِنَ الْكُفْرِ

অর্থ: গান শোনা গুণাহের কাজ, গানের মজলিসে বসা ফাসেকী এবং গানের স্বাদ গ্রহণ করা কুফরী। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাছাবীহ)

সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল তাক্বওয়া মুবারক

বেহেশতের প্রতিটি দরজা মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে আহবান করবে। উম্মতের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম বেহেশতে প্রবেশ করবেন। এতোসব মর্যাদাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তিনি বলতেন, “আফসুস! আমি যদি গাছ হতাম, যা কেটে ফেলা হয়।” অনেক সময় বলতেন, “আমি যদি ঘাস হতাম, যা পশু খেয়ে ফেলতো।” আবার কোনো সময় বলতেন, “আমি যদি কোনো মু’মিনের গায়ের পশম হতাম।” সুবহানাল্লাহ!

(১)

একদিন তিনি জঙ্গলে গিয়ে একটি জানোয়ারকে বসা অবস্থায় দেখতে পেয়ে এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “হে জানোয়ার! তুমি কত সুখে-শান্তিতে আছো, খাও, পান করো, বৃক্ষের ছায়ায় বিচরণ করো এবং পরকালে তোমার উপর হিসাব-নিকাশের কোনো বোঝা নাই। হায় আফসুস! আবূ বকর (আলাইহিস সালাম) যদি তোমার মতো হতেন।” সুবহানাল্লাহ!

(২)

সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার একজন গোলাম ছিলো। সে আপন আয়ের একটি নির্ধারিত অংশ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে প্রদান করতো। একদিন ওই গোলাম কিছু খাদ্য এনেছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি তা হতে এক লোকমা খেয়ে ফেলেন। গোলাম বললো, হুযূর! আমি এটা কোথা হতে এনেছি এই কথা জিজ্ঞাসা করা ব্যতীতই আপনি তা খেয়ে ফেললেন? অথচ অন্য সময় জিজ্ঞাসা করা ব্যতীত খাদ্য গ্রহণ করেন না। তিনি বললেন, “তীব্র ক্ষুধার কারণে জিজ্ঞাসার সময় পাই নাই, এখন বলো দেখি তা কোথা হতে এনেছো? সে বলল, আমি পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণের পূর্বে কিছু মন্ত্রের দ্বারা তদবীর করেছিলাম। তারা আমাকে কিছু দেয়ার ওয়াদা করেছিল। আজ তাদের সেখানে বিবাহের অনুষ্ঠান ছিলো। আমিও সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। আজ তারা আমাকে ওই মজুরী প্রদান করে। শুনে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তুমি আমাকে ধ্বংস করে দিলে। এই বলে গলার ভিতর হাত দিয়ে বমি করার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু তীব্র ক্ষুধাবস্থায় খাওয়া একটি মাত্র লোকমা সহজে কি বের হয়? কেউ বললো, পানি দ্বারা বমি হতে পারে, তখন বড় এক পেয়ালা পানি নিয়ে পান করতে থাকেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ওই গ্রাস বের হয়ে আসে। এতে কেউ কেউ বললো, খোদা পাক তিনি আপনার ভালাই করুন। একটি মাত্র গ্রাসের জন্য আপনি এতো কষ্ট শিকার করলেন। তিনি বললেন, যদি এই লোকমা বের করতে আমার প্রাণও বের হতো তবুও আমি তা বের করতাম। কেননা আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূরুস সালাম (জবান) মুবারকে শুনেছি, হারাম মালে গঠিত শরীরের জন্য আগুনই যথেষ্ট। আমার ভয় হলো, এই লোকমার দ্বারা আমার কোনো অঙ্গ গঠিত হয় কি-না। মুহাদ্দিছীনে কিরাম উনাদের মতে, নিজ গোলামের মাল খাওয়া জায়িয হওয়া সত্ত্বেও সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সতর্কতার জন্য সন্দেহজনক মাল গ্রহণ করতে রাজি ছিলেন না। সুবহানাল্লাহ!

(৩)

সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন কাপড়ের ব্যবসায়ী, এর দ্বারাই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। খলীফা হওয়ার পরের দিন যথারীতি কিছু কাপড় নিয়ে বাজারের দিকে চললেন। পথিমধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেন, আপনি যদি বেচা-কেনায় লিপ্ত থাকেন তবে খিলাফতের কাজ কি করে চলবে? সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তবে আমার পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণের জন্য আয়-রোজগার কিভাবে হবে? হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হযরত আবূ উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট চলুন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে ‘আমিনুল উম্মত’ লক্বব মুবারকে ভূষিত করেছেন। তিনি আপনার জন্য বায়তুল মাল হতে কিছু ভাতা ধার্য করে দিবেন। উনারা উভয়ে হযরত আবূ উবায়দা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট গেলেন। তিনি একজন মধ্যম শ্রেণীর মুহাজিরের সমপরিমাণ ভাতা উনার জন্য ঠিক করে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

(৪)

একদা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার নিকট কিছু মিষ্টি জিনিস খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি উহা বানানোর মতো কোনো ব্যবস্থা নেই- বলে জানালেন। কিন্তু তখন থেকে উনার আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা প্রতিদিনের খাবার হতে একটু একটু করে বাঁচিয়ে রেখে একদিন কিছু মিষ্টি খাবার তৈরি করেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে খেতে দেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে¡ আকবর আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, অভিজ্ঞতায় জানা গেল, এই পরিমাণ ভাতা আমরা বায়তুল মাল হতে বেশি নিয়ে থাকি। তারপর তিনি ওই পরিমাণ ভাতা কমিয়ে দিলেন। চিন্তা করার বিষয়, কি অপূর্ব পরহেযগারী! সুবহানাল্লাহ!

(৫)

পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্ব¡াহ আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, বায়তুল মালের যা কিছু আছে আমার বিছাল শরীফের পরে ওইসব পরবর্তী খলীফার নিকট জমা দিয়ে দিবেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর উনার নিকট কোনো টাকা-পয়সা ছিলো না। একটিমাত্র দুধওয়ালী উট, একটিমাত্র পেয়ালা এবং মাত্র একজন খাদিম ছিলো। অন্য বর্ণনায় আছে, মাত্র একটা রুমাল এবং একখানা বিছানাও ছিলো। সম্মানিত ইসলামী জাহানের প্রতাপশালী প্রথম খলীফা তিনি এই অতি সামান্য মাল-সামানা রেখে দুনিয়া হতে চির বিদায় নেন। সুবহানাল্লাহ!

-০-

ঘটনা থেকে শিক্ষা
সমস্ত সৃষ্টির রিযিকের জিম্মাদার স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি

বিষয়টি বুঝার জন্য বলা যেতে পারে, হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার ওয়াকেয়া। তিনি যখন কিস্তী তৈরী করছিলেন, কিস্তী প্রায় তৈরী হয়ে গেছে। চারটা তক্তা বাকী রয়ে গেছে, মাত্র চারটি তক্তা। খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের ৪ জনের নামে যথাক্রমে: সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম, হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের চারজনের নামে চারটি তক্তা বাকী রয়েছে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, “আপনি গিয়ে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনাকে বলেন, চারটা তক্তা নীল নদের মধ্যে রয়েছে, ওখান থেকে তুলে আনতে হবে, এনে লাগাতে হবে।”

কে তুলে আনবে? উনার ছেলেদেরকে বললেন, উনারা বললেন, কি করে সম্ভব আমাদের পক্ষে? আমরাতো পারবো না। এক পাহলোয়ান ছিল, তাকে বলা হলো- সে বললো, হ্যাঁ, আমি পারবো। তবে আমার একটা শর্ত রয়েছে। কি শর্ত? আমাকে পেট ভরে খাওয়াতে হবে।

হযরত নূহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, বেশ কোন অসুবিধা নেই। আমি তোমাকে খাওয়াব ইনশাআল্লাহ। তখন সে তুলে দিল। তিনি তাকে নিয়ে আসলেন, ঘরে এনে আটার তৈরী তিনটি রুটি তার সামনে পেশ করলেন। পেশ করে বললেন, তুমি খাও বিসমিল্লাহ বলে।

সে দেখে তো তাজ্জুব হয়ে বললো, হে হযরত নূহ আলাইহিস সালাম, আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করেন, মশকারী করেন? নাঊযুবিল্লাহ!

তিনি বললেন, কেন? আপনি বলেছেন, আমাকে পেট ভরে খাওয়াবেন। আমি প্রতিদিন বার হাজার রুটি খাই, আমার পেট ভরে না। আর আপনি তিনটা রুটি দিয়েছেন আমাকে, এতে আমার কি হবে?

তিনি বললেন, হে ব্যক্তি তুমি স্মরণ রেখ তোমার কথা। তোমার ওয়াদা তুমি স্মরণ রেখ। তোমার সাথে আমার ওয়াদা হয়েছে তোমার পেট ভরে দেয়া। সংখ্যা দিয়ে ওয়াদা হয়নি।

সে বললো, হুযূর! বেয়াদবী মাফ করবেন। সত্যিই ওয়াদা হয়েছে পেট ভরানো দিয়ে, সংখ্যা দিয়ে নয়। তিনি বললেন, তুমি বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করো।

সে খাওয়া শুরু করলো। মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত! সে দেড়টা রুটি খাওয়ামাত্র তার পেট ভরে গেল। সুবহানাল্লাহ!

সে বললো- আয় মহান আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত নূহ আলাইহিস সালাম! আজকে জীবনে প্রথম পেট ভরে আমি খাদ্য খেলাম, এর পূর্বে কোনদিন আমি পেট ভরে খেতে পারিনি, আমার সামর্থ্য হয়নি।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللهِ رِزْقُهَا

অর্থ: “যমীনে যত প্রাণী আছে তাদের সকলের রিযিকের জিম্মাদার মহান আল্লাহ পাক।” (পবিত্র সূরা হূদ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

হযরত হাতেম আসেম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি যখন বারবার এই আয়াত শরীফখানা ফিকির করলাম, ফিকির করে দেখলাম, সত্যিই রিযিকের জিম্মাদার তো মহান আল্লাহ পাক। মানুষ তো রিযিকের জিম্মাদার নয়। তখন আমি আমার রিযিকের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেলাম। যে, সত্যি কথাই রিযিকতো মহান আল্লাহ পাক তিনি দেবেন। তখন হযরত শাক্বীক্ব বলখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন যে, হে হযরত হাতেম আসেম রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি উত্তম মাসয়ালা শিক্ষা করেছেন।

উসমানীয় শাসনের প্রতি ভারতের মুসলমানদের আত্মত্যাগ এবং সিঙ্গাপুর গণহত্যার করুণ ইতিহাস


ভারতবর্ষে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশরা যখন তাদের ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করে তখন স্থানীয় মুসলিম যুবকরা শক্তিশালী ও কর্মঠ হওয়ায় তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বৃটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে বাধ্য করা হতো। যোগ না দিলে গোপনে হত্যা কিংবা পরিবারসহ উচ্ছেদ হতে হতো তাদের। তাই বাধ্য হয়েই তারা বৃটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতো।

সে সময় সিন্ধ, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে কিছু মুসলমানকে ব্রিটিশদের পঞ্চম পদাতিক বাহিনীতে যোগ করা হয়। তাদের সবারই ভারতের ভেতরেই দায়িত্ব পড়ার কথা ছিলো। কিন্তু ১৯১৪ সালের ১০ অক্টোবর হঠাৎ করেই পঞ্চম পদাদিক সেনাদের জাহাজে করে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। তাদের সিঙ্গাপুরের আলেকজান্দ্রিয়া ব্যারাকে রাখা হয়।

সেখানে যাওয়ার পরেই, এই মুসলিম সিপাহীদের দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত পরিশ্রম করানো হয়। অধিকাংশ মুসলিম সেনার কয়েক মাসের খাটুনিতে শরীরের অবনতি হয়, দায়িত্বরত ব্রিটিশ অফিসার বিদ্বেষবশত এগুলো তোয়াক্কা না করে মুসলিম সেনাদের আরও বেশি কাজ করিয়ে নিতো। পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস আসলে মুসলমান সেনারা রোযা রাখতেন। তখন ব্রিটিশরা উনাদের দিয়ে আরো বেশি কাজ করিয়ে নিতো। যাতে উনারা রোযা রাখতে না পারেন। এছাড়া, সিঙ্গাপুরে স্বল্প পয়সায় মুসলিম সেনারা নিজেদের কাছে থাকা ইন্ডিয়ান রুপি সিঙ্গাপুরের ডলারের তুলনায় দাম অনেক কম হওয়ায় নিজেরাও খাবার বাইরে থেকে কিনে খাবার মতো অবস্থা ছিলো না।

সে সময় আমেরিকায় অবস্থান করা ভারতীয় মুসলিমরা ব্রিটিশবিরোধী বিভিন্ন লেখা পুরো দুনিয়ায় গোপনে বিভিন্ন জাহাজে করে ছড়িয়ে দিতেন। এরকম কিছু কাগজ গোপনে সিঙ্গাপুর পোর্ট মুসলিম সেনাদের কাছে এসে পৌঁছে। এই কাগজে তৎকালীন একমাত্র মুসলিম শাসন উসমানীয় সালতানাতের বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্র আর মিশর থেকে তুরস্কে আক্রমণের পরিকল্পনার কথা লেখা ছিলো। এটি শোনার পর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মুসলিম সেনারা। সেখানকার দায়িত্বরত ব্রিটিশ কর্মকর্তা হঠাৎই ঘোষণা করে যে, পঞ্চম পদাতিক বাহিনীর মুসলিম সেনাদের হংকং নিয়ে যাওয়া হবে।

কিন্তু পঞ্চম পদাতিক বাহিনীতে থাকা সুবেদার খান, জেমিদার আলী খান আর চিশতী খান গোপন সংবাদ মারফত শুনতে পান, তাদেরকে আসলে তুরস্কে পাঠানো হবে উসমানীয় সালতানাতের মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। তৎক্ষনাৎ উনারা ব্যারাকে ফিরে গিয়ে সব মুসলমান সেনাকে নিয়ে বিদ্রোহ করার প্রস্তুতি নেন। মুসলমান সেনারা অপেক্ষা করছিলেন যে, আসলেই কি তাদের উসমানীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাঠানো হবে কি-না?

১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯১৫ সাল। সকালের প্যারেডে ব্রিটিশ অফিসার তাদের বলে আজই তাদের জাহাজে করে ট্রান্সফার করা হবে। তখন মুসলিম সেনাদের একজন কমান্ডার ব্রিটিশ অফিসারকে জিজ্ঞাসা করে যে, তাদেরকে কি হংকং নিয়ে যাওয়া হবে কিনা। কিন্তু এর কোনো জবাব আসে না। মুসলমান সেনাদের আর কোনো কিছু বোঝার বাকি থাকে না, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিকাল ৩টা ৩০ মিনিট, বন্দরের জেটিতে জাহাজ এসে পৌঁছেছে। ব্যারাকের যেখানে অস্ত্র রাখা হয় সেখানে ঢুকে মুসলিম সেনারা হাতে অস্ত্র নেয় এবং খোলা আকাশের দিকে লক্ষ্য করে একটা গুলি করে। অন্যসব সিপাহী তখন বিদ্রোহ শুরু করে। ৩ দিন ধরে চলা এই বিদ্রোহে ৪৬ জন ব্রিটিশ মারা যায় এবং সিঙ্গাপুর মুসলমান সেনাদের দখলে চলে যায়।

এ পরিস্থিতি দেখে রাশিয়া ও ফ্রান্স ব্রিটিশদের সহযোগীতায় সেনা পাঠায়। বীর বিক্রমে যুদ্ধ করতে করতে মুসলমান সেনারা সবাই বন্দি হন। বন্দি করার পর ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯১৫ সালে আলেকজান্দ্রিয়া পার্কে ৫০০ মুসলিম সেনাকে গুলি করে নির্মমভাবে শহীদ করা হয়। এই নির্মম হত্যাকান্ডে ব্রিটিশদের পাশাপাশি ইউরোপীয়ান সাধারণ নাগরিকরাও অংশ নিয়েছিলো। তারা এটিকে বন্দুক চালানোর প্রশিক্ষণ আখ্যায়িত করেছিলো। নাউযুবিল্লাহ!

উল্লেখ্য, শহীদ হওয়া মুসলিম সিপাহীরা কেউই দূরদেশে থাকা উসমানীয় সালতানাতের মুসলিমদের কখনও দেখেওনি, তাদের সঙ্গে জাতি, গোত্র, ভাষা কোনো কিছুরই মিল ছিলো না। কিন্তু তাদের ভেতর ছিলো মুসলিম উম্মাহ, মুসলিম শাসন এবং সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি অগাধ ভালোবাসা।