https://portablepowerstations.info/

Portable Power Station Reviews, Comparisons & Buying Guides
portablepowerstations.info

Portable Power Station Reviews, Comparisons & Buying Guides

Compare portable power stations by capacity, output, and price. Real-world reviews and buying guidance for camping, home backup, and emergencies.

https://advertisingspire.com/

Advertising Spire | Strategize. Optimize. Scale Amazon Brands
advertisingspire.com

Advertising Spire | Strategize. Optimize. Scale Amazon Brands

Boost your Amazon sales with expert PPC management, deep audits, and profit-focused strategies. Reduce TACoS and scale faster.

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَللهَ اللهَ فِى أَصْحَابِى اللهَ اللهَ فِى أَصْحَابِى لاَ تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا بَعْدِى فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّى أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِى أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِى وَمَنْ آذَانِى فَقَدْ آذَى اللهَ وَمَنْ آذَى اللهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ

অর্থ: আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো, আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। আমার বিছাল শরীফ উনার পরে উনাদেরকে তোমরা তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল করোনা। যে ব্যক্তি উনাদেরকে মহব্বত করলো, সে আমাকে মহব্বত করার কারণেই মহব্বত করলো, আর যে ব্যক্তি উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো, সে আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করার কারণেই তা করলো। যে ব্যক্তি উনাদেরকে কষ্ট দিল, সে মুলতঃ আমাকেই কষ্ট দিল, আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে মূলত মহান আল্লাহ পাক উনাকেই কষ্ট দিল, আর যে মহান আল্লাহ পাক উনাকে কষ্ট দিল, মহান আল্লাহ পাক তিনি শীঘ্রই তাকে পাকড়াও করবেন।” (তিরমিযী শরীফ)

মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (১)
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
মহিলাদের জামায়াতের জন্য মসজিদে ও ঈদগাহে যাওয়া হারাম ও কুফরী (১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন,

اُدْخُلُوْا فِى السِّلْمِ كَافَّةً

অর্থ : তোমরা পরিপূর্ণভাবে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে প্রবেশ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ২০৮)

আর সম্মানিত দ্বীন ইসলাম সর্বোতভাবেই নিন্মোক্ত চারটি উছূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেগুলোর বাইরে দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে কোন বিষয়ই গ্রহণযোগ্য নয়। আর তাহলো- যেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়,

اُصُوْلُ الشَّرْعِ ثَلَاثَةٌ اَلْقُرْاٰنَ الشَّرِيْفُ وَالْـحَدِيْثُ الشَّرِيْفُ وَالْاِجْـمَاعُ وَرَابِعُهَا الْقِيَاسُ

অর্থ : সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দলীল মোট চারটি (১) পবিত্র কুরআন শরীফ (২) পবিত্র হাদীছ শরীফ (৩) পবিত্র ইজমা শরীফ ও (৪) পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ। সুবহানাল্লাহ! (নূরুল আনওয়ার, উছূলুশ শাশী)

আমাদের সমাজের কিছু নামধারী তথাকথিত ইসলামী চিন্তাবিদ হিসাবে পরিচয় দানকারী ব্যক্তিবর্গ নিজেদেরকে সুন্নী অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসারী দাবী করা সত্ত্বেও দুনিয়াবী স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কয়েকটি পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের ও কয়েকটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ভুল, মনগড়া, বিভ্রান্তিমূলক অপব্যাখ্যা করে সরলপ্রাণ মুসলমান উনাদের মধ্যে ফিৎনার সৃষ্টি করছে এবং মসজিদে পুরুষের সাথে সাথে মহিলাদের জামায়াত কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার আম ফতওয়া মুতাবিক সম্পূর্ণরূপে মাকরূহ্ তাহরীমী আর খাছ ফতওয়া মুতাবিক হারাম ও কুফরী।

প্রকাশ থাকে যে, মহিলাদের জন্য স্বীয় ঘর বা বাড়ীর বাইরে বের হওয়াটা আমভাবেই নিষেধ। তাদেরকে ঘর-বাড়ীতে অবস্থান করার জন্য আদেশ মুবারক করা হয়েছে।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَقَرْنَ فِىْ بُيُوْتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْـجَاهِلِيَّةِ الْاُوْلٰى

অর্থ : মহিলারা তোমরা তোমাদের ঘরে বা বাড়ির মধ্যে অবস্থান করো এবং তোমরা জাহিলী যুগের মহিলাদের মতো বেপর্দাভাবে বাইরে বের হয়ো না। (পবিত্র সূরা আহযাব : আয়াত শরীফ ৩৩)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা মুসলমান মহিলাদেরকে সাধারণতঃ ঘর-বাড়ী থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

জানা আবশ্যক, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার শুরুতে মহিলাদের জন্য নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়াটা মুবাহ ছিল। যেমন এ সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুাবরক করেন-

لَا تَـمْنَعُوْا اِمَاءَ اللهِ مَسَاجِدَ اللهِ وَلْيَخْرُجْنَ اِذَا خَرَجْنَ تَفِلَاتٍ اَيْ غَيْرِ مُتَطَيِّبَاتٍ

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দীদেরকে মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে তোমরা নিষেধ করো না, তবে তারা সুগন্ধি ব্যবহার করা ব্যতীত সাধারণভাবে যদি যায়, যেতে পারবে। (মুহীতুল বুরহানী, শুবহাতুল ওয়ারদূদ ইত্যাদি)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনার পর ফিতনার আশঙ্কায় মহিলাদেরকে নামাযের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِيْنَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِيْنَ

অর্থ : আর আমি অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের সম্পর্কেও জানি এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরবর্তীদের সম্পর্কেও জানি। (পবিত্র সূরা হিজর : আয়াত শরীফ ২৪)

উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফখানা (মুসলমান) মহিলাদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। নাযিল হওয়ার কারণ স্বরূপ বলা হয়, যখন মুনাফিকরা নামাযের জামায়াতে আসা মহিলাদের দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করতে শুরু করে দিল তখনই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মসজিদে না আসার জন্য উনাদেরকে উৎসাহ প্রদান করতঃ ইরশাদ মুবারক করেছেন।



-আল্লামা মুফতী শুয়াইব আহমদ।

পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা

পর্দা পালন করা সম্পর্কে বহু আয়াত শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে। যেমন আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قُلْ لِّلْمُؤْمِنِيْنَ يَغُضُّوْا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوْا فُرُوْجَهُمْ ۚ ذٰلِكَ أَزْكٰى لَهُمْ ۗ اِنَّ اللهَ خَبِيْرٌ بِمَا يَصْنَعُوْنَ‎. وَقُلْ لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوْجَهُنَّ وَلَا يُبْدِيْنَ زِيْنَتَهُنَّ.

অর্থ: (আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি মু’মিন পুরুষদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে। এটা তাদের জন্য পবিত্রতার কারণ। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তারা যা করে তার খবর রাখেন। আর আপনি মু’মিনা নারীদেরকে বলুন, তারাও যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের ইজ্জত-আবরু হিফাযত করে ও তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। (পবিত্র সূরা নূর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং- ৩০, ৩১)

সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৫)
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৫)
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ফুটবল-ক্রিকেটসহ সমস্ত খেলাধুলাই হারাম। মাঠে গিয়ে হোক আর টিভিতে হোক সর্বাবস্থায়ই খেলা দেখা হারাম ও কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিখ্যাত কিতাব, মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كُلُّ لَعِبٍ حَرَامٌ اِلَّا ثَلَاثٍ: مُلَاعَبَةُ الرَّجُلِ أَهْلَهُ وَرَمْيُهُ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبُهُ فَرَسَهُ

“সর্বপ্রকার খেলা নিষিদ্ধ তিনটি বিষয় ব্যতীত- যা খেলার অন্তর্ভুক্ত নয়। (১) নিজ আহলিয়া বা স্ত্রীর সাথে শরীয়তসম্মত হাসি-খুশী করা। (২) তীর ধনুক চালনা করা। (৩) অশ্বকে প্রশিক্ষণ দান করা।

“আবু দাউদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ্ শরীফ” ইত্যাদি পবিত্র হাদীছ শরীফের কিতাবেও হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। তবে শব্দের কিছু তারতম্য রয়েছে।

কাজেই, খেলাধুলার ফিতনা থেকে ঈমান-আমল হিফাজত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ-ওয়াজিব।

(ধারাবাহিক)



বিশ্বকাপ ট্রফিও বিধর্মীদের প্রবর্তন। যা দ্বারা মূর্তির প্রচলন করা হয় :



বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য ২টি ট্রফি নির্মিত হয়, জুলেরিমে ও ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি। বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নাম ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি। জুলেরিমে ট্রফি নামকরণ করা হয় ফিফা’র প্রবর্তক জুলে রিমের নামানুসারে। এর নির্মাণ শৈলী ভাস্কর্যের প্রতীক মাথার উপর দু’হাত উচিয়ে বিজয়ের উল্লাসিত বিজয়ের দেবী এক পরী।

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয়। এই কাপের ডিজাইনার হচ্ছে ইতালির ভাস্কর শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৮ ক্যারেটের ৪.৯৭ কেজি ওজনের স্বর্ণের কাপটি ৩৬ সে.মি. লম্বা, যাতে দু’জন অ্যথেলেট পিঠাপিঠি করে ধরে আছে তাদের উপর গোটা বিশ্বকে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ উচ্চারণ হচ্ছে ‘দু’টো মূর্তির হাতের উপর বিশ্ব’- এরকম ধারণাকে আওড়ানো যা কিনা মূর্তি সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়ার নামান্তর।

অর্থাৎ বিশ্বকাপ ট্রফি দুইজন মানুষের একটি মূর্তি। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, মূর্তি চাওয়া, মূর্তি নিয়ে খুশি করা, মূর্তি বহন করা, মূর্তির ছবি বহন করা, মূর্তি দেখা, মূর্তি রাখা, মূর্তি ক্রয়-বিক্রয় করা সবই হারাম, নাজায়িয, কুফরী এবং শিরক। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ

অর্থ: তোমরা মূর্তির পবিত্রতা হতে মুক্ত থাকো। (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ ৩০)

কাজেই, মূর্তি হতে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্যই ফরয।

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি হচ্ছে ‘দু’টো মূর্তির হাতের উপর বিশ্ব’- এ রকম ধারণাকে আওড়ানো যা কিনা মূর্তি সংস্কৃতিকে স্বীকৃতি দেয়ার নামান্তর। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ট্রফি দুইজন মানুষের একটি মূর্তি। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, মূর্তি চাওয়া, মূর্তি নিয়ে খুশি করা, মূর্তি বহন করা, মূর্তির ছবি বহন করা, মূর্তি দেখা, মূর্তি রাখা, মূর্তি ক্রয়-বিক্রয় করা সবই হারাম ,নাজায়িয, কুফরী এবং শিরক। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رُسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ مُصَوِّرٍ فِى النَّارِ.

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক ছুরতদানকারী তা ছবি হতে পারে, মূর্তিও হতে পারে সে জাহান্নামী অর্থাৎ “প্রত্যেক ছবি তুলনেওয়ালা জাহান্নামী এবং প্রত্যেক মূর্তি তৈরীকারীও জাহান্নামী। নাঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ مُعَاوِيَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ إِنَّ مِنْ أَشَدِّ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَذَابًا الْمُصَوِّرُونَ

অর্থ: হযরত আবূ মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, “নিশ্চয় ক্বিয়ামতের দিন দোযখবাসীদের মধ্যে ঐ ব্যক্তির কঠিন আযাব হবে, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি আঁকে বা তোলে বা মূর্তি তৈরী করে। (মুসলিম শরীফ ২য় খন্ড পৃঃ ২০১)

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هٰذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يُقَالُ لَهُمْ أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যারা প্রাণীর ছবি তৈরি করবে বা মূর্তি তৈরী করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। এবং তাদেরকে বলা হবে, যে ছবিগুলো বা মূর্তিগুলি যা তোমরা তৈরি করেছ, সেগুলোর মধ্যে প্রাণ দান করো। (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ৮৮০, মুসলিম শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ২০১)

পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ مُسْلِمٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ مَسْرُوقٍ فِي دَارِ يَسَارِ بْنِ نُمَيْرٍ فَرَأَى فِي صُفَّتِهِ تَمَاثِيلَ فَقَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الله قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللهِ الْمُصَوِّرُونَ.

অর্থ: হযরত আ’মাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হযরত মুসলিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি মাসরূক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইরের ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনহু উনার নিকট শুনেছি, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয় মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে বা মূর্তি তৈরী করে। (বুখারী শরীফ ২য় খন্ড, পৃঃ৮৮০)

আক্বাঈদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত
আক্বাঈদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত
, ২১ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৫ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৮ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আক্বায়িদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত
আক্বাঈদে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত
৭৬. প্রসঙ্গ : আযীযুল হককে ‘হদস’ আমীনীকে ‘কমিনী’ ও মুহিউদ্দীনকে ‘মাহিউদ্দীন’ বলা দলীলসম্মত

বাতিলপন্থীদের বক্তব্য : তারা বলে থাকে যে, কারো নাম পরিবর্তন করে ‘খারাপ’ নামে সম্বোধন করা জায়িয নেই।

দ্বীন ইসলাম উনার ফতওয়া : সকলেরই জানা যে, আবূ জাহিলের প্রকৃত নাম ছিল আমর বিন হিশাম। তার দুনিয়াবী প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার কারণে তাকে ‘আবুল হিকাম তথা জ্ঞানের পিতা’ উপাধি দেয়া হয়। কিন্তু সত্যকে প্রত্যাখান করায় আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার উপাধি ‘আবূল হিকাম’কে পরিবর্তন করে নতুন উপাধি দিয়েছিলেন ‘আবূ জাহিল’ অর্থাৎ মুর্খের পিতা।

এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, কোন ভাল উপাধিধারী ব্যক্তিও যদি হক্বের বিরোধিতা করে এবং না হক্ব কাজে মশগুল থাকে, তবে তার ভাল উপাধি পরিবর্তন করে ‘খারাপ’ উপাধি প্রদান করা ‘সুন্নতে রসূল’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আযীযুল হক, আমিনী ও মুহিউদ্দীন যেহেতু অনবরত হক্বের বিরোধিতা করছে এবং প্রকাশ্যে নাহক্ব বা শরীয়ত বিরোধী কাজে মশগুল রয়েছে যেমন, ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, হরতাল করা, গণতন্ত্র করা, কুশপুত্তলিকাদাহ করা ইত্যাদি। তাই তাদের ভাল উপাধি বা নাম পরিবর্তন করে ‘শাইখুল হদছ’, ‘মাহিউদ্দীন’ ও ‘কমিনী’ উপাধি বা নাম প্রদান করাতে সুন্নত আদায় হয়েছে।

[এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৯৭তম সংখ্যা পাঠ করুন।]

[দলীলসমূহ : মাযহারী, ইবনে কাছীর, তাবারী, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত, কাযীখান, দুররুল মুখতার, ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন, কিমিয়ায়ে সায়াদাত, ফতওয়ায়ে আমীনিয়া, শরহে আক্বাইদে নছফী, তাকমীলুল ঈমান ইত্যাদি।]

৭৭. প্রসঙ্গ : উসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর ও সাদ্দাম মুনাফিক ও সি.আই.-এর এজেন্ট

বাতিলপন্থীদের বক্তব্য : তারা উসামা বিন লাদেন, মোল্লা উমর ও সাদ্দাম হোসেনকে ওলীআল্লাহ, মর্দে মু’মিন, আমীরুল মু’মিনীন ইত্যাদি মনে করে থাকে। নাঊযুবিল্লাহ!

দ্বীন ইসলাম উনার ফতওয়া : অথচ উসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর, সাদ্দামসহ মধ্য প্রাচ্যের অনেক রাজা-বাদশাই সি.আই.এর এজেন্ট বা আমেরিকার দালাল এবং চরম মুনাফিক। তারা আমেরিকার টাকা খেয়ে গোপনে এবং কুটকৌশলে মুসলমানের ছদ্মাবরণে ইসলাম ও মুসলমানদের একের পর এক ক্ষতি করে যাচ্ছে। তাই তাদেরকে সমর্থন করা, তাদের জন্যে দোয়া করা এবং তাদের প্রসংসা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়িয নেই। কেননা তারা চরম মুনাফিক, ফাসিক ও মিথ্যাবাদী।

[এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১০৫তম সংখ্যা পাঠ করুন।]

[দলীলসমূহ : মাযহারী, তাবারী, ইবনে কাছীর, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত, মসনবী শরীফ, প্রটোকল ও দৈনিক পত্রিকাসমূহ ইত্যাদি]

পরিশিষ্ট

উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও অনুরূপ আরো অনেক মাসয়ালা-মাসায়িলের ক্ষেত্রেই তারা ভুল আক্বীদা পোষণ করে শরীয়ত বিরোধী মনগড়া সিদ্ধান্ত পেশ করে থাকে। বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ‘মাসিক আল বাইয়্যিনাত’-এ বাতিলপন্থীদের সকল ভুল মাসয়ালাগুলোর সঠিক ফায়ছালা দলীলের মাধ্যমে তুলে ধরেন মানুষের আক্বীদা ও আমলকে হিফাযত করার অনিবার্য প্রয়োজনে। কিন্তু তারা তা খ-ন করতে না পেরে ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থে রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাহক্ব বিরোধিতা করে এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার করে থাকে। অথচ তাদেরকে বহুবার বলা হয়েছে যে, তোমরা প্রকাশ্য ময়দানে জনসম্মুখে আমাদের সাথে আলোচনায় বসো। তোমাদের আক্বীদা ও আমলের দলীল পেশ করো। আমাদের আক্বীদা আমলের দলীলও আমরা জনগণের সামনে পেশ করবো। (ইনশাআল্লাহ) আর তখনই জনগণ জানতে পারবে যে, কে হক্ব আর কে নাহক্ব। অথচ তারা আমাদের সে আহবানে কখনোই সাড়া দেয় না।

আমরা এখনো বলছি, পৃথিবীর যে কোন স্থানে শর্ত-শারায়িত মুতাবিক যে কোন বিষয়ে বাহাছ করতে প্রস্তুত আছি। (ইনশাআল্লাহ)

আক্বাঈদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত
, ২৮ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২২ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ০৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) আক্বায়িদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত
আক্বাঈদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)



প্রকাশ্য বাহাছের চ্যালেঞ্জ

রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইসলাম উনার সকল বিষয়েই আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত তথা কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস সম্মত আক্বীদা পোষণ করেন এবং আমল করে থাকেন। যারা রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় এবং উনার আক্বীদা-আমল সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে থাকে তাদের প্রতি-

রাজারবাগ শরীফ-এর তরফ থেকে শর্ত সাপেক্ষে

প্রকাশ্য বাহাছ ও চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করা হচ্ছে

প্রাথমিক শর্তসমূহ : (১) বাহাছ প্রকাশ্য ও সুবিধাজনক স্থানে ব্যাপক প্রচার-প্রসার করে নির্দিষ্ট সময়ে হতে হবে। (২) বাহাছের দু’ মাস পূর্বে চুক্তিনামায় আবদ্ধ হতে হবে। (৩) নিরপেক্ষ লোকের তত্ত্বাবধানে বাহাছ অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখতে হবে। (৪) বাহাছের মানদ- হবে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস। (৫) বিরোধীপক্ষের আক্বীদা ও আমলের দলীলও পেশ করতে হবে। (৬) বাহাছের বিষয়সমূহের ব্যাপারে বাহাছের পনের দিন পূর্বে প্রত্যেককেই তার বিপরীতপক্ষের কাছে দলীল ভিত্তিক লিখিত ফায়ছালা পেশ করতে হবে এবং যারা বাহাছে অংশগ্রহণ করবে তারা স্বয়ং নিজ হাতে তাতে স্বাক্ষর করবে। (৭) বাহাছের অন্যান্য শর্তসমূহ উভয়পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে নির্ধারিত হবে।

উল্লেখ্য, রাজারবাগ শরীফ-এর বিরোধীরা অপপ্রচার করে থাকে যে, “রাজারবাগপন্থীদের বাহাছের জন্য আহবান করা হয়, কিন্তু তারা সাড়া দেয় না। ” তাদের এ কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং রাজারবাগ শরীফ-এর পক্ষ থেকেই মাহ্ফিলসমূহে প্রকাশ্যে এবং পত্রিকার অনেক সংখ্যাতেই তাদেরকে বাহাছের আহবান জানানো হয়েছে ও হচ্ছে। অথচ তারাই সে আহবানে সাড়া দেয়নি ও দিচ্ছেনা। সাড়া দিবে বলেও আমরা মনে করিনা। কারণ বাতিল ও নাহক্ব পন্থীদের লম্ফ-ঝম্ফ কেবল নির্ধারিত বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। হক্বপন্থীদের সামনে আসতে তাদের চিরকালের ভয়।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪৮)
, ১৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৯ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৮ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১২৩ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৪৮)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় রহমত এবং সন্তুষ্টি মুবারক উনার আওতাভুক্ত করে নেন

সুলত্বানুল আরিফীন ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার লিখিত কিতাব ‘আল ওয়াসায়িল ফী শরহিশ শামায়িল’ উনার মধ্যে বলেন,

مَا مِنْ بَيْتٍ اَوْ مَسْجِدٍ اَوْ مَحَلَّةٍ قُرِئَ فِيْهِ مَوْلِدُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلَّا حَفَّتِ الْمَلٰئِكَةُ ذٰلِكَ الْبَيْتَ اَوِ الْمَسْجِدَ اَوِ الْمَحَلَّةَ وَصَلَّتِ الْمَلٰئِكَةُ عَلٰى اَهْلِ ذٰلِكَ الْمَكَانِ وَعَمَّهُمُ اللهُ تَعَالٰى بِالرَّحْمَةِ وَالرِّضْوَانِ وَاَمَّا الْمُطَوَقُّوْنَ بِالنُّوْرِ يَعْنِىْ حَضْرَتْ جِبْرَائِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ مِيْكَائِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اِسْرَافِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ عَزْرَائِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَاِنَّهُمْ يُصَلُّوْنَ عَلٰى مَنْ كَانَ سَبَبًا لِقَرَائَةِ مَوْلِدِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “যেকোনো বাড়িতে বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক-এ অথবা মহল্লায় পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা হলে বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা হলে, অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সেই বাড়ি বা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক অথবা মহল্লা বেষ্টন করে নেন। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে স্বীয় রহমত এবং সন্তুষ্টি মুবারক উনার আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেশতা অর্থাৎ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত মীকাঈল আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম তিনি এবং হযরত আযরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠকারী উনাদের উপর অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনকারী উনাদের উপর পবিত্র ছলাত-সালাম পাঠ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা, ইয়ানাতুত্ ত্বালিবীন ৩/৪১৫, আল ওয়াসায়িল ফী শরহিশ শামায়িল)

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আবূ আহমাদ ছিদ্দীক্বাহ্।

সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২৩ লাখ কোটি টাকা
ঋণের টাকা ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বিদেশী ঋণ নির্ভরতা থেকে
সরকারকে তওবা করতে হবে
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সম্পাদকীয়
ঋণের টাকা ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে বিদেশী ঋণ নির্ভরতা থেকে
সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এই বিশাল ব্যয় মেলাতে গিয়ে সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস (ব্যাংক ও অন্যান্য খাত) থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস (ঋণ ও অনুদান) থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এ পটভূমিতে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের জন্য রাজস্ব আয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অভিজ্ঞমহলের কাছে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মনে হচ্ছে।

বিদ্যমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট এবং ঋণ পাওয়ার কঠিন শর্তের মধ্যে এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করাকে বড় বিপদের কারণ মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর (যেমন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইএমএফ) ঋণ অনুমোদনের পর তা ছাড় করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি একটি বড় বাধা। বর্তমান সময়ে যেকোনো বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কারের কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বেশ জটিল।

বিদেশি ঋণ কাক্সিক্ষত মাত্রায় না পেলে সরকারকে বাধ্য হয়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতি মেটাতে হয়। কিন্তু ঘাটতি মেটাতে গিয়ে সরকার যদি ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অংকের ঋণ নেয়, তবে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যাবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে। এর চেয়েও বড় শঙ্কা হলো, সরকার নিজেই যদি ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়ে নেয়, তবে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়বে। যা দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের গতিকে স্থবির করে দিতে পারে।

প্রসঙ্গত আমরা সরকারকে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা নিয়ে সতর্ক করতে চাই। ঋণনির্ভরতা বাড়লে সুদ পরিশোধের চাপও ক্রমাগত বাড়বে, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ কোটি টাকার বেশি।

গত তিন অর্থবছরের বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে ২৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা ঋণ করতে হয়েছে। চলতি অর্থবছরেও প্রায় ১৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা ঋণ শোধ করতে হবে। বাজেটের দলিলে শুধু সুদ খরচের বরাদ্দ দেখানো হয়। বিদেশি ঋণের আসলের বড় অংশ ঋণ করে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ডিএসএ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঋণ-রফতানি অনুপাত ১৬২ শতাংশ, যা নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে। ঋণ-রাজস্ব অনুপাত দ্রুত বাড়ছে, রফতানিতে সংশোধিত নিম্নমুখী তথ্য ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ বর্তমানে মধ্যম আয়, উচ্চ উন্নয়ন ব্যয় এবং দুর্বল রাজস্ব কাঠামোর একটি জটিল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। এ অবস্থায় রাজস্ব, রফতানি, রেমিট্যান্স না বাড়লে, নতুন ঋণ বাছাইয়ে সতর্কতা না এলে, সামনের দিনগুলোতে দেশের ঋণচাপ আরও বাড়বে।

এখনই যদি রাজস্ব সংস্কার, প্রকল্প বাছাইয়ের কঠোরতা, ঋণ গ্রহণের তৎপরতা বন্ধ এবং রফতানি বৃদ্ধির উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তাহলে ঋণ-সুদ পরিশোধই আগামী বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করতে হবে।

সঙ্গত কারণেই ঋণ করে ঘি খাওয়ার এই প্রবণতা থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।।

ছহিবে সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্র্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। আমীন।