এত্ত সহজ না ভাই!!!!

الديوث لا يدخل الجنة
আদ্দাইয়ুছু লা ইয়াদখুলুল জান্নাহ
অর্থ: দাইয়ুছ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

এই হাদীছ শরীফখানা এত কঠিন যে, সরাসরি জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

দাইয়ুছ কাকে বলে?

হাদীছ শরীফের ভাষ্য অনুযায়ী দাইয়ুছ বলা হয় ঐ ব্যক্তিকে যার মধ্যে গায়রত নেই। অর্থাৎ,

> الَّذِي يُقِرُّ فِي أَهْلِهِ الْخُبْثَ
> যে তার আহলিয়া - স্ত্রী, মেয়ে, বোন, মা উনাদের মধ্যে বেপর্দা, বেহায়াপনা, অশ্লীলতা দেখেও চুপ থাকে, বাধা দেয় না, বরং মেনে নেয়।

গায়রত হলো ঈমানের একটি শাখা। যার গায়রত নেই, তার ঈমানই পরিপূর্ণ নয়।

কিভাবে একজন পুরুষ দাইয়ুছ হয়ে যায়? এর কিছু বাস্তব উদাহরণ

১. বেপর্দার ক্ষেত্রে দাইয়ুছ নিজের স্ত্রী, বালেগা মেয়ে, বোন উনারা টাইট-ফিট, বেপর্দা, সেজে-গুজে বাইরে যাচ্ছেন, পরপুরুষের সাথে হাসি-ঠাট্টা করছেন, ছবি ফেসবুকে দিচ্ছেন, আর স্বামী/পিতা দেখেও আনন্দিত হচ্ছে বা কিছুই বলছে না - এই ব্যক্তিই দাইয়ুছ।

২. হারাম সম্পর্ক মেনে নেওয়া নিজের পরিবারের মধ্যে অবৈধ প্রেম, হারাম রিলেশন, মোবাইলে পরপুরুষের সাথে কথা বলা জানার পরও বলে - "এই বয়সে একটু-আধটু হয়" - এমন ব্যক্তি দাইয়ুছ।

৩. ঘরে গান-বাদ্য, টিভি-সিনেমার আসর নিজের ঘরে প্রতিদিন টিভিতে বেপর্দা নারী, গান-বাজনা চলছে, পরিবারের সবাই একসাথে দেখছে, আর কর্তা ব্যক্তি বাধা না দিয়ে একসাথে বসে আছে - সেও দাইয়ুছের অন্তর্ভুক্ত।

৪. স্ত্রীকে দিয়ে চাকরী করিয়ে পরপুরুষের খিদমত করানো নিজের স্ত্রীকে বেপর্দা অবস্থায় পরপুরুষের সামনে চাকরী করতে পাঠানো এবং তার রোজগারে খুশি থাকা - এটাও গায়রতহীনতা।

কেন এত কঠিন শাস্তি?

কারণ মহান আল্লাহ পাক পুরুষকে পরিবারের
ক্বাওয়াম বা অভিভাবক বানিয়েছেন।

>
اَلرِّجَالُ قَوَّامُوْنَ عَلَى النِّسَاءِ
> "পুরুষগণ মহিলাদের উপর কর্তৃত্বশীল।" [সূরা নিসা: ৩৪]

তাই তার দায়িত্ব হলো তার অধীনস্থদেরকে পর্দা, ইজ্জত, দ্বীনদারীর মধ্যে রাখা। এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে সে আল্লাহ পাক উনার কাছে খিয়ানতকারী হিসেবে গণ্য হবে।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
>
كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ*
> "তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।" [বুখারী শরীফ]

তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজ পরিবারের ব্যাপারে গায়রতওয়ালা হই। আমাদের মা-বোন, স্ত্রী-কন্যা উনাদেরকে পর্দা ও ইজ্জতের সাথে রাখার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে দাইয়ুছ হওয়া থেকে হিফাযত করুন। আমীন।

"মোবাইল ফোন জাতিকে ধ্বংস করে জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে" - এই বাক্যের হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা

এই বাক্যটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে একটি যন্ত্রের কথা বলা হলেও, এর হাক্বীক্বত হলো মোবাইল ফোনের
অপব্যবহার। মোবাইল নিজে হারাম নয়, কিন্তু এর বেপরোয়া ব্যবহার আজ উম্মতকে যেভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিম্নে পেশ করা হলো:

১. ঈমান ও আমল ধ্বংসকারী
হাদীছ শরীফে আছে, اَلنَّظْرَةُ سَهْمٌ مِنْ سِهَامِ إِبْلِيسَ - দৃষ্টি হলো ইবলীসের বিষাক্ত তীর। মোবাইলের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি, ভিডিও, নাটক-সিনেমা, বেপর্দা দেখা অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। একবার এই নেশায় পড়লে অন্তর মরে যায়, চোখের পানি শুকিয়ে যায়, নামাযে মন বসে না, কুরআন শরীফ তিলাওয়াতে স্বাদ থাকে না। এভাবে বান্দা ধীরে ধীরে জাহান্নামের পথে চলে যায়।

২. সময় ও যৌবন ধ্বংসকারী
মহান আল্লাহ পাক তিনি সময়ের কসম খেয়েছেন -
وَالْعَصْرِ। কিয়ামতের দিন যৌবন ও সময়ের হিসাব দিতে হবে। অথচ আজকের যুব সমাজ ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, গেমস, চ্যাটিংয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করছে। যে সময়টা ইলম অর্জন, ইবাদত ও খিদমতে ব্যয় হওয়ার কথা ছিল, সেটা মোবাইলের স্ক্রিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

৩. পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন ধ্বংসকারী
আগে এক পরিবারের মানুষ একসাথে গল্প করতো। এখন একই ঘরে সবাই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত। পিতা-মাতার খিদমত, স্ত্রীর হক্ব, সন্তানের তারবিয়াত সব নষ্ট হচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরকীয়া, সন্দেহ, তালাকের মূল কারণ এখন এই মোবাইল। সমাজ থেকে লজ্জা-শরম, আদব-আখলাক উঠে যাচ্ছে।

৪. ইলম ও মেধা ধ্বংসকারী
ছাত্রদের পড়াশোনার সবচেয়ে বড় শত্রু এখন মোবাইল। রাত জেগে মোবাইল চালিয়ে সকালে ফজর কাজা, ক্লাসে ঘুম। স্মৃতিশক্তি নষ্ট হচ্ছে, চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একটি জাতি তখনই ধ্বংস হয়, যখন তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অজ্ঞ ও অলস হয়ে যায়।

৫. হারামের দ্বার উন্মুক্তকারী
মোবাইলের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই সুদ, জুয়া, অনলাইন লটারি, গীবত-চোগলখোরী, মিথ্যা ছড়ানো, বেপর্দা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হচ্ছে। প্রতিটি কবীরা গুনাহ এখন হাতের মুঠোয়। আর প্রতিটি কবীরা গুনাহই জাহান্নামের রাস্তা।

হাক্বীক্বত বা সারকথা হলো
মোবাইল ফোন হলো অনেকটা ছুরির মতো। ছুরি দিয়ে ফল কেটে মানুষকে খাওয়ালে ছওয়াব, আর মানুষকে আঘাত করলে গুনাহ। তেমনি মোবাইলকে যদি দ্বীন প্রচার, ইলম অর্জন, হালাল রিযিকের কাজে ব্যবহার করা হয়, তবে সেটা নিয়ামত।

কিন্তু আফসোস! বর্তমানে ৯০ ভাগ মানুষ মোবাইলকে গুনাহের যন্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। এজন্যই বলা হয়েছে -
"জাতিকে ধ্বংস করে জাহান্নামের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে"*। কারণ যে জাতির যুবকরা অশ্লীলতায় ডুবে থাকে, যে জাতির সময় অপচয় হয়, যে জাতি ইবাদত ভুলে যায় - সেই জাতি দুনিয়াতেও লাঞ্ছিত হয় এবং আখিরাতেও জাহান্নামের কিনারায় পৌঁছে যায়।

মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে মোবাইলের ফিতনা থেকে হিফাযত করুন। আমীন।

মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক পেতে দান ছদকা করতে হবে।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীছ শরীফ -----

১. مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ
উচ্চারণ: মা না-ক্বাছাত ছদাক্বাতুম মিম মাল
অর্থ: ছদক্বা করলে সম্পদ কমে না।

২. اَلصَّدَقَةُ تَرُدُّ الْبَلَاءَ
উচ্চারণ: আছ-ছদাক্বাতু তারুদ্দুল বালা-আ
অর্থ: ছদক্বা বালা-মুছিবতকে দূর করে দেয়।

---

প্রথম হাদীছ শরীফের হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা: مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
> مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللهُ
> অর্থ: "ছদক্বা করলে সম্পদ কমে না, ক্ষমা করলে মহান আল্লাহ পাক বান্দার সম্মান বৃদ্ধি করে দেন, আর কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য বিনয়ী হলে মহান আল্লাহ পাক তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।" [মুসলিম শরীফ: ২৫৮৮]

ব্যাখ্যা: বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয়, ১০০০ টাকা থেকে ১০০ টাকা ছদক্বা করলে ৯০০ টাকা থাকলো, অর্থাৎ কমে গেল। কিন্তু হাক্বীক্বতে কমে না। কিভাবে?

-
বরকত বৃদ্ধি হয়:

মহান আল্লাহ পাক অবশিষ্ট ৯০০ টাকার মধ্যে এমন বরকত দেন, যা ১০০০ টাকাতেও ছিল না। সেই টাকা দিয়ে বান্দার প্রয়োজন আরও সুন্দরভাবে মিটে যায়।
- আখিরাতের ব্যাংকে জমা হয় যে অংশ ছদক্বা করা হলো, সেটা আসলে কমলো না, বরং আখিরাতের জন্য জমা হয়ে গেল, যা কিয়ামতের দিন পাহাড় পরিমাণ হয়ে ফেরত আসবে।
-
বালা-মুছিবতের খরচ থেকে বাঁচায়:

ছদক্বা না করলে হয়তো অসুখ-বিসুখে বা অন্য কোন ক্ষতিতে ৫০০ টাকা খরচ হতো। ছদক্বার কারণে মহান আল্লাহ পাক সেটা থেকে হিফাযত করেন।

দ্বিতীয় হাদীছ শরীফের হাক্বীক্বী ব্যাখ্যা: اَلصَّدَقَةُ تَرُدُّ الْبَلَاءَ

এই হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে, ছদক্বা বালা-মুছিবতকে ফিরিয়ে দেয়।

এর ব্যাখ্যায় হাদীছ শরীফে আরও এসেছে,
> بَاكِرُوا بِالصَّدَقَةِ فَإِنَّ الْبَلَاءَ لَا يَتَخَطَّاهَا
> অর্থ: "তোমরা সকাল সকাল ছদক্বা করো, কেননা বালা-মুছিবত ছদক্বাকে অতিক্রম করতে পারে না।" [তাবারানী শরীফ]

> اِنَّ الصَّدَقَةَ لَتُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ وَتَدْفَعُ مِيتَةَ السُّوْءِ
> অর্থ: "নিশ্চয়ই ছদক্বা মহান আল্লাহ পাক উনার গোস্বা মুবারককে ঠান্ডা করে দেয় এবং অপমৃত্যু থেকে হিফাযত করে।" [তিরমিযী শরীফ]

ব্যাখ্যা: প্রতিটি মানুষের জন্য তাক্বদীরে অনেক বালা-মুছিবত লিপিবদ্ধ থাকে - যেমন এক্সিডেন্ট, অসুস্থতা, ক্ষতি, দুশ্চিন্তা। যখন বান্দা খালিছভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় ছদক্বা করে, তখন মহান আল্লাহ পাক খুশি হয়ে সেই আসমানী বালাকে জমিনে নাযিল হতে দেন না। ছদক্বা ঢালের মতো বান্দাকে হিফাযত করে।

সারকথা:
ছদক্বা করলে সম্পদ কমে না বরং বাড়ে, এবং দুনিয়ার বালা-মুছিবত ও আখিরাতের কঠিন আযাব থেকে বান্দা হিফাযত থাকে। তাই প্রতিদিন অল্প হলেও ছদক্বা করার অভ্যাস করা উচিত।

হযরত আবু দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন,তুমি তোমার সুদিনে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করো। হয়তো তোমার দুর্দিনে তা কবুল হবে।

তোমরা বেশি বেশি দোয়া করো। কেননা তা দরজায় অধিক কড়া নাড়ার মতো ,যাতে দরজা খোলার সম্ভাবনা থাকে। যে দরজায় বেশি কড়া নাড়ে, তার জন্য দরজা খোলার সম্ভাবনা থাকে আর যে বেশি বেশি দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

◼️
হযরত জালালউদ্দীন রুমী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিখ্যাত 'মসনবী শরীফে' লিখেছেন,

তুমি হয়তো কোনকিছুর এক ফোঁটা চাচ্ছো;কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার জন্য এক সমুদ্র তৈরি করে রেখেছেন!

তুমি হয়তো মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে একটি ফুল চাচ্ছো;কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার জন্যে একটি বাগান তৈরি করে রেখেছেন!

তুমি হয়তো একটু মুহব্বত খুঁজছো;কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার জন্য এমন এক হৃদয় প্রস্তুত করে রেখেছেন যা তোমার প্রতি মুহব্বতে পরিপূর্ণ!

প্রয়োজন শুধু একটু সবর ও দুআয় অনড় থাকা...

এটি কেবলই ইবাদত—

কুরআন মাজীদ এমন একটি গ্রন্থ—যা দেখা ইবাদত, স্পর্শ করা ইবাদত,শিখা-শিখানো শ্রেষ্ঠ ইবাদত,হিফজ করা ইবাদত, নিজে পড়া (তেলাওয়াত) ইবাদত, অন্যকে পড়ানোও ইবাদত, শোনা ইবাদত, শোনানোও ইবাদত, বুঝা ইবাদত, এর উপর আমল করা ইবাদত এবং এর আমলের দিকে অন্যকে আহবান করাও ইবাদত।


কুরআন মাজীদের সঙ্গে জুড়ে থাকাই ইবাদত এবং বরকত। কুরআনের সঙ্গে লেগে থাকার কারণে গিলাফ এবং রেহালও দামী হয়ে যায়। যেই জীবন কুরআনের সঙ্গে লেগে থাকবে, সেই জীবনও দামী হয়ে যাবে।

📌
তিন জিনিসের দিকে তাকানো ইবাদত—

১.পবিত্র কাবার (বাইতুল্লাহর) দিকে।

২.কুরআন মাজীদ (আল্লাহর কালামের) দিকে।

৩.রহমতের নজরে মা-বাবার দিকে।

আত্মশুদ্ধি:
যে ১০ কারণে আত্মার মৃত্যু হয়—

হযরত ইব্রাহিম ইবনে আদহাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিরি ছিলেন বলখের বিখ্যাত বুজুর্গ ও আত্মশুদ্ধির পথিকৃৎ। দ্বিতীয় হিজরি শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। পার্থিব ভোগ-বিলাস ও সম্ভ্রান্ত জীবন ত্যাগ করে তিনি ধর্মের পথে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেছিলেন।

তাবেয়ি যুগের বহু আলেম ও মুহাদ্দিসের সান্নিধ্য লাভ করেন। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, ইবাদত এবং হৃদয়স্পর্শী নসিহার জন্য মুসলিম সমাজে তাঁর বিশেষ মর্যাদা ছিল।

তিনি একদিন বসরার বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় একদল লোক জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করি, কিন্তু আমাদের দোয়া কবুল হয় না কেন?’

তিনি বললেন, ‘১০ কারণে তোমাদের হৃদয়ের মৃত্যু হয়েছে, এজন্য দোয়া কবুল হয় না।’ এরপর তিনি কারণগুলো উল্লেখ করেন:


১. তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছ, কিন্তু উনার হক আদায় করোনি।

২. তোমরা কোরআন শরীফ পড়েছ, কিন্তু তাঁর ওপর আমল করোনি।

৩. তোমরা নবীজি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনার প্রতি মুহব্বতের দাবি করেছ, কিন্তু উনার সুন্নাহ পরিত্যাগ করেছ।

৪. তোমরা বলেছ, শয়তান তোমাদের শত্রু; অথচ তারই অনুসরণ করেছ।

৫. তোমরা বলেছ, জান্নাত সত্য, কিন্তু তার জন্য কোনো আমল করোনি।

৬. তোমরা বলেছ, জাহান্নাম সত্য, কিন্তু তা থেকে বাঁচার জন্য কোনো চেষ্টা করোনি।


৭. তোমরা বলেছ, মৃত্যু সত্য, কিন্তু তার জন্য কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করোনি।

৮. তোমরা মানুষের দোষ-ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থেকেছ, অথচ নিজেদের দোষ-ত্রুটি ভুলে গেছ।

৯. তোমরা তোমাদের প্রতিপালক উনার নেয়ামত ভোগ করেছ, কিন্তু তার শোকর আদায় করোনি।

১০. তোমরা তোমাদের মৃতদের দাফন করেছ, কিন্তু তাদের থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করোনি।

রেফারেন্স :
(আবু নুআইম আসফাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া, ৮/১৫-১৬)


নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন , ‘তোমরা কবর জিয়ারত করো, কারণ তা তোমাদের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ —(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১০৫৪)

প্রতিটি মৃতদেহ আমাদের বলে যায়, একদিন তোমাদেরও এ পথেই যেতে হবে। তাই আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

হযরত ইব্রাহিম ইবনে আদহাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার এই দশ সতর্কবার্তা মূলত হৃদয়ের রোগ নির্ণয়ের দশটি আয়না। এগুলো আমাদের প্রত্যেকের জন্য আত্মসমালোচনার উপকরণ।

হিলইয়াতুল আওলিয়া থেকে ৫টি নসীহত

১. হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন:
"দুনিয়া হলো তিন দিনের। গতকাল চলে গেছে, তুমি তা পাবে না। আগামীকাল আসবে কিনা জানো না। আজকেই তোমার দিন। তাই আজকেই মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে কাটাও।"

২. হযরত ইব্রাহিম বিন আদহাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন:
"যে ব্যক্তি দুনিয়ার লোভ ত্যাগ করলো, মহান আল্লাহ পাকতিনি তাকে হিকমত দান করেন। আর যে রাতের নামাযী হয়, তার চেহারায় নূর দান করেন।"

৩. হযরত ফুযাইল বিন ইয়ায রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন:
"যদি তুমি জানতে চাও মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে তোমার মর্যাদা কতটুকু, তাহলে দেখো তিনি তোমাকে কোন কাজে লাগিয়েছেন।"

৪. হযরত মালিক বিন দিনার রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
"দিলের কাঠিন্যতার চিকিৎসা হলো ৪টি: কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, পেট খালি রাখা, রাতের তাহাজ্জুদ, আর গুনাহগারদের সোহবত ত্যাগ করা।"

৫. হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন:
"তাসাউফ হলো ৩টি জিনিস: মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য নেওয়া, মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য দেওয়া, আর মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে থাকা। এর বাইরে সবই নফস।"

---

মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে হযরত ওলীয়াল্লাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নসীহত মেনে চলার তাওফিক দান করুন । আমীন।

উম্মাহর নসীহত হাসিলের জন্য লিখাগুলো ছড়িয়ে দিন।

…তাবীজ কী? তাবীজ হইল আল্লাহর কালাম , সুন্দর সুন্দর নাম মুবারক ও অর্থবোধক দোয়া দরুদের ওসিলায় আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া। মানুষ গলায় ঘাড়ে কপালে মাথায় লটকায় এই মকসুদে যে আল্লাহ কোরআনের ওসিলায় বা কোরআনের আয়াতের ওসিলায় তারে বিপদআপদ রোগ বালা মসিবত থেকে হেফাজত করবেন। এটা শেরেক কীভাবে হইল? জিগান সালাফী আহলে হাদীস ওহাবী নজদী তাঈমি গায়রে মুকাল্লিদগুলারে, দেখবেন আক্কা পাক্কা আলাপ শুরু কইরা দিছে।

বরং সঠিক কথা হইল কোরআনের আয়াত, সুরা কালাম, দোয়া দরুদ দিয়া তাবীজ দেওয়া ও ব্যবহার করা শেরেক না। সালাফীদের আব্বা আহমদ ইবনে হাম্বলও তাবীজ লেখত। ঐ অর্থে ইমামরে কবিরাজ কওয়াই যায়৷ তোয় আমরা আগে হাদীস দেইখানেই। আসেন, আমি প্রথমে দলিল হিশেবে দেখাইতে পারি —

أنَّ رسولَ اللَّهِ صلّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ كانَ يعلِّمُهم منَ الفزعِ أعوذُ بِكلماتِ اللَّهِ التّامَّة من غضبِه وعقابِه وشرِّ عبادِه ومن همزاتِ الشَّياطينِ وأن يحضرونِ فإنَّها لن تضرَّهُ وَكانَ عبدُ اللَّهِ بنُ عمرٍو رضيَ اللَّهُ عنهُ يعلِّمُها من بلغَ من ولدِه ومن لم يبلغ منهم كتبَها في صَكِّ ثمَّ علَّقَها في عنقِهِ

كان رسولُ اللهِ صلّى اللهُ عليهِ وسلَّمَ يُعلِّمُنا كلماتٍ نقولُهنَّ عندَ النومِ من الفَزَعِ بسمِ اللهِ أعوذُ بكلماتِ اللهِ التّامَّةِ من غضبِه وعقابِهِ وشرِّ عبادِهِ ومن همزاتِ الشياطينِ وأن يَحْضُرُونَ قال فكانَ عبدُ اللهِ بنُ عمرٍو يُعلِّمُها مَن بلغَ من ولَدِه أن يقولَها عندَ نومِه ومن كان منهم صغيرًا لا يعقلُ أن يَحْفَظَها كَتَبَها لهُ فعلَّقَها في عنقِه

অর্থ: রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি উনার সাহাবীরারে ভয়ের সময় পড়ার লাগি এই দোয়া তালীম দিতেন: "আমি আল্লাহর পূর্ণ কালেমার মাইধ্যমে উনার গজব ও শাস্তি থেকে, উনার বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের উপস্থিতি থেকে পানাহ চাইতেছি।"

আব্দুল্লাহ ইবন আমর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু তিনি উনার আওলাদদের মধ্যে যে প্রাপ্তবয়স্ক তারে এই দোয়ার তালীম দিতেন, আর যাঁরা অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাদের লাগি তিনি এইটা লেইখা কাগজে (পত্রে) লিপিবদ্ধ কইরা তাদের গলায় ঝুলায়া দিতেন। (তাবীজ লেইখা দিতেন আরকি।)

তাবীজ লেখা ও তা গলায় ঘাড়ে, হাতে লটকানো ঝুলানো যে জায়েজ, তা এই হাদীস থেকেই বুঝা যায়। আর দলিলের প্রয়োজন আছে কি-না জানি না। তবে সালাফীরা যেহেতু সালাফদের মানে বইলা বুলি আউড়ায়,( আদতে মানে না, ফাউ) তবে তাদের লাগি কিছু সালাফদের মন্তব্য দিয়া দিলাম ইহসান স্বরূপ—

এক. সাইদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ. (আস সুনানুল কুবরা:১৯৬১২)

أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ الْحَسَنِ قَالَا: ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ الْأَصَمُّ، ثنا بَحْرُ بْنُ نَصْرٍ، ثنا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ، أَنَّهُ سَأَلَ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ عَنِ الرُّقَى وَتَعْلِيقِ الْكُتُبِ، فَقَالَ: كَانَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ يَأْمُرُ بِتَعْلِيقِ الْقُرْآنِ وَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ

অর্থ: নাফে’ রহ. বলেন: আমি ইয়াইয়া বিন সাইদ রহ. রে ঝাড়ফুঁক এবং তাবীজ লটকানো সম্পর্কে জিগাইলাম। তিনি বললেন: সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব রহ. কোরআন লেইখা লটকানোর নির্দেশ দিছেন এবং বলেছেন: কোরআন লেইখা লটকাইলে কোন সমস্যা নাই।

দুই. ইমামু দারিল হিজরত মালেক ইবনে আনাস রহ. (কিতাবুল জামে: আবু জায়দ কায়রুয়ানি: ২৩৭)

قيل : فيكتب للمحموم القرآن؟ قال: لابأس به، ولابأس أن يرقى بالكلام الطيب، ولا بأس بالمعاذة تعلق، وفيها القرآن وذكر الله إذا أحرز عليها أدم

অর্থ: ইমাম মালিক রহ.রে জিগানো হইছিল যে, জ্বর উঠলে কোরআন লেইখা দেওয়া যাবে কিনা? তিনি বললেন, এইটাতে কোন সমস্যা নাই। এভাবে পবিত্র কথা দিয়া ঝাড়ফুঁক করতে সমস্যা নাই। এভাবে কোরআনের আয়াত কিংবা আল্লাহর জিকির লেইখা তাবিজ লটকানোতেও কোন সমস্যা নাই।( জায়েজ আছে)

তিন. ইমাম বায়হাকী রহ. তার প্রসিদ্ধ হাদীসের কেতাব সুনানুল কুবরাতে বাবুত তামাইম এর ১৯৬০৫ উকবা ইবনে আমের আল জুহানি রহ. এর হাদীস হাজির করে বলেন:

وَقَدْ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ وَمَا أَشْبَهَهُ مِنَ النَّهْيِ وَالْكَرَاهِيَةِ فِيمَنْ تَعَلَّقَهَا وَهُوَ يَرَى تَمَامَ الْعَافِيَةِ وَزَوَالَ الْعِلَّةِ مِنْهَا عَلَى مَا كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَصْنَعُونَ , فَأَمَّا مَنْ تَعَلَّقَهَا مُتَبَرِّكًا بِذِكْرِ اللهِ تَعَالَى فِيهَا وَهُوَ يَعْلَمُ أَنْ لَا كَاشِفَ إِلَّا اللهُ وَلَا دَافِعَ عَنْهُ سِوَاهُ فَلَا بَأْسَ بِهَا إِنْ شَاءَ اللهُ

অর্থ: যে সকল হাদীসে লটকাইতে মানা করা হইছে, এর দ্বারা মকসুদ হইল জাহেলি যুগের লোকদের মতো যখন সে মনে করব এই বস্তুগুলাই তারে সুস্থ করবে, তখন তা নিষেধ হইব। তবে যদি কেউ বরকতের লাগি আল্লাহর নাম লেইখা লটকায়, তার জানা আছে যে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ শাফী না, তাইলে তবীজ লটকাইতে কোন সমস্যা নাই। (জায়েজ আছে)

চার. ইবনে হাজার আস্কালানী রহ.(ফতহুল বারী: ৬/১৪২)

هَذَا كُلُّهُ فِي تَعْلِيقِ التَّمَائِمِ وَغَيْرِهَا مِمَّا لَيْسَ فِيهِ قُرْآنٌ وَنَحْوُهُ فَأَمَّا مَا فِيهِ ذِكْرُ اللَّهِ فَلَا نَهْيَ فِيهِ فَإِنَّهُ إِنَّمَا يُجْعَلُ لِلتَّبَرُّكِ بِهِ وَالتَّعَوُّذِ بِأَسْمَائِهِ وَذِكْرِهِ وَكَذَلِكَ لَا نَهْيَ عَمَّا يُعَلَّقُ لِأَجْلِ الزِّينَةِ مَا لَمْ يَبْلُغِ الْخُيَلَاءَ أَوِ السَّرَفَ

অর্থ: যে সকল হাদীসে তামিম’ লটকাইতে মানা করা হইছে, সে হাদীসগুলাতে তামিমা দিয়া মকসুদ হইল, যার মধ্যে কোরআন বা আল্লাহর নাম জাতীয় কোন কিছু লেখা নাই। যদি আল্লাহর নাম লেখা থাকে, তাইলে লটকাইতে সমস্যা নাই। কারণ, এইটা করা হয় বরকতের লাগি। অনুরূপ কেউ যদি সৌন্দর্যের লাগি (বা সাধারণ উদ্দেশ্যে) অহংকার টহংকার আক্কা পাক্কা মকসুদ না রাইখা (গলায়, ঘাড়ে হাতে বা ঘরে) লটকায়, তাইলেও সমস্যা নাই। (জায়েজ আছে)

পাঁচ. ইবনে বাত্তাল রহ.( শরহে সহিহিল বুখারি লি ইবনে বাত্তাল:৫/১৫৯)

ولا بأس بتعليق التمائم والخرز التى فيها الدعاء والرقى بكتاب الله عند جميع العلماء؛ لأن ذلك من التعوذ بأسماء الله

অর্থ: দোয়া লেইখা তাবীজ লটকানো এবং কোরআন দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতে সকল আলেমদের মতে কোন সমস্যা নাই। জায়েজ আছে। কারণ, এগুলার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া হয়।

ছয়. ইমাম খাত্তাবী (মাআলিমুস সুনান :৪/২১১)

والتميمة يقال إنها خرزة كانوا يتعلقونها يرون أنها تدفع عنهم الآفات. واعتقاد هذا الرأي جهل وضلال إذ لا مانع ولا دافع غير الله سبحانه ولا يدخل في هذا التعوذ بالقرآن والتبرك والاستشفاء به لأنه كلام الله سبحانه والاستعاذة به ترجع إلى الاستعاذة بالله سبحانه

অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট ছোট পাথর বা হাড়রে যা সুতায় গাঁইথা লটকানো হয় , জাহেলি যুগের লোকেরা এ বিশ্বাস রাইখা লটকাইত যে, তামিমাই তাদের আপদবিপদ বালা মসিবত দূর করব। এ ধরণের আকীদা জাহালত ও দলালত । কারণ, আল্লাহ ছাড়া তো রোগবালাই আপদ বিপদ বালা মসিবত দূর করার আর কেউ নাই। তবে কেউ যদি বরকতের লাগি কোরআনের আয়াত লেইখা তাবীজ বানায়া লটকায় তবে সমস্যা নাই, তাবীজ তামিমার হুকুমের আওতায় না।

সাত. ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ. (জাদুল মাদ:৪:৩২৬)

رأيت أبي يكتب التعويذ للذي يفزع، وللحمى

অর্থ: ইমাম আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহ রহ. বলেন, আমি আব্বারে জ্বর ও টেনশনের রোগীরে তাবীজ দিতে দেখছি।(জায়েজ না থাকলে দিত? )

আট. ইবনে তাঈমিয়া ( মাজমুউল ফতোয়া: ১৯/৬৪, ৬৫)

وَيَجُوزُ أَنْ يَكْتُبَ لِلْمُصَابِ وَغَيْرِهِ مِنْ الْمَرْضَى شَيْئًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَذِكْرُهُ بِالْمِدَادِ الْمُبَاحِ وَيُغْسَلُ وَيُسْقَى كَمَا نَصَّ عَلَى ذَلِكَ أَحْمَد وَغَيْرُهُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَد: قَرَأْت عَلَى أَبِي ثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ؛ ثَنَا سُفْيَانُ؛ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ الْحَكَمِ؛ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ؛ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إذَا عَسِرَ عَلَى الْمَرْأَةِ وِلَادَتُهَا فَلْيَكْتُبْ: بِسْمِ اللَّهِ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا} {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ بَلَاغٌ فَهَلْ يُهْلَكُ إلَّا الْقَوْمُ الْفَاسِقُونَ} . قَالَ أَبِي: ثَنَا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ بِإِسْنَادِهِ بِمَعْنَاهُ وَقَالَ: يُكْتَبُ فِي إنَاءٍ نَظِيفٍ فَيُسْقَى قَالَ أَبِي: وَزَادَ فِيهِ وَكِيعٌ فَتُسْقَى وَيُنْضَحُ مَا دُونَ سُرَّتِهَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: رَأَيْت أَبِي يَكْتُبُ لِلْمَرْأَةِ فِي جَامٍ أَوْ شَيْءٍ نَظِيفٍ. وَقَالَ أَبُو عَمْرٍو مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَد بْنِ حَمْدَانَ الحيري: أَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ النسوي؛ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَد بْنِ شبوية؛ ثنَا عَلِيُّ بْنُ لْحَسَنِ بْنِ شَقِيقٍ؛ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ؛ عَنْ سُفْيَانَ؛ عَنْ ابْنِ أَبِي لَيْلَى؛ عَنْ الْحَكَمِ؛ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ؛ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إذَا عَسِرَ عَلَى الْمَرْأَةِ وِلَادُهَا فَلْيَكْتُبْ: بِسْمِ اللَّهِ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ؛ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ؛ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا} {كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ بَلَاغٌ فَهَلْ يُهْلَكُ إلَّا الْقَوْمُ الْفَاسِقُونَ} . قَالَ عَلِيٌّ: يُكْتَبُ فِي كاغدة فَيُعَلَّقُ عَلَى عَضُدِ الْمَرْأَةِ قَالَ عَلِيٌّ: وَقَدْ جَرَّبْنَاهُ فَلَمْ نَرَ شَيْئًا أَعْجَبَ مِنْهُ فَإِذَا وَضَعَتْ تُحِلُّهُ سَرِيعًا ثُمَّ تَجْعَلُهُ فِي خِرْقَةٍ أَوْ تُحْرِقُهُ

রোগীর লাগি কোরআনের আয়াত বা আল্লাহর জিকির দিয়া তাবীজ এবং তা (পড়াপানি) দিয়ে রোগীরে গোসল করানো ও খাওয়ানো জায়েয আছে। ইমাম আহমদ সহ আরো অনেক ইমাম একথা পষ্ট কইরাই বলছেন। দরুন, ইমাম আহমদ হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে নকল করেন, যদি কোনো মহিলার প্রসব কঠিন হয় তাইলে যেন নিম্নোক্ত বাক্যগুলা লেইখা তাবীজ বানায়া দেয়—

بسم الله، لا إله إلا الله الحليم الكريم، سبحان الله وتعالى، رب العرش العظيم، والحمد لله رب العالمين. كأنهم يوم يرونها. لم يلبثوا إلا عشية أو ضحاها. كأنهم يوم يرون ما يوعدون. لم يلبثوا إلا ساعة من نهار بلاغ، فهل يهلك إلا القوم الفاسقون.

(অইন্য সূত্রে আইছে) ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বলেন, এই দোয়াটা একটা পাকসাফ পাত্রে লেইখা তারে খাওয়ানো হইব এবং নাভির নিচে পানি ছিটানো হইব।(এতে তার প্রসব সহজ হইব)

আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আব্বারে তাবীজ লেখতে দেখছি, তিনি এ বাক্যগুলা নারীদের জন্য পাকসাফ পাত্রে লেইখা দিতেন।

অন্য বর্ণনায় হযরত ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু থেকে এই দোয়াটা একটু ভিন্ন লফজে আইছে —

بسم الله، لا إله إلا الله العلي العظيم، لا إله إلا الله الحكيم الكريم…إلخ

আলী ইবনে হাসান রহ. বলেন, এই দোয়াটা কাগজে লেইখা উক্ত মহিলার বাহুতে বেঁধে দিবা। তিনি আরো বলেন, আমরা এটা পরীক্ষা করে দেখেছি এবং এর চেয়ে অধিক কার্যকরী কোনো কিছু পাইনাই। প্রসব হওয়ার সাথে সাথে তা খুইলা ফেলবা এবং ঐ কাগজটা কোনো কাপড়ের টুকরায় রাইখা দিবা বা জ্বালায়ে দিবা। (অর্থাৎ হেফাজত করতে হইব আরকি। যেহেতু আয়াত দোয়া লেখা আছে)

নয়. মুনাবি (ফয়জুল কাদীর: ৬/১০৭)

المراد من علق تميمة من تمائم الجاهلية يظن أنها تدفع أو تنفع فإن ذلك حرام والحرام لا دواء فيه وكذا لو جهل معناها وإن تجرد عن الاعتقاد المذكور فإن من علق شيئا من أسماء الله الصريحة فهو جائز بل مطلوب محبوب فإن من وكل إلى أسماء الله أخذ الله بيده

অর্থ: যে তামিমা লটকাইল সে শেরেক করল, এর দ্বারা মকসুদ হইল জাহেলি যুগের তামিমা। তারা মনে করত যে ছোট ছোট পাথ্থর তাদের উপকার করব এবং বিপদ দূর করব। এটা হারাম। আর হারামে কোন চিকিৎসা নাই। অনুরূপ অর্থ জানা না থাকলে সেটা লটকানোও জায়েজ নাই। যদি উপরোক্ত আকীদা থেকে মুক্ত হয়, পষ্ট কইরা আল্লাহর নাম লেইখা লটকায় তাইলে সেটা জায়েজ। বরং এটা ভালা ও প্রশংসিত। কারণ হইল, যে তার সমস্যারে আল্লাহর নাম মুবারকের হাওলা কইরা দিবে, আল্লাহ তারে হেফাজত করবেন ।

এছাড়াও বহু ইমাম আলেমদের মতামত আছে। ফেসবুক পোস্টে এততা হাজির করা একটু টাপ। আপনাদের পড়তেও এট্টু সমস্যা। লম্বা হয়া যায়। তবে কেউ যদি জ্ঞান পাইতে চায়, তোয় যা দিছি এনাফ। আর কাউর যদি আমার লেখাটা বরদাশত না হয়, তোয় সরি।

আর তাবীজরে আমার দুই পর্বের পোস্টের পর জায়েজ মনে করেন কি-না একটু জানায়া দিয়েন। কষ্ট কইরা লেখলাম, একটা মন্তব্য পাইলে লেখায় আগ্রহ হয়, আরাম পাই।

— আছেমী নামদার
১৪/০৮/২০২৫

হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

لاَ تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ عِنْدِ رَبِّهٖ حَتّٰى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ عَنْ عُمْرِهٖ فِيمَا أَفْنَاهُ وَعَنْ شَبَابِهٖ فِيمَا أَبْلاَهُ وَمَالِهٖ مِنْ أَيْنَ اِكْتَسَبَهٗ وَفِيمَ أَنْفَقَهٗ وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ

অর্থ: কিয়ামতের দিনে হাশরের ময়দানে কোনো আদম সন্তান পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে এক কদমও নড়তে পারবে না। সে প্রশ্ন ৫টি হলো:

১) জীবনটা কী কাজে শেষ করেছে?

২) যৌবনকাল কী কাজে লাগিয়েছে?

৩) কোন পথে আয় করেছে?

৪) কোন পথে ব্যয় করেছে?

৫) নিজের ইলিম অনুযায়ী কি আমল করেছে? (তিরমিযী শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يَا جَابِرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اِنَّ اللهَ تَعَالـٰى قَدْ خَلَقَ قَبْلَ الْاَشْيَاءِ نُوْرَ نَبِيِّكَ مِنْ نُّوْرِهٖ فَجَعَلَ ذٰلِكَ النُّوْرُ يَدُوْرُ بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ اللهُ تَعَالـٰى

অর্র্থ: “হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছুর পূর্বে সর্বপ্রথম আপনার যিনি মহাসম্মানিত নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ প্রকাশ করেছেন। তখন সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছা মুবারক অনুযায়ী উনার সম্মানিত কুদরত মুবারক উনার মধ্যে অবস্থান মুবারক করছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাওয়াহিবুল লাদুননিয়্যাহ, মাদারেজুন নুবুওওয়াত, ফতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ ইত্যাদি)