Follow the claim submission process in medical billing from charge capture to payer response, and learn how to catch errors before a claim is rejected.
https://practiceperfectss.com/....claims-submission-wo
Follow the claim submission process in medical billing from charge capture to payer response, and learn how to catch errors before a claim is rejected.
https://practiceperfectss.com/....claims-submission-wo
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (১৩)
হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার খুৎতবা মুবারক:
وَفِي الـمُنْتَقَى فَلَمَّا أَتَمَّ أَبُو طَالِبٍ خُطْبَتَهُ تَكَلَّمَ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ فَقَالَ اَلْـحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِي جَعَلَنَا كَمَا ذَكَرْتَ وَفَضَّلَنَا عَلَى مَا عَدَدْتَ فَنَحْنُ سَادَةُ الْعَرَبِ وَقَادَتُهَا وَأَنْتُمْ أَهْلُ ذٰلِكَ كُلِّهِ لَا تُنْكِرُ الْعَشِيرَةُ فَضْلَكُمْ وَلَا يَرُدُّ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ فَخْرَكُمْ وَشَرَفَكُمْ وَقَدْ رَغِبْنَا فِي الِاتِّصَالِ بِحَبْلِكُمْ وَشَرَفِكُمْ فَاشْهَدُوا عَلَيَّ مَعَاشِرَ قُرَيْشٍ بِأَنِّي قَدْ زَوَّجْتُ خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللّٰهِ عَلَى أَرْبَعِمِائَةِ دِينَارٍ ثُمَّ سَكَتَ وَرَقَةُ
“আর ‘আল মুনতাক্বা’ কিতাব উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন, যখন খাজা আবূ ত্বালিব তিনি উনার খুতবা শেষ করলেন, তখন হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু (যিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচাত ভাই ছিলেন) তিনি কথা মুবারক বলেন এবং তিনি বলেন— ‘সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনারই জন্য, যিনি আমাদেরকে আপনি যেমন বর্ণনা করেছেন, তেমন মর্যাদাশালী করেছেন এবং আপনি যেমন ছিফত (গুণাবলি) উল্লেখ করেছেন, তাতে আমাদেরকে বিশেষ সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আমরা আরবদের সাইয়্যিদ (সরদার) এবং মর্যাদাশালী পরিবার, আর আপনারা সেই মর্যাদা ও সম্মানের প্রকৃত মালিক (অধিকারী)। আপনার গোত্রের শ্রেষ্ঠত্ব কেউ অস্বীকার করে না, আর মানুষের মধ্যে কেউই আপনাদের গৌরব ও মর্যাদা প্রত্যাখ্যান করে না। আমরা আপনাদের সম্মানিত বংশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে আন্তরিকভাবে আগ্রহী। অতএব, হে কুরাইশগণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন— আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা মাওলানা মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে চারশত (৪০০) দিনার মোহরে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ দিয়েছি। সুবহানাল্লাহ! এরপর হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নীরব হলেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/২৬৪)
হযরত আমর ইবনে আসাদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বক্তব্য মুবারক:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
وَتَكَلَّمَ أَبُو طَالِبٍ فَقَالَ قَدْ أَحْبَبْتُ أَنْ يُشْرِكَكَ عَمُّهَا فَقَالَ عَمُّهَا اشْهَدُوا عَلَيَّ يَا مَعَاشِرَ قُرَيْشٍ أَنِّي قَدْ أَنْكَحْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللّٰهِ خَدِيجَةَ بِنْتَ خُوَيْلِدٍ وَشَهِدَ عَلَى ذٰلِكَ صَنَادِيدُ قُرَيْشٍ
“খাজা আবূ ত্বালিব তিনি আবারও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি পছন্দ করি যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত চাচা তিনিও এই বিষয়ে অংশ গ্রহণ করুন।’ তখন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত চাচা তিনি বলেন— ‘হে কুরাইশগণ! আপনারা সাক্ষী থাকুন— আমি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা মাওলানা মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ দিয়েছি।’ সুবহানাল্লাহ! আর এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার সাক্ষী ছিলেন কুরাইশ গোত্রের সম্মানিত এবং বিশিষ্ট সাইয়্যিদগণ (সরদারগণ)।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ১/২৬৪)
এভাবে ইজাব ও কবূল মুবারক সম্পন্ন হন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (১২)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠান:
আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রিসালাত মুবারক প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২৫ বছর ২ মাস ১০ দিন এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪০ বছর ২ মাস ৮ দিন। সুবহানাল্লাহ!
খাজা আবূ ত্বালিব উনার খুৎবা মুবারক:
মুদ্বার গোত্রের প্রখ্যাত সরদারগণ উনাদের উপস্থিতিতে খাজা আবূ ত্বালিব তিনি খুতবা দিয়ে বলেন—
اَلْـحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَنَا مِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَزَرْعِ إِسْمَاعِيلَ وَضِئْضِئِ مَعَدٍّ مُضَرَ وَجَعَلَنَا حَضَنَةَ بَيْتِهِ وَسُوَّاسَ حَرَمِهِ وَجَعَلَ لَنَا بَيْتًا مَحْجُوجًا وَحَرَمًا آمِنًا وَجَعَلَنَا حُكَّامَ النَّاسِ ثُمَّ إِنَّ ابْنَ أَخِي هٰذَا مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ لَا يُوزَنُ بِهِ رَجُلٌ شَرَفًا وَنُبْلًا وَفَضْلًا وَعَقْلًا وَإِنْ كَانَ فِي الْمَالِ قِلًّا فَإِنَّ الْمَالَ ظِلٌّ زَائِلٌ وَأَمْرٌ حَائِلٌ وَعَارِيَةٌ مُسْتَرْجَعَةٌ وَهُوَ وَاللَّهِ بَعْدَ هٰذَا لَهُ نَبَأٌ عَظِيمٌ وَخَطَرٌ جَلِيلٌ وَقَدْ خَطَبَ إِلَيْكُمْ رَغْبَةً فِي كَرِيمَتِكُمْ خَدِيجَةَ وَقَدْ بَذَلَ لَهَا مِنَ الصَّدَاقِ حُكْمَكُمْ عَاجِلَهُ وَآجِلَهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا
“সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, যিনি আমাদেরকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বংশধর, সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ফসল এবং সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বার ইবনে মাআদ্দ আলাইহিস সালাম উনার বিশুদ্ধ বংশধারা থেকে উদ্ভূত করেছেন। তিনি আমাদেরকে উনার মহাসম্মানিত ঘর মুবারক (মহাসম্মানিত কা’বা শরীফ) উনার তত্ত্বাবধায়ক এবং পবিত্র হারাম শরীফ উনার রক্ষক করেছেন। তিনি আমাদের জন্য এমন এক মহাসম্মানিত ঘর মুবারক তৈরী করেছেন, যেটি মানুষের হজ্জের গন্তব্য এবং এমন এক হারাম, যা নিরাপদ। আর তিনি আমাদেরকে বানিয়েছেন মানুষের সাইয়্যিদ (সরদার) ও বিচারক। এরপর— আমার এই মহাসম্মানিত ভাতিজা সাইয়্যিদুনা মাওলানা মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মান, মহত্ত্ব, গুণ ও বুদ্ধিমত্তায় এমন একজন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক, উনার তুলনায় কোনো মানুষকে ওযন করা যায় না। সম্পদে তিনি অল্পস্বল্প অর্থাৎ ধন—সম্পদ থেকে তিনি বেনিয়ায। কেননা ধন—সম্পদ এক পরিবর্তনশীল ছায়া, ক্ষণস্থায়ী বস্তু এবং এমন এক ঋণ করা জিনিস, যা একদিন ফেরত নেওয়া হয়। আর মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! এছাড়াও উনার এক মহান সুসংবাদ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা মুবারক রয়েছেন। তিনি আপনাদের নিকট আপনাদের মর্যাদাশালী কন্যা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক রেখেছেন। আর তিনি মহাসম্মানিত মোহর হিসেবে দিবেন— আপনাদের নির্ধারণ মোতাবেক— অগ্রিম ও পরিশোধযোগ্য উভয় মিলিয়ে বারো উকিয়া ও এক নাশ অর্থাৎ ৫০০ দিরহাম।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ২/১৬৫)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (১১)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক:
এ বৎসরের শুরুর দিকের কথা— মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ‘হযরত নাফিসাহ্ বিনতু মুনীয়াহ্ বা মানিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা’ নামে একজন খাছ খাদিমা ছিলেন। তিনি উনার সেই খাছ খাদিমা উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব মুবারক পেশ করলেন। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
وَرَوَى ابْنُ سَعْدٍ عَنْ نُفَيْسَةَ بِنْتِ مُنِيَّةَ قَالَتْ كَانَتْ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ اِمْرَأَةً حَازِمَةً جَلْدَةً شَرِيفَةً مَعَ مَا أَرَادَ اللهُ بِهَا مِنَ الْكَرَامَةِ وَالْخَيْرِ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ أَوْسَطُ قُرَيْشٍ نَسَبًا وَأَعْظَمُهُمْ شَرَفًا وَأَكْثَرُهُمْ مَالًا وَكُلُّ قَوْمِهَا كَانَ حَرِيصًا عَلَى نِكَاحِهَا لَوْ قَدَرَ عَلَى ذٰلِكَ فَقَدْ طَلَبُوهَا وَبَذَلُوا لَهَا الْأَمْوَالَ فَأَرْسَلَتْنِي دَسِيسًا إِلَى مُحَمَّدٍ ﷺ بَعْدَ أَنْ رَجَعَ فِي عِيرِهَا مِنَ الشَّامِ
“হযরত ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত নাফিসাহ্ বিনতু মুনীয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সেই সময়ে কুরাইশ গোত্রের মধ্যে বংশমর্যাদায় সবচেয়ে মর্যাদাশালী, সম্মানের দিক থেকে শ্রেষ্ঠা এবং ধন—সম্পদে সর্বাধিক সম্পদশালী মহাসম্মানিতা মহিলা আলাইহাস সালাম। উনার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি যেই মর্যাদা ও কল্যাণ নির্ধারণ করেছিলেন, তারই বাস্তব রূপ তিনি ছিলেন। সেই সময় কুরাইশদের মধ্যে বংশমর্যাদায় তিনি ছিলেন ভারসাম্যপূর্ণ, সম্মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ এবং সম্পদের দিক থেকে সর্বাধিক প্রভাবশালী। যদি সামর্থ্য থাকতো, তাহলে উনার গোত্রের প্রত্যেক পুরুষই উনাকে নিসবতে আযীম শরীফ করতে চাইতো। অনেক মানুষ উনার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলো এবং বিপুল সম্পদ দেওয়ার প্রস্তাবও করেছিলো। এরপর তিনি গোপনে আমাকে পাঠালেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যখন তিনি উনার বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে শাম সফর শেষে ফিরে এসেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
আবার এই দিকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচা আমর বিন আসাদ তিনিও এই বিষয়টা মধ্যস্থতা করলেন। তিনি খাজা আবূ ত্বালিব উনার কাছে সংবাদ মুবারক পেঁৗছালেন। অতঃপর সংবাদ মুবারক যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক—এ পেঁৗছানো হয়, তখন তিনি চুপ থাকেন। কোনো সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেননি। কিন্তু পরবতীর্তে খাজা আবূ ত্বালিব তিনি বললেন, অসুবিধা নেই; তিনি তো সম্মানিতা এবং তিনি সারা আরবে ত্বাহিরাহ্, ত্বইয়্যিবাহ্ হিসেবে, পূত—পবিত্রা ব্যক্তিত্বা হিসেবে মশহূর হয়ে গেছেন। সবদিক থেকেই তিনি যোগ্যতাসম্পন্না। কাজেই, উনাকে গ্রহণ করতে তো কোনো অসুবিধা থাকার কথা না। খাজা আবূ ত্বালিব তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পক্ষ থেকে সুপারিশ করলেন। তখন শেষ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক ইচ্ছানুযায়ী সম্মতি মুবারক প্রকাশ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (১০)
হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নাওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট গমন:
فَلَمَّا رَأَتْ خَدِيجَةُ أَنَّ تِجَارَتَهَا قَدْ رَبِحَتْ أَضْعَفَتْ لَهُ مَا سَمَّتْ وَكَانَتْ قَدْ ذَكَرَتْ لِوَرَقَةَ بْنِ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى وَكَانَ ابْنَ عَمِّهَا وَكَانَ نَصْرَانِيًّا قَدْ تَتَبَّعَ الْكُتُبَ وَعَلِمَ مِنْ عِلْمِ النَّاسِ مَا ذَكَرَ لَهَا غُلَامُهَا مَيْسَرَةُ مِنْ قَوْلِ الرَّاهِبِ وَمَا كَانَ يَرَى مِنْهُ إِذْ كَانَ الْمَلَكَانِ يُظَلَّانِهِ فَقَالَ وَرَقَةُ يَا خَدِيجَةُ إِنَّ مُحَمَّدًا لَنَبِيُّ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَقَدْ عَرَفْتُ أَنَّهُ كَائِنٌ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ نَبِيٌّ يُنْتَظَرُ هَذَا زَمَانُهُ
“মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন দেখলেন যে, উনার ব্যবসা—বাণিজ্যে অসাধারণ লাভ হয়েছে, তখন তিনি লভ্যাংশের পূর্বে নির্ধারিত পরিমাণের দ্বিগুণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দিলেন। এরপর তিনি উনার সম্মানিত চাচাতো ভাই হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট এই ঘটনার কথা উল্লেখ করলেন। হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ছিলেন নাছারাহ্ (খ্রিস্টান) ধর্মে বিশ্বাসী, তবুও তিনি পবিত্র তাওরাত শরীফ, ইনজীল শরীফসহ পূর্ববতী সব আসমানী কিতাব মুবারক অধ্যয়ন করেছিলেন এবং অতীতের সমস্ত হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গোলাম, খাদিম হযরত মইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনাকে যেই বিষয়গুলি বলেছেন, সেই বিষয়গুলি তিনি হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে জানালেন। যেমন— সেই রাহিব (পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি) উনার বক্তব্য এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে দুইজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা ছায়া দেওয়া— এইসব মহাসম্মানিত ই’জায শরীফ (মু’জিযা শরীফ) উনাদের বর্ণনা। তখন হযরত ওয়ারাক্বা ইবনে নওফিল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘হে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম! নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন এই উম্মতের মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী—রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি জানি— এই জাতির জন্য একজন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী—রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হবেন। আর এই সময়টাই হচ্ছেন উনার তাশরীফ মুবারক নেয়ার সময়।” (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (৯)
অপর বর্ণনায় এসেছেন,
فَلَمَّا صَعِدَتْ فَوْقَ الْبَيْتِ فَإِذَا هِيَ بِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَقْبَلَ عَلَى نَاقَةٍ لَهَا عَلَى رَأْسِهِ قُبَّةٌ مِنْ يَاقُوتٍ أَحْمَرَ وَعَنْ يَمِينِهِ مَلَكٌ شَاهِرٌ سَيْفًا وَعَنْ يَسَارِهِ مَلَكٌ شَاهِرٌ سَيْفًا وَفَوْقَهُ غَمَامَةٌ تَسِيرُ مَعَهُ تُظَلِّلُهُ وَإِذَا الطُّيُورُ حَوْلَهُ يُحِفُّونَهُ بِأَجْنِحَتِهِمْ وَيَرُوحُونَهُ فَنَظَرَتْ خَدِيجَةُ وَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّهُ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ اللَّهُمَّ إِلَيَّ وَإِلَى دَارِي حَتَّى أَقْبَلَ نَحْوَ دَارِهَا فَوَثَبَتْ مِنَ السَّرِيرِ مُسْرِعَةً إِلَى الْبَابِ فَإِذَا هُوَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ نَزَلَ عَنْ نَاقَتِهِ وَأَنَاخَهَا
“অতঃপর যখন তিনি (একদিন উনার) বাড়ি মুবারক উনার (ছাদের) উপর উঠলেন, তখন হঠাৎ তিনি দেখলেন— নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাশরীফ মুবারক নিচ্ছেন। তিনি উনার এমন একটি উটনীর পিঠে আরোহণ মুবারক করে অগ্রসর হয়ে তাশরীফ মুবারক আনছেন, যার মাথার উপরে একটি লাল ইয়াকূতের গম্বুজ। উনার ডান পাশে একজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি উন্মুক্ত তরবারি হাতে এবং বাম পাশেও একজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিস সালাম তিনি উন্মুক্ত তরবারি হাতে। আর উনার উপর একখণ্ড মেঘ। মেঘ খণ্ডটি তিনি যেদিকে যাচ্ছেন, সেদিকেই উনাকে ছায়া প্রদান করছে। আবার হঠাৎ হঠাৎ দেখা গেল, উনার চারপাশে অসংখ্য পাখি ডানা মেলে উনাকে ঘিরে রয়েছে এবং ডানা নাড়িয়ে বাতাস করছে। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হলেন, কিন্তু তখনও জানতেন না যে, তিনিই হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। তাই, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন—
اللَّهُمَّ إِلَيَّ وَإِلَى دَارِي
‘আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! উনাকে আমার দিকে এবং আমার বাড়ি মুবারক উনার দিকে নিয়ে আসুন।’
কিছুক্ষণের মধ্যেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার বাড়ি মুবারক উনার দিকেই রওয়ানা মুবারক হলেন। তখন তিনি দ্রুত শয্যা থেকে উঠে দরজার দিকে গেলেন। হঠাৎ দেখলেন, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। তিনি উনার উটনী মুবারককে বসিয়ে অবতরণ মুবারক করছেন।” সুবহানাল্লাহ! (শারফুল মুস্ত্বফা)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উপলব্ধি করতে পারলেন, বুঝতে পারলেন যে, এখানে একটা বিশেষ কোনো বিষয় রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (৮)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার পূর্বাভাস মুবারক:
ঠিক এর মধ্যে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার একটি ঘটনা মুবারক সংঘটিত হয়েছিলেন। মহিলাদের একটি মজলিসে উনাকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিলো। সেখানে তিনি মুবারক নিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ একটা লোক মজলিসের বাইরে দূর থেকে ঘোষণা দিতে থাকলো—
يَا مَعْشَرَ نِسَاءِ قُرَيْشٍ إِنَّهُ سَيَكُونُ فِي بَلَدِكُنَّ نَبِيٌّ يُقَالُ لَهُ سيدنا مولانا أَحْمَدُ صلى الله عليه وسلم يُبْعَثُ بِرِسَالَةِ اللَّهِ فَأَيَّمَا امْرَأَةٍ اسْتَطَاعَتْ أَنْ تَكُونَ لَهُ زَوْجًا فَلْتَفْعَلْ فَحَصَبَتْهُ النِّسَاءُ وَقَبَّحْنَهُ وَأَغْلَظْنَ لَهُ وَأَغْضَتْ سيدتنا حضرت خَدِيجَةُ عليها السلام عَلَى قَوْلِهِ وَلَمْ تُعْرِضْ لَهُ فِيمَا عَرَضَ فِيهِ النِّسَاءُ وَوَقَعَ ذٰلِكَ فِي نَفْسِهَا
‘হে কুরাইশ মহিলারা! আপনারা জেনে রাখুন, অতিশীঘ্রই আপনাদের দেশে একজন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নবী—রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রকাশ হবেন। উনাকে ‘সাইয়্যিদুনা মাওলানা আহমাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলা হবে। তিনি মহান আল্লাহ পাক পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত রিসালাত মুবারকসহ প্রেরিত হবেন। আপনাদের কারো পক্ষে যদি সম্ভব হয়, তাহলে আপনারা উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র যাওজাতুম মুকাররমাহ্ (আহলিয়াহ্) হওয়ার জন্য কোশেশ করুন। আপনারা কামিয়াবী হাছিল করবেন। সুবহানাল্লাহ! এটা যখন সেই ব্যক্তি বললো, তখন অন্যান্য মহিলারা উত্তেজিত হয়ে লোকটাকে পাগল মনে করে কিছু ইট—পাটকেল নিক্ষেপ করলো, তার প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করলো এবং তাকে উদ্দেশ্য করে অনেক কঠোর কথা বললো। কিন্তু মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি শুনলেন, ফিকির করলেন। তিনি ঐ লোকটিকে উপেক্ষা করলেন না এবং তার ব্যাপারে অন্যান্য মহিলারা যা প্রদর্শন করেছে তিনি তা করেননি। এই ঘটনাটি উনার অন্তর মুবারক—এ গভীর প্রভাব ফেললো।’
এই সমস্ত অনেক ঘটনা ঘটে গেলো। আর এই দিকে ব্যবসা শেষে এসে হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে যা সংঘটিত হয়েছেন, সবকিছু খুলে বললেন। তিনি এই বিষয়টিও সরাসরি বললেন যে, অমুক একজন পাদ্রী হযরত নসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, তিনি হচ্ছেন আখিরী নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! তবে, মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত এবং রিসালাত মুবারক উনার বিষয়টি প্রকাশ হতে এখনো কিছু সময় বাকী আছে। এটা শুনে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি অত্যন্ত চিন্তিত হলেন। এই হিসেবে যেহেতু উনার নিকট বিভিন্ন দিক থেকে নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব আসতেছিলো।
ব্যবসা থেকে যেদিন প্রত্যাবর্তন করলেন, সেদিন দুপুর বেলার কথা। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বাড়িটা ছিলো দোতলা। অনেক বড় বাড়ি ছিলো। তিনি দোতলায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।
فَرَأَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ دَخَلَ وَهُوَ رَاكِبٌ عَلَى بَعِيرِهِ وَمَلَكَانِ يُظَلِّلَانِ عَلَيْهِ
‘এমতাবস্থায় তিনি দেখতে পেলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উটের উপর আরোহণ করে মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করছেন, তখন বিশেষ দুইজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উনাকে ছায়া মুবারক দিচ্ছেন।’ সুবহানাল্লাহ! (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (৭)
এরপর সেই পাদ্রী হযরত নসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার কাছে অনেক কিছু বলে তিনি বললেন, আপনি লক্ষণ দেখবেন। আপনি বুঝতে পারবেন। সেটাই হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেছেন, যেকোনো জায়গায় ব্যবসা করতে গেলে, মাল মনে হচ্ছে সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে এবং বেশি দামে বিক্রি করা সহজ হচ্ছে। অনেক লাভ হচ্ছে। এবং তিনি লক্ষ্য করলেন, খাদ্য খেতে গেলে অনেক বরকত। অল্প খাদ্য দিয়েই মনে হচ্ছে পেট ভরে যাচ্ছে। হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি আরো লক্ষ্য করলেন— যত প্রখর রৌদ্রই হোক না কেন, এই রৌদ্রের আলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুজাসসাম মুবারক—এ (জিসিম বা শরীর মুবারক—এ) পড়ে না। সুবহানাল্লাহ! তিনি লক্ষ্য করলেন,
ملكين يظلان رسول الله صلى الله عليه وسلم من الشمس
“দুইজন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা ছায়া দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে সূর্যের আলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর না পড়ে।” সুবহানাল্লাহ!
এরূপ অসংখ্য ঘটনা সংঘটিত হলো। ব্যবসা করে অনেক লাভ হলো। সুবহানাল্লাহ! (মাওয়িযাতুম মিন হযরত সুলত্বানিন নাছীর আলাইহিস সালাম, তারীখুল উমাম ওয়াল মুল্ক, সীরাত ও তরীখগ্রন্থসমূহ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (৬)
হযরত আবূ সা’দ নীসাপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘শারফুল মুস্ত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ নামক কিতাব উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
فَلَمَّا رَأَى الغَمَامَةَ فَزِعَ وَقَالَ مَا أَنْتُمْ قَالَ أَنَا مَيْسَرَةُ غُلَامُ خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ
فَدَنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِرًّا مِنْ مَيْسَرَةَ وَقَبَّلَ رَأْسَهُ وَقَدَمَيْهِ وَقَالَ آمَنْتُ بِكَ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ قَدْ عَرَفْتُ فِيكَ الْعَلَامَاتِ كُلَّهَا خَلَا خَصْلَةً وَاحِدَةً فَأَوْضِحْ لِي عَنْ كَتِفِكَ فَأَوْضَحَ لَهُ فَإِذَا هُوَ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ يَتَلَأْلَأُ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ يُقَبِّلُهُ وَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ النَّبِيُّ الأُمِّيُّ الَّذِي بَشَّرَ بِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ
فَإِنَّهُ قَالَ لَا يَنْزِلُ بَعْدِي تَحْتَ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا النَّبِيُّ الأُمِّيُّ الْهَاشِمِيُّ الْعَرَبِيُّ الْمَكِّيُّ صَاحِبُ الْحَوْضِ وَالشَّفَاعَةِ وَصَاحِبُ لِوَاءِ الْحَمْدِ
“পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন দেখলেন, একটি মেঘ (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছায়া দিচ্ছে), তখন তিনি চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনারা কারা?’ হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি জবাব দিলেন, ‘আমি হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গোলাম, খাদিম।’ তখন পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চুপেচুপে হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দৃষ্টি এড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক—এ (মাথা মুবারক—এ) এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক—এ (ক্বদম মুবারক—এ) বূছা দিলেন। আর বললেন, ‘আমি আপনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনলাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি— আপনি সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ব্যক্তিত্ব মুবারক, আপনার মহাসম্মানিত আলোচনা মুবারক মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন।’ এরপর পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার মাঝে মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত—রিসালাত মুবারক উনার সমস্ত আলামতই পেয়েছি; শুধু একখানা আলামত অবশিষ্ট রয়েছেন। আপনি দয়া করে আমাকে তা দেখার সুযোগ দান করুন।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক থেকে কাপড় মুবারক সরালেন। হঠাৎ পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুউজ্জ্বল ‘মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মহরে নুবুওওয়াত মুবারক’ দেখলেন, যা দীপ্তিময়ভাবে আলোকিত। তখন পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই ‘মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মহরে নুবুওওয়াত মুবারক’ উনার মধ্যে বূছা মুবারক দিয়ে বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ্ (মা’বূদ) নেই আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনিই সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নাবিয়্যুল উম্মী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মূল নবী—রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক নন; তাছাড়া সব। আপনার তাশরীফ মুবারক (দুনিয়ার যমীনে আগমন মুবারক) উনার সুসংবাদ দিয়েছিলেন হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি। তিনি বলেছেন, ‘আমার পরে এই গাছের নিচে আর কেউ অবস্থান করবেন না; একমাত্র সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নাবিয়্যুল উম্মী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মূল নবী—রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত, যিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক নন; এছাড়া সব। তিনি হাশিমী, আরাবী, মাক্কী। যিনি সম্মানিত হাওযে কাওছার মুবারক এবং শাফাআতে কুবারা মুবারক উনাদের মালিক। আর উনারই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক—এ (হাত মুবারক—এ) থাকবেন প্রশংসার পতাকা মুবারক’।” সুবহানাল্লাহ! (শারফুল মুস্ত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (৫)
অন্য বর্ণনায় এসেছেন,
فَخَرَجَ حَتَّى قَدِمَ الشَّامَ فَنَزَلَا فِي سُوقِ بُصْرَى فِي ظِلِّ شَجَرَةٍ قَرِيبٍ مِنْ صَوْمَعَةِ رَاهِبٍ يُقَالُ لَهُ نَسْطُورَا فَاطَّلَعَ الرَّاهِبُ إِلَى مَيْسَرَةَ وَكَانَ يَعْرِفُهُ فَقَالَ يَا مَيْسَرَةُ مَنْ هٰذَا الَّذِي نَزَلَ تَحْتَ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ فَقَالَ مَيْسَرَةُ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ الرَّاهِبُ مَا نَزَلَ تَحْتَ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ قَطُّ إِلَّا نَبِيٌّ أَفِي عَيْنَيْهِ حُمْرَةٌ قَالَ مَيْسَرَةُ نَعَمْ لَا تُفَارِقُهُ فَقَالَ الرَّاهِبُ هُوَ هُوَ وَهُوَ آخِرُ الْأَنْبِيَاءِ وَيَا لَيْتَنِي أُدْرِكُهُ حِينَ يُؤْمَرُ بِالْخُرُوجِ
“অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে) রওয়ানা হলেন এবং শাম দেশে পেঁৗছলেন। উনারা বছরার বাজারে অবতরণ করে একটি বৃক্ষের ছায়াতলে বিশ্রাম নিলেন, যা ছিলো একজন পাদ্রীর গির্জার নিকটে। সেই পাদ্রীর নাম ছিলো হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি। সেই পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জানালার ফাঁক দিয়ে তাকালেন এবং উনার পূর্ব পরিচিত হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন— ‘হে হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! এই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ব্যক্তিত্ব মুবারক তিনি কে, যিনি ঐ গাছের নিচে বিশ্রাম মুবারক নিচ্ছেন?’ হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন— ‘তিনি হচ্ছেন কুরাইশ গোত্রের একজন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ব্যক্তিত্ব মুবারক।’ পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘এই বৃক্ষের নিচে হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত কখনোই কেউ বিশ্রাম নেননি। বলুন তো— উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক—এ (চোখ মুবারক—এ) কি হালকা লালচে আভা রয়েছেন?’ হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘হঁ্যা; রয়েছেন, সব সময়ই তা বিদ্যমান থাকেন।’ পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন বললেন, ‘উনিই তিনি, তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র শেষ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আহ্! তিনি যখন মহাসম্মানিত হিজরত মুবারক করার জন্য মহাসম্মানিত ওহী মুবারক প্রাপ্ত হবেন, তখন আমি যদি উনাকে পেতাম। অর্থাৎ আমি যদি উনার আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত—রিসালাত মুবারক প্রকাশের সময়কাল পর্যন্ত জীবিত থাকতে পারতাম!”
পরবতীর্তে সেই পাদ্রী সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক—এ যেয়ে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মালাহাহ্ মুবারক—এ (কপাল মুবারক—এ) বূছা দিয়ে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি। আমাদের আসমানী কিতাবে আপনার বর্ণনা মুবারক রয়েছেন। আপনি হচ্ছেন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! তবে, আর কিছু দিন পর আপনার মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত—রিসালাত মুবারক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাবেন। আমি কিন্তু আপনার প্রতি সম্মানিত ঈমান আনলাম। সুবহানাল্লাহ!