https://al-ihsan.net/details/মহিলাদের-জন্য-হাত-পা-ও-চেহারা-আবৃত-করে-ঘর-থেকে-...
https://al-ihsan.net/details/ম....হিলাদের-জন্য-হাত-পা-

https://al-ihsan.net/details/মহিলাদের-জন্য-হাত-পা-ও-চেহারা-আবৃত-করে-ঘর-থেকে-...
https://al-ihsan.net/details/ম....হিলাদের-জন্য-হাত-পা-

https://al-ihsan.net/details/পিতা-মাতার-প্রতি-সন্তানের-দায়িত্ব-কর্তব্য-68612/6...
https://al-ihsan.net/details/প....িতা-মাতার-প্রতি-সন্ত

🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৮)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক পালনকারীর প্রতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ :
দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বলেন,
اَخْـبَـرَنِـىْ سَيِّدِىَ الْوَالِدُ قَالَ كُـنْتُ اَصْنَعُ فِـىْ اَيَّامِ الْـمَوْلِدِ طَعَامًا صِلَةً بِالنَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَفْتَحْ لِـىْ سَنَةً مِّنَ السِّنِـيْـنَ شَىْءٌ اَصْنَعُ بِهٖ طَعَامًا فَلَمْ اَجِدْ اِلَّا حِـمَّصًا مَقْلِـيًّا فَقَسَمْتُهٗ بَـيْـنَ النَّاسِ فَرَاَيْـتُـهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وبَـيْـنَ يَدَيْهِ هٰذِهِ الْـحِمَّصُ مُـبْـتَهِجًا بَشَّاشًا
অর্থ: “আমার সম্মানিত পিতা (হযরত আব্দুর রহীম মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি) আমাকে বলেছেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সম্মানিত নিসবত মুবারক হাছিল করার লক্ষ্যে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন অর্থাৎ প্রতি বছর সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ—এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ—এ) মাহফিলের ইন্তিজাম করে বিশেষ তাবারুকের ব্যবস্থা করতাম। এক বছর আমার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় আমি ছোলা ভাজা ব্যতীত আর অন্য কোনো তাবারুকের ব্যবস্থা করতে পারলাম না। (নিরুপায় হয়ে) আমি সেই ছোলা ভাজাগুলোই লোকজনের মধ্যে বিতরণ করে দিলাম। (আমি খুব চিন্তিত হলাম এবং আফসোস করতে থাকলাম যে, বিষয়টা কেমন হলো; এই সামান্য ছোলা ভাজা ব্যতীত বিশেষ কোনো তাবারুকের ব্যবস্থা করা গেলো না!) অতঃপর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অত্যন্ত সন্তুষ্ট, হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখলাম। আর উনার সামনে ছোলা ভাজাগুলো রাখা।” সুবহানাল্লাহ! (আদ্ দুর্রুছ ছামীন ৯ নং পৃষ্ঠা, আল ইন্তিবাহ ফী সালাসিলি আওলিয়ায়িল্লাহ্)

🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৭)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক—এ সম্মানিত বিশেষ নূর মুবারক এবং রহমত মুবারক বর্ষণ:
দ্বাদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ হযরত শাহ ওলীউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
ﻛُـﻨْﺖُ ﻗَﺒْﻞَ ذٰﻟِﻚَ ﺑِـﻤَﻜَّﺔَ ﺍﻟْـﻤُﻌَﻈَّﻤَﺔِ ﻓِـىْ ﻣَﻮْﻟِﺪِ ﺍﻟﻨَّﺒِـﻰِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ وَﺳَﻠَّﻢَ ﻓِـﻰْ ﻳَﻮْمِ وِﻻَدَﺗِﻪٖ وَﺍﻟﻨَّﺎسُ ﻳُﺼَﻠُّﻮْنَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِـﻰِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ وَﺳَﻠَّﻢَ وَﻳَﺬْﻛُـﺮُوْنَ اِرْﻫَﺎﺻَﺎتِهِ ﺍﻟَّﺘِـىْ ﻇَﻬَﺮَتْ ﻓِـىْ وِﻻَدَتِهٖ وَمَشَاهِدَهٗ ﻗَـﺒْﻞَ ﺑَﻌْﺜَـﺘِﻪٖ ﻓَﺮَاَﻳْﺖُ اَﻧْﻮَﺍرًا ﺳَﻄَـﻌَﺖْ دُﻓْﻌَﺔً وَﺍﺣِﺪَةً لَا اَقُوْلُ اِنِّـىْ اَدْرَكْـتُهَا ﺑِـﺒَﺼَﺮِ الْـجَسَدِ وَلَا اَﻗُﻮْلُ اَدْرَكْـتُهَا ﺑِـﺒَﺼَﺮِ ﺍﻟﺮُّوْحِ ﻓَﻘَﻂْ اَﻟﻠﻪُ اَعْلَمُ ﻛَـﻴْﻒَ كَانَ ﺍلْاَﻣْﺮُ ﺑَـﻴْـﻦَ ﻫٰﺬَﺍ وَذٰﻟِﻚَ فَتَاَﻣَّﻠْﺖُ ﺗِﻠْﻚَ الْاَﻧْﻮَارَ ﻓَﻮَﺟَﺪْﺗُّـﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﻗِـﺒَﻞِ ﺍﻟْـﻤَﻼَﺋِﻜَـﺔِ الْـمُوَﻛَّﻠِـﻴْـﻦَ ﺑِﺎَﻣْﺜَﺎلِ ﻫٰﺬِﻩِ ﺍﻟْـﻤَﺸَﺎﻫِﺪِ وَﺑِﺎَﻣْﺜَﺎلِ هٰذِهِ ﺍﻟْـﻤَﺠَﺎﻟِﺲِ فَرَاَيْتُ ﻳُـﺨَﺎﻟِﻄُ اَنْوَارُ ﺍﻟْـﻤَﻼَﺋِﻜَـﺔِ اَنْوَارَ ﺍﻟﺮَّﺣْـﻤَﺔِ
অর্থ: “একবার আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ—এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিন অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ) ‘মাওলিদুন্নবী’ অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্থান মুবারক—এ উপস্থিত ছিলাম। লোকজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পাঠ করতেছিলেন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রিসালতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে যে সকল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিদর্শন বা মু’জিযা শরীফসমূহ প্রকাশিত হয়েছিলেন, সেগুলো আলোচনা করতেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তখন আমি দেখতে পেলাম, সেখানে এক সাথে অনেক নূর মুবারক বিচ্ছুরিত হচ্ছেন। আমি বলি না যে, এটা আমি জিসমানী চোখে দেখেছি আর এটাও বলি না যে, তা আমি রূহানী চোখে দেখেছি। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই ভালো জানেন, বিষয়টি ছিলো এ দুটির মাঝামাঝি কেমন যেন একটি অবস্থা! তখন আমি ঐ নূর মুবারকসমূহ নিয়ে গভীরভাবে ফিকির করলাম। অবশেষে আমি বুঝতে পারলাম— এগুলো হচ্ছেন ঐ সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নূর মুবারক, যে সকল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এ ধরণের মাহফিল মুবারক এবং মজলিস মুবারক উনাদের খিদমত মুবারক—এ নিয়োজিত দায়িত্বশীল হিসেবে উপস্থিত হন। সুবহানাল্লাহ! তারপর আমি দেখলাম— ‘সম্মানিত রহমত মুবারক উনার নূর মুবারক’ এবং ‘হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নূর মুবারক’ মিশে একাকার হয়ে গিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফুয়ূযুল হারামাইন ৮০—৮১ নং পৃষ্ঠা)

🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৬)
সেটাই বললাম যে, আমরা তো কিছুই করিনি। (সামনে আরো কত সুন্দরভাবে ও ব্যাপক আকারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ পালন করা যায়) শুধু (সেই বিষয়ে) আলোচনা করতেছি। আলোচনা করতেছি, তাতেই খুশি হয়েছেন। তাহলে করলে আরো কতো খুশি হবেন।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)
তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার কতো বেমেছাল ফযীলত মুবারক, সেটা সমস্ত সৃষ্টির চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক—এ মাল—জান সমস্ত কিছু দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গোলামী মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৫)
মানে (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি এবং মহান আল্লাহ পাক উনি অর্থাৎ উনারা খুব খুশি। দোয়া করবেন আমার জন্য। উনি পিছন দিয়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। আমি বললাম, ‘আপনি করেন কি এটা? আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন। আপনি একজন জলীলুল কদর রসূল।’ উনি বললেন, হঁ্যা; তবে আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন।’ আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এতো কিছু করতেছি, এ জন্য মহান আল্লাহ পাক উনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অর্থাৎ উনারা খুব সন্তষ্ট। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) সেটাই বললাম, প্রকৃতপক্ষে উনারা সব জানেন, দেখেন, শুনেন। খুশি হবেন না কেন? আমরা করি; খুশি হবেন। যে বাহনে আমরা জিহাদ করার জন্য যাচ্ছিলাম, ওই বাহনে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনিও ছিলেন। পিছন দিয়ে উনি এসে আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!) আমি উনাকে বললাম, ‘ছেড়ে দেন আমাকে।’ উনি খুব বিনয় প্রকাশ করছেন। দোয়া চাচ্ছেন। আমি বললাম— এভাবে আমার কাছে দোয়া চান কেন? উনার বক্তব্য হলো, আমরা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এতো কিছু করতেছি, এজন্য মহান আল্লাহ পাক উনি এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি অর্থাৎ উনারা অনেক খুশি। সেই মুহাব্বতে এসে উনি আমাকে জড়িয়ে ধরেছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৪)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালনে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিশেষ সন্তুষ্টি মুবারক প্রকাশ:
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১৯শে সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ লাইলাতুল আরবিয়া শরীফ (বুধবার রাতে) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক—এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আজকে একটা ঘটনা ঘটেছে। বলি তোমাদের ঈমান—আক্বীদার জন্য সুবিধা হবে। দেখলাম— একটা জিহাদের মতো। মহান আল্লাহ পাক উনি হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম উনাকে দায়িত্ব দিলেন যাতে আমাদের কামিয়াবী হাছিল হয়। তারপর দেখলাম— হযরত ফেরেস্তা আলাইহিমুস সালাম উনারা সামনের বাহনে করে যাচ্ছেন আমাদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া ও জিহাদে কামিয়াবী লাভের লক্ষ্যে। আমরা দ্বিতীয় বাহনে রয়েছি। তখন দেখতে পেলাম, আমাদের বাহনের মাঝামাঝি স্থানে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি আছেন। তিনি আস্তে আস্তে পিছন দিক থেকে বাম দিক দিয়ে এসে আমাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছেন। দেখা গেলো, খুব বিনয় প্রকাশ করছেন। আমি বললাম, ‘আপনি এটা করেন কী?’ উনি আমাকে বললেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন।’ আমি বললাম, ‘আরে আমি আপনার জন্য দোয়া করবো; না আপনি আমার জন্য দোয়া করবেন?’ উনি খুব জড়িয়ে ধরেছেন। উনার মূল বক্তব্য হলো, আমরা উনার ভাষায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য অনেক কিছু করতেছি (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করতেছি)। এজন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাদের প্রতি অনেক খুশি হয়েছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনি খুব খুশি হওয়ার কারণে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি এসে আমার কাছে দোয়া চাচ্ছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬৩)
(মুহম্মদ আবুল ফাত্হ বায়ানূনী তিনি বলেন,) দাদা ঐ ব্যক্তির কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে পোশাক পরিধান করে সংঘটিত বিষয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য দ্রুত বের হয়ে ঐ ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং (উনাকে নিয়ে ঘরে) ফিরে এসে উনার পরিচয় জানতে চাইলেন। ঐ ব্যক্তি পরিচয় দিলেন যে, তিনি হালবের একজন বিখ্যাত ব্যবসায়ী। (দাদা) আশ্চর্য হয়ে ঐ ব্যক্তি যা করেছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন ঐ ব্যক্তি দাদাকে বললেন, ‘হে শায়খ! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! এই রাত্র ব্যতীত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি আমার জীবনে কখনো স্বপ্নে দেখিনি। আমি (আজ রাতে) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখেছি যে, তিনি আমাকে অত্যন্ত কঠিনভাবে তিরস্কার করে বলছেন, ‘হে ব্যক্তি! তুমি কিভাবে তোমার বাড়িতে ঘুমাতে পারো? অথচ শায়খ ঈসা বায়ানূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কান্না করছেন, ঘুমাতে পারছেন না। কেননা উনার অভ্যাস অনুযায়ী তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) মাসে যে মাহফিল মুবারক করতেন তাতে খরচ করার জন্য কোনো কিছু পাচ্ছেন না।’ ঐ ব্যক্তি বলেন, অতঃপর আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্নে দেখে সৌভাগ্যবান হিসেবে ঘুম থেকে জাগ্রত হই। আমি পুনরায় ঘুমাতে সক্ষম হইনি। এরপর আমি আমার এক প্রতিবেশীকে জাগ্রত করলাম যার নিকট ভারবাহী পশু ছিলো। আমি তাকে নিয়ে আমার ব্যবসাকেন্দ্রে গিয়ে যা প্রস্তুত করতে পেরেছি, তা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি। এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দ্বারা দাদা প্রভাবিত হলেন। এই স্বপ্ন মুবারক উনার দীর্ঘ দিন ধরে বহন করা দুঃখ—কষ্টকে দূর করে দিলো। সুবহানাল্লাহ! এই স্বপ্ন মুবারক উনার কারণে তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন। আর তিনি উনার অভ্যাস অনুযায়ী মাওলিদ শরীফ উনার রাতে অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ উনার রাতে খাদ্য প্রস্তুত করে বিশেষ মাহফিল মুবারক উনার ইন্তিজাম করেন। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
মদীনা শরীফ—এ উনার বিছাল শরীফ পর্যন্ত তিনি মাওলিদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার রাতে ওলীমাহ্ বা মেহমানদারির ব্যবস্থা করার বিষয়ে ইস্তিকামত থাকেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জান্নাতুল বাক্বী শরীফ—এ উনার দাফন সম্পন্ন করা হয়।” সুবহানাল্লাহ!

🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (৬২)

‘উনার আদত প্রতি বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ উনার সম্মানার্থে বিশেষভাবে খাবারের ব্যবস্থা করে মুহিব্বীন—আশিকীন, ধনি—গরীব সবাইকে মেহমানদারী করার মাধ্যমে মাহফিল মুবারক করা এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করা’ উনার অনীচ্ছা সত্ত্বেও উনার এই আদত মুবারক এবং খুশি মুবারক প্রকাশের বিষয়টি এ বছর পরিবর্তন হতে যাচ্ছে অর্থাৎ এ বছর তা করা যাচ্ছে না বিধায়, অনেক বড় চিন্তা এবং কঠিন দুঃখ, কষ্ট, বিষণ্ণতা উনাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। উপলক্ষ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক উনার সময় যতোই নিকটবর্তী হচ্ছিলেন, ততোই তিনি বাচ্চা শিশুর মতো কান্না করছিলেন। এমনকি উনার শরীরে (চেহারায়) চিন্তার ছাপ ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাচ্ছিলেন; যেমনটি আমার সম্মানিত পিতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। কিন্তু (জাময়্যিাতুল মাওলিদ সংগঠনের সদস্যগণ) উনারাও উনাকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করতে সক্ষম ছিলেন না। দুঃখ, কষ্ট, বিষণ্ণতা উনার চারপাশের সবাইকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। মাহফিল মুবারক উনার নির্দিষ্ট সময়ের দুই অথবা তিন দিন পূর্বে গভীর রাতে জুবাইলার ‘মসজিদে আবী যর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু’ উনার যেই বাড়িতে তিনি থাকতেন সেই বাড়ির দরজার কড়ায় নাড়া পড়লো। দরজা খোলার জন্য উনার একজন ছেলে বের হলেন। তখন উনাকে এক ব্যক্তি অবাক করলেন, যাঁর সাথে বিভিন্ন ধরণের খাদ্য—দ্রব্যসহ একটি পশু ছিলো। ঐ ব্যক্তি খাদ্য—দ্রব্য নামাতে নামাতে বলছিলেন, এটা হযরত শায়খ ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জন্য।