এমন ৩টি মারাত্মক শব্দ রয়েছে, যা মানুষের জীবন থেকে সব নেয়ামত ছিনিয়ে নেয় এবং ধ্বংস ডেকে আনে।

ইতিহাসে যে তিনজন এই শব্দগুলো প্রথম বলেছিল, এই শব্দগুলোই তাদের চরম পতনের কারণ হয়েছিল।

​প্রথম শব্দ: "আমি"

ফেরেশতাদেরকে যখন হযরত আদম আ. এর উদ্দেশ্যে সেজদা করতে বলা হলো, ইবলিস তখন বলেছিল,

"আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে।" (সূরা আল-আরাফ: ১২)

শয়তান আল্লাহর নির্দেশ পালনের বদলে অহংকার করে বলেছিল "আমি উত্তম!"

এই 'আমি' শব্দটির কারণেই সে চিরকালের জন্য জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল।

যখনই আপনি বলেন "আমি ওর চেয়ে ভালো, আমি বেশি বুদ্ধিমান", তখন আপনি মূলত ইবলিসের ওই অহংকারেরই পুনরাবৃত্তি করেন।

তাই 'আমি' না বলে বলুন: "সবই আল্লাহর তাওফিক ও দয়া।"

​দ্বিতীয় শব্দ: "আমার"

ফেরাউন অহংকার করে বলেছিল,

"মিসরের রাজত্ব কি আমার নয়? আর এই নদীগুলো কি আমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে না?" (সূরা যুখরুফ: ৫১)

রাজত্ব যে আল্লাহর দান, তা ভুলে সে বলেছিল "আমার"। এই 'আমার' শব্দটিই তাকে সাগরে ডুবিয়ে মেরেছিল।

যখনই আপনি বলেন, "আমার বাড়ি, আমার গাড়ি, আমার ডিগ্রি বা আমার কোম্পানি" এবং আল্লাহকে ভুলে যান, তখন আপনি ফেরাউনের কথারই প্রতিধ্বনি করেন।

তাই 'আমার' না বলে বলুন, "এগুলো আমার রবের করুণা ও রিজিক।"

​তৃতীয় শব্দ: "আমার নিজের যোগ্যতায়"

বিশাল সম্পদের মালিক কারুন বলেছিল,

"এসব সম্পদ তো আমি আমার নিজের জ্ঞানের (যোগ্যতার) জোরেই পেয়েছি।" (সূরা কাসাস: ৭৮)

যখন তাকে বলা হলো এগুলো আল্লাহর দান, তখন সে তার নিজের বুদ্ধি ও যোগ্যতার বড়াই করল। ফলে এই অহংকার তাকে ও তার রাজপ্রাসাদকে মাটির নিচে ধসিয়ে দিল!

যখনই আপনি বলেন, "আমি নিজের বুদ্ধি দিয়ে এত টাকা কামিয়েছি", তখন আপনি কারুনের স্বভাবই অনুকরণ করেন।

যে ব্যক্তি কোনো নেয়ামত পাওয়ার পর তা নিজের যোগ্যতা বা চেষ্টার দিকে সম্পৃক্ত করে, তার কাছ থেকে সেই নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

আর যে তা আল্লাহর দান বলে স্বীকার করে, তার নেয়ামত স্থায়ী হয়।

আজ থেকে 'আমি' না বলে 'আল্লাহ' বলুন। 'আমার' না বলে 'আল্লাহর দেওয়া' বলুন। 'আমার কাছে আছে' না বলে 'আল্লাহর কাছে আছে' বলুন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তর থেকে 'আমি' এবং 'আমার'-এর অহংকার চিরতরে দূর করে দিন।

জীবনের প্রতিটি অর্জনে রবের শুকরিয়া আদায় করার এবং সব নেয়ামতকে কেবল আল্লাহর দান বলে বিশ্বাস করার তাওফিক দিন। আমিন
লেখা সংগ্রহ

image

ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক!
ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন হচ্ছে ২২শে জুমাদাল উলা শরীফ মুবারক হো! জিন্দাবাদ


আজ দিবাগত রাতটিই হচ্ছে মহা সম্মানিত, মহা পবিত্র ২২শে জুমাদাল উলা শরীফ রাত্র মুবারক, সুবহানাল্লাহ।
নুরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হূযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন আল উলা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ক্বুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবত এ আযীমাহ শরীফ(নিকাহ শরীফ) সুসম্পন্ন হয়েছিলো, সুবহানাল্লাহ। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নুরে মুজাসসাম হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কত খুশী হয়েছিলেন।তাই আমাদের সকল উম্মতের দায়ীত্ব হলো পারিবারিক ভাবে সবাইকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে খুশী প্রকাশের আয়োজন করা।

ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক! ২২শে জুমাদাল উলা শরীফ মুবারক হো! জিন্দাবাদ

সম্মানিত সকল পীর ভাইদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে আজ দিবাগত রাতটিই হচ্ছে মহা সম্মানিত, মহা পবিত্র ২২শে জুমাদাল উলা শরীফ রাত্র মুবারক, সুবহানাল্লাহ

নুরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, হূযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মুমিনীন আল উলা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ক্বুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিসবত এ আযীমাহ শরীফ দিবস সুবহানাল্লাহ

কুল কায়িনাত তথা সকল আশেকীন, জাকেরীন, গোলামদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ বা ফালইয়াফরাহু দিবস। এই দিবসের সম্মানার্থে মহা সম্মানিত রাজারবাগ দরবার শরীফে বিশেষ মাহফিল, মীলাদ শরীফ, মকবুল মুনাজাত এবং শাহী তবারুক এর ব্যবস্হা করা হয়েছে।

উক্ত আজিমুশ্বান বরকত পূর্ন মাহফিলে অংশগ্রহণে লাগবে ইজাযত নামা। যারা এখনোও সংগ্রহ করেননি অনতিবিলম্বে তা সংগ্রহ করুন এবং বিশেষ মাহফিল এ অংশগ্রহণ করে বিশেষ নিয়ামত, সন্তুষ্টি, রেযামন্দি হাসিল করুন

image

💔 স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর নারীর জন্য ইদ্দত কেন, পুরুষের জন্য কেন নয়?
নারীকে কেন তিন ঋতুচক্র বা নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয়? পুরুষ কেন তালাকের পরই অন্য বিয়ে করতে পারে? ইসলামে কি নারী-পুরুষের জন্য আলাদা নিয়ম? এর পেছনে কি শুধু গর্ভধারণের বিষয়, নাকি আরও গভীর প্রজ্ঞা রয়েছে?

📖 আসুন, পবিত্র কোরআন, সহিহ হাদিস এবং আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে বিষয়টি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি।

প্রথমেই একটি ভুল ধারণা সংশোধন করা প্রয়োজন।

⚠️ নারীর ইদ্দত সব ক্ষেত্রে ৯০ দিন নয়।

ইসলামে নারীর অবস্থা অনুযায়ী ইদ্দতের সময় আলাদা

🌸 ১. ইদ্দত কী এবং কেন এই বিধান?

ইদ্দত হলো স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ অথবা স্বামীর মৃত্যুর পর নারীর জন্য শরিয়ত নির্ধারিত একটি অপেক্ষার সময়।

এই সময়ের মধ্যে নারী নতুন বিয়ে করতে পারেন না।

📖 কোরআনের দলিল

সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২৮।

আল্লাহ বলেন, তালাকপ্রাপ্তা নারীরা নিজেদের তিন কুরূ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং তাদের গর্ভে আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, তা গোপন করা তাদের জন্য বৈধ নয়।

এই আয়াতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাওয়া যায়:

১. নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা।
২. গর্ভধারণের বিষয়টি গোপন না করা।

🔬
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

নারীর শরীরে প্রতি মাসে হরমোনের প্রভাবে একটি প্রজননচক্র চলে। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হয়, যাকে Ovulation বলা হয়।

এই ডিম্বাণু পুরুষের শুক্রাণুর সঙ্গে মিলিত হলে নিষেক (Fertilization) হতে পারে। এরপর ভ্রূণ জরায়ুর দেয়ালে স্থাপিত হলে গর্ভধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।

গর্ভধারণ হলে শরীরে hCG নামের একটি হরমোন তৈরি হয়, যা আধুনিক প্রেগন্যান্সি টেস্টের মাধ্যমে শনাক্ত করা যায়।

অর্থাৎ, নারীর গর্ভে সন্তান এসেছে কি না, তা নির্ধারণের একটি বাস্তব জৈবিক ভিত্তি রয়েছে।

এ কারণেই ইদ্দতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিকমত হিসেবে গর্ভধারণ ও বংশপরিচয় সংরক্ষণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়।

🌸 ২. নারীর ইদ্দত তিন ঋতুচক্র কেন?

📖 কোরআনের দলিল

সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২৮।

এখানে আল্লাহ তিন কুরূ অপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে আরবি 'কুরূ' শব্দটির অর্থ নিয়ে ফিকহের মাজহাবগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

- হানাফি মাজহাবে তিনটি মাসিক ঋতুস্রাব।
- শাফেয়ি ও মালেকি মাজহাবে তিনটি পবিত্রতার সময়কাল।

বাংলাদেশে প্রচলিত হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সাধারণভাবে তিনটি মাসিক ঋতুচক্রের হিসাব অনুসরণ করা হয়।

🔬
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

নারীর মাসিক চক্রের সঙ্গে ডিম্বস্ফোটন, জরায়ুর আস্তরণের পরিবর্তন এবং হরমোনের ওঠানামা জড়িত।

সাধারণ ২৮ দিনের চক্রে পরবর্তী মাসিকের প্রায় ১৪ দিন আগে ডিম্বস্ফোটন হতে পারে। তবে সবার চক্র এক রকম নয়।

গর্ভধারণ হলে hCG হরমোনের মাত্রা বাড়তে থাকে এবং সাধারণত মাসিক বন্ধ হওয়ার পর প্রেগন্যান্সি টেস্টে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সতর্কতা রয়েছে:

তিনটি ঋতুচক্র পার হওয়াই গর্ভধারণ শনাক্ত করার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের বাধ্যতামূলক সময় নয়। আধুনিক পরীক্ষায় তার অনেক আগেই গর্ভধারণ শনাক্ত করা সম্ভব।

সুতরাং তিন কুরূর বিধানকে শুধু একটি মেডিকেল পরীক্ষার সময়সীমা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। এটি আল্লাহর নির্ধারিত শরিয়তি বিধান, যার মধ্যে গর্ভধারণ ও বংশপরিচয় ছাড়াও অন্যান্য হিকমত রয়েছে।

🌸 ৩. গর্ভবতী নারীর ইদ্দত সন্তান প্রসব পর্যন্ত কেন?

📖 কোরআনের দলিল

সূরা আত-তালাক, আয়াত ৪।

আল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন:

গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত।

এখানে তিন মাস বা ৯০ দিনের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

🔬
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

গর্ভধারণ একটি চলমান জৈবিক প্রক্রিয়া। নিষেকের পর ভ্রূণের বৃদ্ধি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বিকাশ এবং মায়ের শরীরে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তন ঘটতে থাকে।

এই পুরো সময় সন্তান মায়ের গর্ভে থাকে।

তাই গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে শুধু তিনটি মাসিক চক্র বা তিন মাস অপেক্ষার প্রশ্ন আসে না। গর্ভাবস্থার সমাপ্তি অর্থাৎ সন্তান প্রসব পর্যন্ত ইদ্দত নির্ধারিত হয়েছে।

📚 সহিহ হাদিসের প্রমাণ

সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৩১৮।

সুবাইয়া আল-আসলামিয়া (রা.)-এর স্বামী মারা যান, যখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। কিছুদিন পর তিনি সন্তান প্রসব করেন।

এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বিয়ে করার অনুমতি দেন।

অর্থাৎ, গর্ভবতী নারীর ইদ্দত সন্তান প্রসবের মাধ্যমে শেষ হওয়ার বিষয়টি হাদিসেও স্পষ্ট হয়েছে।

🌸
৪. স্বামী মারা গেলে নারীর ইদ্দত চার মাস দশ দিন কেন?

এটি তালাকের ইদ্দত থেকে আলাদা একটি বিধান।

📖
কোরআনের দলিল


সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩৪।

আল্লাহ বলেন, যেসব নারীর স্বামী মারা যায়, তারা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে।

🔬 বৈজ্ঞানিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা

স্বামীর মৃত্যু শুধু একটি বৈবাহিক সম্পর্কের সমাপ্তি নয়। এটি একজন নারীর জীবনে গভীর শোক, মানসিক পরিবর্তন এবং পারিবারিক বাস্তবতার পরিবর্তন নিয়ে আসে।

শোকের সময় মানুষকে মানসিকভাবে পরিস্থিতি গ্রহণ করতে এবং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সময় লাগতে পারে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে:

আধুনিক মনোবিজ্ঞান এমন কোনো সর্বজনীন বৈজ্ঞানিক সূত্র দেয় না যে প্রত্যেক মানুষের শোক কাটতে ঠিক চার মাস দশ দিন লাগে।

তাই এই নির্দিষ্ট সময়কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আবিষ্কার বলা যাবে না। এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। এর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের মর্যাদা, শোক প্রকাশ এবং পারিবারিক ও বংশপরিচয়সংক্রান্ত বিবেচনার হিকমত রয়েছে।

📚 আর গর্ভবতী বিধবার ক্ষেত্রে সন্তান প্রসব পর্যন্ত ইদ্দত চলবে—এ বিষয়ে সূরা আত-তালাক ৬৫:৪ এবং সহিহ বুখারি ৫৩১৮-এর ঘটনা দলিল।

🌸
৫. তালাকের পর পুনর্মিলনের সুযোগ কেন রাখা হয়েছে?

📖
কোরআনের দলিল


সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২৮।

আল্লাহ বলেছেন, স্বামীরা ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার রাখে, যদি তারা সংশোধন ও পুনর্মিলন চায়।

এটি বিশেষভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় তালাকের রজঈ ইদ্দতের বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

🔬 মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা

মানুষ অনেক সময় রাগ, অভিমান, পারিবারিক চাপ অথবা আবেগের বশবর্তী হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

বিচ্ছেদের পর একটি নির্দিষ্ট সময় উভয় পক্ষকে পরিস্থিতি নিয়ে ভাবার, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার এবং সম্পর্ক সংশোধনের সুযোগ দিতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে নির্যাতন বা অন্যায়ের শিকার কাউকে জোর করে সংসারে ফিরতে হবে।

ইসলামের উদ্দেশ্য হলো ন্যায়বিচার ও সুন্দর সমাধান, কারও ওপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়া নয়।

🌸
৬. তাহলে পুরুষের ইদ্দত নেই কেন?

এবার আসি মূল প্রশ্নে।

নারীর শরীরে গর্ভধারণ ঘটে। পুরুষের শরীরে গর্ভধারণের কোনো প্রক্রিয়া নেই।

তাই বিচ্ছেদের পর আগের স্বামীর সন্তান নারীর গর্ভে রয়েছে কি না, সেই অনিশ্চয়তা নারীর ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক।

🔬
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা


পুরুষের শুক্রাণু নারীর ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়ে ভ্রূণ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু নিষেক, ভ্রূণের স্থাপন এবং গর্ভধারণের পুরো প্রক্রিয়াটি নারীর শরীরে ঘটে।

ফলে পুরুষের ক্ষেত্রে আগের স্ত্রীর গর্ভে সন্তান আছে কি না, তা জানার জন্য পুরুষের নিজস্ব শরীরে কোনো অপেক্ষার সময় প্রয়োজন হয় না।

এটাই নারী ও পুরুষের ইদ্দতের বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক পার্থক্য।

তবে পুরুষের ইদ্দত নেই বলে তার জন্য বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, এমন ধারণাও ভুল।

যেমন:

- কোরআনের সূরা আন-নিসা, আয়াত ২৩ অনুযায়ী একই সময়ে দুই বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখা নিষিদ্ধ।
- রজঈ তালাকের ইদ্দত চলাকালে আগের স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের বিশেষ আইনি অবস্থান বজায় থাকে।
- তালাকের পরও পুরুষের ওপর দেনমোহর, সন্তানের ভরণপোষণ ও অন্যান্য শরিয়তি দায়িত্ব থাকে।

অর্থাৎ, পুরুষের জন্য নারীর মতো নির্দিষ্ট ইদ্দত নেই, কিন্তু তার দায়িত্ব ও বিধিনিষেধ রয়েছে।

🌸 ৭. যেসব ক্ষেত্রে নারীর ইদ্দত পালন করতে হয় না

📖 সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৪৯-এ আল্লাহ বলেছেন:

যদি বিয়ের পর দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের আগেই তালাক দেওয়া হয়, তাহলে ওই নারীর ওপর ইদ্দত পালন বাধ্যতামূলক নয়।

🔬 ব্যাখ্যা

এক্ষেত্রে স্বাভাবিক দাম্পত্য সম্পর্ক ও তার মাধ্যমে গর্ভধারণের সম্ভাবনা তৈরি হয়নি। তাই সাধারণ তালাকের ইদ্দতের বিধান প্রযোজ্য হয় না।

এটি দেখায়, ইসলামে ইদ্দতের বিধান পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত।

⚠️
৮. বিজ্ঞানের নামে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইদ্দত নিয়ে অনেক ধরনের দাবি দেখা যায়।

যেমন:

❌ আগের স্বামীর শুক্রাণু নারীর জরায়ুতে ৯০ দিন থেকে যায়।

❌ জরায়ু পরিষ্কার হওয়ার জন্যই তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়।

❌ তিন মাসের আগে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও গর্ভধারণ শনাক্ত করতে পারে না।

এগুলোকে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সত্য বলা যায় না।

✅ বাস্তবতা হলো, আধুনিক প্রেগন্যান্সি টেস্ট hCG হরমোন শনাক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রের FDA-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ দিনের নিয়মিত মাসিক চক্রে ডিম্বস্ফোটনের ১২–১৫ দিন পর প্রস্রাবে এই হরমোন শনাক্ত হতে পারে।

তবে মাসিক অনিয়মিত হলে বা পরীক্ষা খুব তাড়াতাড়ি করলে ফলস নেগেটিভ আসতে পারে।

অর্থাৎ, বিজ্ঞান দিয়ে ইদ্দতের কিছু প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করা সম্ভব, কিন্তু শরিয়তের নির্ধারিত সময়সীমাকে শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষার সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।

❤️
৯. তাহলে ইদ্দতের মূল শিক্ষা কী?

ইদ্দত শুধু নারীর জন্য একটি অপেক্ষার সময় নয়। এর মধ্যে রয়েছে:

১. আল্লাহর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য।

২. গর্ভধারণ ও বংশপরিচয়ের সুরক্ষা।

৩. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার সুযোগ।

৪. বৈবাহিক সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষা।

৫. স্বামীর মৃত্যুর পর শোক ও সামাজিক-ধর্মীয় দায়িত্ব পালন।

৬. সন্তান ও পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইদ্দতকে নারীর জন্য শাস্তি বা অপমান হিসেবে দেখা যাবে না। একইভাবে পুরুষের ইদ্দত নেই বলে তাকে সব দায়িত্ব থেকে মুক্ত ভাবাও যাবে না।

আল্লাহর বিধানের সব হিকমত মানুষ হয়তো পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। তাই যেখানে বিজ্ঞান কোনো বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারে, সেখানে তা গ্রহণ করব; আর যেখানে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, সেখানে মনগড়া বৈজ্ঞানিক দাবি করব না।

📖
তথ্যসূত্র


১. পবিত্র কোরআন — সূরা আল-বাকারা: ২২৮।
২. পবিত্র কোরআন — সূরা আত-তালাক: ৪।
৩. পবিত্র কোরআন — সূরা আল-বাকারা: ২৩৪।
৪. পবিত্র কোরআন — সূরা আল-আহযাব: ৪৯।
৫. সহিহ বুখারি — হাদিস ৫২৫১ ও ৫৩১৮।
৬. American College of Obstetricians and Gynecologists (ACOG)।
৭. US Food and Drug Administration (FDA) — Pregnancy Tests।

🤲 আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক দ্বীনি জ্ঞান দান করুন।
লেখা সংগ্রহ

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক

৪৩ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বড় ইস্তিঞ্জা মুবারক نُوْرُ الْغَيْبِ مُبَارَكٌ নূরুল গইব মুবারক
৪৪ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র অঙ্গ-প্রতঙ্গ মুবারক نُوْرُ الرِّسَالَةِ مُبَارَكٌ নূরুর রিসালাহ্ মুবারক
৪৫ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাবাস্সুম মুবারক (মুচকি হাসি মুবারক) نُوْرُ التَّقْرِيْرِ مُبَارَكٌ নূরুত তাক্বরীর মুবারক

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে বর্ণনা মুবারক

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪২ হিজরী শরীফ উনার ১লা মুহররমুল হারাম শরীফ লাইলাতুল জুমু‘আহ শরীফ (জুমু‘আহ্বার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। উনার সাথে আমার যিয়ারত হয়েছে বুঝলে? কোথায় যিয়ারত হয়েছে? আমি দেখলাম উনাকে, ত্বহারাত ও ছমাদিয়াতের মাক্বামে উনি বসে রয়েছেন। উনাদের খিদমতে উনি বসে রয়েছেন, সামনে। ওই যে ২৩ জন রয়েছেন, উনাদের বলয়ের বাইরে, ত্বহারাত ও ছমাদিয়াতের মাক্বামে উনি বসে রয়েছেন। এটাই দেখলাম কিছুদিন আগে। আর কাউকে দেখিনি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মী বা’দা উম্মী আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত সেটাইতো দেখলাম। সেটাই প্রমাণ হলো।” (সুবহানা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
তাহলে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমতুল্লিল আলামীন, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কত বেমেছাল মহাসম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত ওয়ালিদাইন শরীফাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের খুশি মুবারক প্রকাশ

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪২ হিজরী শরীফ উনার ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ (শনিবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি মহাসম্মানিত দো‘আ মুবারক উনার মধ্যে সবসময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বা আলাইহিস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মা আলাইহাস সালাম উনাদের দুইজনের বিষয়টি এক সাথে বলে থাকি। আজকে আমি মহাসম্মানিত দো‘আ মুবারক উনার মধ্যে প্রথমে বলেছিলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বা আলাইহিস সালাম। তখন আমাকে বলা হলো, দুইজনেরটা বলতে হবে। আমি দুইজনেরটা বললাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বা আলাইহিস সালাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আম্মা আলাইহাস সালাম দুইজন। এক সাথে বলতে হবে। আমি বললাম, উনারা দুইজন খুশি হলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনিও খুশি হলেন। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহ্লি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!”

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (২)

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪১ হিজরী শরীফ উনার ১৯শে যিলহজ্জ শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “এখন উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- উনাদের মুহব্বত, মা’রিফাত, ছোহবত, নিছবত, ক্বুরবত মুবারক হাছিল করার জন্য কোশেশ করা। আর এই কোশেশ করাটাই বড় রিয়াযাত-মাশাক্কাত। অর্থাৎ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে মুহব্বত-মা’রিফত মুবারক হাছিল করা। অনেক বছর যাবৎ এই কোশেশ করতেছি আমি। ১৯৭৩-১৯৭৪ সাল থেকে প্রায় ৪৫-৪৬ বছর যাবৎ। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
এই বৎসর এই যিলহজ্জ শরীফ মাসেই (১৪৪১ হিজরী শরীফ) কয় তারীখে? মনে হয় প্রথম ইছনাইনিল আযীম শরীফ হতে পারে। প্রথম উনাদের সাথে (বিশেষ সাক্ষাৎ মুবারক-এ) আমার মোটামোটি (বিশেষ) কিছু আলোচনা হয়েছে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম (উনাদের সরাসরি সাক্ষাৎ মুবারক-এ) উনাদেরকে কী (বলে) সম্ভোধন করতে হবে? এখন বলো দেখি, কী (বলে) সম্ভোধন করতে হবে? আমি কী (বলে) সম্ভোধন করবো? আমি বললাম- জাদ্দী, জাদ্দাতী। উনারা খুশি হয়ে গেলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) উনাদের সাথে কথা বললে, কী বলে সম্ভোধন করতে হবে? এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তো ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনার অন্য কিছু নেই। আর অন্য কিছু বলা ঠিক হবে না। উনাদের সামনে যখন গেলাম, তখন আমি উনাদেরকে কী বলবো তাহলে? তখন আমি বললাম- ইয়া জাদ্দী! ইয়া জাদ্দাতী! উনারা খুশি হয়ে গেলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
আর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে কী বলতে হবে? কারণ, বানাতু রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাও তো মা। সইয়্যিদাতুন নিসা আহলিল জান্নাহ্ হযরত যাহ্রা আলাইহাস সালাম উনি যদিও মূল। তো উনি তো মা। তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে কী বলতে হবে? আমি বললাম- উম্মে কুবরা আলাইহাস সালাম। উনারা হলেন- উম্মে কুবরা আলাইহাস সালাম। আর বানাতু রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা হলেন উম্মী আলাইহাস সালাম। কিন্তু ছুগরা তো বলা যায় না। আদবের খেলাফ। উনারা সবাই খুশি হলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) তাহলে হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে কী বলতে হবে? আমি উনাদেরকে বললাম- খ¦লু (মামা)। উনারা সবাই খুশি হয়ে গেলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
উনারা কাউকে পরওয়া করেন না। উনারা কারো মুহতাজীও করেন না অর্থাৎ কারো তোয়াজ করেন না। কারণ, উনারা নিজেরাই মর্যাদাবান। উনাদের কাছে তো কারো কোনো মর্যাদা নেই। বরং উনাদের মাধ্যমেই সকলে মর্যাদা হাছিল করে থাকে। এখন ছোহবত ইখতিয়ার করতে করতে করতে মুহব্বত হাছিল হয়, নিসবত হাছিল হয়। একবারে তো সেটা হয় না।
সেটাই বললাম যে- উনাদের নিসবত হাছিল করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় রিয়াযাত-মাশাক্কাত। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
এখন সেজন্য উনাদের আলোচনা মুবারকগুলো বেশি করা উচিৎ। যাতে উনারা খুশি হন। উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক করলে, উনারা খুশি হন। আর যে কোনো জিনিস হাছিল করতে হলে উনাদের মাধ্যম দিয়ে হাছিল করতে হবে। এখন বলা হয় যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা ছাড়া কিছু কি হাছিল হবে? না, আসলে উনাদের ছাড়া কিছু হাছিল হবে না। উনাদের যাঁরা নিচে উনারা তো উনাদের অধীনে চলবেন। উনাদের হুকুম ছাড়া তো চলতে পারবেন না।
আমি ওখানে আর কাউকে দেখিনি। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
এখন তোমরা যা বুঝো। যে বুঝার, সে বুঝবে।
আর নিদর্শন যেমন- সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বিষয়টা। উনার বিষয়গুলি তো সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আমাকে দেখিয়েছেন। উনার বিছাল শরীফ, বিছাল শরীফের আগের অবস্থা, পরের অবস্থা। যদিও তখন কাঁটাওয়ালা কোনো ঘড়ি ছিলো না, কিন্তু উনি আমাকে একটি কাটা ওয়ালা ঘড়ি মুবারক দেখিয়েছেন। আমি জানতে চেয়েছিলাম যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনার বিছাল শরীফের সময়টা কখন? তখন উনি আমাকে একটি কাঁটাওয়ালা ঘড়ি দেখিয়ে দিয়া বললেন যে, এই যে। ঘড়িতে উনি দেখালেন। আমি দেখলাম, তখনও উক্ত সম্মানিত ঘড়ি মুবারক-এ ১২:০০ টা বাজেনি। সেকেন্ডের কাঁটাটি আর ৪৫ সেকেন্ড অতিক্রম করলে ১২:০০টা বাজবে। অর্থাৎ ১২:০০ টা বাজতে আর ৪৫ সেকেন্ড বাকি রয়েছে। অর্থাৎ ১১ টা বেজে ৫৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এবং পরিবেশটা তিনি আমাকে দেখালেন। বলেছিলেন যে, নিদর্শন মুবারক দেখাবেন। এই ধরণের নিদর্শন মুবারকগুলো দেখান। উনারা না দেখালে মানুষ জানবে কিভাবে?
সেজন্য উনাদের আলোচনা বেশি করা দরকার, বলা দরকার।
আমি উনাদেরকে দায়িমীভাবে ২৪ ঘণ্টাই দেখি। এখনও দেখতেছি।
আর এগুলো শোনে তোমাদের ইবরত হাছিল করা দরকার। বুঝতে পারলে?
এখন দায়িত্ব হলো, কর্তব্য হলো নিসবত মুবারক হাছিল করা, মুহব্বত মুবারক হছিল করা, কুরবত মুবারক হাছিল করা। তাহলেই কামিয়াবী। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার কত বেমেছাল মহাসম্মানিত তা‘য়াল্লুক্ব-নিসবত মুবারক, সেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদরে সবাইকে ছহীহ সমঝ এবং সর্বোত্তম বিশুদ্ধ আক্বীদাহ্ ও সর্বোচ্চ হুসনেযন মুবারক দান করুন। আমীন! আমীন! আমীন!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে গভীর নিসবত মুবারক এবং ২৪ ঘণ্টা দায়িমীভাবে উনাদের মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ মশগূল থাকার বিষয়ে বর্ণনা মুবারক (১)

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪১ হিজরী শরীফ উনার পবিত্র ১৯শে যিলহজ্জ শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ফালইয়াফরহূ শরীফ অর্থাৎ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “মানুষ রিয়াযাত-মাশাক্কাত করে, রিয়াযাত-মাশাক্কাত তো অনেক রকম আছে। একটা যাহিরী রিয়াযাত-মাশাক্কাত। এটা নফসকে নিয়ন্ত্রন করা, তারপরে আনুষাঙ্গিক কাজগুলি সমাধা করা। আরেকটা বাত্বিনী রিয়াযাত-মাশাক্কাত। এটা কী? বলো দেখি। বাত্বিনী রিয়াযাত-মাশাক্কাতটা কী? বলো। জানো? জানো না। বাত্বিনী রিয়াযাত-মাশাক্কাত হচ্ছে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নিসবত মুবারক হাছিল করা। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) কোশেশ করে করে করে করে উনাদের নিসবত মুবারক হাছিল করা, মুহব্বত মুবারক হাছিল করা। যাহিরী রিয়াযাত-মাশাক্কাতের মাধ্যম দিয়ে বাত্বিনী অন্তর ইছলাহ্ হলে, তখন উনাদের সাথে নিসবতের জন্য কোশেশ করা। উনাদের যে একটা দায়িমী নিসবত, সেটা হলো হাক্বীক্বী রিয়াযাত-মাশাক্কাত। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) যাহিরী রিয়াযাত-মাশাক্কাত করতে করতে করতে করতে বাত্বিনী। বাত্বিনী রিয়াযাত-মাশাক্কাত করতে করতে, উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করতে করতে উনাদের একটা মুহব্বত মুবারক পয়দা করা। আমি বলেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আলাদা। মহান আল্লাহ পাক আল্লাহ পাক উনি আলাদা। অর্থাৎ উনারা হিসেবের ঊর্ধ্বে। মূল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা, তারপর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা। উনারা হচ্ছেন মূল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। উনাদের নিসবত-কুরবত মুবারক হাছিল করা, এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় রিয়াযাত-মাশাক্কাত। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) উনাদের নিসবত-কুরবত মুবারক হাছিল হয়ে গেলে, বাকিটা আপসে আপ হাছিল হয়ে যাবে। এখন যাহিরী রিয়াযাত-মাশাক্কাত, যিকির-ফিকির করবে। ঠিক আছে। ভালো কথা। অন্তর ইছলাহ্ করবে। কিন্তু হাক্বীক্বত করতে হলে তো যাহিরী করার পর বাত্বিনী করে উনাদের নিসবত মুবারক হাছিল করতে হবে। এটা না করলে তো হবে না। সেটাই বলেছিলাম যে- উনারা কিন্তু কারো গুরুত্ব দেন না। ঐ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মিছদাক্ব হচ্ছেন উনারা-
عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى الله عَلَـيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَـقُوْلُ نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ طَهَّرَهُمُ اللهُ مِنْ شَجَرَةِ النُّـبُـوَّةِ وَمَوْضِعِ الرِّسَالَـةِ وَمُـخْتَلِفِ الْمَلَائِكَةِ وَبَـيْتِ الرَّحْـمَةِ وَمَعْدِنِ الْعِلْمِ
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবসময় ইরশাদ মুবারক করতেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের (আমাদেরকে) সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক উনার বৃক্ষ, সম্মানিত রিসালাত মুবারক উনার স্থান, বিভিন্ন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উনাদের দ্বারা সম্মানিত খিদমত মুবারক, সম্মানিত রহমত মুবারক উনার ঘর মুবারক এবং সম্মানিত ইলিম মুবারক উনার খনি মুবারক (ইত্যাদি সমস্ত কিছু) থেকে পবিত্র রেখেছেন, ছমাদ অর্থাৎ বেনিয়ায (অমুখাপেক্ষী) করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/৬০৬, ইবনে আবী হাতিম ৯/৩১৩৩)
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মিছদাক্ব হচ্ছেন উনারা। ছোহবত ইখতিয়ার করতে করতে করতে করতে যদি উনারা কথা বলেন, মুহব্বত করেন, যদি কিছু বলেন। এছাড়া তো কোনো ব্যবস্থা বা পথ নেই। উনাদের থেকে কিছু হাছিল করা, ইলিম-কালাম হোক, মুহব্বত-মা’রিফত হোক, নিসবত হোক হাছিল করা। এমনি তো হাছিল করা যায় না। এজন্য বাত্বিনী রিয়াযাত-মাশাক্কাত প্রয়োজন। এটা হচ্ছে বাত্বিনী এবং হাক্বীক্বী রিয়াযাত-মাশাক্কাত। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
আমি বলেছিলাম যে, ১১ই রমাদ্বান শরীফ আছরের সময়। আছরের সময় হয়েছে। আমি স্বপ্নের মধ্যেই দেখতেছি- এক স্থানে নামাযের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই জায়গাটা একটা বিল্ডিং, তার একটা বারান্দার মধ্যে। সামনে খোলা জায়গা আছে। হঠাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি তাশরীফ মুবারক নিলেন। অনেক দূরে। উনি উপরে। উনি এসে আমাকে বললেন যে- উনি আমাকে কিছু নিদর্শন মুবারক দেখাবেন। তখন উনি আমাকে এমন আকর্ষণ করলেন, অনেক দূর কিন্তু, একদম এক টান দিয়ে উনি উনার নূরুল আযহার (কোল মুবারক) উনার মধ্যে আমাকে বসিয়ে দিলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) আমি বসছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি এখন নিদর্শন মুবারক দেখাবেন। ঠিক আছে। আমি বললাম- ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তো আছরের নামায এখনও পড়িনি। উনিই জানতে চাইলেন। আমি বললাম যে, আমি পড়িনি। তাহলে ঠিক আছে নামায পড়ে নেই। উনি চোখের পলকে আমাকে আবার আগের জায়গায় পৌঁছিয়ে দিলেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
তারপর এই যে নিদর্শন মুবারক দেখানোর যে বিষয়টা- এই নিদর্শন মুবারক দেখাবেন। এখন তো উনারা যদি না দেখান, তাহলে তো দেখতে পারবে না। পরবর্তী সময় যখনই হলো, উনাদের যে বিশেষ করে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রাবি’ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুজন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুর রহমত মুবারক (চেহারা মুবারক) যেরকম ছিলো, উনি উনার সাক্ষাৎ মুবারক দান করলে যেরকম, হুবহু একরকম, কাছাকাছি। (সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) উনারা দুজন হুবহু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুরূপ। আবার ঠিক ঐ দুইজন, বড় দুইজন। বড় দুইজন মানে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আন নূরুল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত খাইরু ওয়া আফযালু বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা হচ্ছেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মতো। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) আর মাঝে যাঁরা আছেন উনারা অর্থাৎ ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনি, ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনি, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনি এবং বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনি অর্থাৎ উনারা চারজন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের নিসবত মুবারক হাছিল করেছেন। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!) উল্লেখ্য, সাইয়্যিদুনা হযরত নূরুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা দুইজন হুবহু এক রকম। বুঝা মুশকিল। আরো উল্লেখ্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যেই রয়েছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি ইরশাদ মুবারক করেছেন যে, আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্যে চতুর্থ যিনি ইবনু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত আন নূরুর রবি’ আলাইহিস সালাম তিনি হুবহু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মতো। একইভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত নূরুর রবি‘আহ্ আলাইহাস সালাম তিনিও। (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সলাম!)
(অপেক্ষায় থাকুন।)