গান বাদ্য করা ও শুনা হারাম
পবিত্র কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে গান-বাজনা হারাম ও কবীরা গুনাহ। তা যে কোনো গানই হোক না কেন? যেমন নবীতত্ত্ব, মুর্শিদী, জারী, কাওয়ালী, পল্লীগীতি, ভাওয়ালী, ভক্তিমূলক ইত্যাদি। মহান খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِينٌ-
“মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা ‘লাহওয়াল হাদীছ’ খরীদ করে থাকে। উদ্দেশ্য হ”েছ ইলম ব্যতীত মানুষদেরকে মহান খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পথ থেকে বিভ্রান্ত করতে পারে এবং সত্য পথের প্রতি বিদ্রƒপ করতে পারে। এ সকল লোকদের জন্য অপমানজনক শাস্তি রয়েছে।” (পবিত্র সূরা লুকমান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-৬)
উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ‘লাহওয়াল হাদীছ’ উনার ব্যাখ্যায় অনুসরণীয় সকল হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা গান-বাজনাকে সাব্যস্ত করেছেন।
(তাফসীরে কুরতুবী, তাফসীরে আহকামুল কুরআন, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে দুররে মানছুর, তাফসীরে মাদারিক, তাফসীরে মাআলিমুত তানযীল, তাফসীরে রূহুল মাআনী, তাফসীরে রুহুল বয়ান, তাফসীরে কবীর, তাফসীরে আবী সাউদ, তাফসীরে যাদুল মাসীর, তাফসীরে জালালাইন ইত্যাদি।)
একইভাবে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে গান-বাজনা হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
استماع الملاهى معصية جلوس عليها فسق وتلذذ بها من الكفر
“গান শোনা গুনাহর কাজ, গানের মজলিসে বা আসরে বসা ফাসিকী এবং গানের সাধ গ্রহণ করা কুফরী।”
অন্য এক হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
الغناء ينبت النفاق فى القلب كما ينبت الماء الزرع
“পানি যেরূপ যমীনে ঘাস বা শস্য উৎপন্ন করে, তদ্রƒপ গান-বাজনা মানুষের অন্তরে মুনাফিকী পয়দা করে।”
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন
بعثت لكسر المزامير والاصنام
, “আমি বাদ্যযন্ত্র ও মূর্তি ধ্বংস করার জন্যে প্রেরিত হয়েছি।” (বায়হাক্বী শরীফ, দায়লামী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, ফাতহুলবারী, উমদাতুল লুময়াত, শরইত তীব্রী, তালীকুছ ছাবীহ, মুযাহিরে হক্ব)
এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
عن حضرت نافع رضى الله تعالى عنه قال كنت مع ابن عمر رضى الله تعالى عنهما فى طريق فسمع مزمارا فوضع اصبعيه فى اذنيه وناعن الطريق الى الجانب الاخر ثم قال لى بعد ان بعد يا نافع رضى الله تعالى عنه هل تسمع شيئا قلت لا فرفع اصبعيه من اذنيه قال كنت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فسمع صوت يراع فصنع مثل ما صنعت قال نافع رضى الله تعالى عنه و كنت اذ ذاك صغيرا
অর্থ: হযরত না’ফে রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা কোন এক পথে আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমা উনার সাথে ছিলাম। এ সময় তিনি বাঁশীর সুর শুনতে পেলেন। তখনই তিনি নিজের দু অঙ্গুলী দু কান মুবারক উনার মধ্যে মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিলেন এবং সে রাস্তা হতে অপর রাস্তাদিয়ে সরে গেলেন। বহুদূর যাওয়ার পর আমাকে বললেন, হে নাফে’ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু! এখন কি আপনি কোন কিছু শুনতে পান? আমি বললাম, না। এবার তিনি উভয় কান মুবারক হতে অঙ্গুলী মুবারক সরিয়ে ফেললেন। অতঃপর বললেন, একবার আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ছিলাম, তখন তিনি (কোথাও হতে) বাঁশীর আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং আমি যা করেছি তিনিও তা করলেন। হযরত নাফে’ রদ্বিয়ল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমি ছোট ছিলাম। (আহমদ ও আবূ দাঊদ শরীফ)
অর্থাৎ যে বাঁশীর সুর আমাদের প্রিয় নবী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘৃণা করেছেন এবং যাকে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন, ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদের থেকে শুরু করে পরবর্তী সর্বযুগের ইমাম ও ফকীহ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যাকে হারাম বলে ফতওয়া দিয়েছেন, তাকে চিত্ত-বিনোদনের নামে গ্রহণ করে নেয়ার কোন অবকাশ নেই। বরং তা সম্পূর্ণ হারাম।

কেউ কেউ বলে সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “গান-বাজনা” করেছেন। (নাঊযুবিল্লাহ) যারা এরূপ বলে তারা উনার উপর চরম মিথ্যা তোহমত দেয়। কারণ তিনি ছিলেন মহান আল্লাহ্ পাক উনার খাছ ওলী তথা “হাবীবুল্লাহ্”। যিনি সারা জীবন সুন্নতের পুরিপূর্ণ অনুসরন-অনুকরন করেছেন। উনার পےে কি করে হারাম “গান-বাজনা” করা সম্ভব? বিদয়াতীরা এ ব্যাপারে একটি দলীলও পেশ করতে পারবে না। তবে হ্যাঁ সুলতানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “সামা” পাঠ করেছেন। আর বিদয়াতী, ভন্ড ফক্বীরেরা এটাকেই প্রচার করছে “গান-বাজনা” বলে। অথচ “গান-বাজনার” সাথে “সামা”-এর বিন্দুমাত্রও মিল নেই।
এ প্রসঙ্গে “ফাওয়ায়েদুল ফুওয়াদ” নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, একদা দিল্লীর ৫০০ আলেমের সাথে সুলত্বানুল আউলিয়া হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাহাছ হয়। কারণ দিল্লীর সেই আলিমরা অপবাদ দিয়েছিল যে, হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি “গান-বাজনা” করেন। বাহাছে যখন এ প্রশ্ন উত্থাপন করা হলো- তখন হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি কস্মিনকালেও “গান-বাজনা” করিনা বরং আমি “সামা” করি। আর আমার “সামা” পাঠের শর্ত হ”েছ-
১) সেখানে কোন “বাদ্য-যন্ত্র” থাকবে না
২) কান বেগানা মহিলা থাকবে না
৩) কোন নাবালেগ দাড়ীবিহীন বালক থাকবে না,
(৪ যে ছন্দ বা ক্বাছীদাগুলো পাঠ করা হবে তা শরীয়ত সম্মত হতে হবে,
৫) তা মহান আল্লাহ্ পাক ও সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে আকৃষ্টকারী হতে হবে,
৬) আর যাঁরা শুনবে, তাঁরা সবাই বুযুর্গ পরহেজগার ও আল্লাহ্ওয়ালা হতে হবে।
যখন হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একথা বললেন, তখন দিল্লীর আলিমরা উনাকে হক্ব বলে মেনে নিলেন এবং নিজদের ভুলের জন্য লজ্জিত হলেন। কাজেই পূর্ববর্তী আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা যে “সামা” পাঠ করেছেন তা এরূপই ছিল। সেই “সামা”র সাথে বর্তমান জারী বা কাওয়ালীকে তুলনা করা কূফরী বৈ কিছুই নয়। অতএব, প্রমাণিত হলো- সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, খাজা মুঈনুদ্দীন চীশতি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জীবনে কখনোই “গান-বাজনা” করেননি। যারা উনার নামে মিথ্যা তোহমত দেয় তারা চরম ফাসেক ও কবীরা গুণাহে গুণাহ্গার।
কেউ কেউ বলে থাকে “বুখারী শরীফ”-উনার ৫ম খন্ড “গান-বাজনা” জায়িয লেখা আছে, তারা চরম জাহিল ও বিদয়াতী। আর জাহিল বলেই বুখারী শরীফ-উনার ৫ম খন্ড দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। অথচ মূল বুখারী শরীফ-উনার কোন ৫ম খন্ডই নেই। যারা বুখারী শরীফ-উনার ৫ম খন্ডে “গান-বাজনা” জায়িয লেখা আছে বলে থাকে তারা যেন- বুখারী শরীফ-উনার যেখানে “গান-বাজনা” জায়েয বলা হয়েছে সে অংশটুকু বাংলায় অনুবাদ করে দেয়। তবেই তার মিথ্যা দলীলের হাক্বীক্বত প্রকাশ পেয়ে যাবে। মূলতঃ বুখারী শরীফ-উনার কোথাও যদি “গান-বাজনা” জায়িয লেখা থাকতো তবে ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার “আদাবুল মুফরাদ” কিতাবে “গান-বাজনা” হারাম বললেন কেন? কাজেই যারা এ ব্যাপারে বুখারী শরীফ-উনার দলীল দেয় তারা চরম জাহিল, ভন্ড, বিদয়াতী ও প্রতারক।
মূলকথা হ”েছ ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে বিবাহ অনুষ্ঠানসহ সকল ¯’ানেই “গান-বাজনা” করা হারাম। এটাকে হালাল বলা কুফরী। সুলতানুল হিন্দ গরীবে নেওয়াজ হাবীবুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জীবনে কখনো “গান-বাজনা” করেননি। আর শুধু বুখারী শরীফ নয় বরং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর কোথাও “গান-বাজনা” জায়িয বলা হয়নি।
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে অনুসরণীয় হযরত ইমাম মুজতাহিদ তথা ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ফতওয়া প্রদান করেছেন যে, গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র সম্পূর্ণ রূপে হারাম। এটাকে হালাল বলা কুফরী। (ফতওয়ায়ে আলমগীরী, খুলাছাতুল ফতওয়া, জামিউল ফতওয়া, মুহীত-মুগনী, হিদায়া, তাতারখানিয়া, ফতহুল ক্বাদীর, ফতওয়ায়ে আযীযী ইত্যাদি।)

হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর লোকের সাথে খলিক্ব মালিক রব মহান খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না এবং তাদের প্রতি তাকাবেনও না। (এক) যে ব্যাক্তি কোন মাল সামানের ব্যাপারে মিথ্যা কসম খেয়ে বলে যে, এর দাম এর চেয়ে বেশী বলে ছিলো কিন্তু তা সত্ত্বেও সে তা বিক্রি করেনি। (দুই) যে ব্যাক্তি আসরের সালাত উনার পর একজন মুসলমানের মাল-সম্পত্তি আত্মসাত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কসম করে। (তিন) যে ব্যাক্তি তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি মানুষকে দেয় না।
খলিক্ব মালিক রব মহান খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি বলবেন (কিয়ামতের দিন) আজ আমি আমার অনুগ্রহ থেকে তোমাকে বঞ্চিত রাখব। যেরূপ তুমি তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি থেকে বঞ্চিত রেখে ছিলে অথচ তা তোমার হাতের তৈরী নয়। (বুখারী শরীফ, হাদীছ শরীফ নং-২২১৩)

হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন :
لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَكْثُرَ الْهَرْجُ قَالُوا وَمَا الْهَرْجُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الْقَتْلُ الْقَتْلُ
‘কিয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না হারাজ বেশি হবে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা আরজ করলেন, ‘হারাজ’ কী হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি বললেন হত্যা, হত্যা।’ [মুসলিম শরীফ : ৫১৪৩]

সামা শরীফ মাফিল
অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদুল আইয়াদ শরীফ মাফিল
এবং
অনন্তকালব্যাপী জারীকৃত
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়াদ শরীফ মাফিল
(৮৯ তম দিন)

উনাতে

খলিফাতুল্লাহ,ক্বায়ীম মাক্বমে হাবিবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,সাইয়্যিদুল আওলিয়া,সূলত্বানূন আওলিয়া,সূলত্বনে কায়নাত সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত সূলত্বানূন নাসীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কওল শরীফঃ

সরাসরি সম্প্রচারঃ

Al Hikmah & SM40.COM.

=========================
এখন তোমাদের প্রত্যেকের ছবকগুলি... অনেকে তো ছবক করো না ঠিকমত। ওযীফার কিতাবও নেও না। বাদ ইশা বাদ ফজর দুরূদ শরীফ ১০০ ১০০ পাঠ করবে, পাস-আনফাসটা জারি করবে। যাদের জারি হইছে পরবর্তী ছবকগুলি করবে, আর যাদের জারি হয় নাই সেটা জারি কোশেশ করো।

আর আমলগুলি করতে হবে সুন্নত মোবারক অনুযায়ী। আর ইলিমগুলির জন্য আমাদের কিতাবগুলি সংগ্রহ করতে হবে। আর প্রতিদিন... কমপক্ষে হলে একবার মীলাদ শরীফ পাঠ করবে। প্রতিদিন তাহাজ্জুদ নামায পড়বে। নফল নামায পাঠ করে একবার সালাতুত তাসবীহ পাঠ করতে হবে। এগুলিরে... ইলমে তাছাউফ... যার মক্বসুদ তার জন্য এগুলি ফরযে আইন, করতেই হবে।

কারণ... যে যিকির-আযকার ঠিকমত না করে অন্তরে এছলাহ না হলে সে কোনোদিন কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে না। এখন তা আমমুন নাস হোক আর কথিত যারা আলেম এরা তো কোনোটাই বুঝে না। কারণ এখলাছ পয়দা করা ছাড়া কোনোদিন কোনো আমল কবুল হবে না।

আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে বলেছেন: 'ওয়া মা উমিরূ ইল্লা লিইয়া'বুদুল্লাহা মুখলিছীনা লাহুদ্দীন'। এটা বলা হচ্ছে এখলাছ হাছিল করার জন্য। আবার ঠিক হাদীস শরীফে বলা হচ্ছে: 'ইন্নাল্লাহা লা ইয়াক্ববালু মিনাল আমালি ইল্লা মা কানা লাহু খালিছান'। 'ইন্নাল্লাহা লা ইয়াক্ববালু মিনাল আমাল'—আল্লাহ কোনো আমল কবুল করবেন না এক... মানে খালেছ ভাবে যিনি খালিক্ব যিনি মালিক আল্লাহ উনার জন্য না করে সেটা। 'ওয়াবতুগিয়া বিহী ওয়াজহুহূ'—উনার রেজামন্দি সন্তুষ্টি হাছিলের উদ্দেশ্যে করতে হবে। এখলাছের সাথে। সেইটা কবুল হবে। এখলাছ না হলে কোনো আমল কখনোই কবুল হবে না।

আর এখলাছের জন্য যিকির-আযকার করতে হবে। আর ছোহবত এখতিয়ার... তোমরা তো ছোহবত এখতিয়ার করোই না, তোমরা কি হাছিল করবা?

ইলমে তাছাউফের জন্য দুইটা ফরযে আইন। প্রথম ফরজ হচ্ছে বেশি বেশি ছোহবত এখতিয়ার করা, দ্বিতীয় ফরজ হচ্ছে ছোহবত এখতিয়ার করা, এর মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করা। এটা ফরযে আইন। ফয়েজ ছাড়া তার অন্তর কোনোদিন এছলাহ হবে না। ফয়েজ ছাড়া হাজার যিকির করলে কোনোদিন যিকির জারি হবে না।

একটা সাধারণ মেছাল আমরা দেই, সেটা হইলো... তোমরা যদি কামারের দোকান দেখে থাকো তাইলে দেখবা কামারের দোকানে... লোহা দিয়ে দা, বটি, ছুরি ইত্যাদি বানায়। ওটা কিন্তু লোহাতে শুধু হাতুড়ার হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিলেই হবে না, ওটা ভেঙে টুকরো হয়ে যাইব। ওটাতে আগুন দিয়ে তাপ দেয়। গরম তাপ দিলে লোহাটা নরম হয়ে যায়, গলে যায়। তখন যে ইচ্ছা সে তৈরি করা যায়।

ঠিক ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হচ্ছে এরকম, যখন ক্বলবে ফয়েজটা পৌঁছে ক্বলবটা নরম হয়ে যায়। তখন গালিযগুলি ঝরে পড়ে যায়। তখন আস্তে আস্তে যিকিরটা জারি হয়। ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ ছাড়া কোনোদিন জারি হবে না। আর রাস্তার ফক্বীররা সারাদিন যিকির করে, যিকির জারি হয় না। এজন্য ছোহবত এখতিয়ার করা এবং এর সাথে যিকির করা। এর মাধ্যম দিয়ে ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করতে হবে। এটা ফরযে আইন, মনে রাখবা।

আমরা প্রতিদিন এগুলি বলে থাকি তোমাদের এছলাহর জন্য। আর অনন্তকাল চোখ কারও খোলা থাকবে না। 'কুল্লু নাফসিন যায়িক্বাতুল মাওত'। প্রত্যেক নফসকে অবশ্যই মৃত্যুবরণ করতে হবে। এজন্য আগে থেকেই নিজেকে এছলাহ করে নাও। সময় থাকতে, হায়াত থাকতে।

কারও কিন্তু হায়াত... মৃত্যুটা ঘোষণা দিয়ে আসবে না। তার অজান্তেই তার ইন্তেকাল হয়ে যাবে। সে বুঝতে বুঝতে তার ইন্তেকাল হয়ে যাবে। তখন কিন্তু তার আর এছলাহ হাছিল করার যে আলাদা কোশেশ সেটা করতে পারবে না। আগে থেকে এছলাহ হয়ে যেতে হবে।

এজন্য কোশেশ করতে হবে। যিকির-আযকার করা, ছোহবত এখতিয়ার করা, তারপর সুন্নত মতো সমস্ত আমল করতে হবে। তুমি যতটা জানো আমল করো, যেটা জানো না সেটা জেনে করো। আমরা তো এখানে আন্তর্জাতিক পবিত্র সুন্নাত প্রচার কেন্দ্র করেছি। কিন্তু সব জানো এবং এখান থেকে এই দ্রব্যসহ সংগ্রহ করো।

আর কিতাবাদিতো অনেক বের হইছে। আমাদের কিতাব এইমুহূর্তে প্রায় ৬০০-র বেশি হয়ে গেছে। মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৩০৮টা হয়ে গেছে। আর দৈনিক আল ইহসান শরীফ হাজার হাজার, ৩১ বছর ধরে আমরা বের করতেছি। প্রতিদিন। তাহলে হাজার হাজার বের হচ্ছে। এতে অনেক কিছু আছে। তোমরা তো পড়াশোনাও করো না। প্রত্যেকে পড়ে দেখো। দৈনিক আল ইহসান পড়লে দেখবা অনেক তোমাদের জন্য দ্বীন এবং দুনিয়া দুইটাই শিখতে পারবা।

যেটা ফরযে ইলম বলা হয়। মানুষ তো ফরযে ইলমটা বুঝেই না। মনে করে নামায কালাম যিকির, নামায কালাম পড়লো আর হালকা কিছু করলো তাতেই... না, এটাতে ফরজ হয় না। ফরজ হচ্ছে একটা লোকের হায়াত থেকে মউত, মাথার তালু থেকে পায়ের তলা, সকাল থেকে আবার সকাল, যত কিছু প্রয়োজন, সে প্রত্যেকটার ইলম অর্জন করা ফরযে আইন।

মানুষের তো এখন ফরযে ইলম তো নাই-ই। একজন একটা জানলে আরেকটা জানে না। দ্বীন বুঝলে দুনিয়া বুঝে না, আর দুনিয়া বুঝলে দ্বীন বুঝে না। আসলে দ্বীনও বুঝে না। যে দ্বীন বুঝবে সে দুনিয়া বুঝবে, আর যে দুনিয়া বুঝবে সে দ্বীন বুঝবে। একটা একটার সাথে জড়িত। এখন মানুষ দ্বীনও বুঝে না, দুনিয়াও বুঝে না। যার জন্য এরা দুনিয়ার দ্বারা প্রতারিত, ধোঁকা খাচ্ছে। দুনিয়া তাদেরকে ধোঁকা দিচ্ছে। এই চাকচিক্য দুনিয়া দেখে পিছনে দৌড়াও, চোখটা বন্ধ হইলে শূন্য হয়ে যাইব।

হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, উনার সাথে একবার দুনিয়ার সাক্ষাৎ হলো। দুনিয়া একটা মহিলার সূরতে। সামনে একটা হাত, পিছনে একটা হাত। সামনের হাতটা খুব চকচকে হাতটা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে দুনিয়া তুই সামনের হাতটা খুব চাকচিক্যময়, তোর পিছনের হাতটা কোথায়? ওটা পিছনে লুকায়ে রাখছে। তখন সে সামনে আনলো, দেখলো যে পিছনের হাতে একটা ছুরি, রক্ত ঝরতেছে।

দুনিয়া বললো যে হযরত রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, এই সামনের হাতটা দিয়ে আমি মানুষকে আকর্ষণ করি। দুনিয়ার দিকে আকর্ষণ, মানুষ দুনিয়ায় যখন মশগুল হয়, তখন আমার এই যে পিছনের ছুরিটা তার সিনায় বসায় দেই। সে দুনিয়াতে মারা যায়, নাউযুবিল্লাহ। তার অজান্তে সে দুনিয়াতে ফিরে মারা যায়, সে বুঝে না। 'হুব্বুদ দুনিয়া রা'সু কুল্লি খত্বীআহ'—দুনিয়ার মোহ সমস্ত গুনাহর মূল, মনে রাখবা।

কাজেই দুনিয়ার মোহে মোহগ্রস্ত হয়ো না। তাইলে বিভ্রান্ত হবে, প্রতারিত হবে এবং ধোঁকা খাবে। 'আদ্দুনিয়া দারুল গুরুর'—দুনিয়া হচ্ছে ধোঁকার জায়গা। দুনিয়া হচ্ছে ধোঁকার জায়গা, 'ওয়াল আখিরাতু দারুস সুরূর'—পরকাল হচ্ছে সুখের শান্তির জায়গা। এটা মনে রাখবা।

-------------------------

হাদীস শরীফে আমি বলে থাকি প্রায়, সেটা হইলো হাদীস শরীফে আছে: 'ইন্না মিম্মা ইয়ালহাকুল মু'মিন মিন আমালিহী ওয়া হাসানাতীহি বা'দা মাওতিহী'—নিশ্চয় মুমিনের আমলগুলি... 'ইন্না মিম্মা ইয়ালহাকুল মু'মিন মিন আমালিহী ওয়া হাসানাতীহি বা'দা মাওতিহী'—তার আমল, তার নেক কাজগুলি মৃত্যুর পর তার সাথে সংযুক্ত হবে।

প্রত্যেক লোকের ইন্তেকালের পরে তাদের নেক কাজগুলি যদি জারি থাকে সে সংযুক্ত, সেটা কি? প্রথম বলা হচ্ছে: 'ইলমান আল্লামাহু ওয়া নাশারাহু'—ইলিম যেটা সে শিখেছে, যেটা প্রচার করেছে। ইলিম শিখেছে, প্রচার করেছে।

তা আমাদের অনেক কিতাব আমরা প্রকাশ করতেছি। ইলিম অনেক প্রচার করা হচ্ছে। সেটিতে তোমাদের শরিক থাকা উচিত। ইলিমগুলির কিতাব সংগ্রহ করা এবং পড়া উচিত। শুধু তোমরা একলা পড়লে না, তোমার পরিবারে পড়াও। তো বলেছি প্রত্যেকে কমসে কম একটা করে সংগ্রহ করো, করে তোমরা পাঠাগার বানাও। নিজে পড়ো, তোমার পরিবারকে পড়াও, ছেলেমেয়েদের পড়াও। দ্বীনের সহীহ ইলিম দান করো। ইলিমটা, যিনি ইলিম শিখবে এবং প্রচার করবে।

'ওয়ালাদান সালিহান তারাকাহু'—নেক সন্তান। নেক সন্তান বানাও। এজন্য বলছি মাদ্রাসায় ছেলেদের দেও। তোমরা মাদ্রাসায় সন্তান দেও না, স্কুল-কলেজে দেও। পরে কি হবে? ফাসেক-ফুজ্জার হবে। স্কুল-কলেজ পড়ে নেককার কতজন হয়? 'আশ-শাযযু কাল মা'দূম'—নগণ্য ধর্তব্য না। গোনা-বাছা কয়েকজন হয়। সাধারণত পরিবেশ যেরকম সেরকমই হয়।

কিছু ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় দেও। আল্লাহ পাক তো বলছেন: 'ফালাওলা নাফারা মিন কুল্লি ফিরক্বাতিম মিনহুম ত্বায়িফাতুল লিয়াতাফাক্বক্বাহূ ফিদ্দীন'। কেন তোমাদের প্রত্যেক গোত্র থেকে কিছু লোক বের হয় না, যারা ইলমে দ্বীন শিখবে, ফক্বীহ হবে, ওলীআল্লাহ হবে? 'ওয়ালাদান সালিহান তারাকাহু'—নেক সন্তান, যে রেখে যায়, সে নেক সন্তান যতদিন সিলসিলা চলবে তার জন্য তারা দোয়া করবে।

এখন তোমরা প্রত্যেকে বলো, তোমরা তোমাদের মা-বাবার জন্য কয়দিন দোয়া করো? কেউ দোয়া করো না সাধারণত। যদি মোটামুটি কেউ নেককার হয়ে থাকো তাইলে দোয়া করো, আর নাইলে তো কেউ দোয়া করে না। এইজন্য তো মসজিদে গিয়ে নামায পড়ে পাঁচ ওয়াক্তে একবারও দোয়া করে না। আল্লাহ তো শিখাইছেন: 'রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানী সাগীরা', কয়জনে দোয়া করে? সে জানেই না। তো নেক সন্তান হলে তো মা-বাবার জন্য দোয়া করবে। আর সে নিজের জন্য নিজেও দোয়া করে না, বাবার জন্য কবে দোয়া করবে?

এইযে আজকে আমাদের পত্রিকায় একটা ঘটনা গেছে, দৈনিক আল ইহসান শরীফে। একটা ১০ বছরের ছেলে, তার মা-বাবা তাকে হাতিফ দেয় না, এজন্য সে মা-বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে থানায় অভিযোগ করছে, নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ! ১০ বছরের ছেলে! কত চরম বেয়াদব! তাকে হাতিফ মানে মোবাইল মা-বাবা দেয় নাই জন্য সে থানায় অভিযোগ করছে তার মা-বাবা তাকে জুলুম করে, নাউযুবিল্লাহ। ওটা কাফেরের দেশে এরকম আছে। এই সন্তান তো থাকা না থাকা একই রকম। এগুলি তো কলঙ্ক এগুলি। তো এখন তো মানুষ কলঙ্কই বানাইতেছে।

ইস্তেগফার করো, তওবা করো। দ্বীনি ইলিম শিক্ষা দাও, মাদ্রাসায় পড়াও। নেক সন্তান থাকলে সে দোয়া করবে, বদ সন্তান হলে তোমার বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে, নাউযুবিল্লাহ। যে সন্তান বাপ-মার বিরুদ্ধে গিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে পারে, সে তো সারাদিন বাপ-মারে বদদোয়াই করবে, নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ! কাজেই সন্তান নেককার বানাও, থাকলে তোমাদের দোয়া করবে।

'মাছহাফান ওয়াররাছাহু'—এখানেও বলেছে মাছহাফান ওয়াররাছাহু। কিতাবাদী, কুরআন শরীফ, ইলিমের কিতাবাদী যে রেখে যায়, এটা যতদিন থাকবে, কেউ পড়ুক আর না পড়ুক তোমাদের জন্য রাখলে তুমি পাঠাগারে এটার সওয়াবটা তোমার আমলনামায় পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'মাসজিদান বানাহু'—কেউ মসজিদ যদি বানায়, এই মসজিদ যতদিন থাকবে কেউ নামায পড়ুক আর না পড়ুক তার আমলনামায় সওয়াব পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'বাইতান লিবনিস সাবীল বানাহু'—মুসাফিরখানা। মুসাফিরখানা কেউ বানাইলো, খানকাহ শরীফ বানাইলো, এটা যতদিন থাকবে, কেউ আসুক আর না আসুক, থাকুক আর না থাকুক, এটার জন্য সে তার আমলনামায় সওয়াব পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'নাহরান আজরাহু'—পানির ব্যবস্থা। সেটা পুকুর হোক, কূয়া হোক, বা কোনো কল হোক, নলকূপ হোক, যেটা বসাইছে এটা যতদিন থাকবে ততদিন তার আমলনামায় সওয়াব পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

এরপরে... 'সাদাক্বাতান আখরাজাহা'—'সাদাক্বাতান আখরাজাহা মিম মালিহী ফী সিহহাতিহী ওয়া হায়াতিহী'। 'সাদাক্বাতান আখরাজাহা'—সম্পদ সে আল্লাহ পাকের রাস্তায় খরচ যদি করে, এটা হলো সুস্থ অবস্থায় সে যদি খরচ করে, 'ফী সিহহাতিহী ওয়া হায়াতিহী'—তার হায়াতের সুস্থ অবস্থায় যে খরচ করবে সেটা, 'তালহাক্বুহু মিম বা'দি মাওতিহী'—তার মৃত্যুর পরে এগুলির সওয়াব তার আমলনামায় পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

'সাদাক্বাতান আখরাজাহা মিম মালিহী'—সাদাক্বাতান, তার সম্পদ থেকে যে সম্পদ সে খরচ করলো, এই সম্পদটা এটার যে নেকিটা হবে, এটা যতদিন থাকবে ততদিন আমলনামায় পৌঁছতেই থাকবে, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম।

-------------------------

এখন তোমরা কয়টা কি কাজ করছো? একটাও তো করো না। না ইলিম অর্জন করো, না ইলিম চর্চা করো। আমরা এই বললাম তো আমরা আন্তর্জাতিক সুন্নত প্রচার কেন্দ্র করেছি, এখানে আমাদের কিতাব প্রকাশ হচ্ছে, তোমরা প্রচার কেন্দ্র করো। কিতাব প্রচার কেন্দ্র এবং সুন্নত প্রচার কেন্দ্র একসাথেই করা যায়। নিজেরা পড়ো, প্রত্যেকের বাড়িতে পাঠাগার বানাও। একটা করে সংগ্রহ করো, কিতাবের দাম তো কোটি টাকা না। অল্প পয়সার দাম। আর ইলিমের তো কোনো মূল্য নাই, এটা হচ্ছে কাগজের দাম। কাগজের পরিমাণ অনুযায়ী দাম। সংগ্রহ করতে পারো কোনো সমস্যা নাই।

আর ছেলেদেরকে দ্বীনদার বানাও। ওই ফাসেক-ফুজ্জার বানাইও না, মাদ্রাসায় দাও। এইজন্য মাদ্রাসায় দাও। ওই সন্তান তোমার বিরুদ্ধে বদদোয়া করবে দেখবা। এইজন্য বললাম ১০ বছরের ছেলে আজকে আমাদের পত্রিকাটা পড়ে দেখো। ১০ বছরের ছেলে সে মা-বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে থানায় অভিযোগ করছে। কত বড় চরম বেয়াদব! এরকমই সন্তান, বাজারে সমাজে তো সবাই এরকমই করে। এটা অনেক ঘটনা, আমাদের পত্রিকায় এরকম অনেক ঘটনা যায়। যেগুলি অনেক মানুষের জন্য নসীহত-ইবরত।

কাজেই নেক সন্তান বানাও, মাদ্রাসায় পড়াও। যেমন তোমাদের সন্তান থাকলে সন্তান দেও, ছেলে দেও, নাইলে ছেলে-মেয়ে দেও, আর নাইলে নাতি-নাতকুর তাদেরকে দেও মাদ্রাসায়।

আর পাঠাগার বানাও। নিজে ইলিম অর্জন করো, ছেলেমেয়েদের পড়াও। পারিবারিক তালীম, এজন্য বলেছি পারিবারিক তালীম করো। খুব বেশি সময় না, আধা ঘণ্টাই যথেষ্ট। তুমি পরিবার যখন থাকো সবাই মিলে একসাথে, সবাইকে নিয়ে তাদের যিকির-আযকার নামায-কালাম ঠিক আছে কিনা, আমল-আখলাক শুদ্ধ আছে কিনা, আক্বীদাগুলি শুদ্ধ কিনা জিজ্ঞেস করবা।

আক্বীদা আমাদের প্রথম হলো চারটা আক্বীদা মনে রাখবা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যাতী ছিফত চারটা, এটা মনে রাখবা। তামাম মানুষ জানে না। সে কি? উনি নূরে মুজাসসাম, নূরুময়। এরপর হচ্ছে উনি হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হায়াতুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এটা বিশ্বাস করতে হবে। উনি হাযির-নাযির ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এরপরে উনি মুত্তালা, মুত্তালা আলাল গাইব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

উনি হাযির-নাযির, উনি হায়াতুন্নবী এবং উনি সমস্ত ইলিম কালাম আল্লাহ পাক হাদিয়া মোবারক করেছেন, উনি সেই ইলমে গায়েবটা আমাদেরকে জানিয়েছেন, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম। এটা বিশ্বাস করতে হবে, আক্বীদাগুলি শুদ্ধ করতে হবে। আমাদের আক্বীদার কিতাব আছে, এগুলি সংগ্রহ করো। আদবের কিতাব সেটা সংগ্রহ করো। তালীম দিবা, পারিবারিক তালীম।

এরপরে যদি তোমার প্রত্যেকের এলাকায় যার বাড়িতে হোক যেখানে সম্ভব যদি একাউন্ট পাঁচজন ১০ জন মিলে হোক একটা মসজিদ বানাও। একটা মসজিদ বানাইলে সেখানে তালীমের জন্য সুবিধা হবে। দ্বীনি আলোচনা করতে পারবা, নসীহত করতে পারবা। মানুষকে হেদায়েতের দিকে আনতে পারবা। আর তারপরে যদি কারো সামর্থ্য থাকে তাহলে সে খানকাহ শরীফ মুসাফিরখানা করুক। খানকাহ শরীফ বানাও, মুসাফিরখানা বানাও। ওখানে মানুষ আসলে থাকতে পারবে। যদি সামর্থ্য থাকে তাহলে মানুষ মেহমানদারী করতে পারবে, সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব।

এরপর হচ্ছে পানির ব্যবস্থা করা। এখন সেটা পুকুর করে হোক অথবা কূয়া করে হোক অথবা নলকূপ যেটা সেটা যেটাই হোক, পানির ব্যবস্থা করতে পারলে সেটা যতদিন থাকবে সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব হবে। আর নেক কাজে বেশি বেশি খরচ করো। 'সাদাক্বাতান আখরাজাহা মিম মালিহী'—নেক কাজে খরচ করো।

এখন তোমরা তো কোনোটিই করো না। মাহফিলে বসতেই তোমার সময় নাই, নাউযুবিল্লাহ! দুনিয়ার সমস্ত সময় তোমাকে সময়টা কে দিলো তোমাকে? সময়ের মালিক কি তুমি? তুমি তো মালিক না। যিনি খালিক্ব যিনি মালিক রব আল্লাহ পাক উনি দিছেন কোন কারণে দিলেন? উনার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে, এটা মনে রাখবা।

'হুওয়াল্লাযী খালাক্বা লাকুম মা ফিল আরদ্বি জামীআ'—যিনি খালিক্ব যিনি মালিক আল্লাহ পাক ইরশাদ বলে দিয়েছেন, সমস্ত সৃষ্টিকে সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খেদমত মোবারক করার জন্য, গোলামী করার জন্য। গোলামীর জন্য তোমাকে সময় দেওয়া, তোমার হায়াতটা দেওয়া হইছে। তাইলে তুমি উনার গোলামী কতক্ষণ করলা? তুমি নিজের গোলামী করো সারাদিন, নফসের গোলামী করো। উনার গোলামীর জন্য তোমাকে সময় দেওয়া, তোমার হায়াত দেওয়া হইছে। কিন্তু তুমি এই হায়াতটাকে তুমি তোমার নফসের গোলামীতে ব্যয় করতেছো, নাউযুবিল্লাহ! তুমি কি ফায়দা লাভ করবা?

উনার গোলামী করা উচিত তোমার, সেজন্য সময় দেওয়া হইছে। সেজন্য তোমার মাহফিলে আসা উচিত, তোমার সময় বের করা উচিত তুমি। তোমার চাকরি ব্যবসা ক্ষেতখামার তো মূল না। তোমার মূল হচ্ছে ঈমান শুদ্ধ করা, এছলাহ হাছিল করা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী করে উনার নিসবত হাছিল করা, এটা ফরযে আইন।

একটা লোক একবেলা না খাইলেও চলে, দুইবেলা না খাইলেও চলবে, কিন্তু ঈমান যদি শুদ্ধ না থাকে তো মারা গেলে যাইবা জাহান্নামে। তখন কি করবে? অনন্তকাল জাহান্নামে জ্বলতে হবে। এটা মনে রাখতে হবে। মানুষকে কেন সময় দেওয়া হইলো, কেন সৃষ্টি করা হইলো? কিসের জন্য? একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার গোলামী করার জন্য। উনার খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার জন্য সৃষ্টি করা হইছে, অন্য কোনো কারণে না। সমস্ত কায়নাত সেজন্য সৃষ্টি হইছে। তো উনার জন্য তুমি কতটুক সময় দিলা? উনার জন্য সময় ব্যয় করো। উনার জন্য মাল ব্যয় করো, কতটুকু মাল ব্যয় করছো তুমি?

তোমার নিজের জন্য তুমি সারাদিন যা কামাই করো সব নিজের সংসারে খরচ করো। তো মাহফিলে শরিক থাকবার সময় নাই, পয়সা নাই, সংসার চলে না, নাউযুবিল্লাহ! তো তোমাকে পয়সাটা কে দেয়? সবকিছু দেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি।

'আল্লাহু ইয়ু'ত্বী ওয়া ইন্নামা আনা ক্বাসিম'—আল্লাহু ইয়ু'ত্বী, যিনি খালিক্ব যিনি মালিক আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সব হাদিয়া মোবারক করছেন, সুবহানাল্লাহ আলাইহিস সালাম। 'ইন্নামা আনা ক্বাসিম'—আমি সব বণ্টনকারী, সুবহানাল্লাহী ওয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।তিনি সব বণ্টন করেন। তোমার যা প্রয়োজন তুমি বুঝো আর না বুঝো। কেউ বুঝুক অথবা না বুঝুক, কাফের মুশরিক ইহুদী নাছারা হিন্দু বৌদ্ধ মজুসী মুশরীক যা আছে এদেরকে সবাইকে উনিই বণ্টন করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বণ্টন করেন, সুবহানাল্লাহী ওয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কাজেই বিষয়টা অনেক সূক্ষ্ম বিষয়, কঠিন বিষয়। এখন মানুষ তো তাছাউফ তো বুঝে না, এটা বুঝবো কোত্থেকে? ওই যে এর কিতাব পড়ে দেখো। হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনি কাইয়ূম, কাইয়ূমে আউয়াল। একজন কাইয়ূমের কি ক্ষমতা ওটা উনি বর্ণনা করছেন। একজন কাইয়ূমের ক্ষমতা কি? আমরা তো বললাম এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিষয় তো। আর উনার তো অনেক ঊর্ধ্বে, কল্পনাও করতে পারবে না।

আরে যে একজন কাইয়ূম হয়, কাইয়ূমের আদেশ ছাড়া সারা কায়নাত একটা পাতাও নড়ে না। সুবহানাল্লাহ! তো সমুদ্রের অতলে একটা মাছও নড়তে পারে না। একটা বাতাসও প্রবাহিত হতে পারে না। যে আল্লাহ পাক উনার হুকুমে গাছের পাতা নড়ে না, একটা কাইয়ূম যিনি উনার হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। ওটা পড়ে দেখো। তাইলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুকুম ছাড়া কি করবে, কি চলবে? এত সোজা জিনিস মনে কইরো না।

উনার জন্যই সব দেওয়া হইছে, সব সৃষ্টি করা হইছে। সবাই উনার জন্য সৃষ্টি হইছে। সমস্ত কায়নাত সৃষ্টি হইছে। উনার গোলামীই করতে হবে। উনার জন্য সময় দিতে হবে, উনার জন্য মাল দিতে হবে, উনার জন্য জান দিতে হবে প্রয়োজন হইলে। মানুষ তো এটা বুঝলো না। কাজেই পরকালে ফায়দা পাবে কোত্থেকে? যত যে কিছুই করুক, পরকালে কিন্তু কোনো সুপারিশ কেউ পাবে না। যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি সুপারিশ না করেন, কারো কোনো ক্ষমতা নাই। জাহান্নাম ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নাই। এটা কঠিন একটা বিষয়। সূক্ষ্ম বিষয়। এটা ফিকির করতে হবে।

কাজেই তোমাদের জন্য যেমন ছোহবত এখতিয়ার করা এবং যিকির করা ফরজ। আর আমলগুলি সব সুন্নত অনুযায়ী করবে। ইলিমগুলি আমাদের কিতাবগুলি সংগ্রহ করবে। এটা ফরযে আইন, মনে রাখবা। আমরা প্রতিদিন বলি। এটা হচ্ছে ফরযে আইন। বিষয়টা অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং কঠিন বিষয়। মানুষ এর একটাও বুঝে না। চোখটা বন্ধ হইলে তখন সব শূন্য হয়ে যাইব। তোমার সমস্ত কিছু শেষ। যদি তুমি নেককার হয়ে থাকো তুমি নাজাত পাবে, আর ব্যতিক্রম হইলে তার কোনো উপায়ই নাই। দোযখে অনন্তকাল জ্বলতে হবে, নাউযুবিল্লাহ! দুনিয়ায় তুমি একটা মশার কামড়, মাছির কামড় বরদাশত করতে পারো না, ওখানে অনন্তকাল আগুন জ্বলবে কেমনে? এত গুরয এক একটা গুরয দিলে তো ৭০ গজ তলে যাবে। আবার টেনে বের করা হবে। তখন কেমন হবে? সেটা সহ্য করবে কেমনে? এটা কঠিন বিষয়।

কাজেই এখন সময় থাকতে আমলগুলি করো। যিকিরটা ঠিকমতো করো। বাদ এশা বাদ ফজর দুরূদ শরীফ, পাস-আনফাসটা জারি করো, এরপর ছবকগুলি করো। ইলমে তাছাউফের ফরযে আইন হচ্ছে সুলতানুল আযকারের প্রথম স্তর যেতে হবে। আর আমলগুলি করো সব সুন্নত মোবারক অনুযায়ী। যতটুকু জানো করো, যেটা জানো না জেনে জেনে কোশেশ করো। আর ইলিম আমাদের কিতাবগুলি প্রতিদিন কিছু কিছু পড়ো। একদিনেই সব কিতাব শেষ করতে হবে সেটা আমরা বলি না, যদি কেউ পারে তো ভালো। কিছু কিছু পড়লে ইলিমটা হচ্ছে 'আল ইলমু বিল বাহাস'। চর্চা করলে ইলিম বৃদ্ধি হয়। আর ইলিম ছাড়া কোনো আমল করতে পারবা না। 'আল ইলমু ইমামুল আমল'—ইলিম হচ্ছে আমলের ইমাম। এটা মনে রাখবা।

এটা কিন্তু কঠিন বিষয়। মানুষের জন্য মৃত্যুটা একটা কঠিন বিষয়। মানুষ তো বুঝে না যে মৃত্যুটা কি জিনিস। অনেক কঠিন মৃত্যুটা। যদি ঈমানের সাথে যেতে পারে তখন কামিয়াবী, এছাড়া কোনো কামিয়াবী নাই। এটা কঠিন বিষয়। তোমার আমলের মধ্যে কতটুকু তুমি এছলাহ প্রাপ্ত হইছো? তুমি সারাদিন কি করো তুমি নিজে ফিকির করো। তুমি কতটুকু সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য ব্যয় করো, আর কত তোমার জন্য ব্যয় করো তুমি ফিকির করো। তোমার কতগুলি টাকা উনার জন্য খরচ করো, আর কত তোমার নিজের জন্য খরচ করো ফিকির করো।

উনাকে সবচাইতে বেশি মহব্বত করতে হবে, তোমার মহব্বতটা গেল কোথায়? মহব্বত তোমার নফসের মধ্যে, তোমার পরিবারের মধ্যে মহব্বত, তোমার ছেলেমেয়ের মধ্যে মহব্বত। সব তুমি তো এদিকেই সময় দেও, পয়সা দেও, সব দেও, মাল দেও, জানও দেও। উনার জন্য তো কিছু দেও না। তাইলে মহব্বত কেমনে করলা?

যে যাকে মহব্বত করে, 'মান আহাব্বা শাইয়ান আকছারা যিকরাহু'—যে যাকে মহব্বত করে সে তার কথা বেশি বলে। তার জন্যই সে সব করে। যেমন একটা লোক দিনরাত সারাদিন কষ্ট করে, পরিশ্রম করে, কামাই করে, কোথায় নেয় কামাইয়ের টাকাগুলি? রাস্তায় ফেলে দেয়? তার সংসারে নিয়ে খরচ করে। এত পরিশ্রম সে করে, তার সংসারে টাকাগুলি দিলে ছেলেমেয়েরা খুশি হইলে সে খুশি হয়ে যায়। তার কষ্টটা কষ্ট মনে হয় না। 'আয মুহাব্বাত তালখাশিরীন শওয়াদ'—মহব্বতে তিতাটা মিষ্টি হয়ে যায়।

তোমার তো দেখা যায় তোমার সন্তানের মহব্বত তোমার বেশি। তুমি তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য সময়ও ব্যয় করলা না, পয়সাও ব্যয় করলা না। তাইলে মহব্বতটা কোথায়? তুমি সুপারিশ পাবে কেমনে? এটা ফিকির করবা। এগুলি ফিকির করবে, ফিকির না করলে বুঝবে না। তুমি কার জন্য সময় ব্যয় করো, কার জন্য পয়সা ব্যয় করো, কার চিন্তায় থাকো সারাদিন, ওটা ফিকির করো। এটা কঠিন একটা বিষয়।

সমস্ত কিছুই করা উচিত ছিল, আল্লাহ তো বললেন: 'তুআযযিরূহু ওয়া তুওয়াক্কিরূহু ওয়া তুসাব্বিহূহু বুকরাতাওঁ ওয়া আসীলা'—আল্লাহ বলে দিয়েছেন, তোমাদের জন্য ফরযে আইন, আমার হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য তোমাদের মাল ব্যয় করবা, উনাকে তাযীম-তাকরীম মোবারক করবে, উনার ছানা-সিফত করবে, ২৪ ঘণ্টা ছানা-সিফত করবে। তো কতজন করে? কয়জন মাল ব্যয় করে? কয়জন সময় ব্যয় করে? কেউ তো করে না। তাইলে মহব্বত করল কোথায়? খুব ফিকির করবে।

আসলে মানুষ নফসকে মহব্বত করে। তার পরিবারকে মহব্বত করে, ছেলেমেয়েদের মহব্বত করে। এজন্য সারাদিন যা কামাই করে, এই সময়টা ব্যয় করে কামাইয়ের পিছনে কেন? সে ২৪ টা ঘণ্টা ব্যয় করলো, সময়টা শেষ তার। এই ব্যয় করে কিছু পয়সা প

image

পৃথিবীর জমিনে যিনি খালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন ইমামুল মুরসালিন খতামুন্নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত সুন্নত মুবারক সবচেয়ে বেশি প্রচার করতেছেন ঢাকা রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার সম্মানিত শায়েখ আলাইহিস সালাম।

image

image

ইমাম ইবনে খলিফায়ে উমাম
সালাম সালাম আলাইকাস সালাম (লাইভ ভার্সোন)

পাঠক: মাবরুরুল হক চৌধুরী ফুয়াদ ভাই
ভিডিও: মুহম্মদ আহমাদুল্লাহ আশিক

পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ

(৩য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার যেমন অসংখ্য ফযীলত মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। ঠিক বাস্তবেও পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার বিস্ময়কর অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিম্নে সেখান থেকে কতিপয় ঘটনা বর্ণনা করা হলো-



(২) অনুরুপ আরো একটি ঘটনা:



উক্ত যুবক বললেন, হে হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে উনার প্রকৃত পরিচয়ে চিনতে পারেন নি। তখন হযরত সুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাহলে আপনি কীভাবে উনাকে চিনেছেন? যুবক বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছি আমার ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল ভেঙ্গে যাওয়ার মাধ্যমে। আমি যখন কোনো কিছু করার দৃঢ় সংকল্প করলাম, তখন আমার সংকল্প দুর্বল হয়ে গেলো; আর যখন মনস্থির করলাম, তখন মন পরিবর্তন হয়ে গেলো। তখন আমি বুঝলাম আমার এমন একজন রব তায়ালা আছেন, যিনি আমাকে পরিচালনা করেন, আমি নিজে নিজের নিয়ন্ত্রণকারী নই।

হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তখন উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার (প্রতিনিয়ত) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের কারণ কী? তিনি বললেন, একবার আমি আমার মাকে নিয়ে পবিত্র হজ্জে আসলাম। আমার মা আমাকে বললেন, ‘তুমি কি আমাকে পবিত্র কা‘বা ঘরে প্রবেশ করাবে না? তখন আমি উনাকে ভিতরে নিয়ে গেলাম। কিন্তু তিনি সেখানে পড়ে গেলেন; উনার পেট ফুলে গেলো, মুখ কালো হয়ে গেলো। যুবক বলেন, আমি খুব চিন্তিত অবস্থায় আমার মায়ের পাশে বসলাম।

তারপর আকাশের দিকে হাত তুলে বললাম, ‘ইয়া রব্বী! আপনার ঘরে প্রবেশকারীর সাথে এ কেমন আচরণ? হঠাৎ তিহামার দিক থেকে একখন্ড মেঘ উত্থিত হলো, আর সেখানে সাদা পোশাক পরিহিত এক মহান ব্যক্তি আবির্ভূত হলেন। তিনি পবিত্র কা’বা শরীফে প্রবেশ করলেন, প্রথমে আমার মায়ের মুখের উপর উনার হাত মুবারক বুলালেন, মুখ সাদা হয়ে গেলো; তারপর পেটের উপর হাত মুবারক বুলালেন, পেটও আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেলো; অর্থাৎ আমার মা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর তিনি চলে যাচ্ছিলেন। আমি উনার পোশাক মুবারক হাত দিয়ে ধরলাম এবং বললাম, ‘আপনি কে, যিনি আমার এই বিপদ দূর করলেন? তিনি বললেন-

أنا نبيك محمد صلى الله عليه وسلم

‘আমি তোমার মহাসম্মানিত নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ তখন আমি বললাম-

يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فأوصني قال لا ترفع قدماً ولا تضع أخرى إلا وأنت تصلي على محمد وعلى آل محمد صلى الله عليه وسلم

‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে কিছু ওছীয়ত মুবারক করুন। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তুমি তোমার পা উঠাতে ও ফেলতে অর্থাৎ দায়েমীভাবে তোমার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৩৮-২৩৯ পৃষ্ঠা, হাদায়িকুল আউলিয়া ২৬ পৃষ্ঠা)



৩. কালো চেহারা ও কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করলেন:



عن حضرت عبد الواحد بن زيد رحمة الله عليه قال خرجت حاجاً فصحبني رجل فكان لا يقوم ولا يقعد ولا يذهب ولا يجيء إلا صلى على النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له في ذلك فقال أخبرك عن ذلك خرجت منذ سنيات إلى مكه ومعي أبي فلما أنصلافنا قلنا في بعض المنازل فبينما أنا نائم إذا أتاني آت فقال لي قم فقد أمات الله أباك وسود وجهه قال فقمت مذعوراً فكشفت الثوب عن وجه أبي فإذا هو ميت أسود الوجه فدخلني من ذلك رعب فبينما أنا على ذلك الغم إذ غلبتني عيناي فنمت فإذا انا على رأس ابي باربعة سودان معهم أعمدة من حديد عند رأسه وعند رجليه وعن يمينه وعن شماله إذا قبل رجل يمشي حسن الوجه بين ثوبين أخضرين فقال لهم تنحوا فرفع الثوب عن وجهه فمسح وجهه بيديه ثم أتاني فقال لي قم فقد بيض الله وجه أبيك فقلت من أنت بأبي وأمي قال أنا سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فكشفت الثوب عن وجه أبي فإذا هو أبيض الوجه فأصلحت من شأنه ودفنته

অর্থ: হযরত আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়িদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার পবিত্র হজ্জে বের হলাম। এক ব্যক্তি আমার সঙ্গী হলেন। যিনি উঠতে, বসতে, আসা যাওয়ায় সর্বাবস্থায় শুধু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতেন। আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি আপনাকে এই ঘটনা বলবো। কয়েক বছর আগে আমি পবিত্র হজ্জের উদ্দেশ্যে সম্মানিত মক্কা শরীফ রওনা হয়েছিলাম। আমার বাবাও আমার সঙ্গে ছিলেন। পথিমধ্যে আমরা এক স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। যখন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, একজন আগন্তুক এসে বললেন, উঠো, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার বাবাকে মৃত্যু দান করেছেন। তার মুখ কালো হয়ে গেছে। আমি ভীত হয়ে ঘুম থেকে উঠলাম এবং আমার বাবার মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে দেখলাম। তিনি মৃত এবং উনার মুখ কালো হয়ে গেছে। এই চিন্তায় আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। দুশ্চিন্তা আর বিষন্নতার মাঝেই একসময় আমার দুচোখ ঘুমে ভারী হয়ে এলো এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।

শিক্ষামূলক ঘটনা
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম

“হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে, যে তার ইলিমের দ্বারা উপকৃত হয়নি।” (দারেমী শরীফ)

অতএব, যারা ইলিম অনুযায়ী আমল করবে না অর্থাৎ যারা জানে ছবি তোলা হারাম, তারপরও ছবি তোলে। যারা জানে গণতন্ত্র-হরতাল ইত্যাদি হারাম বা বিজাতীয় পন্থা, তারপরও তারা দ্বীন ইসলামের নামে গণতন্ত্র চর্চা করে। মূলতঃ উপরোক্ত হাদীছ শরীফের মিছদাক তারাই অর্থাৎ তারাই উলামায়ে “সূ” বা দুনিয়াদার আলিম, আর তারাই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।

একটি ওয়াকেয়ার দ্বারা আরো সুস্পষ্টভাবে দ্বীনদার আলিম ও দুনিয়াদার আলিমের পরিচয় ফুটে উঠবে। কিতাবে উল্লেখ আছে যে, বাদশাহ শাহজাহান একবার তার দরবারী আলিমদের নিকট ফতওয়া তলব করে বললেন- আমি অসুস্থ, অসুস্থতার কারণে আমার জন্যে রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়েয হবে কি? দরবারী আলিমরা বাদশার মনতুষ্টির জন্যেই হোক বা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্যেই হোক তারা ফতওয়া দিল, বাদশাহ নামদার! যেহেতু আপনি অসুস্থ আর আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজ্য অচল হয়ে পড়বে, কাজেই রাজ্য ও প্রজাদের বৃহত্তর স্বার্থে আপনার জন্যে এ অবস্থায় রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়েয হবে। বাদশাহ তার দরবারী আলিমদের মৌখিক ফতওয়ায় আশ্বস্ত না হতে পেরে লিখিত ফতওয়ার নির্দেশ দিলেন। দরবারী আলিমরা বাদশাহকে এ ব্যাপারে লিখিত ফতওয়া দিল। বাদশাহ তাতেও নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না, তাই তিনি বললেন, এ ফতওয়াতে অন্যান্য আরো আলিমের দস্তখত লাগবে। দরবারী আলিমরা তখন তাদের সমজাতীয় তিনশত আলিমের দস্তখত সংগ্রহ করে ফতওয়াটি বাদশাহর নিকট পেশ করলো। বাদশাহ ফতওয়াটি আদ্যপান্ত ভালরূপে পাঠ করে দেখলেন এবং বললেন যে, সেখানে তার শাহী মসজিদের যিনি খতীব, নূরুল আনোয়ার ও তাফসীরে আহমদীর ন্যায় বিশ্বখ্যাত কিতাবের মুছান্নিফ, তৎকালীন যামানার শ্রেষ্ঠতম আলিম, হযরতুল আল্লামা মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দস্তখত ব্যতীত এ ফতওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না। তখন দরবারী আলিমরা উক্ত ফতওয়াটি হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে নিয়ে যায় দস্তখত নেয়ার জন্য। হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি আজ এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করবোনা, বরং বাদশাহ আমার মসজিদে জুমুআর নামায পড়তে আসেন, তাই আমি বাদশাহ ও মুছল্লীগণের সম্মুখে এ ব্যাপারে ফতওয়া দিবো। অতঃপর জুমুআর দিন বাদশাহ উনার উযীর-নাযীরসহ পবিত্র জুমুআর নামায পড়ার জন্যে মসজিদে গেলেন। অনেক মুছল্লীও উপস্থিত হলেন এবং দরবারী আলিমরাও উপস্থিত।

সকলেই অপেক্ষা করছে হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া শোনার জন্যে। ইতিমধ্যে হযরত মোল্লা যিয়ূন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মিম্বরে উঠে বসলেন এবং বললেন, মুছল্লী ভাইয়েরা! আমার নিকট তিনশত আলিমের দস্তখত সম্বলিত একটি ফতওয়া এসেছে। যাতে বলা হয়েছে যে, বৃহত্তর স্বার্থে, বাদশাহর অসুস্থতার কারণে, বাদশাহর জন্যে রেশমী কাপড় পরিধান করা জায়িয। এ ব্যাপারে আমার ফতওয়া হলো-

مفتى اور مستافتى هردو كافراند.

অর্থ: “যারা এ ফতওয়া দিয়েছে এবং যে চেয়েছে উভয়েই কাফির হয়ে গেছে।”

কারণ, সম্মনিত শরীয়ত উনার মধ্যে হারামকে হালাল আর হালালকে হারাম বলা কুফরী।

উপরোক্ত ঘটনা দ্বারা যেরূপ ওলামায়ে “সূ” তথা দুনিয়াদার আলিমদের মুখোশ সুস্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে, তদ্রƒপ উলামায়ে হক্ব তথা দ্বীনদার আলিমগণের পরিচয় বা লক্ষণও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সুতরাং যারা দ্বীন ইসলাম উনার জন্য যে কারো রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করার হিম্মত রাখেন উনারাই হক্কানী আলেম, আর উনারাই হলেন উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। আর যারা দুনিয়াবী ফায়দা লাভের জন্যে মনগড়া ফতওয়া দেয়, নফসের অনুকরণ করে, সম্মানিত শরীয়ত উনার খেলাফ কাজ করে, এক কথায় নাহক্ব বা হারামের উপর দৃঢ়, তারাই ওলামায়ে “সূ” বা দুনিয়াদার আলিম, আর তারাই উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক। এদের প্রসঙ্গেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكُوْنُ فِى آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنَ الأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلاَ آبَاؤُكُمْ فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لاَ يُضِلُّونَكُمْ وَلاَ يَفْتِنُونَكُمْ

অর্থ:“হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখেরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি, সাবধান! তোমরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখবে, তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবে না।” (মুসলিম শরীফ)

মোটকথা হলো- পৃথিবীতে হক্ব-নাহক্ব উভয় দলই ক্বিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। তবে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে, হক্ব-নাহক্ব যাচাই-বাছাই করা, হক্কানী আলিমগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা। আর নাহক্ব বা ওলামায়ে সূদেরকে চিহ্নিত করে তাদের কাছ থেকে দূরে থাকা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হক্ব-নাহক্ব বোঝার, যাচাই-বাছাই করার এবং হক্কানী আলিমগণের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার তাওফিক দান করুন। আর নাহক্ব, গোমরাহ আলিমদের ধোকা থেকে আমাদের মূল্যবান ঈমানকে হিফাযত করুন। আমীন।

ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৫২)

কেউ যদি একটা চাকুরী পায়, একটা ভালো চাকুরী পায়, সে খুশি হয়ে থাকে। ব্যবসা করে কিছু টাকা-পয়সা কামাই করে থাকে, লাভ হলে সে খুশি হয়ে থাকে। বিপদ-আপদ থেকে কেউ বেঁচে গেলে, সে খুশি হয়। একটা ঘর-বাড়ী করতে পারলে সুন্দর করে, সে খুশি হয়। জায়গা-সম্পতি কিনতে পারলে, সে খুশি হয়। যমিনে সে মর্যাদা লাভ করলে, সম্মানিত হলে, সে খুশি হয়ে থাকে। রাজা-বাদশা, আমীর-উমারা হতে পারলে, সে খুশি হয়। সম্পদশালী হতে পারলে, সে খুশি হয়। অথচ দুনিয়াবী যে কোন সম্পদ হাছিল করুক না কেন প্রত্যেকটার জন্য আলাদাভাবে সে খুশি হয়ে থাকে, সন্তুষ্ট হয়ে থাকে। এখন তার অবস্থা অনুযায়ী সে সন্তুষ্ট হয়, খুশি হয়।

সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তারা তো খুশি হয়ে থাকে, দুনিয়াবী সম্পদ লাভ করে থাকে। দুনিয়াবী সম্পদ লাভ করে, অর্জন করে তারা সন্তুষ্ট হয়ে থাকে। এবং সেটাকে তারা মনে করে থাকে, তা অনেক উত্তম, অনেক ভালো, সেজন্য তারা অনেক দুনিয়াবী সম্পদ এবং টাকা-পয়সাও খরচ করে থাকে।

মহান আল্লাহ পাক তিনি যে নিয়ামত দিয়েছেন- মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে দিয়েছেন। সেজন্য তারা অনেক অনেক বেশি খুশি প্রকাশ করুক।

তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেদিন আসলেন ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ (সোমবার) দিন সেদিন তাহলে কতটুকু খুশি প্রকাশ করতে হবে? যে কোন লোক, যে কোন সময়, যে কোন নিয়ামত লাভ করলে সে সন্তুষ্ট হয়, সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, খুশি হয়ে থাকে। যেমন পরীক্ষার যদি ফল বের হয়, যে কোন পরীক্ষা হোক না কেন। মাদ্রাসার হোক, স্কুল, কলেজের হোক না কেন দেখা যাবে, যে দিন ফল বের হবে সে দিন কোন মিষ্টির দোকানে মিষ্টি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ তারা সকলেই কিনে নিয়েছে। এত খুশি হয়েছে সমস্ত দেশের মিষ্টি সব শেষ হয়ে গেছে। এত খুশি তারা প্রকাশ করে থাকে। সেটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে আাখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেদিন আগমন করলেন তাহলে সেদিন কতটুকু খুশি প্রকাশ করতে হবে? মিষ্টি দিয়ে, না মাল দিয়ে, না জান দিয়ে, কোনটা দিয়ে খুশি প্রকাশ করতে হবে? যার যতটুকু তাওফীক, যেভাবে তাওফীক রয়েছে ঠিক সেভাবে, ততটুকু দিয়ে সে খুশি প্রকাশ করবে। তাহলে তার জন্য কামিয়াবী রয়েছে।

সেটাই হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন-

مَنْ عَظَّمَ لَيْلَةَ مَوْلِدِهِ بِمَا أَمْكَنَهُ مِنَ التَّعْظِيمِ وَالْإِكْرَامِ كَانَ مِنَ الْفَائِزِينَ بِدَارِ السَّلَامِ

কেউ যদি তার সাধ্য সামর্থ্য অনুযায়ী খুশি প্রকাশ করে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষ্যে তাহলে তার জন্য একমাত্র জায়ে ঠিকানা হচ্ছে জান্নাত। সুবহানাল্লাহ!

কারণ, এখানে খুব ফিকির করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো বলে দিয়েছেন

فَلْيَفْرَحُوا আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তোমাদের কাছে দিয়েছি এই কারণে তোমরা খুশি মুবারক প্রকাশ করো। এখন সেই খুশিটাকে বলা হয় ঈদ। সেটাই আমরা বলেছি ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সমস্ত ঈদের ঈদ হচ্ছেন ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

কারণ, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি না আসতেন তাহলে অন্য কোন খুশি প্রকাশ করার সুযোগ মানুষ পেত না। কোন সুযোগ মানুষ পেত না। কাজেই, সেজন্যই সবাইকে সেদিন খুশি প্রকাশ করতে হবে।

আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ দিয়েছেন ইবরত-নছীহত হাছিলের জন্য

اُدْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ

আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, মানুষকে ডাক মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হিকমতের সহিত, উত্তম নছীহতের দ্বারা।

হিকমত হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে তর্জ-তরীক্বা এবং কুরআন শরীফে যে আদেশ-নির্দেশ করা হয়েছে সেটা হচ্ছে মাওয়িযাতিল হাসানাহ।

কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফের মাধ্যম দিয়ে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তর্জ-তরীক্বার মাধ্যম দিয়ে মানুষকে ডাক মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন।