আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগের কথা। পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ মাসের তিন তারিখ, দিনটি ছিল ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ দিবাগত রাত। আমার সেজো বোন মিলি আপা (ফুয়াদ, ফাহিমের আম্মু) ইন্তিকাল করেন। উনার মৃতদেহ সন্ধ্যা ০৭:০০ বা ০৭:৩০ মিনিটের দিকে আল মুতুমাইন্নাহ মা ও শিশু ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসা হল। সেই সময় আমাদের মাথায় কিছুই আসছিল না। কিভাবে কি করব, কোথায় উনার গোসল কাফনের ব্যবস্থা করা হবে? তিনি ছিলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার খুব কাছের একজন খাদিমা। কিছুক্ষণের মধ্যে খবর আসলো দরবার শরীফ উনার ভিতরে মিলি আপার গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা করা হবে। ভাবছিলাম হয়তো পীরবোনেরা মিলে উনাকে গোসল করাবেন। নির্ধারিত সময় আসলো, মুর্দাকে গোসল করানোর জন্য যা যা প্রয়োজন সব প্রস্তুত। লিফটের রুমের পাশে পর্দা দিয়ে গোসলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পীরবোন আমরা সবাই প্রস্তুত। কিন্তু! আমি কাকে দেখছি! তিনি তো আমাদের আম্মাজী! যিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস তিনি স্বয়ং তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন আপাকে গোসল করানোর জন্য। আমার ভেতরটা কেঁপে উঠলো। অপলক দৃষ্টিতে উনার চেহারা মুবারক উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম। আর ভাবছিলাম, এও কি সম্ভব? যাই হোক, উনার মুবারক নির্দেশনায় গোসলের কাজ শুরু হল। সে রাতের সেই ঘটনা আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন আমার মানসপটে চির অম্লান হয়ে থাকবে। কি যত্ন কি মায়া মুহাব্বত দিয়ে তিনি আপার গোসলের ব্যবস্থা করেছেন তা বলার ভাষা আমার জানা নেই। মাঝে মাঝেই তিনি বলছিলেন, "ওর শরীরে কিন্তু এখন অনেক ব্যথা, তোমরা আস্তে আস্তে কর"।
আমি মা হয়েছি তাই জানি সন্তানের প্রতি মায়ের যে কত ভালোবাসা। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাদেরকে যে মমতা দিয়ে উনার জান্নাতী বাগিচায় সযত্নে রেখেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস তার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর কোনো মা তার সন্তানের জন্য দেখাতে পারবে না। আবারও আসা যাক সেই প্রসঙ্গে- এরই মধ্যে গোসলের ফাঁকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আমাদেরকে অনেক নছীহত মুবারক করলেন এবং মিলি আপার কিছু স্মৃতিও আমাদের মাঝে তুলে ধরলেন। এরমধ্যে যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি অভিভূত করেছে তা আমার জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে হোক আর যাই হোক সেটা হচ্ছে, তিনি বললেন- মিলি আমার কাছে ১৯৯৪ সালে এসেছিল। ১৯৯৬ সালে ওকে বিয়ে দিয়েছিলাম। তারপরে সে দু'জনের মা হলো। এরপর মিলি চোখের সামনেই বিধবা হলো। আর আজ সে আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে"। এ কথা মুবারক বলার পর উনার চোখ মুবারক দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। যা দেখে আমরা যারা উপস্থিত ছিলাম তারা আর নিজেদেরকে ঠিক রাখতে পারলাম না। আমরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। তিনি উনার শ্যাম্পু মুবারক এনেছিলেন মিলি আপাকে গোসল করানোর জন্য। গোসল শেষে তিনি নিজ হাত মুবারকে মিলি আপার মাথায় পবিত্র সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার ফিতা পরিয়ে দিয়েছিলেন, যা ছিল উনারই মুবারক নির্দেশে কবরবাসীর জন্য সর্বপ্রথম সাইয়্যিদুল আ'ইয়াদ শরীফ উনার ফিতা মাথায় ধারণ করা। এভাবে সারা রাত্র জেগে মমতাময়ী মা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম আপার গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা করেন। উনার চেহারা মুবারকে কোনো ক্লান্তির ছাপ আমি দেখিনি। গোসল শেষে কাফন পরানোর পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি আপার সামনে বসে বললেন, "মিলি! অনেক খেদমত তো করেছো, এখন যাও মঞ্জুর (ফুয়াদ, ফাহিমের আব্বু) পাশে গিয়ে ঘুমাও"। এখানে উল্লেক্ষ্য যে, উনার আহাল জনাব মঞ্জু সাহেব বরাবর চৌদ্দ মাস আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। পাঠক! আপনারা কি আপনাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন? নিশ্চয়ই না। আমরাও পারিনি। আসলে সেই রাতের ঘটনা সম্পূর্ণ বর্ণনা করলে একটা বই লেখা হয়ে যাবে। তারপর আরো বললেন, "এবার তোমরা (খালারা বাদে) সবাই সরে যাও, ফুয়াদ ফাহিমকে ডাকো। ওরা যতক্ষণ পারে ততক্ষণ যেন ওদের আম্মুর পাশে থাকে। দু'চোখ ভরে শেষ দেখাটা দেখে যাক"। কী সীমাহীন মমতা! সত্যিই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার তুলনা শুধু তিনি নিজেই।
মিলি আপা ইন্তেকালের আগে উনার দুই ছেলেকে একটা অসিয়ত করে গিয়েছিলেন। মুঈনা আপা আমাকে বললেন, লিমা আপা! আপনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছে সেই আরজিটা পেশ করেন। আমি বললাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম! আপা বলে গেছেন উনার কবরের সুওয়াল-জাওয়াবটা যেন আপনি দিয়ে দেন। একথা শুনে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ১০-১৫ সেকেন্ড নিশ্চুপ ছিলেন। পরক্ষণেই বললেন, "ওর তো সুওয়াল-জাওয়াব হবে না"। নির্বাক হয়ে গেলাম কিছুক্ষণের জন্য। খালিক, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে কত গভীর নিসবত মুবারক থাকলে তিনি এমন উত্তর দিতে পারেন। যা ছিল আমার চিন্তা ও কল্পনার বাইরে।
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক আমি কি বর্ণনা করবো। উনার শান-মাক্বাম তো ওয়ারাউল ওয়ারা, ওয়ারাউল ওয়ারা, ওয়ারাউল ওয়ারা...। এর উপরে যদি কোনো মাকাম মুবারক থাকে (যা আমার জানার বাহিরে) তার সম্পূর্ণ অধিকারী হচ্ছেন তিনি। শুধু কি তাই? এ তো গেল গোসল ও কাফন প্রসঙ্গে। মমতাময়ী মা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উনার রূহানী সন্তানদের (মুরীদান) সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনায় সব সময় পাশে থাকেন। যাহিরীভাবেই হোক বাতিনী ভাবেই হোক। মিলি আপা ইন্তেকাল করার এক সপ্তাহ আগে যখন উনাকে মুমূর্ষ অবস্থায় আল-মুত্বমাইন্নাহ শরীফ হাসপাতালে আনা হয়। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি খবর শুনার কিছুক্ষণের মধ্যে শাহযাদীদ্বয় উনাদেরকে নিয়ে হাসপাতালে তাশরীফ মুবারক নেন। উনারা যতক্ষণ ছিলেন (আনুমানিক আধা ঘন্টা থেকে এক ঘন্টা) এক মুহূর্তের জন্যও বসেননি। একটু পর পর আম্মাজী মিলি, মিলি বলে ডাকছিলেন এবং অঝোর ধারায় চোখের পানি মুবারক প্রবাহিত হচ্ছিল। যা দেখে আমি বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি। বাইরে এসে অনেক কান্না করছিলাম। আসলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে যারা কাছ থেকে দেখেনি তারা বুঝবে না উনার অন্তরে ও বাহিরে কত মমতা, কত মুহাব্বত!
- আহমাদ ইসমাত জাহান লিমা
চোখ ধাঁধানো ও অনিন্দ্য সুন্দর বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদ। যার আয়তন ৭২৫ বর্গকিলোমিটার। কাপ্তাই হ্রদ কর্মসংস্থান, জীবন ও জীবিকা করেছে অনেক সমৃদ্ধ। কাপ্তাই হ্রদের চারপাশে রয়েছে বিশাল সবুজ বনভূমি। প্রতিবছর হাজার হাজার টন মাছ আহরন হয় এ কাপ্তাই হ্রদে। কাপ্তাই হ্রদের আহরিত মাছ দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে বিদেশে। কাপ্তাই হ্রদের পানি ভাসা জমিতে চাষাবাদ করে বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করছে কৃষকরা। মৌসুমি সবজি এবং শীতকালীন সবজি, ধান, তরমুজ চাষাবাদে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে কাপ্তাই হ্রদ। কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। কাপ্তাই হ্রদের আশপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য পর্যটক কেন্দ্র। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প বাণিজ্য। কাপ্তাই হ্রদের বুকে ভাসমান শত শত ইঞ্জিনচালিত বোট, ট্রলার আর স্পিডবোটের চালক ও মালিকদের সংসার বেশ সচ্ছল। কাপ্তাই হ্রদকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আলোর ঝিলিক দিচ্ছে কাপ্তাই হ্রদ।
🌹ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৬৫)
[১৪৩৯ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক সম্পর্কে স্বয়ং যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا.
অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
আরো উল্লেখ্য যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জলীলুল ক্বদর নবী ও রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত মারইয়াম আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারক—এ ইরশাদ মুবারক করেন,
لَيْسَ الذَّكَرُ كَالْاُنْثٰى
অর্থ: “তিনি এমন একজন সম্মানিতা মহিলা যে, উনার সমকক্ষ কোনো পুরুষও নেই।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৬)
🌹ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৬৪)
[১৪৩৯ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
একজন ওলীউল্লাহ বা খালিছ ঈমানদারের অন্তরে কোনো প্রকার হিংসা—বিদ্বেষ বা বদ স্বভাব থাকে না। কারো অন্তরে যদি হিংসা—বিদ্বেষ বা বদ স্বভাব থাকে, সে কস্মিনকালেও ওলীউল্লাহ হতে পারে না, খালিছ ঈমানদারও হতে পারে না। যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা তো হচ্ছেন একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অর্থাৎ উনারা ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ তামাম কায়িনাতবাসী সকলেরই মহাসম্মানিতা মাতা আলাইহিন্নাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! তাহলে উনাদের সম্মানিত অন্তর মুবারক—এ কিভাবে হিংসা—বিদ্বেষ থাকতে পারে? না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়, তারা আরো বলে থাকে যে, উনারা নাকি পরস্পর দলাদলি করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা নাকি পরস্পর ঝগড়া—ফাসাদ করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা নাকি মিথ্যা কথা বলেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা নাকি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক উনার খিলাফ কাজ করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা নাকি উনার বিরোধীতা করেছেন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! উনারা নাকি আমানতের খিয়ানত করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! এছাড়াও আরো নানা কুফরীমূলক বক্তব্য পেশ করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! যারা এরূপ বলবে, সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া মুবারক অনুযায়ী তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী, চিরমাল‘ঊন, চিরমাল‘ঊন, চিরমাল‘ঊন। তারা যদি মুসলমান বা ঈমানদার দাবি করে, তাহলে তাদের উপর মুরতাদের হুকুম বর্তাবে এবং মুরতাদের শাস্তিও বর্তাবে এবং তাদের প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। আর যদি কাফির হয়, তাহলে তারা তাদের কুফরীকে আরো বৃদ্ধি করলো। তাদের শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড। তাদেরও প্রাপ্য হলো চির লা’নত ও চির জাহান্নাম। তারা ইবলীসের ন্যায়; বরং ইবলীসের চেয়েও চরম মাল‘ঊন। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয। আর যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদের উপরও একই হুকুম বর্তাবে।
🌹ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৬৩)
[১৪৩৯ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
সুতরাং সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাহরীম শরীফ উনার প্রথমোক্ত পাঁচখানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো কিছুই বলা হয়নি; বরং উল্টো উনাদের হাক্বীক্বী শান—মান, ফাযায়িল—ফযীলত, বুযূর্গী—সম্মান মুবারক এবং সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক উনার বিষয়টিই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! কিন্তু বাতিল ফিরক্বার লোকেরা এবং হক্ব দাবীদার ব্যক্তিরা যাদের আক্বল, বুদ্ধি, সমঝ, ইলম—কালাম, তায়াল্লুক্ব—নিসবতে ত্রুটি রয়েছে, তারা আলোচ্য সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের হাক্বীক্বতটা বুঝতে না পেরে এলোমেলো ব্যাখ্যা করেছে, ইসরাঈলী বর্ণনার কারণে তারা প্রতারিত হয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা বলে থাকে যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা নাকি পরস্পর হিংসা করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! অথচ যে হিংসুক সে তো ঈমানদারই হতে পারে না। যেটা সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
اِنَّ الْـحَسَدَ يَاْكُلُ الْـحَسَنَاتِ كَمَا تَاْكُلُ النَّارُ الْـحَطَبَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই হিংসা নেকীসমূহকে এভাবে বিনষ্ট করে দেয় যেভাবে আগুন লাকড়িকে জ্বালিয়ে দেয়।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
🌹ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৬২)
[১৪৩৯ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অবশ্যই অবশ্যই এ সমস্ত সম্মানিত ছিফত মুবারক সম্পন্না। যার কারণে উনাদেরকে তালাক্বও দেয়া হয়নি এবং পাল্টানোও হয়নি। সুবহানাল্লাহ!
উনাদের মতো এরূপ উত্তম সম্মানিত ছিফত মুবারক সম্পন্না কায়িনাতের বুকে কোনো মহিলা নেই। যার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
يٰـنِسَآءَ النَّبِـىِّ لَسْتُنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ
অর্থ: “হে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা নিসা আলাইহিন্নাস সালাম তথা হে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মত নন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)
🌹ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৬১)
[১৪৩৯ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
তাফসীর বা ব্যাখ্যা: এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি আপনাদেরকে তালাক্ব দেন অর্থাৎ আপনাদেরকে রুখসত দেয়ার ব্যবস্থা করেন, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে আপনাদের থেকে উত্তম উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম পাল্টিয়ে দিবেন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তো তালাক্ব দেননি এবং উনাদেরকে পাল্টিয়েও দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ! এর মাধ্যমে এটাই প্রমাণ করে দেয়া হলো যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের থেকে উত্তম কোনো মহিলা মহান আল্লাহ পাক উনার কায়িনাতে আর নেই। সুবহানাল্লাহ! আর এ কারণেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে তালাক্ব দেননি এবং উনাদেরকে পাল্টিয়েও দেয়া হয়নি। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান—মান, ফাযায়িল—ফযীলত, বুযূর্গী—সম্মান মুবারক এক কথায় উনারা শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান—মান, ফাযায়িল—ফযীলত, বুযূর্গী—সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন উনারা। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, উনারা হচ্ছেন,
مُسْلِمٰتٍ مُّؤْمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تٰٓئِبٰتٍ عٰبِدٰتٍ سٰٓئِحٰتٍ ثَيِّبٰتٍ وَّاَبْكَارًا.
এই সমস্ত সম্মানিত গুণ মুবারক সম্পন্না। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন,
مُسْلِمٰتٍ مُّؤْمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تٰٓئِبٰتٍ عٰبِدٰتٍ سٰٓئِحٰتٍ ثَيِّبٰتٍ وَّاَبْكَارًا.
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আত্মসমর্পণকারিণী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারিণী, প্রত্যেকেই অত্যন্ত অনুগতা, প্রত্যেকেই তাওবাকারিণী, প্রত্যেকেই অত্যন্ত ইবাদাতকারিণী, প্রত্যেকেই অনেক রোযাদার, অনেকে অকুমারী এবং অনেকে কুমারী।” সুবহানাল্লাহ!
🌹ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৬০)
[১৪৩৯ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
পঞ্চম সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অর্থ ও তাফসীর বা ব্যাখ্যা
عَسٰى رَبُّهٗۤ اِنْ طَلَّقَكُنَّ اَنْ يُّبْدِلَهٗۤ اَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنْكُنَّ مُسْلِمٰتٍ مُّؤْمِنٰتٍ قٰنِتٰتٍ تٰٓئِبٰتٍ عٰبِدٰتٍ سٰٓئِحٰتٍ ثَيِّبٰتٍ وَّاَبْكَارًا.
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি আপনাদেরকে তালাক্ব দেন অর্থাৎ আপনাদেরকে রুখসত দেয়ার ব্যবস্থা করেন, তাহলে যিনি খালিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে আপনাদের থেকে উত্তম উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম পাল্টিয়ে দিবেন। উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আত্মসমর্পণকারিণী হবেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিশ্বাসস্থাপনকারিণী হবেন, প্রত্যেকেই অত্যন্ত অনুগতা হবেন, প্রত্যেকেই তাওবাকারিণী হবেন, প্রত্যেকেই অত্যন্ত ইবাদাতকারিণী হবেন, প্রত্যেকেই অনেক রোযা রাখবেন, অনেকে অকুমারী এবং অনেকে কুমারী হবেন।” সুবহানাল্লাহ!
শব্দার্থ: اِنْ طَلَّقَكُنَّ যদি তিনি আপনাদেরকে তালাক্ব দেন, রুখসত দেয়ার ব্যবস্থা করেন, يُّبْدِلَهٗ তিনি উনাকে পরিবর্তন করে দিবেন, পাল্টিয়ে দিবেন, خَيْرًا উত্তম, مِنْكُنَّ আপনাদের থেকে, مُسْلِمٰتٍ আত্মসমর্পণকারিণী, مُؤْمِنٰتٍ বিশ্বাসস্থাপনকারিণী, قٰنِتٰتٍ অনুগতা, تٰـئِبٰتٍ তাওবাকারিণী, عٰبِدٰتٍ ইবাদাতকারিণী, سٰئِحٰتٍ রোযাদার, ثَيِّبٰتٍ অকুমারী, اَبْكَارًا কুমারী।
🌹ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (৫৯)
[১৪৩৯ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
وَمَنْ يَّعْصِ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ فَاِنَّ لَهٗ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِيْنَ فِيْهَا اَبَدًا
অর্থ: “যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের সম্মানিত আদেশ মুবারক অমান্য করে, নাফরমানী করে, (উনাদের বিরোধীতা করে) তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন। তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা জিন শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
তাহলে কি করে বলা যেতে পারে যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা পরস্পর মিলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধীতা করেছেন, উনার নাফরমানী করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! যারা এরূপ বলবে, তারা সর্বশেষ স্তরের কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে।