অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার (দুনিয়ার যমীনে আগমন করার) তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ (২৩)

[১৪৪১ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন’ এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে আরো কতিপয় দলীল
আল্লামা ইমাম হযরত আবূ ‘ঈসা মুহম্মদ ইবনে ‘ঈসা রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ: ২৭৯ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘তিরমিযী শরীফ’ (প্রকাশনা— বৈরুত, দারু ইহ্য়ায়িত তুরাসিল আরাবী) উনার মধ্যে এবং তক্বিউদ্দীন মুহম্মদ ইবনে আহমদ আল হুসাইনী আল মাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ : ৮৩২ হিজরী শরীফ) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল ‘ইক্বদুছ ছামীন ফী তারীখিল বিলাদিল আমীন’ (প্রকাশনী: দারুল কুতুবুল ‘ইলমিয়্যাহ বয়রূত) উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَلْـمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ قَيْسِ بْنِ مَـخْرَمَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اَبِيْهِ عَنْ جَدِّهٖ قَالَ وُلِدْتُّ اَنَا وَرَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ وَسَاَلَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ ذُو النُّوْرَيْنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ) قُبَاثَ بْنَ اَشْيَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ اَخَا بَنِـىْ يَعْمَرَ بْنِ لَيْثٍ اَاَنْتَ اَكْبَرُ اَمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَكْبَرُ مِنِّـىْ وَاَنَا اَقْدَمُ مِنْهُ فِـى الْمِيْلَادِ وُلِدَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفِيْلِ.
অর্থ: “হযরত মুত্তালিব ইবনে আব্দিল্লাহ ইবনে ক্বইস ইবনে মাখরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি উনার সম্মানিত পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনে ক্বইস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার) থেকে, উনার সম্মানিত পিতা উনার দাদা (সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বইস ইবনে মাখরমাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার) থেকে বর্ণনা করেন। (সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বইস ইবনে মাখরমাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু) তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমুল ফীল তথা হস্তির বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন, আমিও সেই আমুল ফীল তথা হস্তির বছর বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি। সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি হযরত ক্বুবাস ইবনে আশিয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে প্রশ্ন করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বড় নাকি আপনি? তিনি উত্তরে বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার থেকে অনেক বড়, আর দুনিয়ার যমীনে আগমনের দিকে থেকে আমি উনার পূর্বে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছি। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আমুল ফীল তথা হস্তির বছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ)

অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার (দুনিয়ার যমীনে আগমন করার) তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ (২২)

[১৪৪১ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
মুসনাদে আহমদ শরীফ উনার মধ্যে এই সম্মানিত সনদ মুবারক এ ৮টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছেন। প্রতিটি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সম্মানিত সনদ মুবারক উনার ব্যাপারে শু‘য়াইব আরনাঊত তিনি বলেন—
اِسْنَادُهٗ صَحِيْحٌ عَلـٰى شَرْطِ الشَّيْخَيْـنِ.
অর্থ: “এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সম্মানিত সনদ মুবারক হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এবং হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের শর্ত অনুযায়ী ছহীহ।” সুবহানাল্লাহ!
মোট কথা, এই বিশুদ্ধ সনদ মুবারক—এ ২৫ টিরও অধিক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছেন। কলেবর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আমরা এখানে সমাপ্ত করলাম। তাহলে এখান থেকে এ বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও চির অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারাই প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, এরপরেও যারা এ বিষয়ে চূ—চেরা, ক্বীল—ক্বাল করবে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল ‘আযীম শরীফ) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, এটা যারা মানবে না, সম্মানিত শরীয়ত মুবারক উনার দৃষ্টিতে তারা হচ্ছে লা—মাযহাবী, ওহাবী—সালাফী, মুনাফিক্ব—উলামায়ে সূ’ ও বাতিল ৭২ ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। না‘ঊযুবিল্লাহ! তারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ অস্বীকার করার কারণে কাট্টা কাফির ও চির মাল‘ঊন। ইহকালে তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আর পরকালে রয়েছে তাদের জন্য জাহান্নামের সবচেয়ে ভয়াবহ কঠিন আযাব। না‘ঊযুবিল্লাহ!

অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার (দুনিয়ার যমীনে আগমন করার) তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ (২১)

[১৪৪১ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]

এই ছহীহ সনদ মুবারক—এ মুসলিম শরীফ—এ বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ
حَدَّثَنَا حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرِ بْنُ اَبِـىْ شَيْبَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا حَضْرَتْ عَفَّانُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا حَضْرَتْ سَلِيْمُ بْنُ حَيَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا حَضْرَتْ سَعِيْدُ بْنُ مِيْنَاءَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَثَلِـىْ وَمَثَلُ الْاَۢنْبِيَاءِ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنٰـى دَارًا فَاَتَـمَّهَا وَاَكْمَلَهَا اِلَّا مَوْضِعَ لَبِنَةٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَدْخُلُوْنَـهَا وَيَتَعَجَّبُوْنَ مِنْهَا وَيَقُوْلُوْنَ لَوْلَا مَوْضِعُ اللَّبِنَةِ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَنَا مَوْضِعُ اللَّبِنَةِ جِئْتُ فَخَتَمْتُ الْاَۢنْبِيَاءَ.
অর্থ: “হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আবূ বকর ইবনে আবী শায়বাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত ‘আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সালীম ইবনে হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার এবং হযরত নবী—রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের দৃষ্টান্ত মুবারক হচ্ছেন ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে ব্যক্তি এমন একটি বাড়ি নির্মাণ করেছে যা পরিপূর্ণভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে একটি মাত্র ইটের স্থান ব্যতীত। অর্থাৎ একটি ইটের স্থান খালি ছিলো। লোকজন সেই ঘরে প্রবেশ করে এবং আশ্চর্য প্রকাশ করে বলেন, যদি ঐ ইটের স্থানটি না হতো অর্থাৎ যদি ঐ স্থানটি খালি না থাকতো! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আর আমিই হচ্ছি সেই সম্মানিত ইট মুবারক। আমি সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছি, অতঃপর মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক উনার ধারাবাহিকতা সমাপ্ত হয়েছেন’। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ আমার মাধ্যমেই সেই সম্মানিত ঘর মুবারক তথা মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত ও রিসালত মুবারক উনার মাক্বাম মুবারক পূর্ণতায় পেঁৗছেছেন, সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ছহীহ মুসলিম শরীফ : দারুল আফাক্ব বৈরূত থেকে প্রকাশিত ছহীহ মুসিলম শরীফ ৭ম খণ্ড ৬৫ নং পৃষ্ঠা, বাবু যিক্রি কাওনিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাতামুন নাবিয়্যীন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৬১০৩)
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা সমস্ত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা এক বাক্যে ছহীহ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! আর কাট্টা গোমরাহ, ওহাবী আলবানী তার ‘সিলসিলাতু আহাদীছিছ ছহীহা—এর ১২তম খণ্ডের ১৮ নং পৃষ্ঠায় এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ হিসেবে মেনে নিয়েছে।

অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার (দুনিয়ার যমীনে আগমন করার) তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ (২০)

[১৪৪১ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]

এই ছহীহ সনদ মুবারক—এ বুখারী শরীফ—এ বর্ণিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ:
قَالَ حَضْرَتْ عَفَّانُ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا حَضْرَتْ سَلِيْمُ بْنُ حَيَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ مِيْنَاءَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ سَـمِعْتُ اَبَا هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا عَدْوٰى وَلَا طِيَـرَةَ وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ
অর্থ: “হযরত ‘আফফান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সালীম ইবনে হাইয়্যান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে বলতে শুনেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সংক্রামক রোগ বলতে কিছুই নেই, অশুভ ও কুলক্ষণ বলতে কিছুই নেই, পেঁচার মধ্যে কোন কুলক্ষণ নেই এবং সম্মানিত ও পবিত্র সফর শরীফ মাস উনার মধ্যে কোন অশুভ নেই।” (ছহীহ বুখারী শরীফ : دار طوق النجاة হতে প্রকাশিত : ৭ম খণ্ড ১২৬ নং পৃষ্ঠা : বাবুল জুযাম : মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৫৭০৭)
সমস্ত ইমাম—মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা তো অবশ্যই; এমনকি কাট্টা গোমরাহ, ওহাবী নাছিরুদ্দীন আলবানী তার ‘সিলসিলাতু আহাদীছিছ ছহীহাহ’—এর ২য় খণ্ডের ৪১৪ নং পৃষ্ঠায় এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ছহীহ হিসেবে মেনে নিয়েছে।

অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার (দুনিয়ার যমীনে আগমন করার) তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ (১৯)

[১৪৪১ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]

খ. সনদ মুবারক সম্পর্কে আলোচনা:
এই বিশুদ্ধ সনদ মুবারক—এ ২৬টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে:
১. বুখারী শরীফ = ১টি
২. মুসলিম শরীফ = ১টি
৩. মুসনাদে আহমদ শরীফ = ৮টি
৪. ছহীহ্ ইবনে হিব্বান শরীফ = ১টি
৫. আবূ না‘ঈম শরীফ (মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ) = ১টি
৬. বাইহাক্বী শরীফ (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ) = ১টি
৭. আল মুখতাছারুন নাছীহ শরীফ = ১টি
৮. আল ফাওয়ায়িদ শরীফ = ১টি
৯. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ শরীফ = ২টি
১০. শরহুস সুন্নাহ শরীফ = ১টি
১১. মুস্তাখরাজে আবী ‘আওয়ানাহ শরীফ = ১টি
১২. মুসনাদে আবী ‘আওয়ানাহ শরীফ = ১টি
১৩. আস সুনানুল কুবরা শরীফ (বাইহাক্বী) = ১টি
১৪. আছ ছিহাহ ওয়াল মাশাহীর শরীফ = ১টি
১৫. মুসনাদে আবী দাঊদ ত্বয়ালসী শরীফ = ৪টি

অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার (দুনিয়ার যমীনে আগমন করার) তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ (১৮)

[১৪৪১ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]
হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘বুখারী শরীফ’—এ ৯ টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুসলিম শরীফ’—এ ৭ টিরও অধিক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইমাম আবূ দাঊদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘আবূ দাঊদ শরীফ’—এ ১ টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘তিরমিযী শরীফ’—এ ১ টি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়াও ১. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, ২. মুসনাদে আহমদ, ৩. মুসনাদে বাযযার, ৪. আল মুসনাদুল মুস্তাখরাজ, ৫. মুস্তাখরজে আবী ‘আওয়ানা, ৬. ছহীহ ইবনে হিব্বান, ৭. শরহুস সুন্নাহ লিল বাগভী, ৮. আস সুনানুল কুবরা লিলবাইহাক্বী, ৯. শু‘য়াবুল ঈমান লিল বাইহাক্বী, ১০. মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার লিলবাইহাক্বী, ১১. দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী, ১২. আল মু’জামুল কাবীর লিত ত্ববারনী, ১৩. আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত ত্ববারনী, ১৪. মুসনাদে আবী ইয়া’লা, ১৫. মুস্তাদরকে হাকিম, ১৬. সুনানুদ দারাকুতনী, ১৭. শরহু মুশকিলিল আছার, ১৮. শরহু মা‘য়ানিয়িল আছার, ১৯. মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিআবী না‘ঈম, ২০. আমছালুল হাদীছ লিআবিশ শায়খ আল ইছবাহানী, ২১. আল আহকামুশ শর‘ইয়্যাহ, ২২. আস সুনানুছ ছুগরা লিল বাইহাক্বী, ২৩. তাহযীবুল আছার লিত ত্ববারী ২৪. মুসনাদে আবী ‘আওয়ানা, ২৫. মুসনাদে ত্বয়ালসী, ২৬. মু’জামু ইবনিল আ’রবী, ২৭. সুনানু সা‘ঈদ বিন মানছূরসহ আরো অনেক বিশ্বখ্যাত এবং সর্বজনমান্য ও নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সূত্রে বর্ণিত বহু মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কতো উচ্চ স্তরের সর্বজনমান্য ও নির্ভরযোগ্য ছিক্বাহ রাবী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকারীদের সকলেই ‘আদ্ল বা নির্ভরযোগ্য, ন্যায়—পরায়ণ, দ্বীনদার ও উন্নত শিষ্টাচারের অধিকারী এবং সকলেই تَمُّ الضَّبْطِ (তাম্মুদ দ্বব্ত) তথা প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী। যাঁরা রাবীর নির্ভরযোগ্যতা যাচাই—বাছাইয়ে জ্ঞান রাখেন, উনাদের দৃষ্টিতে এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকারীগণ উনারা প্রত্যেকেই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকারীগণ উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন সর্বোচ্চ স্তরের সর্বজনমান্য ও নির্ভরযোগ্য ছিক্বাহ রাবী। সুবহানাল্লাহ!

অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার (দুনিয়ার যমীনে আগমন করার) তারীখ মুবারক সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ (১৭)

[১৪৪১ হিজরী সনে প্রকাশিত কিতাব থেকে]

আল্লামা বদরুদ্দীন ‘আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন—
حَضْرَتْ سَعِيْدُ بْنُ مِيْنَاءَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ......... وَقَالَ حَضْرَتْ اَحْـمَدُ بْنُ حَنْــبَلٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ يَـحْيـَى بْنُ مُعِيْــنٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ اَبُوْ حَاتِـمٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ثِقَةٌ ذَكَرَهٗ حَضْرَتْ اِبْنُ حِبَّانَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِـىْ كِتِابِ الثِّقَاتِ.
অর্থ: “হযরত সা‘ঈদ ইবনে মীনা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ............. হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি, হাকিমে হাদীছ হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে মু‘ঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমাম আবূ হাতিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অর্থাৎ উনারা ছিক্বাহ বলেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর হযরত ইমাম ইবনে হিব্বান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘আছ ছিক্বাত’ নামক কিতাবে উনার আলোচনা মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মাগানিউল আখইয়ার)

image

📡 আল হিকমাহ সরাসরি সম্প্রচার 🎙️

📅 তারিখ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
⏰ সময়: ১১:২৩ PM

#alhikmah24 #live
#alhikmah #live

📡 আল হিকমাহ সরাসরি সম্প্রচার 🎙️

📅 তারিখ: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
⏰ সময়: ১১:২৩ PM

#alhikmah24 #live
#alhikmah #live