কাট্টা কাফির আবূ রফেকে হত্যা*

হিজাজের কুখ্যাত ইহুদী ব্যবসায়ী কাট্টা কাফির আবূ রফেও ছিলো কা’ব বিন আশরাফের মতই দুরাচার ও কঠিন লা’নতগ্রস্ত। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ নানা অবমাননাকর ও বেআদবীমূলক কথা-বার্তা বলতো এবং অশ্লীল-অশালীন কবিতা রচনা করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; প্রচুর টাকা-পয়সা খরচ করে তার বাড়িতে, হেজাজের বড় বড় মোড়ে মোড়ে, বাজারে বাজারে লোকজন জমা করে নাচ-গানের আসর করে নর্তকী ও গায়িকাদেরকে নিয়ে এই সকল কুফরীমূলক কবিতাগুলো পাঠ করতো এবং শরাব পান করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানিকারীর একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে ‘মৃত্যুদণ্ড’ (৯)

(২)
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِيْنَ يُؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ
অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে কাট্টা কাফির আবূ রফেকে হত্যার ঘটনাটি দলীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৭)

(১১)
ইবনে খতালের দাসীর মৃত্যুদণ্ড
এই সম্পর্কে ‘শিফা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে,
وَكَذٰلِكَ اَمْرُهٗ يَوْمَ الْفَتْحِ بِقَتْلِ ابْنِ خَطَلٍ وَجَارِيَتَيْهِ اللَّتَيْنِ كَانَتَا تُغَنِّيَانِ بِسَبِّهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
“অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন ইবনে খতাল ও তার দুই দাসীকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন, কারণ তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খেলাফ ব্যঙ্গ—বিদ্রƒপ করে কবিতা আবৃত্তি করতো।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১)
যখন ইবনে খতালকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়, তখন তার সাথে তার এক দাসীকে পাওয়া যায়, তার সাথে তার উক্ত দাসীকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। (নাসীমুর রিয়াদ্ব, ইবনে সাইয়্যিদিন নাস)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৬)
হযরত আবূ বারযাহ্ আসলামী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
نَزَلَتْ هٰذِهِ الْاٰيَةُ ﴿لَآ اُقْسِمُ بِهٰذَا الْبَلَدِ. وَاَنْتَ حِلٌّ بِۢهٰذَا الْبَلَدِ﴾ فِىَّ فَخَرَجْتُ فَوَجَدْتُّ عَبْدَ اللهِ بْنَ خَطَلٍ وَهُوَ مُتَعَلِّقٌ بِاَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَضَرَبْتُ عُنُقَهٗ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْمَقَامِ
“‘আমি ক্বসম করছি এই নগরীর এবং আপনি এই নগরীতে অবাধ অনুমতিপ্রাপ্ত।’ এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফখানা আমার ব্যাপারে নাযিল হয়েছেন। আমি বের হলাম, তখন দেখলাম— মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক উনার সাথে ইবনে খতাল ঝুলে রয়েছে। তখন আমি রুকনে ইয়ামান ও মাকামে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাদের মধ্যবর্তী স্থানে তার গর্দান উড়িয়ে দেই, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেই।” সুবহানাল্লাহ! (ফাতহুল ক্বদীর লিশ শাওকানী ৭/৫০০)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৫)

(১০)
চরম মাল‘ঊন ইবনে খতালের মৃত্যুদণ্ড
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ ব্যঙ্গ—বিদ্রƒপ করে কবিতা আবৃত্তি করার কারণে মহাসম্মানিত মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইবনে খতাল ও তার দুই দাসীকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন। মহাসম্মানিত কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক উনার সাথে ঝুলন্ত থাকা সত্ত্বেও ইবনে খতালকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেয়া হয়নি। যেমন— বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুয়াত্ত্বায়ে ইমাম মালেক, আবূ দাঊদ, তিরমিযীসহ আরো অন্যান্য কিাতবে এসেছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلٰى رَاْسِهِ الْمِغْفَرُ فَلَمَّا نَزَعَهٗ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ اِبْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِاَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُقْتُلُوْهُ
“হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের বছর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক—এ (মাথা মুবারক—এ) শিরস্ত্রাণ মুবারক পরিহিত অবস্থায় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করেন। যখন তিনি তা খুলে ফেললেন, তখন একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন,
اِبْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِاَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُقْتُلُوْهُ
‘ইবনে খতাল মহাসম্মানিত কা’বা শরীফ উনার গিলাফ (পর্দা) মুবারক উনার সাথে ঝুলে রয়েছে।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘তাকে হত্যা করুন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিন।”

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৪)
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন—
فَدَلَّ اَنَّ قَتْلَهٗ اِيَّاهُ لِغَيْرِ الْاِشْرَاكِ بَلْ لِلْاَذٰى وَكَذٰلِكَ قَتَلَ اَبَا رَافِعٍ قَالَ حَضْرَتْ اَلْبَرَاءُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْنُ عَلَيْهِ
“মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, কা’ব বিন আশরাফকে শিরিক করার কারণে হত্যা করা হয়নি; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। ইহুদী আবূ রফেকেও একই কারণে হত্যা করা হয়, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। হযরত বারা’ ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তার সম্পর্কে বলেন,
وَكَانَ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْنُ عَلَيْهِ
“মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সে কষ্ট দিতো এবং উনার বিরুদ্ধে উনার শত্রুদেরকে সাহায্য করতো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩৩)

এরপর আমি এক এক দরজা খুলে নিচে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে এসে পেঁৗছলাম। জ্যোৎস্নার রাত্র ছিলো। (চাঁদের আলোতে তাড়াহুড়ার মধ্যে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে না পেরে) আমি মনে করলাম, (সিঁড়ির সকল ধাপ অতিক্রম করে) আমি মাটির নিকটে এসে পড়েছি। (কিন্তু তখনও একটি ধাপ অবশিষ্ট ছিলো।) তাই, নিচে পা রাখতেই আমি পড়ে গেলাম। সাথে সাথেই আমার পায়ের গোড়ালির হাড় ভেঙ্গে গেলো। (তাড়াতাড়ি করে) আমি আমার পাগড়ী দিয়ে পা বেঁধে নিলাম। তারপর একটু হেঁটে গিয়ে দরজার সামনে বসে রইলাম।
فَقُلْتُ لَا اَخْرُجُ اللَّيْلَةَ حَتّٰى اَعْلَمَ اَقَتَلْتُهٗ
‘মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি কি তাকে হত্যা করতে পেরেছি, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে পেরেছি? এটা নিশ্চিতভাবে না জানা পর্যন্ত আজ রাতে এখান থেকে বের হবো না।’
(ভোর রাতে) যখন মোরগ ডাকা শুরু করলো, তখন মৃত্যু ঘোষণাকারী প্রাচীরের উপর উঠে ঘোষণা করলো, ‘হিজায অধিবাসীদের অন্যতম ব্যবসায়ী আবূ রফের মৃত্যু সংবাদ গ্রহণ করো।’
فَانْطَلَقْتُ اِلٰى اَصْحَابِىْ فَقُلْتُ النَّجَاءَ فَقَدْ قَتَلَ اللهُ اَبَا رَافِعٍ فَانْتَهَيْتُ اِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْتُهٗ فَقَالَ اُبْسُطْ رِجْلَكَ فَبَسَطْتُّ رِجْلِىْ فَمَسَحَهَا فَكَاَنَّهَا لَمْ اَشْتَكِهَا قَطُّ
‘তখন আমি আমার সঙ্গীগণ উনাদের নিকট গিয়ে বললাম, কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আবূ রফেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে আমি সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনি আপনার পা প্রসারিত করুন।’ আমি আমার পা প্রসারিত করলাম। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দয়া করে তাতে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (হাত মুবারক) বুলিয়ে দিলেন। (এতে আমার পা এমন সুস্থ হয়ে গেলো) যেন তাতে কখনোই কোনো আঘাত লাগেনি।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, ফাতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, শারহুয যারক্বানী ইত্যাদি)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩২)
এই সময় সে তার উপর তলার কামরায় অবস্থান করতো। প্রতিদিনের ন্যায় যখন ঐ দিনও গল্পের আসর শেষে আসরে আগত লোকজন চলে গেলো,
صَعِدْتُّ اِلَيْهِ فَجَعَلْتُ كُلَّمَا فَتَحْتُ بَابًا اَغْلَقْتُ عَلَىَّ مِنْ دَاخِلٍ قُلْتُ اِنِ الْقَوْمُ نَذِرُوْا بِىْ لَمْ يَخْلُصُوْا اِلَىَّ حَتّٰى اَقْتُلَهٗ فَانْتَهَيْتُ اِلَيْهِ فَاِذَا هُوَ فِىْ بَيْتٍ مُظْلِمٍ وَسْطَ عِيَالِهٖ لَا اَدْرِىْ اَيْنَ هُوَ مِنَ الْبَيْتِ فَقُلْتُ يَا اَبَا رَافِعٍ قَالَ مَنْ هٰذَا فَاَهْوَيْتُ نَحْوَ الصَّوْتِ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً بِالسَّيْفِ وَاَنَا دَهِشٌ فَمَا اَغْنَيْتُ شَيْئًا وَصَاحَ فَخَرَجْتُ مِنَ الْبَيْتِ فَاَمْكُثُ غَيْرَ بَعِيْدٍ ثُمَّ دَخَلْتُ اِلَيْهِ فَقُلْتُ مَا هٰذَا الصَّوْتُ يَا اَبَا رَافِعٍ فَقَالَ لِاُمِّكَ الْوَيْلُ اِنَّ رَجُلًا فِى الْبَيْتِ ضَرَبَنِىْ قَبْلُ بِالسَّيْفِ قَالَ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً اَثْخَنَتْهُ وَلَمْ اَقْتُلْهُ ثُمَّ وَضَعْتُ ظِبَةَ السَّيْفِ فِىْ بَطْنِهٖ حَتّٰى اَخَذَ فِىْ ظَهْرِهٖ فَعَرَفْتُ اَنِّىْ قَتَلْتُهٗ
‘তখন আমি সিঁড়ি বেয়ে তার কাছে গিয়ে পেঁৗছলাম। এই সময় আমি একটি করে দরজা খুলছিলাম এবং ভিতর থেকে তা আবার বন্ধ করে দিয়ে যাচ্ছিলাম। এই মনে করে যে, গোত্রের লোকজন আমার (আগমন) সম্বন্ধে জানতে পারলেও, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড না দেয়া পর্যন্ত যেন তারা আমার নিকট পেঁৗছতে না পারে। সুবহানাল্লাহ! আমি তার কাছে গিয়ে পেঁৗছলাম। এই সময় সে একটি অন্ধকার কক্ষে পরিবার—পরিজনের মাঝখানে শুয়েছিলো। কক্ষের কোন্ অংশে সে শুয়ে আছে আমি তা বুঝতে পারছিলাম না। তাই, আমি ‘হে আবূ রফে!’ বলে ডাক দিলাম। সে বললো, এটা কে? (কে আমাকে ডাকছো?) আমি তখন আওয়াজটি লক্ষ্য করে এগিয়ে গিয়ে তরবারি দ্বারা প্রচণ্ড জোরে তাকে আঘাত করলাম। তখন আমি বিস্মিত হলাম। এই আঘাতে আমি কোনো ফলাফল পেলাম না, তাকে কিছুই করতে পারলাম না। সে চিৎকার করে উঠলো। তখন আমি কিছুক্ষণের জন্য কক্ষ থেকে বের হয়ে একটু নিকটেই অবস্থান নিলাম। এরপর পুনরায় ঘরে প্রবেশ করে (কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করতঃ তার আপন লোকের ন্যায়) জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আবূ রফে এই আওয়াজ হলো কিসের? সে বললো, ‘তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক! নিশ্চয়ই কিছুক্ষণ পূর্বে কক্ষের ভিতর কে যেন আমাকে তরবারি দ্বারা আঘাত করেছে।’ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, তখন আমি আবার তাকে কঠিনভাবে আঘাত করলাম যা তাকে মারাত্মকভাবে ক্ষত—বিক্ষত করেছে; কিন্তু তাকে হত্যা করতে পারিনি।
ثُمَّ وَضَعْتُ ظِبَةَ السَّيْفِ فِـىْ بَطْنِهٖ حَتّٰـى اَخَذَ فِـىْ ظَهْرِهٖ فَعَرَفْتُ اَنِّـىْ قَتَلْتُهٗ
‘তারপর আমি তরবারির ধারালো দিকটি তার পেটের উপর চেপে ধরলাম; এমনকি সেটা তার পিঠ পর্যন্ত স্পর্শ করলো। তখন আমি নিশ্চিতরূপে অনুভব করলাম যে, এখন আমি তাকে হত্যা করতে পেরেছি, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে সক্ষম হয়েছি।’ সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩১)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَلبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ بَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلٰى اَبِىْ رَافِعِۣ الْيَهُوْدِىِّ رِجَالًا مِّنَ الْاَنْصَارِ فَاَمَّرَ عَلَيْهِمْ حَضْرَتْ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَتِيْكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ وَكَانَ اَبُوْ رَافِعٍ يُؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِيْنُ عَلَيْهِ وَكَانَ فِىْ حِصْنٍ لَّهٗ بِاَرْضِ الْحِجَازِ فَلَمَّا دَنَوْا مِنْهُ وَقَدْ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَرَاحَ النَّاسُ بِسَرْحِهِمْ فَقَالَ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ لِاَصْحَابِهٖ اِجْلِسُوْا مَكَانَكُمْ فَاِنِّىْ مُنْطَلِقٌ وَمُتَلَطِّفٌ لِلْبَوَّابِ لَعَلِّىْ اَنْ اَدْخُلَ فَاَقْبَلَ حَتّٰى دَنَا مِنَ الْبَابِ ثُمَّ تَقَنَّعَ بِثَوْبِهٖ كَاَنَّهٗ يَقْضِىْ حَاجَةً وَقَدْ دَخَلَ النَّاسُ فَهَتَفَ بِهِ الْبَوَّابُ يَا عَبْدَ اللهِ اِنْ كُنْتَ تُرِيْدُ اَنْ تَدْخُلَ فَادْخُلْ فَاِنِّىْ اُرِيْدُ اَنْ اُغْلِقَ الْبَابَ فَدَخَلْتُ فَكَمَنْتُ فَلَمَّا دَخَلَ النَّاسُ اَغْلَقَ الْبَابَ ثُمَّ عَلَّقَ الْاَغَالِيْقَ عَلٰى وَتَدٍ قَالَ فَقُمْتُ اِلَى الْاَقَالِيْدِ فَاَخَذْتُهَا فَفَتَحْتُ الْبَابَ وَكَانَ اَبُوْ رَافِعٍ يُسْمَرُ عِنْدَهٗ وَكَانَ فِىْ عَلَالِىَّ لَهٗ فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْهُ اَهْلُ سَمَرِهٖ صَعِدْتُّ اِلَيْهِ فَجَعَلْتُ كُلَّمَا فَتَحْتُ بَابًا اَغْلَقْتُ عَلَىَّ مِنْ دَاخِلٍ قُلْتُ اِنِ الْقَوْمُ نَذِرُوْا بِىْ لَمْ يَخْلُصُوْا اِلَىَّ حَتّٰى اَقْتُلَهٗ فَانْتَهَيْتُ اِلَيْهِ فَاِذَا هُوَ فِىْ بَيْتٍ مُظْلِمٍ وَسْطَ عِيَالِهٖ لَا اَدْرِىْ اَيْنَ هُوَ مِنَ الْبَيْتِ فَقُلْتُ يَا اَبَا رَافِعٍ قَالَ مَنْ هٰذَا فَاَهْوَيْتُ نَحْوَ الصَّوْتِ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً بِالسَّيْفِ وَاَنَا دَهِشٌ فَمَا اَغْنَيْتُ شَيْئًا وَصَاحَ فَخَرَجْتُ مِنَ الْبَيْتِ فَاَمْكُثُ غَيْرَ بَعِيْدٍ ثُمَّ دَخَلْتُ اِلَيْهِ فَقُلْتُ مَا هٰذَا الصَّوْتُ يَا اَبَا رَافِعٍ فَقَالَ لِاُمِّكَ الْوَيْلُ اِنَّ رَجُلًا فِى الْبَيْتِ ضَرَبَنِىْ قَبْلُ بِالسَّيْفِ قَالَ فَاَضْرِبُهٗ ضَرْبَةً اَثْخَنَتْهُ وَلَمْ اَقْتُلْهُ ثُمَّ وَضَعْتُ ظِبَةَ السَّيْفِ فِىْ بَطْنِهٖ حَتّٰى اَخَذَ فِىْ ظَهْرِهٖ فَعَرَفْتُ اَنِّىْ قَتَلْتُهٗ فَجَعَلْتُ اَفْتَحُ الْاَبْوَابَ بَابًا بَابًا حَتّٰى اِنْتَهَيْتُ اِلٰى دَرَجَةٍ لَهٗ فَوَضَعْتُ رِجْلِىْ وَاَنَا اَرٰى اَنِّىْ قَدْ اِنْتَهَيْتُ اِلَى الْاَرْضِ فَوَقَعْتُ فِىْ لَيْلَةٍ مُقْمِرَةٍ فَانْكَسَرَتْ سَاقِىْ فَعَصَبْتُهَا بِعِمَامَةٍ ثُمَّ اِنْطَلَقْتُ حَتّٰى جَلَسْتُ عَلَى الْبَابِ فَقُلْتُ لَا اَخْرُجُ اللَّيْلَةَ حَتّٰى اَعْلَمَ اَقَتَلْتُهٗ فَلَمَّا صَاحَ الدِّيْكُ قَامَ النَّاعِىْ عَلَى السُّوْرِ فَقَالَ اَنْعٰى اَبَا رَافِعٍ تَاجِرَ اَهْلِ الْحِجَازِ فَانْطَلَقْتُ اِلٰى اَصْحَابِىْ فَقُلْتُ النَّجَاءَ فَقَدْ قَتَلَ اللهُ اَبَا رَافِعٍ فَانْتَهَيْتُ اِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَحَدَّثْتُهٗ فَقَالَ اُبْسُطْ رِجْلَكَ فَبَسَطْتُّ رِجْلِىْ فَمَسَحَهَا فَكَاَنَّهَا لَمْ اَشْتَكِهَا قَطُّ
“হযরত বারা’ ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দায়িত্ব দিয়ে উনার সাথে কয়েকজন হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে ইহুদী আবূ রফেকে (শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার) উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই ইহুদী আবূ রফে কষ্ট দিতো এবং এই ব্যাপারে লোকদের সহযোগিতা করতো। হিজায ভূমিতে তার একটি দুর্গ ছিলো, (সে ঐ দুর্গে বসবাস করতো)। উনারা যখন তার দুর্গের কাছে গিয়ে পেঁৗছলেন, তখন সূর্য ডুবে গিয়েছে এবং লোকজন নিজেদের পশু পাল নিয়ে রওনা হয়েছে। (তারা সারা দিন দুর্গের বাহিরে পশু পাল চরিয়ে সন্ধ্যায় নিজ নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছে।) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার সাথে যে সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা ছিলেন উনাদেরকে বললেন, ‘আপনারা আপনাদের স্থানে বসে থাকুন। আমি যাচ্ছি, দ্বাররক্ষীর সাথে আমি (কিছু) কৌশল প্রদর্শন করবো যেন অবশ্যই ভিতরে প্রবেশ করতে পারি। এরপর তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গিয়ে দরজার কাছে পেঁৗছলেন এবং কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঢাকলেন যেন তিনি হাজত (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) রত আছেন। তখন সবাই ভিতরে প্রবেশ করলে দ্বাররক্ষী উনাকে ডেকে বললো, ‘হে আব্দুল্লাহ (মহান আল্লাহ পাক উনার বান্দা), ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে প্রবেশ করুন। আমি এখনই দরজা বন্ধ করে দিতে চাই।’ তখন আমি ভিতরে প্রবেশ করে আত্মগোপন করে থাকলাম। সকলে ভিতরে প্রবেশ করার পর সে দরজা বন্ধ করে দিয়ে একটি পেরেকের সাথে চাবিগুলো লটকিয়ে রাখলো। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, এরপর আমি চাবিগুলোর দিকে এগিয়ে গিয়ে চাবিগুলো নিয়ে দরজা খুললাম। আবূ রফের নিকট রাতের বেলা (নিয়মিত) গল্পের (গান—বাজনা, নর্তকী ও শরাবের) আসর জমতো।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৩০)

(৯)
কুখ্যাত ইহুদী মাল‘ঊন আবূ রফের মৃত্যুদণ্ড
হিজাযের কুখ্যাত ইহুদী ব্যবসায়ী কাট্টা কাফির আবূ রফেও ছিলো কা’ব বিন আশরাফের মতোই দুরাচার ও কঠিন লা’নতগ্রস্ত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ নানা অবমাননাকর ও বেআদবীমূলক কথা—বার্তা সে বলতো এবং অশ্লীল—অশালীন কবিতা রচনা করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; প্রচুর টাকা—পয়সা খরচ করে তার বাড়িতে, হিজাযের বড় বড় মোড়ে মোড়ে, বাজারে বাজারে লোকজন জমা করে নাচ—গানের আসর করে নর্তকী ও গায়িকাদেরকে নিয়ে এই সকল কুফরীমূলক কবিতাগুলো পাঠ করতো এবং শরাব পান করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। সুবহানাল্লাহ!