2 ساعة

গাসীলুল মালায়িকাহ হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বেমেছাল আত্মত্যাগ মুবারক-০২



সম্মানিত ইসলামী ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা মর্মান্তিক পবিত্র জিহাদ হচ্ছেন পবিত্র উহুদ জিহাদ। এ পবিত্র জিহাদে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিবত্র নূরুল ইস্তাওয়া শান মুবারক (মহাসম্মানিত আহত শান মুবারক) গ্রহণ করেন। ৭০ জন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সম্মানিত শাহাদাত মুবারক লাভ করেন।

এ পবিত্র জিহাদ সংগঠিত হন হিজরী তৃতীয় সনে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরাইশ কাফিরদের প্রতিহত করার জন্য মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মুবারক নেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার গভর্নর নিযুক্ত করলেন।

এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুসলিম সেনাবাহিনী উনাদেরকে নিয়ে যাত্রা করলেন।

হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নতুন বিবাহ করেছেন।

তিনি উনার সদ্ব সম্মানিতা হযরত আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার সাথে লাইলাতুয যাফাফ-এ অবস্থান মুবারক করছেন, এমন সময় একজন ঘোষক ঘোষণা করলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত জিহাদ উনার উদ্দেশ্যে পবিত্র উহুদ প্রান্তরের দিকে রওয়ানা হয়েছেন।

হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি একথা শুনামাত্রই থমকে গেলেন। ভাবলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র জিহাদের ময়দানে রওয়ানা হয়েছেন আর আমি ঘরে অবস্থান করছি! তাই সাথে সাথে তিনি সম্মানিত আহলিয়া উনার মুহব্বতকে কুরবান করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র মুহব্বত মুবারকে উনার পবিত্র জিহাদ উনার ডাকে সারা দিয়ে কোষমুক্ত তলোয়ার নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জিহাদে চলে গেছেন কথাটি শুনে পবিত্র গোসলের কথা ভুলে গেলেন। সেই অবস্থায় কোষমুক্ত তরবারি হাতে নিয়ে পবিত্র উহুদ প্রান্তরে উপস্থিত হলেন। যাওয়ার আগে নিজ সম্মানিতা হযরত আহলিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে শুধু এতটুকু বলে যান, “বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে দুনিয়ায়, আর পবিত্র শাহাদাত মুবারক বরণ করলে দেখা হবে জান্নাতে।”

যুদ্ধ শুরু হলো।

হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ত্বরিৎ গতিতে যুদ্ধের ময়দানে শত্রুদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। অমিত বীর-বিক্রমে যুদ্ধ করতে করতে তিনি শত্রু বাহিনীর সারিগুলি তছনছ করে কাফিরদেরকে কত্বল করতে করতে মধ্যভাগে পৌঁছে যান।

এক পর্যায়ে তিনি কুরাইশদের সেনাপতি ও সর্দার হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনি তখনও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন নি) উনার সাথে দ্বন্দ্ব যুদ্ধে লিপ্ত হন। উনাকে ঘায়েল করে তরবারির আঘাত করবেন, ঠিক সেই সময় নিকট থেকে শাদ্দাদ ইবন আসওয়াদ আল-লায়সী তা দেখে ফেলে এবং দ্রুত পিছন দিক থেকে হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তরবারির আঘাতে উনাকে ধরাশায়ী করে ফেলে এবং তিনি সম্মানিত শাহাদাত মুবারক বরণ করেন।

যুদ্ধশেষে হযরত হানযালা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র জিসিম মুবারক, পবিত্র দেহ মুবারক অদৃশ্য ছিল। অনেক সন্ধানের পর এক স্থানে এমন অবস্থায় পাওয়া গেল যে, উনার পবিত্র দেহ মুবারক যমীন হ’তে উপরে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন এবং তা হতে টপটপ করে পানি পড়ছে। এ দৃশ্য দেখে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে বললেন, ‘ হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাকে গোসল দিয়েছেন’।

পরে উনার সম্মানিতা আহলিয়া রদ্বিয়াল্লøাহু উনার উনার কাছে প্রকৃত ব্যাপারটি জানা যায় যে, তিনি ফরজ গোসল ছাড়াই জিহাদের ময়দানে ছুটে এসেছিলেন। ফলে তখন থেকে হানযালা ‘গাসীলুল মালায়েকাহ’ (غَسِيلُ الْمَلاَئِكَةِ) বা হযরত ‘ফেরেশতা আলাইহিমুস সলাম কর্তৃক গোসলকৃত’ বলে অভিহিত হন। সুবহানাল্লাহ!

যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার, সদা-সর্বদা উনার ধ্যানে-খেয়ালে মশগুল থাকার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!