নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (১২)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠান:
আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রিসালাত মুবারক প্রকাশের ১৫ বছর পূর্বে মহাসম্মানিত ২২শে জুমাদাল ঊলা শরীফ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ অর্থাৎ সোমবার) মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হন। তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ২৫ বছর ২ মাস ১০ দিন এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪০ বছর ২ মাস ৮ দিন। সুবহানাল্লাহ!
খাজা আবূ ত্বালিব উনার খুৎবা মুবারক:
মুদ্বার গোত্রের প্রখ্যাত সরদারগণ উনাদের উপস্থিতিতে খাজা আবূ ত্বালিব তিনি খুতবা দিয়ে বলেন—
اَلْـحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَنَا مِنْ ذُرِّيَّةِ إِبْرَاهِيمَ وَزَرْعِ إِسْمَاعِيلَ وَضِئْضِئِ مَعَدٍّ مُضَرَ وَجَعَلَنَا حَضَنَةَ بَيْتِهِ وَسُوَّاسَ حَرَمِهِ وَجَعَلَ لَنَا بَيْتًا مَحْجُوجًا وَحَرَمًا آمِنًا وَجَعَلَنَا حُكَّامَ النَّاسِ ثُمَّ إِنَّ ابْنَ أَخِي هٰذَا مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ لَا يُوزَنُ بِهِ رَجُلٌ شَرَفًا وَنُبْلًا وَفَضْلًا وَعَقْلًا وَإِنْ كَانَ فِي الْمَالِ قِلًّا فَإِنَّ الْمَالَ ظِلٌّ زَائِلٌ وَأَمْرٌ حَائِلٌ وَعَارِيَةٌ مُسْتَرْجَعَةٌ وَهُوَ وَاللَّهِ بَعْدَ هٰذَا لَهُ نَبَأٌ عَظِيمٌ وَخَطَرٌ جَلِيلٌ وَقَدْ خَطَبَ إِلَيْكُمْ رَغْبَةً فِي كَرِيمَتِكُمْ خَدِيجَةَ وَقَدْ بَذَلَ لَهَا مِنَ الصَّدَاقِ حُكْمَكُمْ عَاجِلَهُ وَآجِلَهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا
“সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য, যিনি আমাদেরকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বংশধর, সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাঈল যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ফসল এবং সাইয়্যিদুনা হযরত মুদ্বার ইবনে মাআদ্দ আলাইহিস সালাম উনার বিশুদ্ধ বংশধারা থেকে উদ্ভূত করেছেন। তিনি আমাদেরকে উনার মহাসম্মানিত ঘর মুবারক (মহাসম্মানিত কা’বা শরীফ) উনার তত্ত্বাবধায়ক এবং পবিত্র হারাম শরীফ উনার রক্ষক করেছেন। তিনি আমাদের জন্য এমন এক মহাসম্মানিত ঘর মুবারক তৈরী করেছেন, যেটি মানুষের হজ্জের গন্তব্য এবং এমন এক হারাম, যা নিরাপদ। আর তিনি আমাদেরকে বানিয়েছেন মানুষের সাইয়্যিদ (সরদার) ও বিচারক। এরপর— আমার এই মহাসম্মানিত ভাতিজা সাইয়্যিদুনা মাওলানা মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মান, মহত্ত্ব, গুণ ও বুদ্ধিমত্তায় এমন একজন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব মুবারক, উনার তুলনায় কোনো মানুষকে ওযন করা যায় না। সম্পদে তিনি অল্পস্বল্প অর্থাৎ ধন—সম্পদ থেকে তিনি বেনিয়ায। কেননা ধন—সম্পদ এক পরিবর্তনশীল ছায়া, ক্ষণস্থায়ী বস্তু এবং এমন এক ঋণ করা জিনিস, যা একদিন ফেরত নেওয়া হয়। আর মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! এছাড়াও উনার এক মহান সুসংবাদ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদা মুবারক রয়েছেন। তিনি আপনাদের নিকট আপনাদের মর্যাদাশালী কন্যা মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক রেখেছেন। আর তিনি মহাসম্মানিত মোহর হিসেবে দিবেন— আপনাদের নির্ধারণ মোতাবেক— অগ্রিম ও পরিশোধযোগ্য উভয় মিলিয়ে বারো উকিয়া ও এক নাশ অর্থাৎ ৫০০ দিরহাম।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ২/১৬৫)