নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (১১)
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ উনার প্রস্তাব মুবারক:
এ বৎসরের শুরুর দিকের কথা— মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ‘হযরত নাফিসাহ্ বিনতু মুনীয়াহ্ বা মানিয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা’ নামে একজন খাছ খাদিমা ছিলেন। তিনি উনার সেই খাছ খাদিমা উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সরাসরি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ উনার বিষয়ে প্রস্তাব মুবারক পেশ করলেন। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
وَرَوَى ابْنُ سَعْدٍ عَنْ نُفَيْسَةَ بِنْتِ مُنِيَّةَ قَالَتْ كَانَتْ خَدِيجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ اِمْرَأَةً حَازِمَةً جَلْدَةً شَرِيفَةً مَعَ مَا أَرَادَ اللهُ بِهَا مِنَ الْكَرَامَةِ وَالْخَيْرِ وَهِيَ يَوْمَئِذٍ أَوْسَطُ قُرَيْشٍ نَسَبًا وَأَعْظَمُهُمْ شَرَفًا وَأَكْثَرُهُمْ مَالًا وَكُلُّ قَوْمِهَا كَانَ حَرِيصًا عَلَى نِكَاحِهَا لَوْ قَدَرَ عَلَى ذٰلِكَ فَقَدْ طَلَبُوهَا وَبَذَلُوا لَهَا الْأَمْوَالَ فَأَرْسَلَتْنِي دَسِيسًا إِلَى مُحَمَّدٍ ﷺ بَعْدَ أَنْ رَجَعَ فِي عِيرِهَا مِنَ الشَّامِ
“হযরত ইবনে সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত নাফিসাহ্ বিনতু মুনীয়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন সেই সময়ে কুরাইশ গোত্রের মধ্যে বংশমর্যাদায় সবচেয়ে মর্যাদাশালী, সম্মানের দিক থেকে শ্রেষ্ঠা এবং ধন—সম্পদে সর্বাধিক সম্পদশালী মহাসম্মানিতা মহিলা আলাইহাস সালাম। উনার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি যেই মর্যাদা ও কল্যাণ নির্ধারণ করেছিলেন, তারই বাস্তব রূপ তিনি ছিলেন। সেই সময় কুরাইশদের মধ্যে বংশমর্যাদায় তিনি ছিলেন ভারসাম্যপূর্ণ, সম্মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ এবং সম্পদের দিক থেকে সর্বাধিক প্রভাবশালী। যদি সামর্থ্য থাকতো, তাহলে উনার গোত্রের প্রত্যেক পুরুষই উনাকে নিসবতে আযীম শরীফ করতে চাইতো। অনেক মানুষ উনার কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলো এবং বিপুল সম্পদ দেওয়ার প্রস্তাবও করেছিলো। এরপর তিনি গোপনে আমাকে পাঠালেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট যখন তিনি উনার বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে শাম সফর শেষে ফিরে এসেছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইবনে সা’দ, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
আবার এই দিকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার চাচা আমর বিন আসাদ তিনিও এই বিষয়টা মধ্যস্থতা করলেন। তিনি খাজা আবূ ত্বালিব উনার কাছে সংবাদ মুবারক পেঁৗছালেন। অতঃপর সংবাদ মুবারক যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক—এ পেঁৗছানো হয়, তখন তিনি চুপ থাকেন। কোনো সম্মতি মুবারক প্রকাশ করেননি। কিন্তু পরবতীর্তে খাজা আবূ ত্বালিব তিনি বললেন, অসুবিধা নেই; তিনি তো সম্মানিতা এবং তিনি সারা আরবে ত্বাহিরাহ্, ত্বইয়্যিবাহ্ হিসেবে, পূত—পবিত্রা ব্যক্তিত্বা হিসেবে মশহূর হয়ে গেছেন। সবদিক থেকেই তিনি যোগ্যতাসম্পন্না। কাজেই, উনাকে গ্রহণ করতে তো কোনো অসুবিধা থাকার কথা না। খাজা আবূ ত্বালিব তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পক্ষ থেকে সুপারিশ করলেন। তখন শেষ পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মুবারক ইচ্ছানুযায়ী সম্মতি মুবারক প্রকাশ করলেন। সুবহানাল্লাহ!