নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নিসবতে আযীম শরীফ (৬)

হযরত আবূ সা’দ নীসাপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার ‘শারফুল মুস্ত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ নামক কিতাব উনার মধ্যে উল্লেখ করেন,
فَلَمَّا رَأَى الغَمَامَةَ فَزِعَ وَقَالَ مَا أَنْتُمْ قَالَ أَنَا مَيْسَرَةُ غُلَامُ خَدِيجَةَ بِنْتِ خُوَيْلِدٍ
فَدَنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِرًّا مِنْ مَيْسَرَةَ وَقَبَّلَ رَأْسَهُ وَقَدَمَيْهِ وَقَالَ آمَنْتُ بِكَ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ الَّذِي ذَكَرَهُ اللَّهُ فِي التَّوْرَاةِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ قَدْ عَرَفْتُ فِيكَ الْعَلَامَاتِ كُلَّهَا خَلَا خَصْلَةً وَاحِدَةً فَأَوْضِحْ لِي عَنْ كَتِفِكَ فَأَوْضَحَ لَهُ فَإِذَا هُوَ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ يَتَلَأْلَأُ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ يُقَبِّلُهُ وَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ النَّبِيُّ الأُمِّيُّ الَّذِي بَشَّرَ بِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ
فَإِنَّهُ قَالَ لَا يَنْزِلُ بَعْدِي تَحْتَ هٰذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا النَّبِيُّ الأُمِّيُّ الْهَاشِمِيُّ الْعَرَبِيُّ الْمَكِّيُّ صَاحِبُ الْحَوْضِ وَالشَّفَاعَةِ وَصَاحِبُ لِوَاءِ الْحَمْدِ
“পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যখন দেখলেন, একটি মেঘ (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ছায়া দিচ্ছে), তখন তিনি চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনারা কারা?’ হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি জবাব দিলেন, ‘আমি হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার গোলাম, খাদিম।’ তখন পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চুপেচুপে হযরত মাইসারাহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দৃষ্টি এড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট এসে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক—এ (মাথা মুবারক—এ) এবং মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুদ দারাজাত মুবারক—এ (ক্বদম মুবারক—এ) বূছা দিলেন। আর বললেন, ‘আমি আপনার প্রতি সম্মানিত ঈমান মুবারক আনলাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি— আপনি সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র ব্যক্তিত্ব মুবারক, আপনার মহাসম্মানিত আলোচনা মুবারক মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র তাওরাত শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন।’ এরপর পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার মাঝে মহাসম্মানিত নুবুওওয়াত—রিসালাত মুবারক উনার সমস্ত আলামতই পেয়েছি; শুধু একখানা আলামত অবশিষ্ট রয়েছেন। আপনি দয়া করে আমাকে তা দেখার সুযোগ দান করুন।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কাঁধ মুবারক থেকে কাপড় মুবারক সরালেন। হঠাৎ পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সুউজ্জ্বল ‘মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মহরে নুবুওওয়াত মুবারক’ দেখলেন, যা দীপ্তিময়ভাবে আলোকিত। তখন পাদ্রী হযরত নাসতূরা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেই ‘মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মহরে নুবুওওয়াত মুবারক’ উনার মধ্যে বূছা মুবারক দিয়ে বললেন, ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ্ (মা’বূদ) নেই আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আপনিই সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নাবিয়্যুল উম্মী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মূল নবী—রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক নন; তাছাড়া সব। আপনার তাশরীফ মুবারক (দুনিয়ার যমীনে আগমন মুবারক) উনার সুসংবাদ দিয়েছিলেন হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি। তিনি বলেছেন, ‘আমার পরে এই গাছের নিচে আর কেউ অবস্থান করবেন না; একমাত্র সেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নাবিয়্যুল উম্মী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অর্থাৎ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মূল নবী—রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ব্যতীত, যিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক নন; এছাড়া সব। তিনি হাশিমী, আরাবী, মাক্কী। যিনি সম্মানিত হাওযে কাওছার মুবারক এবং শাফাআতে কুবারা মুবারক উনাদের মালিক। আর উনারই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক—এ (হাত মুবারক—এ) থাকবেন প্রশংসার পতাকা মুবারক’।” সুবহানাল্লাহ! (শারফুল মুস্ত্বফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)