রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুজ জামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “প্রত্যেক হিজরী শতকের শুরুতে মহান আল্লাহ পাক তিনি এই উম্মতের ইছলাহর জন্য এমন একজন ব্যক্তিত্বকে প্রেরণ করবেন, যিনি পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সংস্কার করবেন।” অর্থাৎ বিদয়াত, বেশরা এবং পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার বিগর্হিত কাজগুলোর সংশোধন করবেন। সুবহানাল্লাহ! সেই রকম একজন খাছ ও বিশিষ্ট ওলীআল্লাহ হলেন- দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, রঈছুল মুহাদ্দিছীন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি।


আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘সাবধান! নিশ্চয়ই যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, উনাদের কোনো ভয় নেই এবং কোনো চিন্তা-পেরেশানীও নেই।’ সুবহানাল্লাহ! এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হলেন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। যা উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারকে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা দ্বারা সুস্পষ্ট হয়।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হিজরী ৮৪৯ সনের পবিত্র ১লা রজবুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল আহাদ বাদ মাগরিব মিশরের কায়রো শহরে পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। উনার মূল নাম মুবারক আব্দুর রহমান। উনার কুনিয়াত আবুল ফদ্বল। উনার মশহূর লক্বব জালালুদ্দীন। এ লক্বব মুবারকেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বংশীয় ধারা-আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর কামাল উদ্দিন ইবনু নাসির উদ্দিন মুহম্মদ ইবনু আবু বকর সাবেকুদ্দিন ইবনু ফখর ইবনু উসমান ইবনু নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ ইবনু সাইফুদ্দিন খাদ্বর ইবনু নজমুদ্দিন আবুস সালাহ আইয়ুর ইবনু নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ ইবনু হুমামুদ্দিন আল-ইমাম আল-খায়রি আল-উসবৃতি শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি। মিশরের রাজধানী কায়রোর জামে মসজিদ ইবনু তুলুনের পাশে বসবাস করার কারণে উনাকে “তুলুনী” বলা হয়। উনার পূর্ব পুরুষগণ “উসযুত” নামক নগরীতে বসবাস করতেন, তাই উনাকে “উদ্ভুতী” বলা হয়। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে সাইয়্যিদুনা ইমাম মুহম্মদ ইবনু ইদরিস শাফেয়ী উনার মাযহাবের অনুসারী হওয়ায় নামের শেষে জুড়ে আছে শাফেয়ী।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অল্প বয়সে পবিত্র কুরআন শরীফ হিফয সম্পন্ন করতঃ জাহিরী সর্বপ্রকার ইলমে কামালিয়াত হাছিল করেন। অতঃপর, হযরত মুহম্মদ বিন উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে বাইয়াত হন। কয়েক বছর উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে শাজালী ত্বরীক্বা অনুযায়ী ইলমে তাছাউফেও তিনি কামিলে মুকাম্মিল হন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দ্বীন ইসলামের ইতিহাসে অধিক কিতাব রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি দুই লক্ষের বেশি হাদীছ শরীফ মুখস্ত করেন। তিনি বাতিল ফিরক্বাদের সব মিথ্যা দাবি খ-ন করে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতকে সুসংহত করেন।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৯১১ হিজরীর পবিত্র ১৯শে জুমাদাল ঊলা শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়া ৬১ বছর ১০ মাস ১৮ দিন বয়স মুবারকে মিশরের কায়রোতে পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। মিশরের কায়রোতেই উনার পবিত্র মাজার শরীফ অবস্থিত।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মূলকথা হলো- আজ পবিত্র ১৯শে জুমাদাল ঊলা শরীফ। সুবহানাল্লাহ! দশম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, রঈছুল মুহাদ্দিছীন, হযরত জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস। সুবহানাল্লাহ! এ উপলক্ষে সকলের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত-নসীহত মুবারক হাছিল করে তা আমলে বাস্তবায়ন করা। আর সরকারের জন্যও দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- মাহফিল উনার সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা।

image