মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-১
তাই প্রত্যেক জিন-ইনসান, পুুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে, ছোট-বড় সকলের জন্য ফরজে আইন হচ্ছে- মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ঈমান আনার সাথে সাথে উনাকে মুহব্বত করা। পাশাপাশি উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, উনাদেরকে সম্মান বা তা’যীম-তাকরীম করা, উনাদের প্রশংসা বা ছানা-ছিফত করা এবং উনাদের খিদমত বা গোলামী মুবারকে যথাযথ আন্জাম দেয়ার কোশেশ করা।
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহাসম্মানিত আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বুযুর্গী-সম্মান, ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করা হয়েছে এবং অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক করা হয়েছে। পবিত্র আয়াত শরীফ, হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন সৃষ্টির মূল এবং উনারা হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান, হিদায়েত, রহমত, নিয়ামত, নাজাত, জান্নাত, রেজায়ে মাওলা, রেজায়ে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাওয়ার একমাত্র উছীলা বা মাধ্যম। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে তোমরা মুহব্বত করো, কেননা তিনি তোমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে রিজিকের ব্যবস্থা করে থাকেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মুবারক পেতে হলে তোমরা আমাকে মুহব্বত করো। আর আমার মুহব্বত মুবারক পেতে হলে আমার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে তোমরা মুহব্বত করো।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাফায়াত বা সুপারিশ মুবারক ব্যতীত কেউ কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি পাবে না, কঠিন হাশরের দিন পবিত্র হাউজে কাওছার উনার পানি মুবারক পাবে না, পুলছিরাত পার হতে পারবে না, জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না।

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, পবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার উম্মতের চার শ্রেণীর লোকদেরকে আমি বিশেষভাবে সুপারিশ করবো। (এক) আমার মহাসম্মানিত বংশধর তথা আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে যারা সম্মান করবে। (দুই) আর্থিকভাবে যারা উনাদের খিদমত বা গোলামী মুবারকে আন্জাম দিবে। (তিন) শারীরিকভাবে যারা উনাদের গোলামী মুবারকে আন্জাম দিবে। (চার) অন্তর দিয়ে যারা উনাদেরকে মুহব্বত করবে এবং যবান দিয়ে যারা উনাদের ছানা-ছিফত বা প্রশংসা করবে। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, প্রত্যেক বান্দা বা উম্মতের জন্য দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, উনাদের প্রতি সুধারণা পোষণ করা, উনাদের কোন প্রকার বিদ্বেষ বা সমালোচনা না করা, উনাদেরকে সম্মান বা তা’যীম-তাকরীম করা, উনাদের প্রশংসা বা ছানা-ছিফত করা এবং উনাদের খিদমত বা গোলামী মুবারকে যথাযথ আন্জাম দেয়ার কোশেশ করা। তবেই তাদের পক্ষে দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব হবে।

-০-