بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
সম্মানিত দ্বীনদার ভাইয়েরা!
আজ আপনাদের কাছে একটি প্রশ্ন রাখতে চাই। আমরা সারা জীবন কত মানুষের জন্য কত কিছু করি! পরিবার-পরিজনের জন্য উপার্জন করি, বাড়ি-ঘর তৈরি করি, ব্যবসা-বাণিজ্য করি, ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করি। কিন্তু যে আখিরাতের জীবন অনন্তকালের, সেই জীবনের জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুতি গ্রহণ করছি?
একবার চিন্তা করুন, দুনিয়াতে আমরা যা রেখে যাব, একসময় তা অন্যদের হয়ে যাবে। কিন্তু মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যে নেক আমল করে যাব, মহান আল্লাহ পাক কবুল করলে সেটিই হবে আমাদের প্রকৃত পাথেয়।
তাহলে আজ এই মাদরাসার খেদমতে আপনি যখন সহযোগিতা করছেন, আপনি কি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করছেন? না! আপনি নিজের আখিরাতের জন্যও একটি কল্যাণের বীজ বপন করছেন।
আপনার সহযোগিতায় একজন ছাত্র খাবার পেল, সে দ্বীনি ইলম অর্জন করল। আপনার সহযোগিতায় সে কিতাব পেল, শিক্ষকের কাছে পড়ার সুযোগ পেল। একদিন সে ইলম শিখে অন্যকে শেখাল, মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করল। মহান আল্লাহ পাক যদি আপনার এই সহযোগিতা কবুল করেন, তাহলে সেই খেদমতের প্রতিদানের আশা আপনার জন্য কত বড় সুসংবাদ হতে পারে!!!
রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফে এসেছে, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে সদকায়ে জারিয়াসহ কিছু আমলের প্রতিদান অব্যাহত থাকে। (সহীহ মুসলিম, হাদীছ শরীফ ১৬৩১)
প্রিয় ভাইয়েরা! আমরা কেউ জানি না, আমাদের জীবনের শেষ দিনটি কখন আসবে। তাই সুযোগ থাকতে নেক আমলের চেষ্টা করি। এমন কোনো দ্বীনি খেদমতে অংশগ্রহণ করি, যার কল্যাণ আমাদের জীবদ্দশায়ও মানুষের উপকারে আসে এবং মহান আল্লাহ পাক কবুল করলে মৃত্যুর পরও প্রতিদানের কারণ হতে পারে।
আমাদের এই মাদরাসা দ্বীনি ইলমের একটি বাগান। এই বাগানের ছাত্রদের খাবার, কিতাব, শিক্ষকদের খেদমত এবং মাদরাসার পরিচালনার জন্য বছরব্যাপী সহযোগিতা প্রয়োজন। এই বাগানকে টিকিয়ে রাখা শুধু মাদরাসা কর্তৃপক্ষের একার দায়িত্ব নয়; সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা সবাই এর খেদমতে শরিক হতে পারি।
আপনি হয়তো ভাবছেন, আমার সামান্য সহযোগিতায় আর কী হবে? ভাই, একটি বড় কাজও অনেক সময় ছোট ছোট সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী দেওয়া অর্থও একটি প্রয়োজন পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। আর আপনার নিয়ত যদি হয় মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি, তাহলে আপনি দুনিয়ার একটি ব্যয়কে আখিরাতের নেক আমলে পরিণত করার আশা করতে পারেন।
আজ আপনি মাদরাসার পাশে দাঁড়ান, যাতে দ্বীনি ইলমের খেদমত অব্যাহত থাকে। আজ একজন ছাত্রের পাশে দাঁড়ান, যাতে সে ইলম অর্জনের সুযোগ পায়। আজ সুন্নত মুবারকের শিক্ষার পাশে দাঁড়ান, যাতে এই কল্যাণকর কাজ সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
আসুন, আমরা শুধু মাহফিল শুনে ফিরে না যাই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এই মহান খেদমতের অংশীদার হই। কেউ এককালীন সহযোগিতা করি, কেউ মাসিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করি, কেউ উন্নয়নমূলক খরচ বহন করি, কেউ ছাত্রদের খাবারের জন্য এগিয়ে আসি।
মনে রাখবেন, আমরা দুনিয়াতে যা ব্যয় করি, তার সবকিছুই আমাদের আখিরাতের জন্য সঞ্চয় হয় না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টির জন্য ইখলাছের সঙ্গে করা নেক আমল তাঁর রহমতে আমাদের নাজাতের উসিলা হতে পারে।
তাই আজকের সিদ্ধান্তটি মাদরাসাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত, নিজের আখিরাতের জন্য কল্যাণের চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের এই খেদমত কবুল করুন, আমাদের সম্পদে বরকত দান করুন, আমাদের গুনাহ মাফ করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।
আমীন, ইয়া রব্বাল আ'লামীন।
সার্বিক যোগাযোগ 01722990448 (নগদ ও বিকাশ পার্সোনাল)