এমনি এমনি তো চীন, পাকিস্তান কিংবা ভারতের মতো দেশ স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমতি দেয় না

ইসরায়েল স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য এটা একটা বড় হুমকি, কারণ বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই স্টারলিংক সেবার অনুমোদন দিয়েছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও সাইবার নিরাপত্তার এক অন্ধকার অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা 'স্টারলিংক' ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এক বিশাল সাইবার নজরদারি ও স্পিওনেজ অভিযান। আর এর পেছনে সরাসরি যোগসূত্র মিলেছে 'ডিসকভার-টেক' নামের একটি ইসরায়েলি ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বা অ্যাড-টেক প্রতিষ্ঠানের।

তারা ইন্টারনেট বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের ব্রাউজার ও অ্যাপে সুনির্দিষ্ট কিছু ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করত। এই বিজ্ঞাপনগুলোর আড়ালে থাকা ট্র্যাকিং কোডের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ১০৫টি দেশে স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান এবং সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর গুগল ও কমকাস্টের মতো টেক জায়ান্টরা তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে এই ইসরায়েলি সংস্থাকে নিষিদ্ধ করেছে।

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ভারত, পাকিস্তান কিংবা চীনের মতো পরাশক্তিগুলো কেন শুরু থেকেই স্টারলিংককে তাদের দেশে চূড়ান্ত বাণিজ্যিক অনুমোদন দেয়নি। স্টারলিংক সরাসরি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কাজ করে। এর ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের ডেটা রাষ্ট্রীয় ফিল্টার বা মনিটরিং ব্যবস্থা এড়িয়ে সরাসরি বিদেশি সার্ভারে চলে যায়।

বাংলাদেশে সম্প্রতি বাণিজ্যিক ও মোবাইল ব্যাকআপের জন্য স্টারলিংকের সীমিত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক এই গোয়েন্দা তৎপরতার খবর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত চিন্তার কারণ, বিশেষ করে দেশের কৌশলগত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। রাষ্ট্রীয় বা সামরিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা যদি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা অজান্তে এই নেটওয়ার্কের আওতায় আসেন, তবে তাঁর নিখুঁত লোকেশন ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চলে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থাকে।

এ ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো দুর্গম ও সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় যদি এই প্রযুক্তি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে পৌঁছায়, তবে তা হবে ভয়াবহ। রাষ্ট্রীয় জ্যামিং ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে তারা সরাসরি স্যাটেলাইট-গাইডেড ড্রোন আক্রমণ পরিচালনা করতে পারবে এবং সেনাবাহিনীর ক্যাম্প বা টহলের লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করে চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে পারবে।

প্রযুক্তি যত আধুনিক হচ্ছে, জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ততটাই জটিল হচ্ছে। সাধারণ জনগণের প্রযুক্তিগত সুবিধার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ এই সেবা নিলেও এর কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে, এই বিদেশি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি যেকোনো সময় দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।ত