আমার আহালের ইন্তেকালের পর থেকে আমার মন খুব খারাপ ছিলো। এক মুহুর্তও শান্তি পেতাম না। সব সময় অস্থির লাগতো। একদিন আমার বড় ভাসুরের মেয়ে আমাকে একটি আল বাইয়্যিনাত শরীফ পড়তে দেয় এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কথা বলে... তিনি যে কুষ্টিয়ায় সফরে এসেছিলেন তাও বলে। তখন থেকে আমি নিয়মিত পবিত্র আল বাইয়্যিনাত শরীফ পাঠ শুরু করি। প্রায়ই ভাবতাম যে অনেক ওলীআল্লাহ উনাদের জীবন কাহিনী পড়েছি কিন্তু উনাদেরকে তো দেখিনি কখনও! এর পর থেকেই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে দেখার জন্য আমার মনটা ছটফট করতে লাগলো। কিভাবে এবং কার সাথে পবিত্র দরবার শরীফে আসবো এজন্য অনেক ভাবতে লাগলাম। তারপর পবিত্র ১২ই রবীউল আউয়াল শরীফে একজন পীরবোনের সাথে দরবার শরীফে আসলাম এবং দুইদিন থাকার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে পবিত্র খানকা শরীফে সাক্ষাৎ মুবারক করার সৌভাগ্য হয়। সাক্ষাত মুবারকে আমি আমার মনের সমস্ত কষ্টের কথাগুলি পেশ করলাম। তিনি আমার কথাগুলি যখন মন দিয়ে শুনছিলেন তখন লক্ষ্য করলাম যে উনার চোখ মুবারকে পানি ছলছল করছিলো। তারপর তিনি আমাকে বললেন, "তুমি এত অস্থির হয়ো না! তওবা ইস্তেগফার করো মহান আল্লাহ পাক তিনি মাফ করবেন"। এই কথা মুবারক শুনার পর আমি অন্তরে প্রশান্তি লাভ করলাম। আমি বললাম, আম্মাজী! আমি মেয়ে নিয়ে এখানে থাকতে চাই। সাথে সাথেই তিনি অনুমতি দিয়ে দিলেন। তারপর বললেন, "এক জায়গায় থাকতে হলে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়। কোনো কিছু মনে ধরে রাখা যাবে না"। তারপর উদাহারণস্বরূপ বললেন, রান্না ঘরে অনেক হাড়ি-পাতিল থাকে, একটা আরেকটার সাথে লেগে শব্দ হয়। মূলত মিলেমিশে থাকার ব্যাপারে ইঙ্গিত করে বেশ কিছু নছীহত মুবারক করলেন। তখন থেকে আমি পবিত্র দরবার শরীফে অবস্থান করতে শুরু করলাম।

উনার সাথে পবিত্র সাক্ষাৎ হওয়ার পর আমি বুঝতে পারলাম যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কত বড় ওলীআল্লাহ! তিনি কত দয়ালু! কারো সাথে উনার কোনো তুলনা হয়না। সুবহানাল্লাহ! তিনি আমাকে আশ্রয় দিয়ে যে ইহসান করেছেন তা আমি কখনোই ভুলতে পারবো না।

একদিন অতীতের কথা ভেবে খুব অস্থির লাগছিলো... সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, "বেশি বেশি দরূদ শরীফ পাঠ করো। আমারও যখনই খারাপ লাগে আমি তখনই পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠ করি"। আমি তখন উনার মুবারক নির্দেশ অনুযায়ী দরূদ শরীফ পড়তে লাগলাম অতঃপর মনে শান্তি ফিরে পেলাম। তখন বিষয়টি উপলদ্ধি করলাম যে, সাইয়ি‍্যদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কত মহান! তিনি বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সর্বরোগের চিকিৎসক। সুবহানাল্লাহ!

একবার বাড়ি যাওয়ার সময় কোনও মাহরাম ছিলো না বলে ভীষণ চিন্তা লাগছিলো... কিভাবে কুষ্টিয়া যাবো... আবার কিভাবে একা ঢাকা ফিরে আসবো। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার খিদমতে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, "তোমার কেউ নাই কে বললো, মামদুহজী আছেন না? মামদুহ মামদুহ বলতে বলতে চলে আসবে"। সত্যিই রাস্তায় নেমে পুলিশের সাগ্রহে সিএনজি ঠিক করে ব্যাগসহ এগিয়ে দেয়া সহ একের পর গায়েবী মদদই অন্তরের এই বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে দিলো যে সত্যি আমার আর কেউ না থাকুক আমার মামদুজী ও আম্মাজী উনারা আছেন। আমার কিসের ভয়, কিসের চিন্তা!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এক এক সময় এক এক শান মুবারকে থাকেন। উনার পবিত্র ছোহবত মুবারকে অবস্থানকালীন সময়ে উনাকে একাধিক শান মুবারকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। তার মধ্যে যেমন একদিনের ঘটনা, প্রতিদিনের ন্যায় সেদিনও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বড়রুমে তা'লীম দিচ্ছিলেন। হঠাৎ কারেন্ট চলে যায়। অন্ধকারে আমি উনার সম্মানিত চেহারা মুবারকে নূর মুবারক জ্বলজ্বল করতে দেখতে পেয়েছি। সুবহানাল্লাহ! এই বিষয়টি আমার পাশে বসে থাকা একজন পীরবোনকে বললে তিনিও একই কথা বললেন। এছাড়াও পূর্বে আমি উনার খাদিমা থাকা অবস্থায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে চার বর্ণ মুবারকে দেখেছি। তা'লীম মুবারক দান করা অবস্থায় গোলাপী বর্ণের, ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাদা বর্ণের, চলাফেরা করা অবস্থায় হলুদ বর্ণের এবং তিনি যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের কাপড় মুবারক ধুয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হন তখন উনাকে লাল বর্ণের দেখতে পেয়েছি। সুবহানাল্লাহ!

- আহমাদ রুনা