✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৪৭)
সপ্তাহব্যাপী শত—সহ¯্র ভেড়া, দুম্বা, উট যবেহ করে লক্ষ লক্ষ লোককে মেহমানদারী করান। আর অনুরোধের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন।
বার বার এই কথা শুনে এক পর্যায়ে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার মুছল্লীগণ সকলেই একবাক্যে বলে উঠলেন, ‘সুলতান! মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার আশপাশে এমন কোনো লোক আর বাকী নেই, যারা আপনার মেহমানদারীতে শরীক হয়নি।’ তখন হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠ কণ্ঠে বললেন, ‘আমি বলছি আপনারা ভালোভাবে অনুসন্ধান করুন, এখনো কিছু লোক দাওয়াত খেতে বাকী রয়েছে। কেন তারা আমার এই দাওয়াতে শরীক হলো না? তারা কোথায় এবং তারা কারা? তাদেরকে আপনাদের খেঁাজ করে আনতে হবে।’ হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বলিষ্ঠ কণ্ঠে এই ঘোষণা মুবারক মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার আকাশ—পাতালে যেন এক প্রকম্পন তুলে দিয়েছিলো। একদিকে উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক—এ অনুতাপের ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে, অপরদিকে দরদ যেন উথলে পড়ছিলো কণ্ঠ থেকে। বিশাল জনতার ভরা মজলিসে হঠাৎ কিছু লোক বলে উঠলেন,
لَمْ يَبْقَ سِوٰى رَجُلَيْنِ صَالِحَيْنِ عَفِيْفَيْنِ مَغْرِبِيَّيْنِ يُكْثِرَانِ الصَّدَقَةَ فَطَلَبَهُمَا فَرَاٰهُمَا فَاِذَا هُمَا الرَّجُلَانِ اللَّذَانِ اَشَارَ اِلَيْهِمَا النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘দুজন নেককার—পরহেযগার, সচ্চরিত্রবান, সংযমশীল পশ্চিমা বা ইউরোপীয় ছাড়া আর কেউই বাকী নেই। তারা দুজন প্রচুর পরিমাণে দান—ছদক্বা করে। (তারা দুজন কারো সাথে সাক্ষাত করে না, কারো দাওয়াতে অংশ গ্রহণ করে না।) তখন হযরত নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঐ দুইজন লোককে তলব করলেন। হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঐ দুইজন লোককে দেখার সাথে সাথেই নিশ্চিত হন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই দুইজন লোকের দিকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল আমীন মুবারক (ইশারা মুবারক) করেছিলেন, এরাই হচ্ছে সেই দুইজন লোক।’ (নুযহাতুন নাযিরীন, খুলাছাতুল ওয়াফা)