✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৪৫)
(১৯)
চরম বেয়াদব দুই অভিশপ্ত ইহুদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার নির্দেশ মুবারক:
হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার একজন অন্যতম বীর সিপাহসালার, ইনছাফগার সুলতান এবং বিশিষ্ট বুযূর্গ। উনার সম্মানিত মাযার শরীফ সিরিয়ার দামেস্কে অবস্থিত। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে চরম বেয়াদব দুই অভিশপ্ত ইহুদীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার নির্দেশ মুবারক দেন। সুবহানাল্লাহ! তারীখুল খমীস, নুযহাতুন নাযিরীনসহ আরো অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اِنَّ السُّلْطَانَ الْمَذْكُوْرَ كَانَ لَهٗ تَهَجُّدٌ يَأْتِىْ بِهٖ فِى اللَّيْلِ وَاَوْرَادٌ يَأْتِىْ بِهَا فَنَامَ عَقِبَ تَهَجُّدِهٖ فَرَاَى النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ مَنَامِهٖ وَهُوَ يُشِيْرُ اِلٰى رَجُلَيْنِ اَشْقَرَيْنِ وَيَقُوْلُ اَنْجِدْنِىْ اَنْقِذْنِىْ مِنْ هٰذَيْنِ فَاسْتَيْقَظَ فَزِعًا ثُمَّ تَوَضَّاَ وَصَلّٰى وَنَامَ فَرَاَى الْمَنَامَ بِعَيْنِهٖ فَاسْتَيْقَظَ وَصَلّٰى وَنَامَ فَرَاٰهُ اَيْضًا مَرَّةً ثَالِثَةً فَاسْتَيْقَظَ وَقَالَ لَمْ يَبْقَ نَوْمٌ وَكَانَ لَهٗ وَزِيْرٌ مِّنَ الصَّالِحِيْنَ يُقَالُ لَهٗ حَضْرَتْ جَمَالُ الدِّيْنِ الْمَوْصِلِىُّ رَحِمَةُ اللهُ عَلَيْهِ فَاَرْسَلَ اِلَيْهِ لَيْلًا وَحَكٰى لَهٗ جَمِيْعَ مَا اتَّفَقَ لَهٗ فَقَالَ لَهٗ وَمَا قُعُوْدُكَ اُخْرُجِ الْاٰنَ اِلَى الْمَدِيْنَةِ النَّبَوِيَّةِ وَاكْتُمْ مَا رَاَيْتَ فَتَجَهَّزَ فِىْ بَقِيَّةِ لَيْلَتِهٖ وَخَرَجَ عَلٰى رَوَاحِلَ خَفِيْفَةٍ فِىْ عِشْرِيْنَ نَفَرًا وَفِىْ صُحْبَتِهِ الْوَزِيرُ الْمَذْكُوْرُ وَمَالٌ كَثِيْرٌ فَقَدِمَ الْمَدِيْنَةَ فِىْ سِتَّةَ عَشَرَ يَوْمًا
“নিশ্চয়ই উল্লেখিত সুলতান (হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি) তিনি সবসময় রাত্রে সম্মানিত ছলাতুত্ তাহাজ্জুদ আদায় করতেন এবং সম্মানিত ওযীফাসমূহ পাঠ করতেন। (৫৫৭ হিজরী শরীফ উনার কোনো এক রাতে) তিনি সম্মানিত ছলাতুত্ তাহাজ্জুদ আদায়ের পরে ঘুমিয়ে যান। তখন তিনি স্বপ্ন মুবারক—এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভে ধন্য হন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলুদ চক্ষু বিশিষ্ট দুই ব্যক্তির দিকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল আমীন মুবারক (ইশারা মুবারক) করে ইরশাদ মুবারক করেন— ‘আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রেযামন্দী—সন্তুষ্টি মুবারক লাভের জন্য আপনি এই দুই ব্যক্তিকে (অর্থাৎ এই চরম বেয়াদব দুই ইহুদীকে) দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি দিন।’ সাথে সাথে হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অত্যন্ত চিন্তিত অবস্থায় ঘুম থেকে জেগে উঠেন। তারপর ওযূ করে সম্মানিত ছলাত আদায় করে ঘুমিয়ে যান। তখন তিনি ঘুমের মধ্যে আবার একই স্বপ্ন মুবারক দেখেন। সাথে সাথে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠেন এবং সম্মানিত ছলাত আদায় করে ঘুমিয়ে যান। তখন তিনি তৃতীয়বারও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্বপ্ন মুবারক—এ দেখেন। সাথে সাথে তিনি ঘুম থেকে জেগে উঠেন এবং (মনে মনে) বলেন, কোনো ঘুম অবশিষ্ট থাকতে পারে না। ‘হযরত জামালুদ্দীন মূছিলী রহমতুল্লাহি আলাইহি’ নামে উনার একজন নেককার—পরহেযগার উযীর ছিলেন। হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রাত্রেই সেই সম্মানিত উযীর উনার নিকট সংবাদ পাঠান। (সংবাদ পেয়ে তিনি আসার পর) যা সংঘটিত হয়েছে সমস্ত কিছু বর্ণনা করেন। তখন হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্মানিত উযীর তিনি বলেন— ‘কী কারণে আপনি এখনো বসে রয়েছেন? আপনি এখনই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে বের হন এবং আপনি যা দেখেছেন তা গোপন রাখুন।’ তখন রাত্র বাকী থাকতেই হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করলেন এবং ২০টি সৈন্যদলসহ উল্লেখিত সম্মানিত উযীর উনাকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে দ্রুতগামী অনেক বাহনে করে অনেক মাল—সম্পদ, (দীনার—দিরহামসহ মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনার উদ্দেশ্যে খুব ভোরে) বের হয়ে পড়েন। অতঃপর হযরত সুলতান নূরুদ্দীন জঙ্গী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মাত্র ১৬ দিনের মধ্যেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র মদীনা শরীফ পেঁৗছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখুল খমীস ২/৩৬৩—৩৬৪)