✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (৪৩)

(১৭)
এক মিথ্যাবাদীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা:
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
اِنَّ رَجُلًا كَذَبَ اَىْ اِفْتَرٰى عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَعَثَ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اَلزُّبَيْرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اِلَيْهِ لِيَقْتُلَاهُ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি মিথ্যা কথা অর্থাৎ মিথ্যা কথা রটনা করতো। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে পাঠান তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়ার জন্য।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/৪৮৯)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ اِلٰى قَرْيَةٍ مِّنْ قُرَى الْاَنْصَارِ فَقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرْسَلَنِىْ اِلَيْكُمْ وَاَمَرَكُمْ اَنْ تُزَوِّجُوْنِىْ فُلَانَةَ فَقَالَ رَجُلٌ مِّنْ اَهْلِهَا جَاءَنَا هٰذَا بِشَيْءٍ مَا نَعْرِفُهٗ مِنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْزِلُوا الرَّجُلَ وَاَكْرِمُوْهُ حَتّٰى اٰتِيَكُمْ بِخَبَرِ ذٰلِكَ فَاَتَى النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ ذٰلِكَ لَهٗ فَاَرْسَلَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ وحَضْرَتْ اَلزُّبَيْرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَقَالَ اِذْهَبَا فَاِنْ اَدْرَكْتُمَاهُ فَاقْتُلَاهُ وَلَا اَرَاكُمَا تُدْرِكَاهُ قَالَ فَذَهَبَا فَوَجَدَاهُ قَدْ لَدَغَتْهُ حَيَّةٌ فَقَتَلَتْهُ فَرَجَعَا اِلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَخْبَرَاهُ فَقَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ كَذَبَ عَلَىَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهٗ مِنَ النَّارِ
“হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের একটি গ্রামে একজন লোক এসে বললো, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন এবং তিনি আপনাদেরকে সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন যে, আপনারা যেন আমাকে অমুক মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার সাথে বিবাহ সম্পন্ন করে দেন।’ তখন ঐ পরিবারের একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বললেন, ‘এই লোক আমাদের নিকট এমন একটি কথা বলেছে, যা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে আমরা জানি না। আপনারা লোকটিকে থাকার জায়গা দিন এবং সম্মান—আপ্যায়ন করুন; যতক্ষণ না আমি এই ব্যাপারে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আসি।’ তারপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গিয়ে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে এবং হযরত যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে পাঠিয়ে ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘আপনারা যান, তাকে পেলে হত্যা করবেন, শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবেন। আমার মনে হয় না আপনারা তাকে পাবেন।’ বর্ণনাকারী বলেন, উনারা গিয়ে দেখলেন— তাকে একটি সাপ দংশন করে হত্যা করেছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কুদরতীভাবে তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উনারা দুজন ফিরে এসে সংবাদ দিলেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন (দুনিয়ায় থাকতে) তার স্থান জাহান্নামে নির্ধারণ করে নেয়’।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (জামিউ মা’মার ইবনে রাশিদ ১১/২৬১, মুছান্নাফে আব্দুর রায্যাক্ব ১১/২৬১, আনীসুস সারী ১০/১১০, শরহুয যারক্বানী ৭/৩২২)