হযরত হাসান বসরী (রহ.)-এর ফতোয়া ও বসরায় দরূদের বিশেষ ইজতিমা
তাবেঈদের সর্দার হযরত হাসান বসরী (রহ.)-এর নির্ভরযোগ্য সূত্রে ইমাম আল-ফিরইয়াবী (রহ.) তাঁর ‘ফাদলুস সালাতি ‘আলান-নাবিয়্যি’ (فضل الصلاة على النبي) কিতাবে তাবেঈদের যৌথ দরূদ পাঠের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন:
العِبارَةُ العَرَبِيَّة:
«عَنِ الحَسَنِ البَصْرِيِّ قَالَ: مَنْ أَرَادَ أَنْ يَكْتَالَ بِالمِكْيَالِ الأَوْفَى مِنَ الأَجْرِ، وَيَكْشِفَ اللهُ عَنْ أَهْلِ بَيْتِهِ الكَرْبَ، فَلْيَجْمَعْهُمْ عَلَى الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَجْلِسٍ وَاحِدٍ»
বাংলা উচ্চারণ:
‘আনিল হাসানিল বাছরিয়্যি ক্বালা: মান আরাাদা আঁই ইয়াকতাালা বিল মিকইয়াালিল আওফাা মিনাল আজরি, ওয়া ইয়াকশিফাল্লাহু ‘ান আহলি বাইতিহিল কারবা, ফালইয়াজমা‘হুম ‘ালচ্ছ-ছলাাাতি ‘আলান-নাবিয়্যি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লামা ফী মজলিসিঁও ওয়াাহিদ.
বাংলা অনুবাদ:
হযরত হাসান বসরী (রহ.) বলেন: "যে ব্যক্তি চায় পরকালে অগণিত সওয়াবের পাত্র কানায় কানায় পূর্ণ করতে এবং আল্লাহ যেন তার পরিবার থেকে সকল মোসীবত ও কঠিন বিপদ দূর করে দেন, সে যেন তার পরিবারের সকলকে একই মজলিসে একত্র করে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর যৌথভাবে দরূদ পাঠের আমল করায়।"
(সূত্র: ফাদলুস সালাতি ‘আলান-নাবিয়্যি - ইমাম আল-ফিরইয়াবী, হাদীস নং: ৭৮)
২. তাবেঈ হযরত মাকহূল আশ-শামী (রহ.) ও সিরিয়ার আলেমদের আমল
ইমাম আল-বায়হাকী (রহ.) তাঁর ‘শরাহু শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে শামের মুফতী ও তাবেঈ হযরত মাকহূল (রহ.) থেকে সংকটকালীন দরূদ মজলিসের প্রমাণ এনেছেন:
العِبارَةُ العَرَبِيَّة:
«عَنْ مَكْحُولٍ الشَّامِيِّ قَالَ: إِذَا حَزَبَ الأُمَّةَ أَمْرٌ أَوْ خَوْفٌ مِنْ عَدُوٍّ، فَاجْتِمَاعُهُمْ عَلَى الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَانٌ لَهُمْ مِنْ كُلِّ خَوْفٍ، وَسَبَبٌ لِنُصْرَةِ اللهِ»
বাংলা উচ্চারণ:
‘আন মাক্বহূলিশ শাামিয়্যি ক্বালা: ইযাা হাজাবাল উম্মাতা আমরুন আও খউফুম মিন ‘াদূউইন, ফাজতিমাা‘ুহুম ‘ালচ্ছ-ছলাাাতি ‘আলান-নাবিয়্যি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লামা আমাানুল ল্যাহুম মিন কুল্লি খউফিন, ওয়া সাবাবুল লি-নুছরাতিবল্লাহ.
বাংলা অনুবাদ:
তাবেঈ হযরত মাকহূল আশ-শামী (রহ.) বলেন: "উম্মতের ওপর যখনই কোনো জটিল সংকট তৈরি হতো কিংবা শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিত, তখন নবীজী ﷺ-এর ওপর তাঁদের যৌথ দরূদ মজলিসই ছিল সমস্ত ভীতি থেকে আত্মরক্ষার গ্যারান্টি এবং আল্লাহর গায়েবী সাহায্য লাভের মূল মাধ্যম।"
(সূত্র: শুআবুল ঈমান - ইমাম বায়হাকী, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৪০)
৩. কাজী 'ইয়াজ (রহ.)-এর সূত্রে কুরতুবা (কর্ডোভা) জয় ও সংহতির দরূদ মজলিস
আন্দালুসের (স্পেন) ফকীহ কাজী 'ইয়াজ (রহ.) তাঁর ‘বুগইয়াতুল মুস্তফীদ’ গ্রন্থে কর্ডোভার জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত দরূদ ইজতিমার বিবরণ লিখেছেন:
العِبارَةُ العَرَبِيَّة:
«وَكَانَ عُلَمَاءُ قُرْطُبَةَ إِذَا نَزَلَ بِهِمْ قَحْطٌ أَوْ حِصَارٌ، يَجْمَعُونَ الصِّبْيَانَ وَالصَّالِحِينَ فِي المَسْجِدِ الجَامِعِ، فَيَلْهَثُونَ بِالصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَمَا يَنْصَرِفُونَ إِلاَّ وَقَدْ جَاءَهُمُ الفَرَجُ»
বাংলা উচ্চারণ:
ওয়া কাানা ‘উলামাা’ু ক্বুরত্বুবাাতা ইযা নাযালা বিহিম ক্বাহতুন আও হিচ্ছারুন, ইয়াজমা‘ঊনচ্ছ ছিবইয়াানা ওচ্ছ-ছাালিহীনা ফিল মাসজিদিল জাামি‘ি, ফায়ালহাছূনা বিচ্ছ-ছলাাাতি ‘আলান-নাবিয়্যি ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া ছাল্লাম, ফামাা ইয়ানছারিফূনা ইল্লাা ওয়া ক্বাদ জাা’াহুমুল ফারাজ.
বাংলা অনুবাদ:
"কর্ডোভার আলেমদের অনড় অভ্যাস ছিল—যখনই সেখানে অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ কিংবা শত্রুর অবরোধ দেখা দিত, তাঁরা শিশু ও বুজুর্গদের জামে মসজিদে একত্র করতেন। তাঁরা একনাগাড়ে রসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দরূদ পাঠে মগ্ন থাকতেন। যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে উদ্ধার ও আসমানী সাহায্য পৌঁছাত, তারা মজলিস থেকে প্রস্থান করতেন না।"
(সূত্র: বুগইয়াতুল মুস্তফীদ ফী তারীখি কুরতুবা, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৯৫)