✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (২৯)
(৮)
কাট্টা কাফির মাল‘ঊন আবূ আয্যার মৃত্যুদণ্ড
এই ঘটনাটিও সংঘটিত হয় ৩য় হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত শাওওয়াল শরীফ মাসে সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক উনার সময়। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اَمَّنَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْاَسْرٰى يَوْمَ بَدْرٍ اَبَا عَزَّةَ عَمْرَو بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَيْرٍ الْجُمَحِىَّ وَكَانَ شَاعِرًا فَقَالَ يَا (سَيِّدَنَا مَوْلَانَا) مُحَمّدُ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) لِىْ خَمْسُ بَنَاتٍ لَيْسَ لَهُنَّ شَيْءٌ وَاَنَا اُعْطِيْكَ مَوْثِقًا لَا اُقَاتِلُكَ وَلَا اُكَثِّرُ عَلَيْك اَبَدًا فَتَصَدَّقْ بِىْ عَلَيْهِنَّ يَا (سَيِّدَنَا مَوْلَانَا) مُحَمّدُ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) فَاَعْتَقَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ اُحُدٍ جَاءَهٗ (حَضْرَتْ) صَفْوَانُ بْنُ اُمَيَّةَ (رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ) فَقَالَ لَهٗ اُخْرُجْ مَعَنَا وَضَمِنَ لَهٗ اِنْ قُتِلَ اَنْ يَّجْعَلَ بَنَاتِهٖ مَعَ بَنَاتِهٖ وَاِنْ عَاشَ اَعْطَاهُ مَالًا كَثِيْرًا فَخَرَجَ مَعَهُمْ وَجَعَلَ يَدْعُو الْعَرَبَ وَيَحْشُرُهَا فَاُسِرَ وَلَمْ يُؤْسَرْ مِنْ قُرَيْشٍ غَيْرُهٗ فَقَالَ يَا (سَيِّدَنَا مَوْلَانَا) مُحَمّدُ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) اِنَّمَا اُخْرِجْتُ كُرْهًا وَلِىْ بَنَاتٌ فَامْنُنْ عَلَىَّ قَالَ لَا وَاللهِ لَا تَمْسَحُ عَارِضَيْكَ بِمَكَّةَ تَقُوْلُ سَخِرْتُ بِ(سَيِّدِنَا مَوْلَانَا) مُحَمَّدٍ (صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) مَرَّتَيْنِ يَا حَضْرَتْ عَاصِمَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اِضْرِبْ عُنُقَهٗ فَقَدَّمَهٗ حَضْرَتْ عَاصِمٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ
“হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বন্দীদের মধ্য থেকে আবূ আয্যাহ্ আমর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইর জুমাহীকে নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। সে ছিলো একজন কবি। সে বললো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পাঁচটি কন্যা সন্তান রয়েছে, তাদের কোনো সহায়—সম্পদ নেই। আমি আপনাকে ওয়াদা দিচ্ছি— আমি আপনার বিরুদ্ধে আর কখনো যুদ্ধ করবো না এবং আপনার বিরুদ্ধে কাউকে কোনো দিন সমর্থনও করবো না। কাজেই, ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার প্রতি দয়া—ইহসান মুবারক করুন, যেন আমি তাদের জন্য বেঁচে থাকতে পারি।’ তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে মুক্ত করে দেন। কিন্তু উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন হযরত ছাফওয়ান ইবনে উমাইয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু (তখনও পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেননি) তিনি তার কাছে এসে বললেন, ‘আমাদের সাথে বের হও।’ সে তাকে এই নিশ্চয়তা দিলো যে, যদি সে নিহত হয়, তাহলে তার কন্যাদেরকে নিজের কন্যাদের সাথে রাখবে; আর যদি বেঁচে থাকে, তাহলে তাকে অনেক সম্পদ দিবে। তখন সে তাদের সাথে বের হয় এবং আরবদেরকে আহ্বান করতে থাকে ও তাদেরকে একত্রিত করে। পরে সে বন্দী হয়। কুরাইশদের মধ্যে সে ব্যতীত আর কেউ বন্দী হয়নি। তখন সে বললো, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমাকে আনা হয়েছে। আমার অনেক কন্যা সন্তান রয়েছে, তাই আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন।’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, কখনো না; মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! মহাসম্মানিত মক্কা শরীফে গিয়ে তুই তোর গাল মুছতে মুছতে এই কথা বলতে পারবি না যে, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি দুইবার উপহাস করেছি।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! (অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন,)
يَا حَضْرَتْ عَاصِمَ بْنَ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اِضْرِبْ عُنُقَهٗ فَقَدَّمَهٗ حَضْرَتْ عَاصِمٌ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فَضَرَبَ عُنُقَهٗ
‘হে হযরত আছিম ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু! তার গর্দান উড়িয়ে দিন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিন।’ সাথে সাথে হযরত আছিম ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি তাকে সামনে এনে তার গর্দান উড়িয়ে দেন, তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।” সুবহানাল্লাহ! (নাছবুর রাইয়াহ্ ৩/৪০৬, আল মাগাযী লিল ওয়াক্বিদী ৩০৮—৩০৯)