✳️নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই উনার শান মুবারক সম্পর্কে চূঁ—চেরা ও ক্বীলও ক্বাল করার কারণে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন (২৭)
(৭)
উবাই ইবনে খালফের মৃত্যুদণ্ড
এই ঘটনাটি সংঘটিত হয় ৩য় হিজরী শরীফ উনার শাওওয়াল শরীফ মাসে সম্মানিত উহুদ জিহাদ মুবারক উনার সময়। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اُسِرَ اُبـَىُّ بْنُ خَلْفٍ يَوْمَ بَدْرٍ فَلَمَّا اِفْتَدٰى مِنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنَّ عِنْدِىْ فَرَسًا اَعْلِفُهَا كُلَّ يَوْمٍ مِنْ ذُرَّةٍ لَعَلِّىْ اَقْتُلُكَ عَلَيْهَا فَقَالَ لَهٗ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَلْ اَنَا اَقْتُلُكَ عَلَيْهَا اِنْ شَاءَ اللهُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمَ اُحُدٍ اَقْبَلَ اُبَـىُّ ابْنُ خَلْفٍ تَرْكُضُ فَرَسُهٗ تِلْكَ حَتّٰى دَنَا مِنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاعْتَرَضَ رِجَالٌ مِّنَ الْمُسْلِمِيْنَ لَهٗ لِيَقْتُلُوْهُ فَقَالَ لَهُمْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِسْتَاْخِرُوْا اِسْتَاْخِرُوْا فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَرْبَةٍ فِىْ يَدِهٖ فَرَمٰى بِهَا اُبَىَّ بْنَ خَلْفٍ فَكَسَرَتْ ضِلْعًا مِّنْ اَضْلَاعِهٖ فَرَجَعَ اِلٰى اَصْحَابِهٖ ثَقِيْلًا فَاحْتَمَلُوْهُ حَتّٰى وَلَّوْا بِهٖ وَطَفِقُوْا يَقُوْلُوْنَ لَهٗ لَا بَأْسَ فَقَالَ اُبَىٌّ اَلَمْ يَقُلْ لِىْ بَلْ اَنَا اَقْتُلُكَ اِنْ شَاءَ اللهُ فَانْطَلَقَ بِهٖ اَصْحَابُهٗ فَمَاتَ بِبَعْضِ الطَّرِيْقِ فَدَفَنُوْهُ
“হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদরের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন উবাই ইবনে খাল্ফ বন্দী হয়েছিলো। এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট মুক্তিপণ দিয়ে সে মুক্ত হয়। মুক্ত হওয়ার সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উদ্দেশ্য করে সে বলে— ‘নিশ্চয়ই আমার কাছে একটি ঘোড়া আছে। আমি প্রতিদিন তাকে শস্য খাওয়াই। আমি আশা করি— সেই ঘোড়ায় চড়ে আপনাকে আমি শহীদ করবো।’ না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেন— ‘বরং আমিই তোকে সেই ঘোড়ার উপর (আরোহী অবস্থায়) হত্যা করবো, তোর শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিবো ইনশাআল্লাহ।’ এরপর যখন উহুদের সম্মানিত জিহাদ মুবারক উনার দিন উপস্থিত হলো, উবাই ইবনে খাল্ফ তার সেই ঘোড়াকে দ্রুতগতিতে তাড়াতে তাড়াতে এগিয়ে এলো; এমনকি সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটবর্তী হয়ে গেলো। তখন কয়েকজন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা তাকে ক্বতল করতে উদ্যত হন। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন— ‘আপনারা সরে যান, সরে যান।’ অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত নূরুল কুওওয়াত মুবারক (দাঁড়ানো শান মুবারক) প্রকাশ করে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক—এ (হাত মুবারক—এ) থাকা একটি বর্শা দ্বারা উবাই ইবনে খাল্ফের দিকে নিক্ষেপ করলেন। ফলে, তার পাঁজরের একটি হাড় ভেঙ্গে যায়। এরপর সে কঠিন আহত অবস্থায় তার সঙ্গীদের নিকট ফিরে যায়। তখন তারা তাকে বাহনে করে নিয়ে যায়; এমনকি তার সঙ্গে ফিরে যায়। আর তারা তাকে বলতে লাগলো— ‘কোনো অসুবিধা নেই।’ কিন্তু উবাই ইবনে খাল্ফ বললো— নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি আমাকে বলেননি— ‘বরং আমিই তোকে মৃত্যুদণ্ড দিবো ইনশাআল্লাহ’? তারপর তার সঙ্গীরা তাকে নিয়ে চলতে লাগলো। কিছু দূর যাওয়ার পর পথের মধ্যেই সে মারা গেলো। পরে তারা তাকে (সেখানেই) দাফন করলো।” (ইবনে রজব হাম্বলী ৪/১৫৮)