ঘটনা ৩: হযরত কালীমুল্লাহ মূসা আলাইহিস সালাম ও আল্লাহ পাক উনার কথোপকথন (বিনয় ও অহংকার)
এই যে হযরত কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনি একবার আল্লাহ পাককে জিজ্ঞেস করলেন যে আল্লাহ পাক আপনি বান্দার কোন আমল পছন্দ করেন? আল্লাহ পাক বললেন আমি বান্দার বিনয়টা পছন্দ করি। আমার কাছে সে বিনয় প্রকাশ করুক। সে পারে না সে ইস্তেগফার তওবা করুক, মাফ চাক আমি মাফ করে দিব। আমি তো সবকিছুর মালিক। আমি আদেশ করছি তোরে এই আমল করতে হবে, তুই কর। যখন সে পারলো না সে মাফ চাইলে তো মাফ করে দিবেন, অসুবিধার কি আছে? কিন্তু এটা বলতে পারবে না এর প্রয়োজন নাই, এতো লাগে না নাউযুবিল্লাহ। এটা বললেই সে কাফের হবে। সব দরকার আছে। আমি পারিনা আমার দুর্বলতা প্রকাশ করতে হবে, স্বীকার করতে হবে। তখন আল্লাহ পাক হয়তো ক্ষমা করবেন।
কিন্তু সে যদি নিজে ফখর দেখায় তাহলে তাকে জাহান্নামে দেওয়া হবে। হাদীস শরীফে আছে না—'আল কিবরিয়াউ রিদায়ী ওয়াল আযামাতু ইযারীর ফামান নাযা'আ ফী শাইয়্যিম মিনহুমা আদখুলহু ফিন নার ওয়ালা উবালী।' বড়ত্ব হচ্ছে আমার চাদর, মহত্ত্ব হচ্ছে আমার ইযার লুঙ্গি। 'ফামান নাযা'আ ফী শাইয়্যিম মিনহুমা আদখুলহু ফিন নার ওয়ালা উবালী' এই দুইটা নিয়ে যে টানাটানি করবে তাকে আমি জাহান্নামে প্রবেশ করাবো, আমি কাউকে পরোয়াও করি না। কাজেই যারা বড়ত্ব বাহাদুরী দেখাইবো আর মহত্ত্ব জাহির করবে, ফখর করবে এদেরকে আমি জাহান্নামে ঢুকামু।
কাজেই বিনয় প্রকাশ করো। গোলাম গোলামের মতো থাক। গোলাম যদি মুনিব সাজতে চায় তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তুই গোলাম, তুই গোলাম থাকবি। তোকে আদেশ করা হয়েছে তুই এগুলি পালন করবি। যদি না পারিস তুই তওবা কর, ওজরখাহী কর, রোনাযারী কর, আমি ক্ষমা করব। আর যদি তুই বাহাদুরী করিস তোকে জাহান্নামে দিব।