ঘটনা ৫: অভাবগ্রস্ত লোক ও বুযূর্গ ওলীউল্লাহ — কোটি টাকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অগণিত নিয়ামত
ঐ কিতাবে লেখা একটা ঘটনা, এক লোক গেল এক বুযূর্গ ওলীউল্লাহর কাছে। গিয়ে বলল হুযূর আমি অনেক অমুক তমুক অভাবে আছি, এইটা সেইটা। তো উনি বললেন কেন? তুমি তো খুব ভালোই তো আছো। সে বল্ল আমার টাকা নাই পয়সা নাই এটা সেটা। উনি বললেন ঠিক আছে তুমি এক কাজ করো। তোমার একটা চক্ষু আমাকে দিয়ে দাও, তোমাকে আমি এক লক্ষ টাকা দিয়ে দেই। কয় হুযূর চক্ষু দিয়ে দিলে তো আমি চোখে দেখব কেমনে?
ঠিক আছে তাহলে এক কাজ করো, তোমার একটা কান দিয়ে দাও ৫০ হাজার টাকা দেই। কান কাটা থাকলে মানুষ বলবে কি? তাইলে নাকটা দাও ৫০ হাজার টাকায়। লোকটি বল্ল আবার নাক তাইলে কেমনে হবে? একটা হাত দিয়ে দাও। হাত দিয়ে কাজ করব কেমনে? একটা পা দিয়ে দাও ৫০ হাজার টাকা দিমু। সে কোনোটাই দিতে রাজি হইলো না।
তখন তাইলে উনি বললেন এই মোট হিসাব করো কত টাকা হইলো তোমার? তোমার শরীরে কত লাখ টাকার মাল আছে আজকে ফিকির করো। তুই ফকির হইলি কোত্থেকে? হ্যাঁ? তারপর তোর জানটা তো আছে, তুই তো মারা যাস নাই। তো তোর কত লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ তোর শরীরে আছে, তুই গরিব হইলি কেমনে? আল্লাহ পাক তো তোকে লুলা বানাইতে পারতেন, ল্যাংড়া বানাইতে পারতেন, কানা বানাইতে পারতেন, বোবা বধির বানাইতে পারতেন, তা তো বানান নাই। তো তোর সম্পদ নাই কেমনে?
তাইলে শোকরগুজারি কোনটা? হ্যাঁ? কোনটা শোকরগুজারি? এইজন্য আল্লাহ বলছেন—'ফাবিআইয়্যি আ-লা-ই রব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।' কোন নেয়ামত অস্বীকার করবে? 'ওয়া ইন তা'উদ্দূ নি'মাতাল্লাহি লা তুহসূহা।' তুমি নেয়ামত গণনা করে শেষ করতে পারবে না। কোনটা তুমি অস্বীকার করবে? কোনটা নেয়ামত না বলো? একজন প্রমাণ করুক। সবটাই নেয়ামত। মানুষ নেয়ামতের মধ্যে ডুবন্ত আছে এজন্য সে বুঝে না।
একটা মানুষ বাতাসের মধ্যে ডুবন্ত আছে, বাতাস থেকে বের করে নিয়ে আসুক সে মারা যাইব। একটা মাছ পানিতে থাকে ডুবন্ত আছে, সে পানি থেকে তুলে দেখ সে মাছটা মারা যাইব। তো নেয়ামত কোনটা না? কোনটা নেয়ামত না? সবই তো নেয়ামত। অসংখ্য অগণিত নেয়ামতের মধ্যে মানুষ আছে। এই যে 'ওয়া ইন তা'উদ্দূ নি'মাতাল্লাহি লা তুহসূহা' নেয়ামত গণনা করে শেষ করতে পারবা না। এটা গণনা করা সম্ভব না, কোনোদিন সম্ভব না। অনেক নেয়ামত।
কাজেই অনেক কিছু দিছেন আল্লাহ পাক, ইস্তেগফার তওবা করতে হবে আর সুন্নত পালন... কোনো কথা চলবে না। কুরআন শরীফ সুন্নাহ শরীফ কোনো কথা চলবে না। যে কথা বলবে সে কাফের হবে। এখানে তাকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে। না পারলে সে তওবা করুক ইস্তেগফার করুক। পারলে শোকরগুজারি করুক। আর না পারলে সে আরও ইস্তেগফার তওবা করে আর্জি করুক দোয়া করুক। কিন্তু কথা বলার কোনো সুযোগ নাই। কারো কোনো বান্দার কথা বলার কোনো... বললে সে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। বেয়াদব। বেয়াদব মাহরূম, বেয়াদব আল্লাহ পাকের রহমত থেকে বঞ্চিত। কথা বলার কোনো সুযোগ নাই। এখন বলুক আমরা পারিনা, হ্যাঁ ঠিক আছে স্বীকার করুক। তাহলেই আল্লাহ পাক খুশি হবেন, তুই পারস না ঠিক আছে, তুই কমজোর তুই তওবা কর, কোশেশ কর। ব্যাস হয়ে গেলো। প্রয়োজন নাই এটা সে কখনোই বলতে পারবে না।