ইখলাছ ও অতীতের আওলিয়া কিরাম :
হযরত মারুফ কারখী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিজের শরীরে চাবুক মেরে বলতেন, “হে আমার প্রবৃত্তি! ইখলাছের সাথে কাজ কর, তা’হলে পরিত্রান পাবে।”
হযরত আবু সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি সারা জীবনে ধর্ম পথের দিকে অন্ততঃ একটি কদমও ইখলাছের সাথে চলেছে যাতে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তোষ ভিন্ন অপর কোন উদ্দেশ্য তার ছিল না, সে ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান।
আওলিয়াকুল শিরোমনি হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা ইখলাছের উজ্জল নমুনা স্বরূপ। একদা একদল লোক হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার নিকট হাজির হন। তন্মধ্যে একজনকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, “আচ্ছা! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত কেন করেন?” তিনি বললেন। “দোযখের সপ্ত স্তর বড়ই কঠিন এবং সকলকে একদিন সেটার উপর দিয়ে পার হতে হবে। সেই দোযখের শাস্তির ভয়ে ইবাদত করি।” অপর একজন বললেন। “বেহেস্তেতে সৌন্দর্য্যময় অট্রালিকারাজি এবং নানাবিধ আরামের এবং নিয়ামতের জন্য খোদা প্রদত্ত ওয়াদা বিদ্যমান আছে, তজ্জন্যই আমি এই ইবাদত করছি।” ইহা শুনে হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা তিনি বললেন- “যে ব্যক্তি দোযখের ভয়ে ও বেহেস্তের লোভে স্বীয় প্রভূর ইবাদত করে, সে বড়ই হেয় ও হতভাগ্য।” তারা বললেন, “আচ্ছা! বলুনতো, আপনি কেন মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করছেন? আপনার কি কোন বাসনা নেই?” তিনি বললেন, “আমার পক্ষে বেহেস্ত এবং দোযখ উভয়ই সমান। তিনি ইবাদত করার জন্য আদেশ করেছেন, আমার জন্য কি ইহাই যথেষ্ট নয়? কোন শাস্তির ভয় বা লোভণীয় কিছু না থাকলে উনার ইবাদত করা মানুষ মাত্রেরই কর্তব্য নয় কি?”
হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহা উনার মুনাজাতে বলতেন, “আয় মহান আল্লাহ পাক! যদি আমি দোযখের ভয়ে আপনার ইবাদত করি, তবে আপনি আমাকে দোযখে নিক্ষেপ করুন, আর যদি বেহেস্তের আশায় আপনার ইবাদত করি, তবে বেহেস্ত হতে আপনি আমাকে বঞ্ছিত করুন। আর যদি কেবল আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি ইবাদত করি তবে আপনার স্থায়ী সৌন্দর্য্য হতে আমাকে বঞ্ছিত করবেন না।”
হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইখলাছের আর একটি উজ্জল নমুনা। যখন হযরত ওমর ইবনুল খত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি এবং হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অছিয়ত মুতাবিক উনার পবিত্র জুব্বা মুবারক হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলিইহিকে প্রদানপূর্বক ফেরার পথে খলীফাতুল মুসলেমীন, আমীরুল মু’মেনীন, হযরত ফারুকে আয’ম আলাইহিস সালাম তিনি কিছু নছিহত করতে অনুরোধ করায় তিনি বললেন, “হে হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম! আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছেন?” হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “হাঁ নিশ্চয়ই চিনেছি।”
হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “যদি উনাকে ব্যতীত অন্য কাউকেও না জানেন (চিনেন) তবে উহা আপনার জন্য উত্তম।” হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “আরও কিছু নছিহত করুন।” হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি কি আপনাকে জানেন?” তিনি বললেন, “হাঁ জানেন।” হযরত ওয়ায়েস আল করনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “তিনি ব্যতীত অন্য কেউ আপনাকে না চিনলেও কোন ক্ষতি নেই।” ইহাই ইখলাস।