পৃথিবীটা কি আসলে ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসরা চালায়, নাকি এরা কেবল স্টেজে সাজানো পুতুল মাত্র, যাদের আসল সুতো বাঁধা আছে পর্দার আড়ালের কোনো এক অদৃশ্য হাতে?

আজ আমার মনিটরিং স্টেশনে বসে ENDEVR এর 'দ্য নিউ আমেরিকান অলিগার্কস' ডকুমেন্টারিটা দেখছিলাম আর আমার মস্তিষ্কের নিউরাল নেটওয়ার্কে বারবার একটা প্যাটার্ন হিট করছিল, যা সাধারণ দর্শকদের চোখ এড়িয়ে যায়। ভিডিওটা বাহ্যিকভাবে আমেরিকার টাইকুনদের উত্থান পতন এবং তাদের বিলিয়ন ডলার এম্পায়ার তৈরির গল্প বলছে বটে, কিন্তু আমার এনালিস্ট সত্তা সেখানে খুঁজে পেয়েছে, এক গভীর ডার্ক সাইকোলজির খেলা।

আমি যখন এই আর্টিকেলটা লিখছি তখন আমার উদ্দেশ্য আপনাকে শুধু তথাকথিত সাকসেস স্টোরি শোনানো নয়, বরং সেই মেকানিজমটা ডিকোড করা যা দিয়ে গুটিকয়েক মানুষ বাকি ৮০০ কোটি মানুষকে অদৃশ্য শিকলে বেঁধে রেখেছে।

আমরা প্রায়ই ভাবি মানি ইজ পাওয়ার। কিন্তু ডাটা বলছে, মানি ইজ জাস্ট এ টুল। আসল পাওয়ার হলো, কন্ট্রোল এবং ডমিনেন্স। আজ আমরা সেই লেয়ারগুলোই উন্মোচন করব যা আপনাকে বিজনেস স্কুল বা কোনো মোটিভেশনাল স্পিকার শেখাবে না।

আমরা শুরু করব রিস্ক টেকিং এবং অবসেশন দিয়ে, যা ভিডিওতে বারবার টাইকুনদের প্রধান গুণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ইলন মাস্ক বা জেফ বেজোসদের আমরা দেখি অসম্ভব ঝুঁকি নিতে। মাস্ক তার শেষ সম্বল টেসলা আর স্পেসএক্সে ঢেলে দিয়েছিলেন।বেজোস ওয়াল স্ট্রিটের নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে গ্যারেজে বই বিক্রি শুরু করেছিলেন।
সাধারণ চোখে এটা সাহসিকতা। কিন্তু ডার্ক সাইকোলজির ভাষায় একে বলা হয়, ক্যালকু্লেটেড প্যাথলজিক্যাল অবসেশন।

একজন সাধারণ মানুষ যখন নিরাপত্তার কথা ভাবে, একজন ডমিনেন্ট টাইকুন তখন ভাবে টোটাল মনোপলির কথা। লক্ষ্য করবেন, এরা কেউ ছোটখাটো মার্কেট শেয়ার চায়নি।
রকফেলার চেয়েছিলেন তেলের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য, গেটস চেয়েছিলেন প্রতিটি ডেস্কে উইন্ডোজ, আর জাকারবার্গ চেয়েছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ডাটা।

এই যে টোটাল ডমিনেন্সের আকাঙ্ক্ষা, এটা সুস্থ স্বাভাবিক মস্তিষ্কের কাজ নয়। এটা হলো পাওয়ারের প্রতি এক ধরনের আসক্তি যা তাদের সাধারণ মানুষের ইমোশন বা ভয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। ভিডিওতে মাস্কের ছোটবেলার ট্রমা বা বুলিং এর কথা বলা হয়েছে, যা তার ইগো বা জেদ তৈরি করেছে।

ডার্ক সাইকোলজি বলে, চরম অপমান বা ট্রমা থেকে ফিরে আসা মানুষরাই সবচেয়ে ভয়ংকর ডমিনেন্ট লিডার হয়। কারণ তাদের কাছে জেতাটা সুখের বিষয় নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তারা যখন বিজনেস করে তখন তারা আসলে যুদ্ধ করে। আর এই যুদ্ধে তাদের প্রধান অস্ত্র হলো: আমাদের মনোযোগ এবং ডাটা।

কিন্তু এখানে একটা বিশাল বড় প্রশ্ন থেকে যায় যা ভিডিওটি খুব সন্তর্পণে এড়িয়ে গেছে বা হয়তো সাধারণের জন্য উহ্য রেখেছে।

এই যে আমরা মাস্ক বেজোস বা গেটসকে দেখি, এরা কি আসলেই সবকিছুর মালিক? নাকি এরা সেই ফ্রন্টম্যান যাদের সামনে রেখে আসল খেলাটা খেলে ব্ল্যাক রক, ভ্যানগার্ড বা রকফেলার আর রথচাইল্ড পরিবারের লিগ্যাসি?

ভিডিওতে রকফেলারের স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের মনোপলি ভাঙ্গার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তার লিগ্যাসি কি আসলেই শেষ হয়ে গেছে? নাকি তা রূপ বদলেছে মাত্র? আমার এনালাইসিস বলছে, আজকের টেক জায়ান্টরা আসলে মডার্ন ডে রকফেলার।

কিন্তু তাদের কন্ট্রোল মেকানিজমটা আরও জটিল।

আজকের দিনে একটা কোম্পানি পাবলিক হলে তার শেয়ারের বড় অংশই থাকে বিশাল সব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্মের হাতে। ইলন মাস্ক টুইটার কিনলে হইচই হয়, কিন্তু টুইটারের পেছনের ইনভেস্টর কারা বা টেসলার মেজর শেয়ারহোল্ডার কারা তা নিয়ে মিডিয়া চুপ থাকে।

এখানেই পাপেট মাস্টার থিওরি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। হতে পারে এই তথাকথিত টাইকুনরা একেকজন হাই পারফর্মিং সিইও মাত্র, যাদের কাজ হলো সিস্টেমটাকে সচল রাখা এবং পাবলিকের ঘৃণা বা ভালোবাসা শুষে নেওয়া। আসল পাওয়ার ব্রোকাররা কখনোই ফোর্বসের লিস্টে এক নম্বরে আসে না। তারা থাকে ছায়ার আড়ালে। কারণ তারা জানে, ভিজিবিলিটি ইজ লায়াবিলিটি। সত্যিকারের ক্ষমতা হলো অদৃশ্য থাকা।

ভিডিওতে কোক ব্রাদার্সের পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্সের কথা বলা হয়েছে। তারা শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ করে তাদের পছন্দের পলিসি পাস করিয়ে নেয়। এটা কি ডেমোক্রেসি নাকি প্লুটোক্রেসি?

যখন টাকার জোরে আইন বদলানো যায় তখন বুঝতে হবে, আমরা যে ফ্রি মার্কেটের স্বপ্ন দেখি তা আসলে একটা ইলিউশন। এই ইলিউশনটা টিকিয়ে রাখা জরুরি, কারণ মানুষ যদি বোঝে যে গেমটা রিগড, তাহলে তারা খেলা বন্ধ করে দেবে। আর এখানেই আসে আমেরিকান ড্রিমের কনসেপ্ট। স্যাম ওয়ালটনের ওয়ালমার্ট বা বেজোসের অ্যামাজনের উত্থানকে দেখানো হয় অনুপ্রেরণা হিসেবে।

বলা হয় তুমিও যদি পরিশ্রম করো তুমিও হতে পারবে।

কিন্তু ডাটা বলছে, এই নড়বড়ে সিঁড়িটা বেয়ে উপরে ওঠার সুযোগ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। ভিডিওর শেষের দিকে ওয়েলথ গ্যাপ বা অসমতা নিয়ে কথা বলা হয়েছে যা দিন দিন বাড়ছে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটা সিস্টেমের ফিচার। সিস্টেমটা এমনভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে সম্পদ নিচ থেকে উপরে ফানেল হয়ে যায়।

রেগনমিক্স বা ট্রিকল ডাউন ইকোনমির নামে যে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে তা আসলে কর্পোরেটদের ট্যাক্স কমিয়ে তাদের আরও শক্তিশালী করার ব্লুপ্রিন্ট ছিল। এর ফলে আজ একজন টাইকুন যখন বিলিয়ন ডলার ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, তখন সেটাকে বলা হয় স্মার্ট বিজনেস। আর সাধারণ মানুষ এক টাকা কম দিলে তাকে জেলে যেতে হয়। এটা হলো ডমিনেন্সের চূড়ান্ত রূপ যেখানে নিয়ম তৈরি হয় রুলারদের স্বার্থে।

এখন আসুন সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডাটা কন্ট্রোলের ডার্ক সাইকোলজিতে ফোকাস করি। ভিডিওতে জাকারবার্গের মেটার বা ফেসবুকের কথা এসেছে। বলা হয়েছে তারা কানেক্টিভিটির মিশনে নেমেছিল। কিন্তু আমার গভীর পর্যবেক্ষণ বলছে তাদের আসল প্রোডাক্ট কানেকশন নয়, তাদের আসল প্রোডাক্ট হলো প্রেডিকশন। আমাদের বিহেভিয়ার ম্যানিপুলেট করা।

জাকারবার্গ যখন কংগ্রেসে ক্ষমা চান, তখন সেটা একটা নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। তারা জানে তাদের অ্যালগরিদম পোলারাইজেশন বা ঘৃণা ছড়ায়, কিন্তু তারা সেটা বন্ধ করবে না, কারণ ঘৃণা এনগেজমেন্ট বাড়ায়, আর এনগেজমেন্ট মানেই প্রফিট। এখানে আমরা দেখতে পাই ডার্ক সাইকোলজির আরেকটা দিক যা হলো, মাস ম্যানিপুলেশন।
মানুষকে যদি সারাদিন ছোট ছোট ডোপামিন হিটের মধ্যে রাখা যায় তবে তারা কখনোই বড় চিত্রটা দেখতে পাবে না।

কিম কার্দাশিয়ানের মতো ইনফ্লুয়েন্সাররা এই ইকোসিস্টেমের পারফেক্ট পণ্য। তারা আমাদের শেখায় কিভাবে কনজিউমার হতে হয়, কিভাবে নিজের ভ্যালু নির্ধারণ করতে হয়, লাইক আর ফলোয়ার দিয়ে। এটা একটা বিশাল ডিস্ট্রাকশন মেশিন, যা আমাদের আসল সমস্যাগুলো থেকে চোখ সরিয়ে রাখে।

যখন আমরা কার্দাশিয়ানের নতুন ব্র্যান্ড বা মাস্কের নতুন টুইট নিয়ে ব্যস্ত থাকি, তখন পর্দার আড়ালে হয়তো কোনো পলিসি পাস হয়ে যায়, যা আমাদের প্রাইভেসি বা স্বাধীনতা হরণ করে।

এখানেই টেকনোলজি এবং AI-এর ভূমিকা চলে আসে।

অনেকেই এআই বা অটোমেশনকে ভয় পায়। ভাবে এটা আমাদের চাকরি খেয়ে ফেলবে বা আমাদের কন্ট্রোল করবে। কিন্তু আমি বলি, ভয় পাওয়ার কিছু নেই যদি আপনি ড্রাইভিং সিটে থাকেন। আজকের টাইকুনরা টেকনোলজিকে ব্যবহার করেছে লিভারেজ হিসেবে।

বিল গেটস কোড জানতেন বলে, তিনি আইবিএম এর মতো জায়ান্টকে টেক্কা দিতে পেরেছিলেন। বেজোস ইন্টারনেটের গ্রোথ রেট দেখে বুঝতে পেরেছিলেন, ফিউচার কোথায়। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি, এআই রেভোলিউশনের সামনে।

এই টুলটা এখন আর শুধু তাদের হাতে নেই, এটা আমাদের হাতেও আছে। আমার মতে এআই হলো সেই চাবি যা দিয়ে আমরা এই ম্যাট্রিক্সের দেয়াল ভাঙতে পারি। ওরা যদি এআই ব্যবহার করে আমাদের ডাটা এনালাইজ করে, আমাদের কন্ট্রোল করতে পারে, তবে আমরা কেন এআই ব্যবহার করে তাদের স্ট্র্যাটেজি ডিকোড করব না?

আমি আমার কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বা ডাটা এনালাইসিসে এআই ব্যবহার করি আমার প্রোডাক্টিভিটি হাজার গুণ বাড়ানোর জন্য। এটা আমাকে সেই লেভেলের ইনসাইট দেয় যা আগে শুধু বড় বড় কর্পোরেশনের কাছে ছিল। তাই এআইকে ভিলেন ভাবার কোনো কারণ নেই। আসল ভিলেন হলো অজ্ঞতা।

আপনি যদি টেকনোলজিকে নিজের দাস বানাতে না পারেন তবে টেকনোলজি আপনাকে দাস বানাবে। চয়েস আপনার।

ভিডিওতে একটা ইন্টারেস্টিং পয়েন্ট ছিল, পিটার থিলের অমর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা মাস্কের মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। এটাকে অনেকে পাগলামি বলতে পারে। কিন্তু আমি দেখি গড কমপ্লেক্স হিসেবে। যখন একজন মানুষের হাতে এত টাকা আর ক্ষমতা চলে আসে যে, পৃথিবীর নিয়মকানুন তাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়, তখন তারা নিজেদের ঈশ্বরের আসনে বসাতে চায়। তারা মৃত্যুকেও জয় করতে চায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো তারা কি পৃথিবীকে বাঁচানোর জন্য মঙ্গলে যেতে চায়, নাকি পৃথিবীকে চুষে ছিবড়ে করে ফেলার পর পালানোর রাস্তা খুঁজছে? তাদের এই ভিশনগুলো কি সত্যিই মানবকল্যাণে নাকি নিজেদের ইগো স্যাটিসফাই করার জন্য?

আমার মনে হয় এদের এই ফিউচারিস্টিক প্রজেক্টগুলো এক ধরনের এস্কেপ প্ল্যান। তারা জানে বর্তমান সিস্টেমটা আনসাসটেইনেবল। রিসোর্স শেষ হয়ে আসছে, ক্লাইমেট ক্রাইসিস বাড়ছে। তাই তারা সাধারণ মানুষকে মিথ্যে আশার বেলুন দেখিয়ে নিজেদের জন্য লাইফবোট তৈরি করছে। কিন্তু আমরা যারা এনালিস্ট আমরা এই ধোঁকায় পা দেব না। আমরা ফোকাস করব বর্তমানে এই মুহূর্তে আমাদের হাতে কি কন্ট্রোল আছে তার ওপর।

তাহলে এই পাপেট মাস্টারদের দুনিয়ায় আমাদের অবস্থান কোথায়? আমরা কি শুধুই দর্শক? একদমই না। আমি বিশ্বাস করি, নলেজ ইজ দ্য গ্রেট ইকুলাইজার। ওরা চায় আমরা ভয়ে থাকি, আমরা কনজিউমার হয়ে থাকি। কিন্তু আমরা যখন তাদের গেমটা বুঝে ফেলি, তখন আমরা আর তাদের খেলার গুটি থাকি না।

আমি যখন এই ভিডিওগুলো মনিটর করি, তখন আমি দেখি তারা কোথায় ইনভেস্ট করছে, তারা কোন ন্যারেটিভটা পুশ করছে।

যেমন ভিডিওতে বলা হয়েছে, ওয়ারেন বাফেট ভ্যালু ইনভেস্টমেন্ট করেন এবং তিনি জানেন কোন সেক্টর গ্রো করবে। তার মানে মার্কেট র‍্যান্ডম নয়, মার্কেট প্রেডিক্টেবল। যদি আপনি সঠিক ডাটা দেখতে পান। আমাদের কাজ হলো সেই সিগন্যালগুলো ধরা। তারা যদি রিয়েল এস্টেট বা এআইতে মুভ করে আমাদেরও বুঝতে হবে, স্রোত কোনদিকে যাচ্ছে। অন্ধের মতো তাদের ফলো করা নয় বরং তাদের মুভমেন্ট এনালাইজ করে নিজের স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা।

আজকের এই কর্পোরেট পলিটিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ারের যুগে নিজেকে একজন ইনোসেন্ট বািকটিম ভাবাটা বোকামি। আপনাকে হতে হবে একজন রুথলেস এনালিস্ট। আপনাকে বুঝতে হবে ইমোশন দিয়ে বিজনেস হয় না। বিল গেটস যখন মাইক্রোসফট চালাতেন তখন তাকে বলা হতো ডেথ স্টার। তিনি তার প্রতিযোগীদের ধ্বংস করে দিতেন।

এটা শুনতে খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু এটাই ক্যাপিটালিজমের নগ্ন সত্য। কারণ আপনি যদি শার্ক ট্যাঙ্কে নেমে গোল্ডফিশের মতো আচরণ করেন তবে আপনাকে খেয়ে ফেলা হবে। তাই আমি সর্বদা বলি নিজের স্কিলসেট বাড়ান। ডার্ক সাইকোলজি শিখুন কাউকে ম্যানিপুলেট করার জন্য নয় বরং কেউ যেন আপনাকে ম্যানিপুলেট করতে না পারে সেটা বোঝার জন্য। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, নেগোসিয়েশন এবং পাওয়ার ডাইনামিক্স বোঝাটা এখন আর লাক্সারি নয় এটা সারভাইভাল স্কিল।

আমরা দেখেছি ওয়ালমার্ট কিভাবে ছোট ছোট শহরের লোকাল বিজনেস ধ্বংস করে দিয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটা লেসন। সেন্ট্রালাইজড পাওয়ারের বিরুদ্ধে ফাইট করা কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়।

ডিসেন্ট্রালাইজেশন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং ব্লকচেইন টেকনোলজি হয়তো ভবিষ্যতে এই সেন্ট্রালাইজড পাওয়ারের বিরুদ্ধে আমাদের হাতিয়ার হতে পারে। যদিও ভিডিওতে এ নিয়ে বলা হয়নি, কিন্তু একজন ফিউচারিস্টিক থিঙ্কার হিসেবে আমি দেখতে পাচ্ছি, পাওয়ার শিফট হচ্ছে।

এতদিন ইনফরমেশন ছিল গেটকিপারদের হাতে, এখন ইনফরমেশন ওপেন। এই ওপেন ইনফরমেশনকে প্রসেস করার ক্ষমতা যার আছে, সেই আগামী দিনের টাইকুন। তবে সেই টাইকুন হতে হবে ভিন্ন। তাকে হতে হবে কনশাস। তাকে বুঝতে হবে পাওয়ারের সাথে রেসপন্সিবিলিটিও আসে। আমরা যদি পুরনো টাইকুনদের মতোই লোভী হয়ে উঠি, তবে আমরা শুধু শোষকের মুখ বদল করলাম, সিস্টেম বদলালাম না।

পরিশেষে একটা কথা খুব স্পষ্টভাবে বলতে চাই।

এই যে রকফেলার থেকে জাকারবার্গ পর্যন্ত আমরা যাদের গল্প শুনলাম, তারা কেউ এক্সট্রা অর্ডিনারি এলিয়েন ছিল না। তারা ছিল মানুষের সাইকোলজি এবং মার্কেটের গ্যাপ বোঝার ওস্তাদ। তারা জানত, মানুষ কি চায় বা মানুষকে দিয়ে কি চাওয়ানো সম্ভব। তারা রিস্ক নিয়েছে, তারা নিয়ম ভেঙেছে এবং নিজেদের নিয়ম তৈরি করেছে।

আপনি আমি হয়তো এখনই বিলিয়নেয়ার হবো না, কিন্তু আমরা আমাদের নিজেদের জীবনের সিইও হতে পারি। আমরা আমাদের সময় এবং এটেনশনকে কোথায় ইনভেস্ট করছি তা কন্ট্রোল করতে পারি। এই যে আপনি এতক্ষণ ধরে এই আর্টিকেলটা পড়লেন এটা প্রমাণ করে, আপনি সাধারণের ভিড়ে মিশে যেতে চান না। আপনি সত্যটা জানতে চান। আপনি পর্দার আড়ালের সুতোটা দেখতে চান।

এই মনিটরিং জার্নিতে আমি আপনাদের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করছি। আমি প্রতিটা ভিডিও, প্রতিটা মুভমেন্ট এনালাইজ করছি, যাতে আপনারা সেই ইনসাইট পান, যা আপনাদের এক ধাপ এগিয়ে রাখবে।

মনে রাখবেন দুনিয়াটা তাদেরই যারা সাহসী। যারা প্রশ্ন করতে জানে এবং যারা উত্তরের জন্য গভীরে যেতে প্রস্তুত। আমরা সারফেস লেভেলে ভাসব না, আমরা ডুব দেব গভীরে, যেখানে আসল রত্নগুলো লুকানো আছে। পাপেট মাস্টাররা শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু আমরা যদি তাদের খেলার নিয়ম জেনে যাই, তবে আমরাও আর পুতুল থাকব না। আমরা হব সেই গেম চেঞ্জার যাদের জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না।

আমার এই এনালাইসিস যদি আপনার চিন্তার জানালায় নতুন কোনো দৃশ্য খুলে দিয়ে থাকে তবে চুপ করে থাকবেন না। নলেজ শেয়ার করলে বাড়ে, পাওয়ার শেয়ার করলে কমে না, বরং মাল্টিপ্লাই হয়।

আপনি কি মনে করেন? ইলন মাস্ক বা জাকারবার্গরা কি স্বাধীন নাকি তারাও কোনো বড় গেমের ছোট ঘুঁটি? আপনার মতামত আমাকে জানান। কারণ আপনাদের পার্সপেক্টিভ আমাকে আরও শার্প হতে সাহায্য করে। আমরা একসাথে এই লুপহোলগুলো ডিকোড করব এবং নিজেদের জন্য একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করব। আজকের মতো আমার মনিটরিং শেষ করছি, কিন্তু চোখ খোলা থাকছে। কারণ গেম কখনো থামে না।

এই আর্টিকেলটা যদি আপনার ব্রেইনের নিউরনে ঝড় তুলে থাকে তবে এখনই নিজের পরবর্তী মুভ নিয়ে ভাবুন। আপনি কি কনজিউমার হয়েই থাকবেন নাকি ক্রিয়েটর এবং কন্ট্রোলার হবেন? আমাদের জার্নি মাত্র শুরু হলো। সাথে থাকুন, কারণ সামনে আরও গভীর এবং ডার্ক সিক্রেট আমরা আনলক করতে যাচ্ছি। লেটস ডমিনেট দ্য ফিউচার।
সবাইকে বলছি না, শুধু যারা পুরো আর্টিকেলটা পড়েছেন, তারা প্লিস অবশ্যই অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আমি দেখতে চাই, কে কে পড়েছেন।
লেখা সংগ্রহ