তাবেঈদের যুগে প্রতি জুমার রাতে সমবেত হয়ে কেবল দরুদ জপের মজলিস জমানোর ঐতিহাসিক দলিল
উৎস কিতাব: ইমাম আবু বকর বিন আবি আসিম (র.) [মৃত্যু: ২৮৭ হিজরি] রচিত দরুদ শরীফের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক সংকলন আস-সালাতু আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم), হাদিস নং- ৮২।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى (تَابِعِيٌّ كَبِيرٌ) قَالَ: كَانُوا يَجْتَمِعُونَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَلَا يَكُونُ لَهُمْ شُغْلٌ إِلَّا الصَّلَاةُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى يُصْبِحُوا.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবদির রাহমানি ব্নি আবী লাইলা ক্বালা: কানূ ইয়াজতামিঊনা লাইলাতাল জুমুআতি ফালা ইয়াকূনু লাহুম শুগলুন ইল্লাছ ছালাতু আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা হাত্তা ইয়ুছবিহূ।
হুবহু অনুবাদ:
"প্রখ্যাত জ্যেষ্ঠ তাবেয়ী আব্দুর রহমান ইবনু আবী লায়লা (র.) থেকে বর্ণিত ঐতিহাসিক আমল, তিনি বলেন: তারা (সাহাবা ও তাবেঈগণ) জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে) সমবেত হতেন বা মজলিস করতেন; অতঃপর ভোর হওয়া পর্যন্ত নবীজী ﷺ-এর প্রতি সুনির্দিষ্টভাবে দরুদ (সালাত) পাঠ করা ছাড়া তাদের আর অন্য কোনো কাজ বা ব্যস্ততা থাকত না।"
২. তাবেঈদের জিকির ও দরুদের মজলিসের জন্য ফেরেশতাদের নূরের খাতা ও কলম নিয়ে আসার ঐতিহাসিক ইবারত
উৎস কিতাব: হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (র.) রচিত বিখ্যাত কিতাব জলাউল আফহাম ফী ফাদলিস সালাতি আলা খাইরিল আনাম (جلاء الأفهام), পৃষ্ঠা- ৩৩৫। islamweb.net
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ مَعَهُمْ أَقْلَامٌ مِنْ ذَهَبٍ وَصُحُفٌ مِنْ نُورٍ، لَا يَكْتُبُونَ إِلَّا الصَّلَاةَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ يُجَالِسُهُمْ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবী হুরাইরাতা ক্বালা: ইন্না লিল্লাহি মালাইকাতান ফিল আরদি মাআহুম আক্বলামুম মিন যাহাবিঁও ওয়া ছুহুফুম মিন নূরিঁ, লা ইয়াকতুবূনা ইল্লাছ ছালাতা আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ওয়া মাঁও ইয়ু জ্বালিসুহুম।
হুবহু অনুবাদ:
"হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই জমিনে আল্লাহর এমন কিছু ভ্রাম্যমাণ ফেরেশতা রয়েছেন যাদের কাছে স্বর্ণের কলম এবং নূরের খাতা থাকে। তারা কেবল নবীজী ﷺ-এর প্রতি সমবেত দরুদ পাঠ এবং যারা তাদের সাথে দরুদের মজলিসে বসে, তাদের নাম ছাড়া আর কিছুই লেখেন না islamweb.net।"
৩. মদিনার মজলিসে নির্দিষ্ট সংখ্যায় ১০০ বার দরুদ পাঠের ঐতিহাসিক ইবারত
উৎস কিতাব: হাফেজ আবু বকর আল-বাইহাকী (র.) [মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরি] রচিত বিখ্যাত হাদিস ও ইতিহাস সংকলন শুআবুল ঈমান (شعب الإيمان), খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১১১।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كُنَّا نَقْعَدُ حِلَقًا فِي الْمَسْجِدِ، فَلَا نَقُومُ حَتَّى نُصَلِّيَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ مَرَّةٍ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আবী সাঈদিনিল খুদরিয়্যি ক্বালা: কুন্না নাক্বউদু হিলক্বান ফিল মাসজিদি, ফালা নাক্বূমু হাত্তা নুসল্লিয়া আলান নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিআতা মাররাহ।
হুবহু অনুবাদ:
"সাহাবি হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত ঐতিহাসিক রূপরেখা, তিনি বলেন: আমরা মদিনার মসজিদে বৃত্তাকারে হালকাহ বা মজলিস করে বসতাম; অতঃপর আমরা নবীজী ﷺ-এর ওপর সুনির্দিষ্ট সংখ্যায় একশত বার দরুদ পাঠ শেষ না করে মজলিস থেকে উঠতাম না।"
৪. তাবেঈ জুরহাদ ও ওলামাদের জিকির-দরুদের মজলিসকে জান্নাতের বাগান ঘোষণার ঐতিহাসিক ইবারত
উৎস কিতাব: সূনান তিরমিযী (سنن الترمذي), কিতাবুদ দাওয়াত, হাদিস নং- ৩৫০১ (ইমাম তিরমিযী একে حسن غريب বা হাসান গরীব বলেছেন)।
العِبارَةُ الحَرْفِيَّةُ (হুবহু আরবি):
«عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا مَرَرْتُمْ بِرِيَاضِ الْجَنَّةِ فَارْتَعُوا قَالُوا: وَمَا رِيَاضُ الْجَنَّةِ؟ قَالَ: حِلَقُ الذِّكْرِ.»
হুবহু বাংলা উচ্চারণ:
আন আনাসি ব্নি মালিকিন আন্না রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা ক্বালা: ইযা মারারতুম বিরিয়াদিল জান্নাতি ফারতাঊ ক্বালূ: ওয়া মা রিয়াদুল জান্নাহ? ক্বালা: হিলক্বুয যিকর।
হুবহু অনুবাদ:
"হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন: তোমরা যখন জান্নাতের বাগানগুলোর পাশ দিয়ে যাবে, তখন সেখান থেকে ফল আহার করবে (তথা শামিল হবে)। উপস্থিত সাহাবিরা আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! জান্নাতের বাগানগুলো কী কী? নবীজী ﷺ বললেন: জিকির ও দরুদের বৃত্তাকার মজলিসসমূহ (حلق الذكر - হালকাহ)।"