নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ থেকে দলীল
(১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْـنًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত দুনিয়া ও আখিরাতে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
(২)
মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِـيْمٌ
অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
(৩)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
مَلْعُوْنِـيْـنَ اَيْــنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُـتِّلُوْا تَـقْتِـيْلًا
অর্থ: “তারা চরম মাল‘ঊন। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই পাকড়াও করে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
(৪)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحَآدُّوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ كُبِتُـوْا كَمَا كُبِتَ الَّذِيْنَ مِنْ قَـبْـلِهِمْ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিরোধীতা করে, তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়া হবে, যেভাবে তাদের পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিলো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুজাদালাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
(৫)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحَآدُّوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗۤ اُولٰٓئِكَ فِـى الْاَذَلِّـيْـنَ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তারা লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মুজাদালাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২০)
(৬)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّـمَا جَزٰٓءُ الَّذِيْنَ يُـحَارِبُـوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ وَيَسْعَوْنَ فِـى الْاَرْضِ فَسَادًا اَنْ يُّــقَتَّـلُوْاۤ اَوْ يُصَلَّـبُـوْاۤ اَوْ تُـقَطَّعَ اَيْـدِيْهِمْ وَاَرْجُلُهُمْ مِّنْ خِلَافٍ اَوْ يُـنْـفَوْا مِنَ الْاَرْضِ ذٰلِكَ لَـهُمْ خِزْىٌ فِـى الدُّنْـيَا وَلَـهُمْ فِـى الْاٰخِرَةِ عَذَابٌ عَظِـيْمٌ
অর্থ: “যারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে, উনাদের বিরোধীতা করে এবং যমীনে ফেতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে- তাদেরকে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা তাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে, (যমীন থেকে মিটিয়ে দিয়ে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেয়া হবে)। এটি হলো তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা। আর (জাহান্নামে যাওয়ার পর) পরকালে তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত কঠোর শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মায়িদাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩)
(৭)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُـؤْمِنُوْنَ حَتّٰـى يُـحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَـيْـنَـهُمْ ثُـمَّ لَا يَـجِدُوْا فِـىْ اَنْـفُسِهِمْ حَرَجًا مِّـمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِـيْمًا
অর্থ: “আপনার রব তা‘য়ালা মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম, তারা কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আপনাকে তাদের সমস্ত বিষয়ে ফায়ছালাকারী হিসেবে মেনে না নিবে। অতঃপর তারা আপনার সম্মানিত ফায়ছালা মুবারক উনাকে বীনা চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বালে অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে মেনে না নিবে।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৫)
(৮)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اَلَـمْ تَـرَ اِلَـى الَّذِيْنَ يَـزْعُمُوْنَ اَنَّـهُمْ اٰمَنُـوْا بِـمَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكَ وَمَاۤ اُنْزِلَ مِنْ قَـبْلِكَ يُرِيْدُوْنَ اَنْ يَّــتَحَاكَمُوْاۤ اِلَـى الطَّاغُوْتِ وَقَدْ اُمِرُوْآ اَنْ يَّكْفُرُوْا بِهٖ وَيُرِيْدُ الشَّيْطٰنُ اَنْ يُّضِلَّهُمْ ضَلٰلًا بَعِيْدًا
অর্থ: “আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, আপনার প্রতি যা নাযিল হয়েছেন তারা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল হয়েছেন তার উপরও তারা ঈমান এনেছে। আর একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে তারা তাগূত তথা শয়তান ও তার অনুসারী ইহুদী-নাছারা, কাফির-মুশরিকদের নিকট যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা তাকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে সুদূর বিভ্রান্তিতে বিভ্রান্ত করতে চায়।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নিসা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬০)
(৯)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ شَانِـئَكَ هُوَ الْاَبْـتَـرُ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আপনার যারা শত্রু রয়েছে, তারা নির্বংশ এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩)
(১০)
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
تَــبَّتْ يَدَاۤ اَبِـىْ لَـهَبٍ وَّتَبَّ. مَاۤ اَغْنٰـى عَنْهُ مَالُهٗ وَمَا كَسَبَ. سَيَصْلـٰى نَارًا ذَاتَ لَـهَبٍ. وَّامْرَاَتُهٗ حَـمَّالَةَ الْـحَطَبِ. فِـىْ جِيْدِهَا حَبْلٌ مِّنْ مَّسَدٍ
অর্থ: “আবূ লাহাবের দু’হাত ধ্বংস হলো এবং সে নিজেও ধ্বংস হলো। কোনো কাজে আসবে না বা কোনো ফায়দা দিবে না তার আল-আওলাদ, মাল-সম্পদ যা কিছু সে উপার্জন করেছে। অচিরেই বা অতিশীঘ্রই সে শিখাবিশিষ্ট আগুনে প্রবেশ করবে। এবং তার স্ত্রীও (অতিশিঘ্রই শিখাবিশিষ্ট আগুনে প্রবেশ করবে) যে কাঠ বা লাকড়ি বহনকারিনী। তার গলায় রশি থাকবে যা খেজুর গাছের ছাল-বাকলের দ্বারা তৈরি।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা মাসাদ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১-৫)
১নং সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার তাফসীর বা ব্যাখ্যা:
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْـنًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য অত্যন্ত লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করা এটা অবশ্যই অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের নিকট অত্যন্ত কষ্টের কারণ। আর এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা উনাদেরকে কষ্ট দিবে তাদের উপর দুনিয়া ও পরকালে মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত। দুনিয়াতে তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত অর্থ হচ্ছে দুনিয়ার যমীনে তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
لَعَنَـهُمُ اللهُ} عَذَّبَـهُمُ اللهُ {فِى الدُّنْـيَا} بِالْـقَتْلِ وَالْاِجْلَاءِ
অর্থ: “{তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত} মহান আল্লাহ পাক উনার আযাব {দুনিয়ার যমীনে} মৃত্যুদণ্ড ও উচ্ছেদের মাধ্যমে।” (তাফসীরে ইবনে আব্বাস ৩৫৭ নং পৃষ্ঠা)
আল্লামা হযরত মুক্বাতিল ইবনে সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ১৫০ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
لَعَنَـهُمُ اللهُ فِى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ (يَـعْنِـىْ بِاللَّعْنَةِ فِى الدُّنْـيَا اَلْعَذَابُ وَالْقَتْلُ وَالْـجَلَاءُ وَاَمَّا فِى الْاٰخِرَةِ فَاِنَّ اللهَ يُعَذِّبُـهُمْ بِالنَّارِ
অর্থ: “{তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত দুনিয়া ও পরকালে} অর্থাৎ দুনিয়ার যমীনে লা’নত দ্বারা উদ্দেশ্য আযাব, মৃত্যুদণ্ড এবং উচ্ছেদ। আর পরকালে লা’নত দ্বারা উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই মহান আল্লহ পাক তিনি তাদেরকে জাহান্নামের আগুন দ্বারা শাস্তি প্রদান করবেন।” (তাফসীরে মুক্বাতিল ৩/৫৪)
আল্লামা হযরত ইমাম ইবনে জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৫৯৭) তিনি বলেন,
وَلَعَـنَـهُمْ فِـى الدُّنْـيَا بِالْقَتْلِ وَالْـجَلَاءِ وَفِـى الْاٰخِرَةِ بِالنَّارِ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার যমীনে তাদের উপর লা’নত বর্ষণ করেন- মৃত্যুদণ্ড ও উচ্ছেদের মাধ্যমে আর পরকালে জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে।” (তাফসীরে যাদুল মাসীর ফী ইলমিত তাফসীর ৫/১৪৯)
আল্লামা হযরত আবুল লাইছ সমরকন্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৩৭৩ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
{لَعَنَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا} يَعْنِـىْ عَذَّبَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا بِالْقَتْلِ وَالسَّبْـىِ {وَالْاٰخِرَةِ} بِالنَّارِ
অর্থ: “{দুনিয়ার যমীনে তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত} অর্থাৎ দুনিয়ার যমীনে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড ও বন্দীত্বের মাধ্যমে শাস্তি দিবেন। আর {পরকালে} তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দ্বারা শাস্তি দিবেন।” (তাফসীরে সমরকন্দী শরীফ ৩/৪২০)
আল্লামা কাযী হযরত মুজীরুদ্দীন ইবনে মুহম্মদ ‘উলাইমী মাক্বদিসী হাম্বলী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৯২৭ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন,
لَعَنَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا} بِالْقَتْلِ {وَالْاٰخِرَةِ} بِالنَّارِ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি দুনিয়ার যমীনে তাদের উপর লা’নত বর্ষণ করেন- মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে। আর পরকালে লা’নত বর্ষণ করেন- জাহান্নামের আগুনের মাধ্যমে।” (ফাতহুর রহমান ফী তাফসীরিল কুরআন ৫/৩৮৮)
এই বিষয়টাই মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন যে,
مَلْعُوْنِيْـنَ اَيْـنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُتِّلُوْا تَـقْتِيْلًا
অর্থ: “তারা চরম মাল‘ঊন। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই পাকড়াও করে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
কাজেই, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানী করবে, সেটা সরাসরি হোক বা ইশারা ইঙ্গিতেই হোক- তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যে কোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। শুধু তাই নয়, তাদেরকে শাস্তিস্বরূপ দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। তা শরীয়তের অন্যান্য বিধান অমান্য করার কারণে যেরূপ কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, তার চেয়ে আরো লক্ষ-কোটি গুণ বেশি কঠিনভাবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি দিয়ে হত্যা করতে হবে। তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করতে হবে এবং কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! এটাই হচ্ছে তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একই হুকুম।