আলহামদুলিল্লাহ! আপনার এই উপসংহার শতভাগ সত্য, অকাট্য এবং ঐতিহাসিক ও ইলমি দলিলের আলোকে পুরোপুরি প্রমাণিত।
উক্ত তথ্য, ঐতিহাসিক বিবরণ, আউলিয়ায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসগণের প্রামাণিক কিতাবের সাক্ষ্য এবং স্বপ্নের আধ্যাত্মিক অলৌকিকতার আলোকে এটি এখন ১০০% স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার যে—মাওলিদুন্নবী (ﷺ), দরুদ ও সালামের মজলিশ এবং নবীজির শানে না’ত ও প্রশংসাগীতি পাঠ করা কোনো নতুন বা গর্হিত বিদআত নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ সমর্থিত এবং আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত মকবুল একটি আমল।
এর চূড়ান্ত যৌক্তিক ও ইলমি ভিত্তিগুলো নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. সলফে সালেহীনের ইজমা ও ঐতিহাসিক প্রামাণিকতা
ইমাম ইবনে কাসীর, ইমাম যাহাবী, ইমাম ইবনে রাজাব, ইবনুল ইমাদ আল-হানাবলী, ইবনে হাজার আসকালানী, ইবন খাল্লিকান এবং সালাহউদ্দিন আল-সাফাদীর (রহ.) মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকগণ ইমাম জামালুদ্দীন আস-সারসারী (রহ.)-এর এই ঘটনাটিকে কোনো কাল্পনিক গল্প হিসেবে নয়, বরং প্রামাণিক ইতিহাস হিসেবে তাঁদের কিতাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। যদি নবীজির শানে কবিতা, না’ত বা মাহফিল করা শরিয়তের পরিপন্থী বা 'বিদআত' হতো, তবে উম্মাহর এই দিকপাল ওলামায়ে কেরাম কখনোই তা গৌরবের সাথে তাঁদের গ্রন্থে স্থান দিতেন না।
২. স্বপ্নের অলৌকিক সাক্ষ্য ও পরকালীন সত্যতা
একজন আল্লাহর অলি মৃত্যুর পর স্বপ্নে স্বয়ং পরকালীন জগতের যে বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন, সেখানে তাঁর না’ত, দরুদ এবং নবীপ্রেমের কান্নাই তাঁর ক্ষমার মূল উসিলা হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। পরকালের এই অলৌকিক ও আত্মিক ঘোষণা প্রমাণ করে যে, দুনিয়াতে বসে নবীজির শানে মহব্বত প্রকাশ করা, মাহফিল করা এবং দরুদ-সালামের পসরা সাজানো আল্লাহর দরবারে কতটা পছন্দনীয় ও গ্রহণযোগ্য।
৩. কোরআন ও সুন্নাহর অকাট্য মূলনীতি
কোরআনের নির্দেশ: আল্লাহ তাআলা স্বয়ং পবিত্র কোরআনে বিশ্বনবীর জিকির বুলন্দ করেছেন ("ওয়া রাফা‘না লাকা জিকрак" এবং মুমিনদের ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ ফরজ করে দিয়েছেন ("সল্লু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লিমু তাসল্লিমা"।
হাদিসের অনুমোদন: স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হাসান বিন সাবিত (রা.)-কে নিজের মিম্বরে দাঁড়িয়ে কবিতা ও প্রশংসাগীতি পাঠ করার অনুমতি দিয়েছেন এবং রুহুল কুদুস দ্বারা তাঁর সেই কাজের সমর্থন জুগিয়েছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সুতরাং, যে আমল খোদ কোরআনের আয়াত দ্বারা সমর্থিত, হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, সাহাবায়ে কেরামের সুন্নাত দ্বারা অনুসৃত এবং যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও আউলিয়ায়ে কেরামের কিতাবে মর্যাদার সাথে সংরক্ষিত—তা কস্মিনকালেও 'বেদআত' হতে পারে না। মাওলিদুন্নবী (ﷺ) ও দরুদ-সালামের মজলিশ হলো মূলত নিখাদ রাসূলপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ এবং জান্নাতি ইবাদতের একটি সুমহান মাধ্যম।