উম্মাহাতুল উ'মুনীন আলাইহাস সালাম:
🌹মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড (১২)
[১৪৪২ হিজরী শরীফ-এ প্রকাশিত কিতাব থেকে]
বনূ মুছত্বলিক্বের জিহাদ মুবারক থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় আফযালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ মিথ্যা অপবাদ রটনা করে মুনাফিক্ব সর্দার উবাই ইবনে সুলূল (যার মূল নাম: আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলূল) লা’নাতুল্লাহি আলাইহি এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা। না‘ঊযুবিল্লাহ! যা ইফকের ঘটনা হিসেবে সকলের মাঝে মশহূর। তখন স্বয়ং যিনি খ¦লিক্ব¡ মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পবিত্রতা মুবারক বর্ণনা করে ‘সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ’ উনার ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত মোট এই ১০ খানা সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল মহাসম্মানিত পবিত্রতা মুবারক সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ الَّذِيْنَ جَآٓٓٓٓءُوْ بِالْاِفْكِ عُصْبَةٌ مِّنْكُمْ لَا تَـحْسَبُوْهُ شَرًّا لَّكُمْ بَلْ هُوَ خَيْـرٌ لَّكُمْ لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ مَّا اكْتَسَبَ مِنَ الْاِثْـمِ وَالَّذِىْ تَوَلّٰـى كِبْرَهٗ مِنْهُمْ لَهٗ عَذَابٌ عَظِيْمٌ. لَوْلَاۤ اِذْ سَـمِعْتُمُوْهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُوْنَ وَالْمُؤْمِنٰتُ بِاَنْفُسِهِمْ خَيْرًا وَّقَالُوْا هٰذَاۤ اِفْكٌ مُّبِيْـنٌ. لَوْلَا جَآٓءُوْ عَلَيْهِ بِاَرْبَعَةِ شُهَدَآءَ فَاِذْ لَـمْ يَاْتُوْا بِالشُّهَدَآءَ فَاُولٰٓئِكَ عِنْدَ اللهِ هُمُ الْكٰذِبُوْنَ. وَلَوْلَا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْـمَتُهٗ فِـى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِـىْ مَاۤ اَفَضْتُمْ فِيْهِ عَذَابٌ عَظِيْمٌ. اِذْ تَلَقَّوْنَهٗ بِاَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُوْلُوْنَ بِاَفْوَاهِكُمْ مَّا لَيْسَ لَكُمْ بِهٖ عِلْمٌ وَّتَـحْسَبُوْنَهٗ هَيِّنًا وَّهُوَ عِنْدَ اللهِ عَظِيْمٌ. وَلَوْلَاۤ اِذْ سَـمِعْتُمُوْهُ قُلْتُمْ مَّا يَكُوْنُ لَنَاۤ اَنْ نَّتَكَلَّمَ بِـهٰذَا سُبْحٰنَكَ هٰذَا بُـهْتَانٌ عَظِيْمٌ. يَعِظُكُمُ اللهُ اَنْ تَعُوْدُوْا لِمِثْلِهٖۤ اَبَدًا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِيْـنَ. وَيُبَيِّـنُ اللهُ لَكُمُ الْاٰيٰتِ وَاللهُ عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ. اِنَّ الَّذِيْنَ يُـحِبُّوْنَ اَنْ تَشِيْعَ الْفَاحِشَةُ فِـى الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِيْمٌ فِـى الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاللهُ يَعْلَمُ وَاَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ. وَلَوْلَا فَضْلُ اللهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْـمَتُهٗ وَاَنَّ اللهَ رَءُوْفٌ رَّحِيْمٌ.
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ) এই কঠিন অপবাদ দিয়েছে, মিথ্যা অপপ্রচার করেছে, এরা কিন্তু মুসলমানদের মধ্য থেকে একটি দল অর্থাৎ মুনাফিক্ব (উবাই ইবনে সুলূল লা’নাতুল্লাহি আলাইহি এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা)। আপনারা চিন্তা করবেন না যে, এটাতে আপনাদের জন্য খারাপি রয়েছে; বরং এটাতে আপনাদের জন্য খায়ের—বরকত রয়েছে। যারা এটা রটিয়েছে, এটার সাথে যারা জড়িত ছিলো, তারা প্রত্যেকেই তাদের অবস্থা অনুযায়ী গুনাহ কামিয়েছে। আর তাদের মধ্যে যে বড় দুষ্টটা (মুনাফিক্ব সর্দার উবাই ইবনে সুলূল লা’নাতুল্লাহি আলাইহি), তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আপনারা যখন এ কথা শুনলেন (তখন আপনারা কেনো এই বিষয়ে শক্ত প্রতিবাদ করলেন না?), তখন ঈমানদার পুরুষ ও মহিলা উনারা কেনো নিজেদের লোক সম্পর্কে উত্তম ধারণা করেনি এবং বলেনি যে, এটা তো প্রকাশ্য একটা অপবাদ? তারা (মুনাফিক্বরা) কেনো এ ব্যাপারে চার জন সাক্ষী উপস্থিত করেনি? অতঃপর যখন তারা সাক্ষী উপস্থিত করেনি, তারাই (মুনাফিক্বরাই) মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে মিথ্যাবাদী (হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে)। যদি ইহকাল ও পরকালে আপনাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ফযল ও রহমত মুবারক না থাকতো, তবে আপনারা যা চর্চা করছিলেন, সেজন্য আপনাদেরকে কঠিন আযাব স্পর্শ করতো। (অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক উনার খিলাফ অপবাদ দেয়ার কারণে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কঠিন আযাব—গযব নেমে আসতো।) যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোনো জ্ঞান তোমাদের ছিলো না। তোমরা এই বিষয়টিকে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে এটা একটি অত্যন্ত গুরুতর
বিষয়। তোমরা যখন এ কথা শুনলে তখন কেনো বললে না যে, এ বিষয়ে কোনো কথা বলা আমাদের উচিত নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো অত্যন্ত পবিত্রময়। এটা তো একটা কঠিন গুরুতর অপবাদ। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে নছীহত করছেন, তোমরা যদি ঈমানদার হও, তবে কখনো পুনরায় এ সমস্ত কাজের পুনরাবৃত্তি করো না। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য সম্মানিত নিদর্শন মুবারকসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করছেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন ‘আলীম ও হাকীম তথা সর্ববিষয়ে জ্ঞাত এবং হিকমতওয়ালা। সুবহানাল্লাহ! নিশ্চয়ই যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার লাভ করুক, অর্থাৎ যারা ঈমানদারদের সম্পর্কে এই সমস্ত অশ্লীলতা প্রচার করা পছন্দ করে, তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি জানেন, তোমরা জানো না। যদি তোমাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত ফযল মুবারক ও রহমত মুবারক না থাকতো এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি দয়ালু ও করুণাময় না হতেন, তবে তোমাদের উপর কঠিন আযাব—গযব নাযিল হতো।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১১—২০)