মালিকুত তামাম, ক্বাসিমুন নিআম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাতহ মুবারক উনার বরকত (১ম পর্ব)
মুক্বদ্দিমাহ্: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক কী? মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক। যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সৃষ্টির অন্য কারো মতো সম্বোধন মুবারক করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাই আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলতানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় মুবারকসমূহ উনাদের জন্য বিশেষ পরিভাষা মুবারক জারী করেছেন। যা দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সর্বোচ্চ আদব, সম্মান, তা’যীম-তাকরীম মুবারক প্রকাশ পায়। সুবহানাল্লাহ!
আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনাকে নূরুল ফাত্হ মুবারক নামে নামকরণ করার বিশেষ কারণ হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন আপাদমস্তক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক। তাই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার সবকিছুই নূর। আর ফাত্হ শব্দ মুবারক উনার অর্থ হচ্ছে বিজয়, সাফল্য ইত্যাদি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার বিশেষ একখানা বৈশিষ্ট মুবারক রয়েছেন যে, হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ রদ্বিয়ল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক থাকার কারণে তিনি সমস্ত জিহাদেই বিজয় লাভ করতেন। সুবহানাল্লাহ! এ কারণেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনাকে নূরুল ফাত্হ মুবারক বলে সম্বোধন করা হয়। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য বক্ষমান প্রবন্ধে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার বরকত মুবারক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চুল মুবারক উনার ক্ষেত্রে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক লেখা হয়েছে।
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার বেমেছাল মর্যাদা মুবারক:
সম্মস্ত উম্মতের ইজমা’ হয়েছে যে, যেই ধুলি-বালি মুবারক অর্থাৎ যা কিছু এক মুহূর্তের তরেও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্পর্শ মুবারকে এসেছে তার মর্যাদা কা’বা শরীফ, কুরসী, লৌহ-কলম এমনকি পবিত্র আরশে আযীম মুবারক থেকেও বেশি হয়ে গেছেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে সরাসরি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জিসিম মুবারক উনার সাথে সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুবারক উনাদের মর্যাদা মুবারক কত বেমেছাল সেটা বলার অপেক্ষাই রাখেনা।
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুই খানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (চুল মুবারক) সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি লাভ করেছিলেন। তিনি বরকত হাছিলের জন্য ঐ দুই খানা নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার হুজরা শরীফে নিয়ে এলেন এবং যথাযথ তা’যীম ও সম্মানের সাথে যতœসহকারে হুজরা শরীফের ভিতরে কোন এক জায়গায় রেখে দিলেন। কিছুক্ষণ পর উনার হুজরা শরীফের অভ্যন্তরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পেলেন। হুজরা শরীফের ভিতরে গিয়ে দেখলেন, তখনও মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। কিন্তু তিনি কাউকে দেখতে পেলেন না। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারকে হাযির হয়ে সমস্ত ঘটনা পেশ করলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তাকরীর মুবারক (মুচকি হাসি মুবারক) দিয়ে বললেন-
ﺍِﻥَّ ﺍﻟْﻤَﻠٰﺌِﻜَﺔَ ﻳَﺠْﺘَﻤِﻌُﻮْﻥَ ﻋَﻠٰﻰ ﺷَﻌْﺮِﻯْ ﻭَ ﻳَﻘْﺮَﺅُوْﻥَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺍٰﻥَ
অর্থাৎ ‘হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আমার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক উনার নিকট সমবেত হয়ে মহাসম্মানিত কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেছিলেন।’ সুবহানাল্লাহ! (জামেউল মু’জিযাত ৬২ পৃষ্ঠা, ইসলামের বাস্তব কাহিনী ১ম খন্ড, যিকরে জামীল)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন পবিত্র হজ্জের সময় উনার মহাসম্মানিত নূরুল ফাত্হ মুবারক হলক্ব করতেন, তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা প্রতিযোগিতা করতেন সেগুলো নেয়ার জন্য। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْحَلَّاقُ يَحْلِقُه وَأَطَافَ بِهِ أَصْحَابُه فَمَا يُرِيْدُوْنَ أَنْ تَقَعَ شَعْرَةٌ إِلَّا فِىْ يَدِ رَجُلٍ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এমন অবস্থায় দেখলাম যে, ক্ষৌরকার উনার মহাসম্মানিত নূরুল হুদা মুবারক হলক্ব করছেন। আর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনার চতুর্পাশ্বে তাওয়াফ করছেন, যেন উনার মহাপবিত্র নূরুল ফাত্হ মুবারক (নিচে না পড়ে) উনাদের কারো না কারো হাত মুবারকে পড়ে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ ৩/১৩৩, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭/৬৮, মুসনাদে আবী আওয়ানাহ্ ২/৩১২ ইত্যাদি)