মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং অবশ্য পালনীয় আমল মুবারক হলো, কামিল মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট আত্মসমর্পণ করা অর্থাৎ বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করা।

বাইয়াত মুবারক-এর মাধ্যমেই মানুষ মহাসম্মানিত দ্বীন ইসলাম তথা দ্বীনে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এ প্রবেশ করে। অর্থাৎ বাইয়াত মুবারকই হলো দ্বীন ইসলামে প্রবেশের মূল প্রবেশদ্বার।

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফসহ সমস্ত ধর্মীয় কিতাবে বাইয়াত মুবারক প্রসঙ্গে অসংখ্য সুস্পষ্ট বিধান মুবারক থাকা সত্ত্বেও, এক শ্রেণীর অজ্ঞ ব্যক্তি না বুঝে বাইয়াত মুবারক-এর বিরোধিতা করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে সঠিক সমঝ দান করুন। আমীন!

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহুবার বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করে দ্বীন পালনের আদেশ মুবারক করা হয়েছে। সেখান থেকে সত্যানুসন্ধানীদের জন্য কয়েকটি পবিত্র আয়াত শরীফ পেশ করা হলো:

পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে বাইয়াত প্রসঙ্গে ১৬টি পবিত্র আয়াত শরীফ:

১. আমাদেরকে নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাগণের পথে পরিচালিত করুন। (পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফ: ৬-৭)

২. নিশ্চয়ই যারা আপনার মহাসম্মানিত হাত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করে, তারা তো মহান আল্লাহ পাক উনারই হাত মুবারক-এ বাইয়াত গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ পাক উনার হাত মুবারক উনাদের হাতের উপর। (পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ: ১০)

৩. মহান আল্লাহ পাক তিনি মুমিনগণের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন উনারা গাছের নিচে আপনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করছিলেন। (পবিত্র সূরা ফাত্হ শরীফ: ১৮)

৪. হে মুমিনগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার অনুসরণ করো, মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর (মহাসম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিমুস সালাম) উনাদের অনুসরণ করো। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: ৫৯)

৫. যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করবে, সে উনাদের সঙ্গী হবে যাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক নিয়ামত দান করেছেন। উনারা হলেন নবী, ছিদ্দীক্ব, শহীদ ও নেককার ব্যক্তিগণ। আর উনাদের সান্নিধ্যই উত্তম সান্নিধ্য। (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: ৬৯)

৬. স্মরণ করুন সেই দিনের কথা, যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাদের ইমামসহ আহ্বান করবো। (পবিত্র সূরা বনী ইসরাঈল শরীফ: ৭১)

৭. অনুসরণ করো উনাদের, যারা তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় কামনা করেন না, অথচ উনারা সুপথপ্রাপ্ত। (পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ: ২১)

৮. যে বিশুদ্ধচিত্তে আমার দিকে অভিমুখী হয়, তুমি উনার অনুসরণ করো। (পবিত্র সূরা লুক্বমান শরীফ: ১৫)

৯. তোমরা যদি না জানো, তবে যারা জানেন উনাদের নিকট থেকে জেনে নাও। (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: ৭)

১০. হে মুমিনগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং ছাদিক্বীনগণ উনাদের সঙ্গী হও। (পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ: ১১৯)

১১. নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক আউলিয়া-ই কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের নিকটবর্তী। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: ৫৬)

১২. মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, তিনিই সৎপথপ্রাপ্ত। আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, সে কখনো সাহায্যকারী ওলী বা মুর্শিদ পাবে না। (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: ১৭)

১৩. সাবধান! নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের কোনো ভয় নেই এবং উনারা চিন্তিতও হবেন না। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: ৬২)

১৪. হে মুমিনগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং উনার নৈকট্য মুবারক লাভের জন্য উসীলা অন্বেষণ করো। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: ৩৫)

১৫. যে ব্যক্তি দয়াময় মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যতীত কেউ সুপারিশের অধিকার পাবে না। (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ: ৮৭)

১৬. হে মহাসম্মানিত নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার নিকট যদি মহিলাগণ এই শর্তে বাইয়াত হতে আসেন যে, উনারা শিরক করবেন না, চুরি, যিনা, সন্তান হত্যা করবেন না, অপবাদ রচনা করবেন না, ন্যায়্য বিষয়ে আপনার অবাধ্যতা করবেন না, তাহলে আপনি উনাদের বাইয়াত কবুল করুন। (পবিত্র সূরা মুমতাহিনা শরীফ: ১২)

এত সুস্পষ্ট আদেশ মুবারক থাকার পরও যারা বাইয়াত মুবারক-এর বিরোধিতা করে, উনাদের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করে সঠিক পথে ফিরে আসা। মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে হক্ব বুঝার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!