মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাসআলা: একজন হক্কানী শায়খ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করা ফরয
১. মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক মুহসিনীন তথা আল্লাহওয়ালা উনাদের নিকটবর্তী।” (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ: আয়াত শরীফ ৫৬)
২. কামিল মুর্শিদ ক্বিবলা উনার গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “মহান আল্লাহ পাক তিনি যাঁকে হিদায়েত দান করেন, তিনিই হিদায়েতপ্রাপ্ত হন। আর যিনি গোমরাহীর মধ্যে থাকেন, তিনি কোনো ওলীয়ে মুর্শিদ (কামিল শায়খ ক্বিবলা) উনার ছোহবত মুবারক লাভ করতে পারেন না।” (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: ১৭)
৩. মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা সবাই আল্লাহওয়ালা হয়ে যাও।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: ৭৯)
৪. মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং ছাদিক্বীন তথা সত্যবাদী ওলী-আল্লাহ উনাদের ছোহবত মুবারক-এ থাকো।” (পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ: ১১৯)
৫. মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইত্বা‘য়াত করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর (আদেশদাতা ওলী-আল্লাহগণ) উনাদের অনুসরণ করো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: ৫৯)
৬. মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো এবং উনার নৈকট্য মুবারক লাভের জন্য উসীলা অন্বেষণ করো।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: ৩৫)
৭. পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আপনি নিজেকে উনাদের ছোহবত মুবারক-এ আবদ্ধ রাখুন, যাঁরা সকাল-সন্ধ্যায় উনাদের রব উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য উনাকে ডাকেন।” (পবিত্র সূরা কাহাফ শরীফ: ২৮) অর্থাৎ যাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক-এর জন্য ক্বলবী যিকির করেন, উনাদের অনুসরণ ও ছোহবত মুবারক এখতিয়ার করার নির্দেশ মুবারক দেয়া হয়েছে।
৮. পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাবধান! আদম সন্তানের শরীরে এক টুকরা গোশত মুবারক আছে, যদি সেটা শুদ্ধ হয়ে যায় তবে সমস্ত শরীর শুদ্ধ হয়ে যায়। আর যদি সেটা অশুদ্ধ হয় তাহলে সমস্ত শরীর বরবাদ হয়ে যায়। সাবধান! সেটা হচ্ছে ক্বলব।” (পবিত্র বুখারী শরীফ)
৯. মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যার ক্বলবে আমার যিকির জারী নেই, সে নফসের অনুসরণ করে এবং তার আমলগুলো শরীয়তের খিলাফ হয়।”
১০. মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক দ্বারাই ক্বলব ইতমিনান লাভ করে।” এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “শয়তান আদম সন্তানের ক্বলবের উপর বসে থাকে। যখন সে মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির করে তখন শয়তান পালিয়ে যায়, আর যখন যিকির থেকে গাফিল হয় তখন শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়।”
১১. সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য প্রয়োজন পরিমাণ ইলম অর্জন করা ফরয।” (বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
১২. পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “ইলম দুই প্রকার: (১) ক্বলবী ইলম অর্থাৎ ইলমে তাছাউফ, আর এটাই মূলত উপকারী ইলম। (২) যবানী ইলম অর্থাৎ ইলমে ফিক্বাহ, যা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য দলীল।”
সকলেই একমত যে, ইলমে তাছাউফ অর্জনের মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ করে হুযূরী ক্বলব হাছিল করা তথা অন্তত বিলায়েতে ‘আম হাছিল করা ফরয। আর এই ফরয ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন কামিল মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করা না হবে। সুতরাং বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করাও ফরয।
১৩. এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ‘তাফসীরে মাযহারী’তে উল্লেখ রয়েছে, “যে কাজ বা আমল ব্যতীত ফরযসমূহ আদায় করা সম্ভব হয় না, উক্ত ফরয আদায়ের জন্য সেই কাজ বা আমল করাও ফরয।”
১৪. হানাফী মাযহাবের মশহূর ফিক্বাহর কিতাব ‘দুররুল মুখতার’-এ উল্লেখ রয়েছে, “যে আমল ব্যতীত কোনো ফরয পূর্ণ হয় না, উক্ত ফরয পূর্ণ করার জন্য সেই আমল করাটাও ফরয।”
উক্ত উছূলের ভিত্তিতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, ফরয পরিমাণ ইলমে তাছাউফ অর্জন করা যেহেতু ফরয, আর তা যেহেতু কামিল মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত মুবারক হওয়া ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়, সেহেতু একজন কামিল মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম অর্থাৎ যিনি সর্বদা মহান আল্লাহ পাক উনার যিকির মুবারক-এ মশগুল, উনার নিকট বাইয়াত মুবারক গ্রহণ করাও ফরয।
১৫. সুলত্বানুল ‘আরিফীন হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইয়্যিদুত্ব ত্বয়িফা হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত ইমাম গায্যালী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ আরো অনেকেই ইরশাদ করেছেন, “যার কোনো পীর বা মুর্শিদ ক্বিবলা নেই, তার মুর্শিদ বা পথপ্রদর্শক হলো শয়তান।”
১৬. পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন শিক্ষা করছো, উনাকে দেখে নাও।” (পবিত্র মুসলিম শরীফ) সুতরাং পবিত্র ইসলাম কখনো ওলী-আল্লাহ উনাদের নিকট যেতে নিষেধ করেন না, বরং উনাদের নিকট যাওয়ার জন্যই নির্দেশ মুবারক করা হয়েছে।
১৭. মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যদি তোমরা না জানো, তবে আহলে যিকির তথা আল্লাহওয়ালা উনাদেরকে জিজ্ঞেস করে জেনে নাও।” (পবিত্র সূরা নাহল শরীফ: ৪৩, পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: ৭)
সতর্কতা: বর্তমানে অনেকে পীর-দরবেশ নাম দিয়ে দরবার, খানকা খুলে ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। আবার অনেক দরবারে পূর্বপুরুষগণ হক্কানী ওলী-আল্লাহ ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে উনারা তা ধরে রাখতে পারেননি এবং নানা শরীয়তবিরোধী কাজে মশগুল হয়ে গেছেন। উনাদের থেকে সাবধান থাকা জরুরি।
বাইয়াত মুবারক গ্রহণের পূর্বে তিনি হক্কানী কিনা তা যাচাই করা ফরয। যিনি পীর বা ওলী দাবি করেন, তিনি কোনো হারাম কাজ যেমন বেগানা মহিলাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, ছবি তোলা, ভিডিও করা, টিভিতে প্রোগ্রাম করা, ভোট-নির্বাচন তথা গণতন্ত্র সমর্থন করা ইত্যাদি শরীয়তবহির্ভূত কোনো কাজ করেন কিনা এবং পরিপূর্ণ সুন্নতী আমল মুবারক পালন করেন কিনা, তা অবশ্যই দেখতে হবে।