সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ করা যিনি খ্বালিক্ব যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত সৃষ্ঠি জগতের জন্য ফরজ করে আদেশ মুবারক করেছেন
يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক কিভাবে প্রকাশ করবে ,সেই পদ্ধতিও বাতলিয়ে দিচ্ছেন,
وَتُعَزِّرُوْهُ وَتُوَقِّرُوْهُ وَتُسَبِّحُوْهُ بُكْرَةً وَّاَصِيْلًا
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক করবে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তা’যীম-তাকরীম মুবারক করবে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছানা-ছিফত মুবারক করবে অনন্তকালব্যাপী।
লাভ ও ক্ষতি
فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
অতএব, যে ব্যক্তি এই আদেশ মুবারক অনুসরণ করবে না, সে নিজের ক্ষতি নিজেই করবে। আর যে ব্যক্তি এই আদেশ মুবারক পূর্ণ অনুসরণ করবে তার জন্য রয়েছে মহাপুরুষ্কার দুনিয়াতে ও আখিরাতে।"
১,ক) হযরত আবু বকর শিবলী রহমতুল্লাহ আলাইহি(২৪৭ হিজরীতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৪৪) -উনাকে স্বপ্নে জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহ তাআলা আপনার সাথে কী রূপ আচরণ করেছেন?" তিনি ওলামাদের সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েত অনুযায়ী উত্তর দিলেন:
جَازَانِي اللَّهُ تَعَالَى بِشَفَاعَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأَدْخَلَنِي الْجَنَّةَ لِتَعْظِيمِي يَوْมَ
مَوْلِدِهِ الشَّرِيفِ.সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ)
"জাযা-নিয়াল্লা-হু তা'আ-লা- বিশাফা-'আতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লা-হু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওয়া আদখলানিল জান্নাতা লিতা'যী-মী ইয়াওমা মাওলিদিহিশ শারী-ফ।"(অর্থ: মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার শাফায়াতের উসিলায় পুরস্কৃত করেছেন এবং উনার পবিত্র মিলাদ বা মাওলিদ সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ)শরীফের দিনটিকে তা'যীম (সম্মান) করার কারণে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।)আল-হাভী লিল ফাতাওয়া (الحاوي للفتاوي): এর লেখক হলেন ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী (রহ.) [জন্ম: ৮৪৯ হিজরী, ওফাত: ৯১১ হিজরী]।আন-নি'মাতুল কুবরা আলাল আলাম (النعمة الكبرى على العالم): এর লেখক হলেন ইমাম ইবনে হাজার হাইতামী (রহ.) [জন্ম: ৯০৯ হিজরী, ওফাত: ৯৭৪ হিজরী]।
কুরআনের আয়াত: আল্লাহ তাআলা বলেন, قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا (অর্থ: "বলুন, আল্লাহর ফضل (অনুগ্রহ) ও রহমত প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ প্রকাশ করে।" [সূরা ইউনুস: ৫৮]। সৃষ্টিজগতের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূল ফজল ও রহমত মুবারক, তাই مَوْلِدِهِ الشَّرِيفِ.সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) মাহফিল ও তাবাররুক বিতরণ এই আনন্দেরই অংশ।
হাদিস শরীফ: সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আবু লাহাবের দাসী হযরত সুওয়াইবাহ আলাইহিস সালাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাশরীফ মুবারক সুসংবাদ দেওয়ার কারণে আবু লাহাব খুশি হয়ে উনাকে মুক্ত করে দিয়েছিল, যার ফলে প্রতি ইছনাইনিল আযীম শরীফ( সোমবার) জাহান্নামে তার আযাব হালকা করা হয় এবং সে আঙ্গুল থেকে পানি চোষে। রেওয়ায়েতে এসেছে: جَازَاهُ اللَّهُ بِإِطْعَامِهِ وَإِعْتَاقِهِ। যদি কাফের হয়েও জন্মের খুশিতে লাভ হয়, তবে মুমিনের مَوْلِدِهِ الشَّرِيفِ.সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) মাহফিল ও তাবাররুক বিতরণ কত বড় সওয়াবের কাজ, তা সহজেই অনুমেয়।
হাদিসের দলিল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং ইরশাদ করেছেন: "مَنْ رَآنِي فِي الْمَنَامِ فَقَدْ رَآنِي، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَتَمَثَّلُ بِي" (অর্থ: যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে সত্যিই আমাকে দেখল, কেননা শয়তান আমার আকৃতি বা রূপ ধারণ করতে পারে না।)
সার্বিক পর্যালোচনায় এটি সুপ্রমাণিত যে,সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুলন্দী শান মুবারক প্রকাশ , খুশি প্রকাশ করা এবং তাবাররুক বা খাবার বিতরণ করার আমলটি কুরআন ও সুন্নাহর সাধারণ নির্দেশনাবলীর আলোকে শতভাগ (১০০%) শরীয়তসম্মত ও সওয়াবের কাজ। বুজুর্গানে দ্বীনের অনুসৃত এই পথ ও তাঁদের কিতাবের সুসংবাদ উম্মতের জন্য আত্মিক প্রেরণা এবং আল্লাহর রহমত পাওয়ার একটি অন্যতম উত্তম উসিলা।
অতএব, উপরোক্ত বিস্তারিত আলোচনা দ্বারা এটা ১০০% স্পষ্ট বলা যায়—সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ (عَمَلُ مَوْلِدِ النَّبِيِّ ﷺ) একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও নাজাতের আমল।