✴️✴️✴️হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনার কাছে এমন কাফন চোর তাওবা করেছিল, যে বাইশ শত কবর খুঁড়ে কাফন চুরি করেছিল। হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহি তাকে জিজ্ঞাসা করেন,
তুমি কবরের ভিতর মৃতকে কেমন কেমন অবস্হায় পেয়েছো?
সে কাফন চোর তিনটি কবরের অবস্থা বর্ণনা করল।
ঘটনা-১
আগুনের জিঞ্জির
কাফর চোর বলছে, একবার আমি একটি কবর খনন করে দেখলাম, মৃত ব্যক্তির ভয়ংকর কালো চেহারা। তার হাত পায়ে আগুনের শিকল পড়ানো এবং তার মুখ দিয়ে রক্ত এবং পুঁজ বের হচ্ছে, আর তা এতই দুর্গন্ধ যে, বেহুঁশ হবার অবস্থা। এ ভীতিজনক অবস্থা দেখে আমি পালানোর জন্য পা বাড়ালাম। এমন সময় লাশ কথা বলতে শুরু করল আমার সাথে,সে বলল তুমি পালাতে চাও?
শোন, আমাকে কোন গুনাহের জন্য এ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? আমি মুর্দার কথা শুনে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সমস্ত সাহস একত্রিত করে কবরের কাছে গেলাম।
যখন কবরের কাছে উঁকি দিলাম, দেখলাম আযাবের ফেরেশতা লাশের ঘাড়ে আগুনের শিকল পড়িয়ে বসিয়ে রেখেছে। আমি লাশকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কে? সে জবাব দিল আমি ওমুকের ছেলে ওমুক।
কিন্তু আফসোস! আমি মদ পান করতাম এবং জেনা করতাম। আর এ অবস্থায় আমার মৃত্যু হয়।সে জন্য এখন এই আযাব ভোগ করছি।
ঘটনা-২
সে কাফন চোর তার দ্বিতীয় ঘটনা বলল, একবার আমি যখন কাফন চুরি করার জন্য একটি কবর খনন করলাম, দেখলাম ভয়ংকর কুৎসিত এক লাশ। সে কথা বলতে শুরু করল। লাশ দাঁড়িয়ে গেল। তার চারিদিকে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। ফেরেশতাগন তার গলায় আগুনের শিকল পড়িয়ে রেখেছে। সে লাশ আমাকে দেখেই বলল, ভাই আমি খুব পিপাসার্ত, আমাকে একটু পানি পান করাও।
একজন ফেরেশতা উনি ধমক দিয়ে বললেন, খবরদার এ বেনামাজিকে পানি দিও না।
তারপর আমি সাহস করে লাশকে জিজ্ঞাসা করলাম,তুমি কে? লাশ উত্তর দিল আমি মুসলমান ছিলাম, কিন্তু আফসোস, মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক নাফারমানি করেছি। আমার মত নাফরমান আরো বহু লোক এ আযাবের সম্মুখীন।
ঘটনা-৩
কাফন চোর তৃতীয় ঘটনা বর্ণনা করল। একদিন আমি একটি কবর খনন করার পর সে কবরের ভিতরে অনেক প্রসস্ত জায়গা দেখলাম। এর ভিতর এমন সুন্দর একটি বাগান দেখলাম, যা আমি পৃথিবীর কোথাও দেখিনি।
যার মধ্যে ঝর্ণা প্রবাহিত ছিল। আর তাতে এক অপূর্ব সুন্দর যুবককে দেখলাম। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কোন আমলের বিনিময়ে এ পুরস্কার পেয়েছ? সে বলল, আমি এক মাহফিলে শুনেছিলাম, যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবে, মহান আল্লাহ পাক তার কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিবেন।
এরপর থেকে আমি সর্ব প্রকার গুনাহ ছেড়ে দিলাম। এসব নিয়ামত নেক কাজেরই উত্তম প্রতিদান।
সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার খেলাফতকালে এক ব্যক্তি মারা গেল। যখন তার জানাযা দেওয়ার জন্য সবাই তৈরি হল, তখন দেখল কাফনের ভিতর কি যেন নড়াচড়া করছে। তার কাফন খোলা হলে দেখা গেল, এক ভয়ংকর বিষাক্ত সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে তাকে ছোবল মারছে।নাউযূবিল্লাহ।
লোকজন সাপটি মারতে উদ্যত হল। তখন সাপ কালেমা পড়ে বলল, হে লোক সকল! তোমরা আমাকে কেন মারতে চাও। আমি এখানে আমার নিজের ইচ্ছায় আসিনি। আমাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পাঠিয়েছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাকে আমি দংশন করতেই থাকবো।
মানুষজন জানতে চাইল,ওরে সাপ! তার অপরাধ কি ছিল? যার জন্য তাকে এ আযাব দেয়া হচ্ছে?
তখন সাপ মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুমে বলল, হে লোক সকল!
তার তিনটি অপরাধ ছিল।
১. সে আজান শুনে মসজিদে যেত না।
২. সে যাকাত দিত না।
৩. সে উলামায়ে কেরামগণ উনাদের নছিহত শুনতো না।
আরেকজন কাফন চোরের ঘটনা:
হযরত আবু ইসহাক রহমাতুল্লাহ আলাইহি তিনি বলেন, একজন লোক অধিকাংশ সময় আমাদের মজলিসে বসতো এবং চেহারার অর্ধেক চাদর বা রুমাল দিয়ে ঢেকে রাখতো।
একদিন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি আমাদের সাথে সব সময় বস। আর চেহারার অর্ধেক ঢেকে রাখ, এর কারণ কি?
সে লোকটি আমার কাছে এসে ওয়াদা নিল, যেন আমি কাউকে তার কথা না বলি। আমি ওয়াদা করলাম, তার কাহিনী কাউকে বলব না। সে লোকটি বলল তার কাহিনী। আমি কাফন চুরি করতাম। একদিন এক মহিলা মারা গেল- আমি সে রাতেই সদ্য কবর দেয়া কবরটাকেই খনন করলাম। এরপর আমি লাশের কাফন ধরে টানতে লাগলাম। কিন্তু কাফন খুলতে পারছিলাম না। আমি দুই হাঁটু গেড়ে ভালোভাবে বসে কাফন ধরে শক্ত করে টানতে থাকলাম। তখন কাফন পড়া সে মহিলা হাত দিয়ে আমাকে এমন জোরে থাপ্পর মারল যে, আমার গালে তার পাঁচটি আঙ্গুলের দাগ সুস্পষ্টভাবে বসে গেল, আমি গালে হাত দিয়ে সে দাগ অনুভব করলাম। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি ভীত হয়ে গেলাম। এরপর আমি তার কাফন ঠিকঠাক করে দিলাম। আর কবর পূর্বের মতো করে মাটি দিয়ে ভরে দিলাম। এরপর থেকে আমি ওয়াদা করলাম, আর কোন দিন আমি কাফন চুরি করব না।
হযরত আবু ইসহাক রহমাতুল্লাহ আলাইহি বললেন, এরপর আমি ইমাম আওযায়ী রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনার কাছে এ ঘটনাটি লিখে পাঠালাম।
তিনি জবাব দিলেন, তাকে জিজ্ঞাসা করো, কমবখত যেইসব লাশের কাফন চুরি করতো, তাদের চেহারা কেবলামুখী ছিল কিনা?সে ব্যক্তি বলল, আমি অধিকাংশ লাশকে পেয়েছি, যাদের চেহারা কেবলা মুখি ছিল না।
হযরত আবু ইসহাক রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন, আমি তার কথা আওজায়ী রহমাতুল্লাহ আলাইহি উনাকে জানালাম।
তিনি জবাব দিলেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মনে রেখো!যাদের চেহারা কেবলামুখী ছিল না, তারা ঈমান নিয়ে মারা যায়নি,তারা বেদ্বীন অবস্থায় মারা গিয়েছে। নাউযূবিল্লাহ
মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম ওসিলায় খাছভাবে কবুল করুন,খালিছ ঈমানদার হিসেবে মনোনীত করুন,ঈমান নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার তাওফীক দান করুন।
আমীন ছুম্মা আমীন ইয়া
রব্বাল আলামীন।