10 ঘন্টা

তিতির পাখির উপদেশ: একটি শিক্ষণীয় ঘটনা

মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার একটা বনের মাঝ দিয়ে যাওয়ার সময় একটা বড় কালো তিতির পাখি ধরে ফেলেন। তিনি যখন ভাবছেন যে, পাখিটাকে কীভাবে খাবেন; আগুনে ঝলসে; নাকি তরকারি রান্না করে!

এমন সময় পাখিটি বলে উঠলো, হে জালালুদ্দীন রুমী (রহমতুল্লাহি আলাইহি)! আপনি আপনার এই জীবনে এতো গোশত খেয়েছেন; অথচ আপনার এই আমিষের আকুতি শেষ হয় না। আপনি যদি আমাকে মুক্ত করে দেন; তাহলে আমি আপনাকে তিনটি পরামর্শ দেবো; যা আপনার জীবনকে সন্তোষ আর শান্তিতে ভরে দেবে।

মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কিছুটা বিচলিত হয়ে বললেন যে, আমার হাতে বসেই প্রথম পরামর্শটা দাও; যদি পছন্দ না হয়; সঙ্গে সঙ্গে তোমাকে হত্যা করবো।

পাখিটি রাজি হয়ে বললো, আপনি সবসময় আপনার বন্ধুদের উদ্ভট সব আলোচনায় বিচলিত হয়ে পড়েন। এর চেয়ে তাদেরকে তাদের মতো থাকতে দিন। তাতে আপনার জীবন সুন্দর হবে।

তিনি কিছুটা চিন্তা করে নিয়ে ভাবতে থাকেন; পাখিটার কথায় বোধ আছে। সুতরাং দ্বিতীয় পরামর্শ দিতে বললেন।

পাখিটা বললো, আপনি আমাকে ছেড়ে দিলে ঐ গাছের ডালে বসে দ্বিতীয় পরামর্শটা দেবো।

মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পাখিটিকে ছেড়ে দেন; আর পাখিটি গিয়ে কাছেই একটি গাছের ডালে বসে।

পাখিটা এবার তার দ্বিতীয় পরামর্শের কথা বলে মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে- অতীতকে কখনো পালটানো যায় না। সুতরাং বর্তমান মুহূর্তটিকে উপভোগ করুন। আর ভবিষ্যতের জন্য বাঁচুন। যা হোক আপনি বড় ভুল করেছেন। আমার পেটের মধ্যে তিন কেজি হীরা আছে। আপনি এটা পেলে আপনার তিন পুরুষ বসে খেতে পারতো।

প্রচুর ঘাবড়ে গিয়ে হযরত জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তিতিরের পেছনে রেগে ছুটতে থাকেন; তাকে আবার ধরার জন্য। পাখি তখন জোরে জোরে বললো, আপনি দেখছি আমার পরামর্শ একেবারেই শুনলেন না। আমার নিজেরই ওজন যেখানে দুই কেজির বেশি নয়; আমার পেটে কি করে তিন কেজি হীরা থাকবে! আপনি দেখছি এখনো উদ্ভট আর বোধহীন কথায় প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন! দ্বিতীয়ত আমি ইতিমধ্যেই আপনাকে ছেড়ে গিয়েছি; আপনার জীবনে এখন আমি অতীতের বিষয়।

পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তখন তৃতীয় পরামর্শের জন্য পাখিটিকে অনুরোধ করেন।

তিতির পাখিটি উনাকে উদ্দেশ্য করে বলে, শুনুন; সবাইকে উপদেশ দিতে যাবেন না। শুধু তাদের উপদেশ দিন; যারা সেটা শুনবে-মনে রাখবে, কাজে পরিণত করবে। মনে রাখবেন কিছু কাপড় এতো জীর্ণ হয়ে যায়; যা আর কখনো সেলাই করা যায় না।



উপদেশ:

১. আমরা অতীতে কিছু হারালে সেটার জন্য বর্তমানে হা-হুতাশ করি এবং ভবিষ্যত নষ্ট করি। এটা ঠিক নয়।

২. কারো উদ্ভট কথায় হঠাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে কিছুটা অপেক্ষা করে সেটা নিয়ে ফিকির করে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী।

৩. যাকে-তাকে উপদেশ দেয়া উচিত নয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, আপনি তাদেরকেই ভীতি প্রদর্শন করুন যারা নছীহত গ্রহণ করে এবং মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করে। (পবিত্র সূরা ইয়াসীন শরীফ- ১১)