ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৫২)
কেউ যদি একটা চাকুরী পায়, একটা ভালো চাকুরী পায়, সে খুশি হয়ে থাকে। ব্যবসা করে কিছু টাকা-পয়সা কামাই করে থাকে, লাভ হলে সে খুশি হয়ে থাকে। বিপদ-আপদ থেকে কেউ বেঁচে গেলে, সে খুশি হয়। একটা ঘর-বাড়ী করতে পারলে সুন্দর করে, সে খুশি হয়। জায়গা-সম্পতি কিনতে পারলে, সে খুশি হয়। যমিনে সে মর্যাদা লাভ করলে, সম্মানিত হলে, সে খুশি হয়ে থাকে। রাজা-বাদশা, আমীর-উমারা হতে পারলে, সে খুশি হয়। সম্পদশালী হতে পারলে, সে খুশি হয়। অথচ দুনিয়াবী যে কোন সম্পদ হাছিল করুক না কেন প্রত্যেকটার জন্য আলাদাভাবে সে খুশি হয়ে থাকে, সন্তুষ্ট হয়ে থাকে। এখন তার অবস্থা অনুযায়ী সে সন্তুষ্ট হয়, খুশি হয়।
সেটাই মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, তারা তো খুশি হয়ে থাকে, দুনিয়াবী সম্পদ লাভ করে থাকে। দুনিয়াবী সম্পদ লাভ করে, অর্জন করে তারা সন্তুষ্ট হয়ে থাকে। এবং সেটাকে তারা মনে করে থাকে, তা অনেক উত্তম, অনেক ভালো, সেজন্য তারা অনেক দুনিয়াবী সম্পদ এবং টাকা-পয়সাও খরচ করে থাকে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যে নিয়ামত দিয়েছেন- মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যে দিয়েছেন। সেজন্য তারা অনেক অনেক বেশি খুশি প্রকাশ করুক।
তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেদিন আসলেন ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইন শরীফ (সোমবার) দিন সেদিন তাহলে কতটুকু খুশি প্রকাশ করতে হবে? যে কোন লোক, যে কোন সময়, যে কোন নিয়ামত লাভ করলে সে সন্তুষ্ট হয়, সন্তুষ্টি প্রকাশ করে, খুশি হয়ে থাকে। যেমন পরীক্ষার যদি ফল বের হয়, যে কোন পরীক্ষা হোক না কেন। মাদ্রাসার হোক, স্কুল, কলেজের হোক না কেন দেখা যাবে, যে দিন ফল বের হবে সে দিন কোন মিষ্টির দোকানে মিষ্টি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ তারা সকলেই কিনে নিয়েছে। এত খুশি হয়েছে সমস্ত দেশের মিষ্টি সব শেষ হয়ে গেছে। এত খুশি তারা প্রকাশ করে থাকে। সেটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে আাখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেদিন আগমন করলেন তাহলে সেদিন কতটুকু খুশি প্রকাশ করতে হবে? মিষ্টি দিয়ে, না মাল দিয়ে, না জান দিয়ে, কোনটা দিয়ে খুশি প্রকাশ করতে হবে? যার যতটুকু তাওফীক, যেভাবে তাওফীক রয়েছে ঠিক সেভাবে, ততটুকু দিয়ে সে খুশি প্রকাশ করবে। তাহলে তার জন্য কামিয়াবী রয়েছে।
সেটাই হযরত আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন-
مَنْ عَظَّمَ لَيْلَةَ مَوْلِدِهِ بِمَا أَمْكَنَهُ مِنَ التَّعْظِيمِ وَالْإِكْرَامِ كَانَ مِنَ الْفَائِزِينَ بِدَارِ السَّلَامِ
কেউ যদি তার সাধ্য সামর্থ্য অনুযায়ী খুশি প্রকাশ করে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষ্যে তাহলে তার জন্য একমাত্র জায়ে ঠিকানা হচ্ছে জান্নাত। সুবহানাল্লাহ!
কারণ, এখানে খুব ফিকির করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি তো বলে দিয়েছেন
فَلْيَفْرَحُوا আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তোমাদের কাছে দিয়েছি এই কারণে তোমরা খুশি মুবারক প্রকাশ করো। এখন সেই খুশিটাকে বলা হয় ঈদ। সেটাই আমরা বলেছি ঈদে আ’যম, ঈদে আকবর, সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, সমস্ত ঈদের ঈদ হচ্ছেন ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
কারণ, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি না আসতেন তাহলে অন্য কোন খুশি প্রকাশ করার সুযোগ মানুষ পেত না। কোন সুযোগ মানুষ পেত না। কাজেই, সেজন্যই সবাইকে সেদিন খুশি প্রকাশ করতে হবে।
আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ দিয়েছেন ইবরত-নছীহত হাছিলের জন্য
اُدْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, মানুষকে ডাক মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় হিকমতের সহিত, উত্তম নছীহতের দ্বারা।
হিকমত হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যে তর্জ-তরীক্বা এবং কুরআন শরীফে যে আদেশ-নির্দেশ করা হয়েছে সেটা হচ্ছে মাওয়িযাতিল হাসানাহ।
কুরআন শরীফ এবং হাদীছ শরীফের মাধ্যম দিয়ে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তর্জ-তরীক্বার মাধ্যম দিয়ে মানুষকে ডাক মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায়। মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন।