মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের মাঝে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তোমাদের জন্য কষ্টকর বিষয়গুলো উনার নিকট অসহনীয়। তিনি তোমাদের ভালাই চান। বিশেষ করে মু’মিনদের প্রতি তিনি ¯েœহশীল এবং দয়াময়।”
রঊফুর রহীম, হারীছুন আলাল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর সমস্ত আরজী পূরণ করেন।
তাই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে খাছভাবে রুজু হওয়া ও খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।
, ০৭ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২১ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহাপবিত্র ক্বওল শরীফ-২
রঊফুর রহীম, হারীছুন আলাল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর সমস্ত আরজী পূরণ করেন।
আল-ইহসান প্রতিবেদন:

ছাহিবাতু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হাবীবাতুল্লাহ, ছাহিবায়ে নেয়ামত, রহমাতুল্লিল আলামীন, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের মাঝে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেছেন। তোমাদের জন্য কষ্টকর বিষয়গুলো উনার নিকট অসহনীয়। তিনি তোমাদের ভালাই চান। বিশেষ করে মু’মিনদের প্রতি তিনি ¯েœহশীল এবং দয়াময়।” অর্থাৎ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হায়াতুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যিনি হাযির, যিনি নাযির, যিনি রঊফুর রহীম তিনি কায়িনাতবাসীর জন্য সীমাহীন দয়াময়।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তিরমিযী শরীফে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে, হযরত আবূ জুরাই জাবির ইবনু সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার সম্মানিত মদীনা শরীফে এলাম। দেখলাম লোকেরা একজন মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব উনার মতামত ও মুবারক নির্দেশনার উপর নির্ভরশীল। তিনি যা বলছেন, মানুষ সে অনুযায়ী কাজ করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? লোকেরা বলল, ইনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি উনার খিদমত মুবারকে হাযির হয়ে দু‘বার বললাম, ‘আলাইকাস সালাম’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘আলাইকাস সালাম’ বলো না। কারণ ‘আলাইকাস সালাম’ হলো মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ। বরং বলো, ‘আসসালামু আলাইকা। এরপর আমি বললাম, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি মহান আল্লাহ পাক উনার সেই মহাসম্মানিত রসূল, যাঁকে কোন বিপদ-আপদে ডাকলে তিনি তা দূর করে দেন। তুমি যদি দুর্ভিক্ষে পতিত হয়ে উনাকে ডাকো, তাহলে তিনি যমীনে তোমার জন্য সবুজ ফসল ফলিয়ে দেবেন। তৃণ ও প্রাণহীন কোন মরু প্রান্তরে অথবা ময়দানে যখন তুমি থাকো এবং সেখানে তোমার বাহন হারিয়ে গেলে তুমি যদি উনাকে ডাকো, তিনি তা তোমাকে ফিরিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, এখানে কয়েকটি বিষয় সুস্পষ্ট। প্রথমত, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজী করলে, তিনি সব আরজী পূরণ করে দেন। দ্বিতীয়ত, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজী করলে, তিনি দূর্ভিক্ষ দূর করে দেন। তৃতীয়ত: নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আরজী করলে, তিনি হারানো বস্তু ফিরে পাবার ব্যবস্থা করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা যখন কোন কিছু ভুলে যাও, তখন আমার প্রতি দরূদ শরীফ পাঠ করো। ইনশায়াল্লাহ মহান আল্লাহ পাক তিনি তা স্মরণ করিয়ে দিবেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা দিবালোকের চেয়েও সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার উম্মতদের প্রতি অতিশয় দয়ালু। উম্মতের কোন কষ্ট তিনি কখনোই বরদাস্ত করেননা। এখন উম্মত যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক দয়া, দান, ইহসান লাভ করতে চায়, তাহলে উম্মতকে বেশি বেশি আরজী করতে হবে। মনে রাখতে হবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরূদ শরীফ সমস্ত খাইর-বরকতের চাবিকাঠি।

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো, রঊফুর রহীম, হারীসুন আলাল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর সমস্ত আরজী পূরণ করেন। উনাকে স্মরণ করা ও উনার পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠের মাধ্যমে সর্বপ্রকার ভালাই লাভ হয় এবং সমস্ত বালা-মুছীবত বিদূরিত হয়। সুবহানাল্লাহ! তাই, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে খাছভাবে রুজু হওয়া ও উনার খাছ রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা।