নরম কথা ক্রোধান্ধ মানুষকেও নরম করে দেয়, শক্ত কথা শান্ত মানুষের মনেও ক্রোধের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
বারবার অনুশীলনের মাধ্যমে রাগ দমন করা, আখলাক সুন্দর করা সম্ভব।
রাগ জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরা। এজন্য রাগান্বিত ব্যক্তির চেহারা লাল হয়ে যায়। রাগ গরম কয়লার মতো। যাকে ছুড়ে মারতে চান, তার আগে নিজের হাতই পুড়ে যায়।
পরের বার রাগ এলে একটু থামুন। মনে করুন, এই মুহূর্তে শয়তান চাইছে আপনি বিস্ফোরিত হন, আর মহান আল্লাহ পাক চাইছেন আপনি শান্ত থাকুন। কাকে খুশি করবেন, সিদ্ধান্ত আপনার।
রাগ একটি শক্তিশালী আবেগ। রাগ যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে এটি ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন, আবেগ যেন আপনাকে নিয়ন্ত্রণ না করে।
রাগ নিয়ন্ত্রণের ৬টি সুন্নতী পদ্ধতি
১. অবস্থান পরিবর্তন করা
দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়ুন, বসে থাকলে শুয়ে পড়ুন। প্রয়োজনে ওই স্থান ত্যাগ করুন।
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
إِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ قَائِمٌ فَلْيَجْلِسْ، فَإِنْ ذَهَبَ عَنْهُ الْغَضَبُ، وَإِلَّا فَلْيَضْطَجِعْ
অর্থ: যখন তোমাদের কেউ দাঁড়ানো অবস্থায় রাগান্বিত হয়, তখন সে যেন বসে পড়ে। যদি এতে রাগ চলে যায় তবে ভালো, অন্যথায় সে যেন শুয়ে পড়ে।
সুনানে আবু দাউদ শরীফ ৪৭৮২
২. অজু মুবারক করা
রাগ আগুন থেকে সৃষ্টি, আর আগুন নিভে পানিতে।
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
إِنَّ الْغَضَبَ مِنَ الشَّيْطَانِ، وَإِنَّ الشَّيْطَانَ خُلِقَ مِنَ النَّارِ، وَإِنَّمَا تُطْفَأُ النَّارُ بِالْمَاءِ، فَإِذَا غَضِبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَتَوَضَّأْ
অর্থ: নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে, আর শয়তান আগুন থেকে সৃষ্টি। আর আগুন নিভে পানিতে। তাই যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়, সে যেন অজু করে।
সুনানে আবু দাউদ শরীফ ৪৭৮৪
তাই অজু করুন, পানি পান করুন।
৩. চুপ থাকা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
إِذَا غَضِبْتَ فَاسْكُتْ
অর্থ: যখন রাগান্বিত হও, তখন চুপ থাকো।
মুসনাদে আহমদ শরীফ ২১৯১
রাগ সমাধান নয়, ছবরই সমাধান। রাগের সময় কম কথা বলুন।
৪. মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আশ্রয় চাওয়া
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ
অর্থ: যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। সূরা ফুসসিলাত শরীফ ৩৬
তাই বেশি বেশি পড়ুন,
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
অর্থ: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে আশ্রয় চাইছি।
৫. দরূদ শরীফ পাঠ করা
রাগ প্রশমিত করার জন্য দরূদ শরীফ পাঠ করা বড়ই উপকারী। দরূদ শরীফ পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ ক্রোধ প্রশমিত হবে।
আরবের হক্বানী ওলীআল্লাহগণের মধ্যে এখনো এই সুন্দর নিয়মটি চলে আসছে যে, কোনো কারণে রাগান্বিত হলে উনাদেরকে দরূদের কথা মনে করিয়ে দিলেই উনারা দরূদ শরীফ পড়তে পড়তে ঠান্ডা হয়ে যান। সুবহানাল্লাহ।
৬. পুরস্কারের কথা চিন্তা করা
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ، دَعَاهُ اللَّهُ عَلَى رُءُوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
অর্থ: যে ব্যক্তি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাগ সংবরণ করে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তাকে সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে বিশেষ সম্মান দান করবেন।
সুনানে আবু দাউদ শরীফ ৪৭৭৭, সুনানে তিরমিযী শরীফ ২০২১
যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, মহান আল্লাহ পাক তার অন্তরকে নূরানী বানিয়ে দেন। আর শয়তান মুমিনের অন্তরের নূরকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।