পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের ফযীলত সম্পর্কে দলীল সহ আলোচনা
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি নাযিলকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিযা হলো পবিত্র কুরআন শরীফ। এটি তিলাওয়াত করা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত।
১. কুরআন শরীফ তিলাওয়াত সর্বোত্তম ইবাদত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথোপকথন
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
مَنْ أَرَادَ أَنْ يَتَكَلَّمَ مَعَ اللَّهِ فَلْيَقْرَأِ الْقُرْآنَ
অর্থ: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলতে চায়, সে যেন পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে।
২. প্রতিটি হরফে দশটি করে নেকী
এটি কুরআন শরীফ তিলাওয়াতের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ফযীলত।
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ الم حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلَامٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ
অর্থ: যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য একটি নেকী রয়েছে, আর একটি নেকী দশটি নেকীর সমান। আমি বলছি না যে الم একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ, মীম একটি হরফ। সুনানে তিরমিযী শরীফ ২৯১০
সুবহানাল্লাহ, الم পড়লেই ৩০টি নেকী।
৩. কুরআন শরীফ তিলাওয়াতকারী কিয়ামতের দিন সুপারিশ লাভ করবে
هযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
اقْرَءُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ
অর্থ: তোমরা পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করো, কেননা কুরআন শরীফ কিয়ামতের দিন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে। ছহীহ মুসলিম শরীফ ৮০৪
৪. দুনিয়াতে সম্মান ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بِهَذَا الْكِتَابِ أَقْوَامًا، وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ
অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক এই কিতাবের দ্বারা অনেক সম্প্রদায়কে সম্মানিত ও উন্নত করেন এবং অনেক সম্প্রদায়কে অবনত করেন। ছহীহ মুসলিম শরীফ ৮১৭
যারা কুরআন শরীফ অনুযায়ী আমল করে, মহান আল্লাহ পাক তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা দান করেন।
৫. তিলাওয়াতকারীর জন্য জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا
অর্থ: কুরআন শরীফের হাফিয বা নিয়মিত তিলাওয়াতকারীকে বলা হবে, তুমি তিলাওয়াত করতে থাকো এবং উপরে উঠতে থাকো। দুনিয়াতে যেভাবে তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করতে, সেভাবে তিলাওয়াত করো। কেননা তোমার মর্যাদা হবে শেষ আয়াতের স্থানে, যা তুমি তিলাওয়াত করবে। সুনানে আবু দাউদ শরীফ ১৪৬৪, সুনানে তিরমিযী শরীফ ২৯১৪
অর্থাৎ জান্নাতে তার মর্যাদা তত উঁচু হবে, সে যত বেশি আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করেছে।
৬. ঘরে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করলে বরকত ও শয়তান দূর হয়
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ، إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْفِرُ مِنَ الْبَيْتِ الَّذِي تُقْرَأُ فِيهِ سُورَةُ الْبَقَرَةِ
অর্থ: তোমরা তোমাদের ঘরগুলোকে কবরস্থান বানিও না। নিশ্চয়ই শয়তান ওই ঘর থেকে পলায়ন করে, যে ঘরে সূরা বাকারা শরীফ তিলাওয়াত করা হয়। ছহীহ মুসলিম শরীফ ৭৮০
৭. মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত ও সকীনা নাযিল হয়
হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللَّهِ يَتْلُونَ كِتَابَ اللَّهِ وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ إِلَّا نَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَحَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ
অর্থ: যখন কোনো সম্প্রদায় মহান আল্লাহ পাক উনার ঘরসমূহের কোনো ঘরে একত্রিত হয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে এবং পরস্পরকে শিক্ষা দেয়, তখন তাদের উপর সকীনা বা প্রশান্তি নাযিল হয়, তাদেরকে রহমত আচ্ছন্ন করে ফেলে, ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তাদেরকে বেষ্টন করে রাখেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটবর্তী ফেরেশতাদের কাছে তাদের আলোচনা করেন। ছহীহ মুসলিম শরীফ ২৬৯৯
উপসংহার
তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন কমপক্ষে কিছু সময় পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করা, অর্থ বোঝার চেষ্টা করা এবং একজন হক্বানী রব্বানী ওলীআল্লাহ উনার ছোহবত মুবারকে থেকে কুরআন শরীফের হাক্বীকত শিক্ষা করা।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে নিয়মিত কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।